আমার প্রিয় পোস্ট

সামপ্রদায়িক বাংলাদেশ লজ্জা আমাদের......

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:২৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমরা কি দিন দিন অবুঝ হয়ে যাচ্ছি?
আড্ডা এবং হীরক লস্কর ভাই, জেনেভা ক্যাম্পের আটকে পড়া মানুষগুলো কিছু পাকিস্তানি কিছু বিহারের, তারা ভাষাগত ভাবে উর্দুভাষি, কিন্তু উর্দু ভাষি জনগন মানেই বাংলাদেশের শত্রু এমন অপপ্রচারনা আমি আপনাদের কাছে আশা করি নি।

যদি খবরটার চোখ এড়িয়ে যায় আবার পড়েন,
তারা জন্মেছে বাংলাদেশের মাটিতে, এখানেই 2য় শ্রেনীর নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠা, তারা না ঘর কা না ঘাট কা অবস্থায় আছে,তাদের পিতা- মাতাদের মোহাজের হিসেবে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু অবস্থানগত কারনে তাদের গ্রহন করতে পাকিস্তান নারাজ, তাদের বাংলাদেশ গ্রহন করে নি, জেনভা ক্যাম্পের ভেতরে যারা যান নি কিংবা সৈয়দপুরের বা অন্য আরও 2 3 জায়গায় জেনভা ক্যাম্প আছে, আমি ঢাকার আর সৈয়দপুরের 2টা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এটা অমানবিক। বাংলাদেশের জন্মসুত্রে নাগরিক এসব মানুষের ভোটাধিকার ছিলো না এটাই তো আশ্চর্য খবর, দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের ভোট দেওয়ার আর অন্য সব নাগরিক সুবিধা পাওয়ার সংবিধান স্বীকৃত অধিকার আছে , আর লজ্জা হওয়া উচিত আমাদের যে আমরা তাদের সে অধিকার দেই নি বলে তাদের আদালত থেকে সেই অধিকার পেতে হয়েছে।

আর যারা জামায়াতকে ভোট দিবে এসব আটকে পড়া পাকিস্তানিরা ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন বা চিন্তিত হচ্ছেন তারা কি সামপ্রদায়িক আচরন করছেন না????

আমরা কি কখনই নিজেদের ক্ষুদ্্রতার উর্ধে উঠতে পারবো না, আপনি বোধ হয় তাদের নেতাদের সাক্ষাৎকার পড়েন নি, অনেক আগে ছাপা হয়েছিলো, আর 15 কোটি মানুষের দেশের সংখ্যালঘু 12- 13 লাখ লোকের প্রতিনিধির কথা তেমন গুরুত্বপূর্ন না বিধায় পড়েন নি,
তারা নিজেদের জীবন গড়তে চায়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাদের নাগরিক সুবিধাগুলো চায়, তাদের চাকরির অধিকার চায়,

সায়েদাবাদের সামনে সুইপার কলোনি আছে, যাদের প্রতিদিন সকালে আমরা রাস্তা ঝাড়ু দিতে দেখি, অনেক আগে খাটা পায়খানার আমলে যারা মানুষের মলবাহক ছিলো, সেইখানে এক ছেলে এম বি এ করেছে, খবরটা অন্তত 5 বছর আগের, কিন্তু হরিজন/গোত্রের বলে তার সাথে কাজ করতে কেউ রাজি নয়, সেজন্য সেই মেধাবি লোকটা পড়াশোনা করে চাকরিহীন, তারও নাগরিক অধিকার সে পেলো না রাষ্ট্র থেকে, এ নিয়ে এক বিন্দু দুশ্চিন্তা বা লজ্জা দেখি নি আমি কারো মধ্যে, কোনো বুদ্ধিজীবি বিবৃতি দেন নি যে এ 2001 এর বাংলাদেশে এমন সামপ্রদায়িক আচরন নিতান্ত লজ্জাস্কর,
আমি জানি না সেই ছেলেটা পরে চাকরি পেয়েছিলো কিনা? নাকি আমাদের ঢাকা শহরের রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছে সেই এম বি এ করা ছেলেটা।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: জনমত যাচাই  বিভাগে ।

