আরও একটা দিন হাজারিবাগে, এবং নেহাতই জন্মদিন। শ্যুটিং ছিল জোগিডি বলে একটা গ্রামে। কেটে গেল। মহুল গন্ধের বাইরে রোদ্দুরের গনগন আঁচে সারাদিন কেবল কুয়ো থেকে জল তোলাই হল। বিশাল বিশাল কুয়ো আর তার ভিতর ছায়া পড়ে গোটা পৃথিবীর। দূরের পাহাড়েরা কচ্ছপের মত গুটিয়ে থাকে কুয়োর জলে। জোগিডি গ্রামটার লয় নেই ক্ষয় আছে। জাঁকিয়ে বসেছে এচ আই ভি। এইরকমই জনা চল্লিশ বাচ্চার সঙ্গে কেটে গেল দিনটা। বটগাছে সুতো ঘুরিয়ে বটসাবিত্রী পুজো করছিল মহিলারা। এইতো। আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে চায় সকলেই। কেন যে বয়স বাড়ে।
পাহাড়ের নিচে ছোট ছোট বাচ্চারা নাচল গাইল সন্ধ্যে অব্দি। শ্যুটিং শেষ হলে অনেকক্ষণ শুয়ে রইলাম পাহাড়ের নিচে। আস্তে আস্তে আকাশ ভরে গেল তারায়। আরও একটা দিন কেটে গেল। এবার রাত্রে ফিরে যেতে হয় হাজারিবাগের হোটেলে অথবা পুরনো সব ঘুনধরা গল্পের কাছে। না। এবারে আর হাঁটাহাঁটি করিনি। ক্লান্ত ছিলাম, একসময় ঘুমিয়ে পড়ি। এইতো এভাবেই জন্মদিন কেটে গেল।
সারাদিন মোবাইলে নেটওয়ার্ক ছিল না তাই ফোন টোনও পাইনি। তিনদিন বাদে এইমাত্র বাড়ি ফিরে মেলে দুটো খুচরো উইশ। কাঠমান্ডু থেকে চিত্র সাংবাদিক বন্ধু নীলায়ন একটা ছবি পাঠিয়েছে, সঙ্গে চারলাইনের একটা নোট, ষোল তারিখ মন ভাল ছিল না তাই কাঠমান্ডু থেকে আধ ঘন্টার দূরত্বে ভক্তপুরে পুরনো নেপালি আস্তানায় সে কিভাবে দিনটা কাটাল। ছবিটা রইল এই লেখার সাথে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

