কওমি মহিলা মাদ্রাসার অন্দরে… (৪)
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৬
পোষাক:
ফুল হাতা কামিজ। শর্ট হাতা কামিজ কড়া রকম নিষেধ। কামিজের ঝুল অবশ্যই হাটুর নিচে। ঢিলা-ঢালা , যাতে শরিরের কার্ভ না বোঝা যায়। কোন প্রানির ছবি থাকবেনা কাপড়ে। ওড়না মিনমাম সারে ৪ হাত লম্বা এবং দুই-আড়াই হাত ব হরের।
মাথায় কাপড় থাকতে হবে সর্বদা। নাইলে শয়তান হিসি করে দিবে।এবং সে মেয়ে কম আমলদার হিসেবে গন্য হবে। খাওয়ার সময় মাথায় কপড় না থাকলে শয়তান সাথে খাবে। আড়াই প্যাচ দিয়ে ওড়না পড়াতে হয়। চুল দেখা যাবেনা। যেখানে কোনো পুরুষ নেই, পুরুষ রা মেয়েদের কে দেখে ফেলবে এমন কোনো সম্ভাবনাও নাই সেখানে এরকম ব্যবস্থা কতটা হাস্যকর ভাবা যায়না।
কিছু মেয়েকে দেখেছি মাথায় আড়াই প্যাচ দিয়ে গোসল করতে ঢোকে এবং আড়াই প্যাচ দিয়েই বের হয় গোসল করে।
যেহেতু চুল কাটা হারাম সেহেতু মেয়েদের চুল গুলো থাকে বড় বড়। কোমরের নিচ অব্দি চুলের মেয়ে অনেক এসব মাদ্রাসায়। গোসল করে এত বড় চুল গুলোর উপর ওড়ানা পেচিয়ে রাখাতে কি সওয়াব পাওয়া যাবে আমার বোধ গম্য নয়। চুলের পানিতে ওড়না, কামিজ, গা ভিজে গিয়ে এক ধরনের যা-তা অবশ্থা তৈরি হয়।
সে মেয়েরও এ অবস্থা নিয়ে কোন সমস্যায় নাই। কারন তাকে ছোট বেলা থেকে বলা হইছে যত কষ্ট করা হবে আল্লাহর তত কাছে যাওয়া যাবে। সে মেয়ের চিন্তা শক্তির ধার এত কমিয়ে দেয়া হয় যে ভিজা চুল নিয়ে মাথায় কাপর না দিলে তার পূন্যের কোন ঘাটতি হবেনা ,এই সাধরন জিনিসটা সে বোঝেনা।।
এধরনের মেয়েগুলোর সাথে মাঝে মাঝে মজা করতাম। “চুল দেইখা ফেলছি” বললেই কেপে উঠে মাথায় হাত দিতো ঘোমটা ঠিক আছে কিনা। শিক্ষিকারা খুব খুশি থাকতো এদের উপরে। যারা আড়াই প্যাচ দিতো না বা দিতে পছন্দ করেনা তাদের কে মার্ক করে রাখা হয়। এপর যেকোন যেকোন অযুহাতে শিক্ষিকারা শাস্তি বা ধমক দিয়ে থাকে।এরা ব্লাক লিস্টেড।
তবে আপনি ২-১ টা মাদ্রাসায় দেখতে পারেন হালকা করে মেয়েরা মাথায় কাপড় দিয়ে আছে। কামিজের ঝুল হাটুর সমান, তবে বুঝতে হবে এই মাদ্রাসার বড় আপা বা বড় খালম্মা নিজেও এরকম কাপর পড়তে পছন্দ করেন। নিজের প্রয়েজনে এরা নিয়ম পাল্টে ফেলতে পারে অকাতরে। এক বড় আপাকে দেখেছি নিজের রুমে ঠিকই ওড়না ছাড়া পরিবারের সবার সামনে হেটে বেড়াচ্ছে আর তার ছাত্রিরা পাশের রুমে গরমে আড়াই প্যাচ মেরে বসে আছে।
তবে কিছু বড় খালাম্মা বা আপারা আছেন ছাত্রীদের জন্য যে নিয়ম করেন তিনি তার থেকে বেশী কঠিন ভাবে তা পালন করেন। এটা তার বিশ্বাসের ব্যপার। আর উপরে যার কথা বললাম তাদের মত শিক্ষিকারা ইসলাম কে ব্য ব হার করে থাকেন।
এক বড় আপা / খালাম্মা কে দেখলাম চুলে পার্ম করেছেন। কিন্তূ তার কোন ছাত্রী যদি চুল কাটে , রঙ করে তবে তার জন্য বিশেষ শাস্তি বা বকার ব্যবস্থা রয়েছে।
চুলা কাটা নিষেধের কয়েকটা কারন বলা হয়। খ্রিস্টানেরা এরকম-সেরকম চুল কেটে স্টাইল করে , তাই চুল কাটা মানে তাদের অনুসরন করা।
পাপ!!
