somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণমাধ্যমের ভুমিকা ৩

১৪ ই জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমাজের দর্পণ বলে বিবেচিত সংবাদপত্র কেনো তার নিজস্বদায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলো- গত ১৫ বছরে তথ্যস্বাধীনতার সুযোগ পেয়েও কেনো তারা দায়িত্বশীলতা শিখলো না এসব প্রশ্নের উত্তর আসলে সংবাদপত্র কর্মীদের দিতে হবে-
দুঃখজনক সত্য হলো চা চক্ট আর সুশীল আলোচনার ভেতরেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে তথ্যের উপরে পর্দারোপ এবং তথ্য তছরূপের একটা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে-

কেনো এই বাস্তবতার জন্ম হলো এই সংক্রান্ত আলোচনা হতেই পারে- গণমাধ্যম কেনো তার যথাযোগ্য ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে- কেনো আমাদের সাংবাদিকতার সাথে জড়িত মানুষদের সাংস্কৃতিক বোধ আর সংস্কৃতি চর্চার মাণ ছুটা কাজের বুয়া পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকলো( যদিও ছুটা কাজের বুয়ারা অপমানিত বোধ করতে পারে আমার কথায়) ছুটা কাজের বুয়ারা যেভাবে চলমান আঞ্চলিক এবং পারিবারিক সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ সঞ্চালকের চুমিকা পালন করে আমাদের সাংবাদিকেরাও একই মানের সংবাদ জাতীয় পর্যায়ে সঞ্চালন করে-
রুচিহীনতা- কদর্যতা- বিকৃতি, নষ্টামিতে তাদের সহজাত পারদর্শীতা বিষয়টা কেনো ঘটে আমি জানি না।

"বনের রাজা " ওসমান গনি শব্দটাতে একটা কৌতুক উপাদান থাকলেও এসব ভাড়ামির চেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয় এই অপরাধীকে অমানবিক প্রমাণের চেষ্টায় যখন সাংবাদিকেরাও অমানিক রুচিহীনতায় মগ্ন হয়ে যায়-

ওসমান গণির মা এবং বোনেরা থাকে কুমিল্লায়- সংবাদ মাধ্যমের সামনে টাদের নিঃস্ব এবং মানসিক প্রতিবন্ধি হিসেবে তুলে ধরা এবং তাদের দিয়ে একটা মূল্যায়ন- অপরাধীকে কেউ প্রশ্রয় দেয় না- তবে এটা বারংবার প্রচার করা যে কদর্যতা এটা বুঝবার কোনো বোধ হয় নি সাংবাদিকদের।
মানলাম ওসমান গণি লোকটা পাষন্ড, পিশাচ, নরাধম, যাবতীয় নঞ্চর্থক বিশেষণে তাকে বিশেষায়িত করা যায়- তবে তাকে মানবতার শত্রু প্রমাণ করবার চেষ্টায় যখন সাংবাদিকেরা শালীনতার এবং মানবিকতার লঙ্ঘন করেন তখন সে কদর্যতা ক্ষমাহীন হয়ে যায়।

জলিল বাবার এদের আটক করবার পর রিমান্ডে তাদের স্বীকারোক্তি প্রচার মাধ্যমে এসেছে- দৈনিকের পাতায় এসব পড়ে বিবমিষা জেগেছে- আমাদের দৈনিকগুলোর সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের রুচিহীনতার জলন্ত দলিল এসব প্রতিবেদন-
আমার দেশে সাংবাদিকের করা প্রতিবেদনে এসেছে- এর পর বাবর কথা বলতে ইতস্তত করলে তাকে ভয় দেখানো হয় বাতি নিভিয়ে দেওয়া হবে- কিংবা এমন কিছু তবে এটা সত্য যে সেখানে বাবরকে বাতি নিভিয়ে দেওয়ার ভীতি দেখানো হয়েছিলো- এর পর ভয়ে তিনি অপরাধের ফিরিস্তি দেন- প্রথম শ্রেনীর পত্রিকা হিসেবে বিবেচিত দৈনিকগুলোর প্রতিবেদনের হালও একই রকম ছিলো-
এখানে একটা প্রত্যক্ষ দর্শী হয়ে উঠার দাবি আছে- রিমান্ডে সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকবার রীতিটা প্রচলিত হলো কবে? যদি সাংবাদিক নিজে উপস্থিত না থাকেন তবে এই রিমান্ডের ভিডিও ফুটেজ তাদের সরবরাহ করে হয়েছে- যদি এটাই সত্য হয় তবে এই কাজটা কি কোনো ভাবে আইনসঙ্গত?

