মুর্তি নিয়ে অনেক রাজনীতিই হয়েছে, এখনও হচ্ছে। তথাকথিত ভাবমুর্তির রাজনীতি এখনও প্রচলিত বাংলাদেশে। শ্লোগান শুনে মনে হয় তাবত রাজনৈতিক কর্মীই বোধ হয় অনুগত শ্রমিক।
হঠাও স্বৈরাচার বাঁচাও দেশ, খালেদা জিয়ার নির্দেশ।
হঠাও সরকার বাঁচাও দেশ, শেখ হাসিনার নির্দেশ।
হঠাও সরকার বাঁচাও দেশ খালেদা জিয়ার নির্দেশ।
শ্লোগানগুলোর মাঝে সময়ের ব্যবধান ৫ বছরের মতো। প্রথম বার যখন এরশাদ নানা ছলে অনুগত মানুষদের নিয়ে একটা সরকার গঠন করেছেন এবং দুই নেত্রীই হঠাৎ করেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার হঠানোর আন্দোলন করছেন তখনকার শ্লোগান স্বৈরাচার হঠানোর শ্লোগান।
এরপরের শ্লোগানের সময়কাল যখন দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন, হরতালের ব্যাপ্তি বাড়তে বাড়তে ২৪,৩৬,৪৮,৭২ হয়ে ৯৬ ঘন্টা হলো তখনকার।
এবং সবশেষের শ্লোগানটা ২০০০ সালের দিকে কলেজ প্রাঙ্গন থেকে তুলে আনা। তবে আনুগত্যের বিষয়টা স্থির। খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনা নির্দেশ দিচ্ছেন এবং হুকুম পালন করবার জন্য অনুগত কর্মীরা মিছিল করে সবার কাছে সেই নির্দেশ কিংবা হুকুম পৌঁছে দিচ্ছে- বিষয়টার জমিদারি মানসিকতা চোখে পড়বার মতো।
শেখ মুজিব, জিয়া, ভাবমুর্তি এবং রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাড়া জাগানো মুর্তির রাজনীতি বিষয়টা একটু অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে।
পক্ষ প্রথমত ছিলো মুর্তি বিরোধী ইসলামী জাগ্রত জনতা, যদিও উপাস্য হয়ে উঠবার সক্ষমতাসম্পন্ন মুর্তি ভাঙার নির্দেশ আছে না কি যেকোনো বাস্তব প্রতিকৃতি অগ্রহনযোগ্য এটা নিয়ে এখনও ইসলামি বিশেষজ্ঞদের ভেতরে বিতর্ক চলছে।
এবং এদের বিরোধিতা করবার জন্য যে অন্য পক্ষটি বিদ্যমান, তারা বাউল মুর্তিকে লালন চিহ্নিত করে লালন প্রতিস্থাপন মঞ্চ গড়ে তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারুকলা চত্ত্বরে এই নিয়ে সমাবেশ হচ্ছে। এই চলমান আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন জেলা শহরে মানব বন্ধন কর্মসূচি অব্যহত আছে।
গত শনিবার সকালে একটি সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্ঠার সহকারি এই চলমান বিতর্কের আগুণে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়েছেন বলা যায়, যদিও এর আগেও উপদেষ্টাদের ভেতরে অনেক রকম মতদ্বৈততা ছিলো, তবে প্রধান উপদেষ্টার সহকারিদের ভেতরে যদি এমন মতদ্বৈততা থাকে তবে সেটা বিভ্রান্তিকর বিষয় হবে।
সেই সহকারীর বক্তব্য শুনে মনে হলো সরকার আদতে মাদ্রাসা ছাত্রদের দাবি কিংবা নুরানি হুজুরের কথায় মুর্তি অপসারণ করেন নি, বরং নিম্নমানের নির্মান সমগ্রী ব্যবহার করায় ভাস্করের সম্মতিক্রমেই এই মুর্তি সরিয়ে নেওয়া হয়, পরবর্তীতে নক্সা পরিবর্তন করে, উন্নত নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করে এটা পুনঃস্থাপন করা হবে।
শনিবার যেটাকে ঘটনার শেষ মনে হয়েছিলো সেটার রেশ এখনও বিদ্যমান। মুর্তির রাজনীতি চলছে। সরকারের তরফ থেকে এমন ঘোষণা আসবার পরেও কেনো মানব বন্ধন চলছে।
মানবন্ধন করেছেন বিশিষ্ট সুশীলেরা, তারা সংবাদের ভেতরেই বেঁচে থাকেন, সংবাদ পত্রের মাঝের পাতায় কলাম লিখে জীবিকা ধারণ করেন। তারা এই ঘোষণা জানেনা না এমনও না। এরপরও গতকাল তারা কেনো মানব বন্ধন করে বাউল মুর্তি পুনঃস্থাপনের দাবি জানালেন বোধগম্য হলো না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


