somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... যে লেখাটি লেখা হলো না! আমি কি অসাধারণ হতে চেয়েছিলাম?
হুহ, কে না চায়!
আমি হয়তো একটু বেশিই চাই। নার্সিসিজম আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এ পৃথিবীর সব আয়োজন আমাকে ঘিরে, এমনটা ভাবতে ভালোই লাগে। তবু আমার চারপাশে শত আয়োজন, আমাকে পাশ কাটিয়ে যায়। এক পলকের জন্যও পাত্তা দেয় না। এক একবার ভাবি, এ আমার খুব সাধারণ জন্মের দোষেই হয়তো! পরমুহূর্তেই দ্বিগুণ অবহেলায় আমি সব অবহেলা ভুলে যাই। আর প্রতি সকালে আমার বিছানায় ঘুম ভেঙ্গে আড়মোড়া দেয় আরো নার্সিসিস্ট এক আমি ... চোখ মেলেই সে ভাবে, এ সকালটা নিশ্চয়ই আমার জন্য! তাই তো খুব সাধারণ এ জন্ম নিয়ে আমার যতোটুকু খেদ, এ জনমটাকে ঘিরে ভালোবাসা তার চাইতে বেশি।

কি লিখছি এসব আমি! ধুর! এ আমার লেখার পাতা, আমার গড়া পৃথিবী; এখানে আমিই ঈশ্বর। ঈশ্বর কি এতো নীচ হতে পারে? একটানে কাগজটা ছিড়ে দলা পাকালাম, তারপর ছুড়ে ফেললাম ওয়েস্ট বাস্কেটটায়। নিশানা ঠিক ছিল, তবু কাগজের গোল্লাটা মাটিতে লুটোপুটি খেতে লাগলো। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম ওয়েস্ট বাস্কেটটার দিকে। দলা পাকানো কাগজের গোল্লায় উপচে পড়ছে সে ঝুড়ি। সাদা সাদা কাগজ, তাতে অগণিত হিজিবিজি অক্ষর ছুটে বেড়াচ্ছে।





স্কুলে আমরা তখন শেষ ক্লাশের ছাত্র। চারটা সারি; সারিতে সারিতে সেদিন গেরিলা যুদ্ধ চলছিল। সবার বেঞ্চের ডেস্ক ভরা কাগজের গোলা। স্যার আমাদের দিকে পিছু ফেরা মাত্র বৃষ্টির মতো গোলা পড়তে শুরু করে। মাথা নীচু করে, শরীর আঁকিয়ে-বাঁকিয়ে গা-বাঁচানোর চেষ্টাও চলছে সমান তালে। স্যার ঘুরে দাঁড়ালেই রণাঙ্গন শান্ত, পিনপতন নীরবতা। একঘেয়ে বাংলা ক্লাশ বেশ পার হয়ে যাচ্ছিল। ভজঘট লাগালো এক উজবুকের ছোড়া দিকভ্রষ্ট গোলা, একটুর জন্য স্যারকে মিস করলো। তবে পড়ে রইলো স্যারের ওয়াকওয়েতে। তুলে নেবার সময় পেল না কেউ। তার আগেই ঘুরে দাঁড়ালো স্যার। তারপর আর কি! চিরুণি অভিযান শুরু হলো , বেরিয়ে আসলো শত শত গোলা। কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় স্যার সংবিত ফিরে পেতে দেরি করলেন না। ইস্পিশাল বেত আনতে রওনা দিলেন নিচতলায়। ফিরে আসতে আসতে যুদ্ধের সহযোদ্ধা কাম ক্লাশ-ক্যাপ্টেন অর্ধেক গোলা হাপিশ করে দিল।তারপরেও শেষ রক্ষা হলো না। যতো গোলা রয়ে গেল, তা সবার পশ্চাদ্দেশ লাল করবার জন্য যথেষ্ঠ ছিল। পরদিন ক্লাশ-টিচারকে আমাদের কৃতকর্ম দেখানোর জন্য টেবিলে সাজানো হল গোলার বহর। অর্ধযুগ পরে আমার ওয়েস্টবাস্কেটটা ঠিক সে টেবিলের মতো মনে হতে লাগলো।

স্মৃতি নিয়ে খুব লেখতে ইচ্ছে করছে। পারছি না। মাথার ভেতর গেঁথে আছে এক আপ্ত বাক্য-- স্মৃতির আর্গল সবার সামনে খুলে দিতে নেই। নিয়ম ভাঙতে খুব যে ইচ্ছে করে!






স্মৃতি বাদ দেই। গল্প লেখবো? মাঝে মাঝে গল্প লেখতেও ইচ্ছে করে। সেই বোকা ছেলেটার গল্প। যে ছেলেটা মায়ের উপর অভিমান করে ঘর ছেড়েছিল; আর ফেরেনি। কোথায় যেন হারিয়ে গেল! একদিন নিশ্চয়ই তার খোকনের অভিমান ভাংবে -- মা'টা অপেক্ষায় থাকতো, অনেক আশা নিয়ে। অপেক্ষায় থাকতো গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত, কড়কড়ে ঠান্ডা হবার অপেক্ষা। খোকন ফেরেনি। মায়ের চোখের পানিও ফুরিয়ে এল। খোকন ফিরে এল না। তবু অপেক্ষায় থাকতো মা, কোন অলৌকিকের আশায়।

আমাদের খুব চেনা এ পৃথিবীতে অলৌকিক বলে কিছু নেই। আমি সে নিয়ম পাল্টে দিতে চাইলাম। আমি ঈশ্বর হতে চাইলাম। বোকা ছেলেটার অভিমান ভাংলো, মাকে তার খুব বেশি মনে পড়ছিল। তাকে তার মা'র কাছে ফিরিয়ে দিতে গেলাম। পারলাম না! ঈশ্বর লেখবো বলে হাত দিয়েছেন, একটা ভাঙ্গা পেন্সিলও দিয়েছেন; শুধু ঈশ্বর হবার ক্ষমতা দেননি। ওয়েস্ট বাস্কেটটা আমার দিকে বিদ্রুপে হাসতে থাকে। ঈশ্বর হবার বড় সাধ ছিল...

তারপর সাত-পাঁচ ভেবে এ লেখাটাও একটানে ছিড়ে দলা পাকালাম। ছুড়ে মারলাম ওয়েস্ট বাস্কেটে। অগ্রজদের মতো এ গোলাটাও মাটিতে লুটোপুটি খেতে লাগলো, যদিও নিশানা ভুল ছিল না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29027595 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29027595 2009-10-17 23:50:58
ব্যাঘ্র মামার আস্তানায়ঃ এবার সবিস্তারে

সুন্দরবন নিয়ে ফোটুক পোস্ট

১.

সে রাতটা ঘুটঘুটে রাত হতে পারতো, কালি-গোলা অন্ধকার বলা যেত। কিন্তু নাহ... সে রাত ছিল চাঁদনী রাত, চাঁদটাও বেশ বড়। একদিন পরই পূর্ণিমা। তবু বনের সরু খালটার উপর গাছের ডালপালা এসে এক আধো আলো-ছায়ার আবরণ তৈরি করেছিল। গাছের সে সবুজ তোরণের নিচে আমরা কজনা ভাসছি। ট্রলারের ইঞ্জিন অনেক আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খালের মাঝে নোংর ফেলেছে মাঝি। নোঙরের দড়ির ঢিলটুকুর সুযোগ নিয়ে ঢেউয়ের তালে নৌকা মাঝে মাঝে তীরের কাছে চলে যাচ্ছে। আর শিউরে উঠছে নৌকার অভিযাত্রীরা। এই কিছুক্ষণ আগেও বনে অনেকরকম নিশাচর পশু-পাখির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। হঠাৎ সে আওয়াজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছটায় বন নীরব। বনরক্ষী দুজন বন্দুক হাতে সতর্ক। নীরবতাই বলছে, ব্যাঘ্র মামা এসেছে। ডানদিকের বড় একটা ঝোপ হঠাৎ নড়ে উঠলো। সাথে সাথে বনরক্ষী সেদিকে বন্দুক তাক করলো। আমরা আতংকে সিঁটিয়ে উঠলাম। তবে কি ব্যাঘ্র মামা এল?






২.

ঢাকা থেকে সুন্দরবনের যাত্রা এক বিশাল যাত্রা। আমাদের লক্ষ্যস্থল ছিল কটকা। সন্ধ্যা ৭টার চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে আমাদের নিয়ে যাবে খুলনা। তবে কথায় আছে না, ছটার ট্রেন নটায় ছাড়ে; আমাদের সাতটার ট্রেন সময়ানুবর্তিতার এক উজ্জ্বল(!) দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নটাতেই এসে পড়লো। তারপর ১০ ঘন্টার যাত্রা শেষে আমরা পৌছলাম খুলনা। আমাদের অভিযাত্রী দলটা ছিল তের জনের। খুলনাতে অপেক্ষায় আছে ১৪ জনের দলের বাকি একজন। ট্রেনে দেখা হলো বুয়েটেরই অনুজ ৬ জনের সাথে; নিরুদ্দেশ ভ্রমণে বের হয়েছিল। সঙ্গী করে নিলাম তাদেরও। খুলনার বন্ধু জ্যোতি রেলস্টেশন থেকে আমাদের নিয়ে গেল রূপসা ঘাট। সেখান থেকে ট্যুর কোম্পানির ট্রলারে করে সকাল ৯টার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম লঞ্চে।


রূপসা ঘাটে অপেক্ষায় আমরা


লঞ্চ




৩.

ট্যুর কোম্পানি সম্পর্কে এইবেলা বলে রাখা ভাল। এই ট্যুর কোম্পানির আর যাই হোক না কেন, খাওয়াটা চমৎকার। আমি তেমন ভোজনরসিক না হয়েও বুঝতে পেরেছি, ৩ দিনের এই ট্যুরে যে খাবার তারা দিয়েছে, নিশ্চিতভাবেই ঢাকায় ফিরে সাদামাটা খাবার অনেকদিন মুখে রুচবে না। কি না ছিল!? প্রতিদিন দুই-তিন পদের স্থানীয় মাছ ভাজা, কয়েক পদের মাংস। মাঝে মাঝে চিংড়ি ভর্তা, কাকঁড়া ঝাল ফ্রাই, ভেজিটেবল শ্রিম্প স্যুপ, চিকেন রোস্ট, চিকন চালের ভাত, পোলাও...আহ বলতে বলতেই জিভে পানি চলে আসলো। এক দিন রাতে ছিল বার্বিকিউ। চিকেন গ্রিল আর শিক কাবাবের সাথে লুচি। রান্নার মান অতি চমৎকার। লঞ্চে অনেক পরিবারের অনেক মানুষ ছিল, কিন্তু কেউ রান্না খারাপ বলতে পারেনি। বিকেলে মাঝে মাঝে ছিল চটপটি, ছোলা মুড়ি, জাম্বুরা ভর্তা, আপেল, নাশপাতি। আর চা-কফি তো অফুরন্ত।


বার্বিকিউ চলছে




৪.

প্রথম দিনের কথা বলি। খুলনার রূপসা ঘাট থেকে কটকা যেতে লঞ্চে সময় লেগেছিল প্রায় ১২ ঘন্টা। সুতরাং সকাল নটায় ছাড়া লঞ্চ কটকায় নোঙর ফেললো রাত নটার কিছু আগে পরে। সরু এক খালের মাঝে নোঙর ফেলেছিল আমাদের লঞ্চ। আমাদের স্থান সংকুলান হয়েছিল লঞ্চের নিচের ডেকে। রুমগুলো ছিল ছোট, কিছুটা বদ্ধ। বাজেটের সাথে তাল মিলাতেই এই রুম নেয়া। জানালা খুললেই প্রায় পানির লেভেল। আমরা কেউ কেউ অতি-কল্পনা করে বলে ফেললাম, কুমির যদি জানালা দিয়ে লাফ দেয়?! জানাল খুলে ঘুমানোর সাহস বাকিদের কারো হলো না। রাতে কিছুক্ষণ জেনারেটর ছেড়ে পরে বন্ধ করে দেয়া হলো। নীচতলার বদ্ধ রুমে আমাদের কারো ঘুম আসলো না। ছাদে এসে ঘুমালাম। বনের মাঝে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার, চাঁদ মেঘের আড়ালে। এদিক সেদিক জোনাই পোকার ছড়াছড়ি। মাঝে মাঝে ডেকে উঠছে নাম না জানা পাখি। সে রাতে ধুন্ধুমার ঘুম দিলাম।






৫.

পরদিন ভোরে উঠেই আমরা ঘুরে বেড়ালাম আশেপাশের খালগুলো। ক্যামেরা বন্দী করলাম কয়েক পদের মাছরাঙ্গা, বক-সারস সহ নানা পাখি। দেখলাম কেওড়া ফল, সুন্দরী লেবু, গোলফল(গোলপাতার গোলফল) আর নানা রকম গাছ। নৌকার সামনের দিকে বসে ছিলাম আমি। তো হঠাৎ তীরের দিকে নজর পড়তেই চোখ পড়লো একটা কুমীরের দিকে। বেশি বড় হবে না, প্রায় চার-পাঁচ হাত লম্বা। আমি কুমীর কুমীর বলে চিৎকার করতেই পানিতে ঝাঁপ দিল। নৌকার বাকিরা ভাবলো মিথ্যেবাদী রাখাল বালকের "বাঘ বাঘ" ডাক। কেউ বিশ্বাস করলো না/<img src=" style="border:0;" />। ক্যামেরায় বন্দি করার সুযোগও পাইনি, সুতরাং সাক্ষী মানতে হলো আমার পাশের দুতিনজনকে, যারা আমার সাথেই সে কুমীর দেখতে পেয়েছিল।

নৌকা তারপর চললো আরেকদিকে। এখানেই আমরা প্রথম হরিণ দেখলাম। নিরপদ দূরত্বে তারা দল বেঁধে হাঁটছিল। আমাদের প্রায় পুরোটা দল হাঁটু পানিতে নামলো সেসময়। পায়ের নিচে কাদা, মধ্যে মধ্যে কাটার মতো শ্বাসমূল। তারই মাঝে হেঁটে হেঁটে তারা হরিণের কাছে পৌছতে চাইলো। হরিণের দল ততোক্ষণে আরো দূরে। কিছুক্ষণ ফটোসেশন চললো। তারপর আমরা লঞ্চে ফিরে এলাম। সকালের নাশতা শেষে বের হলাম আবার।






৬.

এবারের প্লান ছিল বনের ভেতর দিয়ে আড়াই কিলোমিটারের মতো হেঁটে সমুদ্রতীরে যাওয়া। বিশাল এক লাইন করে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম। আগে পরে ছিল বনরক্ষীরা। ভয়ের কারণ ছিল, জায়গাটার নাম যে টাইগার পয়েন্ট! যাই হোক, দিনের বেলা শুধু হরিণই দেখা গেল। এতোই হরিণ দেখা গেল যে শেষে অনেকে হরিন দেখতে দেখতেই বিরক্ত হয়ে পড়লো। আমাদের চলার পথে প্রথম প্রথম আমরা হরিণের খুরের ছাপ আর লাদি দেখেই যদিও উত্তেজিত হয়েপড়েছিলাম। পরে অবশ্য একটু পরপর দেখা মিললো হরিণের পালের। আমাদেরই চলার পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সেসময় আমিও বেশ কাছে থেকে কয়েকটা ছবি তুললাম।



বনের দিকে যাচ্ছি


বনের ভেতরে আমাদের দলের অগ্রবর্তীরা দেখতে পেল গুইসাপের প্রজননকর্ম। অনেকেই ক্যামেরায় সে জিনিস ভিডিও ও করে রাখলো<img src=" style="border:0;" />। বনের ভেতর অনেকটা পথ কাদাপানি ডিঙ্গিয়ে তারপর আমরা গেলাম সমুদ্র সৈকতে।

সাগর বেলাভূমি

সেখানে সাগর অবগাহনে পার হলো দুপুরটা। তারপর ফেরার পালা। ফেরার পথে আমরা বন-মোরগের দেখা পেলাম। হতাশ হয়েই বলতে হচ্ছে, সাধারণ মোরগের সাথে খুব সামান্যই তার পার্থক্য। উৎসাহী কেউ কেউ ওয়াচ টাওয়ারে উঠলো। কিন্তু হরিণ আর সবুজ ছাড়া নতুন কিছুর দেখা পেল না। ফিরে এলাম আমরা লঞ্চে।

অবশ্য লঞ্চে ফিরেই আমরা আবার বের হলাম। সমুদ্রের বালি ধুতে কাছেই ফরেস্ট অফিসের মিঠাপানির পুকুরে গেলাম। এখানে একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম। সমুদ্রে পানি নোনতা ছিল না, মিষ্টি পানি ছিল। আর পুকুরে এসে পেলাম নোনতা পানি! কারণটা অবশ্য বোধগম্য-- বৃষ্টির কারণে সমুদ্রে পানি মিষ্টি। কিন্তু পুকুরে জমানো পানিটা জোয়ারে আসা পানি, নোনতা তো হবেই। যাই হোক, সে পুকুরে কিছুক্ষণ দাপাদাপি করে আমরা আবারো লঞ্চে ফিরলাম।






৭.

বিকালটা বিশ্রামের সময় ছিল। আমাদের কেউ কেউ রুমে ঘুমিয়ে কাটালাম। কেউ ছাদে তাশের প্যাকেট নিয়ে বসলাম। মেইন ডাইনিংটাকে বানিয়ে ফেললাম ক্যাসিনো টেবিল। কেউবা দাবায় উৎসাহী হলো। বাকিরা লঞ্চের সামনে বসে প্রকৃতি উপভোগ করতে লাগলো। আমাদের লঞ্চ থেকেই তীরে হরিণের পাল, বুনো শুয়োর দেখা গেল। কয়েকটা বানরও দেখা গেল পানিতে গোসল করতে। আমরা চারিদিক দেখতে দেখতে এমনি করে বিকালটুকু পার করে দিলাম।

সূর্যাস্ত দেখবো বলে শেষ বিকেলে আবার বের হলাম। আরেকটা সাগর বেলাভূমির দিকে এবার রওনা দিলাম। বন বিভাগ থেকে বিশাল জলাভূমির উপরে সেতু তৈরি করে দেয়া। মধ্যে মধ্যে তার সিডরের ছোবলের দাগ। অনেকটা পথই তাই ক্যাটওয়াক করতে হলো সে পুলসিরাতের ওপর।

পুলসিরাত


পুলসিরাতের উপর সারিবদ্ধ আমরা
শেষে এসে পেলাম জলার ধারে সাগর বেলাভূমি। সেখানে পটাপট শাটার টিপতে লাগলাম। তারপর সূর্যাস্ত দেখে ফিরে এলাম।

নীড়ে ফেরার পালা



রাতের খাবারের পর বের হলাম নাইট সাফারিতে। খালের ভেতর নৌকা নিয়ে ঢুকে ইঞ্জিন বন্ধ করে আমরা বাঘ মামার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। শুরুতে তো সে গল্পই বলছিলাম! যাই হোক, বাঘ মামার উপস্থিতিতেই সন্তুষ্ট থেকে নিরাপত্তার কারণেই আমরা দিরে এলাম। ফিরে আসার পর আমাদের তর্ক শুরু হলো।

"আসলে আমরা কি আশা করছিলাম? ব্যাঘ্র মামা আমাদের সামনে মডেলিং করে হেঁটে বেড়াবে?" "আরে ব্যাটা এটা কি চিড়িয়াখানা পাইছস?" "না, কিন্তু ব্যাঘ্র মামা ডাক ছাড়তে তো পারতো!" "ধুর শালা...আসছে শিকার করতে ডাক ছাড়বে ক্যান? অবশ্য তোরে খাইতে পারলে পরে ডাক ছাড়তো।" "আইচ্ছা, বাঘ না খালি খালি মানুষকে আক্রমণ করে না?" "ধুর ব্যাটা, তুই ওর শিকারের সময় ওর এলাকায় গেছস, ও কি চুম্মা দিবে?" "বড় কথা কি জানস? বাঘ বাই চান্স ঝাঁপায় পড়লো। বনরক্ষীরা কি করতো? দুইজনের একজনের হাতে ব্রিটিশ আমলের বন্দুক, আরেকজনের হাতে পাকিস্তান আমলের। আরো মজার ব্যাপার কি জানস, দুজনরেই জিগাইলাম -- বাঘ আক্রমণ করলে গুলি করার পারমিশন আছে কিনা? একজনে কয় হ্যা আরেকজনে কয় না! বুঝ অবস্থা!!"

এমনি সব তর্কাতর্কিতে অনেকটা রাত পেরুলো। শেষে এসে আমরা সবাই উপলব্ধি করলাম, ব্যাঘ্র মামার দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার, আর দেখা পেয়েও বেঁচে ফেরা আরো বড় ভাগ্যের ব্যাপার। রাত প্রায় শেষ হয়ে আসছে...যে যার রুমে ঘুমোতে গেলাম। কেউকেউ আগের রাতের মতোই ছাদে ঘুমের আয়োজন করতে লাগলো। জোনাই পোকার টিমটিমে আলোতে আর বনের অজানা সব রহস্যময় শব্দে শব্দে আমাদের সুন্দরবনের দ্বিতীয়রাত শেষ হতে লাগলো।






৮.

পরদিন ভোরবেলা কেউ উঠতে পারলো না। আগেরদিনে দীর্ঘ ধকলের ক্লান্তি আর শেষরাতে ঘুমোতে যাওয়ার কারণেই এ অবস্থা। অবশ্য লঞ্চে পরিবার নিয়ে যারা এসেছিলেন তারা উঠলেন। আমিও সকালের দিকেই উপরে গেলাম। আমাদের আদুরে খুদে সহযাত্রী মালিহা তখন তার খালার সাথে বসে পান খাচ্ছে। সেসময়ই তুললাম এ ছবি। নিঃসন্দেহে ট্যুরে তোলা আমার সেরা ছবি(আমার মতে)।

মালিহা

তৃতীয় দিনেই আমরা আবার খুলনার দিকে রওনা দিতে লাগলাম। বন ছেড়ে আসার সময় মনে হলো আরো সময় নিয়ে আসার দরকার ছিল। এদিন আমরা সহযাত্রীরা নিজেরা নিজেরা আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতে লাগলাম। তিনদিন ধরে যারা আমরা একসাথে ছিলাম, আজ মনের আর্গল খুলে বসলাম। বিভিন্ন পরিবারের বিভিন্ন জনের সাথে কথা হলো। মধ্যে মধ্যে প্রকৃতি দেখাও চললো। ক্যামেরার সাটারে টিপও সমান তালে পড়তে লাগলো। বন্ধুর এইচ-৫০টা আমার হাতে থাকায় আমাদের দলের মেইন ফটোগ্রাফার এই অধমই ছিলাম। এ গল্পেরও শেষ বেলায় এসে আমাদের খুদে সহযাত্রীদের কথা না বলাটা অন্যায় হবে। আদুরে সহযাত্রী মালিহার কথা তো বললামই, সে আবার কোল ছেড়ে নামতে চায় না। ছিল মালিহার ভাই(অনেক কঠিন নাম, মনে পড়ছে না); সে আমাদের বিশাল বিশাল গল্প শুনাতো। আমাদের রাতের আড্ডা মালিহার ভাই আর আরেক খুদে সহযাত্রী আদিয়াতকে নিয়েই হতো। আদিয়াতের গল্প হতো দুই কি তিন লাইনের। সে গল্পের রেশটা থাকতো অনেকটুকু। আর মালিহার ভাই বিশাল সব গল্প বলতো, যে গল্প শেষ হতো না। দুজনের মধ্যেই অদ্ভূত মিল, দুজনেই জাহাজ ছাড়া কোনো গল্প বলতো না। শেষে আমরা অনেক অনুরোধ করলাম, "জাহাজ ছাড়া গল্প বল রে বাপ!" তো তারা বললো। শুনুন গল্পটা--

একটা ছিল প্লেন, বুঝছো।(আমরা হুমম বলে মাথা নাড়ি) তো সেই প্লেনের উপ্রে ছিল জাহাজ!

আর মালিহার ভাইয়ের দীর্ঘ গল্পের একটা নমুনা দিয়ে আমার লেখাটা আরেকটু লম্বা করি।

একটা লোক ছিল। সে লোকটা হ্যাচ্চু দিত। হ্যাচ্চু...হ্যাচ্চু...

মালিহার ভাই অভিনয় ছাড়া গল্প বলতো না। তো বেচারার হ্যাচ্চু হ্যাচ্চু শুনে আমরা বাদ সেধে বলতাম, তারপর কি হলো সেটা বলো। হ্যাচ্চুর পর কি হলো?

হ্যাচ্চুর পর? একটা বড় হ্যাচ্চু দিল

তারপর, তারপর?

আবার হ্যাচ্চু দিতে লাগলো ...হ্যাচ্চু হ্যাচ্চু...

আমরা ততোক্ষণে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। হ্যাচ্চুর গল্প আর শেষ হলো না সে রাতে।


হ্যাচ্চুর গল্প চলছে


দুই গল্পকথক

আদিয়াত আর মালিহার ভাইয়ের গল্প বাদেও রাতে মাঝে মাঝে আর সব ভাইয়া-আপু-ভাবী-খালাম্মাদের অনুরোধে আমরা হেড়ে গলায় গান ধরতাম। যাই হোক...গান শুনে তারা দ্বিতীয়বার অনুরোধের সাহস করতেন না। আমরা অবশ্য তাতে উৎসাহ হারাতাম না, একের পর এক গান ধরেই যেতাম। অবশেষে খাবার টেবিলে খাবার দেয়া হলে বাকিরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচতো।


এক রাতে শুরু হল কৌতুক বলা। একে একে দারুন সব কৌতুক চলতে লাগলো। আংকেল-আন্টিরা চমৎকার পারফরম্যান্স দেখালেন। আমরা হেসে কুটি কুটি হতে লাগলাম। এমন সময় ট্যুর কোম্পানির মালিক ফারুক আংকেল কৌতুক বলতে এলেন। সে কৌতুক বলতে বলতে তিনি যে কোথায় গেলেন... ... ঠিক বলতে পারি না। মাইল মাইল লম্বা প্যাচাল শেষ হবার আগেই ভেগে গিয়ে ছিলাম।






৯.

তিন দিনের যাত্রা শেষ হলো ৩ তারিখ রাতে। ফেরার সময় বারবার মনে হয়েছিল, ইশ! যদি আরো কয়েকটা দিন থাকতে পারতাম। মালিহার মায়ামায়া দৃষ্টি, আদিয়াত আর মালিহার ভাইয়ের গল্প, হরিণের ছোটাছুটি, আপু-ভাবীদের গল্প, বনের মধ্যে হাইকিং ... এই ব্যস্ত নগরে এইসবের আর কিছুই হবে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলেই আমরা মিশে যাই প্রতিদিনকার জীবনে, শুধু উড়ে যাওয়া পাখির পালকের মতো পড়ে থাকে স্মৃতি...পড়ে থাকে মায়া।

বনের মায়া হয়তোবা এড়ানো যাবে, মনের মায়া এড়াই কিভাবে?








*********************** ****************** ***********************
সুন্দরবন ভ্রমণ নিয়ে সহযাত্রী বন্ধু ঈশানের লেখা সুন্দরবন নিয়ে ফোটুক পোস্ট ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29022437 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29022437 2009-10-08 15:08:13
ব্যাঘ্র মামার আস্তানায়ঃ ফোটুকময় পোস্ট

পাহাড়কাঞ্চনপুর, যশোর, বগুরা, মাগুরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, সিলেট ... চলতে চলতে অনেক পথ পেরুলাম। বাদ পড়ে ছিল সুন্দরবন। এবার পা বাড়ালাম সে পথেও। সে পথের ছবি, বনের ছবি, আর হরিণ-পাখপাখালির ছবি নিয়ে এ পোস্ট। ব্যাঘ্রমামার বাড়ি গেলাম, কিন্তু মামা দেখা দিয়েও দিলেন না। কুমীর বাবাজি দেখা দিয়েছিল, কিন্তু ক্যামেরায় বন্দী করতে পারলাম না বলে হিংসুটেরা কেউ বিশ্বাস করলো না। আর বনের মায়া, মনের মায়ার গল্প শুরু করলে তো শেষ হবার নয়... সে গল্প পরে হবে। দুরাত আর তিনদিনের নৌকাবাস... তারই স্মৃতিস্বরূপ আজ আমার ঘরবাড়িও যেন দুলছে। তাই আজ এ পর্যন্তই।


কালো মেঘ...আমাদের শুরুটা ভাল ছিল না



বনের দেখা পেলাম



শ্বাসমূল



সবুজ অরণ্য



সোনা সোনা রোদ...



মাছরাঙ্গা



এটাও কি মাছরাঙ্গা?



সুন্দরী লেবু



নাম না জানা অচিন পাখি



অরণ্য সবুজ এখানেও



আমাদের স্বাগত জানাতে সবুজ তোরণ



অরণ্য এখনও সবুজ



গোল ফল



বুনো ফল, নাম জানি না



ধবল বক



হরিণের দল



জঙ্গলে কাশফুল



মরা গাছের গোড়ায় মাশরুম



বালুকাবেলায়



সতর্ক হরিণ, যদিও আমরা শিকারী নই



পুলসিরাত...কটকায় সাগর বেলাভুমির পথে



সিডরের ভালোবাসা(!)



গোবরে পদ্মফুল, কাদায় ঝিনুকফুল



শঙ্খচিলের ডানায়



শঙ্খচিল



মেঘের খেলা



মালিহা, আমাদের আদুরে সহযাত্রী



আরো কিছু খুদে সহযাত্রী



অস্তবেলা



নীড়ে ফেরার পালা



সূর্যবন্দী মেঘ নাকি মেঘবন্দী সূর্য?



একেলা



মায়াবৃক্ষ



রূপসা ব্রীজ



ছবিগুলো বড় করে দেখতে ঘুরে আসুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29020598 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29020598 2009-10-05 02:12:58
আদিবাসী সুর, আদিবাসী গান

আজ এ গানের তালে হৃদয় দোলে মিঠে বাতাস যায় রে বয়ে হলুদ ধানের দোদুল দোলায় পিয়াসী মন দোলে ও লো সুজন আমার ঘরে তবু আইলো না এ পোড়া মনের জ্বলন কেন বুঝলো না? ঐ কোকিলাটার কুহু কুহু কার লাগি গো বাজে এই কালো মেয়ের এমন দিনে মন লাগে না কাজে ওই দূরে কোথাও রাখাল বাঁশি পাগল হাওয়ায় ভাসে ও লো সুজন আমার ঘরে তবু আইলো না এ পোড়া মনের জ্বলন কেন বুঝলো না? নাক সেজেছে নাকছাবিতে কান সেজেছে দুলে কালো কপালে কুমকুম আর খোপার বাঁধন চুলে ঐ পচিম কোণে সুয্যি ডোবে আন্ধারে মন কাঁদে ও লো সুজন আমার ঘরে তবু আইলো না এ পোড়া মনের জ্বলন কেন বুঝলো না?

