আমার প্রিয় পোস্ট
- জয়ের থিসিস, আইএসআই এর কাজিন এবং বাংলাদেশের আহমেদ সালাবী - আওরঙ্গজেব
- আম্রিখা থিক্যা দ্যাশে আসনের পরে বাঙালী যা যা করে

- রাতমজুর
- ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের জগতে আপনাকে স্বাগতম (অনেকগুলো সফটওয়্যারের বর্ননাসহ ডাউনলোড লিংক) - নাফিস ইফতেখার
- রামরাজত্ব-তুঘলকী কাণ্ড, রাবণের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্ঘণ্ট.......(শেষ পর্ব) - হিমালয়৭৭৭
- বারাক ওবামার কিছু পারিবারিক ফটো। - রাহুল
- ভারত বিদ্বেষ বাংলাদেশ বিদ্বেষ এবং অতঃপর! - হমপগ্র
- আর একখান কৌতুক (১৮+ এবং ১৮- // হগলের লাই) - মইন
- ফরিদ উদ্দীন আত্তারের The Conference of the Birds - ইমন জুবায়ের
- সংসার, সংহার?....১ - হিমালয়৭৭৭
- ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিডিওএসএন এর গুগল গ্রুপ - মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী
- গুড়ো দুধে মেলামাইন, কিডনী অকেজো হয়ে যাওয়া সহ মৃত্যুর ঝুঁকি: একটি জনসচেতনতামূলক পোস্ট - মুনীর উদ্দীন শামীম
- ওরে ওরে মজা পাই!!!........সূর্যগ্রহণ হয় তব আমারো ডেস্কটপে
- নাফিস ইফতেখার
- কলসেন্টার কর্মীঃ সেবার নরকে সাইবার কুলি - দিনমজুর
- অরুন্ধতী রায়ের সাক্ষাৎকার : শাবাশ নতুন ভারত! - ফারুক ওয়াসিফ
- আমার আমি নাই রে, আমার আমি নাই - হাসিন
- ডিয়ার ফখরুড্ডিন আহমড, এট্টু এইদিকে তাকান, আপনারে কইতেসি - প্রতিদিন
- ইউননান প্রদেশে একটি হুই জাতির গ্রাম - মো.: লুৎফর রহমান সরকার
- ঈদে মীলাদুন্নবী - ৪ - তিক্ত সত্য
- রাজনীতির আসল নাটকের অভিনয় চলছিল লন্ডনে : সিরাজুর রহমান - যুকরুফা ০৭
- চিঠি - ১ - অপ্সরা
- পরাজিত পক্ষে আমি সবসময়ই কোনো না কোনো ভাবে উপস্থিত- - অপ বাক
- শেষ পর্ব: ভারতের জন্য ট্রানজিটঃ বাংলাদেশের জন্য কেন আত্মঘাতী? - মুক্তমনা
- দ্বীতিয় পর্ব: ভারতের জন্য ট্রানজিটঃ বাংলাদেশের জন্য কেন আত্মঘাতী? - মুক্তমনা
- খালেদাকে নিয়ে একটি কবিতা - ডালিয়া সাত্তার
- একটি বালক ও তিনটি প্রশ্ন? - নাহিদ
- স্বপ্নডানার চোখে... ধর্ম কর্ম বিধাতা! - স্বপ্নডানা
- পাশ্চাত্যে ইসলাম অবমাননা : বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ - গোস্বামী
- একটি বিতর্কিত বিষয়ঃ বঙ্গবন্ধু কি গ্রেফতার হয়েছিলেন? নাকি আত্মসমর্পণ করেছিলেন? - রফিকুল ইসলাম ফারুকী১১
- প্রান সৃষ্টির রহস্য বিষয়ক একটি গবেষনা এবং আমার ভাবনা - নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী
- সুশীল সমাজের বাস্টার্ড মাই এ্যাস- এটাই হলো আধুনিক পুজিবাদের লোক দেখানো ভালো লাগা আর বলা আমার চোখে জল তোমারি জন্য! - উদাসী স্বপ্ন
- মডারটর, কৌশিক, ত্রিভুজ, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব , মিলটন, লাভলুদা ও সকল ব্লগার সমীপে - আফলাতুন
- বিনোদন জগতে আত্মীয়তার বন্ধন - এম কে নিপু
- টপ টেন দালাল সাংবাদিকের তালিকা - আবদেল্লাহ ফাইসাল
- অসভ্য দেশদ্রোহী বাহিনী (!?) - চন্দন
- নষ্ট দর্শন-৩ - বালখিল্য মুনি - চন্দন
- জীবনের প্রয়োজনে জীবন যেখানে পরাজিত।(চতুরভূজ) - চতুরভূজ
- সুশীল সমাজের তামাশা - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ২৮শে অক্টোবরের মানুষ হত্যার হোতারা সবগুলো এখন লাল খোয়াড়ে তসবিহ টেপে। - তরঙ্গ
- জয় বাবা আলুনাথ! - মাহবুব মোর্শেদ
- এই অবৈধ সরকারেরই আমলে ডিজিএফআই কতৃক ঘোষিত রাষ্ট্রদ্রোহী হাসান আরিফ আইন উপদেস্টা হলেন কিভাবে!!! - এহহামিদা
- ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষণ!! বৈশাখী সংকলন ১৪১৫: অনুমতি প্রদান ও লেখার লিঙ্ক দেবার জন্য আহবান - রাশেদ
- আজ লেখালেখির দিন নয়... - সুন্দর সমর
- নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে।আজ আপনি নামাজ পড়েছেন তো? - িদদারুল আলম বাননা
- ইসলামোরফোসিস - ৮ - কৌশিক
- গ্রানাডা ট্র্যাজেডি নিয়ে একটি অসাধারণ লেখা - আর খান
- Beauty of Math!!! - নিয়ান্দার্থাল
- আওয়ামীলিগ তাদের প্রিয় ভারতের স্বার্থে যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করলো - হুমমম...
