somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... স্মৃতির পথে যাত্রা...
হেডলাইটের আলোটা বেয়ে কালো পিচ-ঢালা রাস্তাটা যদ্দুর দেখা যায় শুধু কুয়াশা আর কুয়াশা। আশপাশটা এতোই নীরব যে মাঝেমাঝে মনে হয় যেন প্রাণের ছোঁয়াটুকুও নেই। হুশহাশ করে যখন দুইএকটা শ্যালোযান অথবা বাসকে ওভারটেক করে পার হই তখন মনে হয় , নাহ, এখনো মৃত্যুপুরীতে পৌঁছিনি। খুব ছোটবেলা যখন ঢাকা থেকে বাইরে যেতাম, বিশেষ করে গ্রামে, তখন রাতের ছুটে চলাটা খুব ভালো লাগতো। চারপাশে ঘুটঘুটে আঁধার, নীরব রাস্তায় সাইসাই ছুটে চলছি আমরা। দুপাশের সবকিছু নিজের মতো করে কল্পনা করে নিতাম। ঘুটঘুটে আধাঁরটা হয়তো মাঠ, হয়তো ফসলী ক্ষেত পার হয়ে যাচ্ছি নীরবে...মাঝে মাঝে দু-একটি আলো নেচে নেচে ফিরে, হয়তো দেরি করে ঘরে ফেরা হাটুরে। হঠাৎ হঠাৎ আঁধার ভেদ করে দু-একটি হ্যারিকেনের আলো মনে করিয়ে দেয়, নাম না জানা সেই গ্রামটা এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি, হয়তো কৃষকের ছোট্ট মেয়েটা হ্যারিকেনের আলোয় পড়ছে। আমার কল্পনা করতে বড়ো ভালো লাগতো। নিদেনপক্ষে আধাঁরে একঘেয়ে লাগা শুরু হলে দেখা যেত আমি হয়তো জানালার কাচে হেলান দিয়ে অমাবস্যার আকাশে তারা গুনছি। মাইক্রোর পিছনের দিকে আমরা বাচ্চাকাচ্চারা জায়গা পেতাম, গানের কলি, ঝগড়া, মারামারি, তর্কাতর্কি শেষে যখন সবাই আস্তে আস্তে চুপ হয়ে যেতো তখুনি ঠিক এমনি করে গ্রামের রূপ আমার চোখের ধরা দিতো। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুত এসে পড়েছে, একটু পরপর ঝলমলে আলো দেখে গ্রামের ওরা হয়তো উন্নয়নের ছোঁয়া দেখতে পায়, আমার স্বার্থপর চোখ শুধু এই শহুরে গ্রামগুলো ফেলে সেই গ্রাম-গ্রাম ভাবের গ্রামগুলো খুঁজতে থাকে... যে গ্রামগুলোতে আধার রাতে খড় বিছানো পথ বেয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমি মাকে জিজ্ঞেস করতাম, "মা ওরা কি আমাদের জন্যে কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে?" শহরে তখনো শুধু অভিজাতদের ঘরে কার্পেট দেখা যেত। গ্রামে শহুরে মেহমান হিসেবে খাতিরটা মনে হয় সেই ছোট্টবেলা থেকে টের পেতাম। এখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবি, সেই দিন কি আর আছে!? তবু শেকড়ের টানে মাঝে মাঝে বাড়িতে যাওয়া লাগে, যদিও আমি নিজে কতোটুকু শেকড়ের টান অনুভব করি তা নিয়ে নিজেই দ্বিধান্বিত। মাঝে মাঝে মনে হয় এ ব্যস্ত চঞ্চল ঢাকা শহরেই হয়তো আগাছার মতো নিজেরা শেকড় গেড়ে ফেলেছি। তবু মাঝে মাঝে দম ফেলতে হলেও ঢাকার বাইরে গিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।এতো বড়ো ভূমিকা শুধু এই দম ফেলা নিয়ে...


চৌধুরী নামের মানে কি সেটা জানার ইচ্ছে কখনো সেভাবে হয়নি, আর বিশ্লেষণধর্মী আমি কোনোকালেই ছিলাম না। ধরে নিয়েছিলাম কোনো পদবী হবে, কিংবা জমিদারেরা নামের সাথে লাগিয়ে নেয় একটু ভাব মারতে! স্কুলের বাংলা শিক্ষকের কাছে প্রথম জানতে পারলাম চৌধুরী মানে কি...চারধারের অধিকারী। বিশদভাবে ব্যাখ্যা করলে চারিধারে যতোদূর দেখা যায়, ততোদূর জমির মালিককেই সেই আমলে চৌধুরী বলা হতো। আমার ধারণা ব্রিটিশ আমলের জমিদারদের চৌধুরী, খান সাহেব ইত্যাদি পদবী দিয়ে ব্রিটিশরা খুশি করে রাখতো। সে আমলেই আমার নানার দাদা এই চৌধুরী বংশের গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার নানা পর্যন্ত আসতে আসতে এ জমিদারী ভাগ হয়ে হয়ে আর চৌধুরী নামের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেনি। তবু জমিদারের নাতি পরিচয়টা দেবার জন্যে এখনও সেই উপাধি আমরা ধরে রেখেছি। যেহেতু আমি জমিদারের মেয়ের ঘরের ছেলে, তাই আমি অবশ্য সে নামের অধিকারীও নেই।

জমিদার আমলের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গেলে হয়তো এ লেখা আর শেষ হবে না, তাই জমিদারি শেষ হবার ছোট্ট এক শোনা গল্প দিয়ে শেষ করতে চাই আমার বিশাল প্যাচালিকা। ১৯৫৪ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এ জমিদারী প্রথার অবসান ঘটান। শোনা যায় , খুব ছোট্টবেলায় শের-এ-বাংলা একবার দেখেন যে খাজনা আদায়ের জন্যে গরীব কৃষকের উপর জমিদারের নায়েব আর পেয়াদারা অত্যাচার করছে। শিশু ফজলুল হকের মনে যে জিনিসটা দাগ কেটে যায় তা হলো কৃষকের ছোট্ট ছেলের ভাতের বাসনটুকুও পেয়াদারা রেহাই দেয়নি, কাঁদতে থাকা শিশুকে দেখে সেই বয়সেই দৃঢ়চেতা শের-এ-বাংলা সিদ্ধান্ত নেন এ প্রথা রহিত করার আর একসময় সফলও হন। তাই হরিপুরে আমার নানাই ছিল বংশপরম্পরায় শেষ জমিদার, যদিও নানারা ভাইয়েরা-ভাইয়েরা সম্পত্তি ভাগ করতে করতে জমিদারি এমনিতেও শেষ হতো বলে আমার বিশ্বাস।


জমিদারি প্রথাতে ভালো লাগার মতো কিছু নেই, সে ইতিহাস শুধু শোষণ আর বঞ্চনার ইতিহাস। তবে জমিদারের আদুরে ছোট মেয়ে হিসাবে আমার মা ছোট্টবেলার যেসব গল্প বলতেন, আমি সেসব মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। আট বেহারার পালকি...জলে টলোমলো দীঘিতে মা-মেয়ে মিলে রাতের বেলা ঘুরে ফেরা, জমিদারদের বৈঠকখানা, বিকেলে পুকুর ঘাটে দরবার, জমিদারদের শিকারে বের হওয়া আর এক হাত লম্বা চিংড়ি উপাখ্যান, বিশাল পালকির আড়ালে লুকোচুরি... আরো কতো ইতিহাস! যে আমলে সাধারণ মানুষ ছনের আর মাটির ঘরের বাইরে কল্পনা করতে পারতো না, সে আমলে জমিদারেরা যে দালান বানিয়েছিল সেটা ভেবে এখনো অবাক হতে হয়। আর তাই সে জমিদারবাড়ি যাবার প্ল্যান হতেই একটা অন্যরকম রোমাঞ্চ বোধ করলাম। ঘুরে এলাম আমাদের চৌধুরীবাড়ি...তারই কিছু চিহ্নঃ




স্মৃতিবিজড়িত নানাবাড়ি...ধ্বসে পড়ার অপেক্ষায়




চৌধুরীবাড়ির আরো এক মহল




ধ্বংসস্তূপ



এরকম কয়টা মহল আছে আসলে গণা হয় নাই



পলেস্তারা খসে পড়ছে



মরা নারকেল গাছ, মায়ের হাতে লাগানো



আমার ক্যামেরার প্রথম ট্যুর হওয়াতে আমার পোরতিভাও কিছু দেখাইলাম



আলোর লুকোচুরি



সুপারি বন



সংরক্ষণ করলে হয়তো এরকম হতে পারতো...রূপসা চৌধুরী বাড়ি



রূপসা চৌধুরী বাড়ি, পার্শ্ববর্তী জমিদারের মহল




এখন সেখানে প্রায় ভগ্নদশা, জমিদার আমলের মহলগুলোতে আর কেউ থাকে না, সংরক্ষণেরও বালাই নেই। কালের সাক্ষী হয়ে তাই দাঁড়িয়ে আছে আজও। পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে, কোথাও ইট খুলে এসেছে, এমনি করে হয়তো একদিন পুরো দালানটা ভেঙ্গে পড়বে। রক্তের টানেই হয়তো কিছুটা বিষন্নতা ঘিরে ধরেছে...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28892523 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28892523 2009-01-03 16:43:39
ছোট ছোট বড়দিন " style="border:0;" />। স্কুলের নাম ছিল সেন্ট জুডস ইন্টাঃ স্কুল। এই স্কুলে পড়াকালীন সময়েই আমার বড়দিন তথা ক্রিসমাস কাহিনীর সূচনা।

