আমার প্রিয় পোস্ট

একভাষাবিদ ইশ্বর এবং বহুভাষাবিদ শহীদুল্লাহ কে বেশি ক্ষমতাবান??

০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ১:২৮

শেয়ারঃ
0 0 0

আবুল হাসানের প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতার একটা অংশ আমাকে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছিলো, আমার কাছে বিষয়টা এরকমই মনে হয় আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের অসম্পূর্ন স্বপ্নের সমপ্রসারণ। আমাদের বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণের চেষ্টা করতে করতে আমাদের নিজস্ব স্বপ্ন পূরণের কোনো আকাংক্ষা অবশিষ্ঠ থাকে না। আমাদের গোপন ইচ্ছার বাস্তবায়ন হোক আমরা যা করে যেতে পারে নি তা আমাদের সন্তানরা করে যাবে এমন আকাংক্ষা পিতা মাতার মনে থাকে।

এমন আশার বা আকাংক্ষার জন্য আমরা তাদের দোষারোপ করতে পারি না, কারন তারা সর্বান্তকরনে আমাদের মঙ্গল চান। তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা সঠিক পথে পরিচালিত করতে চান আমাদের। আমরা মুখে বড় বড় বুলি কপচে যাচ্ছি, আমরা সবার ব্যাক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করি অভিনবত্বে বিশ্বাস করি মৌলিকত্বে, আসলেই কি আমরা যা মুখে বলি আমরা কি তাই?

আমাদের দেখানোর স্বভাব আছে, আমরা নিজেদের বড় দেখাতে ভালোবাসি, আমার কাছে মনে হয় অন্য একটা বাক্যাংশ এর জন্য খুবই প্রযোজ্য-আমরা আমাদের স্বপ্নের সমান বড়। আমরা বড়ত্বের স্বপ্ন দেখি, বড় হতে চাই কিন্তু সেই চুড়া স্পর্শ করতে পারি ক'জনায়? যেসব মানুষ আমাদের স্বপ্নের মাপে বড় হয়ে যায় আমরা যারা অভাজন তারা তাদের পূজা করে জীবনপাত করি।
আমাদের সবারই সমান যোগ্যতা ছিলো সেই চুড়াস্পর্শের কিন্তু আমরা সেই চুড়া স্পর্শ না করতে পারার লজ্জায়(!!) না কি ব্যার্থতায় মানুষপূজা শুরু করি? আমরা উচ্চারনের স্বাধীনতা ভাবনার স্বাধীনতা মেনে নেওয়ার পরও কেনো বিরুদ্ধ মতের বিরুদ্ধে দাঁড়াই? অনেক আগে আমাকে একজন বলেছিলো কেনো আমাদের আরবি শিখতে হবে, আরবি আল্লাহর ভাষা, আমার সহজ পালটা প্রশ্ন ছিলো কেনো যার এত ক্ষমতা তার সব ভাষা বোঝার ক্ষমতা নেই? কেনো আমরা বাংলায় প্রার্থনা করলে তিনি বুঝতে পারবেন না, তিনি যদি আমাদের গোপন সমস্ত ইচ্ছার কথা জানেন তবে তার সর্বভাষাবিদ হওয়াটাই সবচেয়ে সহজ বিষয়। প্রশ্ন যাকে করেছিলাম তিনি খুব বিরক্ত হয়েছিলেন আমার উপরে, ছোটোদের মুখে মুখে কথা বলার প্রথাটা তখনও চালু হয় নি, তখনও বলতে কি আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মাঝামাঝি এমন বড়দের অশ্রদ্ধা করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছি, আমার শেষ অপরাধ ছিলো আমি টি টেবিলে পা উঠিয়ে বসে বসে টিভি দেখছিলাম এমন সময় আমার এক পরিচিত দাদা সেখানে উপস্থিত ছিলো, আমার নিজস্ব আয়েশের ব্যাবস্থাটা তার কাছে মনে হয়েছিলো তারপ্রতি অসম্মান, যদিও আমি তাকে বোঝাতে ব্যার্থ হয়েছিলাম এই পা উঠিয়ে বসে থাকা বা না থাকার মধ্যে কারো প্রতি সম্মান বা অসম্মান নেই, এমন কি আমি কাউকেই সালাম দেই না এই বিষয়টাও আমার পরিবারের জন্য পীড়াদায়ক একটা বিষয়, আমি যতই বলি আমি যদি মুখে উচ্চারন করি আপনার উপর শান্তিবর্ষিত হোক এবং মনে মনে তার মৃতু্য কামনা করি তাহলে এমন মুখের সালামের কোনো অর্থ নেই এটা নেহায়েত লৌকিকতা, কিন্তু আমাকে পরিবার থেকে এই লৌকিকতা শেখানোর তীব্র প্রচেষ্টা চলছে । আমার শোধন হয় নি, তাই আমি আমার পরিবারের একটা কলংকের মতো, আমি বোধ হয় আমার চৌদ্দপুরুষের একমাত্র উত্তরাধিকারি যে নামাজ রোজা করে না। আমি শেষপর্যন্ত একদিন হিসাব করে দেখলাম আমার ঘনিষ্ঠ পরিবারের এবং আমার ঘনিষ্ঠ আত্মিুদের মধ্যে যারা বালেগ তারা সবাই নামাজ পড়ে নিয়মিত, নিয়মিত রোজা রাখে, সবাই সেই হিসাবে মুসলিমের যত কাজ সব করে, নিয়মমতো যাকাত দেয়, জিহাদের কোনো স্বপ্ন দেখে না যদিও, হজ্জ্ব করার একটা গোপন বাসনা সবার ভেতরে আছে। এই হলো আমার পারিবারিক পরিমন্ডলের গল্প।

শোহাইল মতাহির চৌধুরি একবার জানতে চেয়েছিলেন আমার এই অধঃপতনের পরিমন্ডল। আসলে কোনো কারন নেই। ধর্মে অবিশ্বাসের বিষয়টা ব্যাক্তিগত এটা নিয়ে কথা না বলাই ভালো। তবে সেই একটা সময় কৌশোরে যেই খোঁজের সূচনা হয়েছিলো তা আমাকে এখনও টানে।
প্রশ্নের জন্ম হয় সবার মনেই, সবাই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে, কিন্তু কারও কারও প্রশ্ন করার সাহস থাকে না, আমার সাথে সেই সব ধর্মপ্রাণ মানুষের পার্থক্য এখানেই যে আমি প্রশ্ন করতে ভয় পাই না। নিজের বিবেচনায় যা মনে হয় তা নিয়েই সীমিত জ্ঞানে প্রশ্ন করি, এবং সীমিত জ্ঞানেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। এর জন্য আমাকে খাটতে হয় মাঝে মাঝেই কিন্তু নিজের খোঁজে অনেক কষ্টই সহ্য করা সম্ভব, ভেতরে তাগিদ থাকলে মানুষ খালি পায়ে হিমালয়ের চুঁড়ায় উঠে যেতে পারে।

এসব বাক্য ব্যায়ের প্রয়োজন ছিলো না কোনোই কিন্তু কালকে সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনায় ওয়ালির বক্তব্যে সবার মন্তব্য দেখে মনে হলো আমরা বিরুদ্ধমত দমনে খুবই ঐক্যবদ্ধ। ওয়ালির ব্যাক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই, এমন কি আস্তমেয়ের ব্যাক্তিগত বিশ্বাস আমার সাথে না মিললেও কোনো ক্ষতি আমি দেখি না, তার প্রশ্ন করার ক্ষমতা যেখানে শেষ তার উত্তরের তাগিদও সেখানে শেষ, সে খুশী তার উত্তর পেয়ে। ওয়ালিও একটা সিদ্ধান্তে এসেছে তার বিবেচনা নিয়ে, তার বিবেচনা আমার কাছে কতটা যৌক্তিক এই প্রশ্নটা করার চেয়ে তার সেই বিবেচনাবোধকে শ্রদ্ধা করা ভালো। আমি তার সাথে একমত নই, এমন কিআদর্শগত দিক থেকে আমি তার সম্পুর্ন বিরোধী, কিন্তু তার ব্যাক্তিগত আচরনের স্বাধীনতা হরনের আমি কে?
যদিও ওয়ালির হাস্যকর সব যুক্তি শুনে আমার অনেক কৌতুক মনে পড়ে, একটা কৌতুক ছিলো এক গন্ডগ্রামের মানুষ হজ্বে গেছে ফেরত আসার পর তার গ্রামের সবাই তার কাছে অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছে, তার অভিজ্ঞতার একটা অংশ ছিলো আরবে বাংলায় আজান দেয়।
এমন অন্য একজনের মন্তব্য ছিলো ইংল্যান্ডের সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হলো ওখানের ছোটো ছেলে মেয়েরাও চমৎকার ইংরেজি বলে। এখন মূল বিষয়ে আসি, অনেক অলিগলি ঘুরে। মৃতু্য পরবর্তি জীবনের ভাষা আরবি হবে এই সত্য কে জানিয়ে গেলো ওয়ালিকে? যদি এমন কোনো হাদিস কোথাও থাকে সেটার রেফারেন্স দেওয়া হোক যে বলা হয়েছে আরবিতে সাওয়াল জবাব হবে, আমি একটা ব্যাখ্যা শুনেছিলাম এমন, মৃতু্যর পর কবরে আরবিতে প্রশ্ন করা হবে, আমার আশ্চর্য হয়ে যাওয়া মুখ দেখে বিজ্ঞ মানুষটা বলেছিলো কোনো সমস্যা নেই মৃতু্যর পর সবাই আরবি বলতে ও বুঝতে পারবে, তাহলে আর কষ্ট করে আরবি শেখার প্রয়োজনীয়তা কি এই জন্মে, যদি মৃতু্য পরবর্তি জীবনে আমি অনায়াসে আরবিতে কথা বলতে পারি।

