সামহয়্যারইনব্লগের পুরনো ব্লগার জিয়াউদ্দিন সাইমুমের একটি অনুবাদ গ্রন্থ এবারের মেলায় বেরিয়েছে। নাম বিটার হানিমুন। দি ইউনিভার্সেল একাডেমী ইতালির খ্যাতিমান সাহিত্যিক আলবার্তো মোরাভিয়ার এ বইটি প্রকাশ করেছে। আরেকটি বই শিগগির মেলায় আসছে আকাশ পাবলিকেশন্সের ব্যানারে। বইটির নাম ‘ভাষা ও বানান বিতর্ক’।
বিটার হানিমুনের ভূমিকায় সাইমুম ভাই লিখেছেন : অনুবাদ বলুন আর ভাবানুবাদই বলুন, কোনটাই মূলের প্রতি বিশ্বস্ত নয়।
একজন লেখক শিল্প-অন্বেষায় নিজের মননকে সাহিত্যের ফ্রেমে যেভাবে নির্মাণ করেন, অনুবাদক তার কতটুকুই বা ছুঁতে পারেন?
মূল লেখকের স্বতঃস্ফূর্ত নান্দনিক সংবেদন-লব্ধ প্রজ্ঞানকে অনুবাদের ছাঁচে ফেলে মাপতে গেলে লেখকের প্রতি, তাঁর শিল্পকর্মের প্রতি সুবিচার করা যায় না বলেই আমার বিশ্বাস।
তাই বলে বিশ্ব জুড়ে অনুবাদ-যজ্ঞ তো আর থেমে থাকে না। দুধের স্বাদ যে অনেক সময় ঘোলে মিটিয়েই ভিনদেশী পাঠকদেরকে তৃপ্ত থাকতে হয়।
ইতালির খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও নাট্যকার আলবার্তো মোরাভিয়া প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর তার দেশের মধ্যবিত্ত সমাজের অবয় আর আত্মদ্বন্দ্বকে স্বীয় অভিজ্ঞতার আলোকে অপার দতায় ফুটিয়ে তুলেছেন তার শিল্পকর্মগুলিতে।
শিশুর সারল্য আর পতিতার ছিনেলিপনার মাঝেও তিনি জীবন-ঘনিষ্ঠতার সক্রিয় উপাদান খুঁজে পান।
বিদ্যুতের চমকানি, সাগরের পোষ না মানা উত্তাল ঢেউ, তীরে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার আক্রোশ, বাতাসের প্রাবল্য, নির্জনতার শব্দহীন কান্না আর পরিচিত পরিবেশের সাথে মানব-প্রকৃতির অন্তর্মুখী মিথষ্ক্রিয়াকে তিনি তার গল্পগ্রন্থ ‘বিটার হানিমুন’-এ অন্যরকম উচ্চতা দান করেছেন।
ফ্রয়েডীয় জীবন-জিজ্ঞাসার প্রভাব তার শিল্পকর্মে স্পষ্ট। কিন্তু জীবনবোধে এসব সমস্যাকে তিনি নিজের অনুভবের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।
তার গল্পগুলিতে কোলাজধর্মিতাও এসেছে শিল্পের প্রয়োজনে।
মানব মনের চিরন্তন দ্বন্দ্ব আর স্ববিরোধী চাপা-পড়া চেতনাগুলিকে যুক্তির ডিসেকশন টেবিলে ফেলে নিজস্ব কায়দার বিশ্লেষণে মোরাভিয়া অনন্য।
নিজেকে স্বীকার করেন বলেই মানব-জীবনের অম কুর্নিশগুলিকে তিনি এতোটা প্রাণ দিতে পেরেছেন। এখানেই তিনি সার্থক ও নন্দিত।
নৈতিক বিচ্যুতি, যাপিত জীবনের হরেক ভণ্ডামি আর গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে জীবনকে বিশ্লেষণই তার রচনার মূল উপজীব্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


