somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগনামচা ২ :শেষ সেমিস্টারের প্রথম দিন

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০৬ সালে আমি বুয়েটে ভর্তি র্পর্রীক্ষা দেই।আমরা ৬ জন সব সময় একসাথে থাকতাম।কিন্তু ২ জন বাদে বাকি চার জন বুয়েটে টিকে গেল।বলাই বাহুল্য সেই দুইজনের মাঝে আমি ১ জন।মাত্র আঠারো বছর বয়সেই এক অন্য পৃথিবীর সাথে আমার দেখা হয়।আমি হাড়ে হাড়ে টের পাই "THERE IS NO ROOM FOR LOOSERS"/ আমার ইন্জিনিয়ার হয়ার স্বপ্ন বুঝি মাঠে মারা গেল।তার চেয়েও বড় কথা হঠাৎ করে উদয় হওয়া একঝাঁক বিশেষ উপদেশ দাতার উপদেশ দান-"সারা দিন পড়লা তাও টিকলিনা!!","তোমার বডিতো stoute,Army তে ট্রাই কর। "কেউ বুঝেনা জীবনে কেউই ইচ্ছা করে হারেনা,কেউ ইচ্ছা করে পিছলা খায়না। কিন্তু তারপরও ১ জীবনে সবাই সবকিছু পায়না।এটা নিয়ম।ঘর থেকে বেরুতে লজ্জা লাগতো।আবার বাসায় ডাইনিং টেবিলে আব্বু আম্মুর করুণ সুরের কথাবার্তা শুনার সময় গলা দিয়ে ভাত ঢুকতোনা।জীবন টা একেবারে দুঃসহ হয়ে গেল।পড়ার টেবিলে বসে চুয়েট,কুয়েটের জন্য যে ঠান্ডা মাথায় পড়তেও পারিনা।এরকম পরিস্থিতিতে না পড়লে কেউ কখনও বুঝবেনা জীবন মাঝে মাঝে কত কঠিন হয়?কোন রকম চুয়েট এর ভর্তি পরীক্ষা দিলাম এবং কোনরকম টিকে গেলাম।ভর্তি হলাম যন্ত্রপ্রকৌশলে।জীবনের অনেক বড় ১টা স্বপ্ন ছিল বুয়েটে মেকানিকাল পড়ার।কিন্তু তা হলনা।জীবনের কিছু ছোট ভুলের মাশুল বেশ বড় হয়।বুয়েটের এডমিশন টেস্টের আগের তিন মাসের পড়ার বইয়ের মাঝে গল্পের বই পড়াও তেমনই ভুল ছিল বোধ হয়।মনকে প্রবোধ দিলাম-এক জীবনে সবাই সবকিছু পায়না।সবার এক রাস্তা দিয়ে উন্নতি হয়না।অন্তত ইন্জিনিয়ার তো হব আর ইন্জিনিয়ার হয়ে তো জীবনে কিছু করার প্ল্যাটফর্ম তো পেলাম।আমার ভাঙা মন টা বোধ হয় আব্বু খুব বুঝলেন।আর কোথাও ভর্তি পরীক্ষা দিতে না করলেন।কটা দিন নিরেট অবসর নিলাম। নিজেকে চিনতে অনেক সাহায্য করেছে সেই সময়টা।
অতঃপর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাশ করার দিন এল।আব্বু,আম্মু আর ছোট মামার সাথে এলাম প্রথম ক্যাম্পাসে।অনেক বড় ১ টি ক্যাম্পাস দেখে ভালোই লাগলো।






আমার সিট হল নর্থ হলে-২০৩ নম্বর রুমে সিনিয়র এক ভাইয়ের সাথে।মনটা খুব ভালোই ছিল।কিন্তু একদিকে আব্বু ,আম্মু গেল- বড় ভাইয়েরা এল আমায় র‌্যাগ দিতে!!!:((:((:((
আমাকে দিয়ে ডাইনিং রুমের এরিয়া মাপাল-------ম্যাচের কাঠি দিয়ে।মাপতে গিয়ে মাজার হাড্ডি ছুটে গেল।