কিন্তু ওয়ালি যদি তার চেলেমেয়েদের আরবি শেখাতে চায় বাংলা না শিখিয়ে আমি বাধা দেওয়ার কে? আমার কাছে এটা বাংলাভাষার অপমান মনে হতে পারে কিন্তু যার এই বোধটাই নেই তাকে কিভাবে বোঝানো সম্ভব হবে এটা। মানসিক সমস্যা যাদের তাদের বিভ্রমের বিষয়টা যুক্তি দিয়ে কাটানো যায় না, ওটার জন্য চিকিৎসা লাগে, চেতনায় যাদের বিভ্রম তাদের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, এই শিক্ষা বিষয়টা কখনই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয় শিক্ষা সব সময় নিজের অনুভবে গ্রহন করতে হয়। স্বশিক্ষিত ব্যাক্তি হতে হয়, অন্য যে জিনিষটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেখাতে পারে তা হলো সঠিক প্রশ্ন করার শিক্ষা। সঠিক প্রশ্ন করতে না পারার ব্যার্থতার জন্য অনেক কুযুক্তি দিয়ে নিজের ভাবনার আর চেতনার সীমাবদ্ধতাকে সিদ্ধ করতে চাইছে মানুষ।
আস্ত মেয়ের যুক্তি শুনতে ভালো লাগে, অনেকটা মলমের মতো সমস্যার উপরিভাগে লেপ্টে থাকা মন্তব্যগুলোতে সঠিক লক্ষভেদী প্রশ্ন না করার অক্ষমতা প্রবল। যাই হোক তার সুন্দর যুক্তি কোরান বুঝে পড়ার জন্য আরবি জানতে হবে যদিও প্রার্থনার জন্য আরবিই তার প্রথম পছন্দ। হযবরল যেসব প্রশ্ন করেছে, বাংলায় কোরান করলে সবাই বুঝে পড়তে পারবে এই বিষয়ে তারও কোনো আপত্তি নেই কিন্তু বাংলা অনুবাদে কোরানের সতীত্বহানী হবে এমন বিশ্বাস তার। এবং অন্য একটা গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে সে সেটা হলো যদি সবার নিজের ভাষায় প্রার্থনার সুযোগ সৃষ্টি হয় তাহলে এটা একটা বিশৃংখলার সৃষ্টি করবে। নিজের ভাষা বলতে নিজের অনুভবে প্রকাশ করার বিষয় যদি হয় তাহলে তাকে একটা কথাই বলবো হাদিস পড়তে ঠিকমতো। আর আমি কোরান সংকলনের ইতিহাসে ইবনে মাসুদের উদ্ধৃতি দিয়েছিলাম একটা ওটার সত্যতা যাচাই না করেই কিংবা ওটা সবাই বর্জন করেছে নিজের উদ্যোগে যে কারনেই হোক ওখানের একটা অংশ আছে- কোরানকে 7টা ভাষায় নাজিল করা হয়েছে, এবং প্রতি রমজানে সেটা যাচাই করা হতো। মুহাম্মদ মারা যাওয়ার আগের রমজানে ওটা 2 বার যাচাই করা হয়।
ইবনে মাসুদের একটা উক্তি ছিলো সেটা হলো সে নিজের মতো করে লিখতো এবং এটাতে মুহাম্মদের সায় ছিলো- একটা হাদিসও আছে এই প্রেক্ষিতে সেটা হলো-তোমরা কোরানের আয়াতকে নিজের মতো লিখতে পারো যতক্ষন সেটা মূল ভাবটাকে অক্ষুন্ন রাখে, কোনো শাস্তির দাবিকে যেনো পুরস্কারের দাবি না করা হয় সেই পর্যন্ত কোরানের অনুবাদ বা বাক্যবিন্যাস বদলের অনুমতি ছিলো। আস্ত মেয়ের বক্তব্য খন্ডনের জন্য নয় শুধু এটা বলার জন্যই এই প্রসংগের অবতারনা যে মুহাম্মদ নিজেই শুধু অর্থটাকে প্রাধান্য দিয়েছে।

এবং এই রকম বিচু্যতির বিষয়ে তার কোনো সমস্যা ছিলো না। সমস্যা হলো এই সব কথা যারা লিখছে তারা কেউ পড়তে চায় না, তাদের পছন্দের বক্তা আছে, তারা তাদের পছন্দের বক্তা যা বললো সেটাকেই গ্রহন করে বসে থাকে, একটু যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করে না। এবং এই যে প্রতঃাটা উসমান শুরু করলো যে কুরাঈশদের জবানি কোরান লেখা হবে সেটাও সম্ভব হয় নি ঠিক মতও কারন কোরাঈশদের ভাষার শব্দ চয়নে এমন কিছু শব্দ ছিলো যা মদিনার শব্দের সাথে খাপ খায় না, সংস্কৃতির পার্থক্য। তাই সেসব শব্দকে অক্ষত রেখে কোরানের অনুবাদ হয় কোরাঈশ ভাষায়। ইবনে মানুষ বা উবায়া এই উসমানের খবরদারি পছন্দ করে নি, তারা ইরাকে নিজস্ব ভাষায় লিখিত কোরানের সংস্করন চালু রাখে। এবং কয়েকবছর আগে একটা মসজিদের দেয়ালে মাঝ থেকে 1000 বছর আগে লুকিয়ে রাখা কোরানের কপি পাওয়া গেছে, ব্রিটিশ প্রত্নতাত্তিকেরা এটাকে সংরক্ষন করার চেষ্টা করছে। যাই হোক এই খবরের সত্যতা যাচাই করার জন্য আমার দারস্থ হয়ে লাভ নেই, আমি আর রেফারেন্স দিবো না কোনো। যার ইচ্ছা নিজের সত্য খোঁজার তাগিদে সত্য খুঁজবে।

