somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মানবীয় চরিত্রে একদিন চলে যাবো একেবারে,
ফিরবোনা আর কোনদিন এখানকার স্মৃতি নিয়ে
এখানকার মানবীয় চরিত্রে।

গাছ, মাটি, অথবা ঝর্ণা হলে ভেবে দেখব।

ফিরবো না আর অবলাত্ব নিয়ে যেখানে
ভবিষ্যত কোন পাজল গেম,
যেখানে অতীত ভরা শ্রাদ্ধ প্রেম,
যেখানে রিপুরা গ্রাস করে, ইচ্ছেরা ডানা মেলে,
কিছু রঙ আশা দেয়, বারে বারে উঁকি দেয়
ভাবায়- ভালোবাসে।

ভুল! অন্তর্নিহিত অর্থই ভুল!

দয়াকরে চিপে ছেঁকে ফেলে দাও আমার হৃদয়ের সংবেদনশীলতা,
কোথাও কোন কিছু করে পানসে করে দাও মস্তিষ্কের বিচারিক ক্ষমতা

তা না হলে সত্যিই ফিরবো না আর,
ফিরিও না-তোমাদের পৃথিবীতে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28889248 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28889248 2008-12-28 17:16:19
আজ ১৭ ই এপ্রিল তিথির জীবনে নতুন গোলাপ হাতে এসেছিল ফয়সল। এক সমুদ্র ভালোবাসা জন্মেছিল ফয়সালের বুকে, সবটাই তিথির জন্যে। তিথির জীবনে এলো নতুন প্রেম। এবারে চখা-চখি মিলে গেছিলো। দে মেড ফর ইচ আদার। সুগভীর প্রেম হল। ১৭ই এপ্রিল বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের পর একবার মাত্র কথা হয়েছিল শুভ্রর সাথে। সেদিন অনেক কথার দেনা-পাওনা মিটিয়েছিল দুজনে। সেসবের মাঝে আজো তিথির যে কথাটা শুভ্রর কানে বাজে- “ আমি জানিনা এভাবে বালাটা ঠিক হচ্ছে কি না। এভাবে বলে আমি ফয়সালকে ছোট করছি কিনা। আমি ফয়সলকে অসম্ভব ভালোবাসি, সেও আমাকে বাসে। অথচ, এখনো মনে হয়-আমি তোমাকে ভালোবাসি। এরকম কেন হচ্ছে বলতে পারো?” শুনে, শুভ্র কিছু বলতে পারেনি। তিথির চরিত্র নিয়ে কথা বলার মত কোন মায়ের সন্তানের আজ অবধি জন্ম হয়নি। সুতরাং এই কথার অন্য কোন মিনিং ধরার কোন অবকাশ নেই।
এরপর আর কোন কথা হয়নি দুজনের। শুভ্র চলে গিয়েছিল আস্ট্রেলিয়া। মাঝে আট’টা বছর পেরিয়ে গেছে। আজ সেই ১৭ই এপ্রিল। আজ নিশ্চই তিথি স্বামী সন্তানের সাথে বাইরে কোথাও ঘুরতে যাবে । রাতে খাবে কোন ভালো রেস্টুরেন্টে । শুভ্র আর পাঁচটা দিন পরে দেশে যাবে। এখনো বিয়ে করা হয়নি। আট বছর আগে যখন অস্ট্রেলিয়া এসেছিল, তখন সবার কাছ থেকে পালিয়ে আসেনি, কিন্তু আসার পর যেন পলাতক হল। যাকে বলে যোগাযোগ রেখে পালিয়ে থাকা। এবার দেশে নাকি সবাই রশি নিয়ে বসে আছে। বিয়ে দিয়েই ছাড়া হবে তাকে। এতদিনে শুভ্রও বিয়ের জন্যে বেশ খানিকটা উতসুক। পুরোদমে প্রস্তুতিও আছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসে বসে আজ ১৭ এপ্রিল তারিখটা নিয়ে কিছুক্ষন আনমনে কেটে গেল শুভ্রর। ফয়সল কি সত্যিই তিথিকে ভালোবেসেছিল? কিংবা তিথি ফয়সলকে? শেষ পরিণতি ঠিকঠাক ছিল তো?....................................
দেশের চেহারা যেন অনেক পাল্টে গেছে। দেশে আসার পর কেমন অচেনা অচেনা লাগছে শুভ্রর সবকিছু। লাগতেই পারে। আটটা বছর, কমতো নয়! কেন জানি দেশে নামার পর থেকেই জানতে ইচ্ছে করছে তিথি কোথায় থাকে? ওর ছেলে হয়েছে না মেয়ে? ক’টা? কোথায় থাকে? কেমন আছে? শ্যামলা মেয়েটার প্রতি কদিন বাদেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেনি তো ফয়সল? কি হালে আছে তিথি?
পরদিন বিকেলে নিউ-মার্কেটের পুরনো আড্ডায় আমিনের কাছ থেকে যা শুনল তাতে মনে হল কেউ যেন বিষ মাখা ফলা দিয়ে খচ খচ করে খুচিয়ে চলেছে বুকটা। ডিভোর্স হয়েছে তিথির। ছেলেকে নিয়ে মীরপুরে থাকে, গ্রামীণের কাপড়ের একটা শোরুমে চাকরী করে। চোখের পানি লুকোতে আড্ডা ছেড়ে চলে এলো শুভ্র। রিক্সায় বসে এলোমেলো ভাবছিল অনেক কিছু-এম্বেসিতে যেতে হবে-আলাদা করে রাখতে অবে তিনটা টিকেটের টাকা, আর, আমীনকে ফোন করে জানতে চাইল -তিথির বাড়ির ঠিকানা ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28887836 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28887836 2008-12-25 17:47:19
তীরহারা মাঝি পথ চেয়ে বসে তীরহারা মাঝি পথ চেয়ে বসে
১লা জানুয়ারী
২০০৭

পাপের সাগরে তীরহারা মাঝি এখনো মেলেনি চোখ,
পাপের সংগা ভাংতে ভাংতে
উপরে ফেলেছে বোধ।
কোথা হতে শুরু, কোথায় শেষ, কে আছে বোঝাবে তারে,
বোধ করি তার, তীরে ফেরা আর
হবে না এ সং-সারে!

পূর্নচন্দ্রার পূত আলোকের দাম্ভিক পবিত্রতা,
শ্যেন হয়ে বেঁধে বুকের পাঁজরে
না শামিলের আকুলতা।
একঘরে আজ অচ্ছুত মাঝি বাইছে বৈঠা হায়,
নিজেরেই আজ ফেলেছে লুটায়ে-
বসি বাতায়নে নিরুপায়।

কে আছে, কে আছে তুলে পল্লবী, উঠে
দূর হতে ভীরু পায়,
কাছে এসে তার আঁচল ছড়ায়ে
ঢেকে দেবে সব কায়।
আত্নার মাঝে আত্নীয় হয়ে
শুষে নেবে যত পাপ,
নতুন করে বুনবে সেখানে
সবুজের পত্রালাপ।

দেখো দেখো কেউ এল নাকি ঐ
তৃষিত মেঠো পথে হায়,
সিঁদুর ঝড়ানো বেলা যে সাঁঝের
পাতাল বয়ে যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28866366 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28866366 2008-11-08 17:08:42
আজকের সন্ধ্যাটা- ছবি ব্লগ
"আকাশের রঙ গুলো পানিতে পড়ে যেন
পানিতেই লীন।
আমারো পরাণো যাহা চায়
তাহা আজো কি মলিন!"

আকাশের রঙ আর পানিতে তার প্রতিফলন- ব্যাপারটা খুব ব্যাকুল করে তুলছে বার বার। দেখুনতো......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28863287 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28863287 2008-11-02 03:11:45
নূপুর তোমাকে নূপুরে দেখাই হল না,
নূপুর পড়ে ঘুরে বেড়চ্ছো তুমি
রুমঝুম, রুমঝুম ]

[একসময় ভাবতাম আমার এনগেজমেন্ট হবে নুপুর দিয়ে]

[হা...হা...
এতোদিন বলোনিতো!! কেনো বলোনি, কেনো?
কেনো বলোনি পাখি আমার?]

তোমাকে নূপুরে দেখা হলনা আর।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28841910 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28841910 2008-09-12 01:41:13
ক্রোম (খ্রোম)!! <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_26.gif" width="23" height="22" alt=":-*" style="border:0;" /> নতুন একটা ব্রাউজার দেখে, এমনি চেখে দেখতে ইচ্ছে হল। তাও হত না যদি না এটা গুগলের হত। আইটি সেক্টরের কেউ নই আমি- এই লেখা লেখার আগে-ভাগেই সেটা বলে নেই। নেহায়েতই একজন সাধরণ ইন্টারনেট ইউজার। সাধরন ইউজার হিসাবে আমার সবগুলো মেইল একাউন্টের মধ্যে গুগল একাউন্টটা কেন জানি ভীষণ প্রিয়। গুগলের ব্যাপার স্যাপার গুলোই আলাদা। একটা গুগল একাউন্ট দিয়ে কত্ত কিই না করা যায়! এর অনেক অনেক এপলিকেশনের মধ্যে সবচে বেশি যেগুলো ইউজ করি সেগুলো হলঃ মেইল, গুগল ডকুমেন্ট, ক্যালেন্ডার, ব্লগ আর রিডার।
এবার দেখি তারা একেবারে নতুন একখানা ব্রাউজার ই বাজারে নামিয়ে দিয়েছে। এর এ্যাড দেখে সাথে সাথে ইন্সটল করে একটু চেক করা শুরু করলাম।
প্রথমেই মাথায় এলো আমার প্রিয় ব্লগ সামইন এতে সাপোর্ট করে কিনা, দেখি তো। দেখি ভালোই করছে। তবে একটা বাগ অলরেডি ধরা পড়েছে বলে মনে হল। কমেন্টের ক্ষেত্রে। প্রত্যেকটা কমেন্টে যে আলাদা আলাদা "জবাব" দেয়ার সিস্টেম আছে সেটা কাজ করছে না বলে মনে হয়। একটা লেখার কিছু কমেন্টের উত্তর দিতে যেয়ে ধরা পড়ল।
গুগলের কাজকর্ম দেখলে আমার কেনজানি মনে হয়...আগামীতে সমগ্র বিশ্বের সবকিছুই যখন মোটামুটি ইন্টারনেট এর আওতায় চলে আসবে তখন গুগল বা গুগলের মত এই ইন্টারনেট ভিত্তিক কোম্পানীগুলোই্র বিশ্ব শাসন করবে। কেমনে সেটা আর ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। আজ ঠিক যেমন করছে আমেরিকা।
http://www.youtube.com/watch?v=JGmO7Oximw8
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28838060 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28838060 2008-09-03 02:11:23
ভালোবাসাবাসি একটি ছেলে ভালোবাসে,
ভালোবেসে
ব্যাকুল।
একটি মেয়ে খুব কেঁদেছে,
ছড়িয়ে দিয়ে
চুল।

