আমার প্রিয় পোস্ট
- মুন্নাভাই - সাগর চক্রবতী
- ম্যান ইউ/বার্সেলোনা - আসেন হাত তুলেন দেখি
- নাফিস ইফতেখার
- পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব ২ : আতর পাহাড়ের জন্ম ও বিলয় কথা - ফারুক ওয়াসিফ
- পাকিস্তান, তালেবান ও আমাদের খোয়াব: যা ঘটছে ও যা ঘটবে ১ - ফারুক ওয়াসিফ
- সামহোয়্যারইনের জন্য আমার করা নতুন ডিজাইন - আদনান শামীম
- পাকমন পেয়ার - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি.... - অমি রহমান পিয়াল
- বেনজির হত্যা ও কারণ - আমার মতামত - দিগন্ত
- 3 লক্ষ না 30 লক্ষ - তীর্থক
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- চোরের স্রষ্টার পক্ষ থেকে কৈফিয়ত - চোর
- আফ্রিদির তান্ডবে শ্রীলংকা ধরাশায়ী - আশরাফ রহমান
বাবা মায়ের ভৎর্সনা
০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:০৭
ছোটবেলায় পড়াশোনা না করার জন্য বাবার চেয়ে মা-র হাতে বেশি মার খেয়েছি। ছোটখাট চড়থাপ্পড়, কানমলা, চুলটানা এগুলো অতি সাধারণ মারপিট ছিল। একটু বড় গোছের মার দিতে ব্যবহার করা হতো বিছানার ঝাড়ু, ডাল ঘুটনি, স্কেল, র্যাকট, হ্যাঙ্গার, নিজের হাতে মেলা থেকে কেনা কাঠের তলোয়ার। সন্ধ্যার পরে দেরি করে বাসায় ফেরা, পড়ার টেবিলে গল্পের বই পড়া, নোট লেখার ভাব নিয়ে গল্প, কবিতা লেখা, বই খোলা রেখে অন্যদিকে তাকিয়ে কিছু ভাবতে থাকা এসব বিষয়ে ধরা খেলেই ওইসব কারুকার্যপূর্ণ মারধোর কপালে জুটত। বকাবকি বিষয়টা সবক্ষেত্রেই কমন ছিল। নিরবে সব সহ্য করতাম শুধু একটা বিষয় ছাড়া - তুলনামুলক বিশ্লেষণ। এই বিশ্লেষণগুলোর প্রতিক্ষেত্রেই আমার অনেক কিছু বলার থাকলেও মুখে না বলে মনে মনে আওড়াতাম। যেমন,
* পাপ্পুরে কোনোদিন দেখছস সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরতে? - (হ, দিনের বেলায় কই কই যে যায় সেইটা কি তুমি জানো?)
* সুমন যখন ইঞ্জিনিয়ার হইব তখন তুই ওর কামলা হবি। - (এ্যাহ। গতকালই তো আমারটা দেইখা অংক মিলাইল)
* কায়সারের বই এখনো নতুন। দুইমাস গেল না, তোরটা ছিড়া যায় ক্যামনে? - (ওর মতো কিপ্টা আর আছে নাকি)
* মিজানরে ওর মা কোনো টাকা দ্যায় না। তরে তো প্রতিদিন দুই টাকা দিই। পড়স না ক্যান? - (মিজান ওর বাপের পকেট থেকে টাকা চুরি করে)
* মেহেদীরও এতো গল্পের বই নাই। তুই এতো বই কই পাস? - (এগুলা মেহেদীরই বই। আমি পড়তে আনছি)
* শাকিলের মতো কালকে থেকে দুপুরবেলায় ঘুমাবি। - (আর স্কুলে সবাই আমারে ভোন্দা বলুক, কাভি নেহি)
* মারুফের হাতের লেখা এতো সুন্দর। তোরটা কাকের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং ক্যান? (দেয়ালপত্রিকায় আমার গল্প ছাপা হয়, মারুফের না)
আরো কষ্টের ব্যাপর ছিল তিলতিল করে জমা করা নিজস্ব সম্পদের প্রতি তাদের অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞ। বুক ভেঙ্গে যেত তাদের নিষ্ঠুরতায়। যেমন,
* সমস্ত গল্পের বই ছিঁড়ে ফেলা
* স্ট্যাম্পের খাতা লুকিয়ে ফেলা
* র্যাকেট ভেঙ্গে ফেলা (নিরূপায় হয়ে কটকটিওয়ালার কাছে পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতাম)
* ম্যাচবাক্স/ সিগারেটের কভারগুলো পুড়িয়ে ফেলা
* ফুটবল কেটে ফেলা
* ফুটবল বুটজুতা হাড়িপাতিলওয়ালার কাছে বিনিময়
* চুইয়া/ঢাইসহ সমস্ত মার্বেল ঝিলে ফেলে দেয়া।
আরেকটা বিষয় ছিল। আমার কর্মজীবন নিয়ে তাদের শঙ্কাপ্রকাশ। বিভিন্ন সেক্টরে তারা আমাকে কল্পনা করতেন। তাদের আশা ছিল ছেলে ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন (দুর্ভাগ্য তাদের, এমন একটা পেশায় আছি যেটা তাদের সৃষ্টিশীল কল্পনাতে কোনোদিন আসেনি)। ওই দুটো ছাড়াও আরো যেসব পেশায় তারা আমাকে ভেবেছনে সেগুলো হলো,
* কালকে থেকে রাস্তায় ঠেলাগাড়ি চালাবি।
* এরচেয়ে ভালো রিক্সা চালায়া টাকা ইনকাম কর।
* কালকেই তোরে গ্রামে পাঠাইয়া দিমু। হালচাষ কইরা খাবি।
* রংবাজ হইছস? খেলতে গিয়া মারামারি করলি ক্যান?
