নিকৃষ্ট সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রে ভারতবিরোধিতা এবং চালের রাজনীতি
০২ রা এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫
মানুষের তথ্য জানবার প্রক্রিয়াকে সহজসাধ্য করেছে সংবাদপত্র। মানুষ তথ্য জানবার আশায় সংবাদপত্র কিনে। মানুষের এই তথ্য জানবার প্রবনতাই সংবাদশিল্পকে চতুর্থ রাষ্ট্রের মর্যাদা দিয়েছে। তবে সংবাদপতের দায়িত্বশীলতা কিংবা দায়বদ্ধতা নেই। তথ্য ব্যবসায়ী হিসেবে যে ন্যুনতম নৈতিকতাবোধসম্পন্ন আচরণ আশা করা হয় তাদের কাছে , তারা সেটা পুরণে নিয়মিত ভাবেই ব্যর্থ হয়। তথ্য জানার অধিকার নাগরিকের আছে, আর এ কাজে সহায়ক হিসেবে কাজ করে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের এই ভুমিকাটা তার দুঃসংবাদ বিতরণের তুলনায় কম নয় মোটেও।
হলুদ সাংবাদিকতা বিষয়ে আলোচনা করবো না, গুজবকে ছড়িয়ে দিয়ে, মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করে রগরগে খবর প্রকাশ করে মানুষের অসুস্থ আচরণকে উস্কে দেওয়ার কাজটা করবে যেসব গুজবনির্ভর পত্রিকা তাদের কথা আমরা আলোচনা করবো না। আওপরাধি চিত্র, দৈনিক আওপরাধবার্তা, এসব সংবাদপত্র আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। আমার আলোচনা হতে পারে মূল ধারার সংবাদপত্র নিয়ে, সেখানে হলুস সাংবাদিকতার উপকরণ আছে, তারকা সংবাদে তারা এটা পুরণ করে এবং কিছু হলুদ সাংবাদিক হয়তো নিজের রুজি যোগার করে। তবে সংবাদপত্রে নিয়মিত পাতায় গুজবের নমুনআ হিসেবে কাফিরের কুমীর হয়ে যাওয়ার সংবাদ হলুস সাংবাদিকতা নয় বরং নিকৃষ্ট সাংবাদিকতার উদাহরণ হতে পারে বড়জোর।
তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য উপস্থাপনের জন্যে নানা রকম প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত সংবাদপত্রকর্মীর দল, যারা ইন হাউস কাজ করেন, যারা মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং আঞ্চলিক সংবাদদাতা তাদের সবাই আসলে দেশের এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনার ভাষ্য তুলে ধরেন। তাদের এই পেশার প্রতিও যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে আমার, তবে সাম্প্রতিক কালে গণমাধ্যমের নিকৃষ্ট সাংবাদিকতার অনেক নিদর্শন চোখে পড়ছে। তারা অভিজ্ঞ সাংবাদিক, তাদের ঝুলিতে অনেক দিনের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকলেও তাদের আচরণ এবং লেখনী এটা প্রকাশ করে না। তাদের তথ্য পরিবেশনার ধরণকে হলুদ সাংবাদিকতা বলা যাচ্ছে না- হলুদ সাংবাদিকতায় গুজব ছড়ানো এবং এটা দিয়ে মানুষের মোনোরঞ্জনের বিষয়টা থাকে। এখানে নিকৃষ্ট সাংবাদিকতা হচ্ছে অনুমাণের উপরে ভিত্তি করে অনুমাণ দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতাকে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টা সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন আসছে। আমাদের দারিদ্র প্রকট হয়ে উঠছে। আমাদের সঞ্চিতি করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সঞ্চিত সম্পদ আমাদের পুষ্টির চাহিদা পুরণে ব্যয় করে ফেলছি। এ নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ আছে।
দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত খবরের বাজার এবং রাজনৈতিক মূল্য আছে। এমন কি এটার ব্যবসায়িক মূল্যও আছে। তবে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রচারণের ধরণটাকে আমার ভীষণ রকমের আপত্তিকর মনে হয়েছে।
সিডর পরবর্তী সময়ে আমাদের ৫ লক্ষ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবের প্রত্যুত্তরে আমাদের তখনকার উপদেষ্টামন্ডলীর সবাই বলেছিলেন আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে- আমাদের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন নেই।
যদিও আশংকা করা হয়েছিলো তখনই যে দেশে চালের উদ্বৃত্ব অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত এই দক্ষিণ অঞ্চলের সিডরের আঘাত দেশে চালের সংকট সৃষ্টি করবে।
এমন কি তখনও আন্তর্জাতিক বাজারে চালের মূল্য ছিলো ৩৫০ ডলারের কম। তবে সরকার সে সময় এ প্রস্তাবেও সম্মতি দেয় নি এমন কি চাল সংগ্রহের কোনো উদ্যোগ গ্রহন করে নি- এই কান্ডজ্ঞানহীনতার কারণ তাদের উদাসীনতা। হয়তো তাদের অহং বোধ। যেকোনো কারণেই হোক না কেনো তাদের দুরদর্শীতার অভাবে এবং সিডরের পরে দ্বীতিয়দফা বন্যায় আমাদের সমস্ত দেশেই চালের উৎপাদন মারাত্বক ভাবে হ্রাস পায়।
তখনও সময় ছিলো। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের মূল্য তখনও আকাশ ছো্যাঁ হয় নি। তবে সরকারের কোনো তৎপরতা তখনও ছিলো না।