।।২।।
একটি ছেলে ভালোবাসে,
ছোট তার
কুল ।
একটি মেয়ে খুব ভেবেছে,
করবে না সে
ভুল ।


<img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28835189 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28835189 2008-08-26 14:52:54
২৪ শে আগস্ট ০৮ আমার এক কথায় চমৎকার গেল! ফোন, এস এম এস কিংবা সরাসরি শুভকামনায় ভরে ছিল সারাটা দিন। শুরু হয়েছে ঠিক ২৪ তারিখ হওয়ার ৩৫ মিনিট আগ থেকে। এখানে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট দিলেন সাজি'বু। অনেক অনেক ধন্যবাদ তাঁকে। তাঁর সাথে আরো যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেনঃ

বিবেক সত্যি,
চাঁদ,
চিকনমিয়া,
কণা,
চাচামিঞা,
আমি ও আমরা,
বিবর্তনবাদী,
আন্ধার রাত,
চিকন মিয়া,
ইউনুস খান,
তামিম ইরফান,
ফারহান দাউদ,
রাশু,
চিটি,
নুরুন্নবী হাছিব,
রাতমজুর,
জনারন্যে নিসংগ পথিক,
শফিউল আলম ইমন,
নিশীত রাতের বাদলধারা,
মিলটন,
আবু সালেহ,
লিপিকার,
আরিফ জেবতিক,
একরামুল হক শামীম,
আরুনাভ,
মেহরাব শাহরিয়ার,
উত্তরাধিকার,
অদ্ভুত আঁধার এক,
কুম্ভকর্ণ,
চাঙ্কু,
তারার হাসি,
বুলবুল আহমেদ পান্না,
~টক্স~,
শেখ রহিম,
দুরন্ত, এবং
উত্তরাধিকার দা
.................................(কারো নাম বাদ পড়ে গেলে দুঃখিত)
এদের সবার কাছেই অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।
এরপর রাত বারোটা বাজার ২ মিনিটের মাথায় শুরু হল ফোন রিসিভ করার পালা। একটা কলে কথা বলতে ২/৩ টা কল ওয়েটিং থাকছিল। একই সাথে ব্লগিং আর ফোনিং দুটোই চলল রাত সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত। ঘুম কাতুরে আমি(আমার কলিগরা খুব ভালো জানে), অবশেষে গেলাম ঘুমিয়ে। ভীষণ সৌভাগ্য আমার। জন্মদিন উপলক্ষে ছুটি ঘোষিত ছিল এদিন। আমার নয়" শ্রী কৃষ্ণের"। হা...হা...। কি কাকতালীয়, কি কাকতালীয়!!
ছুটির প্রশ্রয়ে সেই ঘুম ভেঙ্গেছে সকাল দশটায়!!
খালার বাসায় আমার জন্মদিনের কেক কাটা হবে বলে সেই রাত থেকেই তাড়া দিচ্ছিল ছোট খালা। সাথে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া। সুতরাং, গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখি এলাহী কান্ড!! অনেক আয়োজন। যাবতীয় পর্ব সম্পন্ন করে ফিরে এলাম ডেরায়। পরবর্তী মিশন আরো জটিল। বিকালে একজনের সাথে দেখা করা শেষ করেই যেতে হল বন্ধুদের গেট-টুগেদার এ। সাথে নিয়ে গেলাম কুপারস্‌ এর কেক। ভীষণ মজা হল। অনেক দিন পরে ক্লাসমেটদের সাথে দেখা সাক্ষাতে পুরো সময়টা কোন দিক দিয়ে মিলিয়ে গেল টেরই পেলাম না। অবশেষে ডেরায় ফিরলাম রাত সাড়ে দশটায়।
মাঝখানে মা ও বাবা ফোন করেছিলেন। ছেলের জন্মদিনে কাছে থাকতে পারলেন না বলে আফসোস। কি আর করা!! এমনটাই হয়ে আসছে বেশিরভাগ সময় গত ১৫ বছর ধরে! গত ১৫ বছর ধরে ঘর ছাড়া হয়ে বাইরে বাইরে ঘুরছি। ছুটি পেলে ঘরে যাই। মেহমানের মত।
আজ মায়ের কথা মনে পড়ছিল খুব। মাঝে মাঝে মায়ের সাথে ফোনে কথা হওয়ার সময় মা কেঁদে দিয়ে বলে-"খাওয়া দাওয়া করছিস বাবা"? আমি বলি - " হু , তোমারা?" মা বলে- " দেশি মুরগী রান্না করছি, কিন্তু মুখে দিতে ইচ্ছা করে না বাপধন। খালি তোর মুখ মনে পড়ে" । এপার থেকে আমি বিরাট হাসি দিয়ে উড়িয়ে দেই এসব, আর মনে মনে কেঁদে ফেলি। মাকে খুব দেখতে মন চেয়েছিল আজ। কেমন হয়েছে মুখটা তাঁর এখন?
বাবা'র পিঠে মাইনর একটা অপারেশন করতে হয়েছে সপ্তাহ দুয়েক আগে। খুব ইচ্ছে ছিল যেয়ে দেখে আসি। হল না। আজ বাবা ফোন করে বললেন, " বাবা, কেমন আছো"? বললাম, "ভালো"। বাবা বললেন, " শুভ জন্মদিন বাবা। আমি তোমার মাকে ঢাকায় যেতে বললাম কতবার। গেল না। খাওয়া দাওয়া করছ বাবা"? আমি কেন যেন কিছু বলতে পারলাম না। গলাটা কেমন বাষ্পরুদ্ধ হয়ে আসছিল। শুধু বললাম-" বাবা, আপনার শরীর কেমন"?

সবকিছু নিয়ে ভালোই চলে গেল দিনটা, কাটায় কাটায় ঊনত্রিশটা বছর সম্পন্ন করে।







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28834569 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28834569 2008-08-25 02:14:16
শান্তির বিষ-নাগ যাইনা কারো কাছে আর
ভাবিনা কথা কারো কতদিন
মাঝে মাঝে দমকা মনে হওয়া ছাড়া নেই টান আর কোন
বাঁচি আর কারো সাথে, মেহগনি বাকলের মতো
ঝড়ে যাবার আগে যতটুকু শুধু।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28829669 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28829669 2008-08-11 12:31:15
বাবা হবার অধিকার নিয়ে ধান বোনা সবুজ জমিনের মাঝখানটাতে,
ধবধবে দুধ-সাদা পাঞ্জাবী-পাজামা আর চাদর জড়ানো আমা্‌র,
বোধয় তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে।
পাঞ্জাবীর বাম কোণ্‌ আলতো করে ধরে আছে ছোট্ট বালক।
আমার ছেলে। এক তাল কাদা-মাটি।
ওর দিকে না তাকিয়েও বুঝতে পা্রি তাকিয়ে আছে পানির দিকে।
দুজনের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে হলেও যেন
দুই আত্না, আত্নার দিকে চেয়ে আছে রক্তিম তন্তুর সংযোগে।
কোন কথা নেই দুজনের মুখে অনেকক্ষন
তবু, কথা হয় আত্নায় আত্নায় আলোক রশ্মির মতো-অদৃশ্য শ্রবানাতীত।

সারাদিনে তার সাথে আমার দেখাই হয় খুব কম।
যেটুকু চোখা-চোখি, ওটুকুতেই অনেক কিছু -
মুখে যেটুকু বলি যেন- সেটুকুই তার বেদবাক্য।

ওর ভাবনায় আমি ওকে স্বনির্ভর হতে শেখাতে চাই,
ওকে পৃথিবীতে এনেছি বলে আমার অতৃপ্ত বাসনার সফলমূর্তি বানাতে চাই না কখনোও,
আমি কিছু হতে পারিনি বলে কখনই ওকে বলবো না
" বাবা তুই হতে পারবি না"?

ওর আত্নার ঠিকাদার ও যে নিজেই
আমি চাই নিজের আত্নাকে নিজে চিনে নিক অতি সত্বর।
আমি চাই- ও হয়ে উঠুক স্বতন্ত্র একক স্বত্বা -যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব।
বুঝে নিক জীবনের মানে,
বুঝে নিক কেন পৃথিবীতে আসা, কেন বেঁচে থাকা
বেঁচে সে থাকার স্বার্থকতা।
আমি শুধু পথ প্রদর্শক আর কখনোবা
পিছলে গেলে হাতের কাছের কোন অবলম্বন ( কখনো পর্যাপ্ত কখনো অপর্যাপ্ত)

আমার আশা- আকাঙ্ক্ষার চাদরে বন্দী হতে দেবো না ওর পথ,
ওকে বলবো না- " কেন এত কষ্ট করে মানুষ করলাম"।
আমি চাই না কোন কিছু চাপিয়ে দিতে - একান্ত স্বার্থপরের মতো
বাবা হবার অধিকার নিয়ে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28824198 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28824198 2008-07-26 00:30:32
ইদানীং http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28823182 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28823182 2008-07-23 00:58:09 শখের/প্রয়োজনের পরম্পরা (ল্যাপটপের দিন নাকি শেষ!! <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_26.gif" width="23" height="22" alt=":-*" style="border:0;" />) নিচের বস্তুগুলো দেখলে কেউ এগুলো কলম ছাড়া আর কিছু কি ভাববে? আমিও ভাবিনি। বস্তুগুলো আসলে কি সেটা জানতে যেয়ে- আমি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম৫---------

