somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীর উপরে সহিংসতা এবং নারী ও শিশু পাচার ০৫

২৯ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লৈঙ্গিক বৈষম্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনাই শেষ পর্যন্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অফিসে অভিযোগ আকারে লিপিবদ্ধ হয় না, এমন কি এমন কোনো সরকারী উপাত্ত নেই যার ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা যায় নারীর উপরে সহিংসতা এবং নির্যাতন বেড়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের লৈঙ্গিক বৈষম্য হ্রাস করা এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য একটা সংস্থা কাজ করছে। এস এ আর আই- কিউ সংস্থাটি একটি প্রোটকল দিয়েছে, সেটার সুচনায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় লিঙ্গিক বৈষম্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিমাণ গত ১ দশকে বৃদ্ধি পেয়েছে তবে যেহেতু এমন কোনো সরকারী ডাটা বেজ নেই যেখানে নারী ও শিশুর উপরে সহিংসতা এবং বৈষম্যমূলক ব্যবহারের উপাত্ত পাওয়া যায় তাই সাধারণ মানুষের ধারণার উপরে ভিত্তি করেই এই উপসংহারে আসতে হয়েছে।

তবে আক্রান্তদের অধিকাংশই তাদের উপরে ঘটে যাওয়া নিপীড়ন কিংবা অত্যাচার কিংবা সহিংসতার অভিযোগ জানাতে আইনপ্রয়োজকারী সংস্থার দ্বারস্থ হন।
যতগুলো অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয় তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যক অভিযোগ তদন্ত শেষে আদালতে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা যায়। এবং আদালতে যেসব মামলা বিচারের জন্য উত্থাপিত হয় তার ভেতরে মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অভিযুক্তের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তারা শাস্তি ভোগ করেন।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত আদালতে নিরপরাধ প্রমাণিত হন। অভিযুক্তরা নিরপরাধ এমন নয়, তবে বেশীর ভাগ সময়ই নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক নিগৃহের ভয়ে এবং শুনানী পরবর্তী সহিংসতার আশংকায় অভিযুক্তা, বেশীর ভাগ সময়ই যিনি এই মামলার একমাত্র সাক্ষী এবং ভিকটিম। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী কিংবা সাক্ষ্য দিতে আসেন না।

তাদের অনুপস্থিতির কারণে অনেক অভিযুক্তই নিরপরাধ প্রমাণিত হন।
এজন্যই এই সংস্থাটি প্রোটোকলে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন যেখানে অভিযুক্তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

লৈঙ্গিক বৈষম্য একেবারে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। অধিকাংশ সমাজই এখনও মূলত পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান ধারণা দিয়ে পরিচালিত হয়। সামাজিক মানসের পুরুষতান্ত্রিকতা, সামাজিক কাঠামোর পুরুষতান্ত্রিকতার ভেতরেই নারীদের উঠে আসতে হয়।

যেসব সাক্ষ্য নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার দাবি আছে প্রোটোকলে তা সব সময় প্রদান করা সম্ভব হবে না হয়তো। তবে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালেই এইসব নিরাপত্তা প্রদানের একটা অঙ্গীকার করেছিলো।

২০০০ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী আইনটি রাষ্ট্রপতির স্বীকৃতি লাভ করে। সেখানের ৩১ নম্বর ধারায় নিরাপত্তামূলক হেফাজতের কথা বলা হয়েছে- যদি এই ধরণের বিচারকালে গঠিত বিশেষ ট্রাইবুন্যাল মে করে কোনো নারী কিংবা শিশুকে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রাখা প্রয়োজন তবে ট্রাইবুন্যাল উক্ত নারী কিংবা শিশুকে কারাগারের বাহিরে এবং সরকার কতৃক এই উদ্দেশ্যে গঠিত নির্ধারিত স্থানে সরকারী কতৃপক্ষের হেফাজতে বা ট্রাইবুন্যালের বিবেচনায় যথযথ অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা সংস্থার হেফাজতে রাখবার নির্দেশ দিতে পারবে,

যদিও সারি কিউ র দাবী আরও বেশী, তারা প্রয়োজনে উক্ত নারী কিংবা শিশুকে স্থানান্ততর এবং সামাজিক পরিচিতি প্রণয়ন এবং এই সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ সরকারের দপ্তর থেকে দেওয়ার দাবী জানিয়েছে।

নিরাপত্তা হেফাজতে নিরাপত্তা বিধান করবে পুলিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, তবে তাদের হাতেই নিরাপদ নয় নারী, মাঝে দৈনিক পত্রিকায় একটা সংবাদ বেরিয়েছিলো সেটা ২০০১ থেকে ২০০৫ এর মধ্যবর্তী কোনো সময়ে, ধর্ষিতা ধর্ষণের বিচার চাইতে স্থানীয় থানায় উপস্থিত হওয়ার পরে সেই থানার এসআই এবং কনস্টেবলদের দ্বারা গণধর্ষিত হয়েছিলো। এই মামলা এখনও বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুন্যালে উঠেছে কি না জানা নেই। সংবাদপত্রগুলো এই বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশে নিতান্ত অনিচ্ছুক।

আজকের পত্রিকায় সংবাদ এসেছে, কোনো এক মহিলা পাচারকারী দলের প্রতারণায় সিঙ্গাপুরে বিউটি পার্লারে কাজ করবার জন্য সহায় সম্পত্তি বেচে গেলে তাকে সেখানে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয় এবং তাকে সিঙ্গাপুর থেকে মালোয়শিয়া নিয়ে গিয়ে বিক্রী করে দেওয়া হয়, সেখান থেকে তাকে পুনরায় সিঙ্গাপুরে এনে বিক্রী করা হয়। সেখানে পুলিশ হানা দিলে সে মহিলা মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

তিনি মামলা করেছেন, অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্সীর মালিককে গ্রেফতার করতে পারে নি এখনও পুলিশ।

নারীর পণ্যায়ন এবং নারীর উপরে সহিংসতা, তাকে কোর পূর্বক যৌননির্যাতন করা কিংবা তাকে যৌনবাণিজ্যে ব্যবহার করা- এইসব মানবতাবাদী ধারণা ক্রমশ মুছে যাচ্ছে। এসব প্রতিরোধ ও প্রতিকারে নানাবিধ আইন প্রণয়ন করা হলেও যেহেতু এই আইনগুলো সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না তাই নারী সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, এবং নারীকে যৌন পন্য হিসেবে ব্যবহারের প্রবনতা কমছে না।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×