এর পর আস্ত মেয়ের যেই যুক্তি তার প্রধান দূর্বলতা হলো টাইম ফ্রেমের সাথে ভাষার বিবর্তনের সমস্যা। আমাকে যদি 1500 সালের বাংলা পদ্য পড়তে দেওয়া হয় আমি তার সঠিক অর্থ বুঝতে পারবো না। কারন বাংলা ভাষা পরিবর্তিত হয়েছে গত 500 বছরে। কিছু কিছু শব্দের প্রায়োগিক অর্থও বদলে গেছে। কিছউ শব্দ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এসবের সঠিক অর্থ নিরূপনের জন্য ভাষার ধারাবাহিক ক্রমবিকাশ যাচাই করতে হয়, এটা রীতিমতো গবেষনার বিষয়, আরবি শিখলেই যে যে কেউ 1400 বছর আগের আরবি ভাষায় কেনো কোন শব্দ ব্যাবহার হয়েছিলো বুঝে যাবে তাহলে ভাষার মাহত্ব্য থাকলো কোথায়, নাকি আরবের ভাষা গত 1400 বছরে বিন্দুমাত্র বদল হয় নাই। আরবের ভাষায় কোনো যতিচিহ্নের ব্যাবহার ছিলো না এই ব্যাবহার এসেছে 1300 বছর আগে। এর মাঝে 100 বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং কোরানের শব্দগুলো অবিকৃত থাকলেও ভাষা বদল হয়েছে, আমরা অবিকৃত কোরানের কথা মনে রাখলেও এটা ভুলে যাই ভাষা গতিশীল একটা বিষয়, বাংলায় ফ্লার্টিংয়ের ভালো প্রতিশব্দ নেই, কিন্তু চালু প্রতিশব্দ হলো খিল্লি খাওয়া। রবি বাবুর পূর্বরাগ শব্দটা আসলে কি অর্থ ভন করে আমি নিশ্চিত নই, বিবাহপূর্ব প্রেম, কিংবা প্রেমের আগের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, ভাষা এমনই একটা বিষয় আমরা যার অর্থ নির্ধারন করি, আরবিও তেমনই ভাষা এমন মানুষের চেতনার বদলের সাথে সাথে শব্দের অর্থবদল হয়েছে। আস্তমেয়ে কিদাবি করে সাবই কে আরবিতে বুৎপত্তি অর্জন করতে হবে? শুধু একটা গ্রন্থ পড়ার জন্য এত পরিশ্রমের কি দরকার, একজন ভালো করে পড়ে তার ক্ষমতা অনুযায়ি অনুবাদ করুক, এমন অনুবাদের বিচু্যতিতে যতটা অর্থবদল হবে সেটা মুহাম্মদ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকবে বলেই আমার বিশ্বস, যদিও তাতে একটা প্রধান সমস্যা হবে এই এখন যেমন অর্থের মোচড় দিয়ে তারা যেকোনো বৈজ্ঞানিক তথ্যকে কোরানে লিখিত বলে দিতে পারে তা তারা পারবে না।
আস্ত মেয়ের অন্য একটা পোষ্ট দেখে আরও ভালো লাগলো।যারা 2য় প্রজন্মের শিশু তাদের ভাষাগত বিভ্রান্তি নিয়ে পোষ্ট, এবং ওখানে একটা সিদ্ধান্ত ঘোষইত হয়েছে সেটা হলো ওরা বাংলা বুঝবেই না কোনো ভাবেই, আমার ছোটো একটা প্রশ্ন আস্ত মেয়ের প্রতি এই যে কিছু বিদেশি বাংলা ভাষা শিখলো, তারা সংস্কৃত শিখলো, মানুষ অহরহ বিদেশি ভাষা শিখছে বাংলাদেশে এমনও আমার কিছু বন্ধু আছে যাদের ফ্রেঞ্চ ভাসায় রীতিমতো পদক আছে, এই খানেও অনেক মানুষ পাওয়া যাবে যারা বিদেশি একটা ভাষায় সমান পারদর্শি অন্তত একটা সীমা পর্যন্ত সেই সীমায় তারা সেই ভাষায় রচিত সাহিত্যের রসাস্বাদন করতে পারে। এটা কিভাবে সম্ভব হলো? ভাষা শিখায় সংস্কৃতিগত পার্থক্য এখন তেমন বড় কোনো পার্থক্য নয়। মানুষ ইচ্ছা করলেই নতুন একটা ভাষা শিখতে পারে, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ অনেকগুলো ভাষায় লিখতে পড়তে পারতেন শুনেছি, তার এই ক্ষমতা তৈরি হলো কিভাবে? কেনো ইশ্বরের এই বহুভাষা বোঝার ক্ষমতা নেই। আমার শৈশবের প্রশ্নটার উত্তর এখনও পাওয়া সম্ভব হলো না আসলে।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: দিনলিপি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৭:০৬
সদরুল বলেছেন: অনেকের পছন্দ হবে না কিন্ত শিরোনামটা চমৎকার
২. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৭:০৬
অতিথি বলেছেন: বাবা-মা যে পরিমান কষ্ট করে সন্তান ধারন করে ও তাকে লালন পালন করে বড় করে তোলে তাতে সন্তানকে দিয়ে নিজের "স্বপ্ন পুরন" এর স্বপ্ন দেখা দোষের কিছু না। এখন সন্তানের ইচ্ছা -সে তার কতটুকু পালন করবে। ব্যাপারটা নির্ভর করে পারিবারিক সম্পর্ক ও সমঝোতার উপরে। যে মেয়েটি (ছেলেটি) বাবা-মা, ভাই-বোন ছেড়ে নিজ পছন্দের ছেলেটির (মেয়েটির) সাথে চলে যায় তারও একটি নিজস্ব পছন্দ ও চিন্তা থাকে বলেই সে কাজটি করে। তার "নিজস্ব চিন্তা"র গন্ডী ক্ষুদ্র নিজেকে নিয়েই, পরিবার-সমাজের সেখানে অসতিত্ব নেই।

মানুষ তার একান্ত নিজস্ব চিন্তা চেতনার সাথে পরিবার, সমাজ, দেশ, সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে কতটুকু রিলেট করবে সেটাই তার সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করবে।

আমরা আসলেই দেখাতে ভালবাসি। মানুষ হিসেবে আমিও এর বাইরে নই। তাই পরিবারে/কর্মক্ষেত্রে নিজের কাজের যখন প্রশংসা পাই তখন ভালো লাগে। উলটোটা হলে কষ্ট লাগে। সেটাই স্বাভাবিক।

