somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ।<img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> কবির আহমেদকে। যিনি হলেন এই নিকের ব্লগটির প্রকৃত মালিক। তার কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম কিছুদিন ব্যবহার করার জন্য। (কিছুদিনের কথা বলে প্রায় ৬ মাস ম্যাসিভ ইউজ করছি। <img src=" style="border:0;" />)

যাদের সাথে এই নিকে আমার পরিচয় হয়েছে, তাদের জন্য একটা পদচিহ্ন রেখে গেলাম। <img src=" style="border:0;" />

আমার স্বপ্নদুয়ার ব্লগ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28862743 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28862743 2008-10-31 23:58:18
একটি জনগুরুত্বপূর্ন ডিসক্লেইমার! এই নিকটি
আমার নয়। সুতরাং, এই নিকের করা কোন পোস্ট-বা কমেন্টের জন্য আমি দায়ী থাকব না। উল্লেখ্য যে, আমি সেখানে আমার আসল নামে রেজিঃ করেছি। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে কোন পোস্ট বা কমেন্ট করি নাই। কবে করবো জানি না।

সবাই যার যার বাপ দাদার দেয়া আকিকা করা নাম গুলান সামলায়া রাইখেন কিন্তু!!!

ছবিঃ নাপিত ইপতেক্ষার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28861883 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28861883 2008-10-30 04:58:57
একটি ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা প্রভা প্রচন্ড স্পর্শকাতর একটা মেয়ে। অত্যন্ত আবেগপ্রবন। হঠাৎ করে কিছুদিন আগে, একটা পারিবারিক কারনে ওর মারাত্নক নার্ভাস ব্রেক ডাউন হয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অর্ধেকে নেমে আসে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ওকে।

হাসপাতালের ব্যাক ইয়ার্ডের বিশাল একটা ইউক্যালিপটাস গাছ আছে। ওর বেডের খানিকটা দূরে; একটা জানলা থেকে সেই গাছের একটি মাত্র ডাল দেখা যায়। সে ডাল ভর্তি পাতা। সকালবেলার নরম রোদ পড়ে সেগুলো ঝলমল করতে থাকে। প্রভা যখন সেদিকে তাকিয়ে থাকে, তখন সে আলোর ঝলকানি ওর চোখের তারায় খেলা করে।

শুয়ে শুয়ে থাকতে থাকতে প্রভার যখন খুব বোর লাগে, তখন সে সেই ডালটার দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। সে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দিতে পারে এভাবে। ছোট্ট এই ডালটাকে সে অসম্ভব ভালোবেসে ফেলেছে। সেটাকে মনে হয় যেন তার শরীরেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ!

ঘুম থেকে উঠেই সে আগে ওটার দিকে তাকাবে। ইউক্যালিপটাসের পাতা দেখে তার ভোর হয়। প্রতিরাতে শোয়ার আগে সে পাতা গুনে, ভোরে ঘুম থেকে উঠে আবার পাতা গুনে। একদিন রাতে নার্স কুলিং সিস্টেম অন করে ওর কেবিনের জানলাটা লাগিয়ে রেখে গিয়েছিলো। ভোরে প্রভার দৃষ্টি অনেক -হাতরিয়েও ডালটাকে না পেয়ে চিৎকার করে উঠল। নার্সরা দৌড়ে এল। ও চেচাচ্ছে-- "ওপেন দ্য উইন্ডো, ফর গড সেইক, ওপেন দ্য উইন্ডো"। জানলা খুলে দেবার পর সে শান্ত হল। ডাক্তারের মুখে চিন্তার ছাপ পড়ল। মেয়েটা কি তাহলে মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে?

গত কিছুতিন থেকে প্রভা খুব অদ্ভুত এক দুঃসপ্ন দেখছে। দেখছে, গাছের পাতা গুলো ওর চোখের মাসনে একটা একটা করে কালচে হয়ে ঝরে ঝরে পড়ছে। এভাবে একসময় গাছটা নিঃশেষ হয়ে গেল। এরপর ওর ঘুম ভেঙ্গে যায়। এই সপ্নটাকে ও ইদানিং ও অসম্ভব ভয় পায়।

সেদিন সকালবেলা ওর বাবা এসেছিলো ওকে দেখতে। ---
-কেমন আছো মামনি, ভালো?
-হুমম।" গাছটার উপর থেকে চোখ না সরিয়ে বল্ল প্রভা।
-মামনি, তোমার মাম আর আমি মিলে একটা হলিডে প্ল্যান করেছি। ইজিপ্টে। সাতদিন থাকবো। তুমি যাবে আমাদের সাথে?
- মাথা নেড়ে না করল প্রভা।
-কেন যাবেনা মামনি?
-জানিনা।
-প্রভা, মামনি আমার, আমার উপর রাগ করেছো?' ওর মাথায় হাত বুলালো বাবা।
-Dad, would you mind to get out of here, please?
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে এলেন তিনি।

প্রভার পাশের বেডটা খালি ছিল এতদিন। হঠাৎ একদিন ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে ও যারপর নাই অবাক হয়ে গেল। ওর পাশের বেডে একটা ছেলে আধশোয়া হয়ে বসে আছে। কোলের উপর একটা ছোট্ট পেইন্টিং ক্যানভাস। রং তুলি দিয়ে আপনমনে ছবি আঁকছে ছেলেটা।
প্রভা উঠে বসে দেখতে চেষ্ট করল ছেলেটা কি আকঁছে। সেটা খেয়াল করে ছেলেটা বল্ল- Hi, Good Morning.
- hi, Morning.
-have I waken you up, I'm sorry.
-no no its Alright. i've waked up by my own.
প্রভা আবার দেখার চেষ্টা করতেই ছেলেটা বল্ল-No worries, when i've finished drawing, i''ll let you to have a look on it.
প্রভা ঘাড় কাত করে সায় দিল।
প্রভা শুয়ে শুয়ে চুপচাপ ছেলেটার ছঁবি আকা দেখতে লাগল। একটুপর ছেলেটা হাত উঁচু করে দেখাল, একটা ক্যাকটাসের ছবি। একেবারে জীবন্ত মনে হচ্ছে।

-wow! Its great!!
-Thanks.
-Are you an artist?
-Not really. But i like drawing since i was very young, from my childhood. umm...you can say i'm an artist...preety much. বলেই হো হো করে উঠল ছেলেটি।

এরপর অনেক কথা হল ওদের। প্রভা জানতে পারল ছেলেটার নাম জেফ, জেফারসন। আইরিশ। কিন্তু জন্ম এবং বেড়ে উঠা সিডনীতেই। প্রায় ওরই বয়সী। গতকাল রাতে ফ্রেন্ডের পার্টি থেকে বাড়ী থেকে ফেরার পথে একদল কালো দৈত্য এ্যাবোরা ওকে অকারনে মারধর করে। কিছু কিছু এ্যাবোর কাছে সাদা চামড়া এখনও দুচোখের বিষ। চাদর সরিয়ে গোড়ালির কাছে একটা ব্যান্ডেজ দেখালো জেফ, আঁতকে উঠল প্রভা।

ছেলেটা খুব অনায়াস ভঙ্গিতে কথা বলে। মনেই হয় না ওদের পরিচয় মাত্র কিছুক্ষন আগে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো ছেলেটা একবারো প্রভার কাছে কিছু জানতে চায়নি। এমনকি ওর নামটাও না।
প্রভা টয়লেটে যাবার জন্য বেড থেকে নামতেই দেখে ছেলেটার সাইড টেবিলে আঁকাআঁকির রাজ্যের জিনিসপত্র। তার মানে হাসপাতালে আসার আগে তৈরী হয়েই এসেছে ছেলেটা। কি অদ্ভুত!
হাতমুখ ধুয়ে ফিরে এসে দেখল ছেলেটা এবার পেন্সিল স্কেচ শুরু করেছে। খুব দ্রুত একমনে কি যেন একেঁ যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ছেলেটা চিকিৎসার জন্য নয়, ছবি আঁকার জন্য হাসপাতালে এসেছে। কি অদ্ভুত!

একটু পর দুজনের জন্য নাস্তা আনা হল। হাসিমুখে জেফকে দেখিয়ে নার্সটা বল্ল- "hi prova, he's your new mate. Last night he came here while you're sleeping." নার্সের কথা শুনে জেফ একবার শুধু মুখ তুলে একটি মুচকি হেসে আবার নিজের কাজে মন দিল। কি অদ্ভুত ছেলেরে বাবা!

ছেলেটাকে নিঃসঙ্কোচে অনেক কথা বলে ফেলেছে প্রভা। ওর নিজের কথা, ওদের পরিবারের কথা, ওর পোষা বিড়াল 'কিটির' কথা, এমনকি ওর সেই দুঃসপ্নটার কথাও। তবে একটা কথাও জেফ বৈঠকি মেজাজে শুনেনি। সবসময়ই তার হাত ক্যানভাসে নেচে বেড়িয়েছে। ব্যাপারটি খুব অফেনসিভ লেগেছে প্রভার কাছে। তবে ছেলেটা যে খুব ড্রইং পাগল ছেলে এটা বোঝা যায়। ওকে যতই দেখছে ততই অবাক হচ্ছে প্রভা।

একদিন ভোর বেলা প্রভা ওর বিছানায় বসে বসে বই পড়ছে। হঠাৎ দেখল ডালটায় একটা পাতা কম। দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখে একটা পাতা কালচে হয়ে জানালার কার্নিশের নীচে পড়ে আছে। হতাবহ্ববল ও জেফারকে সব খুলে বলতেই ইউ আর সো সিলি" বলে আবার পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল জেফ। প্রচন্ড বিরক্ত হল প্রভা।
এরপরদিনও একটি পাতা উধাও। তারপর আরেকটি। তারপর আরেকটি। এরপরের ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটতে লাগল। প্রভার নাওয়া খাওয়া ঘুম সব হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেল। চোখের নীচে কালি পড়ে গেল সারারাত না ঘুমানোর জন্য। শুকিয়ে আমসি হয়ে গেল। রক্তে হিমোগ্লোবিন আর গ্লুকোজের মাত্রা ভয়ংকর কমে গেল। ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে লাগল প্রভা।

জেফারের সাথেও ও কোন কথা বলে না। সারাদিন শুধু গাছটার দিকে তাকিয়ে থাকে।
পরদিন ভোরে জেফারের ঘুম ভাংগল প্রভার ফোপাঁনির শব্দে।বুঝল আরেকটা পাতা খসে পড়েছে। নার্স ডাক্তারেরা ছুটাছুটি করতে লাগল, দিনে হাজারটা টেস্ট করতে লাগল কিন্তু কেউ কিছু ধরতে পারছে না যে কিভাবে এই সুস্থ্য সবল মেয়েটি মৃত্যুকে বরন করে নেবার জন্য তৈরী হচ্ছে।

বিকেলের নরম রোদ পড়ে ওর চেহারা আরো দুখী দুখী করে তুলেছে। বিষন্ন মনে সেদিকে চেয়ে জেফার ভাবছে যে তার মত একটা জিপসী টাইপ ছেলে এই দুখী মেয়েটার জন্য কি করতে পারে।
প্রভা প্রায় কোমায় চলে গেছে। সারাদিন স্যালাইন দেয়া হয়। মাঝে মাঝে একটু পর পর চোখ পিট পিট করে তাকায়। ওর বাবা-মা এসে সারাক্ষন ওর পাশে এসে বসে বসে কাদছেঁ।
হঠাৎ একদিন ভোর বেলা জেফার দেখল যে ডালটিতে একটি মাত্র পাতা অবশিষ্ট আছে। ও সাঁ করে প্রভার দিকে তাকাল। দেখল মেয়েটা সেদিকে চেয়ে হাসছে। তার মৃত্যু ঘন্টা যে বেজে গেছে সেটা সে বুঝে গেছে।

জেফার সারাদিন কোন ছবি আকতে পারল না। গত ১০ বছরে এই প্রথম ওর একটা দিন গেল যেদিনে ও একটা ছবিও আকেঁনি।

চোখের সামনে মেয়েটা এভাবে মারা যেতে পারে না। মেয়েটার জন্য কিছু একটা করা উচিৎ তার। কিন্তু কি করবে সে?

