পথে বড় ভয়
০৬ ই মার্চ, ২০০৯ ভোর ৫:৩১
সবাই কেমন অস্থির হয়ে গেছে, রাফ। এটা টের পাচ্ছি। সহনশীলতা নেই। ধৈর্য নেই। কেমন যেন। বিনয় নেই। শিষ্ঠতা নেই। স্বার্থপরের মত সবার আগে নিজেরটা নিয়ে নেয়ার নোংরা প্রতিযোগিতা।
রিকশাওয়ালারা কোন ব্যাকরণ মেনে তার বাহন চালায়না, এটা তো সবাই জানি। স্বাভাবিক ,কোন প্রশিক্ষন ছাড়াই তারা রাজপথে নেমে পড়ে। রাস্তায় দুই রিকশাওয়ালার ঝগড়া ঝাটি সাধারণ ব্যাপার। সাথে খিস্তি , আর বাজে কথার চিতকার। কিন্তু সুটেড বুটেড কাউকে যখন রিকশা থেকে নেমে এসে কথা বার্তা ছাড়াই পাশের রিকশাওয়ালার কলার চেপে মারতে দেখি ,আমি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে যাই। রিকশা দুটোর চাকা লেগে গিয়েছিল, ওভারটেক করতে গিয়ে। দুই পক্ষেরি চালকের দোষ। বিবাদের কিছু নেই। কিন্তু সেই শার্ট ইন করে পরা ভদ্রলোক (!) বিচার করতে নেমে গেলেন! মার খেল গরীব ব্যাকরণ না পড়া রিকশা চালক!
আজকার সেলফোনের যত্রতত্র ব্যাবহার !জলে স্থলে অন্তরিক্ষে সর্বাস্থানে কথা বলিব যখন তখন।ফুটপাথে হাটতে হাটতে কথা বলতে বলতে কতজনকে ধাক্কা দিচ্ছে ,খেয়াল নেই অনেকেরি। নিজের অভিজ্ঞতা ,স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে যখন ধাক্কা প্রদানকারীর দিকে তাকাই, তার কানে ফোন হাতে বিরক্তির দৃষ্টি আমার দিকে। আমারি দোষ। কেন ওনার ধাক্কা খেলাম আমি ??? যত্তসব, কথা বলায় ডিস্টার্ব!রাগত দৃষ্টিতে ভয় পেয়ে আমিই ক্ষমা প্রার্থনা করি।
মগবাযারের যে গলিতে কিছুদিন আগে এন টিভির আতিক নিহত হলেন , সেই গলিতে আমার প্রায় ই যাতায়াত, এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া হয়। সন্ধ্যা হয়। আমি আগে নির্ভয়ে ই আসতাম। আতিকের খবর পড়েছি পেপারে। রাস্তাটা আসলেই নির্জন। চারপাশের দোকানের আলো আর বাসা বাড়ির আলোতে পথ চলতে হয়।
তাতে কি , কাজ চলে... নাই মামার চে কানা মামা ভালো। এই আধো আলোতেই ছেলে পেলেদের দাঁড়িয়ে গল্প করতে দেখেছি। ভয় হয়নি কেন যেন। কিছু ঘটেওনি!
কিন্তু কিছুদিন ধরেই নাকি সেখানে বেড়ে গিয়েছিল ছিনতাই।
স্বাভাবিক চলাচলের লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স নবায়ন কিভাবে করবো ??