ঘরে আগুন লাগবার পরে সরকার যখন সংগ্রহের কাজ শুরু করলো তখন বিশ্ববাজারে চালের সরবরাহ কমে গেছে।
এবং সবাই কোনো না কোনো ভাবে একটা খাদ্যসংকটের মোকাবেলা করছে। যারা চাল রপ্তানি করতো তারাও চাল রপ্তানি সীমিত করে ফেলেছে। যাদের চাল বেচে জ্বালানী তেল কিনতে হয় তারাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যের সাথে পাল্লা দিতে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এবং ভারতের সাথে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চাল ক্রয় চুক্তি সম্পাদনের কুটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে সরকার।
আসলে আমাদের সংবাদ পত্রের পাতায় এই সময় থেকেই অনুমাণ আর গুজবের প্রচারণা শুরু হলো। ভারতের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয় নি অথচ দেশের কয়েকটা পত্রিকায় ভারতের সাথে চাল আমদানি চুক্তি সাক্ষরিত, টন প্রতি চালের দাম লিখে দেওয়া হলো ৪০০ ডলার।
চালের সরবরাহ আটকে আছে বেনাপোলে। ভারত সরকার চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৫০৫ ডলার। এর কমে তারা চালের চালান খালাস করবে না।
এত দিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতা একটা চমৎকার কৌশলী উপাদান ছিলো তবে সংবাদপত্রের ভুমিকার কারণে এটা রাজনৈতিক পর্যায় থেকে একেবারে গনঘৃনার পর্যায়ে চলে গেছে। এত লাভবান হয়েছে কারা? আমাদের ধর্মের জুজুর ভয় দেখিয়ে যারা মৌলবাদের চাষাবাদ করে তারা একটা উপলক্ষ্য পেয়েছে। এই সুযোগে ভারতবিরোধিতার রাজনীতি করবার সুযোগ এসেছে।
তারা বিধর্মী একটা দেশের এহেন অমানবিক আচরণে বিস্মিত হয়েছে। তারা প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে না তবে তারা খুবই নাখোশ, ভারতের সরকার বেসরকারী পর্যায়ে চাল রপ্তানিতে আগ্রহী নয়।
ভারতের সরকার তাদের দেশ থেকে চাল রপ্তানী করবে না কি করবে না এটা ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত। পাকিস্তানের সরকারও চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে- তবে এ নিয়ে সংবাদপত্রে আলোচনা নেই। সংবাদপত্রে নিয়মিত ছাপা হচ্ছে না পাকিস্তানের সরকার বাসমতি চালের কি মূল্য নির্ধারণ করেছে। পাকিস্তানের সরকার বিদেশী এবং বেসরকারী পর্যায়ে চালের রপ্তানি করতে ঠিক কি দাম ধার্য করেছে। কারণ পাকিস্তানের বিষয়ে আমাদের ভক্তি? নান পাকিস্তান বিষয়ে আমাদের ৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধিকাংশের মোহ থাকলেও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অবস্থা এবং পাকিস্তানের অর্থনৈতিক নাজুক অবস্থা কখনই পাকিস্তানকে খুব বেশী আগ্রাসী, সম্প্রসারণশীন এবং আধিপত্যবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে নি। প্রতিবেশী ভারতের বিরোধিতার রাজনৈতিক রসদে আমাদের নিত্যদিনই সংবাদপত্রের প্রচারিত গুজব দেখতে হচ্ছে।
ভারত সরকার বেসরকারি পর্যায়ে চালের মূল্য টন প্রতি করেছে ৫২৫, ৫৫০ ৫৭০ ৬০০ নানান রকম অঙ্ক দিয়ে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ভারত আসলে বৈরি। কিংবা অন্য ভাবে দেখলে এই ধারাবাহিক গুজব দেশের চালের বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে।
দেশের বাজারকে অস্থিতিশীল করবার এই নিকৃষ্ট সাংবাদিকতার ভিত্তি শুধুমাত্র গুজব। ভারত বেসরকারী পর্যায়ে চল রপ্তানি করবে না বলেই এমন একটা মূল্য নির্ধারণ করেছে যে দামে বৈদেশিক আমদানিকারকেরা চাল আমদানিতে আগ্রহী হবে না।
যদি বাংলাদেশের কোনো আমদানিকারক ভারতের সাথে চাল আমদানীর বাণিজ্যিক চুক্তি করেই থাকে এবং সে যদি ভারতের বাজারমূল্য থেকে বেশী দামে চাল কিনতে চায় তবে ভারতের বাজারেও কালোবাজারী শুরু হবে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে চাল প্রবেশ করবে বাংলাদেশের বাজারে। তবে সাম্প্রতিক প্রবনতা দেখে মনে হচ্ছে এখনও বাংলাদেশের বাজারে চালের মূল্য ভারতের আভ্যন্তরীণ বাজারের তুলনায় কম।
এখন এই প্রচারণা চালিয়ে লাভবান হতে পারে এমন কতিপয় পক্ষের ভেতরে অবৈধ ব্যবসায়ীরাও একটা পক্ষ যারা সীমান্ত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে চালের চালান আনবে তাদের ক্রয় মূল্য মুনাফা এবং সরবরাহ মূল্যের তুলনায় দেশের বাজারে চালের মূল্য বাড়লে তারা লাভবান হবে। এই এক চোরাচালানিগোষ্ঠিকে সহয়তা দিতেই দেশের সবগুলো সংবাদপত্র এই গণ বিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে এটা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
গুজবের অন্য কোনো ভিত্তি কি আছে। কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি, রাজনৈতিক আন্দোলনে চালের মূল্য একটা স্পর্শ্বকতার বিষয়।
