আমার প্রিয় পোস্ট
- ৩ - হাসান মাহবুব
- আমরা খুঁজেছি যারা স্বর্গের পথ... - খারেজি
- সিরাতাল মুস্তাকিম! - খারেজি
- বাংলাদেশে 'সেক্যুলারিজম' এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস - খারেজি
- স্বর্গচ্যুত হবার প্রথম অভিজ্ঞতা - খারেজি
- চিনপন্থীরা কী চিজ! :: মাওবাদীদের নিয়া কিছু কথা - খারেজি
- গ্রাম পতনের শব্দ - খারেজি
- মানুষ কেন অন্যমনস্ক হয়... - খারেজি
- ছোট্ট আরেক রাজপুত্র... - খারেজি
- পুরান আর রূপকথা নিয়ে আরও কিছু কথা... - খারেজি
- মায়া-দরোজা - খারেজি
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
গ্রাম পতনের শব্দ
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৪
ক. ইমাম বোখারীর হারানো হাদিস
মাছ ধরা হচ্ছিল ছোটমামার পুকুরে। পুকুরের এধার থেকে ওধার জাল টানা হচ্ছে, বিরাট সব রুই কাতলা কালিবাউশ লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যাচ্ছে জালের বাইরে। যেগুলো আটকা পড়ছে, আকৃতি দেখে দেখে তার কোন কোনটিকে আবার ছেড়েও দেখা হচ্ছে। অবশিষ্ট পুঁটি আর ওই জাতীয় ক্ষুদে মাছগুলোকে জমানো হচ্ছে একটা হাঁড়িতে। মৎস্যকূলকে অস্থির করে তোলার জন্য কয়েকজন দাপাদাপিও জুড়ে দিয়েছে, জল ক্রমশঃ ঘোলা হয়ে অক্সিজেন শূন্য হয়ে পড়লে শ্বাস নিতে না পেরে বড় বড় মাছগুলো প্রায়ই লাফ দিয়ে পুকুরের পাড়ে ডাঙায় উঠে আসছে। ছেলেপুলেরা হৈ হৈ করে দৌড়ে যাচ্ছে ওগুলোকে ধরতে। এক সময় সবচে' বড় মাছগুলোও ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে জালে ধরা দেবে কিংবা ডাঙায় খাবি খাবে।
আমি সাঁতার জানি না, পুকুরে নামার অনুমতিও পাই নাই। স্থুলাকৃতির কারণে দৌঁড়ানোরও তেমন সাধ্য ছিল না। মাছ ধরার উত্তেজনা তাই শুরুতে সংক্রমিত হলেও বেশ অনেকক্ষণ হলো আমার করার কিছুই নাই। ধূমপানের আশায় ঝোপের আড়ালে যেতে গিয়ে দেখি পাশের এজমালি মসজিদের পুকুরটার এক কোনায় গোল টুপির মাথা দেখা যাচ্ছে। নানাবাড়ির হুজুর!
হুম। ধূমপানের নেশা ছুটে গেল। সালাম দিয়ে হুজুরের পাশে বসলাম। ফোকলা হাসি দিয়ে বুড়ো আমাকে স্বাগত জানালেন। হুজুরও মাছ ধরছেন! আস্ত একটা বোলতার বাসা তার রসদ। বোলতার চাক থেকে শুককীটগুলো নিয়ে বঁরশির আগায় তা বিধিয়ে পানিতে ফেলার মুহূর্তের মধ্যে পটাপট কৈ মাছেরা গিলছে তা। ফাৎনায় কাঁপন মাত্র হুজুরের নিখুঁত আড়কাঠির টানে ডাঙায় উঠে আসছে রাঘব সাইজের একেকটা কৈ।
আমি কয়েকবার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ফাৎনার ইশারা ঠিকমত বুঝতে না পারায় একটা কৈও কপালে জুটল না। হুজুর এইবার রসিকতা করলেন, "তাইলে নাতি শহরে তুমি তেমন সুবিধা করতে পারতেছো না!" ইঙ্গিতটা পরিস্কার।
সংস্কারের অভাবে এজমালি পুকুরটা কচুরিপানায় ঢেকে আছে। ওই পাড়ে দেখা যায় বিধ্বস্ত ঘাট। হুজুর আমার হাত থেকে বড়শিটা আবার নিলেন, তার শিকার নৈপুণ্য অব্যাহত রইল। হঠাতই আমার মাথায় একটা বদবুদ্ধি খেললো, "হুজুর, ইমাম বুখারির হাদিস সংগ্রহের কাহিনী কৈছিলেন আপনে, ওই যে উটের মালিকের কাছ থেইকা হাদিস নেন নাই উনি...!"
হুজুরের মুখে তৃপ্তির হাসি ছড়িয়ে পড়ল, ভাবলেন শহরের মেয়েদের সাথে আমার সাফল্য-ব্যর্থতা বিষয়ক আলাপ ঘুরিয়ে দেয়ার জন্যই আমি এ প্রসঙ্গ তুলেছি। বেচারা!