ডাউনলোড

শুরু করলাম একটা সাঁওতালী সুরে গাওয়া বাংলা গান দিয়ে। গানে গানে ভালোবাসা এলবামে অঞ্জন দত্তের গাওয়া আমার প্রিয় একটা গান।



আমার চেহারায় মনে হয় কিছুটা আদিবাসী ভাব আছে। ছোট কুতকুতে চোখ, বোচা নাক...রাঙ্গামাটিতে এ নিয়ে বন্ধুরা কম ত্যক্ত করেনি। যাই হোক, দু-দুবার ব্যাকটুব্যাক রাঙ্গামাটি ট্যুর দেয়ায় আদিবাসী আর তাদের সংস্কৃতির প্রতি আমার যে অল্প-স্বল্প টান তৈরি হয়েছে তার ফলশ্রুতিতে এ লেখার আগমন। আদিবাসী গান নিয়েই এই পোস্ট। দুয়েকটা গান আদিবাসী সুরের ঢঙ্গে গাওয়া, একটু অদ্ভূত টানে গাওয়া বাংলা গান। উপরের প্রথম গানটার কথা তো বললাম ই, বলা হয়নি এলবামটার কথা। এ লেখায় প্রাসঙ্গিক না হলেও বলে রাখি, বাংলাদেশের নিমা রহমান আর কোলকাতার অঞ্জন দত্তের কথোপকথন ধরণের এলবাম। দুটো মানুষের চিঠি চালাচালি, আর ফাঁকে ফাঁকে গান। বেশ কয়েকটা ভালো গান রয়েছে এলবামটায়। আপাতত উপরের একটা গানই শুনে দেখুন।




এরকম কিছুটা আদিবাসী টানে গাওয়া আরেকটা বাংলা গান লাল পাহাড়ির দেশে যা... কোলকাতার ব্যান্ড ভূমির কন্ঠে বেশ লাগে। শুনতে শুনতেই পাহাড়ের দেশে চলে যাবার অনুভূতি হয়।


লাল পাহাড়ি দেশে যা রাঙ্গামটির দেশে যা ইত্থাক তুকে মানাইছে না রে ইক্কেবারে মানাইছে না রে লাল পাহাড়ি দেশে যাবি হাঁড়ি আর মাদল পাবি মেয়ে মরদের আদর পাবি রে ও নাগর... ও নাগর... ইক্কেবারে মানাইছে না রে লাল পাহাড়ি দেশে যা রাঙ্গামটির দেশে যা ইত্থাক তুকে মানাইছে না রে ইক্কেবারে মানাইছে না রে নদীর ধারে শিমুলের ফুল নানা পাখির বাসা রে, নানা পাখির বাসা সকালে ফুটিবে ফুল মনে ছিল আশা রে, এমন ছিল আশা তুই ভালোবেসে গেলি চলে কেমন বাপের ব্যাটা রে তুই কেমন ব্যাটা? লাল পাহাড়ি দেশে যা রাঙ্গামটির দেশে যা ইত্থাক তুকে মানাইছে না রে ইক্কেবারে মানাইছে না রে ভাদর মাসে ভাদু পূজা ভাদু গানের ঘটা ঐ কালো মেয়েটার মন মজেছে গলায় দিব মালা রে তার গলায় দিব মালা তুই মরবি তো মরে যা, ইকেবারে মরে যা মরবি তো মরে যা, ইকেবারে মরে যা ইত্থাক তুকে মানাইছে না রে ও নাগর... ও নাগর... ইক্কেবারে মানাইছে না রে

ডাউনলোড




সম্প্রতি অর্ণব আর তার বন্ধুরা নতুন এলবাম অর্ণব এন্ড ফ্রেন্ডস লাইভে এ গানটাই আবার গেয়েছেন। যদিও কথায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, আমার ধারণা গানটা লোকজ একটা গান। মানুষের মুখে মুখেই গানের কথা পাল্টে গেছে। অর্ণবের কন্ঠে গানটায় আদিবাসী টানটাও কম এসেছে। তারপরেও দুটো দুরকম সুন্দর। শুনে দেখুন অর্ণব আর তার বন্ধুদের গাওয়া গানটা।

লাল পাহাড়ির দেশে যা রাঙ্গামাটির দেশে যা এখানে তোকে মানাইছে নায় গো এক্কেবারে মানাইছে নায় গো আরে ওখানে গেলে মাদল পাবি মেয়ে মরদের আদর পাবি মরবি তুই মরে যা এক্কেবারে মরে যা এখানে তোকে মানাইছে নায় গো এক্কেবারে মানাইছে নায় গো আরে নদীর ধারে শিমুলের ফুল নানা পাখির বাসা রে, নানা পাখির বাসা কাল সকালে ফুটিবে ফুল মনে ছিল আশা রে, মনে ছিল আশা তুই ভালোবেসে গেলি চলে কেমন বাপের ব্যাটা রে তুই কেমন ব্যাটা? মরবি তুই মরে যা এক্কেবারে মরে যা এখানে তোকে মানাইছে নায় গো এক্কেবারে মানাইছে নায় গো

ডাউনলোড


ফড়িং এলবামে সাধনার গাওয়া একটা গানঃ চন্দ্র জাগিছে

সাম্প্রতিক মনচোরা এলবামে টি. ডব্লিউ সৈনিক গেয়েছেন এমনি দুটো গান, আদিবাসী ঢঙ্গে গাওয়া।
১. আম পাতা
২. হাড়িয়া রে
বাংলা ভাষার হলেও কিছু শব্দ দুর্বোধ্য, তাই ভুলভাল লিরিকস আর দিলাম না। তবে শুনে দেখুন, ভালো লাগবে। এর মধ্যে হাড়িয়া রে গানটা চা বাগানের সাঁওতালীদের গান।



সব শেষে রইলো সত্যিকারের আদিবাসী গান। এতোক্ষণ ধরেই অনেক গানের কথা বললাম। তবে এর প্রতিটাই বাংলা গান, আদিবাসী ঢঙ্গে আদিবাসী সুরে গাওয়া। এবারে যে পাঁচটা গানের লিঙ্ক দিলাম, এ পাঁচটা গানই আদিবাসী ভাষায় আদিভাষী সুরে গাওয়া পুরোপুরি আদিবাসী গান। গানগুলো রাঙ্গামাটি থেকে সংগ্রহ করেছিলাম।

গান পাঁচটা ডাউনলোডের লিঙ্কঃ
http://www.box.net/shared/vr2jfaurn8
http://www.box.net/shared/nq7u9xhsmz
http://www.box.net/shared/5dm45otb8p
http://www.box.net/shared/5vprxb55nr
http://www.box.net/shared/lnujacd1ee

এ পাঁচটা শুনে আরও শুনতে আগ্রহী হলে এ ফোল্ডারটি দেখতে পারেন । ফোল্ডারের ট্রাক ১,২,৩,৪,৬ এর লিঙ্ক উপরে দেয়া হয়েছে।


ভালো থাকুন। ঈদ মোবারক।

ছবিসূত্র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29013171 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29013171 2009-09-19 21:07:31
মুখ ফুটে তুই বল আমাকে, কোথায় যাবি জান! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" />
মহাকাশ আর নভোযান নিয়া বাংলা গান লেখা হইতাছে...



মঙ্গলে না প্লুটোয় যাবি কোথায় যাবি জান?
তোর কারণে আটকে রাখি নাসার অভিযান
তোর ভ্রমণে সঙ্গী হবে হাজার নভোযান
মুখ ফুটে তুই বল আমাকে কোথায় যাবি জান!



তোর ভ্রমণে রাখবো আমি কড়া নজরদারি
আমি ছাড়া জানবেন শুধু মহান অবতারই
তুই চাইলে তৈরি হবে নতুন কোন যান
তোর ভ্রমণে সঙ্গী হবে হাজার নভোযান
মুখ ফুটে তুই বল আমাকে কোথায় যাবি জান!



ইচ্ছে শুধু করবি রে তুই বাকিটা আমার
তোকে নিয়ে গড়ছি আমি স্বপ্নের এ খামার
তুই চাইলে মহাকাশে উজানই উজান
তোর ভ্রমণে সঙ্গী হবে হাজার নভোযান
মুখ ফুটে তুই বল আমাকে কোথায় যাবি জান!






গানটা ফড়িং এলবামের গান, গায়ক ইউসুফ।
ডাউনলোড করেন<img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29012625 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29012625 2009-09-18 18:53:32
একটা কাকতালীয় সাময়িক গল্প প্রথমে কাকের গল্প দিয়া শুরু করা যাক।

বেশ কিছুদিন যাবত ব্লগে একটা ম্যাড়ম্যাড়া ভাব, ব্লগার এক বন্ধু বলে, ভালা লাগতাছে না রে...আমি কিছু কই না। চিন্তা কইরা কিছু কারণ বের করলাম। রোজার মাস, ১৪ ঘন্টা রোজার এফেক্ট পড়ছে আর কি...কারও তেল নাই। রোজায় ধরছে সবাইরে।
কিংবা সব মার্কেটিং এ ব্যস্ত, ঐটাও কারণ হইতে পারে।
আরো কারণ হইতে পারে যে বিতর্কিত ফিগার যেমন- ত্রিভুজ মাঠে নাই। বিভিন্ন টিম- যারা ব্লগের একশন ফিগার ছিল, তারা অন্য ব্লগে ব্যস্ত। মাঝেসাঝে কবিখেদানো স্থানীয়ঠগ একটূ ঝড় তুলতো, এখন সুশীল নিকে কবিতা বেচে।
মোদ্দা কথা, বিতর্ক নাই। সবাই আসে, যায়। লগইনের লম্বা লিস্টি, কিন্তু হিটের খবর নাই।
আমার অবশ্য এরকম শান্ত ব্লগ ভালোই লাগে।<img src=" style="border:0;" />
কাকের গল্প শেষ।



এবার তালের গল্প বলি।
আজকে প্রায় ডেনড্রাইটের রেকর্ড ভাংতেই বসছিল। উটার্নের চরম্ভাবে আলোচিত এক পোস্ট, ব্লগারেরা লগাইয়া মাইনাস দান করে মনের ঝাল মিটাইলো বেশ কিছুক্ষণ। দ্রুততম মাইনাস-শতক এর রেকর্ডও মনে হয় হইছিল। আফসোস, কাজে গেছিলাম দেখে বিনুদন থেকে বঞ্চিত হলাম। অতি-প্রতিক্রিয়াশীল মডুরা আমারে বিনূদন থেকে বঞ্চিত করলো, পোস্ট দিল মুইছা। ঢেকির সৌজন্যে ঘোলে স্বাদ মিটাইলাম

তালের গল্পের ইন্টারেস্টিং পার্টটা কিন্তু এইটা না...

ব্লগের এক মডুনীকে আজকে অনেকদিন পর কমেন্টাইতে দেখলাম। খুশি মনে বাকবাকুম কইরা উটার্নের ক্যাচাইল্লা পোস্ট আর ঐটারে পচাইয়া যেসব পোস্ট আসছে, তাতে কমেন্টাইতাছেন। যদিও স্থানীয়ঠগ সহ বহু ভাঁড়ের বহু পোস্ট, বহু কমেন্ট ক্যাচাইল্লা হলেও তখন মডুনীর টিকিটাও দেখা যায় নাই।

যাক গে, আমি বলতাছি না যে কাক বসছে দেইখাই তাল পড়ছে, কিংবা তাল পড়তাছিল দেইখা কাক বসছে। তাল এম্নি এম্নিই পড়ছে। কাকে কাম পায় নাই দেইখা বসছে।

অবশেষে কাকতালের সৌজন্যে ব্লগ জমসে আবার।




কাকতালীয় গল্প শেষ। সাময়িক বললাম...কারণ মডুনীর সুনজরের অপেক্ষায় আছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29012345 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29012345 2009-09-18 01:39:59
সূর্যবিহন দিন

ঘ্যাচ করে ব্রেক কষলো আজাদ। আরেকটু হলেই ওর মটরসাইকেলটা সামনের প্রাইভেট কারটাকে ধাক্কা দিয়ে বসতো! ভাগ্যিস... দিয়ে বসে নি! ঢাকা শহরের প্রাইভেট কারগুলাকে মাঝে মাঝে মাখনের তৈরি বলে মনে হয় আজাদের। আচড় লাগতে যা দেরি ... সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভারগুলো খেঁকিয়ে উঠে। তার উপর কিছু ভীমদর্শন ড্রাইভার তো এমনভাবে তেড়ে আসে যেন উল্টে দু-তিন খানা আছাড় না দিয়ে ছাড়বে না। দোষ অবশ্য বেশিরভাগ সময়ই আজাদের। আজকাল প্রায়ই রাস্তায় অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। মাথায় নিয়তই নানা ধান্ধা খেলতে থাকে...মেসের ভাড়া, ডাইনিং এর খরচা, মুদির দোকানে সিগারেটের বাকি কিভাবে দেবে... সিমেন্টের কন্ট্রাক্টটা আর কেউ পেয়ে গেল কিনা, এ মাসের টার্গেট পূরণ হবে কিনা...এইসব নিত্যিদিনকার চিন্তাভাবনা। সারাদিন চিন্তা করতে করতে তাই কপালে চিরস্থায়ী ভাঁজ। আজকাল প্রায়ই মনে হয় হঠাৎ একটা বাস এসে চাপা দিয়ে যাবে। আর দুম করে মরে পড়ে থাকবে। মরে গেলেই শান্তি... সেদিন হয়তো কপালের দুশ্চিন্তার ভাঁজগুলা মিলিয়ে যাবে।

জ্যাম আরো কতোক্ষণের কে জানে। গাড়ির স্টার্টও বন্ধ করে দিয়েছে ড্রাইভারদের কেউ কেউ। মেঠো পথে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়া একগুয়ে মহিষের পালের মতো শান্ত স্থবির গাড়ির দল। আজাদ তার মোটরসাইকেলটা এঁকিয়ে-বেঁকিয়ে অল্প অল্প করে এগুতে লাগলো। দেরি করা চলবে না। শালার রিয়েল এস্টেট সময় দিয়েছে ন'টায়, এরই মধ্যে পোনে নয়টা বেজে গেছে। পৌঁছতে একটু দেরি হলে রিসিপশনিস্ট ব্যাটাও এমন ভাবে খেঁকিয়ে ওঠে...যেন সে নিজেই কোম্পানির মালিক। সূর্যের যেয়ে বালি গরম একটা কথা আছে না, অনেকটা সেরকম অবস্থা।

আজাদের ঠিক সামনে জ্যামে আটকা পড়া মিনিবাস, পাশেই ফুটপাথ। দুয়ের মাঝে অল্প একটু রাস্তা। ফুটপাথ লাগোয়া সরু খোলা নর্দমা, তাতে বিপণিবিতানগুলো থেকে উগলে ওঠা কালো পুঁতিগন্ধময় জল, ওর মধ্যে দিয়ে ভাসছে হকারদের ফেলা বর্জ্য। একবার ভাবলো আজাদ, বাসটার সাইড কেটে ঢুকবে নাকি এ সরু পথ ধরে? পার হতে পারলে আরো কিছুদূর চিপাচাপা দিয়ে আরামসে এগুনো যাবে। নটার মধ্যে রিয়েল এস্টেটের অফিসে পৌছানোটা আজ আসলেই খুব দরকার। সিমেন্টের অর্ডারটা ধরতে পারলেই টার্গেট পূরণ হবে, এই মাসের জন্য নিশ্চিন্ত। দ্বিতীয়বার ভাবতে সময় নিল না আজাদ, রাস্তা থেকে পা উঠিয়ে মোটরসাইকেলটা ঢুকিয়ে দিল সরু জায়গাটা দিয়ে। সাবধানে ধীরে ধীরে চালাচ্ছে, কোনো কারণে থামতে না হলেই হয় এবার। প্রায় পেরিয়ে এসেছে ঐটুকু পথ, এমনি সময় মিনিবাস থেকে হুট করে বেরিয়ে এল এক গাট্টাগোট্টা লোক। বেরিয়েই উর্ধশ্বাসে হাঁটতে লাগলো সামনের দিকে। ওদিকে লোকটা বের হতেই আজাদকে বাধ্য হয়ে ব্রেক কষতে হলো। তাল সামলাতে ঝট করে পা পড়লো পাশের নালায়। গোড়ালি পর্যন্ত ডুবলো নোংরা কাদা-জলে...মেজাজ চড়ে বসলো সপ্তমে, মুখ-ভুরু কুঁচকে গেল রাগে... কিংবা হতাশায়। যদিও হেলমেটের ফাঁক দিয়ে তার খুব বেশি প্রকাশ পেল না। বিড়বিড় করে কাকে গাল দিল আজাদ কে জানে, অদৃষ্টকে বোধহয়।

এমনি সময় তীক্ষ্ণ স্বরে গজগজ করতে করতে বিরক্তি প্রকাশ করতে লাগলো এক নারী কন্ঠ-- দেইখা চালাইতে পারেন না? দিলেন তো পুরা ভরায়া! নিজেও নামছেন নোংরায়, আশেপাশের সবাইরেও ভিজাইছে-- খানিকটা উবু হয়ে নিজের শাড়ির পাড়টা দেখে আরো যেন ক্ষিপ্ত হলো মহিলা-- উফফ! কোত্থেকে যে আসে এইসব! এতো বড় রাস্তায়ও কি আপনার এদ্দুর হোন্ডার জায়গা হয় না? ফুটপাথে উইঠা আসতাছেন পারলে?
বিরক্ত আজাদ নিজেও, কিন্তু তারপরেও ভুলটা তো তারই, উপলব্ধি করতে পারলো আজাদ। মহিলার বেশ সুন্দর শাড়ি, কাদার ছোপ তার শুভ্রতা ম্লান করে দিয়েছে। ক্ষমা চাইতেই হেলমেটটা খুলে হাতে নিল আজাদ। মহিলাকে বলতে লাগল-- দেখেন, আসলেই সরি। আমি নিজেও বুঝি নাই যে... বলতে বলতে থেমে গেল। আজাদের হতবাক দৃষ্টি! হেলমেট পুরোপুরি মাথার উপর থেকে খুলতে নারীকন্ঠও মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল। শিউলি! সাদা জমিনের শাড়ি, তার মাঝে হালকা সবুজ ফুল আঁকা বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশের ছিপছিপে গড়নের যে তরুনী আজাদের সামনে দাঁড়িয়ে, কে বিশ্বাস করবে এই সেই শিউলি...সর্ষের ক্ষেতে যে ফড়িং এর পিছু পিছু ছুটে বেড়াতো...একটা কেঁচো ধরে দিতে সারাদিন পিছে পিছে ঘুরতো, নাকি কান্না কাঁদতো...খেলায় না নিলে আচড়ে-খামচে একাকার করতো। আজাদের বিস্ময় কাটে না। ধুলোমাখা শৈশব এক লহমায় তার স্মৃতির ঝাপি খুলে বসে। আর এক গোড়ালি পুঁতিগন্ধময় কালো কাদাপানির মিশেলে দাড়িয়ে আজাদ চলে যায় এই ব্যস্ত নগরী থেকে অনেক অনেক দূরগ্রামের এক খড়ের গাদায়, যেখানে মাঝেমাঝেই সে শিউলির পুতুলটা লুকিয়ে রাখতো। শিউলি কি এখনো পুতুল হারিয়ে আকাশ ফাটানো চিৎকার করে কাঁদে? না মনে হয়। মায়ের আঁচল ধরে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে আজাদের দিকে তাকিয়ে তিন কি চার বছরের ফুটফুটে একটা মেয়ে, এই মেয়েটা হয়তোবা মায়ের মতো করে কাঁদে। আজাদ একবার তার দিকে তাকিয়ে আশ্বাসের হাসি হাসলো। কতোটুকু আশ্বস্ত হলো কে জানে, তবে মায়ের পেছনে লুকিয়ে পড়লো মুহূর্তেই, আঁচলের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতে লাগলো।

"আজাদ ভাই, আপনাকে তো চেনাই যাচ্ছে না"-- অবাক স্বরে শিউলি বললো-- "শরীর তো পুরোই ভেঙ্গে গেছে আপনার। রোদ্দুরে পুড়ে কি কালো হয়েছেন! কি করেন এখন? "
আজাদ সাথে সাথে জবাব দিতে পারলো না। বিব্রত হাসিতে শিউলিকে বুঝাতে চাইলো, কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। শিউলির চোখে-মুখে সুখ খেলা করে, আর আজাদের অনেকদিনের তেল-জলের ছোঁয়া ভুলে থাকা শুষ্ক রুক্ষ চুল, কয়েকদিনের অযত্নে গজিয়ে ওঠা এলোমেলো দাড়ি, নিষ্ঠুর বাস্তবের চিহ্ণ ফেলে যাওয়া রুক্ষ মুখমন্ডল, রং চটে আসা শার্ট প্যান্ট--শিউলি যে চিনতে পেরেছে সে-ই তো বেশি!
"দেশে যান না? খালাম্মা ভাল আছে? অনেকদিন আপনাদের কাউকে দেখি না। আপনারা সবাই একেবারে হুট করে হারিয়ে গেলেন"--বলতে বলতে শেষে এসে শিউলির কন্ঠে একটু কষ্ট জমলো।
আজাদেরও চোখ ভরে জল এলো। এতোক্ষণ নীরব থাকার পরে বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বললো-- "শিউলি আসি রে...আজ অনেক কাজ।"
বলেই তাড়াহুড়ো করে মোটরসাইকেলটা টান দিল আজাদ, পেছনে ফেলে গেল খড়ের গাদায় পুতুল খুঁজতে থাকা বারো কি তের বছরের এক কিশোরীকে... যে খুব সাহস করে একদিন ভালোবাসি বলেছিল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29007013 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29007013 2009-09-08 21:27:36
খবর ১.

বিছানার চাদর এলোমেলো। এখানে সেখানে কাপড় স্তূপ দেয়া...আধোয়া শার্ট, এক পা উল্টানো প্যান্ট। বেডসাইড টেবলের এক কোণায় ঝুলে আছে রুমালটা। রাতে ঘুম ঘোরে ছুড়ে মারা মোজা দুটো মেঝেতে ছড়ানো। জুতা একটার হদিশ মিলেছে, আরেকটা কোথায় কে জানে! অলস চোখে ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশ দেখতে লাগলো আয়াজ। সেই পুরোনো ব্যাচেলর লাইফ ... ... জীবন একটা সময় চক্রের মতো হয়ে যায়। পুরোনোরা সব ফিরে ফিরে আসে। কানে কানে বলে, আমি হারাইনি। এইসব ভাবতে ভাবতেই বিছানা থেকে নেমে পড়লো আয়াজ।

কয়টা বাজে? দশটা এগারোটা তো হবেই...জানালা দিয়ে উজ্জ্বল রোদেলা একটা দিনের আভা পাওয়া যাচ্ছে। পত্রিকা কি আসেনি এখনো? মুহূর্তেই মেজাজ বিগড়ে গেল খানিকটা। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গেই পত্রিকাটা হাতে না পেলে কেমন যেন লাগে। মনে হয় যেন দিন শুরুই হয়নি এখনো। সিড়ি ভেঙ্গে নিচে নামলো আয়াজ। তারপর দরজার দিকে চোখ পড়তেই তার কুচকানো ভুরু সোজা হয়ে গেল, ঠোঁটের রেখাগুলো বেঁকে গিয়ে মুচকি একটা হাসি ফুটে উঠলো মুখে। হকার দরজার ফাঁক দিয়ে পত্রিকা ঠিকই দিয়ে গেছে। শুধু মিলির সৌজন্যে যে ঘুম ভেঙ্গে বিছানাতেই পত্রিকাটা পাওয়া হতো, সে আয়েশটাই পাওয়া হয় নি আর কি! ব্যাপার না...অভ্যাসের ব্যাপার। সব ঠিক হয়ে যাবে। পত্রিকা হাতে সোফাতে এলিয়ে পড়লো। তারপর শিরোনামে চোখ বুলাতে বুলাতে পাতা উল্টে যেতে লাগলো।

তরকারিতে ভেজাল, অমুক মন্ত্রী এই বলেছেন, তমুক রাষ্ট্রদূত চলে যাচ্ছেন, আজকের ঢাকায় এই হবে সেই হবে...সেই পুরোনো ভ্যারান্ডা! এইসব ছাইপাশ না পড়লে দিন কেন শুরু করা যাবে না? ভেবেই পায় না আয়াজ। ব্যাপারটা কি পুরোপুরি মানসিক? নাকি ছোটবেলার অভ্যাসটাই সব? খুঁটিতে খুঁটিয়ে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস বাবার কাছ থেকে পেয়েছে আয়াজ। যদিও বাবা ইংরেজি পত্রিকাটাই পড়তে দিত, আয়াজ সেটা উল্টেপাল্টে ছবি-টবি দেখে শেষে পড়ার জন্য বাংলাটাই টেনে নিত। আজকের খবরের কাগজে তেমন কিছু নেই। মাঝে সাঝে মার্কেটে আগুন লাগলে কিংবা বড় কোনো ঘটনা ঘটলে পত্রিকা পড়তে বেশ লাগে। আজকে কেমন যেন ম্যান্দা মেরে গেছে, তেমন কোনো খবর নেই। মনে হয় যেন দুদিন আগের পেপারটা আবার ছাপিয়ে দিয়েছে। বিরক্ত হয়েই কাগজটা ভাঁজ করে ছুড়ে ফেললো কর্ণার টেবিলে। খাবারের ব্যবস্থা করা দরকার। ফ্রিজে কি আছে দেখবে একবার ভাবলো। উঠতে যাবে, এমন সময় চোখ আটকে গেল দূরে পড়ে থাকা পত্রিকাটায়। শেষ পাতার এক কোণায় ছোট্ট করে একটা শিরোনাম... নগরীতে যুবকের রহস্যময় মৃত্যু। কাগজটা আবার টেনে নিল আয়াজ। এই খবরটা পড়তে ইন্টেরেস্টিং হতে পারে।

নগরীতে যুবকের রহস্যময় মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক গতকাল রাতে নগরীর টয়েনবি সার্কুলার রোডের এক নির্জন বাসা থেকে ত্রিশোর্ধ এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা এখনো বলতে পারছে না এটা সাধারণ মৃত্যু নাকি হত্যাকান্ড, নাম না প্রকাশ করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য জানিয়েছেন, ভিকটিম খুব সম্ভবত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন, যদিও ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে কিছুটা রহস্যজনক মনে হচ্ছে। প্রতিবেশি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়,...


ধুর! বাকিটা আর পড়তে ইচ্ছে হলো না আয়াজের। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে, সে খবর আবার পত্রিকাওয়ালারা ছাপেও! এদের কি খেয়েদেয়ে আর কাজ নাই? ইনসেটে আবার মৃতদেহের ছবিও দিয়ে দিয়েছে। সাংবাদিকদের বুদ্ধি-বিবেচনার উপর ভরসা করা যাচ্ছে না আর! অবশ্য এই শহরের মানুষও নিত্যিদিনের একঘেয়ে জীবনে বোর হয়ে গেছে। কোথাও একটু ভিড় জমলেই নিজে জমে গিয়ে ভিড়টা আরেকটু বাড়িয়ে দেয়। আয়াজও তাদের মতো করে একবার ভাবলো, টয়েনবি সার্কুলার রোডই তো... তার রাস্তাতেই বাসা, দেখে আসবে নাকি? করার তো এমনিতেও কিছু নেই...বরং মানুষের নির্বুদ্ধিতাই দেখা যাক। পরমুহূর্তেই অবশ্য ভাবনাটা ঝেড়ে ফেললো। নির্বোধের ভিড়ে গিয়ে নির্বোধ সাজার মানে হয় না। ইনসেটের ছবিটায় চোখ বুলালো, মেঝেতে এলোমেলো ভঙ্গিমায় উল্টে থাকা লাশ। কি বুঝে উজবুকগুলো উল্টে থাকা লাশের ছবি দিল কে জানে! কেমন যেন মায়া হতে লাগলো আয়াজের। বেচারা একলা মরে পড়ে রইলো, কখন থেকে পড়ে ছিল কে জানে! হয়তো আয়াজেরও এরকমই হবে। এরকমই একলা মরে পড়ে রইবে...তারপর পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করবে। দুয়েকজন নাকি কান্না কাঁদবে, তারপর সবাই সব ভুলে যাবে। একঘেয়ে জীবনটা একঘেয়েমিতেই চলতে থাকবে। ছবিতে লোকটার স্বাস্থ্য বেশ ভালোই দেখা যাচ্ছে, চেহারা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। গায়ে একটা নীলচে সাদা টিশার্ট।

এক পলকের জন্য দৃষ্টি আটকে গেল আয়াজের। শার্টটা চেনা চেনা। আরে...তার নিজেরও পরনে হুবহু একই টিশার্ট। আরেকবার কৌতূহল ফিরে আসলো, অস্থির হাতে টেনে নিল পত্রিকাটা, আবার পড়তে শুরু করলো রিপোর্টটা, প্রথম থেকে...

নগরীতে যুবকের রহস্যময় মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক গতকাল রাতে নগরীর টয়েনবি সার্কুলার রোডের এক নির্জন বাসা থেকে ত্রিশোর্ধ এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা এখনো বলতে পারছে না এটা সাধারণ মৃত্যু নাকি হত্যাকান্ড, নাম না প্রকাশ করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য জানিয়েছেন, ভিকটিম খুব সম্ভবত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন, যদিও ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে কিছুটা রহস্যজনক মনে হচ্ছে। প্রতিবেশি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, দুদিন ধরেই ঘরের দরজা জানালা যেমন ছিল তেমন আছে, কেউ বের হচ্ছে না বা ঢুকছে না। কোনো আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে না। সন্দেহ হলে প্রতিবেশিরা দরজায় নক করে। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়া যাওয়াতে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে। সদর দরজার কাছেই যুবকের উপুড় হয়ে থাকা লাশ পড়ে ছিল। উল্লেখ্য, টয়েনবি সার্কুলার রোডের বাড়ীটিতে শিল্পপতি আরিফ চৌধুরীর পুত্র আয়াজ চৌধুরী থাকতেন। পুলিশ মৃতদেহটি আয়াজ চৌধুরিরই কিনা তা নিশ্চিত হচ্ছে। বাকিটা পৃ২ কঃ৭ দ্রষ্টব্য


আয়াজের কেমন যেন হাসি পেয়ে গেল। তার বাড়িতে সে নিজেই মরে পড়ে আছে, সেই খবর আবার সে পত্রিকাতে পড়ছে। উজবুকগুলার বুদ্ধি যে কোন লেভেলের ভেবে পেল না। মিলি থাকলে ওকে ঘটনাটা বলা যেত। আচ্ছা, ওকে ফোন করলে কেমন হয়? এরকম একটা ঘটনা শুনতে নিশ্চয়ই বিরক্ত হবে না!

