ইশ্বর বিশ্বাসী মানুষের বিশ্বাস- কল্পনা-
১২ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:১২
আহমেদ শরীফ চমৎকার একটা বক্তব্য লিখেছেন-হোমোসেপিয়েনসগণের মানুষরূপ প্রাপ্তিকাল থেকে ১৫০০ খ্রীষ্টাব্দ অবধি মোটামুটি ছিলো বিস্ময়ের, কল্পনার, বিশ্বাসের, সংস্কারের ধারণার, আন্দাজের, অনুমাণের, ভয়ের ভরসার অবলম্বন অদৃশ্য অরি-মিত্র দৈবশক্তির। একালে প্যাগান আচার-আচরণ, পালা-পার্বন, প্রচারিত এবং প্রচলিত অপৌরুষেয় বিধি-নিষেধ রূপ শাস্ত্র এবং অলৌকিক, লৌকিক ও অলীক ভাব-চিন্তা-কর্ম- আচরণ ছিলো অজ্ঞতাপ্রসুন।
তবে অজ্ঞতার তুলনায় বর্তমানে ব্যপক হারে চলছে তথ্যের অপপ্রয়োগ। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও তত্ত্বকে বিকৃত করে ধর্মীয় মজমা জমানোর প্রচেষ্টা চলছে বিশ্বজুড়ে। সেটা বিভিন্ন ভাবে বিজ্ঞানকে নাকচ করবার প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রকাশিত হচ্ছে। ইশ্বরের উপস্থিতি এবং কর্মকান্ডকে বৈধতা দিতে সাম্ভাব্যতা তত্ত্বকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অপবিজ্ঞান সাময়িকী হয়ে গেছে ধর্মীয় বিধানকে প্রকাশ করা ও প্রচার করা নানাবিধ ধর্মীয় ওয়েব সাইট।
সেসব কথার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যেমনই হোক না কেনো, যাচাই না করেই সেসব আত্মস্যাৎ করে ইশ্বরের যোদ্ধারা নিয়মিত অসি এবং মসি চালনা করছে।
বিজ্ঞান উপভোগ্য এবং আকর্ষণীয়। আমার বিজ্ঞানের প্রতি মুগ্ধতা প্রতিনিয়তই বাড়ে। বৃহৎ পরিসরে কিংবা অতিক্ষুদ্র পরিসরে বিজ্ঞান যেভাবে কার্যকারণ খুঁজে বের করে বোধগম্য একটা বিশ্লেষণীকাঠামো তৈরী করেছে সেটা আমাকে চমৎকৃত করে, তবে সেখানে আমি ইশ্বর , ভগবান কিংবা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও নজির খুঁজে পাই না। এমন কি সেখানে আমি তাদের কোনো প্রভাবও খুঁজে পাই না।
মূলত বস্তুজগতের নিয়ম মেনে চলে বস্তুকণা, তাদের ঐশী অনুপ্রেরণা নেই, ঐশী ওহী মোতাবেক তারা নিজেদের কাঠামো নির্মান করে না কিংবা সেটা সাজাতে যায় না। সেখানে মূল বিবেচ্য সব সময়ই শক্তির সর্বনিম্ন ব্যবহার। অর্থ্যাৎ যে পথে গেলে সবচেয়ে কম শক্তি ক্ষয় হবে, বস্তুকণাগুলো সে পথই খুঁজে নেয়। আলোর কণিকা যখন স্বচ্ছ- অর্ধস্বচ্ছ মাধ্যমের ভেতর দিয়ে যায় তখনও এইসব বোধশক্তিহীন কণিকা কোনো ঐশী অনুপ্রেরণাব্যতীতই সংক্ষিপ্ত পথ বেছে নেয়।
যখন বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে, সান্দ্রতার গুণে সেই বৃষ্টিকণা নিজেই গোলাকৃতি গ্রহন করেন। কারণ এভাবেই সম্ভব নিজের শক্তিসঞ্চয় করা। মিনিমাম এনার্জি কনফিগারেশন সব সময়ের জন্যই সত্য।
বস্তুজগতের কণিকাগুলোকে নিয়েই তৈরী জৈবজগত। রুহানী কোনো বিষয়াদি সেখানে নেই, তবে অতিক্ষুদ্র পরিসরে বস্তুকণাগুলো বৃহৎ পরিসরের বস্তুকণার মতো সংঘবদ্ধ আচরণ করলেও তাদের একক ব্যবহার অনেক সময়ই যাদৃচ্ছিক মনে হয়। সামান্য উত্তেজনা কিংবা শক্তিতেই তাদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়। এবং যেহেতু একক বস্তুকণা এত বেশী ক্ষুদ্র যে সামান্য পরিবেশের পরিবর্তনেও তাদের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়, তাই তাদের অবস্থান সঠিক ভাবে নির্ণয় না করে আমরা পরিসংখ্যান ও সাম্ভাব্যতাকে যাচাই করে তাদের আপাতঅবস্থানকে নির্দিষ্ট করবার চেষ্টা করি।
যদিও অণু-পরমাণুগুলো নিজস্ব ক্ষুদ্রতার কারণেই অনেক বেশী বিচলিত আচরণ করে কিন্তু ঠিক সে সময়েও তারা পদার্থবিজ্ঞানের বিধি মেনেই চলে। পারস্পরিক আকর্ষণ-বিকর্ষণ,সাম্যতা, নিত্যতার সূত্রগুলো মেনে চলে সকল বস্তুকণাই।
