আমার প্রিয় পোস্ট
- ভয়ঙ্কর এক সংখ্যার জন্ম, নিষ্ঠুর এক খুনের গল্প (শেষ পর্ব) - ম্যাভেরিক
- হাওয়াই জাহাজ - ফেরারী পাখি
- একটু আমায় মনে রাখিস - বরুণা
- কিছু প্রিয় ভিডিও , পুরো ডকুমেন্টারি আকারে দিতে পারলে ভালো লাগতো - রাগ ইমন
- গান: আমার নীলের জন্যে লেখা - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
- রূপসী বাংলা : জীবনানন্দ দাশ - একরামুল হক শামীম
- একটি গল্প - অপরিচিত_আবির
- অনুরোধের আসর - ফেরারী পাখি
- মেজর নাজমুল হক : অকৃতজ্ঞ জাতির এক অচ্ছ্যুৎ সেক্টর কমান্ডার - অমি রহমান পিয়াল
- ঈদের আধুনিক রোমান্টিক কমেডি সামাজিক অ্যাকশন ছবি- "চেপে যাও-The acid rain" - লিপিকার
- পেরুই যখন তোর বাড়ীটা - বরুণা
- জন্মযুদ্ধ '৭১ : আমাদের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছিলো তিব্বতীরাও! - অমি রহমান পিয়াল
- আমি আর আমার নামপ্রীতি
- ভাঙ্গা পেন্সিল
- ছবিওয়ালা - রাগ ইমন
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
ঘুম
১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০০
![]()
ক্লান্তির বুঝি শেষ নেই। চোখ বুজিয়েই ছাড়বে। ঘুমে শুধু যে চোখ বুজে আসছে তা না, ভাবনাগুলোও জড়িয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে সীলিং এর ওই পর্দাটা উড়ে উড়ে এসে চোখের সামনে রংধনু হয়ে যাচ্ছে। কি সব আবোল-তাবোল ভাবছি!! সীলিং এ পর্দা থাকবে কেন? দেয়ালের পর্দা সীলিং এ যাবে কি করে? আজকে রাতে অবশ্য খুব বাতাস দিচ্ছে। উড়ে উড়ে হয়তো সীলিং এ গিয়েছে...রংধনু মনে হয়েছে হয়তো ঘুমে আধ-বোজা চোখে, কি জানি? নাকি দেয়ালটা সীলিং হয়ে গেছে। শীলারও নাকি এমন হতো মাঝে মাঝে, আমাকে অন্য কোনো অচেনা মানুষ বলে মনে হতো। বুঝেই ওঠা হতো না...আমি অচেনা হতে যাবো কোন দুঃখে?
আধো ঘুমের ঘোরেই হাতটা একটু বাড়ালাম। চশমাটা খুঁজে যদি পাওয়া যায়...আচ্ছা, চশমা দিয়ে কি করব? শীলা সকালে দেখে হাসাহাসি করবে, স্বপ্ন দেখবো বলে চশমা পড়েছি নাকি! কি যেন শক্ত একটা হাতে ঠেকলো। চোখ বুঝি আজ পণ করেছে কিছুতেই খুলবে না... অন্ধের মতো হাতড়ে হাতড়ে শক্ত জিনিষটার অবয়ব বোঝার চেষ্টা করলাম...গোল ছোট্ট কিছু একটা হবে, ঔষধের কৌটা বলে মনে হচ্ছে। ইশ...পড়ে গেলো। ফ্লোরে অনেকদূর গড়িয়ে গেছে মনে হয়...আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। ঔষধের কৌটাই হবে। শীলাকে বলবো নাকি তুলে রাখতে? নাহ থাক, ঘুমাচ্ছে ঘুমাক। হাত বাড়িয়ে দিলাম ওর দিকে...একটা হাত নাকি সবসময় আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে ঘুমায় ও...রাতে যেন দুঃস্বপ্নে জেগে উঠেও ওর হাত ছোঁয়া যায়। এরকম একবার হয়েছিল, ঘুম ভেঙ্গে ভয়ে বিছানায় বসে কাঁপছি আর অন্ধের মতো হাতড়ে চশমা খুঁজে যাচ্ছি...পাচ্ছি না। এলোমেলো হাতড়ানোর সাথে এদিক ওদিক ছিটকে পড়ছে ঘড়ি, ঔষধের কৌটা আর ওর প্রিয় সুনীলের কবিতাটা।ও ঘুম ভেঙ্গে অবাক হয়ে গেলো যেন আমকে দেখে...হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,"কি হয়েছে? এরকম করছ কেন?" আমি নিমেষে শান্ত হয়ে গেলাম, ওর ছোঁয়ায় মনে পড়লো, যেন কেউ আছে আমার পাশে... এখনো তাই হাত বাড়িয়ে বুঝতে চেষ্টা করছি, কেউ কি এখনো আছে? সেদিন আমার ভয়ার্ত চেহারা দেখে ও বলেছিল সবসময় আমার দিকে হাত বাড়িয়ে ঘুমাবে , যেন দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গেই ওর হাতের ছোঁয়া পাই...আমার বিশ্বাস হতে চায় না কেন যেন। প্রতিবারই মনে হয় এবার বুঝি পাবো না... যদিও বারবার ঘুম ভেঙ্গে ওর হাতটা ঠিকই বাড়ানো পেয়েছি।