যাই হোক ১৫ দিনের ধারাবাহিক জল্পনার পরেও বাংলাদেশ সরকারের সাথে ভারতের চাল রপ্তানি চুক্তি সম্পাদিত হয় নি। এর ভেতরে ভারত বাসমতি ছাড়া সকল চালের রপ্তানি বন্ধ করেছে। বাসমতির রপ্তানী মূল্য নির্ধারণ করেছে ১০০০ ডলার-
কথা হলো তথ্য জানবার অধিকার আমার আছে- অপ্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের ক্ষমতাও দেশের মানুষকে তথ্যপ্রদান করে মুনাফা করা সংবাদপত্র ব্যবসায়ীদের আছে- তবে এই অপ্রয়োজনীয় তথ্য কি আদতে আমাদের কোনো উপকারে আসছে। আমাদের ভেতরে ভীতি ছড়ানো ব্যতিত অন্য কোনো কাজ কি করতে পেরেছে এই অপ্রয়োজনীয় এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন তথ্য সরবরাহ।
ভারত তার দেশের চাল রপ্তানি করবে কি করবে না এটা নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যায়- তবে সেটা আদতে কোনো উপকারে আসবে না। আমাদের প্রকৃতপক্ষে যে তথ্য জানবার প্রয়োজন ছিলো তা হলো ভারত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ৫ লক্ষ টন চাল রপ্তানির যে সিদ্ধান্ত বা আগ্রহ জানিয়েছিলো সেটা সে পালন করতে আগ্রহী কি না। অনেক দেন দরবারের পরে জল্পনা এবং গুজব প্রচারের ৬ সপ্তাহ পরে সম্ভবত ৪৩০ ডলারেই ভারত বাংলাদেশ সরকারকে ৪ লক্ষ টন চাল সরবরাহ করবে।
এ পর্যন্ত ঠিক ছিলো ঘটনা তবে আজকেও কোনো কোনো দৈনিকে সংবাদ শিরোণাম হয়েছে ভারতের চালের রপ্তানী মূল্য ১০০০ ডলার থেকে বেড়ে ১২০০ ডলার হয়েছে- বাসমতি চালের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য-
আমি পুনরায় অবাক হলাম, বরং অবাক না নিকৃষ্ট সাংবাদিকতায় চিন্তিত হলাম। আমাদের তথ্য অধিকার আইনের সাথে সাথে বোধ দায়িত্বপূর্ন তথ্য সরবারহ এবং তথ্য সরবরাহের যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়েও কিছু আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। নিকৃষ্ট সাংবাদিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিট সকল দৈনিকের সাংবাদিকদের সচেতনতা আশা করতে পারি-
আশাবাদভিন্ন আসলে আমার অন্য কিছু করার নেই- সাংবাদিকদের যোগ্যতা বিষয়ে যে সংশয় আমার ছিলো তা কাটে নি, বরং দিন দিন বাড়ছে আর তারা যে পরিস্থিতি বুঝতে রীতিমতো অযোগ্য এবং তারা যে অনেকক্ষেত্রেই জনগণকে ভুল কিংবা অর্ধসত্য জানিয়ে উদ্বিগ্ন করছেন এবং তাদের মানসিক ক্ষতির কারণ হচ্ছেন এ বিষয় বুঝবার মতো মানসিক পরিপক্কতা এবং সচেতনতা তাদের নেই-
আশা করি আমাদের সংবাদপত্র কর্মী সাংবাদিক এবং সংবাদব্যবসায়ীরা একটু দায়িত্ববান হবেন এবং সচেতন সাংবাদিকের মতো তথ্য প্রবাহের সহয়ক ভুমিকা পালন করবেন।
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
সহমত।
মিরাজ বলেছেন:
অপবাক,"সিডর পরবর্তী সময়ে আমাদের ৫ লক্ষ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবের প্রত্যুত্তরে আমাদের তখনকার উপদেষ্টামন্ডলীর সবাই বলেছিলেন আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে- আমাদের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন নেই।"
আপনি এই কথার সপক্ষে কি কোন রেফারেন্স দিতে পারবেন? জাতীয় বা আন্তর্জাতিক যে কোন একটি নিউজ রেফারেন্স দিতে পারলে ভালো হতো ।
আমার জানামতে বাংলাদেশ সরকার বরং খাদ্য সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছিলো । আপনি চাইলে আমি আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত রেফারেন্স দিতে পারি ।
কৌতুহল থেকে জানতে চাইছি যে কোন উপদেষ্টা এতটা অর্বাচীনের মত কথা বলেছিলো ।
অপ বাক বলেছেন:
আমার মনে হয় সিডর পরবর্তি সময়ে প্রকাশিত বাংলাদেশের সংবাদপত্র খুলে দেখলে এটা পাওয়া যাবে। অর্থ উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বানী সংকলনে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিলো তখন।প্রথম আলো একটা সার্চ অপশন চালু করেছিলো সেটা রেজিস্টার্ড গ্রহকদের জন্য। আমার কাছে থাকলে আমি নভেম্বরের ২৮ থেকে ডিসেম্বরের ৫ এর ভিতরে এর সপক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারতাম।
বহুরুপি বলেছেন:
সিডর পরবর্তী সময়ে আমাদের ৫ লক্ষ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবের প্রত্যুত্তরে আমাদের তখনকার উপদেষ্টামন্ডলীর সবাই বলেছিলেন আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে- আমাদের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন নেই-এই তথ্যের উৎস কি?আমি কোথাও এটা পাইনি
৪০০ ডলারে চুক্তি না হলেও পত্রিকায় লিখেছে-এই তথ্য আপনি কোথায় পেলেন?
