আমার প্রিয় পোস্ট

মন শুধু ছুটে যায় দুরে কোথাও ... ... ...

মুন্সীগঞ্জ ভ্রমন .... - পর্ব - ২

০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫২

শেয়ারঃ
0 0 0

আগের পর্বের পরে
...

রিক্সা আবার সিপাহীপাড়া চৌরাস্তায় গিয়ে অন্য পথ ধরে চলতে লাগল বজ্রযোগিনীর দিকে। চলতে লাগলাম সবুজের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে।




পথের মাঝে পড়ল বেশ পুরোনো একটি বাড়ি। আশেপাশে একটু হেটে দেখলাম, কাউকে পেলাম না। তাই আবার ব্যাক টু দ্যা রিক্সা।


কিছুদুর গিয়ে আরেকটি বাড়ির ধ্বংসস্তুপ দেখতে পেলাম। একজনের কাছে জানতে চাইলে বলল একসময় এটা পোস্ট অফিস হিসেবে ব্যবহার হত।



রাস্তার দু'পাশে শাকক্ষেত, পুকুর .....।




এবার এলাম বজ্রযোগিনীর পন্ডিতের ভিটায়। প্রধান সড়ক থেকে ছোট একটি রাস্তা ঢুকে পড়েছে গাছ-গাছালির ভেতর দিয়ে, সেটা দিয়ে কিছুদুর যেতেই দেখা গেল অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান। চীনের বাড়িঘরের মত আকৃতি দেয়া একটি মনোরম জায়গা। জায়গাটিকে চায়না সরকারের সহায়তায় অনেক সৌন্দর্য দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ও এলাকার লোকজনের অবহেলায় থেকে যে অবস্থা হয়েছে, কয়েক বছর পর সেই সৌন্দর্য আর থাকবেনা। ভিতরে সর্বদাই গরু চড়ে, লম্বা সিমেন্টের বাধানো পথে শুকানো হচ্ছে ভুষি, কৃত্তিমভাবে পাথর বাঁধানো কুয়ার বিভিন্নস্থান থেকে পাথর সরিয়ে ফেলা হয়েছে, দেয়ালের রং উঠিয়ে ফেলা হয়েছে - সোজা কথায় নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।








ওখান থেকে বের হয়ে রিক্সায় ফিরে এলাম সিপাহীপাড়া চৌরাস্তায়। খাওয়ার জন্য হোটেল খুজলাম, কিন্তু কোন ভাল হোটেল পেলাম না। আমাদের প্লান ছিল ওখান থেকে লৌহজং উপজেলায় পদ্মা রিসোর্টে যাব। দু'তিনজনকে জিজ্ঞেস করতে জানালো যে, দাড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে। সেই বাসে যেতে হবে বালিগাঁও (টঙ্গীবাড়ি উপজেলা), সেখান থেকে আরেক বাসে লৌহজং-এ। কিন্তু সময় লাগবে প্রায় দুই-আড়াই ঘন্টা। এদিকে বাজে সাড়ে তিনটা। তাই সিএনজি ভাড়া করলাম লৌহজং পর্যন্ত। ভাড়া নিল অনেক, ২৫০ টাকা।





লৌহজং পৌছালাম পৌনে পাচটায়। ওখানে ভালো খাবার হোটেল বলতে একটাই পেলাম, নাম কাশফুল। সেখানে খেয়ে পদ্মা নদীর তীরে দাড়াতেই দেখলাম ওপার থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আসছে। আসার পর শুনলাম পদ্মা রিসোর্টে যাওয়া-আসা, সাথে ওখানে ঘোরা সব মিলিয়ে নৌকাতে ৫০ টাকা (একজনের জন্য) দিতে হবে। টাকা দিয়ে নৌকায় উঠলাম। কিছুক্ষন পরেই নামিয়ে দিল নদীর ওপারে, পদ্মা রিসোর্টে। ভালোই করেছে জায়গাটা অবকাশ যাপনের জন্য, তবে অবশ্যই উচ্চবিত্তদের জন্য। অনেকগুলো কাঠের দোতলা কটেজ, নাম রাখা হয়েছে বাংলা মাসের ও ঋতুর নামানুসারে। কটেজের ভাড়া ২৪ ঘন্টার জন্য ৩০০০ টাকা। এখানে খাবারের দামও অনেক। কেউ আগে থেকেও ফোন করে কটেজ বুক করতে পারেন, ফোনঃ ০১৭১৩০৩৩০৪৯, ০১৭১২১৭০৩৩০। চারপাশটা খোলামেলা সুন্দর।









ওখান থেকে সেই নৌকায় এপারে ফিরে আসলাম। পিপাসা পেয়েছিল, ডাবের পানি পেতেই .... ঢকঢক।

