somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুম

১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক্লান্তির বুঝি শেষ নেই। চোখ বুজিয়েই ছাড়বে। ঘুমে শুধু যে চোখ বুজে আসছে তা না, ভাবনাগুলোও জড়িয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে সীলিং এর ওই পর্দাটা উড়ে উড়ে এসে চোখের সামনে রংধনু হয়ে যাচ্ছে। কি সব আবোল-তাবোল ভাবছি!! সীলিং এ পর্দা থাকবে কেন? দেয়ালের পর্দা সীলিং এ যাবে কি করে? আজকে রাতে অবশ্য খুব বাতাস দিচ্ছে। উড়ে উড়ে হয়তো সীলিং এ গিয়েছে...রংধনু মনে হয়েছে হয়তো ঘুমে আধ-বোজা চোখে, কি জানি? নাকি দেয়ালটা সীলিং হয়ে গেছে। শীলারও নাকি এমন হতো মাঝে মাঝে, আমাকে অন্য কোনো অচেনা মানুষ বলে মনে হতো। বুঝেই ওঠা হতো না...আমি অচেনা হতে যাবো কোন দুঃখে?


আধো ঘুমের ঘোরেই হাতটা একটু বাড়ালাম। চশমাটা খুঁজে যদি পাওয়া যায়...আচ্ছা, চশমা দিয়ে কি করব? শীলা সকালে দেখে হাসাহাসি করবে, স্বপ্ন দেখবো বলে চশমা পড়েছি নাকি! কি যেন শক্ত একটা হাতে ঠেকলো। চোখ বুঝি আজ পণ করেছে কিছুতেই খুলবে না... অন্ধের মতো হাতড়ে হাতড়ে শক্ত জিনিষটার অবয়ব বোঝার চেষ্টা করলাম...গোল ছোট্ট কিছু একটা হবে, ঔষধের কৌটা বলে মনে হচ্ছে। ইশ...পড়ে গেলো। ফ্লোরে অনেকদূর গড়িয়ে গেছে মনে হয়...আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। ঔষধের কৌটাই হবে। শীলাকে বলবো নাকি তুলে রাখতে? নাহ থাক, ঘুমাচ্ছে ঘুমাক। হাত বাড়িয়ে দিলাম ওর দিকে...একটা হাত নাকি সবসময় আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে ঘুমায় ও...রাতে যেন দুঃস্বপ্নে জেগে উঠেও ওর হাত ছোঁয়া যায়। এরকম একবার হয়েছিল, ঘুম ভেঙ্গে ভয়ে বিছানায় বসে কাঁপছি আর অন্ধের মতো হাতড়ে চশমা খুঁজে যাচ্ছি...পাচ্ছি না। এলোমেলো হাতড়ানোর সাথে এদিক ওদিক ছিটকে পড়ছে ঘড়ি, ঔষধের কৌটা আর ওর প্রিয় সুনীলের কবিতাটা।ও ঘুম ভেঙ্গে অবাক হয়ে গেলো যেন আমকে দেখে...হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,"কি হয়েছে? এরকম করছ কেন?" আমি নিমেষে শান্ত হয়ে গেলাম, ওর ছোঁয়ায় মনে পড়লো, যেন কেউ আছে আমার পাশে... এখনো তাই হাত বাড়িয়ে বুঝতে চেষ্টা করছি, কেউ কি এখনো আছে? সেদিন আমার ভয়ার্ত চেহারা দেখে ও বলেছিল সবসময় আমার দিকে হাত বাড়িয়ে ঘুমাবে , যেন দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গেই ওর হাতের ছোঁয়া পাই...আমার বিশ্বাস হতে চায় না কেন যেন। প্রতিবারই মনে হয় এবার বুঝি পাবো না... যদিও বারবার ঘুম ভেঙ্গে ওর হাতটা ঠিকই বাড়ানো পেয়েছি।

আজ ঘুমটা খুব জেকে বসেছে, আমারো কেন যেন বিদ্রোহ করতে ইচ্ছে হচ্ছে...চোখ বুজে এসেছে, তবু ঘুমাবো না--এ এক দৃঢ় পণ। কি জানি...হয়তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নেই এ পণ করছি। ঘুম জিনিসটা আমার জন্যে কেমন এক অভিশাপের মতো...দুঃস্বপ্ন বুঝি আমাকে তাড়া করতেই অপেক্ষায় থাকে, প্রতি রাতে...প্রায় প্রতি রাতে। এই মাত্র মনে হলো এক গাদা ঘুমের ঔষধ গিলে ফেলেছি...আর নাহয়তো এতো ঘুম পাচ্ছে কেন? এটাও কি স্বপ্ন...নাকি বাস্তব? হাত বাড়িয়ে শীলাকে আর খুঁজতে ইচ্ছে হচ্ছে না। হঠাৎ মনে হলো যেন শীলা পাশে নেই। তাতে কি...চামড়ায় মোড়ানো সেই ডায়রী তো আছে। আমার স্বপ্ন ডায়রী...ঘুম ঘুম ঘোরে আমি লেখে যাবো আজকের সব কথা...হাত বাড়িয়ে অন্ধের মতো খুঁজে চলেছি, আমার ডায়রীটা কোথায়? এই তো...মাথার পাশেই ছিল...লিখে চলছি...আমার হাত অবশ হয়ে আসছে। ভাবতে চেষ্টা করছি...স্বপ্ন দেখছি না তো? আসলেই লেখছি তো? ঘুমের ঔষধগুলো যদি খেয়েই ফেলি তাহলে হয়তো শীলাকে সবকিছু জানাবার এই শেষ সময়.....






রোদটা পুরো তীরের মতো এসে চোখে লাগছে...পর্দাটা যে কে সরালো... ভেবেই পাচ্ছে না শীলা। মনে হলো যেন কাঁচা ঘুম থেকে উঠলো। রাতে অবশ্য ঘুম ভালোই হয়েছ। হাতের মধ্যে অয়নের হাত...নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্ন দেখেছে। ওকে ভালো কোনো ডাক্তার দেখানো দরকার। প্রতিরাতে দুঃস্বপ্ন স্বাভাবিক মানুষ দেখে?
কি ব্যাপার? ওর হাত এতো ঠান্ডা কেন? ঝট করে কি মনে হতে বেডসাইড টেবলের দিকে নজর দিল...ঘুমের ঔষধের কৌটাটা নেই! ১০-১২টা বড়ি কাল রাতেও ছিল। এলোমেলো পড়ে থাকা দেহটার দিকে অবাক নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো শীলা...ও যা ভাবছে তা সত্যি না তো? অয়নের ডায়রীর খোলা পাতাগুলো ফ্যানের বাতাসে উড়ছে...বালিশের ওপর পড়ে থাকা পাতাটার লেখা এই দূর থেকেও পড়তে পারছে শীলা

খুব ভালোবাসি--জানো শীলা...খুব ভালোবাসি... ...

ঝাপসা চোখে তাকিয়ে রইলো পাতাটার দিকে।আর দুর্বল হাতের ধাক্কায় যেন জাগিয়ে তুলতে চাইলো অয়নকে...ফিসফিস করে ডাকতে লাগলো, "...অয়ন,অয়ন... ...এই অয়ন।"

ওর চোখটা কি একটু কেঁপে উঠলো?

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×