somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... চুল শুকানো রোদ্দুর হাটি হাটি পা পা করে শিশুর প্রানান্ত চেষ্টার মতো
রোদ্দুর ভেজা ওই জানালায় অপলক দৃষ্টি

গুন গুন গান গাওয়ার ভঙ্গিতে আলতো কাধে
হেলে পড়া চুল নিয়ে তোমার অবিরাম প্রচেষ্টা
চুরি করে তাকিয়ে দেখায় প্রশান্তির বৃষ্টি

দাদু নানু বলেছিলো ভেজা চুলে যেও নাকো
মাকে ও বলেছিলো, যেতে তুমি দিও নাকো
শুনেছিলে তুমিও, এসেছিলে তুমিও জানালার শিকে

এলুমিনিয়াম আর কাচের ভীড়ে নেইকো আজ জানালার শিক
ক্লান্ত পথিকের মতো সীমাহীন নিদ্রাসজল চোখে
এসেছিলে আমার চোখের তারার জানালার শিকে

উষ্ণ রোদ্দুরে, লোডশেডিং এর চাদরে, মহানগরে মহানগরে
সবাই যখন ঘর্মাক্ত, তুমি এলে স্নানের পরে এলোচুলের ভারে
কাচ আর এলুমিনিয়ামের জানালাকে করলে লোহার শিকে

পলক পড়ার খেলায় জিতি না আজো, পাই নি পুরষ্কার
বেদনা নিয়ে ঘুরে তাকিয়ে, পলক ফেলার নেইকো অবকাশ
চোখের সিলোয়েটে তুমি, ব্যাকগ্রাউন্ডে তেতে থাকা আকাশ

লেখার কথায় মৃদু হেসেছো, ভেবেছো বৃথাই কথা
সীমিতের মাঝে অসীমের ডাকে আমার পথচলা
সাতের মাঝে দুই এর নিয়মে প্রতিক্ষন কথা বলা

হারিয়ে যাবার আগেও বোধহয় এটাই চলিত নিয়ম
শত্রুর মাঝে বসবাস আমার, সমীকরনের গনিত
চোখ বুজেঁ হারিয়ে যাওয়ায় শ্বেত হওয়া শোণিত

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29157877 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29157877 2010-05-19 01:36:23
আমি, সে ও তারা সে তখন উদাসী এক খন্ড পেজাঁ তুলোর মত মেঘ
তারা তখন বন্দনা-নিন্দায়, আহারে-অনাহারে সন্ত্রস্ত

আমার যখন ছিলোনা এক চিলতেও শীতল পরশ
সে ছিলো দূর ভুবনে সর্ষে ক্ষেতে ভেসে বেড়ানো প্রজাপতি
তারা তখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্তির শিখরে

ভাবনাহীন এক জগতে রাজত্বের মুকুটে মোড়া আমার শির
সে তখন গুটি গুটি পায়ে হাটার ছন্দে মশগুল
তারা ছিলো নিজ ভূবনে অধিপতি অধীশ্বর

আমার চিন্তায় ছেদ ঘটিয়ে মনের আকাশে মেঘ
ধরার ধরিত্রীতে সে তো শুধুই বৃষ্টির জল
তাদের বিভক্তি শিবিরে শিবিরে, যুদ্ধের ডামাডোল

মনের বাহনে আমি কেবল একাই সারথী, একাই যাত্রী
বাহনের আবাহনে সে শুধুই পরিশ্রান্ত, নিজের সাথেই যোদ্ধা
তাদের মাঝেই পিকাসো, আইনষ্টাই্‌ন, দা ভিঞ্চির মতো বোদ্ধা

দিনের শেষে কেবলি ক্লান্ত, অবহেলিত এক আমি
প্রাপ্তির ব্যথায় অভিভুত সে কোমলতার কাঠিন্যে ক্ষিপ্ত
তারা এখন শ্রবন-দর্শন-কথনে উদ্ভাসিত উদ্দীপ্ত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29153407 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29153407 2010-05-12 03:36:14
অন্ধকারে আলোর বন্যা অন্ধকারে নিমজ্জিত চরাচর, পায়ের নীচে হঠাৎ জল
জলশুন্য এ খাবার ঘরে শুধুই পায়ে পায়ে আসা

মশারীর বাইরে মশাদের ক্রুদ্ধ চিৎকার, কান পাতা দায়
মশারীর ভেতরে উষ্ণ লু হাওয়া, ঘর্মাক্ত কলেবর
চোখ খুললেও অন্ধকার, মহাকালের শুন্য গর্ভ।

চোখের পাতায় টলটল জল, দৃষ্টিতে জ্বাজল্যমান অভিমান
ঠোটে পরিহাস, কপালে ভ্রু-কুঞ্চন
অন্ধকারে চোখে ভাসে এই তোমার ছবি।

ছোট বাচ্চার হাতে খরগোশের মতো কম্পমান চোখ
ত্রস্ত হরিনীর ভীত চাহনী, ভয়ে বোজাঁ চোখ
আধারের কোলে আধারের অন্ধকার

শব্দহীন ভাষার বিলাপ, কথাহীন বিষন্নতার ফুলঝুড়ি
চেতনার গভীরে শুন্যতার হাহাকার, অভাবের দ্বারে তাচ্ছিল্যের আধার
এর মাঝে দূর থেকে ভেসে আসা এক চিলতে আলোর আভাস

পর্বতসম বাঁধের এক কোনে সামান্য এক ফাটল
চুইয়ে চুইয়ে কয়েক ফোটা জল, ঝিনুকে যায় মাপা
আশার আলো রেখে যায় বন্যার পুর্বাভাষে, কাউকে না ভাসিয়েই

এতো আধারের মাঝে এক দুরাগত আভাসের মধ্যেই
জীবনের উদ্দীপনা, উদ্ভাস, উৎপত্তি, অবগাহন এবং ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা
তিমির তমসার আধারে এক ফোটা আলোই আমার জীবনের বন্যা
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29153403 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29153403 2010-05-12 02:46:24
বিড়ালের জলে ডোবা নিমজ্জিত বিড়ালের মত আমাদের কাইকুই
জলে আমাকে ফেললো টা কে?

বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নেই কোন খালি বেড
এখন মেঝেতে শুয়েই আমার সাময়িক প্রশান্তি
পাতালে নয়, আছি হাসপাতালে, আমি আসলে কে?

আমার ঘাড়ে কারো আঙ্গুলের কারুকাজ
নিজেকে গোল করে ঘিরে রাখা, আদরের প্রত্যাশা
সাদা কালোর মিশেলে আমি সেই আদুরে বিড়াল।

মহল্লায় মহল্লায় ছাল ওঠা কুকুরের টহল
আমার সাময়িক লুকিয়ে থাকার অনেক গুলো জায়গা
জলে না পড়লে আমার চেয়ে স্বাধীন আর কে?

হারিয়ে যাওয়া স্বজনপ্রিতী, লুপ্তপ্রায় মানবতার উদাসীনতায়
হাজারো বিড়ালের ভীড়ে আমার জলে পড়া
কারো চোখে না পড়েই আবারো তীরে এসে ওঠা

এরকম নিত্য হলে, কবি হবে নিশ্চুপ
'বেড়ালের জান' বলে শব্দদ্বয় হবে বিলুপ্তপ্রায়
আমার হবে না আর জলে ডোবা

ভাবার সময় ক্ষীন হতে হতে শীর্নপ্রায়
বহতা নদী এখন শুষ্ক অগভীর খাদ
ভাওয়াইয়া গাওয়া গরুর গাড়ীর পথ মাত্র

বৃক্ষ উজাড়ে দক্ষ জাতির কাছে নেই গরুর গাড়ীর চাকা
জাতীয় ঋনে মহাজনের ট্রাক্টর ই আজকের ভরসা
মাংসের দোকানে গরুর জায়গায় মহিষের মাংস পাকা

তাই আজ ভেসে থাকার ভান ও করতে হয় না
ডুবে যাবো বলে কেউ আজ ভাবেও না
"বিড়ালের জলে ডোবা" তাই শুধুই কবির কল্পনা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29153017 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29153017 2010-05-11 13:04:50
এক ভুলো মনের ষ্টেশন মাষ্টার কুকড়ে ওঠা মন, অবসন্ন ক্লান্ত শরীরে মেঘের ভার
এরপরেও কত ভাবনা, কতই না চিন্তার ঘনঘটা।

সময় যখন রেলগাড়ী, শুধু নেই কোন সিগন্যাল
যতক্ষন ইঞ্জিন চলমান, গতির নেই কোন ক্ষয়
সবাই যদি এমন হতাম, শুধুই জীবন কর্মময়।

দুপুরের খররোদে অলস কাকের ডাক
কিংবা জলশুন্য ওয়াসার কলের থেকে
হঠাৎ দু এক ফোটা জলের ভুতলে পদার্পন

এগুলো দেখার সময় যদি আমার থাকে
তাহলে জীবন কেন থেমে যায় সময়ের বাঁকে?
দেখা গুলো কি সবই ভুল?

গনিতের নিয়ম যেখানে অশালীন
মনের ভাবনা যেখানে মুল্যহীন
কার সাথে দেবো পাল্লা, রেলগাড়ী নাকি সময়?