কেয়ামতের দিন সবাই উলন্গ থাকবে, চুল বড় থাকলে গলা পাশ দিয়ে চুল ছেড়ে দিলে তখন গোপন অন্গ ঢাকা যাবে। মাদ্রাসার অনেক মেয়েরা ঝরে পরা চুল গুলো যত্ন করে জমা করে। কেয়ামতের দিন ওগুলো এডেড হবে। মাদ্রাসায় মেয়েরা উচু করে ঝুটি মা খোপা করতে পারবেনা।
উচু করে চুল বাধলে সে বেহেশত তো দুরের কথা বেহেশতের সুবাস ও পাবেনা। এ হচ্ছে কওমি মাদ্রাসার মেয়েদের মাদ্রাসার ভেতরের পোষাক এবং হেয়ার স্টাইল ।
সন্দেহ নেই যে বোরখা পরে বাইরে বেরুতে হবে। কালো সিনথেটিক কাপরের বোরখা। নিচের পার্ট ঢোলা-ঢালা পায়ের পাতা পর্যন্ত। উপরের পার্ট প্রায় হাটুর নিচে চলে যায় ঝুল। এরপর মুখ ঢাকার জন্য নেকাব। বাকি থাকি চোখ। চোখ ঢাকার জন্য জরজেটের ২টা পার্ট, ঝুল প্রায় বুক পর্যন্ত।
কিছু কিছু মাদ্রাসায় বোরখা গায়ে নেয়ার আগে জামার ওড়না দিয়ে মাথায় আড়াই প্যাচ মেরে তার উপর বোরখা পরার জন্য উৎসাহিত করা হয়। সাথে হাত মোজা (সিনথেটিক) এবং পা মোজা তো ওয়াজিব। এই পোষাকের হের ফের হলে শাস্তির ব্যবশ্থা আছে। ছাত্রিরা যারা বাসা থেকে এসে লেখাপরা করে ছুটির সময় বুয়া দাড়িয়ে থাকে চেক করার জন্য যে তাদের বোরখা, হাত মোজা এবং পা মোজা থিক মত আছে কিনা।
( এক বড় আপা /খালাম্মা কে দেখেছি তিনি তার মাদ্রাসা থেকে যখন বাড়ি আসেন, তখন তার পোষাক পাল্টে যায়। কোথায় কিসের হাত মোজা পা মোজা! বোরখার নিচের পার্টের সাথে একটা ওড়না পেচিয়ে বেড়িয়ে পরেন। কিন্তু তার ছাত্রীর সামনে মুত্তাকির (পরহেজগারিতার) ইমেজ নিয়ে থাকেন। নইলে তার মাদ্রাসার বদনাম হবে তো। অন্যেরা দেখলে খারাপ বলবে। ব্যবসায় মন্দা আসবে।)
তবে কোন(খুব কম) মাদ্রাসায় উপরের পার্ট এর বদলে একটা বড় উড়না নামাজের সময় যেভাবে উড়না পরে সেভাবে পেচিয়ে তার উপরে নেকাব নামের ৩-৪ পার্ট ওয়ালা কাপড় পড়া এলাউড। সাথে হাতমোজা-পা মোজা অবশ্যই।
এবার ভেবে দেখুন হাত মোজা , পা মোজা আর কঠিন বোরখার প্যকেটে একটা মেয়ে ৩৫ ডিগ্রি সূর্যের নিচে কিভাবে থাকে ? চিন্তার কিছু নাই। মেয়ে লোকের বাসা থেকে বের হওয়া কি দরকার! বাইরের কাজের জন্য বাবা, স্বামি আর ভাই আছেন না!
