somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:D :D :-B :-B “বাবা যখন রন্ধনশিল্পী” ;) ;) :P :P

১৭ ই জুন, ২০১১ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“বাবা যখন রন্ধনশিল্পী”


সকাল থেকে কি হয়েছে জানিনা। আমি এমনিতেই ঘুম থেকে সকাল ১০টার আগে উঠিনা। কাল রাতে মা বকেছে! “সারাদিন কম্পিউটার নিয়েই পরে থাকো; দিন দুনিয়ার আর কিছুতেই তোমার কিছু করার নেই!” কথাটা খুব গায়ে লেগেছে!/:):(( সাথে সাথে কম্পিউটার বন্ধ করে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে শুয়ে পরেছি।X(

অন্যান্য রাতের চেয়ে দুই ঘন্টা আগে শুয়েও রাত প্রায় সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এপাশ আর ওপাশই করলাম। ঘুম কেন এলোনা বুঝলামনা!:(( আমি তো খুব ঘুমকাতুরে। তার উপর মোবাইলে ফজরের এলার্ম বেজে উঠেছে ৪টা বেজে ১০মিনিটে। তারপরে নামাজ পরে শুয়েও একই অবস্থা! এই কাত আর ওই কাত! একবার ডানে । একবার বামে! ঘুমের পুরোই বারোটা! কিচ্ছু ঘুম হয়নি!! :((:|

সকাল ৯টায় আবারো ঘুম ভেঙ্গে গেল এলার্ম এর শব্দে। X(ঘুম হয়নি তাই রাতে যতই রাগ করে উঠবার কথা বলি না কেন, শুয়েই রইলাম। তারপরে উঠলাম ৪৫মিনিট পর।:)

শোয়া থেকে উঠে মুখ হাত ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাশতা খেতে বসে দেখি বাবা-মা’র তর্ক চলছে। মা বলছে, “রাইন্ধা একেবারে উদ্ধার করবা!”
বাবা বলে উঠলেন, “তোমার চেয়েও ভালো পারবো! যাও টিভি দেখো গা! এদিকে আসবানা!” B-)

আমার বাবা মুখেই বড় বড় কথা বলে। পারেনা কিচ্ছু। সব জায়গায় ঝামেলা লাগায়। গ্লাসে পানি ঢালতে টেবিলে পানি দিয়ে একাকার করেন। ভাত খেতে বসে ভাত ফেলেন। এরকম আরো অনেক ঝামেলা সৃষ্টি করেন। মা তাই নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না।:-*

“ও তাহলে এই ব্যাপার! ” আমি বসে বসে মজা দেখতে থাকলাম।;)
-পেঁয়াজ বাটা লাগবে!
-আমরা পেঁয়াজ বাটি নাকি? কুচি করে দেই।
-দেও কুচি কইরা!
-এহ, নিজে রান্তে চাইছো। নিজেই কইরা নেও।
-যাহ লাগবো না। পাটা কই? আমিই বাইটা নিতেছি!
থালাবাসনের স্ট্যান্ডের নিচে দেখিয়ে দিলো মা।

পাটা বের করে শিল ধোয়ার খবর নেই। আগেই ‘বাঁটতে বসে যাচ্ছে’ আম্মা হায় হায় করে উঠলো, “আরে করো কি? ইঁদুর উঠে। তেলাপোকা বসে। ধুলা পরে... এইটা না ধুইয়াই বাটতে লাগছো! এরেই কয় পুরুষ মানুষের কাম!” X(

আম্মার দাবরানি খেয়ে পাটা ধুয়ে নিলো। শিল ধুয়েছে কিনা বলতে পারবোনা। আমি দেখি নাই!
- তারপরে বসে বসে একটা একটা করে পেঁয়াজ বেঁটে বেঁটে স্টিলের বাটিতে তুলে তুলে রাখলেন। সেই ছবিটাও তোলার দরকার ছিলো। মনে ছিলো না! আফসোস!:-*

তারপর আমি বসে বসে নাশতা খাচ্ছি। এদিকে মায়ের ডাক পরেছে, “এএএএই কোন পাতিলে রানবোওওও?” রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে মাকে ডাকছে।

