আমার প্রিয় পোস্ট
- মুন্নাভাই - সাগর চক্রবতী
- ম্যান ইউ/বার্সেলোনা - আসেন হাত তুলেন দেখি
- নাফিস ইফতেখার
- পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব ২ : আতর পাহাড়ের জন্ম ও বিলয় কথা - ফারুক ওয়াসিফ
- পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব: যা ঘটছে ও যা ঘটবে ১ - ফারুক ওয়াসিফ
- সামহোয়্যারইনের জন্য আমার করা নতুন ডিজাইন - আদনান শামীম
- পাকমন পেয়ার - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি.... - অমি রহমান পিয়াল
- বেনজির হত্যা ও কারণ - আমার মতামত - দিগন্ত
- 3 লক্ষ না 30 লক্ষ - তীর্থক
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- চোরের স্রষ্টার পক্ষ থেকে কৈফিয়ত - চোর
- আফ্রিদির তান্ডবে শ্রীলংকা ধরাশায়ী - আশরাফ রহমান
হায়রে গাড়ি ..
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩৫
পাথর নীলা যেমন অনেকের সহ্য হয়না, তেমনি শুনতাম ইলেকট্রনিক্স জিনিসও নাকি সবার সয় না। কেউ কেউ টিভি কিনলে নাকি দুই মাসেই সেটার পিকচার টিউব জ্বলে যায় আবার এমনও শোনা যায় কারো কারো টিভি ২০ বছর ধরে চলছে। ফ্রিজ কেউ কেউ দাদার আমল থেকেই চালাচ্ছে, কারো কারো ফ্রিজ নাকি আবার কিনার ছয় মাসের মধ্যেই ঠান্ডার বদলে গরম হতে থাকে। কারো কারো কমপিউটারের মাদারবোর্ড ক্র্যাশ করে, ভাইরাসের কারণে বার বার ফরম্যাট করতে হয়।
এক মোবাইল ছাড়া (তাও সাধারণ মানের) কোনোরূপ যন্ত্র আমি সাথে নিয়ে ঘুরি না। কোনো আইপড কিংবা অন্য কোনো সঙ্গীত শোনার যন্ত্রও আমার নাই। শখের মধ্যে আছে একটা গাড়ি। তো এই গাড়িই হলো আমার যন্ত্রণা। আমাকে ঠিকমতো আরাম দিতে পারলো না আজ পর্যন্ত।
বাংলাদেশে যখন গাড়ি চালাতাম তখন যা যা যন্ত্রণা পেয়েছি
* জাহাঙ্গীরনগর থেকে আসার সময় গাড়ির ফ্যানবেল্ট ছিড়ে যাওয়া
* মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ির বাম্পার বাড়ি খাওয়া
* কাওরান বাজারে আন্ডারপাসের ঠিক সামনে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া। বাজারশুদ্ধ লোকের সামনে গাড়ি ঠেলা।
* মারুতি চালাতাম বলে বাস কন্ডাক্টররা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলত, ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক ...
* সামনের বামপাশের দরজার আয়না চিরদিনের মতো ফিক্সড হয়ে যাওয়া
লন্ডন এসে খান তিনেক গাড়ি পরিবর্তন করেছি। সর্বশেষ গাড়িটা চমৎকার চলছে। তবে যন্ত্রণার শেষ নেই। লন্ডনের যন্ত্রণাগুলো হলো
* দুইবার থিওরি আর পঞ্চমবার প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স পাওয়া
* নতুন ড্রাইভার বলে উচ্চমূল্যের ইন্স্যুরেন্স (বাংলাদেশে এই হ্যাপাটা ছিল না)
* গাড়ি কেনার তৃতীয় দিনে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে গাড়ি উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া। ৪০০ পাউন্ড দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে আনা। (বাই দ্য প্রথম গাড়িটা কিনেছিলাম ৬০০ পাউন্ড দিয়ে)
* প্রথমবার MOT (ফিটনেস) করাতে গিয়ে ৩০০ পাউন্ডে যন্ত্রাংশ সংযোজন
* মাসখানেক পর পুনরায় অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে গাড়ি ক্ল্যাম্পড। এবার ১০০ পাউন্ডে গাড়ি উদ্ধার
* প্রচুর মদ্যপান করে গাড়ি চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা খাওয়া। পুলিশের মেশিন দিয়ে এ্যালকোহলের মাত্রা পরীক্ষা। ভাগ্যক্রমে আর হালকা চালাকির কারণে সেবার পরিত্রাণ পাওয়া (সে গল্প পরে করা যাবে)
* রাস্তায় গাড়ির স্টার্ট প্রায়ই বন্ধ হয়ে যাওয়া
* সর্বশেষ হিথরো থেকে আসার সময় গাড়ির তলা ফুটো হয়ে ইঞ্জিন অয়েল নাই হয়ে যাওয়া
* গাড়ি স্ক্র্যাপ (ভেঙ্গে ফেলা) করা
* গাড়ি ছাড়া ইন্স্যুরেন্সের বাকি ৬ মাস ৯০ পাউন্ড করে পরিশোধ করে যাওয়া।
* এই পর্যন্ত মোট ৪ বার স্পিডিংয়ের কারণে পুলিশের জেরার সম্মুখীন হওয়া।
* স্পিডিংয়ের জন্য ক্যামেরা ফ্ল্যাশ খাওয়া। ফলাফল ৬০ পাউন্ড এবং ৩ পয়েন্ট জরিমানা। হাতে আছে আর মাত্র ৩ পয়েন্ট। এটাও খরচ হয়ে গেলে সর্বনিম্ন ২ বছরের লাইসেন্স বাতিল।
* সর্বশেষ যন্ত্রণা গাড়ির সামনে পিছনে দুইদিকের নম্বর প্লেট চুরি হওয়া। ২৫ পাউন্ড দিয়ে নতুন নম্বর প্লেট সংযোজন।
এতোসব যন্ত্রণার পরে এখন 'লরির নিচে গাড়িসহ ঢুকে যাওয়া' ছাড়া আর কিছু বোধহয় বাকি নাই। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার ২০০৯ লন্ডন থেকে ম্যানচেস্টার রওয়ানা দিচ্ছি। ৪/৫ ঘন্টার জার্নি। জানি না কপালে কি আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ইরতেজা বলেছেন:
ভালো লাগল। আইপড় কোন দিন ব্যাবহার করেন নি। কিন্তু একবার ব্যাবহার করলে আর ছাড়তে পারবেন না। ম্যানচেস্টার এর আমাদের রাশু মিয়া থাকে। দেখা হবে নাকি? লেখক বলেছেন: ফোন করব রাশেদকে। যদি ফ্রি থাকে সে তাহলে দেখা করব।
লেখক বলেছেন: বাদ দিলেও দিতারি।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
গাড়ী নাই তাই ঝামেলাও নাই!