জেফার হঠাৎ উঠে বসল। সারাদিন না ছোঁয়া ক্যানভাসটা হাতে নিল সে। খুব সিরিয়াস কিছু আকতে হলে জেফ দাঁড়িয়ে দাড়িঁয়ে আকেঁ। সেভাবেই আকতে লাগল সে। প্রভা তখন গভীর ঘুমে অচেতন।

খুব ধীরে ধীরে নিঁখুত ভাবে ছবিটা আকছে জেফ। কোন তাড়াহুড়া নেই। অথচ সে জানে তাকে আজ রাতের ভেতরেই ছবিটা একেঁ শেষ করতে হবে। যে করেই হোক।

জেফ আকতে লাগল তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ চিত্রকর্মটি।

পরদিন ভোরে প্রভা অবাক বিস্ময়ে দেখল যে পাতাটি এখনও তার আগের জাগাটিতে রয়ে গেছে। বাকী সব গুলোর মত ঝরে যায়নি।
পরদিনও একি অবস্থা। তার পরদিনও একি অবস্থা। পাতাটি আর ঝরে না।

প্রভা একসময় উঠে বসল। হাত বাড়িয়ে তখন পাতাটা খুব ছুঁতে ইচ্ছা করত। কিন্তু দুবর্লতার জন্য বেড থেকে নামতেই পারত না।

ও সেরে উঠতে লাগল দ্রুত। আবার বই পড়া শুরু করল। আবার খাওয়া দাওয়া করতে লাগল। এবং কিছুদিনের ভেতর সে পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে বাসায় চলে গেল। গাছটার কথা আর মনেও রইল না। বাবা-মা প্রমিজ করল, এখন থেকে তারা তাকে মাথার মুকুট করে রাখবে। আসার আগে নার্সকে জিগেস করে জানতে পারল কিছুদিন আগে খুব ভোর বেলা জেফ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যায়। তখন ও ঘুমে ছিলো। ও আবারো অবাক হলো। ছেলেটা যখন এসেছিলো তখনও ও ঘুমে ছিলো, অবার যখন ও চলে গেল, তখনও ও ঘুমে!

বাসায় ফেরার পরদিন হঠাৎ একদিন হাসপাতাল থেকে ফোন। ও নাকি একটা বই ফেলে এসেছে ওর কেবিনে। গিয়ে নিয়ে আসতে বল্ল। যাব যাব করেও আলসেমির জন্য অনেকদিন যাওয়া হল না। একদিন স্কুল ছুটির পর হুট করে হাসপাতালে হাজির হল প্রভা। বইটা নিয়ে বাসায় যাবার সময় হঠাৎ করে সেই ডালটা কথা মনে হল। ছুটে গিয়ে দেখে ওর সেই কেবিন এখনো খালি, তাই একদম ঝকঝকে তকতকে। ও জানলার কাছে গিয়ে দেখল এখনও সেই পাতাটি ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে। এটাকে এতদিন ভেলে ছিলো নিজেন উপর খুব রাগ লাগছে ওর।
হাত বাড়িয়ে ছুতেই মস্ত এক ঝাকি খেল ও। মাথাটা আবার ঝিমছিম করে উঠল। মনে হল মাথা ঘুরে পড়ে যাবে ও।

ইউক্যালিপটাস ডালটার একটা ড্রয়িং। একটি ডাল, তাতে একটি পাতা। খুব সুন্দর করে জানালার ফ্রেমের সাথে সাঁটানো। হুবহু সপ্নে দেখা সেই গাছটার মত।ফ্রেম থেকে খুলে নিয়ে আসতেই পেছনের আসল ডালটা চোখে পড়ল। একটা শূন্য ডাল। একটা পাতাও আজ আর নেই । সবগুলো ঝরে পড়েছে।
হঠাৎ মনে পড়ল জেফারের একটা কথা: "One day i''ll draw such a picture so that atleast a human will miss me seeing that."

ছবিটা দুহাতে ধরে ও ব্যালকনিতে নিয়ে আসল। আকাশে খুব মেঘ করেছে। একটু পর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি নামতে লাগল। সে বৃষ্টিতে জেফারের ক্যানভাসের শকনো জল রং গুলো চুইয়ে চুইয়ে পড়তে লাগল।

(এই গল্পের পিছনের কাহিনী:-আমার এক দূর সম্পকের্র ভাতিজী প্রভা। কদিন আগে বিশেষ একটা কারনে ওকে কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। ওকে প্রায়ই দেখতে যেতাম। আমার সাথে গুটুর গুটুর করে কথা বলত মেয়েটা।ওর কেবিনের জানলা দিয়ে একটা ইউক্যালিপটাস গাছ দেখা যেত।
আমার এক কলিগের বয়ফ্রেন্ড জেফারসন। ওর আকা ছবি দেখলে যে কারো মাথা ঘুরে যাবে। আমাকে একদিন ওদের বাসায় ডেকে নিয়ে ওর আকাঁ কিছু ছবি দেখিয়েছিলো। আমারও মাথা ঘুরে গিয়েছিলো। প্রভা তখনও হাসপাতালে।
জেফদের বাসা থেকে ফেরার পথে হঠাৎ করে গল্পটার প্লট পেয়ে যাই।)






(পোস্টটা এই খান থেকে কপি পেস্ট করা হয়েছে। Click This Link)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28859632 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28859632 2008-10-25 19:55:44
জলপরী, তোমার বুকের উষ্ণতায় রাস্তার দুপাশ ছেয়ে গিয়েছিলো ম্যাপল পাতায়।
সন্ধ্যাবেলা হেটেঁ যখন বাড়ী ফিরছিলাম,
মড় মড় করে পায়ের নীচে ভেঙ্গে পড়ছিলো
খয়েরি রঙ্গের শুকনো পাতাগুলো।
তখন তোমার কথাগুলোর কথা মনে হলো,
মন হল তোমার মায়াবী কন্ঠস্বরের কথা,
কেমন করে পারো এত মায়া জড়াতে..?
কই, ম্যাপলরাও তো পারে না
এমন নিদারুন তানে ঝরে পড়তে?
এমন সুললিত শব্দে মড় মড় করে ফুটপাতে ভেঙ্গে পড়তে?
যেন আবারও ঝরনা এল,
তোমার সাথে যখন কথা বলতাম
মনে হত সেই ঝরনার খুব কাছে
তার বুকে গিয়ে কান পেতে দিয়ে বসে আছি।

স্বপ্ন, আজ ভোরে ঘুমুতে গিয়েছি তোমার হাসির ছোয়াঁয়
যে হাসি আমাকে...
কয়েকবছর আগে দেখা ফ্রয়েস'স রিজার্ভের
শীতল ঝরনাধারার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলো।
সে ঝরনায় অবগাহন করিয়ে
সযতনে তুমি ঘুম পাড়িয়ে দাও।


ভাবছি তোমার আরেকটা নাম দিব।
'জলপরী'।
ঝলমলে জলপরী...যে কিনা সারাদিন ঝরনার পানিতে জলকেলীতে মগ্ন।
আর আমার কানে-হৃদয়ে স্বাস্থ্যবতী ডাহুকের মত
কলকল করে স্বর্গের প্রেম ঢেলে দাও!
সারাবেলা সারাক্ষন---
ঘুমের মাঝে..?
হা হা হা..সে সময় তো আরো বেশী...!


তোমার ছোট্ট দুটো "হুমম...." অথবা "হুমম...?"
আমার দুটো পৃথিবী।


জলপরী, তোমার মনে আছে?
সেই ইথার রাতের কথা?
ছোটবেলার একটা স্বপ্নর কথা বলেছিলাম তোমায়!
...মাঝরাতে বুকে মাথা রেখে ঘুমানো।
ইদানিং জেগে জেগেই সে স্বপ্নবিভোর হই।
আমার বুকে মাথা রেখে সে স্বপ্ন কি তোমারও দেখা হয়?
নাকি শুধুই আমাকে ঠাইঁ দিতে চাও তোমার অনাবিল বুকে?
তোমার বুকের উষ্ণতায়?

জলপরী, পৃথিবীর সমস্ত ভাষার, সমস্ত বিশেষন আমার 'ভালবাসার' আগে বসিয়ে বলতে ইচ্ছে হয়...বারবার...

"আমি তোমাকে ভালবাসি স্বপ্ন!"