আমার জন্য থামে না কিছুই, না সময়, না রেলগাড়ী
চাকুরীটা এবার কে হারাবে?
আমি নাকি সেই ভুলো মনের ষ্টেশন মাষ্টার?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29152812 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29152812 2010-05-11 03:06:48
মনের কথা - ভাবের কথা নয় - ০০১
< ১ >
অফিসে বসে থেকেই আফজাল এস এম এস পেলো - " তুমি কি আসলেই ভুলে যাচ্ছো, নাকি ভুলে যাবার ভান করছো?" এ নিয়ে আজ বোধহয় ছয়বার, বোধহয় কারন - আজকাল আফজাল আর উৎসাহ পায় না। কোন না কোনভাবে এ সব বিরক্তির ই নামান্তর। কতোবার আর হিমীকা কে এ কথা বলে বোঝানো যায়? আসলে ই কি যায় না? আমি কি আসলে ই বোঝানোর চেষ্টা করেছি - এ নিয়ে ও আজকাল আফজাল ভাবে। ভাবনার আসলে কোন শেষ নেই। একটা সময় ছিলো যখন বোঝানো যেতো, শোনার ধৈর্য্য ও ছিলো হিমীকার। এখন বোধহয় সে সবের ছিটে ফোটা ও নেই, বোধহয় এ জন্য যে, আফজাল আজকাল এ সব জানতে ও চায় না। বেচে থাকা কষ্টের, পয়সা উপার্জন কষ্টের, ভালোবাসায় সুখ আছে বলে জানতো, এখন দেখে তাতে ও কষ্ট। আসলে কি ভালোবাসা এখন ও আছে কিনা তা ও আফজাল জানে না। আজকাল একটা পার্টটাইম কাজ করে ও। অফিস থেকে ফিরে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে সময় কাটানো ছাড়া কিছুই করার কথা ভাবে না। কে দায়ী তা নিয়ে মাঝে মাঝে চিন্তা আসে, কিন্তু সেটাকে দূরে ঠেলে দিতে পারলে ওর মতো খুশী আর কেউ হয় না। যাক, আফজাল তাহলে খুশী ও হয় আজকাল। যা কিছু কথা তা শুধু তাপসের সাথেই। আজকাল তাপস ও হাল ছেড়ে দিয়েছে, কাকে কি বলে বোঝানো যাবে তার হিসেব এখন তাপস ও খুজে পায় না।

< ২ >
বাসায় ফেরার পথে অমিতার আজকে কয়েকবার চোখ পড়লো ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা ছেলেটার দিকে। ছেলে বলা বোধহয় ঠিক হলো না। ভদ্রলোক - হু, সেটাই বোধ হয় এর জন্য প্রযোজ্য। যদিও তা কেবল আক্ষরিক অর্থেই। জুল জুল এরকম চোখে তাকিয়ে থাকা কাউকে কি ভদ্রলোক বলা যায়? যাক, অমিতা ভাবছে - এ নিয়ে আর কোন ভাবনা নয়। ইন্টার্নশীপ করার শুরুতে অমিতা কখনো ভাবে নি কর্মক্ষেত্র এতোটা নির্মম হতে পারে। যেদিকে তাকায়, শুধু অসম প্রতিযোগিতা, বাকা পথের অন্বেষন আর লিঙ্গ বিভাজন। মাঝে মাঝে হাফ ধরে যায়। অযাচিত ভাবে সহকর্মীরা আপন হবার চেষ্টা ও করে। তাও তো, এই ভদ্রলোক - ছেলে টা অফিসের অনেকের চেয়ে ভদ্র। ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসার প্রবনতা টের পেতেই দমে যায় অমিতা। এই ছেলের সামনে বাসের মধ্যে তন্দ্রা এসে গেলে লজ্জার শেষ। আসলে ছেলেদের কি আর কোন কাজ নেই এরকম চোরা চোখে চাওয়া ছাড়া। আর কিছু ভাববে না এ নিয়ে - এই ভেবেই অমিতা যে কখন ঘুমিয়ে গেলো টের ও পেলো না।

< ৩ >
বাদল অফিসে এসেই দেখে পরী টেবিলে মাথা রেখে ঘুম। লোডশেডিং এর চাদরে মোড়া এই অফিসে এখন উষ্ণ দাবদাহ। কিন্তু তাতে কি এভাবে ঘুমানো যায়ে্য হয়ে যায়? কে জানে? আজকাল এটাও একটা ফ্যাশন বোধহয়। এর পরে আরো ঘন্টাখানেক ধরে বাদলের পর্যবেক্ষনে পরীর টেবিলে মাথা রেখে ঘুম ছাড়া আর কিছুই দেখা গেলো না। ডাকতে যাবে, এ সময় পরীই মাথা তুললো। উষ্ণ হাসির সাথে - কি খবর বাদল দা? শুনে বাদলের আর কিছুই বলার রইলো না। বাদলের চোখে বোধহয় কঠিন জিজ্ঞাসাই ছিলো। পরীর স্বগতোক্তি - "বাদল দা, হঠাৎ শরীরটা খারাপ লাগছে"। চোখের কত্থার সাথে মুখের কথার যেনো কোথায় অমিল আছে, এই ভেবে বাদল সরে গেলো। পরীর দিকে বাদলের দুর্বলতা আজকের না, অনেক গুলো মাস ধরে ওরা একই সাথে একই অফিসে কাজ করছে। মুখ ফুটে বাদল এখনো বলার সুযোগ পায় নি। কখন বলবে, কিভাবে বলবে এই ভাবতে ভাবতে ই সময় চলে যায়, বলা আর হয়ে ওঠে না। আর কতদিন - এখন বাদল তাই ভাবছে।

এরা সবাই আগামী দিনগুলোতে, নিজের অজান্তেই আরো অনেকের সাথেই সম্মিলিত ভাবে আমার দেখা-শোনার গন্ডীর মধ্য চলে আসবে সেটা না ওরা ভেবেছে, না আমি। টুকরো টুকরো ভাবে এদের দেখে কখনো ভাবিনি, এরাই সবাই একত্রে জীবনের জটিল এক নাটকের অঙ্কে এভাবে জড়িয়ে যাবে। জটিল ভাবলেই জটিল, আসলে বোধহয় আমাদের সবার জীবনের এরকম দৃশ্যগুলো আলাদা আলাদা একেক এপিসোডের অংশবিশেষ। দেখি পরে আর কি হয় .....................




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29152804 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29152804 2010-05-11 02:40:37
অক্ষমতার লজ্জা - প্রথম পর্ব
তখন তো আর এখনকার মতো এত "সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরন" লেখা থাকতো না সিগারেটের প্যাকেটে। আর পাট-শলা তো প্যাকেটেও থাকতো না। কাজেই দম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সেই যে বড়দের মতো ভঙ্গী করে কাশতে কাশতে ঐ ধুয়া গেলা - এখনো হাসি সে দিনগুলোর কথা ভেবে। আমি ভোটেবাবু - কিঞ্চিত নাদুস নুদুস ছিলাম বটে, মশা - হাসিব আর গাতক - আবীর এই তিনজনে মিলে প্রতিযোগিতা টা ছিলোই সবকিছু তে। ওরা দুজন ততক্ষনে অনেক এগিয়ে চরে এই দৌড় প্রতিযোগিতায়। কি আর করা, উচু একটা ঢিবি দেখে বসে পড়লাম। শ্রান্তি তে চোখ বুজে আসছে।

আচমকা "me go to school tomorrow, vaiya go, why me stay home" শুনে তন্দ্রার রেশ টা কেটে গেলো। দেখি আমার ছোটছেলে বড়ভাই এর সবগুলো ক্লাস ওয়ার্ক এর খাতা ছিড়ে কাগজগুলো আমার হাতে দিয়ে আদরের সাথে প্রস্তাব টা পেশ করে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। তন্দ্রার ঘোর কাটতেই টের পেলাম ছোটজনের কপালে আজ মার আছে। মা এর কাছে খাবে সলিড "মাইর" আর বড়জনের কাছে চিপা "মাইর"। তিন বছর হয় নি শুভ্রর এখনো, কিন্তু সৌরভের দেখাদেখি স্কুলে যাবার প্রবল একটা ইচ্ছা। ওদের এ সময়টাতে আমি কি করেছিলাম? নাহ, তিন বছরের সময়টাকে মনে করতে পারি না এখন।

যদিও দুই বছরের একটা স্মৃতি এখনো চোখে ভাসে। সাইরেন বাজার সাথে সাথে মা আমাকে কোলে করে এক নিঃশ্বাসে খালার সাথে বাঙ্কারের মতো গর্তের ভেতরে চলে এলেন। সাথে সাথেই মাথার ওপরে উড়োজাহাজের শব্দ, দূরে কোথায় যেন বোমা ফোটার শব্দ। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বলতে এইটুকুই। ছোট রাজপুত্রের কান্না শুনে আবারো বাস্তবে ফিরে এলাম। এটা তার ভয়ের কান্না, শুভ্রর অভ্যাস এটা। অপকর্ম করবে নিঃশঙ্ক চিত্তে, কিন্তু ফলাফল অনুধাবনে সচেতন হলে আগেই কান্নাকাটি করে সবার সহানুভুতি আদায়ে সচেষ্ট হবে। আজকালকার বাচ্চাদের আই কিউ নিয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষন আছে, যা সাধারনভাবে খুবই আশাব্যঞ্জক, কিন্তু ঠিকভাবে পরিচালিত না করতে পারলে ভয়ের কারন ও হতে পারে।

ইদানিং এই একটা বদ-অভ্যাস হয়ে গেছে। চিন্তাগুলো এলোমেলো হয়ে যায়। হবেই না বা কেন? জীবনের হিসেব যে মেলে না। প্রতিদিন যা ভাবি, হয় তার অর্ধেক ও সত্যি হয় না, কিংবা বেশীর ভাগই অন্য ফলাফল দেয়। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে কাজে যাবার সময় ভাবি, আজ এটা করবো, ওটা করবো। বেশীর ভাগ ভাবনাই পুর্নতা পায় না। কেন জানি না, আজ মশার কথা খুব মনে পড়ছে। মশা, আমার ছোটবেলার বন্ধু হাসিব। ডায়েরীটা খুলে আমাদের ত্রিমুর্তির গ্রুপ ছবিটা আবার ও দেখলাম। হাসিব আর ফিরে আসবে না, মন খারাপ হবার বদলে আবারো রাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।

হাসিবের কি দোষ ছিলো? ওর স্ত্রী, শান্তার কি দোষ ছিলো, ফূটফুটে একটা মেয়ে লাবনী, ওর কি দোষ ছিলো। কাকে প্রশ্ন করবো? উত্তর যেখানে মরিচীকা, প্রশ্ন তো মরুভুমিকেই করতে হয়। অনেক করেছি এই প্রশ্ন। নিজের কাছে করেছি, মনে মনে করেছি, জানাজা পড়তে আসা রাজনৈতিক নেতাদের কাপুরুষের মতো পালিয়ে যেতে দেখে তাদের উদ্দেশ্যে সরোষে করেছি, আরেক জানাজায় দাঁড়িয়ে হাসিবের এক বন্ধু কে জড়িয়ে ধরে কেদে কেদে করেছি। বৃথাই চেষ্টা, আজ পর্যন্ত কোন সদুত্তর পাই নি। হাসিবের বাবা আজো সজল চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন। হাসিব কে হারিয়ে তিনি শান্তা কে নিজের মেয়ের মতো করে পেয়েছেন। কিন্তু হাসিব যে আর ফিরে আসবে না সেটা চরম সত্য বলে জেনেও কেন যে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। তবে আমি নিশ্চিত যে তিনি বিচার চান না। এই একটি কথা আজো চাচার মুখে শুনি নি।

বাবা মারা যাবার পর ওনার কাছেই ছুটে গিয়েছি কারনে অকারনে। বাবার ভালো বন্ধু ছিলেন, সেজন্য কিনা জানি না, হাসিব আর আমাকে কখনো খুব একটা আলাদা করে দেখেন নি। এই বৃদ্ধের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি নি আজো। বাবার বন্ধু পিতৃসম এই আশরাফ চাচার একটা কথা খুব কানে বাঁজে। অনেক কথা শোকে বিহ্বল হয়ে বলেছিলেন " বাবা, বলোতো, ছেলেকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার না বানিয়ে সেনাবাহিনী তে পাঠিয়ে কি ভুল করেছিলাম? যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হলে ধরে নিতাম আমি সক্ষম পিতা, ড্রেনের পাইপ থেকে টেনে তোলা লাশ আমার ছেলেটা কি এতোই অক্ষম ছিলো নিজেকে রক্ষা করতে? নাকি আমি ই অক্ষম পিতা, এতো কিছু থাকতে কেন ছেলেকে দেশরক্ষা করতে পাঠিয়েছিলাম" আবার ও চিন্তায় ছেদ পড়লো, সৌরভ আর শুভ্র র চিপা "মাইর" আর কান্নার শব্দে। ঊঠে যেতে যেতে ভাবছিলাম, আশরাফ চাচার এই অক্ষমতার মধ্যে আমার ভুমিকা কতটুকু, কি করেছি, কি করতে চেয়েছি, চাইলেও পেরেছি কিনা?

