আমার প্রিয় পোস্ট

একজন গ্যালিলিও ও ধর্মের মৃতু্য

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৯:১৬

শেয়ারঃ
0 0 0

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে মানুষের বসবাসের জন্য, এত এত গ্রহ নক্ষত্র, পৃথিবীর সব জীব বৈচিত্র সবই মানুষের জন্য, পৃথিবী মহাবিশ্বের গুরুত্বপূর্ন একটা জোতিষ্ক। এই দার্শনিক মতবাদের উপর ভিত্তি করেই প্রধান প্রচলিত ধর্মগুলো জন্ম নিয়েছে। এই দর্শনের নাম পৃথিবীকেন্দ্রিকতা। মানুষকে মহাবিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে বিশিষ্ট অবস্থান দিয়েছে এ মতবাদ। আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের প্রাধান্য লুণ্ঠিত হলে ধর্ম অসার হয়ে যাবে এই ধারনাটা গ্যালিলিওর সাথে চার্চের বিরোধের একটা প্রধান কারন।
ধারনাটা অন্ধ হলেও এর যুক্তিগুলো দেখা যাক বিচার করে।

পৃথিবী অন্যতম বিশিষ্ট একটা জোতিষ্ক, মহাবিশ্ব আবর্তিত হচ্ছে এই পৃথিবীকে কেন্দ্র করে, সূর্য্য চন্দ্র, সবই আবর্তিত হয় পৃথিবীকে কেন্দ্র করে , এই হলো সার কথা এ দর্শনের। এখানে এই পরিবেশে পরিপুষ্ঠ মানবপ্রজাতি মহাবিশ্বের অহংকার। এদের জন্য ইশ্বর ধর্ম তৈরি করে পাঠিয়েছেন। তাই হাজার হাজার নবী রাসুল এসেছেন। মানুষকে পথ দেখাতে।
যা বলতে চাইছি তার সারাংশ এমন যে, মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত, সে বাস করে পৃথিবীতে , এখানেই হাজর হাজর নবী রসুল জন্মেছেন , ইশ্বরের বিশেষ কৃপা আছে এই গ্রহের উপরে, এজন্যই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। তাওরাত ইঞ্জিল , কোরান সবখানেই এ ধারনাটা দেওয়ার চেষ্টা।
চার্চ বাইবেলের ধারক ও বাহক, ওদের গাত্রদাহের কারন গ্যালিলিওর আবিষ্কার।
কিন্তু মুসলিমদের কিছুই যায় আসে না, শুধু প্রচলিত ধারনাটা বলি এতে এই দর্শনের গুরুত্ব মুসলিম সমাজে কতটা তা অনুভুত হবে।
মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে এজন্য যে মোহাম্মদ জন্ম নিবেন, তাকে পৃথিবীতে পাঠাবেন বলেই এত আয়োজন। এই ধারনাটা যদি ভ্রান্ত প্রমানিত হয় তবে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ধুলিস্যাৎ হবে। কিন্তু ভ্রান্তেরা বিজ্ঞানের পথ অনুসরন করবে না। যদি এটা প্রমানিত হয় যে পৃথিবী খুবই সাধারন মানের একটা গ্রহ, কোনো ঐশরিক বিবেচনায় এটা শ্রেষ্ঠ নয়, এটা মানুষের মুর্খতা যে তারা নিজেদের অধিক প্রাধান্য দিয়েছে। অহেতুক নিজেদের বৈশিষ্ঠমন্ডিত ভাবছে। তবে তারা ধর্মিয় হানাহানির পথ ছেড়ে চলে আসবে এটা ভাবা বোকামি।

