সকাল থেকে কি হয়েছে জানিনা। আমি এমনিতেই ঘুম থেকে সকাল ১০টার আগে উঠিনা। কাল রাতে মা বকেছে! “সারাদিন কম্পিউটার নিয়েই পরে থাকো; দিন দুনিয়ার আর কিছুতেই তোমার কিছু করার নেই!” কথাটা খুব গায়ে লেগেছে!
অন্যান্য রাতের চেয়ে দুই ঘন্টা আগে শুয়েও রাত প্রায় সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এপাশ আর ওপাশই করলাম। ঘুম কেন এলোনা বুঝলামনা!
সকাল ৯টায় আবারো ঘুম ভেঙ্গে গেল এলার্ম এর শব্দে।
শোয়া থেকে উঠে মুখ হাত ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাশতা খেতে বসে দেখি বাবা-মা’র তর্ক চলছে। মা বলছে, “রাইন্ধা একেবারে উদ্ধার করবা!”
বাবা বলে উঠলেন, “তোমার চেয়েও ভালো পারবো! যাও টিভি দেখো গা! এদিকে আসবানা!”
আমার বাবা মুখেই বড় বড় কথা বলে। পারেনা কিচ্ছু। সব জায়গায় ঝামেলা লাগায়। গ্লাসে পানি ঢালতে টেবিলে পানি দিয়ে একাকার করেন। ভাত খেতে বসে ভাত ফেলেন। এরকম আরো অনেক ঝামেলা সৃষ্টি করেন। মা তাই নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না।
“ও তাহলে এই ব্যাপার! ” আমি বসে বসে মজা দেখতে থাকলাম।
-পেঁয়াজ বাটা লাগবে!
-আমরা পেঁয়াজ বাটি নাকি? কুচি করে দেই।
-দেও কুচি কইরা!
-এহ, নিজে রান্তে চাইছো। নিজেই কইরা নেও।
-যাহ লাগবো না। পাটা কই? আমিই বাইটা নিতেছি!
থালাবাসনের স্ট্যান্ডের নিচে দেখিয়ে দিলো মা।
পাটা বের করে শিল ধোয়ার খবর নেই। আগেই ‘বাঁটতে বসে যাচ্ছে’ আম্মা হায় হায় করে উঠলো, “আরে করো কি? ইঁদুর উঠে। তেলাপোকা বসে। ধুলা পরে... এইটা না ধুইয়াই বাটতে লাগছো! এরেই কয় পুরুষ মানুষের কাম!”
আম্মার দাবরানি খেয়ে পাটা ধুয়ে নিলো। শিল ধুয়েছে কিনা বলতে পারবোনা। আমি দেখি নাই!
- তারপরে বসে বসে একটা একটা করে পেঁয়াজ বেঁটে বেঁটে স্টিলের বাটিতে তুলে তুলে রাখলেন। সেই ছবিটাও তোলার দরকার ছিলো। মনে ছিলো না! আফসোস!
তারপর আমি বসে বসে নাশতা খাচ্ছি। এদিকে মায়ের ডাক পরেছে, “এএএএই কোন পাতিলে রানবোওওও?” রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে মাকে ডাকছে।
মা শুনতে পায়নি। আমি গিয়ে মা’কে শোবার ঘর থেকে ডেকে নিয়ে এলাম, “তোমাকে ডাকে।“
-“কি, আমাকে লাগে ক্যা?”
-কোন পাতিলে রানবো? পাতিল দেও।
-এই ডিস্কো হাড়িটায়।
-আচ্ছা যাও, সরো এখান থেকে।
আম্মা সরে গেলেন। আমি রান্নাঘরে গেলাম চা গরম করতে। গিয়ে দেখি মাছ আর মশলাকে একত্রে খুনতি দিয়ে উল্টেপাল্টে দিচ্ছে। “মাছ না ভর্তাই করে ফেলে!”
কিছুক্ষণ পর আবার মায়ের ডাক পরলো, “এই পটল কই? পটল দেয়া লাগবে তো!”
-“এতক্ষণে পটল দিবা? কুটতেই তো কিছুক্ষণ সময় লাগবে।“ মা বললেন এসে।
- কাটো।
মা আর কথা না বাড়িয়ে কেটে দিয়ে এলেন। এখান বাবাকে আবার কিছু বললে, রাগ দেখিয়ে কিভাবে পটল ছিলবে বা কাটবে তার তো ঠিক নাই। তরকারী প্রায় হয়ে এসেছে এই সময় বাবা আবার চেঁচিয়ে উঠলেন, “আলু নাই?”
-“আলু দিয়া কি করবা? এতক্ষণে আলু দিলে সিদ্ধ হইবো?”
-থাক তাইলে।
এর মধ্যে আমি ব্যস্ত হয়ে পরলাম। আমার কম্পিউটারের স্পিকারটা নষ্ট। মা খুব গান শুনতে পছন্দ করেন। হেড ফোন দিয়ে শোনা যায়। কিন্তু-ওটা দিয়ে শোনার এত সময় কোথায় তার! তাই স্পিকার হলে ভালো হয়। গান শুনলে মায়ের মন মেজাজ ভালো থাকে। আর আমি কম্পিঊটার নিয়ে বসে থাকলেও তখন রাগবেনা।
গান শুনার ফাঁকে ফাঁকে দেখতে পেলাম, বাবা চলে গেছে নামাজে। মাকেই নিতে হলো মাছের তরকারির ফিনিশিং দিতে। পাতিলটা টেবিলে রেখে ছবি তুলে নিলাম। কিন্তু, পাতিলের চেহারা ভালো হয়নি। তাই বাটিতে বেরে আবার ছবি নিলাম, “ভাগনা মাছের সাথে পটলের ঝোল।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মা খেতে বসেছে। জিজ্ঞেস করে সন্তুষ্ট হাসি সহ জানা গেলো, “মাছ তরকারী ভালো হয়েছে। খাওয়া যাচ্ছে!”
বাবা নামাজ থেকে আসার পর বললেন, “ভালোই তো পারো। আমি অসুস্থ হইলে আর চিন্তার কিছু নাই। রাইন্ধা খাওয়াইতে পারবা!”
-“রানলে এমনেই রানবো। শুধু অসুস্থ হইলে কেন?”
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১১ দুপুর ২:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