বেশ কয়েকবছর আগেই ধানমন্ডি এলাকা ছেড়ে এসেছি আমরা। এখন ভেবে সুখ পাই যে, অবরুদ্ধ থাকতে হয়নি। কত নিষ্ঠুরের মত ভাবনা আমার। বেচে থাকার অনেক ইচ্ছে। ভালো লাগে বেচে থাকতে। হুট করে মরে যেতে ইচ্ছে করেনা। সকাল বেলা বাবা মায়ের হাসিমুখ যেন পরদিন সকালেও থাকে। রাস্তায় হাটতে হাটতে হটাত করে লাশ হতে একটুও ইচ্ছে করেনা।
পথে তাই অনেক ভয় হয় আজকাল। কারো রাগের ভয় , মারামারির ভয় , সব হারানোর ভয়। ঠিক পরের দিনটার সূর্য না দেখার ভয়ে আমি অস্থির হয়ে যাই।
সবাই খুব সুন্দর ভাবে বেচে থাকুক। সোনালী দিন আসুক ফিরে, শেষ কবে ছিল... শায়েস্তা খার আমলে ??
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
হাসান মাহবুব বলেছেন:
সোনালী দিনের কথা ভেবে লাভ নেই।সহিসালামতে জীবনটা কোনোরকমে পার করে দিয়ে শান্তিময় মৃত্যু কামনা করুন।সেটা হলেও ঢের!
লেখক বলেছেন: সোনালী দিন... অত ভাবিনা ,দেখিনিতো। কিন্তু পড়েছিতো। তাই খুব লোভ হয় ...
শান্তিময় মৃত্যু, আসলেই এটাও এখন দূর্লভ বস্তু !
ধন্যবাদ ভাই।
আবু নাঈম বলেছেন:
আপনার নাম কেন কিরণময়ী? আমি আপনার নামের তাৎপর্য জানতে আগ্রহী। দয়া করে জানাবেন কি? জানালে খুশি হব।
লেখক বলেছেন: "আপদ" পড়েছেন না ? রবীন্দ্রনাথ এর ছোট গল্পটা ?
তিথী ও টাটা বলেছেন:
আপনার কথা সত্যি,আমাদের বাংলাদেশের অনেক মানুেষর মধ্যেই সহনশীলতার বেশ অভাব পরিলক্ষিত হয়। একজন আরেকজনকে শ্রদ্ধা করে কথা বলে না,সবার মেজাজ মনে হয় সব সময় গরম !! প্লিজ,থেংক ইউ, ইত্যাদি কথাগুলো মনে হয় আমাদের বলতে খারাপ লাগে। কাজের লোকের সাথে আমরা যে খারাপ ব্যবহার করি তা ধর্মমতে ও ঠিক না।
বর্নবাদ, বংশবাদ,ধনী গরিব ভেদাভেদ ইত্যাদি আমাদের সমাজে প্রবলভাবে বিদ্যমান এমনকি সুযোগ পেলে একজন আরেকজনকে শোষন করতে ছাড়ছে না !!
লেখক বলেছেন: জি, সহজেই সবাই রেগে যায়। বাযারে দরদাম করতে গিয়ে রেগে যায়, রাস্তায় চলতে গিয়ে মেজাজ গরম করছে , গাড়ি চালাতে গিয়ে রেগে যায়। হাসপাতালে রেগে যায়, রোগী রেগে যায় ডাক্তার আসেনা তাই ,আর ডাক্তার রেগে যায় ... ... কথায় কথায় বাড়ির কতৃ রেগে যান কাজের মেয়েটার উপর। রেস্তোরার মালিক রেগে যান কর্মচারীদের উপর। সেদিন এক গাড়ি মেরামতের দোকানে দেখি ৭-৮ বছরের একটি ছেলেকে কান ধরে নিল্ডাউন করে রেখেছে। ছেলেটা শব্দ না করে ফুলে ফুলে কাদছে। মালিকের হুশিয়ারী,শব্দ হলেই মাথা ভেঙ্গে ফেলবে! বিনয় না দেখাক কেউ ,নির্মম ও না হোক!
কারণে অকারনে মেজাজ দেখানোর অস্থির প্রতিযোগিতা!
