somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মাল্টিকালচারের বটিকা সেবনে বিপর্যস্ত বাংলা বৈশাখী মেলা !!
১৯৯৭ সাল থেকে লন্ডনে আয়োজন হয়ে আসছে বৈশাখী মেলা, বাঙালির প্রাণের মেলা। দেশে ছেড়ে আসা সেই প্রিয় মেলার স্মৃতি মনে আঁকুপাকু হয়ে যখনই চিত্তচঞ্চল করে তোলে ঠিক তখনই বিদেশবিভুঁইয়ে এরকম বৈশাখী মেলার আয়োজন মনে করিয়ে দেয় - না, বাংলা আমাকে ছেড়ে যায়নি, আমিও ছাড়ব না। এ কথার সত্যতা মেলে প্রতি বছর মেলায় বাঙালির অংশগ্রহণ বাড়তে দেখে। এবার মেলায় আগতের সংখ্যা চলে গেছে একশ হাজারের কাছাকাছি। নিজের পেশাগত কারণে এবছর সহ মোট ৫টি বৈশাখী মেলার আয়োজন ও প্রচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। নানা অসঙ্গতি থাকা স্বত্ত্বেও বিগত প্রতিটি মেলাকেই আমি সফল বলতে চাই। তবে এবছরের মেলায় অসঙ্গতির পর্যায়টি ছিল চরম এবং দুঃখজনক। এবারের মেলাকে আমার বাংলা সংস্কৃতি বোধ আর বিশ্বাসের নাভিমূলে হ্যাচকা টান বিবেচনায় আমি ব্যথিত ও অপমানিত।

এবারই প্রথম টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নিজস্ব তত্ত্বাবধান আর আয়োজনে বৈশাখী মেলা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলতে চাই কাউন্সিলের যেসকল কর্মকর্তা এ আয়োজনের পেছনে ছিলেন তাদের বাংলা সংস্কৃতি স¤পর্কে ধারণা খুবই দুর্বল। প্রথমেই আসা যাক র‌্যালি কিংবা মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্পর্কে। ’বাংলা কুইন’ নামক উৎকট একটা অবয়ব পুরো র‌্যালি জুড়ে চালিয়ে তারা তৃপ্তি পেলেও আমি লজ্জায় অবনত হয়েছি এই ’বাংলা কুইন’-এর সঙ্গে গ্রামবাংলার কোনো ’রাণী’-র সামঞ্জস্য না পেয়ে। লেখার এ পর্যায়ে পাঠকদের একটা প্রশ্ন করা যাক। বলুন তো, বাংলার নারীকে কোন দিনে সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগে? উত্তর স্বভাবতই সকলের জানা - বৈশাখের প্রথম দিনে বৈশাখী মেলায়। আর এই সৌন্দর্য্যরে প্রধাণ উপাদান বাঙালি নারীর চিরায়ত পোশাক শাড়ির সঙ্গে লাল রঙের প্রবল প্রাধান্য, যা পুরোই অনুপস্থিত ছিল এবারের বৈশাখী মেলার র‌্যালিতে। নীল আর সবুজ রঙে সাজানো বাংলা কুইন সহ ঢাকীদল ও ময়ূরবেশে নৃত্যরত সকল মেয়েকেই বিজাতীয় মনে হয়েছে। একপ্রকার ভ্রমে পড়তে হয়েছে বৈশাখী র‌্যালি আর কার্ণিভালের পার্থক্য নিরূপণে। গত চার বছরের তুলনায় এবারের র‌্যালিতে জনসাধারণের অংশগ্রহণ ব্যাপক ছিল না। জনপ্রিয় কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুপস্থিতি চোখে ঠেকেছে। র‌্যালি জুড়ে তরুণদের উৎফুল্লতা, হর্ষধ্বনি, দোতারা হাতে গেরুয়া পোশাকধারী, নববধূর সাজ, রিক্সা, মহিলাদের নাচ প্রতিবছর দেখে দেখে চোখ সয়ে এলেও এবারের মেলায় এসবের অনুপস্থিতি দেখে চোখ রগড়ে নিয়ে ভাবতে হয়েছে এই প্রাণপ্রাচুর্যহীন র‌্যালি আয়োজনে কোন দুষ্টলোকের কোন সংকল্প কাজ করেছে। বাসন্তী ও লাল রঙহীন, পর্যাপ্ত ফেস্টুন ও অবয়বের অভাবে এই ম্যাড়মেড়ে মেলা আগতদের দেহে মনে কোনোরূপ প্রণোদনা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। বৈশাখী র‌্যালিতে প্রতিবছরই নতুন নতুন থিম (কোনো বছর বাঘ, কোনো বছর হাতী) ব্যবহারের রেওয়াজ থাকলেও এবারের র‌্যালিতে গতবছরের রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর গতবছরেই ব্যবহৃত আরেকটি অবয়বকে এবার ’বাংলা কুইন’ নামে মনগড়া ব্যাখ্যায় র‌্যালিতে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। তাহলে র‌্যালির ক্ষেত্রে বাজেটের কি পরিমাণ অর্থ কোন খাতে ব্যবহার হলো?

এবারের মেলায় এ্যালেন গার্ডেনে একটি ও উইভার্স ফিল্ডে দুইটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। উইভার্স ফিল্ডের দুইটি মঞ্চের একটি ছিল মূলমঞ্চ, যার অনুষ্ঠানাদি বৃটেনের জনপ্রিয় টিভি ’চ্যানেল এস’ পুরো ইউরোপজুড়ে সরাসরি প্রচার করে। মেলায় আমার সম্পৃক্ততা ওই মূলমঞ্চ ঘিরে ছিল বলেই আজকের লেখায় এই মঞ্চের কথাই থাকবে। প্রথমেই আসা যাক উপস্থাপক প্রসঙ্গে। অপরিপক্ক, বিবেচনাহীন, বাংলা ভাষা ও তার উচ্চারণ সম্পর্কে উদাসীন, রেডিও প্রেজেন্টার পরিচয়ের খোলসে উপস্থিতজ্ঞানশূণ্য, হিতাহিতভাবে আনস্মার্ট একজন উপস্থাপক মঞ্চে উপবিষ্ট হয়ে কথা শুরু করা মাত্র পুরো মেলার পরিচালনা নিয়ে দারুণ করুণার সঞ্চার হয়েছে মনেপ্রাণে। নিদারুণ ফাজলামোর চূড়ান্ত ঘটনাটি ঘটে যখন অবাঙালি আরো দুইজন উপস্থাপক মঞ্চে উঠে, ব্যাকস্টেজ থেকে মাত্র শিখে আসা দুইটি বাংলা বাক্য আওড়ে, হিন্দি গানের কলি গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করার ব্যর্থ অপচেষ্টা করেন। আমার সঙ্গে সঙ্গে ভাবনায় পেয়ে যায়, আমি কি গুজরাটি কিংবা শিখদের কোনো মেলায় উপস্থাপকের দায়িত্ব পেতে পারি যেখানে ওই দুইটা ভাষার একটিও আমার দখলে নেই! এইসব অবাঙালি প্রেজেন্টারদের সাথে তাল মেলায় বাংলাদেশী আনস্মার্ট প্রেজেন্টাররাও। বাংলা নাচ শেখানোর উছিলায় কিম্ভুতকিমাকার ভঙ্গিতে দুই প্রেজেন্টার মাঠ ভর্তি দর্শকদের সামনে তাদের নিতম্বদেশের অশ্লীল প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতির কোন মজাটা আমাদের পাইয়ে দিলেন সেটা ভাবতে গেলেই হতাশ হতে হয়। এইসব অর্বাচীনের অরূচিকর উপস্থাপনা ঘুরে ফিরে হজম করতে হয়েছে মাঠসহ টেলিভিশন দর্শকদের সবার। আমার ভাষার, আমার সংস্কৃতির সম্মিলনে, আমার সাথে ভাব বিনিময় করতে পারে না এমন অবাঙালি উপস্থাপক নিয়োগের সিদ্ধান্ত একেবারেই অবিবেচনাপ্রসূত। বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে এমন নোংরা ঠাট্টা লন্ডনের বাঙালিরা পুনরায় সইবে না, যে বাঙালি জাতির রয়েছে ভাষা রক্ষায় প্রাণ দেবার জ্বলজ্বলে ইতিহাস।

এখন আসা যাক মঞ্চের অনুষ্ঠানাদি নিয়ে। এইবার মঞ্চে প্রচুর বিদেশী মিউজিশিয়ান ব্যবহার করা হয়েছে। ’ফিউশন’ নাম দিয়ে প্রচলিত বাংলা গানগুলোকে বিকৃত করা হয়েছে। যারা ভেবেছিলেন, প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মিলনের নামে এই ’ফিউশন’ জনগণ পছন্দ করবেন তাদের শক্ত কণ্ঠে বলে দিতে চাই, দর্শকরা আপনাদের ছুঁড়ে ফেলেছে। আপনাদের চিন্তার দৈন্যতায় একটাই কামনা - দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। বিদেশ বিভুঁইয়ে পড়ে থেকে, কষ্টে যাপিত জীবনে ফল্গুধারার মতো বছরে একবার আসা বৈশাখী মেলায় বাঙালিরা শুনতে চায় বাঁশির সুর, তবলার বোল আর ঢোলের মাদল। স্যাক্সোফোন, অর্গানের সঙ্গে বাংলা গানের ফিউশন হয়তো কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মিলনায়তনে শোনা যেতে পারে, তবে সেটা কোনোমতেই বৈশাখী মেলায় নয়। এদেশের বড় হয়ে উঠতে থাকা ভবিষ্যত প্রজন্মকে পূর্বপুরুষের সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেবার এইসব সুযোগগুলোকে ফিউশনের কারণে হাতছাড়া হতে দেবার চেষ্টা রুখতে হবে। ’মিলন হবে কতো দিনে’ জনপ্রিয় এ গানটিকে ফিউশনের যাঁতাকলে রীতিমতো বলাৎকার করা হয়েছে অথচ এই গানটি এতো বছর পরেও তার নিজস্ব সুরের কারণে আজো শ্র“তিমধুর। ফিউশনের জন্য যে সময়টুকু বরাদ্দ করা হয়েছিল তার স্থলে খুব আয়েশ করে স্থানীয় শিল্পীদের ও মিউশিয়ানদের সংকুলান সম্ভব হতো। উইভার্স ফিল্ড মেলার মূল মঞ্চ হিসেবে প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এ মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীদের বেশি বেশি সুযোগ দিয়ে ফিউশনকারীদের অন্য মঞ্চে সুযোগ দেয়াটাই হতো বুদ্ধিমানের কাজ।

বৈশাখী মেলা পুরোটাই বাঙালিদের মেলা। সবাই আশা করেন এ মেলায় বাংলা আর বাঙালির সংস্কৃতির চর্চা চলবে। অথচ আয়োজনকারীদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার অভাব আর মাল্টিকালচারের বটিকা অতিরিক্ত সেবনে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ মেলাকে গুলিয়ে ফেলেছেন অন্যান্য মাল্টিকালচার মেলার সঙ্গে। এদের নিয়ন্ত্রণে অসুস্থ চেষ্টা হয়েছিল বৈশাখী মেলার নাম পরিবর্তন করার। গত বছরের মেলাগুলোতে দেখা গেছে, এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি - মেলা রয়ে গেছে হিন্দিযুক্ত। এ পর্যায়ে পাঠকদের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি, মাল্টিকালচারাল নয় কিন্তু নিরেট কোনো গুজরাটি কিংবা শিখদের মেলায় কোন পাঠক কবে শুনেছেন বাংলা গান বাজতে মনে করে দেখুন। অবস্থা এমন দিকে যাচ্ছে একসময় দেখা যাবে বৈশাখী মেলার স্থলে মাল্টিল্যাগুয়াল কোনো মেলা চালু হয়েছে এবং সেখানে বাংলার জন্য হয়তো ঘন্টা দুয়েক বরাদ্দ থাকবে।

এরকম কোনো অপসম্ভাবনার তৈরির আগেই সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলতে চাই বৈশাখী মেলা কোনো মাল্টিকালচারাল মেলা নয়, এটা সম্পূর্ণ বাঙালির মেলা। এ মেলায় বাঙালিরা গান গাইবেন, বাঙালিরা বাজাবেন, আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেব এ খাঁটি ও খাদমুক্ত বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে। ঘর থেকে যার চর্চা শুরু, উন্মুক্ত খোলা মুক্তমঞ্চে তার উপস্থাপনা ভবিষ্যত প্রজন্মকে আরো উজ্জীবীত করবে। এই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে বিজাতীয় কোনো মিশেল দেয়া নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে বেঈমানী স্বরূপ। বাঙালিরা অতিথিপরায়ণ, তাই মেলা উপভোগকারীরা হবেন নানা জাতির, ভাষার। কিন্তু কোনোমতেই যেন তারা অন্তত এই দিনে ’ফিউশন’ এর ঘোড়া আমাদের উপর দাবড়াবেন না। মাল্টিকালচারাল শহরে বৈশাখী মেলার দিনে হতে চাই পুরোদস্তুর বাঙালি।













]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28952918 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28952918 2009-05-19 19:18:33
বাবা মায়ের ভৎর্সনা
* পাপ্পুরে কোনোদিন দেখছস সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরতে? - (হ, দিনের বেলায় কই কই যে যায় সেইটা কি তুমি জানো?)
* সুমন যখন ইঞ্জিনিয়ার হইব তখন তুই ওর কামলা হবি। - (এ্যাহ। গতকালই তো আমারটা দেইখা অংক মিলাইল)
* কায়সারের বই এখনো নতুন। দুইমাস গেল না, তোরটা ছিড়া যায় ক্যামনে? - (ওর মতো কিপ্টা আর আছে নাকি)
* মিজানরে ওর মা কোনো টাকা দ্যায় না। তরে তো প্রতিদিন দুই টাকা দিই। পড়স না ক্যান? - (মিজান ওর বাপের পকেট থেকে টাকা চুরি করে)
* মেহেদীরও এতো গল্পের বই নাই। তুই এতো বই কই পাস? - (এগুলা মেহেদীরই বই। আমি পড়তে আনছি)
* শাকিলের মতো কালকে থেকে দুপুরবেলায় ঘুমাবি। - (আর স্কুলে সবাই আমারে ভোন্দা বলুক, কাভি নেহি)
* মারুফের হাতের লেখা এতো সুন্দর। তোরটা কাকের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং ক্যান? (দেয়ালপত্রিকায় আমার গল্প ছাপা হয়, মারুফের না)

আরো কষ্টের ব্যাপর ছিল তিলতিল করে জমা করা নিজস্ব সম্পদের প্রতি তাদের অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞ। বুক ভেঙ্গে যেত তাদের নিষ্ঠুরতায়। যেমন,

* সমস্ত গল্পের বই ছিঁড়ে ফেলা
* স্ট্যাম্পের খাতা লুকিয়ে ফেলা
* র‌্যাকেট ভেঙ্গে ফেলা (নিরূপায় হয়ে কটকটিওয়ালার কাছে পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতাম)
* ম্যাচবাক্স/ সিগারেটের কভারগুলো পুড়িয়ে ফেলা
* ফুটবল কেটে ফেলা
* ফুটবল বুটজুতা হাড়িপাতিলওয়ালার কাছে বিনিময়
* চুইয়া/ঢাইসহ সমস্ত মার্বেল ঝিলে ফেলে দেয়া।

আরেকটা বিষয় ছিল। আমার কর্মজীবন নিয়ে তাদের শঙ্কাপ্রকাশ। বিভিন্ন সেক্টরে তারা আমাকে কল্পনা করতেন। তাদের আশা ছিল ছেলে ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন (দুর্ভাগ্য তাদের, এমন একটা পেশায় আছি যেটা তাদের সৃষ্টিশীল কল্পনাতে কোনোদিন আসেনি)। ওই দুটো ছাড়াও আরো যেসব পেশায় তারা আমাকে ভেবেছনে সেগুলো হলো,

* কালকে থেকে রাস্তায় ঠেলাগাড়ি চালাবি।
* এরচেয়ে ভালো রিক্সা চালায়া টাকা ইনকাম কর।
* কালকেই তোরে গ্রামে পাঠাইয়া দিমু। হালচাষ কইরা খাবি।
* রংবাজ হইছস? খেলতে গিয়া মারামারি করলি ক্যান?
* পড়াশোনা যখন ভালো লাগে না বাজারে মিন্তিগিরি করতে পারস না?
* ঠিক মতো না পড়লে হাতপা ভাইঙ্গা দিমু। ভিক্ষা কইরা খাইবি।

এরকম ভয়াবহ কথাবার্তা এই কান দিয়ে ঢুকিয়ে ওই কান দিয়ে বের করে দিতাম। যদিও জানতাম এগুলো শুধুই কথার কথা। স্নেহশীল বাবা-মা এসব কোনোদিনই করতে পারবেন না। তখন বুঝতাম না কিন্তু এখন মনে হয়, এসব বলার পর হয়তো পাশের রুমে গিয়ে মা ফুঁপিয়ে উঠতেন। কারণ মার খেয়ে টেবিলে আমি তখন অশ্রুসজল হয়ে গুনগুন করে পড়ছি।

বাবা-মা তোমাদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।

** ব্লগার বন্ধুরা আপনাদের কথাগুলোও বলুন **]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28920722 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28920722 2009-03-06 17:07:14
জয়াকে পাওয়া গেছে। দেখুন ...

এই লিংকে ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28912130 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28912130 2009-02-16 19:31:42
স্লামডগ মিলিওনেয়ার

আমরা যারা খাড়ায়া খাড়ায়া সিনমার পোস্টারের নায়িকার উন্নত বক্ষ দেইখা সিনমা হলে ঢুকি না, তারা কোনো সিনমা দেখার সিদ্ধান্ত লওনের আগে ওই সিনমার ঘটনা জাইনা লই প্রথমে। সিনমা হলে গিয়া হুট কইরা কোনো একটা সিনমার টিকিট কাইটা হলে ঢুইকা যাওনের ঘটনা খুব কমই ঘটছে জীবনে। সিনমা দেখনের আগে তাই সিনপসিস পইড়া (ইন্টারনেটে ডাউনলোডের বেলায়) অথবা মাইনষের মুখে, পত্রিকায় পইড়া সিনমায় যাই। স্লামডগ মিলিওনেয়ার ঠিক এই জায়গাতে পুরোপুরি সফল। অর্থাৎ স্লামডগ মিলিওনেয়ার সিনমাটা দেখুম কিনা এইটা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হইছে এর কাহিনী।

তো এই সিনমার কাহিনী আমি এরকম শুনছি যে - একটা মুর্খ, অশিক্ষিত বস্তির পোলা কৌন বনেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়া কোটি টাকা জিতছে। তো পোলাটা প্রশ্নের উত্তর ক্যামনে দিছে! জানা গেল প্রতিটা প্রশ্নরে ঘিরা তার জীবনে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে যার কারণে ওই পোলাটা প্রতিটা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারছে। এই কাহিনীটুকু জানার পর আমি বুঝতে পারলাম ছবিটা ভালো হইব। কারণ নিজেরে দিয়া বিচার করলাম, কেউ যদি আইয়া আমারে কয়, এই হলো মেইন এসটোরি, আপনে পুরাটা লেইখা ছবি বানান। আমি তখন কি করুম? আমি কিছু প্রশ্ন তৈরি করুম, প্রশ্নের উত্তর মিলানোর লাইগা ওই পোলার জীবনে কিছু ঘটনা ঘটামু, যেইটা পাবলিকগো বিশ্বাসযোগ্য হইতে হইব। পুরা বিষয়টা চ্যালেঞ্জিং রাইটার এবং ডিরেক্টরের লাইগা। এতোসব চিন্তা কইরা আমি ডিসিশান লইলাম স্লামডগ মিলিওনেয়ার সিনমাটা দেখতে হইব।

আমি সবসময় কই, কোনো ছবির উপজীব্য ওই ছবির দেশ নির্দেশ করে। বৃটিশ পরিচালক ডেনী বয়েল নির্মিত এই ছবিরে 'বৃটিশ ছবি' কওয়া হইলেও আমি 'বৃটিশ পরিচালক কর্তৃক নির্মিত একটা বলিউড ছবি' ভাইবা নিছি। সিনমা শুরু হয় থানা থিকা, যেখানে জামাল নামের ওই বস্তির পোলারে টর্চার করা হইতাছিল, কেননা পুলিশ সন্দেহ করছে এই কোটি টাকার গেম শো-এ পোলাটা নিশ্চয়ই কোনো ট্রিকস করছে। নইলে অশিক্ষিত হইয়া এমুন কঠিন কঠিন প্রশ্নে উত্তর দ্যায় ক্যামনে? অনেক মাইর খাওনের পরও জামাল কইতে থাকে যে অয় কোনো ট্রিকস করে নাই। প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর অয় তার জীবন থিকা দিছে। এরমধ্যে বড় অফিসারের আগমন ঘটে। জামালরে হের টেবিলের সামনে বসাইয়া গত রাইতে হইয়া যাওয়া শো-এর রেকর্ডকৃত ক্যাসেট দেখা শুরু করে। প্রতিটা প্রশ্নের শেষে পজ কইরা জামালরে জিগায় প্রশ্নের উত্তরগুলা সে ক্যামনে দিছে। জামাল তখন অর জীবনের হিশটোরি কইতে থাকে।

