বৃষ্টি ভেজা বিকেল
বললে, “বৃষ্টি থামলেই আসবো”।
সামনে ফুটপাত, একটু এগুলেই আমার ঘর।
ইট বিছানো পথ তাতে সামান্য জল।
নোংরা জলে পা ফেলে ফেলে তুমি আসবে।
সেন্ডেল ভিজে চুপসে যাবে- ভিজবে শাড়ীর পাড়।
এসেই বলবে- “ধেৎ! এই বৃষ্টিতে কেউ বেরোয়?
বেশীক্ষণ বসতে পারবোনা, মা ওদিকে ভাববে”।
নড়বড়ে চেয়ারটা দেখিয়ে বলবো, “বসো”।
বসবে না। আলনা থেকে গামছাটা তুলে মাথা মুছবে।
দেয়ালে টাঙ্গানো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াবে,
একটু পর পর ঘাড় ফিরিয়ে আমাকে দেখবে।
অথচ আয়নায় দৃষ্টি বিনিময় আমার কিন্তু বেশ লাগে!
চুল বাঁধা শেষ হলে, চেয়ারটা টেনে বসবে।
গায়ে তখনো বৃষ্টির ছিটে ফৌঁটা জল-
শাড়ীর ভেজা আঁচল, ঝেড়ে নেবে অলখে।
একটু পর উঠে বলবে- “চা করে আনি”।
আমি হাত উঁচিয়ে বলবো- “ঐ টিনটায় টোস্ট আর মুড়ি আছে”।
আমার শরীরে তখন রাজ্যের আলসেমী,
বিছানায় আধশোয়া- হাতে সুনীলের বই।
তোমাকে শোনাবো বলে একা একা দারুন উচ্ছাসে
কবিতাগুলো আউড়ে যাচ্ছি। এমনটাই করি।
বৃষ্টিভেজা বিকেল তেমন নতুন কিছু নয়।
বাইরে বোধহয় বৃষ্টি থেমে গেছে।
বিছানার পাশেই খোলা জানালা,
আকাশে তখনো মেঘের অস্থির ছুটোছুটি।
দরজাটা ভেজানো। ঘরে অন্ধকার নেমে আসছে।
গভীর আগ্রহে কান পেতে আছি-
কেউ এসে কড়া নাড়বে। নাহ্ কোন সাড়া-শব্দ নেই।
সন্ধ্যা হয়ে এলো- বিকেলটাও কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল।
হাতে সুনীলের বই- চোখে ঝাপসা দেখছি।
শেষবারের মতো পড়তে চেষ্টা করলাম, “কেউ কথা রাখেনি”।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

