somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবাক হওয়া অনেক দৃশ্য এখনও দেখি নি চোখে

১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বীকৃতি চাইছি না মোটেও, তবে হেভিওয়েট রাজনৈতিক মুক্তিযোদ্ধা এবং সামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের বাইরে অন্ত্যজ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শনের ঘটা যদি ১৬ই ডিসেম্বর ছাড়া অন্য যেকোনো সময় বলবত থাকতো, সেটা দেখে আনন্দিত হতাম।

আজ মেজর [অবঃ] হাফিজউদ্দীনের নামে রাজধানীতে একটা সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি মুজাহিদের পাশে বসে বক্তৃতা দিতে এবং রাজনৈতিক আন্দোলন করতে দ্বিধা করেন না।

তাকে সম্মানিত করে সিটি কর্পোরেশন এবং এর বর্তমান মেয়র অশেষ সম্মানের অধিকারি হয়েছেন। খবরটা দেখে বিস্মিত হই নি। হালের চালচিত্রই এমন, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন খালেদা মনোনীত দলীয় প্রধান। তিনি তার ন্যাম ফ্ল্যাটের বাসায় জামায়াতের নেতাদের কোলে বসে আদর খেলেও সেটা সবকয়টা স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখাবে।

অনেক রকম উদ্যোগ দেখা যায়, প্রাক্তন সেক্টর কমান্ডাররাও একটা ফোরাম গড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা নিউইয়র্কে গিয়েও এই সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন। তাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হয়। তবে তারা যদি কোনো একভাবে একটা গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারেন যে যুদ্ধাপরাধীদের বক্তব্য প্রকাশের জন্য একটা বিশেষ নীতিমালা থাকবে গণমাধ্যমে। তারা বিশেষত যুদ্ধাপরাধীরা যতক্ষণ না তাদের অপরাধের স্বীকৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন, তাদের গণমাধ্যমে বয়কট করা হবে।

বর্তমানের যুগটাই গণমাধ্যমের যুগ, যোগাযোগ এবং বক্তব্য প্রকাশের জন্য একটা না একটা মাধ্যমকে ব্যবহার করতেই হয়। যদি গণমাধ্যমের আনুকল্য না থাকে তবে তারা সমাজে জীবিত থেকেও মৃত। যদিও যুদ্ধাপরাধীদের নিজস্ব সংবাদ মাধ্যম আছে, সেখানে তাদের জন্য নিয়মিত হাহাকার করা হচ্ছে, শোকগাঁথা রচিত হচ্ছে। এবং জামায়াতের উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কে গণসাক্ষর কর্মসূচিও শুরু হয়েছে।

তবে কোনো না কোনো ভাবে তাদের বক্তব্য প্রকাশ পাচ্ছে গণমাধ্যমে।

আমার লজ্জা লাগে এটা ভেবে , আমাদের হেভিওয়েট, প্রাক্তন সামরিকেরা, রাজনৈতিক মুক্তিযোদ্ধারা এইসব জায়গায় আপোষ করে বসে আছেন। ক্যাপ্টেন মনসুরের ছেলে মতিউর রহমানের সাথে কোলাকুলি করছেন, এইসব দৃশ্যের অপমান অন্ত্যজ মুক্তিযোদ্ধাদের গায়ে লাগতো না, যদি না এসব দৃশ্য নিয়মিত দেখতো হতো আমাদের।

আমাদের বড় বড় মানুষেরা ভুলে গেছেন। তাদের দায়িত্ব ছিলো যেটা, সেটা তারা অবহেলা করেছেন। তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের দুর্দশা অবলোকন করেছেন হয়তো রঙীন চশমায়। হয়তো অপমানিত মানুষের মুখ আর চোখের পানি দেখেন নি কাছ থেকে। তাদের ক্ষমতার লোভ প্রচন্ডভাবেই তাদের অন্ধ করে রেখেছিলো তাই স্বজনের শবের উপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে তাদের হত্যাকারীর সাথে আপোষ করতেও বাধে নি তাদের।


অথচ এইসব রাজনীতি ক্ষমতার চর্চা কিংবা এই ঘি, ননী ক্ষীরের লোভানি ভুলে অনেকেই এখনও ঘৃনা করে যুদ্ধাপরাধীদের। অথচ এখনও মৃত স্বজনের জন্য গোপনে দুঃখ বয়ে বেড়ান আমাদের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বজনেরা, যুদ্ধে নিহত পিতার কথা স্মরণ করে এখনও গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন মধ্যবয়সী মানুষেরা, আর আমাদের বৃদ্ধপ্রজন্ম এখনও তাদের সন্তানদের অহেতুক হত্যার সান্তনা খোঁজেন।

আমার শৈশব কেটেছে যেই ঘরে, সেই ঘরের মেঝেতে যাকে হত্যা করা হয়েছিলো, সেই মানুষটার কোনো পরিজনই বাঁচে নি যুদ্ধের আঁচর থেকে, ছেলে রাজনৈতিক সংগঠক ছিলো বিধায় তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়েছিলো। অথচ আমার শহরের কোনো রাস্তায় তার নাম নেই, নাম নেই ঠিক আমাদের গলির মাথায় যেই মানুষটা রিকশার উপরে গুলি খেয়ে পড়ে ছিলো ২ দিন, তাকে কবর দেওয়ার উপায় ছিলো না।

এইসব মানুষেরা স্বীকৃতি পাবে না, চালাকেরা বেঁচে থাকে , বাঁচবার কায়দা না জানলে বেঁচে থাকা কঠিন মাথা উঁচু করে, বোকারাই আবেগ পুষে রাখে বুকের গহীনে, আর দিনরাত্তি রক্তাক্ত হয় অতীত দিনের কথা ভেবে।

এইসব বস্তপঁচা অতীত ঘেঁটে কষ্ট পেয়ে লাভ নেই, আমরাও চালক হয়ে উঠতে চাই। ভুলে যেতে চাই অতীতের ক্ষতের দাগ। তাকেই স্বীকৃতি দাও রাষ্ট্র, তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধা- তিনি আজ সেইসব অপরাধ কিংবা মহত্বের স্বীকৃতি পেলেন মেজর [অবঃ] হাফিজউদ্দীন, তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:০৮
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×