সূর্য ডুবছিল।

সাথের রাস্তাতেই দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম গাংচিল পরিবহনের জন্য। বাসটা বালিগাঁও থেকে ডাইরেক্ট ঢাকায় যায়। কিন্তু অনেক্ষন দাড়িয়ে না পাওয়াতে বেবীটেক্সীতে উঠলাম, মাওয়া পর্যন্ত নিয়ে যাবে, ভাড়া প্রতিজন ২০ টাকা। মাওয়া পৌছতেই দেখি একটি বিআরটিসি দাড়িয়ে আছে, গুলিস্থান যাবে, দৌড় দিয়ে এসে টিকেট কেটে বাসে উঠলাম ...... সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলাম ....
বাস চলতে শুরু করল ঢাকার উদ্দেশ্যে।


শেষ

 

প্রকাশ করা হয়েছে: বাংলার পথে  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১
ঘাসফুল বলেছেন: পোষ্টটা দারুন লাগলো...
০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...
আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুব খুশি হলাম .. :) :)

২. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৭
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: এর পর সময় এবং সুযোগ পেলে শ্রীনগর বেড়িয়ে আসেন...
* স্যার জগদিস চন্দ্র বসু র বাড়ি বিক্রমপুরের শ্রীনগরের রাঢ়িখাল গ্রাম ... খুব সুন্দর কিছু নয় কিন্তু ঐতিহাসিক নিদর্শন
সাথে বোনাস হিসেবে থাকতেছে অম্বি-কা-শাহা'র বাড়ি (পাশেই)

হুমায়ুন আজাদের বাড়ি

* মাইজ পাড়ার মঠ ( রাঢ়িখালের পাশেই)

* ঐতিহ্যবাহী শ্যামসিদ্ধির মঠ (শ্রীনগর থেকে রাঢ়িখাল যেতে পরবে)

* মাওয়া ফেরিঘাট (পদ্মা নদী)

* ভাগ্যকুল বাজার থেকে পদ্মার ইলিশ কিনতে পারেন... সেখানেও পুরাতন কিছু নিদর্শন মিলবে

নতুন বর্ষায় অনেক মজা ... চারিদিকে থৈ থৈ পানি লাইক আশুলিয়া
০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন: আহ.হারে ভাই ..এইরকম একটা বিবরন কবে থেকে চাচ্ছিলাম....
অনেক ধন্যবাদ..... আপনার বিবরনের জন্য ....
অবশ্যই যাব .... পরেরবার গেলে শ্রীনগর ও টংগীবাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা আছে....

৩. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১১
ত্রিশোনকু বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট, অপূর্ব সব ছবি।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ...আপনাকে ..... :)

৪. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১৬
মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেছেন: আমার গ্রামের বাড়ী বিক্রমপুর।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২৭

লেখক বলেছেন: তাই ....
আপনি ভাগ্যবান

৫. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৪৩
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: @ মামুনুর রশিদ ... বিক্রমপুরের কোন থানায়? গ্রামের নাম কি? আমার গ্রাম শ্রীনগর থানার ফুলকুচি গ্রামে :)
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ...... :) ....

৭. ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৪
রাজিববাবা বলেছেন: ভাই বিক্রমপুর কোন জেলায়। map a তো বিক্রমপুর নামে জেলা পেলাম না।
আমার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ।
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৪