"দ্যাখো, কত নিখুঁত তাঁর হাদিস সংগ্রহের পদ্ধতি। উনি জীবনের বেশির ভাগটা সময় কাটাইছেন হাদিস খুঁজতে খুঁজতে। যেই শোনলেন, ওইখানে একজনের কাছে একটা হাদিস আছে, লগে লেগ সেইখানে ছুটলেন। আর ওইটা কি আমাগো মত দেশ? ওইটা হৈল মরুভূমি, পাহাড়। ডাকাইতের ডর। কত কষ্ট করছেন উনি। আর এত কষ্ট কৈরা যার কাছে আসলেন, তার হাদিস-ই যে নিছেন, এমন কোন কথা নাই। দ্যাখলেন তার চরিত্র ভাল না, সনদ জঈফ, উনি ফিরা গেছেন হাদিস না নিয়াই। সেই জন্যই তো আম্রা নবীর কথাগুলা সহীহ জানতে পারছি।"
"কিন্তু হুজুর, ওই উটের বিষয়টা..."
"আরে কৈতে দাও না। তরাইসা হৈলে তো চলবে না। হাদিস যোগাড় করতে গিয়া উনি যে বর্ণনা করতেছে, তার চরিত্র ভাল কি মন্দ, সত্য কথা বলে কিনা, কোন দলের সাথে আছে কিনা, সব বিচার করতেন। একবার শুনলেন যে, তমুক দেশে অমুক ব্যক্তির কাছে একটা হাদিস আছে। উনি তো ছুইটা গেলেন। খোঁজ খবর নিয়া সেই লোকের বাড়ির কাছে যায়া দেখেন যে, সেই লোক তার উটরে আটকাবার জন্য খাবারের লোভ দেখাইতেসে। যেই না উট খাবার খাইতে আসলো, অমনি সে উটটারে ধইরা ফেললো। বুখারী তার কাছ থেইকা হাদিস না নিয়া ফেরত চইলা আসছেন। যেই লোক উটরে প্রতারণা করতে পারে, বুখারী তার কাছ থাইকা হাদিস নেন আই। তাইলে বোঝ, হাদিসের মর্ম কী!"
"কিন্তু হুজুর, এই যে বড়শিতে মাছ ধরতেছি আমরা, এইটা কি পাপ হৈতেছে না?"
"ক্যান? পাপ হৈব ক্যান? আল্লা কি মাছ ধর্তে না করছে? আল্লা বলছে হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য আমি ব্যবসা আর ... "
"না হুজুর, আমি বলতেছিলাম মাছে তো ভাবছে তারে খাবার দিছেন আপনে। যেই খাইল, ওরে টাইনা পাড়ে তুলছেন। এইটা প্রতারণা না?"
হাল্কা ফাঁদের আভাস পাওয়া শুরু করলেন হুজুর। "হুম, কিন্তু আল্লা না করলে তো একটা কামরে হারাম-মকরুহ বলার উপায় নাই।"
"তাইলে তো প্রাণীরে লোভ দেখায়া ধরাটা হারাম-মকরুহ না।"
"না, তা না।'
"তাইলে তো হুজুর ইমাম বোখারি সর্বনাশ করছেন!"
"আবার বুখারি কি কর্ল?"
"না, উনি ওই যে উটওয়ালার কাছ থেইকা হাদিস নেন নাই, সেও তো আমাদের মাছ ধরার মত হালাল কাজই করতেছিল। আমার তো এখন মনে হৈতেছে হুজুর, এই যে আজকে মুসলমানদের মাঝে এ্যাতো হানাহানি, এ্যাতো যুদ্ধ-- সব ওই একটা হাদিস বুখারির ভুলে আম্রা হারায়া ফেলার ফলে ঘটতেছে! ধরেন ওই হাদিসটা যদি আম্রা পাইতাম, তাইলে হয়তো দুনিয়ায় আর কোন বিবাদ থাকতো না। কাইজ্জা লাগলেই ওই হাদিসটা কৈতাম, আর সকলে হুঁশ ফিরা পাইত-- না একদিন আল্লার কাছে ফিরত যাওয়া লাগব, হিসাব দেওন লাগব। ফ্যানা ফাসাদ বন্ধ হৈয়া যাইত।"
"এহ হে” হাল্কা বিদ্রুপের একটা হাসি দিলেন হুজুর। "কত শত কুরআন-হাদিস আছে, কি লাভ হৈতেছে? মানুষের দিল তো পাথরের মত শক্ত হৈয়া গেছে। আরেক্টা হাদিস শুনলেই মানুষ নাফরমানি ছাইড়া দিত! শোনো...'
শোনা আর হলো না। "হুজুর এই নাখোদারে কি বয়ান দেন! জোহরের ওক্ত হৈসে, খালি কি অজু করবেন আর আজান দিয়া শুকনা শুকনা নামাজটা পইড়া লইবেন? একটু দোয়া দরুদ পৈড়েন। এই চল্ চল্ বাড়ি চল্..."