কালে কালে আরো কত কি যে দেখতে হবে! এখনো আমরা কেউ কেউ হয়তো ডেস্কটপ পিসিই ঠিক ঠাক মত ইউজ করা শেষ করতে পারলাম না ওদিকে ল্যাপটপ ইউজ শেষ হয়ে নাকি তারো পরের ভার্সনের এক যন্ত্র আসছে। খবরটা এবং ছবিগুলো পেলাম আমার এক গ্রুপ মেইলে। দেখে কিছুক্ষণ বিস্ময়ে বসে থাকলাম। জাপান দেশটা টেকনোলজিকে যে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে! আরো ভাবলাম জীবনে আর কতটুকুই বা দেখেছি। এরি মধ্যে হয়তো এত কিছু আবিষ্কৃত হয়ে আছে যা দেখলে পিলে চমকে যাবে ।৪------
উপরের ছবিগুলো ভালো ভাবে দেখলে কলম ছাড়া আর কি গেস করা যেতে পারে? খুব বেশি হলে বলা যায় ক্যামেরা ওয়ালা কলম। আসলে নাকি এগুলো কলম নয়। এগুলো নাকি ভবিষ্যতের কম্পিউটার ! নিচের ছবিটি দেখলে হয়ত কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে।২-----

বিজ্ঞানের রেভ্যুলুশনে বিজ্ঞানীরা পিচ্চি কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এক বিশাল বিবর্তন ঘটিয়ে ফেলছেন।আর এইসব কিছু তারা নাকি করছেন ব্লু-টুথ টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে।------৩

এগুলোই নাকি আমাদের জন্য ভবিষ্যত কম্পিউটার যা নাকি আমরা পকেটে করে নিয়ে ঘুরতে পারবো!! আমাদের ছেলেমেয়েরা শখ করে তখন এগুলোই নিশ্চই কিনতে চাইবে?!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28818689 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28818689 2008-07-09 23:37:07
সবাই মানুষ খোদার কসম, আর কখনো খুলবোনা কাপড়
-মনের অন্তর্বাস পর্যন্ত, আকন্ঠ আবেগে......
দেবী ভাববো না আর কাউকে আমি
ভুল করবো না আর,
বিশ্বাস কর্‌...বিশ্বাস কর তোরা-
আমার শিক্ষা হয়ে গেছে।
তোরাও কখনো ভাবিস না কাউকে দেবী
সব ফালতু, সবাই মানুষ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28817206 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28817206 2008-07-06 01:09:10
লালশাড়ি-কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি-৮ - হ্যালো(জাফর)
- হুমম্‌।(মিলা) আমার ক্রেডিট শেষ।
- হ্যাঁ বুঝতে পারছিলাম।
- আচ্ছা বলেন তো আমি কি আপনাকে ডিস্টার্ব করছি?
- না। ঠিক আছে।
- কথা বলেবেন আমার সাথে?
- হ্যাঁ কথা তো বলছিই।
- না মানে পরে যদি কখনো ফোন করি তাহলেও কথা বলবেন?
- দেখি। আচ্ছা আপনি কি দেখতে কাকতাড়ুয়ার মত? হি...হি...
- কেন ?
- আমার এক ফ্রেন্ড আর্মি তে গিয়েছে। ও যখন ছুটিতে আসলো আমাদের সাথে দেখা করতে, আমরা প্রথমে চিনতেই পারিনি ওকে। চুল এমন করে ছেটে দিয়েছে আর এত কালো কুচকুচে হয়ে গেছিল – দেখতে একদম কাকতাড়ুয়ার মত লাগছিল। এরপর থেকে ওর নামই হয়ে গেল কাকতাড়ুয়া।
- ও আচ্ছা তাই নাকি? হা...হা...। ট্রেনিং পিরিয়ডে ওরকম হয় আসলে। পরে ঠিক হয়ে যায়।
- আচ্ছা আপনিও কি কুচকুচে কালো? হি...হি...
- না, আসলে অত কালো না। এই শ্যামলা টাইপের আরকি। আমার ঠোঁট কালো। প্রচুর সিগারেট খাই তো।
- ইস্‌, সিগারেট খাওয়া আমার দুই চোক্ষের বিষ। মানুষ কিভাবে যে সিগারেটটা খায়। খেয়ে কি মজা পায় বুঝিনা। আপনার ঠোট কি একদম কালো?
- হ্যাঁ মোটামুটি ভালোই কালো। মাঝে মাঝে একটু কম কালো লাগে আর কি?
- ছিঃ , সিগারেট খাওয়া মানুষের সাথে আমার কথা বলতেই অস্বস্তি লাগে।
- আচ্ছা একটা রিকোয়েস্ট করবো?
- বলেন।
- আমরা কি কোথাও দেখা করতে পারি?
- কেন?
- না মানে এমনি কথা টথা বলার জন্য। আপনাকে আসলে আমি কখনো দেখিনি। দেখতে ইচ্ছা করছে।
- সরি। তবে একটা কাজ করতে পারেন। আপনার ছবি পাঠান।
- উমম্‌, আচ্ছা ঠিক আছে, পাঠাবো। আপনার ছবিও পাঠাবেন নিশ্চই?
- দেখি। নাও পাঠাতে পারি।
- আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে আমিই পাঠাবো আগে। আমি বুঝতে পেরেছি। আসলে আপনি আমার ছবি আগে দেখবেন। যদি পছন্দ হয় তাহলে আপনার ছবি পাঠাবেন। আর না হলে কাট্‌ আপ করে দিবেন, তাই তো?
- ঊমম্‌, না সেরকম ঠিক না। পাঠান দেখি আপনার ছবি আগে। (হি...হি...)
- ঠিক আছে পাঠাবো। মেইল আড্রেস?
- আচ্ছা লিখেন। ............
- দাড়ান দাড়ান কাগজ কলম নিই আগে। কাগজ কই...কাগজ কই...নাহ্‌ কাগজ পেলাম না......আচ্ছা মুখেই বলেন দেখি মনে রাখতে পারি কি না।

মিলা মেইল এড্রেসটা বলল। জাফর ও সাথে সাথে আওড়াতে আওড়াতে মুখস্থ করার চেষ্টা করতে লাগল। এই ছোট্ট ঘটনাটার মধ্যে দিয়েই ওদের একদম অচেনা অচেনা দুরত্বটা যেন এক লাফে কমে এল আচমকা। কি আজব মানুষের মন। মিলা কোনদিন চিন্তাও করেনি একটা আর্মি অফিসারের সাথে সে এতক্ষন ধরে কথা বলবে। ওদিকে জাফর, স্মরণের কাছে যেমন শুনেছিল তাতে কখনই চিন্তা করেনি যে মিলার সাথে সে এতদুর কথা বলতে পারবে। সবি ভবিতব্যের ইচ্ছা। এরপর আরো অনেক অনেক কথা হল ওদের। কি কি সব কথা। আশ্চর্য্যের ব্যাপার হল কথা বলতে বলতে ফজরের আজান দিয়ে দিল। পৃথিবীর কখন কোথায় কার মনে কি রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়ে যায় তার খোঁজ আমরা কজন ই বা জানি। আর কতটাই বা সম্ভব যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে সেটাকে বিচার করা। সম্ভব নয়। মানুষের মন তো মনই। চিরকালই আজব। সবসময় ধরাবাধা নিয়মে সে যায় না। মাঝে মাঝে একদম হারিয়ে যায় ইচ্ছে মতন। কখন যে কি ভালো লেগে যায় বোঝা মুশকিল। কখন কোন সাধারন ঘাসফুলটার রঙ্গে রাঙ্গিয়ে নেয় নিজেকে, কখন যে হঠাৎ কার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়- ঠাহর করা মুশকিল। একই গানের কোন কলিটা কার কখন কিভাবে কোন ছন্দে ভালো লাগবে যুক্তি বুদ্ধির কাট কাট জবাব দিয়ে তা উদ্ধার করা এখন পর্যন্ত অসম্ভব বলেই জানি এবং মানি।

দুই দিন পরের ঘটনা।
-হ্যালো (জাফর)
- হ্যা বলেন। ছবি পাঠাইছেন? (মিলা বলল)
- হুম।
- আচ্ছা দেখবো।
- আপনি কোথায় এখন?
- ওয়াটার কিংডমে।
- ও তাই নাকি? হেব্বি মজা করছেন না?
- না ওরা সবাই করছে। আমি পানিতে নামবো না।
- কেন?
- আছে প্রবলেম।
- কি প্রবলেম?
- আছে।
জাফর আর জানতে চাইল না। না জানি কি প্রবলেম। জোর করে জানতে চেয়ে আবার পুরা মেজাজটাই না বিগড়ায় দেই। থাক বাবা দরকার নাই। শেষে বলল, “ আচ্ছা এনজয় করেন তাইলে। রাখি”
মিলা বলল- “ ওকে বাই”।
সারাটা দিন জাফরের একটা ঘোরের মধ্যে কেটে গেল। নেগেটিভ পজেটিভ সব ধরনের ভাবনাই আসছে। ভাবছে ছবি যদি পছন্দ না হয় মেয়েটার? পরক্ষনেই ভাবল আরে না হলে না হবে। কি আর করা। সবাইকে তো আর সবার ভালো লাগবে না। আর ওকেও তো আমি এখনো দেখিনি। স্মরণ অবশ্য বলেছে ভীষণ সুন্দরী। কেউ যখন কারো সম্পর্কে বলে ভীষণ সুন্দরী তখন সে একটা স্ট্যান্ডার্ডের তো হবেই। সবচে ভালো হত দেখা করতে পারলে। সেটা আপাতত হচ্ছে না। আচ্ছা যাক। আস্তে আস্তে আগানোই ভালো।
সন্ধ্যায় ফোন এলো মিলার।
ভয়ে ভয়ে রিসিভ করল জাফর। মনে মনে জানতো বোধয় মিলা ফোন করবে। এবং বলবে “ ছবি দেখেছে”।
হলও তাই। মিলা ফোন করেই বলল
- হুমম্‌ ছবি পেয়েছি। তবে আমি এখনো দেখিনি। ফারহানা কে দেখতে বলছি। আমার বাসায় নেট নাই। ওর বাসায় আছে।
- ও আচ্ছা তাই নাকি? তো ফারহানা কি বলল?
- ও তো আপনার ফিদা হয়ে গেছে। আপনি নাকি কি একটা হাসি দিছেন দেখে ওর জান ফানা ফানা হয়ে গেছে।
- হা...হা...না না কি বলেন। আমার হাসি ভিলেন টাইপের। নিশ্চই ফান করেছে। যাই হোক আপনার আর দেখার দরকার নাই। ভয় পাচ্ছি। ঠিক আছে আপনার সাথে আমি দেখাও করতে চাই না। এইভাবেই চলুক।
- কি ভাবে?
- এই যে কথা বলা চলছে।
- হি...হি......।
- আচ্ছা আমি একটু বেরোব। রাখি তাহলে।
- আচ্ছা, বাই।
- হঠাৎ মিলা বলল আচ্ছা দেখা করবেন কবে?
জাফর বলল, “ মানে”? জাফর পুরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। এতোটা সে কল্পনাও করেনি।
- “মানে ? আপনিই না সেদিন দেখা করতে চাচ্ছিলেন”? মিলা বলল।
- ও হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো। আমি তো পারলে আজই দেখা করতে রাজি।
- না আজ না কাল। তবে একটা শর্ত ।
- কি শর্ত?
- আপনাকে কাকতাড়ুয়ার ছবি ওয়ালা গেঞ্জি পড়ে আসতে হবে। হি...হি...
- কাকতারুয়ার গেঞ্জি কই পাবো?
- আরি কাকতাড়ুয়ার গেঞ্জি না বাবা, কাকতারুয়ার ছবি ওয়ালা গেঞ্জি। আজিজ সুপার মার্কেটের তিন তলায় নিত্য উপহারে পাওয়া যায়। বুঝেছেন?
- জ্বি ম্যাডাম বুঝতে পেরেছি। কিন্তু ব্যাপারটা কেমন মদন মদন হয়ে যাচ্ছে না। আমি একদম প্রথম দিনই আপনার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি “ কাকতারুয়া” সেজে।
- হি...হি...হি... (মিলা হাসতেই আছে হাসতেই আছে......)
- আচ্ছা আর আপনি কি পড়ে আসবেন?
- বলেন আমি কি পড়ে আসবো?
- লাল শাড়ি?
- উমম্‌, সুইট। লাল শাড়ি আমার দারুন পছন্দ। ওক্কে । ঠিক আছে।
- রাখি তাহলে ......
- ওকে বাই.........।