অক্ষমতার এই লজ্জার দায় কি আমি এড়াতে পারবো? যতবার ই চিন্তা করি, সব ভাবনা গুলো জট পাকিয়ে যায়। কেন এর উত্তর পাই না? কিন্তু হাল ছেড়ে দিতে ও মন চায় না। এর উত্তর আমাকে বের করতেই হবে ....................

[ক্রমশ...]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29011277 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29011277 2009-09-16 04:43:04
সাংগঠনিক / প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা – একটি অভিজ্ঞতা – পর্ব ১
সম্পুর্ন কর্মজীবন এর সিংহভাগে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে, প্রথম মোড় যেদিন নিলাম, সেদিন অর্থ ও বানিজ্য বিষয়ক একটি উপ-দপ্তরের কাজ বুঝে নেবার দায়িত্ব পেলাম। আমাকে যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দিলেন, তারা ও ইতিপুর্বে আমার ই মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। যদিও তারা কেউই পুর্বতন প্রতিষ্ঠানে ১০ বছরের বেশী ছিলেন না, সেখানে ঐ একই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আমার অভিজ্ঞতা ১৮ বছরের ও বেশী। গত এক বছর যাবত আমি যেখানে কাজ করছি এই প্রতিষ্ঠানটি একটি বেসরকারী সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত।

ঢেকি নাকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। শোনা কথার বাস্তব প্রতিফলন পেলাম নিজের বেলায় ও। ক্রয় বিভাগে কাজ করলেও প্রশাসন ও মানব সম্পদ বিভাগের প্রতিটি কাজের যতটুকু চোখে পড়ে, তাতে ভালো দেখলে মনে মনে “শাবাস” দেই আর বেশীর ভাগ ই আমার থেকে মনে মনে “বাশ” পায়। অনেক গুলো কান্ড দেখে হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়। বিখ্যাত কোন কোম্পানীর ঔষধ ও এ ব্যথা সারাতে পারবে না।

বিপনন বিভাগের সাথে পরিচালনা বিভাগের রেষারেষি, মানব সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত গোয়েন্দা প্রীতি, অর্থ বিভাগে ব্যবস্থাপক হীনতা – এ সব তো আমার চোখে দেখা। লোকে বলে ” যা দেখা যায় তার সবটা নাকি সত্য না “। দুর্জনের মুখে ছাই দিয়ে যদি এগোতে পারতাম, তাহলে এই কথার ছাপা টি শার্ট ঈদ উপহার নিতাম। কিন্তু কপালে না থাকলে কি আর করা। যা দেখলাম, তার সবটাই যখন সত্যি হয়, তখন আমার ঈদের ড্রেস এর কি হবে? হায় হায়, নাকি আয় হায়?

আসলে এই সংগঠন টা কে উন্নতির দ্বার থেকে যখন ই মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখেছি তখন ই ঠিক করেছিলাম এ নিয়ে ভাবনা গুলো লিখে রাখবো। তাই আজ শুরু করলাম – ধারাবাহিক ভবে লেখবো। ভালো হোক বা খারাপ, ফিডব্যাক পেলে ভালো লাগবে। আজকে বিষয় এর অবতারনা করে দ্বিতীয় পর্বে আরো বিশদ ঘটনাপুঞ্জী ও ব্যখ্যায় যাবার চেষ্টা করবো।

ততক্ষন সবাই ভালো থাকবেন, এই প্রত্যাশায় ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29008160 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29008160 2009-09-10 17:54:49
যা যা বুঝিনা বনাম সামান্য যা বুঝি - পাল্লা কোনদিকে ভারী? - প্রথম পর্ব (৫) বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদুর" তাই যা বিশ্বাস করি সেটাকে আকড়ে ধরে রাখার জন্য প্রানপনে চেষ্টা করি, কিন্তু প্রায়শই দেখি "সংশয়ে সঙ্কল্প সদা টলে"। এর সাথে অবশ্য পাছে লোকে কিছু বলার কোন সম্পর্ক নেই। সোজা কথায় কি তাহলে দাড়াচ্ছে না যে, ধর্মীয় বোধের নিজস্ব ভিত্তিটা বোধহয় ততটা শক্ত নয় আমার। আসলেই কি তাই, দেখা যাক, আমার কি বলার আছে।

অনেক দিন পর কিছু লেখার চেষ্টা করছি। এজন্য সুদুর অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী আমার এক ভাইকে স্মরন করেই আজকে লিখতে বসলাম। ভেবেছিলাম মানুষের মধ্যে পারষ্পরিক মানসিক দ্বন্দ্ব বা টানাপোড়েন নিয়ে কিছু লিখবো। কারন এটা আমার নিজস্ব মনোজগতের অনেকখানি সবসময় ছেয়ে থাকে। পরে এই ভাবনা বাদ দিয়ে নিজের ভাবনা গুলো নিয়ে লেখায় মনস্থির করলাম। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনভাবেই তর্কের উদ্রেক না করে কিছু কথা বলে যেতে চাই। শুরুতে যে কথাগুলো বললাম, ধর্ম বিষয়টা বোধ করি এগুলোর সাথে অঙ্গাঅঙ্গি বা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

বিশ্বাস, জীবন চলার পথ, এবং খাটি মানুষ বা মন্যুষত্ব - এই তিনটি বিষয় যে কোন ধর্মের মুল মন্ত্র বলে আমি বিশ্বাস করি। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, এই তিনটি ই যদি ধর্মরিতী র সব, বা অনুশাসনের সব হয়ে থাকে তাহলে প্রথা গুলো কেন "আবশ্যিক, পালনীয় ও ঐচ্ছিক" এই তিনভাগে বিভক্ত হয়ে নিয়মে পরিনত হওয়ার কি ই বা দরকার ছিলো? এর উত্তর খুজতে গেলে বোধহয় সময় তথা অভিজ্ঞতার এর সাথে একটা সম্পর্ক খুজে পাই। পড়াশোনার একটা স্তর পর্যন্ত মনে করতাম, এটা ওটা পড়ে কি লাভ হচ্ছে? কেবল মাত্র ঐ স্তর টা পার হয়ে এসে নয়, তার ও অনেক দিন পরে বুঝেছি, আসলে ঐ স্তরের কাজ ছিলো আমার মনন কে গড়ে তোলা বা ভিত্তির কাজ দেয়া।

জীববিজ্ঞানে পড়া অক্সিজেনের কাজ, রসায়নে পড়া অক্সিজেনের কাজ, এগুলো অক্সিজেন সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছে, এর পরে যখন মাসুদ রানা পড়েছি, তখন আসলে আগের শিক্ষা গুলো কে সিড়ি ধরে পরের গুলো আমার মনন কে গড়ে তুলেছে। তাই সময়, পর্যবেক্ষন, অভিজ্ঞতা লাভ এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে মনের চিন্তা করার ক্ষমতা, ব্যাপ্তি এবং বিকল্প চিন্তার প্রসারতা বাড়ে। এটা আমার বিশ্বাস, কিন্তু সবাইকে এ বিশ্বাসের সাথে একমত হতে হবে এটা যেমন আশা ও করি না তেমন আমার এটাই যে চরম সত্যি সে দাবী ও করি না। যে ছাত্র রসায়ন বা জীববিজ্ঞানের আগেই মাসুদ রানা পড়েছে সে কি সিড়ি ছাড়া উঠতে পারে নি? অবশ্যই পেরেছে। আবার এর উলটো টাও দেখা যায়, সব পড়ে, বৈধভাবে পরীক্ষায় রেকর্ড পরিমান নম্বর পেয়ে ও অনেকের জীবনের শিক্ষা টা কোন মনন তৈরী তে তাকে সাহায্য করে নি। আসলে বলতে চেয়েছিলাম, বয়স বা অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে সাধারন ভাবেই মানুষের উপলব্ধি র ক্ষমতা, চিন্তার প্রসারতাএবং মননের ব্যাপ্তি বাড়ে।

তাই ধর্মীয় অনুশাসন কেন চাপিয়ে দেয়া হয় সেটা বোধহয় আমার অনুজ দের চেয়ে কিছুটা হলে ও ব্যাপ্তির দিক দিয়ে বুঝি। আসলে মানুষের মৌলিক দু একটি প্রবনতার মধ্যে গুরুত্বপুর্ন একটি হল পরিবর্তনের প্রতি মনের বাধা (Resistance to Changes)। আরেকটি হলো চিন্তা/ভাবনা, কথা ও কাজের মধ্যে অমিলের প্রবনতা। আমার বিশ্বাস ও অনুভবে মনে হয়, মানষের এই দুটি বোধকে স্তিমিত করার জন্য ই, ধর্মীয় অনুশাসনের উৎপত্তি। কারন মানুষের এই দুটি বোধ ই বিশ্বাস ও খাটি মানুষ হিসাবে জীবন চলার পথের অন্তরায়। যার মধ্যে মন্যুষত্বের লক্ষন নেই তাকে অনুশাসনের বেড়াজালে নিয়ে এসে বদল করা যায় কিংবা যায় না এবং যার মধ্যে বিশ্বাসের অভাব নেই তার জন্য কোন অনুশাসনের দরকার হয় না - এই দুটি তত্ত্বের মধ্যে তার্কিক আলোচনা, তুলনামুলক বিশ্লেষন ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চলেও গোলশুন্য ড্র ফলাফল প্রসব করতে পারে।

