চোখ দুটোয় তার অদ্ভূত ঘোর লেগেছিল...সত্যি ঘোর? নাকি বিস্ময়? ঠিক ঠাহর করে উঠতে পারি নি হয়তো। কিন্তু বিস্ময় হবে কেন? মানুষ আজকাল আর অবাক হচ্ছে কই? খুব করে স্মৃতি হাতড়াচ্ছি...সেই শেষ কবে আমি অবাক হয়ে ছিলাম? নাড়া ক্ষেতের এলোমেলো মাটির ঢিবির মাঝে গেড়ে বসা স্ট্যাম্পে আমার দীর্ঘদিনের পাকা হাতের সই যখন লাগলো না...রবিউলটা যখন শেষ রানটি নিয়ে আমাদের হারিয়ে দিলো, সেদিন বুঝি আমি শেষ অবাক হয়েছিলাম। বহুদিন পরে আমার ভবঘুরে পথিক বন্ধুটা বলেছিল, এখনো মানুষের নির্বুদ্ধিতায় আমরা অবাক হই। কথাটা খুব মনে ধরেছিল... কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি কই? মানুষের নির্বুদ্ধিতাও আজ আর অবাক করে না।
তাহলে হয়তো তার চোখে সেটা ঘোর-ই হবে। আমিও কি হতবিহ্বল ছিলাম না? এলোমেলো হয়ে যাওয়া চুলে তখন আর ও আঙ্গুল বুলাচ্ছিল না...খুব ইচ্ছে হলো মুখের ওপর থেকে হালকা আচড়ে সরিয়ে দেই চুলগুলো...সাহসে কুলালো না। নির্জন প্রায় রাস্তায় তখনো শীতের শেষ হয়নি...দেয়ালে ঝুলানো ক্যালেন্ডারের পাতা কি আর বসন্তের ডাক দিতে পারে? ঝরে পড়া পাতাগুলো কি ক্যলেন্ডারের ভাষা বুঝে? উত্তুরে হাওয়াটা যখন সব পাতা উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, আমি তখনো হারিয়েই ছিলাম... কতোবার আমি ওর চোখে হারিয়েছি, ও কি জানতো? যখুনি দেখতাম, কি এক অদ্ভূত ঘোরে আমি সব গুলিয়ে ফেলতাম...সেই ওর চোখে আজ ঘোর...এখনো কি আমি অবাক হবো না?
ক্যাম্পাসে কখনো কারো চোখে চোখে তাকানো হয়নি...কেউ চোখ তুলে তাকালেই না দেখবো। শুধু মাঝে মাঝে ও তাকাতো...কিছু্টা বিস্ময়-মাখানো চোখে কিছু প্রশ্ন জমে থাকতো। সব প্রশ্নের উত্তর বোকা মেয়েটা জানতো না, তাই তো অবাক হতো। আর আমি সবজান্তা হয়ে গিয়েছিলাম ততোদিনে...নাহ, ডি মোভার্সের ইকুয়েশন জানতাম না। সে ইকুয়েশনে কিইবা আসে যায়? তবে আমি পিস্তল আর রিভলবারের ফারাকটা জানতাম...পিস্তলের এক রাউন্ডে কয়টা গুলি তাও জানতাম...সব জানতাম। আমার অবাক হবার বাকি ছিল না যে কিছুই...
শুধু জানতাম না গুলিটা এমন করে পিছলে যাবে...কৃষ্ণচূড়া গাছটা তখনো লালে লাল হয় নি, শুধু ওর পেটের কাছটায় সাদা জামাটা কৃষ্ণচূড়া হয়ে গেলো, আর ওর বিস্ময় নাকি ঘোর মাখানো চোখ দুটো আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়লো। সেই কবে নাড়া ক্ষেতের মাঝে গেড়ে বসা স্ট্যাম্পে ছুড়ে মারা বলটা লাগেনি বলে অবাক হয়েছিলাম... ...আজ আবার অবাক হলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