ফোন রেখে দিল দুজন
দুই প্রান্তের দুই মানব মানবীর চোখে এখন আদিগন্ত স্বপ্ন। এক, অন্য রকম স্বপ্ন। অনেক অনেক রঙ্গিন সেই স্বপ্ন। অনেক অনেক নিষ্কলুষ সেই স্বপ্ন। কাউকে খুঁজে পাবার স্বপ্ন। কাউকে খুজে পাবার-স্বপ্ন পুরনের স্বপ্ন। লাল শাড়ি-কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি’র স্বপ্ন!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28814728 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28814728 2008-06-28 22:14:18
লালশাড়ি-কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি-৭ বড় ভাই বলে, “ বলো কি? তাইলে বিয়ে শাদী করাই বাদ দিয়ে দিব নাকি!”
স্মরণ বলেছে, আরে বস্‌, এতো ডিজহার্টেন হওয়ার কিছু নাই। হবে হবে, সবি হবে। ওয়েট করো। একটা আপু খুব পছন্দ হইছে। এখন দেখতেসি আপুটার কোন অ্যাফেয়ার-ট্যাফেয়ার আছে কি না। যদি না থেকে তাইলে আগানো যাবে। আর হ্যাঁ আর একটা কথা। যদি আপুটার নাম্বার কোনভাবে ম্যানেজ করতে পারি তাইলে কি তুমি কথা বলতে পারবা?”
জাফর বলল, ধুরো! এই সব আমাকে দিয়ে হবে না। তারপর কিছুক্ষন ভেবে আবার বলল, আচ্ছা, যাও তুমি যদি এটলিস্ট নাম্বারটাও জোগাড় করতে পারো তাও করো। কয়েকদিন নাম্বারটা তা দিতে দিতে যদি হঠাৎ ফোন করার মত সাহস জোগাড় করে ফেলতে পারি তাইলে ট্রাই করে দেখা যাবে।
স্মরণ বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। দিব।
এরই দিন কয়েক পরের কথা। একদিন স্মরণের মিসকল, ফলোড বাই এস এম এস। মিলা আপুর নাম্বার।
সাথে সাথে ফোন ব্যাক করে ছোট ভাই কে একটা থ্যাংক্স দিয়ে দিল জাফর। স্মরণ পই পই করে বলে দিল, ভাইয়া, মিলা আপু কিন্তু ডেঞ্জারাস। দেইখো আবার ঝারি টারি ও খাইতে পারো। ওনার কাছে এইসব ফাউল ফোন প্রচুর আসে। উনি এইসব একদম পাত্তা টাত্তা দেয় না। যাই হোক তোমার কি হবে আল্লাহ্‌ ই জানে। দেখো তাও, ট্রাই করে। কি হয় জানাইও। বাই। ও হ্যাঁ আর একটা কথা। শুনছি মিলা আপু নাকি আর্মি একদম লাইক করে না। এইটা একটা বিশাল প্রবলেম। তারপরো দেখো কথা বলে।
- ওকে বাই।

এর পর নাম্বারটা নিয়ে কমপক্ষে দশদিন তা দেয়ার পর এই কথা বলার চেষ্টা এবং সফলতার সাথে আজ রাতে প্রচুর কথা বলা। কিন্তু ফোনটা কেটে গেল কেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। মিলা কি নিজেই কেটে দিল? কি জানি। সুন্দরী মেয়েরা কখন কি ভাবে, কে জানে?
কিন্তু ভব্যের ষাণ। জাফরকে চমকে দিয়ে কিছুক্ষণ বাদেই একটা রিং বেজে উঠল। তড়াক করে বিছানা থেকে উঠে চার্জারে লাগানো স্যামসাং ফোনটার ফোল্ডিং লিড ওপেন করে দেখে মিলা ইজ কলিং। জাফরের মাথা এবার পুরাই খারাপ। এক সাগর আনন্দ বুকে নিয়ে ফোন রিসিভ করলো জাফর। জিজ্ঞেস করলো, হ্যালো, হ্যাঁ বলেন। ফোনটা কেটে গেল কেন?
- কি জানি? মনে হয় এক ঘন্টা হয়ে গেছে এই জন্য কেটে গেছে। আপনার নাম্বার তো ওয়ারিদ দেখলাম বোধয়।
- ও তাই নাকি? ওয়ারিদে এক ঘন্টা পর কেটে যায় নাকি? জানতাম না আসলে। আবার কষ্ট করে ফোন করলেন যে? আমিই করতাম। কিন্তু ভাবলাম আপনি কেটে দিলেন কিনা। আপনার ওখানে কোন সমস্যা হল কি না। তাই আর ফোন করতে সাহস করছিলাম না। অনেক রাতও হয়ে গেছে।
- না কোন সমস্যা হয়নি। ইটস ওকে।
- আমি কি কল ব্যাক করবো?
- না না ঠিক আছে। অবশ্য আমার মোবাইলেও ক্রেডিট তেমন নাই। খুব তাড়াতাড়িই কেটে যাবে।
এর পর বেশ একটা নিরবতা চলছে। কোন পাশেই কারো মুখে কেন জানি কোন কথা নেই। মিলা কি ভাবছে কে জানে। জাফর ভাবছে এখন কি বলা যায়?
হঠাৎ মিলা বলে উঠিল, আমি আসলে কেন আপনাকে ফোন করলাম ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি নরমালি এরকম করি না। এখনো আসলে আমার কনফিউশন কাটেনি। আচ্ছা সত্যি করে বলেন তো, আপনি কি সত্যিই লিটন না?
- না , আমি সত্যি করেই বলছি আমি লিটন না।
- কসম করে বলেন।
- হি...হি...কসম করে বলতে হবে? ঠিক আছে...কসম করেই বলছি আমি লিটন না।
- ও কে, ওকে।
- আচ্ছা আপনার হাইট কত?
- ফাইভ ফিট নাইন ইঞ্চ।
জাফর মনে মনে ভাবল হঠাৎ হাইট জিজ্ঞেস করলো কেন মিলা? হঠাৎ হাইট জিজ্ঞেস করার অনেক কারণই থাকতে পারে। বুঝতে হবে।
মিলা আবার জিজ্ঞেস করলো-
- আপনার গায়ের রঙ কি?
- শ্যামলা।
- আপনার বাবার নাম কি? আপনার মায়ের নাম কি? আপনি আবার বলেন তো আপনি কি করেন?
............ওরে বাপরে। হাজার হাজার প্রশ্ন করে জাফরকে একেবারে নাস্তা নাবুদ করে ফেলল মিলা। সব কথার ই ঠিক ঠাক মত উত্তর দিতে পারছে।কোন সমস্যা নাই, শুধু মাত্র “কি করেন” এই প্রশ্নটাতে এসে বার বার আটকে যাচ্ছে। হালকা মিথ্যা কথা বলতে হচ্ছে। আর এই মিথ্যা কথাটা বলতে যেয়ে এইটাকে কাভার দিতে আরো কিছু মিথ্যা কথা বলতে হচ্ছে। এবং এই জিনিসটা জাফর যে খুব নিপুনতার সাথে করতে পারছে না সেটা সে খুব বুঝতে পারছে। বরং মিথ্যা কথাটা বলতে বলতে ভিতরে ভিতরে কেমনজানি একটা খারাপ বোধ হচ্ছে। মিথ্যাকথা ঠিক ঠাক মত কন্টিনিঊ করতে নাপারলে যেমনটা হয় আর কি।
তো একপর্যায়ে বলেই ফেলল জাফর-
- আচ্ছা আপনি কি আর্মি অফিসার খুব অপছন্দ করেন?
- আর্মি? আমার দুই চোক্ষের বিষ। আমি ওদেরকে দুই চোক্ষে দেখতে পারিনা। কেন বলেন তো?
- না মানে, এমনি। (বেচারা জাফরের গলা শুকিয়ে গেছে)
অবশ্য লুকিয়েই বা কি লাভ। আজ নয় তো কাল জানাতেই যখন হবে তখন খালি খালি উলটা পালটা বলে লাভ নাই। এসপার নয় ওসপার। তাই সরাসরি বলে দিল
“আমি আর্মিতে আছি। ক্যাপ্টেন”।
- আরি? তাইইইইইইইইই নাকি? আপনি সত্যিই আর্মিতে?
- হ্যাঁহ্‌। আমি আর্মিতে। আচ্ছা এইবার বলেন তো আর্মি আপনার এত অপছন্দ কেন?
- আর্মিরা খুব খারাপ হয়। ছোটলোক। যা না তাই শো অফ করার চেষ্টা করে। প্রতারক।
- প্রতারক মানে?
- আমার একটা ফ্রেন্ড এর আফেয়ার ছিল এক আর্মি অফিসারের সাথে। ওয়ান্স আপন এ টাইম শী বিকেম প্রেগনেণ্ট। অথচ ঐ আর্মি অফিসার ওকে বিয়ে করেনি। এইটা নিয়ে কত তুলকালাম হয়ে গেছে। এর পর থেকে আর্মি অফিসারদেরকে আমি কুত্তার চেয়ে বেশি ঘৃণা করি।
- ওহ্‌ তাই?
- হ্যা তাই। কিন্তু আপনার কথা বার্তায় তো আপনাকে আর্মি অফিসার, আর্মি অফিসার মনে হচ্ছে না। আপনি কি সত্যিই আর্মি অফিসার নাকি ভুয়া মারতেছেন?
- নাহ্‌, সত্যিই দুর্ভাগ্যবশতঃ আমি আর্মি অফিসার।
- আচ্ছা আমি আজকে আপনার সাথে এত কথা বলছি কেন? ধুরো।
- কেন? আমার সাথে কথা বলতে কি আপনার খারাপ লাগছে? আমি নিশ্চই আপনাকে ডিস্টার্ব করছি না?
(কাট)
ফোন কেটে গেল। এবার সম্ভবতঃ মিলার ক্রেডিট শেষ।