লেখক বলেছেন: হক কথা।
স্বজন বলেছেন:
মারুতি চালাতাম বলে বাস কন্ডাক্টররা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলত, ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক ... হা হা হা হালেখক বলেছেন: আমি তখন না শোনার ভান করতাম।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
আপনি অবৈধ পার্কিং করেন কেন? দোষ তো দেখছি গাড়ির না।
লেখক বলেছেন: গাড়ি সংক্রান্ত দোষ আর কি। অবৈধ পার্কিং তো জাইনা করছিলাম। এই ৫/১০ মিনিটে কি হইব ভাইবা। কাম ওই সময়েই হইছে।
এস্কিমো বলেছেন:
মোট দাম পড়লো ১২৮৫ পাউন্ড। প্রথমই যদি ১০০০ পাউন্ড দিয়ে একটা গাড়ী কিনতেন তাইলে ভাল হতো। সুযোগ পেয়ে একটু ফ্রী পরামর্শ দিলাম
লেখক বলেছেন: না বস। এগুলা সব গাড়ি মিলিয়ে লন্ডনের অভিজ্ঞতা।
প্রথম গাড়ি আছিল - ৬০০ পাউন্ড। ওইটা জান খাইয়া ফালাইছে। শেষ পর্যন্ত স্ক্র্যাপ করছি।
দ্বিতীয় গাড়ি আছিল - ৮২৫+১৭০ পাউন্ড। ওইটা ৮০০ টাকায় সেল করছি।
তৃতীয় গাড়ি হইল - ২৫০০ পাউন্ড। তেল ছাড়া আর কিছু এখন খরচ হইতাছে না।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
মারুতি চালাতাম বলে বাস কন্ডাক্টররা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলত, ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক ...বাংলাদেশী কন্ডাক্টরদের রসবোধ আসলেই দারুণ।
মামু বলেছেন:
মারুতিরে পেলাস্টিক কইলে একনেরটারে কি কইব>?
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
ইউরোপে গাড়ি পালা আর হাতি পালা এক দেশে গাড়ি চালাইলে তো তাড়াতাড়ি লাইসেন্স পেয়ে যাবার কথা। আমার ক্ষুদ্র অভিক্ষতায় ইউ.কে (লেফ্ট হেন্ড)তে লাইসেন্স করা জার্মানী (রাইট হেন্ড)থেকে অনেক সোজা। হিটলারের দেশ খুব গরম।
ওদের খুব বেশী roundabout আর রাস্তাগুলো এতো সরু। ড্রাইভিং লিমিট প্রত্যেক জায়গায়। পুলিশগুলো চিপার মধ্যে ক্যামেরা নিয়ে বসে থাকে। চুর-ডাকাত না ধরে ড্রাইভার ধরতে বেশি ব্যস্ত। যতো ড্রাইভার ধরা যায় ততো পয়সা।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
ছোটবেলায় দাদীবাড়ি গিয়া সাইকেলের টায়ার ডান্ডা দিয়া বাইরাইয়া বাইরাইয়া চালাইছিলাম .. হেব্বি মজার গাড়ি সেইটা । হাসান ভাই ... ড়াষুর লগে দেখা হইলে আমার হইয়া একটা গাইল দিয়েন।
লেখক বলেছেন: ড়াশুরে গাইল দেওনের আগেই আমারে নান্দুসে ঢুকাইয়া দিছে। তখন আর ক্যামতে গাইলাই?
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
মারুতি চালাতাম বলে বাস কন্ডাক্টররা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলত, ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক ........।এই লাইনটা বুঝি নাই। একটু বলবেন?
আশা করি আনন্দ ভ্রমণ হল।
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
গাড়ি স্ক্র্যাপ করার পরে বাকী ৬ মাস ইনসিওরেন্স রে টাকা দিলেন কেন?গাড়ি না চালালে এদের বলে ইনসিওরেন্স নিস্ক্রিয় করা যায় তো!
ইউকে লাইসেন্স করা সোজা বলে ফ্রুলিংক্স যে মন্তব্য করেছেন তার জন্য তাকে দোররা মারার ব্যবস্থা করা হোক। অবশ্যই ইউকে তে বেশী কঠিন।
লেখক বলেছেন:
আরকেটা গাড়ি নিব নিচ্ছি করে করে ৬ মাস চলে গেছে। ইন্স্যুরেন্স ক্যানসেল করা হয়নি।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














