somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“র-মোসাদের সাম্প্রতিক মিতালী : বাংলাদেশে তার প্রভাব

১৮ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটার শেযার করলাম

Click This Link

Click This Link

“র-মোসাদের সাম্প্রতিক মিতালী

সাম্প্রতিক প্রকাশিত কিছু খবরে বেশ পরিষ্কার হচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র ও ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ নিবিড় ভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। বিস্তারিত বিশ্লেষনের আগে কিছু তথ্য দেখে নেয়া যাক-

ক. ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র (Research & Analysis Wing, R&AW) সাবেক প্রধান বাহুকুতুম্বি রমন (বি রমন হিসেবেই পরিচিত) কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দিয়েছেন তার The Kaoboys of R&AW: Down Memory Lane গ্রন্থে। বি রমন লিখেছেন, “যদিও মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের জন্য ভারত ইসরাইলের সাথে সরাসরি কুটনৈতিক সম্পর্ক রাথতো না। কিন্তু, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বলতে গেলে সেই ১৯৬২ তে। ইসরাইলি গোয়েন্দাদের সাথে ভারতীয় গোয়েন্দাদের গুরুত্বপুর্ণ বৈঠক হতো নেপালের রাজধানী কাটমুন্ডুতে। নেপালেই ছিল আমাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের নিরাপদ জায়গা” (সুত্রঃ The Kaoboys of R&AW: Down Memory Lane, Lancer Publishers, Delhi, 2007)

খ. বাংলাদেশে ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আল-কায়েদা। আমেরিকা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারতের পর এবার আল কায়েদার টার্গেট বাংলাদেশ। হামলা সফল করতে আল কায়েদাকে সহযোগিতা করছে জামায়াতে ইসলামী, হুজি ও জেএমবি। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক সম্মিলিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ প্রতিবেদনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের একটি কপি বিশেষ ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে ভারত সরকারকেও সাবধানতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চলতি বছর ৩ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে এক অতিজরুরী গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় দিল্লীর সাইমুন প্লাজায় ওই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলে কয়েক ঘণ্টা। বৈঠকে ১শ' ১১ জন শীর্ষ গোয়েন্দা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এসব গোয়েন্দারা আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন। তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। ওই বৈঠকে যাঁরা অংশগ্রহণ করেন তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুধু জঙ্গীদের ওপর কাজ করেন। ভারতের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই বৈঠকের আয়োজন ও সমন্বয় করে। (সুত্রঃ জনকন্ঠ, ১৯ এপ্রিল ২০১০)।

পাঠক রিপোর্টটি কোন মৌলবাদী ঘরনার পত্রিকার নয়, খোদ কট্টর ভারতপন্থি হিসেবে পরিচিত পত্রিকা দৈনিক জনকন্ঠের। রিপোর্টি থেকে বুঝা যায়, বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বের বড় বড় গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর সম্মিলিত মিটিং হয়েছে নয়া দিল্লিতে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র এটি আয়োজন করে। ইসলামী মৌলবাদ দলনে পটূ বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা ইসরাইলের মোসাদ (MOSSAD) যে এতে অংশ নিয়েছিল তা মনে হয় বলার অপেক্ষা রাখে না।

গ.
বঙ্গবন্ধুর বিদেশ পলাতক খুনিদের বিদেশের মাটিতেই হত্যা করতে ’৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকারকে ইসরায়েলি ভাড়াটে সেনা (মার্সেনারি) প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় খুনিদের দেশে ফেরত আনতে একটি টাস্স্কফোর্স গঠিত হয়। সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত ওয়ালি উর রহমান ছিলেন ওই টাস্কফোর্সের প্রধান সমন্বয়ক। ঘটনার ১১ বছর পর ওয়ালি উর রহমান বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরত আনতে ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি ইতালি যাই। ইতালির রোমে অবস্থানকালেই ইসরায়েলি ভাড়াটে সেনা (মার্সেনারি) কর্নেল জ্যাক আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পৃথিবীর যে দেশেই পালিয়ে থাকুক আমরা তাদের হত্যা করব। কিন্তু তার বিনিময়ে আমাদের মোটা অংকের ডলার দিতে হবে। ( সুত্রঃ আমাদের সময়, ২২ নভেম্বর, ২০০৯)

ঢাকার অন্যতম ইংরেজী সাপ্তাহিক হলিডে Israeli help শিরোনামে লিখেছে, A former Bangladesh Ambassador to Italy and a strong AL supporter, Waliur Rahman recently in a newspaper interview first leaked to the media as to how the AL government of 1996-2001 - in collaboration with Israel - tried to bring back the fugitive coup leaders. ( Source: 26/02/2010 Weekly Holiday)। উল্লেখ্য, ওয়ালি উর রহমান বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশানের সচিব ও তিনিই প্রথম কোন রকম সুত্র ছাড়াই দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এখন ৩৫% রিক্রটমেন্ট আসছে মাদ্রাসা থেকে।