নিজের মতবাদটা অন্যের ওপর গায়ের জোরে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করাটা আমাদের চিরন্তন (জেনেটিক) সমস্যা।
৩. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৭:০৬
অতিথি বলেছেন: 1. আরবির দু'টো ধারা আছে, আমি যতটুকু শুনেছি, আরবি শেখা বন্ধুদের কাছ থেকে। একটা হচ্ছে ক্লাসিক্যাল আরবি। ওটা শিখলে কোরআন বুঝা সহজ হয়। ক্লাসিক্যাল আরবির বিবর্তন হয়েছে কম। তাছাড়া কোরআন নাজিলের সময়ে আরবিতে সাহিত্য চচর্া হত ভালই, ওগুলো ঘাটলেই এক একটা শব্দ কি অর্থে ব্যবহৃত হত তা পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত যারা তাফসির করেছেন তারা তাই করেছেন। ওগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই হয়।
2. শুধু মাত্র কোরআনটা যেন এক ভাষায় থাকে, অপরিবর্তিত, তার চেষ্টা করা হয়েছে এবং মুসলিমরা সফল হয়েছে। এখন পৃথিবীর 1.5 বিলিয়ন মানুষের কাছে একই কোরআন। এই কাজটা যদি না করা হত তাহলে কি হত এটা ব্যাখ্যার প্রয়োজন কেন পড়ছে? ব্লগার শুভ প্রায়েই বলেন, অনুবাদ করা মানে মূল ভাষ্যটাকে মেরে ফেলা। তারপরেও অনুবাদ আছে কোরআনের। কিন্তু তাতে পরিপূর্ণ ভাব প্রকাশ হয় না। দুইটা অনুবাদে কেন পার্থক্য তাই নিয়ে ঝগড়া করলে আমার কথা হবে, আরবি শিখে নিজেই যাচাই করে নাও কোনটা ঠিক। এখানে 'স্টেবল' আর স্থির নিয়ে একটা তর্ক দেখছিলাম। একটা শব্দ নিয়ে বিরাট বিরাট পোস্ট। অথচ দুই জনের কেউই মূল আরবি শব্দটা তখন কি অর্থে ব্যবহৃত হত তা জানেন না। কেউ কোরআন নিয়ে ইন ডেপথ স্টাডি করার আগে তার আরবি শিখে তারপরে করা উচিৎ। ইন ডেপথ স্টাডি না করে অনুবাদের দুয়েকটা শব্দ তুলে কথা বলা ধৃষ্টতা।
3. কোরআন হল একটা ম্যাসেজ স্বরূপ। ফাইন কেউ যদি ম্যাসেজটা অনুবাদ থেকে পুরো পুরি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। আমি সন্তুষ্ট না। ব্যাস।
4. কোরআনের যেই আয়াতগুলো পড়া হয় নামাযে, নামাযের সেই অংশগুলো আরবিতে। অর্থের বিকৃতির আশংকা আছে তাই। এছাড়া, অন্যান্য অংশ, যেমন নিয়্যাত (ইচ্ছা উচ্চারণ) এবং সিজদায় গিয়ে প্রার্থনা নিজের ভাষায় করা যায়। আমি নিজেও বাংলায় সেগুলো করি। সালাম ফিরানোর পরে বাংলায় দোআ করি। আমার প্রার্থনায় ভাষা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। স্রষ্টার সাথে কমিউনেকশনে ভাষা কোন সমস্যা না, কোরআন আরবি। ওটা বদলাবে না।
5. আমাকে করা ছোট প্রশ্নের উত্তর পয়েন্ট 4 এ।
6. ওই কোরআনের বাণী নিজের ভাষায় লিখার যেই কথাটা বললেন, সেটা আজই প্রথম শুনলাম। রেফারেনস দিবেন না বলে দিয়েছেন, ব্যপারটা হযবরল এর ছোট ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশের মত শোনাচ্ছে আমার কাছে।
৪. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৮:০৬
অতিথি বলেছেন: সূরা ফাতিহার পরে কোরআনের যে কোন অংশ থেকে পড়তে হবে। কই বলেছি নির্দিষ্ট সূরাই পড়তে হবে? আমি বলেছি, কোরআন থেকে এই তেলওয়াত অংশটুকু ছাড়া অন্যান্য অনেক জায়গায় নিজেস্ব ভাষা ব্যবহার করে মানুষ, যেমন সিজদায়, তাসবিহের পরে, কিংবা নিয়্যাত।
আর পরকালের জন্য এখনই আরবি শিখতে হবে এমন উদ্ভট কথা আমি শুনি নি। আমার মনে হয় ওয়ালী বুঝিয়েছেন, তাতে কোরআন ভাল বুঝে মানা যাবে তাই পরকালে সেইফ।
৫. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৮:০৬
অতিথি বলেছেন: আমি যেটা বিশ্বাস করিনা সেটা নিয়ে মাথাও ঘামাইনা।
সেই বিশ্বাস নিয়ে যারা বেঁচে আছে তাদের কি করা উচিৎ, কোন ভাষায় সেই বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে রাখা উচিৎ, বুঝে প্রার্থণা করা উচিৎ নাকি না বুঝে চিৎকার করা উচিৎ, তাদের ধর্মবই এর ব্যাপারে কি কন্সপিরেসী থিওরী আছে, তাদের ঈশ্বর কয়টা ভাষা জানে -- তা নিয়ে মাথা ঘামানোও সেক্ষেত্রে আমার জন্য সময়েরই অপচয়।
অপবাক দা, যে তত্ত্ব আপনি বিশ্বাসই করেননা, সে তত্ত্ব নিয়ে অযথা ঘাঁটাঘাঁটি না করে বরং প্রেম, মানবতা, ভালবাসা, উদারতা এসব নিয়ে লিখুন।
আপনার লেখার খুব ভাল পোটেনশিয়াল আছে, শুধুশুধু সেই পোটেনশিয়াল নষ্ট করা কেন?
৬. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৮:০৬
অপ বাক বলেছেন: আশার আলো হাইপোথিসিস হিসাবে জেনেটিক সমস্যাটা খারাপ না, এখন সব কিছুতে মানুষের জিনকে দোষারোপের রীতি চালু হয়েছে সেই মতো জোরজবরদস্তির বিষয়টাও জেনেটিক সমস্যা হতে পারে।
৮. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৮:০৬
অপ বাক বলেছেন: পরলৌকিক প্রয়োজনে তাহলে আরবি শেখার প্রয়োজন নেই , কারন প্রশ্নের শুরুটাই ছিলো এখান থেকে পরলৌকিক প্রয়োজনে আমাদের আরবি শিখতে হবে। অন্য একটা বিষয় নামাযের জন্য কোরানের কি নির্দিষ্ট অংশ আছে, আমার তো ধারনা ছিলো নামাযের জন্য শুরু ফাতিহা দিয়ে শুরু করার নিয়মটা পালনীয়, এর পরে যেকোনো আয়াত বা রুকু ধরলেই হয়, নিয়মের পরবর্তি অংশ হলো প্রথম রাকাতে যতটুকু তেলাওয়াত করা হয়েছে 2য় রাকাতে তার অর্ধকের মতো পড়তে হবে। এখন অমার কথা শুনে মনে হচ্ছে কিছু নির্দিষ্ট অংশ ছাড়া পড়া যাবে না, এই কোরানের আয়াতের ভেতরের শ্রেনি বিভাজনের বিষয়টা কেনো? যদিও আমি জানি না এখনও কেনো ফেরাউনের গল্প মুসার গল্প ইউসুফের গল্প পড়তে হবে প্রার্থনায়? কেনো মুাহম্মদের বিবিদের মাতৃজ্ঞানে সম্মান করতে হবে এই বিষয়টা হবে প্রার্থনার বিষয়।
হাবি জাবি যেকোনো কিছুই যদি প্রার্থনায় ব্যাবহৃত হয় তাহলে তো বিপদ। একটু যুক্তি খাটিয়ে ব্যাখ্যার চেষ্টা করো বাকারার 120 থেকে 130 তম আয়াত কেনো প্রার্থনায় ব্যাবহৃত হবে? এটাতে ইশ্বরের কোন মহিমার কথা প্রকাশিত?
৯. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আপনার এই অধর্ম প্রচারের পাদ্রীপনা খুবই অসহ্য লাগে মাঝে মাঝে। স্টুপিডের মতো কতগুলান কথা কন, যাগো রেফারেনস দেন তারাও দেখি কোনো না কোনো ধর্মে বিশ্বাসী। আপনার লেখনীটা ভালো, অন্য কোনো বিষয়েই ব্যয় করেন, এই উস্কানিতে অপচয় না কইরা। এতে কোনো পক্ষের লাভ নাই। বরং নতুন একটা বিভাজন একটা মেরুকরণ হইতাছে। আপনার ভক্ত আছে প্রচুর মানি। তাগোরে বরং আপনার লেখাগুলার লিংক দিয়া দেন, তারা পইড়া নিব। আমার কাছে পুরাটাই ফাতরামি মনে হয়
১০. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: জি্বনের বাদশার সঙ্গে আমি একমত। অপ বাক আপনি ইশ্বর, নবীরসুল, ধর্ম ইত্যাদিকে ভন্ডামী বলে মানেন। সো বি ইট। তা আপনার মতবাদটা আপনার মধ্যে রাখেন না কেন? আপনার এই বিশেষ জ্ঞান আমাদের মধ্যে প্রচারের দরকার নাই, নাস্তিকদের আলাদা সাইট তো আছেই যেখানে যদ্দূর জানি আপনে লেখেন ও।
১১. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অতিথি বলেছেন: জিন বিষয়ক হাইপোথিসিসটা বিজ্ঞানীরা প্রমান করে ছেড়েছেন। "রগচটা ভাব", "অপরাধী মনোবৃত্তি" ইত্যাদির পেছনে জিনগত সমস্যা অনেক খানি। অবশ্য একে সমস্যা না বলে বৈচিত্র বলাই উত্তম। কারন জিনগত ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বিন্যাসের এক একটা নিয়ে এক একজন মানুষের আগমন। তাই এত বিভিন্নতা। তার সাথে একটা ফ্যাক্টর পরিবার-পরিবেশ-সমাজ যেখানে মানুষ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।
১২. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অপ বাক বলেছেন: পিয়াল ভাই বিষয়টা আমার কাছে ডাবল স্টান্ডার্ডের মনে হয়, এখানে যখন কেউ কেয়মত এবং কোরান নিয়ে লেখা দিচ্ছে তখন কিন্তু তাদের গিয়ে আপনি বলছেন না ওরা কেনো এসব লিখছে? আমি ঠিক তার বিপরীত কথা লিখছি কিন্তু আপনি আমাকে বলছেন না লিখতে। আমি কিন্তু ওদের বিশ্বাস নিয়ে টানাটানি করি না। ওদের গিয়ে আমি কখনই বলি না যে ওদের আসলে আমার মত বিশ্বাস করা উচিত। আমি বলছি প্রথম থেকেই ধর্ম থাকুক মানুষের বিশ্বাস হয়ে কিন্তু ধর্মের সাথে বিজ্ঞার অবৈধ্য সহবাস ঘটিয়ে নতুন যে একটা বকচ্ছপ তৈরির চেষ্টা চলছে আমি সেটার বিরুদ্ধে ইতিহাস নিয়ে লড়াই করছি মাত্র। এটা আমার নিজের খোজ, নিজের জন্য লিখে রাখা, কিংবা আমার ভাবনার বদলটা ধরে রাখার চেষ্টা।
নাস্তিকদের জন্য আলাদা সাইটের কথা বললে যেটা দাঁড়ায় এই অর্থে তা হলো এটা আস্তিকদের জন্য নিবেদিত সাইট। এই বিভাজনটা কি আমাদের সময়ের মাপে উচিত কোনো বিভাজন?
জি্বনের বাদশা
আমি যেটা বিশ্বাস করি না সেটা নিয়ে আমিও মাথা ঘামাই না কিন্তু আমি যেটা বিশ্বাস করি কেউ সেইটাকে ভ্রান্ত প্রমানের চেষ্টা করলে একটু নিজেই প্রতইবাদ করি নিজের ব্লগে, আমার মন্তব্য অনেকখানেই কাংক্ষিত নয় তাই সব ব্লগে গিয়ে মন্তব্য ঝাড়তেও পারি না ঠিক মতো।
১৩. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অতিথি বলেছেন: পিয়াল ভাই, ধন্যবাদ।
আসলে আমি যেটা বলতে চাইছিলাম তা হলো, অপবাকদা নাস্তিকতা নিয়ে লিখুন সেটা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই; তাঁর নিজের আদর্শ তিনি লিখতেই পারেন - সেটা আমি আগ্রহ নিয়েই পড়ব।
কিন্তু যেটা তিনি বিশ্বাসই করেননা সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোটা এমন চমৎকার মেধার জন্য সময়ের অপচয় বলে মনে হয়েছে।
১৪. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অতিথি বলেছেন: প্রবাসী দ্্বিতীয় প্রজন্মের পৃথক বাস্তবতা বাদ দিলে মাতৃভাষার ভিত্তি এবং তার উপরে বিদেশী ভাষার নিমর্ান , এইটা স্বাভাবিক কৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ।

