কলকাতায় ধরা পড়া বাংলাদেশের তিন সন্ত্রাসীকে ফেরত দিয়েছে ভারত। গতকাল রোববার দুপুরে যশোরের বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় সীমান্ত রী বাহিনী (বিএসএফ) এদের ফেরত পাঠানোর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার করা তিন সন্ত্রাসী হলো নাইমুল হাসান ওরফে হাবিবুর রহমান তাজ (৩০), সোহেল ইব্রাহিম (৩৬) ও বিপ্লব রহমান ওরফে লম্বু সেলিম (৩৫)। গতকাল রাতেই সিআইডি তাদের ঢাকায় নিয়ে আসে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হস্তান্তরের পর সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আরেফের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল ওই সন্ত্রাসীদের ঢাকায় নিয়ে আসেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আরেফ বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে তিন সন্ত্রাসী কলকাতার সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়। কলকাতায় বেআইনিভাবে অবস্থানের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলায় তাদের এক মাস সাজাও হয়।
সিআইডি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ইণ্টারপোলের মাধ্যমে ভারতে সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন সন্ত্রাসীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত হয়। গত শনিবার সন্ত্রাসীদের আনতে বেনাপোল বন্দরে যান সিআইডির কর্মকর্তারা।
সন্ত্রাসী তাজ কলকাতায় অবস্থানকালে নিজেকে নাইমুল হাসান, ইব্রাহিম নিজেকে সোহেল এবং লম্বু সেলিম নিজেকে বিপ্লব রহমান বলে পরিচয় দিত।
সন্ত্রাসী তাজ কাফরুলের কাফরুলের শীর্ষ সন্ত্রাসী। সে বহুল আলোচিত কলেজ ছাত্র মমিন হত্যা মামলার আসামি। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মমিন খুন হওয়ার কিছুদিনের মাথায় এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মতিঝিল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের পর তাজ তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ভারতে আÍগোপন করে। তবে সুযোগ বুঝে মাঝে মধ্যে তারা দেশে আসত।
সরকার ঘোষিত সন্ত্রাসী শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের প্রতিপরে একটি গ্র“পের দ্বিতীয় প্রধান তাজ। মিরপুর ও কাফরুলের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কালা জাহাঙ্গীরের সহযোগী কিলার আব্বাসের সঙ্গে তার বহুবার গুলি বিনিময় হয়েছে। কিলার আব্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাজ গোটা মিরপুর ও কাফরুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বাস, ট্রাক, টেম্পোস্ট্যান্ড, তৈরি পোশাক কারখানা, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাজ ও তার সহযোগী ইব্রাহিম ও লম্বু সেলিমকে নিয়ে চাঁদাবাজি করত। ধরা পরা সন্ত্রাসীরা পেশাদার খুনিও। টাকার বিনিময়ে তারা মানুষ খুন করত। সন্ত্রাসী লম্বু সেলিম মহাখালী ও গুলশান এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত। তার বিরুদ্ধে গুলশান ও উত্তরা থানায় অন্তত ২০ টি মামলা আছে।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, তৈরি পোশাক কারখানা থেকে তাজ বাহিনী গামেন্টসের ঝুট লুটে নিতে গিয়ে একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটায়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা তাজ বাহিনীকে দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাতো।
কাফরুল থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী তাজের বিরুদ্ধে মিরপুর, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট ও টঙ্গী থানায় হত্যা চাঁদাবাজিসহ ১৬ টি মামলা আছে। সে ৫৫৪, উত্তর ইব্রাহিমপুরে থাকত। তার পিতার নাম মফিজুল হক।
সন্ত্রাসী ইব্রাহিম মিরপুরের ওয়ার্ড কমিশনার বিএনপি নেতা নিউটন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ মিরপুর, কাফরুল তেজগাঁও ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১৮টি মামলা আছে। তার বতর্মান ঠিকানা ভাসানটেক ২ নম্বর বস্তি। তার পিতার নাম আবু তাহের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



