অতঃপর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাশ করার দিন এল।আব্বু,আম্মু আর ছোট মামার সাথে এলাম প্রথম ক্যাম্পাসে।অনেক বড় ১ টি ক্যাম্পাস দেখে ভালোই লাগলো।
আমার সিট হল নর্থ হলে-২০৩ নম্বর রুমে সিনিয়র এক ভাইয়ের সাথে।মনটা খুব ভালোই ছিল।কিন্তু একদিকে আব্বু ,আম্মু গেল- বড় ভাইয়েরা এল আমায় র্যাগ দিতে!!!
আমাকে দিয়ে ডাইনিং রুমের এরিয়া মাপাল-------ম্যাচের কাঠি দিয়ে।মাপতে গিয়ে মাজার হাড্ডি ছুটে গেল।
পরদিন ক্লাশে গেলাম-প্রথম ক্লাশ হল thermal engg.আজব সব ইকুয়েশন অবাক বিস্ময় নিয়ে দেখলাম।তার পর এল ড্রইং।স্যার পড়ানো শুরু করলেন"আজ তোমরা শিখবে আইসোমেট্রিক ভিউ।এটা ২য় বর্ষে................।"মজা লাগতো thermal engg।স্যারটা ভালোই পড়াতো।আর হাসি পেতো physics ক্লাশে।স্যার পড়াতেন"আলু মানে লাইট "উ"বিন্দু দিয়ে সুঊঊউজা চলে যাবে"।এভাবে ফার্সট ইয়ার গেল।সেকেন্ড ইয়ারে দেখা হল ইলেকট্রনিক্সের সাথে -কত যে গালি দিছি কার্শফ আর থিবনিটজকে আর অবশ্যই গুরু মহাশয় কে যিনি ১ হাতে লিখার সাথে আরেক হাতে মুছেন।ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স আর ওপ-এমপ তো মুহুমুহু ঝড়ের নাম।এই সেমিস্টারের দুই চমৎকার সাবজেক্ট আর স্যার ছিল-এস.এম আর থার্মোডিনামিক্স আর এদের স্যার ।দুজনেই কম্পিটিশন লাগিয়ে চরম পড়িয়েছিলেন।তবে চুয়েটে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া এক রাশ বন্ধু।বন্ধুদের নিয়ে বর্ষপুর্তি করা,রাতে -দিনে আড্ডা দেয়া,পি.এল এ সুবোধ ছাত্র হওয়া আর পণ করা আগামী সেমিস্টারে প্রথম থেকে পড়ব।সেই আগামী সেমিস্টার এলে আবার তিন রুমমেট মিলে ঠিক করি মিডটার্মের পর থেকে সজোড়ে স্টাডি।মিডটার্মে বাসা থেকে ঘুরে এসে ঢুঃ পি.এল এই পড়ব।এভাবে দিন ভালোই কাটছিলো।চলে যায় বসন্তের দিনের মত চলে গেল সাতটি সেমিস্টার । ...........
কাল আমার শেষ সেমিস্টারের প্রথম দিন।জীবন থেকে আনুষ্ঠানিক পড়ালেখার শেষের বাঁশী বাজছে।এর মাঝে অনেক পাওয়ার আনন্দ আছে ,না পাওয়ার ব্যাথা আছে।কিন্তু ভালোই লাগে যখন ভাবি জীবনের সবচেয়ে বড় ২টি স্বপ্নের মাঝে অন্তত ১টা তো পূরণ হল।জীবনটা এখন পর্যন্ত ৬০% সফল।বাকি হিসাব না হয় পরেই হল।
এখন আমার এই পোস্টের প্রথম প্যারার সু্ত্র ধরে বলছি এমন না পারার ঘটনা অনেকের জীবনেই ঘটে।না পারাটা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা ন্য়।আমি না হয় ১টাতে না টিকে আরেকটাতে এক্সাম দিতে পারলাম।কিন্তু বাংলাদেশে এমন অনেক ছাত্র আছে যাদের জন্য ১ টির বেশী এক্সাম দেয়া সম্ভব না।সে ক্ষেত্রে তো তার আফসোস থেকেই যাবে। এছাড়া দেখা যায় বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক সিট খালিও থেকে যায়,কারণ এমন অনেকে বুয়েটে টিকেও চুয়েটে/কুয়েটে এক্সাম দেয়।আবার অনেকে মেডিকেলে টিকে চলেযায়।আমাদের মত দেশে এমন আসনের অপচয় কষ্টদায়ক।এর চেয়ে বরং সব ইন্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টেস্ট ১ সাথে হলেই তো ভালো হয়।এতে ছাত্রদের ভোগান্তিও কমে ।অর্থ বাঁচে।রেজাল্টের সময় ইনটারন্যাশনাল র্যাংকিং অনুযায়ী মেধা ক্রমানুসারে তালিকা দিলেই চলে।ব্যাপারটা নিয়ে ভাবা দরকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