আমাকে তাড়া দিয়ে তুলে নিল এক কনিষ্ঠ মাতুল। হুজুরের কাছ থেকে অবাক হয়ে ফিরতে ফিরতে আমি ভাবলাম, এটা তো আগে কখনো দেখি নাই! হুজুরের সাথে এই রকম রূঢ় আচরণ ভাবাই যায় না। আড় চোখে ফিরে দেখি হুজুর ফের মন দিয়েছেন ফাৎনা আর সুতোয়, তার নিবিষ্ট দৃষ্টি কচুরি ভরা পুকুরটার দিকে।
আমাদের মাছ ধরার পালা শেষ! হাল্কা অস্বস্তিটাকে চাপা দিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
খ. ঝিঙে ফুল
নানাবাড়ির হুজুর নিয়ে কি একটা ভূমিকা দরকার? তিনি নোয়াখালির কোন এক চরের মানুষ। নানাবাড়ির মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং ইমামের দায়িত্ব পালন করতে সেই তরুণ বয়েস থেকে নানাবাড়িতেই রয়ে গেছেন। নানাকে আমার সামান্য মনে আছে, তাকেও দেখতাম তবিয়ত রেখে হুজুরের সাথে কথা বলতে। বাবাও দেখতাম হুজুরকে দেখলেই দাঁড়িয়ে যেতেন। ফলে হুজুরকে শ্রদ্ধা করতে হয়, তার সন্মানটাই আলাদা, সেইটা তো আমি ছোটবেলা থেকেই জানি।
অতিলৌকিক জগতের সাথে চিরকালের গ্রাম-সমাজের যোগাযোগ-মাধ্যমের দায়িত্বটা পালন করতেন এই ধর্মনেতারা। মায়ের কাছে গল্প শুনেছি, তার ছেলেবেলায় একবার আশ্বিন মাসে একটা ফজলি আম গাছে একটা মাত্র আম ধরলো। গ্রামের মানুষ বললো,এইটা জ্বীনের কীর্তি। লোভ দেখায় কোন একটা অমঙ্গল করতে চায়। কেউ কেউ বলল আল্লার নেয়ামতও তো হৈতে পারে!
সেই আমকে নিয়ে কী করা হবে, সেইটা নিয়ে একটা মহা আলোড়ন! শেষে মিলাদ দিয়ে মহা একটা ভোজের আয়োজন করা হল, তারপর সেই আমটা পরিবেশিত হলে হুজুরের পাতে। নানান দোয়া-দরুদ শেষে হুজুর মুগ্ধ গ্রামবাসীর সামনে ওটা খেয়ে ফেললেন। ওটা যদি আল্লার নেয়ামত হয়, তার কল্যাণ থেকে গ্রাম আর বঞ্চিত হলো না। আর ওটা যদি জ্বীনের কীর্তি হয়, হুজুরের ক্ষতি করে, এমন সাধ্য কি তাদের আছে!
এই রকম এক দিব্যজ্যোতি হুজুরের সাথে এই আচরণটা খুব মর্মান্তিক। আমার ছেলেবেলার একটা বড় অংশ এই হুজুর আর তাকে কেন্দ্র করে গল্পগুলোর মাঝে আবর্তিত। চাকরি আর পড়াশোনা সূত্রে বাবা কয়েক বছর দেশের বাইরে ছিলেন। সেই পুরো পাঁচ বছর আমরা ছিলাম নানাবাড়িতে। বড় বোনের খুব ন্যাওটা আমি। আর সব মামাতো বোনের সাথে তার ছুটি হবে আজানের সময়, ধর্মশিক্ষার আসর। আমি নিতান্তই বালক বলে ওইখানে ভর্তি হই নাই তখনো। ক্রমাগত ঘ্যান ঘ্যান থেকে বাঁচতে মা একটা দারুণ মতলব শিখিয়ে দিলেন। হুজুরকে যেয়ে বল, 'ঝিঙা ফুল ফুটছে। আজান দেন হুজুর!'
মার বুদ্ধিমত বেলা থাকতে থাকতেই মসজিদের রোয়াকে যেয়ে আব্দার করতাম, 'হুজুর ঝিঙার ফুল ফুটছে।' হুজুর হাসি দিয়ে বলতেন, 'আচ্ছা তোদের ছুটি!'
অকৃতজ্ঞ বোনেরা কিন্তু কোন কোন দিন অচিরেই আমাকে ভুলে সমবয়েসীদের জগতে ডুবে যেত। অথচ সন্ধ্যার আজানের বেশ খানিকটা তখনো বাকি। ধইঞ্চার কাঠি নিয়ে পুকুর পাড়ে একা একা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ছাড়া করার মত আর কিছুই থাকত না।
হুজুর দেখতে পেলে বড়দের আড্ডার মাঝে আমাকে তুলে নিতেন। হাতে ধরে মসজিদের দেয়ালে বসিয়ে পাশে বসে সুর করে পড়তেন:
" 'ফজর পড়িয়া ফরিদ ভাবে মনে মনে
রুটি পানি খাব আমি জোহরেরও পানে,
জোহর পরিয়া ফরিদ ভাবে মনে মনে
রুটি পানি খাব আমি আসরেরও পানে...'