এবার ভেবে দেখুন হাত মোজা , পা মোজা আর কঠিন বোরখার প্যকেটে একটা মেয়ে ৩৫ ডিগ্রি সূর্যের নিচে কিভাবে থাকে ? চোখের উপড় ডাবল পর্দা দিয়ে বাংলাদেশের মত দেশে হাটে কি করে আল্লাহ মালুম।
বড় কথা হচ্ছে দরকার নেই এমন পোষাকের। কোরআনে বলা হয়েছে বড় ওড়না দিয়ে বুক এবং মাথা ঢাকতে। কিন্তু বড় বড় ওলামাগন ফতোয়া দিয়েছেন বর্তমান জগৎ ফেতনা-ফাসদে ভরে গেছে , তাই এখন পর্দা আরো কঠিন আকারে করতে হবে যাতে বিশৃংখলতা না বাড়ে। বুলডুজার চালাওতো মেয়েদের উপড় দিয়া চালাও। এ ব্যপারে পুরুষদের জন্য এক্সট্রা কোন ফতোয়া দেয়া হয়নি।
এরকম অদ্ভুদ ধরনের পোষাক না পরেও মার্যিত থাকা যায়। ধর্ম মানা যায়।
অবশ্য তাদের কথায় ইমান-আমলে কমজোর হয়ে যাবে ঐরকম ভাবে পর্দা না করলে।
মেয়েদেরকে সামনে এগুতে না দেয়ার একটা হাতিয়ার হচ্চে এইরকম পর্দা প্রথা। মানসিক এবং শাররিক উভয় ভাবে অকেজো করে দেয়া। তাদের সমাধান হচ্ছে, মেয়েরা বাইরে বেরুনো কি দরকার। বাবা, ভাই আর স্বামী আছেননা? রুজি-রোজগার এরাই করবেন। আপনি শুধু ঘরে বসে সন্তান জন্ম দেন আর দেবতুল্য পতির সেবা করুন।
সাংবাদিক বলেছেন:
ঠিক বলেছেন............ এটাও এক ধরণের গোড়ামী বলা যেতে পারে।
লেখক বলেছেন: গোড়ামির চুড়ান্ত!
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: পর্দা মানে এভাবে বোরখা পরা নয়।
পর্দার বিপক্ষে কোন কথা বলা হয়নি এখানে।
দয়া করে পোষ্ট না পরে মন্তব্য দিবেননা
ধন্যবাদ
কেন একদল পুরুষের কামালোলুপের দায়িত্বহীনতা নারীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়?
নারীদের চলার পথে বিপদেই কারা ফেলে।
নারীদের পন্য বানায় বা কারা?
হিজাবে কাউকে বাধ্য করার আগে নিজের ঈমান ও নজর ঠিক করা উচিত। আফসুস, অনেকেরেই এতে আপত্তি।
লেখক বলেছেন: ঠিক
মুনিয়া বলেছেন:
কওমি মাদ্রাসাগুলো একেকটা টর্চার সেল। শিক্ষা বলতে তো কিছুই নাই, মানুষ মারার বুদ্ধি।এইগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত সরকারী উদ্যোগে।
লেখক বলেছেন: ইয়াপ!
ব্রাইট বলেছেন:
কাপর্পরার দর্কার্কি?
লেখক বলেছেন: ফাইজলামি মার্কা মন্তব্য দিতে এখানে আসবেননা।
কাপর না পরার কথা কি কোথাও বলা হইছে?
বলা হইছে এত অদ্ভুদ রকম বোরখার না পরার কথা।
পর্দার বিপক্ষে তো কিছু বলা হয়নি এখানে।
শামস শামীম বলেছেন:
হুজুররা টিভি দেখা হারাম বলেন, ছাত্রদরে কড়া বারণ করেন না দেখার জন্য। কিন্তু অনেক হুজুর টুপি খোলে খোশআমুদের সঙ্গে টিভি দেখন।আপনি কি কনজার...