(চলছে...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28814263 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28814263 2008-06-27 15:34:25
লাল শাড়ি- কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি -৬
তখন রাত প্রায় এগারোটা বাজে। মায়ের সাথে বসে গল্প করছে জাফর। হঠাৎ শোনে একটা মিসকল। আরে? এমন অড টাইমে কে মিসকল দিল? স্মরণ না তো? স্মরণ জাফরের ছোট ভাই। ঢাকা ভার্সিটিতেই পড়ে। বেচারার আর্মিতে জয়েন করার খুব শখ ছিল। ও আর্মিতে স্যুট করতো বেশি। কিন্তু ঐ যে মানুষ যা চায় তা পায় না। বাবা মা চেয়েছিলেন তাদের দুইছেলের একছেলে আর্মি অফিসার হবে আর একছেলে বাইরে পড়বে, ডক্টরেট করবে। আর্মি অফিসারের দায়টা বড় জনের কাঁধেই পড়েছে।

মিসকল লিস্ট ওপেন করল জাফর। ওমা!! একি? এ যে মিলা!!। মিলা মিসকল দিল? ব্যাপার ঠিক মাথায় ঢুকছে না। মা জিজ্ঞেস করলেন কে রে? জাফর কি বলবে ভেবে পেল না। ইতস্ততঃ করে সত্যিটাই বলে দিল। “ ঐ যে মা স্মরণের পছন্দ করা মেয়েটা। মিলা”
মা বললেন, কি নাম?
জাফর বলল, মিলা।
তা’পর বলল, দাঁড়াও দেখি কথা বলে। মিসকল দিল কেন?
এই বলে চাপ দিল সেন্ড বাটনে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল এবার মোটেও হাত পা কাঁপছে না। খুব স্বাভাবিক লাগছে। এর কারণ কি হতে পারে? মা পাশে আছে বলে? নাকি, মিসকলটা মিলার পক্ষ থেকে এসেছে বলে? মিলার কাছ থেকে মিসকল আসবে এতটা আসলে আশাতীত। যাই হোক, খারাপ লাগছে না। বরং বেশ রোমাঞ্চ হচ্ছে।
-হ্যালো (মিলার কন্ঠ)
- হ্যাঁ হ্যালো।(জাফর)
- কে বলছেন?
- আমি জাফর বলছি।
- এইটা কি আপনার নাম্বার?
- হ্যাঁ, এইটা আমার নাম্বার। কেন?
- দেখলাম বিকালে মিসকল এসেছিল।
- জাফরের হঠাৎ খেয়াল হল বিকালে একবার কল করেছিল সে। পুরোটা রিং হয়ে শেষ হয়ে গিয়েছিল। মিলা ধরেনি। তাই বলল, “ ও আচ্ছা হ্যাঁ। কল করেছিলাম। কেমন আছেন”?
- ভালো নাই। আচ্ছা আপনি কে বলেন তো? আপনি কি লিটন?
- লিটন? লিটন টা আবার কে?
- আপনি লিটন না?
- না লিটন না। লিটন কে আসলে? আপনার এক্স বয় ফ্রেন্ড?
- জ্বি না। লিটন একটা ইডিয়েট। বরিশাল মেডিকেলের। একবার সারারাত আমার সাথে ফোনে কথা বলেছে। আমার সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য। । শেষে ফোন রাখার সময় বলেছিল, আমাকে যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনি ফোন ব্যাক করবেন। আজ না হোক কাল, কাল নয়তো পরশু। আমি কখনই ফোন করিনি।
- ও আচ্ছা তাই নাকি?
- জ্বি তাই। কিন্তু আপনি কি সত্যিই লিটন না? আপনার গলার স্বর অবিকল লিটনের মত।
- আচ্ছা লিটনের গলার স্বর কেমন ছিল? ভালো , না খারাপ?
- সুন্দর। চমৎকার।
- ও তাই নাকি? তাইলে তো আমি প্রথম পরীক্ষায় বেশ পাশ করে গেলাম মনে হচ্ছে।
- মানে?
- না মানে, আপনার সাথে কথা বলার জন্য পরীক্ষা আর কি। আপনার সাথে কথা বলতে হলে কি কি যোগ্যতার প্রয়োজন তা তো জানিনা। এটলিস্ট আমার গলার স্বরটা আপনার পছন্দ হয়েছে জেনে ভালো লাগছে। এবং আশাকরছি আপনি কথা বলবেন। হঠাৎ করে ফোন রেখে দিবেন না।
- না ঠিক আছে ফোন রেখে দেব না। এখন বলেন আপনার পরিচয় কি?
- আমার পরিচয়, আমার নাম জাফর।
- কিসে পড়েন আপনি?
- পড়াশুনা করি না।
- তাইলে কি পড়াশুনা শেষ?
- না একবারে শেষ না। আবার শুরু করবো। করতে হবে আর কি।
- কি বলে না বলে। পরিষ্কার করে বলেন তো। এরকম হাফলেডিসের মত কথা বলেন কেন?
- জ্বী? হাফলেডিস? হাফলেডিস হতে যাব কেন আমি? দেখেন, কথাটা কিন্তু আমার খুব গায়ে লেগেছে।
- গায়ে লেগেছে, তো ভালো করে নিজের পরিচয় দেন না কেন?
- বলেন কি জানতে চান?
- আপনি থাকেন কোথায়। কোথায় থেকে ফোন করেছেন?
- ঢাকা।
- ঢাকার কোথায়?
-ধানমন্ডি।
-আপনি বললেন পড়তে যাবেন। কোথায়? কি?
- সরি, আমি ভুল বলেছি, আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, ফাইনাল ইয়ারে আছি। এম আই এস টি তে।
- এই বলেন পড়া শেষ এই বলেন পড়ি। আপনার কোনটা বিশ্বাস করবো?
- পড়ের টা ঠিক। এম এই এস টি তে ফাইনাল ইয়ারে পড়ি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং।
- এম আই এস টি কোথায়?
- ঢাকায়, মিরপুরে।
- মিরপুরে কোথায়?
- মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে।
- আচ্ছা আপনি কেন আমাকে ফোন করেন, সত্যি করে বলেন তো?
- আপনার সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য। আপনার সাথে কথা বলার জন্য। আসলে “ আপনার বন্ধু হতে চাই” টাইপের কথা বার্তা মনে হয় অনেক পুরানা হয়ে গেছে। তাই “ আপনার বন্ধু হতে চাই’ এই টাইপের কথা বার্তা বলছি না। বরং আসলেই যে কারণে ফোন করেছি সেটাই বললাম।
এভাবে পরিচয় পর্বের হিজিবিঝি হিজিবিঝি কিছু কথা চলতেই থাকলো দুজনের। যেন দুই স্বেত শুভ্র কপোত কপোতীর সকালের সোনালী রোদে পাখা মেলে আড়মোড়া ভাংগা। কখন যে সময় চলে গেছে অনেকক্ষন কেউ খেয়ালই করেনি। মা প্রথম দিকে জাফরের কথা কিছু শুনছিলেন, তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছেন টেরই পাননি। শেষের দিকে মিলা যখন বলছিল-
- সত্যি করে বলেন তো, আমার নাম্বার পেলেন কোথায়?
- আসলেই আমি জানিনা আপনার নাম্বার কই থেকে পেলাম।
(কাট)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28814061 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28814061 2008-06-26 22:49:50
লাল শাড়ি- কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি -৫ । আর একটা কারণ হল ওরা একটা মেয়ে দেখেছে যেটা ওর বাবার বন্ধুর মেয়ে। দেখতে খুবই সুন্দর, কিন্তু ওদের নাকি পছন্দ হয়নি। এত সুন্দর মেয়ে পছন্দ হয়নি দেখে মিলা আগেভাগেই না বলে দিয়েছে। মিলা মাঝে মাঝে ভাবে ছেলেরা আসলে কি যে চায় মেয়েদের মধ্যে। যেন এক একটা মেয়ে হবে ১০০ তে ১০০ পাওয়া অলরাউন্ডার আর টাকা পয়সা ওয়ালা। যত্তোসব। এই সব কারণে ছেলেদের প্রতি মনটাই উঠে গেছে।
মাঝে মাঝে সিহাবের কথা মনে হয়। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের দিকের কথা। একটা আস্ত ইতর। ঐ ইতরের সাথে কিভাবে যে সম্পর্ক হয়েছিল ভেবে পায়না আজো। মেয়েদের দেহই তার কাছে সব। প্রেম কি জিনিস ছেলেটা জানেইনি কোনদিন। এক সাথে কয়েকটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখা তার কাছে অনৈতিক কিছু না। ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েদেরকে আসলে পটানো বোধয় খুব সহজ। তখন চোখে থাকে একটা রঙ্গিন পর্দা। সবকিছুই ভালো লাগে। যে জিনিস খারাপ লাগার কথা সেটারও একটা পজিটিভ ব্যাখ্যা বের করে নেয় মন। সেই সিহাবের সাথে কাটা-কুটি হবার পর আর কোনদিন কোন ছেলের দিকে ওভাবে তাকানো হয়নি মিলার। ইচ্ছা যে করেনি তা না। হাজার হোক মানুষ তো। মন তো চায়ই। কিন্তু চাওয়া মাত্রই ক্ষত বিক্ষত মনের আর একদিক সেটাকে তুমুল বেগে ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে।
নিজেকে বরং ব্যাস্ত রেখেছে অন্য কোন কাজে। যেমন একবার ভর্তি হয়ে গেল কবিতা শেখার একটা ক্লাসে। বেশিদিন অবশ্য কন্টিনিউ করা হয়নি। এরপর যোগ দিল ভার্সিটির একটা নটক দলে। ছোট্ট একটা দল। অনেকেই মিলার মত শখের বশে এখানে আছে আবার অনেকেই খুব সিরিয়াস। কেউ কেউ জীবনে খুব বড় ধরনের সফলতার স্বপ্ন দেখে। এখানে টুকিটাকি কাজ ও করেছে মিলা, এবং খুব ভালো করেছে। অল্প দুইএকটা কাজের মাধ্যমেই সবার চোখ কেড়ে নিয়েছে। ওর সবচে বড় গুন হল – ও অসম্ভব ঠান্ডা স্বভাবের আর হেল্পিং মাইন্ডের। একারণে সবাই ওকে বেশ পছন্দ করে ফেলে। এরকম চলতে চলতে একদিন এটিএন এ একটা অনুষ্ঠানে উপস্থাপণার অফার আসলো। মিলা তো মহাখুশি। অনেক আগ্রহ নিয়ে কাজটা শুরু করে দিল। অনেক গুলো পর্ব করেছে ও এবং খুব ভালো পারফরমেন্স দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেও পালিয়ে আসতে হয়েছে। কারণটা সেই তথাকথিতই। প্রডিউসার বারবার বাসায় যেতে বলে। মিলা প্রথম প্রথম যায়নি। পাত্তা দেয়নি আরকি। পরে এমন জ্বালাতন শুরু করল যে শেষে একদিন গেল প্রডিউসারের বাসায়। ভেবেছিল বাসায় বোধয় বউ, ছেলেমেয়েরা থাকে। কিন্তু বাসায় যেয়ে দেখে কেউ নেই। প্রডিউসার একা। দরোজা খুলেই লোকটা একটা লোল ফেলা হাসি দিল। অবশ্য সাথে সাথে বোধয় কিছুটা বিরক্তও হয়েছে। কারণ সাথে গিয়েছিল তন্বী। দুজনই খুব অস্বস্তি বোধ করছিল পুরো সময়টা জুড়ে। কোন কাজের কথা কিছু হল না। এই নাটক ফাটকের হালচাল আর মিডিয়ায় টিকে থাকার জন্য কি কি কষ্ট করতে হয় না হয় এসবের উপর বোরিং কিছু আলোচনা ছাড়া আর কিছু না। শেষে বের হয়ে এল। দুজনেই জানে আসলে বাসায় আসতে বলার গহীন অর্থটা কি। একারণেই দুজন গিয়েছিল যেন বিপদের ভয় কম থাকে। এর পর থেকে আর ঐ প্রডিউসারের অনুষ্ঠান করতে যায়নি মিলা। ঐ ব্যাটার অনেক ক্ষতি নাকি হয়ে গেছে শুনেছিল পরে। হলে হোক। তার কি? মিলার ঐসব সহ্য হয় না।
তন্বী মিলার জানি দোস্ত। যাই করুক না কেন একসাথে। মিলার অনেক কথা তন্বী জানে আর তন্বীর অনেক কথা মিলা। মিলার আরো কিছু বান্ধবী আছে অনেক কাছের। ফারহানা তারমধ্যে সবচে বেশি।
সবকিছু মিলিয়ে দিনকাল ভালোই চলে যাচ্ছে। অবশ্য সেই সাথে বিয়ের চিন্তাটাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। হাজার হোক বাংগালী মেয়ে তো। এই সমাজে বিয়ে থা না করে তো আর থাকার রেওয়াজ নেই। তাই সারাদিনের শত কাজের মধ্যেও একটা ফাঁকা ফাঁকা ভাব বিরাজ করেই, মনের অজান্তে মন কাকে যেন খুঁজে ফেরে। এইতো সেদিন, মিলা আর তন্বী গিয়েছিল ক্যাপ্টেন’স ওয়ার্ল্ডে। নতুন হয়েছে রেস্টুরেন্টটা। বেশী কিছুনা। কফি-টফির অর্ডার দিল। তারপর শুরু হল নিজেদের গোপন খুনসুটি। আশপাশে তাকিয়ে দুজনই এত ডিমরালাইজড হল যে বলার মত না। এত সুন্দর সুন্দর স্মার্ট সব ছেলেগুলা এগুলা কি নিয়ে বসে আছে? ওরা ছেলে খুঁজে পায় না অথচ এই মেয়েগুলার কি এমন গুন যে এই ছেলেগুলার সাথে বসে বসে আছে? দেখে দুইজন খানিকখন হাসাহাসি করল বেশ। তারপর নিজেরা নিজেরা কিছু সুখদুঃখের কথা বলে বিল মিটিয়ে চলে এল। দুজনই বোধয় ভাবছিল মানুষ যা চায় তা পায় না, যা পায় তা চায় না। নিজেদের ভাগ্যে যে কি আছে আল্লাহ্‌ই জানে।
জাফর। স্মার্ট। দারুন ফিজিক্। ফাইভ ফিট নাইন ইঞ্চ। প্রতিষ্ঠিত। দেখতে বেশ সুশ্রী। শ্যামলা গায়ের রঙ্গে ওকে এক বাক্যে ভালোই বলা যায়। ওর একটা খারাপ দিক হল প্রচন্ড সিগারেট খায়। খেয়ে খেয়ে ঠোঁট কালো করে ফেলেছে। মাড়িও কালো হয়ে গেছে। হাসলে কালো ঠোঁট আর কালো মাড়ির জন্য ওর মায়াময় হাসিটা ইদানীং অনেকটা ভিলেন টাইপ হয়ে গেছে। তারপরো হাসলে ওকে আদর করতে ইচ্ছা করে। ওর হাসিটার জন্যই যেকোন মেয়ে যেকোন সময় সবকিছু ভুলে প্রেমে পড়ে যেতে পারে।