এইভাবে বারো বছর পার হয়। শেখ ফরিদ রুটি পানি স্পর্শ করে নাই। কিন্তু তার মা বললেন, "ফরিদ, তুমি তো নফসের সাথে প্রতারণা করছো। তোমার বারো বছর বৃথাই গেল। যাও আবার জঙ্গলে, আবার নতুন কৈরা সাধনা শুরু কর!..."
সেই বয়ান শুনতে শুনতে আজানের সময় হতো। মাথার ভেতর অরণ্যবাসী শেখ ফরিদ, তার কঠোর মা আর রুটি-পানির জগতের ঘোরটাকে নিয়ে এক দৌড়ে আমি ভেতর বাড়িতে, এখন মা আমার!
গ. নফসের ফাঁদ
রাতের বেলা ছোট নানার বাসায় দাওয়াত। আমাদের খাওয়া শেষ। বাইরের ঘরে চৌকির ওপর হুজুরের খাওয়ার বন্দোবস্ত। আমি তার পাশে যেয়ে বসলাম। আমাকে দেখে বুড়ো খুব খুশি, বলে, "শুনলাম তুমি নাকি লেলিন মিয়ার বৈ পড়!"
"জ্বি, হুজুর, লেনিন?" আমি চমকে যাবার ভান করি।
"ওই হৈল একটা। সে নাকি মানুষরে না খাইয়া থাকতে দেবে না?"
আমি হাসি। হুজুর বলেন, “শোন, আল্লার যা কিছু সৃষ্টি, সব কিছুর একটা মাজেজা আছে। ক্ষুধা কি আল্লা এম্নি এম্নি বানাইছে? একদম না। আল্লা যখন আদমরে বানাইল, 'তারে কৈল, কও তুমি কে, আমি কে?'
"আদম কৈল, ‘তুমি তুমি, আমি আমি!"
"আল্লা কৈল, "নাফরমান!" তারপর দিল আদমের পেটে ক্ষিদা।"
"ক্ষিদার জ্বালায় অতিষ্ট হয়া আদম বলে, "মাবুদ, আমি তোমার বান্দা, তুমি আমার প্রভু।"
"কাজেই ক্ষিদা যদি না থাকে, বান্দা কি মাবুদরে মানবে? না, মানবে না। তাই আল্লা মানুষরে একদম না খাওয়াইয়া রাখে না, আবার সমানও কৈরা দেয় না।"
ক্ষুধার এমন ধর্ম-দার্শনিক তাৎপর্য হজম করতে কিছু সময় লাগলো। কিন্তু জবাব দেয়ার চাইতে হুজুরের কথা শোনাটা বেশিরভাগ সময়েই লাভজনক। আমি মূলত শ্রোতাই রইলাম। আর সকালে আমার শঠতার কাছে পরাজিত হুজুর বহুগুণে তার প্রতিশোধ নিতে থাকলেন। "শুধু কি আল্লার প্রতি শুকর থাকার জন্যই নফস? না। নফস আছে বৈলাই আমাদের এত রকম পরীক্ষা। আর সবশেষে হাসরের ময়দানে তার হিসাব দিয়া বান্দা যাবে বেস্ত নাইলে দোজখ। এই যে সমাজ টিইকা আছে, এইটা তো আমরা নফসরে দমন করি বৈলা, আবার তারে একদম না খাওয়াইয়াও রাখা যাইব না..."
হঠাতই আরেক ভাই এসে বলল, “হুজুর তত্ত্ব কথা তো অনেক হৈসে। ভিতর-বাড়িতে মেয়েছেলেরা অতিষ্ঠ। ওরা এ্যাখন একটু রঙঢঙ করবে, আর মসজিদটারে তো একদম ফাঁকা রাইখা দিছেন।'
হুজুরের মাথা প্রায় বাসনের ওপর মিশে গেল। আমি আর হুজুর দু’জনেই স্তব্ধ। ধনুকের মত বাঁকা হয়ে প্রায় হুজুর খাওয়া শেষ করলেন, তারপর প্লাস্টিকের জুতোটা পায়ে গলালেন তিনি। মসজিদের পুকুরটাকে নানাবাড়িতে বলে সদর পুকুর, মসজিদ এলাকাটা সদর। হুজুর ধীরে সুস্থে ছোটনানার ঘর থেকে নামলেন, উঠোনের দরজা পেরুলেন, তারপর সদরের দিকে যাত্রা। আমি তার ঠিক পেছনে। কোন শব্দ নাই। ভেঙে পুকুরের ওপর ঝুঁকে পড়া ঘাটলায় উনি চুপচাপ বসে রইলেন। আমিও হুজুরের পাশেই বসলাম। বৃদ্ধ এই মানুষটির ব্যাথা এবং নীরবতা সহ্যাতীত লাগছিল আমার কাছে। পুকুরে কচুরি পানার ফাঁকে চাঁদের প্রতিফলন আর চারপাশে আগুনের কনার মত জোনাকিদের ভীড় সেই রাতটাতে আরও রহস্যময়, আরও থমথমে, আরও আধিভৌতিক একটা ঘোর নিয়ে এসেছিল। প্রাণপনে একটা কিছু বলে আমি এই শব্দহীনতা ভাঙতে চাইলাম।
"হুজুর, আপনের মনে আছে, আমাদের দুই ভাইরে ওই পাঁচিলে তুইলা আপনে শেখ ফরিদের পুঁথি পড়তেন?"