খুটিনাটি খুব বেশি কিছু মনে নাই। তবে অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা খ্রিস্টান হবার সুবাদে ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে অনেক বড় একটা বন্ধ পেতাম, এটাই আমার সবচাইতে ভালো মনে থাকার কথা। অবাক হলাম এই ভেবে যে, তারও বাইরে কিছু মজার জিনিস আজও মনে আছে। ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে আমরা টিচারদের কাছ থেকে পেতাম চকোলেট, পেন্সিল, কালার পেন্সিলের মতো কিছু উপহার<img src=" style="border:0;" />। উপহার হিসাবে হয়তো সামান্য, কিন্তু ওই বয়সের চাহিদাগুলোও যে খুব বেশি ছিল না! সবচাইতে মজার ছিল ক্রিসমাসের ঠিক আগে আগে কালচারাল প্রোগ্রাম হতো। এখনকার মেইনস্ট্রীম স্কুল-কলেজগুলোতে কালচারাল প্রোগ্রাম মানে হলো যে নাচ পারে সে নাচবে, যে গাইতে পারে সে গাইবে, যে কিছুই না পারে, সে বসে বসে হাততালি দিবে। আমার মতো অপদার্থের তাই হাততালি দেয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না /<img src=" style="border:0;" /> । কিন্তু সেন্ট জুডসে সবাইকেই পারফর্ম করতে হতো। ক্রিসমাস উপলক্ষে করা সেই প্রোগ্রামে তাই কখনো নাটুকে চাষা হতে হতো, কখনো কখনো কালো বো-টাই পড়ে সবাই মিলে ছন্দে ছন্দে হাত দুলিয়ে দুলিয়ে গাইতে হতো চিলড্রেন রাইমস...... সেই আমার প্রথম আর খুব সম্ভবত সর্বশেষ স্টেজে ওঠা<img src=(" style="border:0;" />। হয়তো ক্রিসমাসের আসল যে ব্যাপারগুলো-- সান্তা ক্লজ, লাইটিং, ক্যারোলস এসবের কোনো ছোঁয়াই আমরা পেতাম না, তবুও ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে কালচারাল প্রোগ্রামই আমার কাছে মনে হতো ক্রিসমাস-ক্রিসমাস। <img src=" style="border:0;" />


তারপর একসময় সাধের সাথে সাধ্যের মিল রাখতে গিয়েই আমার সেন্ট জুডস অধ্যায় খতম হলো। ভর্তি হলাম আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে। সেখান থেকে এস,এস,সি পাস করার পর নটরডেম কলেজ। আরেকবার খ্রিস্টান পরিমন্ডল, কিন্তু আমার মধ্যে ছেলেবেলার সেই বড়দিনের আবহটা ফিরে এলো না। নটরডেমের দুটি বছরে বড়দিন দেখার কোনো ইচ্ছে হয়নি। কখনো কখনো আমার মনে হয়েছে নটরডেমের ফাদারেরা এ ব্যাপারে যথেষ্ঠই রিজার্ভ ছিলেন যে কারণে কলেজ জীবনের বড়দিন বলতে শুধুই এক-দেড় মাসব্যাপি বিশাল এক বন্ধ ছাড়া আর কিছু না। <img src=|" style="border:0;" />


বড়দিনের গল্প এখানেই শেষ হতে পারতো। শেষ হলো না আমার পাগলামির কারনে<img src=" style="border:0;" />। তখন বুয়েটে পরীক্ষা দিয়েছি, আপাত বেকার। সেসময় ঘুরে বেড়ানোর শখটা ডানা মেলেছিল। মাসে দু-একবার সারা দেশ ভ্রমণে তো বের হতামই, বাকিটা সময় ঢাকায় থাকলেও প্রতি বিকেলে বের হওয়া হতো। কখনো সংসদের দই-চাট, কখনো জিয়ার মাজারের চানাচুর, কখনোবা আশুলিয়ার চটপটি খাওয়া...ঘুরে বেড়ানোর সাথে এগুলা ছিল আমাদের ফাও পাওয়া<img src=" style="border:0;" />। আমাদের ঘুরে বেড়ানোগুলো হতো কোনোরকম প্লান ছাড়া। ঘর থেকে বের হলাম, ড্রাইভ করতে করতে কোথাও এলাম ...এরকম আর কি! একবার সংসদে বসে চটপটি খাচ্ছি আমরা তিনজন। আমি মামাতো ভাই আর দুজনেরই কমন এক বন্ধু। তিনজনই শীতের কারণে ভারী চাদর গায়ে দেয়া। হঠাৎ মনে পড়লো আজ তো ২৫ ডিসেম্বর! বড়দিন। কেন যেন ওই বিকেলেই আমার ছোটবেলার বড়দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম ফার্মগেটের কাছে যে চার্চ আছে সেখানে যাবো বড়দিন দেখতে।


তিনজনে মিলে হাঁটা ধরলাম সংসদ থেকে। হলিক্রসের কাছের ওভারব্রীজ থেকে নামতেই দেখি চারপাশে লাইটিং আর উৎসব উৎসব ভাব! আমরাও হাঁটতে লাগলাম চার্চের দিকে। যেহেতু তিনজনেই জীবনে প্রথম এদিকে এলাম, এদিক-সেদিক তাকাতে তাকাতে চার্চ খুঁজতে লাগলাম। মানুষের স্রোত অনুসরণ করে চার্চের দিকে এগুবো ঠিক করলাম। তারপরও নিশ্চিত হবার জন্যে বন্ধু বলতে লাগলো যে আশেপাশে জিজ্ঞেস করে নিতে। আমি ওভার-কনফিডেন্ট, হাঁটতে হাঁটতেই পেয়ে যাবো। ইতোমধ্যে একজন লোক এগিয়ে এলো, জিজ্ঞেস করলো যে আমরা কোথায় যাবো? বন্ধুর গলার স্বর যথেষ্ঠ উঁচু ছিল, তাই শুনে যে কেউ আগায় আসতে পারে। গায়ে পড়ে সাহায্য করতে আসা...আমি সন্দেহবাতিকগ্রস্ত হয়ে পড়লাম <img src=" style="border:0;" /> । মুখে বললাম যে, কোনো সমস্যা নাই, আপনি আপনার কাজে যান। বন্ধু পেছন থেকে আস্তে আস্তে বললো, একেই জিজ্ঞেস কর না চার্চটা কোথায়। আমি ইশারায় ওকে থামালাম। লোকটা এবার জোর গলায় বললো, আপনাদের জিজ্ঞেস করছি কোথায় যাবেন। আমি তো অবাক! কে এই ব্যাটা এরকম জেরা করতাছে রাস্তার মধ্যে!<img src=" style="border:0;" /> আমি কথার জবাব না দিয়ে হাঁটা ধরলাম। মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশে থেকে আরো চার-পাঁচ জন এসে আমাদের তিনজনকে ঘিরে ধরলো। তখন সন্ধ্যা প্রায়, কিছুটা অন্ধকার। আমি তো প্রথমে ভয় পেয়ে গেলাম। ঘিরে ধরা চার-পাঁচ জনকে ভালো করে দেখে বুঝলাম, এদের গায়ের জ্যাকেটটা সাধারন কোনো জ্যাকেট না, পুলিশের জ্যাকেট। লোকগুলা যে পুলিশ বুঝতে আর বিন্দুমাত্র সময় লাগলো না। বাঘে ছুঁলে কতো ঘা,পুলিশ ছুঁলে কতো ঘা ইত্যাদি প্রবাদ তখন একসাথে মনে পড়তে লাগলো<img src=(" style="border:0;" />। আমার বাকি দুই সঙ্গী তো পারলে আমারে ধইরা পিটায়। আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম। শুরু হলো পুলিশি জেরা, কই থেইকা আসছেন, কি করেন...ইত্যাদি। মিরপুর থেকে আমি আসছি, বাকি দুইজনের একজন ধানমন্ডি আরেকজন মোহাম্মদপুর। তিনজন একসাথে তিন রকম উত্তর দিলাম। দিয়ে তিনজনেই ভ্যাবাচেকা। পুলিশ তো আরো টাইট কইরা ধরে! তখনো যেহেতু কোথাও ভর্তি হই নাই, কোনো আইডি কার্ডও নেই। ভরসা মানিব্যাগে থাকা নটরডেমের এক্সপায়ারড আইডি কার্ড। শুরু হইলো শরীর তল্লাশি, চাদরের নিচে কিছু লুকায় রাখছি কিনা খুঁজে দেখলো! অবশেষে অনেকক্ষণ বুঝায় বলার পরে ছাড়লো পুলিশ। ততোক্ষণে বড়দিন দেখার শখ মিটে গেছে/<img src=" style="border:0;" />। পরে হিসাব মিলিয়ে বুঝলাম, তিনজনেই চাদরে আপাদমস্তক মুড়ি দিয়ে এদিক সেদিক তাকাতে তাকাতে চার্চ খুঁজতেছিলাম, পুরো ব্যাপারটাই পুলিশের চোখে সন্দেহজনক লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু উনারা সাদা পোষাকে থাকলে আমি কিভাবে বুঝবো কে আমারে আটকাইলো?<img src=(" style="border:0;" />


আপাতত দেশে আর কোনো বড়দিন দেখার ইচ্ছা নাই। তবে ধবধবে সাদা তুষারের মাঝে ক্রিসমাস দেখার বড় ইচ্ছা। কে জানে তুষারের দেশের পুলিশেরা ছুঁইলে কতো ঘা<img src=" style="border:0;" />!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28887437 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28887437 2008-12-24 21:35:13
ঠিক বলেছ <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> ঠিক বলেছ দিন করি পার শুধু হেসে খেলে
ঠিক বলেছ হয়নি দেখা চীনের বড়ো দেয়াল
তোমায় দেখে আর কিছুতে হয়নি আমার খেয়াল