দুবার ডায়াল টোন বাজতেই ফোন ধরলো মিলি।
মিলিঃ হ্যালো?
আয়াজঃ মিলি?
মিলিঃ কি ব্যাপার?
আয়াজঃ একটা মজার খবর আছে।
মিলিঃ আয়াজ, আমি কোনো মজার খবর শুনতে চাচ্ছি না।
আয়াজঃ সিরিয়াসলি, দারুণ মজার একটা খবর আছে। কসম তোমার, এক চুল মিথ্যে বলছি না।
মিলিঃ আমার কসম কাটা লাগবে না, কি খবর বলবে তাড়াতাড়ি বলো। বলে ফোন রাখো।
আয়াজঃ তুমি এমন হয়ে গেলে কেন?
কিছুক্ষণ নীরব হয়ে গেল মিলি, তারপর শীতল স্বরে বললো, আমি কি ফোন রাখবো?
আয়াজঃ তোমাদের বাসায় "এই সময়" পত্রিকাটা রাখো না? শেষের পাতায় উপরের কোণার খবরটা দেখ।
মিলিঃ একটু ধরো
কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলির জবাব ফেরত আসলো, দেখলাম।
আয়াজঃ দেখলাম মানে কি? এতো তাড়াতাড়ি কি দেখলা! ভালো করে পড়েই দেখো না রে বাবা!
মিলিঃ আয়াজ, ফরমালিনের মাছ কে কোন বাজারে বেচে সেটা দেখার কোনো ইচ্ছাই আমার নাই, এই খবরের জন্য ফোন করেছ? এই তোমার মজার খবর?
আয়াজঃ ফরমালিন?! আরে, ফরমালিনের মাছের খবর কই পাইলা?
মিলিঃ আয়াজ, রাখলাম!
আয়াজঃ প্লিজ শুনোই না...
টুউউউ করে ডায়াল টোনের শব্দ ভেসে এল। কে যেন বলেছিল, মানুষ বেঁচে থাকলে বদলায়! এই মিলিই কি তার কথা শুনতে রাতের পর রাত ফোনে বসে থাকতো? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাইরে তাকালো আয়াজ। দুটো কিশোর-কিশোরি সাইকেল চালাচ্ছে এঁকেবেঁকে, পুরো রাস্তা জুড়ে। নিজেরা কি কথাও যেন বলছে। আয়াজের খুব শুনতে ইচ্ছা হলো।



২.

পুরো ব্যাপারটা কি হলো আবার প্রথম থেকে ভাবতে হবে। ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে--নিজেকে বোঝাল আয়াজ। উজবুক এক রিপোর্টার তার মৃত্যুসংবাদ ছেপে দিয়েছে। এরকম ভুল মাঝে মাঝে হয়। জলজ্যান্ত মানুষ সাংবাদিকেরা মেরে ফেলেছে, এরকম খবর মনে হয় দুয়েকবার পত্রিকায় আগেও এসেছিল, সবই বিক্রি বাড়ানোর ফন্দি। সে যাক গে...এখন তার কি করা উচিৎ? পত্রিকা অফিসে ফোন দিয়ে ঝাড়ি লাগাবে নাকি?

ধুর...কি দরকার? এম্নিতে এ পৃথিবীতে কয়জন তার অস্তিত্ব নিয়ে মাথা ঘামায় কে জানে!
পান্থ? নাহ...ও শুধু মাঝে মাঝে টাকা ধার চাইতেই আসে। আয়াজ ওকে বন্ধু ভাবতে চায়, কিন্তু ধনবানেরা মনে হয় প্রকৃত বন্ধুর খোঁজ কখনো পায় না। যা দুয়েকবার ফোন করেছিল পান্থকে, ও এমনই তটস্থ হয়ে ওঠে যে আর কিছু বলা হয় ওঠে না।
মিলি? হয়তো একসময় এ খবরটায় মাথা ঘামাতো, এখন আর ঘামাবে না। তাছাড়া সে খবরটা পড়েও দেখেনি, দেখবে বলেও মনে হয় না। আর তো কেউ নেইও... নিজেকে বেশ একা মনে হতে লাগলো। এতোদিন নিজেকে একা ভেবে তার ভালোও লাগতো। এই দুনিয়ায় আসলাম একা, যাবোও একা...একগাদা হাসিমুখের ভিড়েও তো শেষ পর্যন্ত মানুষ ঐ একাই। আজ মনে হচ্ছে, দুয়েকজন সত্যি সত্যি কাছে থাকলে ভালো লাগতো।

ধুর...কি ছাইপাশ ভাবছে!---নিজেকেই ভ‌র‌‍ৎসনা করলো আয়াজ। আবার ভাবতে শুরু করলো, কি করা যায়? আচ্ছা, কাগজের উজবুকগুলা খোঁজ-খবর নিয়ে নামধাম বাসা সব নাহয় জোগাড় করলো, কিন্তু ছবি? সেটা কিভাবে এল? অস্থির দ্রুতপায়ে ড্রইং রুমে ফিরে গেল আয়াজ। ছবিটা আরেকবার ভালো করে দেখলো। ভুল নেই। ঠিক দরজার সামনেই পড়ে আছে লাশটা, মেঝেটা ঠিক এরকম। শার্টের ডিজাইন হুবহু একই। শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে এল আয়াজের। এ হচ্ছেটা কি?


কিভাবে যেন চোখ চলে গেল পত্রিকার উপরে। ২১ তারিখ! বুধবার! কিন্তু আজ তো মঙ্গলবার! ২০ তারিখ! হচ্ছেটা কি এসব?! অস্ফূট কন্ঠে চিৎকার করে উঠলো আয়াজ চৌধুরী। সারা জীবন স্রষ্টায় বিশ্বাস করেনি আয়াজ, এ কি তারই খেলা?? আজ সত্যিই ২০ তারিখ তো? তাহলে ২১ তারিখের পত্রিকা কিভাবে এল?


৩.

বোনের পিচ্চিটা বেশ বিরক্ত করছে, কিছুক্ষণ পরপর ঘ্যানঘ্যান। বিরক্তিরও একটা সীমা থাকে। "মিলি", রান্নাঘর থেকে হাঁক দিল বড়বোন লিলি, "দেখ না বাবু কাঁদছে কেন! "
মিলিঃ ক্ষুধা পেয়েছে হয়তো, ঐজন্যই কাঁদছে।
লিলিঃ একটু আগে না খাওয়ালাম?
মিলিঃ তাইলে আমি কি জানি কাঁদছে কেন?
লিলিঃ দেখ না নেংটি শুকনা কিনা,
মিলি জবাব দিল না। ক্রিং ক্রিং করে আবার ফোন বেজে উঠলো।
মিলিঃ হ্যালো?
আয়াজঃ মিলি, প্লিজ ফোন রেখো না
ওপাশে আয়াজের গলা। ভয়ার্ত স্বর, আয়াজের অভিনয় প্রতিভার নিদর্শন দেখানো আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে।
আয়াজঃ মিলি আছো?
মিলিঃ আছি, তবে কতোক্ষোণ থাকি ঠিক নাই। মেজাজ আর খারাপ করো না। কি বলার বলো।
আয়াজঃ মিলি আজকে কতো তারিখ?
এক মুহূর্ত চুপ করে রইলো মিলি, তারপর খট করে ফোনটা রেখে দিল।
বাবুটার ঘ্যানঘ্যান আবার শুরু হয়েছে। লিলি রান্নাঘর থেকে শোবার ঘরে এল। কোলে তুলে নিয়ে দোলাতে লাগলো, ফোঁপাতে ফোঁপাতে কান্না থামালো বাবু।
ভুরু নাচিয়ে ইশারায় জানতে চাইলো লিলি, কে?
মিলি আস্তে করে চোখটা বন্ধ করে এলিয়ে পড়লো বিছানায়... ... পৃথিবীটা একমুহূর্তের জন্য থেমে যায় না কেন?




৪.

বিকেল নাগাদ আয়াজের মাথা ঠান্ডা হলো কিছুটা ।---শান্ত হয়ে চিন্তা করতে হবে। স্রষ্টা বলে কিছু নেই। এ পত্রিকাটা হয়তো প্রকৃতির কোনো ভুল। ভুল হতেই পারে... মোদ্দা কথা, আমাকে টিকে থাকতে হবে-- নিজেকে মোটিভেট করতে লাগলো। এতোক্ষণে এ কথা মেনে নিয়েছে, ছবিটা তারই। আর রিপোর্টার কমসে কম এই একক্ষেত্রে উজবুক না। যে করেই হোক, মাথা ঠান্ডা রাখলেই চলবে। কোনোভাবেই উত্তেজিত হওয়া যাবে না। আয়াজের হার্টের কোনো সমস্যা নেই। সব ঠিকঠাক মত চললে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যাবার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একদিনে প্রকৃতি দু-দুবার ভুল করবে, এমনটা হতে পারে না। করলেও সে অমোঘ নিয়তি, কিইবা করার আছে! তবে আয়াজ নিজে সর্বোচ্চ যা করতে পারে তা হলো হার্ট স্বাভাবিক রাখা। মিলি থাকলে বেশ হতো, ওর ডাক্তারি জ্ঞান কাজে দিত। আচ্ছা, এইসব আজগুবি কথাবার্তা মিলিকে বললে কি মিলি ওকে বিশ্বাস করতো? একবার ফোন করে খুলে বলা যায়!

দুবার রিং হতেই ফোনটা আবার ক্রেডলে রেখে দিল আয়াজ। নাহ...এ ভুল করা যাবে না। মিলি প্রতিবার ফোন কেটে দিতেই তার মনটা বেজায় খারাপ হয়ে যায়। এটাও হার্ট এটাকের কারণ হতে পারে, কিছুই বলা যায় না। আজকের দিনে মিলিকে ফোন করা যাবে না। কাউকে ফোন করা দরকার। কাকে করা যায়? পান্থ? হয়তো ভাল বন্ধু না...ভালো বন্ধুর প্রয়োজন নেই। আপাতত বুকের ভার হালকা করা দরকার। রিং হতে লাগলো পান্থর মোবাইলে... আয়াজ তার মধ্যেই ভাবতে লাগলো, পান্থ কি বিশ্বাস করবে?
পান্থঃ হ্যালো, আয়াজ! কি অবস্থা দোস্ত!
আয়াজ চুপ করে রইলো।
পান্থঃ দোস্ত, আমিই তোরে ফোন দিতাম! হইছে কি ... শোন, তুই যেই টাকাটা দিছিলি না...
না ওকে টাকার কথা তুলতে দেয়া যাবে না, দ্রুত ভাবলো আয়াজ। কয়েকদিন আগেই সাড়ে চার কোটি টাকা ধার নিয়েছে...ঐটা কোনভাবে জলে গেছে এরকম খবর দেয়া পান্থর পক্ষে খুব সম্ভব। ওর কথার মোড় ঘুরিয়ে দিতে হবে। বাদ সেধে আয়াজ বললো, পান্থ, হার্টবিট কমে গেলে কি খেতে হয় জানিস?
পান্থঃ দোস্ত, আমারে জিগায়া কি ফায়দা? ভাবি আছে না?
আয়াজঃ তোরে যেটা জিজ্ঞেস করছি সেটা বল।
পান্থঃ দোস্ত, তুই এক মিনিট ধর, আমি বাসার থেইকা নামতাছি। কাছেই ফার্মেসি। দরকার হইলে ডাক্তাররে জিগায়া জানমু। ওষুধ কিন্যা এক্ষুনি আসতাছি আমি, তুই ঠান্ডা হ।
আয়াজঃ ডাক্তার লাগবে না, ওষুধও আনতে হবে না। তুই খালি ফার্মেসিতে জিজ্ঞেস কর। আমি আবার ফোন করবো।
ফোন রেখে দিল আয়াজ, পান্থকে বেশি কথা বলতে দেয়া যাবে না। নিজেকেই শোনাল, কুল ডাউন, কুল ডাউন।




পান্থঃ হ্যালো দোস্ত, লোসান নামে একটা ওষুধ আছে। খুব কামের। ভাল কোম্পানির বানানো। বুঝছস...তো কার জন্যে লাগব? কয় পাতা আনমু?
আয়াজ চুপ করে শুনলো। তারপর কলটা কেটে দিল। পান্থ কি জানে ওর তেলতেলে কথায় যেকারো পিত্তি জ্বলে উঠে? পান্থকে একদিন বলা দরকার, ও যতোটা বেকুব মনে করে আয়াজকে, আয়াজ ততোটা বেকুব না। মিলির ওষুধের ড্রয়ারে খুঁজতে শুরু করলো আয়াজ। হিস্টাসিন, এলবুমিন, ক্লোফেনাক, ফ্লুগার...রাশি রাশি ঔষধ। এর মাঝে লোসান কোথায় পাবে? মেজাজ ঠিক রাখতে পারলো না আয়াজ। মাটিতে ছুড়ে ফেলতে লাগলো সব ঔষধ। তারপর ক্ষান্ত দিল, ততোক্ষণে ঔষধে পুরো ঘর সয়লাব। কুল ডাউন, কুল ডাউন--নিজেকেই বললো আয়াজ। মাথা ঠান্ডা রাখলে ঔষধের দরকার পড়বে না। কিছুক্ষণের মধ্যে শান্ত হয়ে এল আয়াজ, দ্রুত ধুকপুক করছিল তার হৃৎপিন্ড, ধীরে ধী্রে স্বাভাবিক হয়ে এল। তখুনি চোখে পড়লো ট্যাবলেটের ফাইল। লাল কালিতে লেখা নাম-লোসান। পান্থ গাধাটা কি জানে লোসান ট্যাবলেট বোতলে থাকে, পাতায় না? পরমুহূর্তেই আয়াজের মাথায় যে চিন্তাটা খেললো তা হল, পান্থ লোসান নামটা জেনে বলেছে তো?



৫.

রাত নেমে এসেছে। দীর্ঘ একটা দিন গেল আয়াজের। পড়ে আছে দীর্ঘ একটা রাত। ডুপ্লেক্সের সিড়ির ধাপে বসে আয়াজ। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো দরজার সামনে, ঠিক যে জায়গায় ওর লাশ ছিল। হাতের মুঠোয় লোসান এর ফাইল। কর্ডলেসটাও পাশেই রাখা। আয়াজ ভাবছিল, পত্রিকার পৃ ২ কলাম ৭ এ কি লেখা আছে? একবার পড়ে দেখবে? নাহ! পড়া যাবে না। এ পত্রিকা এক্সিস্ট করে না, এরকমটা ধরে নিতে হবে। আজকের রাতটা শুধু যাক। ঘড়ির ডায়ালের দিকে তাকিয়ে রইলো। পেন্ডুলামটা দুলছে...দুলছে...শুধু দুলেই যাচ্ছে। ঘড়ির কাঁটাটা এগুচ্ছেই না। শান্ত থাকার চেষ্টা করছে আয়াজ, তবু সময়ের সাথে তার ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা বেড়েই চলছে। দুয়েকবার হাত দিয়ে বুকের বা পাশটা অনুভব করার চেষ্টা করলো, হৃৎপিন্ডের পেন্ডুলামটা দুলছে তো?

একটা সময় পুরো শহর নীরব হয়ে গেল। নীরব তার বাসাটাও। শুধু পেন্ডুলামের দুলে যাওয়ার শব্দ...টিক-টিক-টিক। এমন যদি হয় কোনো কারণ ছাড়াই ওর হৃৎপিন্ড বন্ধ হয়ে গেল? তাহলে? আস্তে আস্তে আয়াজের ভাবনারাও অসহায় হতে লাগলো। একবার মনে হলো---এটা কি স্রষ্টা ওকে সুযোগ করে দিল? হয়তো শেষ ইচ্ছা পূরণের সময় দিয়েছিল? ইশ...সে একবারও বুঝতে পারলো না! বোকার মতো বেঁচে থাকার আয়োজন করতে লাগলো। সময় কি শেষ? আর কি একটুও বাকি নেই?


টেলিফোনটা তুলে নিল। ডায়াল করলো আবার...মিলি!
হ্যালো?
মিলি এই এতো রাতেও জেগে। জীবন একটা সময় চক্রের মতো হয়ে যায়। পুরোনোরা সব ফিরে ফিরে আসে। কানে কানে বলে, আমি হারাইনি।
মিলিঃ হ্যালো?
আয়াজ কিছু বলতে পারলো না। গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু নেমে এল...কতোদিন পর... আহ!
মিলিঃ আয়াজ?
আয়াজ নীরবে মাথা নাড়লো। আর কি অদ্ভূত করেই না মিলি দূরালাপনীর ওপ্রান্ত থেকে বুঝে ফেললো!
মিলিঃ চুপ কেন? আজ কথা খুঁজে পাচ্ছো না?
আয়াজ ডানে-বামে আস্তে করে মাথা নাড়লো। মিলি এবারও যেন বুঝে ফেললো। ওপাশ থেকে মৃদু ফোঁপানির আওয়াজ পেল আয়াজ।
মিলিঃ কেন এমন হয়?
এই প্রথম আয়াজ জবাব দিল, জানি না।
তারপরে দুজনেই চুপ। নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে লাগলো দুজন দুজনার।
কিছু বলবে না?-- মিলি কাতর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো।
সেই মুহূর্তে আয়াজ খুব করে বেঁচে উঠতে চাইলো। মনে পড়লো, এই পৃথিবীতে কখনোই সে একা ছিল না। জন্মের পর থেকেই মা ছিল ছায়ার মতো...তারপর মিলি ছিল। তার জীবনে হয়তো খুব অল্প কজনার ভালোবাসা ছিল, তবে সে ভালোবাসায় খাদ ছিল না। আয়াজ আরেকটিবার ... শেষবারের মতো খুব করে বেঁচে উঠতে চাইলো।
ডান হাতটা বুকের বাপাশে রেখে বুঝতে চেষ্টা করলো। হৃৎপিন্ড কি আস্তে আস্তে থেমে যাচ্ছে? হ্যা! ধুকপুকানির শব্দ আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে! না...আয়াজ হাল ছাড়বে না। কাঁপা কাঁপা হাতে লোসানের ফাইলটার মুখ খুললো। ফোনের ওপাশ থেকে মিলি ডাক দিল, আয়াজ!
আয়াজ এক মুঠো ট্যাবলেট মুখে পুরে দিল।

ওপাশ থেকে আরো একবার কাতর কন্ঠে ডাক শুনতে পেল.."আয়াজ!"



৫.
"এই সময়" পত্রিকয় একুশে নভেম্বর, বুধবার শেষ পাতার উপরের কোণায় একটা খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

নগরীতে যুবকের রহস্যময় মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক গতকাল রাতে নগরীর টয়েনবি সার্কুলার রোডের এক নির্জন বাসা থেকে ত্রিশোর্ধ এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা এখনো বলতে পারছে না এটা সাধারণ মৃত্যু নাকি হত্যাকান্ড, নাম না প্রকাশ করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য জানিয়েছেন, ভিকটিম খুব সম্ভবত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন, যদিও ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে কিছুটা রহস্যজনক মনে হচ্ছে। প্রতিবেশি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, দুদিন ধরেই ঘরের দরজা জানালা যেমন ছিল তেমন আছে, কেউ বের হচ্ছে না বা ঢুকছে না। কোনো আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে না। সন্দেহ হলে প্রতিবেশিরা দরজায় নক করে। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়া যাওয়াতে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে। সদর দরজার কাছেই যুবকের উপুড় হয়ে থাকা লাশ পড়ে ছিল। উল্লেখ্য, টয়েনবি সার্কুলার রোডের বাড়ীটিতে শিল্পপতি আরিফ চৌধুরীর পুত্র আয়াজ চৌধুরী থাকতেন। পুলিশ মৃতদেহটি আয়াজ চৌধুরিরই কিনা তা নিশ্চিত হচ্ছে। বাকি খবর পৃ২ কঃ৭ দ্রষ্টব্য



মিলির চোখ ঝাপসা হয়ে এলো, ডুকরে কেঁদে উঠলো কাগজটাকেই বুকে চেপে ধরে। বাকিটা খবর তার আর পড়া হলো না। এ একঘেয়ে নগরে বাকিটা খবর কেউ পড়েছে কিনা কে জানে...তবু কোনো এক উজবুক সাংবাদিক পুরোটা লিখেছিল...




নগরীতে যুবকের রহস্যময় মৃত্যু
শেষ পাতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বিচ্ছেদের জের ধরে আয়াজ চৌধুরী আত্মহত্যা করেন। যদিও এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলের আলামত হিসাবে পুলিশ কিছু ঔষধ আর ঔশধের বোতল জব্দ করেছে। বিশেষজ্ঞ মতামত, প্রাপ্ত ঔষধ গুলো দুর্বল হার্টের রোগীরা ব্যবহার করে থাকেন, তবে অতি ব্যবহারে স্বাভাবিক মানুষের হৃসযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে। সিড়ি থেকে গড়িয়ে পড়ে মৃতদেহের মুখমন্ডল থেতলে যাওয়ায় ভিকটিম আয়াজ চৌধুরিই কিনা তা সনাক্ত করা সম্ভব হয় নি। পুলিশ জোর তদন্ত চালাচ্ছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29005274 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29005274 2009-09-05 21:39:16
ইতস্ততঃ ১.
গল্পকার কেমন করে গল্প লেখে?
এ প্রশ্ন আমার মাথায় ব্লগে আসার আগে কখনো আসেনি। ছোটবেলা থেকে পড়ে আসা গল্পগুলোর গল্পকারদের অন্য গ্রহের কেউ বলেই মনে হতো। তারপর ব্লগে আসলাম, মনে হলো এই গ্রহের অনেকে সেই অন্য গ্রহের ওদের চাইতেও ভালো লেখে। আমাকে পড়ার নেশায় পেল... অনেক অনেক পোস্ট পড়তে লাগলাম। একটা সময় নিজেও সাহস করে লেখতে শুরু করলাম। প্রতিবার লেখা শেষে বিরক্ত হতাম। মনে হতো কি ছাইপাশ লেখলাম! দেই মুছে! অন্যরা কতো ভালো লেখে! তখন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলাম (অ)গাণিতিকের। ভাবতাম...কিভাবে লেখেন?

তারপর আরো অনেকের লেখা পড়লাম, আমার শুধু জানতে ইচ্ছে হতো...কেমন করে লেখে এমন করে? সেই সুলেখকেরা হয়তো প্রফেশনাল সিক্রেট হিসাবেই এ রহস্য ভাঙ্গে না। অথচ আমি দুকলম লেখতে যে আড়াইখানা কলম ভাঙি, সে গল্প বারবার বলতে ইচ্ছা করে।

আমার লেখার পেছনের গল্প বাদ, এটা শুনতে কেউ আগ্রহী হবে বলে মনে হয় না। হলেও উপকারে আসবে না। অন্য কথা বলি।




২.
ব্লগের খারাপ সময়গুলোর কথা বলার ইচ্ছে ছিল...সব বলার রুচি হচ্ছে না। ব্যক্তিগত ঝামেলা এম্নিতে খুব কম পেয়েছি, তারপরেও দুয়েকটা ছুটোছাটা ঘটনায় খারাপ লাগা থেকেই ব্লগ থেকে একটু দূরে দূরে থাকা শুরু করলাম, এক সময় কাজ না থাকলে ব্লগে আড্ডা দিতাম, আজকাল দুয়েক কমেন্টে বিদায় নেই। পড়ি, ভাল লাগলে কমেন্ট করি, নাহয় চুপ থাকি। হাসিব এর ব্যানের ঘটনার পর পরিচিত এক ব্লগারের কথায় খারাপ লেগেছিল। আমি আমার অবস্থান বুঝাতে পারি নি। উনি ইঙ্গিতে কিছু বুঝালেন। আমিও বুঝলাম... আর বুঝলাম, আরো দূরে থাকতে হবে। চানাচুর অথবা আউলা একবার বলছিল, ব্লগকে সিরিয়াসলি নেবার কিছু নেই। প্রথম প্রথম মানতে চাইতাম না...আস্তে আস্তে তিতা সত্য মেনে নিয়েছি।

হাসিবের ব্যানের পর যখন আনব্যান হাসিব আন্দোলন চলতাছিল, আমার অবস্থানটা হয়তো বিতর্কিত ছিল। ব্যক্তি হাসিবের ব্যান-আনব্যানে আমার কিছু যায় আসে না। এই নিয়ে আন্দোলনেও আমি অর্থ পাই না। যখন নীতিতে সমস্যা, আর নীতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার সমস্যা, তখন হাসিবের মতো আরো অনেক ব্লগারই ব্যান হতে পারে। তাদের কারো জন্য আনব্যান ঝান্ডা লাগিয়ে কেউ আন্দোলন করতো না। নীরবে অনেকেই বিদায় নেয়... তাদের খবর কেউ রাখে না। পরে অবশ্য ঠিকই আনব্যান হাসিব ঝান্ডা কমে গেল, মডারেশনে স্বচ্ছতা চাই ঝান্ডা লাগানো হলো। শেষ পর্যন্ত সে স্বচ্ছতাও আসেনি।

দুদিন পরপর ব্যান-আনব্যান-জেনারেল খেলা এখনো চলছে, এইটা নিয়া কিছু বলতেও আর ইচ্ছে হয় না। ব্লগের বেসিক প্রিন্সিপালটা এখানে, সামুতে কাজ করে না। ভিন্নমত যদি অধিকাংশের মত না হয়, তাহলেই কতল হতে হয়। সম্প্রতি অমি পিয়াল জেনারেল হলো... যুক্তি কি কে জানে? সবাই যা শুনতে চায় তা-ই বলা কি ব্লগিং? আমার কথাগুলো কোথায় বলবো তাহলে?

সামুর মালিকেরা ভেবে দেখতে পারে, তাদের অনলাইন ব্লগার সংখ্যাটা সবসময়ই ১০০-১২০ এর কাছাকাছি কেন। অনেক দিন তো হলো...আমি যখন শুরু করি তখনো সংখ্যাটা এরকম ছিল। এক বছরেও কি ব্লগার বাড়ে নাই? হয়তো তাই, কে জানে?


৩.
আমাদের নৈতিকতাবোধ নামতে নামতে কোথায় গেছে আল্লাহ মালুম! দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন এখন যেন কে? পদকটা আসলেই আমাদের ফিরিয়ে দেয়া উচিৎ। ভাবছেন, হঠাৎ এ কথা কেন? তাহলে শুনুন...

কয়েকদিন আগের খবর, আজাদ হোটেলের মালিক আজাদ তার অফিসে এক পুলিশ অফিসারকে মারধোর করছে। তারপর পুলিশ অফিসার মামলা করায় আজাদকেও রিমান্ডে নিয়ে একদফা দেয়া হইছে। উক্ত পুলিশ অফিসার ঘটনার পরপর ইটিভিতে একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছিল, যেটা দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছিল। ঘটনাটা তার জবানিতে অনেকটা এমন, সে আজাদের কাছে গিয়েছিল ভাইয়ের চাকরির তদ্বির করতে। সেখানে আজাদকে গোপন কিছু করতে দেখে, তাই আজাদ ঘটনা চাপা দিতে মারধোর করে। আজাদের লোকেরা তার কাছ থেকে ২০ কি ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়! ঐ পুলিশ তারই সিনিয়র এক শীর্ষ কর্মকর্তা(এ.ডি.সি)র সামএনে বসেই ইটিভিতে এই সাক্ষাতকার দিল, যে ভাইয়ের চাকরির জন্য তদ্বির করতে গিয়েছিল।


লজ্জা-শরম কিএকেবারেই নাইই হয়ে গেল? তদ্বির করতে গিয়েছে, সেটাও আবার বড় গলায় বলে মামলা করছে এখন পুলিশ... সাংবাদিক কি একবারও জিজ্ঞেস করতে পারলো না যে তদ্বির করতে যাওয়াটা একজন পুলিশ অফিসারের জন্য কতোটুকু নৈতিক? এ.ডি.সি তো কমসে কম তার অধস্তন অফিসারকে জিজ্ঞেস করতে পারতো, "তুই কেন গেলি ব্যাটা?"

রবীন্দ্রনাথের আমলের বুড়োরা কিছু হতে না হতেই জিভ কেটে বলতো, "ঘোর কলিকাল এলো বলে!" কলিকাল কি তখুনি এসেছিল? তাহলে এখন কোন কাল চলছে?


৪.
দীর্ঘ এক মাস ধরে পরীক্ষা দিলাম। লম্বা সময়। হঠাৎ হঠাৎ গল্পের প্লট মাথায় আসতো...সে চিন্তায় জল ঢেলে দিতাম। পাশ করাটা বেশি জরুরি। এমনি করে করে এক হালি "হলেও হতে পারতো গল্প" মেরে ফেললাম। গল্পরাও এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে। আমার সাথে আড়ি নিয়েছে।
সুনীল বলেছিল, "কবি হতে হলে ফুলটাইম কবি হতে হবে।" লেখক হতে গেলেও কি তা-ই? হয়তো...


হাসিই পাচ্ছে ... ... ... ... দু-কলম লেখি, সেই দু-কলম লেখতে আড়াইখানা কলম ভাঙি...তারপরেও যে কেমন করে ফুলটাইম লেখক হওয়া স্বপ্ন দেখি!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29004896 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/29004896 2009-09-05 04:09:29
আধা-টেকি পোস্টঃ চুনোপুঁটিদের হ্যাকিং আর আমাদের সচেতনতা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_59.gif" width="23" height="22" alt="B:-)" style="border:0;" />
ডিসক্লেইমারঃ এটা মোটেই হ্যাকিং টিউটোরিয়াল না, এটা একটা আধা-টেকি টিউটোরিয়াল। চুনোপুঁটিদের হ্যাকিং বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই টিউটোরিয়াল। সম্প্রতি সেলিব্রেটি হাসান মাসুদের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হয়েছে, যদিও এসব কাজকে হ্যাক বলা হলে হ্যাকেরও অপমান! তারপরেও সময় এসেছে নন-টেকি পাবলিকদেরও সচেতন হবার। সামান্য বুদ্ধি খাটিয়ে কমসে কম চুনোপুঁটি হ্যাকিং তো আমরা ঠেকাতেই পারি! প্রসংগক্রমে, চুনোপুঁটি হ্যাকার তারাই, যারা হ্যাকিং এর 'হ'-ও জানে না, কিন্তু আপনার সরলতা আর অসচেতনতা কাজে লাগিয়ে সামান্য বুদ্ধি খাটিয়ে আপনার বিভিন্ন একাউন্ট হ্যাক করে। কেন অসচেতন থাকবেন??
*******************************************************************


ইদানিং শোনা যায়, আমার সামহোয়ারব্লগের একাউন্ট কিংবা আমার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হয়েছে। কিভাবে? কেউ কি আপনার পাসওয়ার্ড চুরি করে জেনে ফেললো? ফিশিং, বট, স্পাইওয়ার ছাড়াও নানা কিসিমের ভাইরাস দিয়েও আপনার একাউন্ট হ্যাক করা সম্ভব। তবে এই পোস্টের মুখ্য বিষয় সেটা না। কারণ এরকম হ্যাক যারা করতে পারে, আমাদের মত সাধারণ পাবলিকের একাউন্ট নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নাই। আমাদের মত সাধারণ মানুষদের একাউন্ট হ্যাক করে চুনোপুঁটি হ্যাকারেরা, যদিও তাদের হ্যাকার বলা যায় কিনা সন্দেহ!!


কিভাবে আমাদের একাউন্ট হ্যাক হতে পারে?

