somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কালা পাহাড় ২০০০
আমি স্বপ্ন দেখি এক যুবকের, যে নরকের কীটদের বিশাল বাহিনীর সামনে যুদ্ধের ময়দানে হাজির হবে। যুদ্ধে জিতে বিজয়ী হবার জন্য নয়, শুধু ন্যায়ের পক্ষে দাড়াবার জন্যেই যুদ্ধে যাবে সেই যুবক। মহাভারতের সেই চরিত্র "সংশপ্তক" এর মত, যে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও যুদ্ধের ময়দানে হা

দেশে দেশে যুদ্ধপরাধ (১৮ +)

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানব সভ্যতার ইতিহাস বহু পুরনো। আর এর পাতায় পাতায় মিশে আছে যুদ্ধ ও সংগ্রামের ইতিহাস, লেগে আছে কোটি নিরপরাধের রক্তের দাগ, নিপীড়িতের অসহায় আর্তনাদ। বেশিরভাগ সময়েই যুদ্ধ সেনাবাহিনী ও সবল যুদ্ধক্ষমদের মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার হিসেবে নেমে এসেছিল। এরকম একটি বিষয়ের উপর লেখা মনের জন্য খুবই কষ্টকর। আর দুর্বল হৃদয়ের কাউকে পরবর্তী লেখাগুলো পড়তে বারণ করব।

যুদ্ধ-যুদ্ধপরাধ কাকে বলে তা যেকোন মানুষ নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন। তবু বক্তব্যের ভূমিকা হিসেবে একটু আলোচনা করব। ভিন্ন মানব সমাজ বা গোত্রের মাঝে অধিকারগত বিরোধের কারণে যুদ্ধ হতে পারে, একই সমাজের ভিন্ন মতবাদের গোষ্ঠির মাঝে গৃহযুদ্ধ হতে পারে, বহু বছর পাশা-পাশি বসবাসকারী জাতিগুলোর মাঝে জাতিগত দাঙ্গা হতে পারে, কোন রাজার বিশাল রাজ্যজয়ের বাসনায় যুদ্ধ হতে পারে, আবার রাজা টাইপের কারো অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষ সংগ্রাম ও যুদ্ধের পথে যেতে পারে। ধর্মযুদ্ধ বা ক্রুসেড হতে পারে।

আর যুদ্ধপরাধ বলতে বুঝব যুদ্ধের সময় ও যুদ্ধ শেষে যে অনৈতিক কাজ হয়। যদিও মনে হতে পারে যুদ্ধের মারামারি, খুনোখুনি ও রক্তপাতের থেকে অনৈতিক আর কি হতে পারে। ইতিহাস বিজয়ী পক্ষের দ্বারা লিখিত হয়, যুদ্ধ শেষে বিজয়ীপক্ষ যা খুশি তাই করতে পারে, তবুও অকারণ মানুষ হত্যা বা নির্যাতন করা উচিত নয়। আফসোস; অস্ত্র ও পেশী শক্তিতে বলীয়ানরা প্রায় সময়ই এই নীতিবাক্য মেনে চলেননি। তাই আমরা দেখি, গ্রিক উপাখ্যানে ট্রয়ের রাজপুত্র বলে, “গ্রীকরা যখন ট্রয়ের প্রাচীর ভেদ করে ঢুকবে, তখন ট্রয়ের সকল পুরুষকে হত্যা করবে, শিশুদের পাঁচিলের উপর থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করবে, মেয়েদের বানাবে দাসী। মেয়েদের বাকি জীবনটা তাদের পরিবার হত্যাকারীর ঘর পরিষ্কার করে আর তাকে দেহ দিয়েই পার করতে হবে।” যুদ্ধের এই পরিণতির কথা চিন্তা করেই সবাই মরিয়া হয়ে চেষ্টা করত নিজেদের রক্ষা করার। কিন্তু ধন-সম্পদের লোভে রক্ত-পিপাসু শাসকরা চিরকাল দুর্বল জনগোষ্ঠির উপর হামলা চালিয়ে এসেছে। পরবর্তিতে তারাই ইতিহাস লিখেছে নিজেদের দিগ্বিজয়ী বীর হিসেবে বর্ণনা করে। এটা শুধু প্রাচীণকালের ব্যাপার বলে ভাববেননা। এখনকার ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধও ধন-সম্পদের লোভেই করা। অন্তত, উইপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন বা ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র কেউ খুজে পায়নি। আর রেজিম চেঞ্জ বা ক্ষমতার হাত-বদলের জন্য বিমান থেকে বোমা ফেলতে হয়না। তিউনিসিয়ায় দেখুন, পাবলিক নিজেই পারবে। অন্য প্রসংগে যাবার আগে আরেকটু বলি। নীতিগত বিরোধের কারণে যুদ্ধ বা লড়াই হতেই পারে। কিন্তু লুটপাট, অকারণ হত্যা, ধর্ষণ – এগুলোই যুদ্ধপরাধ। এখানে নৈতিকতার মানদন্ড বা আইন না মানার প্রবণতা খুবই বেশি। এটা যেমন প্রাচীণকালে ছিল, তেমনি বর্তমানকালেও বিদ্যমান।