লেখক বলেছেন: অবশ্যই দেখে।
৯৫% হুজুরই ভন্ড।
আপনার যদি জম্মদিনের পোষাক এতই বেশি পছন্দের হয়, নিজে পড়েন। অন্যকে নিজের পছন্দ চাপিয়ে দেবার মাজেজা কি?
লেখক বলেছেন: অভ্যেস!
কৌশিক বলেছেন:
দোজখ দেখতে হলে এরকম একটা মাদ্রাসায় গেলেই চলবে বোঝা যাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: আপনার কপালে দোজখ দেখা তাইলে নাই।
ছেলে মানুষ ঢোকা নিষেধ।
কৌশিক বলেছেন:
বোরখা পড়ে?
হমপগ্র বলেছেন:
একটা মানুষকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার মানে আছে? তার দোষটা কী? সে মেয়ে হয়ে জন্মেছে? হায় রে...বোরখা পরে পর্দা করতে হবে কেন? যেকোন কাপড়েই পর্দা করা যায়। আর পুরুষের দৃষ্টি সংযত রাখার কথা তো হুজুরদের মুখে শোনাই যায় না।
আমি এটা সমর্থন করি না। কোন সভ্য লোক এটা সমর্থন করতে পারে না।
লেখক বলেছেন: হুম। বলির পাঠা হিসেবে মেয়েকেই এগিয়ে দেয়া হয়।
মানুষ বলেছেন:
বেশিরভাগ হুজুর আর রাম ছাগলের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।
অরণ্যচারী বলেছেন:
এ ধরনের বাড়াবাড়ির কারণে একজন পুরুষ হিসেবে নিজেকে অপমানিত মনে হয়। হুজুরেরা এই ধারণা চাপানোর চেষ্টা করেন যে পুরুষ মানেই বন্য কামলোলুপ জানোয়ার বিশেষ..... তাদের কাছ থেকে সর্বদা সাবধানে থাকতে হবে। গুটি কয়েক অসুস্থ মানসিকতার পুরুষ নিশ্চয়ই গোটা সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না।
পোস্টে প্লাস।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
সর্বনাশ
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
মানুষ বলেছেন: বেশিরভাগ হুজুর আর রাম ছাগলের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। --- সহমত
প্রজ্ঞা তাসনুভা রূবাইয়াৎ বলেছেন:
ছোটবেলায় এক মহিলা আতেন আমাকে আর আমার ভাই কে আরবি পড়াতে। একেবারে নিনজা। কারণ ওখানে আমার ভাই থাকতো!...১০ বছরের একটা ছেলের সামনে ২৫ বছরের মহিলার এই পর্দার কি যুক্তি সেইটা আমার আজো বোধগম্য না। এমনকি সেই মহিলা খেতোও নেকাব পরা অবস্থাতেই। নেকাবের নিচ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে...
কি আজব এই ব্যাপারগুলো!!!
