somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেখাদেখির বিড়ম্বনা!

২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেজাজটা খুব খারাপ! X(X(
দিনের বেলা সালমা আন্টির ফোন পেয়েই বুঝলাম নিশ্চয়ই বিয়ের কোন খবর। ;);) যা ভাবছি তাই। মা বললো আইসা , "তোমার একটা প্রস্তাব। সন্ধ্যাবেলা ভাবীদের বাসায় যাইতে হবে ছেলে দেখতে।"
আমিও একটু বোরিং হইয়া যাচ্ছিলাম। বিয়ের জন্য!B-) বললাম, "ঠিক আছে যাবোনে ছেলে দেখতে!";)
বসে বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। প্রাইমারীর ভাইভার রেজাল্ট বলে দিবে এই ২৫ বা ২৬ তারিখে; সমকালে লিখেছে। তাই গত কয়েকদিন ধরেই নিয়মিত বসা সারাদিন নেটে। সালমা আন্টির ফোন পেয়ে ভাবলাম ঘুমাতে হবে। তখন বেলা ৩টা বাজে। বিকেল গড়ায়া সন্ধ্যায় ইফতারির পরপরই ছেলে দেখতে যাওয়া। আমারতো রোজা রেখে চেহারার দিকে চাওয়াই যায়না!/:)
'যাই একটু ঘুমিয়ে নেই' বলে গেলাম ঘুমোতে। তবে শুধু গড়াগড়িই করা হলো। অন্যদিন তবু মরার মত ঘুম দেই। আজ কোন ঘুমই হলোনা। মনে হয় টেনশনেই! বায়োডাটা দেয় নাই। ছেলে ক্যামন, কি করে কিছুই জানিনা। আর আম্মাদেরতো কথার কোনও বিশ্বাস নাই। যেইটা দ্যাখে সেইটাই খুব ভালো।পরে দ্যাখা যায় ভালোর অবস্থা!!X((
যাই হোক, ইফতারি খেয়ে মাগরীবের নামাজ পইড়া মাত্র তসবী নিয়া বসছি, কিছুটা পড়া হইছে আর শুনি টিএনটি ফোন বাজতেছে। বুঝলাম সালমা আন্টির ফোন।
২মিনিট পরেই আম্মা আইসা আমারে ডাকে, "কই রেডি হওনা? তোমারে না কইছি আজকে নামাজ পইড়াই রেডি হয়া যাইতে! ভাবী কইছে ৫ মিনিটের মধ্যে যাইতে!"
আগে কয়নাই কিন্তু! এখন কইতেছে! আমি বললাম সেই কথা। শুনে ক্ষেপে গ্যালো।
যাই হোক, মাকে বললাম "বললেইতো রোজার ইফতারীর পরপর ৫ মিনিটে রেডি হওয়া যায়না! রেডি হচ্ছি। তাড়াতাড়ি হইলেইতো হইলো নাকি?"
মা আর কথা না বাড়িয়ে নিজে শাড়ি পড়তে লাগলেন। আমিও সাত তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে তারপরে দুজনে গ্যালাম সালমা আন্টির বাসায়।
গিয়া আন্টির মেয়ের ঘরে কয়েক মিনিট বসে কথা বলতে বলতে শুনলাম ছেলেরা চলে এসেছে। ছেলেরা ওই একই বিল্ডিং এর তিন তলাতেই থাকেন। ইটালী থেকে এসেছেন। বোনের বাসায়।
যাই হোক ছেলেরা আসার পরে আমরা মানে আমি, আমার মা আর সালমা আন্টি গিয়ে বসলাম ওনাদের ড্রয়িং রুমে। রুমে ঢুকেই দেখি এক পাশের দেয়াল ঘেষে বসেছে রাশেদ আংকেল আর একটা মেয়ে (কমবয়সী সুন্দর দেখতে), রুমের দরজার কাছের সোফায় বসেছে খুব মোটা এক লোক আর তার পাশে অনার্স পড়ুয়া এক ছেলে হবে, কমবয়সী! (পরে বুঝেছি সে অনার্সই পড়ে! :)) আমি গিয়ে আরেক দিকে বেশ দূরের সোফায় গিয়া বইসা ভাবতেছি কোনটা ছেলে!/:)
এদিকে কমবয়সী মেয়েটা কথা বলছে আন্টির সাথে। বলছে, "মামা তো..."