ধরুন আমার সামহোয়ারব্লগের পাসওয়ার্ড abcdef. এখন কেউ যদি আমার একাউন্ট হ্যাক করতে চায়, তাহলে হয় তাকে আমার পাসওয়ার্ড জানতে হবে, নয়তো আমার পাসওয়ার্ড বদলে দিতে হবে, যাতে আমি আমার একাউন্টে লগইনই করতে না পারি। এবার খেয়াল করে দেখুন, আমার পাসওয়ার্ড বদলে দিতে হলেও হ্যাকারকে আমার পাসওয়ার্ড জানতে হবে। তার মানে, পাসওয়ার্ড জানা ছাড়া হ্যাকারের কোনো উপায়ই নাই আমার একাউন্ট হ্যাক করার। সত্যি বলতে কি... এই কারণেই কোনো চুনপুঁটি হ্যাকারই ব্লগ অথবা ফেসবুক থেকে আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে পারে না। তাহলে? হ্যাক করে কিভাবে?<img src=" style="border:0;" />

আপনি কি জানেন, সামহোয়ারের নিজস্ব কোনো পাসওয়ার্ড রিকোভারি সিস্টেম নাই? রিকভার করার যেই সিস্টেম এরা ব্যবহার করে, তা মেইল-বেইজড সিস্টেম। অর্থাৎ আপনি পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কিংবা হারিয়ে ফেললে আপনাকে এডমিন পাসওয়ার্ড মেইল করে দেয় সেই একাউন্টে, যেই মেইল একাউন্ট দিয়ে ব্লগে রেজিস্টার করেছেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, আমার একাউন্ট দখল করতে হলে হ্যাকারকে আমার মেইল একাউন্ট দখল করতে হবে।

উপরের সবগুলো কথা শুধু সামহোয়ারব্লগ না, ফেসবুক, ফ্লিকার সহ যতো ফোরাম কিংবা সাইটে রেজিস্টার করেন, প্রায় সবগুলার জন্যই সত্য। খুব দুর্দান্ত হ্যাকার না হলে কিংবা আপনি খুব বোকার মতো সহজ কোনো পাসওয়ার্ড না দিলে কেউ সরাসরি এসব সাইট থেকে আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক করতে পারবে না - আশা করতে পারেন। আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে হলে তাকে হ্যাক করতে হবে আপনার মেইল একাউন্ট।

আপনার মেইল একাউন্ট কিভাবে হ্যাক হয়?
যেসব অতিপন্ডিৎ আশা করছেন যে কিভাবে হ্যাক হয় তা বলবো, তাদের আশায় গুড়েবালি। কিভাবে হ্যাক হয় তা আমি বলছি না। কারণ কি করতে হবে হ্যাক ঠেকাতে, তা বলাটাই আমার মূল উদ্দেশ্য।

মনে করে দেখুন, মেইল একাউন্ট খোলার সময় কি করেছিলেন। একটা রেজিস্ট্রেশন ফর্ম ছিল।

তাতে নাম, জেন্ডার, জন্মদিন, দেশ, পোস্টাল কোড, আপনার কাঙ্ক্ষিত মেইল আইডি, পাসওয়ার্ড, অল্টারনেট ইমেইল এড্রেস, গোপন সিকিউরিটি প্রশ্ন আর উত্তর... ইত্যাদি দিতে হয়েছে। আমরা সবাই সাধারণত কি করি? অতি উৎসাহের সাথে নিজের নাম দেই, জেন্ডার, জন্মদিন, দেশ, পোস্টাল কোড, সিকিউরিটি প্রশ্ন আর উত্তর - পূরণ করি। তারপর ভালো দেখে একটা মেইল আইডি নিতে চেষ্টা করি, দুর্বল কিন্তু মনে রাখার মতো পাসওয়ার্ড দিয়ে সেই একাউন্ট এর জন্য রেজিস্টার করি। যেটা করি না, সেটা হলো অল্টারনেট ইমেইল একাউন্ট, কারণ ঐটা না করলেও চলে।

এবার একটা প্রশ্ন করি, আপনি কি একাউন্ট খোলার সময় সবগুলো তথ্য ঠিকঠাক দেন?

উত্তরটা কি হ্যাঁ?
আপনি কি জানেন, হ্যাকাররা যদি কোনোভাবে আপনার দেয়া তথ্যগুলো জানতে পারে, তাহলে সেগুলো ব্যবহার করেই আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে পারে?<img src=" style="border:0;" /> চুনোপুঁটি হ্যাকাররা আসলে এই কাজই করে।

প্রশ্ন করতে পারেন, তারা আমার তথ্য জানে কিভাবে? আপনার একাউন্ট যে চুনোপুঁটি হ্যাকাররা হ্যাক করছে, তার কিন্তু আপনার পরিচিত, কিংবা ফেসবুক-ব্লগের কল্যাণে আপনার সম্পর্কে হালকা-পাতলা জানে। আর এই জানাটুকুই তারা কাজে লাগায়। উদাহরণ দেই। আমি যদি আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড হই, তাহলে আমি জানতেই পারি-- আপনি কোথায় থাকেন কিংবা আপনার জন্মদিন কি, তাই না? আপনার গোপন সিকিউরিটি প্রশ্ন হয়তো এরকম--আপনার প্রিয় ফুটবল ক্লাব কি কিংবা আপনার জন্মস্থান কোথায়। ফেসবুক-ব্লগ অনুসরণ করে সেটা বের করাও কঠিন কিছু না। এই তথ্যগুলো জানা থাকলেই যে কেউ বুদ্ধি খাটিয়ে আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে পারে।


তাহলে উপায় কি?
সদা সত্য কথা বলিব -- টাইপ আদর্শ ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যেতে হবে। একাউন্ট রেজিস্টার করার সময় ভুলেও কোনো সত্য তথ্য দিবেন না। জন্মসাল, ঠিকানা, পোস্টাল কোড, গোপন প্রশ্ন আর তার উত্তর -- যা যা আছে...সব উল্টাপাল্টা দিন। এমন কিছু দিন, যাতে খোদ আপনিও বলতে না পারেন যে কি দিলেন! শুধু এইটুকু করতে পারলে আপনার একাউন্ট কিন্তু সিকিউরড । কেউ আপনার মেইল একাউন্ট সহজে হ্যাক করতে পারবে না।

তবে একটা সমস্যা রয়েই গেল। আপনি যদি কখনো পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তখন কি হবে? যেহেতু আপনার দেয়া তথ্য আপনি দেয়ার সময়ই কি দিলেন বলতে পারেননি, তাহলে এখন কিভাবে পারবেন? আর আপনার পাসওয়ার্ড রিকভার করবেন?
এইখানেই আসে অল্টারনেট মেইল একাউন্টের প্রয়োজনীয়তা। নতুন মেইল একাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই আপনার অল্টারনেট মেইল একাউন্টের ঠিকানা দিবেন। এটাই হবে আপনার পাসওয়ার্ড রিকভার করার একমাত্র অপশন...বিশ্বাস করুন...সবচাইতে নিরাপদ অপশন।
এইখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ টিপসঃ একটা মেইল একাউন্ট খুলুন, যেটা শুধু আপনিই জানবেন, আর কেউ না। এবার এই মেইল একাউন্টই বাকি সব একাউন্টের জন্য অল্টারনেট মেইল একাউন্ট হিসাবে ব্যবহার করুন। ভুলেও এই একাউন্ট অন্য কোন কাজে ব্যবহার করবেন না, কাউকে এই মেইল-এড্রেস দিবেনও না।




তাহলে পুরো ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো?

১. মেইল একাউন্ট খুলার সময় কোনো তথ্য সত্যি দিবেন না। এমনকি মিথ্যাও দিবেন না, কারণ মিথ্যা সত্যির কাছাকাছি হয়। উল্টাপাল্টা দিবেন। যেমন প্রিয় ফুটবল ক্লাব প্রশ্নের উত্তরে adhklahfasfkjhkagjg এরকম কোনো উত্তর দিবেন। বার্সাভক্ত বলে রিয়ালকে ফেভারিট ক্লাব হিসাবে উত্তর দিবে না<img src=" style="border:0;" />

২. আইডি পাসওয়ার্ড আর অল্টারনেট ইমেইল এড্রেস বাদে কোনো সত্যি তথ্য দিয়ে মেইল একাউন্ট রেজিস্টার করবেন না। চাইলে নামটা ঠিক রাখতে পারেন, আর কিচ্ছু না, কিচ্ছু না।

৩. গোপন একটা মেইল এড্রেস খুলুন, সেটার কথা কাউকে জানাবেন না, কোথাও ব্যবহারও করবেন না। এই একাউন্টটি শুধুমাত্র আপনার নিয়মিত ব্যবহার করা মেইল একাউন্টগুলোর অল্টারনেটিভ এড্রেস হিসাবে ব্যবহার করুন। সবচাইতে ভালো হয়, যদি এই একটি মাত্র গোপন একাউন্ট আপনার ব্যবহার করা সব মেইল একাউন্টের অল্টারনেট এড্রেস হিসাবে সেট করেন। তাহলে মনে রাখার ঝক্কিও কমবে।

৪. পাসওয়ার্ড এমন কিছু রাখবেন না, যাতে আপনার পরিচিত কিংবা অপরিচিত কেউ ভুলেও আন্দাজ করতে পারে।

৫. একই পাসওয়ার্ড সর্বত্র ব্যবহার করবেন না। কেন করবেন না? ধরুন আমছালা.কম সাইটে আপনি রেজিস্টার করলেন সেই পাসওয়ার্ড দিয়ে, যা ফেসবুকেও দিয়েছেন। এখন আমছালা সাইটের এডমিন যদি প্রফেশনাল না হয়, সে হয়তো আপনার পাসওয়ার্ড ছড়িয়ে দিবে, কিংবা সে নিজেই তা আপনার ফেসবুক হ্যাক করতে ব্যবহার করতে পারে। আরেকটা কারণ হলো, কোনো একটা সাইটে আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক হলে বা লীক হলে, ঐ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা সব সাইটে আপনার একাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

৬. নম্বর, অক্ষর(বড় হাতের+ছোট হাতের), চিহ্ণ মিলিয়ে পাসওয়ার্ড রাখুন। (যদিও এই অপশনটা ততো গুরুত্বপূর্ণ না, যেসব চুনোপুটি হ্যাকার আমাদের মেইল একাউণ্ট হ্যাক করতে পারে, তারা কেউই সহজ পাসওয়ার্ডও হ্যাক করতে পারবে না)

৭. বিশ্বাস করতে পারেন না, এমন কারো পিসি থেকে মেইল একাউন্টে না ঢুকা উত্তম। সেক্ষেত্রে আপনার পাসওয়ার্ড চুরি যাবার সম্ভাবনা আছে<img src=" style="border:0;" />

৮. মেসেঞ্জারে ফাইল একসেপ্ট করার বেলায় সাবধান।



তাই যেকোনো সাইটে আপনার একাউন্ট হ্যাক হলে প্রথমেই খেয়াল করুন...আপনার মেইল একাউন্ট আপনারই আছে তো?





********************************************************************
আরেকবার ডিসক্লেইমারঃ আধা-টেকি পোস্ট কি -- বুঝাতে গিয়ে একবার বলছিলাম, এই পোস্টে হালকার উপর ঝাপসা আইডিয়া দেই। তাই সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেছি ফিশিং, বট, স্পাইওয়ার সহ পাসওয়ার্ড চুরির নানা কারিগরি। কারণ চুনোপুঁটি হ্যাকারেরা এই কাজ করতে পারে না। চুনোপুঁটি হ্যাকারেরা কি করে-- সেটাও ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গেছি, কারণ তা বলতে গেলে নতুন চুনোপুঁটির উদ্ভব হবে। আশা করি কমেন্টে কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন করবেন না বা কেম্নে হ্যাক করে তাও ব্যাখ্যা করবেন না। মেইল একাউন্ট নিরাপদ করতে এ পরামর্শগুলো একান্তই আমার অভিজ্ঞতা আর বুদ্ধিবিবেচনার আলোকে লেখা। কিছু বাদ পড়ে গেলে জানাবেন, আরো ভাল উপায় জানা থাকলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28999496 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28999496 2009-08-25 15:23:22
ভাতের গল্প

হাতিরপুল বাজারের ঠিক পেছনে পরীদের ঘর। নীল তেরপলের ছাউনি, পেছনে পাওয়ারবোর্ডের ময়লাটে হলুদ দেয়াল। মা-মেয়ে মিলে মাথা গোজার ঠাঁইটুকু এখানেই। বৃষ্টিদিনে একটু কষ্ট হয়ে যায়। এই যেমন আজকে। পরীর মা সবে কাজে বের হয়েছিল। এমন সময় আকাশ আঁধার করে বৃষ্টি। সে কি বৃষ্টি! এক হাত দূরের সব ঝাপসা হয়ে গিয়েছে যেন। দ্রুতপায়ে হাসিনা বানু ঘরে ফেরত আসলো। মেয়েটার জ্বর বেশ কয়েকদিন ধরে। তার মধ্যে এরকম বৃষ্টি।


তেরপলের এদিকে সেদিকে ফুটো। ফুটো বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। বিছানা ভিজে যাচ্ছিল, তবে সেদিকে পরীর খেয়াল ছিল না, মুগ্ধ হয়ে সে বৃষ্টি দেখছিল। মনে মনে কবিতা আওড়াচ্ছিল,
আয় বৃষ্টি ঝেপে ধান দেব মেপে, লেবুর পাতা করমচা যা বৃষ্টি ঝরে যা...
বৃষ্টি ঝরে যা... বলতে না বলতেই ত্রস্তপায়ে মা ফেরত এলো।


"হায় রে মরা, বৃষ্টিতে পুরা ঘর ভাইসা গেল আর তুই শুইয়া শুইয়া তামশা দেখতাছস? একটু ডেকচিটা পাইতা পানিটা ধরলে কি হাত ক্ষয় হইয়া যাইতো নি তোর? হাড়-কইলজা কালা করলি আমার"-- হড়বড় করে পরীকে ঝাড়তে ঝাড়তেই হাড়ি-পাতিল বের করে বৃষ্টির পানি ধরতে লাগলেন। তারপরে যেন নিজের অদৃষ্টকেই গাল দিতে বসলেন। পরী বড় বড় চোখ মেলে চুপ করে শুয়ে রইলো। কিছুই বললো না। আস্তে আস্তে হাসিনা বানুর গলার তেজ কমে এল। নিজ মনে শুধু বিড়বিড় করে চললো। বৃষ্টির তেজ তখনো কমেনি।
এমন সময় পরী বলে উঠলো,--মা, ভাত খামু।


হাসিনা বানু পরীর দিকে পিঠ দিয়ে বাইরের বৃষ্টি দেখছিল, আর অপেক্ষায় ছিল কখন বৃষ্টি কমবে। আজও যদি কাজে যেতে দেরি হয়, তাহলে খাইসটা বেটীর হাউকাউয়ে টেকা যাবে না। তিন তিনটা বাসায় দৌড়ের উপর ছুটা বুয়ার কাজ করতে করতে হাড়-কইলজা এক হয়ে গেল। কতো আশা করছিল, মা-মেয়ে মিলে বাসায় বাসায় কাজ করে ঘর-দোরটা একটু ঠিক করবে, তা না! মেয়েটা সারাদিন জ্বর-জ্বারি বাঁধাইয়া বইসা থাকে। এইসব ভাবতে ভাবতে যখন নিজের অদৃষ্টকেই গাল দিচ্ছিল, তখনি পরী বলে উঠলো, "মা, ভাত খামু।"
ঘুরে চোখ পাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো পরীর মা,"তোরে যেন ভাত খাওয়াই না?"
আস্তে আস্তে পরী জবাব দিল, "আরেকজনের আইডা ভাত না...গরম ভাত খামু।"
হঠাৎ রাগে যেন কান্ডজ্ঞান হারালো পরীর মা, ছুটে এসে অসুস্থ মেয়ের পিঠে ধুরুম ধারুম কিল বসিয়ে দিল, "ইহহ... নবাবের বেটি আইসে গরম ভাত খাইবো। কামে যাইবো না, ঘরে শুইয়া শুইয়া চান-তারা দেখবো আর হের লইগ্যা আমি আসমান থিকা গরম ভাত পাইড়া আনমু। কপালও আমার...এমুন মাইয়া জুটাইছে..." , বলতে বলতে এক ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল হাসিনা বানু। বৃষ্টির জোরকে পাত্তা না দিয়ে হনহনিয়ে হাঁটতে লাগলো। পরীর শান্ত চোখ দিয়ে শুধু কয়েক ফোঁটা পানি ঝরে পড়লো নীরবে...




আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি পড়ছিল। তার মাঝে হনহনিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হাসিনা বানুর হঠাৎ ওঠা রাগটা আস্তে আস্তে পড়ে গেল। হু হু করে কাঁদতে লাগলো আঁচলে মুখে চেপে। আর নির্জন পথটা বেয়ে দ্রুতবেগে হেঁটে চললো। অসুস্থ মেয়েটা অনেকদিন ধরে ভাত খেতে চাইছে। চালের যা দাম...এই বাজারে গরম ভাত কি সোজা কথা? বাসায় বাসায় কাজ করে এঁটো-ঝুটা যা পারে নিয়ে আসে, তাই দিয়েই চলতে হয়। মাস শেষের বেতন তো পাড়ার ছোকরাদের চান্দা দিতেই চলে যায়। দুটা ভালো মন্দ খাবার সুযোগ কই? মেয়েটা এখনও এইসব বুঝতে চায় না...আর কবে বুঝবে? এতো বয়স হইছে...এখনো বোকার মতো গরম ভাতের আব্দার করে। বৃষ্টির সাথে সাথে হাসিনা বানুর কান্নার বেগও বাড়তে লাগলো। আর কেমন করে যেন ভুখা মেয়েটার জন্য ভীষণ মায়া হলো।



খুব খিদে পেলে আগে খুব কষ্ট হতো পরীর। এখন খিদে ভুলে থাকার বুদ্ধি বের করেছে। কখনো কখনো আকাশের মেঘ গণে। একেকটা মেঘ দেখতে একেক রকম। কোনোটা দেখতে যেন তিন ঠ্যাংওয়ালা মানুষের মতো, কোনোটা আবার যেন চার চাকার গাড়ি। মাঝে মাঝে পরী তেরপলের ফুটো দিয়ে উঁকি দেয়া আলোর নকশা দেখে। ফ্রি স্কুলে ছোটবেলা বেশ কয়েকটা ছড়া শিখেছিল...তার অল্প কিছুই মনে পড়ে ইদানিং। মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়া ছড়াগুলো মনে করার চেষ্টা করে। এমনি করে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। সন্ধ্যে হলে মা ঝুটা-বাসি খাবার নিয়ে আসে...এভাবেই দিনগুলো এক এক করে কেটে যায় পরীর।
আজ কতোদিন হলো... গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত চোখেই দেখে না পরী! দুপুরের এ ঝুম বৃষ্টিতে বেশ ঘুম ঘুম ভাব হতে লাগলো পরীর...কল্পনাতে ভাতের ঘ্রাণ নিতে নিতেই ঘুমিয়ে পড়লো।




বৃষ্টিতে ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে শাড়ি। ঠিক করতে করতে কলিংবেল চাপলো হাসিনা বানু। বৃষ্টির জন্য আজ বেশ দেরি হয়ে গেছে। বেগম সাহেব চিল্লচিল্লি শুরু না করলেই হয় এখন। মেজাজ মর্জি ভাল থাকলে গরম ভাত হয়তো চাওয়া যেত...রান্নাঘরে সাহবেবাবুদের জন্য ভাত রান্না করতে গেলেই তার নিজের মেয়েটার কথা মনে পড়ে।

দরজা খুললো সাহেব। ঘোমটা মাথায় দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই সাহেব বলে উঠলো, "তোমার বেগম সাহেব তো আজকে নাই। রাত হবে আসতে।"
মনে মনে হাসিনা বানু যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। মুখে বললো, "কি রানতে হইবো কইয়া গেছে?"
"রাঁধো তোমার যা খুশি।"

দ্রুতপায়ে রান্নাঘরের দিকে গেল হাসিনা বানু আর পটু হাতে নিত্যিদিনের খুটখাট শুরু করে দিল। বেগম সাহেব আসার আগেই রান্না শেষ করে বাড়ি ফেরার চিন্তা করতে লাগলো। সাহেবকে বলে দেখবে, যদি গরম দুইটা ভাত দেয়। সাহেব হয়তো বেগম সাহেবের মতো খাইস্টা হবে না। এইসব ভাবতে ভাবতে হাত চালাচ্ছিল, হঠাৎ খুট শব্দে ঘুরে তাকালো। রান্নাঘরের ছিটকিনি লাগিয়ে সাহেব ঘুরে দাঁড়ালো। পুরো ব্যাপারটা আঁচ করতে কয়েকটা মুহূর্ত লাগলো হাসিনা বানুর। চিৎকার করতে যাবে, ওমনি সাহেব ঝাঁপিয়ে পড়লো ওর উপর। মুখ জাবড়ে ধরে সাহেব ওর চোখের সামনে কয়েকটা লাল নোট দুলালো। কতো হবে? ৫০? ১০০? চোখ ফেটে পানি বের হলো হাসিনা বানুর। এক পলকের জন্য ভুখা মেয়েটার কথাও মনে হলো। তারপর আর জোরাজুরি করলো না, কোনো শব্দও করলো না। শব্দ করলো শুধু জানালার শার্শিতে আছড়ে পড়া রাগী বৃষ্টির ফোঁটা।


সেদিন সন্ধ্যেবেলা গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সত্যিকারের গন্ধে পরীর ঘুম ভাংলো ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28987715 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28987715 2009-08-02 16:24:36
তপুর গল্প

১.
গম্ভীরমুখে বড়দের মতো করে পা নাচাতে লাগলো তপু। স্কুলের পেছনেই রায়বাহাদুরদের বাগানবাড়ি। সে বাগানবাড়ির এক কোণায় কিছুটা নির্জনমতো জায়গা। বাগানবাড়ির সে কোণার দেয়ালে আমরা বসে আছি। আমরা মানে তপু বসে আছে, তপুর পাশে আমিও বসে আছি। দুপা দুদিকে ঝুলিয়ে, হাতে ডাসা পেয়ারা। দেয়াল ঘেষেই আমগাছের মগডালটা। তাতে বসে আছে রঞ্জু, নির্বিকার মুখে ওর ভোতা ছুরিটা দিয়ে পেয়ারা কাটার চেষ্টা করে যাচ্ছে। গাছের গোড়ায় বসা নাহিন শুকনো মুখে ঘাস চিবুচ্ছিল।
এরকম এক সময়ে হঠাৎ করেই যেন বোমা ফাটালো তপু, “ আমি ঠিক করেছি বাড়ি ছেড়ে পালাবো”। আমি চমকে তপুর দিকে তাকালাম। কথাটা বাতাসে ছেড়ে দিয়েই তপু আবার নির্বিকার পা দোলাতে লাগলো। রঞ্জু নাহিন একটু সন্দেহের দৃষ্টিতে তপুর দিকে তাকালো, কিন্তু কিছু বললো না।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “সত্যি পালাবি?
নাহ, মিথ্যামিথ্যি পালাবো”, তড়িৎ জবাব তপুর।
আমি একটু ধাঁধায় পড়ে গেলাম, বুঝলাম না সলে সত্যিই পালাবে নাকি আমাকে বোকা বানাচ্ছে! তাই বোকার মতো আবার জিজ্ঞেস করে বসলাম, “সত্যি?
তপু চোখ পাকিয়ে তাকালো, ও কিছু বলার আগেই রঞ্জু ঝাড়ি মেরে বললো, “চুপ থাক হাঁদারাম”।
নাহিন আগের চাইতেও গম্ভীর হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “ কবে পালাবি?
আজ রাতে”, তপু জবাব দিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “একা একা পালাবি, হারিয়ে যাবি নাতো?” নাহিন হতাশ দৃষ্টিতে একবার আমার দিকে তাকালো, একবার রঞ্জুর দিকে। রঞ্জু ভুরু কুঁচকে আমার দিকে দুপা এগিয়ে এলো। আমি একটু সরে বসলাম, বলা যায় না! ঘুষি বাগিয়ে বসতে পারে!
নাহিন জিজ্ঞেস করলো, “কই যাবি ঠিক করছস?”
ঢাকা”।
উত্তেজিত স্বরে রঞ্জু জিজ্ঞেস করলো, “ঢাকা মানে! ঢাকায় কই যাবি? কি করবি?
তপু একটু হাসলো, “ ভাবছি এখানে থেকে আর কি হবে? এইসব ইস্কুল-টিস্কুল আর আমাকে দিয়ে হবে না। যেটা ভালো পারি, সেটাই করবো”।
নাহিন জিজ্ঞেস করলো, “মানে ফুটবল খেলবি?
হুমম”।
ঢাকায় তোকে কে দলে নিবে? জানিস ওখানে কতো ভালো ভালো খেলোয়াড়?
আমি বাদ সাধলাম, “আমাদের তপু কি কম ভালো খেলে? তোদের মনে নাই গ্রীন বয়েজকে কিভাবে হারালো?
তপু যেন আমার কথায় একটু আশা পেল, রঞ্জু সে আশায় জল ঢেলে দিল।
গ্রীন বয়েজ আর ঢাকার কোনো দল এক কথা না”, বললো রঞ্জু, “গ্রীন বয়েজ এখানকার মামুলি এক দল, আর ঢাকায় কতো বড় বড় ক্লাব!”
রঞ্জুর কথায় তপু চুপ মেরে গেল, কিন্তু আমি কিছুতেই মানতে পারলাম না। আমাদের তপুর চাইতে কেউ ভালো খেলতে পারে সেটা আমার কিছুতেই বিশ্বাস হয় না। এই তো কয়েকদিন আগেরই কথা। আমাদের থানা সদরের গতবারের চ্যম্পিয়ন গ্রীন বয়েজকে ১-০তে হারালাম। সেই একটা গোল তপুর করা। আমরা তো বটেই, এই থানা সদরের কেউ এমনকি গ্রীন বয়েজের কোচও জীবনে কর্ণার থেকে সরাসরি গোল দেখেনি। এরকম গোল যে দিতে পারে, সে নিঃসন্দেহে ঢাকার সবার চাইতে ভালো খেলে, এমনটাই আমার বিশ্বাস।

আমার একটু মন খারাপও হল। তপু চলে গেলে আমাদের আগ্রবাদ স্পোর্টিং ক্লাবটা আবার আগের মতো হারু পার্টি হয়ে যাবে। সেই পুরানো দৃশ্য...প্রতি ম্যাচে হালি গোল, তারপর কলোনির এ বারান্দা ও বারান্দা থেকে টিটকারি। নচ্ছাড় মেয়েগুলো তো বলেই বসবে, “ফুটবল যেন কি দিয়ে খেলে রে? হাত দিয়ে?” তারপর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাবে। তপু কলোনিতে আসার পর সব পালটে গিয়েছিল। কলোনিতে আমরা সবাই মোটামুটি হিরো হয়ে গিয়েছিলাম।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “তুই চলে গেলে আমাদের আগ্রাবাদ স্পোর্টিং এর কি হবে?
রঞ্জু, নাহিন সবারই একথায় একটু যেন মন খারাপ হলো। তপুও কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, তারপর ধীর গলায় বললো, “তোরা আছিস না?
আমি একটু হেসে বললাম, “আর আমরা!
তারপর সবাই চুপ হয়ে গেলাম। কেউ যেন কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছি না।
নাহিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে জিজ্ঞেস করলো, “তোর বাবা জানে? মা?
মাথা নাড়লো তপু, কেউ জানে না।
তোর নতুন মা-টা কি খুব খারাপ রে?
তপু চুপ করে রইলো। কিছু বললো না। আমার কেন যেন মনে হল ওর গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা পানি পড়লো। অন্ধকারে খুব ভালো বোঝা গেল না।



সেদিন সন্ধ্যায় তপুর খোঁজে আমাদের সবার বাসায় তপুর বাবা এল। সকাল হতেই কলোনির প্রতি বাসা জেনে গেল তপুর হারিয়ে যাওয়ার গল্প। দুপুরের মধ্যে পুরো থানা সদর। কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না তপুকে। ব্যস, তপু হারিয়ে গেল!



তপুর হারিয়ে যাবার পর কিছুদিন আমরা বেশ মনমরা হয়ে ঘুরে বেড়ালাম। মাঝে মাঝে আমি বাগানবাড়ির দেয়ালে বসে তপুর মতো করে পা দুলাতাম। রঞ্জুও মাঝে মাঝে আমার পাশে বসতো, কিসব যেন ভাবতো। আমাদের আর ফুটবল খেলা হলো না। কলোনির খালি মাঠটায় শুয়ে আমরা ঘাসের ডগা চিবুতাম, চিৎ হয়ে শুয়ে আকাশে মেঘের খেলা দেখতাম। মাঝে মাঝে দুয়েকটা মেঘ দেখতে কেন যেন তপুর মতো মনে হতো, সেকথা বললে রঞ্জুও আর ঘুষি বাগিয়ে আসতো না। তপুর হারিয়ে যাবার পর আমাদের কারো আর হালি গোল খাবার শখ হলো না। আগ্রাবাদ স্পোর্টিং ক্লাব লেখা রঙ্গিন কাগজটাও আমাদের নাকের ডগায় ব্যঙ্গ হয়ে বেশিদিন টিকে থাকলো না। খুব কায়দা করে রঙ্গিন কালিতে নামটা লিখেছিল তপু, বৃষ্টিতে সে রঙ ধুয়ে গেল। এমনি করে তপুর সাথে সাথে আমাদের রঙচঙা শৈশবটাও বুঝি হারিয়ে গেল।



২.
নানা ছুতো করে অফিস থেকে আজ একটু আগেভাগেই বেরুলাম। তবু ফ্যাক্টরি থেকে ঢাকা পৌঁছতেই সন্ধ্যা নেমে এল। অহনার জন্মদিন, বেচারির কোনো জন্মদিনেই থাকতে পারি না। কতোবার রেগেমেগে ভেবেছি, ফ্যাক্টরির চাকরি ছেড়েই দিব! ছাড়া আর হলো কই? এই বাজারে আরেকটা চাকরি ধরা সোজা কথা না। এইসব ছাইপাশ ভাবতে ভাবতেই অহনার জন্য খুব সুন্দর একটা মোবাইল কিনে ফেললাম। এই একটা গিফট দেব বলে তিন মাস ধরে টাকা জমাচ্ছিলাম। উপহার হাতে পেয়ে অহনার কিরকম খুশি হতে পারে ভাবতেই আমার সন্ধ্যাটা অন্যরকম মনে হতে লাগলো। এই জ্যাম, কালো ধোঁয়ার নগরী...কিছুই যেন আমাকে ছুঁতে পারছে না। সন্ধ্যে পেরিয়ে মাঝরাত্তিরের দিকে হেলে যাচ্ছে শহর...তবুও মনে হতে লাগলো, the night’s still young!