জি্বনের বাদশা,
আমার মনে হয় বিশ্বাসের তরিকা লইয়া লাড়ালাড়ি , বিশ্বাসের রুট সন্ধানের একটা কায়দাও হইতে পারে ।
১৫. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অতিথি বলেছেন: সরি অপবাক, আমি সম্ভবতঃ আপনার লেখাটা ঠিকমতো বুঝতে পারিনি। আপনি লেখার শুরুতে বললেন যে আপনি নামাজ-রোজা করেননা, কারণ আপনি বিশ্বাস করেননা। আমি তাই ভেবে নিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আপনার একটি আদর্শ/ফিলোসোফী () হলো নিজ ভাষায় নামাজ পড়া, রাইট? তাহলে আমি ভুল বোঝার জন্য ক্ষমা চাইছি।
১৬. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
মাধবী বলেছেন: অপ বাক তো তার ব্লগেই তার মতবাদ রাখছে। আমরাই না তা ঘাটাঘাটি করছি!
১৭. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অতিথি বলেছেন: সুমন চৌধুরী,
আপনার সাথে একমত, তবে প্র্যাকটিকা্যালি আমি দেখছি যে বিশ্বাস /আদর্শ এমন এক জিনিস যেটা নিয়ে তর্কাতর্কি করে কিছুই হয়না; অযথা কাঁদা ছুড়াছুড়িই বাড়ে। আর যেটা আমি নিজেই বিশ্বাস করিনা সেটা নিয়ে লাড়ালাড়ি করাটা কেমন জানি অর্থহীন মনে হয় আমার কাছে। যেমন, আফ্রিকার বুশম্যানদের যে বিশ্বাস আছে সেটা নিয়ে আমরা কেউ মাথা ঘামাইনা, তাইনা?

এই সাইটে কত হাই পোটেনশিয়ালের ছেলেমেয়েরা লিখছে! সবাই মিলে বরং পজিটিভ জিনিস নিয়া লিখলে সবারই উপকার হবে।
১৮. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
অতিথি বলেছেন: অপবাক, চমৎকার এই লেখাটির জন্য অশেষ ধন্যবাদ। সাবলীলতা আর যুক্তি প্রয়োগের যে উদাহরণ আপনি দিয়েছেন তাতে যে কোনও যুক্তিগ্রাহ্য মন, তা কোনও আনুষ্ঠানিক ধর্মবিশ্বাসী হোক কিংবা আনুষ্ঠানিক ভাবে অবিশ্বাসীই হোক না কেন, দু'পক্ষকেই ভাবতে শেখাবে। তবে আধুনিক মানুষের ভাবন-কুঠুরিতে যে রেলগাড়ী ঢুকেছে, তা আপনার লেখাটির মন্তব্য পাঠে আবারও প্রতিষ্ঠা পেলো। এই রেলগাড়ী হচ্ছে, পোকা, যাদের অনেক পা, অনেক হাত আর গা ভর্তি বিষাক্ত লোম!!!
ঈশ্বরের মুখের ভাষা নিয়ে একটি লেখা পড়েছিলাম, ইংরেজিতে, এই মুহূর্তে লেখকের নামটি মনে নেই, তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, পৃথিবীতে নানা দেশে ও নানা কালে নানান রকমের ঈশ্বর এসেছে, মানে ঈশ্বরকে আনা হয়েছে। কালে কালে বহু ঈশ্বর মারা গেছে, বিস্মৃত হয়েছে, কিন্তু ভাষা টিকে আছে, হয়তো উৎপত্তিকালের রূপে নয়, অন্য রূপে, অন্য বিভঙ্গে। মোটকথা বইটিতে বলা হয়েছিল যে, ঈশ্বর ও নশ্বর শব্দের মধ্যে পার্থক্য কয়েক সেন্টিমিটার মাত্র, কিন্তু ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ঈশ্বরের ভঙ্গুরত্বের কোনও তুলনাই চলে না। সেই অর্থে বিচার করতে গেলে, চার আসমানী কিতাব (কোরানিকদের) -এর ভাষা ভিন্ন, ঈশ্বরও মোটামুটি ভিন্নই, কিন্তু এই ধর্মসমূহ এখন তার উৎপত্তিস্থল থেকে বহু দূরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্ব স্ব মাটি ও মানুষের মুখের ভাষাতেই চর্চিত। এরমধ্যে ব্যতিক্রম শুধু কোরআন, যা আরবি নামের একটি ভাষাতেই পাঠে বাধ্য করা হয়।
খুব ছোটবেলায় যখন বুকে কোরআন শরীফ নিয়ে মসজিদে যেতাম একবার এক দুষ্টু ছেলে আমার ওড়নায় কতগুলো বিচ্ছু বেঁধে দিয়েছিল অজান্তে, হঠাৎ ওড়না ঠিক করার সময় বিছাগুলি ওড়না থেকে ঝরে পড়ে শরীরে এবং আমি ভয় পেয়ে কোরআন বুকে ধরা থেকে ছুড়ে ফেলে দেঁৗড় দিয়েছিলাম। কিন্তু কোরআন ছুঁড়ে ফেলার শাস্তি হয়েছিল ভয়াবহ। আমাকে কাঁচা কঞ্চি দিয়ে পঞ্চাশটি বাড়ি দেওয়া হয়েছিল এবং প্রায় চারপাঁচদিন অচেতন ছিলাম জ্বরে। আমার মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল যেহেতু আমি কোরআন ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি সেহেতু আমার ভয়াবহ অকল্যাণ হবে কিন্তু আমার জ্বর এসেছিল চ্চিছুর ভয় আর কঞ্চির মারের কারণে। সেই যে কোরআন থেকে দূরে সরেছি আর ও-মুখো হতে ইচ্ছে হয় না।
এই কথাটি এ জন্যই বলা, যে গ্রন্থ বিজাতীয় কোনও ভাষায় পাঠে আমার নু্যনতম বোধ জন্মায় না, কিংবা যে ভাষা শিখে আমার ইকলৌকিক কোনও উপকার আদৌ হচ্ছে না, সেই ভাষা কিংবা গ্রন্থপাঠে সময় বরবাদ করাটা কতোটা যুক্তিসঙ্গত? আপনার লেখাটি পড়ে আবারও আমার ধারণাটাই বদ্ধমূল হলো, এবং সে জন্য অশেষ অফুরান ধন্যবাদ।
এখানে বিদেশে থেকে লেখাপড়া করা কিংবা বাবামায়ের বদৌলতে বিদেশে এসে ধর্ম নিয়ে ফাল-পাড়া কিছু ধর্মানুষ আছে যাদের এই বিলাসিতা সাজে, মরু আরবের ভাষা রপ্ত করে পরকালের পারানি সংগ্রহের, কিন্তু যে কৃষক লাঙল কাঁধে সকালে বের হয়, সন্ধ্যায় হতক্লান্ত হয়ে ফিরে এক থালা ভাতও পুরো পায় না কিংবা যে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অর্থ ও বিত্তবানদের সঙ্গে মেধার প্রতিযোগিতায় নামে তাদের পক্ষে আরবি নামের একটি বাড়তি ও অপ্রয়োজনীয় ভাষা শিখতে যাওয়ার সময় কোথায়? বেহেশত কিংবা দোযখ তো একটা হাইপোথিসিস, এই কালেই মানুষ যখন মুখে ফেনা তুলে ছুটছে নিজেকে কিংবা পরিবারকে দুদণ্ড অর্থনৈতিক শান্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তখন মৃতু্য পরের ঘটনাবলী নিয়ে মাথা ঘামানো তাদেরই সাজে যারা জিনস-এর সঙ্গে হিজাব এর ফিউশন ঘটিয়ে পরকালকে মনে করে বিছানার তলায় রেখে দিয়েছে।