আমি বলি হাত বাড়িয়ে যাবো না হ্য় জেলে
হাত বাড়াতে ইচ্ছে হবে চাঁদের দেখা পেলে
আমি বলি হাত বাড়িয়ে যাবো না হ্য় জেলে
বোকা মানুষ হাত বাড়াবে চাঁদের দেখা পেলে





ঠিক বলেছ আগুন নিয়ে দিনে রাতে খেলি
ঠিক বলেছ বোকা আমি ভুল যে করে ফেলি
ঠিক বলেছ আকাশ পাতাল অনেকখানি দূরে
পাতাল থেকে স্বপ্নগুলো যাবে আস্তাকুঁড়ে

আমি বলি হাত বাড়িয়ে যাবো না হ্য় জেলে
হাত বাড়াতে ইচ্ছে হবে চাঁদের দেখা পেলে
আমি বলি হাত বাড়িয়ে যাবো না হ্য় জেলে
বোকা মানুষ হাত বাড়াবে চাঁদের দেখা পেলে





হতে পারে তোমার কথাই ঠিক যে পুরোপুরি
তবু আমি তোমায় নিয়ে স্বপ্নডানায় উড়ি
হতে পারে তোমার কথাই ঠিক যে পুরোপুরি
তবু আমি তোমায় নিয়ে স্বপ্নডানায় উড়ি

আমি বলি হাত বাড়িয়ে যাবো না হ্য় জেলে
হাত বাড়াতে ইচ্ছে হবে চাঁদের দেখা পেলে
লা রালা লা রালা যাবো না হ্য় জেলে
বোকা মানুষ হাত বাড়াবে চাঁদের দেখা পেলে





ঠিক বলেছ বামন হয়ে চাঁদকে ছোঁয়া বারণ
ঠিক বলেছ এসব বলার নেই যে কোনো কারণ
ঠিক বলেছ তবু তুমি ভুল ধরিয়ে দিচ্ছ
ঠিক বলারই ছুতোয় কি আজ ভালোবাসা নিচ্ছ?

আমি বলি হাত বাড়িয়ে যাবো না হ্য় জেলে
হাত বাড়াতে ইচ্ছে হবে চাঁদের দেখা পেলে
আমি বলি হাত বাড়িয়ে যাবো না হ্য় জেলে
বোকা মানুষ হাত বাড়াবে চাঁদের দেখা পেলে







অর্ণবের একটা গান। কথাগুলো কেমন যেন নিজের সাথে মিলে যায়<img src=" style="border:0;" />।

গানটার লিঙ্কঃ ঠিক বলেছ-অর্ণব


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28884922 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28884922 2008-12-19 20:55:00
ডিম্ব
ডিম্ব...আমাদের দেশের কোথাও আন্ডা কোথাও বা বয়দা কিংবা বয়জা নামেও পরিচিত শুনেছি। ভদ্দরলোকের ভাষায় ডিম... আমার শৈশবের মূর্তমান আতংক। যেখানে আতংকের শুরু, সেখানেই ডিম্ব কাহিনীর সূচনা...

জ্ঞান হবার আগের কথা মা-বাবারা যা বলে তাই বিশ্বাস করে নিতে হয়, কোনো দ্বিরুক্তি নেই। দ্বিরুক্তি করলেও "তুই আমার পেট থেকে হইছস নাকি আমি তোর পেট থেকে হইছি!" টাইপ দাবড়ানি খাইয়া চুপ মাইরা যাইতে হয়<img src=" style="border:0;" />। তাই মা যখন বলতো "ছোট্ট থাকতে তো এতো জ্বালাইতি না, বড় হইয়া এরুম হইছস কেন?"...আমার বিশ্বাস হইতো না যে আমি এতো সহজেই ডিম্ব গলধঃকরণ করিতাম। হতে পারে শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্ট হবার কারণে ছোট্টবেলা আমার নাম ঠান্ডু মিয়া দেয়া হইছিল, কিন্তু এতোটা ঠান্ডু ছিলাম বলে মনে হয় না যে বিনা প্রতিবাদে ডিম গিলিয়া ফেলব<img src=" style="border:0;" />। জ্ঞান হবার পর প্রথম ডিম্ব অভিজ্ঞতাটাই বলি। খুব সুন্দর করে আমাকে সকালে একখান ডিম পোচ খাওয়ায় সুন্দর জামা-কাপড় পড়ায় বাবুসাহেব সাজাইলো মা। তারপর পা বাড়ালেন অফিসের পথে...ঘর থেইকা পা বাড়াইতেই আমার বমির আওয়াজ। দরজা থেকে ফিরে এসে দেখলেন সদ্য গেলা ডিম্বখানা কিছুটা বিকৃত হইয়া আমার জামা আর মাটিতে লেপ্টালেপ্টি খাইতেছে।

তারপর শুরু হইলো বিভিন্ন পদ্ধতিতে হাঁস মুরগীর ডিম্ব খাওয়ানোর প্রক্রিয়া। কখনো "ওই দেখো পাখি" বলে নজর অন্যদিকে ফিরাইয়া চুপটি করে ডিমটা ভাতের মধ্যে ঢুকাইয়া দিত<img src=(" style="border:0;" />। আমার গোয়েন্দা জিহবা ঠিকই তা বের করে ফেলতো...যদিবা কোনো কারণে ব্যর্থ হতো, খাওয়ানোর শেষে মুখ ধোয়ার আগেই সেই চোরাগোপ্তা ডিম্ব কিছুটা ভাত সহকারে আধাবিকৃত আকারে বের হয়ে আসতো<img src=" style="border:0;" />। এহেন কর্ম বারংবার ঘটায় একসময় হাল ছেড়ে দিল মা। ভাবলেন বমি করার চাইতে ডিম না খাওয়ানোই ভালো...পুডিং বানায় খাওয়াই। আমাদের আত্মীয়মহলে আমার মায়ের পুডিং ব্যাপকই জনপ্রিয় খাইদ্য, যদিও ডিম্বের সাথে উত্তরাধিকারী সম্পর্ক থাকার কারণে ওইটাও আমাকে গেলানো কষ্ট সাধ্য হয়ে গেলো। তবে ডাল-ঘুটনিটার ভয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে কোৎ করে গিলে ফেলতাম<img src=(" style="border:0;" />। এই জিনিস আর বমি হইতো না। মজার কথা হইলো অন্যদের ডিম খাওয়া দেখলেও আমার বমির উদ্রেক হতো, আর এ ঘটনা পুঁজি করে আমার বোন আর কাজিনরা আমার সামনে এমন ভাবে ডিম খেতেও যেন স্বর্গ থেকে এইমাত্র পোচ হইয়া আসছে<img src=" style="border:0;" />। আর আমি বমি করতে বাথরুমে ছুটতাম।


ভগ্ন স্বাস্থ্য হওয়াতে মা ডিমের পরিবর্তে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ দিয়া পোষায় দিলেন। আমি নিজেও দুধ খাইতে পছন্দ করতাম। কিন্তু কৈশোরেও আমার ভগ্ন স্বাস্থ্য দেখে মা নিজেকেই বারংবার দোষ দিতে লাগলেন...কেন যে ডিমটা খাওয়ানোর চেষ্টা আরেকটু করলাম না! শৈশবে আমি কিন্তু মন থেইকা ডিম খাইতে চাইতাম, পেটে রাখতে চাইতাম। কেমনে যেন বমি হইয়া যাইতো<img src=" style="border:0;" />! এখানে একটা কথা, আমি কিন্তু পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে ডিম ভাজা বা মামলেট খেতাম...ওইটাতে ডিমের বদ গন্ধ পাওয়া যাইতো না<img src=" style="border:0;" />। কিন্তু ডিম সিদ্ধ, হাফবয়েল অথবা পোচ খেতাম না।


তো কৈশোরে বন্ধুদের সুস্বাস্থ্য আর নিজের হীনস্বাস্থ্য দেখে আমিও ডিম খাবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। রাস্তায় ডিম সিদ্ধ করার ফেরিওয়ালাগুলার আশেপাশে ঘুরাঘুরি করা শুরু করলাম। কি অপূর্ব কৌশলে তারা চামচ দিয়ে ডিমের খোসাটা চুরচুর করতো! তারপর এক মাথা থেকে শুরু করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খোসা আলাদা করতো। তারপর একটুকরা সুতা দিয়ে ডিমটাকে দুইভাগ করে মাঝে কিছু লবন আর গোলমরিচ ছিটিয়ে দিতো। দাম নিতো তিন টাকা। পুরো ডিম প্রক্রিয়াজাতকরণটা আমার কাছে দারুণ লাগতো। কিন্তু ডিম্বজনিত শৈশব ভীতিতে আমি আর ডিমসিদ্ধ খাবার সাহস করলাম না। তারপর থেকে স্বপ্নেও দেখতে লাগলাম, আমি ডিম সিদ্ধ খাচ্ছি। মাঝের ওই হলদেটে জায়গাটা...কুসুম না কি যেন বলে, খেতে স্বপ্নে কেমন যেন মিষ্টি বিস্কুট বলে মনে হতো। কে বলে স্বপ্নে স্বাদ পাওয়া যায় না<img src=" style="border:0;" />! একসময় সাহস করে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে খেয়েই ফেললাম একটা ডিম সিদ্ধ। ভীষণ কুৎসিত লাগলো। কিন্তু বমি হলো না। প্রথম দিনের সাফল্যে আমি আশান্বিত হলাম। বাসায় পরেরদিন আমকে বললাম একটা ডিম সিদ্ধ দিতে। মা কিছুটা অবাক হলেন, কিন্তু দ্বিরুক্তি করলেন না...ভয়ে ছিলেন আবার সিদ্ধান্ত না পালটে ফেলি! নিজেই ডিমের খোসা ছাড়ালাম। বীট লবন, গোলমরিচ মিশিয়ে খেয়ে ফেললাম দ্বিতীয় ডিম সিদ্ধ...এতো বেশি করেই মশলা দিলাম যে ডিমের স্বাদ যেন না পাওয়া যায়। নিজের রেসিপি নিজের কাছে তো ফ্লপ খেতে পারেই না<img src=" style="border:0;" />! অপারেশন সাকসেসফুল।