কি জানি বললো, এখন মনে করতে পারছিনা! যাই হোক কয়েক মিনিটের মধ্যেই বুঝে গেলাম যে এই মোটা লোকটাই পাত্র। প্রথমে ভাবছিলাম, এরা সবাই ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ে দেখতে এসেছে!:P
মোটা শরীর দেখে প্রথমেই আমার মনটা দমে গ্যালো।:(( ওরে বাপরে! আমাদের দুইজনকে লাগতেছে দুই মেরু! :P একজন ভীষণ মোটা আর আরেকজন তেমনি শুকনা!(তার তুলনায় তাই দেখাচ্ছে!;)) একটা ইংলিশ ছবি দেখছিলাম, লোকটা অনেক মোটা, মনে হয় যেন বেলুন ফুলায়া দেহটারে ওইরকম বানাইছে। পরে স্লিম বানানো হয় লোকটাকে। এই ইতালীর লোকটাকেও ওইরকম বেলুন ফুলানোর মত লাগতেছিল।:|
কথাবার্তা শুনে আরো যা বুঝলাম, মানে ক্লিয়ার হলো আরকি! ছেলে ওইখানে থাকে ১৩ বছর ধরে। প্রথমে ওইখানে গিয়া হোটেলে কাজ করছে। এখন নিজেরই হোটেল আছে।ভালো কামায়।:) মায়ের কাছে শুনলাম ছেলে প্রায়ই দেশে আসে। অবস্থা ভালো।
কিন্তু, অবস্থা যতই ভালো হোক, আমার যে বিজনেসম্যান পছন্দ না। বিজিনেসম্যান হলে সেইরকম হতে হয়, খুব নামকরা! তবু, নামকরা হলেও আমার কাছে বিজনেসম্যান ভাল লাগেনা! ব্যক্তিগতভাবে, বরের বিষয়ে আমার খুব উচ্চাকাংখা নাই। ছেলের চেহারা নিয়াও আমার কোনও মাথাব্যাথা নাই। ছেলে একটা সম্মানজনক চাকুরী করবে। আমি যেহেতু লম্বা। আমার সাথে মানানসই লম্বা হবে(৫ফুট ৮ হতে ৬ফুট এরমধ্যে যাই হোক। ৫ফুট ৭ হলেও আপত্তি নাই!:P) আর একটা ভাল শিক্ষিত ফ্যামিলির ছেলে হবে। ছেলের চেহারা নিয়া আমার কোন মাথাব্যাথা নাই। ছেলের যোগ্যতা আর মনমানসিকতাই আসল। এইক্ষেত্রেও সেটা হতে পারতো। কিন্তু, অস্বাভাবিক মোটা শরীর পছন্দ হইলোনা।কি করুম!:| পছন্দের খুব বেশি বাছাবাছি না থাকলেও অনেক কিছুই আছে যা পছন্দ করা যায়না। আর সেটা পরে ট্যার পাওয়া যায়। পরিস্থিতি দেইখা। কিছু করার নাই। বিয়া দেরীতে হোক। কিন্তু, এমন কিছু চাইনা যা ভালো লাগেনাই।
ছেলেরা দেখে চলে যাওয়ারও আরোও কিছুক্ষণ ওই আন্টির বাসায় থাকা লাগলো। ওনারা আসতেই দিবেন না। আরেকটু বসে গল্প করতে বললেন। আবার এর মধ্যে কারেন্টও চইলা গ্যাছে। আমি আমার প্রাইমারীর ভাইভার রেজাল্টের কথা তুইলা আম্মাকে চাপ দিয়া কিছুক্ষনের মধ্যে ছাড়া পাইলাম বাসায় আসার জন্য। তারপরে আম্মাকে নিয়া বাসায় চইলা আসলাম।
আম্মাকে নিয়া এক মুশকিল। তাকে কেউ যখন বলে ওমুকে ভালো, আমরা চিনি। ব্যাস, ওমনি ওই লোক খুব ভালো হইয়া যায়!এখন ওই লোক ভালো হোক বা না হোক!X(( তাই মাকে বলতে ভয় পাচ্ছিলাম যে, প্রস্তাবটা আমার পছন্দ হয় নাই।
আম্মা চা বানাইতে বসছে। চা বানানো শেষ। আমি গিয়া বললাম, "আম্মা লোকটাতো বিজনেস করে!" আম্মা কয় "আমিতো আগেই শুনছি!" আজব!X(( আম্মা জানে যে, আমি বিজিনেসম্যান পছন্দ করিনা। আম্মা নিজেও করেনা। তবু, ক্যানো দেখতে গ্যালো? X((X(( এই সব ব্যাপার একেবারে বিরক্ত লাগে! X( কেউ কিছু চাপায়া দিতেছে তবু কিচ্ছু বলবেনা।:| মনে হয় যে মাইয়া নিয়া পানিতে পরছে।/:):((
যাই হোক, আমিতো গজগজ করতেই আছি! কিছুতেই রাজী না। এর মধ্যে ইন্টারনেট খুইলা বসছি রেজাল্ট দেখার জন্য। ইয়াহু মেসেঞ্জার অন কইরা দেখি, একটা সিনিয়র ভাইয়া আছে বন্ধুর মতন তাকে পাইয়া গ্যালাম। তার সাথে কথা বলে যদি মনটা হালকা হয়!:| তারপরে ওনাকে পুরা বিষয়টা জানাইলাম। উনি কয়েকটা কথা বললেন। সেগুলা আবার আম্মাকে কইলাম। আম্মাও এখন শান্ত হইয়া গ্যাছে। আমাকে কয়, " হইছে, আমারও খুব একটা পছন্দ হয়নাই। বড় বাবু আছে?(আমার ভাই, যেইটা নিউ ইয়র্কে থাকে!) ওরে কিছু জানানোর দরকার নাই।" আমরা আবার ভাই বোনেরা সব কথাই পরস্পরকে জানাই। মা শুদ্ধু সব কথা শেয়ার করি। তখন বুঝলাম , আচ্ছা তাইলেতো ভালাই। মা যখন ডিসলাইক করছে! আরকি?B-)B-):D:) এইখানে তাইলে আর কথা বাড়াইবে না। :|
তবু , মনটা খচখচ করবেই, যতক্ষন না ওই বাসা থিক্কা আবার কোনো পজিটিভ খবর আইসা পরে। আম্মারে বিশ্বাস করন যায়না। আবার কখন ঘুইরা যায়!X((X((/:):((
মাইয়া মানুষের জীবন। কবে যে শ্যাষ হইবো এইসব যন্ত্রনাকর পরীক্ষা দেওয়াদেওয়ি! আল্লাই জানেন!!:((:(( ভাল্লাগেনা!! অসহ্য!!:((:|
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×