"তোমার মনে আছে!" বলে হুজুর নিজেই শুরু করলেন আরও একবার,
"'এশা পড়িয়া ফরিদ ভাবে মনে মনে,
রুটি পানি খাব আমি ফজরেরও পানে...'
"তোমার মনে আছে? শেখ ফরিদ নফসরে ফাঁকি দিতে চাইছিল। নফস হৈল ক্ষুধা! হা হা হা। তার মা তা করতে দেয় নাই। বলছে, না, ফাঁকি দিও না ফরিদ, নফসরে তুমি জয় কর, নফসরে ফাঁকি দিও না,.... হা হা হা"
কে জানে, হয়তো বহু বছরের মাঝে ওই তার একমাত্র স্মৃতিচারণের উপলক্ষ্য। শুধু কি স্মৃতির আনন্দ মানুষকে এমন শিশুর মত প্রাণবন্ত অট্টহাসির রসদ জোগাতে পারে!
জানি না। শুধু মনে আছে নিশুতি রাতের মৌনতা ভেঙে নানাবাড়ির হুজুরের হাসি ছড়িয়ে গিয়েছিল দিকবিদিক।
০১ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার), ২০০৯ ১০:৫৪ পুর্বাহ্ন
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ওই জন্যই সারমর্ম দিয়া রাখছি পয়লা কমেন্টে।
লেখক বলেছেন:
ওক্কে বস্।
পৈড়া মত দিয়েন।
অফেক্ষঅয় নাজির।
লেখক বলেছেন:
লেখা নিয়া কুনু কমেন্ট নাই! ![]()
শয়তান বলেছেন:
বোখারী নিয়া আর লিখমু । পুরাটাই তো হাস্যকর ।
জাতেমাতাল বলেছেন:
কথা সত্য, ইমাম বোখারি আমাদের বিরাট সর্বনাশ কর্ছে...
লেখক বলেছেন:
এক্দম!
(আফসুস। একলাইনের এক্টা সামারি দিলাম, কেউ সেই লাইনে আগাইল না। কি করা! পাঠকই রাজা।)
শয়তান বলেছেন:
বোখারীর কি দোষ ? দোষী তো তাঁরা যারা তারে লালনপালন করতেসে @ জাতেমাতাল
পাঠকের কাছে সামারীটা হয়ত বোধগম্য হয় নাই @ খারেজি
লেখক বলেছেন:
আপনেরা নাস্তিক, তাই বুখারি-কাণ্ডই চোখে পড়ল।
ঝিঙে ফুলটারে আর দেখলেন না।
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
আমি এই ব্যাপারটাকে দেখছি একজন বয়ঃবৃদ্ধ মানুষের অপমান। যেটা আমাকে ব্যথিত করলো...উনি যা শিখেছেন সেভাবেই তো বলবেন তাই না??? যেহেতু উনি প্রশ্ন না করে সব মুখস্ত করেছেন সেহেতু তার কাছে প্রশ্ন করে উত্তর পাবার আশা করাটা ঠিক না...
লেখক বলেছেন:
আমিও করি নাই।
ওনাকে আমি পূববাঙলার মুসলমান চাষী সমাজ, প্রকৃতি আর জীবন থেকে আলাদা কিছু ভাবি না, অবিচ্ছিন্ন যেন।
গল্পটা খালি বলতে চেয়েছে: সে ই জীবনটা ভেঙে পড়েছে, কিন্তু বিকল্প ভালো কিছু আমরা পাই নাই।
শয়তান বলেছেন:
ঝিঙে ফুলের চেয়ে ক্ষুদা বিষয়ক এইটা মনে ধর্ছে বেশী ।"কাজেই ক্ষিদা যদি না থাকে, বান্দা কি মাবুদরে মানবে? না, মানবে না। তাই আল্লা মানুষরে একদম না খাওয়াইয়া রাখে না, আবার সমানও কৈরা দেয় না।"
ভাবেই আছি ............
লেখক বলেছেন: আসলেই এই ব্যাখ্যাটা শুইনা আমি চমকায়া গেসিলাম!
(আর ঝিঙে ফুলটা স্রেফ নস্টালজিয়া!)
