এই মাসুদা ভাট্টি কে?
২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
একটু আগেই মাহবুব মোর্শেদের ব্লগের একটা লেখায় ঢুকে মাসুদা ভাট্টি নামে একজন লেখিকার ব্লগে ঢু মারলাম। তার আরো লেখা পত্রিকা মারফত পড়েছি। "ষোলকলার এক কলা" নামের একটা গল্প পড়ার শুরু থেকেই অস্বস্থির মধ্যে ছিলাম। জগদীস গুপ্তের একটার গল্পের প্রায় হুবহু কার্বনকপি না হলেও গল্পটি আগাগোড়া এই অসাধারণ গল্পকারের লেখাটির দুর্বল নকল মনে হলো আমার। একটু এদিক সেদিক করে গল্পটি সাজানো হয়েছে। মূল গল্পে স্বামী এতটা রাবিশ আচরণ স্ত্রীর সাথে করেনা। আর মাছের ক্ষেত্রে ইলিশকে গুপ্ত সাহেব বেছে নেননি সম্ভবত। এবং গল্পটাতে স্ত্রী চরিত্রটি খুবই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনে হয়েছিল। আমি নিশ্চিত আঠার কলার এক কলা বা প্রায় এই নামের জগদীসের একটা গল্প অনেক পাঠকই এখনো ভুলতে পারেন নি। অনেক আগে পড়েছি আমি এবং এই মুহূর্তে আমার হাতের কাছে তার বইটি নেই । যদি আমার আশংখা সত্যি হয় সেক্ষেত্রে মাসুদা ভাট্টির মত একজন তরুণ লেখক কী এ কাজটা করতে পারে? কোথাও কোনো গোলমাল আছে কিনা বুঝছি না।
একটু আগে আর্টস বিডি নিউজ এ কুম্ভীলকবৃত্তি নিয়ে সুমন ভাইয়ের একটা লেখা পড়ছিলাম। মাঝেমাঝে লেখককুলের সশস্ত্র কলম আমাকে এত বেশি অস্বস্থির ভেতর রাখে যে খুব বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। বিষয়টা কেউ জানলে খোলাসা করবেন।
পুনশ্চ: জগদীস গুপ্তের লেখাটি আমি পুনরায় পড়েছি। আমার আশংকাই সত্য। মাসুদা ভাট্টি লেখাটি খুব যেনতেন ভাবে নকল করেছে। জগদীস গুপ্তের গল্পটির উইট-হিউমার মাসুদা নিতে পারেনি। যা সে করেছে তা শুধু গল্পের মাতৃকাঠামোটা চুরি। খুব সহজে পেতে গেলে বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত জগদীস গুপ্তের শ্রেষ্ঠ গল্প দেখতে পারেন। গল্পের নাম আঠারো কলার একটা।
ত্রিভুজ বলেছেন:
মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে একসময় ব্লগে অনেক কিছুই হয়েছিলো.. কিন্তু আপনার তথ্যে বেশ অবাক হলাম...
লেখক বলেছেন: কী হয়েছিল আমি জানি না। কিন্তু আমি এখনো মনে করি মেয়েদের জন্য এখনো সামহয়্যার ইন এর কিছু কিছু লেখক নিরাপদ না। তবে আমার জন্য বড় ধাক্কা একজন তরুন লেখকের মানসিকতা। তাকে আমি আরো অনেক আগে থেকেই জানি লেখালেখির সুবাদে । একজন লেখক এতটা নামতে পারে কল্পনা করা যায়না। চুরি তো চুরি তা আবার জগদীস গুপ্তের লেখা!