(রিপোস্ট)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28859292 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28859292 2008-10-25 00:35:47
(প্রথম পাতার জন্য নয়-২) -আমার খোজঁ পেলে কি করে?
-ইন্টারনেটে।
-কিভাবে?
-খুব সোজা। গুগলিং করতেই তোমার সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে যতগুলো এ্যাকাউন্ট ছিলো, সবগুলোর ঠিকানা পেয়ে গেছি,
-"তারপর?"- আমার গলা থেকে নার্ভাসনেসটাকে কাটাতে পারলাম না।
-"তারপর আর কি? সেখানকার একটা এ্যাকাউন্ট থেকে তোমার মেইল আই ডি নিয়ে তোমাকে মেইল করলাম। দেখছো, আমার কত বুদ্ধি!<img src=" style="border:0;" />"
চোখের উপর চলে আসার কপালের একগাছি চুল সরাতে সরাতে বল্লা ও।

-ও আচ্ছা, - আমি আর কিছু বল্লাম না। একটা সময় ছিলো যখন মনে প্রানে চাইতাম ওর সাথে আবার দেখা হোক। কত চেষ্টা করেছি। পারিনি। অথচ আজ, বিনা শ্রমে সেই চাওয়াটা পূরন হওয়াতেই যেন কেমন একটা হকচকিয়ে গেছি।
-ইন্টারনেটে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে ভালই করেছো। নতুবা তোমাকে খুজেঁ বের করা এতটা সহজ হতো না।
-হুমম।
-তুমি এত অল্প কথায় উত্তর দিচ্ছো কেন?- ও খুব অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল। একদম সরাসরি।
-বলার মত আর তো কিছু পাচ্ছি না।
-অথচ একটা সময় ছিলো, এই তুমি বকবক করে করে আমার মাধা ধরিয়ে দিতে।

আমি মাথা নিচু করে রইলাম। কিছু বল্লাম না।

-প্রলয়..
-উমম..
-অনেক বদলে গেছো তুমি...
-তাই নাকি?
-হুমম।
-অনেক দিন পর দেখছো তো, এইজন্য এমন লাগছে।
- অনেক শুকিয়ে গেছো, আর লম্বা হয়েছো মনে হয় খানিকটা তাই না?
- কি জানি! --আমি উদাস গলায় বল্লাম।
-তোমার ঠোটেরঁ তিলটা কি এখনও আছে? দেখি তো"- বলে ও খুব কাছে চলে এল আমার । আমি তাই একটু সরে দাঁড়ালাম। ও সেটা বুঝতে পেরে প্রসংগ চেন্জ করে ফেল্ল। বল্ল-
- চুল এত বড় রেখোছো কেন? বাউল বাউল লাগছে।-বলেই হো হো করে হেসে উঠল তনুষা।
- "খুশকি নেই এখন?" খুব সুন্দর করে তাকালো ও। কি সুন্দর লাগছে তনুকে। বিয়ের পর আরো সুন্দর হয়ে গেছে ও।
- তুমিও কিন্তু অনেক বদলেছো!- আমি নিচু স্বরে বল্লাম।
-কিরকম?--- চোখে মুখে ওর দুষ্টুমির আভাস দেখতে পেলাম।
-উমম..এই যেমন আগে তুমি অনেক চুপচাপ থাকতে সবসময়। এখন অনেক কথা বলো। আগে তুমি চুল খোলা রেখে বাইরে বের হতে। এখন চুল বেধেঁ বের হও। আগে সমালোয়ার কামিজ নতুবা টি শার্ট জিনস নতুবা স্কার্ট আর টপস পরতে ভালবাসতে। এখন পুরোদস্তুর শাড়ি। আগে চশমা পড়তে না । এখন পড়ো। আগে তোমাকে একটি বিষন্ন মেয়ে বলে মনে হতো। এখন মনে হয় একজন সংসারী নারী।

ও খুব হাসতে শুরু করল। হাসতে হাসতে বল্ল-- "বাব বাহ। স্যারের চোখের পাওয়ার বেড়েছে মনে হচ্ছে!"

-নাহ, দেখছো না, চশমার গ্লাসের পুরুত্ব আরো বেড়েছে।" ---মুচকি হেসে বল্লাম।

-আরে তাইতো, খেয়ালই করিনি।" অবাক হয়ে বল্ল ও- "এখন কত?"
-ডানপাশেরটা -৫, বামপাশেরটা -৩।
-সর্বনাশ!! তোমার তো অন্ধ হতে বেশী দেরী নেই।!!!!-- আতংকিত স্বরে বল্ল ও।
-হা হাহহা।--আমি শব্দ করে হেসে উঠলাম।
-"যাক, শেষ পর্যন্ত হাসলে তাহলে।" গম্ভীর স্বরে বল্ল ও। "কতদিন পর তোমার হাসি শুনছি জানো প্রলয়?
- কয়েকবছর তো হবেই।
- আমি পুরো অংকটা বলছি। ৫ বছর ৩ মাস ১৯ দিন।
- তুমি কি খাতা কলমে হিসাব কষে বলছ নাকি?
-তোমার সাথে আমার কবে, কখন, কোথায়, কত দিন আগে, শেষ কি হয়েছে আমি সব বলে দিতে পারব।
- খাইছে আমারে।
-৫ বছর অনেক দীর্ঘ সময়, তাই না প্রলয়?

আমি শুধু একটা নিশ্বাস ফেল্লাম। এবারও কিছু বল্লাম না।

-তোমার মনে আছে প্রলয়, তুমি তোমার ডায়রি থেকে একটা পাতা ছিড়েঁ আমাকে দিয়েছিলে। তোমার কবিতার একটা খসড়া।
-হুমম মনে আছে।
-এখনও আগলে রেখেছি ওটা। পরে আমি ওটা লেমিনেটিং করে নিয়েছিলাম যাতে করে আমার চোখে জলে ভিজে গিয়ে নষ্ট না হয়ে যায়।"- খুব আনমনে, আস্তে আস্তে বল্ল তনুষা।





ভোর হয়ে গেছে। খুব ঘুম পাচ্ছে। বাকিটা কাল লিখব।

...হয়তো...

--------------------------------------------
(আপডেটঃ বাকী অংশ-২৫.১০.০৮)
--------------------------------------------

তুমি কি আমাকে এখনও ভালবাসো প্রলয়?
- এই প্রশ্নটা এখন খুব হাস্যকর তনুষা।
-আমি তোমাকে অনেক বোঝার চেষ্টা করেছিলাম পারিনি।
-তুমি পেরেছিলে। কিন্তু সবসময় সেটাকে জোর করে অস্বীকার করে এসেছো।
-আমার সমন্ধে তোমার এই ধারনা ছিলো এতদিন?- ওর স্বরে প্রচন্ড বিস্ময়।
-হুমম। অবশ্য এ ছাড়া তোমার আর কোন উপায়ও ছিলো না। আমি জানি।
-আমি অনেক চেষ্টা করেছি প্রলয়। বাবাকে অসংখ্যবার বুঝিয়েছি। আর আমাদের বয়স তখন এত কম ছিলো...একা একা যে বিয়ে করব, সে সাহসটুকুও ছিলো না। অন্তত আমার ছিলো না। পরে এই না থাকা সাহসটুকুর জন্য নিজের কতবার যে ধিক্কার দিয়েছি!
-তুমি আমাকে কখনো বলেছো তোমার ভালবাসার কথা?
-ভয় পেয়েছিলাম খুব। তাই বলিনি। কিন্তু তুমিও তো বলোনি।
-বলিনি কেন বুঝতে পারোনি এতদিনেও?
-হ্যাঁ, পেরেছি। তাইতো আরো বেশী কষ্ট পেয়েছিলাম। আসলে, আমি প্রথমে বুঝতেই পারিনি তোমাকে এতটা ভালবেসে ফেলেছিলাম। যখন বুঝতে পারলাম, তখন কিছুই করার ছিলো না।
-তোমাকে পাবার চিন্তা করাটা আমার জন্য ছিলো নিতান্তই বিলাসীতা। অসম্ভব একটা বিলাসিতা।
-আমরা দুজন দুজনকেই প্রচন্ড ভালবেসেছিলাম, তাই না প্রলয়?
-হমম।
-এখনও বাসি তাই না প্রলয়?
-আমি এখন উঠব তনুষা। একটু তাড়া আছে।
-তুমি অনেক বাস্তববাদী হয়ে গেছো প্রলয়।
-হ্যাঁ, এটা ঠিক বলেছো।
-অথচ একটা সময় তুমি আকাশ কুসুম কল্পনায় বিভোর হতে! আমাকেও বিভোর করে দিতে!...তোমার একটা কবিতা পড়ে এতটাই সারপ্রাইজড হয়ে গিয়েছিলাম যে পুরোটাই মুখস্ত করে ফেলেছিলাম। পরে তুমি ওটা তোমার ডায়রি থেকে ছিড়েঁ আমাকে দিয়ে দিলে।
-আমি চলে যাবার পর অনেকদিন পর্যন্ত তুমি গিটার বাজাতে পারোনি, তাই না প্রলয়?
-হ্যাঁ। ৭/৮ মাস। পুরোপুরি বাজাতে শুরু করি একবছর পর।
-তুমি একবার পাগলামি করে ব্যাঙ্গালোর চলে যেতে চেয়েছিলে, তাইনা/
-হ্যাঁ, বেনাপোল বর্ডারে এস এফ সোলজাররা আমাকে আটকে দেয়।
-নানাবাড়ি যাবার পর তোমার কথা এত বেশী মনে পড়তো যে, নিজেকে প্রায়ই মানসিক রোগী মনে হতো। অনেক সময় আমার আচরনও নাকি সেরকম ছিলো। রাত্রে নামায পড়ে আল্লাহকে শুধু বলতাম- হয়ত আমাদেরকে আবার এক করে দিন নতু্বা দুজনকেই দুজনার কথা ভুলিয়ে দিন।" আমার কোন দোয়াই কবুল হয়নি।


চলবে

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28858876 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28858876 2008-10-24 00:48:10
(প্রথম পাতার জন্য নয়) স্বপ্ন, আজ বাইরে আবারো বাতাসের তান্ডব...হু হু করে বুকের ভেতরে ঢাক বাজঁছে....কি বোর্ড ভেসে গেছে চোখের পানিতে।

আজ আমি যদি পারতাম ভালবাসার টুটি চেপে ধরতে....গলা টিপে শ্বাস রোধকরে মেরে ফেলতে পারতাম!


তোমায় ধিক্কার
তোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কারতোমায় ধিক্কার তুমি অভিশপ্ত!!

মায়াবতী, খুব মনে পড়ছে আজো তোমায়!! তুমি একটি বার আসো না এখানে। আবার আমরা হারিয়ে যাবো বটতলায়...তুমি ছেলেবেলার কথা শোনাবে আমায়..তোমার গলার গান আমি আবারও তুলবো আমার গিটারে...তুমি আমার মাথা ঝাকিয়েঁ বলবে -"তোমার চুলে এত খুশকি
কেন?"
তুনষা, আবার এসো না একটা বার....দেখ আমি আজ ৫ বছর পর তোমার জন্য কাদছিঁ, কি আবোল তাবোল টাইপ করছি নিজেই জানি না। সব কিছু ঝাপনা হয়ে আসছে। আমাকে সেদিনের মত আরেকটা বার জড়িয়ে ধর না মায়াবতী। আমার মায়াবতী....তুমি কি পারবে আমাকে এভাবে কষ্ট দিতে? দেখ তোমার জণ্য আমি অহনির্শ জেগে আছি সন্ধ্যা তারার মাঝে...তোমার দিয়েছিলাম আমার কবিতাটা? মনে নেই? না হারিয়ে গেছে বলে লজ্জা পাচ্ছ? আসো, দেখো , আমি সেই-----

তুমি এসো আর একটাবার, আমার উপর তোমার যত অভিমান ছিলো, সব ভাঙ্গাবো...প্রমিজ,

মায়াবতী.......তুমি না বলেছিলো আমি অনেক সুখী হবো? কেন মিথ্যা শান্তনা দিলে? আমি কি এতই অসহায়? বলেছিলে অনেক অনেক ভালবাসা পাবো একদিন? কিন্তু কই?