খারেজি বলেছেন:
ব্যান অবস্থায় আমুতে দিসিলাম, প্রশ্নত্তোর একটা কমেন্ট দিসিলেন, মনে ধরছিল, তুইলা দেই:
প্রশ্নোত্তর ডিসেম্বর ৩, ২০০৯ @ ১১:২৮ অপরাহ্ন ১১
শব্দটা স্পস্ট শুনা গেল যদিও পতন না উত্থান সেটা ঠিকঠাক মতো বুঝা গেল না। পতন বলছেন যখন তাই মনে হচ্ছে শব্দটির সাথে ব্যাথার আকুতিও মিশে আছে বুঝি, আবার উত্থান ধরলে এই শব্দটিকেও উল্লাসের, অগ্রগতির ঘনশ্বাস মনে হতে পারে। ধুর কি দরকার এত বুঝাবুঝির-ধরাধরির! দরকার আছে, দেখতে দেখতে নদীর পাড় তো ভাঙছে ঠিকই! দেখুন তারপরও উল্টো করে কেউ না কেউ বলবেই - তাতে কি! চার মাইল দূরে দেখ - ঐ দেখো চর জাগছে!
লেখাটা ভালো লেগেছে, খারেজি। চরটা দেখা যাচ্ছে না হয়তো, কারণ হয়তো এখনো ভাঙার গতি ততোটা প্রবল নয়, আরো ভাঙবে - তরপর আবার গড়বে - আবার ভাঙবে - আবার গড়বে...!
শয়তান বলেছেন:
গল্পটা খালি বলতে চেয়েছে: সে ই জীবনটা ভেঙে পড়েছে, কিন্তু বিকল্প ভালো কিছু আমরা পাই নাই।
--
শেয়ার বাজারের কারেকশন পিড়িওড তো দেখসেন । আমি মনে করি আমাদের সমাজে বর্তমানে সেরকম একটা অবস্থা চলছে । কারেকশন শেষ হৈলে পরেই আকাঙ্খিত সেই বিকল্পটার সন্ধান মিলবে ।
লেখক বলেছেন:
সেই ভরসায় তো বাইচা থাকি রে ভাই।
নীল ভোমরা বলেছেন:
তাহলে কি শিখলাম... নফস-কে ফাঁকি তেয়া ঠিকনা?! নফস-তো কত কি চায়রে ভাই!
লেখক বলেছেন:
নফস যা চায়, পরের ক্ষতি না কৈরা তার যথাসম্ভব পূরন করনই সুস্থতা।
লেখক বলেছেন:
সেইটাই কথা!!
মনির হাসান বলেছেন:
চমৎকার বস্ ... সেই আগের টেস্ট ... সেই খারেজিয় গন্ধ ... পোস্টের অনটপিক মন্তব্য করা কি বাধ্যতা মূলক ? তাইলে আর আহুম না কইলাম ...
লেখক বলেছেন:
ধুরো মিয়া!
বুকে আহেন।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
ইয়া খারেজি, গ্রাম সম্পর্কে আমার ধারনা কম, একটু বুঝায়া কন দেখি গ্রামের পতনের এই ঘটনা বঙ্গদেশে কবে থেকে ঘটতেছে...? ওই এক যাত্রায় গ্রাম সমাজের পতন আর ক্ষয়ই শুধু যা দেখলেন, আমি তো শুধু বেচারা হুজুরের দিগদারিই দেখলাম... আর এই দিগদারি তো নয়া কিছু না।
সৈয়দ মুজতবার পন্ডিত মহাশয়ের সংস্কৃতের টোল-- বৃটিশদের হাতে অপাঙতেয় হয়ে যাওয়ার আমল থেকেই তো গ্রাম সমাজের পতন আর ক্ষয়ের পালা চলতেছে...
লেখক বলেছেন: মুজতবা আলীর আরো আগেই তো শুরু হয়েছে, হাসুলি বাকের উপকথায় তারাশঙ্কর গ্রাম সমাজের ভাঙনের চেহারা দেখিয়েছেন কত তীব্রতায়।
কিন্তু এই সেদিনও যে আমাদের কম্যুনিস্টরা উৎপাদন ব্যবস্থা সামন্তবাদী কিনা তাই নিয়ে তর্ক করত, তার আর কোন মাজেজা না থাকুক, একটা হল এই যে, বাংলার গ্রামে এখনও বহু প্রাকপুঁজিবাদী অবশেষ আছে।
তার অবশেষের ভাঙনের আওয়াজ তাই এখনো মাঝে মাঝে শোনা যায।
এইটা ধরেন মূল যুদ্ধের অবসানের পরকার ঘটনা।
রাজর্ষী বলেছেন:
যেকোন ভাংগনেই হাহাকার জুড়ে থাকে।
লেখক বলেছেন:
কথা সত্য।
লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ প্রসূন।
এইবার ফিরত আইসা প্রায় পুরোনো কোন দুস্ত-দুস্তাইনরেই দেখতেসি না। সব কি ব্লগিং ছাইড়া দিসে! আর কুট কুটি নয়া ব্লগার... কাউরে চিনি না .... আপনের খবর কিতা?
(কন তো আমাদের কমন চাইরজন ফেসবুক ফ্রেন্ডের নাম কী?)