- আয় করুন Google Adsense এর মাধ্যমে - গাজী মো: সাইফুল ইসলাম
- বারবণিতার জবানবন্দী - মানব মানিক
- সেনাপ্রধানের ভারত সফর ও দুদেশের সম্পর্ক - আহসান তািরক
- ছি ছি! ইসলাম এতো খারাপ? - ফারজানা মাহবুবা
আমরা কোথায় যািচ্ছ? সেনাপ্রধানের ভারত সফর---একটি পর্যালোচনা.....
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪
সেনাপ্রধানের ভারত সফর---একটি পর্যালোচনা..... আমরা কোথায় যািচ্ছ?
পড়ুন... আপনার মতামত জানান....
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
মাইনাস।
লেখক বলেছেন: তাতো বটেই...
দাদর নুন খেল গুনইতো করতে হয়..
বে গুনে যে এলার্জী......
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
মাইনাস।
লেখক বলেছেন: নামের সাথে চেতনার মিল রইল না....
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
খুব ইন্টারেস্টিং লেখা। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, নয়া দিগন্ত এবং ফরহাদ মজহার এত সাহসী লেখা ছাপতে ও লিখতে পারেন কিভাবে?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহবুব মোর্শেদ....ভাই
সত্যি...বেশ সাহসী আর গুরিত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন জাতির এই ক্রািন্ত কালে..
কিন্তু দুঃখ হয় আমরা যে তা পড়তে চাই না...পেলেও দেই - আবার আমরা কতিপয়.... এ বি সি দেশপ্রেমের খোলস পড়ে নাচি..ছাগল নেত্য.....
লেখক বলেছেন: নামেই গা ভাসালেন।
ডিটেলস তো রিরাইট করা বোকামী.. তাই ত্যথসূত্র এবং প্রবন্ধ পাঠে আগ্রহীদের জন্য লিংক।
পড়ুন। তারপর + - মন ভের দিন।
ধন্যবাদ..
সত্যি এমন সাহসী লোকই আমাদের এখন ভীষন দরকার।
++++
লেখক বলেছেন: ধন্্যবাদ অচেনা আগন্তুক।
একমত।
সেলিম তাহের বলেছেন:
ভারতীয় আগ্রাসনের বাস্তব সত্যটা চোখে আঙুল দিয়ে আবার দেখিয়ে দেবার জন্য মযহার কে ধন্যবাদ, সেইসাথে ধন্যবাদ কিরিটিকেও।... +
লেখক বলেছেন: যুগে যুগে সকল জাতির ভাগ্যে যেন একজন ফরহাদ মাযহার পায়।
ধন্যবাদ আপনাকেও...
আমরাতো গা ভাসানোর দলে.. এর মধ্যে দু একটা পের পাওয়া মুক্তো মানিক যদি সবাইকে না বিলিয়ে যাই আত্মা বড় অশান্তি পায় ভাই...