আজ ঘুমটা খুব জেকে বসেছে, আমারো কেন যেন বিদ্রোহ করতে ইচ্ছে হচ্ছে...চোখ বুজে এসেছে, তবু ঘুমাবো না--এ এক দৃঢ় পণ। কি জানি...হয়তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নেই এ পণ করছি। ঘুম জিনিসটা আমার জন্যে কেমন এক অভিশাপের মতো...দুঃস্বপ্ন বুঝি আমাকে তাড়া করতেই অপেক্ষায় থাকে, প্রতি রাতে...প্রায় প্রতি রাতে। এই মাত্র মনে হলো এক গাদা ঘুমের ঔষধ গিলে ফেলেছি...আর নাহয়তো এতো ঘুম পাচ্ছে কেন? এটাও কি স্বপ্ন...নাকি বাস্তব? হাত বাড়িয়ে শীলাকে আর খুঁজতে ইচ্ছে হচ্ছে না। হঠাৎ মনে হলো যেন শীলা পাশে নেই। তাতে কি...চামড়ায় মোড়ানো সেই ডায়রী তো আছে। আমার স্বপ্ন ডায়রী...ঘুম ঘুম ঘোরে আমি লেখে যাবো আজকের সব কথা...হাত বাড়িয়ে অন্ধের মতো খুঁজে চলেছি, আমার ডায়রীটা কোথায়? এই তো...মাথার পাশেই ছিল...লিখে চলছি...আমার হাত অবশ হয়ে আসছে। ভাবতে চেষ্টা করছি...স্বপ্ন দেখছি না তো? আসলেই লেখছি তো? ঘুমের ঔষধগুলো যদি খেয়েই ফেলি তাহলে হয়তো শীলাকে সবকিছু জানাবার এই শেষ সময়.....
রোদটা পুরো তীরের মতো এসে চোখে লাগছে...পর্দাটা যে কে সরালো... ভেবেই পাচ্ছে না শীলা। মনে হলো যেন কাঁচা ঘুম থেকে উঠলো। রাতে অবশ্য ঘুম ভালোই হয়েছ। হাতের মধ্যে অয়নের হাত...নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্ন দেখেছে। ওকে ভালো কোনো ডাক্তার দেখানো দরকার। প্রতিরাতে দুঃস্বপ্ন স্বাভাবিক মানুষ দেখে?
কি ব্যাপার? ওর হাত এতো ঠান্ডা কেন? ঝট করে কি মনে হতে বেডসাইড টেবলের দিকে নজর দিল...ঘুমের ঔষধের কৌটাটা নেই! ১০-১২টা বড়ি কাল রাতেও ছিল। এলোমেলো পড়ে থাকা দেহটার দিকে অবাক নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো শীলা...ও যা ভাবছে তা সত্যি না তো? অয়নের ডায়রীর খোলা পাতাগুলো ফ্যানের বাতাসে উড়ছে...বালিশের ওপর পড়ে থাকা পাতাটার লেখা এই দূর থেকেও পড়তে পারছে শীলা
খুব ভালোবাসি--জানো শীলা...খুব ভালোবাসি... ...
ঝাপসা চোখে তাকিয়ে রইলো পাতাটার দিকে।আর দুর্বল হাতের ধাক্কায় যেন জাগিয়ে তুলতে চাইলো অয়নকে...ফিসফিস করে ডাকতে লাগলো, "...অয়ন,অয়ন... ...এই অয়ন।"
ওর চোখটা কি একটু কেঁপে উঠলো?
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্পকথা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
ঘুম পাইয়া গেল...কি লেখলাম??!!
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
লেখাটা বেশ ভালো লেগেছে ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন:
খুশি যে কই রাখি!!
...অসমাপ্ত বলেছেন:
"ওর চোখটা কি একটু কেঁপে উঠলো? "...
পরের অংশটুকু আর জানতে চাইনা। ....মন খারাপ করে দিলেন যে।
লেখক বলেছেন: পরের অংশটুকু নিজের মতো কল্পনা করে নেন...চাইলে বাচিয়ে তুলেন...বেচারা হয়তো স্বপ্নই দেখছিল!
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: দুপুর বেলা ঘুমাইবার চান!! আপনি তো মানুষ সুবিধার না...রাতে কি করেন?
রাস্তার ছেলে বলেছেন:
অয়ন কে জাগান ব্রাদার! আলতু ফালতু হিন্দী সিরিয়ালের কত কত বেকুব মরে ফিরে আসে আর অসাধারণ একটা গল্পের অসাধারণ একজন অয়নকে ফেরানো যাবে না? কথা হল একটা?
লেখক বলেছেন: জাগানোর স্বাধীনতা পাঠককে দিলাম![]()
লেখক বলেছেন: ঘুমমমম...![]()
অপ্সরা বলেছেন:
শেষটাই এটা কি করলে? কি এত ছিলো অয়নের দুঃখ?
লেখক বলেছেন: হ্যালুসিনেশন...ঘুমের ঘোর!
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
ঘুমের অনুভূতি ভালো বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু এরকম হয়ে গেলো কেন শেষে?
লেখক বলেছেন: জানি না...আমিও ঘুমায় ঘুমায় লেখছিলাম![]()
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