আমাদের অতিপরিচিত বস্তুজগতে আমরা যা অনুভব করি, তা মূলত তড়িৎচুম্বকীয় বল, আমাদের হাঁটা-চলা, অনুভবএবং উত্তেজনা সবই নিয়ন্ত্রন করে এই তড়িৎচুম্বকীয় বল। একটা চার্জবাহী কণিকার উপস্তিতি তার চারপাশে কতদুর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে? পদার্থ বিজ্ঞান বলছে সেটা অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত, কিন্তু কার্যত অতিক্ষুদ্র চার্জের প্রভাব বলয় তার চারপাশের সীমিত স্থান। হয়তো সেটা আমাদের প্রচলিত মাপের সীমায় অতিক্ষুদ্র কিন্তু সে চার্জের আকৃতির তুলনায় অনেক বড় বলেই আমরা ধরে নিচ্ছি তাদের প্রভাব অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত।
যদিও ইলেক্ট্রনের আকার নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ধারণা বিজ্ঞানীদের নেই, তবে সেটা ফেমটোমিটারের কম- অর্থ্যাৎ এক সেন্টিমিটারের কোটি ভাগের কোটিভাগ। তাদের প্রভাব হয়তো পিকোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থ্যাৎ তার নিজস্ব আকৃতির ১০০০ গুণ বেশী দুরত্ব পর্যন্ত তার প্রভাব আমরা অনুভব করতে পারি।
এই প্রভাব এবং আশেপাশের বস্তুর উপস্থিতি জৈব যৌগের আচরণ নির্ধারণ করে থাকে। গাণিতিক ভাবে সকল কিছুই ব্যখ্যা করা সম্ভব, তবে চলকের সংখ্যা অনেক বেশী হয়ে যাওয়াও গণনা হয়তো দুরহ হবে, আমাদের অনেক বেশী চলককে ধ্রুব ধরে নিতে হবে, এবং গবেষণার খাতিরেই আমাদের সব সময়ই বেছে নিতে হয়, কোন কোন চলকের প্রভাব ন্যুনতম।
তবে সব সময়ই যেটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে সেটা আশে পাশে অন্যান্য চার্জের উপস্থিতি। আমরা পানিকে সাধারণত অপরিবাহী জ্ঞান করি, অর্থ্যাৎ যদি কোনো দুষণ না থাকে তবে পানি সাধারণত বিদ্যুত পরিবহন করে না। অর্থ্যাৎ পানিতে মুক্ত চার্জ নেই, কিন্তু পানির ভেতরে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি অক্সিজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় এবং তাদের নির্দিষ্ট একটি ব্যবধান রাখতেই হয় পরস্পরের ভেতরে। অর্থ্যাৎ হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন সংযুক্ত হয়ে পরস্পরের সাথে একটা নিরাপদ গ্রহনযোগ্য দুরত্ব বজায় রাখে, এবং এ জন্যই অক্সিজেন পরমাণুর বাইরের খোলসের ৬টি ইলেকট্রন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর বাইরের খোলসের একমাত্র ইলেক্ট্রন, এবং তাদের আপাত অবস্থানের কারণে পানির অণুর চারপাশে ক্রিয়াশীল তড়িৎক্ষেত্র বিদ্যমান।
সেখানে ইলেক্ট্রন কিংবা চার্জঘন জায়গা এবং চার্জবিহীন জায়গা থাকায়, অন্য যেকোনো চার্জের উপস্থিতিতে তারা সাড়া দেয়, এবং তাদের ইলেক্ট্রনিক কনফিগারেশন বদলায়। এ জন্যই আমরা হাইড্রোফোবিক এবং হাইড্রোফিলিক অণু পাই প্রকৃতিতে।
এতসব বলবার কোনো প্রয়োজনই ছিলো না, যদি না মোদ্দা কথায় ফেরত আসি। জৈবযৌগ বিশিষ্ট এখানেই যে তারা নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে পারে উপযুক্ত অনুকুল পরিবেশে। এবং পুনরূৎপাদন প্রক্রিয়াটা সম্পাদন হচ্ছে নিয়মিতই, উপযুক্ত পুষ্টি এবং রাসায়নিকের উপস্থিতিতে চমৎকার পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়াকে কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের মাহত্ব্য হিসেবে প্রচারিত করছে।
যেকোনো একটি বিক্রিয়ায় যদি কোনো মিথাইল এলকোহলের অনু নিজেকে পরিবর্তিত করতে পারে, তবে সেই একই পরিবশে সকল এলকোহল অণুই নিজেকে পরিবর্তিত করবে। সেটা তার চেইনে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা যত বেশীই হোক না কেনো তারা কিছু সাধারণ বৈশিষ্ঠ্য মেনেই বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে। সেটা তাদের চেইনের শেষ মূলকের উপরে নির্ভরশীল।
আমরা ডিএনএ নিয়ে এত আলোচনা করি, জেনেটিক্সের মূল কিংবা মোদ্দা কথাই হলো বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় কিভাবে এই দিএনএ চেইনের অণুর স্বজ্জা কার্যকর থাকে, তারা কিভাবে প্রোটিন এবং শক্তি উৎপাদন করে? এটা কে ঐশী অনুপ্রেরণা না কি স্বাভাবিক কোনো বিষয়?