এইখান থিকা ছবির কাহিনী আরো গতি পায়। বড় অফিসার আর জামাল মিলা গত রাইতের শো দেখে, সেইখান থিকা জামাল ফেলাশব্যাকে অর অতীত জীবনে ফিরা যায় তারপর আবার পুলিশ অফিসারের লগে বাস্তবে ফিরা আসে। এই যে বর্তমান (থানা-পুলিশ অফিসার)-নিকটবর্তী অতীত (গত রাইতের শো)-দূরবর্তী অতীত (জামাইল্যার অতীত, যেইটারে ক্রমান্বয়ে বর্তমানের দিকে লইয়া আসা) এই তিন কালরে এমন কইরা বৃটিশ পরিচালক ডেনী বয়েল গাঁথুনী দিছে যে দর্শকগো চোখে জার্ক লাগে নাই। দর্শক কখন যে কোন কালে চইলা যাইতাছে এইটা টের পায় নাই। দর্শক যখনই যেই কালটা দেখতে চাইব চাইব ভাবতাছে ঠিক তখনই ডিরেক্টর ওই কালেই দর্শকগো লইয়া গেছে বইলা আমার মনে হইছে।

এইবার আসা যাক এ্যাক্টিং নিয়া। পুরা পারফেক্ট। শুধু অনিল কাপুর আরেকটু যত্নবান হইলে ভালো হইত বইলা মনে হইছে। আর থানার মইধ্যে পুলিশের লগে বাতচিতের জায়গাটুকু ছাড়া সকল জামাইল্যার অভিনয় ফাস্ট কেলাশ হইছে। মাইয়াটারে মাঝে মাঝে আমার বিপাশা বসুর মতো মনে হইলেও অর এ্যাক্টিংও ভালো হইছে।



ছবির মইধ্যে অসংগতি খুব একটা নাই। ঝিলের পাড়ের পায়খানার গুয়ের মধ্যে ছোট জামাইল্যার ঝাপাইয়া পড়ার দৃশ্যরে কেউ কেউ অতিরঞ্জিত কইতে চাইলেও আমার তা মনে হয় নাই। কারণ আমার মনে পড়ছে আমার বড় ভাই ছুডুবেলায় টেনিস বল কুড়াইতে গিয়া, এমনই কোনো পায়খানার শুকাইয়া যাওয়া গুয়ের (যার উপরে হালকা দুর্বাঘাস জন্মাইছিল) উপর দৌড় দিতে গিয়া কোমর পর্যন্ত ডুইবা গেছিল। আমার আরো মনে পইড়া যায় দিল্লির সিনমা হলে (আমগো দেশের রূপমহল কিংবা মানসী মানের) 'কুচ কুচ হোতা হ্যায়' ছবিতে সালমান খান যখন ব্যাকশটে পরথম এন্ট্রি লইল তখন সারা হলের দর্শকেরা চেয়ার থাবড়ানি থিকা শুরু কইরা সিটি বাজানি আর চিক্কুর পাড়তাছিল। আমার চউক্ষে তখন পানি আইছিল হেগো সিনমার প্রতি আর আর্টিস্টগো প্রতি 'লভ' দেইখা। ইন্ডিয়ানগো তিনটা ধর্ম, সনাতন ধর্ম-বলিউড-কিরকেট। তো জামাইল্যার অমিতাভরে দেখনের লাইগা গুয়ের মধ্যে ঝাপাইয়া পড়নরে আমার অতি স্বাভাবিক মনে হইছে। তবে মাগীপাড়া থিকা লতিকারে উদ্ধারে রিয়েলিজম কম আছে। একটা মাগীপাড়া দালাল/ সুবিধাভোগী কর্তৃক কতোটা সুরক্ষিত হইতারে এইটা সম্পর্কে বিদেশী ডিরেক্টররে ইন্ডিয়ানরা ভ্রান্ত ধারণা দিছে।

গুয়ের মধ্যে ঝাপাইয়া পড়া নিয়া ব্যাপক আলোচনা হইলেও আমি এখন একটা শটের কথা কমু যেইটা ছবিতে না থাকলেও চলত। তার আগে অন্য আরেকটা শটের কথা কই। দাঙ্গার কথা। হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা দেখানি হইছে। ওই দাঙ্গার শুরুতে মিউজিক অফ রাইখা শুধু ন্যাচারাল সাউন্ড রাইখা দৃশ্যের অবতাড়না ভালো হইছে। জামাল-কামালের মায়ের হঠাৎ উপলব্ধি কি জানি ঘটতে যাইতেছে টাইপের টেনশন দেইখা আমার প্রাণীজগতের কথা মনে হইছে। সকল মায় মনে হয় সন্তানগো বিপদ এমনে আগেভাগেই টের পাইয়া যায়। দাঙ্গাকারীগো দেইখা জামাইল্যার মায়ের চিক্কুর দেওন আর মাথায় বাড়ি দিয়া মাইরা ফালানোর দৃশ্য আমার কাছে বড়ই মর্মান্তিক ঠেকছে। এইটা ছাড়া দাঙ্গার অন্যান্য দৃশ্য বম্বে ফিলমের চেয়ে খুব বেশি আহামরি কিছু না। এখন আসি যেই শটের কথা কইতে চাইতাছি। সেইটা হইল এ্যাকশনে যাওনের আগে কামালের নামাজ পড়নের দৃশ্য। বর্তমান বিশ্বে মুসলিমরাই যে টেররিস্ট এইটা প্রমাণের চলমান চর্চার বাইরে যাইতে পারে নাই ডিরেক্টর। সারা ছবিতে ধম্মকম্ম না দেখাইলেও হঠাৎ কইরা একজন সন্ত্রাসীর নামাজ পড়নের দৃশ্য ছবিতে বড় একটা কালো দাগ।

আরো একটা দৃশ্যে বিরক্ত লাগছে। একটা প্রশ্ন জিগানোর পর শো এর ব্রেক আসে। তখন জামাল আর অনিল কাপুর দুইজনেই টয়লেটে যায়। ওই প্রশ্নরে ঘিরা জামালের জীবনে কোনো ঘটনা ঘটে নাই তাই জামাল উত্তর দিতে পারতাছিল না। টয়লেটে অনিল কাপুর আয়নায় ওই প্রশ্নের উত্তর লিখা বায়রাইয়া যায়। জামাল উত্তরটা দেখে। কিন্তু এই সিকোয়েন্স দেহনের লগে লগে আমার মনে হইছে অনিল কাপুর ভুল উত্তর লিখছে জামাইল্যা যেন না জিততে পারে। পরে দেখা গেল আমার ভাবনাটাই ঠিক।

ছবির ভাষা ইংরেজি এবং এইটা বস্তির অশিক্ষিত পোলারা ক্যামনে কইতাছে এইটাও নিয়াও অনেক বেকুব দর্শকের গাত্রদাহ হইছে। হেরা কিন্তু আবার শরৎচন্দ্রের বাঙালি চরিত্রগুলার মুখে হিন্দি শুইনা চমকায় নাই।

যাউগ্গ এখন কথা হইল ছবিটা হিট ক্যান? প্রধান কারণ আমার মনে হইছে এইটার ভিতরের মালমশলা। সারা বিশ্ব ইন্ডিয়ান বস্তির পোলাগো কাম কারবার দেইখা মজা পাইছে এইটাই হইল সত্য। দু:খ কষ্ট দেখতে ভালোই লাগে যদি আপনে দু:খ কষ্টের মধ্যে না থাকেন। ডেনী বয়েলের সার্থকতা এই জায়গাতেই যে মুম্বাইয়ের বস্তির জীবন অনেক সুন্দর (?) কইরা তুইলা আনছে। পাশাপাশি একজন অসফলের সফল হওনের গল্পও আছে। সেই গল্পটা সুন্দর কইরা বলা হইছে।

আগেই কইছিলাম যে ছবির উপজীব্য ওই ছবির দেশ নির্দেশ করে। এইটারে আরো ভালোভাবে বুঝানোর লাইগাই মনে হয় ডেনী বয়েল ছবির শেষে একটা বলিউডি নাচ-গান রাখছে। তবে সেটা যুইতের মনে হয় নাই। হয়তো শখ থিকাই ডিরেক্টর এইটা করছে। গানের চিত্রায়ণে বলিউডি মুন্সীয়ানা নাই।

মোটকথা ছবি দেইখা মজা পাইছি। আমদর্শক এতো পন্ডিতি বুঝে না। হেরা ভালো কইলেই সেইটা অস্কার আর গ্লোডেন এওয়ার্ড ভাইবা নিতে হইব। ছবি দেখনের আগে কাহিনীর লাইগা ডিরেক্টর আর স্ক্রিপ্টরাইটাররে যেমুন সাধুবাদ দেয়া শুরু করছিলাম ছবির শেষে টেলপে দেখলাম এই কাহিনী নিয়া একটা বই বাইরাইছিল। স্ল্যামডগ মিলিওনেয়ার কাহিনী ওই বই থিকা অনুপ্রাণিত। উইকির সৌজন্যে নিচে ছবির ক্রেডিটলাইন দিয়া দিলাম।

Directed by
Danny Boyle
Loveleen Tandan (co-director)
Produced by
Christian Colson
Written by
Simon Beaufoy Vikas Swarup (novel)
Starring
Dev Patel Freida Pinto Anil Kapoor Irrfan Khan Tanay Chheda Saurabh Shukla Mahesh Manjrekar
Music by
A. R. Rahman
Cinematography
Anthony Dod Mantle
Editing by
Chris Dickens
Distributed by
Fox Searchlight Pictures Warner Bros. (US) Pathé (Intl.)
Release date(s)
12 November 2008 (US, limited) 26 December 2008 (US, wide) 9 January 2009 (UK) 23 January 2009 (India)
Running time
120 min.
Country
United Kingdom
Language
English Hindi
Budget
$15 million]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28902863 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28902863 2009-01-27 02:51:36
হায়রে গাড়ি ..
এক মোবাইল ছাড়া (তাও সাধারণ মানের) কোনোরূপ যন্ত্র আমি সাথে নিয়ে ঘুরি না। কোনো আইপড কিংবা অন্য কোনো সঙ্গীত শোনার যন্ত্রও আমার নাই। শখের মধ্যে আছে একটা গাড়ি। তো এই গাড়িই হলো আমার যন্ত্রণা। আমাকে ঠিকমতো আরাম দিতে পারলো না আজ পর্যন্ত।

বাংলাদেশে যখন গাড়ি চালাতাম তখন যা যা যন্ত্রণা পেয়েছি

* জাহাঙ্গীরনগর থেকে আসার সময় গাড়ির ফ্যানবেল্ট ছিড়ে যাওয়া
* মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ির বাম্পার বাড়ি খাওয়া
* কাওরান বাজারে আন্ডারপাসের ঠিক সামনে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া। বাজারশুদ্ধ লোকের সামনে গাড়ি ঠেলা।
* মারুতি চালাতাম বলে বাস কন্ডাক্টররা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলত, ওস্তাদ বামে প্লাস্টিক ...
* সামনের বামপাশের দরজার আয়না চিরদিনের মতো ফিক্সড হয়ে যাওয়া

লন্ডন এসে খান তিনেক গাড়ি পরিবর্তন করেছি। সর্বশেষ গাড়িটা চমৎকার চলছে। তবে যন্ত্রণার শেষ নেই। লন্ডনের যন্ত্রণাগুলো হলো

* দুইবার থিওরি আর পঞ্চমবার প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স পাওয়া
* নতুন ড্রাইভার বলে উচ্চমূল্যের ইন্স্যুরেন্স (বাংলাদেশে এই হ্যাপাটা ছিল না)
* গাড়ি কেনার তৃতীয় দিনে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে গাড়ি উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া। ৪০০ পাউন্ড দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে আনা। (বাই দ্য প্রথম গাড়িটা কিনেছিলাম ৬০০ পাউন্ড দিয়ে)
* প্রথমবার MOT (ফিটনেস) করাতে গিয়ে ৩০০ পাউন্ডে যন্ত্রাংশ সংযোজন
* মাসখানেক পর পুনরায় অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে গাড়ি ক্ল্যাম্পড। এবার ১০০ পাউন্ডে গাড়ি উদ্ধার
* প্রচুর মদ্যপান করে গাড়ি চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা খাওয়া। পুলিশের মেশিন দিয়ে এ্যালকোহলের মাত্রা পরীক্ষা। ভাগ্যক্রমে আর হালকা চালাকির কারণে সেবার পরিত্রাণ পাওয়া (সে গল্প পরে করা যাবে)
* রাস্তায় গাড়ির স্টার্ট প্রায়ই বন্ধ হয়ে যাওয়া
* সর্বশেষ হিথরো থেকে আসার সময় গাড়ির তলা ফুটো হয়ে ইঞ্জিন অয়েল নাই হয়ে যাওয়া
* গাড়ি স্ক্র্যাপ (ভেঙ্গে ফেলা) করা
* গাড়ি ছাড়া ইন্স্যুরেন্সের বাকি ৬ মাস ৯০ পাউন্ড করে পরিশোধ করে যাওয়া।
* এই পর্যন্ত মোট ৪ বার স্পিডিংয়ের কারণে পুলিশের জেরার সম্মুখীন হওয়া।
* স্পিডিংয়ের জন্য ক্যামেরা ফ্ল্যাশ খাওয়া। ফলাফল ৬০ পাউন্ড এবং ৩ পয়েন্ট জরিমানা। হাতে আছে আর মাত্র ৩ পয়েন্ট। এটাও খরচ হয়ে গেলে সর্বনিম্ন ২ বছরের লাইসেন্স বাতিল।
* সর্বশেষ যন্ত্রণা গাড়ির সামনে পিছনে দুইদিকের নম্বর প্লেট চুরি হওয়া। ২৫ পাউন্ড দিয়ে নতুন নম্বর প্লেট সংযোজন।

এতোসব যন্ত্রণার পরে এখন 'লরির নিচে গাড়িসহ ঢুকে যাওয়া' ছাড়া আর কিছু বোধহয় বাকি নাই। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার ২০০৯ লন্ডন থেকে ম্যানচেস্টার রওয়ানা দিচ্ছি। ৪/৫ ঘন্টার জার্নি। জানি না কপালে কি আছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28899642 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28899642 2009-01-19 21:35:34
যেসব ছবি দেখেছি এই সাইটের খোঁজ পাওয়ার পর এমন সময় গেছে যে প্রতিদিন গড়ে ২টা ছবি দেখা হতো। এযাবত কয়টা ছবি দেখেছি বের করতে গিয়ে অনেক ছবিই খুঁজে পাচ্ছি না। এখন যে লিস্টটা দিচ্ছি সেটা মে, ২০০৬ থেকে শুরু হয়েছে। রিপুর তাড়নায় অনেক আজেবাজে ছবিও দেখেছি, কিছু কিছু বাজে ছবিও রয়েছে, তবে বেশির ভাগই ভালো। ছবিগুলোর দেশ আর নির্মাণকাল কিংবা তথ্য দিতে পারছি না। তবে এই সাইটে গিয়ে সার্চবক্সে ছবির নাম দিয়ে ডিটেইলস পেতে পারেন। যদি সম্ভব হয় যোগাড় করে দেখে ফেলুন। আপাতত ২০২ টি ছবির নাম ক্রমানুসারে দিলাম ...

101 Reykjavik
2001 Maniacs
40 Days And 40 Nights
A Common Thread
A Dirty Shame
A River Called Titas
A Short Film About Love
A Snake Of June
A Woman Called Abe Sada
Abi Titmuss - Tone And Tease
Afternoon Bunk-Up
Against The Wind
All The Pretty Horses
All The Real Girls
Amateur British Hardcore - Vol. 1
Anatomy Of Hell
And God Created Woman
Animal Room
Antibodies
Au Pair Girls
Bachelor Party
Baise-Moi
Barbed Wire Dolls
Behind Convent Walls
Belle De Jour
Betty Blue
Between Your Legs
Big Stories, Small Flashes
Bilitis
Bitter Moon
Blissfully Yours
Blow
Blue Velvet
Boogie Nights
Boy Eats Girl
Boys Don't Cry
Brigitta
Business Is Business
Christiane F
Damage
Dans Ma Peau
Dark Habits
Dead Ringers
Death In A French Garden
Demoniacs
Dinner Party
Disclosure
Dog Days
El Bola
En Attendant le Deluge
Eros
Eugenie De Sade
Facing Window
Family 1
Fellini's Roma
Fiona Richmond - Hardcore
From Hell
Gate Of Flesh
Gia
Girl Slaves Of Morgana Le Fay
Girl With A Pearl Earring
Golden Balls
Grande Ecole
Green Card Fever
Groove
Head On
Histoires De Marie Et Julien
I Think I Do
Ilsa The Wicked Warden
Immoral Tales
In A Man's World
In The Mood For Love
Innocence
Inside Deep Throat
Intimacy
Jesus Of Montreal
Jezebel's Kiss
John Tucker Must Die
Julia
Juste Avant La Nuit
Karla
Kika
Kung Fu Hustle
La Balance
La Lectrice
La Reine Margot
Lady Chatterley's Lover
Laura - A Pastel Study of Young Female Beauty
Law Of Desire
Le Fate Ignoranti
Le Pacte Du Silence
Les Bijoutiers Du Clair De Lune
Les Seins De Glace
Live Flesh
Lost And Delirious
Love Camp
Love Object
Love Rites
Lover's Guide, The - What Women Really Want
Lower City
Luster
Maitresse
Man Is A Woman
Marebito
Matador
Max Mon Amour
Mediterraneo
Merci La Vie
Minor Mishaps
Moolaade
Mr And Mrs Smith
My Summer Of Love
Naked, The - A Psychological Film
Nikita
Not Angels But Angels
Novo
Nowhere
Of Freaks And Men
One Deadly Summer
Over-Sexed
Passion
Pepi Luci Bom
Perfect Catch
Persona
Premiers Desirs
Purgatory
R.S.V.P.
Rabid
Raspberry Reich
Rendez-Vous
Romance And Cigarettes
Sadisterotica
Sahara
Secretary
Secrets Of A Chambermaid
Sex And The Emperor
Sex And The Studio - The Studio Episodes
Sex Is Comedy
Sexual Predator
Shivers
Show Me Love
Sid And Nancy
Snow / Woman
Somersault
Sonny
Street Of Joy
Summer Things
Summer With Monika
Sylvia
Tenebrae
Tesis
The Beast
The Bedroom
The Consequences Of Love
The Damned
The Dirty Secretary
The Dream Of Garuda
The Escort
The Fourth Man
The Girl From Paris
The Girl Of Your Dreams
The Hairdresser's Husband
The Hitcher
The Idiots
The Key To Sex
The Keys to the House
The Labyrinth Of Love
The Monkey's Mask
The Other Side Of The Bed
The Pelican Brief
The Pornographer
The Principles Of Lust
The Prostitute
The Quest
The Realm Of The Senses
The Rite
The Sentimental Education Of Eugenie
The Serpent's Egg
The Tit And The Moon
The Vanishing
The Voyeur
Them
Time Regained
Top Spot
Tout Va Bien
Trop Belle Pour Toi
Turkish Delight
Under The Sand
Unknown Pleasures
Valmont
Veer Zaara - Feature
Visions Of Ibiza, The - Vol. 2 - DVD
Visitor Q
Vivre Sa Vie
Volver
Water Drops On Burning Rocks
Weak At Denise
Wild At Heart
Wild Side
Y Tu Mama Tambien
Young Doctors In Love
Zeta One ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28898370 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28898370 2009-01-16 19:46:52
সেই ২০০৮ জানুয়ারির পর গত ৫ জানুয়ারি ২০০৯ মুক্তি পাইলাম। মনে আছে ছাগু/রাজাকর তাড়ানোর সেই জানুয়ারি ২০০৮ এর ঘটনা? মারা গেছিলাম সেদিন। গত ৫ জানুয়ারি বাইচা আইলাম। এমন সময়ে পুনর্জীবনটা ঘটল যখন বাংলাদেশের সম্পন্ন নির্বাচনে জামাতকে বাংলার মানুষ পর্যুদস্ত করল। এমন দিনে বেঁচে ফিরে আসাটাই সুখের বিষয়। আপনাদের সঙ্গে আশা করছি সামনের দিনগুলো ভালো যাবে।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28894763 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28894763 2009-01-08 20:03:42 জনমত জরিপ @ রংপুরের পথে পথে : ০১ প্রথম পর্ব

আমাদের যাবার কথা ছিল পীরগঞ্জ। সংসদীয় আসনে এটি রংপুর-৬। যতোদূর মনে পড়ে এরশাদের নির্বাচনী এলাকা। অংপুরের ছাওয়াল তো এমনি এমনিই পাস করবে অথচ এই আসনটি কিভাবে মার্জিনাল হলো আমি বুঝতে পারি না।