৩৯৯ ডলার গড় মূল্যে চুক্তি হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ৫ লাখ টন এই দামে চাইলেও ভারত পরে মাত্র ১ লাখ টনের জন্য এই অনুমোদন দেয়। এখন বাকি ৪ লাখ টনের চুক্তি হবে
এ পর্যন্ত ঠিক ছিলো ঘটনা তবে আজকেও কোনো কোনো দৈনিকে সংবাদ শিরোণাম হয়েছে ভারতের চালের রপ্তানী মূল্য ১০০০ ডলার থেকে বেড়ে ১২০০ ডলার হয়েছে- বাসমতি চালের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য-
আমি পুনরায় অবাক হলাম, বরং অবাক না নিকৃষ্ট সাংবাদিকতায় চিন্তিত হলাম। আমাদের তথ্য অধিকার আইনের সাথে সাথে বোধ দায়িত্বপূর্ন তথ্য সরবারহ এবং তথ্য সরবরাহের যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়েও কিছু আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। নিকৃষ্ট সাংবাদিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিট সকল দৈনিকের সাংবাদিকদের সচেতনতা আশা করতে পারি-
এটা তো সত্যি। তাহলে সমস্যাটি কি?
পাকিস্তান চাল রপ্তানি বন্ধ করেছে এই তথ্য কোথায় পেলেন?
আপনি আন্তর্জাতিক সংবাদ বোধহয় দেখেন না। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। ভারতের চালের রপ্তানিমূল্য নিয়ে কি ধরণের নিউজ হয় তা দেখতে পারেন।
অল্প জানা যে কত ভয়ঙ্কর তা লেখাটা পড়ে বুঝলাম
অপ বাক বলেছেন:
বক্তব্যটা যতদুর মনে পড়ে ছিলো আমাদের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন নেই। বিডিনিউজে হয়তো আর্কাইভে পাওয়া যাবে।
অপ বাক বলেছেন:
বাংলাদেশের সিডরপরবর্তী সময়ের সংবাদপত্র খুঁজে দেখেন, পাবেন। আর ভারত চালের রপ্তানি মূল্য ১০০০ করলো না ১২০০ করলো এটা জানানোর পূর্ণ অধিকার সংবাদপত্রের আছে- তবে বাসমতি চালের দাম ১২০০ হলেই বা কি ৩০০ হলেই বা কি। জাপান রকেট বিক্রি করে ৫০ মিলিয়ন ডলারে এটা জেনে আমার যেমন কোনো লাভের সম্ভাবনা নেই- ২ লাখ ডলারে পার্সোনাল প্লেন বিক্রীর খরবেও যেমন আমার কোনো আগ্রহ নেই তেমন আগ্রহ নেই ভারত বাসমতি কত দামে বিক্রি করবে।অপ্রয়োজনীয় তথ্য যা স্পর্শ্বকাতর সেটা জানানোর জন্য সংবাদ শিরোণামে লাল কালির ব্যবহার দৃষ্টিকটু- এটা লাল রংয়ের কারণেই দৃষ্টিগোচর হয়েছিলো। এটাতে যে সাবধানতার ইঙ্গিত ছিলো- যেই উদ্বেগ ছড়ানোর ইঙ্গিত ছিলো আমি আপত্তিকর বলছি সেটাকে।
পাকিস্তান চাল রপ্তানি বন্ধ করে নি এই তথ্য আপনি পেলেন কোথা থেকে?
যাই হোক আপনি একটু খুঁজে দেখেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে দেখেন তারা আদতে পাকিস্তানের সাথে চাল আমদানি সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে পেরেছিলো কিনা? কিংবা তারা আদতেই চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছিলো কি না।
অপ বাক বলেছেন:
Mirza Aziz sees no food crisis now Finance Adviser Mirza Azizul Islam yesterday ruled out the possibility of any food crisis before March next year while the European Commission assured that it would lend support in case of any food shortfall.
Posted: 29 November, 2007
অপ বাক বলেছেন:
২৯ শে নভেম্বরের পত্রিকা দেখলেই হবে মিরাজ ভাই।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
মৌলবাদী শক্তি এই ভারত বিরোধিতাকে ব্যবহার করবে ঠিক আছে। কিন্তু ভারতের চাল রাজনীতিকে উন্মোচন করাও দরকার। কেননা এদেশের শক্তি কাঠামোকে রাখতে চাওয়া বা না চাওয়ার সাথে এটা যুক্ত। আর সাংবিদকতা, যেটা এই পোষ্টের মূল জোরের জায়গা তা অনেক উজ্জ্বল বিচ্ছিন্ন আলোর মধ্যেও প্রবল অন্ধকার ছড়ানোতে এখনো ব্যস্ত। পরিশ্রমী পোষ্ট।
বহুরুপি বলেছেন:
গত সোমবার ভারতের কেবিনেট কমিটি অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে বাসমতি চালের সংবাদ ছিল একটি। তাহলে আংশিক তথ্য প্রকাশ হোক এটাই চান?পাকিস্তান থেকে চাল আসছে কি না আপনি বরং চট্টগ্রাম বন্দরে খবর নেন।
বহুরুপি বলেছেন:
খাদ্য সংকট নেই আর ৫ লাখ টন চালের প্রয়োজন নেই এক বিষয় কি হলো?