যদি উপযুক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি না থাকে তবে অলৌকিক ভাবে কোনো প্রোটিন উৎপাদিত হবে না, আপনার শরীরে গরুর প্রোটিনের অংশ পাওয়া যাবে না কখনই যদি আপনি শাকাহারী হন। যদিও আপনি মাংশাসী তবুও বাঘের শরীরে পরিচায়ক প্রোটিন আপনার শরীরে উপস্থিত থাকবে না, যদি আপনি বাঘ মেরে খেয়ে ফেলেন তবে বাঘের প্রোটিণ আপনার শরীরে পাওয়া যাবে, অনথ্যায় আপনি যতই খাওয়া দাওয়া করেন, আপনার শরীরে বাঘের প্রোটিন উৎপাদিত হবে না।
প্রতিটা প্রাণীই নিজস্বতা পরিচায়ক কিছু প্রোটিন উৎপাদন করে, এবং সেটা সব সময়ই তার পুষ্টির উপরে নির্ভর করে। আমি যা খাই আদতে আমি তাই।
ম্যান ইজ হোয়াট হি ইট।
বিবর্তন কিভাবে এই বিষয়টাকে প্রভাবিত করে, যদিও ৯৫ শতাংশ জেনেটিক প্রোফাইল মিলছে, যদিও বলা হচ্ছে আজ থেকে ন্যুনতম ১ থেকে ২ লক্ষ বছর আগে মানুষে বাঁদরে তেমন তফাত ছিলো না, প্রকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষ এবং বাঁদর আলাদা দুটি প্রাণীতে রুপান্তরিত হয়েছে। সে রুপান্তরপ্রক্রিয়াটি একমুখী কেনো এটা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে? একটা জীব বিবর্তিত হয়ে নতুন প্রজাতিতে পরিণত হলে সে কেনো পুনরায় পূর্বের প্রজাতিতে ফেরত যায় না, বিবর্তন কেনো এখমুখী এসব নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, কিন্তু বিবর্তনের বাস্তবতা এড়ানো যায় না।
বরং এখন বলা হচ্ছে বিবর্তন একমুখী হলেও সেটা শুরু করবার জন্য কোনো ঐশী অনুপ্রেরণার প্রয়োজন ছিলো। তবে দুঃখের সংবাদ হলো বিশ্বে বিরাজমান প্রাকৃতিক নিয়মাবলী ও শৃঙ্খলা পাল্টে দেওয়ার স্বাধীনতা ইশ্বরের নেই। এমন কি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময়ও ইশ্বরকে পদার্থবিজ্ঞানের বিধি মেনই চলতে হয়েছে। এই বর্তমানের পৃথিবীতে এমন কি একটা অতিক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু যা খুব সহজেই বিচলিত হয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তাকেও সামান্য বিচলিত করবার ক্ষমতা নেই সর্বশক্তিমান ইশ্বরের।
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: প্রকৃতির বিধি কেউ তৈরি করে না, কেউ নিয়ন্ত্রন করে না। বিজ্ঞানীরা এই বিধি উন্মোচন করে, একটা সুষমা কিংবা ধারাবাহিকতা রয়েছে সেটাকে উন্মোচন করা এবং একটা বোধগম্যতা দেওয়া বিজ্ঞানীদের কাজ।
বিধি কি কেউ নির্দিষ্ট করে দেয়?
