আওয়ামী লীগের জয়ে ত্রিপুরার মানুষ বেশ উৎসাহিত। তারা এই কথা ভাবতে শুরু করেছেন যে প্রতিবেশিতে ভালবাসা-বাসি প্রকৃতই স্পস্ট হবে।
মানুষ ভাবেন যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ একটি দল নিশ্চয়ই মৌলবাদীদের আস্কারা দিতে পারে না এবং সাম্যে বিশ্বাস রাখে। যদিচ এটি আইডিয়ালিস্টিক ভাবনা। অর্থাৎ যেমনটা হওয়া উচিৎ চেতনার সমৃদ্ধি থাকলে, সেটা। বাস্তবিক আওয়ামী লীগ কতটা এখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে আছেন তা খুব একটা বিচার্য হচ্ছে না আবেগের কাছে।
শেখ হাসিনাকে তারা শেখ মুজিবই ভাবতে চায়। প্রচারে আলোতে মুজিব এখানেও হিরো। শুধু, তার সাথে সোরাবর্দি গুরু-শিষ্য সম্পর্ক কিছু প্রশ্ন থেকে যায় কিংবা মুক্তিযুদ্ধের নায়ক হলেও, তার শাষন ধারা পুঁজিবাদি শাষন ব্যবস্থাই তবে জাতীয়তাবাদের মোড়কে রাখা বলেও কারও অভিমত।
এবারের আওয়ামী জয়, এখানে মানুষ নিয়েছেন, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে জয় বলে।
অন্যকিছু বিপরীত মন্তব্যও আছে। যেমন এরশাদ ও হাসিনা জুটি ভালভাবে নেননি কেউই প্রায়, কারন এরশাদ হটানোতে হাসিনার ভূমিকা যেমন স্মৃতিতে উজ্ঝ্বল তেমনি সামরিক শাষনকর্তাকে কেইবা পছন্দ করেন।
তবু মানুষ হাসিনাকেই সামনে রেখেছেন।
ভালবাসাবাসিও একেবারে নিরপেক্ষ তা হতে পারে না। মানুষ ভাবছেন এবার সহজ হবে আত্মীয়তা।
বাংলাদেশে গুড়িয়ে দেয়া হবে সব ভারতীয় সন্ত্রাসবাদীদের আড্ডা। মৌলবাদী, বিদেশী শক্তি ঐমাটি ব্যবহার করতে পারবে না ভারতের বিরুদ্ধে।
ত্রিপুরা মনে করে, মুক্তিযুদ্ধে যেমন একাকার হয়েগিয়েছিল দুই ভূ-খন্ড সেই স্পিরিট কাজ করবে আবার।
সাধারন মানুষ থোরাই হিসেব করেন কূটনৈতিক কূটকচালি।বরন্চ পাশের বাড়ির রান্না ঘরের গন্ধই নাকে টানেন বেশি।যে গন্ধ ভাগাভাগি হতে বাধ্য।
কখনও আমরা দেখেছি কী যখন দুদিকের মানুষ একসাথে হন, তখন আলাপ করা হয় ভারত বোরোধী কিংবা বাংলাদেশ বিরোধি কথা। উল্টে
ঐসব ব্যপারে সাধারনদের হাত নেই বলে আফসোস করা হয় এবং
এড়িয়ে যাওয়া হয় অপছন্দের টপিক বলে। বস্তুত কে আমরা পছন্দ করি ঝগরা। 'এসব রাজনীতির ব্যপার' বলে আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করি কারন আমরা সেটা চাই না।
প্রথমত সীমান্তকে ভাগ করা হয় সর্বত্র জোড় করেই অথবা ভাগ হয় শোষনের ফলশ্রুতি হিসাবে। যেখানে সাধারন মানুষ রাস্ট্রায়ত্ত জাতীয়তাবাদী ইমোসনাল ব্ল্যাকমেলিং'র শিকার বা রাস্ট্রায়ত্ত শোষন থেকে আলাদা হয়ে বাঁচতে চায় এবং তাদের অবস্থার পরিবর্তন খুব বেশি হয় না। সাম্য এখনও ভাল একটা আইডিয়া হয়েই পড়ে আছে।
যাহোক, যেটা বলা দরকার, পুঁজিবাদীদের আগ্রাসন থাবা বসাচ্ছে এইদিকে।সেটা প্রতিহত করতে হবে। যদি আমরা নিজেদের মধ্যে ধাক্কা ধাক্কি করি, তাহলে আমরাই সিযোগটা করে দেব আবারও বিভক্ত হয়ে যাবার।
সিমান্ত জিনিসটাইত অবান্তর। এখনও আমরা আমরা-তোমার হয়ে কেন থাকব। প্র্যাকটিকেল ওয়েতে সীমান্ত তুলে দেয়া যদি নাও হয়, সেটা থাকুক নামে নামেই।
আমরা এখন দিচ্ছি কাঁটাতার।
সেটা তুলে দেয়া এক তরফা হয়ত সম্ভব নয়। বিষয়টা এমন মনে হয় আমার, বড় ঘর শুয়ে আমরা কিন্তু রান্না ঘরের খিল তুলে রাখি বেড়াল আটকাবার জন্য, যে খিল তুলে দেয়া যায় দু'দিক থেকেই। বড় ঘর,রান্না ঘর -দু'টোই সমান গুরুত্বপূর্ন।
এখানে বেড়াল হচ্ছে উগ্রবাদী, মৌলবাদী----------।
স্মাগলিংটা বোধহয় কোনো বিষয় নয়, যতক্ষন তা চাল,চিনি বা ইলেক্ট্রনিকসে আছে। এ জিনিস কাটাতার দিয় রোখা যাবে না।
পাশের ঘরে জল থাকলে, এই ঘরে কেউ জল তেস্টায় মরতে পারে না, সেটা গড়িয়ে আসবেই।
বাংলদেশের সবাই খাবার পেলে কেউ নিশ্চয়ই কাটাতার কেটে এদিকে আসবে না সুখের হাতছানিতে।
ভারত থেকে যেমন লোক যায় আমেরিকা, ইংল্যান্ড...।
লঘু দ্রবন আর গাড় দ্রবন পাশাপাশি আলাদা করে রাখলেও, তারা যতক্ষন না একই মানে আসে ততক্ষন মিশে যেতে থাকে। এটা প্রাকৃতিক নিয়ম।
পাশাপাশি বিরোধ শুধু জন্ম দেয় আরও শক্তিশালি সেনা বাহিনী ও প্রতিরক্ষ খরছ বাড়ায়--------------------যা কেটে আনতে হয় শিশুশিক্ষা,
কৃষি ভর্তুকি, জনস্বাস্থ্য থেকে।
মানুষই যদি না থাকে ভাল, কী দরকার ভৌগলিক মাটির।
জাতীয়তাবাদ একটা আইডিয়া মাত্র তার কোনও অস্তিত্ব নেই।
থাকলে কেউ ১৯৪৭ সনে বাংলার মাটি ছেড়ে ভারতের দিকে কিংবা
এখনের কথা ধরলে, 'আমার থেকে ভাল ' জায়গার দিকে যেতাম না। সেটা
কুমিল্লা থেক ঢাকা বা বিলোনিয়া থেকে আগরতলা পাততারি গুটিয়ে আসা থেকেই বোঝা যায়----------অথবা আমেরিকা।
সেটাই স্বাভাবিক, এই পৃথিবীই আমার-তোমার।
ধন সাম্যের আন্দোলন হউক।
হাসিনাদিদি, মোনমোহনদাদা
আমাদের কথা শুনুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