অমি রহমান পিয়াল - জানি না আপনার কি হয়েছে? কিংবা কি নিয়ে এতোটা ক্ষিপ্ত বা বিভ্রান্ত আপনি? আপনার লেখা বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখাগুলি পড়ে যে ধারণা জন্মায় তাতে ভাটার টান ধরে এসব মন্তব্যে। স্ব-বিরোধী হওয়া ভালো, কিংবা নিজের দোষগুলি জনারণ্যে জাহির করাও সাহসীকতা বটে (কারো কারো কাছে, আমার কাছে খানিকটা ভণ্ডামির মতো লাগে) কিন্তু অন্যের মতামতকে উড়িয়ে দেওয়া কিংবা তা প্রকাশ করার স্বাধীনতা নিয়ে কটাক্ষ করা অপরাধ বলেই বিশ্বাস করি। যদিও এখানে মানে এই বলগে এসব আকছার হচ্ছে। এতোদিনে এসব গা-সওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু নিজেকে এরকম এলোমেলো করে কী লাভ বলেন? বয়সতো কম হলো না, ওলি-গলিও কম ঘোরা হলো না, কী বলেন?
১৯. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
অতিথি বলেছেন: মাধবী, আসলে আমি অপবাক যে বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছেন তা নিয়ে বলেছিলাম। একটা সহজ উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন।
এক হুজুর একই ওয়াজে প্রথমে বললেন, 'মানুষ চাঁদে গেছে এটা আমি বিশ্বাস করিনা, এটা হতেই পারেনা!, সব ধাপ্পাবাজী' .... কতক্ষণ পর আবার আমেরিকাকে বকতে গিয়া বললেন, 'ব্যাটারা গ্লোবালিজম শিখেনাই। চাঁদে গিয়া আমেরিকার পতাকা টাঙাইছে! গেছে তো মানবজাতির পক্ষ হইয়া, পৃথিবীর পতাকা টাঙানো উচিৎ ছিল।'
দুটো বক্তব্য শোনার পর আপনার কি মনে হবেনা তার দ্্বিতীয় কথাটি (clear redundancy) না বললেও চলত?
২০. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
অপ বাক বলেছেন: পিয়াল ভাই বিষয়টা উপস্থাপনের, যদি আমি একই লেখা লিখে বলতাম এইসব নামাজ রোজার চেয়ে সুফিজম ভালো, ইশ্বরের সাথে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক শাররীক কসরতের সম্পর্ক নয় তাহলে আপনি হয়তো আমার জন্য মুস্তফাচরিতের সাথে অন্য একটা অনুবাদের বই তুলে দিতেন।