জীব আর জড়, স্থিতু এবং সচল, সব বস্তুকণার স্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি, বিকাশ ও বিনাশের বিধি প্রাকৃতিক কারণেই- সেখানে মূলত ভুমিকা রাখে শক্তির সাম্যতা শক্তি সঞ্চালন এবং শক্তি সংরক্ষণের বিষয়াদি। শক্তি যেহেতু আমরা উৎপাদন করি না, কিন্তু শক্তি বিনিময়ের বিধি এবং তার গতি প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রন করতে পারাটাই মানুষের ক্ষমতার আওতায় পড়ে।
লেখক বলেছেন: তবে সম্পূর্ণ বিষয়টার জন্য কি আমাদের ইশ্বরের অভিপ্রায় এবং ইশ্বের উপস্থিতি জানবার প্রয়োজন আছে? তার নির্ধারিত বিধান যেটা প্রাকৃতিক পরিবেশে জীব ও উদ্ভিদ, পাহাড় বায়ু এবং গ্রহ নক্ষত্রপূঞ্জের জন্য নির্ধারিত না কি সেটা মানুষের জীবন যাপনের বিধান নির্ধারণের জন্য উৎসর্গীত?
একটা গাছ কোন পরিবেশে বাঁচবে এবং কোন পরিবেশে মারা যাবে, তার জীবন, বিকাশ ও মৃত্যুর জন্য ইশ্বরের অভিপ্রায় কোনো কাজে আসে না।
একজন শিশু বিকশিত হওয়া, পূর্ণবয়স্ক হওয়া এবং কার্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবার ভেতরেও ইশ্বরের কারিগরি কিছু নেই। যারা দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রনের জন্যও ইশ্বর নেই, যারা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাচ্ছে, তাদের জন্যও ইশ্বর নেই।
পাহাড় থেকে পাথর খসে পড়লে কিংবা পাহাড় ধ্বসে মানুষ মারা গেলে যা ঘটে, একই ঘটনা ঘটে যদি সেটা গাছের উপরে পড়ে। পার্থক্য এটুকুই যে মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার নীচের আঘাত আসলে মানুষ সেটা প্রতিরোধ করতে পারে, নিজের ধ্সংস এবং বিনাশ এড়াতে পারে। ইশ্বর এসে বাম কিংবা ডান হাতে পাহাড়ের পাথর খসিয়ে দেন না।
--------------------------------
ধরেন আমি কম্পিউটারে প্রগ্রাম লিখে মহাজগতের একটা মডেল তৈরী করলাম। সেখানেও আমাকে পদার্থ বিদ্যার নিময়গুলো দিতে হবে, যেমন শক্তির ভারসাম্য, মহাকর্ষ ইত্যাদি। হুবুহু মানুষের মডেলও থাকলো তাতে। সেখানে মানুষেরা গবেষনা করে পদার্থ বিদ্যার সূত্রগুলো আবিষ্কার করলো।
এখন বলেন - এই মডেলটা আমি সৃষ্টি করেছি নাকি পদার্থ বিদ্যার সূত্র মতে এমনি এমনি তৈরী হয়েছে।
লেখক বলেছেন: বিষয় স্রষ্টার প্রতি অবিশ্বাসের নয়, বরং আমাদের স্রষ্টা নামক কল্পনার দারস্থ হতে হয় না কি না সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয়াদি বিশ্লেষণের জন্য এটা যাচাই করে দেখা।
আমার নিজের এইসব কল্পনাকে অপ্রয়োজনীয় মনে হয় কারণ আমি যে জগতে বসবাস করি এবং আমার আশে পাশে যা ঘটছে, তার ব্যখ্যা আমাকে বিজ্ঞানের বিধিগুলো দিচ্ছে এবং তার চেয়ে বড় কথা আমি যাচাই করে এসবের সত্যতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।
কতটুকু পর্যন্ত কোনো বিধি সঠিক বিবেচিত হবে সেটার সীমানা নির্ধারণের একটা ক্ষমতা আমার আছে। এবং সেই সীমানা অতিক্রম করে যদি বিধি বেঠিক হয়, সেটা খারিজ করে দেওয়ার স্বাধীনতাও আমার আছে।
ইশ্বর বিশ্বাসীদের সে স্বাধীনতা নেই, বিধি খারিজ করে দেওয়া কিংবা তাদের পুনরায় সজানোর ক্ষমতা বিশ্বাসীদের নেই আপাতত, মানে যারা পুরোনো ধর্মের অনুসারী তাদের কথা এটা।
যারা যুগোপযোগী ধর্ম, কাস্টমাইজড ধর্মে বিশ্বাসী তাদের ইশ্বর এখনও নবীন।
একজন সুখীমানুষ বলেছেন:
অসাধরণ লিখেছেন। মানুষের ধর্ম প্রয়োজন ছিল তখন যখন জ্ঞান বিজ্ঞানের কোন উন্নতি হয় নি। আদিম অসভ্য মানুষদের জন্য ধর্ম প্রয়োজন ছিল, সভ্য মানুষের জন্য নয়। ধর্ম মানুষকে ভালো পথে আনতে চেয়েছে লোভ দেখিয়ে(হুর পরী, বেহেশত) আর ভয় দেখিয়ে(দোজখের আগুনে পোড়ানোর ভয়)। কিন্তু লোভ আর ভয় দেখিয়ে নিয়ত্রন করা যায় ইতর প্রানীকে মানুষকে নয়। মানুষ খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকবে তার বিবেকের তাড়নায় ভয়ে নয়।
------------------------------------------------------------------------
বিবেকের তাড়নাটাও শিখার বিষয়। আপনি কিভাবে বুঝবেন কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ?