 

  • ১২ টি মন্তব্য
  • ৫০৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৪:০২
comment by: শ।মসীর বলেছেন: আড্ডা ,হীরক আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম ।
২. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৪:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: মন্তব্যটা একটু আগেই দিয়েছি। আবারও বলছি, অপবাক আপনার কথার সাথে একমত হতে পারি যদি ব্যাপারটা একেবারেই কাকতালীয় হয়। দেশ স্বাধীন হলো 35 বছর। এতোদিন তাদের (বিহারী বংশধরদের) ভোটাধিকার কই ছিল? না, হয়তো বা তাদের 15 বা 1500 ভোট ব্যাংকের দরকার ছিল না। আমি ঢাকার মোহাম্মদপুরের ছেলে। জেনেভা ক্যাম্পের কাছেই আমার বাসা।তাদের কস্ট ও সংগ্রাম আমি সবসময় চোখের সামনে দেখেছি। তাদের ভোটাধিকার না, রাজনীতির কূটকৌশল?

প্রধানমন্ত্রী তো এখন পাকিস্তানে। তার আলোচনার এজেন্ডায় তাদের প্রতা্যবসনের কথা কি এসেছে না আসবে? পাকিস্তানীদের কাছে পাওনা নিয়ে আলাপ হবে কি না? ভাই, সবই একই সুতোয় বাধা।জন্মসূএে কেউ যদি নাগরিকত্ব চায় তা দেওয়ার মধ্যে কোন আপওি আমি দেখি না। কিন্তু তার অপব্যবহার আমাদের রোধ করতে হবে। হঠাৎ করে, নির্বাচন কমিশন এটা ইসু্য বানানোর চেস্টা করছে কেন? আর এজন্য কোর্টেই যেতে হলো কেন? লোক দেখানোর জন্য না তো?
৩. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০২
comment by: :) বলেছেন: হুমম, বিষয়টা মানবিকতার। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি ভাবনার দাবি রাখে। অপ বাক-এর ইসু্যটা ভ্যালিড।
৪. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০২
comment by: অপ বাক বলেছেন: স্বাধীনতার পরে যারা জন্ম নিয়েছে, সেসব নাগরিক যাদের ভোটের বয়েস হয়েছে 90 এর আশে পাশে তারা 90 থেকেই চেষ্টা করছে, 93, 97, স্মারকলিপি, পাকিস্টানি দুতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার শেষ ভোটাধিকার পাওয়া, এটা 15 বছরের সংগ্রাম, আর তাদের নেতার বয়েসও 35 থেকে 40এর ঘরে,
আর জন্মসূত্রে পাওয়া ভোটাধিকারও তাদের অর্জন করতে হচ্ছে আদালত থেকে,
সেলুকাস সেলুকাস .......................

একটা কৌতুক মনে পড়লো, জানা কৌটুক, বুশ ব্লেয়ারসাংবাদিকসম্মেলনে বলছে, আমি 1 কোটি ইরাকি মেরে ফেলবো, এর পর মারবো একটা রাজ হাস, সাংবাদিকরা অবাক হয়ে বললো, রাজ হাস কেনো? বুশের উত্তর দেখলে তো 1 কোটি ইরাকি নিয়ে কারও মাথা ব্যাথা নেই।