রিকশা সেগুনবাগিচার মোড় থেকে বাসার গলিতে ঢুকতেই হঠাৎ ব্রেক কষলো। আমিও যেন বাস্তবে ফিরে এলাম। ঘুটঘুটে অন্ধকার গলি, মিউনিসিপিলিটির বাতির কোনো খোঁজখবর নেই। অন্ধকার ফুড়ে দুজন মুশকো জোয়ান পথরোধ করে দাঁড়িয়ে আছে! একজনের হাতে ধারালো একটা ফলা চিকচিক করে উঠলো। পেটের কাছে ঠেকিয়ে ধমকে উঠলো, “যা আছে বের করা শালা ***” । আমার মধ্যে কি ভর করলো কে জানে, আমিও হাত থেকে মোবাইলের প্যাকেটটা ছাড়লাম না। ওপাশ থেকে আরেকজন হ্যাচকা টানে প্যাকেটটা কেড়ে নিল। আমি চিৎকার করতে গেলাম, তা-ই দেখে ছুরি ঠেকানো গুন্ডাটা পাজর বরাবর সজোরে ফাঁসিয়ে দিল ছুরিটা। তীব্র ব্যথায় ককিয়ে উঠলাম। গলগল করে রক্ত ঝরতে লাগলো। আমি ক্ষত বরাবর হাত চেপে ধরে কাতরাতে লাগলাম। এরকম সময়ে হঠাৎ বিদ্যুত চলে এল। রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে উঠলো। মোবাইলের প্যাকেট হাতে গুন্ডাটা দৌড়ে পালালো। শুধু ছুরি হাতের গুন্ডা অদ্ভূত চোখে তাকিয়ে রইলো। আমিও অবাক হয়ে তাকালাম। সেই বিষাদমাখা চোখ... সেই তপু!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28974723 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28974723 2009-07-07 12:35:00
বুবলির রূপকথা


বুবলির রূপকথা

দুহাত বেড়ের এতোটুকু জানালায়
নীল আকাশের এক ফালি দেখা যায়;
আর জানলার ঐ গরাদগুলোর ফাঁকে,
জল টলোটলো বিষাদমাখা চোখে,
বুবলিকে দেখা যায়…

বুবলির যতো স্বপ্ন ছিল হায়,
লাল-নিল ডোরা প্রজাপতি হয়ে
ফিঙ্গেটার পিঠে সওয়ার হবার স্বপ্ন ... স্বপ্নই থেকে যায়।
বুবলির রূপকথা ... রূপকথা থেকে যায়!


মা বলেছিল, বাবা আসবে আজ
নয়টা-বারোটা-দুইটা-চারটা
সন্ধ্যে নামে ... রাত হয়ে যায়...
বুবলির গালে মন খারাপের ভাঁজ।

তাই জানালার ঐ গরাদগুলোর ফাঁকে,
জল টলোটলো বিষাদমাখা চোখে,
বুবলিকে দেখা যায়...

বুবলির যতো স্বপ্ন ছিল হায়,
পথ খুঁজে ফিরে মাথা খুটে মরে গ্রিলের বারান্দায়,
বুবলির রূপকথা ... রূপকথা থেকে যায়!








বাবা দিবসে কিছু একটা লেখার অপচেষ্টা করছিলাম। সেদিনের অপচেষ্টাটাকে মুক্তি দিব কিনা ভাবতে ভাবতে মুক্তি দিয়েই দিলাম। সব শেষে আরো কিছু ছবি...অবশ্যই বাবা দিবসের থিমে।















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28969654 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28969654 2009-06-26 02:01:41
সূর্যবন্দী মেঘ...

মাথার বাম কোণায় হঠাৎ আলুর মতো গজিয়ে ওঠা মাংসপিন্ড দেখে ভয় পেয়ে গেল বাবা-মা। টিউমার-ফিউমার না তো? এই ডাক্তার সেই ডাক্তার দৌড়াদৌড়ি। তখন বয়স আমার কতো হবে? দশ-বারো দিন...হুমম। এরকমই হবে। ঘন ঝাকড়া চুলের মাথা নিয়ে জন্মেছিলাম। প্রথম প্রথম তাই আলুটা চোখে পড়েনি কারও। মায়ের অবশ্য ভিন্নমত, সেটা নাকি জন্মের কিছুদিন পরেই আস্তে আস্তে গজিয়েছিল। বাবা-মার দুশ্চিন্তাকে ছাপিয়ে গেল খালা-মামাদের দুশ্চিন্তা। অমুক ডাক্তার তমুক সার্জনের খবর আনতে লাগলেন নিয়মিত। যাই হোক, খালা-মামাদের ভালোবাসা কিংবা বাবা-মার কোন পূণ্যেই হয়তোবা...মাথার আলুটা আলু হয়েই মাথায় রইলো। বড় কিছু হলো না। সে আলুও আমি চুলের জঙ্গলে দিব্যি আড়াল করে রেখেছি। বলে না দিলে খুব কম মানুষই তার অস্তিত্ব বুঝতে পারে।<img src=" style="border:0;" />


শান্ত স্বভাবের জন্য সবাই আমার নাম দিয়েছিল ঠান্ডু মিয়া। ছোট বাচ্চারা যে শান্ত হতে পারে...এটা আজকালের বাচ্চাদের দেখে আমার একরত্তিও বিশ্বাস হয় না/<img src=" style="border:0;" /> । আজকালকার বাচ্চাদের কথা আজ বাদ দেই...আমার কথাই বলি। একেবারে ছেলেবেলার স্মৃতি বলতেই তো কাঠের লাঠিকে টিপু সুলতানের তলোয়ার বানিয়ে দিনমান দৌড়াদৌড়ির কথা মনে পড়ে। সে স্মৃতির সাথে ঠান্ডু মিয়া নাম যায় কিনা তা জানি না। তবে আমার মুড়ি খাওয়ার গল্পটা ঠান্ডু মিয়া নামের সার্থকতা প্রমাণ করলেও করতে পারে। ঘটনাটা এরকম। মা আমাকে আর বোনকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে গেছেন মুড়ি দিয়ে। বয়স তখন এক কি দেড়। বোনের বয়স তিন-চার। তখনো আমি হামা দিয়ে চলি, হাঁটতে শিখি নি। বোন মুড়ি না খেয়ে সারা ঘরে উড়াচ্ছে। রান্নাঘর থেকে মাও তাই মাঝে মাঝে ধমক দিয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। এরকমই এক সময় হঠাৎ করেই আমি হারিয়ে গেলাম। আমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বোন মুড়ি দিয়ে কদ্দুর ঘর সয়লাব করলো তা দেখতেই মা শোবার ঘরে এসেছিল। তখনই মা আবিষ্কার করলো যে আমি নেই। বাজারে যাবার আগে মনভুলো বাবা বাইরের দরজা খুলে রেখে গেছে, মায়ের ধারণা আমি হামা দিয়ে বাইরে চলে গেছি। বাসায় হুলস্থূল পড়ে গেল। বাবা বাইরে খুঁজে এলো। মা সারা ঘর খুঁজে বেড়াল। তারপরে এই নিয়ে চললো বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ...বোন কিছুই বলতে পারলো না। মাথা ঠান্ডা করে কিছুক্ষণ পর সবাই ভাবতে বসলো, আমি বিছানা থেকে আসলে নামলাম কিভাবে? সবশেষে সার্চ অপারেশন শেষ হলো তখন, যখন আমাকে খাটের নিচে পাওয়া গেল। আগেকার আমলের উঁচু খাট, সেখান থেকে আছাড় খেয়ে আমি টু শব্দও করি না। খাটের নিচে টিনের চিপায় হামা দিয়ে ঢুকে খেলছিলাম। আশেপাশের চেঁচামেচি গায়েই লাগেনি!<img src=" style="border:0;" />


জন্মের পরে সব শিশুই কিছুটা গাবদুগুবদু থাকে। আমিও ব্যতিক্রম ছিলাম না। স্বাস্থ্য বেশ ভালো ছিল। সেই সাথে আমার শরীরের হাড় ছিল খুবই নরম। সব মিলিয়ে তুলতুলে পুতুল আর কি! তাই আমাকে কোলে নিতে সবাই উৎসুক। আমিও সব বুঝতে পেরে সেই বয়সেই নিজের দাম বাড়িয়ে ফেললাম<img src=" style="border:0;" />। মার কোলে বাদে কারও কোলে যেতাম না। খালাতো-মামাতো বোনেরা কোলে নিতে আবদার করতো। আর আমি তাদের কোলে উঠা মাত্রই আমার ঠান্ডু মিয়া নামকরণের ব্যর্থতা প্রমাণ করে বাড়ি কাঁপিয়ে চিৎকার শুরু করতাম। আরেকবার মামাতো এক বোন আদর করতে গিয়ে হাত যেই না মুখের কাছে আনলো, সাথে সাথে আঙ্গুলে বসিয়ে দিলাম কচ্ছপ কামড়। বেচারি এখনো সেই স্মৃতির দাগ বহন করছে<img src=" style="border:0;" />। এমনি করে ঠান্ডু মিয়া তকমা এড়াতে বেশি সময় লাগেনি।

আরেকটু বড় হতেই আমি এটা সেটা ধরার বায়না ধরতাম। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, আমার মা বেশ কড়া মানুষ ছিল...বিশেষ করে সন্তান লালন-পালনে। একদিন আমাকে টেবিলে বসিয়ে মা ইস্ত্রি করছেন। এইসময় আমি বায়না ধরলাম ইস্ত্রি ধরবো। এ বায়নাটা আমি প্রায়ই ধরতাম। মায়ের মাথায় ঢুকলো, যে কখনো অসতর্ক মুহূর্তে গরম ইস্ত্রি যদি আমি ধরে ফেলি! নিদেনপক্ষে ঠান্ডা ইস্ত্রিও পায়ে পড়ে ক্যাঁচা খেতে পারি! তাই ইস্ত্রি ধরার জন্য সেদিন আমি ইস্ত্রির দিকে হাত বাড়াতেই মা গরম ইস্ত্রি হাতে লাগিয়ে দিলেন।<img src=" style="border:0;" /> সেদিনই বুঝে গেলাম...ইস্ত্রি আসলে আমার ধরার জিনিস না! <img src=(" style="border:0;" />

এখন এই বয়সে এসে ভুলে যাওয়া শৈশবের গল্প শুনে নিজেকে মেলাই। এই আমি কি সেই আমি? এখনও আলুটা মাথার কোণে আছে, খুলির একটা এক্সটেনশন হিসাবে কাজ করছে। কিন্তু সেই ঝাকড়া চুল আর নেই। কলেজ পর্যন্তও ছিল...ইদানিং গণকযন্ত্রকে মন্ত্র পড়াতে পড়াতে মাথার জঙ্গলের আয়তন ঠিক থাকলেও ঘনত্ব কমে যাচ্ছে। হাড় এখনো আগের মতোই নরম, তর্জনী উলটে বাঁকিয়ে হাতে লাগাতে পারি।<img src=" style="border:0;" />
পরিচিত কেউ আর ভুলেও ঠান্ডু মিয়া নামটা মনে করে না। বোনেরা কৃত্তিম ঝাঁঝে বলে," কেন কোলে আসতি না? তোরে খাইয়া ফেলতাম" ? আমিচুপচাপ শুধু হাসি। মাঝে মাঝে মামাতো বোনের হাতে আমারই কচ্ছপ কামড়ের চিহ্ন দেখি আড়চোখে, কিছু বলি না।
ছোটবেলায় ভুলে যাওয়া শৈশবের গল্প বলার সময় মা বলেছিল, "ইস্ত্রি দেখলে খালি হাত বাড়াইতি, তাই গরম ইস্ত্রি লাগায় দিসি। তারপর থেকে আর হাত বাড়াস নাই।" মাকে মাঝসাঝে জিজ্ঞেস করি, "এতো নিষ্ঠুর কেমনে হইলা? গরম ইস্ত্রি লাগায় দিলা? " এখন মা বলে, "বেশি গরম ছিল না তো...কুমকুমা গরম।" আমি আবারও স্বস্তির হাসি হাসি। <img src=" style="border:0;" />


এমনি করে শৈশবের অনেক গল্প বলা যেতে পারে...এ গল্পগুলো শেষ হবে না আসলে। স্মৃতিচারণের গল্প শেষ হয় না। নিজের স্মৃতিতে প্রিয় শৈশবের প্রায় সবটুকু আছে। যেটুকু শৈশবের স্মৃতি থাকার কথা না, তা আশেপাশের মানুষগুলো যত্ন করে মনে রেখেছে, মাঝেসাঝে শুনিয়ে যায়, স্মৃতিকাতর করে দিয়ে যায়। আমি অবাক হই...আমার মতো অভাগার জন্য তারা তাদের কিছু স্মৃতি বরাদ্দ রেখেছে। এ ভালোবাসাও কম নয়। সূর্যবন্দী মেঘের গল্পটুকু সেই ভালোবাসার মানুষদের জন্যই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28957524 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28957524 2009-05-29 20:03:59
স্মৃতি আর বিস্মৃতির অংক

অনেক অনেক দিন পর পর গ্রামে যাওয়া হয়। আসলে হয় না বললেও চলে। গ্রামের স্মৃতিগুলোও মধুর নয়। তারপরও অল্প স্বল্প যাওয়া হয়। শিকড়ের টান হয়তো...শিকড়ের টানও কিনা কে জানে! শিকড়ের টান আরো জোরালো হয়, এ হয়তো আগাছার টান। জানি না। খুব জোর করলেও আমি যেতে চাই না, এড়িয়ে চলি আমাদের গ্রামটাকে। কিছুই ভালো লাগে না। সমবয়সী কেউ নেই, বাচ্চা-কাচ্চাগুলো ভয়ে দূরে দূরে থাকতো। বড়রা ঢাকার মেহমান ভেবে অতিরিক্ত খাতির করতো, তাতে আমার অস্বস্তি পৌনপুনিকতায় বাড়তো, বয়সটাই এমন ছিল, মায়া কিংবা ভালোবাসাটা চোখে পড়তো না। নিজেকে নিয়েই মেতে থাকতাম, প্রায় অজানা অথচ একই আত্মার বাঁধনে বন্দীদের ভালোবাসায় অস্বস্তির রেশটাই বেশি থাকতো।


অজপাড়াগাঁ বলতে এক ঝলকে যা মনে হয়, আমাদের গ্রামটা ঠিক সেরকম ছিল। কারেন্টের বালাই ছিল না। খাম্বাও মনে হয় অতিরিক্ত পড়ে ছিল, পুরো দেশে পুঁতে শেষ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এ গাঁয়ে কয়েকটা পুঁতে রেখেছিল। খাম্বা তো না, ইলেকট্রিসিটির মুলা। গাধাদের চোখের সামনে স্বপ্ন হয়ে সে খাম্বা বিদ্যুতহীন হয়েই প্রায় তিন-চার বছর ছিল। শুধু যে এটুকুতেই অজপাড়াগাঁ, তা না। সারা দেশে গ্রামে গ্রামে রাস্তা, আর আমাদের ভরসা তখনো ক্ষেতের আইল। এই ক্ষেতের আইল পানিতে ডুবে গেলে এঁকিয়ে-বেঁকিয়ে ওই ক্ষেতের আইল। এমনি করে চলতো। বর্ষা এলে আমাদের সে গ্রামের বাড়িটা দ্বীপ...লঞ্চ থেকে নেমে অপেক্ষা করতে হতো নৌকার জন্য। রাত-বিরেতে পৌছাঁনো ঢাকার মেহমানদের নিতে কাকা-চাচারা ছুটে আসতো। ছয় ঘন্টার রাতের লঞ্চ ভ্রমণে আমার ক্লান্ত ঢুলু ঢুলু চোখ। মায়ের কোলে ঘুমে কাদা। কোন ফাঁকে নৌকায় করে বাড়িতে এলাম জানি না। এসে দেখি আধো আধো অন্ধকার, আমি হেঁটে চলছি। পায়ের নিচে নরম মখমল অনুভূতি। খড় বিছানো পথে হেঁটে যেতে যেতে মাকে জিজ্ঞেস করি, মা, ওরা কি আমাদের জন্য কার্পেট বিছায় রাখছে? আমার কথা শুনে সবাই হাসে...কেন কে জানে!


শৈশব এক অন্যরকম বয়স...পঙ্কিলতাগুলো চোখে পড়ে না। কাদাকাদা মাটির ভেজা ভেজা গন্ধ...বেশ ভাল্লাগতো। ঢাকার খুপরি বাসা থেকে মুক্তির স্বাদটাই হয়তো প্রভাবক ছিল। সারা বেলা পাটখড়ি নিয়ে মুরগী আর হাঁসের বাচ্চার পিছে তাড়া করতাম...কিংবা ছাগলের গলার দড়ি ধরে টানাটানি করতাম...কেন যে ছাগলটা ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে একগোঁয়ার্তুমি করতো! এই করে সারা বেলা পার। সন্ধ্যে নামতেই শীতের রাতে সবাই চুলার কাছে। গনগনে আগুন। তার মধ্যে পিঠার সমারোহ। লাকড়ি পোড়ানো আগুনে এক অদ্ভূত গন্ধ। আমি যা দেখি তাতেই কেবল অবাক হই। দূরে কোন ক্ষেতের আল বেয়ে ছোট্ট আলো নেচে নেচে ফিরতো। আমি অবাক হয়ে চেয়ে থাকতাম। অন্ধকারের এক অদ্ভূত মায়া আছে, সেই শৈশবে দেখা সে মায়া আজো ভুলতে পারিনি! রাতের নিস্তব্ধতায় অদ্ভূত সব শব্দ হতেই থাকে, আমি ঘুমোতে পারি না...... অবাক হয়ে শুনতে থাকি। রূপকথার গল্পের মতো করেই যেন আগুনের পাখি ছুটে আসে। মিটিমিটি করে জ্বলে। আমি লাফ দিয়ে ধরতে যাই। নাগাল পাই না। বড় কেউ মাঝে মাঝে এক আধটা জোনাই ধরে দিত...আমি দুহাত গোল করে আলোর পাখি বন্দী করে রাখতাম, আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিয়ে দেখতাম।


তারপর মোহভঙ্গের বয়স এলো। রাতের অদ্ভূত রহস্যময় সব শব্দ এক নিমিষে ঝিঝি পোকা হয়ে গেল। জোনাকিও আর তেমন একটা দেখা যায় না। কারেন্ট এলো, আলোকিত গ্রাম হলো। অন্ধকারের সব মায়া মুহূর্তে উড়ে গেল। আশেপাশের অতিরিক্ত খাতিরকে নিছক স্বার্থ মনে হতে লাগলো। শেকড়ের টানও ঢিল হতে লাগলো। কমে গেল বাড়ি যাওয়া। ঈদ-উৎসবে যে দুয়েকদিন যাওয়া হতো, তাও বন্ধ হলো। খুব প্রয়োজনে মাঝেসাঝে যেতাম। দিনে যেয়ে দিনেই ফিরতাম, রাতে থাকতাম না। স্যানিটেশন সমস্যা, ঘুমানোর সমস্যা, ভিলেজ পলিটিক্স ...কতো হ্যাপা! হয়তো মোহমুক্তিই বড় কারণ ছিল, কিংবা শহরের খোয়াড়ে খুব বেশিই মানিয়ে নিয়েছি... ইদানিং তাই আর গ্রামে যাওয়াই হয় না।


বহুদিন পর গ্রামে গেলাম, দিনে গিয়ে ফেরার প্লান ছিল, মায়ের ছলনায় দুদিন থাকতে হলো। সবার অনেক অনুরোধ, মান অভিমান...উপেক্ষা করা গেল না। যথারীতি বিরক্তির সাথে থাকলাম। সুযোগমতো রক্তচক্ষু মাকে দেখালাম, কিছু বললাম না। শহুরে সভ্যতার বিখ্যাত হাসিটা ঠোঁটের কোণায় ঝুলিয়ে পার করে দিলাম দু-দুটা দিন। আবারো খড়ের উপরে হাঁটলাম...শিশির ভেজা খড় বেশ নোংরা মনে হলো। মাটির সোঁদা গন্ধে নাক বন্ধ হয়ে এলো। এদিক সেদিক থেকে পোকার অত্যাচার। রাতে আলোয় আলোময় শহুরে গ্রাম, অন্ধকারের দিন আর নেই। এবাড়ি ওবাড়ি থেকে উচ্চস্বরে বিজাতীয় বাজনা, নির্জনতার দিনও আর নেই। বিরক্ত হয়েই যেন ঘর ছাড়লাম, আকাশ ভরা নীল তারারাও সে বিরক্তি দূর করতে পারলো না।

দুদিন বাদে ফিরে আসার সময় আকাশ জুড়ে কালো মেঘ। ঝড় ধেয়ে আসছে, বেশ বুঝা গেল। আমি টললাম না, ঢাকা ফিরবোই ফিরবো। ঘাড়ের কয়েকটা রগ বাঁকা, মা জানতো। সবার প্রশ্নোত্তর সামাল দিল, আমরা ফিরে আসতে লাগলাম। আহ...ঘরে ফেরা যেন শান্তি। পথেই নামলো বৃষ্টি। তাতে আমি হঠাৎ করেই নস্টালজিক হয়ে পড়লাম। বাসের খোলা জানলা দিয়ে আসা বৃষ্টির ছাট একটু একটু করে ভেজাচ্ছিল। একটু একটু করে আমি যেন বর্ষার প্রমত্তা মেঘনার উত্তাল খালে চলে গেলাম। সেখানে নৌকায় আমরা পিচিপাচ্চা কজনা বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপা। স্রোতস্বী খালের পানিতে নেমে নৌকা ঠেলছে গ্রামের চাচাতো ভাইয়েরা। এদিক সেদিক আমাদের হারিয়ে যাবার খবরে তুলকালাম কান্ড। সবাই খুঁজতে বেরিয়ে পানির কিনারে এসে থেমে যাচ্ছে। ভীষণ সে স্রোতটাকে ভয় না পেয়ে সাঁতরে এল ফুফু। আমরা ডুবিনি, তা দেখেই হু হু করে সে কি কান্না। আমাদের তখন বৃষ্টিতে মহা উল্লাস...কারো কান্না দেখার সময় নেই। সবার ভালোবাসার সবটুকু নিছক স্বার্থ ছিল না, তা বোঝার বয়স তখনো হয় নি, এখনো যেন হয় নি।


নাকে অদ্ভূত বাজে গন্ধ ঠেকতেই স্মৃতির পাতা উলটে ফেললাম। হুমম...শহরে এসে পড়েছি, প্রিয় শহরে। এখানে বৃষ্টিতে মাটির সোদা গন্ধ নেই। নর্দমার পুতিগন্ধময় পানিতে পুরো রাস্তা সয়লাব...স্ট্রিট ল্যাম্প আর এলোমেলো গাড়ীর হেডলাইটে আলোর মেলা। জোনাকি তো দূরের কথা, ধোঁয়ার মেঘে তারার ম্লান হয়ে যায়। এই আমার প্রিয় শহর। জোর করেই আবার স্মৃতিতে নাক ডুবালাম...কার্পেটের উপর গুটি গুটি পায়ে হাঁটছিলাম। মা, ওরা কি আমাদের জন্য কার্পেট বিছায় রাখছে? আবারও সবার হো হো হাসি...এতো হাসির কি আছে? কে জানে!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28952027 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28952027 2009-05-17 21:58:44
তর্জনী ১.

ভীষণ ভার ভার লাগছিল মাথাটা। এলিয়ে পড়াতেই শান্তি, তবু মাথাটা তুলতেই হলো। শরীরের সব শক্তি এক করে মাথাটা তুললাম। অচেনা কোনো জায়গায় আছি, তবে কোথায় বুঝতে পারছি না। ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরটা। শুধু ময়লাটে একটা হলদে বাল্ব জ্বলছিল মাথার উপর। আলোর চাইতে তা অন্ধকারই বেশি ছড়াচ্ছিল, ঘোলা ঘোলা চোখে অন্তত তা-ই মনে হলো। কাঠের চেয়ার, তার আবার একটা হাতল ভাঙ্গা। পায়াটাও নড়বড়ে, একটু নড়তেই ক্যাঁচকোঁচ করে উঠলো। ভীষণ ভারভার মাথাটা একটু ঘুরিয়ে পুরো ঘরটা দেখার চেষ্টা করতে লাগলাম। বন করে মাথাটা আরেকবার চক্কর মেরে উঠলো। মনে হলো যেন আবার জ্ঞান হারাচ্ছি। টেবিলে ঢলে পড়লাম। ঢলে পড়ার আগে শেষ মুহূর্তের হঠাৎ ঝলকে জিনিসটা চোখে পড়লো। একটা তর্জনী! একলা পড়ে আছে ধূলোমাখা টেবিলে। সাথে মধ্যমা নেই। অনামিকাটাও নেই। কেনে আঙুলটাই বা কোথায় কে জানে! জ্ঞান হারালাম ... ... তার আগে নিজের আঙুলগুলো গুনে দেখার অবসর হলো না।



২.

ইছামতি নদী। সে নদীর ধারেই গ্রামটা। ইছামতি মরে গেছে তাও বহুত দিন হলো। বর্ষায়ও এখন আর এর রক্তচক্ষু দেখা যায় না। ভীষণ রকম স্রোত নেই। শান্ত ঢেউ খেলা করে মাঝে সাঝে। তাই তেলকালি ছড়িয়ে ইছামতির বুক চিরে লঞ্চ স্টিমার আর চলে না। শান্ত নদীটার ধারেই তার চাইতেও শান্ত গ্রামটা। হলুদে হলুদ একটা গ্রাম। অবারিত সর্ষে ক্ষেত। দুচোখ যতোদূরে যায় শুধুই হলুদ। তার মাঝে মাঝে হঠাৎ এক ফালি সবুজ যেন মানুষের বসতির কথা মনে করিয়ে দেয়। বিকেলের যে মিঠেল হাওয়া নদীতে একটু স্রোত খেলিয়ে যায়, সে হাওয়ায় একটা বিশাল হলুদ ঘুড়ি ভাসছিল একদিন। মনে হয়েছিল যেন সর্ষের হলুদ আকাশে ছড়িয়ে গেছে। এগার-বার বছরের কিশোর একটা ছেলে নাটাই হাতে ছুটে চলছিল সর্ষে ক্ষেতের আল বেয়ে। আঙুলে তার সুতো প্যাঁচানো। কখনো কখনো দুএকবার আলপটকা টানে ঘুড়িটাকে তেড়িয়া করে ছুটাচ্ছিল, মেঘেদের সাথে কাটাকুটি খেলছিল।

সেই বিকেলে হঠাৎ করেই সর্ষে ক্ষেতের মাঝের সবুজ মনুষ্যবসতি সর্ষের রঙে হলুদ হয়ে উঠলো। আগুন জ্বলে উঠেছিল ...সর্ষে রঙ্গা হলুদের আগুনে ক্ষেত আর শান্ত সে ঘরগুলো একরঙা হয়ে গিয়েছিল...বিধাতারই কৌতুক বোধহয়। দূর থেকে শোনা যাচ্ছিল ছাড়াছাড়া গুলির আওয়াজ। আল বেয়ে ছুটে চলা কিশোরটা হঠাৎ গুলি খেয়ে উপুড় হয়ে পড়লো। তার হলদে ঘুড়িটা তখনো মেঘেদের সাথে উড়ছিল।




৩.

আতংকের একটা পর্যায়ে মানুষ তার স্রষ্টাকে ডাকতেও ভুলে যায়। মেজর খুরশীদ সেরকম আতংকে বিহ্বল হয়ে গেল। বিস্ময়ে হাঁ করা মুখটা বন্ধ করার কথা মনে রইলো না। ঘরের উপস্থিত সৈন্যরাও বিস্ফারিত নয়নে টেবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো। কিছুক্ষণ আগেও তারা বিজাতীয় ভাষায় প্রার্থনা করছিল। আস্তে আস্তে তাদের সব গুঞ্জন বন্ধ হয়ে এল। অস্বস্তিকর নীরব সে ঘরে টেবিলে মাথা এলিয়ে পড়ে আছে কিশোর ছেলেটা। হাতের কাটা অংশ থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল, আঙ্গুল কাটা সে রক্তে টেবিল লাল। সে রক্তের মাঝেই কাটা তর্জনীটা টেবিলে একটু একটু করে লাফিয়ে উঠলো। নাচের ভঙ্গিমায় কড়া বাঁকিয়ে নড়তে লাগলো... ... ধীরে ধীরে যেন নাটাইয়ের সুতা ছাড়ছে। আতংকে দুড়দাড় করে সেনারা ঘর ছেড়ে পালাতে লাগলো। মেজর খুরশীদ শুধু ফ্যাকাশে মুখে বিস্ফারিত নয়নে বসে রইলেন.........





একাত্তরে ইছামতি পাড়ের বিনোদপুর গ্রামে এক অদ্ভূত ঘটনা ঘটেছিল। পুরো গ্রাম পরিকল্পনামাফিক দখলে নেবার পর হঠাৎ করেই ৩৫ খানসেনা নিখোঁজ হয়ে যায়। তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28947504 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28947504 2009-05-07 14:22:58
তার আর পর নেই... ... ...
হঠাৎ করেই সকাল হয়নি। একদিন দুপুর হয়েছিল, তারপর দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। তারপর মেঘমেদুর সন্ধ্যা, একসময় নেমে এল রাত। সে রাতের কতো ভাগ। সন্ধ্যারাত, মধ্যরাত, ভোররাত...তারপর রাত পেরিয়ে ভোর...তারপর সকাল। তারপর আবার রাত হয়, রাত গড়িয়ে সকাল হয়, তারপর সকাল গড়িয়ে রাত। তারপর... তারপর... তারপর... তারপর মানুষ ক্লান্ত হয়। ক্লান্তিতে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে। তার আর পর থাকে না।


ছোটবেলার কথা। সারাটা খাতা আর ঘরের আসবাবের ছায়ামুক্ত কিছুটা দেয়াল জুড়ে গ্রাফাইটের আকিবুকি প্রমাণ হিসেবে রেখে পেন্সিলটা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেত। অবশেষ হয়ে রয়ে যেত ছোট্ট দু আঙ্গুলে জায়গা না হওয়া অচ্ছুৎ টুকরোটা। অভাবের সংসারে সে অচ্ছুৎ পেন্সিল টুকরোয় কাঠ বেঁধে লিখতে হতো...তারপর আরো কিছুদূর গ্রাফাইটের দৌড়...ক্ষয়ে ক্ষয়ে শেষ হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত। এ ভাঙ্গা পেন্সিলে সেই কাঠের টুকরোও বাঁধা গেল না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28939153 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28939153 2009-04-17 02:11:51
একলা(১লা) বৈশাখ; সাথে এক হালি গান

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো...

যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো...

মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো...
গান ডাউনলোড

*******************************************************************



আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে
পাগলা মনে রঙ্গিন চোখে, নাগরদোলায় বছর ঘুরে
একতারাটার সুরটা বুকে, হাজার তালের বাউল সুরে
দেশটা জুড়ে খুশির ঝড়ে একটা কথাই সবার মনে
আইলো আইলো রে
আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে


লাল পাড়ের ওই শাড়ির আচল, আলতা পায়ে খুশির নাচন
ইলশে ভাজা পান্তা খাওয়া, সব বাধার আজ খুলছে বাঁধন
পাগলা মনের খুশির ভিড়ে বৈশাখী রঙ লাগলো প্রাণে
আইলো আইলো রে
আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে


গাছের ডালে আমের মুকুল, আকাশ মেঘে সাজলো দুপুর
হালখাতা সব হিসেব শেষে, আসলো বছর নতুন বেশে
এক বাণীতে সব বাঙ্গালি খুশির মেলায় দেশটা হাসে
আইলো আইলো রে
আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে
পাগলা মনে রঙ্গিন চোখে নাগরদোলায় বছর ঘুরে
একতারাটার সুরটা বুকে হাজার তালের বাউল সুরে
দেশটা জুড়ে খুশির ঝড়ে একটা কথাই সবার মনে
আইলো আইলো রে
আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

গান ডাউনলোড

*********************************************************************



ঝড় এলো এলো ঝড়
আম পড় আম পড়
কাঁচা আম ডাঁসা আম
টক টক মিষ্টি
এই যা...
এলো বুঝি বৃষ্টি।

টুপটাপ পড়ে আম
পিছনে ও সামনে
চট করে গুটিকয়েক
ডাসা ডাসা আম নে
তারপরে দে না ছুট
চল চল জলদি
নইলে যে বৃষ্টিতে
ভিজে হবে সর্দি
আর তাতে হবে অনাসৃষ্টি
এই যা ...
এলো বুঝি বৃষ্টি।

সর্দিটা হলে ভাই
আম খাওয়া বন্ধ,
কাচা হোক ডাসা হোক
সবটাই মন্দ।
তার চেয়ে চল যাই
করি কিছু খাটনি,
নুন-ঝাল-তেল মেখে
করে নিই চাটনি।
কি যে মজা চাটনিতে
টক-ঝাল-মিষ্টি,
দেখলেই জিভ পুরে
আসে পানি বৃষ্টি,
আহা কি যে মিষ্টি মিষ্টি
এই যা...
এলো বুঝি বৃষ্টি।

গান ডাউনলোড


*************************************************************************



জেগেছে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে এ কি মাতন দোলা
জেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয় মাতন দোলা
বছর ঘুরে এলো আরেক প্রভাত নিয়ে
ফিরে এলো সুরের মঞ্জুরী
পলাশ শিমুল গাছে লেগেছে আগুন
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে


জেগেছে রমণীর খোপাতে বেলী ফুলের মালা
ভিনদেশী সুগন্ধী মেখে আজ প্রেমের কথা বলা
রমনা বটমূলে গান থেমে গেলে
প্রখর রোদে এ যেন মিছিল চলে
ঢাকার রাজপথে রঙের মেলায়
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি...

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে

গান ডাউনলোড



************************************************************************


বৈশাখের পহেলাকে একলা বলার গল্প আরেকদিন হবে। আজ-কাল-পরশু, দিন কাটুক নাচে-গানে-খুশিতে। সবাইকে আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28937195 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28937195 2009-04-12 22:16:06
স্বপ্নবাজ
তিরতিরে বাতাস বইছিল। চৈত্রের স্বভাবসুলভ এলোমেলো বাতাস, ঢেউগুলোও তাই এলোমেলো কিছুটা। তারই মাঝে ভেসে চলছিল নৌকাটা। না, কোন মাঝি ছিল না। কেবল যাত্রী ছিল একজন। সে শুধু শুয়ে শুয়ে আকাশটা দেখছিল যেন, আকাশে তখন ধবধবে সাদা দলছুট মেঘের ছুটোছুটি। মধ্যে মধ্যে তেড়িয়া হয়ে ছুটে আসা বুড়ো কালো মেঘগুলোর হুমকি... মেঘের খেলা দেখতে দেখতে হয়তো বৈঠা বাওয়ার ইচ্ছে মরে গিয়েছিল তার। এলোমেলো বাতাসে ইতস্তত ভেসে চলা মেঘের দল হয়তো মনে করিয়ে দিচ্ছিল কাশবনের গল্প। এরকম কোনো এক দিনে তারা শুয়েছিল কাশবনে...ঠিক এরকমই কোন চৈত্রমুখর দিনে। সেদিনও এমনি করে কাঠফাটা রোদ্দুর ছিল, তবু ছায়া হয়ে দুলছিল দেড় মানুষ সমান লম্বা কাশফুলগুলো। এলোমেলো মেঘ ছুটোছুটি করে আজ যেমনি ভাবে সূর্যটাকে ঢেকে দিচ্ছে, তেমনি করে সেদিন কাশফুলগুলো ছায়া হয়ে ছিল। চিৎ হয়ে শুয়ে তারা দুজনে কাশফুলের খেলা দেখছিল। কাশফুল আর মেঘেদের খেলা, সাদায় সাদায় রোদ ঢেকে দেবার খেলা কিংবা সূর্যের সাথে মেঘের বিরামহীন ছোয়াছুয়ি... এইসব দেখতে দেখতেই হয়তো বলছিল অনর্থক কিছু কথা, দুজনে মিলে বুনছিল অদেখার স্বপ্ন। চৈতালী বাতাসে কাশবনে এক শনশন আওয়াজ হতো, সে আওয়াজে তাদের কথাগুলো একান থেকে ওকান হতে হতেই হারিয়ে যেত, কাশফুলের মাথায় ঢেউ খেলিয়ে নদীর পাড়ে চলে যেত।

সেই নদীর কিনারা বেয়ে সেই কাশফুলের বনটাকে পেছনে ফেলে নৌকাটা এগিয়ে যাচ্ছিল, আজ সে আর কোনো কথা বলছিল না। ‘তারা’ থেকে ‘সে’ হয়ে যাবার অভিমানে নাকি অন্ধ কোন হতাশ রাগে...কে জানে? জানি শুধু aim in life রচনার aimless life এর মতো হালছাড়া নৌকায় সে দিগ্বিদিক ছুটে যাচ্ছিল। এলোমেলো ঢেউ সে নৌকাকে নিয়ে যেমন খুশি তেমন করে খেলছিল। চৈত্রের রুদ্রমূর্তি ঝড় সে নৌকাকে একটানে বাদামের খোসার মত উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু তাতেও মনে হয় নৌকার সে যাত্রীর কোনো উদ্বেগ হল না। নিরুত্তাপ সে মানুষ চোখ বুজে চিৎ হয়ে শুয়ে রইলো, স্বপ্ন, অতীত আর কল্পনার মিশেলেই হারিয়ে গেল।


তারপর এমনি করে অনেক অনেক অনেক-দূর ভেসে গেল নৌকাটা...এলোমেলো উদাসীন পথিক হয়ে। শেষ বিকেলে বহুদূর থেকে উড়ে এসে বসলো ক্লান্ত একটা কাক। নৌকার কিনারায় বসে সে পাখা জুড়ালো। স্রোতের টানে এলোমেলো ভেসে যাচ্ছিল নৌকা, আর তাতে অদ্ভূত নীরবতা...একটু অবাক হলো যেন কাকটা। কয়েকটা ছোট্ট কিন্তু সতর্ক লাফে সে ঘুরে বেড়াল মানুষটাকে ঘিরে। মানুষটা যেন দেখেও দেখলো না, এক চুল নড়লোও না। তারপর...


তারপর ক্ষুধার্ত কাকটা ঠোকর বসিয়ে দিল চোখের কাছটায়...আর্তনাদ করার মত প্রাণ তখন আর সে মানবদেহে ছিল না। চোখ খুবলে খুবলে খেয়ে চলা ক্ষুধার্ত কাকটা জানতো না...ঐ চোখে অনেক স্বপ্ন ছিল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28935027 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28935027 2009-04-07 22:53:35
ঘুম ভাঙ্গেনি... ১.

ঘুম ভাংতেই মনে হলো, আজকের সকালটা অন্যরকম, একদম আর দশটা সকালের মতো নয়। ঘাড়টা একটু কাত করে বেডসাইড টেবলের উপরের ঘড়িতে একবার চোখ বুলিয়ে নিল মিলি। হুমম...আসলেই অন্যরকম একটা সকাল। ঘড়ির ঘন্টার কাঁটাটা ছয় এর ঘরে, শেষ কবে ছয়টায় ঘুম ভেঙ্গে উঠেছে মনে করতে পারলো না! আলতো পায়ে নিজের ঘর ছেড়ে বেরুলো। পাশের ঘরেই মা-বাবা ঘুমুচ্ছেন, ফ্যানের শনশন আওয়াজ ছাপিয়ে তাদের দীর্ঘ নিয়মিত নিঃশ্বাসের আওয়াজ শুনতে পেল। তারপরে নীরবে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল মিলি। বেরুনোর সময় সদর দরজাটা টেনে দিল, কান পেতে শুনে নিল অটোমেটিক লকের ক্লিক আওয়াজ। ধীরে ধীরে ছাদের দিকে পা বাড়ালো।


সূর্য উঠেছে ঠিকই, নাহলে আকাশটার এতো আলো-আলো হওয়ার রহস্যটা কি? দালান-কোঠার ফাঁক-ফোকরে আটকা পড়েছে বেচারা সূর্য, আরো ঘন্টা দু-একের আগে মুক্তি পাচ্ছে না নিশ্চিত। কাক সম্প্রদায়ের নিত্যিদিনের নিয়মিত কা-কা কলরব ছাপিয়ে হরেক রকম পাখির কিচির মিচির শুনতে পেল মিলি। তার মধ্যে চড়ুইয়ের সংখ্যাই বেশি। দিন শুরু হতে না হতেই তাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। ফুড়ুৎ-ফুড়ুৎ করে এদিক সেদিক উড়ছে। সাথে আরো কিছু নাম না জানা পাখিও দল পাকিয়েছে, শালিক-দোয়েল-ফিঙ্গে হবে হয়তো! বাতাসটাও বেশ লাগছে। অনেকদিন পর সকালে উঠে ভালো লাগছে মিলির, একটু ক্লান্তও লাগছে। রাতটা খুব ভালো যায়নি, হাজারো সব অহেতুক চিন্তা ভিড় করেছিল, কি করলে কি হবে-না হবে...এইসব। প্রায় সারাটা রাত অঘুমো থাকার পরে শেষ রাতের দিকে একটু তন্দ্রামতো এসেছিল। কি এক অদ্ভূত টানে সে তন্দ্রাঘুম ভেঙ্গে চলে এল ছাদে...খারাপ হয় নি একেবারে! ক্লান্ত মিলি রেলিং এ পা ঝুলিয়ে বসে রইলো, গুনগুন করতে লাগলো কোনো এক অজানা সুরে...




২.

মিলির বাবা শওকত সাহেব এক্রোফোবিয়াক, উচ্চতাকে ভীষণ ভয় তার। ঠিক যে উচ্চতাকেই ভয় পান, তা না। শওকত সাহেবের ব্যাপারটা একটু অদ্ভূত। ছেলেবেলার তার দস্যিপনা এমনই ছিল যে নিজের গ্রাম তো বটেই আশেপাশের দু-তিন গ্রামে তার জ্বালায় কোনো পাখির বাসা আস্ত থাকতো না। আম-কাঠাঁলের গাছ থেকে শুরু করে তাল-সুপারি আর নারকেল গাছগুলোর চূড়ায় চূড়ায় ছিল তার অবাধ বিচরণ। সেই শওকত সাহেবই তরুণ বয়সে যখন শহরে পা দিলেন তখন রীতিমত চমকে গেলেন উঁচু উঁচু দালান দেখে। সারা জীবন মাটির অথবা টিনের একতলা ঘর দেখে এসেছেন, ওই তাল-নারকেল গাছগুলোর চাইতেও যে উঁচু দালান হতে পারে, তা উনার কল্পনাতেও আসেনি। হলের রুমমেটের বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করতেন, একদিন খুব শখ করে দেখতে গেলেন ৩২ তলা দালানের বাহার। ছাদে উঠে যখন নিচের দিকে তাকালেন, হঠাৎ আতংকে যেন শিউরে উঠলেন। গাড়িঘোড়া মানুষগুলো একেবারে গুড়ি গুড়ি পিঁপড়ার মতো দেখতে উপর থেকে...এতো উপর থেকেও স্পষ্ট দেখতে পেলেন যেন পিচ ঢালা কালো রাস্তাটা। একবার মনে মনে যেন কল্পনা করে ফেললেন, পা ফসকে পড়লে পুরো ছাতু।


সেই থেকে উচ্চতাকে তাঁর ভীষণ ভয়। আজকাল দু-তিনতলার ছাঁদ থেকেও নিচের দিকে তাকাতে ভয় হয়। তবু ধানমন্ডির মতো জায়গায় আজকাল তিনতলার নিচে কোনো বাড়ীই নেই-- এসব বলে-টলে মিলির মা তাঁকে দিয়ে বাড়িটা তিনতলা করিয়েছেন। বাড়ি বানালে কি হবে, ছাদে ভুলেও যান না তিনি। এই শেষ বয়সে মর্নিং ওয়াকের জন্য ছাদের বদলে পাশের ধানমন্ডি লেক বেছে নিয়েছেন। নামাজ শেষে মিলির মা তাই শওকত সাহেবকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন। ডায়বেটিস অথবা হার্টের সমস্যা শওকত সাহেবের নেই। তবু শেষ বয়সে আশেপাশের সমবয়সীদের সাথে একটু বন্ধুত্বের লোভেই মর্নিং ওয়াকে বের হন। মিলির মা তেমন একটা বের-টের হন না। তাই দরজাতেই শওকত সাহেবকে বিদায় জানিয়ে তিনি বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। বারান্দা থেকে স্বামীর যাওয়ার দৃশ্যটা দেখবেন বলেই হয়তো...


বারান্দার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে নিচের দিকে তাকাতেই তার গা হিম হয়ে এলো। ছোপ-ছোপ রক্তের মধ্যে একটা মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে গেটের সামনে, মরেই গেছে হয়তো... আশেপাশে মর্নিং ওয়াকওয়ালাদের গুঞ্জনরত একটা ছোট্ট ভিড়। মেয়েটার জামাটা অনেকটাই মিলির সবুজ-হলুদের মিশেল জামাটার মত! গত ফাল্গুনে তিনিই তো কিনে দিয়েছিলেন...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28933699 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28933699 2009-04-04 22:40:58
এতোটা ভালোবাসি…... <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_39.gif" width="23" height="22" alt=":`" style="border:0;" /> নিষ্প্রাণ নগরীতে ঝিঁঝিঁরাও ঘুমমম...
আমি চাঁদের আলো হয়ে, তোমার কালো ঘরে
জেগে রই সারা নিশি,
হুমম...এতোটা ভালোবাসি,
এতোটা ভালোবাসি…


এ কি অপরূপ সুন্দর তাহার স্বপ্নের বর্ষা রাতে,
আমি ভিজে ভিজে মরি মিছে মগ্ন প্রভাতে,
দেখি ভীষণ অন্ধকার মাঝে
আলো-ছায়ায় তার নুপুর বাজে,
আমি যে ভেবে ভেবে শিহরিত...


আমি সূর্যের আলো হয়ে, তোমার চলার পথে
ছায়া হয়ে তোমায় দেখি,
হুমম...এতোটা ভালোবাসি,
এতোটা ভালোবাসি।




অভ্যুদয় এলবামের এ গান, রিকল(Recall) ব্যান্ডের গাওয়া।

ডাউনলোড ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28932014 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28932014 2009-04-01 00:47:25
জলপাই প্রেম

আমরা সিভিলিয়ান মানে কিনা সাদাসিধে মানুষেরা খুব যে সাদা আর সিধে নই তা আমরা সবাই জানি, তবু না জানার ভান করতে করতে যখন ভুলেই যাই, তখন জলপাইরাঙ্গা বন্ধুরা মনে করিয়ে দেন। কেন জানি না, হিপোক্র্যাট বলেই হয়তো, রঙ চিনিয়ে দেয়া জলপাইরাঙ্গা বন্ধুদেরও শত্রু মনে হয়। কাকের মাংস কাক খায় না--এরকম একটা প্রবাদ আমরা আমাদের পুলিশ বাহিনীকে ব্যঙ্গ করতে প্রায়শই ব্যবহার করি। আজ মনে হয় কাকস্য কাক এর সবচাইতে বড় উদাহরণ পুলিশ না, আমরা---সাদাসিধে সিভিলিয়ানেরা!


খুব মনে পড়ে, পিলখানা বিদ্রোহের প্রথম দিনের কথা। বিডিআরের এলোপাথাড়ি গুলিতে রিকশাওয়ালা মরে গেছে। আহত অনেক। রাস্তায় গুলিতে লুটিয়ে পড়েছে নির্দোষ পুলিশ সার্জেন্ট, তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনের মায়া করলো না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মাথায় গুলি খেয়ে পড়ে রইলো রাজপথের উপর দেড়টি ঘন্টা...লাশটা আনার কেউ রইলো না। আমরা সাদা-সিধে মানুষেরা তখন পাগলা কুকুর হয়ে যাওয়া বিডিআরের সমর্থনে মিছিল করি। এ যে তাদের ন্যায়সংগত দাবির আন্দোলন...আমাদের সাদা-সিধে মানুষদের রক্তের উপর দিয়ে না গেলে চলবে কেন? তাই বলে কেউ ট্রাফিক সার্জেন্টকে বাঁচাতে যাওয়া মামুলি ছাত্রকে শহীদের খেতাবটা দিয়ে দিবেন না যেন! ও খেতাব জঙ্গীরা ধর্মসূত্রে কিনে রেখেছে, আমাদের বোমা মেরে মারার সময় নিজেরা আত্মঘাতী হবে, তখন খেতাবটা লাগবে না! আর কর্মসূত্রে কিনে রেখেছে জলপাইরাঙ্গা বন্ধুরা...উনাদের নিয়ে বেশি কথা বলা যাবে না। টুঁটি চেপে ধরবে যে!

এ তো গেল পিলখানার প্রথম দিনের কাহিনী, তখনো বিডিআরকে সমর্থন দিতে হাজার হাজার সাদাসিধে মানুষ পিলখানার বাইরে জমায়েত, কারও হাতে শান্তির প্ল্যাকার্ডও। যাক গে...শান্তি যদি আমাদের সাদা-সিধেদের সস্তার রক্তে আসে, ক্ষতি কি? ধীরে ধীরে কাহিনীপট ঘুরে গেল। দুইদিন পর যখন একটার পর একটা জলপাইরাঙ্গা বন্ধুদের লাশ ড্রেনের ময়লা পানিতে ভেসে উঠতে লাগলো, তখন আমরা সাদাসিধে মানুষেরা মুহূর্তের মাঝে দল বদলে নিলাম। জলপাইরাঙ্গা বন্ধু মরেছে বলে কথা! দেশ কাঁপিয়ে আর পত্রিকার প্রথম পাতা ভরে বুদ্ধিজীবীদের মতামত, তাঁদের বেশিরভাগই অবসরে যাওয়া জলপাইরাঙ্গা বুদ্ধিজীবী। পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে শুরু করে শেষ পাতা ,মাঝের পাতা ভরে গেল জলপাইরাঙ্গা বন্ধুদের লাশের ছবিতে আর তাদের পরিবার পরিজনের কান্না আর অসহায়ত্বের কথায়। দিনের পর দিন পত্রিকায় চলতে লাগলো মারা যাওয়া জলপাইরাঙ্গা বন্ধুদের কতো কৃতিত্ব, পরিবারের প্রতি কার কতো ভালবাসা, ইনিয়ে বিনিয়ে চলতে থাকলো রাজ্যের উপাখ্যান। আহা! টিভি পর্দার সামনে আমরা সাদাসিধে মানুষেরা মৃত্যু দেখি আর চোখের জল ফেলি। টিভিওয়ালারাও নির্মল বিনোদন এর সুযোগ ছাড়লো না। চায়ের দোকানে পত্রিকা হাতে চালাতে লাগলাম নিরন্তর আড্ডা...



আমরা সাদাসিধে হিপোক্র্যাটেরা তখন ধানমন্ডি লেকে নিহত জলপাইরাঙ্গাদের আত্মার স্মরণে মোমবাতি জ্বলাতে ব্যস্ত! মাঝে দিয়ে যে সিভিলিয়ান বেকুবেরা প্রাণ দিল, তাদের স্মরণ করার সময় ছিল না। নাহলে নিশ্চিত কিছু একটা করতামই করতাম, কয়েকটা মোমবাতির তো আর অভাব হতো না, নিদেনপক্ষে আগরবাতি হলেও চলতো। কেউ আবার ফেসবুকে কান্নারত জলপাই বন্ধুর ছবি দিয়ে শোক প্রকাশ করলাম। নিন্দা জানিয়ে আর বিডিআরদের বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস আর প্রোফাইল ফটো লাগালাম। জলপাইরাঙ্গা শহীদ(!) বন্ধুদের জানাজায় অংশ নিতে আমরা সাদাসিধেরা স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জানাজায় অংশ নিলাম। সাদাসিধে বেকুবদের মনে হয় জানাজা হয় নাই, পত্রিকার পাতায় আর টিভির ক্যামেরায় তো দেখলাম না, হলে নিশ্চয়ই দেখতাম। আর হলোই বা, সেখানে আমাদের ভিড় বাড়ানোর দরকার কি? আমরা বরং প্যারেড স্কয়ারে জলপাইরাঙ্গা বন্ধুদের আত্মার মুক্তি কামনা করতে আসি।

তারপর এক সময় পত্রিকার পাতা ভরতে থাকে জলপাইরাঙ্গা বন্ধুদের পরিবার আর অন্য জলপাইরাঙ্গাদের দাবি-দাওয়াতে। কারো দাবি কোটি টাকা, কারো দাবি প্লট-ফ্ল্যাট, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ...ইংলিশ মিডিয়ামের খরচের ঠেলা কি কম কথা? জননেত্রী, দেশনেত্রী পালা করে সব শহীদ জলপাইদের পরিবারকে দেখতে যান, অমুক সাহায্য তমুক সাহায্য ১০ লাখ-১৫ লাখ! মাথা ঘুরে যাচ্ছে হিসাব করতে করতে!


তারপর এক সময় পত্রিকাওয়ালারা ক্ষান্ত দিল। জল তো অনেক গড়াল, আর কতো? ঘটনার দুই সপ্তাহ পর প্রথম বুঝি কারো মনে হলো মারা যাওয়া বিডিআর সদস্যদেরও পরিবার বলে কিছু একটা আছে। ১৬ মার্চ(আগে পরে হতে পারে) পত্রিকার* প্রথম পাতার এক কোণায় আসলো নিহত(শহীদ না কিন্তু) বিডিআরদের পরিবারদের কথা, রিডাইরেক্ট করে দেয়া হলো ভেতরের সাদাকালো পাতায়। বিডিআর এর এইট পাশ জওয়ানদের পরিবারের মানুষদের জল শুকিয়ে-শুকিয়ে আসা চোখের কান্না দেখাতে চাররঙ্গা কাগজ ভরানোর কোনো মানে আছে? সেজন্যই হয়তো জননেত্রী-দেশনেত্রীদের চোখে পড়েনি এ সংবাদ, নাহয় নিশ্চিত চোখে পড়তো! শুনেছি বিডিআর নাকি আধা-জলপাই! তাদের পরিবারের কথা এলো ঘটনার দুই সপ্তাহ পরে, মরে যাওয়া নিতান্তই সাদাসিধে বেকুবদের কথা কবে আসবে পত্রিকায় কে জানে! না আসলেও চলবে মনে হয়...


এখন পত্রিকার পাতায় চিপায় চাপায় দেখি বিডিআর সদস্যদের আত্মহত্যা। একে একে নাকি আট-নয়জন আত্মহত্যা করলো! কয়জন করলো জানার কি দরকার? আমাদের জলপাইরাঙ্গা বন্ধুরা আছেন ওদের টেককেয়ার করতে। শুনেছি লাশের পোস্ট-মর্টেমে নাকি আঙ্গুলের মাঝে সুঁই পাওয়া গেছে? খারাপ না। জলপাইরাঙ্গা বন্ধুরা এর আগে আমাদের উপহার দিয়েছিল হৃদরোগ, অপারেশন ক্লীন হার্টে। তারপর ক্রসফায়ার, এখন আত্মহত্যা। আমরাও জলপাইরাঙ্গা বন্ধুদের সাথে এক হয়ে বুদ্ধি হাঁটুর গোড়ায় নামিয়ে ভাবি... যেখানে জওয়ানদের পরিবার-পরিজন তাদের পথ চেয়ে বসে আছে, সেখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন জওয়ানেরা আত্মহত্যা করছে...কি কলিকালই না আসলো!


ভাগ্য ভালো, আমাদের পাশে আমাদের জলপাইরাঙ্গা বন্ধুরা আছেন। তারা বারেবার বুটের তলায় পিষে আমাদের মনে করিয়ে দেন, “ব্লাডি সিভিলিয়ান”...গালি ভাববেন না যেন! আমরা যে সাদাসিধে তা ভুললে চলবে কেন? সেজন্যই তো উনারা মনে করিয়ে দেন। আর আমরা জলপাই প্রেমে দিনকে দিন মত্ত হই। সেই স্বাধীনতার আমল থেকেই এই চলে আসছে। বীরশ্রেষ্ঠ হবার মতো বীরত্ব আমরা সাদাসিধে মানুষেরা দেখাতে পারিনি একাত্তরে। বুকের সাথে গ্রেনেড বেঁধে ট্যাংকের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়া কিশোরের জীবন তেলাপোকার মতোই তুচ্ছ ছিল, তা কি সে জানত? মূর্খ কৃষক, মেধাবী ছাত্র আর ভঙ্গুর দেহের মজুরেরা যারা যুদ্ধে মরেছিল তারা বেঁচেছে। বাকিরা এখনো সে তেলাপোকা জীবন ধারণ করে চলছে। বীরশ্রেষ্ঠ, বীরপ্রতীক আরো কিসব পদক আছে না...ওইগুলার লিস্টিতে চোখ বুলিয়ে যাই, জলপাই রঙের ভিড়ে সাদাসিধে নামগুলো খুঁজে বেড়াই!

শেষে এসে ভয়ে ভয়েই বলি আজ, মানিনা আমি ওইসব পদক। পদকের লিস্টিতে চোখ বুলিয়েই শুধু নয়, আমাদের ৩৮ বছরের স্বাধীনতার পাতায় পাতায় চোখ বুলিয়ে দেখুন, হারামি পাকিদের যে ভ্রূণ আমরা আজও বহন করছি তা হলো এই জলপাইবন্ধুদের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতালিপ্সুতা!

*পত্রিকা হিসেবে প্রথম আলোর কথা বলা হয়েছে।



একবার মুছে যাওয়ার পর ফেরত পাওয়া পোস্ট। শেষ ছবিটা বোধহয় তেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়ে দিলেন, অথবা অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে...যাই হোক। পোস্ট ফেরত পেয়েছি, তাতেই খুশি।এতোদিন পর আসলে মন্তব্য করারও আর কিছু বাকি নাই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28930072 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28930072 2009-03-27 11:03:52
বৃথাই ভালোবাসার গল্প ১.

নীরবে শুধু তাকিয়ে রইলো আমার চোখের পানে, পলক ফেললো না একটিবারও। দৃষ্টির সে ভাষা বুঝতে চেষ্টা করতে লাগলাম।
রাতের খাবারের টেবিলে নিত্যিদিন ঝগড়া হতো, তারপরে ঘুমুতে আসার সময় চোখের মণি ঠিকরে বেরুতো ঝগড়ার অবশেষ হয়ে রয়ে যাওয়া রাগের ঝাঁঝটুকু... দৃষ্টিতে আজ সে ঝাঁঝ ছিল না।
তবে কি দুঃখ ছিল? কষ্ট ছিল? নাহ...সে দৃষ্টিতে কোনো দুঃখ ছিল না, স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট ছিল না। ছিল না কোনো বিশেষ রাতের দুষ্টুমি ভরা চোখে ঝরে পড়া কামনার ছায়া। বাবার বাড়ি যাবার আনন্দও ছিল না...আতিপাতি করে খুঁজে বেড়াতে লাগলাম একের পর এক নানা স্বাদের অনুভূতি...আর সব হাতড়িয়ে শেষে এসে হতাশ হয়ে পড়লাম।
সে দৃষ্টিতে যে শুধুই শূন্যতা ছিল... ছিল না অপেক্ষা। হয়তো অনাগত দিনের ভাবনা ছিল...তবে সে দৃষ্টিতে ফেলে আসা দিনগুলোর ভালোবাসার স্পর্শ ছিল না।


মায়ের পাশে শোয়া নিয়ে প্রতিদিনের কাড়াকাড়িতে ছোট্ট ছেলেটারই জয় হয়েছিল সেদিন। মায়ের পাশে শুয়ে ঘুমের ভান ধরে থাকা পিটপিট করতে থাকা চোখে আর সরু গোলাপি ঠোঁটের দিগবিজয়ী হাসির ছটায় সে জয়ের আভা বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছিল। হেরে যাওয়া অভিমানী মেয়েটা তখন উলটা পাশে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে ছিলো। জোর করেই যেন চোখ বুজে থাকতে চাইলো। হেরে যাবার দুঃখে উপচে পড়া চোখের পানিতে প্রাণপণে বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করে গেল। কান্নার দমকে দমকে পিঠ কেঁপে উঠছিল। তার মায়ের দৃষ্টি তখনো যেন শূন্য ছিল। মেয়েটা একবার চোখের কোলে গড়িয়ে পড়া পানি মুছবে বলেই যেন চোখ খুললো। আর ওই এক পলকেই আমি বুঝে গেলাম...... সে দৃষ্টিতে হেরে যাবার কষ্ট ছিল, অভিমান ছিল মায়ের উপর, শুধু সে দৃষ্টিতে অপেক্ষা ছিল না। ততোক্ষণে ঘুমে গলে পড়েছে ছেলে, তার দৃষ্টিপানে না চেয়েই বুঝতে পারছিলাম...হয়তো তার দৃষ্টি মায়ের মতো শূন্য ছিল না। কিন্তু সে দৃষ্টিতে আমার স্থান ছিল না। আমি নিঃশব্দেই বেরিয়ে এলাম শোবার ঘর হতে...ফিরে চললাম।

খুব নিষ্ঠুরভাবেই যেন বুঝতে পেলাম সারা জীবন ধরে ঘোর অবিশ্বাস করে চলা সে অমোঘ সত্য... মৃতদের জন্য কেউ অপেক্ষায় থাকে না




২.