বাসস্ট্যান্ডে নেমে প্রথমেই নাস্তা করে নিলাম। সারারাত বাসজার্নির পর সকালের নাস্তাটা ভালোই লাগে। মাংস, ভাজি আর ডিম সহযোগে পরোটা খেয়ে ফেললাম গোটা চারেক। তারপর চা-সিগারেট খেয়ে পনির ভাইকে বললাম, চলেন হোটেল ঠিক করি। পনির ভাই আশ্চর্য হয়ে বলল, কিসের হোটেল? যাব তো পীরগঞ্জে। রংপুরে হোটেলে থেকে প্রতিদিন আসাযাওয়া করতে পারব না। পীরগঞ্জ এখান থেকে অনেক দূর।

খোঁজখবর নিয়ে একটা লোকাল বাসে উঠে পড়লাম। সম্ভবত ৩০ মিনিট পরেই পীরগঞ্জ পৌঁছে গেলাম। পনির আর মীরা পীরগঞ্জেই খুঁজে পেতে বের করে ফেলল তাদের জাহাঙ্গীরনগরের এক সহপাঠীর বাসা। বাসায় সামনে যেতেই এক ভদ্রলোক সম্ভাষণ জানিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলেন, থাকার জায়গা দেখালেন। আমি খুবই অবাক হলাম। পরে জানতে পেরেছিলাম যে, পনির ভাই আগেই জানতেন তিনি পীরগঞ্জ আসবেন আর তাই সহপাঠীকে বলে তাদের বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আমিও খুশি হলাম। অনেকগুলো টাকা বেঁচে যাবে।

যে কোনো আসনে যাওয়ার আগে ওই আসনের ইউনিয়নগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হতো। ভোটের ব্যবধান সবচেয়ে কম হয়েছে যেসব ইউনিয়নে সেগুলোর কয়েকটা গ্রামে জরিপ করতে হবে। আমাদের মোট প্রশ্নপত্র ছিল ৪০০টি। অর্থাৎ প্রত্যেকর ভাগে ১০০টি করে। প্রথমদিনের জন্য আমরা প্রত্যেকেই ৫০টি করে প্রশ্নপত্র (কিছু এক্সট্রা) নিয়ে বের হলাম। পনির ভাই আর মীরা এক গ্রুপে এবং আমি আর নীলু আরেক গ্রুপে। পনির ভাইয়ের হাতে ৩০০ টাকা দিলাম সারাদিনের খরচের জন্য। দুইটা রিকশা আগেই ঠিক করা ছিল। আমি আর নীলু বেরিয়ে পড়লাম। রিকশায় যেতে যেতে নীলুর সঙ্গে গল্প শুরু হলো। আমার চেয়ে এক ব্যাচ সিনিয়র এবং জাবির ভূতত্ত্ব বিষয়ে পড়ছে। থাকে ফজিলাতুন্নেসা (২ নং) হলে। নীলু মোটা পাওয়ারের চশমা পড়ত। একটু খাটো ছিল সে।

নীলুও এই প্রথম সার্ভে করছে। সবচেয়ে অবাক করা যে বিষয়টি হলো বাসে উঠার আধাঘন্টা আগে নাকি পনির ভাই নীলুকে বলেছে, চল রংপুর ঘুরে আসি। অমনি নীলু রাজি হয়ে গেছে। দৌড়ে হল থেকে ছোট ব্যাগে কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে বাসে উঠে পড়ে। এই ঘটনা শোনার পর নীলুকে একটু পাগলা কিসিমের মনে হলো। এভাবে হুট করে কেউ বেরিয়ে পড়ে নাকি! যাই হোক, আস্তে আস্তে নীলুর সঙ্গে জমে গেল। প্রথমে আপনি আপনি করলেও পরে তুমিতে নেলে এলো সম্বোধন।

সদর এলাকায় কিছু জরিপ শেষ করে আমরা গ্রামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। রিকশা চলছে তো চলছেই অথচ গ্রাম পাচ্ছি না। রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করতেই বলে, এইতো আর একটু দূরে। প্রায় একঘন্টা পর বিরক্ত হয়ে বললাম, ভাই সত্যি করে বলেন তো আর কতোক্ষণ লাগবে?

রিকশা তখন একটা বিশাল ধানক্ষেতের (ধান ছিল না তখন) পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। রিকশাওয়ালা দূরে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল, ওই যে। দেখলাম অঙ্গুলি নির্দেশিত দিকে অনেকগুলো বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে। আমি রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি রাস্তাটা অনেক দূরে গিয়ে গ্রামের সঙ্গে মিশেছে। রিকশায় চড়ে রাস্তা ধরে গেলে নির্ঘাত আরো আধাঘন্টা লাগবে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ধানক্ষেতের মাঝখানে দিয়ে হেঁটে গ্রামে যাব। অর্থাৎ বিষমবাহু ত্রিভুজের (ব্লগের রামছাগলটা নয়) ছোট বাহু ধরে গ্রামে পৌঁছাব। নীলুকে বলতেই সেও রাজি হয়ে গেল। রিকশাওয়ালাকে বললাম, আপনার রিকশায় আর চড়ব না। আমরা ওই গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে হেঁটেই যাব। আপনি শুধু আমাদের খুঁজে নেবেন। না পেলে গ্রামের লোকজনদের জিজ্ঞেস করবেন।

নীলু আর আমি ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে হাঁটছি। এবড়োথেবড়ো মাটির চাকে হাঁটতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল। আমার পায়ে কেডস ছিল বলে তেমন সমস্যা হচ্ছিল না, কিন্তু নীল বেশ স্লো যাচ্ছিল।

গ্রামে পৌঁছেই আমরা জরিপ শুরু করলাম। আমি কাউকে ইন্টারভিউ করতে থাকলে নীলু পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। নীলু করলে আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম। নীলু কোনো বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের ইন্টারভিউ নিলে আমি ঘরের দাওয়ায় বসে থাকতাম। এভাবে হেঁটে হেঁটে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ইন্টারভিউ নিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি দূরে একটা রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। কাছে যেতেই রিকশাওয়ালা আমাদের দেখে হেসে বলল, আমি জানতাম আপনেরা এই রাস্তা ধইরা আইবেন। তাই আগেই আইসা বইসা আছি। আমরা বললাম, বসে থাকুন তাহলে।

জীবনের প্রথম সার্ভে করছি। পুরা গলদঘর্ম হয়ে পড়েছি। গ্রামের লোকেরা আমাদের সামনে সারাক্ষণই কথা বলছে। যখনই বলি, আসেন একটা ইন্টারভিউ নিই, তখন সরে যায়। সবাই এ ওরে ঠেলে। হয়তো কাউকে বোঝাচ্ছি, ব্যাটা তখন নীলুর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কেবলার মতো হাসছে। মহা মুসিবত। এসব করতে করতে দুপুর হয়ে গেল। পেটে প্রচন্ড খিদে। ক্রমাগত সিগারেট খেয়ে আমার বাংলা ফাইভের স্টক শেষ। বাধ্য হয়ে বিড়ি টানতে শুরু করলাম। অনেক দূর হেঁটে গ্রামের বাজার থেকে (নিতান্তই গরিবী বাজার আর ওইদিন হাটবার ছিল না বলে মাত্র ১টা দোকান খোলা ছিল) কিছু বিস্কিট আর চা খেয়ে নিলাম।

আবার কাজ শুরু হলো। এবার একটু স্পিডি হলাম। এনিহাউ দিনের মধ্যে ৫০টা পেপার শেষ করতে হবে। এদিকে আরেক মুসিবত হলো গ্রামের ছোট ছোট ছেলেপিলে। সারাক্ষণই পিছনে লেগে রয়েছে। নীলু হয়তো কোনো বাড়ির ভেতরে গেছে, আমি বসে বসে সিগারেট খাচ্ছি। নীলু বেরিয়ে এলেই চিৎকার করে উঠে, ওইত্তো মাইয়াডা আইছে। একজন আরেকজনের সঙ্গে ফিসফিস করে, অই, অরা কি জামাই-বউ? শার্ট-প্যান্ট ধরে টান দেয়। কারো হয়তো ইন্টারভিউ নিচ্ছি, কি লিখি দেখার জন্য ঝুকতে ঝুকতে পিঠেই উঠে গেল। মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগত। কিন্তু সামলে নিতাম।

এবার গ্রামটা সম্পর্কে বলি। নাম ভুলে গেছি কিন্তু খুব গরিবী একটা গ্রাম। লক্ষ্য করলাম, গ্রামের বাড়িগুলোর উঠোন কিংবা আশেপাশের কোথাও কোনো সবজির চাষাবাদ নেই, কচুঘেচুও নেই। এসব সবজি, কচুঘেচু তো ‍ফেলে দেয়া বিচি থেকে এমনিতেই হওয়ার কথা। গাছপালাও তেমন নেই। বাড়িগুলো সব মাটির তৈরি। এবং ঘরতৈরির মাটি যেখানে থেকে খুঁড়ে আনা হয়েছে সেটা যথেষ্ট গভীর হলেও কোনো পানি জমে নেই। অথচ আমার গ্রামের বাড়িতে (ফেনী) দেখেছি, সামান্য গভীর হলেই মাটির তল থেকে পানি উঠে আসে। বৃষ্টিও খুব হয় না মনে হয়। গ্রামে বাজার বলতে (আগেই উল্লেখ করেছি) একটাই। তাতে হাতে গোণা ৩/৪টা দোকান। গ্রামের মানুষগুলো সহজ-সরল। গ্রামের মহিলারা খালেদাকে রাণী বলে জানে। সেটাও মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমি কখনো ভাবতেই পারিনি, বাংলাদেশের কাউকে হরতাল কি, এইটা বোঝাতে হবে।

প্রশ্নপত্রে হরতাল সম্পর্কিত একটা প্রশ্ন ছিল। এক বয়স্ক লোকের কাছে এটার উত্তর জানতে চাইতেই সে আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করল, হরতাল কি? আমি একটা ধাক্কা খেলাম। সামলে নিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, এই ধরেন বনধ কিংবা দোকান পাট বন্ধ থাকে কিংবা অনেক মিছিল হয়, ভাংচুর হয়। বয়স্ক লোকটি প্রবলভাবে মাথা নাড়িয়ে বলল, না-না। আমগো এহানে এসব কিছু হয় না। গাড়ি সবসময়ই চলে। ওই যে দেহেন চলতাছে।

তাকিয়ে দেখি দূরে দুইটা মহিষের গাড়ি যাচ্ছে। আমি লোকটার দিকে তাকাই। তার সরলতায় হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না। হরতাল সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে কি লিখব এখন আমি?

আরেকটি প্রশ্ন ছিল এরকম যে, আপনার সংসদ সদস্য গত ৫ বছরে এলাকায় কি কি কাজ করেছে। এই প্রশ্নের উত্তরে কেউ হয়তো সংসদ সদস্যের ভালো ভালো কাজ বলতে শুরু করল, অমনি পাশ থেকে কেউ কেউ বলে উঠল, এ্যাহ। এইডারে ভালা কাজ কয়? হেয় যে ওইদিন এই খারাপ কামডা করল। ব্যস, গেল আমার ইন্টারভিউ, ঝগড়া শুরু হয়ে গেল দুইপক্ষে। অনেক কঠিন হয়ে যেতো এমন পরিস্থিতি সামলাতে।

সবচেয়ে অপ্রীতিকর যে প্রশ্নটির সম্মুখীন আমি আর নীলু (এবং পরবর্তীতে অন্যান্য জেলাতেও) হয়েছি সেটা হলো, আমাদের এসব করে কি লাভ? কয় টাকা পাই কিংবা আমরা কাদের হয়ে কাজ করছি? এক্ষেত্রে শুধুমাত্র রংপুরেই (যেহেতু প্রথম সার্ভে) আমার উত্তর দিতে প্রথম প্রথম জড়তা হতো। পরে অবশ্য পটু হয়ে গেছি। যাহোক, উত্তরটা এমন হতো যে, আমরা ছাত্রমানুষ, দেশে নির্বাচন আসছে। আমরা অমুক সংগঠন চাই যে আপনারাই আপনাদের প্রার্থী নির্বাচন করুন। এজন্য সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য সেই সুদূর ঢাকা থেকে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। মাত্র নমিনেশন দেয়া হয়েছে, বাতিলের সময় আছে। তাই আপনারাই ঠিক করবেন কোন প্রার্থী কতোটা ভালো। ভোট দেয়ার জন্য আপনার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আমরা ছাত্রমানুষ, খাইখরচা পাই। আর এই যে দেশ ঘুরছি, আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি এটাইতো অনেক বড় পাওনা।

হা হা হা। এসব কথা একটু গুছিয়ে বললেই সহজসরল মানুষগুলো মাথা নাড়িয়ে বলত, হ ঠিক ঠিক। আমি মনে মনে হাসি, আহারে, আর কয়দিন পরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীচ্যালাচামুন্ডা এসে, এদের আরো একবার ভেলকি দেখিয়ে যাবে।

প্রচন্ড টায়ার্ড হয়ে আমি আর নীলু প্রথমদিনের কাজ শেষ করলাম। রিকশায় উঠে বসতেই কোমরে ব্যথা টের পেলাম। রিকশা এবার আমাদের অন্য পথে নিয়ে যেতে লাগল। কিছুদূর যেতেই বিশ্বরোডে উঠে পড়লাম। বড় বড় বাসট্রাক হুশহাশ করে পাশ দিয়ে বেরিয় যাচ্ছিল। খুব ভয় করলেও প্রচুর বাতাসে রিকশা ভ্রমণ ভালোই লাগছিল। নীলুর সঙ্গে গল্প শুরু করলাম। তার হলজীবনের কথা, বন্ধুদের কথা, জাবির কথা। আমি তখনো জাবি যাইনি। ক্যাম্পাসের কথা শুনে ভালো লাগল। জানলাম পনির আর মীরা কিছুদিন পরেই বিয়ে করবে। মীরার বাবা ময়মনসিংহের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি। রিকশাওয়ালার সঙ্গেও গল্প করলাম। আমি আর নীলু ঠিক করলাম তার বাসায় যাব। রিকশাওয়ালাকে বলতেই সায় দিল।

সন্ধ্যা হয়ে রাত নেমে গেছে। রিকশাওয়ালার বাড়িতে গেলাম। বেড়ার ঘর। একটা ছেলে আছে তার। খুব অল্প সময় ছিলাম কিন্তু এরমধ্যেই রিকশাওয়ালা নাবিস্কো গ্লুকোজ বিস্কুট আর শরবত পরিবেশন করল। বুঝতে পারলাম সদরে ঢোকার মুখেই যে কনফেকশনারীর সামনে সে থেমেছিল, বিস্কুট কেনার অপকর্মটি তখনই সেরেছে। রিকশাওয়ালার ছেলেকে বখশিশ দিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম।

রাত ৮টায় বাসায় ফিরলাম। পনির আর মীরা আগেই ফিরেছে। বাড়ির মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, রিকশাওয়ালাকে কতো দিব? বললেন, ৬০ টাকা দিয়ে দিন। টাকার পরিমাণ খুব কম হয়ে যায় দেখে আমি বাইরে এসে ৮০ টাকা দিয়ে বললাম আগামীকালও যেন সে আসে। বাড়ির মালিক যখন জানতে পারলেন আমি ৮০ টাকা দিয়েছি, অবাক হয়ে বললেন, কি করেছেন, আমি তো সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০ টাকায় ঠিক করেছিলাম। রাত করে ফেলেছেন তাই ২০ টাকা বখশিশ সহ ৬০ টাকা দিতে বললাম।

এনিয়ে আর কথা বাড়ালাম না। প্রচন্ড টায়ার্ড ছিলাম। পনির ভাইয়ের কাছ থেকে কাগজপত্র, টাকা পয়সার হিসেব বুঝে নিলাম। তার নাকি হঠাৎই ডায়রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। যে বাড়িতেই গেছে একবার করে সেটার টয়লেটও পরিদর্শন করে এসেছে। এই নিয়ে সবাই বেশ কিছুক্ষণ হাসাহাসি করে রাতের খাবার খেয়ে উঠলাম। শুরু হলো দলনেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব।

৪ জনের ২০০ টি প্রশ্নপত্র নিয়ে আমি চেক করতে শুরু করলাম। প্রতিটা প্রশ্নপত্রে আসন, থানা, ইউনিয়ন, গ্রাম লিখতে হলো। কোথাও কোনো প্রশ্ন বাদ পড়েছে কিনা চেক করতে হলো। বাদ পড়ে থাকলে তার আগে পিছের উত্তর মিলিয়ে সম্ভাব্য একটা উত্তর টিক দিয়ে পাশে ফুটনোট লেখা অথবা সেটা অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবে চিহ্নিত করা ইত্যাদি হাবিজাবি করতে করতে রাত ১২টা বেজে গেল। পিঠ ব্যথা করছে। সারাজীবনেও এতো হাঁটিনি। কাগজপত্র গুছিয়ে চটজলদি ঘুমাতে চলে গেলাম।

প্রথম পর্ব
_____________________________
সংলাপগুলো রংপুরের ভাষায় দিতে পারলাম না। কারণ পারি না। প্রায় ১০ বছর আগের ঘটনা। অনেক কিছু ভুলে গেছি, মনে করে করে লিখছি। ফলে ঘটনার ধারাবাহিকতা থাকছে না। লেখাটা যে কি টাইপের হচ্ছে বুঝতে পারছি না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28754957 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28754957 2007-12-29 22:19:08
জনমত জরিপ @ প্রারম্ভিক
তবে আজকের পোস্টের বিষয় অন্য। জনমত জরিপ। কোর্সের শেষের দিকে আমাদের বলা হলো জরিপ করতে হবে সারাদেশব্যাপী। তারই রিহার্সাল হিসেবে আমরা ঢাকা শহরে একটা সার্ভে সম্পন্ন করলাম। তখন ১৯৯৬ সাল। সারাদেশ নির্বাচনমুখী। রাজনৈতিক দলগুলো নমিনেশন দিয়ে দিয়েছে। তো আমাদের এই নির্বাচনী জরিপ করতে হবে। সে মোতাবেক, আমাদের প্রস্তুতি হিসেবে কিছু ছোটখাট ওয়ার্কশপও করানো হলো। আমরা যারা নতুন তারা খুব গম্ভীর হয়ে জরিপ সংক্রান্ত মারপ্যাঁচগুলো শেখার চেষ্টা করে গেলাম। আমি খুব কষ্ট করে কয়েকটা জিনিস মনে রাখার চেষ্টা করলাম। যেমন,

() বয়সের ক্ষেত্রে যদি প্রথমজন ১৮-২৫ হয়, তবে দ্বিতীয়জনের বয়সশ্রণী যেন ২৬-৩৫ হয়।
() পেশার ক্ষেত্রেও তাই, পরপর একই পেশার কাউকেই যেন ইন্টারভিউ না নেয়া হয়।
() গ্রামে যেন ডান পাশের এক বাড়িতে ইন্টারভিউ সেরে তার ৩/৪ টা বাড়ি পর বাম পাশের কোনো বাড়ির কারো ইন্টারভিউ নিই।
() বাজারে, চা-র দোকানে ইত্যাদি জমায়েতপূর্ণ জায়গায় যেন একটাই ইন্টারভিউ নেয়া হয়।
() প্রশ্ন বলার পর তার কখগঘ উত্তরগুলোর কোনোটাতেই যেন আলাদাভাবে জোর না দেয়া হয়।
() কেউ সময় দিতে চাইবে না। প্রথমে এড়িয়ে যেতে চাইবে, সেটা যেন নিজ দক্ষতায় ম্যানেজ করে নিই।

যাহোক, আরো কি কি সব জানি শিখিয়েছিল, আমার কিছুই মনে নেই। তবে যে বিষয়টা আমি খুব তাড়াতাড়ি বুঝে নিয়েছি তা হলো আমাদের হাতখরচ কতো দেয়া হবে। আর অতি উৎসুক হয়ে ছিলাম এটা জেনে যে আমাদের সঙ্গে মেয়েরাও যাবে। জীবনে এই প্রথম মেয়েদের সঙ্গে ঢাকার বাইরে যাব। এর আগে শুধু ফারহানাকে মাঝে মাঝে বুড়িগঙ্গার ওপারে পৌঁছে দিতাম অথবা সদরঘাট থেকে গুলিস্তান আসার পয়সা থাকত না দেখে ইতির সঙ্গে সিদ্দিকবাজার পর্যন্ত রিক্সায় আসতাম।

এবার আমাদের জিজ্ঞেস করা হলো কে কোন জেলায় যাব। সারা বাংলাদেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে মার্জিনাল আসনগুলো বেছে নেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ যে আসনগুলোর মাঝে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে ২০০-৩০০০ ভোটের ব্যবধান রয়েছে। সে মোতাবেক যে কয়টি আসন বা জেলা সিলেক্ট করা হয়েছে তারমধ্যে রংপুর হলো সবচেয়ে দূরবর্তী জেলা। আমি চট করে সেটাই বেছে নিলাম। ততোদিনে আমি চাকরি করি বিধায় আমার একটা আলাদা দাপট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমাকে দলনেতাও নির্বাচন করা হলো। অথচ তখন পর্যন্ত জানি না আমার গ্রুপের অন্য সদস্যরা কারা? আমি জানতে না পেরে একাউন্টসে গিয়ে টাকা পয়সা তুলে রংপুর যাওয়ার ৪টা টিকেট কিনে ফেলি।

এই এনজিও-র একেবারে গোড়ার দিকে আরেকটা সার্ভে হয় সেখানে জাহাঙ্গীরনগরের ছেলেমেয়েরা অংশ নিয়েছিল। আমরা কোর্সে ছাত্রছাত্রী ছিলাম ৪০ জনের মতো। তাই এবারও জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রছাত্রীদের ডাকা হলো। আমার সঙ্গে পরিচয় হলো জাবি-র এক ছাত্রের সঙ্গে। অফিস থেকে বলা হলো, সেই আমার গ্রুপের বাকি ৩ জনকে ম্যানেজ করে দেবে। আমি সেই ছাত্রের (নাম ভুলে গেছি) কাছে জানতে চাইলাম আমার গ্রুপের অন্য সদস্যদের ব্যাপারে। সে আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করল, আপনি আজ রাত্রে রওনা দেবেন না? টিকেট কেটেছেন?

