মেজাজটা খুব খারাপ!
দিনের বেলা সালমা আন্টির ফোন পেয়েই বুঝলাম নিশ্চয়ই বিয়ের কোন খবর।
আমিও একটু বোরিং হইয়া যাচ্ছিলাম। বিয়ের জন্য!
বসে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। প্রাইমারীর ভাইভার রেজাল্ট বলে দিবে এই ২৫ বা ২৬ তারিখে; সমকালে লিখেছে। তাই গত কয়েকদিন ধরেই নিয়মিত বসা সারাদিন নেটে। সালমা আন্টির ফোন পেয়ে ভাবলাম ঘুমাতে হবে। তখন বেলা ৩টা বাজে। বিকেল গড়ায়া সন্ধ্যায় ইফতারির পরপরই ছেলে দেখতে যাওয়া। আমারতো রোজা রেখে চেহারার দিকে চাওয়াই যায়না!
'যাই একটু ঘুমিয়ে নেই' বলে গেলাম ঘুমোতে। তবে শুধু গড়াগড়িই করা হলো। অন্যদিন তবু মরার মত ঘুম দেই। আজ কোন ঘুমই হলোনা। মনে হয় টেনশনেই! বায়োডাটা দেয় নাই। ছেলে ক্যামন, কি করে কিছুই জানিনা। আর আম্মাদেরতো কথার কোনও বিশ্বাস নাই। যেইটা দ্যাখে সেইটাই খুব ভালো।পরে দ্যাখা যায় ভালোর অবস্থা!!
যাই হোক, ইফতারি খেয়ে মাগরীবের নামাজ পইড়া মাত্র তসবী নিয়া বসছি, কিছুটা পড়া হইছে আর শুনি টিএনটি ফোন বাজতেছে। বুঝলাম সালমা আন্টির ফোন।
২মিনিট পরেই আম্মা আইসা আমারে ডাকে, "কই রেডি হওনা? তোমারে না কইছি আজকে নামাজ পইড়াই রেডি হয়া যাইতে! ভাবী কইছে ৫ মিনিটের মধ্যে যাইতে!"
আগে কয়নাই কিন্তু! এখন কইতেছে! আমি বললাম সেই কথা। শুনে ক্ষেপে গ্যালো।
যাই হোক, মাকে বললাম "বললেইতো রোজার ইফতারীর পরপর ৫ মিনিটে রেডি হওয়া যায়না! রেডি হচ্ছি। তাড়াতাড়ি হইলেইতো হইলো নাকি?"
মা আর কথা না বাড়িয়ে নিজে শাড়ি পড়তে লাগলেন। আমিও সাত তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে তারপরে দুজনে গ্যালাম সালমা আন্টির বাসায়।
গিয়া আন্টির মেয়ের ঘরে কয়েক মিনিট বসে কথা বলতে বলতে শুনলাম ছেলেরা চলে এসেছে। ছেলেরা ওই একই বিল্ডিং এর তিন তলাতেই থাকেন। ইটালী থেকে এসেছেন। বোনের বাসায়।
যাই হোক ছেলেরা আসার পরে আমরা মানে আমি, আমার মা আর সালমা আন্টি গিয়ে বসলাম ওনাদের ড্রয়িং রুমে। রুমে ঢুকেই দেখি এক পাশের দেয়াল ঘেষে বসেছে রাশেদ আংকেল আর একটা মেয়ে (কমবয়সী সুন্দর দেখতে), রুমের দরজার কাছের সোফায় বসেছে খুব মোটা এক লোক আর তার পাশে অনার্স পড়ুয়া এক ছেলে হবে, কমবয়সী! (পরে বুঝেছি সে অনার্সই পড়ে!
এদিকে কমবয়সী মেয়েটা কথা বলছে আন্টির সাথে। বলছে, "মামা তো..."
কি জানি বললো, এখন মনে করতে পারছিনা! যাই হোক কয়েক মিনিটের মধ্যেই বুঝে গেলাম যে এই মোটা লোকটাই পাত্র। প্রথমে ভাবছিলাম, এরা সবাই ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ে দেখতে এসেছে!
মোটা শরীর দেখে প্রথমেই আমার মনটা দমে গ্যালো।
কথাবার্তা শুনে আরো যা বুঝলাম, মানে ক্লিয়ার হলো আরকি! ছেলে ওইখানে থাকে ১৩ বছর ধরে। প্রথমে ওইখানে গিয়া হোটেলে কাজ করছে। এখন নিজেরই হোটেল আছে।ভালো কামায়।
কিন্তু, অবস্থা যতই ভালো হোক, আমার যে বিজনেসম্যান পছন্দ না। বিজিনেসম্যান হলে সেইরকম হতে হয়, খুব নামকরা! তবু, নামকরা হলেও আমার কাছে বিজনেসম্যান ভাল লাগেনা! ব্যক্তিগতভাবে, বরের বিষয়ে আমার খুব উচ্চাকাংখা নাই। ছেলের চেহারা নিয়াও আমার কোনও মাথাব্যাথা নাই। ছেলে একটা সম্মানজনক চাকুরী করবে। আমি যেহেতু লম্বা। আমার সাথে মানানসই লম্বা হবে(৫ফুট ৮ হতে ৬ফুট এরমধ্যে যাই হোক। ৫ফুট ৭ হলেও আপত্তি নাই!
ছেলেরা দেখে চলে যাওয়ারও আরোও কিছুক্ষণ ওই আন্টির বাসায় থাকা লাগলো। ওনারা আসতেই দিবেন না। আরেকটু বসে গল্প করতে বললেন। আবার এর মধ্যে কারেন্টও চইলা গ্যাছে। আমি আমার প্রাইমারীর ভাইভার রেজাল্টের কথা তুইলা আম্মাকে চাপ দিয়া কিছুক্ষনের মধ্যে ছাড়া পাইলাম বাসায় আসার জন্য। তারপরে আম্মাকে নিয়া বাসায় চইলা আসলাম।
আম্মাকে নিয়া এক মুশকিল। তাকে কেউ যখন বলে ওমুকে ভালো, আমরা চিনি। ব্যাস, ওমনি ওই লোক খুব ভালো হইয়া যায়!এখন ওই লোক ভালো হোক বা না হোক!
আম্মা চা বানাইতে বসছে। চা বানানো শেষ। আমি গিয়া বললাম, "আম্মা লোকটাতো বিজনেস করে!" আম্মা কয় "আমিতো আগেই শুনছি!" আজব!
যাই হোক, আমিতো গজগজ করতেই আছি! কিছুতেই রাজী না। এর মধ্যে ইন্টারনেট খুইলা বসছি রেজাল্ট দেখার জন্য। ইয়াহু মেসেঞ্জার অন কইরা দেখি, একটা সিনিয়র ভাইয়া আছে বন্ধুর মতন তাকে পাইয়া গ্যালাম। তার সাথে কথা বলে যদি মনটা হালকা হয়!
তবু , মনটা খচখচ করবেই, যতক্ষন না ওই বাসা থিক্কা আবার কোনো পজিটিভ খবর আইসা পরে। আম্মারে বিশ্বাস করন যায়না। আবার কখন ঘুইরা যায়!
মাইয়া মানুষের জীবন। কবে যে শ্যাষ হইবো এইসব যন্ত্রনাকর পরীক্ষা দেওয়াদেওয়ি! আল্লাই জানেন!!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