ঈশ্বরের দরবারে তখন নীরবতা। পৃথিবীর কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়া মানবসন্তানের কান্নাতে সভাসদদের কেউ কেউ নিদারুণ কৌতুক অনুভব করছিল। স্বর্গে এসে লোভী মানবসন্তানেরা কতো কিছু চায়......ধন-সম্মান-নারী-সুখ, কতো কিছুই না চাইতে পারে পৃথিবীর পরীক্ষায় পাশ করে আসা বুদ্ধিমান মানুষেরা। আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়া এ বোকা মানবসন্তান চেয়েছিল অন্যকিছু, চেয়েছিল পৃথিবীতে তার ভালোবাসার মানুষদের কাছে ফিরে যেতে। সেই প্রথম যেন ঈশ্বরের নিজেকে বিজয়ী মনে হয়েছিল। তিনি যেন তার সভাসদদের দেখিয়ে দিলেন, মানুষের মনের ভালোবাসা তার সবচাইতে সেরা সৃষ্টি।

কিন্তু পৃথিবীতে ফেরার যে নিয়ম নেই! অনেক তর্ক-বিতর্কের পর সে সুযোগও দেয়া হয়েছিল মানুষটাকে, সভাসদেরা শর্ত দিয়েছিল একটাই, পৃথিবীতে কমপক্ষে একজন মানুষকে খুঁজে পেতে হবে, যে মৃত্যুর এতো দিন পরও ভালোবেসে তার অপেক্ষায় থাকবে। অন্যথায় তাকে নরকে যেতে হবে। ঈশ্বর তখনো মানুষের ভালোবাসার উপর আস্থা রেখেছিলেন। সে মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন ভালোবাসার মানুষদের কাছে।


নরকের ভয়ে যে মানুষ পিছু টলেনি, তাকে হেরে ফিরতে দেখে ঈশ্বর বুঝি হতাশই হলেন। মনে মনে ভাবলেন, ভালোবাসা কি তবে বৃথা গেল?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28925621 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28925621 2009-03-17 16:15:25
রোদ্দুরের গল্প ১.

রোদ্দুর! উফফ...কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এই একটা শব্দ মাথায় বেশ বাজেভাবে আটকে গেছে। রাগে যেন গা কাঁপছে। এটাকেই কি রাইটার্স ব্লক বলে নাকি? বিরক্ত হয়ে সামনের খাতাটা এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলে দিলেন জামাল সাহেব।

খাতা কলম ছুড়ে ফেলার আওয়াজ এমন ভয়াবহ কিছু না যে নার্গিস আরাকে রান্নাঘর হতে হুড়মুড় করে ছুটে আসতে হবে। কিন্তু ছুড়ে ফেলা খাতার উপরে যদি পেপারওয়েট নামক বস্তুটা থাকে, তা অবশ্যই আওয়াজের হিসাবে কম কিছু নয়। জামাল সাহেবের লেখার ঘরে ঢুকে এক পলকে আশপাশটায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। স্ত্রীর চাহনি অনুসরণ করে জামাল সাহেবও তার সাম্প্রতিক কীর্তির উপর নজর বুলিয়ে নিলেন। অতঃপর শুরু হলো বাজখাঁই কন্ঠে স্ত্রীর নিত্যদিনের সা-রে-গা-মা, “কি হয়েছে তোমার? তোমার জ্বালাতে তো ঘরে থাকা যাবে না! দুই মিনিট আগেই না তোমার ঘর পরিষ্কার করে গেলাম? এর মধ্যেই কাগজ-কলম ছিড়ে-ছুঁড়ে দোযখ বানায় রাখছো?”
দুই মিনিট না ছাই! দুই ঘন্টা ধরে এই এক রোদ্দুরের গল্প লেখবো ভেবে একদিস্তা কাগজ শেষ করলাম, আর উনি এখনো দুই মিনিটেই পড়ে আছেন--মনে মনে ভাবলেন জামাল সাহেব। মুখে অবশ্য কিছু বলার সাহস করলেন না। গিন্নির সা-রে-গা-মা তখনো চলছিলো, “বলো! আমি কি শুধু তোমার ঘরই গুছাবো, নাকি রান্না-বান্নাও কিছু করবো?” জামাল সাহেব চুপ করেই রইলেন। দুই নম্বর সতর্কীকরণ সংকেত চলছে, মুখ খুললে তা বারো নম্বর মহাবিপদ সংকেতে রূপ নিতে পারে। এদিকে উনার চুপ করে থাকাতে স্ত্রী যেন আরো তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন, “কি হলো? এখন চুপ কেন? বলো...ঘর ভর্তি করে কাগজ ছিড়েছো কেন?” কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন স্বামীর দিকে উত্তরের অপেক্ষায়। মিনমিনে কন্ঠে জামাল সাহেব জবাব দিলেন, “ইয়ে মানে, হয়েছে কি... একটা শব্দ আছে,মানে আর কি... ওই রোদ্দুর শব্দটা মাথায় আটকে গেছে। আর কিছু ভাবতেও পারছি না! রোদ্দুর নিয়েও লেখা আগাতে পারছি না।” বলেই বোকার মত হাসি দিলেন, যদি তাতে স্ত্রীর রাগ গলে। নার্গিস আরা রাগ ধরে রাখার চেষ্টা করেও খুব একটা পারলেন না, আস্তে আস্তে বললেন, “ঘরের দরজা-জানলা লাগিয়ে, পর্দা টাঙ্গিয়ে ঘর আন্ধার করে তুমি রোদ্দুরের গল্প লেখবা? ছাদে যেয়ে রোদ্দুরের গল্প লেখ”, একটু বিরতি দিয়ে কৃত্তিম ঝাঁঝের সাথে বললো, “আর আমাকেও একটু শান্তি দাও।” কথাগুলো বলতে যা দেরি, জামাল সাহেব সাথে সাথে হাঁটা দিলেন ছাদের দিকে...




২.

গিন্নি অবশ্য বুদ্ধি খারাপ দেননি, ভাবলেন জামাল সাহেব, ছাদে গিয়ে যদি রোদ্দুরের গল্প লেখার আইডিয়া পাওয়া যায় তো মন্দ কি! অবশ্য মূর্খ মেয়েলোকের এই এক সমস্যা...রোদ্দুরের গল্প লেখতে কি লেখককে রৌদ্রের মধ্যে বসে থাকা লাগবে? কেন, সে কি বিয়ের আগেই বিয়ের গল্প লেখে নাই? নারী জাতির বুদ্ধির কমতি নিয়েও কিছু একটা লেখতে হবে, কমসে কম এই টপিকে লেখতে তার আইডিয়ার অভাব হবে না, এইসব ভেবে বেশ খুশি খুশি লাগতে লাগলো।

লেখালেখির বেলায় এই বাজে স্বভাবটা আছে জামাল সাহেবের, একবার কোনো একটা শব্দ অথবা কথা মাথায় বিঁধে গেলে আর কিছু লেখতে পারেন না, যতোক্ষণ না ওই শব্দ নিয়ে একটা লেখা নামাতে পারেন। চব্বিশ ঘন্টা দিন-রাত ঐ এক শব্দ মাথায় ঘুরে। এখন যেমন রোদ্দুর দশা চলছে। সেদিন গাড়ি চালাতে চালাতে এফ.এম. রেডিও অন করেছিলেন, কোন এক গানের লিরিকসে রোদ্দুর শব্দটা ছিল। তার মাথায় যেন ঝংকারের মতো বেজে উঠলো শব্দটা, নিজের মনেই ভাবলেন, বাহ! বেশ কাব্যিক ভাব আছে শব্দটায়! রোদ্দুরের একটা গল্প লেখতে হবে। তার পর থেকে গত দুইদিন ধরে এই এক শব্দ তার রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে।

ছাদে অবশ্য বেজায় রোদ, চৈত্রের "ঠাডা রোদ" যাকে বলে। মাথার খুলি ভেদ করে ঢুকে যাচ্ছে। খুলির কড়াইয়ে যেন মগজ সিদ্ধ হচ্ছে। তবে যার জন্য এতো সাধনা সেই প্লট আর ধরা দিচ্ছে কই! উত্তর দিকের হলুদ বাড়িটার পাশের চুনকাম ছাড়া তিনতলা বাড়িটা রহমান সাহেবের না? হুমম, তাই তো। নিজের মনেই ভাবলেন জামাল সাহেব। ছাদের পানির ট্যাংকির চিপায় বেশ রঙ্গলীলা চলছে, রহমান সাহেবের মেয়েটা কোন এক ছেলের সাথে বেশ লুকোচুরি ভাব নিয়ে কথা বলছে, হাতে হাত রেখেছে নাকি? নিজের যৌবনকালের কথাও বেশ মনে পড়লো দেখতে দেখতে ... আচ্ছা! এইটা নিয়ে কি রোদ্দুরের গল্প হতে পারে? নাহ...এই মেয়ে নিশ্চয়ই বিকাল বেলা আরেক ছেলের সাথে প্রেম করবে, রাত্রে বেলা অন্য কারো সাথে প্রেমালাপ করবে। ডিজুস জেনারেশন বলে কথা! এদের নিয়ে রোদ্দুরের গল্প লেখবো না। অন্য কিছু ভাবি।


আচ্ছা, চৌধুরীদের বাড়ির আমগাছের ফাঁকে ফাঁকে আগে না কতো টিয়া উড়তে দেখা যেত? নিজেকেই যেন জিজ্ঞেস করলেন তিনি। মানুষ বাড়তে বাড়তে আস্তে আস্তে টিয়াগুলা পুরা নাই হয়ে গেল! এইটা নিয়ে কি রোদ্দুরের গল্পটা লেখা যায়? এক মুহূর্ত ভেবেই বাদ দিয়ে দিলেন আইডিয়া, ধুরর...রোদ্দুরের সাথে টিয়ার কোনো সম্পর্ক নাই। আমের বোল নিয়ে অবশ্য লেখা যায়। রোদ্দুরের সাথে আমের বোল এর বেশ একটা সম্পর্ক আছে। নাহ, আম খেতেও ততো ভালো লাগে না। যা ভালো লাগে না তা নিয়ে লেখার কোন মানে হয় না। অন্য কিছু ভাবতে হবে।


নিজের মনে এমনি করে একটার পর একটা আইডিয়া চষে বেড়াতে লাগলেন জামাল সাহেব।



৩.

চৈত্র মাসের আকাশে হঠাৎ দুই একটা কালো মেঘ দেখে ভড়কে গেলেন নার্গিস আরা। কালবোশেখী না তো? এইবার কি আগেই এসে পড়লো নাকি? ছাদে বরইয়ের আচার রোদে দিয়েছেন, কাপড়ও ছুটা বুয়াটা একটু আগেই মেলে দিয়ে আসলো। ক্লিপ লাগিয়েছে কিনা কে জানে! বাতাস দিলে উড়ে যেতে পারে। অসময়ের ঝড়ের আশংকায় চৌধুরীদের আমবাগানের আমগুলোর জন্যও একটু খারাপ খারাপ লাগলো, এবার আম ভালো হবে না মনে হয়, ঝড়ে বোল পড়ে গেলে হবে কোত্থেকে! ভাবতে ভাবতেই দেখলেন তখনকার দুই একটা কালো মেঘ এতোক্ষণে বিশাল দল পাকিয়ে ফেলেছে, ফোঁটায় ফোঁটায় বৃষ্টিও বুঝি এই পড়তে শুরু করলো। রান্না ফেলে ছাদের দিকে দৌড় দিলেন...এতো শখের আচারগুলো! সিড়ি বেয়ে চারতলার ছাদে আসতে আসতে বৃষ্টি পুরোদমে নেমে গেল। তাড়াহুড়ো করে আচার গুলো আগে সরালেন, তারপর ভেজা কাপড়গুলোই বালতিতে ভরে দ্রুত পায়ে হাঁটা দিলেন সিড়িঘরের দিকে। হঠাৎ মনে হলো স্বামীর কথা! আরে!! ছাদেই তো থাকার কথা, গেল কই? এদিক ওদিকে তাকিয়ে খুঁজতে শুরু করলেন। সিড়িঘর থেকে বের হয়ে ঘুরে তাকাতেই ট্যাংকির উপরে তার চোখ চলে গেল।


ট্যাংকির উপরে বসে জামাল সাহেব বেশ আরাম করেই লিখছেন। রোদ্দুরের গল্পটা এতোক্ষণে যেন পুরোদমে ছুটতে শুরু করেছে। বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় এখন কালি ধুয়ে না গেলেই হয়!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28920071 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28920071 2009-03-04 21:00:19
নিমগাছ---বনফুল পাতাগুলো ছিড়ে শিলে পিষছে কেউ।
কেউবা ভাজছে গরম তেলে।
খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে।
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।
কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।
এমনি কাঁচাই...
কিংবা ভেজে বেগুন-সহযোগে।
যকৃতের পক্ষে ভারী উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙ্গে চিবায় কত লোক...দাঁত ভালো থাকে।
কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হ'ন
বলে--নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না।
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না।
আবর্জনা জমে আসে চারদিকে।
শান দিয়ে বাঁধিয়ে দেয় কেউ...সে আর এক আবর্জনা।
হঠাৎ একদিন এক নূতন ধরণের লোক আসলো।
মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।
বলে উঠলো,--বাঃ, কি সুন্দর পাতাগুলো ... কি রূপ!
থোকা থোকা ফুলেরই বা কি বাহার... এক ঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাঃ--
খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল।
কবিরাজ নয়, কবি।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগলো লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না। মাটির ভিতর শিকড় অনেকদূর চলে গেছে। বাড়ির পিছনের আবর্জনাস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে রইলো সে।
ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষী বউটির ঠিক এক দশা।









-----------------------------------------------------------------------

পাঠক হিসেবে সবসময়ই উপন্যাসের ভক্ত ছিলাম। কখনো ছোট গল্প পেলে হতাশ হতাম। নিতান্তই স্টক খালি থাকলে ছোটগল্পে চালাতাম, কিন্তু তাতে পেট ভরতো না। ব্লগে এসে নানা ব্লগার তথা লেখকের লেখা পড়তে লাগলাম। ছোট-বড় সব ধরণের লেখা। বড় বড় সব লেখা যখন অপর বাস্তবে ছাপা হলো, আমি টাশকি খেয়ে গেলাম! এত্তো বড় লেখা মাত্র ২-৩ পৃষ্ঠা?! প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করলাম যে ব্লগীয় প্লাটফর্মের বই কবিতার হতে পারে। অথবা ছোট-গল্পের হতে পারে, কিন্তু তা ওই ছোটর সীমানা ছাড়িয়ে বড় হবে না। এই হতাশাটা আরো বেড়ে গেল এইজন্য যে আমিও উপলব্ধি করলাম, ছোটগল্পের সাইজে যেই হাবিজাবিটাই আমি লেখি না কেন, সেটা উপন্যাস সাইজের জীবনেও হবে না। তাই এবারের বইমেলা থেকে ছোটগল্পকে উৎসাহ দেবার জন্যই ছোটগল্পের একটা সংকলন কিনে ফেললাম! ছোটগল্প লেখক হিসেবে বনফুল অসাধারণ, রসবোধ আর সরল লেখনীতে আমি মুগ্ধ! এক লাইনে তিনি পুরা গল্পের চেহারা পালটে দেন। এ জিনিসটাই অবাক করার মতো। উপরের গল্পটার শেষ লাইনে এসেই আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। শেষ লাইনের ধাক্কাটা তার অনেক গল্পেই উল্লেখযোগ্য। তবে বই পড়ার পর একটা শংকায় আছি। উনার লেখাও কিছুটা "আমি আমি গোছের" ! ভয়ে আছি... রিমিক্স না হয়ে যায়! থাক বাবা...কিছুদিন আসল জিনিসই পোস্টাই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28918371 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28918371 2009-03-01 11:48:43
সাদা চোখে অপরবাস্তব
লোকালটক সম্পাদিত সামহোয়ারইন ব্লগের "অপরবাস্তব" বইটির ব্যাপারে সম্পাদকের একটা বক্তব্য আমার ভীষণ ভালো লেগেছে..." এটা ব্লগারদের বই"। তাই ব্লগার হিসেবেই এই বইটির একটি নিখুঁত সমালোচনা ব্লগারদের থেকেই প্রাপ্য। সাহিত্য বোদ্ধা কেউ সেটা করলে খুব ভালো হতো। কিন্তু অনেক দিন তার জন্য অপেক্ষা করে অধৈর্য হয়ে পাঠক হিসেবেই তা দিলাম।

প্রথমে নিজের পাঠাভ্যাস সম্পর্কে বলে নিই। আমি খুব সাধারণ মানের পাঠক, ভালো-খারাপের পার্থক্যটা মোটামুটি বুঝতে পারি। তবে সবচাইতে ভালো বুঝি কোন বই কেমন জনপ্রিয় হবে তা। যেহেতু আমি খুব সাধারণ পাঠক, খুব জনপ্রিয় বই বাদে তেমন কিছু পড়িনি; ক্ল্যাসিক, অনুবাদ আর জনপ্রিয় ধারার বাইরে আর্ট ঘরানার কোনো লেখা পড়িনি, সেহেতু আমার সমালোচনাতে অবশ্যই কোনো লেখার মান কমবে বা বাড়বে না...এ শুধুই আমার অনুভূতি সবার মাঝে ভাগ করে নেয়ার প্রয়াস।


প্রথমেই বলে নিই বইয়ের শ্রেষ্ঠ দিকগুলো। বিষয়বৈচিত্র আর হরেক রকম লেখনীর লেখকের সমারোহ হওয়াতে নিঃসন্দেহে এই ধরণের বই বৈচিত্র অনুসন্ধানীদের ভালো লাগবে। সেই সাথে আমি এটাও নিশ্চয়তা দিতে পারি, ২২ জন লেখকের অন্তত ৬-৭ জন বাংলাদেশের লেখালেখির মেইনস্ট্রীম পালটে দেবার ক্ষমতা রাখেন। সেই সাথে প্রতি গল্প শেষে লিঙ্ক দিয়ে দেওয়াতে আমি যারপরনাই খুশি। কিছু মানুষ নতুন করে ব্লগ জিনিসটাকে চিনতে পারবে। এমন মানুষও আমার পরিচিতের মাঝে আছে যারা ব্লগকে সময় নষ্টের কারখানা বলে থাকেন। তাদের জন্য এটা এক সমুচিত জবাব।


বইয়ের প্রকাশজনিত কিছু সমালোচনাও এই ফাঁকে সেরে নিই।
১. তাড়াহুড়ো অথবা অন্য কোনো কারণে বইয়ে অসংখ্য বানান ভুল...ব্যাপারটা পীড়াদায়ক। সেই সাথে বইয়ের কোথাও যুক্তবর্ণের(সংযুক্ত ল) প্রিন্ট ঠিকমতো আসেনি। গ্লানি, ম্লান শব্দগুলো বানান দৃষ্টিকটু হয়ে এসেছে।
২.বইটার প্রচারে যথেষ্ঠ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমি সংহতির সামনে দিয়ে দুইবার ঘুরেও বইটি যে এই স্টলেই আছে তা বুঝতে পারিনি। সেই সাথে মেলতে সংহতির স্টল খুঁজে বের করতেও কষ্ট হয়েছে। আমাদের ব্লগারদের মতো করে কেউ কষ্ট করে খুঁজে বের করবে তা আশা করি না। আমি এইটাও মনে করি না যে শুধু ব্লগারেরা কিনলেই বই সার্থক। দেশের সবচাইতে বড় পাঠক-গোষ্ঠী ধরতে না পারলে সেই বইকে সার্থক বলবো না।
৩. এইটা ঠিক তেমন বড় কোনো সমস্যা না, আমার নিজের মনের খটকা। আমার মনে একটা প্রশ্ন ছিল, ব্লগীয় নিকগুলো কেন নামে পালটে গেল? ব্লগের বই কি অন্যসব সাধারণ বই থেকে একটু অন্যধাঁচের হতে পারতো না? লেখকের নাম রংবেরঙ্গের নিক দিয়ে হলে ক্ষতি কি ছিল?


বই পড়ে আরেকটা ব্যাপার অবাক হয়ে খেয়াল করেছি এবং কষ্টও পেয়েছি। ব্লগে লেখতে লেখতে ছোট কলেবরে লেখা ট্রেন্ড হয়ে গেছে সবার। বিশাল বিশাল সব গল্প ... অথচ সে গল্প বইয়ে দেখি মাত্র দুই-তিন পৃষ্ঠা। ব্লগ থেকে গল্প সংকলনই হওয়া সম্ভব। উপন্যাসের সংকলন কখনো হবে না<img src=" style="border:0;" />

গল্পের আলাদা আলাদা করে রিভিউ ইতোমধ্যে ব্লগে এসে গেছে তাই আমি সেই পথে হাঁটবো না। বরং আমি গল্পগুলোকে আমার নিজের মতো করে র‌্যাংকিং দেয়ার চেষ্টা করবো আর নিজের কিছু অনুভূতির কথা বলবো।

তারার ফুল --- তানভীরুল ইসলাম
তারার ফুল গল্পটা নিঃসন্দেহে সংকলনের সেরা গল্প। আমি অভিভূত। আমার কাছে মনে হয়েছে, এই গল্প আর সব গল্পকে ছাড়িয়ে গেছে। আমার নন-ব্লগার বন্ধুদের বইটি কিনতে উৎসাহী করতে আমি শুধু এ গল্পটুকু ট্রেলার হিসেবে পড়তে বলেছি।


স্কেলিটন শপ --- কৌশিক আহমেদ
অসাধারণ কাহিনী। সেই সাথে দারুণ রকমের সহজ-সাবলীল লেখনী। আমি এ গল্পের কাহিনীতে অ-সাধারণ মুগ্ধ হয়েছি। এই গল্পটা বইয়ের প্রথম গল্প হতে পারতো। যে কেউ বই উলটে এই ধরণের গল্প দেখতে পেলে নিশ্চিত ভাবেই বইটি সংগ্রহ করতো।


এইসিমেট্রিক ---নুশেরা তাজরীন
এটাও একটা দারুণ লেখনীর গল্প। পটভূমিটা অনেক দারুণ দেখেই আমার মনে হলো যেন এই গল্পটা কলেবরে বর্ধিত হয়ে উপন্যাস হতে পারতো। যদি গল্প সংকলন না হয়ে অপর বাস্তবে কবিতা উপন্যাসও থাকতো, আমি স্টার একটা নিশ্চিতভাবেই কমিয়ে দিতাম। স্রেফ গল্প সংকলনের রেটিং দিচ্ছি বলে লেখক বেঁচে গেলেন।


আপসের গল্প --- ফাহমিদুল হক
মদের নেশায় বন্ধুদের মাঝে জীবনের সত্যগুলো অকপটে বলে ফেলার সময় খুব সাধারণ কাহিনী অসাধারণ ফ্লেভারে উপস্থাপন করার জন্য এ গল্পকে অন্যতম সেরার দলে ফেলা যায়। লেখকের লেখার হাত দারুণ।


কুউউ... --- রন্টি চৌধুরী
গল্পটা দারুণ। কাহিনী লেখনী সবই ভালো লেগেছে, তবে রিপিটেশনটা কখনো কখনো অতিরিক্ত মনে হয়েছিল। মাঝে মাঝে পাঠককে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার বদলে বুদ্ধিমান ইশারা ছোট গল্পকে আরো সুন্দর করে তুলে...এই গল্পের বেলাতেও পারতো।


পুনর্জন্ম --- সাইফুল ইসলাম
খুব অন্যরকম কাহিনী মনে হয়েছে। বেশ মজা পেয়েছি পড়তে। শুধু শেষে এসে একটু তাড়াহুড়ো করে শেষ করে দেয়া হয়েছে মনে হল।


ক্রমশ নির্মীয়মান দৃশ্য কিংবা চরিত্রের গল্প --- অনীক আন্দালিব
খুব দারুণ লেখকের হাতের যশ। তবে একটা কথা না বললেই নয়, আমজনতা এতো কঠিন লেখা পড়তে চাবে না। অথচ আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, যে কেউ মুগ্ধ হতো এ লেখাটি পড়ে। সমালোচক পুরস্কারে নিঃসন্দেহে প্রথম পুরস্কার জেতার মতো হলেও, পাঠকের কাছে হয়তো এ ধারার লেখা একটু দুর্বোধ্য ঠেকবে। এই কারণে বইয়ের শুরুতে এই গল্পটা রাখার সমর্থন করতে পারলাম না।


পেটকাটি চাঁদিয়াল --- মনজুরুল হক
এ গল্পটাও দারুণ। এরকম প্রতিথযশা লেখকের সমালোচনা আমাকে মানায় না। তারপরও ঠিক আগের গল্পের দোষে এই গল্পও একটু হলেও দুষ্ট। সাধারণ পাঠক হয়তো অতি-বর্ণন এড়িয়ে চলতে চাইবে।


আগামীকাল যা ঘটে গেছে --- মাহবুব লীলেন
এই গল্পটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। কেমন যেন অন্য ধাঁচের। প্রচলিত ধারার গল্প না হলেও, বেশ সহজ লেখনীর কারণে আমি মুগ্ধ হয়েছি। গল্পটা কি চোখের আত্মকাহিনী বলবো<img src=" style="border:0;" />?


একদিন হঠাৎ --- মাহবুবুর শাহরিয়ার
লেখকের প্রশংসা না করে পারছি না। এই লেখাটি তুচ্ছ কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে পাঠককে। খুব ভালো লাগাতেই হয়তো শেষে এসে হতাশ হয়েছি...লেখক শেষ হইয়াও হইলো না শেষ ধরণের রেশটুকু রাখেননি। ছোটগল্পের শেষে এসে আমি তাই হতাশ।

অপেক্ষা --- একরামুল হক শামীম
মুক্তিযুদ্ধের খুব সাধারণ গল্প। লেখক সহজ ভাষায় লিখেছেন। তারপরও মাঝে মাঝে মনে হয়, লেখায় লেখকের অনভিজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।


মৌমিতা আর ময়নার গল্প --- আবদুর রাজ্জাক শিপন
মানবিক একটা গল্প। যদিও এখানেও লেখক পাঠকের জন্য শেষের রেষটুকু না রেখে নিজের বক্তব্য দিতে চেয়েছেন।


মরীচিকা সময় --- তানজিলা আফরিন
ভীষণ আবেগে ভরা মায়াময় কাহিনী। স্বল্প পরিসরে লেখকের ভাষার প্রয়োগ সুনিপুণ ছিল। শেষ অংশে ঈশ্বরের বন্তব্যটুকু যেকোনো পাঠককে বেশ কিছুটা ভাবাবে।


স্মৃতি হন্তারক বৃষ্টিতে থ্যাতলানো কয়েকজন আর উড়াল সেতু জুড়ে ধাবমান কদম --- তারিক স্বপন
লেখক বর্ণনামূলক হতে গিয়ে গল্পের গতি কিছুটা হ্রাস করেছেন বলেই আমার ধারণা। তাই সাধারণ পাঠক খুব একটা উপভোগ করবে না। ভাষার সুনিপুণ ব্যবহারে মুগ্ধ হবার উপাদান পুরো গল্পে ছড়িয়ে আছে।


জোঁকের বাড়ি, বর্শা এবং নাগিনীর ফণা --- লাবণ্য প্রভা
অন্যরকম এক পেশাজীবীর জীবনের কিছু টুকরো খন্ড নিয়ে এ গপ লেখা। বেশ ভালো লেগেছে, গল্পের বর্ণনার ঢং এর কারণে। তবে শেষে এসে কিছুটা অস্পষ্টতা থেকে গিয়েছে। বারংবার পড়েও দূর করতে পারিনি।

দুঃস্বপ্নের যাত্রী --- শফিউল আলম ইমন
খুব সাধারণ কাহিনী নিয়ে লেখা গল্প। হরহামেশাই আমাদের আশেপাশের বাস্তবটা এ গল্পের মতো হয়ে থাকে। তবু লেখকের লেখনী বেশ ভালো ছিল, তাই লেখা উপভোগ্য হয়েছে।

যে বছর গ্রামে পাখিবৃষ্টি হয়েছিল --- মোস্তাফিজ রিপন
পাগলের বৃক্ষপ্রীতি আর তাকে নিয়ে ক্ষমতাবানেদের লড়াই, এরকম পটভূমির একটা গ্রামীন গল্প লেখকের সুনিপুণ বর্ণনায় বেশ উপভোগ্য ছিল। তবে শেষে এসে কিছুটা অলৌকিকতা আমার মনে খটকা তৈরি করেছিল।


চন্দ্রবালিকা --- আবু কায়েস কুন্তল
এ গল্পটা কেন যেন ভালো লাগেনি। অত্যন্ত বাস্তব আর মানবিক পটভূমিতে লেখা, ভালো লাগা উচিৎ ছিল। তবে এই ধরণের গল্পে যেটা প্রত্যাশা করি, আবাগে ভেসে যাওয়া...সেটুকু হয়নি বলেই হয়ত হতাশ হয়েছি।

যুদ্ধ শিশু বলছি --- নিবিড় ইসলাম
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটা বহুল আলোচিত সমালোচিত আর বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লেখা এ গল্প...যুদ্ধ শিশু বলছি। খুবই আবেগময় বর্ণনা, যেকোনো পাঠককে মন খারাপের স্বাদ দিবে। তবে পুরো লেখায় লেখকের অনভিজ্ঞতা চোখে পড়ে।


ফ্যাক্ট ও ফিকশনের গল্প --- মাহমুদ আরিফ
চার্চিল-ফ্লেমিং এর চমৎকার যে উদাহরণটা লেখক অবতারণা করেছিলেন সেটা বেশ উপভোগ্য ছিল। কিন্তু তার বাইরে লেখাটা উপভোগ করতে পারি নি। হয়তো এক্ষেত্রেও লেখক পাঠকের ভাবনার অবকাশ রাখেননি বলেই। গল্পের কাঠামোও ততো মজবুত মনে হয়নি।

বিদ্যাকূটে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে একটা গল্পের ভণিতা --- সুমন রহমান
এই একটা গল্প যেন অন্য গল্পগুলোর কাছে খসড়া টাইপ মনে হলো। পুরো সংকলনে আমার সবচাইতে অপ্রিয় গল্প।



সিটি মরিচের খিয়ারী আখ্যান --- মাজুল হাসান
কেন যেন এ গল্পটা পড়তে পারলাম না অনেক চেষ্টার পরও...শুরুতেই বারবার ইচ্ছে মরে গেছে। তাই কোনো রেটিং এ গেলাম না।



গল্পগুলো পড়ার সময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াগুলো টুকে রেখেছিলাম। ব্লগের বই তথা নিজেদের বই বলে কথা। সেই কথা গুলোই গুছিয়ে লিখে দিলাম। কিছু কথা খুব নিষ্ঠুর শোনাবে ভেবেই সহব্লগারদের উৎসাহ দানকল্পে এড়িয়ে গেলাম। তবে আমি ছোটগল্প পড়ার সময় যে কয়েকটা জিনিস প্রাধান্য দেই তা হলো সাবলীল ঢঙ্গের বর্ণনা, কাহিনীরবিস্তার কেমন করে হলো, লেখকের লেখনী কেমন আর সর্বশেষে শেষ হইয়াও হইলো না শেষের রেশটুকু। এই কয়েকটা বিষয়েই আমি সাধারণ পাঠক হিসেবে খুশি হয়ে যাই। বোদ্ধাদের অন্য কোনো মাপকাঠিতে হয়তো এই গল্পগুলো ভিন্নরকম ভূমিকা পেতে পারে।