আশার আলো বলেছেন:
লিংকে যা আছেঃসেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ এখন দিল্নীতে। তিনি ভারতের একটি প্রাইভেট বিমান কোম্পানি জেট এয়ারের বিমানে করে ভারতে গিয়েছেন, বাংলাদেশের বিমানে নয়। এই সফর সেনাপ্রধান পর্যায়ের সফর নয়। এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক সফর। একজন রাষ্ট্রপ্রধান যে-ধরণের গুরম্নত্ব পেয়ে থাকেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান একই মর্যাদায় ভারত সফর করছেন। ইতোমধ্যে ভারতের নির্দেশ অনুযায়ী সীমান্তের একশ গজ পর্যন্ত বক্স টাইপ ফেন্সিং বা বাক্সের মতো কাঁটাতারের বেড়া কবুল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রেন আসা যাওয়া করবে। কোন বাংলাদেশী পালাতে পারবে না। আর পালালেও ভারতীয় রড়্গি বাহিনী তাকে গুলি করে মারার রেওয়াজ তো আছেই।
ভারতের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক অফিসারদের সঙ্গে জেনারেল মইন ইউ আহমেদ কথা বলবেন। এর মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিল, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি, প্রতিরড়্গামন্ত্রী এ কে এন্টনি এবং অন্যান্য গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যক্তি। বলাবাহুল্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান দীপক কাপুরের সঙ্গে তাঁর সাড়্গাত তো হবেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্তাব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ‘ভারত যাদের মনে করে ভারতের গুডবুকে রয়েছে, সেই অর্থে ভারত যাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে, সেরকম একজন অফিসার জেনারেল মইন।’ (দেখুন মানবজমিন ২৫ ফেব্রম্নয়ারি ২০০৮)। ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা আমাদের নিজেদেরই নিরাপত্তা ও প্রতিরড়্গার স্বার্থে দরকার। ফলে ভারতের গুডবুকে থাকার জন্য চেষ্টা থাকা অন্যায় কিছু নয়, অবশ্য যদি তার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে চড়া দামে কোন মূল্য দিতে না হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের উচ্ছ্বাস সেই কারণে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরড়্গা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের দিক থেকে গুরম্নত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। জনগণের উদ্বিগ্ন হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান দীপক কাপুর সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্তô তিনি ছিলেন নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান। কাপুর কাশ্মিরে সংখ্যায় ও শক্তিতে ভারতীয় ফৌজের অবস্থান দৃঢ় করবার পড়্গের লোক। ভারতের নীতিনির্ধারকদের একাংশ এবং গণতান্ত্রিক চিন্তôাচেতনায় বিশ্বাসী নাগরিকরা যখন কাশ্মির প্রশ্নে গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের শর্ত তৈরির জন্য কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর সংখ্যা কমাবার কথা বলছিলেন, দীপক কাপুর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই উল্টা কথা বলা শুরম্ন করলেন। এতে তিনি অনেকেরই গোস্বার কারণ হয়েছেন। তিনি কাশ্মিরে ভারতীয় সৈন্য কমানো দূরের কথা, বরং আরও শক্ত ও দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতি সামরিকভাবে মোকাবেলার পড়্গেই কথা বলেছেন। দায়িত্ব নেবার পরপরই জেনারেল কাপুর বলেছেন "There can be no reduction in troops in Kashmir because the army is continuing to fight terrorism" (কাশ্মিরের ভারতীয় ফৌজের সংখ্যা কমানো যাবে না, কারণ আমরা সেখানে সন্ত্রাসের বিরম্নদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি)। http ://www.teluguportal.net/ 200710056959/ indian-army-chief- visiting-kashmir/ ।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও দুর্বল পরিস্থিতির পরেও কাশ্মিরের ভারতীয় ফৌজ সংখ্যা কমানোর বিরম্নদ্ধে জেনারেল কাপুরের অবস্থান থেকে আমরা তাঁর চিন্তা সম্পর্কে খানিক আন্দাজ করতে পারি। এই তার কাজ হবে ভারতের প্রতিরড়্গা বিভাগের পড়্গে কাজ করা? এটাই বাংলাদেশের প্রধান উৎকণ্ঠা হয়ে উঠেছে।