বাংলাদেশের সাথে ইসরাইলের কোন ধরনের কুটনৈতিক যোগাযোগ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ভাড়াটে লোকজন কি হঠাত করেই বাংলাদেশকে এই প্রস্তাব দিয়েছিল? আওয়ামীলীগ বা লীগ সরকারের সাথে কি ইসরাইলী গোয়েন্দার কোন বোঝাপড়া হয়েছিল? বাংলাদেশে ইসরাইলের এমন কি স্বার্থ ছিল যার বিনিময়ে ইসরাইল বঙ্গবন্ধুর খুনিদের গুপ্ত হত্যা করতে চেয়েছিল?

ঘ. ২৯ মার্চ ২০১০ দৈনিক আমাদের সময় বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ইসরায়েল, ঢাকার সঙ্গে সংলাপ চায় তেলআবিব, শীরোনামে প্রোব নিউজ ম্যাগাজিনের (Probe News Magazine) প্রধান সম্পাদক ইরতিজা নাসিম আলী (নেপাল থেকে ফিরে) পরিবেশিত রিপোর্টে লিখেছে“ ইসরায়েলই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। নেপালে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যান স্ট্যাভ ও ইসরাইলের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক রুথ ক্যানফ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা সংলাপ চাই।“ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কে স্বাভাবিক করার সূচনা হতে পারে এ সরকারের আমলেই।“ রাষ্ট্রদূত স্ট্যাভ বলেন, ‘সেকারণে ইসরায়েল মনে করে- উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কোনো বাধা নেই। কিন্তু একথাও সত্য যে, ইসরায়েল ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো বিরোধপূর্ণ ইসু নেই। বরং উভয় দেশ পরস্পরকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে (সুত্রঃ আমাদের সময়, ২৯ মার্চ, ২০১০)। উল্লেখ্য, ইরতেজা নাসিম আলী তার রিপোর্টে কোথাও উল্লেখ করেননি, ইসরাইলের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক রুথ ক্যানফ ও রাষ্ট্রদূত স্ট্যাভ কি উপলক্ষে তাকে ঐ সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। ইরতেজা নাসিমই বা কি কারনে হটাত করে তাদের সাক্ষাত দিতে বা সাক্ষাতকার নিতে কাটমুন্ডু গিয়েছিলেন? “র এর সাবেক প্রধান বি রমনের তথ্যমতে, বাংলাদেশের ইসরাইলপন্থিরাও ভারতের মত তাদের পরিকল্পনা ও শলা-পরামর্শের জন্য নেপালকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যাবহার করছেন নাতো?......

“র-মোসাদ মিতালী: বাংলাদেশে তার প্রভাব

প্রথম পর্বে দেওয়া কিছু টুকরো তথ্য থেকে একটা ধারনা পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশকে নিয়ে মোসাদ-“র এর বেশ মিতালী গড়ে উঠেছে। মিতালীর কারন কি? বাংলাদেশকে নিয়ে “র এর অনেক বড় স্বার্থ আছে এটা আমরা জানি, বুঝি। এটা প্রকাশ করতে ভারত, তার গোয়েন্দা সংস্থা তেমন একটা রাখঢাক করে না। কিন্ত মোসাদের এমনকি স্বার্থ আছে যার কারনে সাত সমুদ্র-তের নদী পার হয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে ওদের মাথা ব্যথা? এজন্য নিচের কিছু তথ্য বিশ্লেষনের দাবী রাখে-

ক.

মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে ইসলামী শক্তি গুলোকে দলন, সেনাবাহিনীকে সেকুলারকরন, যুব সমাজকে ইসলাম বিমুখীকরন, ইসলামের নামে ভুয়া ও সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরী, দেশ প্রেমিক মিডিয়া ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলো ধ্বংস করন, উদীয়মান নেত্রত্ব ও দেশ প্রেমিক বুদ্ধিজীবী শ্রেণীকে গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে নির্মূলকরন সহ নানা ক্ষেত্রে ইসরাইলের “মোসাদ” বেশ অভিজ্ঞ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক দক্ষ ভারতীয় জনশক্তি (skill manpower)কাজ করছে। এরা কাজ করছে ঐসব রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ জায়গায়। ভারতীয় ঐ দক্ষ জনশক্তির উপর দেশগুলো নানা ভাবেই নির্ভরশীল। ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে তার আধিপত্য বজায় রাখতে এই বিপুল দক্ষ জনশক্তির সহযোগিতা চায়। ব্যাপক মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যেপ্রাচ্যে অমুসলিম ভারতীয়ের উপস্তিতি দেশগুলোকে সেকুলার করন, গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পাচার, সামাজিক অস্তিরতা সৃষ্টিসহ নানা কাজে জায়নবাদী ইসরাইলকে সহযোগিতা করতে পারে। করেও থাকে। ভারত এই জনশক্তির মাধ্যমে দেওয়া উপকারের বিনিময়ে ইসরাইলের কাজ থেকে কিছু পেতে চায়। বলতে গেলে উইন-উইন সিচুয়্যাশন (win-win situation)।

খ.