মিরাজ বলেছেন:
অপবাক,আপনি পোষ্টে বলেছেন
""সিডর পরবর্তী সময়ে আমাদের ৫ লক্ষ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবের প্রত্যুত্তরে আমাদের তখনকার উপদেষ্টামন্ডলীর সবাই বলেছিলেন আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে- আমাদের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন নেই।"
এটি আর "আমাদের মার্চের আগ পর্যন্ত পর্যাপ্ত মজুদ আছে, এই দুটি তথ্যের মধ্যে কিন্তু বিস্তর ফারাক" । নিশ্চিতভাবেই খাদ্য সহায়তা দিলে বাংলাদেশ তা গ্রহণ করবে এবং তা গ্রহণ করছে ।
আমার মনে হয় আপনার উল্লেখ করা "আমাদের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন নেই" অংশটি সত্য নয় ।
ভারতীয় রাজনীতির চানক্য কৌশল বা তাদের প্রমাণীত দূরভিসন্ধি গুলো কিছুই জানেননা ! নাকি না জানার ভাণ??এদেশে ৭১ পরবর্তী যত চুক্তি... পানি, ব্যবাসা বািনজ্য, যোগাযোগ... কিড়ডোর..কোন টিতে তারা সৎ থেকেছে।
ও !! তবে িক বলতে চান..সত্য বললেও তা যদি ভারত বিরোধী হয় তবে তা করা যাবে না.. এই কি আপনার সত্যসাংবাদিকতা???!!!
আর পাকিস্তান প্রসংগ এ জন্যে আসেনা তাদের সাথে বহু দূর সীমান্ত!!! এবং আমাদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ প্রয়োজন ছাড়া হয় না। এই বাস্তবতা ভুলে যেভাবে কালারাইজড করলেন তাতে তো মন ভয় হয়..
আবার নতুন কোন নিয়োগ নয়তো?!!!!
নিঃশব্দ শিশির! বলেছেন:
ভাই রাগ নিয়েন না! জীবনে পত্রিকায় পাতায় দুই এক লাইন কি লিখছেন!হলুদ সাংবাদিকতা আর যাতা বললেন সাংবাদিকদের এই দায়িত্ব কে আপনারে দিছে!
রিজভী বলেছেন:
মাইনাচ!
মাহিরাহি বলেছেন:
চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ ভারতকে দুটি ছিটমহল ফিরিয়ে দিয়েছে কিন্তূ বাংলাদেশকে তার ভুখন্ড ভারত ফিরিয়ে দেয়নি।বিবিসিকে বাংলাদেশের এক বুদ্ধিজীবি কথাগুলো বললেন।
কেউ যদি এই সত্তগুলো তুলে ধরে তাহলে কি তাকে ভারতবিরোধী বলা ঠিক হবে?
উন্মনা রহমান বলেছেন:
"আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে- আমাদের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন নেই", এরকম কথা তখন সরকার থেকে বলা হয়েছিল মনে আছে। যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয় এবং ব্যবসায়ীরা ক্রাইসিস সৃষ্টি না করে, সেজন্যেই কথাটা বলা হয়ে থাকতে পারে। আবার ভুল তথ্যের ভিত্তিতেও বলা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনা যাই হোক, সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা সরকারের জরুরী কাজ ছিল। শুধুমাত্র এই একটি ভুলের জন্য সরকারের সব ভাল কাজ ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে, এমনকি সরকারের পতনও হতে পারে। হয়তো সরকারের প্রতিপক্ষরা (যারা এখন বিপদে আছেন) সেটাই চাচ্ছে।
ওঁ-বোমা আলু চোর বলেছেন:
গুলবাজি পোস্ট। গুলবাজি পোস্টে মাইনাস।
দিগন্ত বলেছেন:
"চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ ভারতকে দুটি ছিটমহল ফিরিয়ে দিয়েছে কিন্তূ বাংলাদেশকে তার ভুখন্ড ভারত ফিরিয়ে দেয়নি।"- একটু ডিটেলসে বলেন - এটা জানা দরকার।
দিগন্ত বলেছেন:
আশা করছি এ নিয়ে আমি ডিটেলসে একটা পোস্ট দিতে পারব।
সততার আলো বলেছেন:
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
এহহামিদা বলেছেন:
"উন্মনা রহমান বলেছেন: "আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে- আমাদের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন নেই", এরকম কথা তখন সরকার থেকে বলা হয়েছিল মনে আছে। যাতে মানুষ আতঙ্কিত না হয় এবং ব্যবসায়ীরা ক্রাইসিস সৃষ্টি না করে, সেজন্যেই কথাটা বলা হয়ে থাকতে পারে। আবার ভুল তথ্যের ভিত্তিতেও বলা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনা যাই হোক, সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা সরকারের জরুরী কাজ ছিল। শুধুমাত্র এই একটি ভুলের জন্য সরকারের সব ভাল কাজ ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে, এমনকি সরকারের পতনও হতে পারে। হয়তো সরকারের প্রতিপক্ষরা (যারা এখন বিপদে আছেন) সেটাই চাচ্ছে।""
আকবর আলী খান নামক ভাল মানুষটি টি এখন বিপদে আছে!!!
আকবর আলী খান নামক ভাল মানুষটি টি এখন বিপদে আছে!!!
মাইনুল বলেছেন:
প্রনব ঘোষ নিজে বলে গেলেন ভারত ৫ টন চাল দিবে। আর এখন ভারত এই চাল নিয়ে চাল বাজী করছে। প্রনব দাদা যদি না বলত তাহলে তো আমরা অন্য দেশ থেকে কিনতে পারতাম। আর আপনি এখন এসে তাদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন। সত্যিই সেলুকাস কি বিচিত্র এই জাতি!
সোনার বাংলা বলেছেন:
এহহামিদা@ আপা কেমুন আচেন...
বহুদিন পর আপনার দেখা পাইলাম......, খুব ভালো লাগতেছে......