সাংবাদিক অগ্নি রায় গত বছর ১ মে তারিখে আনন্দবাজার পত্রিকায় আমাদের জানিয়েছিলেন জেনারেল মইনুদ্দিনের সঙ্গে দিল্নী ‘উদ্দেশ্য সম্পর্কে যাচাই’ করবার জন্য বসতে চায়। যাচাইয়ের কাজটা ‘অত্যন্ত জরম্নরী’ বলেই মনমোহন সরকার মনে করছে। অগ্নি রায় জানাচ্ছেন, ‘সাউথ ব্নকের অনুমান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে তাতে আপাতত কিছুদিন সেখানে সেনা শাসনই বজায় থাকবে।’ এর কারণ হিশাবে বলা হয়েছে (১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুহাম্মদ ইউনূসকে সামনে রেখে যে টেকনোক্রাট সরকার গঠনের জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং যে উদ্দেশ্যে তাঁকে নোবেল পুরস্কারও দেওয়া হোল সেই ধরণের সরকারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। অবশ্য ডক্টর ইউনূস নিজেও ডিগবাজি দিয়ে অনেকের হিশাবনিকাশ গুবলেট করে দিয়েছেন। (২) বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে খেয়োখেয়ি এবং (৩) পাশাপাশি ভারতবিরোধী মনোভাব যার পেছনে রয়েছে ‘কায়েমি স্বার্থ’। এই কায়েমি স্বার্থটা আসলে কী, আনন্দবাজার অবশ্য সেটা খোলাসা করে বলে নি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরড়্গার দিক থেকে ভারত নিঃসন্দেহে বাংলাদেশীদের দুশ্চিন্তôার কারণ। ভারতীয় সাধারণ জনগণের একটা বৃহৎ অংশ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি মিত্রভাব পোষণ করে, এই সত্য বাংলাদেশীদের জানা। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ অবশ্যই বাংলাদেশের বন্ধু। তবুও পাখির মতো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশের মানুষ মেরে ফেলার একসারসাইজ চললেও ভারতে এই ঘোরতর মানবাধিকার লংঘনের বিরম্নদ্ধে আমরা এখনও বিশেষ প্রতিবাদ দেখি নি। ভারতের শাসক শ্রেণী সাম্প্রদায়িকতা, ছোট দেশগুলোর প্রতি তাচ্ছিল্য, বাংলাদেশের পণ্য, বইপত্র প্রবেশ কিম্বা টেলিভিশন চ্যানেল দেখানোর অনুমতি না দেওয়া এবং সার্বড়্গণিক ভারতীয় পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে বিষোদগার নিশ্চয়ই বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতের জন্য প্রেম তৈরির কাজে লাগে না। তবুও আনন্দবাজার পত্রিকা সেই মে মাসেই আমাদের জানিয়ে রেখেছিল ভগবানের অশেষ কৃপায় ‘সব মিলিয়ে মইনুদ্দিন আহমদ সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্টই ইতিবাচক। ...মইনুদ্দিন নিজেও ভারতে আসতে চান।’
আনন্দবাজার বলেছে, “গত ছ’বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বারবার আবেদন করেও যে সমস্যার সমাধান হয় নি, তা এখন আদায় করে নেওয়ার সুযোগ স্বভাবতই হারাতে চায় না ভারত। আর নয়াদিল্নী বিলড়্গণ জানে, অন্য কেউ নন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইনুদ্দিন আহমদই হাতেকলমে সে কাজ করবেন।” (খবরটি যখন চাপা হয়েছে তখনও সেনাপ্রধান জেনারেলে উন্নীত হন নি)। বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতের বিরম্নদ্ধে নাশকতা চালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হবে ভারত সেই প্রত্যাশা করছে। এই লড়্গ্যেই উভয় দেশের সীমান্তেô যৌথ সামরিক মহড়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ভুটানে ভারতীয় সেনাবাহিনী যেভাবে উলফা ও অন্যান্য গোষ্ঠির বিরম্নদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, বাংলাদেশেও ভারত এই ধরণের সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তô নিয়েছে বলেই আশংকা হয়। আনন্দবাজার খুবই সাফ সাফই বলছে, ‘ওয়াকিবহাল শিবিরের মতে, তাঁর (জেনারেল মইন) ভবিষ্যৎ কর্মপন্থায় ভারতের সিলমোহর লাগাতে আগ্রহী তিনি।’
বাংলাদেশের সেনাপতির জন্য আনন্দবাজার পত্রিকার এই উচ্ছ্বাস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। অবশ্য অবাক হওয়ার মতোও নয়। ‘অনেক প্রকল্প’ই দোরগোড়ায় থাকা সত্ত্বেও ‘ভারতবিরোধী কায়েমি স্বার্থ’ নাকি সেই সব বাস্তôবায়িত হতে দেয় নি। আনন্দবাজার এই নালিশও করেছে। এখন সেই সব বাস্তবায়িত হবে।
কী সেই সব প্রকল্প? আনন্দবাজার বলছে, ‘বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রম্নপ, যুগ্ম নদী কমিশনের বিষয়াদি, ট্রানজিট বা বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য আমদানি, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস ভাণ্ডার থেকে গ্যাস আমদানি, ইত্যাদি।’
এই সফর আগেই হবার কথা ছিল। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা কার থাকবে, ভারতের দিক থেকে তারও স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল। যদি জুনে এই সফর হোত তাহলে কথা হোত ভারতের ‘চিন্তাবিদ সেনা’ নামে পরিচিত জে জে সিংহের সঙ্গে। এখন কথা হবে জেনারেল দীপক কাপুরের সঙ্গে। সম্ভবত সফর পিছিয়ে এখন বাস্তôবায়ন করবার এটা একটা কারণ হতে পারে।
