সরকারি হিসাবে স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে সড়ক, রেলওয়ে, জল ও আকাশপথে সরকার মোট বরাদ্দ দেয় প্রায় ৫২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সড়ক খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ ভাগ, রেলওয়ে খাতে ২৪ ভাগ, নৌ ও বিমানপথের জন্য বরাদ্দ ছিল বাকি টাকা। ১৯৮০-৮৫ সাল পর্যন্ত রেলওয়ে ও সড়কপথের জন্য বরাদ্দ সমান হয়ে ৩২ ভাগে দাঁড়ায়। নব্বইয়ের দশকের প্রথম পাঁচ বছরে সড়ক খাতে মোট বরাদ্দের ৬৬ ভাগ দেওয়া হয়। এ সময় রেলওয়ের বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৭ ভাগে। ১৯৯৫-৯৭ এই দুই বছরে সড়কপথে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭৫ ভাগ আর রেল খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৬ ভাগ। ১৯৯৭-২০০২ পর্যন্ত সড়ক খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৯ ভাগ এবং রেল খাতে বরাদ্দ হয় ২২ ভাগ। ২০০২-০৫ সাল পর্যন্ত রেলওয়েতে বিনিয়োগ একেবারেই কমে যায়। এ সময় রেলওয়েতে ১২ ভাগের বিপরীতে সড়কপথে সরকার বরাদ্দ দেয় ৮৬ ভাগ।
রেলওয়েকে দুর্বল করে প্রচুর বাস নামানো হয়েছে, তাতে লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা চরম আকার ধারণ করেছে। মহাসড়কে যানজট বেড়েছে, মহাসড়ক অনিরাপদ হয়েছে। অথচ শক্তিশালী রেলওয়ে থাকলে মানুষ রেল যোগাযোগের দিকে ঝুঁকত। সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যেত।
বলা হয়ে থাকে, দেশের সড়ক পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন মন্ত্রী, সাংসদ ও আমলারা। এ জন্যই তাঁরা রেলওয়ের তুলনায় সড়কপথের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। এ ছাড়া ৯০-এর দশকের পর বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার পরামর্শে প্রায় পৌনে তিন শ কিলোমিটার রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রেলওয়ে ইঞ্জিন ও বগির সংকট প্রকট। লোকবলও কমে গেছে। লোকসান বছরে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় ভারতীয় ১০০ কোটি টাকা ঋণে রেলওয়ের উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেটাও যথেষ্ট নয় এবং সুফল পেতেও দেরি হবে। রেলওয়ের সংস্কারের শর্তে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটাও ঝুলে আছে। ইঞ্জিন-বগিও আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে আসছে না। এ অবস্থায় সহসা রেলওয়ের চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