এ জন্যই শুরুতে বলে নিয়েছি, আমি কেবল আমার বিশ্বাসের কথা ই বলবো। কাউকে হেয় করা, জোর করা বা ভয় দেখাবো না। এটা আমি সর্বান্তঃকরনে বিশ্বাস করি, উপলব্ধি নিজের ভেতর থেকে উঠে আসতে হয়। বাইরের প্রভাব গুলো অনুঘটকের কাজ করে মাত্র, কোনভাবেই সেগুলো বিক্রিয়ার মুল উপাদান হতে পারে না।

খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কথা শুনেছি, যিনি প্রথম দশ রোজায় এক খতম সহকারে তারাবী শেষ করে পরবর্তী ২০ রোজায় সন্ধ্যার পরের ব্যবসাজনিত কার্যক্রমে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেন। অর্থ্যাৎ, প্রতিদিন তিন পারা করে খতম হয় তারাবীর সময়। তিনি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে যা শোনেন তার মানে বোঝেন না। দাড়ি রাখা রাসুলুল্লাহ হযরত মোহাম্মাদ (সঃ) এর সুন্নত মনে করে দাড়ি রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ হযরত মোহাম্মাদ (সঃ) ব্যবসা করতেন বিধায় তিনি ও ব্যবসা করে প্রশান্তি লাভ করেন। চোখে সুরমা, পাঞ্জাবী তে আতর, ইফতারে খেজুর অবশ্যই থাকতে হবে তার। বৎসরান্তে হজ্ব করা বাধ্যতামুলক মনে করেন, কিন্তু যাকাতের হিসেব করার সময় সম্পদের হিসেব কে বাৎসরিক ইনকাম ট্যাক্সের সম্পদের হিসেব ও স্মরন রাখেন না। সরকারের ট্যাক্স ফাকি দেয়ার জন্য অনেক খরচ করে উকিল নিয়োগ করেন, তাও ভালো যে যাকাতের হিসেবের জন্য তাকে নিয়োগ দেন না। আনুমানিক হিসাব করে যাকাত দেন। দুঃখজনক হলে ও সত্য, তিনি রাসুলুল্লাহ হযরত মোহাম্মদ (সঃ) দ্বারা প্রতিপালিত অন্য নিয়মগুলো, যেমন - ওজনে হেরফের না করা, মিথ্যা কথা না বলা, গুদামজাত/কৃত্রিম সংকট তৈরী না করা, সংযমের মাসে দাম বৃদ্ধিজনিত লোভ পরিত্যাগ ইত্যাদি সম্পর্কে জানেন না, জানলেও কাকের চোখ বন্ধ করে রাখার মতো মানেন না।

সারাংশ করতে গেলে বলা যায় যে, অবশ্য পালনীয়, পালনীয় ও ঐচ্ছিক এর মধ্যে সবগুলো ঐচ্ছিক কাজগুলোর মধ্যে পছন্দনীয় সবগুলো মন দিয়ে করেন, খরচ বাচবে এ ধরনের পালনীয় গুলো কিছু কিছু করেন, এবং অবশ্য পালনীয় মানবিক কাজগুলো করার সময় নিজের মন কে কাকের চোখ মনে করেন। আমি মোটেও ব্যবসায়ী বিদ্বেষী কেউ নই। কিন্তু তাদের জ্বালায় যে আমার মতো অনেকের প্রান ওষ্টাগত তা তো অস্বীকার করার উপায় ও নেই।

আসলে একটা উদাহরনে অনেক কিছুই একসাথে দেখা গেলো বলে এটাকে ই উপস্থাপন করলাম। আমি যে তার চেয়ে ভালো কিছু তা দাবী করার ধৃষ্টতা রাখি না। আসলে নিজেকে সাবধান করার জন্য ই এতো কিছু বললাম, এতো কিছু লিখলাম। হয়তো ব্যবসা করার সাহস, ক্ষমতা বা ইচ্ছা কোনটাই নেই বলে তার অনেক খুত দেখতে পেলাম। আমাকে যিনি বা যারা প্রতিনিয়ত দেখেন তারা এর চেয়ে বেশী খুত আমার মধ্যে দেখেন। আমার বিশ্বাস কে পুনরোজ্জিবীত করার একটা প্রয়াস নিলাম মাত্র।

খাটি মানুষ হতে চাইলে ই যে হওয়া যায় না, তার কারন বোধহয় আমাদের সমাজের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা অনিয়ম গুলো, কিংবা অনিয়মকারীদের আপাত ভালো থাকা যা অহরহ আমাদের চোখে পড়ে। আসলে বোধহয় সময়, বয়স কিংবা অভিজ্ঞতা ই আমাদের কোন একটা সময়ে বলে দেবে যে আমাদের জন্য কোনটা ভালো। মহান আল্লাহ্‌তায়লার কাছে দোয়া চাই যে, তিনি আমাদের দেখার শক্তি দিন, বোঝার বুদ্ধি দিন, খাটি মানুষের রাস্তায় পথ চলার মানসিক শক্তি ও সাহস দিন। আমিন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29007167 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/29007167 2009-09-09 02:49:42
ভাবনা - সংযম এর তাত্ত্বিক ব্যখ্যা ও আমার অনুভুতি - পাখীর নীড়ে ফেরা (৪) " style="border:0;" /> " ও। আর এক পক্ষান্তরে আবারো এলো বলে সিয়াম সাধনার মাস - রমজান। প্রতি বছর রোজার মাসে মনে কিছু ভাবনা এসে জড়ো হয় :-*, হয়তো সংযমের কারনে তখন সেসব জোর দিয়ে বলতে পারিনা। আর আমি যে বলবো, সেটা নিয়ে ও দ্বিধায় থাকি। কারন আমার জ্ঞানের স্বল্পতা। কথায় আছে, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী, আবার এটাও প্রচলিত কথা ছোট মরিচের ঝাল বেশী। যাহোক, আমার আকার আকৃতির কথা বলছি না।

আমি বলছি আমার অনুভুতির কথা, এবং আমি দৃঢ়্ভাবে বিশ্বাস করি, আমি এখন যা বলবো, সেগুলো বলার জন্য সাধারন জ্ঞানই যথেষ্ট। এর জন্য ইসলামের ইতিহাস বা ধর্মীয় শাস্ত্রে পন্ডিত হবার প্রয়োজন হয় না। বয়স অনেক ছোট থাকতে রমজানের মাস শুরুর আগের জুম্মাবারে খুতবা শুরুর আগে সম্মানিত ইমাম সাহেব নিজেই প্রশ্ন করে প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন " ১১ মাসের সব খারাপ কাজ বন্ধের জন্য রমজান মাসের আহ্বানে সাড়া দিতে গেলে হঠাত ব্রেক কষে দাঁড়ানো গাড়ী যেমন কিছুটা স্কিড করে যায়, তেমন হতেই পারে, কিন্তু ব্রেক করা টা বাধ্যতামুলক"। এখন অর্বাচীন অথবা নবীন লেখক হিসেবে আমার বিবেচনায় আমি মনে করি এই স্কিড করার পরিমান খুব বেশী হলে তাতে দুর্ঘটনা ঘটার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ ধরনের গাড়ী রাস্তায় চালানোর উপযুক্ত তো নয়ই, বরং একে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওয়ার্কশপে নেয়া সকলের জন্য উত্তম। এবিষয়ে আশা করি লেখার উপসংহারে আবার দৃষ্টিপাত করবো।

যাক, যা বলছিলাম, প্রতিবার রোজার সময় কিছু কিছু বিষয় খুব দৃষ্টিকটু লাগে। এজন্য আজ "আওয়াজ" এ এ নিয়ে শাউট করেছিলাম। প্রতিক্রিয়া বহুমূখী। এ জন্যই ব্লগে এলাম, ১৪০ বর্নে অনেক কিছুই প্রকাশ করা যায় না। নিন্দুকেরা যদি বলেন - "এতো অসংযমী কেন তুমি <img src=" style="border:0;" /> ?" তাহলে অবশ্য মৃদু হাসা ছাড়া করার কিছুই নেই আমার <img src=" style="border:0;" />। ওখানে দুটো বিষয় উত্থাপন করেছিলাম - ইফতারের আগে বাড়ী ফেরার জন্য সংযমের বিষয় ও ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের সংযমের বিষয় টি। এখানে লেখার সীমাবদ্ধতা নেই বলে আরো কয়েকটি বিষয় যোগ করবো।

গত কয়েক বছর যাবত দিন শেষের আলো ও অফিস ছুটির সময়ের ব্যবধান ছিলো কমবেশী ১১০-১২০ মিনিট বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে কিছুটা বেশী। এসময়ের ব্যবধানে সাধারনভাবে বাড়িতে পৌছা গেলেও ইফতার কেনার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয় বিধায় এ সময়কাল যথেষ্ট নয় বলে আমরা তাড়াহুড়ো করি, এটা হয়তো অনেকেই যুক্তি দেখাবেন। আমি যৌক্তিক কথা মানবো না এমন ভাব নিয়ে এ লেখা লেখতে ও বসি নি। এ যুক্তি টা মেনে নিলাম। কিন্তু অফিস ছুটি শুরুর আগেই বিকেল ৩ টা থেকে যে তাড়াহুড়ো টা হয়, এবং সে সময় যে সংযমহীনতার পরিচয় দেখি সেটা মেনে নিতে তো মন চায় না। অনেকে ই বলবেন - তোমার মন কি চায় সেটা বিবেচনার বিষয় নয়, বিবেচ্য বিষয় হলো ইফতার ও রমজানের অংশ, সুতরাং বাড়ির সবাই কে নিয়ে একসাথে ইফতার করাটা জরুরী। রাজার পুকুরে দুধ ভরার গল্পটা মনে পড়ে যাচ্ছে - আমি ভাবছি সবাই তো দুধ ঢালবে, আমি একা না ঢাললে ধরা পড়ার সম্ভাবনা নাই, কিন্তু "আমি" র সংখ্যা যখন "সবাই" রাজার পুকুর তখন শুষ্ক গর্ত মাত্র। তেমনি শুধু আমাকেই পরিবারের সাথে ইফতার করতে হবে এটা না ভেবে যদি ভাবতাম - আমাদের সবাইকে যার যার পরিবারের সাথে বসে ইফতার করতে হবে তাহলে বোধহয় সবাই সেটা পারতাম। এখন যা হয় সেটা হলো কেউ মাত্র কোনভাবে পারি, আর বাকি সবাই হাফাতে হাফাতে রাস্তায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা/সংঘটন ঘটাতে ঘটাতে পারি।