আমি হ্যা বলার সঙ্গে সঙ্গে বলল, তাহলে আমাকে তিনটা টিকেট দিয়ে দিন। আপনার গ্রুপের বাকিরা প্রান্তিক থেকে উঠবে। আপনি বাস ড্রাইভারকে বলে রাখবেন জাহাঙ্গীরনগরের প্রান্তিকে যেন বাস থামায়, লোক উঠবে। আমি নলা সব বুঝে তার হাতে তিনটা টিকেট তুলে দিলাম।

কোর্সমেটরা কে কোথায় কখন যাচ্ছে, তাদের সদস্য কারা এসব খোঁজ নিতে নিতে দেখি, হায় আল্লাহ, অনেকের গ্রুপে দেখি কোনো মেয়েই নেই। তবে যে বলল, প্রতি গ্রুপেই ১জন হলেও মেয়ে থাকবে। আমার গ্রুপেও কি তাহলে ...
_______________________

রাত ৯টায় বাস ছাড়ল গাবতলী থেকে। আমি বাসের একবারে সামনের চারটা টিকেট কেটেছিলাম। প্রায় আধাঘন্টা পর বাস প্রান্তিকে থামতেই একটা ছেলে ও দুইটা মেয়ে উঠে এলো। আমি বসেছিলাম ড্রাইভারের পিছনে জানালার সিট ছেড়ে। দেখলাম, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে গেটের কাছের সিটদুটোয় বসে গেল। আর অন্য মেয়েটা সুড়সুড় করে আমার পাশে এসে বসল। ধারণা করলাম টিকেটের গায়ে সিট নাম্বার দেখেই তারা ধারণা করে নিয়েছে। ছেলেটা সিটে সুস্থির হয়ে বসে বলল, আমার নাম পনির, আর ও হচ্ছে মীরা।

আমার পাশের মেয়েটা বলল, আমার নাম নীলু।

আমি দাঁত কেলিয়ে সবাইকে সম্ভাষণ জানালাম। জরিপের কাজটা সম্পর্কে একটু ধারণা দিতে চাইলাম। ছেলেটা বলে উঠল, ওসব আমরা অনেক করেছি। আপনি চাইলে সকালে বুঝিয়ে দিয়েন। এরপর হালকা কিছু কথাবার্তা বলে পনির আর মীরা দুজনেই ঘুমানোর আয়োজন শুরু করল। বাসের সুপারভাইজার তখন সবাইকে ফান্টা আর স্যান্ডউইচ দিচ্ছিল। আমি আর নীলু ফান্টা নিলাম শুধু। নীলুর সঙ্গে কথা বলা শুরু করলাম। কিন্তু বেশিদূর এগোনো গেল না। জড়তা রয়েই গেল।
_______________________

বাস ছুটছে আরিচার দিকে। রাত তেমন বেশি হয়নি। অথচ আশ্চর্য পুরো বাসটিই ঘুমিয়ে গেছে। পনির আর মীরা তো সেই কবেই! পাশ ফিরে দেখি নীলুও চোখ মুদে আছে। আমি ফান্টায় চুমুক দিই। শীত শীত করে উঠে। হালকা অন্ধকারে বাসের গর্জন আর বাতাসের শব্দ ছাড়া আর কিছুই নেই। আরেকবার ফান্টায় চুমুক দেই। টুং করে শব্দ হতেই খেয়াল করে দেখি নীলুর পায়ের কাছে আধখাওয়া ফান্টার বোতল। একটু দুলছে, আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি বোতলটার দিকে। দুলে উঠে পড়ে যেতে গেলেই যেন খপ করে ধরে ফেলতে পারি সেলক্ষ্যে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি, তাকিয়ে থাকি, তাকিয়েই থাকি ...

পরদিন সকালে রংপুর বাসস্ট্যান্ড আমার ঘুম ভাঙ্গে।
_______________________

এই সিরিজে ব্যবহৃত নামের সবগুলোই ছদ্মনাম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28754471 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28754471 2007-12-28 00:43:30
ঈদের দিনে না খাইয়া আছি ...
আমি খাওয়া নিয়া কখনোই আহ্লাদি, আগ্রহী ছিলাম না। কিন্তু আজকে আমার খুব করে পোলাও মাংস খাইতে ইচ্ছা করতাছে।

সকালবেলায় সেমাই, ফিন্নি, পায়েস, জর্দা কিছুই জুটে নাই। ফুন কইরা মায়রে অবশ্য মিছা কইছি। কইছি যে সব খাইছি। মায় হাসছে। কয়, বেশি কইরা খাইয়া লইস।

আর আমি হালা অফিসে বাল ফালাইতাছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28752758 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28752758 2007-12-20 00:19:54
আমি ছাই আগেই ভালো ছিলাম ... ভুরু নাচিয়ে কলকল করে
ঢলঢল করে ঢলে পড়ে
তারপরও তাদের ছুঁতে পারি না
ধ্যাত্তরি, আমি ছাই আগেই ভালো ছিলাম ...

আমি লেস্টারস্কয়ারের সেক্সশপ দেখি
অজানা ভাষায় হেঁটে চলা নিতম্ব
আর তাদের স্তনের গিরিখাত দেখি
দেখি আর চোখ ফিরিয়ে নিই
ধ্যাত্তরি, আমি ছাই আগেই ভালো ছিলাম ...

থিয়েটারের মেয়েটি বলত, তুমি নচ্ছার, দুষ্টু
শুধু আমার ঠোঁটই চোষো, জানো না
আমার বুকে তুমি হারিয়ে যেতে পারতে
আমি হাসি, আর তাকিয়ে থাকি
হায়, আমি তখন বেশ ভালোই ছিলাম ...

বিদেশ বিভুঁইয়ে বিভ্রান্ত এখন
খুঁজে ফিরি, খালি খুঁজে ফিরি
তুমি কানতা, আমি তখন হাসতাম
হাসতাম আর এখনো হাসি, আর ভাবি
ধ্যাত্তরি, আমি ছাই আগেই ভালো ছিলাম ...

তুমি ফোন এখনো করলে না, জানি
তুমি ব্যস্ত তাকে নিয়ে, ওরও
আজকে বিশেষ দিন, পারো না তা এড়াতে
তুমি চাও নিশ্চিত জীবন, আর আমি.
ফাজিল একটা, তাই, ধ্যাত্তরি
আমি ছাই আগেই ভালো ছিলাম ...

শোনো বাল, তোমারে আমি ভালোবাসি
হা হা হা হা হা হা হা (মাতালের হাসি)
আমার ওরে চোদার টাইম নাই
সেইটা তুমিও জানো, জানো বলেই
তুমি আপোষ করো, আর আমি
ধ্যাত্তরি, আমি ছাই আগেই ভালো ছিলাম ...

তুমি তো আমাকে ফোন করবেই
আজ নয়তো কাল, নয় পরশু, নয় তরশু
তুমি থাকতে পারবে না আমাকে ছাড়া
পারবে না তুমি থাকতে একদমই
বললাম তো, আমাকে ছেড়ে।

আমি জানি তুমি সংসার করবে
কিন্তু ভালো তো বাসবে শুধু আমাকে
হা হা হা হা হা হা হা হা (মাতালের হাসি)
আমি তাই ভেবে এখন খুব ভালো আছি।
আমি ছাই আগামীতেও ভালো থাকব ...

কারণ আমি জানি যে
তুমি নিশ্চিত জানো
আমি ছাড়া আর কেউ
তোমাকে এতো ভালোবাসেনি।
ভালোবাসবেও না....
-------------------------------------------------
এইটারে কেউ কবিতা ভাবলে নিজ দায়িত্বে ভাববেন
১ সেপ্টেম্বর ২০০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28752739 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28752739 2007-12-19 22:54:13
সন্ধ্যাবাতি'র প্রতি প্রশ্ন @ সাধারণ ব্লগাররা খেয়াল রাখুন।
সাধারণ ব্লগাররাও আগ্রহী হবে আপনার উত্তরের জন্য। আবারও বলছি পিছলাইয়েন না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28751264 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28751264 2007-12-13 10:05:43
আমার 'মাস্টর' বাবা ... - চিনেন ন? আন্ডা মাস্ঠরের হোলা।
- হাছানি? হোলা দি বড্ডা অই গ্যাছে। তো মাস্ঠর বাইত আইছে কবে?
- কাইল্ল্যা আইছে।
- ভাতিজা কি খাইবা? ছা না পান্টা?
- জ্বি না। কিছু খাব না।

ছোট আমি লজ্জায় না বলি। ফুফাতো ভাইদের সঙ্গে টুকটুক করে বাজারে ঘুরে বেড়াই। তখনও জানি না বাবাকে মাস্টার কেন বলা হয়।

একটু বড় হয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করে মজার তথ্য জানি। বাবা যখন মেট্রিক পাস করে তখন গ্রামের সবাই তাকে মাস্টার ডাকা শুরু করে। বাবার আগে গ্রামে আরেকজন মেট্রিকপাস করেছিল। পরে সে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে জয়েন করে। সবাই তাকে মাস্টার বলত। সে ধারাবাহিকতায় মেট্রিক পাসের পর বাবাকেও মাস্টার ডাকার চল শুরু হয়ে যায়। অথচ এই মেট্রিকপাস করতে গিয়ে বাবাকে কম ঝামেলা করতে হয়নি।

অতো বেশি ইংরেজি কেন পড়তে হবে - এই ধারণায় বাবাকে মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়াতে উৎসাহ দেয়া হয়নি। আমার দাদা-দাদী তখন বেঁচে ছিলেন না। তাই বাবারও কারো কাছে আব্দারের জায়গা ছিল না। বাবার ফরম ফিলাপের পয়সা জোগাড় হচ্ছিল না। কিন্তু বাবার খুব ইচ্ছা ছিল মেট্রিক পরীক্ষা দিবে। সেই সময় বাবার দূরসম্পর্কের এক খালা বাবাকে একটা বুদ্ধি দিলেন। নতুন ঘর উঠানোর জন্য তখন দাদাবাড়িতে চাচারা টিন কিনে রেখেছিলেন। বাবা একরাতে সেইগুলো চুরি করে বেচে দিয়ে সোজা চট্টগ্রামের মিরসরাই চলে গেলেন। মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে তবেই ফিরলেন। আমার বাবার সারাজীবনে এটাই প্রথম এবং শেষ সাহসী কর্মকান্ড।

আমার বাবা বিয়েপূর্বক খুব অল্পসময়ের জন্য প্রেম করেছিলেন। মা-র সঙ্গে বিয়ে ঠিক হবার পর বড়মামাকে বাবা পড়াতেন। তখন মা-র সঙ্গে মাত্র এনগেজমেন্ট হয়েছে। সে সময়ে মা-র সঙ্গে নাকি একটু প্রেম প্রেম সময় কেটেছিল। মা আমাদের গল্প করতেন, তোর বাবা যখন ঢাকায় চলে আসবে তখন আমি একটা বড় পেয়ারা দিয়েছিলাম যেন যাত্রাপথে খায়। তোর বাবা সেটা না খেয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরে অফিসের সমস্ত কলিগদের ছোট ছোট ভাগ করে ওই পেয়ারাটা খাইয়েছিল।

বাবা হলেন চরম শান্ত স্বভাবের একটা মানুষ। মা-র হাজারো চেঁচামেচিতে কখনো রা করতেন না। অবৈষয়িক বাবা ঘুষটাও খেতে পারেন না। তার কলিগদের বাড়ি-গাড়ি হয়ে যায় অথচ তার সরকারি কোয়ার্টারের এলোকেশন ক্যানসেল হয়ে যায়। আমার মাস্টর বাবা এসবে বিরক্ত হন না।

একবার বাবা খুব রেগে গিয়েছিলেন। পরীক্ষার আগের রাতে আমি কিশোর থ্রিলার বইয়ের তলায় লুকিয়ে পড়ছিলাম। মা-র হাতে ধরা পড়ে যাই। অমনি মা-র চিৎকার চেঁচামেচিতে সারা বাড়ি মাথায় উঠল। আমার শান্ত বাবাও খেপে গেলেন। দুমদাম মার দিলেন আর পিড়ি দিয়ে টিভিটা ভেঙে ফেললেন। ওইদিন প্রচন্ড ভয় পেয়েছিলাম।

সেই শান্ত বাবাই আরো একবার ভয় পাইয়ে দিয়েছিল আমাকে। ১২ এপ্রিল ২০০৫। ওইদিন রাত ১১টায় আমার লন্ডন ফ্লাইট। জীবনে এই প্রথম বিমানে চড়ব। ঘুম থেকে সকাল ৯টার সময় উঠে বারান্দায় গিয়ে দেখি বাবা পেপার পড়ছেন। আমি আমার রুমে চলে আসি। কিছুক্ষণ পর মা এসে বলে, দেখতো তোর বাবা জানি কেমন করছে। আমি দৌড়ে যাই। বাবা তখন বুকে হাত ঘষতে ঘষতে বলছে, আরে না। আমার কিছুই হয়নি। মা সন্দেহের সুরে বলে, হার্ট এ্যাটাক না তো? আমি তড়িঘড়ি করে বাবাকে সোহরাওয়ার্দী নিয়ে যাই।

বাবাকে হাসপাতালের বারান্দায় মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে। কোনো সিট নেই। আমি দিশেহারা হয়ে যাই। আমার বাবা মাটিতে আর আমি যাব লন্ডনে। ডাক্তাররা একগাদা পরীক্ষা করতে দিয়েছে। আমি পাগলের মতো ছুটছি। লন্ডনের মায়রে বাপ। টিকেট ক্যানসেল করতে হবে। কিন্তু কেমনে? বাবা তখনও কথা বলতে পারে। কাছে ডেকে বলে, তুই চলে যাস। আমার কিছুই হয় নাই। আমি বলি, তুমি কথা বোলো না তো।

এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়ি আমার মোবাইল ফোন নিয়ে। নানান জায়গায় ফোন করে পরবর্তী ২ ঘন্টার মধ্যে সব সিস্টেম করি। প্রচুর আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুবান্ধব দিয়ে হাসপাতাল ভরে ফেলি। বাবাকে সিটে তুলি। বিকেল হয়ে যায়। ডাক্তাররা বলেন, মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে। মাত্র ৪টা সেল কলাপস করেছে। ঠিক হয়ে যাবে। বাবার কাছে যাই। বাবা নরম স্বরে বলে, তুই লন্ডন যা। আমি ঠিক হয়ে যাব।

গত ৯ আগস্ট বাবা রিটায়ার্ড করেছেন। গতবছর বাবার হার্টের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এখন অনেকটাই সুস্থ আছে। সারাজীবন নরম বাবা এখন আরো নরম হয়ে গেছে। ঢাকায় থাকতে বাবাকে আমি জিন্স আর রঙ্গিন টি-শার্ট জোর করে পড়াতাম। ছোটভাইকে বলেছি সবসময় বাবাকে কৌতুক শুনাতে। যেন প্রতিদিনই তিনি কিছুক্ষণের জন্য হাসেন।

বাবা একবার বলেছিলেন, সরকারি স্কেলের সর্বনিম্ন স্যালারি পাওয়া লোকেরাও ঈদ করে, পোস্ট অফিসে টাকা জমায়। কতো এমএ বিএ পাস ছেলে আমার কাছে পিয়নের চাকরি করতে আসে। তোরা কেন পড়াশোনা করস না? ঠেলাগাড়ি চালাইয়া খাইতে হইব।

বাবার এখন সময় কাটে পেপার পড়ে আর ছোটভাইয়ের সঙ্গে গল্প করে। মা-কে বলেছি বাবাকে নিয়ে মাঝে মাঝে গ্রামে যেতে। মা ঝামটা মেরে উঠে, রাখ তোর গ্রাম। তোর বাবা তো প্ল্যান করছে গ্রামে বাড়ি বানাইব।

আমি হাসি। বাবার অবস্থান বুঝতে পারি। ইংরেজি পড়তে গিয়া বাবু হয়ে শহরে স্যাটেল হয়েছে। কিন্তু বাবার সবসময় গ্রামে মন পড়ে থাকে। আমি খেয়াল করেছি বাবা গ্রামে গেলে মন ভাল থাকে। আমার ইচ্ছা আছে শেষ বয়সে বাবা যেন গ্রামে বেশ সময় কাটাতে পারে তার জন্য একটা ছোট বাংলো টাইপের বাড়ি করব। দেখি কতোদূর কি করা যায় ....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28750487 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28750487 2007-12-09 19:48:59
কথা খুঁইজা না পাইলে যা হয় ...
জামাই - আব্বা আপনি বিয়ে করেছেন কাকে?
শ্বশুর - এইতো তোমার শ্বাশুড়িকেই।
জামাই - ও আচ্ছা। তাহলে তো ফ্যামিলির মধ্যেই। বেশিদূর যেতে হয় নাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28749077 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28749077 2007-12-03 06:41:38
সিডর দুর্যোগে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশী কমিউনিটি @ প্রতি : রাগ ইমন
অলৌকিক হাসান,
দেশের প্রতি প্রচুর দায়িত্ব বোধ করেন বলেই জানতাম। "দেশকে যদি মা মানেন, মায়ের বিপদের দিনে আপনি কোথায়?"। চ্যানেল এস এর পক্ষ থেকে কি করলেন, একটা ছোট্ট হলেও আপডেট আশা করেছিলাম কিন্তু। আর আপনি ভালো লেখেন, একটা ভিডিও আপলোড করে কোন মতে দায় সারলেন? আশা করি, সিডার নিয়ে আপনাদের/ লন্ডনের কর্মকান্ড নিয়ে একটা পোস্ট অন্তত দেবেন ।
------------------------

সিডরের আপডেট আশা করছিলা নাকি? বলো নাই তো। জি-টকেও জিগাইতে পারতা। তয় হঠাৎ কইরা এতোদিন পর আমার কাছে আপডেট জানতে চাইছ বইলা সাধারণ ব্লগাররা টাসকি খাইলেও খাইতে পারে। তোমার কমেন্টের মধ্যে কেমন যেন 'এইতো হালা অলৌকিকরে ধইরা ফালাইছি, হুদাই দেশ লইয়া ফাল দেয়, মাগার কিছুই করে না' টাইপের একটা গন্ধ পাইছি। যদিও অনেক দেরিতে গন্ধটা ছড়াইছ। যাউগ্গা, তারপরও জানতে চাইছ বইলা হাল্কা কিছু কই।

জানোই তো লন্ডন হইল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। যদি বাংলাদেশী ধরো তাইলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা। সিডর উপলক্ষ্যে এখানকার কমিউনিটির টিভি-রেডিও-সংগঠনগুলো ফান্ড রাইজ করেছে। চ্যানেল এস বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ১ মিলিয়ন পাউন্ড বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে কালেক্ট করেছে। এবং এদের ত্রাণ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য দুইজন প্রতিনিধিকেও পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে। অন্যান্য টিভি যেমন বাংলা টিভি, এটিএন ইউকে, চ্যানেল আই ইউকে এরাও আলাদাভাবে ফান্ড কালেক্ট করেছে। বাংলাদেশী বিভিন্ন স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনগুলো কনসার্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডোনেশন কালেক্ট করেছে। এখানকার শিল্পী সমাজ বাউলগানের আসরের সমস্ত পয়সা দান করেছেন। সমগ্র ইউকের বাংলাদেশী মালিকানাধীন প্রায় ১২ হাজার রেস্টুরেন্টের প্রতিটি টেবিল থেকে ১ পাউন্ড করে সংগ্রহ করেছে। গড়পরতায় প্রতিটি রেস্টুরেন্টে মিনিমাম যদি ৫০টি টেবিল থাকে তাহলে একটু অংক করে দেখে নাও বাংলাদেশী টাকায় কতো উঠল। এছাড়াও প্রতিটি রেস্টুরেন্টের মালিক-কর্মচারী তাদের একদিনের বেতন দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলাভিত্তিক ও অঞ্চলভিত্তিক (যেমন, ওল্ডহ্যাম বাঙালি এসোসিয়েশন, গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন) সংগঠনগুলো তাদের উদ্যোগে প্রচুর পাউন্ড দেশে পাঠিয়েছে। লন্ডনে প্রচুর বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্যোগে মসজিদ রয়েছে। সেসব ছাড়াও প্রতিটি মসজিদে সিডর আক্রান্তদের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে এবং ফান্ড কালেক্ট করা হয়েছে। যেসব কর্মজীবী বাঙালি এখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান(বাঙালি প্রতিষ্ঠান না), সুপারমার্কেট (যেমন টেসকো, সেইন্সবারি), আছেন তারা স্ব স্ব উদ্যোগে ফান্ড কালেক্ট করেছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রতিদিনই প্রচুর অর্থ জমা হচ্ছে এবং সোনালী ব্যাংক ইউকে সরকারের ত্রাণ তহবিলে টাকা পাঠানোর জন্য কোনোরূপ কমিশন গ্রহণ করছেন না। কিছু কিছু বাঙালি মানি এক্সচেঞ্জ কম্পানিগুলো কমিশনের ক্ষেত্রে রেট কমিয়ে দিয়েছেন।