সৈয়দা তাহমিনা বেগম সীমা বলেছেন:
আপনার তথ্যে আমিও বেশ অবাক হলাম।
লেখক বলেছেন: আমার তথ্যে অবাক হওয়াটাই শেষ কথা কী? আমি অবাক হচ্ছি একজন লেখক অনেক দিন ধরে লিখছে, সবাই তার ব্যাপারে ভালো মন্দ কিছু জানে, অনেকে দেখলাম তার নকল গল্পটির উপর জ্ঞানগর্ভ মন্তুব্যও করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কেউ তার লেখাটির ব্যপারে সত্যটা আবিষ্কার করার চেষ্টা করেনি।
সরপ বলেছেন:
মাসুদা ভাট্রি একজন লগিবৈঠার ব্লগার।
লেখক বলেছেন: লগি বৈঠা নিয়া তো লেখালেখি করন যায় না!। লাঠালাঠি হয়!
অংকন বলেছেন:
সামহোয়ার ইনের প্রথম পোস্ট মডারেশন করা হয় মাসুদা ভাট্টির পোস্ট । ২টা পোস্ট মুছে দেওয়া হয় । তথ্যটা অনেকের অজানা ।
লেখক বলেছেন: লেখকের রুচিবোধ অনেকসময় সামাজিক রুচিবোধের সাথে যায় না। সেক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধগুলো লেখকের বিপক্ষে যায়। আমি ধারণা করছি মাসুদা ভাট্টির বিষয়টা সেরকম কিছু। সেক্ষেত্রে অপরাধীর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটা থাকছে কিনা দেখতে হবে।
আর যদি নতুন উত্থাপিত কারণে তার লেখা মুছে দেয়া হয় সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তৎপরতাকে আমরা সাধুবাদ জানাব।
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
শাউন অনেগ্দিন পর সার্ভিস দিতেছো ঘটনা কি ?
বিবেক সত্যি বলেছেন:
আমিও তখন ছিলাম না । পুরোনো পোষ্ট পড়তে গিয়ে জেনেছি মাসুদা ভাট্টির পোষ্ট মুছে দেয়ার কথা । সম্ভবত চরম অশ্লীলতা অন্যতম কারন ছিলো... @ অংকন
লেখক বলেছেন: পোস্ট মডারেশন একজন লেখকের হাতে থাকেনা। কিন্তু একজন তরুন লেখক তারই পূর্বসুরীর লেখা এদিক-সেদিক করে চালিয়ে দেবার মানসিকতা রাখলে আমাদের সাহিত্যের ভবিষ্যত যে কত খারাপ হতে পারে কল্পনা করা যায় না।
হুমায়ূন সাধু বলেছেন:
আমিও অবাকের সহিত ধিক্কার জানাচ্ছি। আমিও ভাট্টিকে চিনি আগে থেকে, পত্রিকায়,ম্যাগাজিনে তার লেখা পড়সিলাম।
ফজলুল কবিরী বলেছেন:
জগদীস গুপ্তের লেখাটা শর্টকাটে পড়তে চাইলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত তার শ্রেষ্ঠ গল্পটা দেখতে পারেন।
আন্দালীব বলেছেন:
ভাট্টির লেখা তো বিভিন্ন পত্রিকায়-টত্রিকায় দেখি। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পড়েওছি। কিন্তু এরকমের তথ্য জেনে আমি খুবি অবাক হচ্ছি। যারা লেখালিখির সাথে জড়িত তারা যখন প্লেগিয়ারিজমের মতো বিষয়াষয়ে জড়িত হন তখন প্রকৃতপক্ষেই ব্যথিত হই।
ফজলুল কবিরী বলেছেন:
মাত্রই কদিন হল জুলফিকার নিউটন কর্তৃক নন্দনতত্ত্বের মত বিষয় নিয়ে লেখা বইটির জারিজুরি ফাঁস করেছ রেজাউল করিম সুমন ভাই। লেখাটি আর্টস বিডি নিউজ এ প্রকাশিত হয়েছে। কেন এটা হয় বলা আসলেই মুসকিল। তবে ঘৃণা ও বিরক্তি প্রকাশ ছাড়া তেমন কিছু করার নেই। প্রতিবাদ তো থাকছেই।


