আমরা যারা ব্যক্তিগত যানবাহনে আসা যাওয়া করি তারা/তাদের চালকেরা যে রকম, ঠিক তেমনি হলেন পাবলিক যানবাহনের চালকেরা। কেউ কাউকে ছাড়বেন না <img src=" style="border:0;" />। রাস্তা বন্ধের মধ্যে যদি বাহবার কিছু থাকে তাহলে আমরা জাতিগত ভাবে এ বিষয়ে সার্বজনীন স্বর্ন পদকের দাবীদার এবং অধিকারী তো বটেই <img src=" style="border:0;" />। আল্লাহর রহমতে পুব ও পশ্চিমের অনেক গুলো দেশ দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই "জাতিগত" শব্দটা পুথিগত অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা। ছোটবেলার বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেখা বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় গুলোর শিরোনাম ও বক্তাদের এ নিয়ে একটি অভিব্যক্তি মনে পড়ে গেলো। যতদুর মনে পড়ে, বক্তারা বলতেন "ধন্যবাদ মাননীয় সভাপতি, একটি "ই" প্রত্যয় ও "কেবল" শব্দটি যোগে আজকের বিতর্কের বিষয়বস্তুটি ...... বিবেচনার দাবী রাখে" ধরনের অভিব্যক্তি। আমি ও এতো বছর পর বিতর্কের মঞ্চে না উঠেই ওনাদের মত বলতে চাই, যে কোন জাতির প্রত্যেকে নিজের উন্নতি চায়, কিন্তু আমরা "কেবল" নিজের"ই" উন্নতি চাই, ফলশ্রুতিতে আমরা সবাই ধরা খাই। ধরা যদিও গিলে খাওয়া বা আহার করার মতো কোন জিনিস না, তারপরেও খাই। কিভাবে খাই, সেটা ধরা (ভুক্ত) ভোগী রাই ভালো জানেন। বিশদ বিবরন অনাবশ্যক।

সমস্যা হলো এই জিনিস টা এতো খাই, তার পরেও আমাদের শিক্ষা হয় না। কারন ধর্মকে আমরা ধারন করি না, জীবনের সাথে একীভুত করি না, এটাকে অলংকার হিসেবে প্রদর্শন করি শুধু। ধর্মকে জীবন চলার পথ হিসেবে মানি না, ক্ষমার একটি উপায়, পাওয়ার একটি অবলম্বন হিসেবে দেখি শুধু। তাই যদি না হবে, তবে শব-এ-বরাত এর (বৃহস্পতিবারের) রাতে কেন রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম থাকবে না, কিন্তু অন্য যে কোন বৃহস্পতিবারের রাতে কেন উপচে পড়া ভীড় থাকবে রাস্তায়। কেন এই বৃহস্পতিবারেই শুধু উপচে পড়া ভীড় থাকবে মসজিদ গুলোতে, অন্য বৃহস্পতিবার গুলো কেন হবে - ওয়াও, উইক এন্ড নাইটস।

পড়তে পড়তে, আমার মনে এতো প্রশ্ন, কিন্তু আমি কতটুকু মানি, এ নিয়ে আপনাদের মনে বিরক্তিমুলক জিজ্ঞাসা এলো বলে। আগের লেখা গুলোতে ও বলেছি, আবার ও বলছি, আমার উদ্দেশ্য কাউকে অঙ্গুলীনির্দেশ নয়, বরং আত্মোপলব্ধির প্রয়াস নেয়া মাত্র। নিজেকে সাবধান করা, মন, মন রে, তুই যে পথে চলছিস সেটা কাউকে দেখানোর জন্য চলিস না, সবার ভালো যে পথে আছে, সে পথে চল, তার পরেও ছিটকে পড়ি সে পথ থেকে। এবং এ লেখার মধ্য দিয়ে আবারো নিজেকে মনে করিয়ে দেয়া, ফিরে আয় সোজা পথে। আসলে সংযমের জন্য শুধু রোজার মাস নয়, সব সময়ের ই একটি দাবী থাকে। কিন্তু আমরা তখন আর মানুষ থাকি না, সেই কাকের মতো আচরন করি, যার অভ্যাস চোখ বন্ধ করে রাখা। আমি বাড়ি ফিরে সবার সাথে ইফতার করবো সেটা যেমন কারো কারো মতে রোজার অংশ, তেমনি আমার অর্বাচীন মতে - আমার মতো সবাই যার যার ঘরে ফিরে পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ইফতার করুক সেটাই বোধ হয় রোজার একটি অংশ।

রমজানের মাসে ভ্রমন, যানবাহন শৃংখলা কেবল মাত্র সংযমের বিষয় নয়, কিন্তু এটা সবসময় দেখি এবং রোজার সময় খুব প্রকটভাবে দেখি বলেই বোধ হয় মনে বেশী দাগ ফেলেছে। সারাদিন উপোস থাকা যে রকম জরুরী, ঠিক সে রকম জরুরী মনকে সংযত রাখা। অধীনস্থকে কটু ভাষা প্রয়োগে অপদস্থ করা কিংবা উপরস্থকে মিথ্যা প্রশংসা /স্তুতিতে বন্যার্ত দের দলে সামিল করা সংযমের পরিচয় নয় নিশ্চিতভাবে। বাংলা ভাষায় কঠিন একটা শব্দ আছে - অন্তর্যামী, যার অর্থ আমরা অনেকেই বুঝি কিন্তু বোঝার চেষ্টা করি না। কথাবার্তা বা আচার আচরনের মধ্যে মনোবিজ্ঞানীরা ব্যক্তি মনের অনেক কিছুই ধরে ফেলেন, কিন্তু অন্তর্যামী যে কথাবার্তা বা আচার আচরন ছাড়াই সবকিছুই ধরে ফেলেন, তার ডিজিটাল প্রিন্ট আউট ছাড়া আমরা কি সেটা বিশ্বাস করার জন্য প্রস্তুত?

এরকম অনেক এলোমেলো ভাবনা মনে আসে, মনের কি দোষ? ১১ মাসে মন যা অনুশীলন করে না ১ মাসে তা কি আয়ত্ব করতে পারবে? তার ওপর যদি মন চায়, এই অনুশীলন করতে করতে ই ১ টা মাস পার হয়ে যাক, তাহলে তা অন্তর্যামী ছাড়া আর কে টের পাবেন? মন কেন চায় না, প্রতিটি রাত ই হোক শব এ বরাতের রাত, প্রতিটি রাতে আমার ভাগ্যলিপি লেখা হোক নুতন করে, কেন ১ রাতের লেখা ই থাকবে? আমরা কি সত্যিই জানি, এ লেখা অমোচনীয় কালিতে লেখা কিনা, এ লেখা অক্ষয় কাগজে লেখা কিনা? গানটা যখন শুনি তখন কিন্তু খুব ভালো লাগে - "হুম্মম্মম্মম্ম, যদি কাগজে লেখো নাম, কাগজ ছিড়ে যাবে, পাথরে লেখো নাম, পাথর ক্ষয়ে যাবে, হৃদয় এ লেখো নাম, সে নাম রয়ে যাবে", এ শুধু শোনা পর্যন্তই, অনুভবে রাখি না। যদি রাখতাম তাহলে সংযমের বিষয় টাকে অবশ্যই হৃদয় এ লিখে রাখতাম, সেটা থেকে যেতো অক্ষয়। মনে পড়ে যেতো, অন্তর্যামীর কাছে শুধু একরাতের নয়, প্রতিদিনের চাওয়া টাই আসল অক্ষয়।

অনেক বেশী বলে ফেলেছি মনে করলে আপনাদের নিরুৎসাহিত করবো, কারন সংযম নিয়ে আরো কিছু দুঃখবোধ এখনো শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্টর মতো অবশিষ্ট আছে, খুব শীগগির ই আসছি ফিরে, যদি না আপত্তিকর লেখার দায়ে পড়ি। সবাই ভালো থাকবেন, বিরক্ত হলেও অনুভুতি জানানো কে আমার দায়ীত্ব হিসেবে নিয়েছি, ইনশাল্লাহ্‌ পিছু হটবো না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28990034 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28990034 2009-08-07 05:00:11
জিজ্ঞাসা - মন কি যে চায় বলো (৩)
বাস্তবে সমস্যা শুরু হয় চাওয়া র আগে ও পরে দুটো বিষয় নিয়ে, এরা হলেন সামর্থ্য ও পাওয়া। সুতরাং সামর্থ্য-চাওয়া-পাওয়া র সমীকরনকে যদি আমরা বিয়ে র মতো ঘটনার একটি ছাচে ফেলে তুলনা করি, তাহলে হয়তোবা কিছুটা লঘু মন নিয়ে বিশ্লেষন করতে পারবো। একজন ছেলে ও একজন মেয়ের আইনগত সাংসারিক দৈনন্দিন মানসিক ও দৈহিক সহাবস্থান কেই বিয়ে বা বিবাহ বলে আখ্যায়িত করা যায়। সাধারন ও স্বাভাবিক বিষয় সমুহ প্রতিফলিত হলে এটি গনিতের নিয়মেই চলার কথা। তেমনি সামর্থ্য-চাওয়া-পাওয়া (সাচাপা) সমীকরন ও সাধারন ও স্বাভাবিক নিয়মে খুবই প্রাকৃতিক নিয়মে প্রতিপালিত হয়ার কথা। একটি চারা গাছ লাগিয়ে এর নিয়মিত পরিচর্য্যা করলেই এটি ফলবান ছায়াপ্রদানকারী মহীরূহে পরিনত হওয়ার কথা।

কত কিছুই তো হওয়ার কথা, কিন্তু সব কি হয়? কথা দিয়ে কেউ কথা রাখে না । মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক ।

এরকম প্রবাদ গুলো থেকে ই আমরা জেনে গেছি যে, সমীকরন গুলো সবসময় গনিতের নিয়ম মানে না। এখানে একটা ব্যপার কে সবাই প্রশংসা করবে, তা হলো বাঙ্গালীর বুদ্ধিমত্তা । যেহেতু বাঙ্গালী হিসেবে আমরা জেনে গেছি যে, সাচাপা সব সময় গনিতের নিয়ম মানে না, আমরা এটাকে "কখোনোই গনিতের নিয়ম মানে না" বলে নিজেদের জীবনে ও আদর্শ হিসেবে গ্রহন করেছি। কথা গুলো কি খুব কঠিন হয়ে গেলো?