মা শুনতে পায়নি। আমি গিয়ে মা’কে শোবার ঘর থেকে ডেকে নিয়ে এলাম, “তোমাকে ডাকে।“
-“কি, আমাকে লাগে ক্যা?”B-)
-কোন পাতিলে রানবো? পাতিল দেও।
-এই ডিস্কো হাড়িটায়।
-আচ্ছা যাও, সরো এখান থেকে।

আম্মা সরে গেলেন। আমি রান্নাঘরে গেলাম চা গরম করতে। গিয়ে দেখি মাছ আর মশলাকে একত্রে খুনতি দিয়ে উল্টেপাল্টে দিচ্ছে। “মাছ না ভর্তাই করে ফেলে!”:P এর মধ্যে আমাকে বলা হলো, কল থেকে পিচ্চি পাতিলে করে পানি দিতে। আমি ভরে দিলাম। পানি দেয়ার পরে সবটুকু পানিই দিয়ে দিলো পাতিলে। একেবারে ডালের পানির মতন। টুবুটুবু। আঁতকে উঠলাম, “এই মরেছে!”:P আমি চা নিয়ে সরে আসতে আসতে দেখলাম, লবণ দিচ্ছে তরকারীতে তাড়াতাড়ি। মনে হয় আগে দিতে ভুলে গিয়েছিলো।:)

কিছুক্ষণ পর আবার মায়ের ডাক পরলো, “এই পটল কই? পটল দেয়া লাগবে তো!”:-*
-“এতক্ষণে পটল দিবা? কুটতেই তো কিছুক্ষণ সময় লাগবে।“ মা বললেন এসে।
- কাটো।

মা আর কথা না বাড়িয়ে কেটে দিয়ে এলেন। এখান বাবাকে আবার কিছু বললে, রাগ দেখিয়ে কিভাবে পটল ছিলবে বা কাটবে তার তো ঠিক নাই। তরকারী প্রায় হয়ে এসেছে এই সময় বাবা আবার চেঁচিয়ে উঠলেন, “আলু নাই?”
-“আলু দিয়া কি করবা? এতক্ষণে আলু দিলে সিদ্ধ হইবো?”
-থাক তাইলে।:)

এর মধ্যে আমি ব্যস্ত হয়ে পরলাম। আমার কম্পিউটারের স্পিকারটা নষ্ট। মা খুব গান শুনতে পছন্দ করেন। হেড ফোন দিয়ে শোনা যায়। কিন্তু-ওটা দিয়ে শোনার এত সময় কোথায় তার! তাই স্পিকার হলে ভালো হয়। গান শুনলে মায়ের মন মেজাজ ভালো থাকে। আর আমি কম্পিঊটার নিয়ে বসে থাকলেও তখন রাগবেনা।/:):D তাই বাসার অনেক আগে কেনা আরো একটি স্পিকার ছিলো প্রিন্টারের বাক্সে; সেটা ফেলেই দেয়ার কথা। তবু, টেস্ট করে দেখলাম। “বাহ্! ভালৈ তো আছে। ভাগ্যিস ফেলে দেয়া হয়নি।“ :D;)

গান শুনার ফাঁকে ফাঁকে দেখতে পেলাম, বাবা চলে গেছে নামাজে। মাকেই নিতে হলো মাছের তরকারির ফিনিশিং দিতে। পাতিলটা টেবিলে রেখে ছবি তুলে নিলাম। কিন্তু, পাতিলের চেহারা ভালো হয়নি। তাই বাটিতে বেরে আবার ছবি নিলাম, “ভাগনা মাছের সাথে পটলের ঝোল।”


শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মা খেতে বসেছে। জিজ্ঞেস করে সন্তুষ্ট হাসি সহ জানা গেলো, “মাছ তরকারী ভালো হয়েছে। খাওয়া যাচ্ছে!”:DB-)

বাবা নামাজ থেকে আসার পর বললেন, “ভালোই তো পারো। আমি অসুস্থ হইলে আর চিন্তার কিছু নাই। রাইন্ধা খাওয়াইতে পারবা!”;)

-“রানলে এমনেই রানবো। শুধু অসুস্থ হইলে কেন?”:P;) বলে বাবা খেতে বসলেন।



সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১১ দুপুর ২:৩১
৫৫টি মন্তব্য ৫৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×