বিগত শতাব্দীটা তো আধুনিক যুগের মধ্যেই পরে। অথচ সে সময়েও সতীদাহ ভালো কাজ বলেই বিবেচিত হতো।
এখন যে কাজগুলো ভালো বা খারাপ বলে বিবেচিত হয় তা আসলে মানুষ শিখেছে কোন না কোন ধর্মের কাছ থেকেই।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
আপনার লেখার মূলসুরটির সাথে একমত, তবে কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়লো। জানিয়ে বাধিত করবেন।১. "এতসব বলবার কোনো প্রয়োজনই ছিলো না, যদি না মোদ্দা কথায় ফেরত আসি। জৈবযৌগ বিশিষ্ট এখানেই যে তারা নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে পারে উপযুক্ত অনুকুল পরিবেশে। এবং পুনরূৎপাদন প্রক্রিয়াটা সম্পাদন হচ্ছে নিয়মিতই, উপযুক্ত পুষ্টি এবং রাসায়নিকের উপস্থিতিতে চমৎকার পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়াকে কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের মাহত্ব্য হিসেবে প্রচারিত করছে।"
পুনরুৎপাদন কি জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য? ধরুন মিথেনও তো জৈবযৌগ - কিন্তু এটা পুনরুৎপাদন করে না বলেই জানি। আর আপনার পুনরুৎপাদনের সংজ্ঞা যদি হয় নতুন একটা মলিকিউল সৃষ্টি তাহলে অজৈবযৌগও পুনরুৎপাদী, তাই না?
২. "যদি উপযুক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি না থাকে তবে অলৌকিক ভাবে কোনো প্রোটিন উৎপাদিত হবে না, আপনার শরীরে গরুর প্রোটিনের অংশ পাওয়া যাবে না কখনই যদি আপনি শাকাহারী হন। যদিও আপনি মাংশাসী তবুও বাঘের শরীরে পরিচায়ক প্রোটিন আপনার শরীরে উপস্থিত থাকবে না, যদি আপনি বাঘ মেরে খেয়ে ফেলেন তবে বাঘের প্রোটিণ আপনার শরীরে পাওয়া যাবে, অনথ্যায় আপনি যতই খাওয়া দাওয়া করেন, আপনার শরীরে বাঘের প্রোটিন উৎপাদিত হবে না।"
এই কথাটা ঠিক নয়। অনেক প্রোটিনই বিভিন্ন প্রাণীতে কমন। আমাদের শরীর প্র্রোটিন ভেঙে প্রোটিন নতুন সজ্জায় বানাতে পারে, আর বিবর্তনের জন্য অনেক প্রোটিন অনেকেরই কমন। গরুর রক্তে হিমোগ্লোবিন আছে, ঘাসে হিমোগ্লোবিন নেই। আবার বাঘে হিমোগ্লোবিন আছে। আরো অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়।
৩. "বলা হচ্ছে আজ থেকে ন্যুনতম ১ থেকে ২ লক্ষ বছর আগে মানুষে বাঁদরে তেমন তফাত ছিলো না, প্রকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষ এবং বাঁদর আলাদা দুটি প্রাণীতে রুপান্তরিত হয়েছে।"
এটা একটা বড় বিভ্রান্তি বলে মনে করি।
মানুষ এবং সাধারণ শিম্পাঞ্জির বিবর্তনপথ আলাদা হয়ে গেছে কমপক্ষে চার মিলিয়ন বছর আগে, ছয় মিলিয়ন সাধারণত ধরা হয়ে থাকে। মাত্র ২ লাখ বছর বিবর্তনের জন্য তেমন কিছুই না। হোমো জেনাসগুলো হয়তো ২ লাখ বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলো, এটা সম্পর্কে অবশ্য জানি না, পড়াশোনার অভাব আছে।
লেখায় প্লাস। অপবিজ্ঞানকে ধর্ম ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে - বিজ্ঞান ধর্মের চেয়ে ক্ষমতাবান, তার সাহায্য খোঁড়া জ্যোতিষ থেকে ধর্ম সবারই খুব দরকার।