লেখক বলেছেন: হা হা হা
আমিও দেখেছি নেকাবের ভেতর দিয়ে খাওয়া খুবই হাস্যকর।
কেনো যে এরা চিন্তা করে দেখেনা যে এসব গোড়ামির কোন প্রয়োজন নেই।
হুজুরেরা কোরআনের পর্দা মানেন কিন্তু পর্দার ব্যখ্যার ব্যপারে কোরআন মানেন না।
লেখক বলেছেন: একমত
সততার আলো বলেছেন:
ব্রিটিষ আমলে যখন মুসলিম সমাজ মূর্খতার অন্ধকারের পথে ধাবিত হতে যাচ্ছিল তখন কিছু লোকের অত্যন্ত পরিশ্রমের ফলে তৈরি হয়েছিল বেশ কিছু মাদ্রাসা বা শিক্ষালয়। এগুলোকে কওমী মাদ্রাসা বলা হয়। এর রেষে এখনো অনেক কওমী মাদ্রাসা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত আড়াইশ বছরের তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যেটুকু পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। আর এজন্যে আমরা সবাইই এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে হাসাহাসিতে ব্যস্ত থাকি।বণ্চিত মুসলিম সমাজের শিক্ষার ক্ষেত্রে কওমী মাদ্রাসার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে এদের শিক্ষাক্রমে প্রয়োজন বেশ কিছু সংস্কার এবং অবান্তর গোঁড়ামীর বিতাড়ন।
লেখক বলেছেন: ""তবে এদের শিক্ষাক্রমে প্রয়োজন বেশ কিছু সংস্কার এবং অবান্তর গোঁড়ামীর বিতাড়ন। ""
সহমত।
রায়হান(তন্ময়) বলেছেন:
এইভাবে পর্দা করার কোন মানে নাই। আগে মানসিকতা ঠিক করতে হবে। নরমাল কাপড়েও খুব ভাল ভাবে পর্দা রক্ষা করা যায়। আর সত্যিকার অর্থেই গুটি কয়েকজন ছাড়া সব হুজুর গুলা কেন যে এমন ভোদাই হয় আমি বুঝিনা। পোষ্টে প্লাস।
লেখক বলেছেন: ""নরমাল কাপড়েও খুব ভাল ভাবে পর্দা রক্ষা করা যায়"
১০০% ঠিক কথা।
আবু নাসের মোহম্মদ রেজা বলেছেন:
ইসলাম ধর্মকে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত করে এইসব ভন্ড হুজুরগুলো। নিজেদের প্রয়োজন মত এরা ব্যখ্যা দেয় আর রেফারেন্স দেয় হাদীসের। এদেরকে থামানোর জন্য দরকার আমাদের নিজেদের কোরআন এর আয়াত গুলোর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানা। আমরা সবাই নিজেরা যদি কোরআনের মানে বুঝি তাহলে এদের দৌরত্ব অনেকটা কমানো যাবে।
লেখক বলেছেন: স হমত
অচেনা সৈকত বলেছেন:
আপনার লেখা আগেও পড়েছি অন্য ব্লগে।অনেক অজানা তথ্য জানা হয় আপনার লেখা থেকে।ভাল থাকুন।আর যে বেকুবগুলো মাইনাস দিল তারা মনে হয় না পড়েই দিল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সৈকত
আমিই রূপক বলেছেন:
ধর্মের ভুল ব্যাখা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে। কিন্তু সঠিক ব্যাখাটা কি তা কেউ বলতে পারেনা। তথাকথিত হুজুরদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। এই হুজুরদের যেমন ভুল আছে আমাদেরও আছে। কয়জন মানুষ নামাজ পড়ে ঠিকমত? অথচ নামাজ ফরজ। আবার তারাই এই হুজুরেরা ধর্মের বারোটা বাজাচ্ছে বলে চেঁচায়। ধর্মের বারোটা বাজানোর জন্য হুজুরেরা যতটা দায়ী আমরা তার থেকে কম দায়ী নই। ধর্মকর্ম শুধু হুজুরদের জন্য না। ধর্মকর্ম সবার জন্য। বোরখা পরে যে মেয়েরা মাদ্রাসার অন্তরালে বিভ্রান্তির মাঝে বাস করছে তার পুরো দায় আমরা হুজুরদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা সাধু সাজবার চেষ্টা করছি। মুসলমানদের কি উচিৎ নয়, ধর্মকে সঠিক রূপদানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসা? সে