মাঝে মাঝে একটু অবাক হয়ে যাই বিষয়টা ভাবলে-
বিষয়টা প্রথম দিকে অস্পষ্ট থাকলেও নবগঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২ বছর মেয়াদে দেশের সার্বিক তত্ত্বাবধান কাজে লিপ্ত থাকবার পরেই নির্বাচন কমিশন সংস্কার হলো, ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হলো, ইইউ স্বচ্ছ ব্যালট বাস্ক দিবে, তাতে স্বচ্ছ কারচুপিবিহীন নির্বাচন হবে- এই তথ্যগুলো অনেক আগে থেকেই মানুষের জানা।
প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন তার বিদেশ সফরের সময় এই বিষয়টি নিয়ে এত কথা বলছে কেনো? যেখানেই তার বক্তৃতা থাকে, বাংলাদেশের অনির্বাচিত এবং প্রায় অবৈধ প্রধান হিসেবে যখনই তার বক্তব্য দেওয়ার পালা আসে, ফখরুদ্দীনের ভাঙা রেকর্ড বাজে।
আগামি ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বিশ্বে। বাংলাদেশের মানুষ আশ্বস্ত হচ্ছে না তার কথায়, অবশ্য বাংলাদেশের মানুষকে আশ্বস্ত করাও তার মূল লক্ষ্য নয় বোধ হয়। তার লক্ষ্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করা। বাংলাদেশে অবশ্যই নির্বাচিত সরকার প্রধান আসবে আগামি বছর।
তবে দৈনিকের সংবাদের শিরোনাম দেখে বিমর্ষ হই। ইইউ বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
বাংলাদেশের নির্বাচন এবং এখানের নির্বাচিত সরকার বোধ হয় গেইশা। নতুন গেইশা বাজারে আসলে সবাই উত্তেজিত হয়ে দরদাম শুরু করে। বাংলাদেশ বোধ হয় আন্তর্জাতিক গেইশা এখন। সুতরাং এই দেশের মানুষের চাওয়াকে গ্রাহ্য না করেই সবাই মাতবরি করছে এখানে।
কিভাবে কি প্রক্রিয়ায় দেশ শাসন করা উচিত, কাদের সাথে অর্থনৈতিক চুক্ত করা উচিত। মুদ্রা বাজার সংরক্ষণশীল হবে না কি উন্মুক্ত হবে, বাংলাদেশ মুক্ত বাজার অর্থনীতি গ্রহন করবে না কি সেখানেও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রন রাখবে।
বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ নীতিমালা তৈরি করবে না কি করবে না। বাংলাদেশের সীমান্ত ও সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের অনুসন্ধান হওয়া উচিত কি উচিত নয়। এই সব বড় ও ছোটো মাপের সকল বিষয়েই নির্ধারিত উপদেশমালা নিয়ে হাজির হচ্ছে ইইউ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আমরা কি আদৌ সার্বভৌম? আমাদের কি স্বাধিকারবোধ এখনও অর্জিত হয়েছে। আমরা কি আদৌ বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশি পরিচয়কে বিশিষ্ট করতে পেরেছি?
প্রশ্নগুলোর উত্তর নেতিবাচক।
বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃহৎ রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারি এখানে বড় লাট ও ছোটো লাটের মতো স্বাধীনতা ভোগ করে। আমাদের মেরুদন্ডহীন প্রশাসন এবং আমাদের ল্যাজ নাড়ানো সাংবাদিকেরা সাধারণ মানুষের দুর্দশার তুলনায় কোন রাষ্ট্র দুত কি বক্তব্য দিলো এটা তুলে ধরতেই অধিক আগ্রহী।
আজ দেখলাম জাতিসংঘও চাইছে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সম্মিলিত রাষ্ট্র সংঘ রাষ্ট্রসমুহের ভেতরের বিবাদ নিরসন ও বহুরাষ্ট্রীয় বিষয়াদি তত্ত্বাবধান করতে পারে, তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের মতো আভ্যন্তরীণ এবং স্পর্শ্বকাতর বিষয়ে তাদের বক্তব্য আসবে কেনো?
আন্তর্জাতিক নদী কমিশন, সীমান্ত সংঘাত এবং জঙ্গি ও অবৈধ অভাবাসী সমস্যা মোকাবেলার মতো বিষয়াদিতে তাদের আগ্রহ না থেকে হঠাৎ করেই অন্য সব রাষ্ট্রের মতোই তারাও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠায় নিজের দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বিচলিত হলাম।
গরীবের বৌ সকলের ভাবি হয়ে উঠে এবং সবাই তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে চায়। বাংলাদেশ আপাতত সবার ভাবি হয়ে উঠছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