রাজার খরগোশ পাওয়া যাচ্ছিলো না- খরগোশ হারিয়ে চৈতন্যহারা রাজা সেপাই আর কোতোয়ালকে খবর দিলেন- এই খরগোশ ইলোপের একটা যথাযোগ্য বিহিত করবার নির্দেশও জারি হলো- করিৎকর্মা সেপাইরা ধরে নিয়ে আসলো হরিণকে- তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো-
অবশেষে রিমান্ডে হরিণ স্বীকারোক্তি দিলো সেই খরগোশকে খেয়ে ফেলেছে- যদি তাকে সুযোগ দেওয়া হয় সে দেখিয়ে দিবে কোথায় খরগোশের চামড়া আর নাড়িভুড়ি লুকিয়ে রেখেছে সে

এবং ভোরের বেলায় রাজা এসে বললেন তদন্ত করবার প্রয়োজন নেই- আসলে খরগোশ লুকিয়ে ছিলো সিঁড়ির নীচে-

রিমান্ডে যদি তৃণভোজী হরিণ মাংশাসী হয়ে উঠে তবে দায়টা রিমান্ড সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার-
তবে এসব স্বীকারোক্তি ভিত্তিহীন। আদালতে উপস্থাপিত স্বীকারোক্তি অগ্রহনযোগ্য যদি আসমি অভিযোগ করে তাকে দিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে মানসিক উৎপীড়নের মাধ্যমে এই স্বীকারোক্তি গৃহীত হয়েছে-

যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়া যেকোনো তথ্য উপস্থাপন হয়তো কাজের বুয়া সংস্কৃতির চর্চাকারী সনাগবাদিকদের মনে কোনো রকম প্রশ্ন তুলে না, তারা স্কুপ নিউজের প্রত্যাশায় যেকোনো কিছুই ছাপিয়ে দিতে পারেন- তাদের কোনো পেশাগত কিংবা নীতিগত দায়বদ্ধতা নেই- তবে আমাদের সম্পাদকেরা কি করছেন- তাদের তো এসব বিবেচনা করা প্রয়োজন-
নিকৃষ্ট সাংবাদিকতা উদাহরণ তৈরি করা ভিন্ন তারা অন্য কিছু করতে পারছেন না সামরিক কালে এটা রীতিমতো ঘৃন্য একটা বিষয়।

বর্তমান সরকারের নিজস্ব প্রয়োজন আছে- তারা নিজেদের ধারাবাহিক মূল্য নিয়ন্ত্রনের ব্যর্থতা আড়াল করবার জন্য আরও বেশী দুর্নীতিবিরোধি হয়ে উঠবেন- তাদের জনগনকে বিভ্রান্ত করা কিংবা জনগনকে সততার মাদক গেলানো ভিন্ন অন্য কোনো পন্থা হাতে নেই- তবে সেটাকে সামলে রাখার দায়িত্ব গণমাধ্যমের- বরং তাদের উন্মত্ততাকে সমর্থন করাটা হবে ভয়ংকর ভুল সিদ্ধান্ত।

কাউকে শুধুমাত্র বিবেচনার বলে অপরাধী করে ফেলা কিংবা যথেষ্ট প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তাকে অপরাধী ঘোষণা দেওয়াটা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নয়- এমন মানের সাংবাদিকতাকে হলুদ সাংবাদিকতা বলে- আর এর জন্য উপযুক্ত হচ্ছে সিনে পত্রিকা- যেখানে অমুকের সাথে তমুকের রেম পরিণয় সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো যায় তবে জনতার দর্পন বিবেচিত দৈনিকের পাতায় গুজব ছড়ানোটা আসলে এক ধরনের অপসংস্কৃতির চর্চা।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×