(চলছে.........)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28813492 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28813492 2008-06-25 11:36:00
লাল শাড়ি- কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি -৪ মিসকল না আসলে ঘুমিয়ে পড়ার দায়ে নিজেকে কি শাস্তি দিত সেটা যে বলাই বাহুল্য, এখন বরং মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে পড়ে ভালোই হয়েছে। মিলার কাছ থেকে মিসকল তো পাওয়া গেল। একটু দাম ও পাওয়া গেল, মানে পাত্তা পাওয়া গেল আর কি।
অবশেষে সবকিছু ভবিতব্যের উপর ছেড়ে দিয়ে টিপ দিল সেন্ড বাটনে। যা আছে কপালে। এসপার নয় ওসপার। কি আর করবে? একটু ঝারি-ঝুরি দিবে তো? আর কি? খেয়ে ফেলবে তো না।
ফোন বাজছে। ধরে না । ধরে না। হঠাৎ মিষ্টি বাঁজাখাই গলায় জিজ্ঞেস করল ওপার থেকে-
-আপনি কে বলেন তো?
- জ্বি, আমি জাফর।
- হ্যা জাফর তো বুঝলাম। কোন জাফর?কোথায় থাকেন ? কি করেন? আমি তো কোন জাফর কে চিনি না?
- জ্বি চেনার কথাও না। আমাদের কখনো পরিচয় হয়নি।
- আর আমার নাম্বার পেলেন কই থেকে?
- নাম্বারটা যে কই থেকে পেলাম ঠিক জানিনা।
- জানিনা মানে? নাম্বার কই থেকে পেলেন জানেননা- এইটা আবার কেমন হাফলেডিসের মত কথা ?
- আপনি কেন ফোন করছেন?
- আপনার সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য।
- আশ্চর্য্য, চিনি না জানি না হঠাৎ ফোন করে বলছেন...পরিচিত হওয়ার জন্য ফোন করেছি। আচ্ছা সত্যি করে বলেন তো আপনি কে?
- জ্বি আমি জাফর।
- আচ্ছা আপনি কি ঐ পাবলিক, যে ঐ দিন রাতে একটেল জয় থেকে ফোন করছিল?
জাফর এবার কেমনজানি একটা পিকুলিয়ার হাসি দিল। হাসি দিয়ে বলল- না...হ্‌ আমি সেই পাবলিক না।
- তাইলে কে?
- আমি বললাম তো আমি একদম অপরিচিত আপনার। আচ্ছা আমরা কি পরিচিত হতে পারি না? আপনি ঢাকা ভার্সিটিতে পড়েন না?
- হুমম্‌,
- সয়েল সাইন্সে...না না সরি জুয়োলোজিতে?
- হুমম্‌।
- আপনি ফাইনাল ইয়ারে না?
- হ্যাঁ......আপনি আমার সম্পর্কে এত কিছু জানলেন কেমন করে?
- এই জেনে গেলাম আরকি।
- হ্যাঁ বলেন...হ্যালভেশিয়া, বুমার্স এইসবের চেয়ার টেবিলে পাইছেন...বলেন...বলেন। সবাই তো এরকমই বলে।
- না না আমি ঐসবে আপনার নাম্বার বা তথ্য পাইনি।
- আচ্ছা আপনি প্রথম দিন ফোন করে কেন জানতে চাচ্ছিলেন- আমাকে কয়জন ডিস্টার্ব করে না করে?
- এমনি। ভাবছিলাম আমি কয় নাম্বার হতে পারি সেটা দেখে নিই। আমি তো শুধু পরিচিত হওয়ার জন্যই আপনার সাথে পরিচিত হতে চেয়েছিলাম। কোন গুরুতর কারণ তো ছিল না। তাই ......।।
- তাই না? আচ্ছা আপনি কে বলেন তো! আপনি কি আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউ?
- জ্বি না।
- আচ্ছা রাখি। (কাট্‌)
ফোন কেটে গেল।
আহ্‌ শান্তি। বরফ গলেছে অবশেষে। কি বলব কি বলব করে তো অনেক কথাই বলা হয়ে গেল। মাই গড্‌। নিজের দিকে খেয়াল করে দেখে জাফর ঘামে ভিজে গেছে। উত্তেজনায় কখন যে বিছানায় উঠে বসেছে খেয়ালই করেনি।
ওদিকে মিলার জরুরী একটা ফোন এসেছিল, তাই ফোন কেটে দিতে হল। তা নাহলে ব্যাটার আর একটু বিল তোলা যেত।। এর আগে ছিল ল্যাবে। ল্যাবের মধ্যেই আসছিল ব্যাটার ফোন। কেমন জানি চেনা চেনা কন্ঠ। কিন্তু ধরতে পারছে না। কে হতে পারে? শিওর হওয়ার জন্য সাড়ে পাঁচটায় কল করতে বলল। কিন্ত্ ব্যাটা দেখি কল করে না। শেষে থাকতে না পেরে নিজেই একটা মিসকল দিয়ে বসল। দেখে লাফাইতে লাফাইতে ফোন ব্যাক্‌। হা...হা...হায়রে পুরুষ জাতি।