সোনার বাংলা বলেছেন:
মাইনুল বলেছেন: প্রনব ঘোষ নিজে বলে গেলেন ভারত ৫ টন চাল দিবে। আর এখন ভারত এই চাল নিয়ে চাল বাজী করছে। প্রনব দাদা যদি না বলত তাহলে তো আমরা অন্য দেশ থেকে কিনতে পারতাম। আর আপনি এখন এসে তাদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন। সত্যিই সেলুকাস কি বিচিত্র এই জাতি!
এহহামিদা বলেছেন:
সরকার আতংকিত করতে চায় নাই, মাগার আকবর আলী খান কি আতংকিত করার মিশন হাতে নিছিল!!সুজন আর টিআইবির হেড মোজাফফর আহমেদ দুর্নীতি কমে নাই ডাক দিয়াই স্বাধীনতা পদক হাতাইয়া নিয়া এখন চুপ মারিয়া গেছেন!!
আকবর আলী খান হয়ত সেই ধান্দায় আছে!!
রেগুলেটরী কমিশনের হেড হইয়াও কাউরে কিছু সুবিধা নিয়া দেয়াতেও মনে হয় ইন্টারেস্ট নিয়া কারো লগে বাধছে!!
এহহামিদা বলেছেন:
শুধু কি চাইল, তেলের দ্বায়িত্বও ভারতের উপর অর্পন করিয়াছিল এই সরকার ক্ষেমেতায় আসিয়া!!ভারত মাতা, গত সপ্তাহে ঘোষনা দিয়া বলিল যে আমাদিগকে পেট্রল, ডিজেল দিতে পারিবে না!! আমরা নাকি ক্ষুধার জ্বালায় নিজেদের গায়ে পেট্রল ঢালিয়া আত্মহত্যা করিতে পারি!!
ইডিয়ট সরকার এখন মিডল ইস্টের তেল উতপাদনকারী দেশের দিকে দৌড়াইতাছে ঘটি নিয়া!!
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
এই পোস্টের মন্তব্যগুলো কৌতুহল জাগানিয়া । পোস্ট দাতার জন্য সমবেদনা ।
ভাই অপবাক ,
সাংবাদিকতার যে ছিরি এখন এই দেশে চলছে তাতে করে আপনি এর চাইতে ভালো কিছু আশা করতে পারেন না ।
অনেকগুলো ফ্যাক্টর এখানে কাজ করছে ।
সাংবাদিকদেরকে যে টাকা দেয়া হচ্ছে , সেটা খুবই কম । ঢাকা শহরে রিক্সা চালিয়ে প্রতিমাসে যে টাকা পাওয়া যায় , একজন তরুন সাংবাদিকের বেতন এর চাইতে কম । তারপর সেই বেতনটাও নিয়মিত নয় ।
এ কারনে মেধাবীরা এখন এই পেশায় আসতে চায় না , আর মিডিয়া বেড়ে যাওয়ায় সেই ফাঁকা জায়গা পূরন করতে যারা আসছে তাদের কতোজনের মাথায় সাংবাদিকতা করার মতো বুদ্ধিশুদ্ধি আছে সেটা তর্ক সাপেক্ষ ।
এটা গেল ব্যক্তিগত যোগ্যতার জায়গাটুকু ।
এবার আসেন প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা আর সততার বিষয়টি ।মিডিয়াগুলো দখল করে ফেলেছে কিছু ধান্দাবাজ কর্পোরেট হাউস , সম্পাদক পদে এখন এমন মানুষ নেয়া হয় যাকে নিয়োগ দেয়ার আগে এক্সরে করে দেখা হয় এর মেরুদন্ড আছে কি নেই - অনেকটা এই অবস্থা চলছে ।
আমি একে হলুদ সাংবাদিকতা বলতে রাজি নই । এটা সাদা সাংবাদিকতাই । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যোগ্যতার অভাব ।
বাসমতি চাল আর সাধারন চালের পার্থক্যই তো জানে না মনে হয় অধিকাংশ সাংবাদিক ।
অপ বাক বলেছেন:
মিরাজ এইখানে আমাদের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন নেই আমাদের আগামি মার্চ পর্যন্ত খাদ্য মজুত আছে বক্তব্যের সাথে ৫ লক্ষ টনের কথাটা আসছে কারণ তখন এ নিয়েই একটা কথা চলছিলো- তবে অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন আমাদের এই খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন নেই-একটু কষ্ট করে ১ সপ্তাহের পেপার খুঁজতে হবে এই যা-
২৯শে নভেম্বরের পেপারটা খুলেন, এর পরে ৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সিডরের সহায়তা বিষয়ক লেখাগুলো পড়েন- ৫ লক্ষ টন খাদ্য সহায়তা এবং আমাদের পর্যাপ্ত মজুতের কথাটা খুঁজে পাবেন।
অবশ্য বিশ্বাস করা কিংবা না করাতে কিছুই যায় আসে না এখানে। মার্চ পর্যন্ত পর্যাপ্ত খাদ্য মজুতের খবরের পরের ঘটনাগুলো এখনাও চলমান।
অপ বাক বলেছেন:
বহুরুপি ভাই অনেক পরিশ্রম করেছেন, একটু পরিশ্রম করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তথ্য এনে দিন তাহলেই হবে।ভারতের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে কি আলোচনা হচ্ছে এবং কি আলোচনা হচ্ছে না এটা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করবার জন্য সেদেশের সংবাদপত্র আছে-
বাংলাদেশের সংবাদপত্রের এবং সাংবাদিকদের পা চাটা ভুমিকাটা আমার নিজের পছন্দ না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে যে কয় পাতা ব্যয় হচ্ছে বাংলাদেশের সংবাদ পত্রে, বাংলাদেশের সম্পাদকীয় পাতায় হিলারি ওবামা নিয়ে যেই মচ্ছব সেটাও অযৌক্তিক একটা আচরণ।
