গতকাল কুলদীপ নায়ারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত কলামটা কি সবার পড়া হয়েছে।না পরা হলে একটু পড়ুন আর দেখুন আপনার মনেও এসব প্রশ্ন জাগে কি না?
প্রথমেই আসুন আমরা কিছু আত্মসমালোচনা করি।এক , আমরা আমাদের স্বাধীতার ৩৮ বছরেও আমাদের সুস্পষ্ট কোন পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করতে পারিনাই।মায়ানমারের জান্তার নানা অবস্থানের বিপরীতে আমাদের কোন সুস্পষ্ট অবস্থান নেই।ফিলিস্তিন প্রশ্নে আমাদের কোন সাড়া নেই।বিদেশে আমরা যেসব দুতাবাস করেছি সেগুলোর কাজকর্মে গতি নেই।মধ্যপ্রাচ্যে যে আমাদের এত শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছে,সেক্ষেত্রে কি এসব দুতাবাস কোন অভিভাবকের ভুমিকা পালন করেছে ?কতটুকু সত্য জানিনা,আমাদের পররাষ্ট্ট মন্ট্রনালয়ে নাকি এক্সপার্ট কুটনৈতিকদের কোন ভুমিকাই নেই। তারা সারা জীবন চাকুরি করে দেখেন এম্বেসেডর হয়ে বসে আছেন কোন অবসরপ্রাপ্ত মে.জে , লে.জে বা রাজনৈতিক আশীর্বাদ পুষ্ট ব্যাক্তি।ফলে আজ এই রাষ্ট্রের এম্বেসেডর আমাদের চাটি মারেন তো কাল ঐ রাষ্ট্রের এম্বেসেডর ঝাড়ি মারেন।আমাদের মেরুদন্ড হীন রাজনৈতিক নেতারা আদর্শের গরীমায় রাষ্ট্রপতির দাওয়াত আমলে নেন না।কিন্তু বিভিন্ন দেশের এম্বেসেডরদের তিতা কফির দাওয়াত নিতে ছাড়েন না।সাথে চলে নিজের দেশের অপর পক্ষের বিরুদ্ধে সত্য মিথ্যা নালিশ।এসকল ঘটনার ফলশ্রুতিতে নিকট অতীতে কোন বিদেশী সফরে কতটা লাভ আমাদের তা বিচার করলে শুভংকরের ফাঁকি ধরা পড়ে।এবারের ভারত সফরও তাই...।আর এ ব্যার্থতার এক বিরাট দায় আমাদের রাজনীতিবিদ আর কিছু কুটনৈতিকদের।আজ যারা বিরোধী দলে তারা ও এর জন্য দায়ী।ক্ষমতায় থাকলে ভারত তোষণ আর না থাকলে ভারত পেষণ তাদের এক সস্তা রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজী।ফলে ভারতের প্রাচীন অর্বাচীণ কলামিস্টরাও আমাদের শিক্ষা দেয়। ফিরে আসি কুলদীপ বাবুর কলামে।তিনি বড় কলামিস্ট,কিন্তু কয়েক জায়গায় আমার আপত্তি ও কিছু প্রশ্ন
১।তিনি লিখেছেন"কথিত রয়েছে যে শেখ হাসিনা তাঁর চাহিদা-তালিকা পেশ করার আগেই মনমোহন সিং নাকি বলেছেন, তাঁকে কিছু চাইতে হবে না। বাংলাদেশের যা কিছু প্রয়োজন, ভারত তা আপনা থেকেই সাধ্যমতো পূরণের চেষ্টা করবে।মনমোহন বাবু আরো পাঁচ বছর পাওয়ারে ছিলেন তিনি কি আজও বুঝেছেন সীমান্তে বাংলাদেশীদের দুঃখের কথা।গরু আনতে গিয়ে তরুণ রাখালের বি.এস.এফ এর গুলিতে মারা যাওয়া,সীমান্তের এ পারের মানুষদের প্রতিদিন ই মরতে হচ্ছে,ভয়ে থাকতে হচ্ছে।এসব কি তার চোখ এড়িয়ে যায়।এখানেই ধরা পড়ে ব্যাক্তিত্বশালী এক পররাষ্ট্র বিভাগের অভাব?এ সুযোগে ভারতীয়দের কথা,"আমাদের কথা শুনো,আমাদের কথা মানো,পরে খুশি দেব'' টাইপের হয়ে গেলনা ?প্রশ্ন জাগে এই সফর নিয়ে আমাদের হোমওয়ার্ক নিয়ে।
২।শুনছি ভারতকে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যাবহার করতে দেয়া হবে।উন্মুক্ত বিশ্বের এই সময়ে আপত্তি নেই,কিন্তু আমরা কি এই গ্যরান্টি পেয়েছি আমাদের পণ্য সেখানে কোনরকম অনৈতিক বাধা ছাড়া চলবে?পশ্চিম বাংলায় আসামে আমাদের বিভিন্ন পণ্যের ভালো চাহিদআ আছে। কিনতু রপ্তানির প্রতি পদে নানা ছুতায় বাধা সৃষ্টি করা হয়।কখনও ব্যাটারী রপ্তানীর ক্ষেত্রে ডাম্পিং এর অভিযোগ বা কখনও সিমেন্টের ক্ষেত্রে নিম্ন মানের মিছে অভিযোগ ......।এছাড়া চলতে দেয়া হয়না আমাদের টিভি চ্যানেল।আমরাই কি দরজা খুলে রাখব সারাকাল,আর তারা যখন ইচ্ছা নিজেরা জানালা খুলে আমাদের দিকে ভিক্ষা ছুড়ে দিবে??
৩।মিডিয়া ভারতে অনেক শক্তিশালী।সারা বিশ্ব দেখে ভারতীয় চ্যানেল।সেই চ্যানেলগুলোতেও প্রায়ই আক্রমনের শিকার নিরীহ বাংলাদেশ।বিগটিভির এ্যাডে বাংলাদেশ ক্রিকেট টীম নিয়ে মস্করা চলে। নিজের চোখে ভারতী্য এক কৌতুক অনুষ্ঠানে দেখি বাংলাদেশ নিয়ে কটাক্ষ-"সস্তায় ঘুরতে চাও,বাংলাদেশে যাও।কারণ সেখানে কিছুই নাই।"এতে কি আমাদের অসম্মান হয়না???আমাদের পর্যটন শিল্প কি এতে কিছু পর্যটক হারালোনা????
তাই বলি না চেলে মাও তার বাচ্চাকে দুধ দেয়না,সেখানে ভারত তো ভারত ।জলে থেকে কুমীরের সাথে লড়াই চলেনা মাথায় রেখে শক্তিশালী কুটনৈতিক পলিসির মাধ্যমে আমাদের অংশ বুঝে নিতে হবে।খালি আশ্বাসে বিশ্বাস করা বোকামি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