অস্ত্র ও পেশিশক্তিতে বলীয়ানদের অন্যায় থেকে পরিত্রাণের জন্য আধুনিককালে জেনেভা কনভেনশন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট চালু হলেও বাস্তবে এর লংঘন কিন্তু থেমে নেই। জেনেভা কনভেনশন স্বাক্ষরকারী দেশ হয়েও সাম্প্রতিক কালের যুদ্ধে এর ব্যাপক লঙ্ঘন দেখা যায়। জেনেভা কনভেনশন চারবার হয়। এগুলোতে নিম্নবর্ণিতদের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করা হয়। (১) যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর আহত ও অসুস্থ সদস্য, (২) সাগরে সামরিক বাহিনীর জাহাজডুবি হওয়া সদস্য, (৩) যুদ্ধবন্দীদের প্রতি আচরণ, (৪) যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক জনগোষ্ঠির অধিকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুয়ানতানামো বে ও আবু গারাইব কারাগারে বন্দীদের প্রতি যেসব অমানবিক আচরণ করেছে, তা এই স্বল্প পরিসরে বলে শেষ করা যাবেনা। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে, এই বন্দীরা যুদ্ধবন্দীর অধিকার পাবার যোগ্য নয়। (মানবাধিকার? বিনা বিচারেই এত নির্যাতন?) বেসামরিক জনগোষ্ঠির উপর নির্বিচারে হামলার অসংখ্য ঘটনার মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আফগানিস্তানে বিয়ের আসরে বোমা হামলা চালানো, তালেবান আধিক্যের ছুতায় মানচিত্র থেকে একটা আস্ত গ্রাম মুছে ফেলা, ইত্যাদি। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ গাজা উপত্যকা, যা কিনা মাতৃভুমি থেকে বিতাড়িত লাখো ফিলিস্তিনির শরণার্থি শিবির, তাতে ইস্রাঈলের নির্বিচার বোমা ও মিসাইল হামলা শেষে “সন্ত্রাসিরা মানব বর্ম ব্যবহার করছে” যুক্তি দেয়া নতুন কোন ঘটনা নয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট মেনে না নেয়াদের দলে আছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরাঈল।