প্রশ্নটা হলো আমাদের দেশে নির্বাচন হবে কি হবে না- আমাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে ওখানের কোনো পেপারে কয়টা কলাম বরাদ্দ হয় এইটা খুঁজে দেখেন।
আমাদের সম্মানিত রাষ্ট্রদুতের কয়টা কথা ওখানের দৈনিকে ছাপা হয় সেটা দেখেন। আমাদের বাংলাদেশের পত্রিকার পাতাটা একটু খুলে দেখেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেনীর মন্ত্রীর বক্তব্যও এখানে ৪ কলামে ছাপা হচ্ছে- যার জন্য নিজের দেশের পত্রিকায় পাতায় ২ কলামও বরাদ্দ হয় না সেই সব অগা মগা বগাদের জন্য আমাদের সাংবাদিকদের এই পা চাটা কুকুর মনোভাব আমাকে ব্যথিত করে।
এইসব অযাচিত হাস্যকর আচরণ কখনই তাদের সুবিবেচক এবং সচেতন এ কথা প্রমাণ করে না।
ভারতের বাজারে বৈদেশিক বাণিজ্যে বাসমতি চালের দামের একটা গুরুত্ব থাকতে পারে- তবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাসমতি ১২০০ ডলার কিংবা ১০০০ ডলার এটা লাল হেডিংয়ে জানবার বিষয় না।
কেউ যদি এটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছাপায় তবে তার লক্ষ্য তথ্য সরবরাহ করা নয়- বরং অন্য কোনো রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য আছে এখানে।
শরৎ ভারত চাল নিয়ে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছে ল্যাজে খেলাচ্ছে এটা আমার নিজেরও পছন্দ নয়- তবে এই যে চুক্তি সম্পাদিত না হওয়া এবং লেনদেনের ঝামেলা এটা একমাত্র ভারতের গোয়ার্তুমি এটা আমার মনে হয় না।
ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত এখানে একটা বাণিজ্যিক চুক্তিই করছে- সে তার লাভ দেখবে। ভারত আশ্বাস দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে নি বাংলাদেশ এটা যদি ঘটে থাকে সেটা সরকারের অকর্মন্যতা- এজন্য ভারতকে দোষারোপের কি আছে?
নিজের অযোগ্যতার দায়ে অন্যকে খারাপ বলবার হীনতা কেনো?
অপ বাক বলেছেন:
নিঃশব্দ শিশির ভাই সংবাদ পত্রে দুই লাইন লিখলেই কি আমার যোগ্যতা তৈরি হবে সাংবাদিকদের যা তা বলবার? ভোক্তা হিসেবে ছবি কোনটা ভালো কোনটা খারাপ এ সিদ্ধান্ত নিতে আমার কি ছবি পরিচালনা করতে হয়? নিতান্ত রামছাগলের মতো যুক্তি হলো না এটা?পুরোনো একটা কৌতুক আছে- মুর্গির ডিমের কোন রান্নাটা ভালো হবে এটা বুঝবার জন্য আসলে ডিম পাড়তে শেখার দরকার নেই।
অপ বাক বলেছেন:
আমার প্রশ্নটা ভারতের সার্বিক আচরণ নিয়ে না, তাদের বৈদেশিক বাণিজ্য সিদ্ধান্ত কিংবা তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মদক্ষতা নিয়ে নয়। আমার প্রশ্ন এই যে দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা- এটাকে হলুদ বলছি না বলছি নিকৃষ্ট, যেখানে পক্ষান্তরে একটা ভারত বিরোধিতার উপাদান উস্কে দেওয়ার বিষয় আছে- এবং ৪ লক্ষ টন চালের আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত আলোচনা বাদ দিয়ে অহেতুক ভারত সরকারের নিজের দেশের চালের রপ্তানি বেসরকারি পর্যায়ে বন্ধ করবার সিদ্ধান্ত নিয়ে জলঘোলা করে অহেতুক উদ্বেগ ছড়ানো- এটার ভেতরে পার্থক্য আছে।যদি কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়- যদি কারো চালের চালান আটকে যায় এই সিদ্ধান্তে- তার জন্য ক্ষতিপুরণের সরকারি উদ্যোগকে সমর্থন দিবো আমি- আমি চাইবো ভারত এই ঋণপত্রের টাকা এবং এ বাবদ যেই পেরেশানি হলো সেটা ফেরত দিবে সে ব্যবসায়িকে- কিন্তু যদি ভারত চাল বিক্রি করতে না চায়- তাকে সাম্রাজ্যবাদি এবং মানবাধিকার বিরোধি রাষ্ট্র বলতে আমার আপত্তি আছে-
এ সংক্রান্ত প্রচারণা এবং গণঘৃণা সৃষ্টির প্রক্রিয়াটা নিয়েও আমার আপত্তি আছে-
এটাকে আমি সব সময়ই নিকৃষ্ট সাংবাদিকতা বলবো। বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা হতো, যদি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ি হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে তার ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ এবং এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ কামনা করা হতো-
তবে সাম্ভাব্য বহুরুপীর মতো জল্পনা, কাউকে চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে কষ্ট করে তাকে জানিয়ে যেতে হবে পাকিস্তান থেকে চাল আসছে কি না- এবং জল্পনা অনেকের ঋণপত্রের দাবি অনুযায়ী সরবরাহ করতে চাওয়া চালের চালান আটকে দিচ্ছে ভারত সরকার- এটাতে দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে উদ্বেগের চাপ পড়ে- আর এই দায়ভারটা- এই নিকৃষ্ট সাংবাদিকতার দায়ভারটা নিতে হবে সেই সব সাংবাদিকদের যারা বস্তুনিষ্ট না থেকে গুজব আর জল্পনার সংবাদ পরিবেশন করছে।