এছাড়াও বাঙালি ব্যারোনেস পলাউদ্দিন হাউস অফ লর্ডসে সিডর নিয়ে কনফারেন্স করেছেন। সেখানে চ্যানেল এস ভিডিও প্রেজেন্টেশন করেছে। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এখন আসো আমার কথায়। কইলা যে আমি ভিডিও আপলোড কইরা দায়সারা কাম সারছি। কি করুম কও, আমি তো হুদা জনপ্রিয়তা অথবা দেশপ্রেম দেখাই না। আকাইম্যা না থাইক্কা কামে থাকি। আমি আমার প্রফেশনের জায়গা থেকেই দেশপ্রেম দেখাইছি। বিভিন্ন প্রকার প্রোমো, ফিলার, নিউজ এগুলা বানাইছি। এখানকার বিবিসি, চ্যানেল ফোরে পাঠাইছি। হাউজ অফ লর্ডসের ভিডিও প্রেজেন্টেশনে এইগুলা দেখানি হইছে। বিভিন্ন তথ্য এসএমএস কইরা মোটামুটি সবাইরে আপডেট রাখছি। যদিও সবাই এইসময়ে নিজেরাই আপডেট থাকার চেষ্টা করছেন। এইগুলা করনের ফাঁকে ঢাকায় ছোট্ট কইরা একটা ফুন কইরা বাপজানরে দিয়া ত্রাণ তহবিলে দশ হাজার জমা দিছি। হাচাই কই এর বাইরে আর কিছুই করি নাই।

সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশের যে কোনো দুর্যোগের সময় এগিয়ে আসেন। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় লন্ডন তথা পুরো ইংল্যান্ডের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশি। উপরের প্রবাসীদের যে উদ্যোগগুলোর কথা বললাম তা থেমে যায়নি। এখনো চলছে।

বি.দ্র. : ব্লগে যুক্তরাজ্যের অনেক ব্লগার রয়েছেন। সিডর নিয়ে আপনাদের উদ্যোগ বা কর্মকান্ডের কথা এই পোস্টে জানিয়ে যেতে পারেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28748073 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28748073 2007-11-28 05:52:14
সাইক্লোন সিডর ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28747535 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28747535 2007-11-25 19:27:25 বিজ্ঞাপনোষ্টালজিয়া ...
ম্যানোলা মানে টলমল শিশিরের লাবণ্য
ম্যানোলা মানে কমোলীন সুরভী অনন্য।

আহা! কেন যেন মনে হয় সেই মডেলের মতো সৌন্দর্য্য হাল আমলের মডেলরা ধারণ করে না।

এখন শুরু হয়েছে গল্পভিত্তিক বিজ্ঞাপন নির্মাণের ধুম। ভালোই লাগে। অথচ কেন জানি সেরা মনে হয় সেই ফিলিপসের বিজ্ঞাপন,

ও মানিক কি বাত্তি লাগাইলি ..
... মাছের রাজা ইলিশ, বাত্তির রাজা ফিলিপস।

অথবা জীবনবীমার সেই বিজ্ঞাপন। দুটো বুড়োবুড়ি পার্কে হাঁটছে। আহা, কে কবে বানাতে পেরেছে এমন প্রেমের অপরূপ দৃশ্যরূপ।

এখনকার বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনের মডেলদের হাসি প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। হয়তো বা। কিন্তু এই হাসি শেল হয়ে বুকে বিঁধতে পারত যদি ব্যবহার করতেন দাঁতের মাজন। সুরে সুরে পড়ে দেখুন মনে করতে পারেন কিনা,

এপি দশন চূর্ণ সেরা দাঁতের মাজন
দাঁতের মাড়ি শক্ত, করে দশন চূর্ণ
মাড়ির ব্যথায় আরাম দেবে
এপি দশন চূর্ণ

... এপি দশনচূর্ণ এখন থেকে ব্রাশেও ব্যবহার করা যাচ্ছে।

ক্রিকেটাররা এখন কমান্ডো ট্রেনিং নিল। মডেলিংও করে আজকাল। ক্রিকেটের চাপে আজকের ফুটবলের এই তথৈবচ অবস্থা ফুটবলার সালাহউদ্দিন কি তখন ভাবতে পেরেছিলেন গোসল করার সময়?

স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে লাইফবয়
লাইফবয় যেখানে, স্বাস্থ্যও সেখানে
লাইফবয়-য়-য়-য়

অথবা সেই টাচি জিঙ্গেল,

টাচ টাচ টাচ ... গ্যাকোটাচ ...

আজ কই গেল সেই রেক্সোনা অথবা হৃদয় খিঁচে নেয়া ঠোঁট সুরু করে বলা সেই মেয়েটি ইটস কুল...ইটস ফ্রেশ...সুপার লেমনডিউ

ডিটারজেন্টের যুগ তখন ছিল না। কিন্তু মা-দের আত্মবিশ্বাস ছিল ওই জিঙ্গেলে,

এক ঘষাতে অনেক কাচে
কোন সাবান কোন সাবান
নিরালা নিরালা, নিরালা বল সাবান

তাতেও মা-দের মন ভরে না। স্কুলশার্ট আরো শাদা করার জন্য মা-দের কি প্রচেষ্টা। ভাগ্যিস তখন ছিল ওই বিজ্ঞাপনটি,

শেষ হয় না কাপড় ধোয়া
যদি না হয় নীলের ছোঁয়া
রবিন লিকুইড ব্লু

আজকাল এনিমেটেড বিজ্ঞাপনের অভাব নেই। কিন্তু ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে কি ওই বিজ্ঞাপন, যেখানে রাজকন্যার দীর্ঘ চুল বয়ে নিয়ে যাচ্ছে সখীরা। নেপথ্যে বাজছে,

রূপবতী সখী তোরে
কেশবতী করে দিল
এপি পনেরো কেশতেল

অথবা ইভটিজিংয়ের সেই বিজ্ঞাপনটি ?

ও কেশবতী কন্যা,
ফুল নেবে গো ফুল ... নেও না চাঁপা ফুল
চুলে আমার চাঁপা মাখা ... চাই না চাঁপা ফুল

ইউরোপে এসে ইটালির বিখ্যাত চামড়ার জুতা ব্যবহার করি। কিন্তু মন টানে ওই জিঙ্গেল,

রূপসা রূপসা রূপসা
নরম নরম হাওয়াই চপ্পল রূপসা

আচ্ছা প্রথম জিঙ্গেল বেইজড বিজ্ঞাপন কোনটি? অনেকে বলে থাকে মডেল তানিয়ার ইকোনোর সেই বিজ্ঞাপনটি,

লোনলি ডেজ ... লোনলি নাইটস
ইউ আর ফার এওয়ে

আবার অনেকে বলেন সেই বিজ্ঞাপনের কথা যেখানে ওড়না ছাড়া মিতানূরকে দেখে নিয়ত শিউরে উঠতাম,

আলো আলো ... বেশি আলো
শব্দ শব্দে ... মন মাতানো
অলিম্পিক অলিম্পিক ব্যাটারি

কিন্তু আমি মনে করি প্রথম জিঙ্গেলবেইজড বিজ্ঞাপন হলো, অবিস্মরণীয় সেই বিজ্ঞাপন যা টিভি পর্দায় আসলে আমরা লজ্জা পেতাম।

এই মায়া বড়ি খেলে
হবে সুন্দর, ছোট সংসার
মায়া আছে এ জীবনে আপন হয়ে
জীবনের সবটুকু সুখ হয়ে

হায়। আজকের কলমের বিজ্ঞাপনে বলা হয় না ইকোনো লেখে চমৎকার ... এক কলমে মাইল পার। পায়ে নেই জাম্প, জাম্প, জাম্প, জাম্প কেডস। আমাদের বোনেরা ফর্সা হয় না হেনো হেনো লাক্স.....কমপ্লেকশন ক্রীম মেখে। লন্ডনের শীতে আমি পড়তে পারব না আজ ও আগামীকালের পোষাক ... পিয়ারসন্স। কোনো ক্লাবে, পাবে, পার্টিতে আমার স্যুট হয় না সেঞ্চুরি....দ্যাটস হোয়াট আই লাইক-এর। ডি5 টুথপেস্ট-এর সেই চেরী মুখে নেয়া নওরীনের মতো কোনো প্রিয়া আজো হাতটা চেপে ধরল না।

মনে পড়ে যায় মা কতো জোর করত 'অস্ট্রেলিয়া থেকে সরাসরি আমদানীকৃত ... রেডকাউ' খাওয়াতে। ভাবির বাচ্চা হয়েছে, ভাই বাসায় ফিরেই গেয়ে উঠত 'উলে উলে পাপ্পা ... সোনাজাদুমনি লে।' ব্যাগ থেকে উপহার বের করে বাচ্চার সামনে নাচায় আর বলে, 'চোখে পড়লে চোখ জ্বলে না, কান্নাও পায় না ... মেরিল বেবি শ্যাম্পু।' আমার মনে পড়ে যায় দোকানে বাকি করতাম 'যতো খাও ততো মজা ... রিং চিপস'-এর জন্য।

লন্ডনে কতো সুন্দরি ঘোরাফেরা করে। কেউ একবার ফিরে তাকায় না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে স্বান্ত্বনা দিই, 'এগুলো বড়দের খাবার ... তোমাদের জন্য সেরেল্যাক।' চোখের সামনে কোমর জড়িয়ে চলে যায় কোনো ছেলে, যেন মনে মনে আওড়ায়, 'আমি তো এমনি এমনি খাই ... হরলিকস'

তারপরও রঙের দুনিয়ায় গেয়ে উঠি,

দেখো দেখো দেখোরে
রঙ্গের বাহার
দেখো রোমানার বাহার।

অথবা,

রং রং রং রং রং
পেইলাক মনের মতো রঙ

আপনাদের কি মনে পড়ে মৌসুমীর কথা? শাড়ি পরে কোমরে বিছার আছড়ে পড়া সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্য?

প্রিয় প্রিয় প্রিয়
সুন্দরি সুন্দরি সুন্দরি
প্রিয় প্রিয় সুন্দরি
সুন্দরি প্রিন্ট শাড়ি।

অনেক তো হলো। যাওয়ার আগে সুরে সুরে আপনাদের মনে করিয়ে যাই,

কোনো কোনো মা-বোনেরা কয়
শাকসব্জী খাইলে নাকি পেটের ব্যারাম হয়।
... একদম বাজে কথা।
শাক ভালো করে ধুয়ে রান্না করলে বাচ্চাদের পেটের অসুখ হয় না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28741685 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28741685 2007-11-01 03:34:04
ছাগু বিষয়ক হেজাব ও অলৌকিক সংকলিত দুইটি গল্প
একদা এক ছাগু বেহেশতে গমন করিল। সেথায় ঘুরিতে ঘুরিতে এক হূররে দেখিতে পাইল ছাগু। ইহা দেখিয়া তাহার কামভাব হঠাতই জাগ্রত হইয়া উঠিল এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে আব্দারকরণে তাহাকে কাম-কর্ম সম্পাদনের অনুমতি প্রদান করা হলো। তাহার কিছুক্ষণ পরেই ছাগুর আরও একটি হুর-রে দেখিয়া পুনরায় কামভাব জাগিয়া উঠে এবং সে যথারীতি সৃষ্টিকর্তার কাছে এ বিষয়ে আব্দার করিয়া অনুমতি আদায় করিল। সৃষ্টিকর্তা গরজ করিলেন না, কারণ ৭০টি হুর হইল ছাগুর গিয়া আপার লিমিট।

যাহা হোক, কামপর্ব সমাপ্ত হইবার পর ছাগু মহাচিন্তিত হইয়া পড়ে। কিরূপে ছাগু তাহার নি:সৃত বীর্য অর্থাত মাল পরিষ্কার করিবে ? চারিদিকপানে চাহিয়া ছাগু কোনো উপায় খুঁজিয়া পায় না। অবশেষে বেহেশতের এক উদ্যানে আসিয়া ছাগু বেজায় খুশি হইয়া উঠে। সেখানে সে দেখিতে পায় এক ঘোছা ঘাস। ঘাস দেখিয়া ছাগু তাহার ত্রি-ঠ্যাং লইয়া আগডুম বাগডুম ভঙ্গিতে 'জিআরই' 'জিআরই' চিতকার করিয়া ছাগুনৃত্য শুরু করে। এই ঘাস ছাগু খাইবে না বীর্য মুছিবে। অবশেষে ছাগু বীর্য মুছিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আফটার অল বেহেশত বলিয়া কথা। যাহা ভাবা, তাহা কাজ চিন্তা করিয়া ছাগু যেই না একগোছা ঘাস টানিয়া ছিড়িয়াছে অমনি কে জানি তাহার গালে প্রচণ্ড জোরে কষিয়া এক চড় বসাইয়া দিল। ছাগু প্রচন্ড ব্যাথা পাইয়া চমকিত হইয়া দেখে আশু ক্রোধান্বিত হইয়া তাহার দিকে তাকাইয়া আছে।

ছাগু খুব কষ্ট পাইয়া আশুরে জিজ্ঞাসা করিল, ''চড় দিলেন কেন আশু ভাই ?''

আশু কয়, ''দ্যাখ ছাগু। ফ্রি (মুফতে) পাইয়া পরপর দুইটা হুরকে লাগাইয়াছিস তাহা ঠিক আছে। কিছুই বলি নাই। কিন্তু এখন আমার বাল টানিয়া ছিড়লি কেন, তাহা আগে বল?''

ছাগু কিছু না বলিয়া দুই গালে হাত বুলাইয়া 'জিআরই জিআরই' উচ্চারণ করিতে করিতে উক্ত স্থান হইতে প্রস্থান করিল।

২য় গল্প (অলৌকিক সংকলিত)

তখনও ছাগু পৃথিবীতে বর্তমান। মারা যাইবার পর বেহেশত লভ্য হইবে কি হইবে না বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় ছাগু একপ্রকার টেনশন লইয়া দিন গুজরান করিত। অত্যধিক মাত্রায় টেনশন করিতে গিয়া তাহার শরীরে ব্যামো বাসা বাঁধিল, বিছানা লইল ছাগু। ডাক্তার মহাশয় আসিয়া তাহার চিকিতসা শুরু করিলেন। নানাবিধ পরীক্ষা করিয়া ডাক্তার সিদ্ধান্তে উপনীত হইলেন এবং ঘোষণা করিলেন, অদ্য হইতে ছাগুকে তাহার সমস্ত আহারকার্য পশ্চাতদেশের ফুটো দিয়া সম্পাদন করিতে হইবে। এবং তাহাতেই তাহার ব্যামো নিবারণ সম্ভব হইবে। ডাক্তার মহাশয়ের সিদ্ধান্ত শুনিয়া ছাগু অতিশয় বিমর্ষ হইল। পশ্চাতদেশের ফুটো দিয়া সে অন্য কার্য সম্পাদনে অভ্যস্ত ছিল এবং এ বিষয়ে সমস্ত দায়িত্ব সে তাহার হুজুরে আওলা হোসেইন ও তাহার এ-টিমকে দিয়াছিল। তারপরও আরোগ্যলাভের আশায় ছাগু ডাক্তারের পরামর্শ মানিয়া চলিবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করিল।

ইহার পরে পৃথিবীতে আরো বেশ কয়েকবার সূর্য উদিত ও অস্ত গিয়াছে। ছাগু নিয়ম করে নিয়মিতভাবে তাহার পশ্চাতদেশের ফুটো দিয়া খাদ্যবস্তু গ্রহণ করিতে থাকিল এবং নিজে কিঞ্চিত সুস্থ বোধ করিল। কিন্তু একদিন, 'জিআরই' বিষয়ক কিছু কার্যাবলী সম্পন্ন করিবার জন্য ছাগুর গুলশানে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। সে নিমিত্তে ছাগু বাসস্টপে দাঁড়াইয়া ছিল বাসের প্রতীক্ষায়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও বাসের দেখা মিলছিল না। ছাগু বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিল এবং ক্রমাগত দুইপায়ের উপর নাচিতেছিল। অর্থাত কিছুক্ষণ একপায়ের উপর ভর করিয়া পরমুহূর্তে আরেক পায়ের উপর ভর করছিল। দূর হইতে দেখিয়া ভ্রম হয় যেন ছাগু নৃত্য করিতেছে। তো এই ছাগুনৃত্য দূর হইতে বেশকিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করিয়া সেই ডাক্তার ছাগুর কাছে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ''তুমি এরকম দুইপায়ের উপর দাঁড়াইয়া নৃত্য করিতেছ কেন?''

ছাগু ডাক্তার সাহেবকে সালাম জানাইয়া বলে, ''জ্বি না, আমি নৃত্য করিতেছি না। আপনার পরামর্শ মোতাবেক আমি নিয়মিতভাবেই পশ্চাতদেশের ফুটো দিয়া খাদ্য গ্রহণ করিতেছি। আর এই মুহূর্তে আমি চুইংগাম চিবাইতেছি। তাই আপনার কাছে এটাকে নৃত্য বলিয়া ভ্রম হইয়াছে।''

ডাক্তার অতিশয় আনন্দিত হইলেন। তিনি এই প্রথম একজন পাইলেন যে তাহার পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মানিয়া চলিতেছে। ডাক্তার মনে মনে 'ছাগু ছাগু' বলিয়া সেস্থান প্রস্থান করিলেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28720260 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28720260 2007-07-09 22:44:35
আমার একটা 'নদী' ছিল ...
হইচই শুনে আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাই। রিহার্সালের পরের 'খানিক আড্ডা' শেষ করে ছেলেমেয়েরা বেরিয়ে আসছে। রফিক আমার কাছে আসে।

- কি ব্যাপার। তুমি এখনো যাওনি?
- কিভাবে যাব? যা বৃষ্টি। কোনো রিক্সাও তো পাচ্ছি না।
- নীলক্ষেত যেতে রিক্সা লাগে নাকি? চল আমিও যাই।

আমি সোডিয়াম লাইটের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির তোপ বোঝার চেষ্টা করি। বৃষ্টির ধারাগুলো সোনালী হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে নেশা হয়ে যায়। সোনালী নেশা। আমি শার্টের একটা বোতাম খুলে কলারটা মাথায় তুলে দিই। রফিককে বলি, চল যাই।

রফিক দু'পা এগোতেই থেমে যায়। কেউ যেন ডাকছে তাকে। আমি কলারসহ ঘাড়টা ঘুরিয়ে দেখি নদী দ্রুতপায়ে ছুটে আসছে। আমি তাকিয়ে থাকি। আমার ভয় ধরে। বৃষ্টির পানিতে সিঁড়িটা পিচ্ছিল হয়ে আছে। নদীর পা পিছলে যেতে পারে। আমার সারা শরীর টানটান হয়ে যায়। অজানা আশংকায় আমি প্রস্তুত হই। ঘাড়ের রগগুলো টানটান হয়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে কলারের মধ্যে হঠাতই গরম অনুভব করি। অথচ আমাকে সম্পূর্ণ অবাক করে নদী সাবলীলভাবে রফিকের সামনে এসে দাঁড়ায়।

- নীলক্ষেত যাচ্ছ নিশ্চয়ই। আমার জন্যও স্ক্রিপ্টের ফটোকপি নিয়ে এসো। নদী দ্রুত কথাগুলো বলে। হাঁপায়।

আমার শিরা-ধমনী স্থির হয়ে আসে। সংকুচিত দু'চোখ পুরোপুরি মেলে আমি নদীর দিকে তাকাই। বৃষ্টির ফোঁটা সুযোগ ছাড়েনি, নদীর চোখ-মুখ-ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছে। আমি তাকিয়ে দেখি নদী এখন অনেক সুস্থির। রফিকের সঙ্গে হাত নাড়িয়ে কথা বলছে। আমি কলারটা উঠিয়ে নীলক্ষেতের পথে উঠে পড়ি ...

... ঘটনাটি আজ থেকে ১১/১২ বছর আগে। নদীকে প্রথম কোথায় দেখেছি, ভাবতে গেলে এই ঘটনাটাই আমার প্রথম মনে পড়ে। সেই নদী বনানীর চারতলা বিল্ডিংয়ে প্রতিদিন অফিস করে। থিয়েটার তো কবেই ছেড়েছে। ফোন করলে নদী কলকলিয়ে উঠে, জানো? পুরো অফিসটা আমিই সামলাই। বস তো প্রায়ই দেশে থাকে না।

আমি ফোনের ওইপ্রান্তে হাসি। নদীকে নিয়ে আমি কখনো এতোটা আশাবাদী ছিলাম না। পুরো অফিস সামলানোর মতো দক্ষতা আমি ওর মাঝে কখনোই দেখিনি। কেমনে দেখি, নাম তো নদী ... শুধু বয়ে যাবে। সামলাতে হবে কেন ওকে ? এই যে আমি ভেসে গিয়েছিলাম, কই আমাকে তো কখনো সামলায়নি ... এসব কথা মনেই পড়েনি ওর ...

