মানুষ শিকারের উত্তেজনা পেতে কতটুকু নীচে মানতে পারে এমন একটা উদাহরণ এসেছিলো কোনো একটা গল্পে, যেখানে একজন নিরস্ত্র মানুষকে শিকার করতে যায় একজন অস্ত্রধারী।
এমনই গল্প নিয়ে সিনেমা হয়েছে, একদল অসহায় মানুষ নিশ্চিত জানে যেকোনো মুহূর্তেই মৃত্যু হানা দিতে পারে এবং তারা এটাকে কোনভাবেই এড়াতে পারবে না। সুতরাং তাদের ভেতরে একটা অদ্ভুত অসারতা কাজ করে।
বাংলাদেশের পুলিশ, আর্মি এবং র্যাবের বিষয়েও এমন কথাই বলা যায়, তারা নিয়মিত নিরস্ত্র মানুষ শিকার করছে, নির্বাচনী ওয়াদা এবং মানবাধিকার রক্ষার বানী তেমন কাজে আসছে না। বিচারবহির্ভুত অত্যাচার এবং অনাচার চলছেই।
ইদানিং ঠিক তেমন ভাবে ক্রস ফায়ার হচ্ছে না, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুই জন ছেলেকে খুন করবার ঘটনার পরে র্যাব সামান্য সতর্ক, তবে তাদের নির্বাহী অফিসারদের বক্তব্য শুনে মনে হবে তারা ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না।
পুলিশ কয়েক দিন নিয়মিত মানুষকে ধরে নিয়ে হাতে পায়ে গুলি করে ফেলে রেখে যাচ্ছে , নিরীহ সব মানুষ, যাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেই, এমন কি একজনের বিরুদ্ধে একই দিনে ৫টা মামলা করা হয়েছে, একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা করেছে অন্য এক মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ অম্লান বদনে স্বীকার করলো প্রতিটা মামলাই ভুয়া কিন্তু এইসব অভিযোগ কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই আসামীকে আটক করে রগড়ে দেওয়ার আনন্দ মাটি করবে কেনো পুলিশ?
র্যাব গত পরশু ৪জনকে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে, একজন মারা গেছে। সেই একই গল্পের ভিন্নরূপ, ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা আড়াল থেকে গুলি করে এবং প্রতিটা গুলিই আহতদের পায়ে বিদ্ধ হয়।
গুলির সাথে আগ্নেয়াস্ত্রে মিল খুঁজে দেখলে দেখা যাবে পরিত্যাক্ত কোনো অস্ত্র নয়, বরং গুলিগুলো করা হয়েছে র্যাবের অস্ত্র দিয়েই।
আইনশৃঙ্খলারক্ষী বাহিনী সব দেখেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে থাকে, তবে বাংলাদেশে এটার প্রকোপ অনেক বেশী। এখানে অনেকেই আছে যাদের অস্তিত্ব এবং অনস্তিত্ব তেমন বড় কোনো আলোচনার জন্ম দেয় না। সুতরাং এইসব নামপরিচয়বিহীন মানুষদের গুম করে ফেললে তেমন বড় প্রতিরোধ আসবে না। এদের সাথে যদি প্রতি মাসে একটা করে সন্ত্রাসীকে খুন করা হয় তবে সংবাদপত্রের গুণে যে সন্ত্রাসী পরিচিত হলে ভালো, অপরিচিত সন্ত্রাসীদেরও সংবাদপত্রে প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হবে, যেনো এই ভয়ংকর ব্যক্তিটিকে খুন করে র্যাব কিংবা পুলিশ দেশ ও জাতির প্রতি ভয়ঙ্কর বড় রকমের একটা সদবিচার করেছে।
র্যাব মানুষ বুঝে ক্রস ফায়ার করে, এখন সম্ভবত পরিচিত মুখ হওয়ার সুবিধা আছে। পরিচিত মানুষদের হঠাৎ করে গুম করে ফেলা কিংবা তাদের ধরে ক্রস ফায়ারে ফেলে দেওয়া সম্ভব না। একজন করিমকে যতটা সহজে ক্রস ফায়ারে হত্যা করা সম্ভব, একজন পিন্টুকে সেভাবে হত্যা করা সম্ভব নয়, যদিও দেখা যাবে অপরাধ বিবেচনায় পিন্টু করিমের তুলনায় ভয়াবহ একজন সন্ত্রাসী এরপরও একজন সাংসদকে ধরে ক্রস ফায়ারে ফেলানোর মতো অর্বাচীন এবং মুর্খ র্যাব নয়।
ড্রাগপেডলারদের হত্যা করে অনেক দেশের পুলিশ, বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা করে সামরিক সরকার, গণতান্ত্রিক সরকার হত্যা করে কিংবা বিনা বিচারে আটকে রাখে কারাগারে, এবং রাষ্ট্র সদলবলে বিপ্লবীদের নিধন করে। এটা সকল রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে সত্য- মানবাধিকার ডাক দিয়ে মায়াকান্না কাঁদা সকল রাষ্ট্রের পুলিশই একই অপরাধে অপরাধী। কিন্তু আমাদের দেশের এই অবিচার কিংবা বিচারবিহীন অনাচার দেখে এই মুহূর্তে একটাই সমাধান মাথায় আসছে
র্যাবের বিলুপ্তিই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো সমাধান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