আমার স্বপ্ন তো এখন আর ভালবাসে না আমায়....তোমার মত করে ও আমায় পারেনি আপন করে নিতে....
তুমি চলে গেলে...এখন ও-ও চলে যাচ্ছে<img src=" style="border:0;" />

যাও, যাবেই তো... আমি তো অপয়া...কাউকেই ধরে রাখতে পারিনা...সবাই চলে যায়....শুধু মুখ গুজে কাদিঁ অথর্বের মত।


তাহলে দেখি আজ কত কাদতেঁ পারি]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28857935 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28857935 2008-10-21 23:56:28
ব্যাপক ডরান ডরাইছি গো!<img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_16.gif" width="23" height="22" alt=":((" style="border:0;" /> " style="border:0;" />

তারপর ভাবলাম, ধুর, হুদাই ভয় পাইতেছি। আসলে এইটা তো আমাগো ছামোয়ারিনের বিজ্ঞাপন।<img src=" style="border:0;" />

এরপর হঠাৎ দেখি ছবির উপ্রে লেখা its happening now!!!<img src=" style="border:0;" />


নীরিহ ব্লগারদের এইভাবে বিনা দোষে ভয় দেখানোকে তিব্র দিক্কার জানাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28854703 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28854703 2008-10-14 21:21:36
একটি ঝড়ের রাতে...স্বপ্নের সাথে... ঘড়িতে তখন রাত ৯ টা।

আমাদের ঘরে একটা সাদা রংয়ের মোমবাতি টিম টিম করে জ্বলছে।
আমি আমার স্বপ্নকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে থাকলাম অন্ধকারের ভেতর। মোমবাতির আলো স্বপ্নের গালে-চোয়ালে পড়ে ওকে আরো বেশী মায়াবী...আরো বেশী অস্খুত রহস্যময়ী করে তুলেছে। আমি ওকে হঠাৎ ডাকলামঃ

- স্বপ্ন...
ও বল্ল - উমম...
আমি জিজ্ঞেস করলাম- ভয় করছে তোমার?
ও বল্ল- হুমম...
আমি জিজ্ঞেস করলাম- শীত করছে না?
ও এবারও বল্ল- হুমম...



আমি আমার শীতল তর্জনী দিয়ে ওর উষ্ণ চোয়াল স্পর্শ করলাম। শিউরে উঠল ও! বাইরে বাতাসের তান্ডব আরো বেড়েছে। দরজা জানালা থর থর করে কাপছেঁ। ওর কানে ফিসফিস করে বল্লাম- "স্বপ্ন, ভয় করছে এখনও?"

স্বপ্ন বল্ল- উহুঁ...
আমি জিগেস করলাম- শীত করছে না এখনও?
স্বপ্ন বল্ল- উহুঁ...

ও আমার বুকে মুখ গুজে ছিলো অসহায় শিশুর মত।
আমি ওর থুতনি উচুঁ করে তুলে ধরলাম মোমবাতির শিখার নীচে। আমার দিকে একপলক তাকিয়ে সাথে সাথে ও চোখ বন্ধ করে ফেল্ল লজ্জায়। যেন বুঝতে পেরেছে কি ঘটবে একটু পর...

... আমি ওর ডান চোখে খুব আলতো করে ছোট্ট একটা চুমু দিলাম। চোখের পাপড়ি কেপেঁ উঠল ওর। ওর নিজের অজান্তেই হয়তবা।
মোমবাতির ক্ষুদ্র লেলিহান শিখাটা খুব চেষ্টা করছে তার পিঠ টান টান করে আরো উচুঁতে লাফিয়ে উঠতে, ঘরের সিলিং ছুতেঁ, কিন্তু কিছুতেই পারছে না বেচারা।

...স্বপ্ন এখনও চোখ বন্ধ করে আছে। ভয়ে অথবা লজ্জায়।
আমি আচমকা ওর ঠোটেঁ আমার ঠোটঁ ছোয়ালাম। এবার ওর সারা শরীরই কেপেঁ উঠল থর থর করে। মোমবাতিটির শিখার মত।
ওর ভেজা চুলের গন্ধে আমি তখন উন্মাতাল। ওর গলার কাছে নাক ঘঁষতে লাগলাম নাছোড়বান্দা; পাজির পা ঝাড়া এক বালকের মত।
ওর শ্বাস-প্রশাস ভারী হয়ে উঠল। খুব ভারী করে নিশ্বাস নিলো স্বপ্ন।

- স্বপ্ন, ভয় করছে?
ও কিছু বল্ল না। শুধু মাথা নাড়ল। করছে না।
- শীত করছে, স্বপ্ন?
ও এবারও কিছু বল্ল না। শুধু মাথা নাড়ল। ওর নাকি শীতও করছে না!

তবে স্বপ্ন আমাকে আকড়েঁ ধরে বসে আছে প্রচন্ড শক্ত করে। এত জোরে যে, আমি যেন ওর হৎপিন্ডের শব্দ আমার বুকের মাঝে টের পাচ্ছিলাম।

আমাদেরকে ক্রমাগত সঙ্গ দিতে থাকা মোমবাতিটি প্রায় ক্ষয়ে গেছে। ঘরের ভেতরের আধারঁটা ক্রমশঃ গাঢ় হয়ে আসছে।



স্বপ্ন এমন সময় কেন যেন আমার বা কানের ভেতর একটা ফুঁ দিল ছোট করে। আমি শিউরে উঠলাম এবার। তাকিয়ে দেখি ওর ঠোটেঁ ভীষন দুষ্টু দুষ্টু এক্টা হাসি।

এবার ও আমাকেই জিগেস করল, ফিসফিস করে বল্ল -
- কি হলো? ভয় করছে তোমার?
আমিও ওর মত ফিসফিস করে বল্লাম - তুমি আমায় আস্টে পৃষ্টে জড়িয়ে ধরে বসে আছো, ভয় করবে কেন?
ও বল্ল - তাহলে কি শীত করছে?
আমি উত্তর দিই - তোমার শরীরের উষ্ণতায় ডুবে আছি, শীত করবে কেন?
ও অনেকক্ষন চুপ করে থাকে। এরপর বলে -
- তুমি এত ভাল কেন প্রলয়?
- "তুমি যে আমার স্বপ্ন হয়ে আমার জীবনে এসেছো, হয়ত তাই।" হাসিমুখে সাথে সাথে প্রতুত্তর আমার।<img src=" style="border:0;" />

স্বপ্ন আমার মাথাটা আগলে ধরে ওর বুকে চেপে ধরলো। এত জোরে যে, ওর হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিলাম স্পষ্ট। ওর শরীরের ঘ্রান নিচ্ছিলাম বুক ভরে!
বৃষ্টি ভেজা মাটির সোদাঁ গন্ধে সেটা মিলে মিশে একাকার হয়ে গেল...।


দূরে একাকী এক ডাহুক ডেকে উঠে হিজলের বনে...
পৃথিবীর সব সুখ আমাদের দুজনার মনে...
পৃথিবীর সব সুখ আমাদের দুজনার মনে...
পৃথিবীর সব সুখ আমাদের দুজনার মনে...


এমন সময়...এমন সময়...মোমবাতিটি ধপ করে নিভে গেল! দূরে আকাশ বাতাস কাপিয়েঁ আবার একটা বাজ পড়লো। ঘুটঘুটে অন্ধকারে এক পলকের জন্য স্বপ্নের চোখের জল আমার চোখে পড়লো...!

কিন্তু তবুও....তবুও...আমরা একটুও ভয় পেলাম না।
আমাদের আর একটুও শীত করলো না।
আমরা শুধু দু জন দুজনকে আকড়েঁ ধরে বসে থাকলাম অন্ধকারে, প্রবল এক ঝড়বৃষ্টির রাতে...!

-তুমি কি কাদঁছো স্বপ্ন?
-হুমম..
- হা হা। বোকা মেয়ে কেন কাদছোঁ?
- তোমাকে এত বেশী ভালবাসি কেন প্রলয়?
- আমি যে তোমাকে তার চাইতেও বেশী ভালবাসি, স্বপ্ন..

...তোমাকে তো পৃথিবীর সব কিছুর চাইতে আমি সবচেয়ে বেশী ভালবেসেছি স্বপ্ন।



ছবি কৃতজ্ঞতাঃ নিলয় হাসান।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28852815 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28852815 2008-10-09 22:32:21
আলো আঁধারিতে একজন "পবিত্র মুখ" আমার এক রুমমেট এক সময় পোটস পয়েন্টের একটা ডিপার্টমেন্টল স্টোরে কাজ করত, শিফট শেষ হত অনেক রাতে, ফোন করে 'আপনি এখন কোথায়' জিগেস করলে বলত, 'আমি এখন নরকপুরী দিয়ে হাঁটছি প্রলয়দা।' এরপর থেকে যতবারই সেখানে গেছি, নরকপুরীই মনে হয়েছে। মাথা নিচু করে হনহন করে হেঁটে পাতাল রেলে এসে দম ফেলতাম।
রাস্তার দুধারে প্রচুর ৪/৫ স্টার হোটেল, ব্যাকপেকারস একোমডিশন, পাব, রেষ্টুরেন্ট, ডিসকো ক্লাব, নাইট ক্লাব, পকার শপ এমনকি বোথ্রেলও! শত শত যৌবনাবতী তরুনীরা সেগুলোর সামনে বিভিন্ন ব্যাশে, বিভিন্ন ভংগিমায় উন্মুখ হয়ে চেয়ে থাকে ফুটপাথ ধরে হেটে যাওয়া মানুষগুলোর দিকে। তাই ওখান দিয়ে হাটার সময় গা শিরশির করে উঠত। মনে হত ওরা যেন অচ্ছুৎ। বিধাতার এই পবিত্র পৃথিবীটা ওরাই অপবিত্র করে দিচ্ছে।
এমনিতেই জাগাটা বেশ সরগরম থাকে। উইকএন্ডে তো কথাই নেই। বিকেল তিনটার পর থেকে ভীড় বাড়তে থাকে, মাঝরাত পর্যন্ত চলে সিডনী সাইডারদের উদ্দামতা। এরপর অনেকেই ক্লান্ত হয়ে চলে যায়। রয়ে যায় শুধু 'প্রমোদবালারা'। ওরা কি কখনো ক্লান্ত হয়না?