হাসান মাহবুব বলেছেন:
ভালো লাগসে। Rainer Werner Fassbinder কে খুঁজে পাইছি। ইন্টারেস্টিং মনে হৈতেছে। মাত্র সাইত্রিশ বছর বাঁইচাও কাজের পরিমাণ তো ব্যাপক।
লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ হামা
ফাসবিন্ডার আসলোই দুর্ধর্ষ। একটা আধখেঁচরা রিভ্যু তারে নিয়া লিখা রাখছি অনেক দিন।
ভয়ঙ্কর ডিরেকটর সে। উইটে তার কাছে কে আছে জানি না, ক্রিটিসিজমে বুনুয়েলের পর তারে ধরি আমি।
মনজুরুল হক বলেছেন:
পোস্ট নিয়ে পরে মন্তব্য করব। আজ আর পড়ার সময় নেই।
ভাল লাগছে, খারেজি অন ফুল থ্রটল!!!!!
লেখক বলেছেন: থ্যাঞ্কু মনজু ভাই।
লেখক বলেছেন:
![]()
লেখক বলেছেন:
ওই আর কী!
বলাক০৪ বলেছেন:
আপনার নৈর্ব্যাক্তিক লেখার ভঙ্গিটি চমৎকার। এর মধ্যেও একটা ব্যথার আবহ খুঁজে পাওয়া যায়। মনে হয় হেমন্তের রাতের আকাশে আজ কোন তারা নেই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ। কৃতার্থ হৈলাম।
মনির হাসান বলেছেন:
নতুন পোস্ট মারেন ... কি হইলো ... ! ?
লেখক বলেছেন: আইতেআছে।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
পর্লাম।শয়তানের ট্রান্সফর্মেশন বিষয়ক মতই যথার্থ মনে হইতাছে। সেই সাথে মনে হইতাছে- এই ফর্মেশনের বদলের মইধ্যে আমরা ঠিক কোন পথে দৌড়াইতে কিংবা হাটতে কিংবা হামাগুড়ি দিতে থাকবো অথবা শেষে আমরা ঠিক কোথায় গিয়ে দাড়াব, সেই আর আমাদের মইধ্য থেকে ঠিক হইতাছে না।
সেটা এখন ঠিক করে অপর।
-----------------
আর আপনে যেইভাবে ল্যাখছেন! আমারও ঘ্রান লাগতাছে, তবে আমার পুকুরে কচুরি ছিলনা, আর আমার হুজুর খিদা বিষয়ক এমন দৃষ্টিভঙ্গীও নেন নাই। সুতরাং তারে আমি মাঝ ধরতে কিংবা বাসনে মাথা নিচু করতেও দেখি নাই। তিনি বরং হাটে আটা বিক্রি করতেন, মিস্তিরির কাজ করতেন এবং এলাকার বড় মসজিদের বড় হুজুর ছিলেন।
মসজিদের পুকুর ছিল- তয় পুকুরে কচুরি তিনি নাপসন্দ করতেন খুব। সাফ করতেন।
লেখক বলেছেন: এই মসজিদটার মালিক আসলে গ্রাম সমাজ ছিল না, হুজুরও না।
নামে মসজিদ সকলের হৈলেও এইটা আসলে পরিবারের সম্পত্তি, হুজুরের তো সেইখানে এখতিয়ার নাই খুব বেশি।
ফলে পরিবার ভাইঙ্গা যখন ব্যক্তি আরও প্রধান হৈল, যৌথ সম্পত্তির কচুরিপানায় ঢাইকা যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নাই।
আপনার কথায় খুবই একমত।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
আর একটা কথা-হুজুর কইতেন; জীবিকা অর্জনের জন্য গতর খাটাইতো হইবো। আক্কেল আর এলেম বেচতে নাই, আমল তো না-ই।
লেখক বলেছেন: হা হা হা
এলেম বেচা নিয়া মধ্যযুগের ইহুদীদের মাঝে কিছু আপত্তির কথা মনে পড়ল।
'জ্ঞান বেচা পণ্ডিত বদমাইসে পরিনত হৈতে পারে।'
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
রক্তকরবী আর সুমনরে ভুইল্যা যাইয়েন্না কিন্তুক!
লেখক বলেছেন: ভুলি নাই স্যার, রেডি আছে।
একটা কারণে কয়দিন দেরি হৈব। বাট খবর দিমু আপনার ব্লগে যায়া।
কসম।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
হুমমমম....।তবে গ্রামভাংগনের ব্যাপারটা বোধকরি সবজেনেরেশানই উপলব্ধি।অনেকটা' গতদিনের জন্য নষ্টালজিয়া।তারাশংকরের হাঁসুলি বাকের উপকথায় গ্রামভাংগনের শব্দ পাই, আবার আপনার লেখাতেও পাই।গ্রামের ছেলে বলে আমি নিজেও পাই।গ্রাম এখন আধাশহর।বীজলি বাতি, টিভি( তাতে আবার কেবল কানেকশন
আমার আব্বা-আম্মা খুবধার্মিক।ছোটবেলায় তাঁদের সুরেলা শব্দে কোরানপাঠের শব্দে ঘুম ভাংতো।.....