আমরা এখন আমাদের কিছু উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে রাখতে চাই। জানাতে গিয়ে প্রথমেই শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের একটি রসোক্তি উলে্নখ না করে পারছি না। ভারতের আনন্দবাজার ও যুগান্তôরের মতো পত্রিকার ঘোর সাম্প্রদায়িক ও মুসলমান দিদ্বেষী ভূমিকার কথা মনে রেখে শেরেবাংলা একবার সকলকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন এই কথা বলে যে ‘যে দিন দেখবেন আনন্দবাজার বা যুগান্তôর আমার খুব প্রশংসা করছে তখন সন্দেহ করতে পারেন যে আমি বাঙালি মুসলিম স্বার্থের বিরম্নদ্ধে কোন কাজ করছি কিনা।’ বাঙালি মুসলিম স্বার্থ বলতে শেরেবাংলা প্রধানত বুঝিয়েছিলেন বাংলাদেশের নিপীড়িত নির্যাতিত কৃষকসহ খেটে খাওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। ঐতিহাসিক কারণে যারা সমাজে পিছিয়ে পড়েছিল।
রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ কোন নতুন কথা নয়। কিন্তু একটি জনগোষ্ঠির জন্য তার চেয়েও ভয়াবহ হয়ে ওঠে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরড়্গা, সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন। প্রাক্তন সেনাপতি হুসেন মুহম্মদ এরশাদও বর্তমান সেনাপ্রধানের মতো দুর্নীতির কথা বলে রাজনৈতিক সরকার হটিয়ে দিয়ে সামরিক সরকার কায়েম করেছিলেন এবং নয় বছর দেশ শাসন করেছিলেন। তিনি ১৯৮৩ সালে ভারত সফর করেন। সেই সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে করা গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির যে অংশে বাংলাদেশের শুকনা মৌসুমে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাবার গ্যারান্টি ক্লজ ছিল, তা বাতিল করে নতুন চুক্তি করেন। তাঁর শাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য এবং নিজের রাজনৈতিক অভিলাষ হাসিল করার জন্য তিনি এতো বড় জাতীয় স্বার্থ প্রাণের, পরিবেশের বেঁচে থাকার শর্ত ভারতের শাসক শ্রেণীর চরণে নিবেদন করলেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক লাভ হয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা হয় নি, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক লাভ হয়েছে অবশ্যই। তাঁর নয় বছরের শাসনামলে তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় বিরোধিতা এড়াতে পেরেছিলেন। ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা সংসদ নির্বাচনে যোগ দেবার নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ব্যক্তির রাজনৈতিক খায়েশ বনাম জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি এবং একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নাটকীয় মেরুকরণের ত্রিভুজ সম্পর্ক খুবই ইন্টারেস্টিং বটে।
জাতীয় স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের উৎকণ্ঠার নানা কারণ রয়েছে। পশ্চিমা সরকারগুলোর মধ্যে প্রায় সবকটিই এখন এই সরকার দ্রম্নত নির্বাচন দিক ও নির্বাচিত সরকারের কাছে ড়্গমতা হস্তান্তর করুক চাইছে। যদিও কার্যকর প্রস্থান পথ ঠিক হবে এই ব্যাপারে অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে। তবুও সামরিক শাসন জারি করার মতো কোন পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং সামরিক শাসন জারি হলে পশ্চিমা সরকারগুলোর জন্য বিব্রতকর হবে। তাদের মধ্যে মানবাধিকার সংগঠন ও তাদের নিজ দেশের জনগণকে বোঝানো কঠিন হবে কেন তারা বাংলাদেশে এই ধরণের একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছিল এবং এমন একটি অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিক সরকারকেই বা কেন এতো দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছিল। কিন্তু এই ড়্গেত্রে ভারতের নীতি এক নয়। একটি দুর্বল, গণভিত্তিহীন ও অসাংবিধানিক সরকার থাকা অবস্থায় ভারত এই অঞ্চলে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করতে আগ্রহী। প্রথমত বাংলাদেশের সংলগ্ন ভারতের রাজ্যগুলোতে স্বাধীনতাকামী শক্তির বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশকে ভারত সীমিত যুদ্ধড়্গেত্রে পরিণত করতে চায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধের কাঠামোর মধ্যে এই লড়াই করা সহজ বলে ভারত মনে করছে, কারণ ভারতের ধারণা মুসলিম দেশগুলোর জনগণ মূলত সন্ত্রাসী বা ইসলামই জঙ্গিবাদের প্রধান কারণ এই ধরণের বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক তত্ত্ব বাংলাদেশের বিরম্নদ্ধে এখনও মোটামুটি ভালই ফেরি করা যায়। এর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজার এখনও রমরমা। প্রয়োজনে ইসলামি জঙ্গিদের নামে দুই একটি ঘটনা ঘটে যাওয়াও অসম্ভব নয়। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক নজরদারির অধীনে নিয়ে আসার অর্থ হচ্ছে একই সঙ্গে ভারতের পূর্বাঞ্চলকেও দমন করবার একটি প্রকৃষ্ট সুযোগ হাতে পাওয়া। উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় সেনাবাহিনী যাদের বিরম্নদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার এটাই ভাল সময়। এই কারণেই দুটো দেশ যৌথভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে সামরিক মহড়া চালাবার প্রস্তাব দিচ্ছে ভারত। দিল্নীতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্তও হবে বলে মনে হয়। বিবিসির খবর অনুযায়ী, ‘এখন পরিষ্কার ভাবে বোঝা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষর ক্ষেত্রে যে বিষয়টার ওপর তারা গুরম্নত্ব দিতে চাইছে সেটা হোল সীমান্তসহ নানা স্তôরে একটা যৌথ মহড়ার কথা। দু’দেশই ভাবছে। (ভারতের) প্রতিরড়্গা মন্ত্রকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবি দু’দেশের যে জঙ্গি শিবির রয়েছে সেখানে যৌথ অভিযানের প্রসঙ্গটি ভারত তুলবে।’ বাংলাদেশে ভারতীয় জঙ্গিদের শিবির আছে, এই দাবি বহুবারই হাস্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আসলে বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্যে যখন সামরিক অভিযান চলে তখন অনেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে থাকতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় বাংলাদেশে ‘জঙ্গি শিবির’ আছে। বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু নিজেরাও মুক্তিযুদ্ধ করেছে ফলে ভারতের নিপীড়িত জনগোষ্ঠির রাজনৈতিক স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রামের প্রতি তারা কিছুটা একাত্মতা বোধ করতেই পারে। সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু মূল কথা হোল বাংলাদেশের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানে একই সঙ্গে ভারতের বিদ্রোহী জনগণের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে উঠবে, ভারত তার নিজের রাজ্য থেকে যাদের তাড়িয়ে এখানে আনবে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যুদ্ধক্ষেত্র হবে বাংলাদেশ। সমস্যাটা ভারতের কিন্তু তার মূল্য দিতে হবে আমাদের। যুদ্ধের মাঠটা হবে এখানে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাগজে কলমে ‘যৌথ’ভাবে, কিন্তু কার্যত অধীনস্থ ভূমিকা পালন করবে। যেহেতু এই সহিংসতা ভারতের মাটিতে হচ্ছে না, এই ব্যাপারটিকে আন্তôর্জাতিকভাবে সামাল দেওয়া অনেক সহজ হবে বলেই ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কথাবার্তায় বোঝা যায়।
অতএব দিল্নীতে যে আলোচনা হবে বলে আমরা ভারতীয পত্রপত্রিকার সুবাদে আন্দাজ করতে পারছি তা হোল এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কার্যত বাংলাদেশে ভারতীয় রড়্গি বাহিনীর ভূমিকা পালন করবে কিনা সেটাই দিল্নী যাচাই করতে চায়। এর ওপর নির্ভর করবে কারো কোন ব্যক্তিগত অভিলাষ থাকলে তা বাস্তবায়ন করা না করার ক্ষেত্রে ভারতীয় অবস্থান নির্ণয়। অর্থাৎ ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সংঘাতের ময়লা সাফ করবার কাজের ঠিকাদারি নেবে কি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী? ভারত যাদের নিজ দেশ থেকে সামরিক অভিযান চালিয়ে তাড়িয়ে দেবে, তাদের বাংলাদেশে শায়েস্তা করার কাজ হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। একাত্তরের পর থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিপরীতে রক্ষি বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল। যুক্তি দেওয়া হোত, ভারতের বিরম্নদ্ধে লড়াই করবার হিম্মত যেহেতু বাংলাদেশের কখনই হবে না, অতএব বাংলাদেশের সেনাবাহিনীরই কী দরকার? বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর গড়ে ওঠার ইতিহাস রক্তস্নাত। ভারত ঢাকঢোল পিটিয়ে বাংলাদেশের কূটনীতি ও রাষ্ট্র নীতির প্রটোকল ভেঙে সেনাপ্রধানকে যেভাবে রীতিমতো রাষ্ট্র প্রধানের