সুরা আহজাব- ভিন্ন পাঠ
০৭ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:৩৫
কোরান অবতীর্ন হওয়ার সময় এবং যেই বিশাল সময়ের ব্যপ্তিতে এটা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বোধ হয় ইশ্বর নিজেই নিশ্চিত ছিলেন না কোনটা প্রয়োজনীয় কোরানের বানী হতে পারে, কোনটা নেহায়েত অপ্রয়োজনীয় বিবেচিত হবে। স্পর্শ্বকাতর বিবেচিত হতে পারে এখানে প্রকাশিত বক্তব্য তাই পুর্বেই সাবধানতা অর্জনের জন্য অবগতি জানানো যাইতেছে।
সুরা আহজাব, কোরানের ৩৩তম সুরা, এখানে মুহাম্মদের বিবিদের করনীয় এবং মুহাম্মদের বিয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উচ্চারিত হয়েছে সবচেয়ে বেশী। তবে ইশ্বর বোধহয় সে মুহুর্তে তার কাছে গচ্ছিত যে কোরানের সংস্করন ছিলো সেটার হাফিজ ছিলেন না।
কিংবা তার নিজের যুক্তিতে যে অসংগতি বিদ্যমান সেটা কোরানের গচ্ছিত সংস্করণ দেখে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দুটো কথা বলতে হলো কারণ সুরা আহজাবের কোরানের বানী। এখানে ঠিক কি বুঝাতে চেয়েছিলেন ইশ্বর এবং সেটা পড়লে ঠিক কিরকম ধাঁধায় পড়তে হয় আমাকে তার একটা নজির আছে।
ইসলাম একমাত্র ধর্ম এবং কোরান একমাত্র ধর্মগ্রন্থ একটি বিশেষ কারণে। বোধ হয় কোরানই পৃথিবীর একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে ধর্মপ্রচারকের বহুগামীতা দমনের জন্য ইশ্বরকে জিব্রাঈল মারফত খবর পাঠাতে হয়েছে- মুহাম্মদের জন্য আর কোনো নারী বৈধ হয় এই সংবাদটা ইশ্বর গোপনে বাতেনী প্রক্রিয়ার মুহাম্মদকে না জানিয়েই সবার সামনে তার সম্মানহানী করে দিলেন।
তিনি সুরা আহজাব ৫২-নং আয়াতে ঘোষণা করলেন( ইরশাদ করলেন কিংবা আদেশ করলেন) এরপর তোমার জন্য কোনো নারী বৈধ নয় আর তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহনও বৈধ নয়, যদি ওদের সৈন্দর্য্য তোমাকে মুগ্ধও করে,
তবে তোমার ডান হাতের অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যপারে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।
ঠিক এর আগে ৫০ নং আয়াতে যা বলা আছে-
হে নবী আমি তোমার জন্য তোমাদের স্ত্রীকে বৈধ করেছি([ তোমাদের স্ত্রীকে বৈধ করেছি এই তোমাদের ব্যক্তিসকল কারা?]) যাদেরকে তুমি দেনমোহর দিয়েছো- ও বৈধ করেছি তোমার ডান হাতের অধিকারভুক্ত সকল দাসীদেরকে যাদের আমি তোমাকে দান করেছি।
এবং বিয়ের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচাতো, ফুপাতো, মামাতো, খালাতো বোনদের যারা তোমার সাথে দেশত্যাগ করেছে-আর কোনো বিশ্বাসী নারী নবির কাছে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে িয়ে করে বৈধ করতে চাইলে সেও বৈধ। এ বিশেষ করে তোমার জন্য, অন্য কোনো বিশ্বাসীদের জন্য নয়, যাতে তোমার কোনো অসুবিধা না হয়। বিশ্বাসীদের স্ত্রী এবং তাদের দাসী সম্পর্কে আমি যা নির্ধারণ করেছি তা আমি জানি।
৫০ নং আয়াত যদি বিবেচনা করি তাহলে আমি খুঁজে পাই না ৫২ নং আয়াতের উপযুক্ততা। ৫০ নং আয়াত বিবেচনা করলে সকল নারীই বৈধ মুহাম্মদের জন্য যদি তারা বিশ্বাসী হয়ে থাকে। অবিশ্বাসী নারী ব্যতিত সকল নারীকে উপযুক্ত দেন মোহরানা দিয়ে ভোগ করবার ক্ষমতা দিয়েছে তাকে আহজাবের ৫০ নং আয়াত।
কিন্ত এর পরের আয়াতটা চমৎকার আরও।
৫১ নং আয়াতে আল্লাহর পরামর্শ
তুমি ওদের ভেতরে যাকে ইচ্ছা তোমার কাছ থেকে দুরে রাখতে পারো- ও যাকে ইচ্ছা গ্রহন করতে পারো। আর তুমি যাকে দুরে রেখেছো তাকে কামনা করলেও তোমার কোনো দোষ নেই- এ বিধান এ জন্য যে , এতে ওদেরকে খুশি করা সহজ হবে আর ওরা দুঃখ পাবে না, এবং ওদেরকে তুমি যা দেবে তাতে ওদের প্রত্যকেই খুশী থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা জানেন। আল্লাহ সব জানেন , সহ্য করেন।
কথা হলো আল্লাহ সব জানলেও তিনি বোধ হয় জানতেন না ঠিক এর পরের বানীতেই তাকে ঘোষণা দিতে হবে- মুহাম্মদ এরপর তোমার জন্য কোনো নারী বৈধ নয় আর।
পরবর্তীতে ৫৩ নং আয়াতে এসে তিনি বললেন, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদেরকে অনুমতি না দেওয়া হলে খাবার তৈরির জন্য অপেক্ষা না করে, খাওয়ার জন্য নবীর বাড়ীর ভেতরে ঢুকবে না।তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা যাবে। কথাবার্তায় তোমরা মেতে উঠো না। এমন ব্যবহার নবীর বিরক্তি সৃষ্টি করে। সে তোমাদের উঠে যাওয়ার জন্য বলতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন না। তোমরা তার স্ত্রীর কাছে কিছু চাইলে পরদার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য পবিত্রতর। তোমাদের কারও পক্ষে আল্লাহর রসুলকে কষ্ট দেওয়া বা তার মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা সংগত হবে না। আল্লাহর কাছে এ গুরুতর অপরাধ।