বন্ধুর বাসা থেকে ডিনার শেষে একপাশের রাস্তা ধরে আমি সেদিন মাথা নিচু করে হাঁটছি, বাড়ীর ফিরতি ট্রেন ধরব। ইচ্ছে করলে আমার ছোট্ট নিশানটা নিয়ে আসা যেত, কিন্তু সিটিতে গাড়ি নিয়ে আসা মানে পার্কিংয়ের বিশাল একটা হ্যাপাকে নিজের কাঁধে চাপানা। ওটাকে বাড়ীর স্টেশানে রেখে এসেছি। ট্রেন থেকে নেমে চড়ে বসব।

আমার আশে পাশের মেয়েরা একটার পর একটা অশ্লীল শব্দ ছুঁড়ে দিচ্ছে আমার দিকে। কিন্তু আমার মনে হল, সেগুলোর কোনটাতেই নিজেকে বিলিয়ে দেবার ইংগিত নেই। নেই আমন্ত্রনের আভাসটুকুও। যেটা খুঁজে পেয়েছিলাম সেটা হল ক্রোধ আর ধিক্কারের এক সংমিশ্রন।

রাস্তার লোকজন খানিকটা কমে এসেছে ততক্ষনে। হাতের ডানপাশে ম্যাকডোনাল্ডস পরল। এই গরমে একটা কোন আইসক্রিম খাবার ইচ্ছাটা 'পেট চাড়া' দিয়ে উঠল। ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা আর এক্সট্রা কশানের জন্য বাইরে বেরুলে ঐ জিনিসটা ছাড়া আর কিছুই খাওয়া হয় না। আইসক্রিম কিনে বাইরে বেরুতেই, স্টেশানে ঢোকার প্রবেশপথে, আলো আঁধারিতে হঠাৎ দেখলাম ছোটখাট একটা মেয়ে মূর্তির মত ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। একটু এগোতেই বুঝলাম আমার হাতের আইসক্রিমটার দিকে সে তাকিয়ে আছে। আমি কিছুটা অবাক হলাম। কি মনে করে মেয়েটার সামনে গিয়ে থমকে দাড়ালাম। সেটা দেখে মেয়েটা আইসক্রিম থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে তাকাল। আধো আলো; আধো আধারে মেয়েটার অপূর্ব মায়াময় আর নিস্পাপ একটা চেহারা দেখলাম। রাতের মেয়েদের সমন্ধে আমার ধারনা আরেকবার একটা ধাক্কা খেল।

ছোট শরীরটাতে কাপড় বলতে কিছু নেই বল্লেই চলে। হাঁটুর ছয় ইন্চি উপরে এসে লাল স্কার্টটার প্রান্ত শেষ হয়ে গেছে। আমাকে দেখে লজ্জায়(!)কোরিয়ান সেই মেয়েটা সেটাকে টেনে খানিকটা নীচে নামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করল। আরো অবাক হলাম। নিজেকে বিজ্ঞাপয়িত করার বদলে আড়াল করতে চাইছে! মনে হল নতুন, তাই মানুষের পাষবিকতাকে এখনো পুরোপুরি হজম করতে পারেনি। আমি মেয়েটার চোখের দিকে তাকালাম, অদ্ভুত এক বিষন্নতা চোখের মনির পুরোটা জুড়ে। একটু চুপ করে থেকে বল্লাম: 'Do you wanna have my icecream?'মেয়েটা মাথা নাড়ল। চায় না। ঠোঁট দুটো শুকিয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছিল পিপাসার্ত। আমি পাশের একটা নিউজ এজন্সি থেকে একটা এর্নাজি ড্রিংকস কিনে মেয়েটাকে সাধলাম। নিলো না। আমি ওর পায়ের কাছে সেটা রেখে দিয়ে চলে আসলাম। কয়েকটা ওজি অ্যাবো (অ্যাবোরোজিনাল) আমাদের খেয়াল করছিলো একটা স্পোর্টস কার থেকে। আমি যাবার জন্য পা বাড়াতেই মেয়েটাকে লক্ষ্য করে "হেই প্রসী, প্রসী" বলে কুকুরের মত চেঁচিয়ে উঠল।

কয়েকটা ডলারের আশাতে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম পেশাকে বেছে নিতে হয়েছে। মেয়েটা তৃষ্নার্ত ছিল। হয়ত ক্ষুধার্তও। নিজের সেই ক্ষুধা মেটাতে নিজেকেই সঁপে দিতে বসে আছে আরেক ক্ষুধার্ত হায়েনার ক্ষুধা মেটাতে। হায়েনা আগে নিজের পেট ভরবে, তারপর এই মেয়েটা দুটো খেতে পাবে। খেয়ে গায়ে শক্তি বাড়াবে। তারপর আবার আরেক ক্ষুধার্ত হায়েনার খাবার হবে নিজে। বাহ। কি দারুন প্রথা!

মেয়েটা তার চোখের মাঝে সে রাতে কি দেখিয়েছিলো আমায়? একরাশ সপ্ন, সংসার গড়ার সপ্ন? নাকি একবুক ঘৃনা, সমগ্র পুরুষ জাতের উপর ঘৃনা নাকি কোন এক টেকওয়ে শপ থেকে একবাটি খাবার কেনার দুর্নিবার আকাংখা? কোনটা?
একজন পতিতার চেহারাকে পবিত্র বলার কারনে 'সুশীল' সমাজ হয়ত আমাকে আতেঁল, পাগল বা অসভ্য আখ্যায়িত করবে, কিন্তু আমি মেয়েটির চোখে কি দেখেছিলাম সেটা কি কোনদিন তারা জানতে চাইবে?

হঠাৎ চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে উঠল, এই হয়েছে এক জ্বালা, একটুতেই....।

অনেকদিন আগে শোনা একটা গানের কথা মনে পড়ল।
Click This Link

কানে তখন বাজছিলো সেটা। আরেক ঘর.....আরেক পুরুষ....আরেক ঘর....আরেক পুরুষ। শুনছি আর ভাবছি, আজ বিশ্ব নারী দিবস। হাহ। নারী দিবস। হা হা হা। কি চমৎকার প্রহসন!

মেয়েটার দিকে ফিরে তাকাতে চেয়েও কেন যেন পারলাম না।
তাকালে কি দেখতে পেতাম মেয়েটার চোখে? পিপাসা মেটাবার জন্য কৃতজ্ঞতা; নিজেকে গৃহীত করতে না পারার হতাশা নাকি এখনো সেই প্রবল ঘৃনা আর ধিক্কার? হয়ত আর কোনদিনও জানা হবে না আমার।

স্টেশনের এ্যাসকেলেটর দিয়ে স্থবির হয়ে আমি মাটির নীচে নামছি। মাটির অনেক নীচে!! অনেক!!!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28851341 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28851341 2008-10-05 23:31:45
স্বপ্ন আর তার হীরক বন্ধুর গল্প
……কত মুগ্ধ আলাপন। কত বিনিদ্র প্রহর আর কত কথার মালাগাথাঁ। ইথারে ইথারে ছড়ানো দূরের দুজন বন্ধুর জন্য অনাবিল ভালোবাসা।
রাতের সমস্ত নীরব আবেগকে জড়ো করে টুকরো টুকরো অংশ, চিরাচরিত সেই ঝগড়ার খন্ড খন্ড অংশ, একটি দুটি খুনসুটি, উচ্ছ্বাস, সাদা-কালো বাস্তবের মাঝে কত বর্নালী আমরা।
স্বপ্নকে নিয়ে তার হীরক বন্ধুটি কতই না মায়া জমিয়ে রেখেছি তার বুকের পরতে পরতে।

আমার ক্লান্ত তন্দ্রার মাঝে বিছিন্ন সপ্নের চারীনি হয়ে মিষ্টি তানে আবার আমাকে অথৈ ঘোরের সাগরে ফেলে দাও।
আমার স্বপ্ন আর তোমার হীরক বন্ধু, পৃথিবীর এই দুটো সবচে বড় পদক প্রাপ্তিতে প্রতিরাতেই যেন উল্লাতে মেতে উঠতে ইচ্ছা হয়, স্বপ্ন!

স্বপ্ন, কেন এত নিরব তুমি? কোন নিরবতা তোমাকে নিরব করে দিল এত?
কেন এত স্তদ্ধ, এত বিষন্ন, এত উদাসী...?
যেন মুষলধারে বৃষ্টি শেষে কোন এক শান্ত সকালের নরম আলোতে ঝরা শিউলির মত মৌন, মোলায়েম আর আনমনা...!

অথচ তোমার হীরক বন্ধুকে দেখো, স্বপ্ন! অশান্ত এক ভাইরাস বাসা বেঁধেছে যার ফুসফুসে, কাশির দমকে যার কথারা হারিয়ে যায় বাতাসে, নাক-মুখ জমে যায় ম্যাপল ঝরা ঠান্ডায়, তবুও দেখো তোমার হীরক বন্ধু তার কথার ফুলঝুড়ি ফোটায় অসুখে মুখে। মাঝে মাঝে তুমি কিছু বলার সুযোগই পাও না।

আবার মাঝে সাঝে, স্বপ্ন-হীরক বন্ধু, দুজনেই চুপচাপ। আবার হঠাৎ দুজনেরই একসাথে শুরু।
স্বপ্ন কি অদ্ভুত করে কথা বলো তুমি প্রায়শইঃ
হীরক বন্ধু তো হেসেই খুন!

হীরক বন্ধুর চারপাশে যখন প্রবল বৈরী বৃষ্টি;
তখন স্বপ্নরা শুধু স্থানুর মত বসে থাকে লোডশেডিংয়ের আধারেঁ, কথোপকথনের তার ছিড়ে যায়, মুঠোফোন নির্জীব হয়ে পড়ে।
...কিন্তু কি আশ্চর্য, তবুও স্বপ্ন আর তার হীরক বন্ধু থেমে থাকে না। শীতের রাতে গায়ে-গলায় চাদর আষ্টে-পৃষ্ঠে বেধেঁ, হীরক বন্ধুর স্বপ্ন তখন পড়ার টেবিলের গাঢ় অন্ধকারে থিতু হয়ে বসে, খানিক আগের সুর কেটে যাওয়া কথার ছন্দে আবার দুজনে মেতে উঠে, এভাবেই ভোর হয়ে যায়, আর তোমার রাত গড়িয়ে যায় আমার ভোরের দিকে।
কিন্তু যখনি হীরক বন্ধুটি তার রুপকথা বলার জন্য তৈরী হয় নড়ে চড়ে বসে, স্বপ্নেরা তখন দারুন বেরসিকের মত ঘুমপাড়ানী গান শুনতে চায়!

"বায় বলো, প্লিজ!" কি অকপটে কথাটা বলে ফেলে স্বপ্ন!

আবার সেটাকে হাসি মুখেও বলতে হয়!!!
স্বপ্নরা কিভাবে পারে এভাবে মুখের উপর হীরক বন্ধুদের বিদায় বলে চলে যেতে?
কেন এত নিষ্ঠুর হয় তার স্বপ্নেরা?
স্বপ্ন, কেন এত অবুঝ হও তোমরা...?

দরজায় মা এসে তাড়া লাগায়, আমার স্বপ্ন একসময় ইথারের জগৎ ছেড়ে পাত্তারি গুটিয়ে চলে যায় নিদ্রাদেবীর কোলে, শেষরাতে সে নিজেই ঘুমিয়ে পড়ে ড্রিম লাইটের মৃদু আলো আধারীতে, হীরক বন্ধুটিকে আমার স্বপ্ন দেখানো তার আর হয়ে উঠে না।

অথচ কত সহস্র মাইল দূরে, হীরক বন্ধুটি তার শীত চাদরের উষ্ণতায় হতাশ শামুকের মত মাথা গুজেঁ বসে থাকে আরেকটি ইথার রাতের অপেক্ষায়, আমার স্বপ্ন আর তার হীরক বন্ধুতে পরিনত হবার
অহর্নীশ অপেক্ষায়.................................... !