মর্যাদা দিচ্ছে তাতে আমাদের উৎকণ্ঠা আরো প্রবল হয়েছে। আমরা কি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে এবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনস্থ হতে যাচ্ছি। হয়ে যাচ্ছি বাংলাদেশে ভারতীয় রড়্গী বাহিনী? এটাই কি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ভূমিকা? এটাই কি আমরা চেয়েছিলাম? দেশ, রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্বের কি এটাই অর্থ? বিবিসির খবর এখন আরো স্পষ্ট “এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে বিষয়টির ওপর তারা (ভারত) গুরুত্ব দিতে চাইছে সেটা হোল সীমান্তসহ নানা স্তরে যৌথ মহড়ার কথা দুদেশেই ভাবছে?”এই বাক্যেই নিহিত রয়েছে আমরা যে উৎকণ্ঠার কথা ব্যক্ত করছি তার ইঙ্গিত।
জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরড়্গা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে আমাদের সমুদ্র সীমা রড়্গার প্রশ্নও জড়িত। দিল্নীতে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে আমাদের মনে হয়। ভারত ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানি সেন্টোস কে বঙ্গোপসাগরে দুটো ব্নক জ্বালানি বস্তু অনুসন্ধানের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে (ছবি দেখুন সেন্টোস ব্নক ভারত)। যদি আমরা বাংলাদেশের সমুদ্রতীর থেকে লম্বালম্বি একটা দাগ টানি তাহলে দেখব ভারত এই ব্নক কাউকে দিতে পারে না, কারণ দুটো ব্নকের বড়ো অংশই বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানার মধ্যে। বাংলাদেশ ও মায়ানমার উভয়েই বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে যে এলাকা সেটা নিশ্চয়ই ভারতের নয়, অতএব তা অন্য কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়ারও প্রশ্ন আসে না। ইতোমধ্যে দুই হাজার সাত সালের অক্টোবর মাসে সেন্টোস কেয়ার্নের কাছ থেকে সাংগু ডেভেলপমেন্ট এরিয়ার ৩৭.৫%, ব্নক ১৬ তে ৩৭.৫% এবং ৫ এবং ১০ ব্নকে ৪৫% অংশিদারিত্ব কিনে নিয়েছে। (ছবি দেখুন)।
ভারত যে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ঊধিলৎঢ়মংপ ঊধসষসশমধ তসষপ) অনুপ্রবেশকরছে বাংলাদেশ সেই বিষয়ে ইতোমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে। তথ্য হিশাবে বলে রাখছি যে জোট সরকার ড়্গমতায় থাকার সময় মাহমুদুর রহমান যখন জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলেন তখন তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় ভারত ১৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং মায়ানমার ১৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অন্যায় দখলদারি কায়েম করেছে, যা বঙ্গোপসাগরে প্রায় ২০০ নটিকাল মাইলের সমান। এই অন্যায় দখলের ওপর দাঁড়িয়েই ভারত তার হাইড্রোকার্বন জ্বালানি অনুসন্ধানের জন্য টেন্ডার হাঁকাচ্ছে। মাহমুদুর রহমানকে ধন্যবাদ জানাতেই হয় কারণ একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিশাবে ভারত ও মায়ানমারের দখলদারির বিরম্নদ্ধে বহু আগে থেকেই তিনি আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের বড় ধরনের স্বার্থের বিরোধ রয়েছে। ভারত এই বিরোধগুলো মেটাবে কিনা সন্দেহ। ভারতের শাসক শ্রেণীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রশ্ন বাদ দিলেও ভারতের আগ্রাসি জ্বালানি চাহিদার কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিরোধ অনিবার্য হতে পারে।
ভারতের কাছ থেকে জেনারেল মইন ছয়টি ঘোড়া উপহার পাচ্ছেন। এদের দাম আট লাখ পঞ্চাশ হাজার ডলার। মনে রাখতে ভারত আমাদের চাল দেয়নি, কিন্তু এখন দুটা মর্দা আর চারটা মাদী ঘোড়া উপহার দিচ্ছে। এই ঘোড়াগুলোর হয়তো ভাল ব্যবহার হবে বাংলাদেশে। তবে দুর্মুখেরও বাংলাদেশের অভাব নাই। তাঁদের কথা হচ্ছে হয়তো মধ্য রাতে অশ্বারোহনের আকাঙ্খা জাগ্রত করবার জন্যই ভারতের এই উচ্চমূল্যের উপহার। এই প্রতীকী কথার মধ্যে ইন্ধন জুগিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি সংসদ নির্বাচন আগে নাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে এই তর্কের উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন যাদের নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সেই মধ্যরাতের অশ্বারোহীরা যদি এসেই যায় তাহলে তাদের ঠেকানো যাবে না। সেই ড়্গেত্রে এটা বন্ধ রেখে ওটা আগে করা, বা ওটা বন্ধ রেখে এটা করলে লাভ হবে না। তাই কি?