তারপর থেকে নিয়মিতই ডিম সিদ্ধ খেতাম, কিন্তু ডিম পোচ তখনো অচ্ছুৎ। স্কুলে পড়া অবস্থায় বিভিন্ন কারণে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাসায় প্রায়ই থাকা হতো দিনের বেলা(বিভিন্ন কারণটা বিশাল...আরেকদিন বলবো)। তো একদিন আন্টি নাস্তা হিসেবে সহজে রাঁধা যায় এমন কিছু হিসেবেই দিলেন ডিম পোচ। আমার তো পেটের ভেতরের খাবার বের হয়ে আসার উপক্রম<img src=" style="border:0;" />। বললাম যে," আন্টি, আমি তো ডিম খাই না।" উনি ভাবলেন এইটা আমার বিনয়! বললেন," খাও বাবা খাও, কিছু হবে না"। কি আর করা<img src=(" style="border:0;" />...আমাকে খাইতেই হইলো। বাকি পুরোটা দিন বহু কষ্টে বমি চাপলাম। এরকম ভালোবাসার অত্যাচার বহুদিন চললো<img src=(" style="border:0;" />। ধীরে ধীরে আমিও একসময় ডিম্বখাদক হয়ে উঠলাম। মাও এখন স্বীকার করেছেন, ছোট্টবেলাতেও আমাকে ডিম খাওয়ানো যেতো না।(আগে স্বীকার করে নাই<img src=" style="border:0;" />)


এখন আমি খুব মজা করে পুডিং খাই। ডিমে কোনো প্রকার অরুচি নাই। তবু যে লক্ষ্যে খাওয়া শুরু করছিল...মোটা-তাজাকরণ...তার কোনো অগ্রগতি হয় নাই। তবু সান্ত্বনা... ডিম্ব নামে একটা পোস্ট দিতে পারলাম! ডিম্ব খাওয়ার চেষ্টা একেবারে বৃথা যায় নাই, কি বলেন?<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28883926 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28883926 2008-12-17 19:43:52
থেরাডন...এক বিস্মৃত নাম সব ইতিহাস বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না.............................<img src=" style="border:0;" />


থেরাডন রাজ্যের ইতিহাস মনে হয় আজকের ঐতিহাসিকরাও ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু একটা সময় থেরাডন নামের একটি রাজ্যের অস্তিত্ব ছিলো, ছিল নানা উপকথা তাদের রহস্যময় রাজ্য নিয়ে। গ্রীক সাম্রাজ্য, রোমান সাম্রাজ্য আরো কতো সাম্রাজ্যের কতো কথা আমাদের ইতিহাসে লেখা থাকে, কতোই না মীথ প্রচলিত থাকে এসব সভ্যতা নিয়ে... কিন্তু এইসব সভ্যতার ইতিহাস কখনোই সভ্য ছিল না। সত্যি বলতে আমাদের ইতিহাসের পাতায় শুধুই যুদ্ধের ইতিহাস, রক্তক্ষরণের ইতিহাস, ক্ষমতার লড়াইয়ের ইতিহাস...কখনো কখনো হয়তো ভালোবাসার কিছু ইতিহাসের কথাও লেখা থাকে, সে ভালোবাসাও কিভাবে যুদ্ধ ডেকে এনেছে অথবা ক্ষমতা দখলে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তার ভিত্তিতেই ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। থেরাডন রাজ্য ছিল এর মাঝে ব্যতিক্রম, হয়তো একমাত্র ব্যতিক্রম নয়। তবে এইসব ব্যতিক্রম কেন যেন ইতিহাসে লেখা থাকেনি...ঐতিহাসিকেরা ব্যতিক্রমের ধার ধারেননি।


থেরাডন রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়েছিল তৎকালীন মেসোপটেমিয়া রাজ্যের উত্তরে, সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে। উৎপত্তিরও পূর্বে মেসোপটেমিয়ার অংশই ছিল এ অঞ্চল, কিন্তু সেসময়ের এক অভিজাত পরিবারের জন্ম নেয়া নারী থিরানার নামে পরবর্তীতে এ রাজ্যের সূচনা হয়। খুব সম্ভবত ৩০০--৪৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতা বিদ্যমান থাকে। স্বল্পকালীন এ সভ্যতার ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে না পারার একমাত্র কারণ ছিল এ রাজ্যের অহিংস মনোভাব। যুদ্ধ করে রাষ্ট্র দখল অথবা বিস্তারে কোনো আগ্রহ ছিল না বলেই হয়তো ঐতিহাসিকেরা সবসময়ই এ রাজ্যের অস্তিত্ব এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এড়িয়ে গিয়েছিলেন সেসময়কার যুদ্ধবাজ নেতারাও, কেউই আসেননি দখল করতে এ রাজ্যকে। কেন? সে কথাই বলছি...তার আগে থিরানার কথা কিছু বলে নেয়া যাক।

অভিজাত ব্যবসায়ীর কন্যা থিরানার শৈশব ছিল ঐশ্বর্যমণ্ডিত। কিন্তু নিয়ত যুদ্ধমান গ্রীক সম্রাটদের আক্রমণে থিরানাদের বাসস্থান ধূলোয় মিশে যায়। হাজার হাজার লোক মারা পড়লেও তখনকার যুদ্ধবাজ সম্রাটদের কাছে সেটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু এ দখলের সময়ই রূপবতী থিরানার উপর চোখ পড়ে আক্রমণকারী গ্রীক সেনাপতির। তুলে নিয়ে যায় তারা থিরানাকে। হয়তো সেসময় থিরানার অসহায়ত্ব আর কান্না থিরানাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল, তবে এরই পরিণামে পরবর্তীতে থেরাডন সাম্রাজ্যের উৎপত্তি। তো যা বলছিলাম, থিরানা খেলার পুতুলের মতো ঘুরতে লাগলো এক সেনাপতি হতে আরেক সেনাপতির হাতে। একসময় তার উপর চোখ পড়লো গ্রীক সম্রাট নিকোমেডিয়াসের। তার রক্ষিতায় পরিণত হলেন থিরানা। ততোদিনে পৃথিবীর নিষ্ঠুর বাস্তবের স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন থিরানা। সম্রাটের রক্ষিতা মহলে তাই নিজেকে আরো শানিয়ে নিলেন এ অপরূপ রূপবতী। নারীসুলভ ছলাকলা দিয়ে মাতিয়ে তুললেন সম্রাটকে। থিরানার উপর খুশি হয়ে পরবর্তীতে তৎকালীন থেরাডন যে অঞ্চলে ছিল, সে অঞ্চলের শাসকের সাথে নিজে উপস্থিত থেকে বিয়ে দিলেন নিকোমেডিয়াস। তখনো কিন্তু এ অঞ্চলের নাম থেরাডন হয়নি, কিন্তু পরবর্তীতে থেরাডনের গল্প ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবার কারণে থেরাডনের আদি নাম উদ্ধার করা সম্ভবও হয়নি।


থেরাডনের শাসকের স্ত্রী হিসেবে রাজ্যে এলেন থিরানা। এ সাম্রাজ্যও গ্রীক সাম্রাজ্যের মতোই রক্তাক্ত আর সহিংস ছিল। তাই থেরাডন রাজ্যে এসে প্রজার কথা ভেবে থিরানা শান্তি পেলেন না। একসময় থেরাডন অঞ্চলের শাসকের মৃত্যু হয়... কোনো ষড়যন্ত্রমূলক অস্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বৃদ্ধ শাসকের সাধারণ মানুষের মতোই মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর সুচতুরা থিরানা ক্ষমতা দখল করে নেন...তখন থেকেই উক্ত অঞ্চলের থেরাডন নামের উৎপত্তি হয়। থেরাডন রাজ্যের পুরোহিতরা আপত্তি করে বসে, নারীর শাসন মেনে নিতে চাইলো না। অজুহাত হিসেবে দিলো দেবতাদের অভিশাপের কথা। কিন্তু থিরানা ক্ষমতার লড়াইয়ের পিছের রক্তাক্ত ইতিহাস দেখে শিখেছিল, পুরো পরিস্থিতি পালটে দিতে নিলো এক আজব সিদ্ধান্ত। যে সিদ্ধান্তের জন্যে থেরাডন রাজ্য হয়ে ওঠে অন্যরকম এক সাম্রাজ্য।


পুরোহিতেরা নারী শাসক মানবেন না, আবার পুরুষ শাসক এলেই হয়তো ক্ষমতার লোভে রাজ্য বিস্তার, যুদ্ধ, সহিংসতা শুরু করবেন। এ দ্বন্দ্ব থেকে থিরানা এক নতুন শাসন পদ্ধতির সূচনা করলেন। থিরানা নিজেকে সে রাজ্যের রানী ঘোষণা করলেন, রাজ্যের নাম রাখলেন থেরাডন। আর সবচাইতে মজার সিদ্ধান্ত নিলেন এই যে, প্রতিদিন থিরানা রাজ্যের পুরুষদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিবেন যে হবেন একদিনের রাজা। একবার যে রাজা হবেন তিনি আর রাজা হতে পারবেন না। আর সে একদিনের রাজার হাতেই থাকবে দেশ চালানোর সমস্ত ক্ষমতা। পুরো নাটকীয়তায় হত-বিহবল হয়ে পড়লো পুরোহিত সহ আশেপাশের রাজ্যের শাসকেরা। শুরু হলো নতুন ইতিহাস... থেরাডনের ইতিহাস।


