কওমি মহিলা মাদ্রাসার অন্দরে…(শেষ পর্ব)
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২১
এই হচ্ছে কওমি মাদ্রাসার ভেতরকার মোটামোটি অবস্থা। হুজুরদের সম্পর্কে বেশী কিছু বলতে পারছিনা কারন তার থাকে মাদ্রাসার বাইরের অংশটায়। অফিসিয়াল কাজ-কর্ম তারাই পরিচালনা করেন।
কওমি থেকে পাশ করে আসা মেয়েগুলোকে কোন মাসা’লার ব্যপারে প্রশ্ন করুন,সে হাদিস -কোরআন এর উক্তি স হ মাসআলার সমাধান বলে দিবে। উল্লেখ্য যে, গড়ে ২৫% মেয়েরা কিতাব ভালো বুঝে। বাকিরা হয়তো পড়াশোনায় আনন্দ পায়না অথবা টিচারদের পড়ানো আনন্দদায়ক হয়না একারনে কিতাব ঠিক মত বোঝেনা।
যখন আপনি একটু পেঁচিয়ে প্রশ্ন করবেন অথবা একটু কঠিন শব্দ ব্যব হার করবেন তখন দন্ধে পরে যাবে। ভাষা জ্ঞান এদের খুব দুর্বল। তবে ব্যতিক্রম কিছু আছে যারা আপনার সাথে তর্ক চালিয়ে যেতে পারবে। এরা সংখ্যায় এত কম যে আপনি-আমি হয়তো আশে পাশে পাবোনা।
বদ্ধ পরিবেশ আর শুধু মাত্র আরবি কিছু বই পড়ে পাশ করা মেয়েদের কন্ফিডেন্স লেভেল খুব কম থাকে। বডি ল্যন্ঙুয়েজই তা বলে দেয়। শিক্ষকরা বাইরে জগৎ ভালো নয় কেবল এ জিনিসটা বলে বলে থাকেন। কিন্তু কিভাবে সেখানে সারভাইভ করতে হবে সেটা বলেননা। বরং পাশ করার পর স্বামীর ঘরে আরেক জেল খানায় পাঠিয়ে দেয়ার জন্য অভিবাবকদের উৎসাহিত করে থাকেন।
এত গুলো ম্যান পাওয়ার অযথাই নষ্ট করেন এরা। এসব মেয়েদের লক্ষ্য থাকে ইসলাম প্রচার-প্রসার করা। বাংলাদেশে থেকে আরবী আর উর্দু শিখে এরা কিভাবে ইসলাম প্রচার করবে তা হুজুররাই ভালো বলতে পারবেন। ইংলিশ তো দুরে থাক বাংলাতেই ঠিক মত কথা বলতে পারেনা এরা।
বাইরে পড়ুয়া মেয়েদের সামনে এরা দুর্বলতায় নজু হয়ে থাকে অথবা বাইরে পড়ুয়া মেয়েরা বেপর্দা, ইসলাম জ্ঞান নেই বলে তাদের খারাপ চোখে দেখে। সেটা বুজা যায় এদের চোখ দেখলেই। এমন একটা ব্যপার চোখের মধ্যে থাকবে যে : জেনারেল লাইনে পড়ুয়া মেয়েটি প্রায় দোজখের দোরে পৌছে গেছে ।
এদেরকে এভাবেই শেখানো হয়। এমন কি বলা হয় যে , যে মেয়েরা পর্দা করেনা-ছেলেদের সাথে কাজ-কর্ম করে তারা ছেলেদেরই সমতুল্য, অতএব, এসব মেয়েদের সাথেও পর্দার হুকুম রয়েছে। এমন ভাবে ব্রেন ওয়াশ করানো হয় যে অবাক হয়ে যেতে হয় এদের কথা শুনলে।
আমিও আগেও বলেছি ব্যতিক্রম কিছু মেয়ে আছে। কিন্ত তাতে কওমি মাদ্রাসার হুজুর বা আপাদের কোন রকম ক্রেডিট নেই। পুরোটাই তার পরিবারের স হযোগিতা ।
কারো যদি আরো জানতে ইচ্ছে করে তাহলে কিছু মাদ্রাসা ঘুরে আসতে পারেন। অবশ্য ভেতরে শুধু মেয়েদেরকেই ঢুকতে দেয়া হবে।এক দু দিনে খুব বেশী দেখে বুজবেন না। আপনার পরিচিত কোন মেয়ে পড়ে এসব মাদ্রাসায় তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন। “তোমাদের মাদ্রাসায় না কি এমন হয়” একথা না বলে স হজ ভাবে জানতে চান নিয়ম কানুন।
শিক্ষিকাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে কথার সাথে সাথে সায় দেন ভালো নিয়ম কানুন। আস্তে আস্তে দেখুন কি সব আজব নিয়ম কানুন। অবাক পরে হন। আগে সবটা শুনুন। তারপর প্রশ্ন করুন।
