somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ সারাটি দিন জুড়ে ৪ বছর আগের স্মৃতিতে ঘুরে বেরিয়েছি

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওর সাথে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পরিচয়, দ্বিতীয় বর্ষে অ্যাফেয়ার। অ্যাফেয়ারের আগে খুব একটা কথা হত না। অ্যাফেয়ারের পরেও যে খুব হত, তাও বলছি না। তবে ভীষণ রকম একটা আবেগ কাজ করতো। ৭ মাস ছিল অ্যাফেয়ার। আমার লেখা কবিতাগুলো ওর মায়ের কাছে ধরা পড়ে। আমিও ধরা খাই। আমার সাথে ও যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয়। শত চেষ্টা করেও ওর রেসপন্স পাই নি আর। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরপরই আমি আরেকজনকে খুঁজে নেই। সাড়ে তিন বছর ধরে চলছে আমাদের এ অ্যাফেয়ার। ব্যক্তিগতভাবে আমি আসলেই সুখী। তবু আজ কেন যেন ৪ বছর আগের কথাগুলো মনে পড়ছিল।
গত মাসে সিলেটের রোজ ভিউ হোটেল রুমে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের একটা প্রজেক্টে কাজ করতে এসেছিলাম। তখন থেকেই কেমন যেন অন্যমনষ্ক হয়ে যেতাম। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকেছি। ভাবছিলাম, আমি সিলেটে। আর আমার একসময়ের একটি প্রেমের নায়িকা রয়েছে এ সিলেট মেডিকেলেই। সেকেন্ড প্রফ দিচ্ছে সে। আমি সত্যি সত্যি সিলেট মেডিকেলে যাই। আমার ওখানকার বন্ধুদের সাথে নিয়ে চেষ্টাও করি ওর সাথে যোগাযোগ করার জন্য। এবারও ও রেসপন্স করেনি। উল্টো যার মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলাম, ঐ মেয়েকে ও বলে দিয়েছে- কোনমতেই যাতে আমাকে ওর সেল নম্বর দেয়া না হয়।
ওর সাথে বুয়েটের আরবান.. ডিপার্টমেন্টের একজনের অ্যাফেয়ার। এটা যে আমি জানি- একথাও ও জানে। সো, আমার সাথে দেখা হলেই যে আমি পুরনো প্রেমের ধোঁয়া তুলে তাকে আবার ভাবিয়ে তুলতে পারি, এটা ও কিভাবে চিন্তা করলো জানি না। আমার বর্তমান ফিয়ন্সের সাথে একসাথেই পড়ত ও। আমি এসব ব্যাপারে খুব ফ্রি। আমি ওকে বলেছিলাম, তুমি পারলে ওর সেল নাম্বারটা অ্যারেঞ্জ করো। দু'দিন আগের ঘটনা। ও যেভাবেই হোক আমার পুরনো প্রেমিকার সেল নাম্বার অ্যারেঞ্জ করে দেয়। এখনও আমি কিন্তু ডিজিটগুলোর দিকে তাকাচ্ছি। কিন্তু ফোন করতে কেন যেন ইচ্ছে করছে না। আজ ভ্যালেন্টাইন্স ডে'তে খুব বেশি মনে পড়ছিল ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। কিছু প্রশ্নও উঁকি মারে। আমি ঐ সাত মাসে কখনোই ওর হাতটুকুও স্পর্শ করিনি। এ নিয়ে না-কি ওর অবজেকশন ছিল। ব্যাপারটা আসলে সে সময় আমার কাছে ফানি টাইপ ছিল। আজিব! প্রেম করলেই হাত ধরতে হবে- এটা তো কোন শর্ত হতে পারে না। এরকম একটা কিছু ছিল আমার মধ্যে। অবশ্য আমরা নটর ডেমের একটা গ্রুপ ছিলাম এরকমই। বলা যায়, ওটা ছিল আমাদের স্টাইল। প্রেম করবো, কিন্তু যতটুকু স্বচ্ছ থাকা যায়- অনেকটা এরকম।
যাই হোক। বুয়েটের রশীদ হলে আমার প্রায়ই থাকা হয়। সব দোস্তরা মিলে ওখানে কয়েক মাস পরপর আড্ডা চলে। হঠাৎ একদিন আমার এক দোস্ত আড্ডায় বলে উঠে, "আরে শালা, তোর এক্স জিএফ তো প্রায়ই আমাদের আরবান.. ডিপার্টমেন্টের ঐ পোলার লগে সিলেটে হোটেলে গিয়া উঠে। তুমি হালা কিছুই পারলা না! "
কথাটার সত্যতা আমাকে যাচাই করতে হয়নি। অন্য সোর্স থেকে নিশ্চিত হয়েছি। তাও আমি মনে করি, এটা ওর একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু খারাপ লাগে তখনই যখন ভাবি, আমি সবকিছুতেই স্বচ্ছ থাকতে চেয়েছিলাম। এথিক্সের ব্যাপার বাদই দিলাম। আমি সাধু পুরুষ নই। আমার সাথে ও অন্তত: শেয়ার করতে পারত। ঠিক আছে আমি একটু ড্যামকেয়ার টাইপ ছিলাম। কিন্তু কখনোই ওকে অবহেলা করিনি। রিলেশন ব্রেক আপ করবে ভালো কথা। তাই বলে হুট করে এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে আগে?