আড্ডা ভাই, বিহারি ক্যাম্প ইস্যু ছাড়াও ছোট্ট একটা সংযোজন ছিলো, সুইপার কলোনির ছেলে নিয়ে, গু মুত ঘাটা লোক বলে তার নাগরিক অধিকার লুন্ঠন এড়িয়ে গেলো চোখ ? নাকি এখনও জামায়াতের ভোট ব্যাংক বেরে গেলো এই দুশ্চিন্তা করছেন।
৫. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০২
comment by: অপ বাক বলেছেন: আড্ডা ভাই উত্তরটা আমি অন্য পোস্টেও দিয়েছি এখনও দেই
তাদের নেতার নাম ইকবাল। তারা অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছে,এ র আগের সার্ক সম্মেলনে, 2005এর টা নয়, তারা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কাছে এ বিষয়ে কথা বলে, অনেক লম্বা ইতিহাস, সার সংক্ষেপ, তারা নাগরিক অধিকার বঞ্চিত, আর পাকিস্তান স্পষ্ট ঘোষনা দিয়েছে বোধ হয় এ বিষয়ে তারা আলোচনা করবে না, তাই পুর্নাবাসনের কথা আলোচনা হবে না, আমি নিশ্চিত নই,
আর ইকবাল ভাইকে ভোটাধিকার পাওয়ার জন্য আদালতের দরজায় যেতে হবে কেনো? নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশ মানছে, তাদের নাগরিক অধিকার তাদের দিচ্ছে, এটাও সমস্যা, আদালতের নির্দেশ মানলেও তারা জামায়াতের হয়ে কাজ করছে, এর আগে মানলো না তখনও জামায়াতেরভয়ে কাগ করছে , জামায়াত বিরোধিতা অসুখের মতো হয়ে যাচ্ছে না খানিকটা।

তাদের নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ায় অভিনন্দন জানানোর বদলে, ওরা জামায়াতের ভোট ব্যাংক হতে পারে এই সংকীর্নতায় তাদের এই অর্জনকে প্রশ্ন করা।
৬. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: আপনি আমার উপরের মন্তব্যটি ভাল করে পড়লেই আপনার উওর পেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।
৭. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৭:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: অপ বাক ভাই 99.9% রাইট। তবে এটাও ঠিক... তারা ভোটাধিকার পেলে জামাত ছাড়া কাউকে ভোট দিবে বলে আমার মনে হয় না...।

আমাদের কয়েক ব্লক দূরেই বিহারী ক্যাম্প, এখনো বিজয় দিবসে সেখানে পাতাকা ওড়ে, দুটোই পাশাপাশি- বাংলাদেশ+পাকিস্থান।

তবে আশার কথা নতুন প্রজন্মের কিছু সংখ্যাক কিশোররা রাত জেগে বিজয় দিবসে তাদের কলোনীতে বাংলাদেশের পাতাকা সাজায়, বাংলার দেশাত্মবোধক গান শুনে...
৮. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
comment by: ভূত বলেছেন: অপ বাকের সাথে একমত। বিহারীসহ সকল নিগৃহীতদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা উচিৎ। এব্যপারে কারো দ্্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই।
৯. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ২:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: 16ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পরও দেড় মাস সেখানে পাকিস্তানের পতাকা উড়েছে। সেখানে বিহারীদের সাথে গুলাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আমাদের মেধাবী পরিচালক জহির রায়হান। জানুয়ারি মাসের 30 বা 31 তারিখে। বিহারীরা কখনো এদেশের নাগরিক হতে চায়নি। নিশ্চিত ভোটব্যাংক মনে করেই তাদেরকে এখন নতুন আশা দেখাচ্ছে জোট সরকার। তাদের নেতারা অবশ্য এর পক্ষে নয়।
কিন্তুহীরক বা আড্ডাবাজ কোথায় বললো যে উদর্ুভাষী লোক বাংলাদেশের শত্রু?
১০. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ২:০২
comment by: অপ বাক বলেছেন: আপনি যে জায়গার কথা রেফার করছেন সেটা মোহাম্মদপুর নয় সেটা মিরপুর ছিলো। জেনেভা ক্যাম্প শরনার্থি শিবির বিহারি কলোনি নয়।
আর হী রক এবং আড্ডার মন্তব্য দেখতে হবে হাসানের ওখানে।