আমার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিরাদের জন্য আমার এই লেখা আমার অন্যান্য কাজের মতই হতাশা জনক আরেক কাজ। ওনাদের আমি সন্তুষ্ট করতে পারলাম না আর। এ জীবনে না হোক পরবর্তি জীবনে তারা বুঝবে কাজ গুলো খারাপ ছিলোনা। কওমির এ সব ভেতরকার কথা না বললে কিয়ামতের দিন আল্লাহ ঝাড়ি মারতেন ঠিকই দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের অব হেলায়। জন গনের জানা উচিত এ ব্যবস্থা সম্পর্কে।
কোনো বড় হুজুর/বড় আপা/ বড় খালাম্মা এই লেখা পড়ে থাকলে এবং এ ব্যপারে কোন কোন কথা বলার থাকলে দয়া করে এখানে বলুন। তাতে আমরা আরো কিছু জানতে পারবো আপনাদের মাধ্যমে।
ধন্যবাদ সবাইকে ।
মিলটন বলেছেন:
জানলাম অনেক কিছু আপনার পুরো সিরিজটি পড়ে। ধন্যবাদ এমন একটি বিষয়ে আমাদের জানানোর জন্য।
লেখক বলেছেন: সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ মিলটন।
কৌশিক বলেছেন:
বড় হুজুর/বড় আপা/ বড় খালাম্মা .... এইখানে? কম্পিউটারে? ব্লগে?
লেখক বলেছেন: ঠিক সরাসরি না, লতায় পাতায়। ![]()
লেখক বলেছেন: কৌশিক, একদল লোক আছে যারা নিজেরা ঠিকই আধুনিক ভাবে জীবন যাপন করে , কিন্তু ছাত্রী বা তাদের অনুসারিদের সর্বাদা পেছনের দিকেই ঘুড়িয়ে রাখে।
এক বড় আপার এপার্টমেন্টে দেখলাম কম্পিটউর আছে েবং সেকাহনে টিভি কার্ড লাগিয়ে নিয়েছেন তারা।
অথচ, ছাত্রীদের কে টিভি দেখার ভয়াব হত সম্মলিত লিফলেট বিতরন করেন তারা এবং কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয় টিভি দেখা।
ভোরের তারা বলেছেন:
ভাল লাগল। ধন্যবাদ এমন একটি বিষয়ে আমাদের জানানোর জন্য।
আতিক একটেল বলেছেন:
সবগুলো পর্বই পড়লাম। আপনার লিখা উদাহরণ হতে পারে অনেকের জন্য যে কিভাবে একটা জিনিষ উপস্হাপন করতে হয়। লিখাটা খুবই straight to the subject, very much specific, plain statement. আমাদের দেশে যেটা খুবই বিরল। সবাই হয় খুব সস্তা লিখে, বেশি মন্তব্যমূলক লিখে, পক্ষ বিপক্ষ খুব নগ্নভাবে তুলে ধরে আর না হলে নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে চায়। আপনাকে অনেক অভিবাদন।
লেখক বলেছেন: :-O
পারভেজ বলেছেন:
ভালোই হয়েছে সূচনা লেখনী হিসাবে। কিন্তু, মাদ্রাসার পাঠ্য হিসাবে যে উর্দু বা আরবী পড়ানো হয় , সেসব বই আসলে কি ধরণের বা কী লেখা আছে ঐসব বইএ। কাদের রচনা। এই বিষয়ে আরো কিছু আলোকপাত থাকলে ভালো হতো।আশা করি সামনে আরো বিষয় লিয়ে লেখা পাবো।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: Click This Link
নরাধম বলেছেন:
সব মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করা দরকার।
লেখক বলেছেন: েপচাইললা বলেছেন:
মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করতে না পারলে বন্ধ করে দেয়াই উচিৎ। শুধুমাত্র ধর্ম কোন একটি শিক্ষাব্যবস্থার মূল নিয়ামক হতে পারে না, অন্তত এই যুগে। ধর্ম মানুষের জীবনকে সুন্দর করবে, একজন মানুষের চালিকাশক্তি হবে না-তার পথকে সুন্দর করে তুলবে, কিন্ত তার জীবনকে গতিরুদ্ধ করে তুলবে না। বিজ্ঞানের এই যুগে পৃথিবীকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য মানবতাকে আরও নতুন কিছু দেয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