কেউ কেউ বলতো যে রানী প্রতিদিন নতুন পুরুষের সঙ্গ পেতে এ শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন...হয়তো সত্যি, হয়তো মিথ্যা। থেরাডন রাজ্যের পুরুষেরা একদিনের রাজা হবার লোভে সবাই এ শাসন মেনে নিয়েছিল...ফলে এ শাসনব্যবস্থার পিছে রানীর প্রকৃত অভিলাষের কথা কেউ কখনোই উদ্ঘাটন করতে পারেননি। তবে রানীর পরবর্তীতে এক মেয়ের জন্ম হয়েছিল। কার সন্তান তা কেউ জানে না...তবে ঐতিহাসিকদের মতে, যারই হোক না কেন, কোনো একদিনের রাজার সন্তান হবে। আবার কারো কারো মতে হয়তোবা রানীর কোনো গোপন ভালোবাসা ছিল, তারও ঔরসজাত সন্তান হতে পারে। থিরানার পরে রানী হয়েছিল থিরানার এই কন্যাসন্তান।



থেরাডন রাজ্যের এ অদ্ভূত শাসন ব্যবস্থার ফলে কিছু অভাবনীয় ব্যাপার ঘটে গিয়েছিল। প্রত্যেকেই একদিনের রাজা হওয়াতে স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল। সেই সাথে মানুষের সাথে মানুষের ভেদাভেদ কমে গিয়েছিল। কমেছিল সহিংসতা। এ রাজ্যের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। আশেপাশের শক্তিশালী রাজ্যের পুরুষেরা থেরাডনে ভিড় করতে শুরু করে। ফলশ্রুতিতে বিনা যুদ্ধে থেরাডনের আশেপাশের রাজ্য থেরাডনের সাথে একীভূত হয়ে বিশাল রাজ্যের সৃষ্টি করে। প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেতে থাকা এ রাজ্য গ্রীকদের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায়। গ্রীক সম্রাট এ রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চাইলেও সম্রাটের বুদ্ধিমান পুরোহিতেরা এ কাজে বারণ করে। অজুহাত হিসেবে বলেন...থেরাডন মায়ানগরী, সেখানে পুরুষেরা মায়াময়ী নারীর জালে আটকা পড়ে। গ্রীক সম্রাট ভয়েই আর কোনো সেনাবাহিনী থেরাডনের আশেপাশেও পাঠাননি। অন্য কোনো সম্রাটও এ সাম্রাজ্য দখল করার ইচ্ছে পোষণ করেননি। আর একদিনের রাজাদের দেশের দেশবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম ব্যাপারটা তীব্রভাবে জেগে উঠেছিল।


এ সভ্যতার শুরু যেমন হঠাৎ করেই হয়েছিল, ঠিক তেমনি হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যায়। থিরানার কন্যাও থিরানা নামে পরিচিত ছিল। থিরানা শেষ বয়সে কন্যা থিরানা ২য়কে নতুন রানী মনোনীত করে যান। থিরানা ২য়ও একই শাসন ব্যবস্থা জারি রাখেন, আর থেরাডন সাম্রাজ্যও রক্তপাতহীন ভাবেই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। থিরানা ২য় এর গর্ভে জন্ম নেয় দুই ছেলে ও এক মেয়ে। পরবর্তীতে থিরানা ২য় তার কন্যা থিরানা ৩য়কে সাম্রাজ্যের নতুন কর্ণধার নির্ধারণ করেন। এ থেকে ঐতিহাসিকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে মাতৃতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল থেরাডন রাজ্যে। থিরানা তৃতীয়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছিল দুই পুত্র...কোনো কন্যাসন্তান নয়। ফলে থেরাডনের শাসন ব্যবস্থা থিরানা ৩য় এর মৃত্যুর পরপরই ভেঙ্গে পড়ে। কথিত আছে ক্ষমতা নিয়ে দুই রাজপুত্রের যুদ্ধ আবারও থেরাডনকে পৃথিবীর সাধারণ সব ইতিহাসে ফিরিয়ে আনে...থেরাডন সভ্যতাও একসময় কালের গহীনে হারিয়ে যায়।


আরো অনেক মীথ প্রচলিত আছে এই থেরাডন রাজ্য নিয়ে...সত্যি-মিথ্যা অনেক গল্প জড়িয়ে আছে। তবে সকল ঐতিহাসিকই এ কথা এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে আরো কিছুদিন এ সাম্রাজ্য টিকে গেলে হয়তো গ্রীক সাম্রাজ্যের কথা ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যাবার উপক্রম হতো।













বিঃদ্রঃসত্যির মতো করে মিথ্যা বলার খুব মজা<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28881162 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28881162 2008-12-11 20:27:47
আরেক ঝাঁপি রাঙ্গামাটি...( <img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />আবারও ফোটুকময় পোস্ট<img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> ) বন পাহাড়ের নেশা খুব সহজ কিছু না। নেশার খাতিরেই আবারও গিয়েছিলাম রাঙ্গামাটি। তাই আবারও ফোটুকময় পোস্ট। নতুন করে দেখা আর পুরানো প্রিয় জিনিস ফিরে ফিরে দেখার মধ্যে তফাত কি বোঝার চেষ্টা করলাম। কিছুটা বুঝতেও পারলাম। নতুন দেখার মাঝে আছে শুধুই বিস্ময়, আর ফিরে ফিরে দেখার মাঝে আছে তুলনার মানদণ্ড হিসেবে আগের বিস্ময়টুকু...


বহুত আজাইরা প্যাচাল পাড়লাম। প্যাচাল বন্ধ করে এবার ছবি দেখি<img src=" style="border:0;" />


একলা মাঝি




শান্ত সে হ্রদ




আকাশে মেঘের কসরত




আমাদের যাত্রা... ...




পাহাড় মিশতে চেয়েছে জলের সাথে




জলের মাঝে মেঘের ছায়া




অতিথি পাখিরা আসতে শুরু করেছে...




আলো আঁধারির খেলা




শুভলং পাহাড়ে গা বেয়ে ওঠা সিঁড়ি




২২৬০ ফুট উপর থেকে কাপ্তাই হ্রদ




একই উচ্চতা থেকে পাহাড়ের সবুজকে ধরার চেষ্টা




জীবিকার খোঁজে...




শিরোনাম পাই না...(আমার সবচাইতে প্রিয় ছবি)




আবারও একলা মাঝি




চিকেন উইথ ব্যাম্বু<img src=" style="border:0;" />




সূর্য অস্তমান...




ক্যামেরাটা নড়ে গিয়েছিলো...তবু কেন যেন ভালো লাগলো!!




বোনাস ছবি<img src=" style="border:0;" />
(আসার সময় পতেংগা হয়ে এলাম। ইনফ্রারেড মোডে তোলা রাতের জাহাজের ছবি)





এবারের ক্যামেরা ছিল সনি সাইবারশট ...কতো সিরিয়াল জানি না। ৯.১ মেগাপিক্সেল আর ১৫এক্স অপ্টিক্যাল জুম<img src=" style="border:0;" />...যদিও ক্যামেরাটা আমার না/<img src=" style="border:0;" />

বিঃদ্রঃ সব ছবি তুলেছি আমি আর আমার আরেক বন্ধু মিলে...দুজনের চয়েস এতো কাছাকাছি যে আলাদা করতে পারছি না কোনটা কে তুললো!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28880533 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28880533 2008-12-09 18:58:17
এক একটা দিন অন্যরকম হয়...
ধ্রুব এখনো ঘুমাচ্ছে। সুমনার সাথে থাকলে অবশ্য এই সুযোগ বেচারা তেমন পায় না। সেজন্যেই মা থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারলে যেন বর্তে যায়! সুমনাও স্কুল ডে গুলোতে ওকে আমার কাছে পাঠায় না। আমার শুক্রবার আর শনিবারগুলো যেন দেখতে দেখতে পার হয়ে যায়। শনিবার রাতে ধ্রুবকে নিতে আসবে সুমনা, নিচে গাড়ীতে বসে থাকবে ধ্রুবর নতুন বাবা। প্রতি শনিবার রাতেই ধ্রুব ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি যায়, সুমনা শুনায় আগামী শুক্রবারের গল্প, কখনো ধমকি... আমি শুধু ভাবতে থাকি এক একটা দিন এরকম হয় কেন?

"ধ্রুব...বাবা উঠো," শান্ত স্বরে ডাকতে লাগলাম আমি, "ধ্রুব...ধ্রুব..."। তিন-চারবার ডাকতেই উঠে গেলো। চোখ কচলাতে লাগলো। আমি বসে ওর চোখ কচলানো দেখতে লাগলাম, চেহারায় ঘুম ঘুম ভাব এখনো দূর হয়নি। কি মায়া মায়া মুখ, খানিকটা ওর মায়ের আদল। কোলে করে নিয়ে হাঁটতে বের হলাম।
পিঠে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে এখনো, আমি কাক দেখানোর চেষ্টা করছি, আগ্রহ পাচ্ছে না, কিছু কথার জবাব দিচ্ছে আবার ঘুমাচ্ছে। কাক ছাড়া আর কি দেখানো যায় সেটা নিয়ে আমি নিজেও কিছুটা চিন্তিত। আজকের দিনটায় ঢাকা শহর ঘুরে বেড়ানো যায়। ঢাকা শহরেও ঘোরার আর তেমন কি জায়গা আছে! পরীক্ষা শেষ হলে সুমনাকে বলে দেখবো। ওকে নিয়ে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যাওয়া দরকার। আমার সাথে যেতে দিবে কিনা কে জানে?