আমার দাদারা(আব্বার চাচা) এইরকম অনেক হাদিস শোনাইতো।দু/এক ঘটনা মনেও আছে।তবু গুছিয়ে লেখা হয়না কিংবা পারিনা হয়তোবা...
আপনার লেখা করে বুকের মধ্যে "কিরাম" ফাঁকা ফাঁকা লাগলো।
লেখক বলেছেন: সেইটাই।
হাসুলি বাকের উপকথা পড়ার সময় ভাবি নাই ভাঙনের এই শব্দের মুখে আমাদেরও একদিন পড়তে হবে।
তারটা ধ্রুপদী ভাঙন। আমাদেরটা কেমন মনে হয় কোনকাঞ্চিতে টিকে থাকা নমুনাগুলোর অবসান।ফলে তারটা মহান ঠেকে, আমাদের বেলায় পতনটাও হিরোয়িক কিসু না। এই আর কী। জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
খারেজি বলেছেন:
সেইটাই।হাসুলি বাকের উপকথা পড়ার সময় ভাবি নাই ভাঙনের এই শব্দের মুখে আমাদেরও একদিন পড়তে হবে।
তারটা ধ্রুপদী ভাঙন। আমাদেরটা কেমন মনে হয় কোনকাঞ্চিতে টিকে থাকা নমুনাগুলোর অবসান।ফলে তারটা মহান ঠেকে, আমাদের বেলায় পতনটাও হিরোয়িক কিসু না। এই আর কী।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
পরে পড়তেছি!
লেখক বলেছেন:
জানায়ো কেমন লাগলো।
আশায় বসিয়া থাকিলাম।
![]()
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
শেষের দুইটারে কি করলেন? ড্রাফ্ট করলেন নাকি?
কঁাকন বলেছেন:
সমস্যা কি?
নাস্তিক যদি বুঝতো বিশ্বাসের বেদনা তবে সে কি আর আঘাত হানতে পারতো ধর্মতত্ত্বের দেয়ালে? কিন্তু এরচেয়েও দুর্ভাগ্য হইল সে নয়, আঘাতটা দিতেছে পুঁজিবাদ। পোস্ট শেষ হবার পর শিরোনামের মাজেজা পরিষ্কার হইল। গ্রাম সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা কম...শহরেই বড় হইছি।
লেখক বলেছেন:
শহরে বড় হৈলেও লেখার মূল সুরটা যে আপ্নারে বাজাইছে, কমেন্টে সেই অনুভূতিই হৈল।
অনেক ধন্যবাদ।
অনেক দিন পর আপনি।
কমেন্টেইতো শানে নুযুল বইলা দিলেন। "ওই এক যাত্রা" নির্দিষ্ট করে কোনসময়কার কথা? এখনতো আরো জোরেশোরে চলতেছে।
লেখক বলেছেন: সময়টা য়ুনিতে সদ্য ঢুকছি... কালটা না হয় বাদ দেই।
রেজোওয়ানা বলেছেন:
আমার নিজের জানার পরিধি খুবই ক্ষুদ্র, তাই হয়তো বা অন্তর্গত মর্মটা খুব ভাল বুঝতে পারলাম না।লেখাটা খুব ভাল লেগেছে।
আপনার এখানে দেখছি একটা খনি আছে, মিস করেছি এতদিন।
লেখক বলেছেন:
হেলা কর্ছেন এদ্দিন, অহন জরিমানা দ্যান।
বিডি আইডল বলেছেন:
এক নিশ্বাসে পড়লাম....আপনার কমেন্ট ১ পড়ার আগেই সামারিটা ধরতে পারছি..তাই বোখারি আর ধর্ম নিয়া টানাহিচড়া দেইখা বিরক্ত লাগলো কমেন্টগুলোতে..বহুদিন বাদে ব্লগে একটা ভালো লেখা পড়লাম
লেখক বলেছেন: ভাল লাগসে এই কথাটাও পরের স্বাধীনতা নিয়া বিরক্তি প্রকাশ না কৈরা কৈতে পারলেন না?
আমার খারাপ লেখা কুনডা? সবগুলা পৈড়া ফালান।
(য়াপনারে ইদানিঙ কম দেখি?)
বিডি আইডল বলেছেন:
অন্য শহরে যাইতেছি শীঘ্রই..সে ঝামেলায়....মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানেই কি পোষ্টের প্রসঙ্গরে টুইষ্ট কইরা অন্য বিষয়ে বাতচিত করা?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















ওই এক যাত্রায় গ্রাম সমাজের পতন আর ক্ষয়ই শুধু দেখেছি। তার যা কিছু শোভন, সবই বিলুপ্ত প্রায়। কিন্তু বিনিময়ে সুস্থ, বিকল্প কিছুই দাঁড়ায় নি।