... অফিসের পাশাপাশি নদী এখন তার ছেলে সামলায়, স্বামী সামলায়, শ্বশুর-শাশুড়ি সামলায়। আর বিদেশ-বিভুঁইয়ে বিভ্রান্ত আমি খোঁজ রাখি না, নদী কিভাবে তার মন সামলায় ...


বি.দ্র. : লেখাটি 'অনন্তমৈথুন' এর প্রতি উতসর্গীকৃত। সম্ভব হলে চালিয়ে যাব ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28712571 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28712571 2007-05-26 05:10:26
ভার্চুয়াল ক্যারেক্টার : তারা কারা এবং কেমন ? বলুন তো দেখি ...
আসুন আমরা সবাই একেকজন ব্লগারের চরিত্র আঁকি। বিভিন্ন নিকের ব্লগাররা কেমন, কি করেন, কি খেতে ভালোবাসে, তারা ছেলে না মেয়ে ইত্যাদি। সবকিছুই আমরা বিচার করব তার পোস্টগুলোর মাধ্যমে। আমার বিশ্বাস ব্লগারদের পোস্ট পড়ে সবারই মনে একেকটা চরিত্র দাঁড়িয়ে গেছে। ওইগুলোই শুধু লিখুন। একটাই শর্ত, আপনি যেসব ব্লগারদের ব্যক্তিগতভাবে চিনেন অথবা কোনোদিন দেখা-কথা হয়েছে সামনাসামনি, তাদের নিয়ে লিখবেন না। আপনার অচেনা প্রিয় ব্লগারের সবটুকু তুলে ধরুন, যাকে শুধু আপনি ব্লগেই দেখেন ..


বি.দ্র. : কাউকে রাগিয়ে তোলা বা অপমান করা যেন এই পোস্টের উদ্দেশ্য না হয়। সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি বিষয়টিকে মজা হিসেবে নেবার জন্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28712397 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28712397 2007-05-24 19:30:42
দেবযানীকে দেখব বলে ...
... আমি দেবযানীর কাছে যাচ্ছি। ট্রেনটাকে খুব আপন মনে হলো। ঝিকঝিক শব্দে আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেবযানীর কাছে। আমি ভাবতে চেষ্টা করলাম দেবযানীর মুখটা। আশ্চর্য একদমই মনে পড়ছে না। নিজের উপর বিরক্ত হলাম। এটা কি হচ্ছে? দেবযানীকে প্রথম দেখার স্মৃতি হাতড়ালাম। ঝাপসা হয়ে ধরা দিল দেবযানী। আমি তাতেই খুশি।

ভাবতে লাগলাম দেবযানীর কথা। আমাকে দেখে নিশ্চয়ই খুশি হবে। স্টেশনে আসার কথা রিসিভ করতে। আচ্ছা ও কি ড্রেস পড়বে? দেবযানী একটু মোটাসোটা মেয়ে। একটু কি শুকিয়েছে? না থাক, ওকে একটু মোটাতেই বেশ মানায়। ও পরীক্ষার কথা বলছিল। প্রিপারেশন ভালো হচ্ছে কিনা কে জানে। ওকে বাংলাটা ভালো করে শেখাতে হবে। শুধু বলতে পারলেই কি হয় নাকি? বাঙালির মেয়ে বাংলাটা লিখতে পারে না - হতেই পারে না। বাঙালির সন্তান জীবনে প্রথম অক্ষরটি লিখবে - অ।

কিসব আবোল-তাবোল ভাবছি আমি ! ধ্যাত, দেবযানী তো আমার শুধুই বন্ধু। সেটাকে আরো খাঁটি করে তুলতে হবে। শুধু একবার দেখা আর দুটো চিঠি পেয়েই এতো কিছু ভাবার কোনো মানে হয় না। তবে আমি নিজেই বুঝতে পারছি দেবযানীর সঙ্গে দেখা হবার জন্য বেশ মুখিয়ে আছি আমি।

ঘুমানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু ঘুম আসছে না। দীর্ঘ চারমাস পর দেশে যাব। একটু ভয় ভয় লাগছে। মধ্যবিত্ত বাবার এতোগুলো টাকা খরচ করে `এডিটিং' শিখলাম, কাজ করে খেতে পারব তো? শঙ্কা জাগে মনে। `নাটক করা ছেলে এবার কিসব ছাইপাশ শিখে এসেছে' - বলে ত্যাড়া মন্তব্য করার মতো লোকের অভাব নাই। ধ্যাত, আগে যাই তো বাংলাদেশে।

আমি আবার দেবযানীর কথা ভাবতে লাগলাম। আমি কোথায় থাকব সে ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি দেবযানীকে। আমাকেও দেবযানী নিজে থেকে কিছু বলেনি। আমি গল্প বানাতে শুরু করি। দেবযানীরা হলো আদর্শ ফ্যামিলি। একভাই - একবোন আর বাবা-মা। আমি ভাবতে লাগলাম আমাকে নিশ্চয়ই দেবযানীর ছোটভাইয়ের সঙ্গে থাকতে হবে। আচ্ছা মধ্যরাত পর্যন্ত দেবযানীর সঙ্গে যদি গল্প করি ওর বাবা-মা মাইন্ড করবে না তো ? মনে হয় না। ওর বাসায় কি সিগারেট খাওয়া যাবে ? দেবযানী খুব একটা অপছন্দ করে মনে হয় না। আমি আর রোমেল যখন সিগারেট খাচ্ছিলাম তখন তেমন কিছু মনে করেনি দেবযানী। আমি ভাবতে থাকি, গভীররাতে আমি আর দেবযানী বসে গল্প করছি। গল্পের মাঝপর্যায়ে আমরা দুজনই হাত ধরে থাকি। কিন্তু কেউই খেয়াল করি না। গল্প যেন ফুরায় না। আমাকে ঠেলে ঘুমোতে পাঠায় দেবযানী ...

... ভাবতে ভাবতে নিজেই লজ্জা পেলাম। ইনস্টিটিউটে থাকতে এই চারটা মাস দেবযানীকে একদমই মনে পড়েনি। এমনকি ট্রেনে উঠেও দেবযানীর মুখটা অনেকট কষ্টে মনে করতে হয়েছে। অথচ এই আমিই কিন এখন দেবযানীকে নিয়ে লাভস্টোরি ভাবছি। তারচেয়ে বরং ঘুমিয়ে যাই।

আমি সত্যি সত্যিই ঘুমানোর আয়োজন করলাম। কাঁথা বের করে জড়িয়ে নিলাম। পরদিন ১১টায় ট্রেন বারাণাসী পৌঁছবে। দেবযানী স্টেশনে আসবে। দেখামাত্র কি বলব আমি? দেবযানীই বা প্রথম কি বলবে? এই যাহ। ওর জন্য তো কোনো গিফট নেয়া হলো না। কি ছোটোলোকি কারবার। আমাকে কার্ড পাঠাল, নিয়ম করে দুইটা চিঠিও পাঠাল। আর আমি কিনা কিছুই নিলাম না তার জন্য। নিজেকে কষে চটকানা দিতে ইচ্ছে করল।

মানুষ ঘুমাতে যায় খুব আরাম করে। আমি ঘুমিয়ে গেলাম নিজের উপর একরাশ বিরক্তি নিয়ে .... (চলবে)

ভারতের দিনগুলো : ০১
ভারতের দিনগুলো : ০২
ভারতের দিনগুলো : ০৩
ভারতের দিনগুলো : ০৪
ভারতের দিনগুলো : ০৫
ভারতের দিনগুলো : ০৬]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28710838 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28710838 2007-05-16 09:03:50
ভারতের দিনগুলো : শেষ পর্বের প্রথম কিস্তি
দেবযানীকে একদম ভুলে গেছি। এখন অন্তরজুড়ে রাধিকা। খুবই সুন্দরি মেয়ে। ক্লাশের বিরতিতে একটু হাঁটাহাঁটি করা, মাঝে মাঝে হাত ধরা বেশ চলছিল। ওদিকে শ্বাশতীর পাত্তা একদমই গেছে ইনস্টিটিউটে। প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে নেই- এরকম ঘোষণা দিয়ে শ্বাশতী ঝুলে পড়ল কাশ্মীরের ছেলে অমিতাভের গলায়। সেই থেকে শ্বাশতী হয়ে গেল সবার চক্ষুশূল। সবার একই কথা, কি দরকারটা ছিল তোর বলার প্রেম করবি না। শ্বাশতীর দোষ এই একটাই। তার সে কি প্রেম! একসঙ্গে না হলে খাবে না, অমিতাভের ক্লাশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শ্বাশতী কোথায় নড়বেই না। সবারই খুব বিরক্তিকর লাগছিল বিষয়টা।

সিমলার ছেলে রজনীশ ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। দেদারসে খরচ করত। অন্যান্য ইন্ডিয়ান ছেলেদের মতো কিপটা না। আমি, রাধিকা, রজনীশ মিলে বেশ আড্ডা দিতাম। এরকম একদিন ক্যান্টিনে আড্ডা মারছি, হঠাৎই সুরেশ স্যারের ডাক পড়ল। আমার নাকি চিঠি এসেছে। অবাক হলাম, আমাকে কে চিঠি লিখবে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ ছিল তখন।

সুরেশ স্যারের রুমে গিয়ে চিঠি নিয়ে এলাম। দেবযানী লিখেছে। সঙ্গে একটা নিউইয়ার কার্ড। চিঠি খুলে পড়তে শুরু করলাম। কাকের ঠ্যাং, বগের ঠ্যাং স্টাইলে চিঠি লিখা। দেবযানী আসলে বাংলা লিখতে পারে না। অনেক কষ্ট করে আমার জন্যই সে এ চিঠিটা লিখেছে। বারাণাসীতে আমাকে দাওয়াত দিয়েছে সে। কোনো এক ফাঁকে যেন যাই বেড়াতে। আমিও মনে মনে ঠিক করলাম যাব একদিন।

একদিন ক্যান্টিনে এক ছেলের সঙ্গে তুমুল লেগে গেল আমার। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল। কথায় কথায় সঞ্জয় বলল, বাংলাদেশ জাস্ট ফর ইন্দিরা গান্ধী। আমার তো মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল। তাকে বুঝাতে চাইছিলাম, ইন্ডিয়ার সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু এটা ভাবলে চলবে না যে স্বাধীনতার জন্য আমরা তোমাদের (ইন্ডিয়া) মুখাপেক্ষী হয়ে ছিলাম। যাহোক, ঝগড়া হাতাহাতির পর্যায়ে যাওয়ার আগেই অন্যান্যরা থামিয়ে দিল।

কিভাবে যে চারমাস কেটে গেল বুঝতে পারিনি। প্রোডাকশন টাইম চলে এলো। সবাই খুব সিরিয়াসলী প্রোডাকশন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। শ্বাশতী খুব ভালো অভিনয় করেছে। সবাই তাকে এপ্রিশিয়েট করলাম। এবং যথারীতি শ্বাশতী অমিতাভের প্রোডাকশনে সবচেয়ে ভালো অভিনয়টা করল। সার্টিফিকেট যেদিন দেয়া হলো, ওইদিন রাত্রে আমরা সবাই মিলে উদ্দাম পার্টি দিলাম। মদ, গাঞ্জা, ভাঙ কোনো কিছুরই অভাব ছিল না সেদিন। রাধিকা-শ্বাশতীকে নিয়ে প্রচন্ড নাচানাচি করলাম।

পার্টি শেষ হয়ে এলো। পরদিনই হস্টেল খালি হয়ে যাবে। কে কোথায় চলে যাবে, তার কোনো ঠিক নেই, আবার কি কখনো দেখা হবে, কেউ বলতে পারে না। সবার খুব মন খারাপ। পানীয়ের কারণে অনেকেই কাঁদতে শুরু করেছে। আমি একমাত্র বাংলাদেশী ছেলে হওয়াতে সবাই আমার কাছেই বেশি আসছিল। ওদের কারো কারো হয়তো দেখা হবে, কিন্ত আমার সঙ্গে নাও হতে পারে। রাধিকা সেদিন আমাকে অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে রেখেছিল। সারাক্ষণ রাধিকার সঙ্গে ছোঁক ছোঁক করা আমি ওইদিন একেবারেই নিরস হয়ে ছিলাম।

আমার প্ল্যান ছিল কোর্স শেষে বাংলাদেশ যাবার আগে নেপাল ঘুরে যাব। কিন্তু আমার নেপালী রুমমেটের দিল্লিতেই একটা চাকরি ঠিক হয়ে যাওয়াতে সে প্ল্যান বাদ দিতে হয়। কই যাওয়া যায় চিন্ত করছিলাম। তখনই ফোন করলাম দেবযানীকে। বললাম, আমি আসছি। দেবযানী বলল, চলে আয়।

পুরান দিল্লি স্টেশন থেকে মালদহ এক্সপ্রেসে দিল্লি-বারাণাসী এবং তার তিনদিনপর বারাণাসী-কলকাতা টিকেট কেটে ফেল্লাম। ট্রেনে উঠে মন খারাপ হয়ে গেল। চোখের কোণে পানি চলে এলো। এইসব বন্ধুদের সঙ্গে হয়তো আর দেখা হবে না। হয়তো কি, আসলেই তো দেখা হলো না। আমি চোখের পানি মুছে ট্রেণ ছাড়ার অপেক্ষা করতে থাকি।

দেবযানীকে জানিয়ে দিয়েছি কখন পৌছব। দেবযানী বলেছে, আমার জন্য সে স্টেশনে অপেক্ষা করবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28708741 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28708741 2007-05-02 20:17:56
সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটুক : ০১ সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনে যখন জন্ম হলো ছেলেটার, বাবা তখনও অফিসে। সরকারি কাগজে কলম চালাচ্ছেন, জানতেন না তার পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছে। মোবাইল যুগ তখন ছিল না। কেউ আগ্রহভরে সরকারি ফোনে তাকে যে খবরটা জানিয়ে দেবে এমনটিও ঘটেনি। অফিসে ওইদিন বেতন হয়। ধীরে সুস্থে বেতনের টাকাগুলো নিয়ে অফিস ছুটির পর বাবা ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এলাকায় ঢুকতেই খবর পান তিনি আরেকটি পুত্রসন্তানের জনক। বাবা খুশি হন। ঘরে ঢুকেই পকেট থেকে সবগুলো ময়লা টাকার বান্ডিলগুলো ছেলের উপর ঢেলে দেন। মুরুব্বি গোছের দাদি-নানিরা হা হা করে উঠেন। সদ্যভূমিষ্ঠ সন্তানের ছোট্ট শরীরে এখনোই কেন এতো চাপ ?

খ.
ছেলেটা যেন পয়মন্ত। ঢাকা শহরে সাবলেটে থাকত তারা। পরে দুইরুমের একটি ছোট্ট টিনের ঘরে উঠে গেল। সমস্যা শুধু একটাই, সপ্তাহে একবার ঘরের মাটির মেঝেটা লেপতে হতো। সেটারও দিন ফুরায়। পাশের দোতালা বিল্ডিংয়ে টু-লেট পড়তেই ওরা দোতালার একটা এক রুমের ফ্লাটে উঠে যায়। ছেলেটা ততোদিনে বড় হয়েছে অনেক। বিল্ডিংয়ে থাকার মজা সে বুঝে। যদিও কমন বাথরুম আর কমন রান্নাঘরের জ্বালাটা সে বোঝে না। বাবা সরকারি অফিসে কিভাবে যাওয়া আসা করেন তাও সে বোঝে না।

গ.
ছেলেটি স্কুলে যাওয়া আসা করে। দুই বছরের বড় ভাইজানের খাতায় আঁকিবুকি আঁকতে আঁকতে সে স্কুলে যাওয়ার মতো পন্ডিত হয়ে যায়। দুইভাইয়ের একসঙ্গে মুসলমানি হয়। ওই দোতালা বাড়ির ছাদে বিশাল প‌্যান্ডেল হয়। কতোজন লোক সেদিন খেয়েছিল ছেলেটির এখন মনে নেই। তবে তার দিব্যি মনে আছে, অনেক উপহার সে পেয়েছিল। সবচেয়ে অবাক করা উপহারটা ছিল কলমঘড়ি। এই প্রথম ছেলেটি বোধহয় বিজ্ঞানের এমন ব্যবহারে পুলকিত ও আশ্চর্য হয়েছিল।

ঘ.
পাশের বাসায় টিভি দেখতে যেতে হতো ছেলেটির। মাঝে মাঝে মা বাধা দিলেও টিভি দেখার সুযোগটা ছিল। মেঝেতে বসে টিভি দেখতে দেখতে ছেলেটি মুগ্ধ হয়ে যেতো। টিভির একেবারে সামনে বসে একটু ঘাড় উঁচিয়ে দেখতে হলেও তাতে কোনো আপত্তি ছিল না তার। ছেলেটির মনে আছে, একবার আয়না নামে একটি সিরিয়াল নাটক দেখে ভয় পেয়ে বাকিপথটুকু দৌড়ে বাসায় ফিরেছিল ছেলেটি। তারপরও ছেলেটি মা-ভাই সহ মাঝে মাঝে টিভি দেখতে যেতো।

ঙ.
কিন্তু কি আশ্চর্য। একদমই বিশ্বাস হয় না। এমন ঘটনাও পৃথিবীতে ঘটতে পারে ? একদিন সকালে ছেলেটিকে তার মা বলছে, আজকে তারা নাকি টিভি কিনতে যাবে। ছেলেটি কাকে জানাবে এই সুখের কথা। তার যে তেমন বন্ধু নেই। পিঠাপিঠি দুই ভাই সারাদিন আলাপ করতে থাকে টিভি এলে তারা কোথায় রাখবে, কি করবে ? বিকালবেলায় খুব সুন্দর করে সেজেগুজে পুরো ফ্যামিলি বায়তুল মোকাররম যায় জাদুর বাক্স কিনতে। ছেলেটি এখনো মনে করতে পারে, ফিলিপসের টিভি কিনে আনার পর অনেকেই বলেছিল, 'ন্যাশনাল টিভি কিনলে ভালো করতেন। ওইটা অনেক লাস্টিং করে।' ছয়-নয় চ্যানেল মিলিয়ে ছেলেটি ছায়াছন্দ দেখে, টারজান দেখে। আশেপাশের অনেক বাসা থেকে অনেকে আসে। এখন আর ছেলেটিকে ঘাড় উঁচিয়ে টিভি দেখতে হয় না। খাটের এককোনায় বসে সে টিভি দেখতে পারে।

ছেলেটি এখন বুঝতে পারে, তখন থেকে সে মধ্যবিত্ত হতে শুরু করেছিল ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28707757 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28707757 2007-04-24 19:39:01
ওটা মেয়ে গাংচিল। ছেলে গাংচিল এতো নিচ দিয়ে ওড়ে না।
সবার থেকে একটু দূরে ঝাউগাছের আড়ালে বালুর উপর বসে আছে ছেলেটি ও মেয়েটি। মেয়েটি একমনে সমুদ্র দেখছে। ছেলেটি একটি কাঠি দিয়ে বালুতে আঁকিবুকি করছে। মেয়েটি আকাশ পানে তাকায়। কিছুণ পর মুখ নামিয়ে জিজ্ঞেস করে ছেলেকে, কার ছবি আঁকছ? ছেলেটি আঁকতে আঁকতে বলে, তোমার।

মেয়েটি মুখ বাড়িয়ে দেখে। ফিক করে একটু হেসেও ফেলে। তারপর আবার সমুদ্রের দিকে তাকায়। সমুদ্র যেন একটু বেশিই গর্জন করছে আজ।

সূর্য ডুবতে শুরু করেছে। সৈকতের সবার মধ্যেই যেন ফূর্তির জোয়ার। ছবি তোলায় ব্যস্ত সকলে। কিন্তু ছেলেটি তখনো মেয়েটির ছবি আঁকছে।

মেয়েটি গালে হাত দিয়ে সূর্যাস্ত দেখছিল। হঠাৎই বলে উঠল, দেখো দেখো ওই যে গাংচিল। ছেলেটি মুখ তুলে তাকায়। বলে, ওটা মেয়ে গাংচিল।

মেয়েটি অবাক হয়, তুমি কি করে বুঝলে ?
ছেলে গাংচিল এতো নিচ দিয়ে উড়ে না। ছেলেটি ছবি আঁকায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

সূর্য প্রায় ডুবুডুবু। শেষ মুহূর্তের ছবি তোলার জন্য সবাই ব্যস্ত। ছেলেটিরও ছবি আঁকা শেষ। দুজনে উঠে দাঁড়ায়। বালুতটে আঁকা নিজের ছবি দেখে মেয়েটি খুব খুশি হয়। এগিয়ে গিয়ে ছেলেটির গালে আলতো চুমো খায়। এই প্রথম ছেলেটি হাসে। মেয়েটির হাত নিজের হাতে নেয়। ঠিক করে আগামীকালও ওরা ঠিক এ জায়গাতেই দেখা করবে।