তাহলে সহজ করেই বলি, আমরা বাঙ্গালীরা নিজদের সামর্থ্য কে ঠিকভাবে জানি না, সামর্থ্যকে জানার পর ও সামর্থ্য অনুযায়ী চাই না, চাওয়া অনুযায়ী পাই না (অথবা পাই না বলে অনুযোগ অভিযোগ করি ) এবং যা সাধারনত পাই তা আমাদের সামর্থ্যের ও চাওয়ার সাথে সংগতিপুর্ন নয়। আমাদের মনের এই চাওয়া-পাওয়ার সমীকরনটিই আসলে অসঙ্গতি তে ভরে আছে।

শিরোনামে ফিরে আসি - মন কি যে চায় বলো । দেখি মন কি চায় -

১। মন চায় পড়াশোনা যত তাড়াতাড়ি পারি শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে, যদিও ঠিকভাবে জানি না প্রতিষ্ঠা কাকে বলে। যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে চাওয়াটা সবসময় বাতিঘরের কাজ করার কথা, করেও থাকে। মজার বিষয় হলো কোন বন্দর ই সাধারনত একেবারে বাতিঘরের বরাবর থাকে না কিংবা জাহাজ নিয়ে কখোনোই সরাসরি বাতিঘরে উঠে যাওয়া যায় না। এর অর্থ হলো Lighthouse is the directional orientation, The port is the specific destination ।

২। আমরা পদার্থবিজ্ঞানে মাষ্টার্স শেষ করে কাষ্টমস এ চাকুরী খুজি, বাংলা সাহিত্যে মাষ্টার্স করে পুলিশ বিভাগে গিয়ে বেকারত্ব ঘুচাই, রসায়নে গ্রাজুয়েট হয়ে প্রশাসনের মুখ উজ্জ্বল করি। একবার সেলুকাস নামে কাউকে সম্বোধন করে একটি উক্তি যেন শুনেছিলাম, কি যেন বিচিত্র এই দেশ ধরনের। সত্যিই বিচিত্র কিছু একটা আছে এখানে। নইলে সবাই কিভাবে আরামে আছে? আরামে নেই, তাই কি? মনে তো হয় না। প্রতিদিন নিয়ম ভাঙ্গা টাই আমাদের পাওয়া, চাওয়া কি না জানি না।

৩। কঠিন শব্দ "সাট-মুদ্রাক্ষরিক" ইংরেজীতে হবে clerk । তার চাওয়ার তো কোন দোষ দেখি না, যদি তিনি ঢাকা শহরে কমপক্ষে দুটি বাড়ি চান, এবং দুটি জমি চান। তার সামর্থ্য কি সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কি লাভ । তিনি চান, এবং এ দেশে তিনি চাইলে পেয়ে ও যান। গনিত কি এ দেশের জন্য নুতন নিয়মের ছাচে চলবে? অবশ্যই, চলতেই হবে, নইলে সা-চা-পা সমীকরনের কি হবে? আমরা তার চাওয়া নিয়ে কিংবা তার গানিতিক আয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অঙ্গুলীনির্দেশ করবেন একজন মিটার পাঠক এর দিকে, মিটারপাঠক করবেন তারালাপনীর লাইনম্যানের দিকে। আর আপনারা করবেন আমার দিকে - বলবেন - তোমার (যদি ভদ্রতা করেন) নজর এত নীচু কেনো? সমাজের উচু অংশে তোমার কি তুলনা করার কিছু নেই? প্রশ্ন হবে জানি বলেই এ প্রসঙ্গের অবতারনা করলাম। স্যার রাও আছেন, ওনারা জ্ঞানীগুনী মানুষ, ওনাদের নিয়ে কি বলবো বুঝে পাই না। বলা যায় বামন হয়ে চাদের দিকে হাত বাড়াতে নেই, বা, ভীমরুলের চাকে ঢিল মারা কি বুদ্ধিমানের কাজ?
আমাদের লাইনম্যান ভাই যদি বলেই ফেলেন, চাকুরীটা পেতে ৬ ডিজিটের টাকা খরচ হলো, সেটা তুলতে হবে না, তাহলে কিন্তু তিনি ঘুষের কথা বলে মৌচাকে ঢিল দিলেন না, আমি যদি বলি সেটা হবে ঢিল ঢিল ঢিল।

৪। আসলে আমি অল্পবিদ্যাওয়ালা একজন লোক, কাউকে অভিযুক্ত করা আমার কাজ না। কোন শিক্ষার সমাপনী যোগ্যতা কি হবে, তার প্রয়োগ কি হবে, সে শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মানুষ হতাশায় ভুগবে কি না, তা যাদের বোঝার কথা তাদের মন যে কি চায় তা তো আমি জানি না। তারা নিজেও জানেন কি না সন্দেহ।

৫। ঢাকা শহরে ৪০০০.০০ টাকা বেতনের একজন পিওন কি করে বাস করবে এবং নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করবে তা যাদের বোঝার কথা তাদের মন কোথায় পড়ে আছে কে জানে। তাদের মন কি এগুলো বুঝতে চায়? তাদের মন কি চায় কে জানে? স্বয়ং বিধাতা কি জানেন কিনা সন্দেহ।

৬। সভ্য দেশে (আমরা যে অসভ্য সেটা বলছি না) বড়সড় প্রানহানিকর অথবা ক্ষতিকর কোন ঘটনা ঘটার পর অবহেলার নিদর্শন থাকলে কোনরুপ তদন্ত ব্যতিরেকেই বিভাগীয় প্রধান/সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রধান স্বসন্মানে পদত্যাগ করেন। আমাদের এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে একাধিক তদন্তের মাধ্যমে সুদীর্ঘকাল ব্যয় করে সঠিকতম তথ্য বের করার চেষ্টা করি যাতে আমাদের মনে কোন সংশয় না থাকে। এদের মন চায় সবসময় সংশয়হীন থাকতে, কারন সংশয়ে সংকল্প সদা টলে। ওনাদের মন চায় - সংকল্প যেন কভু নাহি টলে। প্রশ্ন হলো সংকল্প টা কি? সেটা ওনাদের মন ই জানে আর কেউ নয়।

তারপরে ও মাঝে মাঝে মন কি যে চায়, খালি আবোল তাবোল বকি। আমরা আসলে ও বুঝি না মন কি যে চায় !!!!!!!!!!!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28984183 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28984183 2009-07-26 20:05:26
অনুভব - আমরা আর কতো ধনী হবো (২) কাধে জোয়াল, মুখে জাল বাধা, গরু জোড়া " কে দেখা যায় । বাস্তবে দেখা না গেলে ও, আয়না তে দাড়ালে কেন জানি ঐ দৃশ্যটাই ভেসে ওঠে ।

মুখ বাধা, তাই ইচ্ছে হলে ও বলা যাবে না, খিদে পেলে ও খাওয়া যাবে না। কাধে যখন জোয়াল, তখন নিজের ইচ্ছেয় তো চলা যাবে না । শক্তিটুকু নিংড়ে নেবার দায়িত্ব কৃ্ষকের । যে গরু চাষ করার কাজে লাগে তার কিন্তু অনেক দাম, তথাপি সে যখন জোয়াল কাধে পায়, তখন চালিকাশক্তি তার পিঠে যে ছড়ি ঘোরায়, তার কাছে । আসল ধনী তো সে, যার হাতে ছড়ি ঘোরানোর অধিকার ।

অবলা প্রানীদের অধিকার থাকতে নেই । সমাজবিজ্ঞানীরা বলবেন, বন্যরা বনে সুন্দর, কেবল শিশুরাই মাতৃক্রোড়ে । কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা আজ যেখানে বাস করছি, তার চেয়ে বনের আইন ও অনেক যুক্তিসঙ্গত । বনের কোন প্রানী আজ পর্যন্ত পচা মাংস খেয়ে মৃত্যুবরন করেছে বলে শুনি নি, কিন্তু জীবন রক্ষার জন্য প্রস্তুত " প্যারাসিটামল সিরাপ" খেয়ে সভ্যতম প্রানী মানুষ যে মারা গেছে, তা তো আর গুজব নয় ।

অনেক তদন্ত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে । তথ্য যা পাওয়া যাবে (যদি পাওয়া যায়) তার বিবর্তন, পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংশোধন শেষে আমরা যা জানবো, তাকে কেবল " মূষিকের পর্বত প্রসব " এর সাথে ই তুলনা করা যাবে । এ বিষয়ের অবতারনা কেন করলাম, এ কথা যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন তাহলে আমার উত্তর একটাই - আমরা আর কতো ধনী হতে চাই, সেটা কি আমরা নিজেরা জানি?

একজন ঔষধ প্রস্তুতকারী সংস্থার মালিক ধনী হতে চান, তার চাওয়ার মধ্যে ও আমরা কোন দোষ দেখি না । কিন্তু চলুন দেখি তার আকাঙ্ক্ষায় সৃষ্টির সেরা জীবের জন্য সৃষ্ট সামাজিক দায়বদ্ধতার সামান্য ছিটেফোটা ও আছে কিনা? আমি হয়তো এতটা খারাপ ভাববো না যে তিনি সামান্য লাভের জন্য ঔষধে ভেজাল মেশাতে চাইবেন, কারন ফলাফল টা এসব ক্ষেত্রে হয় অত্যাবশম্ভাবী । সুতরাং একে আমরা যথাযথ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত SABOTAGE (বস্তুর বিরুদ্ধে আক্রমন) বলে ধরে নিতে পারি, যদিও যথাযথ তথ্য কোনদিন ই পাবো কিনা জানি না ।

প্রাসঙ্গিক কথাটা হলো, ঔষধে ভেজাল মেশালে ই যে তা দূষিত হবে এমন নয় বরং সমুহ সম্ভাবনা থেকে যায়, মেয়াদোত্তীর্ন কাচামাল ব্যবহার করার প্রসঙ্গ । এটা আমাদের সমাজে নুতন নয় । গ্রাফিক্স, প্রিন্টিং এবং মেধার অপ-ব্যবহারের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্নতা কে পুনঃমেয়াদে বহাল করানো আমাদের কাছে (যারা অতিস্বত্তর ধনী হতে চান) ডিজিটাল যুগের আশীর্বাদ বলেই প্রতীয়মান । মুল সমস্যা (যদি আপনি এটাকে সমস্যা বলে মনে করেন) হলো, সবাই অতিস্বত্তর ধনী হতে চাই । যার এটা পরীক্ষা করার কথা তিনি এটা না করার জন্য ধনী হবেন । যার এটা না কেনার জন্য পরামর্শ দেবার কথা তিনি এই পরামর্শ না দিলে ধনী হবেন । যার বিবেক এখনো কাজ করছে তিনি এদের দেখে বিবেকের ঘরে তালা দিলে ধনী হবেন ।

