somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুঁড়াদুধ বিতর্কের অবসান

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের শিশুখাদ্য এবং গুড়াদুধ বিতর্ক অবশেষে শেষ হয়েছে গতকাল। চীনে উৎপাদিত গুঁড়াদুধে বিষাক্ত মেলামাইন ছিলো, মেলামাইনমিশ্রিত গুঁড়াদুধ খেয়ে চীনের শিশুরা আক্রান্ত হওয়ার পরে এই গুঁড়াদুধ বিষয়ে সর্বত্র সচেতনতা তৈরি হয়, এরই ধারাবাহিকতা চীনে উৎপাদিত ৩টি গুঁড়া দুধকে শিশুখাদ্য হিসেবে অনুপযুক্ত চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিএসটিআই অনুমোদিত নয় বলে আরও একটি গুঁড়াদুধের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এই গুঁড়াদুধ বিতর্ক নিয়ে সংশয় কাটে নি।

বিএসটিআই বাজার থেকে গুঁড়াদুধের নমুনা সংগ্রহ করে নিজেদের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে এবং পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আরও ৩টি প্রতিষ্ঠানে এই গুঁড়াদুধের নমুনা পাঠায়।

চীনে উৎপাদিত গুঁড়া দুধে মেলামাইনের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি বিষয়ে দুটো প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রদান করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের পরীক্ষায় সকল দুধেই মেলামাইনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নমুনা এবং পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানের অসম্মতি জানিয়ে শুধুমাত্র মৌখিক ভাবেই নিজেদের পরীক্ষার ফলাফল প্রদান করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে প্রাপ্ত ফলাফল যে সংশয় তৈরি করেছিলো সেটা নিরসনের জন্য বিদেশী পরীক্ষাগারে পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য।সেই ফলাফল বাংলাদেশের কতৃপক্ষের কাছে পৌঁছায় রবি বার দুপুরে, এর পর বাংলাদেশের কতৃপক্ষ রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং প্রকাশের জন্য আলোচনা শুরু করে, দিনব্যাপী আলোচনার পরেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারে নি তারা। বরং গতকাল দুপুরে এই আলোচনা সমাপ্ত হয় এবং ৩টি ব্রান্ডের গুঁড়াদুধ পানের অযোগ্য চিহ্নিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ পরীক্ষার ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশের প্রত্যাখ্যান সংস্কৃতিতে নতুন সংযোজন এই পরীক্ষালব্ধ ফলাফল প্রত্যাখ্যান। বিষয়টা রসায়ন বিভাগের সুনাম নষ্ট করেছে নিশ্চিত ভাবেই।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকেরা একটি সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে। মাত্রাতিরিক্ত মেলামাইন সেবন করলে সেটা শরীর গ্রহন করতে পারে না।

শরীর চমৎকার একটি যন্ত্র, বিপাকীয় প্রক্রিয়া চমৎকার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। মানুষ খাদ্য হিসেবে যা গ্রহন করে সেটা বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় শরীরের উপযোগী হয়ে কোষে জমা হয় এবং মানুষ সংগৃহীত শক্তিতে নিজেকে পরিচালনা করে।

তবে মানুষের শরীরের কোষগুলো নির্দিষ্ট ধাঁচের পুষ্টি গ্রহনে সক্ষম। খাদ্যাবশেষ শরীরের পরিপাকতন্ত্রে শোষিত হয় পরে শরীর থেকে নিগ্রত হয়ে যায়।
মেলামাইনের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি, শরীর যখন কোনো উপায়েই এই মেলামাইনকে গ্রহন করতে পারে না, সেটা কিডনিতে যায়, কিডনি মূলত শোধকের কাজ করে, সেখানের জালিকাগুলো যদি মেলামাইনকে শরীর থেকে বের করে দিতে না পারে ,সেখানেই সঞ্চিত হতে থাকে মেলামাইনগুলো, পরিনতিতে কিডনিতে পাথর হয়।

তা শরীরের এই শোধন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং শাররীক সমস্যা তৈরি করে। তবে শরীর কতটুকু মাত্রায় মেলামাইন গ্রহন করতে পারবে সেটা নির্ধারিত শরীরে ভরের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

কীটনাশক হিসেবে মেলামাইনের উপজাত সামগ্রী ব্যবহারের ফলে আমরা প্রতিনিয়তই মেলামাইন গ্রহন করছি, এমন কি কীটনাশক দিয়ে উৎপাদিত যেকোনো গবাদিখাদ্যেও এই মেলামাইনের উপস্থিতি থাকবে। সুতরাং কোনো গরুর দুধই শতভাগ মেলামাইনমুক্ত হতে পারে না। সুতরাং একটা ন্যুনতম মান নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

মেলামাইন মূলত সার কারখানার উপজাত, সার উৎপাদনের সময়ই এই মেলামাইন উৎপাদিত হয়, বাংলাদেশের সার কারখানাগুলোর এই মেলামাইন ব্যবহার করে দেশে মেলামাইন শিল্প গড়ে উঠেছে। চীনেও সার কারখানা ও কীটনাশক কারখানার পরিমাণ বেড়েছে। এবং একই সাথে মুনাফার সাংঘাতিক লোভে সেই মেলামাইনকে প্রোটিনের বিকল্প সংস্থান হিসেবে চিহ্নিত করে দুধের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করবার প্রক্রিয়াও উদ্ভাবিত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে প্রাপ্ত মেলামাইনের পরিমাণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত মতে পানের অযোগ্য করেছে সবকটি গুঁড়াদুধকেই, নেসলে, ডানো, ডিপ্লোমা সকল গুঁড়াদুধেই মেলামাইন পরিমাণ নির্ধারিত গ্রহনযোগ্য সীমার অধিক, এমন সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে থাইল্যান্ডের গবেষণাগারে প্রাপ্ত তথ্যে।

বহুজাতিক পূঁজির দ্বৈরাত্বে হয়তো এই থাইল্যান্ডের গবেষণাগারে প্রাপ্ত ফলাফল কলুষিত হতে পারে, হতে পারে এই উপাত্ত কম্প্রোমাইজড, তবে অন্তত মানুষের উদ্বেগের অবসান হয়েছে।

এমন একটি বিষয়ে সরকারী সিদ্ধান্ত গ্রহনের দীর্ঘসূত্রিতা এবং সরকারী অদক্ষতা আদতে ক্ষমার অযোগ্য- তারা নিশ্চিত হতে না পারলেও যেহেতু সংশয় প্রকাশিত হয়েছে তাই এই গুঁড়াদুধগুলোর বিপনন বন্ধ রাখতে পারতো, তবে সরকার সেটা করতে পারে নি বলেই হাইকোর্ট এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিচারককে অসংখ্যা ধন্যবাদ।

আপাতত বিতর্ক সমাপ্ত হয়েছে, তবে বাংলাদেহসের ভোক্তাদের ভেতরে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, এটা নিরসনের কোনো সম্ভবনা আছে রবর্তমানে। মানুষ কি নেসলে পণ্য বর্জন করবে, ডানো কিংবা ডিপ্লোমা কেনা বন্ধ রাখবে?

৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×