বেলায় কেউ নেই। কিন্তু হুজুরদের দোষ দেবার বেলায় আর তাদের গালিগালাজ করার বেলায় সবাই এক পায়ে খাড়া। হুজুররা গরু ছাগল না। তারা যেমন মুসলমান তেমন আমরাও। তারা যা করে তার দায় তাদের আর আমরা যা করি তার দায় আমাদের। ধর্মের উন্নতি গালিগালাজের মাধ্যমে আসবেনা। ধর্মের উন্নতি হবে চিন্তাশীলতার মাধ্যমে। ধর্মকে সঠিক রূপদান করতে না পারলে এই বিভ্রান্তি যাবেনা। এসব বিভ্রান্তি দূর করার আর একটা উপায় হল, ধর্মের বিলোপ সাধন। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। তাই ধর্মের সঠিক রূপদানের কথা না বলে খামোখা হুজুরদের ঘাড়ে দোষ দেয়া আর নিজের দায় এড়ানো সমান কথা। নিজের কিছু করার ক্ষমতা না থাকলে অন্তত মুখে মত প্রকাশের অধিকার সবারই আছে। কিন্তু তা যদি হয় অন্য মুসলিমদেরকে গালিগালজ করা-তা হলে চুপ করে থাকাই শ্রেয়। পবিত্র কোরআনে লিখা আছে,"হে মুসলমানগণ, তোমারা নিজেরা যা কর না তা অপরকে কেন করতে বল? তোমরা নিজেরা যা করনা তা অপরকে করতে বলা তোমাদের প্রভুর দৃষ্টিতে বড়ই অপ্রীতিকর"।
(আয়াত আর সুরা নাম এখন মনে নাই। দরকার হলে পরে জানাব।)
লেখক বলেছেন: আপনি মনে হয় কোন ব্যপারে খেপে আছেন।
এই পোষ্টে একদল হুজুরদের কথা বলা হয়েছে যারা মাদ্রাসার ভেতরে চরম গোড়ামি শিক্ষা দেয়। জ্বী, তাদের গোড়ামি তুলে ধরা হয়েছে এখানে। ইসলামের উপকারেই এই পোষ্ট।
ইসলাম কোন দল বা ব্যক্তির না। এই হুজুরের দলের না। এরা ইসলাম কে আরো নষ্ট করার আগে আমাদের জানা উচিত এদের বিষয়ে।
ধর্মের উন্নতির জন্যই এ আলোচনা।
একাহনে মুসলমান কে কেউ গালিগালাজ করছেনা, করছে ভন্ড হুজুরদের।
দয়া করে পোষ্ট পরে মন্তব্য করুন। মন্তব্য পরে নয়।
ধন্যবাদ,
রুধীণ বলেছেন:
গোড়াঁমির চরম সীমায়।
অলস ছেলে বলেছেন:
সবাইকে তাম্বু বানায়া দিন।সউদী আরবের এক দোস্ত তার বাসার কাজের মেয়েকে বিরাট তাম্বু মার্কা আবায়া পড়ায়া রাখতো, কিন্তু ভিতরে কোন কিছু এলাউড না, তাইলে বিরাট অসুবিধা হয়তো।
সেসব ইউরোপিয়ান রা জেনে বুঝে মুসলিম হচ্ছেন, তাদের পর্দার ষ্টাইলগুলো আমার ভালো লাগে। সপ্রভিত, সচেতন, এবং নীতিমালা মেনে চলেন পুরুষ দের সাথে ইন্টার একশনের ক্ষেত্রে। আর আমাদের দেশে দেখছি হুজুর বাড়ীর মহিলাদের তালতো ভাইএর সাথে পর্দা করার কি দরকার। এখন নাকি ঢাকাতেও অনেকে বিশেষ প্রয়োজনে বোরকা পড়েন। কি যে একটা কঠিন অবস্থা। লেখা ভালো। চলতে থাকবে আশা করি।
আমিই রূপক বলেছেন:
@কাজরী, ধর্মের ব্যাপারে আমরা সবাই চরম বিভ্রান্তির মাঝে বাস করি। হুজুরেরা ভুল ব্যাখা করে। আমরাও ভুল ব্যাখা করি। হুজুরেরা ভুল ব্যাখা করে গোঁড়ামির কারণে না বুঝে আর আমরা ভুল ব্যাখা করি স্টাডি না করার কারণে না বুঝে।আপনি আপনার পোষ্টে হুজুরদের গালাগাল করেননি এটা সত্য। কিন্তু মান্তব্যসমূহে জারা হুজুরদের গালাগাল করেছে আপনি আপনার জাবাবে তাদের সমর্থন করেছেন।
ধর্ম তার নিজ স্থানে অটল। মাদ্রাসার অন্দরে যে সকল মেয়েরা বঞ্চিত হয় তার জন্য দায়ী হুজুরদের গালাগাল করলে নিজের পাপ বাড়বে বৈ কমবেনা।
আসলে আমরা সকলেই চরম বিভ্রান্তির মাঝে বাস করি।
আমিই রূপক বলেছেন:
শামস শামীম বলেছেন: হুজুররা টিভি দেখা হারাম বলেন, ছাত্রদরে কড়া বারণ করেন না দেখার জন্য। কিন্তু অনেক হুজুর টুপি খোলে খোশআমুদের সঙ্গে টিভি দেখন।আপনি কি কনজার...