লেখক বলেছেন: গরুর রক্তে হিমোগ্লোবিন আছে, ঘাসে হিমোগ্লোবিন নেই। আবার বাঘে হিমোগ্লোবিন আছে।-----
মন্তব্য চমৎকার লাগলো।
কিছু সাধারণ ঐক্য আছে, কিন্তু প্রতিটা প্রাণীর নিজস্ব বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট এক শ্রেণীর প্রোটিন তৈরী হয়, যা ঐ প্রাণীর বৈশিষ্ঠ্যসূচক বিবেচিত হতে পারে। মুরগির নির্দিষ্ট চিহ্ন ধারণ করে যে প্রোটিন, সেটা মানব শরীর উৎপাদন করতে পারে না, সেটা মুরগী মেরেই গ্রহন করতে হয়। আর পুষ্টির মাধ্যমে আত্মীকরণ করতে হয় বলেই একটা ইকোসিস্টেম তৈরি হচ্ছে, প্রত্যেকেই যদি স্বাধীন আর স্বয়ম্ভু হয়ে উঠতো তবে খাদ্যচক্র নামক জিনিষটার প্রয়োজন নেই।
বিবর্তনের ধারায় যেসব প্রোটিন সবার ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে সেসব আলোচনায় আসা উচিত, কিন্তু প্রাণী এবং কোষ নিজস্ব জেনেটিক কোডে কতটুকু পর্যন্ত গ্রহন করবে সেটা নির্ধারণ করে। আমি সেটুকুতেই জোর দিতে চেয়েছিলাম আদতে।
--------------------------------------------------------------------------
অজৈব যৌগ পুনরুৎপাদী বিষয়টা বিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায়েই সত্য হয়ে যায়, জৈব অযৌব শ্রেণী বিভাগটা নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষত জীবন্ত প্রাণী যা তৈরি করে নিজস্ব বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় এবং যা গ্রহন করে না সেসবের ব্যবধান হিসেবে। মিথেন উৎপাদন করে কিছু ব্যাকটেরিয়া, সেটার পুনরুৎপাদনও সম্ভব। প্রাণী মৃত্যু বরণ করলে পচনে মিথেন তৈরি হতে হয় তবে নির্ধারিত বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় কি মিথেন উৎপাদন হয়, আমার সঠিক জানা নেই।
---------------------------------------------------------------------------
মূল তর্কের জায়গাটা আসলে ছিলো যে বাস্তবতা হলো পৃথিবীতে আমরা যেসব মৌল ও যৌগ দেখতে পাই তা আলাদা করে সৃষ্টি করতে হয় নি, একটি সুপার নোভা বিস্ফোরণের পরে পৃথিবী এবং সূর্যের সৃষ্টি।
ইশ্বর আলাদা করে পৃথিবী এবং সূর্য সৃষ্টি করেন নি, তিনি বলিলেন হও এবং মহাবিশ্ব তৈরি হয়ে গেলো জাতীয় বুজরুকি এতে নেই। এমন অঘটন প্রতি বছর অন্তত ১ টা ২টা ঘটে, মানে সুপার নোভা বিস্ফোরণের কথা বলছি আমি, সব সময়ই ইশ্বর জলদগম্ভীর স্বরে বলেন না লেট দেয়ার বি লাইট এন্ড দেয়ার ইজ লাইট।
পৃথিবীকে আলাদা করে তৈরী করে সেখানে কীলক হিসেবে পাহার পর্বত গুঁজে দেওয়ার বুজরুকি আর এরপরে একেবারে নিস্প্রাণ একটা পরিবেশে কিভাবে জৈব যৌগের উৎপাদন হলো সে পশ্চাৎভুমিতে এ আলোচনা।
যৌগের বৈশিষ্ঠ্য এমনই, তবে কিছু কিছু যৌগ আছে ,যারা নিজেদের পুনারাবৃত্তি করতে পারে, অনুকুল পরিবেশে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে, সেসব যৌগকে আমি জীবন কি বলবো? না কি এসব অজটিল কাঠামো বলে তাদের জীবন্ত ধারণা করবো না?
