কোরান অবতীর্ন হওয়ার সময় এবং যেই বিশাল সময়ের ব্যপ্তিতে এটা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বোধ হয় ইশ্বর নিজেই নিশ্চিত ছিলেন না কোনটা প্রয়োজনীয় কোরানের বানী হতে পারে, কোনটা নেহায়েত অপ্রয়োজনীয় বিবেচিত হবে। স্পর্শ্বকাতর বিবেচিত হতে পারে এখানে প্রকাশিত বক্তব্য তাই পুর্বেই সাবধানতা অর্জনের জন্য অবগতি জানানো যাইতেছে।
সুরা আহজাব, কোরানের ৩৩তম সুরা, এখানে মুহাম্মদের বিবিদের করনীয় এবং মুহাম্মদের বিয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উচ্চারিত হয়েছে সবচেয়ে বেশী। তবে ইশ্বর বোধহয় সে মুহুর্তে তার কাছে গচ্ছিত যে কোরানের সংস্করন ছিলো সেটার হাফিজ ছিলেন না।
কিংবা তার নিজের যুক্তিতে যে অসংগতি বিদ্যমান সেটা কোরানের গচ্ছিত সংস্করণ দেখে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দুটো কথা বলতে হলো কারণ সুরা আহজাবের কোরানের বানী। এখানে ঠিক কি বুঝাতে চেয়েছিলেন ইশ্বর এবং সেটা পড়লে ঠিক কিরকম ধাঁধায় পড়তে হয় আমাকে তার একটা নজির আছে।
ইসলাম একমাত্র ধর্ম এবং কোরান একমাত্র ধর্মগ্রন্থ একটি বিশেষ কারণে। বোধ হয় কোরানই পৃথিবীর একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে ধর্মপ্রচারকের বহুগামীতা দমনের জন্য ইশ্বরকে জিব্রাঈল মারফত খবর পাঠাতে হয়েছে- মুহাম্মদের জন্য আর কোনো নারী বৈধ হয় এই সংবাদটা ইশ্বর গোপনে বাতেনী প্রক্রিয়ার মুহাম্মদকে না জানিয়েই সবার সামনে তার সম্মানহানী করে দিলেন।
তিনি সুরা আহজাব ৫২-নং আয়াতে ঘোষণা করলেন( ইরশাদ করলেন কিংবা আদেশ করলেন) এরপর তোমার জন্য কোনো নারী বৈধ নয় আর তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহনও বৈধ নয়, যদি ওদের সৈন্দর্য্য তোমাকে মুগ্ধও করে,
তবে তোমার ডান হাতের অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যপারে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।
ঠিক এর আগে ৫০ নং আয়াতে যা বলা আছে-
হে নবী আমি তোমার জন্য তোমাদের স্ত্রীকে বৈধ করেছি([ তোমাদের স্ত্রীকে বৈধ করেছি এই তোমাদের ব্যক্তিসকল কারা?]) যাদেরকে তুমি দেনমোহর দিয়েছো- ও বৈধ করেছি তোমার ডান হাতের অধিকারভুক্ত সকল দাসীদেরকে যাদের আমি তোমাকে দান করেছি।
এবং বিয়ের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচাতো, ফুপাতো, মামাতো, খালাতো বোনদের যারা তোমার সাথে দেশত্যাগ করেছে-আর কোনো বিশ্বাসী নারী নবির কাছে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে িয়ে করে বৈধ করতে চাইলে সেও বৈধ। এ বিশেষ করে তোমার জন্য, অন্য কোনো বিশ্বাসীদের জন্য নয়, যাতে তোমার কোনো অসুবিধা না হয়। বিশ্বাসীদের স্ত্রী এবং তাদের দাসী সম্পর্কে আমি যা নির্ধারণ করেছি তা আমি জানি।
৫০ নং আয়াত যদি বিবেচনা করি তাহলে আমি খুঁজে পাই না ৫২ নং আয়াতের উপযুক্ততা। ৫০ নং আয়াত বিবেচনা করলে সকল নারীই বৈধ মুহাম্মদের জন্য যদি তারা বিশ্বাসী হয়ে থাকে। অবিশ্বাসী নারী ব্যতিত সকল নারীকে উপযুক্ত দেন মোহরানা দিয়ে ভোগ করবার ক্ষমতা দিয়েছে তাকে আহজাবের ৫০ নং আয়াত।