ষাট, সত্তরের দশকে মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, কাতার, কুয়েত, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মুল ধারার (main stream) ইসলামী আন্দোলন গুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নানা দেশে নানা নামে ইসলামী দল গুলো কার্যক্রম শুরু করলেও এদের মুল সংগঠন ছিল মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুড (muslim brotherhood) বা ইখওয়ানুল মুসলিমুন। ঐ সময়েই মুসলিম ব্রাদারহুডের উপর বিশেষ করে এর মুল নেত্রত্বের প্রতি চালানো হয় সীমাহীন নারকীয় তান্ডব। জেল জুলুম, কারাগারে নির্যাতন, গুপ্ত হত্যা সহ নির্যাতনের এমন কোন মাধ্যম ছিলনা যা প্রযোগ করা হয়নি তাদের উপর। শুধু নেতাদের গ্রেফতার বা নির্যাতন নয় একই পন্থা অবলম্বন করা হয় অর্ধলক্ষ্যাধিক কর্মী-সমর্থকদের ক্ষেত্রেও। এদের অনেকেই নির্যাতনে কারাগারই মৃত্যুবরন করেন। নির্যাতনের অন্যতম কৌশল ছিল নেতাদের পরিবাবের সদস্যদের ব্যাপকভাবে নিধন। পরিবারের সদস্যদের দিনের পর দিন জ়েলের মধ্যে রেখে অমানষিক নির্যাতন চালানো হত। প্রচন্ড নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই মুলত, নির্যাতিতদের গুরুত্বপুর্ণ একটি অংশ বিভ্রান্ত হয়ে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গড়ে তোলে স্বশস্ত্র প্রতিরোধ গ্রুপ। এদের কোন কেন্দ্রীয় নি্যন্ত্রন ছিল না। এর ফলে সরকারের লাভ হয়েছে বহুমুখী। একদিকে নির্যাতনের মাধ্যমে আন্দোলনের অগ্রযাত্রা অনেকটাই থামিয়ে দেওয়া গেছে। ওপর দিকে জনগন ও বাইরের দেশ গুলোকে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়, “দেখ এসব ইসলামী দলের আসল কাজ কিন্ত স্বশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যেমে ক্ষমতা দখল”। ফলে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করা হয় সহজেই। এসব জনপ্রিয় ইসলামী দল গুলো দলনে নানাবিধ পথ ও পন্থা
সরবরাহে করতে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।

এখানে লক্ষ্যনীয়, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ জামায়াত নেতাদের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও করা হচ্ছে। এসব ভিডিও যে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চলে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে জামায়াত নেতাদের ছেলে ও জামাতাকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এসব দেখে বিশ্লেষকদের ধারনা, দিনের পর দিন রিমান্ড, ভিডিওকরন ও ছেলে-জামাতাদের নির্যাতিনের ধারনা দেশের বাইরের থেকেই এসেছে। তারা চাচ্ছে, এসব নির্যাতন দেখে দলের তরুন অংশটি বেছে নিক স্বশস্ত্র প্রতিরোধ। ফলে জামায়াত নিষিদ্ধ করা বেশ সহজ হবে। ১৪ জুলাই ২০১০ ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর লিখেছে, “It is very difficult to control the younger people at such an emotional issue. We are afraid some of them can go for underground militancy, for retaliation,” (এমন ব্যাপক নির্যাতন অব্যাহতভাবে চালানো হলে দলের তরুন অংশকে নিয়ন্ত্রন করা নাও যেতে পারে। তারা আন্ডার গ্রাঊন্ডে গিয়ে এ নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে পারে।)

গ.