১৬ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৩
লেখক বলেছেন: অবশ্যই দেখে।
৯৫% হুজুরই ভন্ড।
@কাজরী, আপনি ৯৫% হুজুরকে ভন্ড বলেছেন। বাংলাদেশে যারা তথাকথিত হুজুর নয় তাদের শতকরা কতজনের মাতাদর্শ সঠিক বলে আপনি মনে করেন?
লেখক বলেছেন: রূপক,
আমি হুজরদের টিচার, আত্বীয় হিসেবে পেয়েছি। কাছে থেকে দেখেছি তাদের মতাদর্শের অবস্থা। সেজন্যই ৯৫% বলেছি।
না দেখলে ১০০% ই বলতাম।
যাদের কে পছন্দ করি তার ইসলামের জন্য নিঃস্বার্থভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। টাকা-পয়সার কোন মোহ নেই। নেই আরেক জনকে বাশ দেয়ার চিন্তা। এবং এদের পরিমান ৫% বলেই ইসলামের হাল এই।
ওবায়েদ বলেছেন:
@আমিই রূপক, সহমত। @কাজরী..., আপনার দেখা ৫% হুজুরের মধ্যে ১ জনের নাম বলেন, এবং হুজুর ছাড়া আমরা যারা সাধারন মানুষ, হুজুরদের সমালোচনা করতে ব্যস্ত, আমরা কি ধর্মকে সঠিক ভাবে মানতেছি? নাকি নিজের ইচ্ছে মতো ধর্মকে ব্যবহার করছি? আপনি লিখেছেন কাওমী মাদ্রাসার অতিরিক্ত পর্দা নিয়ে , কিন্তু ইসলাম কি রকম পর্দা করতে বলা হয়েছে তা আপনি লিখেন নাই।
লেখক বলেছেন: রয়েসেয়ে, ব্রাদার রয়েসয়ে!
সিরিজ টা চলছে কওমী মাদ্রাসা নিয়ে সাধরন জন গন নিয়ে নয়।
পোষ্ট পরে মন্তব্য করুন, মন্তব্য পরে নয়।
ইসলাম কি রকম পর্দা করতে বলেছে সে ব্যপারেও কথা হবে।
সব এক সাথে বললে তো বদ হজম হবে ব্রাদার।
লেখক বলেছেন: ভালো লাগলো যে আপনি কওমি মাদ্রাসার পর্দাকে অতিরিক্ট মনে করছেন।
রেজওয়ান বলেছেন:
ওবায়েদ। লেখাটা ভালভাবে পড়েন:"কোরআনে বলা হয়েছে বড় ওড়না দিয়ে বুক এবং মাথা ঢাকতে। কিন্তু বড় বড় ওলামাগন ফতোয়া দিয়েছেন বর্তমান জগৎ ফেতনা-ফাসদে ভরে গেছে , তাই এখন পর্দা আরো কঠিন আকারে করতে হবে যাতে বিশৃংখলতা না বাড়ে।"
সুমন হাসান বলেছেন:
@রেজওয়ান, কোন হুজুর এ কথা বলেছেন যে, "বর্তমান জগৎ ফেতনা-ফাসদে ভরে গেছে , তাই এখন পর্দা আরো কঠিন আকারে করতে হবে যাতে বিশৃংখলতা না বাড়ে"?জানালে উপকৃত হব। বড় বড় এ সকল আলেম ওলামাগণের কয়েকজনের নাম লিখে দিন দয়া করে।
আমিই রূপক বলেছেন:
"আমি হুজরদের টিচার, আত্বীয় হিসেবে পেয়েছি। কাছে থেকে দেখেছি তাদের মতাদর্শের অবস্থা। সেজন্যই ৯৫% বলেছি।না দেখলে ১০০% ই বলতাম।"
আপনি দুই চারজন হুজুরকে দেখে দেশের ৯৫% হুজুরকে ভন্ড বলেছেন। বা কি অপূর্ব জরিপ!