সংবাদপত্র প্রতিদিন ১০ লক্ষ পরিবারে যায়- দশ লক্ষ পরিবারের কথা বিবেচনা করা আর নিজের ডায়েরিতে নিজের বিদ্বেষ লিখে রাখবার ভেতরে অনেক প্রভেদ। তবে আমার মনে হয় না অধিকাংশ সাংবাদিক কিংবা সম্পাদক এই প্রভেদটা বুঝতে পারেন। ভারত বিরোধিতার ব্যবসায়িক মূল্য থাকলেও এটাকে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং সব পরিস্থিতিতে ব্যবহারযোগ্য কি না এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এটা ১৯৫৮ র পুর্ব বাংলা না- এটা ১৯৫১ র পূর্ব বাংলা না- এটা বর্তমাণে বাংলাদেশ- এখানে যদি সেই ২৪ বছরে কলংকিত সাম্প্রদায়িক সাংবাদিকতার চাষাবাদ পুনরায় শুরু হয় তবে সেটা সবার জন্যই ক্ষতিকারক হবে।
অপ বাক বলেছেন:
সাংবাদিকদের বেতনের বিষয়টা একটা বিশাল ফ্যাক্টর- তবে এর চেয়েও বড় বিষয় অযোগ্য মানুষে ভারাক্রান্ত পুরো অংশটাই- যারা ঠিক মতো দশটা লাইন বাংলা লিখতে পারে না তারা যখন মফস্বলের সাংবাদিক হয় তখন নিজেরও খবর পড়তে বিরক্ত লাগে- জেবতিক ভাই বিশ্বাস না হলে গত ৩ দিনের মফস্বলের পাতা কষ্ট করে পড়েন- যেকোনো সংবাদপত্রের মফস্বলের পাতা হলেই চলবে- বাংলার ছিরি দেখে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই- যখন আমি নিশ্চিত ভাবে জানি এটাকে এডিট করে পত্রিকায় পাতায় প্রকাশযোগ্য করতে অন্তত ৩ জন এ লেখা পরিমার্জনা করেছে-যদি ৩ জনের পরিমার্জনায় এ অবস্থা দাঁড়ায় তাহলে প্রথম যখন অসম্পাদিত ছিলো তখন কি অবস্থা ছিলো এ লেখার।
সবাই যে খারাপ সাংবাদিক এমন না- তবে অধিকাংশই খারাপ, ঠগ বাছতে গা উজাড় অবস্থা হয়ে যাবে-
কালপুরুষ বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন। অকাট্য যুক্তি।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
বেতন আর যোগ্যতাকে আমি সম্পর্কযুক্ত রাখছি । ধরাযাক আপনি ভালো বাংলা লেখতে পারেন , আপনার বুদ্ধিশুদ্ধি আছে কোনটা খবর আর কোনটা খবর নয় সেটা বুঝতে পারার , বাসমতি আর মোটা চালের পার্থক্যটাও আপনি বুঝেন ; এখন আমি আপনাকে বললাম ভাই আমার পত্রিকায় কাজ করেন ৫ হাজার টাকা বেতনে , সেই বেতনও দুই মাস পরে পরে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন ।আপনি সেই চাকুরি করবেন ? করবেন না । আপনি আমারে লম্বা সালাম দিয়ে অন্য ধান্দায় যাবেন ।
সেই পদে এখন আমি যাকে নিব , সে এখানে এসেছে কারন তার কাছে বেটার অপশন নেই হয়তো । সে রাইসের বাংলা জানে চাউল । এখন সেটা বাসমতি না অন্য চাল সেটা বুঝতে পারে না । বাসমতি রাইসের দাম যখন ১২০০ ডলার , নিশ্চয়ই অন্যগুলোর দামও দুই চাইর টাকা কম বেশি হবে ..এই চিন্তায় হয়তো সে বসে থাকে ।
মফস্বলের প্রতিনিধিদেরকে কোন বেতন দেয়া হয় না বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই । বিনা পয়সার চাকুরি হলে তো অন্য ধান্দা বের করতেই হয় । বাংলা যে শিখবে দুই চারটা বইপত্র পড়ে , সেই টাকা পাবে কোথায় ?
কোনটা নিউজ , কোনটা না সেটাই বুঝে না অনেকে । বেচারাদের শেখার জন্য কোন ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা দেখি না ।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
তবে বাসমতি চালের দামকে লাল হেডিং যারা দেয় , তারা এতো নিম্নমানের সাংবাদিক নয় , তারা বুঝে । বুঝেও এমন হেডিং দেয় । এটা উদ্দেশ্যমূলক তো অবশ্যই । কোন সন্দেহ নেই ।বোরো ধান উঠলেই নাকি আমরা পেট পুরে খেতে পাবো । সেই বোরো ধানের কী অবস্থা সেটা নিয়ে কোন নিউজ দেখি না , খালি ভারতের চালের দাম নিয়ে চিন্তা ।
ভারত তার দেশের লাভ দেখবে সেটা সোজা হিসাব । সে আমাদেরকে খাওয়ানোর জন্য কমদামে চাল দিবে এটা আশা করা মূর্খতা । ভারত কেন কোন দেশই নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু দেখবে না । আমরাও আমাদের দেশের স্বার্থ আগে দেখব ।
এটা নিয়ে ফোকাস করার চেয়ে বোরো ধানের উপর সরেজমিন রিপোর্ট করলে বুঝতে পারতাম সামনে আমরা কী করব ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