প্রারম্ভিকা ছেড়ে আসল কথায় আসি। মহাবিশ্বের নক্ষত্র সংখ্যাটা আনুমানিক 1 এর পরে 22টা শুন্য দিলে যত হবে ততটা। এর বেশীও হতে পারে। এর প্রতি 1 কোটিতে 1টাতে যদি সৌরজগত ধাঁচের কিছু থাকে তবে সে সংখ্যাটা হবে 1 এর পরে 15টা শুন্য দিলে যত হবে তত। যদি সৌরজগত সহ নক্ষত্রগুলোর প্রতি লাখে একটাতে জীবনের উদ্ভব হয় সে সংখ্যাটা হবে 1 00মিলিয়ন। এর 1000 এ যদি মানুষের মতো প্রানি পাওয়া যায় তবে প্রায় 100000 গ্রহ বিদ্যমান যেখানে মানুষের মতো সভ্যতা থাকতে পারে। নিতান্তই সংখ্যাতাত্তি্বক হিসেব।
গ্যালিলিও যা প্রমান করেছিলো তা হলো, মহাবিশ্বের সবকিছুই পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় না। তার ঘরে বানানো টেলিস্কোপে সে দেখেছিলো বৃহস্পতির উপগ্রহগুলো বৃহস্পতিকে ঘিরে আবর্তিত হয়। তৎকালিন চার্চের প্রানে বড় করূন হয়ে বাজলো এ সুর। তাদের পৃথিবীকে ঘিরে মহাবিশ্ব আবর্তিত হওয়ার ধারনা গেলো ধ্বসে। গ্যালিলিওর বিচার হলো। সমাজের কাছে মানুষের পরাজয় হলো। কিন্তু এর পর কোপার্নিকাস কেপলার দেখালেন সূর্য্যকে কেন্দ্র করে গ্রহসমুহ আবর্তিত হচ্ছে এমনটা দেখালে গ্রহসমুহের উদ্ভট কক্ষপথের সুন্দর একটা ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব। সভ্যতার শুরু থেকে পৃথিবীর উপর যে চাপটা ছিলো সেটা কমে গেলো। ওটা এখন সূর্য্যকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া সাধারন মানের একটা গ্রহ। তবে মানুষ নতুন আশায় বুক বাধলো। পৃথিবী শ্রেষ্ঠ না হলে কি হবে সূর্য মহাবিশ্বের মুল আকর্ষন। একটা নতুন দর্শন প্রসারিত হলো। হেলিওসেন্ট্রিক মতবাদ। বেশ পরিপুষ্ঠ হলো সেটা। ধর্ম তখনও বগল বাজাচ্ছিল, সুর্য্য দেব আছেন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্ব চুরি করে সুর্য্য দেব আছেন আকাশে প্রজ্জ্বলিত। 1900 সালের দিকে কিছু নাসারা ইহুদি এটাতেও আঘাত দিলো। তারা কিভাবে কিভাবে টেলিস্কোপে আকাশ দেখে বুঝে নিলেন সূর্য একটা গ্যালাক্সির কোনার দিকে পরে থাকা সাধারন মানের তারা। এমন কি নিজ গ্যালাক্সির কেন্দ্রও নয় সূর্য। এর পর আরও জটিল প্রশ্ন এলো, তাহলে আমাদের গ্যালাক্সিই শ্রেষ্ঠ, মহাবিশ্ব এ গ্যালাক্সিকে ঘিরে আবর্তিত হয়, হমম না সত্যি নয় এ ধারনাও। মহাবিশ্বে গ্যালাক্সির সংখ্যা আনুমানিক 1 ট্রিলিয়ন। মানে 1এর পর 12টা শুন্য বসালে যা হবে তাই। প্রতিটাতে আনুমানিক 1 থেকে 100 বিলিয়ন নক্ষত্র। যাই হোক সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো যে মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই। আমরাও বিশিষ্ট কেউ না তবে আনন্দের কথা কেউই বিশিষ্ঠ না।
সৃষ্টিতত্ত্ব অনুসারে নক্ষত্রগুলো স্থির। সাত আসমানের শামিয়ানায় চুমকির মতো লাগিয়ে দেওয়া । সেখানে মিটমিট করে জ্বলছে বেচারারা। কিন্তু যেহেতু তারা চুমকির মতও বসিয়ে দেওয়া তাই তাদের মধ্যের ব্যাবধান স্থির। তারা একে অন্যের কাছথেকে দুরে সরে যায় না।
আন্নস্টাইন 1916তে যখন জেনারেল রিলেটিভিটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন, তার কিছুদিন পরে একটা সমাধানে বের হয় মহাবিশ্ব বিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুসারে প্রসারিত হচ্ছে। আইনস্টাইনের পছন্দ হয় নি এ সমাধান। তিনি একটা ধ্রুবক আনলেন যার কাজ হবে এই প্রসারনের বিপরীতে কাজ করা। 1953তে আইনস্টাইন মেনে নেন এই মহাবিশ্বিয় ধ্রুবক তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। এর আগে 1930এ হাবল পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষন করে বললেন মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে।