আর না দেখলে ১০০% কে ভন্ড বলতেন?! ধন্য আপনার বিবেচনা।
"যাদের কে পছন্দ করি তার ইসলামের জন্য নিঃস্বার্থভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। টাকা-পয়সার কোন মোহ নেই। নেই আরেক জনকে বাশ দেয়ার চিন্তা। এবং এদের পরিমান ৫% বলেই ইসলামের হাল এই।"
আপনার কি ধারণা ইসলামের জন্য কাজ করা শুধু হুজুরদের দায়িত্ব?
ইসলামের জন্য নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। এদের পরিমাণ নিঃশ্চয় ৫% নয়?
লেখক বলেছেন: কি মুসকিল!!
হুজুরগুলো এতো দায়িত্ব নিয়ে মেয়ে গুলোকে শিক্ষা দিবে বলচে আর তারা কি শিক্ষা দিচ্ছে সে সম্পর্কে বলটে পারবোনা?
না বললে তো সমস্যা আরো বাড়বে।
আপনি ঠান্ডা মাথায় কথা বলেন রূপক।।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
দুইদিন অনিয়মিত ছিলাম বলে আপনার এই সিরিজের সঙ্গে থাকতে পারি নাই ।
আবার যোগ দিলাম । চমৎকার হচ্ছে ।
বাইরের লোকগুলোর জানার জন্য এই পোস্ট খুবই দরকারী ।
পারভেজ বলেছেন:
খাইসে, ব্যাপক মন্তব্যের ঝড়!!! বিষয়টা ভালো লাগছে। পর্দার আধুনিকতা এখন ইরান, মালেশিয়া, তুরস্ক সহ অনেক প্রগতিশীল দেশেই আছে। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোন ধর্মমতেই পরেনা!
সাদা কাগজ বলেছেন:
দায়িত্বশীল পোষ্ট দেন একচেটিয়া বদনাম না করে সমাধানে আসুন
মাদ্রাসা না থাকলে ধর্মচর্চা উঠে যাবে ।
আলিয়া মাদ্রাসায় আধুনিকতার ছোয়া থাকলে ও ,অধিকাংশ গুলোই
ঠিকমত নামাজ পড়ে না
তাবলীগ জামাতের অধিকাংশ লোকই কম জানা ।
তাই ধর্মকে forward করতে কে এগিয়ে আসবে ?
কওমী মাদ্রাসাকে তাই বাদ দিতে পারবেন ?
দায়িত্বশীল পোষ্ট দেন
ধন্যবাদ
সাদা কাগজ বলেছেন:
"যাদের কে পছন্দ করি তার ইসলামের জন্য নিঃস্বার্থভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। টাকা-পয়সার কোন মোহ নেই। নেই আরেক জনকে বাশ দেয়ার চিন্তা। এবং এদের পরিমান ৫% বলেই ইসলামের হাল এই।"
আপনার কি ধারণা ইসলামের জন্য কাজ করা শুধু হুজুরদের দায়িত্ব?
ইসলামের জন্য নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। এদের পরিমাণ নিঃশ্চয় ৫% নয়?
যীশূ বলেছেন:
একেকটা পর্ব পড়ছি আর অবাক হচ্ছি।
হুমায়ূন সাধু বলেছেন:
চালাইয়া যা.... আছি....
জাতেমাতাল বলেছেন:
পর্দা নিয়া তো দেখি মহা বিপদ......
লাবিব বলেছেন:
কাজরী, আপনার লিখা খুব ভালো লেগেছে। আপনার সম্পর্কে জানতে চাই। if u don't mind...u can send me ur contact or e-mail address to .thank you.

