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
"বিগত শতাব্দীটা তো আধুনিক যুগের মধ্যেই পরে। অথচ সে সময়েও সতীদাহ ভালো কাজ বলেই বিবেচিত হতো।এখন যে কাজগুলো ভালো বা খারাপ বলে বিবেচিত হয় তা আসলে মানুষ শিখেছে কোন না কোন ধর্মের কাছ থেকেই।"
ভুল। বরং বিভিন্ন যুগের ভালো খারাপকে ধর্ম আত্মীকৃত করেছে। সতীদাহ নিজেই হিন্দুধর্মের প্রথা। নিজে নিজের যুক্তিকে বাতিল করেছেন।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
" সীমন্ত ইসলাম বলেছেন: স্রষ্টার প্রতি অবিশ্বাসও এক ধরনের বিশ্বাস, এক ধরনের কল্পনা। নাস্তিকতাও ধর্মান্ধতার মতো একধরনের গোড়ামী।"কোনদিন শুনবো নিরপরাধ হওয়াও আসলে এক ধরনের অপরাধ
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
"ধরেন আমি কম্পিউটারে প্রগ্রাম লিখে মহাজগতের একটা মডেল তৈরী করলাম। সেখানেও আমাকে পদার্থ বিদ্যার নিময়গুলো দিতে হবে, যেমন শক্তির ভারসাম্য, মহাকর্ষ ইত্যাদি। হুবুহু মানুষের মডেলও থাকলো তাতে। সেখানে মানুষেরা গবেষনা করে পদার্থ বিদ্যার সূত্রগুলো আবিষ্কার করলো।এখন বলেন - এই মডেলটা আমি সৃষ্টি করেছি নাকি পদার্থ বিদ্যার সূত্র মতে এমনি এমনি তৈরী হয়েছে।"
এই মডেলের নির্মাতা (মানুষ) এর মডেল যে বানায় তার মডেল কে বানায়? ওইখানে গিয়ে যুক্তি শেষ কেন?
----------------------------------------------------------------------------
তাহলে একটা কথা তো মানছেন যে এই মডেলের মধ্যে যে নিয়ম কানুন তৈরী করা হয়েছে তা এমনি এমনি তৈরী হয়নি। আমার কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য ছিল এটাই প্রমান করা।
আর আপনি নতুন যে প্রসঙ্গ নিয়ে আসলেন সে বিষয়ে বলি:
কম্পিউটারের মধ্যে যে মডেলি তৈরী হলো, সেখানকার মানুষেরা কি বুঝতে পারবে এই মডেলের সৃষ্টিকর্তা কেমন? কি তার বৈশিষ্ট্য? যদি আমি নিজে এ জ্ঞান মডেলের মানুষের কাছে না দিই তবে তারা কখনোই বুঝতে পারবে না তাদের সৃষ্টিকর্তা কেমন, কে তাকে সৃষ্টি করেছে।
এর অর্থ এই নয় যে মডেলটি আমি সৃষ্টি করিনি।
একই ভাবে বলা যায়, এই বিশ্বজগতের স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য কি তা আমরা বলতে পারবো না। হতে পারে তার জন্য অভিকর্ষ বল প্রোযোজ্য নয়। অভিকর্ষ বল তিনি সৃষ্টি করেছেন তার এই সৃষ্ট জগতের জন্য।
তেমনি ভাবে সৃষ্টি হওয়া কসেপশানটা এই বিশ্বজগতের জন্য। এখানে সব কিছু সৃষ্টি হতে হয়। এভাবেই স্রষ্টা একে তৈরী করেছেন। হয়তো তার জন্য সৃষ্টি হবার প্রয়োজন পরে না।
ফারুক৫৫ বলেছেন:
"যদিও আপনি মাংশাসী তবুও বাঘের শরীরে পরিচায়ক প্রোটিন আপনার শরীরে উপস্থিত থাকবে না, যদি আপনি বাঘ মেরে খেয়ে ফেলেন তবে বাঘের প্রোটিণ আপনার শরীরে পাওয়া যাবে, অনথ্যায় আপনি যতই খাওয়া দাওয়া করেন, আপনার শরীরে বাঘের প্রোটিন উৎপাদিত হবে না।"এইরকম বহু গোজামিলে ভরা এই প্রবন্ধ। যতই বাঘের মাংস খান , বাঘের প্রটিন আপনার শরীরে পাওয়া যাবে না। কারন বাঘের প্রটিন খাদ্য নালীতে ভেঙ্গে এমাইনোএসিড হওয়ার পরে তা শরীর গ্রহন করতে পারে। সোজাসুজি প্রটিন শরীর গ্রহন করতে পারে না।
লেখক বলেছেন: এমাইনো আসিড যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন সেটার সিগনেচার নাম্বার কি বদল হয়?
ধরেন আপনি প্রাণীর চর্বি দিয়ে সাবান বানালেন, আর আপনি সয়াবীন দিয়ে সাবান বানালেন, সম্পূর্ন প্রক্রিয়াটাই একই বিক্রিয়া, কিন্তু দুটোতে কি কার্বন চেইনে পার্থক্য থাকবে না?