অথর্্যাৎ আকাশের গায়ে চুমকির মতো লেগে থাকা তারাগুলো স্থির নয়, তারাও গতিশীল। এটার যে প্রমানটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগে সেটা জানাই।

রাতের আকাশ অন্ধকার এটাই সবচেয়ে বড় প্রমান পৃথিবি প্রসারিত হচ্ছে। এ ধারনা উনবিংশ শতাব্দির. তবে প্রমানিত হয়েছে 1930 সালে।
কেমন??
ধরেন মহাবিশ্ব স্থির। পৃথিবীর চারপাশে প্রায় কোটি কোটি কোটি তারা , তাদের সব আলো সব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, এই আলো গুলোর একটা অংশ পৃথিবির দিকে আসবে( কারন মোমবাতি ঘরে থাকলে সব দিকেই আলো যায়) যদি সবগুলো নক্ষত্রের সামান্য সামান্য আলো পৃথিবির দিকে আসে তবে রাতের আকাশ অনেক উজ্জল হওয়ার কথা। রাত দিনের মতো আলোময় হওয়ার কথা। সেটা হচ্ছে না বিধায় এটা প্রামনিত হয় নক্ষত্রগুলো পরস্পর থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। যুক্তি যাদের পছন্দ হয় নি তাদের জন্য, আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় 3 লক্ষ কিলোমিটার। তাই মহাবিশ্ব যত বড়ই হোক না কেনো এক দিন না একদিন নক্ষত্রের আলো পৃথিবিতে পৌছাবেই। মহাবিশ্বের সৃষ্টি প্রায় 1200 কোটি বছর আগে, সুতরাং এত দিনে রাতে চলাফেরার জন্য আমাদের বাতি বা চাঁদের উপর ভরসা না করলেও হতো। নক্ষত্রের আলোয় পথ চলতাম আমরা।
ধর্মের কি গেলো কি আসলো এই বৈজ্ঞানিক আবিস্কারে? কিছুই না । আবার সবকিছুই। পৃথিবীর জন্য এ মহাবিশ্বের জন্ম না এটা প্রমানিত হলো। পৃথিবী যদি গুরুত্বপুর্ন না হয় পৃথিবীর মানুষও গুরুত্বপুর্ন কিছু না, তাদের দেখাশোনা করার জন্য যে নবী রসুলগন এসেছেন তারাও আসলে কোনো কেষ্টু বিষ্টু না। সাধারন মানুষ। তাদের কথা চিন্তা করে ইশ্বর এত কিছু করেন নি।
ইশ্বর আছে? উত্তর অমীমাংসিত। মহাবিশ্বের সূচনার পর থেকে এর বর্তমান পর্যন্ত ঘটনাবলি নিয়ন্ত্রনের জন্য ইশ্বরের কোনো ভুমিকা নেই। ইশ্বর মহাবিশ্বের জন্মের পর এর উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়েছেন। সূচনা আগে কেউ ছিলেন কি না এটা প্রমান করা সম্ভব নয়। তাহলে এই যুক্তিতে আসলে গত 5000 বছর ধরে আরব উপদ্্বীপে এত এত নবি রসুল এবং ধর্মগ্রন্থ প্রেরন করার ক্ষমতা ইশ্বরের নেই। তাহলে কেনো ইশ্বরের বানী হিসেবে প্রমান করার চেষ্টা চলছে বাইবেল তাওরাত কোরান কে? কেনো বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের সংঘাত? উত্তর গ্যালিলিওর বিচার। এটাই ধর্মের উপর মরন আঘাতের মতো। তবে নির্বোধের সংখ্যা সব সময় বেশী। তাই নবী রসুল এত কম।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: দিনলিপি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৫:০২
অতিথি বলেছেন: না লিখে পারলাম না। আপনি নক্ষত্রের আলোতে পথ চলার কথা বলেছেন। মহাবিশ্বের জন্মের 1200 কোটি বছর পাড় হয়ে গেলেও বহুদুরের তারা গুলোর আলো কেন এসে পৌছাচ্ছেনা আমাদের এই ধরাতে, আর কেনইবা রাতের অন্ধকার কাটছেনা, কেন আমাদের অন্ধের একমাত্র যষ্ঠি চাদের উপর এত ভরসা করতে হয়... আপনার কথাগুলো শুনে আপনার বিচরণের ক্ষেত্র যে বিশাল এতে কোন সন্দেহ নেই আমার। শুধু একটু মিলিয়ে নেয়া আরকি। আমার মুর্খতা ক্ষমা করবেন আশা করি।