সবশেষে বলি, বাংলাদেশে লেখার ধারা ধীরে ধীরে বদলে যাবে। এ হয়তো সময়ের দাবি...বইটা পড়ে মনে হলো, এ পরিবর্তন আমাদের ব্লগারদের হাত ধরেই আসবে। যারা এখনো বইটি পড়েননি, তাদের জন্য বলি, নিঃসন্দেহে বইটি মেলার শ্রেষ্ঠ বই হতে পারতো, প্রচারের অভাব তথা মূলধনের অভাব হয়তো একমাত্র বাধা ছিল। তবে মানের প্রশ্নে জনপ্রিয় লেখকদের ছাইপাশ বইগুলোর তুলনায় হাজার গুণ ভালো একটা বই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28914842 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28914842 2009-02-22 19:45:05
ডুবে ডুবে ভাসার গল্প

আমাদের গ্রামগুলোতে আষাঢ় শ্রাবণের দিকে নিচু ক্ষেত আর গ্রীষ্মের শুকনো খাল গুলো পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যায়। সেই পানির নাচন দেখলে গ্রামের ছেলেরা কোনো এক ঘোরে পড়েই যেন ছুট লাগায় পানির দিকে। তেমনি এক সময়ে আমরা নগরের নাগরিকেরা গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। বয়স ছিল পাঁচ কি ছয়, পানির দেশের মানুষ হলে কি হবে...সাঁতার জানি না। এরকম সময়ে তাই গ্রামে গিয়ে মা-বাবারও সবসময় মনে ভয়...পানিতে ডুবে না মরে যায়! আমাকে নিয়ে খুব একটা ভয়ের কারন ছিল না<img src=" style="border:0;" />। ছেলেবেলা থেকেই খুব ভীতু হওয়াতে পানির ধারে-কাছে যেতাম না। এমনকি পুকুরপাড়ে যেতাম যখন, তখনো কাছে ধারে বাবা-মা কাউকে না কাউকে হাজিরা দিতে হতো। মাঝে মাঝে গ্রাম সম্পর্কীয় আত্মীয় অথবা চাচাতো ভাইবোনেরা সে হাজিরা দিত। কতোটা ভীতু ছিলাম তার নমুনা না দিলে হয়তো বুঝা যাবে না, শুধু এতোটুকু বলি, এতোটাই ভীতু ছিলাম যে পুকুর ঘাটের শেষ সিঁড়িগুলো আমি বসে বসে পা টেনে-হিচঁড়ে পার হতাম<img src=" style="border:0;" />।

তবু পানির দেশের মানুষ বলেই হয়তো পানির দিকে একটা টান আমাদের থেকেই যায়, সাগরের কাছে গিয়ে সাগরে পা না ভিজিয়ে আমরা পারি না। অথচ পেছনের বিশাল গুরু-গম্ভীর পাহাড় আমাদের মনোযোগ না পেয়ে হয়তো অভিমানী হয়ে উঠে। শহরের ফার্মের মুরগীদের গ্রাম চেনানোর জন্য তাই বাবা আমাদের দুই ভাই-বোনকে নিয়ে এরকম সময়ে বের হলেন, সঙ্গী হলো দুষ্ট কিছু চাচাতো ভাই। তাদের বয়স ১২-১৩ এর ঘরে, সবাই পানির পোকা। নৌকাতে আমরা উঠলাম, চাচাতো ভাইয়েরাও উঠলো। বাবা এইসময় কিছু একটা ভুলে রেখে এসেছেন বলে আমাদেরকে মাঝির দায়িত্ব রেখে বাড়ির দিকে গেলেন। মোক্ষম সময়ে প্রকৃতিও যেন মাঝিকে ডাকাডাকি শুরু করলো<img src=" style="border:0;" />। মাঝি একটু আড়াল খুঁজতে গেলেন। পানির পোকা দুষ্ট ভাইগুলো এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, তারা নৌকা নিয়ে দিলেন টান। আমরা তো বেশ থ্রিল অনুভব করতে লাগলাম...জীবনে প্রথম একা, চারদিকে শুধু পানি আর পানি...<img src=" style="border:0;" />


লেখার শিরোনাম দেখে সবাই আন্দাজ করে ফেলেছেন ইতোমধ্যে ...দুর্ঘটনা ধেয়ে আসার সময় হয়ে এসেছে। বর্ষার বৃষ্টি গুড়িগুড়ি করে আগেই পড়ছিল। হঠাৎ সে বৃষ্টি ঝড় হয়ে যেন ধেয়ে আসলো...আমরা তখন খালের মাঝখানে...চারদিকে শুধু পানি আর পানি। নৌকা ভীষণভাবে দুলছিল।আমি আর আমার বোন কান্নাকাটি শুরু করে দিলাম<img src=(" style="border:0;" />। চাচাতো ভাইয়েরা ভয় পেয়ে গেল।তারা কেউ লগি দিয়ে ঠেলতে লাগলো, কেউ আবার নৌকা যেন ঢেউয়ে উলটে না যায় সে জন্য পানিতে নেমে বুকপানিতে দাঁড়িয়ে নৌকা স্থির রাখার চেষ্টা করলো। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে পানি ততোটা গভীর না, নাইলে ভাই দাঁড়ালো কেমনে/<img src=" style="border:0;" />? আমি কান্নাকাটি বন্ধ করে আমার বেকুব বোনের কান্না দেখতে লাগলাম <img src=" style="border:0;" />

ইতোমধ্যে বাড়িতে নৌকা নিয়ে পালানোর খবর রাষ্ট্র হয়ে গেছে। নৌকা বাড়ির কাছে আসতেই দেখলাম, ফুফু বুক পানিতে নেমে আমাদের খুঁজতে খুঁজতে হয়রান...আমাদেরকে আস্ত দেখে সেই বৃষ্টির মধ্যেই হু হু করে কেঁদে উঠলেন। বৃষ্টির পানি আর অশ্রুর পার্থক্য করা তখনো শিখি নাই। মাঝে মাঝে মনে হয়, এক জীবনে কতোজনের ঋণ নিয়ে বেঁচে আছি!

গল্পের আর তেমন বাকি নাই। বাকিটা শুধুই দুষ্ট ভাইদের উত্তম-মধ্যমের গল্প<img src=" style="border:0;" />...সে গল্প না শুনলেও চলবে<img src=" style="border:0;" />।



এ ঘটনার পর আমার মনে পানি সংক্রান্ত ভীতি কিছুটা কমে এলো। সেই সাথে সাঁতার শেখার প্রয়োজনীয়তাও মাথায় ঢুকলো। আরেকবার যখন গ্রামে গেলাম, বাবাকে বললাম, সাঁতার শিখবো<img src=" style="border:0;" />। বাবা তখন মাঝ পুকুরে, বাবা বললেন, "পানিতে না নামলে তো সাঁতার শিখতে পারবি না...আগে পানিতে নাম।" আমি লঞ্চে করে বাড়ি যাবার সময় মুগ্ধ হয়ে দেখতাম, লঞ্চের উপর থেকে দুষ্ট ছেলের দল কিভাবে পানিতে লাফ দিতো...আমিও ঘাটের সিঁড়ি থেকে তেমনি করে লাফ দিলাম<img src=" style="border:0;" />। পানিতে পড়লাম...ডুবতে শুরু করলাম। অলিম্পিকের সাতাঁরুর সাঁতারের স্টাইলে হাত-পা নাড়তে লাগলাম...ধীরে ধীরে সবুজ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকলাম। আশেপাশে সবুজ, শ্বাস নিতে পারছি না...দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অদ্ভূত একট অনুভূতি হতে লাগলো! হাত উপরে তুলে রেখেছিলাম, যদিও পুকুর বেশ গভীর। একসময় তলার মাটিতে পা লাগলো। মাথার উপর চার-পাঁচ হাত পানি। তখনো মনে হয়নি যে আমি মারা যাচ্ছি ...সেই বয়সে মৃত্যুর কথা বুঝি চিন্তাও করিনি<img src=" style="border:0;" />। যেই মুহূর্তে আমার পা মাটিতে লাগলো, তখুনি বাবার হাত আমাকে পেল। টেনে তুললো সে হাত। কাশতে কাশতে আমার উপচে পড়া সাহস আর সাঁতারের ইচ্ছা বমি করে পুকুরের সবুজ জলে ফেলে দিলাম /<img src=" style="border:0;" />


পুরোপুরি বমি হয়তো হয়নি...তাই পেটে রয়ে যাওয়া সাহস আর ইচ্ছেগুলো আরেকবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো<img src=" style="border:0;" />। সাঁতার শেখার জন্য শহরের সুইমিং পুলগুলো দাপিয়ে বেড়াতে লাগলাম। আর্মি স্টেডিয়ামের ফ্রি কোর্স থেকে শুরু করে বিডিআর এর পুলে পয়সা দিয়েও শিখতে গেলাম। দাপাদাপি করা হলো, ডুব-ডুব খেলা হলো, কিছুদুর সাঁতরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেয়া শিখা হলো, পানির তলায় পা রেখে হাঁটাহাঁটিও করা হলো...সাঁতার আর শেখা হলো না<img src=" style="border:0;" />। একসময় হাল ছেড়ে দিলাম/<img src=" style="border:0;" />। কিছুদিন আগে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। সেখানে হোটেলের সুইমিং পুলে সবার সাথে খেলতে আর দাপাদাপি করতেই নামা। হঠাৎ খেয়াল করলাম, বেশ ভালোই সাঁতরাচ্ছি। দম থাকছে না, সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। তবু সাঁতরাচ্ছি!! আমি মুগ্ধ হলাম এই ভেবে যে এতোদিনের থিওরি অবশেষে প্রাকটিকালে কাজে লাগলো!


সুইমিং পুলের আধাআধি এ বিদ্যা সত্যিকারের বিপদে হয়তো কাজে লাগবে না...তবু ডুবতে ডুবতে তো ভাসা শেখা হলো! সে-ই বা কম কি?<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28914478 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28914478 2009-02-21 23:47:07
হয়তো ভালোবাসা গল্পে ছিল...
১.

মাথা নিচু করে শার্টের হাতা কামড়াচ্ছে অন্তু। নাজমা বেগমের তখন মাথা খারাপ অবস্থা। এই এক ছেলে বুঝি তার জীবনটা কয়লা বানিয়ে ফেলবে! এইটুক বয়সে তার বাকি দুই ছেলে-মেয়ে এতো জ্বালানো জ্বালায়নি। সবাই বলে ঘরের ছোটটা নাকি সবচে দুষ্ট হয়, তাই বলে এরকম দুষ্ট হয়? থ্রিতে পড়ে বাচ্চা...ক্লাসের কোন মেয়েকে নাকি বলেছে বিয়ে করবে! স্কুলের ম্যাডাম যখন এই কথাগুলো বলছিল, তখন নাজমা বেগমের লজ্জায় মরে যাবার মতো অবস্থা। ঘরে আসার পর যতো যাই জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে, কেন বলেছ...কোনো জবাব নেই। শার্টের হাতা কামড়াচ্ছে আর মাথা নিচু করে কাঁদছে। এইটুক ছেলেকে এই বিষয়ে কি বলবেন তাও ভেবে পেলেন না !


হাতা কামড়ানোর পর্ব খুব দ্রুতই শেষ হলো। মাথা ধরেছে বলে এস্পিরিন খেয়ে শুয়ে পড়লো অন্তুর মা। ভাইয়া-আপুর মুচকি মুচকি হাসি এড়িয়ে অন্তু ধীর পায়ে নিজের রুমে ঢুকে পড়লো। কেন যে ফারিয়াকে এসব কথা বলতে গেলো! মুকিদ ঠিকই বলেছিল...এই মেয়েগুলোর মাথায় ঘিলু একেবারে নেই। আর কোনোদিনই মেয়েদের সাথে বরফ-পানি খেলবো না----মনে মনে এরকম প্রতিজ্ঞাও করে ফেললো। আর ফারিয়ার সাথে তো কোনো কথাই বলবে না। খাবার টেবিলে ভাইয়া-আপু এর মধ্যে ওকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছে। খাবার টেবিলের হাসাহাসি প্লাইউডের দরজা ভেদ করে যেন ওর কানে এসে লাগছে। কাল নিশ্চয়ই স্কুলেও বন্ধুরা সবাই ওকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। আর ক্লারা ম্যাডাম তো রসিয়ে রসিয়ে সবাইকে শুনাবেনই, সেই সাথে হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে পেন্সিল রেখে যেই চিপা দিবে...সারা দিন ওই হাতে আর কিছু করা লাগবে না। আজকে মা সামনে ছিল বলে ম্যাডাম তার প্রিয় শাস্তিটা দিতে পারেনি।

এত্তো বড় বোকামিটা ও করলো কিভাবে? ভেবেই পাচ্ছে না। আর ফারিয়াটাও এত্তো গাধা...সব কথা কি ম্যাডামকে বলতে হয়? ও নাহয় ফারিয়াকে বিয়ে করবে বলেছে, কিন্তু সেটা তো বড় হলে করবে। এখুনি বিচার দেয়ার কি দরকার ছিল? গত বছর যখন এনুয়াল কালচারাল প্রোগ্রামে অন্তু চাষা সেজেছিল আর ফারিয়া ওর বউ সেজেছিল তখন থেকেই তো অন্তু ভাবছিল একদিন ফারিয়াকে বলবে। কিন্তু তখন বুঝতে পারেনি ও যে মেয়েরা এত্তো হাদা হয়।




২.

নতুন স্কুলটায় এই একটা জিনিস খুব ভালো। এখানে ফুল-প্যান্ট পড়তে দেয়, বাচ্চাদের মতো হাফ-প্যান্ট পড়তে হয় না। ও ক্লাস ফোরে উঠেছে, এখন তো আর ছোট বাচ্চাদের মতো হাফ-প্যান্ট পড়ে ঘুরা যায় না। মাকে কত্তোদিন বলেছিল ও ফুল-প্যান্টওয়ালা স্কুলে যেতে চায়। সবচাইতে ভালো হতো টিভিতে যে স্কুলটা দেখায়, ওই যে পুলিশের মতো ড্রেস থাকে....ওইটায় পড়তে পারলে। কিন্তু বাবাকে এই কথা কে বুঝাবে! বাবা বলেছে ওই পুলিশের ড্রেস পড়া স্কুল না,এইটাই নাকি দেশের সেরা স্কুল। কে জানে! তবে কাঠ-ফাটা রোদ্দুরে এভাবে গাদাগাদি করে পিটি করতে ওর ভালো লাগে না। আগের স্কুলে রৌদ্র বেশি থাকলে পিটি করতে হতো না। টিচাররাও এরকম ভয়ংকর ভাবে বেত হাতে নিয়ে ঘুরতো না। পুরোনো স্কুলের কথা ভাবতেই কান্না পাচ্ছে যেন একটু... বাসায় কম্পলেইন না গেলে হয়তো ওকে স্কুল ছাড়াতোও না মা... কেন যে ফারিয়া হাদাটাকে বিয়ের কথা বলতে গিয়েছিল!

তবে নতুন স্কুলেও ধীরে ধীরে অন্তুর বেশ ভালো লাগতে থাকে। এখানে অনেক বন্ধু হচ্ছে ওর। ফারিয়ার মতো হাদা কোনো মেয়েও নাই। অবশ্য কোনো মেয়েই নাই... তাতে কি? ও তো প্রতিজ্ঞা করেছেই...মেয়েদের সাথে আর কক্ষণো খেলবে না। ওর কোনো মেয়েবন্ধুরই দরকার নেই।




৩.

পরীক্ষা জিনিসটা কে আবিষ্কার করেছে সেটা জানলে সাত সমুদ্র তের নদী পার করে হলেও ওই ব্যাটা ফাজিলকে দুইটা কিল-ঘুষি মেরে হাতের সুখ মেটাতো...আফসোস। তবে মাঝে মাঝে যখন রেজাল্ট আশার চাইতে ভালো হয়ে যায়, তখন মনে হয় পরীক্ষা জিনিসটা একেবারে খারাপ না। এখন ঠিক তেমনি অবস্থা অন্তুর। পুরো বাসা ওকে মাথায় তুলে নাচে পারলে। এস,এস,সি পরীক্ষার রেজাল্টে ও ভাইয়া আপুকেও ছাড়িয়ে গেছে। যেই আপু খোঁচা দেয়া ছাড়া কখনো কথাই বলতো না, সেই আপু আজকে ওকে এতো দারুণ একটা গীটার গিফট করেছে যে খুশিতে আপুর উপর জমানো সারা জীবনের সব রাগ ঝেড়ে ফেলে দিল। হবসনের এই জোস গীটারটা দেখে ওর বন্ধুরাও সব টাশকি খেয়ে যাবে।

ওর খুশি খুশি চেহারা দেখেই বুঝি আপু জিজ্ঞেস করেই বসলো, “কিরে? গীটার পছন্দ হয়েছে তো?” খুশিতে অন্তুর তখন দম বন্ধ প্রায়। শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে বত্রিশ দাঁত বের করে হেসে দিলো। “মজার কথা কি জানিস? আজকে গীটার কিনতে গিয়ে মুকিদের সাথে দেখা হলো। তোর মনে আছে মুকিদের কথা?” আপু জিজ্ঞেস করলো। “হুমম...দেখে চিনলে কিভাবে? আমি তো মনে হয় চিনবো না!”, অন্তু কিছুটা অবাক হয়েই বললো। “তা অবশ্য ঠিক, তুই চিনবি কিভাবে? ব্রিলিয়ান্ট মানুষজন, কবে আপুকেই ভুলে যাবি!” শুরু হয়ে গেলো আপুর খোঁচানি। কোনো কথাই মনে হয় আপুটা খোঁচানো ছাড়া বলতে পারে না।

রাতে ছাদে গীটার সন্ধ্যা হয়ে গেল...আপু টুকটাক আ উ করে কিছু একটা গাইলোও(ভালোই গেয়েছিল, সেটা বললে আবার ফুলে যাবে)। অনেকদিন পরে বাসার সবাই খুশি। এরকম দিন জীবনে কয়টা আসে? ঘড়ির কাঁটা যখন নয়টার দিকে, আস্তে আস্তে তখন সবাই খেতে নেমে গেল। একটু পরে আসছি বলে ছাদেই রয়ে গেলো অন্তু। টুং-টাং গীটারের তারগুলো নাড়িয়ে যাচ্ছিলো আনমনে......মুকিদ! কতোদিন পর ওদের কথা মনে পড়লো... আপুর কথায় এক ঝটকায় যেন ফিরে এলো সেই শৈশব...প্যান্টের ইন খুলে মাসুদের সেই ক্ষুদে মাস্তান ভাব, দুই বেনী দুলিয়ে তিতলীর কি সে দৌড়...মুকিদের কোকড়া মাথার চুল ধরে সবার টানাটানি...আর কালো বো-টাই পড়ে টিভির বাচ্চাগুলোর মতো হাত-মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে ওদের সবার রাইমস...আহ শৈশব!

খাবার টেবিলে অন্তু আপুকে জিজ্ঞেস করে বসলো, “আপা, মুকিদের কোনো ঠিকানা-ঠুকানা রেখেছো?” “নাহ, তুই চিনতেই পারবি না ভেবেই তো আর ঠিকানা রাখলাম না”, আপু স্বভাবসুলভ খোঁচা দিয়েই জবাব দিল। বাবা কথার মাঝেই বলে বসলো,“তোর মনে আছে অন্তু, তুই সেসময় কতো দুষ্ট ছিলি? তোর মা তোর চিন্তায় পাগল হয়ে যেত...”। পুরো খাবার টেবিল বাবা ভাইয়া আর আপুর অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। মাও মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো। অন্তু কিছু বললো না, মাথা নিচু করে খেতে লাগলো।

রাতে ঘুমাবার সময় নিজেই অবাক হয়ে গেল...মুকিদ, তিতলী, মাসুদ... সবার কথা মনে পড়লো, ফারিয়াকে একবারও ওর মনে পড়লো না! অথচ এই ফারিয়াকে বিয়ে করবে বলাতে কি সে লংকা কান্ড ঘটে গিয়েছিল। মুকিদের কথা বলে আপু যেন এক স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিল...কোথায় লুকিয়ে ছিল এতো কথা। এতোদিন একটুও মনে পড়লো না! আপুর কথা কি সত্যি হতে পারে? এমন কি হবে যে মুকিদকে হয়তো ও চিনতে পারবে না...ফারিয়াকে প্রথম দেখে হয়তো পাশ কেটে যাবে! হঠাৎ করেই ফেলে আসা শৈশবের জন্য এত্তো মায়া লাগতে লাগলো...হয়তো সবকিছু অন্যরকম হতো যদি হাদা মেয়েটা সব কথা ম্যাডামকে বলে না দিতো। কিরকম অন্যরকম হতো?




৪.

নাহ...কিছু মানুষের জীবনে ভালোবাসা আসে না রে। কেউ প্রেম করে, কেউ প্রেম দেখে। আমি প্রেম দেখাদের দল”, অন্তুর কথায় আড্ডাতে হাসির রোল পড়ে গেল। প্রশ্নকর্তা সাজিদ কিন্তু বেশ সিরিয়াস। বললো, “অন্তু, ফাজলামি না। সিরিয়াসলি বুকে হাত দিয়ে বল, জীবনে কারো প্রেমে পড়িসনি কখনো?” “তার আগে এক গল্প শোন। মার্ক টোয়েনকে একবার এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি ধূমপান ছাড়বেন না? মার্ক টোয়েন জবাব দিলো, সে তো আমি প্রতিদিনই ছাড়ি”, একটু থেমে সাজিদের দিকে মুচকি হেসে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো অন্তু, “কি বুঝলি?” তাশফিক বলে উঠলো, “সাজিদ, তুই অন্তুরে চিনলি না? ভার্সিটির সিনিয়র জুনিয়র কোন মেয়েরে আবার ওর পছন্দ হয় না? ঘন্টায় ঘন্টায় নতুন নতুন প্রেমে পড়ে। ওরে সিরিয়াসলি প্রেমের কথা জিগানোই বেকার প্রশ্ন।” অন্তুও হেসে উঠলো তাশফিকের কথা শুনে, শুধু সাজিদ মুখ ভোঁতা করে বসে রইলো, অন্তুর এই কথা ঘুরানোর স্বভাবটা বিরক্তিকর।

আস্তে আস্তে ওদের আড্ডাটা অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলো। কোথাকার কোন এক মেলা হচ্ছে... কোন সিনেমা যেন হল কাঁপাচ্ছে...সেই সাথে ওদেরই কোনো এক বন্ধুর প্রেমের ব্যবচ্ছেদও সমান তালে চলতে লাগলো। মাঝে থেকে অন্তুটা শুধু চুপ মেরে গেলো। হঠাৎ হঠাৎ ওর “এমন হলে কেমন হতো” টাইপ ভাবনায় পেয়ে বসে...মনটা শৈশবে ছোটাছুটি করে। তখন মনে হয়, হয়তো ভালোবাসা গল্পে ছিল... ...





বিঃদ্রঃ [/s]কিচ্ছু না<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28911476 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28911476 2009-02-15 10:06:24
আধা টেকি পোস্টঃ ফটোশপ :: রং-বেরং " style="border:0;" />। কিছু না লেখলে ভালোও লাগে না। ভাবছিলাম ভ্যালেন্টাইন উপলক্ষে কিছু লেখবো...মাথা পুরাই ফাক্কা!<img src=(" style="border:0;" /> তাই চিন্তা-ভাবনা ছাড়া দিলাম নতুন আধা-টেকি পোস্ট। ফটোশপের আরেকটা সাধারণ কাজ...ব্লগার হমপগ্র এর আগের পোস্টে এই ট্রিকটার কথা জানতে চেয়েছিলেন। আজকে একটু ব্যাখ্যা করে দিলাম আর কি...সেই সাথে বহুত দিন পরে নিজেও একটা কিছু করলাম, ওইটা জাহির করতে হবে না?!<img src=" style="border:0;" />


বিস্তারিত বর্ণনা দেয়ার আগে ট্রেলার দেখাই।


শুরু করার আগে


টেকিগিরি করার শেষে


আশা করি ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছেন কি করতে যাচ্ছি। কোনো একটা ছবির কিছু অংশের রঙ পালটে দেয়া। এতে করে মাঝে মাঝে ছবিতে আর্টিস্টিক ভাব আসে। এইধরণের কাজে লেয়ার খুবই উপকারী জিনিস। তবে এইটুক কাজ লেয়ার ছাড়াও করা যায়।

ছবি দেখে বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই যে একটা নির্দিষ্ট অংশের রঙ পাল্টিয়েছি, সেই নির্দিষ্ট অংশকে নিঁখুত ভাবে বাকি ছবির থেকে আলদা করাই আসলে মূল খেলা। এ কাজে আমি সাধারণত ম্যাগনেটিক ল্যাসো(L) টুল ব্যবহার করি। ম্যাজিক ওয়ান্ড(W)ও ব্যবহার করতে পারেন। আবার চারকোণা শেপ সিলেক্ট করতে রেক্টেগুলার টুল, গোলাকা সশেপ সিলেক্ট করতে সার্কুলার টুল আছে। একেক ধরণের কাজে একেক টূল। আমি এ পোস্টের সব উদাহরণে ল্যাসো টুল ব্যবহার করেছি। এবার আমরা নিচের ছবিটা খেয়াল করি।


আমি ঠিক করলাম যে লাল রঙের ছাতাটার রঙ ঠিক রেখে বাকি ছবি আমি সাদাকালো করে দেব। ম্যাগনেটিক ল্যাসো টুল সিলেক্ট করলাম।

ছাতার একপ্রান্তে ক্লিক করলাম। আস্তে আস্তে ছাতার কিনার ধরে মাউসটা নাড়ালেই দেখবেন ল্যাসো টুল ছবির বিভিন্ন অংশের রঙ এর পার্থক্য ধরে ধরে এংকর পয়েন্ট(anchor point) বসিয়ে যাচ্ছে। কখনো যদি আপনার চাহিদামতো না গিয়ে এঁকেবেঁকে যায়, তাহলে আপনি ক্লিক করে জোরপূর্বক এংকর পয়েন্ট বসিয়ে নিতে পারেন।এভাবে ধীরে ধীরে ছাতাটার চারদিক ঘিরে ফেলুন। পুরো ছাতার পরিধি ঘুরে এসে যখন আপনার স্টার্টিং পয়েন্টের কাছে আসবেন তখন ক্লিক করলে পুরো এরিয়া সিলেক্ট হয়ে যাবে। নাহলে স্টার্টিং পয়েন্টের কাছে মাউস এনে ডাবল ক্লিক করুন অথবা এন্টার দিন।দেখবেন পুরো ছাতা সিলেক্ট হয়ে আছে।


এই এরিয়া যতো নিখুঁত ভাবে আলাদা করত এপারবেন, আউটপুট ততো ভালো আসবে। বিভিন্ন টূল ব্যবহার করে করা যায়, পুরো এরিয়ার রঙ এক রঙ হলে ওয়ান্ড টুল ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এখানে আমি ম্যাগনেটিক ল্যাসোর ব্যবহারের বর্ণনা দিলাম। বাকি কাজ কিন্তু খুব সহজ। খেয়াল করুন, আমরা ছাতা সিলেক্ট করেছি, কিন্তু যদি আমাকে ছবি এডিট করে নিচের মতো করতে হয়,


তাহলে রঙ পাল্টাতে হবে ছাতা বাদে বাকি অংশের। সিলেক্ট করা অংশকে তাই ইনভার্স করে দিতে হবে। ছবির উপরে রাইট ক্লিক করলে মেনু আসবে, invert selection ক্লিক করুন।তাহলে ছাতা বাদে পুরো ছবি আপনার সিলেক্ট করা হয়ে গেলো। এবার ctrl+shift+u টিপলে সিলেক্টেড অংশ(ছাতা বাদে বাকি অংশ) desaturate হয়ে যাবে মানে সাদা-কালো হয়ে যাবে। শুধু যে সাদাকালো তা না, ইচ্ছে করলে মেনু টুলবারে image>adjustments থেকে বিভিন্ন অপশন সিলেক্ট করে নতুন কিছু চেষ্টা করে দেখতে পারেন...

আশা করি সহজ এ কাজগুলো পেরে যাবেন। শুনতে কারো যদি ভয় লাগে, তাহলে বলি, ফটোশপে ওপেন করে ছবির উপর কাজ শুরু করে দিন...এতো সহজে এতো দারুণ কাজ হয়, কল্পনা করতে পারবেন না।<img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28910426 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28910426 2009-02-13 00:52:09
ভাঙ্গা পেন্সিল বলে কথা! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> " style="border:0;" />...

আর কতো গাছ-পালা, পাহাড়-সাগর, মানুষ-বান্দরের ছবি তুলমু/<img src=" style="border:0;" />...মাঝে মাঝে তাই নিজেও ক্যামেরার সামনে পোজ দেই। নিজেরে নিয়া তাই এই ব্যাপকই মনোহর ফোটুক পুষ্ট<img src=" style="border:0;" />। পুরা পুষ্টের মূল আকর্ষণ পেন্সিল...বিশেষ কইরা ভাঙ্গা-পেন্সিল

ইদানিং বিভিন্ন পোস্টে ডিসক্লেইমার দেখি জামাতি আর নাস্তিক প্রবেশ নিষেধ...আমার পুষ্টেও ডিসক্লেইমার দিলামঃ

কলম আর কি-বোর্ডের প্রবেশ নিষেধ*


*মাউস দিয়া প্রবেশ করা যাবে<img src=" style="border:0;" />





কোন বান্দর জানি ইচ্ছা কইরা পেন্সিলটা ভাংছে




আহারে...কেমতে জানি ভাইঙ্গা গেল



পেন-ফাইটের মতো পেন্সিল-ফাইট দিবার গেছিল...কোমর ভাঙ্গনের দশা আর কি!




পেন্সিল আমার জানের জান...



এইটা জাদুর পেন্সিল




এইটার নাম ঘাড়ত্যাড়া পেন্সিল




এইটারও ঘাড়ত্যাড়া...তয় আংড়েঝি ভালু জানে




বিশ্রী পেন্সিল




আম্মা মাঝে মাঝে আমার আইলসামি দেইখা কয়...গাছ হইয়া যাবি বইয়া থাকতে থাকতে...আসলেই মনে হয় গাছ হইয়া গেছি<img src=" style="border:0;" />




এইটা কি ভাঙ্গা পেন্সিল নাকি গলা পেন্সিল?!




কে যেন ফালায়ে গেছে...আহারে




রংধনু পেন্সিল...রং পেন্সিল




এই পেন্সিলটা কত্তো ভালা...একা একাই লেখাপড়া করে




এইটা মনে হয় নিহন ভাইয়ের আর্টিশ পেন্সিল...আঁকিবুকি কইরা টায়ারড!




রঙ পেন্সিলও ভাইঙ্গা যায়! কেমতে কি!




অসির চেয়ে মসি বড়--সেই দিন কি আর আছে?
এখন তো কইতে হইবো-- মিসাইলের চাইতে পেন্সিল বড়





এইটা মনে হয় পরীক্ষার হলে আমার পেন্সিলটা...এখনো এক অক্ষরও লেখে নাই





ময়লাহ...




ভাঙ্গা পেন্সিল দিয়া শুরু করছি...শেষ না করলে কি চলে




সকল ছবি কপি-পেষ্ট কৃত.....যার বেশিরভাগই পরবর্তীতে ফটোশপকৃত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28908465 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28908465 2009-02-08 21:36:09