সেই পার্থক্যকে কি আলাদা করে যাচাই করা সম্ভব?
জৈব যৌগের বিক্রিয়াগুলোর কিছু আছে যা সকল যৌগের জন্য সাধারণ। সেটা তাদের শ্রেনী বিন্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় বলা যায়, সঠিক পরিভাষার অভাবে বিষয়টা প্রকাশ করতে সমস্যা হতে পারে কিংবা বুঝাতে সমস্যা হতে পারে আমার, এলডিহাইড গ্রুপের বিক্রিয়াগুলো সকল এলডিহাইড গ্রুপের সদস্যরাই অংশগ্রহন করে, একই যৌগ গঠন করে, প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াটা একই।
কিটোন যা করে তা সকল কিটোন এক সাথেই করে, গ্লিসারল যা করে তা সকল গ্লিসারলই করে, এমন ভাবে এমাইনো এসিড যা করে, এসব সকল এমাইনো এসিডই করে।
কোনোটার কার্বন চেইন ২৫ কোনোটার ৫০, তাতে বিক্রিয়ার ধরণ বদলায় না, বৈশিষ্ঠ্যসূচক হচ্ছে এই চেইনের গঠন এবং অণুর সংখ্যা।
ফারুক৫৫ বলেছেন:
আরো পড়ুন তাহলে জানবেন জৈব পদার্থ কত জটিল , যা উপযুক্ত পরিবেশে নিজে নিজে হওয়া সম্ভব না।
লেখক বলেছেন: আপনার বিশ্বাস ভালো লাগলো, বিশ্বাসের জয় হোক।
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
@ফারুক৫৫- খাদ্যনালীতে প্রোটিন ভেঙ্গে এ্যমিনো এসিড তৈরী হয়???সারা জীবন জ্যুলজি পড়েও তো এরকম কোনো কথা শুনলাম না? প্লিজ রেফঃ দিবেন?
লেখক বলেছেন: খাদ্য নালীতে না হলেও কোষের ভেতরে ঘটে। খাদ্যনালীতে কি কোষ থাকে না?
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
উঁহু বস, খাদ্য নালীর কোষ প্রাপ্ত পুস্টি এ্যবসর্ব করার জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুই প্রোটিনের ব্যবহার করে। মুলতঃ পাকস্থলীতে খাদ্যবস্তু গুলা বিভিন্ন এসিড, এনজাইমের উপস্থিতিতে মন্ডে পরিণত হয় এবং কিছুটা সরল হয়ে রক্তে গ্রহীত হয়। রক্ত এই পুস্টিদ্রব্য গুলো নিয়ে যায় যকৃতে, যেখানে মূল বিপাক কার্য সম্পন্ন হয়, এবং সরল খাদ্য ভেঙ্গে আরো সরলীকৃত হয়।যেমন ধরেন ফলে আছে ফ্রুক্টোজ। আমরা খাইতেছি সলিড ফর্মে। খাদ্যনালী দিয়া এটি নাইমা গেলো পাকস্থলীতে। ঐখানে গিয়া এটি মন্ডে পরিনত হৈলো। এই মন্ডের যে রস তৈরী হৈলো। সেডি ক্ষুদ্র ও বৃহাদান্ত্রের ভিত্রে দিয়ে শোষিত হৈয়া রক্তে যাইতেছে। যকৃতে গিয়া এই ফ্রুক্টোজ ভাইঙ্গা গ্লুকোজে পরিণত হৈতেছে।
[ফ্রুক্টোজ টু গ্লুকোজ সমীকরনটা স্টেপ বাই স্টেপ ভুইলা গেসি। মনে পড়লে দিমুনে]
লেখক বলেছেন: সময় নেন, বিপাকীয় ক্রীয়া জটিল একটা বিষয়, কিন্তু অলৌকিক না এইটা নিয়া একটা লেখা দিয়া দেন।
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
মাথায় থাকলো। বই পত্র ঘাটা শুরু করবো আজকে থেকেই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















-----------------------------------------------------------------------------
পদার্থ বিজ্ঞানের বিধি কি বিজ্ঞানীদের সৃষ্টি করা? যে বিধিগুলোর বন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে এ জগত, বিজ্ঞান তো শুধু সেই বিধিগুলোকে খুজে বের করার একটা পদ্ধতি মাত্র। এই বিধিগুলো এলো কিভাবে - তার উত্তর কি বিজ্ঞান দিতে পরেছে?
অন্য ধর্মের কথা জানি না, তবে কোরআনের একটা আয়াত মনে পড়ছে - "স্রষ্টার সৃষ্টিতে কোথাও নিয়মের ব্যতিক্রম দেখতে পাবে না"