পদার্থবিদ্দার (বানানের কারনে দুঃখিত) সুত্র মতে আমরা তখন ই কোন বস্তুকে দেখি যখন তার থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে। এখন কথা হল, সুদূরের নক্ষত্রগুলো থেকে আলো যদি নাই আসে তাহলে আমরা নক্ষত্র গুলোর অবস্থান উপলব্ধি করছি কি করে? মহাবিশ্ব প্রসারণশীল, এটা প্রমানিত কিন্ত এর স্বপক্ষে আপনার যুক্তিটাই গ্রহন করতে পারছিনা, আমাকে মাফ করবেন। আরো একটা কথা আপনাকে বলি, কোন রেফারেন্স দেবার আগে একটু ভালো করে জেনে নিয়ে দিলে ভালো হয়। যেমন, চার্চের কথা বললেন আপনি, এটাতো নিশ্চয় জানেন, চার্চীয় বাইবেল, আসল বাইবেল এর পরিবর্ধিত রুপ। 'চার্চের রাজনীতি' কি করে প্রক্রিত ঘটনা আড়াল করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখছে, এটাও জানেন আশা করছি। গালেলিও-র কথা তখন অনায়াসে মেনে নিলে তাদের আজকের পরাক্রমশালী সাম্রাজ্জ থাকতোনা, চার্চীয় বেবসা-তে ভাটা পরতো তাদের। তারা ধর্মীয় কোন কারনে যে সেদিন গালেলিও সহ আরো অনেকের যুক্তি মেনে নিতে পারেনি তা খানিকটা হলেও পরিস্কার কি এখন আপনার কাছে?

আরেকটা জিনিষ, আপনি ধর্ম সম্পর্কে কত টুকু জানেন আমি জানি না। তবে, আমি যা বুঝতে পারি তাহল, ধর্ম সম্পর্কে আমাদের 'মিস-ইন্টারপ্রিটেশন'। ঈশ্বর এর একটা আকার দেবার আগে 'ঈশ্বর নিরাকার' -ধর্ম ীয় এই মতবাদের খানিকটা তোয়াককা করে দেখুন না, 'স্ট্রিং থিওরী' অনুযায়ী সবকিছুর মূলে কম্পনরত যে ক্ষুদ্্রাতি ক্ষুদ্্র কণা আছে, তাদের কম্পনের কারন কি নিজেদের স্বতস্ফুর্ততা নাকি প্রাক্রিতিক কোন কারন... আর এই প্রক্রিতি ই কি আকার বিহীন 'ঈশ্বর'?