অনুগ্রহ করে ভুল বুঝবেন না, আমার এই লেখা ধনী হবার (101 ways to become rich) কোন গাইড বই নয় । আত্মোপলব্ধির জন্য লিখলাম, নিজের বিবেক কে শাসানোর জন্য লিখলাম মাত্র, নিজে কে ই বলছি " বল তুই আর কত ধনী হতে চাস? " ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28983530 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28983530 2009-07-25 17:10:02
বিরক্তি - এটাকে ভালোবাসতে শিখে গেছি (১)
যাদের সাথে কোনরকম আনুষ্ঠানিক আত্মীয়তা নেই, কিন্তু কিছুদিন যাবত যারা আমার অনেক সময়কে প্রশ্রয় দেন, যাদের অনেক সময় আমি আবোল তাবোল বলে নষ্ট করি, তারাই যখন পড়েন লেখাগুলো, তখন ভাবি জীবনের কোনো একটা অংশের সাথে তাদের কোনো অংশের মিল নিশ্চয়ই আছে । নইলে ঘরে বা রেষ্টুরেন্টে, যেখানেই তারা খান না কেন, বনের মোষ কেন তাড়াবেন? কিছুটা হলেও "হুশ হাশ" যখন করেছেন তখন নিজে থেকে ই ধরে নিয়েছি, মোষ তাড়ানোর একটা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তাদের ছিলো - তাই আবারো লিখছি, ধন্যবাদ আপনাদের কে

ভোক্তা হিসেবে আমি বিরক্ত, কিন্তু মোদ্দা কথা এটাকে ভালোবাসতে শিখে গেছি । ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ব্যক্তিগত ভুল ত্রুটির মাশুল দেবার সময় বক্রোক্তি শুনেছি - " ভালোবাসতে ও শেখো নি " কিন্তু কিছু প্রবাদের, যেমন " When disgrace in some specific form is eminent, better enjoy it" অথবা "দেখে শিখতে না পারলে ঠেকে শেখো, ঠেকে শিখতে না পারলে অন্তত ঠকে শেখো " থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের এই পরিস্থিতি কে ভালোবাসতে শিখে গেছি ।

কিছু উদাহরন দিই - ক্রমিক এর ব্যপারটা শুধুই গানিতিক আদলে ফেলার জন্য -

১। যখন মোবাইল কোম্পানীগুলো কোনো প্রমোশন অফার দেয়, (শুধু স্ক্র্যাচ কার্ড এ) তখন ৩০০ টাকার কার্ড কমপক্ষে ৩১০ টাকায় কিনলে কিনেন, নইলে বিরক্তি কে ভালোবাসেন । এটি বুদ্ধি বা উপদেশ নয়, এটি বাস্তবতা ।

২। ওয়ারেন্টি সহকারে কোনো পন্য কিনেছেন, ওয়ারেন্টির শর্তাবলী ও মেয়াদকালের মধ্যে পন্যটি যথাযথ ভাবে বদলে দেওয়া বা সেরে দেওয়ার নিয়ম থাকলে ও, সে সেবা পাবেন তখন ই যখন -

ক। যে মার্কেট থেকে কিনেছেন সেই মার্কেট সমিতির সভাপতি/সচীব আপনার সাথে আছেন, অথবা

খ। শারিরীক এবং/অথবা দলগত পেশীবহুল কিছু ছেলেপুলে আপনার সঙ্গী, অথবা

গ। দোকানদার/সেলসম্যান এর কোনো দুর্বলতার খবর আপনি জানেন এবং সেটাকে ব্যবহার করবেন, অথবা

ঘ। হৈ চৈ বাধানোর কাজে আপনি প্রথিতযশা, এবং এ কৌশলে আজ পর্যন্ত দাবী আদায়ে অব্যর্থ, অথবা

ঙ। দোকানের সামনে গিয়ে এমন কাউকে দিয়ে দোকানে ফোন করাবেন, যিনি ফোন করলে দোকানদার ধন্য অথবা ভীত হয়, অথবা

চ। উপরোল্লিখিত সব কয়টি অথবা কিছু কিছুর সংমিশ্রন।

এ ধরনের আরো আইডিয়া/বুদ্ধি থাকতে পারে, কিন্তু সেটি বিবেচ্য নয় । বিবেচ্য বিষয় টি হলো হয় উপরের পদ্ধতি কে ভালোবাসবেন অথবা দোকানদার কতৃক প্রত্যাখাত হয়ে বিরক্তি কে ভালবাসবেন ।

৩। একটি দোকানে একই ব্র্যান্ডের একই দেশের একই প্রস্তুতকারকের একই মাসে প্রস্তুতকৃ্ত একই দ্রব্যের তিনটি সংস্করন পাবেন, যাদের দামের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত । এ রকম হওয়ার কারন জিজ্ঞেস করলে অনেক ধরনের জবাব পেতে পারেন, কিন্তু কোনটাই আপনার মনঃপুত হবে না । প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে সামর্থ্য ও বিবেচনা বোধের উপর ভরসা করে আপনি যে কি কিনলেন, তা নিয়ে কিছুক্ষনের মধ্য আপনার মনে নিম্নচাপ, ক্রমে তা ঘনীভূত হয়ে মধ্য লঘুচাপ, এবং অন্য কোন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না থাকলে কিছুক্ষনের মধ্যে মাঝারী ও দমকা হাওয়া সহকারে আপনার মানসিক পীড়া সৃষ্টিকারী ঘুর্নিঝড়ে পরিনত হতে পারে। এ সময়ে পরিবার ও প্রিয়জনদেরকে আপনার কাছ থেকে যথাযথ সতর্কতামুলক দুরত্বে অবস্থানের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে । এ রকম পরিস্থিতি থেকে পরিত্রানের জন্য বিশ্বস্ত কারো কাছে যেতে হবে অথবা বিরক্তি সহকারে ঘুর্নিঝড়মুলক বিরক্তি কে প্রথমে মেনে নিতে ও পর্য্যায়ক্রমে ভালোবেসে ফেলতে হবে ।

৪। ক্রয়কৃ্ত যে কোন পন্য আকার বা আকৃ্তি জনিত কারনে বদল করার প্রয়োজন হলে আপনাকে মনে রাখতে ও দৃঢ়্ভাবে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, উন্নত বিশ্বের জীবানু অস্ত্র প্রস্তুতকারীদের ল্যাব এ যে সব গিনিপিগ বা স্তন্যপায়ী প্রানী আছে তারাও আপনার চেয়ে বেশী মাত্রার মানবাধিকার ভোগ করে । কি? আমার কথা এ মেনে নিতে পারলেন না? নিজে ভুক্তভোগী হয়ে এখানকার গিনিপিগ হোন, তারপর মেনে নিয়ে বিরক্ত হোন, এবং ধীরে ধীরে বিরক্তি কে ভালোবাসতে শিখুন ।

ওপরের অংশ টুকু পড়ে যে কেউ আমাকে হতাশাবাদী বা আধুনিক কবি নজরুল বলবেন না যেন । প্রথমে ই বলেছিলাম আমার উদ্দেশ্য লেখা নয়, কোথাও গিয়ে যদি দেয়াল এর সাথে ও কথা বলতে পারি, তাতে যদি মনে শান্তি পাই, ক্ষতি কি?

আশা করি সবাই ভালো থাকবেন, প্রাথর্না করি আমার মতো আপনারা বিরক্তি কে ভালবাসবেন না, আপনাদের মন থাকুক পদ্মফোটা টলটলে জলে ভরা পুকুরে ভেসে বেড়ানো রাজঁহাসের গ্রীবার মতো উষ্ণ । ধন্যবাদ




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28983250 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28983250 2009-07-25 03:01:13
বারংবার বিরক্ত হই, খুবই বিরক্ত এর মধ্যে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ফর্ম পুরন করতে হয়েছে, সেগুলো ও লেখা, কিন্তু এখন যে অর্থে লিখছি, সেই লেখা না নিশ্চয়ই ।

লেখালেখি, তা যদি কাউকে পড়তে দিতে হয়, তাহলে প্রারম্ভিক বিষয় কে টেনে নাকি বড় করতে নেই, তাহলে পাঠক/শ্রোতা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন । কিন্তু এ লেখা তে প্রসঙ্গের অবতারনা একটু বড় হয়ে গেলো, কারন এ ধরনের বিরক্তিকর কিছু বিষয় নিয়ে ক্রমাগত লিখতে চাই, যতদিন না কন্ঠরোধ করা হয় । এর পর থেকে প্রারম্ভিক বিষয় গুলো বড় না হয়ে মুল বিষয় ই বড় হবে ।

consumer কিংবা ভোক্তা হিসেবে আমরা কতটুকু দেই আর কতটুকু পাই, সেই হিসেব করতে গিয়েই আজকে আমি বিরক্ত । আসলে মনের কোনে এই বিষয় টা এলো তখনি, যখন নেট (ব্লগ) এ একজনকে বলতে শুনলাম " কচ্ছপের গতিতে ইন্টারনেট পাচ্ছি" ।

আজকে ইন্টারনেট এর গতি নিয়ে বিশেষ কোনো আলোকপাত করবো না । সাধারনভাবে, ভোক্তা হিসেবে আমরা কি বঞ্চিত, প্রতারিত, শোষিত নাকি অন্য কোন শ্রেনীভুক্ত তা বোঝার চেষ্টা করবো ।

'মাছে-ভাতে বাঙ্গালী' শ্লোক এর মতো শোনা গেলে ও, মাছের বাজারে গেলে বিক্রেতার কথা শুনলে মনে হবে, সেই দিন এখন ও বিরাজমান। "ভৈরবের মাছ, মেঘনার মাছ" শুনে আমরা শুধু আহ্লাদে আটখানা হই, কিন্তু আসলেই ঐ গুলো ওখানকার মাছ কিনা তা অনেকেই নিশ্চিত হতে চাই ও না । যারা নিশ্চিত হতে চাই তারা এমন ব্যখ্যা পাই, স্বয়ং কবিগুরু কিংবা সুপ্রীমকোর্টের বাঘা বাঘা ব্যারিষ্টার রাও উপাধি/অর্জিত অবস্থান হারানোর ভয়ে ওই মাছওয়ালার থেকে দূরে থাকতেন । এখনো ওনারা যার যার অবস্থানে আছেন কারন ওনারা বাজার করতে যান না । যারা যান ব্যথা শুধু তারাই সয়ে থাকেন । কি মুল্য দিয়ে কি কিনছেন, তা সঠিক ভাবে জানার তাদের কোনো উপায় ও নেই । এ উপায় তৈরী করে দেবার জন্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা কি করছেন তা আমার জানা নেই ।