ধর্ম শিক্ষা জীবনকে সুন্দর করবে জীবনের মূল নিয়ামক হয়ে উঠবে না। জীবনকে সামনে নেয়ার পথকে সুন্দর করবে, পথ রুদ্ধ করে তুলবে না।
শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হোক যা জীবনকে, মানবতাকে, সভ্যতাকে এগিয়ে নেয়। ধর্মীয় শিক্ষা ততটুকুই দরকার যা জীবনের ভালমন্দ নিরুপণে সাহায্য করে।
দন্ডিত বলেছেন:
একমত @নরাধম
বিলাস আহমেদ খাঁন বলেছেন:
আমি এখনও সব পর্ব পড়ি নাই। এইটা পড়ে ভাল লাগল। বাকিগুলা পরে পড়ব। আধুনিক সমাজের মানুষগুলার মধ্যেও অনেক হতাশা। এদেরকে দেখলে মনে হয় আমাদের দেশের মানুষগুলোর মাঝে হতাশা কম। আমরা আর্থিক কষ্টে আছি বটে, কিন্তু আমাদের বিশ্বাসের জন্যে আমরা সুখী। পরে বিস্তারিত বলা যাবে। ধন্যবাদ।।
লেখক বলেছেন: বিস্তারিত আশা করছি।
সৈয়দ নাসের বলেছেন:
কাজরী- এই নামে আপনার কোন অসুবিদা হয়না ? আপনাকে পাঠ করে অনেক কিছু জানা হলো । ধন্যবাদ আপনাকে । ভালো থাকুন ।
রাগ ইমন বলেছেন:
আপনি তো দারুন কাজ করেছেন দেখা যায় । প্রতিটা পর্বই পড়লাম। একটু ছাড়া ছাড়া , একটু গল্পচ্ছলে লেখার ভিতরে খুব ভালো করে তাকালে আমি একটা কোয়ালিটেটিভ স্টাডি দেখতে পাই । গুছিয়ে লিখলে কে জানে হয়ত এটাই প্রকাশনার রুপ পেতে পারতো । আশা করি , আরো ভেতরে প্রবেশ করবেন , জানাবেন এই জগৎটা সম্পর্কে ।
হ্যাটস অফ , এমন পোস্ট সিরিজের জন্য ।
এই বিষয়ের উপর নতুন লেখার অপেক্ষায় রইলাম ।
ব্রিগেড সিক্সটিন বলেছেন:
এই লেখা কি প্রথম পৃষ্ঠায় যায় না নাকি? কখনো তো চোখে পড়লো না। পড়তে হবে সবগুলো পর্ব।
সাদা কাগজ বলেছেন:
যখন আপনি একটু পেঁচিয়ে প্রশ্ন করবেন অথবা একটু কঠিন শব্দ ব্যব হার করবেন তখন দন্ধে পরে যাবে। ভাষা জ্ঞান এদের খুব দুর্বল। তবে ব্যতিক্রম কিছু আছে যারা আপনার সাথে তর্ক চালিয়ে যেতে পারবে। এরা সংখ্যায় এত কম যে আপনি-আমি হয়তো আশে পাশে পাবোনা।
কাজরী ,ভাল তর্ক করতে যার যার নিজের লাইনে ,এরকম কত % মানুষ আছে ?
এটা কোন technical line না ,এখানে বিশ্বাসই ভিত্তি
এদের যে সব কিতাব পড়ানো হয় ,তার বাইরে সহীহ ইসলাম নিয়ে
কয়টি বই আছে ?
লেখক বলেছেন: এরা দন্ধে পড়ে যায় এ জন্য যে এদের নিজে থেকে চিন্তা করার ক্ষমতা গড়ে উঠেনা মাদ্রাসায়। মুক্ত ভাবে চিন্তা করতে শেখানো হয় এদের।
যা বলা হয় তাই তারা গিলে। তাই এরা এদের ছোট গন্ডিরের বাইরে খুব অসস্থিতে পড়ে যায়।
এরা নিজের বিশ্বাস থেকে উত্তর দেয়না সাদা কাগজ।এরা বলে থাকে হুজুর কি বলেছেন বা হাদিসে কি আছে।
সাদা কাগজ বলেছেন:
আপনার পুরো সিরিজ পড়ে বুঝা যাচ্ছে আপনি বড় হুজুর/বড় আপা/ বড় খালাম্মা দের ওপর ক্ষেপে আছেন
লেখক বলেছেন: :-D
এরাই বাকিদের কে পরিচালনা করে।
অনন্ত দিগন্ত বলেছেন:
সমাজের একটি অন্ধকার দিককে সাবলীল ভাষায় আমাদের সামনে তুলে আনার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ... সেই সাথে আরেকটি কথা বলবো ... যে কাজটি আপনি করেছেন সেটি একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনার সংগ্রামের শুরু মাত্র ... একে এগিয়ে নিয়ে চলুন ... সাথে আছি।
নীরর বলেছেন:
সিরিজটি অনেক ভালো লাগলো।ধন্যবাদ......

