(আমার এই লিখা কাউকে আঘাত করার লাগি নয়, আর বানানের কারনে তো আগেই ক্ষমা চেয়েছি...)
২. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০২
অপ বাক বলেছেন: গোধুলি ভাই স্ট্রিং থিওরির কথা বললেন ভালো লাগলো জেনে, কিন্তু আপনি কি স্ট্রিং থিওরি পড়েছেন? মানে এমনি বাংলায় লেখা প্রবন্ধ ছাড়া থিওরির বিষয়বস্তুকি পড়েছেন?
স্ট্রিং থিওরির আলোকে কিছু লেখার আগে সেসব ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করা ভালো।
আর যুক্তিটা বুঝতে পারেন নি এর সারল্য চিন্তা করে। ধরেন আলোর গতিবেগ 3 লক্ষ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে এটা তো মানেন, আপনি একটা ফুটবল কল্পনা করতে পারেন, সেখান থেকে একটা নির্দিষ্ট দিকে আলো যাচ্ছে, সব দিকেই যাচ্ছে যদিও কিন্তু মহাবিশ্বের বিশালতায় পৃথিবীর দিকে আসা আলো কনিকার সংখ্যা অনেক কম। অংকের হিসাবে বলি, ধরেন সূর্য প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার কোটি আলোক কনিকা ছাড়লো, আমরা যত দুরে যাবো সেই ক্ষেত্রফল বাড়বে দুরত্বের বর্গ হিসেবে। যেহেতু সূর্য সীমিত আলো উৎপন্ন করছে, আমরা যত দুরে থাকবো সূর্যের আলো পাওয়ার হার তত কম হবে। কিন্তু আমরা সূর্যের আলোর কিয়দংশ পাবোই।
এখন মহাবিশ্ব যদি প্রসারিত না হয় তবে সব নক্ষত্রের কিছু কিছু আলো আমরা পাবো। এরকম অল্প অল্প আলো মিলে অনেক আলো হবে। আপনি নিশ্চই এটা জানেন যে সূর্য প্রতি নিয়তই আলো বিচ্ছুরন করছে। তাই পৃথিবীকে একটা গোলক ধরে তার চার পাশের সমস্ত জায়গা নিলে মহাবিশ্বের সমস্ত তারার আলোর কিছু কিছুঅংশ আমরা পাবো। দৃশ্যটা বদলাবে যদি মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়। তাহলে দউরের তারাগুলোর আলো পৃথিবীতে পৌছাতে সময় লাগবে বেশি। কিন্তু যদি প্রসারনের হার এমন হয় যে প্রসারন গতইবেগ আলোর গতিবেগের সমান তাহলে সে আলোগুলো কখনই মাঝের দুরত্ব অতিক্রম করে আসতে পারবে না।
আর স্ট্রিং থিওরির দুর্বলতা সেটা কখনই গানিতিক হিসেবের বাইরে যেতে পারছে না, কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে, কিছু নিজস্ব স্ব বিরোধিতা। এটার বিষয়ে লিখতে গেলে অনেক বড় গানিতিক পরিসর দরকার। এখানে তা নেই আপাতত/
৩. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০২
অপ বাক বলেছেন: যেসব নক্ষত্রের আলো পৃথিবিতে আসছে সব ধরেই অনুমানটা করা হয়েছে। 1 এর পরে 22টা শুন্য সংখ্যাটা অনেক অনেক বড়। যত দিন যাবে তত বেশী নক্ষত্র দেখা যাবে এমন না। কারন কিছু কিছু নক্ষত্র এত দুরে যে তার থেকে 1টা আলোক কনিকা আমরা পাই। কিন্তু টেলেস্কোপে যা ধরা পড়ে সেটাকে গ্রহনযোগ্য নক্ষত্র বলতে নুন্যতম কিছু আলোক কনিকা পেতে হয়। টেলেস্কোপের লেন্সের ক্ষেত্র ফল যদি 1 ধরি পৃথিবীর ক্ষেত্রফল সেহিসাবে 10000000000000 হবে। আলোর পরিমান বাড়বে।
যদিও জানি না আপনার কৌতুহল নিবৃত হলো কি না। আপনি অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এর কিংবা কসমোলজির পাঠ্যবই ঘাটলে ভালোভাবে জানতে পারবেন আসলে কি বলতে চাইছি আমি।
৪. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৮:০২
অতিথি বলেছেন: ভাইজান, আমি আগেই বলেছি মহাবিশ্ব সমপ্রসারণশীল, এটা প্রমানিত সত্য। আপনি শুধু যে যুক্তিটা দিলেন সেটা মেনে নিতে পারি নি, তাই বলে আপনার কথা মিথ্যা, এটাও বলিনি। আর স্ট্রিং থিওরী-র উপর বাংলায় হালনাগাদ কিছু বের হয়েছে, এটা আমি জানতাম না। যাহোক, এই ব্যাপারে আমার জ্ঞান ও যথেস্ট নেই। যতোটুকু জেনেছি তা অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বা কসমোলজির কল্যানেই জানা। বন ইউনিভার্সিটির আয়োজনে কিছু মাস আগে একটা আন্তর্জাতিক কনফারেনস হয়েছিল িস্ট্রং থিওরী-র উপর, আমি ও একজন শ্রোতা ছিলাম ভাগ্যক্রমে সেখানে ।