কিন্ত এর পরের আয়াতটা চমৎকার আরও।
৫১ নং আয়াতে আল্লাহর পরামর্শ
তুমি ওদের ভেতরে যাকে ইচ্ছা তোমার কাছ থেকে দুরে রাখতে পারো- ও যাকে ইচ্ছা গ্রহন করতে পারো। আর তুমি যাকে দুরে রেখেছো তাকে কামনা করলেও তোমার কোনো দোষ নেই- এ বিধান এ জন্য যে , এতে ওদেরকে খুশি করা সহজ হবে আর ওরা দুঃখ পাবে না, এবং ওদেরকে তুমি যা দেবে তাতে ওদের প্রত্যকেই খুশী থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ তা জানেন। আল্লাহ সব জানেন , সহ্য করেন।
কথা হলো আল্লাহ সব জানলেও তিনি বোধ হয় জানতেন না ঠিক এর পরের বানীতেই তাকে ঘোষণা দিতে হবে- মুহাম্মদ এরপর তোমার জন্য কোনো নারী বৈধ নয় আর।
পরবর্তীতে ৫৩ নং আয়াতে এসে তিনি বললেন, হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদেরকে অনুমতি না দেওয়া হলে খাবার তৈরির জন্য অপেক্ষা না করে, খাওয়ার জন্য নবীর বাড়ীর ভেতরে ঢুকবে না।তবে তোমাদেরকে ডাকা হলে তোমরা যাবে। কথাবার্তায় তোমরা মেতে উঠো না। এমন ব্যবহার নবীর বিরক্তি সৃষ্টি করে। সে তোমাদের উঠে যাওয়ার জন্য বলতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন না। তোমরা তার স্ত্রীর কাছে কিছু চাইলে পরদার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য পবিত্রতর। তোমাদের কারও পক্ষে আল্লাহর রসুলকে কষ্ট দেওয়া বা তার মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা সংগত হবে না। আল্লাহর কাছে এ গুরুতর অপরাধ।
যদিও এই ব্যক্ত তাদের নামক বহুবচনটিকে ধন্ধময় মনে হয়, স্পষ্ট একটা বক্তব্য থাকে মোহাম্মদ একক কোনো ব্যক্তি নয় বরং একাধিক( ইশ্বর ভালো জানেন তিনি ঠিক কি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন) তবে ৫৩এর নাজেল হওয়ার নেপথ্য কারণটিও কৌতুককর।
জয়নবের সাথে মুহাম্মদের বিবাহ হয়েছে( আহজাবের সূচনায় প্রথমেই জায়েদ নামক পালিত সন্তানের স্ত্রীকে মুহাম্মদের বিয়ে করতে চাওয়াকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে- যদিও মুহাম্মদের নিজস্ব উদ্যোগেই জয়নবের সাথে জায়েদের বিবাহ হয়েছিলো। এবং জায়েদের সাথে জয়নবের না কি সামাজিক অবস্থানগত ভিন্নতার কারণে বনিবনা হচ্ছিলো না ( এটা জেনেছি মহিলা আলেম বুয়েটের শিক্ষিকার কাছে, তিনি ফরমাইয়াছেন এটা)
যা কারণেই হোক জায়েদ জয়নবকে তালাক দিয়েছিলো, এবং মুহাম্মদ তাকে বিয়েও করেছিলো। সে বিয়ের পর মুহাম্মদ সবাইকে নিজগৃহে ডেকেছিলো আপ্যায়নের জন্য। আপ্যায়ন শেষ- ঘরে নতুন বিবি, তবে বেরসিক ভক্তেরা ঘর ছেড়ে যায় না। মুহাম্মদ রাস্তায় ময়দানে পায়চারি করে, ঘরে ঢুকে দেখে বেয়ারা অতিথিরা বসে আছে। মুহাম্মদ স্পষ্টতই বিরক্ত হলো। তবে নিজের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটাবে বলে সে সাহাবাদের হাত থেকে নিস্কৃতি চাইছে এমন অশোভন ব্যবহার করা সম্ভব না বিধায় তাকে আরও কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হয়েছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