তর্পন বলেছেন:
ঠিক বলেছেন । স্বার্থপরের মত সবার আগে নিজেরটা নিয়ে নেয়ার নোংরা প্রতিযোগিতা ।রিকশা চলতে দেখে আমারও এমন একটি অনুভুতি হয়েছে । একটিকে অন্য রিকশা আড়া আড়ি ভাবে কাটাতে গিয়ে একটু দুরে গিয়ে দেখবেন বিশাল ট্রাফিক জট তৈরী করে বসে আছে এরা ঘন্টার পর ঘন্টা । যেটা বুঝি যদি একটু সহনশীল হয়, প্রত্যেকেই পরিণামে লাভবান হয় ।
শোষন যারা করে তারাও যে খুব সুখে থাকে তা তো না । প্রতিনিয়ত শোষিতদের কবল থেকে বাঁচার জন্য স্বাধীনতার পুরোটা হারায়, আয়েশী জীবন কাটায় নিজেকে অদৃশ্য লোহার খাঁচায় বন্দী করে।
লেখক বলেছেন: আপনার শেষ লাইন গুলো ,ঠিক বলেছেন। ওইযে সেই সুখি মানুষটি যার কিছু ছিলনা। তাকে কিছু সম্পদ দেয়া হলো , দেখা গেল রাতে সে ঘুমাতেই পারছেনা। পরে সে সম্পদ ফিরিয়ে দিতে এলো, কারণ এ সম্পদ তার ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সুখ কেড়ে নিয়েছে।
রিকশাওয়ালারা যেমন ঠিক ভাবে ট্রাফিক মানেনা, আবার অল্পতেই ট্রাফিকের নির্মম লাঠির বাড়ি খায়। মেরে কি শেখানো যায়!
আমাদের দেশে কোন প্রশিক্ষন ব্যাবস্থা আছে রিকশা ওয়ালাদের ,ট্রাফিক রুলের ব্যাপারে ?
ধন্যবাদ তর্পন।
বিপ্লব কান্তি বলেছেন:
মনু=মানুষ কখনই শান্তিতে ছিল না। এখন ও নেই।কখন ও হবে না। কোন অবস্হায় বা যুগে বা পেশায় মানুষের শান্তি স্হাপন হবে না।
আমি আবার হিন্দু/বৌদ্ধ দর্শন অনুসরন করা লোক। তাই বললাম কখন শান্তি হবে না,
লেখক বলেছেন: শান্তি আসবে, যদি আমরা শান্তির পথ অনুসরণ করি। আমাদের প্রফেটের সময় শান্তি ছিল,উনি এনেছিলেন ভয়ঙ্কর এক জনপদে। চারজন খলিফার সময় শান্তি ছিল। পরবর্তীতে কিছু মহান মুসলিম শাসকের সময় শান্তি ছিল ।
তাই শান্তি অসম্ভব তা না... ...
ধন্যবাদ বিপ্লব ভাই।
মাজুল হাসান বলেছেন:
বেশ কয়েকবছর আগেই ধানমন্ডি এলাকা ছেড়ে এসেছি আমরা। এখন ভেবে সুখ পাই যে, অবরুদ্ধ থাকতে হয়নিঅন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ হয়?
জানি বলা সহজ, কিন্তু তারপরেও তো কিছু করতে হবে...
লেখক বলেছেন: এজন্যই বলা , কতটা নিষ্ঠুর ভাবনা আমার ছিল! নিজেকে নিয়ে ,নিজেদের নিয়ে সবার আগে ভেবেছি। ব্যাক্তির চে দল বড় ,দলের চে দেশ বড় ... এটা শক্ত ভাবে মানতে কে পারবে ?? কেউ পারছেনা , কেউ পারবে বলেও মনে হয়না !
তবে , মনে হচ্ছে আমার ভাবনাতেও পরিবর্তন আসছে। বড় একটা ধাক্কা বাধ্য করছে সবাইকে নতুন করে ভাবতে।
তারপরো কিছু করতেই হবে... দেখি আমরা কি করতে পারি !
ধন্যবাদ হাসান ভাই।
বিষাক্ত আলো বলেছেন:
হুম...সেই!
লেখক বলেছেন: হুম্ম ...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