বাংলাদেশের ইসলামী প্রতিষ্ঠান তথা মসজিদ, মাদ্রাসা, চ্যারিটি সংস্থাগুলোর বিরাট অংশ নির্ভরশীল মুলত মধ্যপ্রাচ্যের এমনকি পশিমা বিশ্বের দানশীল (বাংলাদেশী) জনগনের দান খয়রাতের উপর। আগেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্পেন বানানোর পথে অন্যতম বাধা হচ্ছে এই ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলো শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও সেই ইংরেজ আমল থেকেই জনগনের মাঝে ইসলামী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্য, পশিমা বিশ্বসহ বহির্বিশ্ব থেকে দান খয়রাতের টাকা আসা কোনভাবে বন্ধ করা গেলে এসব ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অনেক গুলো মুখ থুবড়ে পরবে তা বলাই বাহুল্য। হয়েছেও তাই। ইতিমধ্যে অনেক ইসলামী এনজিও বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে খ্রষ্টান মিশনারীসহ ইসলামবিরোধী এনজিওদের জন্য আসছে বিরামহীন, বাধাহীন ও জবাবদিহিতাহীন (without accountability & transparency) বিপুল অর্থ। ২০০৫ সালে ততকালিন মার্কিন সিনেটর জন মেককিন (John McCain) সিএনএন এর বহুল প্রচারিত CNN Late Edition-এ বলেছিলেন, “ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে (তার ভাষায় মৌলবাদী প্রতিষ্ঠানে) মধ্যেপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আসা সবধরনের আর্থিক প্রবাহ বন্ধ করে দিতে হবে”।

খবরে প্রকাশ, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসলামপন্থিদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে নিয়ন্ত্রন বা ধবংস করা যায় তার কৌশল নির্ধারনের জন্য একটি কমিটি গঠন করে, যার মুল দায়িত্ব আছেন ড. আবুল বারাকাত । ড. বারাকাত তার সুত্রবিহীন গবেষনায় (?) দেখিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মৌলবাদীরা বছরে পনের শত কোটি টাকারও বেশী মুনাফা করছে। ভারতীয় মিডিয়া, রাষ্ট্রিয় প্রচার যন্ত্র ড. বারাকাতের এই “গবেষনা”কে প্রচারনার মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করে ব্যাপকভাবে (source: A message for Gen Moeen, Daily Pioneer, 28 Feb, 2008) । এদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম নিয়মিত হুংকার দিচ্ছেন ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী হাসপাতালসহ ভিন্ন মতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুব শীগ্রই দখল করা হবে(জনকন্ঠ, ১৭ এপ্রিল, ২০১০) । সম্প্রতি প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত বাস্তবায়ন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. আবুল বারাকাত বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথকে সহজ করতে মৌলবাদদের অর্থনৈতিক শক্তিকে রুখে দিতে হবে” (সুত্র, আরটিএনএন ডটনেট, ১৭ জুলাই, ২০১০)। এখানে বলা দরকার, ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী আন্দোলনগুলো মুলত মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ফিলিস্তিনী জনগন ও শুভাকাঙ্গীদের ঢাকা পয়সা উপর অনেকটাই নির্ভরশীল । ৯/১১ পর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এসব আর্থিক সরববাহ পথ বন্ধ করতে অনেকটাই সফল হয়। ফলত স্বাধীনতাকামী আন্দোলন গুলো তাদের পরিচালিত অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইসরাইল ও মার্কিনীদের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে চায় ভারত।

ঘ.

খবরে প্রকাশ যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গিবাদসহ নানা অভিযোগে বিপুল সংখ্যক ইসলামপন্থিকে কারা নির্যাতন করা হবে। যেসব জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থি বুদ্ধিজীবী, ঊদিয়মান তরুন নেত্রত্ব ও ব্যবসায়ীকে জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধ বা অন্য কোন অভিযোগে ঘায়েল করা যাবে না তাদেরকে গুপ্ত হত্যা বা গাড়ি চাপার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হতে পারে। অনেকের ধারনা গুপ্ত হত্যা প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ২১ দিন থেকে নিখোঁজ বিএনপির ঢাকা মহানগরীর অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী আলমের ব্যাপারটি মুলত ছিল একটি টেষ্টকেইজ। সরকারপন্থি হিসেবে পরিচিত দৈনিক সমকাল লিখেছে “২১ দিন পরও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, রমনা থানার সভাপতি ও ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের সন্ধান না মেলায় এ প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। চৌধুরী আলমকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অপহরণের পরদিন হত্যা করে লাশ 'গুম' করা হতে পারে বলে একটি সূত্র আভাস দিয়েছে। সরাসরি না হলেও বিভিন্ন মাধ্যমে যেসব বক্তব্য ও তথ্য আসছে তাতে চৌধুরী আলম জীবিত নেই বলেই তাদের ধারণা।“ (সুত্র, সমকাল, ১৭ জুলাই, ২০১০)। এদিকে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় খোদ ঢাকার রবীন্দ্র সরোবর থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক গোলাম মোর্তুজাকে। গত তিন দিন হলেও সাদা পোশাকধারী পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কোথায় নিয়ে রেখেছে অদ্যবধি কোন সন্ধান মেলেনি (সুত্র, নয়া দিগন্ত, ১৭ জুলাই, ২০১০)।
(চলবে)
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×