আমাকে ও এক্সকিউজ দিয়েছিল যে, ওর ফ্যামিলি এটা জানার পর স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে সমবয়সী কারও সাথে কোন সম্পর্ক হবে না। প্রেম টেম তো মানবেই না। তাহলে আমার প্রশ্ন, বুয়েটের এ ছেলেটিও তো আমাদের ব্যাচের। প্রেম করেই তো হয়ত বিয়ে করবে তুমি। তাহলে আমার প্রশ্নের উত্তর আমি জানতে চাইবোই!
বুয়েটের ছাত্র অবশ্যই মেধাবী- মানলাম। আমার ভালই লেগেছে শুনতে- ওদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কম্বিনেশন। আমার হবু বউও মেডিকেলে পড়ছে। আমিও ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করছি। আমরাও তাই। কিন্তু ওর সাথে আমি আজও দেখা করতে চাই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে। ওর ঝোঁক ছিল স্ট্যাটাস আর আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রতি। আমার অভিমত, সোসাইটিতে বর্তমানে আমার যে স্ট্যাটাস আছে তা দিয়ে ও ওর চৌদ্দ গুষ্ঠিকে হাইলাইট করতে পারত। হয়তো ধনী নই। তবু বাড়ি গাড়ি - সবই তো আছে আমার বাপের। সে হিসাব বাদই দিলাম। স্টুডেন্ট অবস্থায়ই আমার যে ইনকাম ছিল বা আছে, তার ১০ ভাগ দিলেও তো তার পুরো মাসের খরচ আমি একাই বহন করতে পারতাম।
আমার অপূর্ণতা কোথায় ছিল? কয়েক ঘন্টা আগেও ভ্যালেন্টাইন্স মিনিটগুলো ছিল। ভাবছিলাম এসব কথাই। ভাবছিলাম ওর সাথে দেখা হলেই ওকে জানাতাম, আমি আজও আগের মতই স্বচ্ছ। আমার বর্তমান প্রেম কিন্তু প্রায় ৪ বছর হতে চললো। এ ৪ বছরে আমাদের দু'জনার মধ্যে কখনোই কোন ভুল বোঝাবোঝি কিংবা অবিশ্বাস দানা বাধেঁনি। তোমার দুই কুলের ফ্যামিলিতে তুমি ছিলে সর্বোচ্চ শিক্ষিত। আর আমার সাথে এখন যে আছে, তার কথা নাই বা বললাম। তোমার মত লুকোচরিতে আমি বিশ্বাসী নই। আমাদের দু'জনার পরিবারই আমাদের অ্যাফেয়ারের কথা কম-বেশি জানে। হয়ত বিয়ে করছি দু'বছরের মধ্যেই। তোমার সেল নাম্বার নয়, তোমাকেই আমি চাই। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আমি তোমার মুখ থেকেই শুনবো। আজ অথবা কাল। জোর করে নয়, খুব স্বাভাবিকভাবেই । তবে কিছু সমীকরণ ফলো করে।
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×