যুদ্ধের সময় জেনেভা কনভেনশন যে অধিকার দিচ্ছে, যুদ্ধ ছাড়াও তার লংঘন কিন্তু আমাদের খুব কাছেই সংঘটিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স করা আমার এক কলিগ (যিনি পৈত্রিক ধর্মের বাইরের এক রমণীকে বিয়ে করেছেন) সেদিন ফেলানির প্রতি প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তিনি আমার পরিচিতদের মাঝে একটু ব্যতিক্রমী। “বাউন্ডুলে” নামে তিনি তার পরিচিত, অর্ধপরিচিত, অপরিচিতদের সকল ধর্মের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন পালা-পার্বণ উপলক্ষে ইমেইল প্রদান করে থাকেন। তো এই অসম্ভব উদার মানুষটিই যা বললেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে, “আরেক দেশের বর্ডারে গেলেতো গুলি করে মারাই আইন। ফেলানি ওখানে গেলো কেনো? আর ফেলানিকে নিয়ে লোকজনের দরদ দেখে খুবই বিরক্ত।” আমি তাকে বোঝাতে চাইলাম, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক জনগোষ্ঠির উপর যুদ্ধকালীন সময়েও হামলা করা যায়না, এখনতো যুদ্ধও হচ্ছে না। ফেলানি কাটাতারের বেড়ার উপর আটকে গিয়েছিল। তাকে বন্দী করা কোন অসম্ভব কিছু ছিলনা। এমন নয়যে, সে দৌড়ে পালাচ্ছিল। তাকে ওয়ার্নিং দেবারো কিছু ছিলনা, সেতো কার্যত বন্দী হয়েই গেছে। এরপরেও তাকে গুলি করা হয়, এরপর জেনেভা কনভেনশনে যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সামরিক বাহিনীর সদস্য ও যুদ্ধবন্দীর চিকিতসার অধিকারের কথা বলা হয়, আমাদের ফেলানি কাটাতারের বেড়ার উপর গুলি খেয়ে কাতড়াতে থাকে পানি পানি করে। এই গুলির মুখে ফেলানির বাবা চেয়ে দেখা ছাড়া সাহায্যের জন্য কিছুই করতে পারেনি। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা পর যখন কাতড়ানো বন্ধ হয়, তখন লাশ নামানো হয় (যেন মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল)। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো বর্ডারে কাটাতারের বেড়ায় কিছুদূর পরপর পানির কল বসানো আছে, যাতে কেউ পানির পিপাসায় মারা না যায়।

ক্রুসেডের সময় ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে রক্তবন্যা ভাসিয়ে দেয়। ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ক্রুসেডের সময় ১৫ই জুলাই ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে এর প্রায় প্রতিটি অধিবাসিকে হত্যা করে। যদিও মুসলিম জিহাদীদের সাধারণ অধিবাসীদের গণহত্যার ইতিহাস নেই, তবু জেরুজালেমবাসীরা সুলতান সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে প্রতিষোধের আশংকা করেছিল। সুলতান সালাহউদ্দিনের ন্যায়বিচারের কারণে আজও তিনি ইউরোপীয় লেখনীতে মহামানব হিসেবে চিত্রিত। পরবর্তিকালে আঠারশ সালের দিকে জেরুজালেমে অটোমান শাসনামলে খ্রিস্টান, ইহুদী ও মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছিল, এমনকি, খ্রিস্টানরা সেখানকার বৃহত্তম জনগোষ্ঠি ছিল। ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ হলেও ক্রুসেডারদের নৈতিকতা দেখে একে মূলত প্রাচ্যের ধন-সম্পদ ও আকর্ষণীয় বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণের জন্য, অর্থ ও ক্ষমতালোভী চার্চের উস্কানির ফল বলা যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার বছর ব্যাপী জার্মান সাম্রাজ্য গড়ার জন্য হিটলারের উচ্চাভিলাষের ফলে লাখ লাখ ইহুদীর করুণ মৃত্যু হয়। এই অপরাধের জন্য ট্রাইবুনালের দ্বারা যুদ্ধপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হয়। জাপানীরাও ক্ষমা প্রার্থণা করে তাদের অপরাধের জন্য। কিন্তু বিজয়ী পক্ষ থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার আগে যখন জাপানের আত্মসমর্পণ শুধু সময়ের ব্যাপার, তখন শীতল যুদ্ধের প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়নকে টেক্কা মারার জন্য জাপানের বেসামরিক জনগণের উপর ১টি নয়, ২টি পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়। যুদ্ধ চলাকালে, জাপানীরা যখন বার্মা পর্যন্ত দখল করে ফেলে, তখন জাপানীদের ঠেকাবার জন্য সেসময়কার ব্রিটিশ প্রধাণমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল পূর্ববাংলার শস্যভান্ডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেন। ফলাফল ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলে লাখ লাখ মানুষ মারা গেলেও এজন্য ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয়নি।

যুদ্ধপরাধের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যায় গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত দাংগায়। গত শতাব্দীতে সংঘটিত কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন নিচে দেয়া হলো (দুর্বল হৃদয়ের মানুষের জন্য নয়)।