পুরনো চালে টেস্ট পেয়ে গেছি!
Click This Link

<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28850716 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28850716 2008-10-03 22:57:13
সবাইকে ঈদ মোবারক। " style="border:0;" />

এদিকে সারা রাইত ঘুমাইনাই। ঘুমে এখন চক্ষু ভাইংগা আস্তেছে। নামায কিভাবে পড়বো আল্লাহ মালুম!<img src=" style="border:0;" />

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। আসেন ভার্চুয়াল্লি কোলাকুলি করি।<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28849932 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28849932 2008-10-01 02:17:22
মায়াবতী...so what বলার মুদ্রাদোষটা কি এখনো আছে তোমার?
তনুষার সাথে আমার প্রথম দেখা এবং প্রথম পরিচয় দুটোই হয় ঝিগাতলা বিটস ইউনোভাসির্টির আন্ডারগ্রাউন্ড সাইবার ক্যাফেতে।
সালটা ছিল ২০০০ সাল। ঢাকা সিটি কলেজে সবে ইন্টারে ভর্তি হয়েছি। চোখে মুখে নানা রঙ্গের ঝিলিক। কম্পিউটার স্যার তানিম আহমেদই প্রথম ক্যাফের খোঁজটা দিলেন। বাংলাদেশে সাইবার ক্যাফে, ইন্টারনেট এইসব তখনও এতটা জনপ্রিয় হয়নি। বাসায় কম্পিউটার ছিল অনেক আগে থেকেই কিন্তু ইন্টারনেটের জন্য ক্যাফেতে যেতে হত। খুজেঁ পেতে ঐ ছিমছাম ক্যাফেটা খুঁজে পেয়েছিলাম।

ওর সাথে আমার পরিচয় পর্বটা অত্যন্ত নাটকীয়। কাকতালীয় বল্লেও বলা যায়। বল্লে হয়ত কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না।
ক্যাফেতে তেমন জরুরী কোন কাজ ছিল না। নিতান্তই ব্রাউজ আর চ্যাট করার জন্য যাওয়া হত। একদিন বাংলাদেশ রুমে গিয়ে 'মায়াবতী' নামে একজনকে পেলাম। আর পায় কে? নক করে ধুমায়া আড্ডা !

আমার পাশে খুব সুন্দর ড্রেস পরা একটা মেয়ে বসে ছিলো, চেহারা দেখা যাচ্ছিল না, তাই খেয়াল করিনি প্রথমে। কিছুক্ষন পর হঠাৎ সেখানে একটা ছন্দমিল লক্ষ্য করলাম। যাচাই করে নিতে আমি মায়াবতীকে একটা প্রশ্ন করে মেয়েটার দিকে তাকালাম, দেখলাম ও মনিটরের দিকে একবার তাকিয়েই টাইপ করা শুরু করল। আবার আমি যখন টাইপ করছিলাম তখন আড়চোখে ওকে দেখি যে ও চুপ করে বসে আছে। সাহস করে উঠে গিয়ে জিগ্গেস করলাম-'এক্সকিউজ মি, আপনি কি মায়াবতী?'
মেয়েটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো অনেকক্ষন। সেই প্রথম আমার মায়াবতীর অসম্ভব মায়াময় মুখটা দেখলাম। সেই থেকে শুরু।

আমরা পরস্পরের কাছে ধীরে ধীরে পরিচিত হতে থাকলাম। জানলাম, বনেদী বংশের মেয়ে ও, বা-মার একমাত্র মেয়ে। আর আছে এক ভাই, কানাডা সেটেলড। ব্যাঙ্গালোরে থাকে ওদের বেশীর ভাগ আত্নীয় স্বজন। ও হলি ক্রসে পড়ত। আমার চেয়ে বড় ছিলো ও। বয়সে প্রায় ৩ মাসের আর দৈর্ঘ্যে প্রায় ইন্চিখানেক।

মেয়েদের আর্কষন করার মত আমার ভেতর কিছুই নেই। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে ও আমাকে ভীষন আপন করে নিল। এদেশে ওর কোন বন্ধু ছিলো না এটা একটা কারন হতে পারে। তবে, আমার পরে ও আর কারো সাথে কোন প্রকারের সম্পর্কে জড়ায়নি। সে হিসেবে বাংলাদেশে আমিই ওর একমাত্র বন্ধু ছিলাম।

কতদিন ধানমন্ডি লেকের পাড় দিয়ে দুজনে হেটেঁ বেড়িয়েছি; রাইফেল স্কয়ারে ঘুরে বেড়িয়েছি। বিটসে আর ব্লু প্লানেটেও যেতাম প্রায়ই। পাবলিক লাইব্রেরীতেও যেতাম, তবে ঘুরে বেড়াতে নয়। এ্যাসাইনমেন্টের জন্য।
বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে আমার একটা স্টেজ শোতে ওকে দাওয়াত করেছিলাম। ওদের করলাটা নিয়ে গুলশান থেকে নিজে ড্রাইভ করে একা একা শাহবাগ চলে এল!

ওকে বলেছিলাম সামনের রোতে না বসার জন্য। ও সেটা বেমালুম ভুলে গেল। আমাকে ভাল করে দেখার জন্য বসল একেবারে সামনের সারিতেই। ফলে যা হবার তাই হল। ওর উপর চোখ আটকে গেল। উত্তরনের কর্ণধার ইরাজ ভাই পর্দার আড়াল থেকে তাগাদা দিতে লাগল- 'প্রলয় কি হল? শুরু কর।' যখন ধাত্স্থ হলাম, তখন আমি ভীষণ নার্ভাস। গীটারের রিড উল্টা পাল্টা করে ফেল্লাম। গানের লাইন ভুল গেলাম। ও সেটা বুঝতে পেরে মাঝের সারিতে গিয়ে বসল। আমার তাতে কোন লাভ হল না।

শো শেষে বাইরে বেরিয়ে অনেকক্ষন ওর গাড়িতে চুপচাপ বসে ছিলাম। ও -ও কোন কথা না বলে গাড়িটা ফুলার রোডের শেষ মাথায় এনে পার্ক করে মাথা নিচু করে বল্ল- 'সরি প্রলয়, সব দোষ আমার, আমি ভুলে গিয়েছিলাম।' আমার মুখ দিয়ে তখনও কোন কথা বের হয়নি।
কতদিন আগের কথা, অথচ মনে হয় এইতো সেদিন!

আশুলিয়ায় আমাদের অসম্ভব নির্জন একটা বটতলা ছিল। ওখানে আমাদের অনেক মজার মজার স্মৃতি ছিলো। বট তলায় বসে ও আমাকে প্রায়ই ওর ছোটবেলার অনেক ঘটনা আনমনে বলে যেত। সেসব শুনে প্রতিবারই আমি খুব কৌতুহলী হয়ে ওকে প্রশ্ন করতাম -'তনু, তোমার সেই সোনার চামচটা এখন কই?' ও অবাক হয়ে তাকালে আমি বলতাম -'আরে ঐ যে, যেটা মুখে নিয়ে তুমি জন্মেছিলে।' ও হাসতে হাসতে উল্টে পড়ত।

একদিন সেই বটতলার বটকে সাক্ষী করে আমার সাথে ওর চুক্তি হল যে ওকে আমি গিটার শিখাবো, তার বদলে ও আমাকে ড্রাইভিং শিখাবে। ও বল্ল,
-দেখ আবার চুক্তি যেন ভঙ্গ না হয়!
-হলে কি হবে?
-উমম...বটগাছকে সাক্ষী করে চুক্তি করে সেটা ভঙ্গ করলে তুমিও বটগাছ হয়ে যাবে!
-তাই নাকি?
-জ্বি স্যার, এটাই নিয়ম।
-বাহ সুন্দর নিয়ম তো! তাহলে চলনা, আমাদের চুক্তিটা বিল গেটসকে সাক্ষী রেখে করি, প্লিজ!

ও হাসতে হাসতে কুটিপাটি হয়ে যেত।

গুলশান লেকের ধারে বসে আমি ওকে গীটার বাজানো শিখাতাম। আমার জন্য সেটা ছিল বিরাট অস্বস্থির একটা কাজ। ও কিন্তু বেশ নির্বিঘ্নে আমাকে গাড়ী চালানো শেখাত। গোমড়ামুখে শুধু প্রায়ই বলত-'একটু সাবধানে প্রলয়। আমার কিন্তু জীবন বীমা করা নাই।'

কোন কোন দিন আমরা কোন কথা বলতাম না, তুরাগ নদীর তীরে গিয়ে দুজনে চুপচাপ বসে থাকতাম।

ও অসম্ভব চাপা স্বভাবের ছিলো। প্রচন্ড কষ্ট পেলেও সেটার বিন্দুমাত্র কাউকে বুঝতে দিত না। এখানেই আমার আপত্তি ছিলো। কতবার বলেছি সব কষ্ট দুজনে ভাগাভাগি করে নিবো। ও সায়ও দিত, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। ও কখনো করেনি।

ইন্টার পরীক্ষার পর যেদিন ওরা ব্যাঙ্গালোরে চলে যায়, তার আগেরদিন, আমাকে 'joruri meeting' লিখে মেইল করে বটতলায় আসতে বল্ল। আমি হেলেদুলে বটতলায় গেলাম। কারন ঐ কথাটা ও সব মেইলেই লিখত।
গিয়ে দেখি, ধবধবে সাদা কামিজ আর সাদা চূড়িদার পরে হাঁটু ভাজ করে তার উপর খোলা চুলে মাথা রেখে বিষন্ন মনে বটতলার বেদীতে বসে আছে। মাথার উপরে বটের ঝাড়গুলো কিলবিল করছিলো। স্বর্গের অপ্সরীর মত লাগছিলো ওকে।

অনেক জোরাজুরি করেও ওর পেট থেকে কোন কথা বের করতে পারলাম না। শেষে যখন হাল ছেড়ে দিলাম, তখন কাঁদ কাঁদ হয়ে বল্ল- 'প্রলয়, আব্বু আমাদের নিয়ে কাল সকালের ফ্লাইটে ব্যাঙ্গালোর চলে যাচ্ছে। কবে ফিরব জানি না।"
আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। প্রচন্ড অভিমান হলো ওর উপর। আমাকে কেন আগে জানালো না?

ওরা চলে গেল। আর ফিরে আসেনি কখনো...।

মাঝে মাঝে শুধু আমাদের ল্যান্ড ফোনে কল করত। ওর নানাবাড়ী চেরাপুন্জি থেকে ফোনে আমাকে বৃষ্টির শব্দ শোনাত। রাতের বেলা ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে অন্ধকারে বারান্দায় বসে বসে আমি চেরাপুন্জীর বৃষ্টি 'শুনতাম'। ও বলত: 'প্রলয়, সাত দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। থামাথামির কোন লক্ষন নেই। সারাদিন বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেছি। এই শব্দটা মাথার ভেতর পাকাপাকি ভাবে বসে গেছে। বৃষ্টি থামার পরও দেখা যাবে মাথার ভেতর ঝমঝম শব্দ হচ্ছে।' বলেই ও রিনরিন করে হাসত। ওর হাসি আর বৃষ্টি একাকার হয়ে মিশে যেত। আমি দ্বিধান্বিত হতাম। কোনটা শুনব? দুটোই তো আমার জীবন...!