যদি মধ্যরাতে অশ্বে আরোহনের খায়েশ কারো হয়েই গিয়ে থাকে, আর সেই যজ্ঞের রাজসিক অশ্ব যদি ভারত উপহারই দেয়, তাহলে ভারত তো বাংলাদেশে কী করতে চায় বলেই দিল। বাংলাদেশের রাজার আবির্ভাব ঠেকানো যাবে কি?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লিংক ডিটেইলস পেষ্ট করার জন্য।
আশার আলো বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
আমি কনফিডেন্স সল্টই লবন হিসাবে খাই।আপনার মত আমার ভারত-পাকিস্তান থেকে নুন আনতে হয় না।যে গুন গাইবো।
লেখক বলেছেন: সেতো বটেই ।
বৃক্ষ তোমার নাম কি ?
ফলে পরিচয়।
ব্লগার তোমার নীতি কি?
মন্তব্যে পরিচয়।
সুতরাং এই প্রবন্ধে মাইনাস অর্থ বেশ পরিস্কার। সুতরাং শাকপাতা কি আর মাছ ডাকতে পারে?
তারিক টুকু বলেছেন:
কারান্তরীন রাজপুত্রকে ফরহাদ মজহার অনেক বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন বলে কথা আছে। সেই রাজপুত্র-শোকে ফরহাদ মজহার এখন এই নতুন রাজপুত্রের বিরুদ্ধে লাগলেন কীনা, কে জানে!
আমার কেন যেন সে রকমই মনে হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: তথ্য সত্য হলেও কথা থাকে।
রাজপুত্র সেই পরামর্শ কতটুকু মানতেন?
কারণ কথিত আছে... রাজপুত্রের ইগো নাকি অনেক বেশি ক্ষতিকর ছিল। যেটা জেলে যাবার পর তার এক মন্তব্যে প্রকািশত হয়েছ।
কেএসআমীন বলেছেন:
ভারত প্রতিবেশী শক্তিশালী বড় দেশ। এদেশের সাথে সম্পর্কের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে অবশ্যই।আমার কাছে একটা বিষয় বেশ খটকা লাগছে। বাংলাদেশের সেনাপতিও জেনারেল আবার ভারতের সেনাপতিও জেনারেল...
ভারতের সেনাবাহিনী আমাদের অন্ততঃ দশগুন বড়।
মইন ইউ আহমেদ সাহেব লেঃ জেঃ থাকলেই মানানসই হতো। জেনারেল হওয়াটা দৃষ্টিকটু লাগছে...
শেখ হাসিনার ফুফা জেনারেল মোস্তাফিজ যখন জেনারেল হন তখন সাপ্তাহিক হলিডে প্রথম পাতার লীড নিউজ ছিল "জেনারেল ইউদাউট ট্রুপস..."
যা হোক, জেনারেলের নির্বাচিত সংকলনের বইটি এবারের বইমেলা থেকে আমার এক প্রবাসী আত্মীয় আমার মাধ্যমে ৩ কপি কিনেছেন এবং বিদেশে নিয়ে গেছেন। মনে হয় তাঁর বইটির কাটতি ভালই...
শেখ হাসিনার ফুফা জেনারেল মোস্তাফিজ যখন জেনারেল হন তখন সাপ্তাহিক হলিডে প্রথম পাতার লীড নিউজ ছিল "জেনারেল ইউদাউট ট্রুপস..."
মনে হয় তাঁর বইটির কাটতি ভালই...
----------------
সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছুই হয়।
তবে প্রয়োজন আগামীর ভাষা বোঝে এমন নেতৃত্বের। যিনি অবশ্যই সন্দেহাতীত দেশপ্রেমিক।
আল্লাহ আমাদের দেশকে হেফাজত করুন।
আশার আলো,
আই লাভ ইউ!!
ফর
ইউর টুটাল পুস্ট ইন কমেন্ট।
মাইনাস দিয়া ভুল করছিলাম।
সরি।
************
কঠিন লেখা!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।...
ইটস ওকে.... তবুতো বোঝা গেল আপনি প্রাণবান... কতক তো এমন মরা... ঘাটের মরা।...কোন চেতনা নাই নিজ বুঝ ছাড়া...
দেশের জন্য ভাল কামনা...
লেখক বলেছেন: খুব দুঃখ জনক....
দ্বীপবালক বলেছেন:
মইন এখন গোটা জাতিকে উপঢৌকন প্রাপ্ত ঘোটকসমূহের জন্য ঘাস কর্তনের কর্মে নিয়োজিত করিবেন।
লেখক বলেছেন: হা হা হা

