"দেবো না কেন?" অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সুমনা। ওর কথা শুনে আমি তার চাইতেও বেশি অবাক হয়ে গেলাম। আগের মতো বিতৃষ্ণা ভরা চোখে তাকাচ্ছে না, বিরক্ত হয়েও কথা বলছে না। আমি ইতস্তত করে বললাম,"না মানে..."। মধ্যিপথে থামিয়ে দিল, তারপরে একটু চুপ করে থেকে বললো,"তোমার অসুবিধা না থাকলে আমিও যেতে পারি তোমাদের সাথে। অনেকদিন ঢাকার বাইরে যাওয়া হয় না..."। আজ যেন আমার অবাক হবার দিন। হাঁটতে বের হয়ে কেমন করে কিসব ভাবতে ভাবতে এসে পড়েছিলাম সুমনাদের বাসায়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবলাম এসেই যখন পড়েছি, বলে দেখি ধ্রুবকে সাথে দিবে কিনা...হয়তো ২-৩দিনের জন্যে ঢাকার বাইরে যাবো। এই সময়ে কক্সবাজারে দারুণ আবহাওয়া। বলতে এসে এই অবস্থা! আমি যেন নিশ্চিত হতে চাইলাম আরেকবার,"আমার সাথে যাবে?" এবার আমার কথাটা একটু জোর দিয়েই বললাম। শান্ত স্বরে জবাব দিল সুমনা,"কেন? তুমি কি বাঘ-ভাল্লুক নাকি যে তোমার সাথে যাওয়া যাবে না? নাকি আগে কখনো যাইনি?" আমি খুশিতে কি বলবো বুঝতে পারছি না। এক একটা দিন কেন অন্যরকম হয়?

ক্রিং ক্রিং ক্রিং......বেজেই চললো পাগলা ঘন্টিটা। ঘড়িটার এলার্ম বন্ধ করে চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগলাম...আমার স্বপ্নগুলো এখনো এতো সুন্দর! কানের কাছে এখনো সেই বিরক্তিকর কাকের কা কা। পাশে ধ্রুব নেই, থাকবে কি করে? আজ না রবিবার! ক্যালেণ্ডারটা চোখের সামনে নীরব কৌতুক হয়ে ঝুলে রইলো। কে বলে--এক একটা দিন অন্যরকম হয়?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28879650 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28879650 2008-12-07 14:01:34
বন পাহাড়ের নেশায় ... ... (<img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />ফোটুক ভরা পুষ্ট<img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />) " style="border:0;" />। ঘুরে বেড়ালাম স্বাধীনমতো...আমার কথা তো আবার বিশ্বাস হয় না /<img src=" style="border:0;" /> , তাই তুলে আনলাম কিছু ছবিও। সেই কিছু বাছাই করতে গলদ্ঘর্ম, কোনটা ছেড়ে কোনটা দেই/<img src=" style="border:0;" />? তাও যা দিলাম, লোড হইতে আপনাদের কতোক্ষণ লাগে আল্লাহ মালুম। লোড হইতে হইতে সময় যাতে কাটাতে পারেন তাই এতো বকবক করলাম।



শীতের সকালে হ্রদের চিকচিক পানি





পাহাড়ের শুরু





শুভলং পাহাড়ের উপর থেকে উপজাতীয় বসতি





নাম না জানা বুনো ফুল





পাহাড়ের গায়ে সময়ের খাঁজ





পাহাড়ের উপর আমাদের অভিযাত্রী দলের কয়জনা <img src=" style="border:0;" />





শুভলং ঝর্ণা...শীতে মৃতপ্রায়





ঝর্ণাকে পিছে ফেলে আমরা <img src=" style="border:0;" />





আবারো পাহাড় ফেলে জলপথে





ওইটা কি...বাঁশ? খাইতে খাইতে শেষ<img src=(" style="border:0;" />





বুদ্ধদের স্বর্গ...সাতটি সোপান(সবগুলা ছবিতে নাই)<img src=" style="border:0;" />





ফিরে যাবার আগে পিছু ফিরে হ্রদটাকে দেখে নেয়া





দিনের শেষে... ...




প্রতিদিন ছবিগুলা দেখে ভাবতাম...দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না... খাঁচায় পুরতেই তাই আবারো বন পাহাড়ের নেশায় ছুটে বেরোচ্ছি। আগামী ১ তারিখ রাতে যাচ্ছি রাঙ্গামাটি। এবার যাচ্ছি য়ামরা বন্ধুরা মিলে। রাঙ্গামাটির কেউ ব্লগিং হয়তো করেন না, কিন্তু যারা রাঙ্গামাটি গিয়েছেন, তারা কেউ ওইখানে থাকার ব্যবস্থা বা হোটেল সম্পর্কে জানাতে পারলে কৃতার্থ হতাম। এর আগেরবার সরকারী রেস্টহাউজে ছিলাম, এবার সে সুযোগ নাই। তবে হোটেল পাই বা না পাই...বন পাহাড়ের নেশায় আমরা কিন্তু ছুটে যাচ্ছিই...


ছবিগুলোর আসল রেজ্যুলেশন কপি পাবেন আমার বক্সে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28874527 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28874527 2008-11-26 17:41:36
আমার পিসি... ... আমার সার্ভার
আমরা বাংলাদেশের যারা আছি, আমরা জানি কি বাজে ব্যান্ডউইথ আমরা পাচ্ছি। কারণ একে তো আমাদের আইএসপি আমাদের ভালো সার্ভিস দেয় না, যদিও পয়সা কম নেয় না! দ্বিতীয়ত আমাদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ সার্ভার অনেক দূরদেশের। এখন ডাউনলোডের জন্যে আমাদের বেশিরভাগের স্পিডই ৫ থেকে শুরু করে ৩০ কেবিপিএসএর মধ্যে। একটা মুভি নামাতে লাগে ৪-৫ দিন, রাত জেগে কম্পিউটারে ডাউনলোড দেয়া কিংবা ডাউনলোড দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া। একটু বন্ধ হলেই শেষ, কারণ বেশিরভাগ মুভি সাইট রিজিউম সাপোর্ট করে না। শুধু মুভি ডাউনলোডারদের বলছি না। মনে করুন, আপনার বন্ধুর সাথে এই মুহূর্তে একটা ফাইল শেয়ার করতে চান। হতে পারে একটা গান কিংবা সফটওয়ার কিংবা ভিডিও...ইয়াহু প্রায়ই প্রবলেম করে, ট্রান্সফার করতে পারলেন না। কিংবা হয়তো রিজিউম সাপোর্ট করে না দেখে বড়ো সাইজের ফাইল শেয়ার করতে পারছেন না। কি করেন? কোনো শেয়ারিং সাইটে আপলোড করে লিঙ্ক দেন? আপনি আপলোড করলেন ৫-১৫ কেবিপিএস স্পীডে। আপনার বন্ধু সমান স্পীডে নামালো। দুজনেরই সময় নষ্ট হলো। বিরক্তিরও শেষ নাই।

এবার আমি আমার কাহিনী বলি। আমি বেশ কিছুদিন ধরে ডাউনলোড করছি ১ এমবিপিএস স্পীডে। বিশ্বাস হয়? কারণটাও বলি।

কারণ হচ্ছে, আমরা বন্ধুরা শহরের যে প্রান্তেই থাকি না কেন, নিজেরা নিজেদের পিসিকে সার্ভার বানিয়ে ফেলেছি। তাই একজন আরেকজনের পিসি এরকম স্পীডে শেয়ার করছি। তবে একটু কিন্তু রয়েই গেলো। আমরা সবাই একই আইএসপির নেট ইউজ করি, তাই আমাদের স্পীড ১ এমবিপিএস। কিন্তু সবার বেলায় তা হবে না। আর আপনার একই আইএসপির কোনো বন্ধু যদি চেনা থাকে, তাহলে তো হলোই, আমার এই পোস্টটা দেখায় দিবেন<img src=" style="border:0;" />। অন্য আইএসপির হলেও নরমাল ডাউনলোড স্পীড পাওয়া যাবে...আর আপলোডের কোনো ঝামেলাই থাকলো না। সেই সাথে রিজিউম সাপোর্টও রইলো। আর আরেকটা কথা, যতক্ষণ ডাউনলোড চলবে, ততক্ষন কিন্তু যেই পিসি থেকে ডাউনলোড করছেন, তা অন থাকতে হবে। যাদের নিজের আইপি নেই, শেয়ারড আইপি, তারা এই সুবিধা পাচ্ছেন না। তারা কিছু শেয়ার করতে পারবেন না, কিন্তু শেয়ার করা জিনিস ডাউনলোড করতে পারবেন।


অনেক আজাইরা প্যাচাল হইলো। এইবার কামের কথায় আসি। কিভাবে করবেন। আমি মাত্র ২টা উপায় জানি, চলবে? একটা হইল উইন্ডোজের IIS ব্যবহার করা, যেটা একটু কঠিন এবং টেকি গীক কেউ জানতে চাইলে আওয়াজ দিবেন। অন্য কারো বুঝার ইচ্ছা থাকলেও বইলেন, আরেকদিন বুঝাবো। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এইবার দ্বিতীয় উপায় কইতাছি। abyss server টা নামায় নেন। ইন্সটল করেন। তারপরের কাজ খুবই সিম্পল। নিজে এডমিনিস্ট্রেটর নেম পাসওয়ার্ড দিয়ে সার্ভার কনসোলে ঢুকে যাবেন। দেখবেন আপনার স্ক্রীনে নিচের মতো উইন্ডো।