আরেকদিন বল্ল- মনে হচ্ছে বৃষ্টির পানিতে আজ কালের ভেতর চেরাপুন্জী নামক শব্দটা পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ধুয়ে মুছে যাবে।'

কথাটা শুনে ওর সাথে আমিও হেসেছিলাম সেদিন, কারন তখনও জানতাম না যে সেটাই ছিলো আমাকে করা ওর শেষ ফোন।

তনুষা চমৎকার রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে পারত। গাড়ীর ক্যাসেট প্লেয়ারে চলা সুশীলা রহমান আর মৌসুমী ভৌমিকের সাথে সাথে ও সুর ভাজত। আমিও যথারীতি প্লেয়ারটি জোর করে বন্ধ করে শুধু ওরটা শুনতাম।
সুশীলা রহমানের 'ও রামা' আর মৌসুমী ভৌমিকের 'আমি খুঁজছি তোমার ঠিকানা' ওর হেভী ফেবারিট দুটো গান ছিল। বেশ চমৎকার গাইত এদুটো। আর আমি গিটারে টিউন করতাম। খুব ইচ্ছে ছিল দুজনে একটা ডুয়েট স্টেজ পারফরম্যান্স করব!

আমি সাধারনত 'ঘুমপাড়ানি' ধরনের গান খুব একটা শুনিনা। তবে সুশীলার 'ও রামা' গানটা আমার খুব পছন্দের ছিলো। চমৎকার মেলোডিয়াস। কিন্তু মিউজিক ছাড়া আগা-মাথা আর কিছুই বুঝতাম না। অথচ তনুকে অবাক হয়ে দেখতাম কত অবলীলায় গানটা গাইতে। ও বলত গানটা নাকি হিমালয়ের কোন এক বিখ্যাত মুনীর কথা। খুবই আধ্যাত্নিক। অনেক আগের গান, salt rain এ remake করা হয়েছে। গানগুলো এখনও যখন শুনি, মনে হয় ও-ই গাইছে।

ওকে নিয়ে যে সব জাগায় ঘুরে বেড়াতাম, সেসব জাগায় গিয়ে স্থানুর মত বসে থাকতাম। আর মজার মজার স্মৃতি গুলোই বেশী মনে পড়ত। কথায় কথায় 'সো হোয়াট' বলাটা ছিল ওর একটা মুদ্রাদোষ। মাঝে মাঝে এমন সব জাগায় বলত, ও নিজেই লজ্জায় পড়ে যেত।

ওর জোকস শুনে যখন মুখ ভার করে বলতাম-'হাসতে পারলাম না বলে দুঃখিত।' আমাকে তখন কাতুকুতু দিয়ে হাসাত। আর আমার ওটা ছিলও ভীষণ। এরপর তাই ওর হাত থেকে বাঁচতে ও যেটাই বলত, মেকী অট্টহাসি দিতাম। একদিন ধরা পড়ে গিয়েছিলাম। কপালে জুটল শাস্তি স্বরুপ ডাবল কাতুকুতু!

ইয়াম্মি ইয়াম্মির আইসক্রিম ও ভীষন পছন্দ করত। বলতঃ আমিও একটা দোকান খুলব। নাম দেব 'ইয়াব্বি ইয়াব্বি'।

দুজনে খুব মান্জা মেরে একদিন সাত মসজিদ রোডের 'হাইফাই' একটা আইসক্রিম পার্লারে গিয়ে ওর হঠাৎ খেয়াল হল ও ওর ভ্যানিটি ব্যাগ বাসায় ফেলে এসেছে। আমার কাছে তখন সাকল্যে ছিল মাত্র বিশ টাকা। আর সবচে সস্তা যেটা ছিলো ওটার দাম হলো ৩০ টাকা। এখন কি করি? এত মানজা মেরে এসে কিছু না কিনে গেলে তো খারাপ দেখায়। তার উপরে দোকানে শুধু আমরাই। আমাদের দিকে বিক্রেতারা হা করে তাকিয়ে আছে। ভাবছি আজ আর রক্ষ নাই। মান সলেমান সব যাবে। হঠাৎ ও এগিয়ে গিয়ে খুব ভদ্র ভাবে একজনকে বল্ল- 'ভাইয়া, আপনাদের কাছে ইটালিয়ান এস মার্কের আইসক্রিম আছে?' আমি মনে মনে ভাবি -ও কি করছে এটা? আমি তো ভয়ে সারা। লোকটা হতাশ হয়ে মাথা নেড়ে বল্ল- 'না নেই, আপা।' তনু একটা শ্রাগ করে আস্তে করে আমাকে নিয়ে বেরিয়ে এল। যেন এমন একটা ভাব "কি সব আজে বাজে দোকান। ইটালিয়ান এস মার্কের আইসক্রিম নাই।"
বের হয়েই ওকে ধরলাম-
- আজকে কপাল জোরে বেঁচে গেলা। ঐ আইসক্রিসমটা থাকলে কি হত এখন? বিল দিতে কিভাবে?
-ও মুখ টিপে হাসতে হাসতে বল্ল- আরে আমি তো জানি যে নাই।
-'কিভাবে জান?' আমার তখন মেজাজ খারাপ।
-আরে বাবা, এই নামে দুনিয়াতে কোন আইসক্রিম থাকলে তো!

আরো কত শত পাগলামি করত। কটার কথা বলব?

প্রচন্ড জ্বর নিয়ে একদিন আমার সাথে দেখা করতে এল, আমি খুব করে বকা দিলাম তাই। গাড়ীর ভেতর বসে আমার কাঁধে মাথা রেখে ক্লান্ত স্বরে বল্ল- 'তোমাকে যে কথা দিয়েছিলাম আজ দেখা করব!' দেখলাম জ্বরের তীব্রতায় চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। ছুঁয়ে দেখলাম...খুব গরম...! আমি ওর কপালে আর চোয়ালে হাত দিয়ে দেখলাম, জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। আমাকে দেয়া কথা রাখতে পাগলীটা আমার সাথে এত অসুস্থ শরীর নিয়েও দেখা করতে এসেছে! আর ওদের ড্রাইভারটাও ছিল আরেক ছাগল। ও বল্ল আর ওমনি ওকে নিয়ে চলে আসল।
....কত তীব্র এক ব্যাথা....ওর জন্য তখন কত তীব্র এক মায়া...আমার মায়াবতীর জন্য....বলে বোঝাতে পারব না কখনো। আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে পাঠালেন কেন?

ওর সেসব পাগলামীর কথা মনে করে অনেকদিন পর্যন্ত একা একা বসে হাসতাম। বেশীরভাগ সময়ই হো হো করে হাসতে হাসতে হু হু করে কেঁদে ফেলতাম।
খুব ছিচ কাঁদুনে ছিলাম আমি !

উড়ো খবরে শুনেছিলাম, বছরখানেক ইন্ডিয়াতে থেকে ও ওর বড়ভাই'র কাছে চলে যায়। মন্ট্রিলের কনর্কডিয়া ইউনোভার্সিটি থেকে ডিজিটাল আর্টসে গ্রাজুয়েশন করে। গত বছর বিয়ে হয়ে গেছে। ওর স্বামী মাইক্রোসফটের জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপার। এখন ওরা নিউইয়র্কে থাকে। ভালই হয়েছে, আমার তো আর অত যোগ্যতা ছিলো না, এখনও নেই। তনুষার মত মেয়েকে আমি হয়ত কখনোই ডির্জাভ করিনি।


আজ কেন জানি অনেকদিন পর শাহানা আপুর (শাহানা বাজপেয়ী) 'একটা ছেলে' গানটা শুনে ওর কথাটাই ঘুরে ফিরে বারবার মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে গানটা যেন ও-ই গাইছে। যদিও ওর গলার সাথে সবচে বেশী মিল ছিল নীলা আপুর (আনিলা)। তবুও মনে হচ্ছে গানটা গেয়ে গেয়ে ও আমাকে শোনাচ্ছে। 'একটা ছেলে মনের আঙ্গিনাতে ধীর পায়েতে এক্কা দোক্কা খেলে.....!



পুরান চাউল নাকি ভাতে বাড়ে। ইকটু টেস কইরা দেখি।<img src=" style="border:0;" />

Click This Link

এইটা কিন্তু একটা কাল্পনিক কাহানি।

<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28849515 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28849515 2008-09-30 01:02:17
আর কতকাল হিপনোটাইজড হয়ে থাকবে সুলগ্না? বাইরে সেদিন উথাল পাতাল বৃষ্টি হচ্ছিল,

তুমি নীচতলার সিড়ির নীচের অন্ধকারে
চুপটি করে দাঁড়িয়ে ছিলে।
বল্লে-"ভয় করছে আমার, খুব!"
আমি তোমাকে টেনে এনে মোমবাতির আলোয় বসালাম।
আমার হাতের মুঠোতে তোমার কব্জি রেখে
ফিসফিস করে বল্লাম-"ভয় নেই, এই যে দেখো আমি আছি!"
তুমিও ফিসফিস করে বল্লে-"তবুও ভয় করছে!"

তোমার ভয় কাটাতে তোমাকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলাম। তুমি শক্ত হয়ে বসেছিলে। মনে পড়ছে এখন?


মনে পড়ছে সুলগ্না?
সেরাতে আমরা দুজন খুব নিরিবিলি একটা পিচঢালা রাস্তায়
একাকী হাত ধরাধরি করে পাশাপাশি হেটেঁ চলেছিলাম।
বাতাসে ছিলো বৃষ্টির সোদাঁ গন্ধ।
তুমি বল্লে "এ্যাই, শীত করছে আমার!"
আমি মুচকি হেসে বল্লাম-"শালটা নিয়ে এলেই পারতে!"
তুমি আবারও ফিসফিস করে অভিমানী স্বরে বল্লে- "তাই বলে কি জড়িয়ে ধরবে না আমায়?"
আমার অট্টহাসি ক্ষনিকের জন্য সে রাতের নীরবতাকে ভেঙ্গে খানখান করে দিয়েছিলো। আমি আমার শরীরের সমস্ত উষ্ণতা দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম তোমায়। এখনও মনে পড়ছে না তোমার?

আমরা হাটঁতে হাঁটতে রমলাদের বাগানে এসে হাজির হলাম।
তুমি হাস্নাহেনা আর গন্ধরাজের সম্মিলিত একটা অদ্ভুত ঘ্রান
বুক ভরে নিলে।
আমি তোমাকে ওদের সিঁড়ি বারান্দায়
আমার দুহাঁটুর মাঝে বসিয়ে বল্লাম
"লগন, জীবনটা কতই না সুন্দর, তাই না?"
তোমার নিরবতায় চেয়ে দেখি
তোমার দুচোখে জল টলমল করছে!
আমি তাকাতেই আমার দিকে চেয়ে হাসলে তুমি!
তোমার গালের টোলের ধাক্কায়
তোমার বামচোখের পানির একটা ফোটাঁ
গড়িয়ে তোমার টোলের গর্তটায় গিয়ে পড়ল!
আবারও খুব হাসি পেলো আমার,
কিন্তু হাসলাম না, তুমি কাঁদছ, আমি হাসি কি করে বল লগন?
তখন তুমি আমার হাত দুটোকে দুপাশ থেকে বুকে জড়িয়ে ধরলে!
এবার মনে পড়েছে তোমার?