তবে আমার দৌড় যতদুর ই থাকুক তা আপনার চেয়ে সন্দেহাতিত ভাবে কম। আমি সাধারনত এই সব ব্যাপার নিয়ে কারো সাথে কথা বলি না। চার্চ ব্যবসা নিয়ে বললাম, কারন ধর্মের পিছনে ভন্ডামী টা আমার চোখে লাগে। আর িস্ট্রং থিওরী-র কথা বলতে গেলে ওটা সাধারণ একটা উপমা, গানিতিক জটিলতার মধ্যে ইশ্বর কে ঠেলে দেয়া না। মনে হয় আপনি আমার সহজ উপমাটার উপর গণিতের কয়েক টন ওজনের বাটখারা চেপে ধরতে চাইছেন।

পরিশেষে বলছি, আমার কথা গুলো একটু গভীরতায় চিন্তা করলেই হবে। কারন, কথাগুলো খুব হালকা মনেহলেও হয়তোবা অতটা হালকা ভাবার কোন কারন নেই, তবে হ্যা যুক্তি হয়তো দেয়া যাবে ভুড়ি ভুড়ি, কিন্ত ঐ যে বললাম এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে চাইনা কারো সাথেই, এখানেতো নয়ই (যদিও ইশ্বর বাদের কথাটা আমি ই টেনেছি, সেটাও কেবল কথা প্রসংগেই। আর বলাই বাহুল্য, িস্ট্রং থিওরী-র 'কনফিউশন এর কথা আমার ও অজানা নয়... এতো ক্ষুদ্র পরিসরে এর চেয়ে সহজ করে আর কী বলতে পারতাম বলেন দেখি)

ভালো থাকেন...
৫. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
ভূত বলেছেন: অপ বাক, বিজ্ঞানই কিন্তু প্রমান করেছে যে পৃথিবী মোটেই সাধারণ একটি গ্রহ নয়। আপনি উল্টোটা বলছেন কেন বুঝলাম না। প্রাণের অস্তিত্ব, অক্সিজেন এবং পানির সহজলভ্যতা, উষ্ণতা এবং আদর্্রতার সহনীয়তা ইত্যাদি বিচারে পৃথিবীর কাছাকাছি কোনো গ্রহ এখনো দেখিনি আমরা।

থাকলোই বা (সৃষ্টিকর্তাতো বলেন নি যে পৃথিবী ছাড়া বসবাসযোগ্য আর কোন গ্রহ মহাবিশ্বে নেই)! তাতেই কি ধর্মের মৃতু্য হয়েছে বলা যাবে? পৃথিবীর মানুষের কাছে সৃষ্টিকর্তা যেভাবে নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন সেভাবে অন্যান্য গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীদের জন্যেও পথপ্রদর্শক প্রেরণ করতে তো সৃষ্টিকর্তার কোন সমস্যা হবার কথা নয়! কেন তাঁর ক্ষমতাকে একটা ছকে ফেলে বিচার করতে চাইছেন?