ব্রিটিশদের “ডিভাইড এন্ড রুল” এর ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এই ভারতবর্ষের মানুষদের। শত শত বছর ধরে পাশাপাশি বাস করা জনগোষ্ঠির মাঝে যখন দাংগা শুরু হয়, তখন প্রতিবেশির বাড়িতে আগুন দেয়া, প্রতিবেশির স্ত্রী-কন্যা ধর্ষণ, প্রতিবেশিকে নির্মূল করে তার সম্পত্তি দখল, নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আজ এত বছর পরে কারা করেছিল বলে ঝামেলা বাড়াতে চাইনা, তবে মহিলাদের ধর্ষণের পরে স্তন কেটে হত্যা করা, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা – এসব অপরাধের জন্য কারো শাস্তি হয়েছে বলে শুনিনি। ভোটাভুটি করে বাংলা, পাঞ্জাব ও অন্যান্য অঞ্চল ভারত ও পাকিস্তান দুই অংশে ভাগ হলেও কাশ্মীরে আজ পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ হয়নি। বরং কাশ্মীরে ভারতীয় পুলিশ, আধা-সামরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যা করছে, তা একাত্তরে পাকিস্তান আর্মি বাংলাদেশে যেই অত্যাচার করেছিল, তার সাথে কম্পিটিশন করছে। সবকিছু জেনেও যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব মোড়লরা নতুন সাম্রাজ্যবাদের দোসর ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। বরং ভারতের বাজারে ব্যবসা করার জন্য, ভারতের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের ঘুষ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাঈলে তৈরি অস্ত্র বিক্রির জন্য, পারমাণবিক প্রযুক্তি ও জ্বালানী বিক্রির জন্য গুজরাট ও কাশ্মীরের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে আছে।

জাতিগত দাংগার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখি বসনিয়াতে। শত শত বছর ধরে পাশাপাশি বাস করার পরেও এইরূপ জঘন্য অপরাধ মানবজাতির জন্য খুবই লজ্জার। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় গণহত্যা হচ্ছে “সেব্রেনিসা গণহত্যা”। ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘ সেব্রেনিসাকে “নিরাপদ এলাকা” ঘোষণা করে। ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে ৪০০ ডাচ সৈন্যের শক্তিশালী কন্টিঞ্জেন্টের জাতিসংঘ নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার্ব বাহিনী নগরীতে প্রবেশ করে নগরীর ৪০ হাজার বসনিয়ান মুসলমানদের থেকে সকল পুরুষদের আলাদা করে। এই ৮০০০ পুরুষদের এরপর হত্যা করা হয় যাদের মাঝে ৬৫৫৭ জনকে ডিএনএ টেস্টের দ্বারা সনাক্ত করা হয়েছে ২০১০ এর মে মাস পর্যন্ত। বাকি নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জোর করে সরিয়ে নেয়া হয়। বেশিরভাগ নারীই ধর্ষণের শিকার হয়, এমনকি ১২ বছরের কিশোরীরাও। সেব্রেনিসার জাতিসংঘ নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে গণহত্যা হলেও ডাচ বাহিনী একটি গুলিও তাদের রক্ষার জন্য ব্যয় করেনি। মার্কেল ১ম ও ২য় ম্যাসাকার, ডুজলা ম্যাসাকার বৃহত গণহত্যা হিসেবে উল্লেখযোগ্য। ২য় মার্কেল গণহত্যার পর ন্যাটো বাহিনী সার্ব অবস্থানের উপর বিমান হামলা শুরু করে যদিও কখন কোথায় হামলা করা হবে তার সময়সূচী ন্যাটো সদর দপ্তর থেকে সার্ব বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়েছিল।

ইসরাঈলের যুদ্ধপরাধের কথা লিখতে গেলে মহাকাব্য লিখতে হবে। শুধু এতটুকুই বলি, ইসরাঈলী থিংক ট্যাংক শিশুদের হত্যায় সাইকোলজিক্যাল এডভান্টেজের গুরুত্ব আরোপ করে। একটি শিশু নিহত হলে তার খেলার সাথী অন্য শিশুদের মনে ভয় জমাট বাঁধবে। তারা কোনদিন ইসরাঈলের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার সাহস করবে না। পরিকল্পিতভাবে একের পর এক ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হচ্ছে। হামাসের প্রতিষ্ঠাতা ৭৬ বছর বয়সী অন্ধ শেখ আহমেদ ইয়াসিনকে ২০০৪ সালে মিসাইলের আঘাতে যখন হত্যা করা হয়, তখন ফজরের নামাজ শেষে তাকে হুইল চেয়ারে মসজিদ থেকে বের করা হচ্ছিল। তিনি সহ মোট ১২ জন ঐ হামলায় মারা যান।