আমি তা করছি না, আমি নিজের বোধ খোলা রেখে প্রচলিত বিশ্বস কে প্রশ্ন করছি বলে আপনি আমাকে শত্রুশিবিরে রেখেছেন। গোপাল ভাঁড়ের সেই বিখ্যাত গল্পের মতো বিষয়টা- একদল জ্যোতিষ রাজাকে বললো তার চোখের সামনে তার পুরা পরিবার মারা যাবে এবং পুরস্কার হিসেবে তাদের হত্যা করা হলো,
গোপাল ভাঁড় যখন বললো রাজা তার পরিবারের সবচেয়ে দীর্ঘজীবি পূরুষ হবে তখন গোপাল ভাঁড়কে পুরস্কৃত করা হলো। আমিও সাদিকের মতো ভন্ড ধাঁচের ধর্মকথা লিখতে পারি, কিন্তু আমি তা করছি না তাই আমাকে নাস্তিকদের সাইটে গিয়ে লেখালেখির উপদেশ দিলেন।
২১. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আর ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কথাই যখন তুললেনই, আমি কিন্তু ট্রিপল স্ট্যান্ডার্ডের থাইকা একটু পেছনেই আছি। একজন ব্লগার আছেন, ধর্মরে গালি দিয়া লেখেন, আবার সেই ব্লগাররে গালি দিয়া ভিন্ন আইডিতে পোস্ট নামান, আবার আরেক আইডিতে পক্ষ নেন যে কারো। এই পাপেট মাস্টারটারে ও তার কীর্তি আমার মতো অনেক ব্লগারের খুব ভালো ভাবে জানা। কিন্তু কী আর করা- আফটার অল তিনি এই ব্লগে আপনার মতো মহারথীদের একজন-য থেষ্ট বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ, প্রাতস্মরণীয়তো বটেই
২২. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: জি্ব ভাই, অনেক আগেই স্বীকার করছি আমি একজন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মানুষ। আপনার অর্ধম নিয়া লেখা যেমন পড়িনা, তেমনি ধর্ম নিয়া যারা লেখে তাগোটাও না। আবার নিজেই সাদিকের প্রতি একটা অযাচিত আক্রমণের প্রতিবাদে মোস্তফা চরিত নামে একটা বই ধারাবাহিক ছাপাইতাছি। আমার যেমন ধর্মান্ধদের অপছন্দ, একইরকম অপছন্দ যারা ধর্ম নিয়া কটাক্ষ করে। একটা বিশ্বাস, একটা রিচুয়াল এইটা কেয়ামত পর্যন্ত একরকমই থাকবে- আপনি যদি ব্রাক্ষ ধর্মের মতো ইসলামেরও আপডেট চান- তাইলে তার প্রতিবাদ তো করমুই। সেইটা যদি আমার অন্য স্বত্ত্বাটারে বাইর কইরা আনে- তাই সই
২৩. ০১ লা জুন, ২০০৬ সকাল ১১:০৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: মহুয়া মঞ্জরী- ঠিক এই পর্যাব্জ্বয় আমার ইনটুইশন দুইজন মানুষব্জ্বর প্রত্যাশা করতাছিল। তাব্জ্বদর একজন আপনি। যাক আমার ষষ্ঠ ইব্জিগ্দদ্রয় আমার সব্জ্বঙ্গ প্রতারণা কব্জ্বর নাই। আমার ক্ষিপ্ত বা বিভ্রাপ্পৃ্বব্জচ্ হওয়ার ব্জ্বকাব্জ্বনা কারণ ঘব্জ্বট নাই। তব্জ্বব আমার মুক্তিযুব্জ্বদ্ধর ব্জ্বচতনার সব্জ্বঙ্গ আমার ধর্মীয় ব্জ্বচতনার মিলাইয়া ব্জ্বফলাটায় আমি বিভ্রাপ্পৃ্বব্জচ্। আমি বাঙ্গালী, বীব্জ্বরর জাতি, মুক্তিব্জ্বযাদ্ধাব্জ্বদর উত্তরসূরী- এটা আমার ব্জ্বচতনা। আমি মুসলমান, আল্লাহ এক ও অপ্পি্ক্নতীয়, হযরত ব্জ্বমাহাম্মদ (দঃ) তার রসুল- এইটা আমার বিশ্বাস। দুইটায় কনফ্লিক্ট করার ব্জ্বতা কারণ ব্জ্বদখি না। মুক্তিযুদ্ধ ব্জ্বতা আর শুধু এব্জ্বদব্জ্বশর নিপিড়িত হিব্জগ্দদুরা কব্জ্বর নাই, 99% মুসলমান করব্জ্বছ। আর ভন্ডামির ব্যাপারটা ঠিক ধরব্জ্বছন। তব্জ্বব এখন আব্জ্ববব্জ্বগর ওপর আমার যব্জ্বথষ্ট নিয়প্পৃ্বব্জচ্্রণ আব্জ্বছ, তাই ব্জ্বসব্জিগ্দটব্জ্বমব্জগ্দটাল হইয়া দুম কইরা কিছু করুম বা কমু- উসব্জগ্গানী পাইব্জ্বলও তা ব্জ্বথব্জ্বক বিরত আছি। চাপাবাজি আপনিও কব্জ্বরন আমিও করি, আপনারটা শুদ্ধভাষায়, আমারটা ত্রিভুজ ও তারসহমতী কিছু ব্লগাব্জ্বরর মব্জ্বত বসব্জিচ্র ভাষায়। এইটা বিব্জ্বরাধ না বন্ধু। এইটা উসব্জগ্গানি- এইগুলা থামব্জ্বল ভাব্জ্বলা লাব্জ্বগ
২৪. ০১ লা জুন, ২০০৬ দুপুর ১২:০৬
অতিথি বলেছেন: যাক আমারে চিনছেন মানে চিনবার পারছেন বইলা ভালো লাগলো, আর এটাও বুঝছেন যে, অযৌক্তিক ও অহেতুক কোনও কথা বা কাজকেই সমর্থন করি না। এ জন্য প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ দুটোই করতে রাজি আছি।
আর মুক্তিযুদ্ধে যদি বিশ্বাস করেন তবে হিন্দু কিংবা মুসলমান বিভাজনে কি করে আস্থা রাখেন বন্ধু? আমি কোথাও কি উচ্চারণ করেছি মুক্তিযুদ্ধ শুধু হিন্দুরা করেছে? কোথাও বলিনি, তবে হঁ্যা আপনার তথ্যে একটু ভুল আছে, তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যার 99% মুসলিম ছিল না, উনসত্তরের গণনায় দেশে হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মামলম্বীর সংখ্যা ছিল প্রায় 15%, যদিও পাকিস্তানীরা এই সংখ্যাকে যথেষ্ট কমিয়েই প্রকাশ করেছিল, এবং সেটা ধরলে সংখ্যাটা 20% ছাড়িয়ে যায়। আপনার মুক্তিযুদ্ধ শুধু হিন্দু করে নাই, মুসলমানও করছে, উক্তিটা যথেষ্ট উস্কানীমূলক, সাম্প্রদায়িক ও বিভ্রান্তিকর। দয়া করে একে প্রত্যাহার করবেন কি? না করলেও কিছু আসে যায় না, কারণ তাতে আপনার অবস্থানটাই স্পষ্ট হয় শুধু, আপনার চিন্তা ও চেতনার দৌড়টাও জানা যায়।
আপনার আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে প্রশ্ন করবো না, কারণ আবেগ কিংবা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দু'টোই আপনার, আর নিজের সম্পর্কে অতু্যক্তি মানব স্বভাবধর্ম, আপনি তো এর বাইরে যাবেন না, যেতে পারেন না।
হঁ্যা, চাপাবাজি প্রসঙ্গ, কাকে আপনি চাপাবাজি বলছেন, যুক্তি সহ কোনও কথা বলা নাকি তার উত্তরে কুযুক্তি সাজিয়ে ধর্মের আফিম দিয়ে আর দোযখের ভয় দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা? ভেবে দেখবেন। আপনার বিশ্বাস নিয়ে কেউ কোনও আঘাত আপনার লেখায় গিয়ে করেনি, আপনি বিশ্বাস করতেই পারেন, যেমন আমার মতো অনেকেই অবিশ্বাসও করতে পারে, কিন্তু অবিশ্বাসীদের অবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন, কুযুক্তি দিয়ে তাদের দলে টানার চেষ্টা করতে পারেন আর আপনাদের বিশ্বাস, আপনার এক আল্ললাহর এক ভাষা-জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুললে এতো চেতেন কেন বন্ধু? তখন আপনার আবেগ কোথায় কোন গর্তে লুকোয়?
আপনার ইচ্ছে না হলে কোনও কিছু পড়বেন না কিংবা আপনার মন না চাইলে বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু তাই বলে কাউকে না লেখার উপদেশ কিংবা বিষয় নির্বাচন করে দেওয়াটাকে কী বলা যায় আপনিই বলেন!!
দেখুন আপনার তো আরও অনেক কিছু ভালো লাগতো কিংবা লাগেও, কিন্তু আপনাকে তো কেউ সেসব থামাতে কিংবা আরও এগিয়ে যেতে বলছে না, কিন্তু আপনি কেন মানুষের অক্ষতিকারক ও যুক্তিপূর্ণ বিশ্বাসকে থামাতে চাইছেন?
ভাষা বস্তিরও হয়, আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম, তবে আপনার অবস্থান আপনি নিজেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন, সে জন্য ধন্যবাদ বন্ধু। বস্তি মানে বাসস্থান, সেই অর্থে আপনাদের মতো আধুনিকদের ফ্ল্যাট বাড়ি কিংবা ভিলাও বস্তি বটে- তবে এটা সত্যি যে, পরিশীলিত কিংবা প্রমিত উচ্চারণ কোনও ক্ষতিকর কিছু নয়, বরং তা শ্রবণেন্দ্রিয়ে মাধুর্যই দেয়, নয় কি বন্ধু?
ভালো থাকবেন।
২৮. ০১ লা জুন, ২০০৬ বিকাল ৪:০৬
অতিথি বলেছেন: আপনার ইচ্ছা ও রুচি নিয়ে আপনি ভালো থাকুন সেটাই কামনা করি। তবে দয়া করে কাউকে উপদেশ খয়রাত না করাটাই বোধ করি ভালো হবে।
আর আমারে চিনতে পেরেছেন বলে যে কথাটি আমি বলেছি তাহলো আপনি বুঝেছেন যে, আপনার মন্তব্যগুলোর পর আমি প্রতি-মন্তব্য করবো সেটা বুঝতে পারার কথা। তারপরও আপনি যদি আমাকে চিনে থাকেন, কিংবা পরিচয় জেনে থাকেন তো ভালোই তো। তবে আমারটা না জেনে নিজেরটা জানুন, আপনি কে? কি চান? কি ভাবেন? কিভাবে ভাবেন? অন্যের মতামতের কতোটা মূল্য দেন? ইত্যাদি সব প্রশ্ন নিয়ে কপচাকপচি করুন, দেখবেন কাজে আসবে। শুধু শুধু কে কোন পরিচয়ে এখানে এলো কিংবা গেলো সেটা নিয়ে তদন্ত না করে ভালো করে স্পোর্টস রিপোর্টিং করুন আর ব্যক্তির লেখা সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাইলে করুন, সেটাই শ্রেয়, তবে না লিখতে বলাটা ধৃষ্টতা।
শুভ কামনা - আমার অজ্ঞাত পরিচয়-জানা পিয়ালকে!
২৯. ০১ লা জুন, ২০০৬ বিকাল ৫:০৬
অরূপ বলেছেন: সেন্টু শিয়াল ভাই,
অপ বাকরে ঝাড়িটা একটু বেশী দিয়া ফেললেন... ঠান্ডা হন..
পিলিশ বস, ঠান্ডা হন!!
৩০. ০১ লা জুন, ২০০৬ বিকাল ৫:০৬
অরূপ বলেছেন: অপ বাক,
এবার অভিযোগ নাই..
পড়ছি আগ্রহ নিয়ে
৩১. ০১ লা জুন, ২০০৬ বিকাল ৫:০৬
অরূপ বলেছেন: যতক্ষন যবনঠাকুরের আগমন না ঘটে ততক্ষনই মঙ্গল!
হক মওলা! বাংলাদেশ ঘেউ সমিতির প্রেসিডেন্ট হালায় কই? হারেও চাই.. মেমবার দেখি গুনোত্তর প্রগমনে বাড়তাছে!
৩২. ০১ লা জুন, ২০০৬ বিকাল ৫:০৬
অতিথি বলেছেন: আরবী ভাষার কুরআন, অন্য ভাষায় অনুবাদ, এর মূল ভাব বজায় থাকা ইত্যাদি সম্পর্কে একটা খুব কমনসেনস উত্তর হচ্ছে এরকম:

জীবনানন্দের বা রবীন্দ্রনাথের প্রচন্ড আবেগ মাখানো কবিতা বাংলা থেকে ইংরেজীতে অনুবাদ করতে যে অবস্থা হবে; কুরআনকে এর মোহনীয় আরবী ভাষা থেকে বের করে নিয়ে আসলেও ঠিক সেটাই হয়।