এদিকে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। ডুবে যাওয়া সূর্যের লীলাভ আলোয় ঘর চিনে ফিরতে শুরু করেছে সবাই। প্রচন্ড বাতাস, সমুদ্রের গর্জন। বালুতটে আঁকা মেয়েটির ছবি বাতাসে মুছে যায়।

পরদিন। ছেলেটি এসে অপেক্ষা করে। আজকে ওর হাতে একটা গোলাপ ফুল। ফুল নিয়ে পায়চারি করতে থাকে ছেলেটি। কিন্তু মেয়েটি আসে না। অনেকণ অপেক্ষা করে ছেলেটি। বালিতে বসে ছবি আঁকতে থাকে। দূরে উড়ে যাওয়া গাংচিল গুণতে থাকে। তারপরও মেয়েটি আসে না। ছেলেটি অনেকণ অপেক্ষা করে চলে যায়।

তার পরদিনও ছেলেটি আসে কিন্তু মেয়েটি আসে না।

পরদিনও না।
তার পরদিনও না।
মেয়েটি আর এলোই না। ছেলেটি কিন্তু প্রতিদিনই এসে অপেক্ষা করে।

হায়রে! ছেলেটি জানবে কি করে যে মেয়েটির বাবা বাসা চেঞ্জ করেছে এবং মেয়েকে অন্য কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করে দিয়েছে।

নোটিশ ঃ এটা আমার কোনো গল্প না। অনেক অনেক বছর আগে রহস্যপত্রিকায় এ গল্পটি (বিদেশী গল্প) পড়েছিলাম। হুবহু মনে নেই তবে স্মৃতিতে যতোদূর মনে পড়েছে, লিখেছি। ভালো কথা এই গল্পটাই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীার সময় লিখে এসেছিলাম।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28704086 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28704086 2007-03-29 08:47:29
ভারতের দিনগুলো (পর্ব 05) : এ.এ.এফ.টি
ইনস্টিটিউটের প্রথম দিনেই আমি একটা সিল খাইলাম। ক্লাশ শুরুর আগে আগে আমরা হস্টেলের মোট 7জন মিলে চা খাচ্ছিলাম। চা খাওয়ার শেষ পর্যায়ে ক্লাশে যাবার তাগাদা আসলে সবাই তাড়াহুড়ো করে চা শেষ করল। আমাকে বলল, বিলটা দিয়ে দিতে। বলা হলো ক্লাশ শেষে সবাই আমাকে টাকা দিয়ে দিবে। প্রতিকাপ 3 রুপী করে আমি 21 রুপী পরিশোধ করে ক্লাশে চলে গেলাম। কিন্তু ক্লাশ শেষে ওই টাকা আর ফেরত পাইনি। আমি নিজেও কারো কাছে চাইনি। ভাই আপনার চা বাবদ 3 রুপী পাই, দিয়ে দিন - এটা আমি জনে জনে কিভাবে বলি? তাই আমি তখনো এ ঘটনাকে সিল খাওয়া ভাবতে পারিনি। বাংলাদেশে থাকতে কতোই তো বন্ধুবান্ধবকে চা-সিগারেট খাইয়েছি নিজের পয়সায়। কিন্তু দিন পনেরো পর বুঝতে পেরেছি যে ওটা একটা সিল ছিল। এরকম চামে চামে অন্যের উপর চালিয়ে দেয়ার মানসিকতা হস্টেলের সব বন্ধুদের মাঝেই দেখেছি। একজন ছাড়া, সিমলার রজনীশ।

এডিটিং ক্লাশটা এনজয় করা শুরু করলাম। একেবারে নতুন জিনিশ। আর রাধিকার পাশে তো বসার আনন্দ আছেই। ফট ফট করে ইংরেজি বলে রাধিকা। আমার গরিবী ইংরেজি আর খায়েঙ্গা যায়েঙ্গা হিন্দি নিয়ে রাধিকার সঙ্গে সমানবেগে কথা চালিয়ে যেতে লাগলাম। দিনসাতেক পর তার উপকার পেলাম। টিফিন ব্রেকে রাধিকা আর তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে না। আমরা একসঙ্গে ক্যান্টিন যাই। রাধিকা কফি বানিয়ে খাওয়ায় (ওর ব্যাগে সবসময়ই নেসক্যাফে থাকত)।

নিজের গর্ব করছি না কিন্তু দিন পনেরো পর আমিই যে সবচেয়ে ভালো এডিটিং শিখছি সেটা ক্লাশে প্রমাণ হয়ে গেল। সবাই কোনো না কোনো ভাবে আমার কাছে কিছু জানতে চাইত। ইনস্ট্রাক্টর তো বলেই ফেলল, ক্যায়া হে কাম্মু। তু তো আচ্ছা নিকলা রাহে।

আমার সঙ্গে সঙ্গে অনুরাগ টোমার (এখন জি-নিউজের রিপোর্টার) এবং রাধিকাও ভালো করতে লাগল। রাধিকার সঙ্গে সম্পর্ক আরো সহজ হয়ে গেল। আমি রজনীশ, অনুরাগ, রাধিকা মিলে একসঙ্গে আড্ডা মারতাম। ইন্ডিয়ান বিভিন্ন মিডিয়া সেলিব্রেটি আমাদের ক্লাশে আসত। তাদের কথা শুনতাম। শোলে ছবিটার কথা জানলাম। এই ছবিটা ডিরেক্টর এতোই শুটিং করেছিলেন যে তিনি সবকিছু আওলে ফেলেছিলেন। পরে তার এডিটর তাকে স্টুডিওতে আসতে মানা করে দেন। এবং নিজে এডিট করে পরে ডিরেক্টরকে খবর দেন। পরে আবার তারা দুইজন মিলে হালকা কারেকশন করে ছবিটা রিলিজ দেন।

এ.এ.এফ.টিতে মোট চারটি কোর্স ছিল। এ্যাকটিং, ক্যামেরা, এডিটিং, ডিরেকশন। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকেরই 4/5 দিন করে সবগুলোরই ক্লাশ করতে হয়েছিল। ইনস্টিটিউটের সবচেয়ে ভুয়া কোর্স ছিল এ্যাকটিং। পোলাপাইনের পয়সা নষ্ট হইছে বইলা আমার মনে হয়। আমার খুবই কম থিয়েটার চর্চার জ্ঞান দিয়ে বরং ওদের অনেক কিছুই শিখিয়ে দিয়েছি। আমরা হাসাহাসি করতাম যখন কিনা ওরা তলোয়ার ফাইট, ঘোড়ায় চড়া এসব শিখত। ওরা ছিল আমাদের স্নেহের পাত্র। তবে অভিনয় শিখতে আসা কলকাতার মেয়ে শ্বাশতীকে সবাই স্নেহ ছাড়াও আরো অনেক কিছুই দিতে চেয়েছিল।

শ্বাশতী থাকত গার্লস হস্টেলে। বলতে অনেক বড় শুনায় কিন্তু গার্লস হস্টেলটি ছিল দুই রুমবিশিষ্ট। তার একটি ফাঁকা আরেকটিতে শ্বাশতসহ আরো একটি মেয়ে থাকত (অফিসের স্টাফ)। দেখতে তেমন সুন্দরি না শ্বাশতী কিন্তু রাধিকার স্বামীপ্রবর থাকাতে শ্বাশতীই হয়ে উঠেছিল সবার আরাধনা। আমিও একটু হালকা চাম নিতাম। ভাবতাম বাঙালি বলে সুযোগটা বোধহয় আমারই প্রথম আসবে।

কিন্তু শ্বাশতী প্রথমেই সবাইকে ক্লিয়ার করে দিল যে এখানে প্রেম-ট্রেম করতে আসেনি। সবাই তার বন্ধু, সুতরাং প্রেম-ট্রেমের চিন্তা কারো থাকলে বাদ দিতে হবে। শ্বাশতীর এরকম ঘোষণাই ভালোই হলো। প্রেমের চিন্তা বাদ দিয়ে সবাই তার 'সবচেয়ে ভালো বন্ধু' হবার চেষ্টা কর। এরমধ্যে গুজরাটের বিশাল বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমি একদিন হতবাক হয়ে গেলাম যখন শ্বাশতী সন্দেহের সুরে জানতে চাইল যে বাংলাদেশে হিন্দু আছে কিনা? আমি অনেক যুক্তিতর্ক ও অনেক প্রতিষ্টিত হিন্দুব্যাক্তিদের নাম শুনিয়ে বললাম এরা ছাড়াও মোট জনসংখ্যার 15% হলো হিন্দু। তখন শ্বাশতী জানাল সে একবার বাংলাদেশ যেতে চেয়েছিল কিন্তু তখন তার বাবা-মা মানা করেছিল এই যুক্তি দিয়ে। ওইখানে নাকি সে নিরাপদ থাকবে না। আমি সঙ্গে সঙ্গে শ্বাশতীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম। বললাম, তুমি শুধু বর্ডার ক্রস করো। তারপর সেখানে থেকে তোমাকে নিয়ে যাওয়া এবং বর্ডার পৌছে দেয়া পর্যন্ত সব খরচ এবং দায়িত্ব আমার। শ্বাশতী হেসে উঠল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, বাংলাদেশ সম্পর্কে আর কি জানো ? শ্বাশতী বলল, বাংলাদেশ অনেক ধনী (কলকাতার তুলনায়)। তোমাদের লিভিং স্ট্যান্ডার্ড অনেক হাই। তোমরা অনেক খরচ কর। এই যেমন তোমাকে দেখে বুঝি। খুবই অতিথিপরায়ণ । প্রচুর মাছ পাওয়া যায় তোমাদের ওইখানে। এবং প্রচুর বন্যা হয়। এতোসব জানো কিভাবে জানতে চাইলে সে বলল, কলকাতায় বাংলাদেশী হাইকমিশনে সে নাকি মাঝে মাঝে যেতো সানন্দ পত্রিকায় ছাপানোর জন্য বাংলাদেশ সংক্রান্ত খবর কালেক্ট করতে।

শ্বাশতী আমাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি জানো কলকাতা সম্পর্কে? আমি বললাম অনেক কিছুই জানি। তোমাদের দেশে আসার আগে তোমাদের অনেক রাস্তা আর মোড়ের নাম জানি। সিনেমা হলের নাম জানি। তোমাদের ভাঁড়ের চা আমরা ঢাকাতেই কল্পনা করে খেয়ে ফেলি। তোমাদের সাহিত্য আমরা অনেক পড়ি। অনেকেই এজন্যে গর্ব করে। শ্বাশতী খুশি হলো। বাহ অনেক কিছুই তো জানো।

আমি মুচকি হাসি। বলি না আরো জানি যে তোমরা খুব কিপটা। আতিথেয়তায় প্রাণ থাকে না। তোমরা স্বার্থটাই খুব বেশি বুঝো।......চলবে......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28703916 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28703916 2007-03-28 08:46:04
ভারতের দিনগুলো (পর্ব 04) : অবশেষে দিল্লী
বারাণাসী চলে এলে দেবযানী নেমে পড়ে। বেশ করে টা টা দিলাম ওকে। জানালা দিয়ে অনেকক্ষণ মুখ বাড়িয়ে ছিলাম। আর কি কখনো দেখা হবে? সন্ধ্যার দিকে আলীগড় চলে এলো ট্রেন। রোমেল বিদায় নিল আমার কাছ থেকে। ঠিকানা আগেই নিয়ে রেখেছিলাম। বললাম, ফোন করব তোকে। দিল্লী থেকে মাত্র দেড় ঘন্টা দূর। চলেও আসতে পারি।

রোমেল চলে গেলে একদম একা হয়ে গেলাম। আক্ষরিক অর্থেই একা। খায়েঙ্গা, যায়েঙ্গা টাইপের হিন্দিদৌরাত্ম নিয়ে আমি পড়ে গেলাম মুশকিলে। এতোক্ষণ বুঝতে পারিনি ভিনদেশী অঞ্চলে আছি আমি। আমার বুকে ভয় ধরিয়ে কালকা থামল পুরোনো দিল্লী স্টেশনে। রাত তখন হয়তো আটটা হবে। কিছুই চিনি না। শুধু জানি পাহাড়গঞ্জ যেতে হবে। একটা অটো ঠিক করে চলেও এলাম। তবে রাতের অন্ধকারে বুঝতে পারিনি পুরোনো দিল্লী দেখতে কেমন?

বেশ ভালোই খাওয়া হলো দিল্লীকা লাড্ডু। 350/400 টাকার নিচে রুম পাচ্ছি না। আর আমার মাত্র এক রাতের জন্য দরকার। কেননা পরদিনই তো ইনস্টিটিউটে চলে যাব। ওইখানে হস্টেলে থাকব। যাই হোক 250 টাকায় একটা রুম পেয়ে উঠে গেলাম। খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেলাম আমি সেইখানে।

পরদিন ইনস্টিটিউটে গিয়ে ভর্তি হই। একজন ইনস্ট্রাক্টর আমাকে সবকিছু ঘুরিয়ে, দেখিয়ে নিয়ে গেল এডিটিং রুমে। এডিটিং মেশিনগুলো দেখে আমার পছন্দ হলো না (এইপ্রথম আমি এডিটিং মেশিন দেখছি, ঢাকায় থাকতে দেখিনি)। আমি ভাবছিলাম কমপিউটার জাতীয় কিছু হবে। ভয়ে ভয়ে বললাম, মেশিনগুলো তো খুব পুরোনো মনে হচ্ছে। এগুলো কাজ করে? ইনসট্রাক্টর আমার কথা শুনে হিন্দিতে বলে উঠল, কেয়া বাত কোরো ইয়ার! এ্যায়সা ঘটিয়া মেশিনমে কাম সিখো তো বেসিক স্ট্রং হো যায়েগা। সামঝা ?

আমি উসখুশ করে বেরিয়ে আসি। পুরো টাকাটাই পানিতে গেল ভাবতে ভাবতে ক্যান্টিনে গিয়ে বসি। একটা ছেলে এগিয়ে আসে। নাম হলো সা'দ। ফয়েজাবাদের ছেলে। ক্যামেরার কোর্সকরতে এসেছে। পরিচয় হতেই বলল, চল কিছু খেয়ে আসি।

কেএসসি-তে গেলাম। ঢাকাতে তখনো এতো বড় আর চেইন কোনো ফাস্টফুডের দোকান ছিল না। এতোসব চেইন শপ দেখে মাথাটা হালকা ঘুরাল। টাইট জিনস আর টি-শার্ট পরা মেয়েদের দেখে তিষ্ঠাতে না পেরে একটা সিগারেট ধরিয়ে ফেল্লাম। যাইহোক খাওয়া দাওয়া শেষে স্বাভাবিকভাবেই আমি বললাম, বিলটা আমি দেই। দেখলাম সা'দ অতি স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টা মেনে নিল। বিল দিয়ে বেরিয়ে এলাম।

রাতে হস্টেলে আরো অনেকের সঙ্গে পরিচয় হলো। হরিয়ানা রাজকুমার, দিল্লীর ভাষ্কর্য, নেপালের গৌতম আর ধীরাজ। গুজরাটের বিশাল, কানপুরের মুকুল। কিন্তু পরদিন পরিচয় হলো কলকাতার শ্বাশতী আর দিল্লীর রাধিকার সঙ্গে।

রাধিকা ছিল সবচেয়ে সুন্দরি (আসলেই সুন্দরি) এবং সে ছিল এডিটিংয়ে। আমার রোল 1 আর রাধিকার 2। আমাদের নিয়ম ছিল সবাই রোল নম্বর অনুযায়ী বসবে। নিয়মটা এজন্যে যে, যখন 1 নম্বর মেশিন চালাবে তখন তার ডানপাশে 2 নম্বর আর বাম পাশে 10 নম্বর (কেননা ব্যাচে 10জন ছাত্র ছিল) বসবে। যখন 2 নম্বর কাজ করবে তখন তার ডানপাশে 3 নম্বর আর বাম পাশে 1 নম্বর বসবে। আর একারণেই ক্লাসে আমি আর রাধিকা সবসময়ই পাশাপাশি বসতাম। তবে ব্রেকের সময় রাধিকা চলে যেত। ওর হাজব্যান্ড ইয়াতিন (ভাগবান, বাবুল ছবির চিফ এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর) তখন ডিরেকশনের ক্লাস করতো। রাধিকা তার জন্য অপেক্ষা করত। এই ফাঁকে আমি তখন শ্বাশতীকে খুঁজতাম। কলকাতার মেয়ে শ্বাশতী। আমি ধরেই নিয়েছিলাম শ্বাশতীর সঙ্গে আমার একটা ইটিসপিটিস হয়ে যাবেই। কেননা ও-ও হস্টেলে থাকত। তখন দিল্লীতে প্রচন্ড শীত।আমি নিশ্চিত ছিলাম শ্বাশতীর নিশ্চয়ই কোনো এক শীতের রাতে আমায় দরকার হবে ...

... তখন পর্যন্ত কিন্তু দেবযানীকে আমার একদমই মনে পড়েনি।......(পর্ব চার সমাপ্ত.....চলতে পারে.....)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28703712 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28703712 2007-03-26 15:14:56
ভারতের দিনগুলো (পর্ব 03) : কালকামন্থন
কিন্তু ঘুম আসছে না। ঠাণ্ডা লাগছে। ব্যাগ থেকে লুঙ্গিটা বের করে চাদরের মতো করে জড়িয়ে নিলাম শরীরে। ভাবতে শুরু করলাম ভবিষ্যতের কথা। এডিটিং যে শিখতে যাচ্ছি, জীবনে কতোদূর যাব তা নিয়ে? ফিক করে হেসে ফেললাম আপন মনেই। বাবা-মার কথা মনে পড়ল। সায়েনেস পড়ুয়া ছেলে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে এমনটাই আশা ছিল তাদের। কিন্তু ছেলে কিনা এডিটিং শিখছে! মজা লাগল ভেবে বাবা-মা কস্মিনকালেও ভাবেনি ছেলে এরকম একটা পেশা বেছে নিতে পারে। পুরোনো সব কথা মনে পড়তে লাগল ...

1994 সাল। ইন্টারের রেজালট খারাপ ছিল না। কিন্তু মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার দিন - 7বছর পড়াশোনা করে, 2বছর ইন্টার্নি করে, পাড়ার ফার্মেসীতে প্রতি সন্ধ্যায় নিয়ম করে বসে দুই-চার-সাত রোগী মেরে অথবা ভালো করে 40 বছর বয়সে অর্থ-যশ-খ্যাতি আসে-এটা যখন আমার এক বন্ধু মনে করিয়ে দিল তখন মেডিকেলের পরীক্ষা না দিয়ে আবৃত্তি সংগঠনের পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফিরলাম। বুয়েটে ঢুঁ মারা আমার কপালে নাই (অতো মার্ক আবার ছিল না)। তাই ঠিক করলাম ভর্তি হতে না পারি তবে মাঝে মাঝে আহসানউল্লাহর কেন্টিনে গিয়ে খেয়ে আসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা খুবই খারাপ হলো। হুমায়ুন আহমেদের কাছে স্বরচিত গল্প লিখেও যখন এডমিশন রেজালেট নিজের নাম দেখলাম না তখন একটু মুষড়ে পড়লাম। ইস...ইন্টারের পরের তিনমাস জীবন চিনতে না গিয়ে যদি একটু বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতাম .... একপর্যায়ে ভাবলাম কম্পিউটার সায়েনস পড়া যেতে পারে সিলেটের শাহজালালে। কিন্তু সিলেটে মাছের দাম বেশি এই যুক্তিতে বাবা-মা আমার সিলেটগমন ঠেকিয়ে দিলেন। এদিকে আমি কোনো হেজিপেজি কলেজে 'অমুক বিষয়ে অনার্স করছি' এইরকম দম্ভ করতে পারব না ভেবে একপর্যায়ে ঠিক করলাম তবে আর পড়াশোনাই বা করি কেন ?

দিলাম পড়াশোনা ছেড়ে। এদিক ওদিক ঘুরি। বন্ধুদের প্রচুর সময় ও পরামর্শ দিই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে নিই ওদের বান্ধবিদের কথা। রাতে বাসায় ফিরে তাদের কথা নিজের কল্পনায় সুন্দর করে লিখি। লেখাগুলো গল্প হয়ে উঠে। পাশের বিলিডংয়ের রবিকে পড়তে দিই। বন্ধু রবি খুব উৎসা হ দেয়, বাহ! খুব সুন্দর লেখা তো - তোকে দিয়েই হবে - এরকম লেখা কিন্তু খুব বেশি লেখা হয়নি - চালিয়ে যা দোস্ত, তুই সেরা লেখক হবিই। রবির প্রশংসায় আমি লজ্জিত হই না। যেন জানি এরকমটাই হওয়া উচিত। আমি লেখালেখি বাড়িয়ে দিই। ব্যস্ত হয়ে ঢুকে পড়ি গ্রুপ থিয়েটার চর্চায়।

ইন্টার থেকেই যায়যায়দিন রেগুলার পড়া হতো। ভাবলাম লেখালেখির একটা নিয়মিত জায়গা দরকার। সাংবাদিক হলে কেমন হয়? আমার গ্রুপ থিয়েটারের কমর্ী নদীও তার প্রিয় পত্রিকা যায়যায়দিন পড়ে। আমি আর নদী একসঙ্গে লেখা পাঠাই। আমারটা ছাপা হয়, নদীর হয় না। আমি যেন আরো উৎসাহী হই। নদীর চোখে সেরা পুরুষ হবার জন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি যায়যায়দিনের-ই-ই-ই সাংবাদিক হবো। নদী আমাকে নিয়ে গর্বিত হবে, নদীর বান্ধবিরা আমার জন্য নদীকে ঈর্ষা করবে (হায়রে সে দিনগুলো) ...