এ জন্য ও আমি বিরক্ত, কারন যা জানা দরকার তা আমরা হয় জানি না, জানার চেষ্টা করি না, জানার কোনো উপায় নেই, জানা থেকে বঞ্চিত, ইত্যাদি ইত্যাদি । এবার পাঠক রাই হয়তো বলবেন, কি লিখতে এসে কি লিখলেন? তথ্যের কোন অধিকার আমাদের নেই বলেই জেনে এসেছি সেই ছোটবেলা থেকে । ছিটেফোটা যাও জানতে পারি তাও হয়তো অন্য কোনো কারনে জানি । কোন অবিচার এর কথা হয়তো তখন ই প্রকাশ হয় যখন অবিচারকারীকে কেউ ব্যক্তিগত ভাবে ধরিয়ে দিতে চায় । সাধারন ভাবে যেটা দেখি সেটা হলো - আমরা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অবিচারের বিচার চাই না, একজন অবিচারকারীর বিচার চাই ।

প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, পার্থক্যটা কোথায় ? ব্যক্তি ও ঘটনার মধ্যেই এর উত্তর আছে, একই ঘটনা অনেক ব্যক্তিই ঘটাতে পারে, তাই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে অনিয়ম এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই শ্রেয় ।

শিরোনাম দেখে ই যারা ধারনা করেছিলেন, এটা একটা বিরক্তিকর লেখা হবে তাদের আশা হয়তো পুরন করেছি, কিন্তু তা কোনোভাবে ই করতে চাই নি । শুরু করেছিলাম ভোক্তা হিসেবে বঞ্চনার কথা দিয়ে, এই লেখার শেষটা ঐ একই বিষয় এ নিয়ে যেতে চাই।

শুধু মাছই আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নয়, বাচতে হলে, বাচাতে হলে, বেচে থাকতে হলে প্রতিটি দিন, প্রতিটি মূহূর্তে আমাদের অনেক কিছুর প্রয়োজন হয় । সেগুলোর কতো টি কিনতে গিয়ে আপনি হাসিমুখে ফিরেছেন, ফিরে থাকলে ও এই হাসি টির স্থায়ীত্বকাল কতোক্ষন ছিলো তার বিবেচনার ভার টা পাঠক এর কাছেই ছেড়ে দিলাম ।

জানি আমার লেখা পড়ে বিরক্ত হলেন, কিন্তু ভোক্তা হিসেবে আমার দেয়া শিরোনামে আপনিও যে ফেরত যাবেন তাতে আমি নিশ্চিত । যদি আপনাদের থেকে সাড়া পাই তাহলে এ নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো । সবাই ভালো থাকবেন, কায়োমনোবাক্যে আশা ও প্রার্থনা করছি, আমরা যেন কম কম বিরক্ত হই, এই পরিবর্তন ই আসুক ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28983182 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28983182 2009-07-24 23:54:43
সর্দারজীর দাড়ি কমা বিভ্রাট
Santa singh jumped with joy on receiving this reply. He arranged a party and when all the guests had come, he said Bhaiyon aur Behno,aap ko jaan kar khushi hogee ki mujhay america mein naukri mil gayee hai." Everyone was delighted. Santa singh continued Ab main aap sab ko apnaa appointment letter padkar sunaongaa par letter english main hai isliyen saath-saath hindi main translate bhee kartaa jaongaa.

Dear Mr. Singh-----pyare singh sahab

You do not meet----aap to miltay hee naheen ho

our requirement----humko to zaroorat hai

Please do not send any furthur correspondance----ab letter vetter bhejnay kee zaroorat nahee hai.

No phone call ----phone vone kee bhee zaroorat nahee hai

shall be entertained----bahut khaatir kee jayegi.

Thanks----aapkaa bahut bahut shukriya

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28982117 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28982117 2009-07-22 17:09:47
একটি সত্যি ঘটনা - আমরা কতোই নিষ্পাপ ও জ্ঞানী
গতকাল ২১/০৭/০৯ তারিখে আমাদের অফিসে বোর্ড মিটিং চলছিলো। বিশেষ একটি কারনে আমার সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়েছিলো। রসকষহীন এরুপ একটি সভায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি নিজেকে একজন নিরানন্দ ব্যক্তি হিসেবে ই গন্য করছিলাম। কিন্তু বিধাতা যেখানে অফুরন্ত রসের ভান্ডার দিয়ে রেখেছেন, সেখানে আমার কেন, যে কারোর ই বঞ্চিত হবার প্রশ্নই ওঠে না।

আমাদের বোর্ড অফ ডিরেক্টর এ সিংহ (LION নয় HUMAN BEINGS) ভাগ সদস্যই বাংলাদেশের একটি বিশেষ অঞ্চলের প্রাক অধিবাসী এবং বর্তমানে তারা টেষ্ট ক্রিকেটের জন্মভুমিতে বসবাস করছেন। যাহোক, সভা চলাকালীন সময়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা র উদ্ভব হলে একজন প্রবাসী বাংলাদেশী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপর অত্যন্ত হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন " বাংলাদেশ রে যখন টেষ্ট করা হয় তখন খালি জেতে, আসল খেলায় গিয়ে জিততে পারে না। দুইবার খ্যান, এখশবার টেষ্ট এ জিতলা ই কি লাব, এখবার আসল ক্যালা জিতিয়া দেকাউক্কা"

ভাষা শুনে কেউ যেনো কেউ কিছু মনে করবেন না । ভারতীয় একজন শিল্পীর একটি গানের দুটি কলি মনে পড়ে গেলো - " যেনো কিছু মনে করো না কেউ যদি কিছু বলে, কত কি যে সয়ে যেতে হয়, ভালোবাসা হলে " আমাদের সভায় বক্তা নিশ্চয়ই বাংলাদেশ দলের জন্য তার আবেগ, দরদ এবং ভালোবাসা থেকে এরকম একটি মন্তব্য করেছেন। এরকম একজন নিষ্পাপ ও জ্ঞানী ????? ব্যক্তির হৃদয় এ ও যে দেশের জন্য ভালোবাসা উথলে উঠেছে তা দিয়ে তার জ্ঞানের স্বল্পতা কে আমরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে পারি । কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কিছু সদস্যের কান্ডজ্ঞানহীন ও স্বেচ্ছাচারী আচরনকে আমরা বোধহয় আর ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার ধৈর্য ধারন করতে পারছি না ।

যাহোক, সাম্প্রতিক বিজয়ে আমরা অতি প্রত্যাশী না হয়েই আশা করবো, জয়ের এই ধারা ধরে রাখতে সব খেলোয়াড়রাই নিজেদের কে সংশোধন করবেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28982072 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28982072 2009-07-22 15:18:21
আসুন আমরা জাতীয়তা বোধে একাত্ম হই
There was a Sardarji who was down on his luck.

In order to raise some money he decided to kidnap a kid and hold him for ransom. He went to the playground, grabbed a kid, took him behind a tree and told him, "I've kidnapped you."

Sardarji then wrote a note saying: "I've kidnapped your kid. Tomorrow morning, put Rs.2, 00,000 in a paper bag and put it beneath the mango tree on the north side of the city playground".

Signed: "A Sardarji"

Sardarji then pinned the note to the kid's shirt and sent him home to show it to his parents. The next morning the Sardarji checked, and sure enough a paper bag was kept beneath the mango tree.

The boy was sitting next to the bag. Sardarji opened up the bag and found the Rs.2, 00,000 in cash with a note saying: "How can a sardarji do this to a fellow Sardarji? Take the money, and please leave my son."

Signed: Another Sardarji]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28981823 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28981823 2009-07-22 03:52:39
ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য কিছু অন্তরায়
Dear Mr Bill Gates,
This letter is from Banta Singh from Punjab. We have bought a computer for our home and we found problems, which I want to bring to your notice.

1. After connecting to internet we planned to open e-mail account and whenever we fill the form in Hotmail in the password column, only ****** appears, but in the rest of the fields whatever we typed appears, but we face this problem only in password field.

We checked with hardware vendor Santa Singh and he said that there is no problem in keyboard. Because of this we open the e-mail account with password *****.

I request you to check this as we ourselves do not know what the password is.

2. We are unable to enter anything after we click the 'shut down ' button.

3. There is a button 'start' but there is no "stop" button. We request you to check this.

4. We find there is 'Run' in the menu. One of my friend clicked 'run' has ran upto Amritsar! So, we request you to change that to "sit", so that we can click that by sitting.

5. One doubt is that any 're-scooter' available in system? As I find only 're-cycle', but I own a scooter at my home.

6. There is 'Find' button but it is not working properly. My wife lost the door key and we tried a lot for tracing the key with this ' find', but unable to trace. Is it a bug??

7. Every night I am not sleeping as i have to protect my 'mouse' from CAT, So i suggest u to provide one DOG to protect from the cat.

8. Please confirm when u are going to give me money for winning 'HEARTS' (playing cards in games) and when are u coming to my home to collect ur money.

9. My child learnt 'Microsoft word' now he wants to learn 'Microsoft sentence', so when u will provide that?

10. Hey, I brought computer, cpu, mouse and keypad there is only one icon with 'MY Computer', where is remaining ?

11. And in 'MY Pictures' there is not even single photo of mine, So when u will keep my photo in that।

Thanks
Banta Singh…]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28981821 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28981821 2009-07-22 03:45:06
আশরা-ফুল (FOOL) এর জীবন দর্শন
১। বড় ভাইদের জন্য কয়েক টন পাম অয়েল কেনা।
২। দ্রৌপদীর বস্ত্রহরনের মতো নিজের লজ্জাহরন হয়েছে ঘোষনা দেয়া।
৩। কতো তাড়াতাড়ি এসি রুম এ ফিরে আসা যায় তা নিয়ে সুগভীর চিন্তা করা।
৪। রান না করে ও কিভাবে এনজয় করা যায় তা নিয়ে গুছিয়ে বক্তব্য দেয়া।
৫। জিম এ গিয়ে নিজের উচ্চতা বাড়ানোর জন্য সচেষ্ট থাকা।
৬। তাড়াতাড়ি দলের ১২টা বাজিয়ে শপিং মলে যাওয়া।
৭। ইচ্ছা হলে কিছু রান করা।
৮। যদি এটা ই শেষ বার হয় ভেবে ক্যারাবিয়ান ঘুরে দেখা।
৯। শ্রীলংকা ট্যুর এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা।
১০। দেশে ফিরে ই কোন কোন বিজ্ঞাপন করতে হবে সেই শিডিউল নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হওয়া।
১১। এখন আর spoken english এর দরকার নাই ভেবে কোর্স ফি ফেরত চাওয়া।
১২। হায়দার ভাই এর "ফাইস্যা গেছি" গানটা নিজের জন্য dedicate করতে অনুরোধ করা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28980477 http://www.somewhereinblog.net/blog/kazibondhu/28980477 2009-07-19 16:00:08