(চলছে............)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28813123 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28813123 2008-06-24 11:22:37
লাল শাড়ি- কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি -৩
জাফর বেচারা এস এম এস পাঠিয়ে কিছুক্ষন বসে থাকলো। জানতই কোন রিপ্লাই আসবেনা। সুন্দরী মেয়েরা একটু দেমাগীই হয়। কি আর করা।আরো কিছুক্ষণ বসে থেকে থেকে ঘুমিয়ে পড়ল।
বিরক্তই বোধয় কিছুটা জাফর। এইসব মেয়েদের পিছে পিছে ঘোরা টাইপের কাজ একদম ভাল্লাগেনা। একদম রেডিমেড কাউকে পেলে ভালো হতো। এক্কেবারে র’ লেভেল থেকে শুরু করে নানান রকম স্টেজ পার হয়ে তারপর একটা সার্টেইন রিলেশনে আসার মত বিশাল ঝামেলার কাজ আর নাই। এই দুইদিনেই ভীষণ হতাশা টাইপের বোরিং লাগা শুরু হয়েছে। মাঝে মাঝে অবশ্য খুব রোমাঞ্চও হচ্ছে।
বোরিং হয়ে সে পরবর্তী তিনদিন আর কোন ফোন বা এস এম এস কিচ্ছুই করল না। ইনফ্যাক্ট করা হয়ে উঠল না। অফিসের কাজের চাপে এই তিনদিন বেচারীর ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা। কাজ থাকলেই আসলে উল্টা পালটা চিন্তা মাথায় কম আসে। কাজ না থাকলেই মনে হয় ইস্‌ এই সময় কেউ পাশে থাকলে কতই না ভালো হত। কত মজা করা যেত। কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকা যেত। আদর করা যেত। আরো কত কি! যেমনি ভাবা অমনি কাজ। তিনদিন পরে ফোনবুক খোঁজা শুরু। এম দিয়ে সার্চ দিতেই মিলার নাম্বার চলে এল। বিছানায় আয়েশ করে শুয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে সেন্ড বাটনে চাপ দিল জাফর। রিং হচ্ছে। হঠাৎ কেমন জানি অসহায় লাগছে। মনে হচ্ছে ফোনটা না করলেই ভালো হত। ধুর। কি বলবে? বলার ও তো কিছু নাই। শীট্‌। কেন যে ফোনটা করলাম। আবার কেটেও দেয়া যায় না। মেয়েদেরকে মিসকল দেয়াটা কেমন দেখায়?
এরকম ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ সুমধুর বাঁজখাই গলায় ওপাশ থেকে বলে উঠল – হ্যালো, স্লামালিকুম।
জাফর সাথে সাথে বলে উঠল- “হ্যালো স্লামালিকুম”। জাফরের ওয়ালাইকুমসালাম বলার অভ্যেস নাই। তাই থতমত খেয়ে সালামের উত্তরে সালাম ই বের হয়ে এল।
ওপাশ থেকে বলল- হ্যাঁ, কে বলছেন?
- জ্বি, আমি জাফর বলছি।
- আপনি আমাকে সাড়ে পাঁচটার দিকে ফোন করেন। (কাট্‌)
ফোন কেটে গেল। জাফর মোটামুটি হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। উত্তরে অবশ্য বলল-“জ্বি আচ্ছা, জ্বি আচ্ছা’। কিন্তু সেটা বোধয় অপর পাশে আর শোনা গেল না। তার আগেই ফোন কাট হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কি? জাফরের আনন্দ যেন আর ধরে না। হাউ কাম? আমাকে ফোন করতে বলল? ও মাই গড ভাবাই যায় না। ভাবাই যায় না। ইটস ঠু মাচ! তখন বিকাল পাঁচটা বাজে। আর আধ-ঘন্টা। একটা একটা করে সময় পার হচ্চে, যেন কাটতেই চায় না। কিন্তু আধ ঘন্টা পরে কি বলবে জাফর। মহা চিন্তায় পরে গেল বেচারা। চিন্তা করতে করতে বেচারীর পোড়া কপাল, কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল টেরই পেল না।

(চলছিল.........।)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28812487 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28812487 2008-06-22 15:56:44
লাল শাড়ি- কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি -২ Ami ashole aponar sathe porichito hoar jonno phn korechilam. Kintu phn korte jeye vablam erokom utko jhamela nishochoy apnar onek pohate hoy. Tai borong vablam jigges kori, erokom distrb hoar hart a kirokom apanar. Plz kichu mone korben na….zafor.
লিখে কয়েকবার পড়ল। চোখ বন্ধ করে আইডিয়া করার চেষ্টা করল এই এসএম এস পাওয়ার পর কি হতে পারে। মিলা কি ভাবতে পারে। এস এম এসের উত্তর দিবে কি? নাআআহ্‌। অসম্ভব। সে আশা করা আর চাঁন্দের দেশে যাওয়া একই কথা। যাই হোক...রয়ে সয়ে টিপে টুপে আস্তে ধীরে অবশেষে এসএমএস টা পাঠিয়েই দিল মিলার নাম্বারে। কিন্তু হায়! ডেলিভারি রিপোর্ট আসলো “not delivered”. কি মুশকিল। এতক্ষন ধরে এত যত্ন করে একটা এসএমএস লিখে পাঠালো(!)...সেটা আবার গেলো না। কি আর করা। আবার পাঠাতে হবে এবং তাই করল। ওমা!! একি? আবার ওয়ারিদ থেকে মেসেজ আসলো “not delivered”. ধুরো.........!! সুতরাং আবার পাঠালো। আবারো সেম। কি সর্বনাশ। মেসেজ যাচ্ছে না কেন? কি হল? অনেক ক্ষণ ভাবার পর জাফর বেচারা আবার একই মেসেজ পাঠায়......একই নাম্বারে। এভাবে বারে বারে পাঁচ পাঁচটা বার পাঠানো হয়ে গেছে একই মেসেজ। প্রত্যেকবারই “failed to deliver”.
শেষে ভাবল ধুর, আর পাঠাবো না। যা ভাবে ভাবুকগ্‌গা।
এদিকে মিলার কি অবস্থা বলাই বাহুল্য। রাগে রাগে মাথার চান্দি গরম হয়ে যাচ্ছে একটু পরপর। মাথামোটাটা একই মেসেজ বারবার পাঠাচ্ছে কেন? পাঁচ পাঁচ বার একই মেসেজ কেউ পাঠায়? অন্য কিছু পাঠা। এই বেটা কি পাগল? মেন্টালি সিক? ইডিয়েটটা।

হা...হা...কি অদ্ভুতুরে কান্ড। জাফরের কাছে এলো নট ডেলিভারড রিপোর্ট , ওদিকে মিলা তার প্রত্যেকবারই মেসেজ রিসিভ করেছে । এইটা কি ভাই?

(চলছে......)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28799559 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28799559 2008-05-18 23:17:01
লাল শাড়ি- কাকতাড়ুয়া গেঞ্জি- ১ - হ্যালো, অলিকুমস্লাম।কে বলছেন?
- জ্বি আমি জাফর বলছি।
- জাফর?! কোন জাফর?
- জ্বি...ইয়ে...না...মানে....আমাদেরে আগে কখনো পরিচয় হয়নি।
- কি চান ? নাম্বার কোথায় পেয়েছেন?
- না মানে কিছু চাই না। ইনফ্যাক্ট আপনার সাথে পরিচিত হওয়ার জন্যই ফোন করেছি।
- আপনি কোন জাফর? কোথায় থাকেন? কি করেন?
- আচ্ছা একটা প্রশ্ন করতে চাই।
- বলেন।
- গত একমাসে আপনাকে এই আমার মত কতজন উটকো লোক ফোন করে ডিস্টার্ব করেছে? মানে ডিস্টার্বের হারটা কি রকম?
- আশ্চর্য্য? এইটা আবার কি ধরনের কথা?
- না মানে এমনি জানতে চাচ্ছিলাম।
- না আপনি কেন জানতে চাবেন? আপনাকে তো আমি চিনি না। আপনাকে এইসব কেন বলবো? যত্তসব। (টাস্‌)

ফোন রেখে দিল মিলা।

জাফর কিছুটা অপ্রস্তুত। আবার কিছুটা স্বাভাবিকও, কেননা সে জানতোই সুন্দরী মেয়েদেরকে ফোনে অনেকেই ডিস্টার্ব করে। আর ডিস্টার্ব করে বলে ওদের কাছ থেকে এরকম ঝারি-টারি খাওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপারই। সুতরাং এত মন খারাপ করার কিছু নাই। যদিও মনটা বারবারই খারাপ হচ্ছিল। ফোনটা করার আগে মনে হচ্ছিল যেন হার্ট-বিটটা বেড়ে গেছে, হাত কাঁপছে, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। তারপরও সাহস করে যে সে ফোনটা অবশেষে করতেই পেরেছে এবং কথাও বলেছে.........এটা তার জীবনের এক বিশাল সফলতাই বলতে হবে।ফোন করার ঠিক আগ মুহুর্তে মনে হল নাহ্‌ ফোন করাটা ঠিক হবে না। ভীষণ হ্যাংলামি একটা কাজ। তারপর আবার কিছুক্ষণ ফোনটা নাড়চাড় করে হঠাৎ কি মনে হতেই ফোনটা ধরে মেয়েটার নাম্বারে রিং দেয়া শুরু করল। ভাবছিল বোধয়- ঝাড়ি টারি তো মারবেই...বেটার জিজ্ঞেস করি এরকম ডিস্টার্বিং এর হারটা কিরকম? হা...হা...। মেয়েটা যে ফোন রেখে দিয়েছে...তাতে বরং ও ভীষণ বাঁচা বেচে গেছে...তা না হলে আর কিছু তো বলার ছিল না ঐ মুহুর্তে। মাথায় ই কাজ করছিল না। কোন কথাই যে মাথায় আসছিল না। বেচারা।

এদিকে মিলা ভাবছে, আশ্চর্য তো? কি উদ্ভট উদ্ভট লোক যে পৃথিবীতে আছে। কথা নাই বার্তা নাই......হঠাৎ এক ব্যাটা ফোন করে জানতে চায়- আমি গত একমাসে কতবার ডিস্টার্বড হয়েছি। সেটা দিয়ে তোর কি দরকার বাবা? .........