এই চায়ে, কফি - হকারের ডাকে কালকাগর্ভে ফেরত আসি। চাররুপী দিয়ে কফির পেয়ালা হাত বাড়িয়ে নিই। চুমুক দিতেই শীত যেন আরো বেড়ে গেল। লুঙ্গিটা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে দেবযানীর দিকে তাকাই। আচ্ছা এই মেয়েটার সঙ্গে কি আমার প্রেম হয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে ? ধ্যাত....আপন চিন্তাই ফিরে যাই আবার।

যায়যায়দিনে হঠাৎই চোখে পড়ে ডেমক্রেসিওয়াচের বিজ্ঞাপন। স্মাট হবার আশায় ইংলিশ-কমপিউটার শিখতে শুরুকরি। কিন্তু যায়যায়দিনের সাংবাদিক হওয়া আর হয়ে উঠে না। লাইফস্টাইল ক্লাসে পৃথিবীর বিভিন্ন মুভির কথা বলেন শফিক রেহমান। কিন্তু তার সাপ্তাহিক আর দৈনিক হয় না। তবে ডেমক্রেসিওয়াচে চাকরি হয়। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে আয়োজন করে ফেলি গণতন্ত্র উৎসব। গণতান্ত্রিক ধারায় আয়োজন করে ফেলি যায়যায়দিনের প্রথম লেখক সম্মেলনও। শফিক রেহমানকে জিজ্ঞেস করি, স্যার কবে হবে দৈনিক ? শফিক রেহমান পালটা প্রশ্ন করে, ডিগ্রি পাস করেছ? তাছাড়া তোমার যে লেবাস প্রেসিডেন্টের ইন্টারভিউর জন্য পাঠালে তো তোমাকে ঢুকতেই দিবে না।

সায়েনেসর ছাত্র আমি চটজলদি ডিগ্রি পাসকোর্সে ভর্তি হয়ে যাই। এফসিএ শফিক রেহমান দুইদিন খুব করে ডেবিট-ক্রেডিট বুঝিয়ে দেন। ওনার মুখে পড়াশোনার কথা শুনতে ইচ্ছা করে না দেখে বন্ধুদের সঙ্গে একাউন্টিংয়ে ব্যাচ পড়ি। এলিফ্যান্ট রোড থেকে 1500 টাকার জুতো দরদাম করে 450 টাকায় কিনে বুক ফুলিয়ে ডেমক্রেসিওয়াচে বাবার টাই পড়ে অফিস করি। কিন্তু মালা খুব রাগ করে। জুতোটা পড়লে নাকি আমি ওর চেয়ে একটু বেশি লম্বা হয়ে যাই।

1997 সালে 13 জন বন্ধু ডিগ্রি পরীক্ষা দিই। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে একমাত্র আমি তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হই। (বাকি 12জন ফেল করে)। কিন্তু ওদিকে অপেক্ষার বাপ ভেঙ্গে যেতে থাকে। বন্ধু মানিকের পরামর্শে ফোরামের কোর্স করা শুরু করি। কাজ নেই সাংবাদিক হওয়ার। এরচেয়ে ভালো ফিল্মমেকার হই। কিন্তু তাতেও বোর হয়ে যাই। চষতে শুরু করি সারা বাংলাদেশ। ডেমক্রেসিওয়াচের সার্ভেতে নিয়মিত হয়ে যাই। বেঁধে দেয়া পয়সা বাঁচিয়ে নৌকা ভ্রমণ করি, দিনাজপুরের আম কিনি, চাপাইনবাবগঞ্জের রেলস্টেশনে ফেনিস খাই, ক্লান্ত হয়ে বাসে নিপুর কাঁধে ঘুমিয়ে ঢাকা ফিরে আসি, বাসের ছাদে বসে গোপার উড়ে যাওয়া চুল আবার গুছিয়ে দিই, খাগছড়ির পাহাড়ের বাংলোয় মধ্যরাতে জেগে বসে থাকি যদি পাশের রুমে একা থাকা আরজু ডাক দেয় । কিন্তু না হই সাংবাদিক, না হই ফিল্মমেকার। ওদিকে নদীও কোনো যোগাযোগ করে না। অরূপ নামে একটি ছেলের সঙ্গে তার বিয়ের কথা চলছে।

ইউরেকার সঙ্গে পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিল সে। ভালো বক্তা। একদিন আমাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলল, এবার চলেন এডিটিং শিখি। আমি গোঁধরে থাকি ক্যামেরাম্যান হব বলে। আমার কমপিউটার দক্ষতা আর কালারসেনস ভালো বলে সার্টিফিকেট দিয়ে ইউরেকা বলে, বিয়ে বাড়ির ভিডিওকরা কমে গেছে। কারণ সবাই প্যাকেজ নাটক শুটিং করছে। কিন্তু সেগুলো জোড়া দেবার লোক নেই। এমনিতেই শেষ ট্রেনের যাত্রী আমরা। তাড়াতাড়ি ইন্ডিয়া চলেন। আমি রাজি হয়ে যাই।

যায়যায়দিন তখন দৈনিক হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওয়ার্কশপ চলছে। আমি প্রতিদিন ওয়ার্কশপ এটেন্ড করি আর দিন গুণতে থাকি ইন্ডিয়া যাবার। পরিচয় হয় মাহবুব আজীজ (সমকাল) আর ফাহিমের (এনটিভি) সঙ্গে। ভালো এই দুই বন্ধুকে ফেলে আমি একাই রওনা দিই। ডেমক্রেসিওয়াচের কলিগ এলানা হান্টার আমার হাতে বিয়ার তুলে দেই। বন্ধু মিলন (অভিনেতা) পথ এগিয়ে দেয় অনেকটা ...

...ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে মৃদু আলো। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি অন্ধকার কাটতে শুরু করছে। রোমেলের কথা চিন্তা করে জলটি নেমে আসি। ঘুম থেকে জাগিয়ে রোমেলকে পাঠিয়ে দিই আমার বার্থে। দেবযানীর দিকে তাকাই। চাদরের ফাঁক দিয়ে ওর মুখের একপাশ দেখা যাচ্ছে। মন্দ লাগছে না। সকালে ওর সঙ্গে জম্পেশ করে আড্ডা দিতে হবে। ভোর ছয়টা বাজে। কালকা এক্সপ্রেস তখনো সমান তেজে চলছে। স্মৃতিরোমন্থন করতে করতে সময় গুণতে ভুলে গেছিলাম। স্মৃতি রোমন্থন ? থাক, এর নাম দিলাম আমি কালকামন্থন।......(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28703148 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28703148 2007-03-22 14:10:57
ভারতের দিনগুলো (পর্ব 02) : কালকা এক্সপ্রেস
আমি সঙ্গে সঙ্গে রোমেলকে চিনে ফেল্লাম। ও যে এতো শুকিয়ে গেছে ভাবিনি। রোমেল খুব ভালো ক্রিকেট খেলত। মনে আছে একবার ধর্মশিক্ষকের পাঞ্জাবির পিছনে কালিকমের কালি আড়াআড়িভাবে ছিটিয়ে দিয়েছিল। খুব দুষ্ট ছিল। আমি জিজ্ঞেস করি, তুই কই যাস? দিল্লী।

রোমেল - না। আলীগড়ে পড়ি। ইন্টার পাস করেই চলে এসেছি। তুই কই যাস?
-দিল্লী। এডিটিংয়ের উপর ডিপ্লোমা করতে।
-এডিটিং কি।

আমি এডিটিং কি বুঝিয়ে বললাম রোমেলকে। রোমেলের পাশের ছেলেটির সঙ্গেও পরিচয় হলো। আমি জিজ্ঞেস করি, তুই এরকম চোরের মতো একবার উঠে আরেকবার বসছিস কেন?

রোমেল - আরে দোস্ত। দুইজন মানুষ কিন্তু টিকেট কাটছি একটা। টিটি আসার আগেই যেন বাথরুমে যেতে পারি। বুঝস না আরেকটা টিকিট কাটতে পারি নাই।
-টিটি কখন আসবে তুই জানস?
-হ। আসাযাওয়া করতে করতে ধারণা হয়ে গেছে।
-রাতে ঘুমাবি কই?
-আর ঘুম। তাছাড়া তুই তো আছিস। তোর বার্থে ঘুমাবো।
-ঘুমানোর কি দরকার। গল্প করেই রাত কাটিয়ে দিতে পারব। ইঙ্গিতে আমি জানালার পাশের মেয়েটির দিকে দেখালাম।

ট্রেণ প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলছে। রাত বলে বাইরের কিছুই টের পাচ্ছি না। রোমেল বলল আমরা এখন বিহার ক্রস করছি। আমি জানালায় মুখ গলিয়ে কিছুই টের পেলাম না। রোমেল জানাল আলীগড় পৌছাবে সন্ধ্যার দিকে। তার দেড় ঘন্টা পর ওলড দিল্লী।

মেয়েটি চুল বাতাসে উড়ছে। মনে আছে লাল রঙ্গের ড্রেস পরা ছিল সে। আমরা কিছু হালকা খাবার খেলাম। কিন্তু অবাক করার বিষয় আমাদের সঙ্গে কোনো পানি ছিল না। আমি আর রোমেল বলাবলি করছিলাম পানি কিভাবে খাওয়া যেতে পারে। রোমেল মেয়েটির কোকের দিকে তাকিয়ে বলল, ইস মেয়েটা যদি একটু কোক দিত। আমি বললাম, হুম। এতো বড় বোতল। আমরা একটু খেলে কি হয়। রোমেল তুই একটু চেয়ে দেখ না। মেয়েটা তো মোটামুটি সুন্দরি। না করবে না।

তখনই মেয়েটা অবাক করে বাংলায় বলে উঠল, কোক খাবেন? নিন না।

আমরা হতবাক হয়ে যাই। মেয়েটা বাংলা বোঝে। সাথে সাথে রিকল করা শুরু করলাম কোনো খারাপ কিছু কি বলেছি? রোমেল কোকের বোতলটা হাত বাড়িয়ে নেয়।

মেয়েটার সঙ্গে আলাপ হলো। দেবযানী, অবশ্য হিন্দিতে নাকি দেবইয়ানি বলে। থাকে এলাহাবাদ (অমিতাভ বচ্চনের এলাকায়)। বাবা-মা কলকাতার কিন্তু হিন্দিভাষী এলাহাবাদে থাকার কারণে বাংলা বলতে পারে, লিখতে ও পড়তে পারে না।

ভালোই হয়েছে। মেয়েটার সঙ্গে প্রায় ঘন্টা দুয়েক আলাপ করলাম। বাংলাদেশ সম্পর্কে মেয়েটা আগে থেকেই জানে। ওর ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশী মেয়ে আছে কয়েকজন। এদিকে রাত আরো গভীর হয়ে যাচ্ছে। সবাই ঘুমানোর আয়োজন করছে। আমি রোমেল উঠে গিয়ে দরজার কাছে গেলাম সিগারেট খাবো বলে। ওখান থেকেই দেখলাম দেবযানী ঘুমানোর আয়োজন করছে। ছোট একটা জায়গায় গুটিশুটি মেরে মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়ল। ট্রেন দুলছে। আমিও ভবিষ্যত চিন্তায় আচ্ছণ্ন হয়ে পড়লাম। দিল্লী যাওয়া, এডিটিং শেখা ....(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28702712 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28702712 2007-03-18 19:25:54
ভারতের দিনগুলো (পর্ব 01) : কলকাতা
সারারাত বাসজার্নি করে সকালে বেনাপোল পৌছাই। পকেটে প্রচুর টাকা। এনডোর্স করা টাকা ছাড়াও বাংলাদেশী 20000 টাকা ও ডলার 1000। কাস্টমস পার হওয়ার সময় খুব ভয় লাগছিল। যদি চেক করে। আমার সঙ্গে একটি ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি ছিল। সঙ্গে 3 বছরের বাচ্চা। ইন্ডিয়ান কাস্টমস যখন আমার নাম ধরে ডাকছিল আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে আদর করা শুরু করলাম। শুনেও না শোনার ভান করলাম আমাকে যে ডাকছে। দুই-তিনবার ডাকার পর আমি হঠাৎই যেন খেয়াল করছি এ ভঙ্গিতে তাকাতেই কাস্টমস অফিসার আমাকে জিজ্ঞেস করে, আপনিই তো? আমি বাচ্চাটিকে কোল থেকে নামিয়ে বলি, জি্ব আমিই।

কাস্টম অফিসার - ওই বাচ্চাটি কে?
আমি - ও আমার সঙ্গে ঢাকা থেকে আসছিল। ওরা ইন্ডিয়ান। বাচ্চাটিকে আদর করছিলাম। তাই ডাকছেন যে শুনতে পারিনি।

কাস্টম অফিসার আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে চলে যেতে বলে। আমি হাঁপ ছাড়ি। আমার পাশেই তখন এক বাংলাদেশীকে চরম সার্চ করা হচ্ছে। আমি বাচ্চাটিকে আদর করে একটু সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করে সফল হওয়ায় মুচকি হাসি। গ্রুপ থিয়েটার চর্চা বিফলে যাইনি। বোধহয় এডিটিংও ভালো শিখতে পারব। হা হা হা।

কাস্টম-ইমিগ্রেশন চেক করে বের হয়ে আসি। ইমিগ্রেশনে অবশ্য 10টাকা দিতে হয়েছিল। যাই হোক পরিচয় হয়ে যায় কিছু বাংলাদেশীর সঙ্গে। একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে রওনা দিই কলকাতার উদ্দেশ্যে। আমার ভাগে 170 রুপী পড়েছে ট্যাক্সিভাড়া হিসেবে। নিউমার্কেটের পাশে হোটেল প্যারাডাইজে চেক ইন করে ব্যাগ কাঁধে (একটাই ছিল) বেরিয়ে পড়ি। যমুনা সিনেমা হলে (এখন বন্ধ) দিল সে ছবি চলছিল। টিকেট কেটে ঢুকে পড়ি। বলিউডে আমার প্রথম প্রেম ছিল মনীষা। তাই আর দেরি না করে দিল সে ছবি দেখতে শুরু করি।

পরদিন ডালহৌসির ফরেন কাউন্টারে গেলাম ফরেন কোটায় ট্রেনের টিকেট কাটতে। নিজেকে ফরেন ভাবতে ভালোই লাগছিল। কিন্তু কপাল খারাপ। টিকেট পেলাম 6দিন পর। প্রতিদিন হোটেলে 200 রুপী করে গুণতে হবে ভেবে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু আমি জানতাম না 200 রুপী বেশি দিলেই বিভিন্ন ট্রাভেলস থেকে টিকেট কাটা যায়।

ঘুরতে শুরু করলাম স্বপ্নের কলকাতা। জীবনে প্রথম দেখছি কিন্তু অনেক রাস্তাঘাটের নাম আগে থেকেই জানি। মেট্রো সিনেমার নিচে দাঁড়িয়ে অনেক অপেক্ষা করলাম কিন্তু সুনীলের নীরা এলো না। চৌরঙ্গীতে দাঁড়িয়ে ভাবলাম কফি হাউজে একবার যেতেই হবে। একবার কি দাদাদের আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে যাব না ?

আমাদের গ্রুপের অশোকদা তখন কলকাতায় ছিলেন। উনি বাংলাবাজারের বইয়ের প্রকাশক। যোগাযোগ করে উনার সঙ্গে এক হোটেলে উঠে গেলাম। কফি হাউজের পরের গলিতেই সেই ট্রাভেল লজটি ছিল। অশোকদা আমাকে নিয়ে গেলে আনন্দবাজার পাবলিকেশনেস। বইয়ের গুদামঘরে বইয়ের উপর বসে একটা উপন্যাস শেষ করে ফেল্লাম। সেই ফাঁকে অশোকদা তার ব্যবসায়িক কাজ সেরে নিলেন।

পরদিন কফি হাউজে গেলাম। পকেট থেকে বাংলা ফাইভের (আমার প্রিয় ব্র্যান্ড, এখন নাকি বাংলাদেশে খুব একটা পাওয়া যায় না) প্যাকেট বের করে টেবিলে রাখলাম। একট ধরালাম। চারিদিকে প্রচন্ড কেওয়াজ। কিন্তু ভালোই লাগছিল। ভবিষ্যত সুনীল, শীর্ষেন্দুতে ভরা চারিদিক। ভাবলাম এভাবে বসে না থেকে কারো সঙ্গে পরিচিত হওয়া গেলে ভালোই হতো। কিন্তু কার সঙ্গে পরিচিত হবো? কোনো মেয়ে হলে ভালো হয়।

দুরু দুরু বুকে একটা টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসে কথা বলছে। কাছে গিয়ে বললাম, ভাই আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। দেখলাম আপনারা গল্প করছেন। আপনাদের সঙ্গে কি কথা বলতে পারি?

আমাকে সম্পূর্ণ অবাক করে দিয়ে ছেলেটি বলল, না ভাই। পারেন না। আমরা একটু জরুরি আলাপ করছি।

আমি খুব স্মার্টলি বললাম, না না ঠিক আছে।

অপদস্থ হয়ে ফিরে আসতেই ছেলেটি আবার ডাক দিল। বলল, আমার পূর্বপুরুষ আগে রংপুরে ছিলেন শুনেছি। আপনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন কিন্তু সত্যিই আমরা একটা সিরিয়াস প্রবলেমে আছি। নাহলে আপনার সঙ্গে গল্প করা যেতো।

আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখি গম্ভীর হয়ে বসে আছে। বুঝলাম প্রেম বিষয়ক কোনো সংকট হবে। সুড়সুড় করে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে পড়লাম। পাশের টেবিলে তাকিয়ে দেখি একটা ছেলে (বয়ঃসন্ধিকালের) কানে ওয়াকম্যান দিয়ে কাগজে কি যেন লিখছে। উঠে ছেলেটির কাছে গেলাম। হাত বাড়িয়ে পরিচিতি হলাম। এবার আশাহত হলাম না। ছেলেটিও পরিচিত হয়ে আমাকে বসতে বলল।

জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম ছেলেটি কবিতা লিখছিল। আমি তো আবিষ্কারে মহাখুশি। নির্ঘাত এ ছেলে শক্তি চট্টোপাধ্যায় হবে। আমি বললাম কলকাতা তো কিছুই চিনি না। চল আমাকে ঘুরিয়ে দেখাও।

ছেলেটির সঙ্গে কলকাতা ঘুরতে বের হলাম। ভিক্টোরিয়া মেমরিয়ালে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ। ছেলেমেয়েরা অপেন কিসিং করছে। শিহরিত হলাম আমি। শক্তিকে বিদায় করে সন্ধ্যায় গেলাম রবীন্দ্রসদনে। ফোয়ারার পাশে ছেলেমেয়েদের ঘনিষ্ঠতা দেখে ভিক্টোরিয়া মেমরিয়ালকে তুচ্ছ মনে হলো। ব্যস আমার রুটিন হয়ে গেল সারাদিন যেখানেই থাকি না কেন সন্ধ্যায় ঠিকই রবীন্দ্রসদনের ফোয়ারার তলায়।

দেখতে দেখতে ছয়দিন পার হয়ে গেল। ছয়দিন আমার মোট খরচ হলো 5000 রুপী। প্রথম বিদেশ ভ্রমণ আর স্বপ্নের কলকাতা দেখার খায়েশ। মন একটু খারাপ করেই হাওড়ায় গিয়ে কালকা এক্সপ্রেসে উঠলাম। আমার সামনে দুইজন বাংলাদেশী ছেলে। সারাক্ষণই চোরের মতো আচরণ করছে। ট্রেণ ছাড়ি ছাড়ি করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে একটা মেয়ে এসে জানালার পাশের সিটে বসল। আমার মন ভালো হয়ে গেল। মেয়েটির সঙ্গে তার বাবা এসেছিল। হিন্দিতে কথা বলছিল তারা। একটা ইয়া মোটা কোকের বোতল ধরিয়ে দিল বাবা মেয়েটিকে। মেয়েটিও বিদায় টিদায় নিল বাবার কাছ থেকে। ট্রেন চলতে শুরু করল। আমিও নড়েচড়ে বসলাম। 22 ঘন্টার জার্নি। মেয়েটার সঙ্গে ভাব জমাতে হবে। ট্রেন চলছে পুরোাদমে। উদ্যাম বাতাস। আমি উশখুশ করছি। হঠাৎই দুই বাংলাদেশী ছেলেটির মধ্যে একটি ছেলে আমাকে জিজ্ঞেস করল, এ্যাই তুমি সুজন না? আমার মুখ হাঁ হয়ে গেল।

ব্লগার ভাইয়েরা-যদি বোরিং লাগে বলবেন আর লিখব না। যদি ভালো লাগে তাহলে যে কোনো কমেন্টস মনে আসে করবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28701912 http://www.somewhereinblog.net/blog/kamsblog/28701912 2007-03-12 11:16:09