মানুষ অবশ্যই সৃষ্টির সেরা জীব। এ উপাধি স্বয়ং আল্লাহতা'লা আমাদের দিয়েছেন। মানুষের কাছ থেকে এটা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা একটা ভ্রান্ত চেষ্টা বলেই বিবেচিত হবে।

যাকগে, অপ বাকের সুবিধার জন্য ধরলাম অন্য গ্রহে মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী আছে। থাকতেই পারে। অসম্ভব কিছু না। এবং তাদের ভেতর পৃথিবীর মানুষের মতো আবার "নির্বোধের সংখ্যাই বেশী" নয়, বুদ্ধিমানের সংখ্যাই বেশী :-) কিন্তু যদি দেখা যায় উনারা আমাদের চেয়েও বেশী ধার্মিক! সবাই পকেটে একটা ধর্মগ্রন্থ নিয়ে চলাফেরা করে! ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সুবিধার জন্য তারা সংবিধানটাকেও একটা সেকেন্ডারি ধর্মগ্রন্থ বনিয়ে ফেলেছে! সেটাওতো অসম্ভব নয়! না কি অপ বাক মনে করেন বুদ্ধিমান হলে ধার্মিক হওয়া যায়না, স্রষ্টায় বিশ্বাস করা যায়না, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

কে জানে? সৃষ্টির সেরা আহাম্মকও বোধহয় মানুষ!
৬. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
অপ বাক বলেছেন: গোধুলি ভাই লিংকটা কোথায়?
৭. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
অপ বাক বলেছেন: ভুত ভাই কথাটা অনেকটা ধর্মব্যাবসায়িদের মতো হয়ে গেলো। বিজ্ঞান এটা প্রমান করে নি কখনও যে পৃথিবি খুব বিশিষ্ট একটা গ্রহ বিজ্ঞান প্রমান করেছে পৃথিবিভিত্তিক প্রানীগুলোর বিকাশ এ আবহাওয়া উপযোগি, আরও প্রমান করেছে এর চেয়ে বিরূপ আবহাওয়ায় জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব। হয়তো গঠন ভিন্ন হবে তবে তাদেরও প্রানী বলতে হবে ।
মানুষ নিজেকে গুরুত্বপুর্ন ভাবে বলেই এত সংঘাত, ধর্ম নিজস্ব বিশ্বাস এসবকে উন্নত প্রমানরে প্রয়াস নিয়েই যত রজ্যের যুদ্ধ।
যাই হোক সমস্যাটা বোধ হয় আপনি বুঝেন নি। মহাবিশ্ব তৈরির পর থেকে ইশ্বরের কোনো ভুমিকা নেই মহাবিশ্বের গতিপ্রকৃতির নিয়ন্ত্রন প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটবে। সেটাকে বদলানো কাউকে এসে কিছু দিয়ে যাওয়া এসব কাবিলতি করার ক্ষমতা ইশ্বর খুইয়ে ফেলছে সেই সৃষ্টির পর পরই। তাই নিজস্ব নিয়মের বেড়াজালে আটকে তার পক্ষে সম্ভব না তুর পর্বতে আসা, তার পক্ষে সমভব না মোহাম্মদকে মেরাজে নিয়ে যাওয়া। বিশ্বাসির হৃদয়ে সম্ভব কিন্তু বৈজ্ঞানিক বিচারে সম্ভব নয় এই যা। এটা নিয়ে কথা না বলি আমরা।
আমি যদি ধর্মব্যাবসায়ি হতাম তাহলে অন্য জায়গাটাকে বাছাই করতাম ইশ্বরের অভিপ্রায় আর ক্ষমতার নিদর্শন স্বরূপ।
আর অন্য গ্রহের বিকশিত প্রানের আচরন বা প্রকৃতি পৃথিবীর মানুষের মতো হবে কেনো? তারা মানুষের মতো হবে এমন দায় তো তাদের নেই ঠিক না ভুত ভাই?
অবশ্য দানিকেনের মতো বলা যায় পৃথিবীতে মানুষের উদ্ভব ভীংরহের প্রানীর হাতে, তারাই ভগবান, এদেরই প্রাচীন মানুষ দেবতা জ্ঞান করতো, এরাই সব ধর্মের প্রেরিত পুরুষ। এটা মেনে নিতে পারবেন না, যদিও এটা একটা গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে।
৮. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৯:০২
অতিথি বলেছেন: বড়ভাই, স্ট্রিং থিওরী সম্পর্কে আরো জানতে হলে একটু কস্ট করে আমার দেয়া ঠিকানাটা একটু সার্ফ করে দেখবেন।