* পড়াশোনা যখন ভালো লাগে না বাজারে মিন্তিগিরি করতে পারস না?
* ঠিক মতো না পড়লে হাতপা ভাইঙ্গা দিমু। ভিক্ষা কইরা খাইবি।
এরকম ভয়াবহ কথাবার্তা এই কান দিয়ে ঢুকিয়ে ওই কান দিয়ে বের করে দিতাম। যদিও জানতাম এগুলো শুধুই কথার কথা। স্নেহশীল বাবা-মা এসব কোনোদিনই করতে পারবেন না। তখন বুঝতাম না কিন্তু এখন মনে হয়, এসব বলার পর হয়তো পাশের রুমে গিয়ে মা ফুঁপিয়ে উঠতেন। কারণ মার খেয়ে টেবিলে আমি তখন অশ্রুসজল হয়ে গুনগুন করে পড়ছি।
বাবা-মা তোমাদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।
** ব্লগার বন্ধুরা আপনাদের কথাগুলোও বলুন **
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:২০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
সেইসময়ের আপনার কাছে দুর্বিষহ বকা গুলার তুলনামুলক বি্শ্লেষন পড়ে দারুন লাগলোকত যে বকা খাইছি হিসাব নাই!!!
নীল আকাশ বলেছেন:
ভাল লাগল না কারন, তোমার সাথে যা যা ঘটেছে তার কার্বন কপি আমারও আছে.। সুতরাং তুমি একা পেটেন্ট এর দাবীদার নও। বুঝেছ
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
এই লেখাডা আগে পড়ছিলাম।গ্রামে যাইয়া হাল টানার কথাটা অনেক শুনছি। আরগুলা শুনি নাই।
পুরানপাগল বলেছেন:
মা-বাপের মাইরের কথা আজও ভুলি নাই। তবুও মনে হয় সেই সময়গুলোই অনেক ভালো ছিল। তখন মনে হত আমি বড় হয়ে নেই তখন পারলে আমাকে মাইরও। আর এখন মনে হয় আর মাইর খাওয়া লাগবে না শান্ত সুবোধ বালকের মত নিজের জীবন যদি আবার প্রথম থেকে শুরু করতে পারতাম। আফসোস তা আর কোনদিনই হবে না।
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
মাইর বহুত খাইছি। মারপিট করা একটা দিক থেকে খুবই খারাপ, মার খেতে খেতে কেউ যদি অভ্যস্ত হয়ে যায় (যেমন আমি
আমি পাগল না বলেছেন:
জোস হইচ্ছে। আর আমড়া কাঠের ঢেকি সাহেব কি বুয়েটে পড়েন না?? বুঝছেন তো মাইর কত কামের???
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
আপনার অনেক কিছুর সঙ্গে আমার মিলে যাচ্ছে। স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লাম।
গোলাপি বলেছেন:
হাহাহা! মজা পেলাম মনে মনে আওড়ানো ডায়লগে মজা পেলাম
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
বাবার হাতে কখনো মার খাইনি, কিংবা বড় ধরনের ধমক; তবে, ছোটখাট ধমক খেয়েছি। মায়ের হাতে কৈশোরের আগে প্রচুর মার খেয়েছি। পরে আর কিছু করত না। আমি যেহেতু বুঝতাম, প্রচুর কথা শুনতে হত।এইসব বিচার করলে বরং বলা চলে, সংসারে আমি একনায়ক ছিলাম, আমি অন্যদের বকাঝকা করতাম।
তুলনা করি কারটা ভয়াবহ... আমারটা নাকি আপনারটা.....
আমারগুলোও শেয়ার করবো.....
প্রিয়তে রাখলাম.....
++++++++++++
কঁাকন বলেছেন:
আহারে
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















খালি বকাঝকা না, বাপের মাইরের উপরেই ছিলাম। তবু মানুষ হইনাই