মূল আরবীতে এর যে আবেদন সেটা নেটিভ ভাষায় একটা আবেগঘন কবিতার মতো। ইনফ্যাক্ট কুরআন তো অনেকাংশেই একটি কাব্য। তাই নয় কি?
৩৩. ০১ লা জুন, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০৬
অতিথি বলেছেন: সমস্যাটি আরবী ও কুরআনের নয়।
কারো হাতের কাছে Philosophy of Religion এর উপর কোনো বই থাকলে দেখতে পারেন সেখানে অবশ্যই একটা চ্যাপ্টার থাকবে Problems of Religion Language এর উপর।
যারা আরো বেশি আগ্রহী তারা কষ্ট করে এই বিষয়ে Language-Game Theory টাও পড়তে পারেন।

একদম পড়ালেখা না করে উরাধুরা বাড়াবাড়ি করলে তো কোনো উন্নতি হবে না।

সাদিক যে কথা বলেছেন। আবেগঘন কাব্য।
বাগানের মালী নিয়ে আমি যে লেখাটি পোস্ট করেছিলাম। সেখানে দেখেন বিশ্বাসীর কথা কেমন কবিতার মত রহস্যময়। সে রহস্য বাস্তবতার ভিত্তির উপর দাঁড়ানো নয়।
৩৫. ০১ লা জুন, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আই রিট্রিট, আই সারেন্ডার...
৩৬. ০১ লা জুন, ২০০৬ রাত ৮:০৬
অতিথি বলেছেন: কবিতার কথায় রহস্যময় উপমা থাকলেই সেটা যে বাস্তবতা বিবর্জিত হবে এটা মানা যাচ্ছে না।

আপাত রহস্যময় হলেও, উপমার মাধ্যমে বাস্তবের যেকোন বিষয় অনেক কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়। আপাত রহস্যময় উপমা দূর্বোধ্য থাকার দায় কবির নয়, পাঠকের অবুঝ মানসিকতার।
৩৭. ০২ রা জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৬
অপ বাক বলেছেন: বুঝলাম না কোরান কি মুসলমানরা কাব্যরস আস্বাদনের জন্য পড়ে? আমার তো ধারনা ছিলো কোরান পাঠের প্রধান কারন এখান থেকে শিক্ষাগ্রহন। নীতিকথা অনুবাদে ফিকে হয়ে যায় এমনতো শুনি নি। আর কোরানকে আরবি ভাষায় রাখতে কোনো বাধাও দিচথছি না শুধু বিভিন্ন দেশের ভাষাভাষিদের বোধগম্যতার জন্য অনুবাদ করতে বলছি। আর অন্য একটা বিষয় হলোএই যে আপাত অলীকতা তা একটা নির্দিষ্ট অনুবাদের পর থাকলে বা, যেমন করে উপমাকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সাজিয়ে দেওয়া যায় তেমন করে সম্ভব হবে না যদি 1400 বছর আগের ভাষা থেকে সরাসরি অনুদিত হয়। একটা সুরা পড়লাম, বিষয়বষতু রাতের অন্ধকারে ঝটিকা আক্রমন চালানো-ওখানে খুরের আঘাতে ফুলকি ছোটানোর কথা বলা আছে। এই উপমাটাকে একটু আধুনিক করে বলে দেওয়া যায় ওটা বোামরু বিমানের বিষয়, চাকার ঘর্ষণে আগুন জ্বলছে, অপারেশন ডেসার্ট স্টর্মের কথা বলা হয়েছে- কিন্তু আদতে তো তা সত্য নয়, সেই সময়ের প্রেক্ষিতে রচিত একটা গ্রন্থে এই বোমারু বিমান, যেটাকে একটু নাড়াচাড়া দিলে স্পেশ শাটল হয়ে যাবে, এর পর মহাশুন্য যান, এর পর স্টার ওয়ার্স। চেষ্টা করলে তো এক শব্দ টেনে অনেক দুর চাঁদের দেশেও নিয়ে যাওয়া যায়, এই ভন্ডামিটা নিয়েই যত কেঁচাল চলছে। যদি 1400 বছর আগের প্রেক্ষিতে অনুবাদটা করে ফেলা হয় তাহলে এই সব হাবিজাবি করার সুযোগটা থাকবে না। কিংবা থাকবে না কিভাবে বলি- মানুষের কল্পনা আর বিবেচনায় অনেক কিছুই টেনে নিয়ে আসে।
আপাত রহস্যময়তার বিষয়টা কিংবা উপমার প্রেক্ষিতকে আধুনিকায়নের বিষয়টাও পাঠকের অবুঝ মানসিকতা।
কিন্তু তুমি এইটা মানতে রাজি না , তুমিও কোরানের আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন ভাবে শব্দ চয়ন করে কোরানে ম্যাটার আন্টি ম্যাটার খুঁজতেছো, দাবি করছো এই এন্টি ম্যাটারের ধারনাটা কোরানের 1400 বছর আগেই দেওয়া আছে, জয় কোরানের জয়, তাহলে এই 1400 বছর আগের অবাস্তব কল্পনার ভিত্তিও পাঠকের অবুঝ মানসিকতারই হইলো।
আবেগঘন কাব্যরস আস্বাদনের ক্ষমতা যাদের আছে, যারা এই সব আরবি প্যাঁচালের কাব্যরস বুঝে তাদের জন্য কোরানতো থাকলোই, আমার মতো নিরেট সাহিত্যরূচির মানুষ নিরামিষ গদ্যে পরিত্রান খুঁজবে এটার জন্যও কোরানের অনুবাদ হওয়া দরকার।
৩৮. ০৪ ঠা জুন, ২০০৬ বিকাল ৫:০৬
অতিথি বলেছেন: আপত্তি 1: আমি কখনো বলি নাই ম্যাটার এন্টি ম্যাটার কুরআনে আছে। আমার যে পোস্ট থেকে আপনি ভুলটা বুঝেছেন সেখানে আমি বিভিন্ন ওয়ার্ন্ড ফিলোসফি থেকে সারাংশ নিয়েছি। ম্যাটার এন্টিম্যাটার বিজ্ঞানের আবিস্কার। আমি সেটা উল্লেখ করেছি সেখানে। এত ছোট পোস্ট, তবু পুরোটা না পড়েই ...

আবারও পড়ে দেখতে পারেন,
http://www.somewhereinblog.net/mysticsaint

আপত্তি 2: বিভিন্ন ভাষাভাষিদের জন্য আপনি কুরআন অনুবাদ করার যে ডাক দিয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে যেন কুরআনের অনুবাদ হয়নি।

পৃথিবীর প্রায় সব ভাষাতেই কুরআনের অনুবাদ আছে এবং হয়েছে এবং হচ্ছে। আপনি কি কুরআনের অনুবাদ পড়েন নি নাকি?

আপত্তি 3; আর আপনার অতি উপমা প্রয়োগ বিভ্রান্তিকর।

রবীন্দ্রনাথের গানের উপমায় আসা যাক আবারো। একেকজন রবীন্দ্রসংগীত প্রেমিকের কাছে একটি রবীন্দ্রসংগীতই বিভিন্ন আবেগে, বিভিন্ন আমেজে অনেক রকম অর্থ করতে পারে। একই গান জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অর্থ নিয়ে ফিরে আসে। বলা হয়, নতুন করে মানুষ রবীন্দ্রনাথকে আবিস্কার করে।

কুরআনের বিভিন্ন বাণীর আবেদন যুগে যুগে মানুষ নতুন করে ইন্টারপ্রেট করছে। নতুন জ্ঞান ও উপলব্ধির সাথে মিলিয়ে নতুন ভাবে তার অর্থ ধরা পড়ছে।

৩৯. ২৮ শে জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:১৭
কৌশিক বলেছেন: এই পোস্টটা পড়ে দেখতে পারেন।
৪০. ২৮ শে জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:২৫
আসল ট্র্যাপ বলেছেন: পড়ে দেখলাম। সামহোয়ারের স্বর্ণযুগের লেখা আর বিখ্যাত বিতর্ক। কই হারায়ে গেছে সব।
৪১. ১১ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:১৬
তুষার ০০৭ বলেছেন: 'আমার শেষ অপরাধ ছিলো আমি টি টেবিলে পা উঠিয়ে বসে বসে টিভি দেখছিলাম....'
দুর্ধর্ষ এই পোস্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গগুলো অপ্রয়োজনীয় মনে হল

 

মোট সময় লেগেছে ১.২৬৭৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তবু ও মানুষ কাঁদে
অধিকার চায় একটি শিশুর
তবুও মানুষ বাঁচে
কার হাতে অধিকার
মানুষ না যীশুর............

অধিকার সবার চাই, মতপ্রকাশের অধিকার নামান্তরে মতদ্্বৈত্বতার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