লেখক বলেছেন: পূর্বে মুন্সীগঞ্জই বিক্রমপুর নামে পরিচিত ছিল।

প্রাচীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুর

বাংলার প্রাচীন রাজধানী বিক্রমপুর, গৌড় কি না নদীয়া এ নিয়ে গোলকধাধায় রয়েছেন ঐতিহাসিকরা, কেউ সমাধান দিতে পারছেন না। কিন্তু অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিক্রমপুরই প্রাচীন বাংলার রাজধানী। সেন বংশীয় রাজা বিজয় সেনের যে তাম্রশাসনটি বারাকপুরে পাওয়া যায় তার ২২-২৩ পংক্তিতে সুস্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে “শ্রী বিক্রমপুর সমাবাসিত শ্রীমজ্জায়স্কন্ধা-বারাৎ”। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিজয় সেনের রাজধানী বিক্রমপুর। শ্রীমজ্জায়স্কন্ধারারাৎ-এর অর্থ রাজধানী বা সেনানিবাস। ১৯১১ সালে সিতাহাটির জমিদার বৈদ্যনাথ চট্টোপাধ্যায় যে তাম্রশাসনটি পান সেটি রাজা বল্লাল সেনের। ১৩ *১৬ ইঞ্চি মাপের তাম্রশাসনটি কলিকাতা জাদুঘরে রক্ষিত আছে। তাম্রশাসনটিতে ৬৪টি পংক্তি রয়েছে। শ্রী বিক্রমপুর সমাবাসিত জয়স্কান্ধাবার হইতে মহরাজধিরাজ শ্রী বিজয় সেনদেব পদানুধ্যাত, পরমেশ্বর, পরম মাহেশ্বর, পরম ভট্টারক, মহারাজাধিরাজ কশলময়, শ্রীমদ্র বল্লাল সেনদেব সুমপগত সমস্ত রাজা, রাজন্যক, রাঞ্গী, রানক ইত্যাদিকে বিঙ্গাপণ করিতেছেন। তাম্রশাসনের ২৯নং পংক্তিতে লেখা রয়েছে-২৯।। সখলু শ্রী বিক্রমপুর, সমবাসিত শ্রীমজ্জায়স্কন্ধাবারাৎ ।। রাজা বল্লাল সেন অর্ধনারী মূর্তির উপাসক ছিলেন। একমাত্র মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ির পুড়াপাড়া ছাড়া বাংলার কোথাও হতে আজ পর্যন্ত অর্ধনারী মূর্তি পাওয়া যায়নি। তাই আমরা বলতে পারি যে, বিক্রমপুরই ছিল বিজয় সেন, বল্লাল সেনের রাজধানী। বল্লাল সেনের তপন দীঘির যে তাম্রশাসন, ১৮৭৪ সালে প্রাপ্ত দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের তপন দীঘি গ্রামে সেটিতেও শ্রী বিক্রমপুর লেখা রয়েছে এবং “শ্রীবিক্রমপুর জয়ষ্কন্ধাবার” হতে প্রদত্ত। এ তাম্র শাসনের আকার ১৩.৫*১১.৫ ইঞ্চি। এর ভাষা সংস্কৃত। ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগর গ্রামে বল্লাল সেনের যে তাম্রশাসনটি পাওয়া যায় তাতেও “শ্রীবিক্রমপুর জয়ষ্কন্ধাবার হতে প্রদত্ত”। রানাঘাটে আনুলিয়া গ্রামে বল্লাল সেনের ১৩.৫*১১.৫ ইঞ্চি একটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে তাতেও লেখা রয়েছে “শ্রী বিক্রমপুর জয়স্কান্ধাবার”। মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর গ্রামে বল্লাল সেনের আরো একটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা রয়েছে “সখলু শ্রী বিক্রমপুর সমাবাসিত জয়স্কন্ধাবারৎ”। মহারাজাধিরাজ শ্রী বল্লাল সেনের পদানুধ্যাত। বিজয় সেন, বল্লাল সেনের মতো লক্ষণ সেনের রাজধানীও বিক্রমপুরে ছিল। লক্ষণ সেনের গোবিন্দপুর তাম্রশাসনে ১৩.৫*১১.৫ লেখা রয়েছে- “পরমেশ্বর, পরম ভট্টারক, পরম নারসিংহ, মহারাজধিরাজ, কুশলী শ্রীম লক্ষণ সেন-শ্রী বিক্রমপুর-সমাবাসিত শ্রীমজ্জায়স্কন্ধাবারৎ”। অর্থাৎ সেন বংশীয় সকল রাজাদের রাজধানীই ছিল বিক্রমপুর।

সেনরাজবংশ ছাড়াও পাল রাজাদের রাজধানীও বিক্রমপুর ছিল। চন্দ্রবংশীয় রাজাদের রাজধানীও বিক্রমপুরে ছিল। শ্রীচন্দ্রদেবের যে তিনখানা তাম্রশাসন পাওয়া গেছে তার সবকটি বিক্রমপুর হতেই জারি করা হয়েছে। শ্রী চন্দ্রদেবের রামপাল লিপির আয়তন ৯.৫*৮ ইঞ্চি। ইহা মুন্সীগঞ্জ জেলার রামপাল গ্রামে পাওয়া যায়। “১৪।। সখলু শ্রী বিক্রমপুর ১৫ ।। সমাবসিত শ্রীমজ্জায়- স্কান্ধাবারাৎ” ১৯১৯ সালে ফরিদপুর জেলার কেদারপুর গ্রামে যে তাম্র শাসন আবিষ্কৃত হয় তাতেও বিক্রমপুরকে রাজধানী দেখানো হয়েছে। এটি ৮.৫*৭.১/৪ আয়তকারে ছিল। ১৬।। “সখলু শ্রীবিক্রমপুর সমবাসিত শ্রীমজ্জায় স্কান্ধাবারত” এসকল প্রাচীন তাম্র শাসন থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিক্রমপুর প্রাচীন বাংলার রাজধানী।

ঢাকার মহকুমা মুন্সিগঞ্জ জেলায় পরিণত হয় ১৯৮৪ সালে।

আরো জানতে চাইলে দেখুন

৮. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০৭
রাজিববাবা বলেছেন: ভাই আপনার কথা শুনে ভালো লাগলো।আমি ও ভ্রমন প্রেমিক। তবে আমি কোথাও গেলে sight visit করার চেয়ে সাধারন মানুষ এর সাথে মিসতে পছন্দ করি।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: হুমম... আপনার কথা শুনে আমারো ভালো লাগল

৯. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৯
রাজিববাবা বলেছেন: thanks আমি ও ইতিহাস জানি। আসলে মুন্সিগঞ্জ কে অনেকে বিক্রমপুর নামে চিনে। তারা জানে ও না মুন্সিগঞ্জ ও বিক্রমপুর এক ই।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: সেটাই.. অনেকেই জানেনা যে... মুন্সিগঞ্জ ও বিক্রমপুর এক ই।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৪১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি রাজিব
ভ্রমন, ছবি তোলা আর ক্রিকেট - আমার প্রিয়
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