এবার configure ক্লিক করুন। general এ যান। Documents Path এ যে ড্রাইভ বা ফোল্ডার শেয়ার করতে চান, সেটা সিলেক্ট করুন। Ok দিয়ে বের হয়ে আসুন। উপরে Restart বাটোন ক্লিক করুন। হয়ে গেলো। ফায়ারওয়াল অন করা থাকলে Control panel>security center থেকে সেটা অফ করুন।

আপনার কাজ কিন্তু শেষ। এবার ব্রাউজারে আপনার আইপি লিখে ব্রাউজ করুন। মনে করুন আপনার আইপি 114.31.1.252। আপনার সার্ভারের এড্রেস হবে http://114.31.1.252/। আরেকটা জিনিস। স্ক্রীনশটে খেয়াল করুন, পোর্ট 80 হলো আপনার পিসির ডিফল্ট সার্ভার পোর্ট। এইটা দেয়া থাকলে আপনার পিসি http://114.31.1.252/ ।এই লিঙ্কেই কানেক্ট করতে পারবেন। কিন্তু পোর্ট নাম্বার যদি পরেরটার মতো 3050 হয়, তাহলে আপনার লিংক হবে http://114.31.1.252:3050/
এবার আপনার পিসি অটোমেটিক ব্রাউজ করার মতো পেজ পাবে। যেমনঃ


সফটওয়ারটার আরো অনেক সুবিধা আছে, ঘাঁটাঘাঁটি কইরা আর হেল্প দেইখা বুইঝা নিয়েন। যে লিঙ্ক দিছি সফটওয়ারের, সেটা ফ্রি ভার্শনের। আর আমার মতো যদি একাধিক পোর্ট খুলতে চান তাহলে র‌্যাপিডশেয়ার এর লিঙ্কে যান।

মূল কথা কিন্তু ডাউনলোড স্পীড না...শেয়ারিং। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু শেয়ার করতে প্রয়োজন শুধু আপনার ইচ্ছা, abyss server আর আমার আধা-টেকি টিউটোরিয়াল<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28874233 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28874233 2008-11-26 01:09:58
ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর... বিলগুলো দিয়ে আয়। ব্যাংকে অনেক ভিড় হতে পারে, ঈদের আগে তাড়াতাড়ি দিয়ে আসলেই ভাল।"
গেলাম ব্যাংকে। বিশাল লাইন। মেজাজ গেলো খিঁচড়ে। কাজের মধ্যে কাজ, কম্পিউটার নিয়ে রাত-দিন পড়ে থাকা। কেন যে উঠতে গেলাম! ব্লগ পড়ি ব্লগ লেখি , এগুলা কি কোনো কাজের মধ্যে পড়ে না<img src=(" style="border:0;" />? আর মা-বাবা সুন্দর বলে দিলো সংসারের প্রতি কোনো দায়িত্বই নাই! কোনো কাজই নাকি করি না! কয়েকদিন ধরে কুঁইড়ার বাপ বলে ডাকাও শুরু করে দিছে<img src=" style="border:0;" />।বললাম ," কুঁইড়া বলো, ভালো কথা। আমারে বলো। আমার পোলারে বলো কেন?" কোনো সদুত্তর নাই। বিশাল লাইনের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে মেজাজ খারাপ করে এইসব হাবিজাবি ভাবতেছি। পিছনে এক মধ্যবয়স্ক লোক এলেন। কেন যে এলেন /<img src=" style="border:0;" /> ! কমসে কম দুই ঘন্টা দাঁড়ায় থাকতে হবে, আর দুই মিনিটের মাথায় এই লোক পাগল করে ফেলবে!
ভাই, আপনি কি লাইনের শেষে?
হুমম।(মনে মনে বলতাছি, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেস <img src=(" style="border:0;" /> ! দেখতেই ত পাইতাছস আমি লাইনের শেষে, ওইটা আবার জিগাইতেও হইবো?)
ও...কতোক্ষণ হইছে আসছেন?
বেশিক্ষণ না(সকালে নাশতা না খাইয়া বাইর হইছি, বেটার কথায় মনে পড়ছে। এখন ছুঁচো না চিকা কে যেন পেটে বুক-ডন দেয়া শুরু করছে! <img src=(" style="border:0;" /> )
আরো ভটর-ভটর কইরা কিসব যেন জিগাইলো...কয়জন কইরা ভিতরে ঢুকাইতাছে, কয়টা কাউন্টারে বিল নিতাছে, বাসা কই...এইসব। ফালতু প্যাচালে না যাইয়া কানে তুলা দিয়া হুম হুম কইরা সব কথা কাটায় যাইতে লাগলাম। তুলা অবশ্য ছিল না, তাই মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম আজকে ব্লগে কি লেখমু...এই চিন্তায় ওই বেটার কথা না শুনার টেকনিক আর কি!

লাইনে দাঁড়ানোর দুঃখের কথা আর কি কমু! প্রতিবার লাইনে দাঁড়াই আর মনে হয় যেন সারাটা জীবন ধইরা লাইনে দাঁড়ায় আছি...চিন্তা করতে থাকি কেমনে লাইন ভাংগা যায়। পিছনের ভটর-ভটর কথার ইঞ্জিন তখনো ফুল-স্পীডে চলতাছে। ইঞ্জিনের কিছু আওয়াজ আপনাদেরও শুনাই।
দেখছেন নি, একজন একজন কইরা ভিতরে ঢুকাইতাছে। কতোক্ষণ লাগাইতাছে। খায়-দায়, গল্প করে আর বিল নেয়। একটা কাগজে সই করে আর পান চিবায়। সবগুলা কাউন্টারে বসায় রাখছে মাইয়া মানুষ। সারাক্ষণ ফুসুর-ফাসুর ফুসুর-ফাসুর, এইগুলানরে ঘরে বসায় রাখা দরকার......

কিছু কথা কানে যাইতাছে আর আমার মেজাজ খারাপ হইতাছে। আমার মা-ও একজন ব্যাংকার, আমি জানি কি কষ্ট এই চাকরিটাতে। ক্যাশিয়ারদের যে কতোবার নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে হিসাব মিলাতে হয় তা আমার ভালো জানা আছে। বাইরের মানুষ খুব কমই জানে... হিসাবের পর হিসাব, তার মধ্যে নাম্বার দিয়ে সিরিয়াল করা, দিন শেষে হিসাব মিললো কিনা...কোথাও কোনো ভুল হয়ে গেলো কিনা... ... ...আমি চুপচাপ শুধু শুইনাই গেলাম। কিছুই বললাম না।

দুই ঘন্টা পরে ব্যাংকের ভিতরে ঢুকতে পারলাম। সেখানেও মোটামুটি সাইজের একটা লাইন দেখা যায়। ততক্ষণে একটা বাজে। ব্যাংক আওয়ার শেষ। তবু বিল নেয়া চলতাছে। ব্যাংকের অন্য সেকশনের সবাই লাঞ্চ নিয়ে ব্যস্ত। কেউবা ব্যাংক ছেড়ে বাইরে খাইতে যাইতাছে। ক্যাশের লোকগুলো শুধু ব্যস্ত... বিল নিতাছে। এর মধ্যে এক ক্যাশিয়ার মহিলা উঠলেন, সম্ভবত টয়লেটের দিকে গেলেন। আমার পিছনের ভটরভটর ইঞ্জিন আবার স্টার্ট দিল, "দুই মিনিট পরপর উইঠা যায়...কেন যে মাইয়ামানুষরে কামে বসায়!" আমিও যথারীতি চুপচাপ শুইনাই গেলাম। একসময় ভাগ্য সদয় হইলো..... আরেক কাউন্টারে আমাকে পাঠায় দিলো, ইঞ্জিনের আওয়াজ থেকে বাঁচলাম।


লাইনে সবার সামনে এখন আমি। লাইনটা তিনভাগে ভাগ করছে। পাশের কাউন্টারেই ভটরভটর ইঞ্জিন। ওইদিকে পাত্তা দিলাম না, নিজের কাউন্টারে বিল দিলাম , আমার বিল নিচ্ছেন একজন মাঝবয়সী মহিলা। কাউন্টারের গ্লাসের ওপাশে পিছনে দেখতে পারছি বিলিং সেকশনের যে হেড, তার সামনে এক ছোট্ট মেয়ে খাতা নিয়ে বসে কি যেন লিখছে। ব্যাংকের মধ্যে বাচ্চা কাউকে দেখলে আমার নিজের ছোট্টবেলার কথা মনে পড়ে। আমিও এরকম বয়সে মায়ের অফিসে যেতাম বেড়াতে। হেড যিনি, তিনি বয়স্কা মহিলা। বাচ্চা মেয়েটাকে দেখে মনে হলো নাতনী হবে। তখন হেড আমার বিল নিতে থাকা মহিলাটাকে বললেন,"আফরীন, তোমার মেয়ে তো সব পড়ে ফেলছে...A B C D অ আ ক খ সব লিখে ফেলছে।" বলে মেয়ের লেখা খাতাটা নিয়ে এলো। বুঝলাম যে হেডের নাতনী না, আমার বিল যিনি নিচ্ছেন তাঁর মেয়ে। মেয়ের মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি গলায় বললো,"বাহ মামুনি, খুব সুন্দর হয়েছে।" আমি চুপচাপ দেখতে লাগলাম...বাচ্চা মেয়েটা পিছনের টেবিল ছেড়ে মার কাছে এলো। আস্তে আস্তে বললো,"মামণি, বাসায় যাবো।" বুঝতে পারলাম, ব্যাংকের এই ব্যস্ততায় মা মেয়েকে একটু সময়ও দিতে পারছে না, কথাও বলতে পারতাছে না। মেয়েও ভীষণ আনইজি ফীল করছে। হয়তো বাসায় একা থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়েই বলেছিল মায়ের অফিসে আসবে...সে কি বুঝেছিলো এরকম হবে অফিস?! মা বললো,"আগেই তো বলছিলাম আসতে না...হুমম। এখন তোমাকে কে নিয়ে যাবে? একটু বসো। মা হাতের কাজটা শেষ করেই বাসায় যাবো।" মেয়ে মায়ের আঁচল ধরে গাইগুই করতাছে। মা বলতাছে,"ওখানে যেয়ে খেলো। যাও ... কিচ্ছু হবে না।" কোথায় খেলবে এইটুক একটা মেয়ে? ক্যাশ কাউন্টারের ভিতরে কোনো জায়গা নাই, বাইরেও মানুষের বিশাল লাইন। মেয়ে মায়ের চেয়ারের পিছনে দাঁড়িয়ে রইলো। চোখভরা পানি...নিঃশব্দ। মেয়ের মা আমার বিল সাইন করতাছে। আমার পাশের কাউন্টারেই ভটরভটর ইঞ্জিন দাঁড়ায় আছে। আমিই শুধু মেয়েটার চোখের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছি... ...