পরদিন ক্লাশে গেলাম-প্রথম ক্লাশ হল thermal engg.আজব সব ইকুয়েশন অবাক বিস্ময় নিয়ে দেখলাম।তার পর এল ড্রইং।স্যার পড়ানো শুরু করলেন"আজ তোমরা শিখবে আইসোমেট্রিক ভিউ।এটা ২য় বর্ষে................।"মজা লাগতো thermal engg।স্যারটা ভালোই পড়াতো।আর হাসি পেতো physics ক্লাশে।স্যার পড়াতেন"আলু মানে লাইট "উ"বিন্দু দিয়ে সুঊঊউজা চলে যাবে"।এভাবে ফার্সট ইয়ার গেল।সেকেন্ড ইয়ারে দেখা হল ইলেকট্রনিক্সের সাথে -কত যে গালি দিছি কার্শফ আর থিবনিটজকে আর অবশ্যই গুরু মহাশয় কে যিনি ১ হাতে লিখার সাথে আরেক হাতে মুছেন।ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স আর ওপ-এমপ তো মুহুমুহু ঝড়ের নাম।এই সেমিস্টারের দুই চমৎকার সাবজেক্ট আর স্যার ছিল-এস.এম আর থার্মোডিনামিক্স আর এদের স্যার ।দুজনেই কম্পিটিশন লাগিয়ে চরম পড়িয়েছিলেন।তবে চুয়েটে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া এক রাশ বন্ধু।বন্ধুদের নিয়ে বর্ষপুর্তি করা,রাতে -দিনে আড্ডা দেয়া,পি.এল এ সুবোধ ছাত্র হওয়া আর পণ করা আগামী সেমিস্টারে প্রথম থেকে পড়ব।সেই আগামী সেমিস্টার এলে আবার তিন রুমমেট মিলে ঠিক করি মিডটার্মের পর থেকে সজোড়ে স্টাডি।মিডটার্মে বাসা থেকে ঘুরে এসে ঢুঃ পি.এল এই পড়ব।এভাবে দিন ভালোই কাটছিলো।চলে যায় বসন্তের দিনের মত চলে গেল সাতটি সেমিস্টার । ...........
কাল আমার শেষ সেমিস্টারের প্রথম দিন।জীবন থেকে আনুষ্ঠানিক পড়ালেখার শেষের বাঁশী বাজছে।এর মাঝে অনেক পাওয়ার আনন্দ আছে ,না পাওয়ার ব্যাথা আছে।কিন্তু ভালোই লাগে যখন ভাবি জীবনের সবচেয়ে বড় ২টি স্বপ্নের মাঝে অন্তত ১টা তো পূরণ হল।জীবনটা এখন পর্যন্ত ৬০% সফল।বাকি হিসাব না হয় পরেই হল।


এখন আমার এই পোস্টের প্রথম প্যারার সু্ত্র ধরে বলছি এমন না পারার ঘটনা অনেকের জীবনেই ঘটে।না পারাটা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা ন্য়।আমি না হয় ১টাতে না টিকে আরেকটাতে এক্সাম দিতে পারলাম।কিন্তু বাংলাদেশে এমন অনেক ছাত্র আছে যাদের জন্য ১ টির বেশী এক্সাম দেয়া সম্ভব না।সে ক্ষেত্রে তো তার আফসোস থেকেই যাবে। এছাড়া দেখা যায় বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক সিট খালিও থেকে যায়,কারণ এমন অনেকে বুয়েটে টিকেও চুয়েটে/কুয়েটে এক্সাম দেয়।আবার অনেকে মেডিকেলে টিকে চলেযায়।আমাদের মত দেশে এমন আসনের অপচয় কষ্টদায়ক।এর চেয়ে বরং সব ইন্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টেস্ট ১ সাথে হলেই তো ভালো হয়।এতে ছাত্রদের ভোগান্তিও কমে ।অর্থ বাঁচে।রেজাল্টের সময় ইনটারন্যাশনাল র‌্যাংকিং অনুযায়ী মেধা ক্রমানুসারে তালিকা দিলেই চলে।ব্যাপারটা নিয়ে ভাবা দরকার।

১৯টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×