বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপটে যে যাই বলুক, বিসিএস পরিক্ষা এখনও প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জন্যই চরম আখাংকিত একটি পরিক্ষা।সবাই চায় বিসিএস পরিক্ষার মাধ্যমে ভাল একটা চাকুরি পেয়ে ভালভাবে জীবন ধারন করতে,আমিও তার বাইরে নই।সদ্য অনার্স পাশ করেছি,তাই এই ২৮তম বিসিএস পরিক্ষার জন্য কোন প্রিপারেশান নিতে পারি নি।খুব বেশি আগ্রহ ছিল না,বিসিএস ফরম যখন পুরন করি তখন মনে শুধু এই চিন্তাটা ছিল, ”সবাই পরিক্ষা দিতে যাবে,আমি কিভাবে একা হল-এ থাকব”।সে যাই হোক,শেষ পর্যন্ত নিজের পকেটের ৮০০ টাকা খরচ করে বিসিএস ফরম নিজের হাতে পিএসসি অফিসে গিয়ে ফেলে আসি।
গত মাস থেকে হল-এ সবার কার্ড তথা প্রবেশ পত্র আসতে শুরু করে, আমি আপেক্ষা করি।সবারটা এসে পরেছে,আমারটা আসে না? আমি ধরে নিয়েছিলাম,সবাই তো অনার্সের মুল সার্টিফিকেট দিয়ে জমা দিয়েছে,তাই সবারটা এসেছে,আমি জমা দিয়েছেলাম এপেয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে,তাই হয়তো পিএসসি আমারে বাদ দিয়েছে।
কিন্তু কুমিল্লা থেকে গত সপ্তাহে আমার আম্মা আমাকে ফোন করে জানায়,তোর এক বন্ধু বাসায় এসে তোর বিসিএস পরিক্ষার প্রবেশ পত্র দিয়ে গেছে,এসে নিয়ে যা।আর তোর প্রবেশপত্র নাকি খাগড়াছরি চলে গিয়েছিল? এতক্ষন তো সব ঠিকই ছিল,শেষের কথাটা যে কি বলল,তাতো বুজলাম না!!অফিস এ ছিলাম ,তাই বেশি কথা বলতে পারি নি।
পরেরদিন সকাল বেলা কুমিল্লা থেকে আমাকে একটা অপরিচিত ছেলে ফোন করে, পরে আমি তার কাছ থেকে সব কিছু জানতে পারি। কাহিনী হল মোটামোটি এইরকম, পিএসসি আমার প্রবেশ পত্রখানা কি মনে করে জানি না, খাগড়াছরিড় আরেক পরিক্ষার্থীর বাড়ীর ঠিকানা বরাবর পাঠিয়েছে। অই পরিক্ষার্থীতো বুজে এই প্রবেশ পত্রখানা একজন মানুষের জন্য কতটা গুরত্বপুর্ন।সে আমার ঠিকানা দেখে কুমিল্লায় অবস্থানরত তার এক বন্ধুর কাছে ফোন করে এবং পরবর্তীতে কুরিয়ার করে পাঠায়।পরে কুমিল্লায় অবস্থানরত তার বন্ধু অনেক কষ্ট করে আমার বাড়িতে দিয়ে আসে।
আজ় দুপরে বিসিএস এর প্রবেশ পত্র হাতে পেয়েছি।খাগড়াছড়ির আচেনা বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পাশপাশি পিএসসির প্রতি তীব্র ঘৃনা প্রকাশ করে আজকের ব্লগ লেখা এখানেই শেষ করলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