ভূত ভাই, আপনিও ঠিক, অপবাক ও ঠিক... শুধু পয়েন্ট অফ ভিউ আলাদা।
৯. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:০২
ভূত বলেছেন: অপ বাক, আগে নিজের ভাবনাগুলো ঠিক করেন। যার অস্তিত্বই নাই তার আবার ক্ষমতা কী? যার ক্ষমতাই নাই তার ক্ষমতা খোয়ানোর প্রশ্ন আসলো কোত্থেকে?

আপনি বললেন যে মহাবিশ্ব তৈরীর পর থেকে ইশ্বর তার ক্ষমতা "খুইয়েছেন"। ভালো কথা। কিন্তু আপনি কিভাবে বিশ্বাস করেন মহাবিশ্ব ইশ্বর তৈরী করেছেন। ওটাতো ধর্মগ্রন্থগুলোর কথা, ধর্ম ব্যবসায়ীদের কথা। না কি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর স্রষ্টার অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে টের পাওয়া গ্যাছে?

স্রষ্টার পক্ষে কি করা সম্ভব আর কি করা সম্ভব না এটাও কি বিজ্ঞানের আলোচনার গণ্ডির ভেতর পরে? যদি না পরে, তাহলে আপনার এতদসংক্রান্ত লেখাগুলো কি আপনার মতামতেরই প্রতিফলন নয়? তাইলে অযথা আমারে গাইল পারেন ক্যান? আপনে নিজেও কি ধর্মব্যবসায়ী নন (আপনার মতামত প্রচার করতেছেন, বিজ্ঞান দিয়ে এর যৌক্তিকতা প্রমানের চেষ্টা করতেছেন, সেই অর্থে)?
১০. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১:০২
অপ বাক বলেছেন: ভুত ভাই আপনেরে আমি শ্রদ্ধা করি। সেজন্যই বলছিলাম আপনের কথা কেমন ধর্ম ব্যাবসায়ির মতো লাগে। আপনি একটা স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করছেন, সেই যুক্তিবাদি আপনাকে দেখলাম না এই মন্তব্যে।
আর যা প্রমান করা যাবে না তা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কি লাভ বলেন? আপনার একটা ধন্যবাদ পাওনা আছে, আপনি পড়েন বিধায় আমাকে বেশ কষ্ট করে হলেও ইসলাম নিয়ে কিছু লেখার আগে হোমওয়ার্ক করতে হচ্ছে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১০৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তবু ও মানুষ কাঁদে
অধিকার চায় একটি শিশুর
তবুও মানুষ বাঁচে
কার হাতে অধিকার
মানুষ না যীশুর............

অধিকার সবার চাই, মতপ্রকাশের অধিকার নামান্তরে মতদ্্বৈত্বতার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