(চলবে......?)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28798996 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28798996 2008-05-17 16:56:59
উত্তরাধিকার কে প্রথম পাতায় আসতে দেয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ Click This Link

ব্লগে যখন প্রথম আসি তখন নিক নিয়ে চিন্তা করছিলাম। কি নিক নিব না নিব। ‘কালপুরুষ’ নিকটা আমার খুব পছন্দের ছিল। কিন্তু এসে দেখি সেই নিকে একজন খুব জনপ্রিয় ব্লগার ব্লগিং করেন। তাই বাধ্য হয়ে ‘ কালবেলা’ নিক নিয়ে ব্লগিং শুরু করলাম। তো মাঝে মাঝে ই মনে হত উত্তরাধিকার হিসাবেও নিশ্চই কেউ আসবে। হা...হা...। কিন্তু নাহ্‌ কেউ আসেনি। একদিন নিজেই উত্তরাধিকার নিকটা রেজিস্ট্রেশন করে রেখে দিলাম। ভাবলাম, পছন্দের কাউকে গিফট করব। ( কি অদ্ভুত গিফট্‌ )। তো একদিন আমার খুব প্রিয় একজন বলল ‘ আমি উত্তরাধিকার নিক নিয়ে লিখব’। আমি বললাম লিখ। কিন্তু কি মনে করে জানি আবার সে নিকটা নিল না। আমার কাছে জমা রেখে দিল। বলল যখন লাগবে আমার কাছ থেকে নিয়ে নিবে। এর মধ্যে অনেক দিন চলে গেছে। হঠাৎ দেখা হল ‘ এখনকার উত্তরাধিকারের’ সাথে। উনি আর আমি অনেক আগে থেকেই পরিচিত। কিন্তু কখনো জানিনি যে উনি লেখা লেখি ভালোবাসেন। ওনার কবিতা আবৃত্তি অবশ্য শুনেছি। যাই হোক এবার ওনাকে পেয়ে যখন জানতে পারলাম উনি কিছু লেখা লিখছেন এবং লিখবেন তখন আমি বললাম আপনি ব্লগিং করেন তাহলে। সামহয়ারইনের নাম শুনেছেন? উনি বললেন না তো, শুনিনি। আমি তখন তাকে সামহয়ার ইন সম্পর্কে বিশাল একটা লেকচার ঝাড়লাম। (সামইনের কেউ সেটা দেখলে নির্ঘাত আমাকে তখন তখন ই সেলস এন্ড এ্যাড ব্রাঞ্চে চাকরি দিয়ে দিত-নিশ্চিত)। যাই হোক উনি বললেন আমি তো ‘ব্লগ’ কথাটা এই প্রথম শুনলাম। কি করে শুরু করব। তখন হঠাৎ করে আমার মনে পড়ল ‘উত্তরাধিকার ‘ নামে একটা নিক আছে। আর এই কথা ওনার সাথে যেদিন হচ্ছিল তার একদিন কি দুদিন পরেই আমার দেশে আসার তারিখ। তাড়াহুড়া করে আর কিছু করার নাই.........দেখে উনাকে সেই নিকটাই দিয়ে দিলাম। আর বললা লিখতে থাকেন .....। কেমন লাগে জানাবেন।
আমি দেশে চলে আসলাম। দেশে আসার পর আর ব্লগের মুখটাও দেখতে পারিনি। আজ খুলে বসলাম। দেখি ওমা! এত্তগুলা লেখা লিখছে সে.........খুব ভালো ও লিখেছে......।। দেখে খুব ভালো লাগল। কিন্তু একটু মন খারাপ হল প্রথম পাতায় এখনো একসেস পায়নি দেখে। মনে মনে ভাবলাম......ইস্‌স্‌ এত সুন্দর কিছু লেখা সবার আড়ালে আড়ালেই রয়ে গেল।
ভাবলাম কর্তৃক্ষকে একটু জানাই। তাই এই লেখা।
( আরো ভালো করে বুঝিয়ে সুঝিয়ে লেখার ইচ্ছে ছিল......।।কিন্তু সময় পেলাম না।) কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ “ উত্তরাধিকার” কে প্রথম পাতায় আসতে দিন , যাতে তিনি আরো উতসাহ পান এবং আমাদেরকে আরো বেশি বেশি লেখা উপহার দিতে পারেন। আমার জানা মতে উনি এখন সেই সময়টা পার করছেন যখন তিনি কিছু একটু লিখতে পারবেন। এই সময়টা চলে গেলে এই আমারই মত হয়ত পক্ষে বা মাসেও একবার ব্লগে বসতে পারবেন কিনা কে জানে। তাই বলছিলাম .........সময় থাকতেই তার কাছ থেকে যা পাওয়া যায় তাই ই সবাই মিলে নিয়ে নেই না কেন ভাই???
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28795646 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28795646 2008-05-08 23:26:04
দু’টি অণুগল্প / কালবেলা ১৬ কোটি বাংগালীর হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাংগালী করে মানুষ করোনি।


সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। পৃথিবীর ছায়াপথে অগুনতি নক্ষত্র জুটির মতই জেগে আছে আকাশ আর নীলু নামের এক জুটি নক্ষত্র । ওদের একজনের নিঃশ্বাস পড়ছে আর একজনের উপর। আসন্ন ঝড়ের অপেক্ষায় একজন আর একজনের চোখে চোখ ফেলে তাকিয়ে ।
হঠাৎ নীলু বললঃ আচ্ছা আমরা বাচ্চা নিব কবে?
আকাশঃ পি এচডি টা একবারে শেষই করে নিই, তারপর দেখা যাবে। একটু পর আবার বলল, আচ্ছা না নিলে কেমন হয়?
নীলুঃ কেন?
আকাশঃ ভয় লাগে।
নীলুঃ কিসের ভয়?
আকাশঃ যদি মানুষ করতে না পারি?

।।২।।
আকাশ-নীলু
হানিমুনে গেছে আকাশ-নীলু নক্ষত্র জুটি। সাগর পারে নীলুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়েছে আকাশ। ঘুমিয়েই পড়ল নাকি? নীলুর নরম নরম শাড়ির ছোঁয়াটাই অদ্ভুত, কি যে মায়া জড়িয়ে থাকে সবসময়!!
নীলু বসেছে গাছে হেলান দিয়ে। সাগরের বাতাসে ওর চুল উড়ছে। সাগরের ওপার থেকে হঠাৎ দৃষ্টি ফেরালে দেখতে পেল, আকাশ ঘুমিয়ে পড়েছে।
নীলুঃ এই, কি ব্যাপার? ঘুমাচ্ছো কেন?
আকাশঃ আহ ডিস্টার্ব করোনা।ঘুমাইনি। একটু পর আবার বলল, আচ্ছা তুমি কি ওই ডায়ালগটা শুনেছ?
নীলুঃ কোনটা?
আকাশঃ যখন ওয়াইফ ঘুমাচ্ছে তখন বুঝতে হবে সে ডজ মারতেছে মানে ফাঁকি দিচ্ছে, আর যখন হাজবেন্ড ঘুমাচ্ছে, তখন ধরে নিতে হবে সে “ চিন্তা” করছে। মানে হি ইজ থিংকিং। বুঝেছেন ম্যাডাম?
নীলু –“ওওও মাআআ” বলে চোখ পাকিয়ে, আকাশের থুত্নীটা ধরে জোড়ে জোড়ে নাড়াতে নাড়াতে বলল, ওরে শয়তান, তাই? উম্‌(!)...তাই(!)...না...?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28789339 http://www.somewhereinblog.net/blog/kalbelablog/28789339 2008-04-19 18:50:18
অণুগল্পঃ ধরা কারে বলে? ছি্লেন এক বিদগ্ধ কবি। দীর্ঘ পাঁচ-পাঁচটি বছর সাধনা করে অভিধান সদৃশ একটি পান্ডুলিপি রচনা করলেন । কিন্তু হায়!! ঠিক, আরো পাঁচটি বছর ঘোরাঘুরি করেও তিনি সে পান্ডুলিপি কোথাও প্রকাশ করেতে পারলেন না। মুলতঃ কেউই তার পান্ডুলিপি পড়ে দেখে না। কাউকে জোর করে পড়ে শোনাতে গেলেও দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। একবার তো এক প্রকাশক তাকে দারোয়ান দিয়ে অফিস থেকে বেরই করে দিল! অতএব, এ কাব্য দিয়ে তার আর খ্যাতি অর্জন তো দুরের কথা, কারো দ্বারা একবারের জন্য হলেও পূর্ণাংগ পাঠ পর্যন্ত হল না!! প্রবল অভিমান হল কবির।
একদিন সকালে প্রবল রাগের মাথায়, পান্ডুলিপিখানা ঝোলায় ফেলে, হাতে এক গোছা কাছি নিয়ে কবি বের হয়ে পড়লেন। চোখে উদ্ভ্রান্ত ভাব...মনে ছোট্ট এবং একটি মাত্র আশা। সেই আশা নিয়ে তিনি খুঁজতে বেড় হলেন। হাঁটছেন তো হাঁটছেন। হাঁটছেন আর খুঁজছেন। বাজারে, পার্কে, মসজিদে, মন্দীরে সবজায়গায়। কি যেন খুঁজছেন। কাকে যেন খুঁজছেন। এভাবে পরদিন এবং দিনের পর দিন খুঁজেই চললেন। হঠাৎ ই একদিন খুঁজতে খুঁজতে একটা পার্কের গাছের তলায় এসে কাকে যেন দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন কবি! ভিতরে ভিতরে প্রবল উত্তেজনা অনুভব করছেন। যাকে তিনি খুঁজছেন ঠিক পেয়ে গেছেন। একটু রোগা-পটকা, আউলা-ঝাউলা ধরনের। হ্যাঁ, ঠিক আছে। একধরনের ক্রুর আনন্দে তার চোখের মনি চকচক করছে। মনে মনে একটা অট্টহাসি দিয়ে, এদিক ওদিক তাকিয়ে, ধীর ও সতর্ক পদক্ষেপে শিকারের দিকে আগ্রসর হলেন। কাঁধের ঝোলা থেকে মুহুর্তে বের করে ফেললেন কাছি। শিকারের ঠিক পিছন দিক থেকে আক্রমন রচনা করবেন বলে ঠিক করলেন।