
বাস্তবতা ১:
বাবা পরিবারের কর্তা, তার দায়িত্ব পরিবারের সকলকে পরিচালনা করা। ছেলে খারাপ হয়ে গেলে তাকে ভালো পথে আনার দয়িত্বও বাবার। সে সময় বাবারা ছেলেদের চাল চলন পরিবর্তনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। খারাপ ছেলেদের সাথে মিশতে বারন করে, যখন তখন বাইরে যেতে বাঁধা দেয় ইত্যাদি। কিন্তু অবশ্যই ছেলেকে ধংস্বের পথে ঠেলে দেয় না বা ধংস্ব করে দেয় না।
বাস্তবতা ২:
সরকার দেশের জনগনের জানমাল, ব্যাবসা-বানিজ্য, অর্থ-সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে আসে। সবাই পরিপূর্ন না, ভুল একটু আধটু হতেই পারে। জনগন ও এতটা খারাপ না যে তারা বোঝে না তার জন্য কে কতটুকু করছে। আর বাংলেদেশের জনগন তো আরও ভালো, তারা একটু তেই সন্তুষ্ট। বাঙালী যথেষ্ঠ আবেগ প্রবন জাতি (এজন্য বার বার বাবা আর স্বামী দেখে আমরা ভোট দেই)।
বাস্তবতা ৩:
আমাদের দেশে বেকারত্বের পরিমান অনেক বেশী, মাথা পিছু আয় অনেক কম। দিনে দিনে দ্রব্যমূল্য উর্ধগতি।আয় সীমিত।ব্যাংকের সুদের পরিমান ৭%।মূল্যস্ফীতি ৫.৪০% (আমার কাছে মনে হয় আরো বেশী, রিকশাভাড়া যেখানে ৫ টাকা ছিল সেটা এখন কমপক্ষে ১০ টাকা)।মানুষ এ পরিস্থিতিতে বাচাঁর জন্য বিভিন্ন ভাবে আয় করার চেষ্টা করে (ছোট খাটো ব্যাবসা করে/ব্যাংকে সন্ঞয় করে, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে)।ব্যাংকে সন্ঞয় করলে ১০০ টাকায় পাওয়া যায় ১০৭ টাকা, আর মুদ্রাস্ফীতির কারনে ১০০ টাকা ঐ সময় হয়ে যায় ১১০ টাকা (মুদ্রাস্ফীতি ১০% ধরে)।তাহলে বাংলাদেশের ব্যাংকে টাকা রাখলে ক্ষতি বৈ লাভ নেই (নিরাপত্তার ব্যপারকে বিবেচনা না করলে)।
বাস্তবতা ৪:
বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষনীয় আয়ের স্হান কয়েকদিন আগেও ছিল শেয়ার বাজার। যেখানে লাভের পরিমান গত কয়েক বছর ছিল অস্বাভাবিক।মানুষ কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে অল্প কয়েকদিনে। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়াগে শেয়ার মার্কেট ছিল আকাশচুম্বী।সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাগাম টেনে ধরার / মার্কেট সংশোধনের চেষ্টা করেছে (কমপক্ষে টেলিভিশনে অনেক কথা বলেছে)।কিন্তু তাতে বরং আরো ফুলেফেঁপে উঠেছে, কমে নি।
বাস্তবতা ৫:
সাধারন মানুষ জমিজমা, গৃহিনী তাদের সোনাদানা বেঁচে এই মার্কেটে বিনিয়োগ করেছে।কেউ কেউ অনেক লাভ করেছে তাতেও থামে নি, আর বিনিয়োগ করেছে।ধার করে বিনিয়োগ করা লোকের পরিমানও কম নাই।
বাস্তবতা ৬:
পুঁজিবাজার একদিন পরলে জনগনের আন্দলনে পরের দিন বেড়ে যায় (এটা তেল নুনের বাজার না য়ে যোগান বাড়ালে কমালে দাম বাড়বে বা কমবে)।
বাস্তবতা ৭:
বাংলাদেশে কলমানি রেট ২০০% ছিল কয়েকদিন আগে।এখন খুব একটা ভালো অবস্হা না।ব্যাংক গুলো টাকার সংকটে আছে।
বাস্তবতা ৮:
কতিপয় বিশেষ ব্যাক্তিত্ব বললেন, শেয়ার বাজার ফাটকা বিনিয়োগের জায়গা।
বাস্তবতা ৯:
সন্ঞয় পত্রের সুদের হার কমেছে (শেয়ার বাজার ফুলেফেঁপে ওঠার আগে)।
বাস্তবতা ১০:
ডিএসইতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ দরপতন (source: Click This Link)
বাস্তবতা ১১:
Stocks take deepest dip (source:http://www.thedailystar.net/latest/updates.php?pid=12)
বাস্তবতা ১২:
পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ দরপতন (source:http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=146488&hb=1)
প্রশ্ন:
* আমাদের দেশের বাবা (সরকার) কি সন্তানকে (জনগন) ঠিক পথে আনতে পারল? (ঠিক পথে নেওয়ার চেষ্টা কি করেছিল?)
*সরকার কি তার দায়িত্ব পালন করছে? (এটার উত্তর আমরা সবাই জানি।)
*আমরা যে অল্পতেই খুশি, সেই অল্প কি আমরা পেয়েছি? (না, কেউ দিতেও পারবে না)
*সন্ঞয় পত্র ও ব্যাংকের সুদের হার কমাতে কার লাভ হল? (বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করল, একদল চালাকি করে এই অর্থ তুলে নিলো সাধারন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে)
*ফাটকা বাজারে বিনিয়োগ করতে কে বা কি বাধ্য করল? (জনগন ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হলো সুদের হার কমে যাওয়ায়, ঝুকিপূর্ন বিনিয়োগে বাধ্য হল দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায়)
*শেয়ার বাজার কি আসলে ফাটকা বাজার?(শেয়ার বাজারের অর্থ ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়, যদি অতিমূল্যায়নের জন্য একে ফাটকা বাজার বলা হয়, তাহলে বাংলাদেশের চাল, ডালের বাজারও ফাটকা বাজার)
*কলমানি ২০০% কেন হল? (বাজারে টাকা নেই তাই)
*টাকা কই গেল?(ব্যাংকে টাকা না থাকলে টাকা দেশে আছে বলে মনে হয় না)
*টাকা দেশের বাইরে কে নিতে পারে?(আর যেই পারুক আমার আপনার মত সাধারন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, যারা ফাটকা বাজারে অসাধারন ব্যাবসা করল)
*কারা ব্যবসা করল?(যারা নীতি করল, লোন মার্জিন আজ কত হবে কাল কত হবে তারা)
*শেয়ার বাজার কি শুধু উঠবেই পরতে পারবে না?(অবশ্যই উঠতেও পারবে পরতেও পারবে কিন্তু তা স্বাভাবিক হতে হবে, কেউ আঙুল ফুঁলে কলাগাছও হতে পারবে না কেউ ফকিরও হবে না)
*তাহলে আসলে দোষটা কার? (বাঙালীর, বার বার অযোগ্য লোক কে ক্ষমতায় এনে)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


