somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের এরকম যোগ্যতাই প্রথমে দরকার। যাকে দেখে জনগন ভয় নয় শান্তির পরশ পাবে। কিন্তু ...

০৮ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ জীবন যাপনে খলিফাদের অনুসরণ করেন। কিন্তু কোন খলিফারে ছেড়ে কোন খলিফারে অনুসরণ করবেন, এইটা নিয়া প্রায়ই সমস্যায় পরেন।

রাতে একা একা হেঁটে বেড়ান। কারণ তেহরানে রিকসা নাই। কিন্তু কেন? রহস্য ১।

কোনো নাগরিক দেখা করতে চাইলে সহজেই দেখা করেন। লাখ লাখ ভক্তের কাছ থেকে আসা চিঠি পড়েন এবং এর উত্তর দেন। এবং এই কাজেই উনার একটা বিরাট সময় ব্যায় হয়ে যায়। সারাদিন চিঠি পড়া আর চিঠি লিখার দিগদারি আমরা যারা সামুতে লিখিপড়ি তারা বুঝি। হয়তো এই কারনেই তিনি রাত্রে বাসায় থাকার সাহস করেন না এবং একা একা হেটে বেরান।

এসব চিঠির মধ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে যা তার জীবনের জন্য হুমকি বলে আশঙ্কা করা হলেও দমে যান না তিনি। এ ব্যাপারে নিরাপত্তাকর্মীদের বিধিনিষেধও মানেন না। কারন এই কাম তার আর ভাল লাগে না। দিনের পর দিন লাখ লাখ চিঠি পইড়া উত্তর লিখা হইতে বিষাক্ত রাসায়নিকের ছেকা লাইগা মরাই উত্তম। এ কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে।

নিজেকে জনগণের সেবক ভাবতেই ভালোবাসেন। মাহমুদ আহমাদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনই ইরানের সবচেয়ে দামি কার্পেটগুলো দান করেছিলেন তেহরানের একটি মসজিদে। কারন ওগুলি তার বাবার ছিল না। অন্যের বাবার ছিল।

তিনি অনেক সময় মিউনিসিপ্যালিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে রাস্তাও পরিষ্কার করেন। শহরের যেখানে তার বাসা ও প্রেসিডেন্টের অফিস সেখানে অনেকবার প্রেসিডেন্ট সাধারণ পোশাকে নেমে পড়েছেন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে। কারন ইরানের লোকজনকে তিনি এক দেড়হাম দিয়াও বিশ্বাস করেন না। তাই নিজের চলাফেরার রাস্তা নিজেই সাফ করেন।

তার অধীনে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি দলিলে সই করতে হয়। তাতে অনেকগুলো শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। দলিলে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে, ওই ব্যক্তিকে হতে হবে দরিদ্র। মন্ত্রী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিজস্ব ও তার আত্মীয়-স্বজনের একাউন্টের ওপর নজরদারি করা হবে। পদ ছেড়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই সততার স্বাক্ষর রাখতে হবে। এই কারনে মন্ত্রিরা দলিলে সই করার আগে নিজের সম্পত্তি পোলার নামে লিখে জয়েন করে।

ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ নিজেই প্রথম নজির হিসেবে নিজের সহায়-সম্পদের হিসাব দিয়েছেন রাষ্ট্রের কাছে। না দিলে খবরই ছিল।

আহমাদিনেজাদের সম্পদ বলতে ১৯৭৭ মডেলের একটি পিউজিওত- ৫০৪ গাড়ি। তেহরানের দরিদ্রতম এলাকায় বেড়ে ওঠা আহমাদিনেজাদ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন পুরনো একটি ছোট বাড়ি। তার একাউন্ট ছিল শূন্য। ওই একাউন্টে পরে ইউনিভার্সিটির বেতন হিসেবে ২৫০ ডলার জমা হয়েছে। এখনো পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িতে বসবাস করেন অর্থনীতি, রাজনীতি এবং কৌশলগত দিক দিয়ে তেল সমৃদ্ধ দেশ ইরানের এ প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো বেতনও নেন না। তিনি হাওয়া খাইয়া বাচেন। মাঝে মাঝে একটু আধটু জোছনা খান।

সাধারণ কর্মচারীদের মতো প্রতিদিন একটি ব্যাগে করে অফিসে নিয়ে আসেন সকালের নাশতা। তাতে থাকে কিছু স্যান্ডউইচ বা রুটি, জলপাই তেল আর পনির। প্রেসিডেন্ট পত্নী নিজ হাতে প্রস্তুত করে দেন এ খাবার। হয়তো এই কারনেই তার বদহজমে রাতে ঘুম হয় না, তিনি একা একা হাটেন (রহস্য ১ দ্রষ্টব্য)।

প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ সরলতায় আরও নজির স্থাপন করেছেন। তার জন্য বরাদ্দ ‘দ্য প্রেসিডেন্টস এয়ারক্রাফট’ এর বদলে ব্যবহার করেন একটি মালবাহী বিমান। যাতে নেই কোনো বিশেষ ব্যবস্থা। এই কারনে তিনি পারতপক্ষে বিমানেরও চড়েন না। বরং রাতে একা একা হাটেন।

প্রেসিডেন্টের ম্যানেজার বা সহকারীর অফিস বাতিল করেছেন। ফলে যেকোনো মন্ত্রী পূর্বানুমতি ছাড়াই তার অফিসে ঢুকে পড়তে পারেন। এই কারনে কয়েকজনের চাকরি কমছে সরকারে। কয়েকটা পরিবার না খাইয়া মরবে হয়ত।

খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি লাল গালিচা সংবর্ধনা, ফটোসেশন, ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন অথবা দেশের কোনো স্থান পরিদর্শনকালে বিশেষ কোনো সম্মান দেয়ার রীতি বন্ধ করেছেন। কারন কুন শালা তার ভালো একখান ফটু তুলতে পারে নাই এহনতরি।

সরলতার আরও উদাহরণ রেখেছেন তিনি। তিনি বিছানার পরিবর্তে মেঝেতেই মাদুরের ওপর চাদর বা কম্বল বিছিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন। বাড়িতেও তিনি মাঝে মাঝেই গেস্টরুমে মাদুর বিছিয়ে ঘুমান। তবে মাদুরের নিচে ইরানি গালিচা থাকে। নরম কোমল মসৃন।

নামাজ আদায় করতে যেখানে জায়গা পান সেখানে দাঁড়িয়েই নামাজ আদায় করেন। সামনের সারিতে দাঁড়াতেই হবে এমন কোনো তাগিদ তার নেই। কারন তিনি জানেন, সামনের সারিতে দাড়িয়ে এমন কিছু হাতিঘোড়া লাভ হয় না, ইমামের পশ্চাদ্দেষ দেখা হয় শুধু।

আর খাবার খেতে দেখা যায় সবার সঙ্গে ডাইনিং রুমের মেঝেতে বসে। কারন মেঝেতে দাড়াইয়া খাওয়া কষ্টের কাম।

একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের এমনই হওয়া সাজে, যদি আদর্শ রাষ্ট্র হয় ইরান, যেইখানে চাকরি করতো আমাগো আশরাফ রহমান ভাই।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×