somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগরতলার খোলা চিঠি

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আওয়ামী লীগের জয়ে ত্রিপুরার মানুষ বেশ উৎসাহিত। তারা এই কথা ভাবতে শুরু করেছেন যে প্রতিবেশিতে ভালবাসা-বাসি প্রকৃতই স্পস্ট হবে।
মানুষ ভাবেন যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ একটি দল নিশ্চয়ই মৌলবাদীদের আস্কারা দিতে পারে না এবং সাম্যে বিশ্বাস রাখে। যদিচ এটি আইডিয়ালিস্টিক ভাবনা। অর্থাৎ যেমনটা হওয়া উচিৎ চেতনার সমৃদ্ধি থাকলে, সেটা। বাস্তবিক আওয়ামী লীগ কতটা এখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে আছেন তা খুব একটা বিচার্য হচ্ছে না আবেগের কাছে।
শেখ হাসিনাকে তারা শেখ মুজিবই ভাবতে চায়। প্রচারে আলোতে মুজিব এখানেও হিরো। শুধু, তার সাথে সোরাবর্দি গুরু-শিষ্য সম্পর্ক কিছু প্রশ্ন থেকে যায় কিংবা মুক্তিযুদ্ধের নায়ক হলেও, তার শাষন ধারা পুঁজিবাদি শাষন ব্যবস্থাই তবে জাতীয়তাবাদের মোড়কে রাখা বলেও কারও অভিমত।
এবারের আওয়ামী জয়, এখানে মানুষ নিয়েছেন, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে জয় বলে।
অন্যকিছু বিপরীত মন্তব্যও আছে। যেমন এরশাদ ও হাসিনা জুটি ভালভাবে নেননি কেউই প্রায়, কারন এরশাদ হটানোতে হাসিনার ভূমিকা যেমন স্মৃতিতে উজ্ঝ্বল তেমনি সামরিক শাষনকর্তাকে কেইবা পছন্দ করেন।
তবু মানুষ হাসিনাকেই সামনে রেখেছেন।
ভালবাসাবাসিও একেবারে নিরপেক্ষ তা হতে পারে না। মানুষ ভাবছেন এবার সহজ হবে আত্মীয়তা।
বাংলাদেশে গুড়িয়ে দেয়া হবে সব ভারতীয় সন্ত্রাসবাদীদের আড্ডা। মৌলবাদী, বিদেশী শক্তি ঐমাটি ব্যবহার করতে পারবে না ভারতের বিরুদ্ধে।
ত্রিপুরা মনে করে, মুক্তিযুদ্ধে যেমন একাকার হয়েগিয়েছিল দুই ভূ-খন্ড সেই স্পিরিট কাজ করবে আবার।
সাধারন মানুষ থোরাই হিসেব করেন কূটনৈতিক কূটকচালি।বরন্চ পাশের বাড়ির রান্না ঘরের গন্ধই নাকে টানেন বেশি।যে গন্ধ ভাগাভাগি হতে বাধ্য।
কখনও আমরা দেখেছি কী যখন দুদিকের মানুষ একসাথে হন, তখন আলাপ করা হয় ভারত বোরোধী কিংবা বাংলাদেশ বিরোধি কথা। উল্টে
ঐসব ব্যপারে সাধারনদের হাত নেই বলে আফসোস করা হয় এবং
এড়িয়ে যাওয়া হয় অপছন্দের টপিক বলে। বস্তুত কে আমরা পছন্দ করি ঝগরা। 'এসব রাজনীতির ব্যপার' বলে আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করি কারন আমরা সেটা চাই না।

প্রথমত সীমান্তকে ভাগ করা হয় সর্বত্র জোড় করেই অথবা ভাগ হয় শোষনের ফলশ্রুতি হিসাবে। যেখানে সাধারন মানুষ রাস্ট্রায়ত্ত জাতীয়তাবাদী ইমোসনাল ব্ল্যাকমেলিং'র শিকার বা রাস্ট্রায়ত্ত শোষন থেকে আলাদা হয়ে বাঁচতে চায় এবং তাদের অবস্থার পরিবর্তন খুব বেশি হয় না। সাম্য এখনও ভাল একটা আইডিয়া হয়েই পড়ে আছে।

যাহোক, যেটা বলা দরকার, পুঁজিবাদীদের আগ্রাসন থাবা বসাচ্ছে এইদিকে।সেটা প্রতিহত করতে হবে। যদি আমরা নিজেদের মধ্যে ধাক্কা ধাক্কি করি, তাহলে আমরাই সিযোগটা করে দেব আবারও বিভক্ত হয়ে যাবার।
সিমান্ত জিনিসটাইত অবান্তর। এখনও আমরা আমরা-তোমার হয়ে কেন থাকব। প্র্যাকটিকেল ওয়েতে সীমান্ত তুলে দেয়া যদি নাও হয়, সেটা থাকুক নামে নামেই।

আমরা এখন দিচ্ছি কাঁটাতার।
সেটা তুলে দেয়া এক তরফা হয়ত সম্ভব নয়। বিষয়টা এমন মনে হয় আমার, বড় ঘর শুয়ে আমরা কিন্তু রান্না ঘরের খিল তুলে রাখি বেড়াল আটকাবার জন্য, যে খিল তুলে দেয়া যায় দু'দিক থেকেই। বড় ঘর,রান্না ঘর -দু'টোই সমান গুরুত্বপূর্ন।
এখানে বেড়াল হচ্ছে উগ্রবাদী, মৌলবাদী----------।
স্মাগলিংটা বোধহয় কোনো বিষয় নয়, যতক্ষন তা চাল,চিনি বা ইলেক্ট্রনিকসে আছে। এ জিনিস কাটাতার দিয় রোখা যাবে না।
পাশের ঘরে জল থাকলে, এই ঘরে কেউ জল তেস্টায় মরতে পারে না, সেটা গড়িয়ে আসবেই।
বাংলদেশের সবাই খাবার পেলে কেউ নিশ্চয়ই কাটাতার কেটে এদিকে আসবে না সুখের হাতছানিতে।
ভারত থেকে যেমন লোক যায় আমেরিকা, ইংল্যান্ড...।
লঘু দ্রবন আর গাড় দ্রবন পাশাপাশি আলাদা করে রাখলেও, তারা যতক্ষন না একই মানে আসে ততক্ষন মিশে যেতে থাকে। এটা প্রাকৃতিক নিয়ম।

পাশাপাশি বিরোধ শুধু জন্ম দেয় আরও শক্তিশালি সেনা বাহিনী ও প্রতিরক্ষ খরছ বাড়ায়--------------------যা কেটে আনতে হয় শিশুশিক্ষা,
কৃষি ভর্তুকি, জনস্বাস্থ্য থেকে।

মানুষই যদি না থাকে ভাল, কী দরকার ভৌগলিক মাটির।
জাতীয়তাবাদ একটা আইডিয়া মাত্র তার কোনও অস্তিত্ব নেই।
থাকলে কেউ ১৯৪৭ সনে বাংলার মাটি ছেড়ে ভারতের দিকে কিংবা
এখনের কথা ধরলে, 'আমার থেকে ভাল ' জায়গার দিকে যেতাম না। সেটা

কুমিল্লা থেক ঢাকা বা বিলোনিয়া থেকে আগরতলা পাততারি গুটিয়ে আসা থেকেই বোঝা যায়----------অথবা আমেরিকা।
সেটাই স্বাভাবিক, এই পৃথিবীই আমার-তোমার।
ধন সাম্যের আন্দোলন হউক।

হাসিনাদিদি, মোনমোহনদাদা

আমাদের কথা শুনুন।

৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×