এখনও কি আজ সেসব তোমার কাছে শুধুই হিপনোটিজমই হয়ে থাকবে?
আমি তো আমার কল্পনাকে বাস্তব করতে চেষ্ট করি কিন্তু তোমার জলজ্যান্ত একটা বাস্তবতাকে কল্পনাতে রুপ দেবার আশা আমার সে চেষ্টাকে নিমিষেই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়।

সুলগ্না, ঘোরের জগত থেকে একটিবার বাইরে এসে দেখোনা,
তোমার জন্য সেই মোমের আলো..সেই বৃষ্টিভেজা রাত...রমলাদের সেই আজব বাগান...সেই আমি এখনও তোমার পথ চেয়ে বসে আছি।

আজ সেখানে শুধু তুমিই নেই!


(আমার অরন্য আগুন নিকের ব্লগ থেকে রিপোস্ট করলাম। মেজাজটা চরম খারাপ!)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28844559 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28844559 2008-09-17 23:39:06
বৃষ্টি - কোল্ড জে

সেই দিন খুব বৃষ্টি ছিলো
ছিলো সবার ব্যস্ততা
অদ্ভুত তাকে দেখলাম হঠাৎ
শান্ত তার পথ চলা
ভালাবাসার প্রথম ভালোলাগা
ভুল করে যেন কাছে আসা ||

ভেজা ছিলো ঐ চুল গুলো,
উড়ছিলো না তাই বলে।
হঠাৎ চোখে পড়লো যে চোখ আমার,
হাসলো না যে সে একটুও তাতে।


মুগ্ধ তো হলো আমার নয়ন
কেন যেন কোথায় ছিলো বাধা
পাশ দিয়ে সে যে চলে গেলো
আর তো দেখিনি, আমি কভু।

ভালোবাসার প্রবল ভালোলাগা
ভুল করে যেন কাছে আসা...


টাইটেলঃ বৃষ্টি
ব্যন্ডঃ কোল্ড জে
এ্যালবামঃ অনেক কাছে (২০০০)


ইস্নাইপস অডিও ক্লিপ বাফার লিংক

স্বপ্ন, খুব ইচ্ছে ছিলো তোমাদের ব্যালকনিতে ছাদ থেকে আছড়ে পড়া বৃস্টির পানির শব্দ শুনবার...!<img src=" style="border:0;" />

আমার প্রচন্ড প্রিয় একটা গান দিলাম। বৃষ্টি হলে শুনি ....ইচ্ছে হলে শুনে দেখো...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28843642 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28843642 2008-09-15 22:00:45
ছামোয়ারিনের হইছে কি? http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28843361 http://www.somewhereinblog.net/blog/kabir08/28843361 2008-09-15 08:41:37 শাহী মির্জাকে অপরাধী ভাবাটা কতটা যুক্তিসংগত হচ্ছে???
সরল-নিস্পাপ এই ছবিটাতে কি কেউ কোন অপরাধ বা আতংকের চিহ্ন পাচ্ছে?

অনেকদিন থেকেই ছামোয়ারে আর আমার ব্লগে এইটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলছে। সেটা নিয়ে কখনো বলার প্রয়োজন মনে করিনি। চুপচাপ দেখে গেছি। কিন্তু কাল যখন দেখলাম, আরিফ ভাইয়ের একটা পোস্ট আমার ব্লগে স্টিকি, তখনই ভাবলাম, এবার আর মুখ বন্ধ নয়। কিছু একটা বলতে হয়।



র্যাব শাহীকে যে খুজেঁ বের করেছে এটার মধ্যে তাদের চে ব্লগের ভূমিকাই বেশী। আর ব্লগ থেকে যে তথ্যসূত্র নেয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটা মনে হয় লোকালটকের একটা পোস্ট থেকেই। সুতরাং, সংবাদ পত্রে তাদের যে বীরত্বের কথা বলা হচ্ছে, সেটা আসলে কিসের জন্য? ডটু রাসেল ভাই'র পোস্টটা পড়লে এই ব্যাপারে আরো ক্লিয়ার হওয়া যায়। দেশের আইটি উন্নয়নের নাম গন্ধও নাই। ইয়াং জেনারেশন যা করছে, সম্পূর্ন নিজস্ব চেষ্টা আর সাধনায়। অথচ ইউরোপ আমেরিকাতে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলেও এইসব বানাতে পারে না। এখানে দেখছি, ছেলেপেলেদের ক্রিয়েটিভ বানানোর জন্য সরকারের কি অপার সাধনা। তবুও তারা টাকা, মদ আর নারীর পিছনেই ছুটতে বেশী পছন্দ করে। সেদিন পেপারে দেখলাম একটা প্রতিষ্ঠান গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য এ্যাড দিয়েছে। ওদের সাইটে গিয়ে দেখি, আমার ছোট ভাই নিলয় এদেরকে ফটোশপ, থ্রি ডি স্টুডিও ম্যাক্স, আর মায়ার কাজ শেখাতে পারবে। অথচ ওর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। নেই কোন সার্টিফিকেট। এত সব কথা বলার মানে হলো, বিদেশে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে, প্রচুর সুযোগ সুবিধা ভোগ করে একটা ছেলে হ্যাকার হতে পারে। সেখানে বাংলাদেশে কয়টা ছেলের জন্য তেমন সুযোগ রয়েছে? সবাই তো "শাহীর মাধ্যমে ভবিৎষত হ্যাকারদেরও একটা শিক্ষা দেয়া হবে" রব তুলেছে। আর দেশে যে সাইটের নিরাপত্তা নেই, চুরি করার মত তথ্যও নেই, সেসব বিষয়ের কথা আর নাই বা বল্লাম। আজ দেশের একটা সন্তান দেশের সাইট হ্যাক করেছে। এটা যদি হতো কোন ইন্ডিঢান ছেলে, তখন কি হতো? সারা বিশ্বে আরো বাজে ভাবে ছড়িয়ে দিতো যে বাংলাদেশের এলিট ফোর্সরা তাদের নিজেরদের সাইটেরই নিরাপত্তা নিষ্চিত করে পারে না। তখন র্যাবরা কাকে ধরে বাহাদুরি করত? এই ছেলেটাকে আরো পুরস্কৃত করা উচিৎ, নিজেদের আই টি নিরাপত্তা হীনতা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার জন্য। আমেরিকাতে আজ থেকে ১২ বছর আগে এই ঘটনা ঘটলে আমেরিকান সরকার তাই করত। শুধূ তাই না, তাকে ওয়েব সাইট রক্ষনাবেক্ষনের জন্য এক্টা ভাল চাকরিও দিত। অথচ আমরা বাচ্চা এই ছেলেটাকে নিয়ে নিমর্ম এক কৌতুকে মেতে উঠেছি। আমরা বাংগালিরা নিজেদের কখনোই দোষারোপ করি না। অন্যেরটা দেখেই টাইম পাই না। নিজেদেরটা দেখব কখন?

র্যাব এখন এই কাজটা করে একটা বাহবা নিতে চাচ্ছে। বাচ্চা একটা ছেলে, যে সাইবার অপরাথের কিছূই জানে না। নিতান্ত শখের বশে সাইট সিকিউরিটি কোড ভাংগার চেষ্টা করতে করতে র্যারেব সাইটে ঢুকেছে। তার কোন পূর্ব পরিকল্পনাও ছিলো না। তাকে ধরে পত্রিকায় দাতঁ কেলিয়ে হেসে বলছে, "আমরা যেমন সন্ত্রাসি ধরতে পারি, তেমনি পারি সাইবার অপরাধীও ধরতে।" খিকজ!

বেশী না, র্যাবের পুরো এলিট ফোর্সকে যদি অস্ট্রেলিয়ায় এনে বলা হয়, আপনারা যে কোন একটা হ্যাকারকে খুজেঁ বের করেন, সর্বপ্রকার সরকারী সাহায্য সহযোগিদা করা হবে। তাহলেই হয়েছে। র্যাবের ১৪ গুষ্টি উদ্ধার হয়ে যাবে। আমেরিকা আর রাশিয়ার বাঘা বাঘা হ্যাকারদের কথা তো বাদই দিলাম।


হ্যাকারদের দিন এইবার শেষ!!!


এই ছেলেটাকেই যদি র্যাবের আই টি সেকশনে একটা চাকরি হতো, তাহলে তার জীবনের মোড়টাই হয়ত ঘুরে যেত। সে মনোনিবেশ করত কিভাবে র্যারের সাইটটাকে আরো নিরাপদ করা যায়। তার সেই কাজের অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য সাইট ডেভেলপাররা নিয়ে তারাও উপকৃত হতো। তা না হলেও ছেলেটা বড় কোন ওয়েব এ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি এ্যানালিস্ট হতে পারত।

এখন এই ছেলেটাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি একদিনের রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে। এতসব বাড়াবাড়ির কি আদৌ কোন দরকার ছিলো। নীরিহ এই ছেলেটাকে শাস্তি দিয়ে কি হবে? কাজের কাজ একটা হবে যে ছেলেটার মনে যে দেশের আইটি সেক্টরের জন্য কিছু একটা করার যে সুপ্ত একটা বাসনা ছিলো, সেটাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হবে।<img src=" style="border:0;" />

এই দেশে একসময় চিন, রাশিয়া আর আমেরিকার মত অনেক অনেক হ্যাকার তৈরী হবে। তখন শাহী মির্জার ঘটনা হবে তাদের জন্য দাতঁ ভাংগা জবাব। সেইসাথে তার র্যাবের ভয়েও হাটুঁ কাপাবে। বাহ। আমাদের এলিট ফোর্সের সুদূরপ্রসারী চিন্তার কথা চিন্তা করলে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতে হয়!

আবার অনেকে বলছেন, কুখ্যাত রাজনীতিবিদদের জেল থেকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা থেকে দেশ বাসীর মুখ রোচক গুজবের মুখকে অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য, এককথায়, সবাইকে অন্যকিছূ একটা দিয়ে ভুলিয়ে রাখার জন্য সরকারের এই প্রয়াস। এই রটনা সত্যিও হলেও অবাক হবো না। সেনাবাহিনীর রণকৌশল বলে কথা!<img src=" style="border:0;" />

আমাদের মহাজ্ঞানী ছাগুরাম তাকে ইসক্রিপ্ট কিডি বলেও আখ্যায়িত করছে। কিন্তু আমার কথা হলো, লঘু দোষে গুরু দন্ড দেবার মানে কি? রেবের অনিরাপদ একটা সাইট হ্যাক করে সে লুকানোর চেষ্টা করে নাই। দোষও স্বীকার করসে। এরপরেও তাকে ১০ বছর জেল অথবা ১ কোটি টাকা ক্