ফেলে দেওয়া মাল, কেউ নেই ধারে কাছে, বাতাস এলে উড়ে সব তালগোল,এখনই ঠিক সময়,লুঠ তো করতেই হবে। হা হা হা...

তোমার ছায়ারাই খুন করছে সমস্ত সম্ভাবনা

১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:০৭

শেয়ারঃ
0 2 0

কাল কিশোরগণ্জে, রাত আড়াইটার দিকে সবে আসর বসেছে, অনেক দূর-দুরান্ত থেকে শিল্পীরা এসেছেন, আকাশের পানি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাদের, ভেপসে উঠছে দাওয়ারা। তার পরও গান নামল, কুপি আর টর্চের আলো চারপাশ ঘিরে। বর্ষিয়ান লতিফ ছাতা সারান, আজ রাতে তিনি গাইছেন জালালগীতিকা। শুনলাম, শ ছয় গান তার মুখস্ত। ৫/৬ টা গান হওয়ার পর গৃহকর্তা বলতে লাগলেন, আর ১/২ টা গান গেয়ে শেষ করে দেন। নিস্প্রভ আলোয় মুখগুলি নিশ্চয় চলে যাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছিল না। আমাকে বললেন, তুমি ত গান পেয়ে গেসো এবার হুয়ে ফড়ো, তার হাসি শুনে মনে হল, আমি বিশেষ কোন নম্বরের বাড়ির জন্য একই রাস্তায় বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিলাম, হয়ত বা তিনি আমাকে এমনই ভেবেসিলেন।


পার্বতিপুর, মেহেরপুর, কটিয়াদিতে গান রেকর্ডিং করতে গিয়ে প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে। সময় নিয়ে দর কষাকষি হয়েছে, যেন আমি ৫ মিনিটের কাজের জন্য হা পিত্তেশ করে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাচ্ছি, ভয় দেখিয়েছে, এরপর না বেরোলে কিন্তু ট্রেন হারাইতেন। আহা ট্রেন মিস খুবই গৌন ব্যাপার, মেয়েদের দল, খালাই বলা ভাল, মুখে পান দিয়ে আবার চেগে উঠেছেন, নাচের ঠাঁটে টের পাচ্ছি রঙ্গরসিকতার প্রবাহ, আহা, সাতদিন-রাত্র নন-ই-স্টপ গাইলেও যা নাকি শ্যাষ হওয়ার নয়! সৈয়দ মুজতবা আলির কথা অনেকবারই মনে হয়েছে, কিন্তু হাসি পায়নি। প্রকৃতিতে মুগ্ধ হই বারে বারে, পা পিছলাই। আমার বন্ধুরাই দেখি রক্তাক্ত করে তুলছে ঐ পাটক্ষেত, কচুরিপানার মত ভেসে বেড়ান মানুষগুলিকে, মায়া অন্তর্হিত। মেঘ বেতালের আকারে সন্ধ্যা নামায়, বন্ধু আমার বোতলের ছিপি খুলে ফেলে সুনিপুন দক্ষতায়। বৃষ্টি পড়ে, গাছেরা মাথা নাড়ায়, ঐ সব গান -টান আজকাল আর পাওয়া যায় না। গাছেরা মাথা দোলায়, বৃষ্টি পড়ে, কারো কোন ছায়া পড়ে না।

এরা সব ফটোগ্রাফার, ভিডিওর কাজ-টাজ করে, চামড়ার নিচে মিডিয়ার "শিল্পী'র ট্যাটু আঁকা, বিলক্ষণ জটিল ব্যাপার। এই সব কুদরতে ফোন জিনিসটা আরো বিরক্তিকর, আর এই জাহিরবাজীর দেশে, টিভি অন হয়-অফ হয় না। কাজের লেবুর থেকে বাতেলার ফানুস অনেক দ্রুতগামী, পাছে শিমুল উড়ে যায় তাই মাছের পুরানো জালের ভেতর গড়া হয় তাদের রেসকিউ সেন্টার। আর্কিমিডিসের মত অনুযায়ী, চাপাবাজী ততটাই উপচে পড়ে যতটাই কথা বলে। প্রত্যেকেই দরকার-অদরকারে নিজের মত দেয়, দাড়িয়ে, শুয়ে, বসে। ব্যাস। জীবন এইভাবে তিতাস, আড়িয়াল খাঁ ও যমুনা পুরা পাস্কেলের ল। বৃষ্টির পানি আছড়ে আছড়ে পড়ছে নৌকার চারপাশে শুয়ে থাকা এক নদীতে। সে চুপচাপ শোনে। ছায়ামানুষ , এই ঘাস-মানুষেরদেশে, কেউ যে কিছুই শোনে না, হায়,তাই গান নেই, প্রাণের বিহণে প্রেম নেই। আজান শুনলে কেউ কেউ ওজু সেরে মসজিদে যায় বটে, চারপাশে কতিপয় জলটলমল জ্যোৎস্নারাঙ্গা কচুরপাতা ঠিক হাঁ করে তাকিয়ে থাকে তাদের দিকে, কখনও বা দুলে ওঠে, এমনি এমনি।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯১২৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ভাঙচুর ও চানাচুরপ্রিয়। খেতে ভালবাসি সিনেমা, মদ, মাছ, মাংস, ছবি ও বই।

মাঝেমাঝে লিখি আর মাঝেমাঝে ঘুমোই।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