আর অন্য পাকিস্তানি পতাকার প্রেক্ষিতে বলি, বাংলাদেশের সোনার ছেলেরাও মিনি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পতাকা হাতে নর্তন কূদন করেছে স্টেডিয়ামে, আর কিছু বঙ্গললনা শেরাটনে ম্যারি মি আফ্রিদি লিখে লোক হাসিয়েছিলো, বড়ই লজ্জার তবে সত্য
১১. ১০ ই জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৬
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: অপবাক, আমি আপনার সাথে একমত। যারা জন্মেই বাংলাদেশ দেখেছে, তাদের যদি আমরা বাপ দাদার কারণে অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য করি আর তারপর বলি যে ওরা এই দেশ ভালোবাসে না- তাহলে এই টা তো আমাদেরই কূট কৌশল। 30-35 বছর কারাগারে থাকলেই কেউ জেলারকে ভালবাসতে শুরু করে?
আমার পরিবারের বাবা, মা, চাচা, ফুপা, মামা, খালা- সকলেই মুক্তিযোদধা। কিন্তু আমি এটাও তো অস্বীকার করতে পারি না যে , আজকে, এই টিকে থাকার যুগে আমার দূর আত্ম ীয়দের অনেকেই বিভ্রান্ত, বিপথগামী। জামাত আমাদের মাথার উপর নেচে বেড়াচ্ছে আজকে সেকি জেনেভা ক্যাম্পের ভোটে?
"জন্ম হোক যথা তথা , কর্ম হোক ভালো" - এইভাবে কি শুরু করা যায় না? প্রথমেই ভোটের অধিকার দিতে যে রাষ্ট্র ীয় সাংগঠনিক শক্তি দরকার, যে মনিটরিং ক্ষমতা দরকার তা হয়তো আমাদের নেই। রাজনৈতিক ভরসা নিয়ে যখন ভয় আছে তখন মানবিক অধিকার দিয়েই না হয় শুরু হোক। শিক্ষা, দীক্ষা , কাজে কর্মে ওদেরকে প্রমাণের সুযোগ দিন। সামাজিক কারাগারে বন্দ ী না রেখে অন্তত সুযোগ দিন বদলানোর।
আমি নিশ্চিত যে, সুযোগ পেলে রাজনৈতিক অধিকার পাওয়া গোলাম আজম আর দেশরক্ষার দায়িত্ব পাওয়া তার সৈনিক ছেলের থেকে বড় ক্ষতি এই অবানছিত , অব হেলিত , বিভ্রান্তির পরিক্রমায় আবদ্ধ মানুষগুলো করতে পারবে না।
আমাদেরকে বুঝতে হবে যে এরা কোনদিনই পাকিস্তানে যেতে পারবে না। পাকপ্রেমি দের অনেকেই এখন মৃত বা বৃদ্ধ। দ্্বিতীয় প্রজন্মের বেশির ভাগ ই আবেগ হীন, বাস্তব চেতনা সম্পন্ন । কিন্তু শেকড় হীন, সম্মান হীন, অধিকার হীন জীবন কখনো মানুষের জন্ম দেয় না। আমরা আর কতদিন মানবেতরের জন্ম দিয়ে যাব?
১২. ১০ ই জুন, ২০০৬ সকাল ১১:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: শুধু বিহারীদেরকেই না, আমরা আমাদের দেশের 'উপজাতি' (এই শব্দটা যদিও আমি ব্যাবহার করতে ঘৃণা বোধ করি) দেরকেও অনেক বাজেভাবে ট্রিট করি ...আমরা বাংলা ভাষা বলে মাথা ফাটাই কিন্তু পাহাড়ীদের ভাষা, অধিকার এসব ব্যাপারে উদাসীন ...
আমাদের শিক্ষার মান খুবই নীচু ... আমি লজ্জিত বোধ করি।

 



 


তবু ও মানুষ কাঁদে
অধিকার চায় একটি শিশুর
তবুও মানুষ বাঁচে
কার হাতে অধিকার
মানুষ না যীশুর............

অধিকার সবার চাই, মতপ্রকাশের অধিকার নামান্তরে মতদ্্বৈত্বতার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৮০৬১৯