(বানায়-বুনায় কিছু লেখবো ভাবছিলাম, পারলাম না। আমি আবার বানাইতে খুব ভালো পারি। আজকে কি যে লেখলাম...মনটা খুব খারাপ<img src=(" style="border:0;" /> )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28873355 http://www.somewhereinblog.net/blog/kijani/28873355 2008-11-24 03:08:46
কারিগর বৃত্তান্ত



হিমালয়ের কাব্যের ঘোড়ারোগ দেখছি কয়েকদিন ধরে...বাল্যকালে কবিতা লেখার শখ!! বাঙ্গালী মাত্রই নাকি জীবনে একবার হলেও কবিতা লেখে। আমি সেই দলে পড়ি না...আবার দলছাড়াও নই<img src=" style="border:0;" />। শানে নযুল বলি...



ছোটোবেলা থেকেই আমরা কাজিনরা খুবই মিশুক আর নিজেদের মধ্যে ব্যাপকই মজা করি সবসময়। যতোটা না আমি বন্ধুদের সাথে উপভোগ করি, তার চাইতে বেশি আমি কাজিনদের সাথে বেশি ফূর্তিতে থাকতে পারি। বন্ধুদের মধ্যকার সংকীর্ণতাগুলো এখানে নেই, তাই আড্ডা-বেড়ানো-গান-হাসি-ঠাট্টা...এই নিয়ে আমরা ছিলাম, এখনো আছি। তো আমারই এক মামাতো ভাই গীটার কিনে শেখা শুরু করে দিলো একদিন। আমিও কয়েকদিন চেষ্টা করতে গেলাম। কিন্তু একে তো আমি তালকানা ( কিংবা সুরকানাও বলতে পারেন! ), তার উপরে গীটারের তারে ফিঙ্গারিং ভীষণ বিরক্তিকর মনে হলো... ... আমার ধৈর্যেও কুলালো না। তাই গীটারের চিন্তা বাদ দিলাম। আমি অন্য কিছু নিয়ে মেতে রইলাম। তারপর অনেকদিন পার হলো। একদিন হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার গীটারওয়ালা কাজিন বেশ ভালোই গীটার বাজাতে পারে। আমাদের আড্ডা তখন থেকে অন্যরকম হয়ে গেলো। কারো ছাদে কিংবা লিভিং রুমে আমাদের আড্ডা গুলো গান আর সুরময় হয়ে যেত। ও বাজাতো...আমরা সবাই মিলে হেড়ে গলায় গাইতাম। গাইতে গাইতে বের হয়ে এলো যে আমার আরেক ভাগ্নের(ভাগ্নে হলেও প্রায় সমবয়সী, মাঝে মাঝে কাজিন বলেও ভুল হয়) গলা গান গাওয়ার মতো, কমপক্ষে আশেপাশের মানুষ গান শুনে পিটাতে আসবে না<img src=" style="border:0;" />।গান বলতে গাইতাম যাত্রী, আর্টসেল, অর্থহীনের গান অথবা এই ধরণের কিছু গান। গাইতে গাইতে একসময় দেখলাম, যে একই কিছু গান আমরা ঘুরে ফিরে গাইছি...বিশেষ করে আমাদের এতোই প্রিয় ছিল আর্টসেলের নোনা স্বপ্ন, যে ওই গানটা শুনতে শুনতে আশেপাশের সবার গানটার প্রতি ভক্তিই উঠে গিয়েছিল। গাইতে শুনলেই সবাই পারলে মাইর লাগায়...

আমাদের ব্যান্ডে( :``>> ) কেউ গাইতো, কেউ গীটার বাজাতো। হারমোনিয়ামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কেউবা কীবোর্ডিস্ট!! কেউ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার(!)...শুধু আমিই শ্রোতা ছিলাম। আরো বড় কথা আমাদের ব্যান্ডই হয়তো পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র ব্যান্ড যাদের একজন মেম্বার সমালোচনা আর আইডিয়া দেয়া ছাড়া কিছুই করতো না। মেম্বারটা ছিলাম আমি<img src=" style="border:0;" />। তো নোনা স্বপ্নের ইতিহাস তো বললামই...ব্যান্ডের সবাই চিন্তা করলো যে নতুন কিছু করতে হবে। একমাত্র বেকার মেম্বারকে একটিভ করানোরও বুদ্ধিও পেয়ে গেলো। আমার হাতে ধরিয়ে দিলো কাগজ কলম। গান লিখতে হবে:-*! নিজেরাই সুর দিবো, নিজেরাই গাইবো। সেদিন থেকেই আসলে নিজেদের ব্যান্ড বলে মনে হতে লাগলো<img src=" style="border:0;" />। ভালো কথা, আমাদের ব্যান্ডটার নাম ছিল কারিগর। আগেই বলেছি, তেলাপোকার নর্তন-কুর্দনের কাছে আমার সাহিত্যমান প্রায়ই হারিয়ে যেতে চাইতো। তাই হাতের লেখা লুকাতে আমি বাংলায় লেখার বদলে টাইপ করা শুরু করলাম। শুরু করলাম গান লেখা... ...



১) কারিগর

হিজিবিজি লিখে চলি কথার যন্ত্রনা
গীটারের তার ছিড়ে সুরের মুর্ছনা
ভাঙ্গাচোরা গলা তবু তুলবই তুলব সুরের ঝড়
আমরা স্বপ্ন কারিগর

গান শুনে মাথা ব্যথা
কান পেতে থাকা দায়
কেউ বলে যন্ত্রনা
আর কত সওয়া যায়
কারো কাছে কারিগর নামটাই ভয়ংকর
আমরা স্বপ্ন কারিগর।




২)অণুগান

হয়েছে কি কখনো এমন
চাঁদটা থেকে সুর্যটা মলিন
জোনাকিরা দিনকে ভালবেসে
কখনো কি সূর্যে হয় বিলীন?
কখনো কি ঘুম ঘোরে মনে পড়েছিলো আমাকে
কখনো কি ভুলে যাবার কথা ছিলো তোমাকে...


৩)স্বপ্ন হারাক...

এক ফালি জোছনা উঁকি মারে চুপি চুপি আমার ছোট্টো আঁধার ঘরেতে
চার কোনা আকাশটা জানালার ফাঁক গলে গড়িয়ে পড়ে আমার চাদরে
তারাগুলো ভাবনায়, আকাশটা খালি করে পড়বে কি ঝরে আমার স্বপনে
আমি জেগে জেগে স্বপ্ন গড়ি আপন মনে
চার বেহারার পালকি চড়ে আসবে সে এই নিরজনে...
দেখতে কি পাব তাকে স্বপ্নহারা এই নীলচে রাতে
স্বপ্ন হারাক তবু স্মৃতি রয়ে যাক...তাহার সাথে।

ইচ্ছেগুলোর ইচ্ছে হলো রাত ফুরোবার আগেই
স্বপ্নটাকে ডেকে তুলে চাঁদকে দেখাবে
স্বপ্ন ভাবে চাঁদকে বেঁধে রাখবে সুতোর টানে
আমি তখন তাকে ভাবি আপন মনে...
চার বেহারার পালকি চড়ে আসবে সে এই নিরজনে...
দেখতে কি পাব তাকে স্বপ্নভরা এই জোসনা রাতে
স্বপ্ন হারাক তবু স্মৃতি রয়ে যাক...তাহার সাথে।



৪)ছুঁয়ে দেখা হলো না...

ঘুম এল না
তাই স্বপ্নরা নিরাশায় ফিরে গেল
স্বপ্ন ফিরে গেল যে তাই তুমি এলে না
তুমি এলে না
তাই তোমার কল্পনা
ছুঁয়ে দেখা হল না... ...

ঝিম ধরা পড়ন্ত দুপুরে
রোদ পোহাতে তুমি এলে না
তুমি এলে না
তাই বিকালটাও অভিমানী
মান ভাঙ্গানো গেল না
তাই তোমার কান্না ছুঁয়ে দেখা হল না... ...

অশ্রু জমেছে নিদ্রাহীন এ দুচোখে
স্বপ্নেরা থাকবে কোথায়...বল না
স্বপ্ন যদি ফিরে যায়
তোমার কান্না
আজো ছুঁয়ে দেখা