somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কালা পাহাড় ২০০০
আমি স্বপ্ন দেখি এক যুবকের, যে নরকের কীটদের বিশাল বাহিনীর সামনে যুদ্ধের ময়দানে হাজির হবে। যুদ্ধে জিতে বিজয়ী হবার জন্য নয়, শুধু ন্যায়ের পক্ষে দাড়াবার জন্যেই যুদ্ধে যাবে সেই যুবক। মহাভারতের সেই চরিত্র "সংশপ্তক" এর মত, যে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও যুদ্ধের ময়দানে হা

পরিবেশবাদীরা, একটু ভেবে দেখেন, পূর্ণিমার চাঁদ নাকি ঝলসানো রুটি, পরিবেশ নাকি অর্থনীতি

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানি, আপনারা খুব সচেতন। পরিবেশ রক্ষায় আপনারা স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানী বন্ধ করে দিলেন। এখন কি হবে একটু ভাবুন।
যে কোন ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইকোনমিতে স্টীল একটি বেসিক ইন্ডাস্ট্রি। আমাদের স্টীল ইন্ডাস্ট্রি গার্মেন্টস সেক্টরের মত এত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন না করলেও অন্তত দেশের চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু আমাদের দেশে কোন লোহার আকরিকের খনি নেই। স্টীল তৈরির কাচামাল সব আমদানি করতে হয়। এই অবস্থায় দেশে প্রস্তুত মাইল্ড স্টীল প্রোডাক্ট (এম এস রড) এর দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে কাচামালের দামের উপর। পরিবেশবাদীদের চাপে সরকার আমদানীকৃত স্ক্র্যাপ জাহাজের উপর টন প্রতি ১০০০ টাকা এবং রি-রোলিং মিলের উপর টন প্রতি প্রায় ৪০০০ টাকা ট্যাক্স বসিয়ে দেয়। অথচ একই সময়ে, ইমার্জিং স্টীল জায়ান্ট ভারত আমদানীকৃত স্ক্র্যাপ জাহাজের উপর থেকে সব ট্যাক্স উঠিয়ে নেয়। এখন অবশ্য আমাদের দেশে স্ক্রাপ জাহাজ আমদানী বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের ৩০০ স্টীল ও রি-রোলিং মিল কাচামাল সংকটে পড়ে উৎপাদন ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। টাটার গবেষণা মতে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ স্টীলের চাহিদা ছিল ৫.১ মিলিয়ন টন। এর মূল্য টন প্রতি ৫৫০০০ টাকা করে হিসাব করলে হয় ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশী।
আসুন সাধারণ হিসেবে এর ফলাফল আলোচনা করি। ১ বছর আগে আমরা যখন বাড়ির কাজ শুরু করি, তখন প্রতি টন রডের মূল্য ছিল আনুমানিক ৪০০০০ টাকা। বছরের এই সময়ে শুকনো মৌসুমে আমরা বাড়ির কাজ শুরু করি। এখন রডের দাম টন প্রতি ৫৬০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতি দিনই দাম বাড়ছে। এত দামে নির্মাণ কাজ চালানোর পরিবর্তে এখন নির্মাণ কাজ বন্ধ। একই সংগে সরকারি-বেসরকারি এবং বিপুল সংখ্যক ডেভেলপারদের নির্মাণ কাজ সারা দেশ জুড়েই স্তিমিত। আমাদের কন্ট্রাকটর সাহেবরা কাজ করতে না পেরে বসে আছেন। আমাদের রডমিস্ত্রী-রাজমিস্ত্রীরাও কাজের অভাবে বসে আছেন। উনাদের কাজ না থাকায় আয় সম্পূর্ণ বন্ধ। রডের ডিলার-এজেন্টদের আয় বন্ধ। এই বিপুল সংখ্যক রড পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাক শ্রমিকদের আয় বন্ধ। প্রায় ৯৯% দেশীয় মালিকানাধীন স্টীল ও রি-রোলিং মিলগুলো লোকসানের মুখে বন্ধ হবার শংকায়। হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার ও পেশাজীবি চাকরি হারানোর শংকায়। এই শুকনো মৌসুমে যখন রডের সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকার কথা, তখন কাচামাল আমদানি বন্ধ।
এই প্রভাব শুধু রডের উপর পড়বেনা। সিমেন্ট, বালু, পাথর এইসব কিছুর উপরেই পড়বে। রড ছাড়া কংক্রিট তৈরির এসব উপকরণের ব্যবহার কমে যাবে। সিমেন্ট কারখানাগুলো অবিক্রীত সিমেন্ট রাখার জায়গার অভাবে এবং স্বল্প চাহিদার কারণে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে। ফলাফলস্বরূপ আমাদের দেশীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম সিমেন্ট কারখানাগুলো লোকসানের মুখে পড়বে।
স্টীল শিল্পের প্রভাব অন্যান্য শিল্পে ব্যাপক। যেমন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প।
এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না। শেষমেষ ভারত থেকে আমদানি করতে হবে, নয়ত টাটা বিনিয়োগ করে স্টীল শিল্পে মনোপলি শুরু করে দিবে। আর আপনার কাছে থাকা স্টীল ও রি-রোলিং মিলের শেয়ারের দাম নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়। ফ্ল্যাট ও আবাসনের খরচ বেড়ে যাবে অন্তত ৩০ শতাংশ। আমাদের দেশীয় পেশাজীবিরা চাকরি হারাবেন। বিদেশী বিশেষজ্ঞদের অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি বাড়বে।
ভেবে দেখুন, পূর্ণিমার চাঁদ নাকি ঝলসানো রুটি, পরিবেশ নাকি অর্থনীতি।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:১৪
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×