যদিও এই ব্যক্ত তাদের নামক বহুবচনটিকে ধন্ধময় মনে হয়, স্পষ্ট একটা বক্তব্য থাকে মোহাম্মদ একক কোনো ব্যক্তি নয় বরং একাধিক( ইশ্বর ভালো জানেন তিনি ঠিক কি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন) তবে ৫৩এর নাজেল হওয়ার নেপথ্য কারণটিও কৌতুককর।
জয়নবের সাথে মুহাম্মদের বিবাহ হয়েছে( আহজাবের সূচনায় প্রথমেই জায়েদ নামক পালিত সন্তানের স্ত্রীকে মুহাম্মদের বিয়ে করতে চাওয়াকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে- যদিও মুহাম্মদের নিজস্ব উদ্যোগেই জয়নবের সাথে জায়েদের বিবাহ হয়েছিলো। এবং জায়েদের সাথে জয়নবের না কি সামাজিক অবস্থানগত ভিন্নতার কারণে বনিবনা হচ্ছিলো না ( এটা জেনেছি মহিলা আলেম বুয়েটের শিক্ষিকার কাছে, তিনি ফরমাইয়াছেন এটা)
যা কারণেই হোক জায়েদ জয়নবকে তালাক দিয়েছিলো, এবং মুহাম্মদ তাকে বিয়েও করেছিলো। সে বিয়ের পর মুহাম্মদ সবাইকে নিজগৃহে ডেকেছিলো আপ্যায়নের জন্য। আপ্যায়ন শেষ- ঘরে নতুন বিবি, তবে বেরসিক ভক্তেরা ঘর ছেড়ে যায় না। মুহাম্মদ রাস্তায় ময়দানে পায়চারি করে, ঘরে ঢুকে দেখে বেয়ারা অতিথিরা বসে আছে। মুহাম্মদ স্পষ্টতই বিরক্ত হলো। তবে নিজের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটাবে বলে সে সাহাবাদের হাত থেকে নিস্কৃতি চাইছে এমন অশোভন ব্যবহার করা সম্ভব না বিধায় তাকে আরও কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হয়েছিলো।
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সুশীল সমাজ বলেছেন:
সুরা আল আহযাব নাজিলের ইতিয়াস টা খুঁজতাছি। কেন, কিভাবে, কখন ও কোথায় নাজিল হয়েছে আসলেই আমার জানা দরকার। এই সুরার কিছু কিছু আয়াত আমার কাছে কেমন জানি লাগে;মনে হয় পক্ষপাতিত্বের ছাপ আছে কিছু। দাসীদের উপর মনে হয় একটু বেশী অত্যাচার হয়ে গেছে! আমার ধারনা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী, তারপরেও এই ব্লগে অনেক ইসলামীক স্কলার আছে বলেই জানি। আশা করি উনারা আমার চোখ খুলে দিবেন। হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। ৩৩-৫০
আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। ৩৩-৫১
এরপর আপনার জন্যে কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন। ৩৩-৫২
হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।৩৩-৫৩
ইসলামিক স্কলার ভাইয়েরা মাথা ঠান্ডা করে আমারে উপরোক্ত আয়াতগুলোর শানে-নাজুল বুঝিয়ে দিলে উপকৃত হবো।
বি:দ্র:বাংলা অনুবাদ নিয়ে আমার দায় দায়িত্ব নাই, আমি এগুলো কপি পেস্ট করছি এখান থেকে। বাংলা বুঝতে সমস্যা হলে আমি একই সুরা'র ভিন্ন ভিন্ন অনুবাদকের ইংরেজি প্রভাইড করতে পারি।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
হিমু ভাই এর ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
মেন্টাল বলেছেন:
এই পোস্টে মোহম্মদ হিমু রুদ্রের অংশগ্রহণ কামনা করছি।
মাইনুল বলেছেন:
অপবাক সাহেব , অপব্যাখ্যা দিতে যে আপনি উস্তাত তা আবার প্রমান করলেন। এখানে ৫০ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে রাসুল (সাঃ) কাদের কে বিবাহ করতে পারবেন। আর ৫২ নম্বর আয়াতের দুই ধরনের অর্থ আছে। এক, ৫০ নং আয়াতে যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের ছাড়া রাসুল (সাঃ) অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন না। দুই, রাসুল (সাঃ) তার স্ত্রীগন যারা তার প্রতি এত অনুগত , তাদের কে ছাড়া আর অন্য নারীদের বিবাহ করতে পারবেন না। এই দুই ধরনের ব্যাখ্যাই তাফসিরে এসেছে। সুতরাং মানুষকে বিভ্রান্ত করার আগে নিজে একটু তাফসির গুলি পড়ে নিবেন।
দ্বীপবালক বলেছেন:
কইত্থন দড়ি ছিইড়া আইয়া পড়েন? খোয়াড়ে ঠাকেন। বহুট বালা অইব।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















তার নবী যাতে শান্তিমতো স্ত্রীর সাথে থাকতে পারেন , এজন্য কোরআনের আয়াত নাজিল করে দিলেন ।
একেই বলে দোস্তী ।