সবশেষে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান আর্মি ও তাদের দোসরদের যুদ্ধপরাধ নিয়ে মন্তব্য করব। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর প্রচুর বিহারী তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৩ বছরে তারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায়। এর মাঝে মিরপুর, রেলওয়ে কলোনীর মত জায়গায় বিহারীদের ঘনবসতির কারণে পাকিস্তান আর্মির বাংগালীদের উপর ক্র্যাকডাউনের পর বিহারী অধ্যুষিত এলাকার বাংগালীদের শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে হয়। পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগের মত ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর বাংগালী সমর্থকরা পাকিস্তান ভেংগে ফেলার তথাকথিত “আওয়ামী-ইন্ডিয়া ষড়যন্ত্র” এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এরা পাকিস্তান আর্মির সাথে মিলিত হয়ে আওয়ামিলীগ নেতাদের খুঁজে বন্দী ও হত্যা করতে থাকে। বেশিরভাগ আওয়ামিলীগ নেতা ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তিতে বাংগালি পুলিশ, ইপিআর, আর্মি ও সাধারণ ছাত্র-জনতা বিপুল বিক্রমে পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। পাকিস্তান আর্মির পোড়া মাটি নীতির ফলে আপামর জনসাধারণের একতাবদ্ধ হয়ে স্বাধীণতা যুদ্ধে যোগদান অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ায়। জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগের নেতারা জনসাধারণকে রক্ষা করার বদলে জনসাধারণের মতামত উপেক্ষা করে পাকিস্তান আর্মিকে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটে মোরাল (আদর্শগত) ও এক্টিভ (সক্রিয়) সাপোর্ট দিয়ে যেতে থাকেন। ভারতে পালিয়ে যাওয়াদের সম্পদ লুটের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ নিধনের মাধ্যমে আখের গুছিয়ে নিতে থাকে কিছু সংখ্যক লোক। এই সব দেশী যুদ্ধপরাধীদের পাশাপাশি অপারেশন সার্চলাইটের আদেশ প্রদানকারী জেনারেলসহ বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি আর্মি অফিসার যুদ্ধ শেষে গ্রেফতার হন যাদের পরে ছেড়ে দেয়া হয়। তাদের বিচার এই ৪০ বছরেও শেষ করা যায়নি। চোখ উপড়ে হত্যা করা আমাদের শহীদদের কথা যেন আমরা না ভুলি।

যদিও এই ৪০ বছর পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামিলীগ ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ একে অপরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তবুও আশা করব, প্রকৃত অপরাধীরা যেন শাস্তি পায়। ১৯৭২-১৯৭৫ ও ১৯৯৬-২০০০ মেয়াদে আওয়ামিলীগ যুদ্ধপরাধের বিচার না করলেও এবার বেশ জোরেশোরেই নেমেছে। এবার নির্বাচনের আগেও এই ইস্যু বেশ প্রাধান্য পেয়েছে। নির্বাচনের ২ দিন আগে ১টি টিভি চ্যানেল স্বাধীনতা সম্পর্কিত অনুষ্ঠান ২৪ ঘন্টা প্রচার শুরু করে যুদ্ধপরাধীদের বর্জন করতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। তবে সকল যুদ্ধপরাধীর (দেশি) বিচার শেষে পরবর্তি নির্বাচনে যুদ্ধপরাধীবিহিন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী জামায়াতে ইসলামী আরো শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয় কিনা তা দেখার বিষয়। এইসব আশংকায় আওয়ামিলীগ যুদ্ধপরাধীদের বিচার করে নাকি পরবর্তি মেয়াদে ক্ষমতায় আসার জন্য নির্বাচনী ট্রাম্প কার্ড হিসেবে রেখে দেয়, তা সময়ই বলে দেবে।
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×