র্যাবের গুলিতে আহত ৩জনের প্রতি সমবেদনা
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:২৬
মানুষ শিকারের উত্তেজনা পেতে কতটুকু নীচে মানতে পারে এমন একটা উদাহরণ এসেছিলো কোনো একটা গল্পে, যেখানে একজন নিরস্ত্র মানুষকে শিকার করতে যায় একজন অস্ত্রধারী।
এমনই গল্প নিয়ে সিনেমা হয়েছে, একদল অসহায় মানুষ নিশ্চিত জানে যেকোনো মুহূর্তেই মৃত্যু হানা দিতে পারে এবং তারা এটাকে কোনভাবেই এড়াতে পারবে না। সুতরাং তাদের ভেতরে একটা অদ্ভুত অসারতা কাজ করে।
বাংলাদেশের পুলিশ, আর্মি এবং র্যাবের বিষয়েও এমন কথাই বলা যায়, তারা নিয়মিত নিরস্ত্র মানুষ শিকার করছে, নির্বাচনী ওয়াদা এবং মানবাধিকার রক্ষার বানী তেমন কাজে আসছে না। বিচারবহির্ভুত অত্যাচার এবং অনাচার চলছেই।
ইদানিং ঠিক তেমন ভাবে ক্রস ফায়ার হচ্ছে না, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুই জন ছেলেকে খুন করবার ঘটনার পরে র্যাব সামান্য সতর্ক, তবে তাদের নির্বাহী অফিসারদের বক্তব্য শুনে মনে হবে তারা ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না।
পুলিশ কয়েক দিন নিয়মিত মানুষকে ধরে নিয়ে হাতে পায়ে গুলি করে ফেলে রেখে যাচ্ছে , নিরীহ সব মানুষ, যাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেই, এমন কি একজনের বিরুদ্ধে একই দিনে ৫টা মামলা করা হয়েছে, একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা করেছে অন্য এক মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ অম্লান বদনে স্বীকার করলো প্রতিটা মামলাই ভুয়া কিন্তু এইসব অভিযোগ কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই আসামীকে আটক করে রগড়ে দেওয়ার আনন্দ মাটি করবে কেনো পুলিশ?
র্যাব গত পরশু ৪জনকে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে, একজন মারা গেছে। সেই একই গল্পের ভিন্নরূপ, ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা আড়াল থেকে গুলি করে এবং প্রতিটা গুলিই আহতদের পায়ে বিদ্ধ হয়।
গুলির সাথে আগ্নেয়াস্ত্রে মিল খুঁজে দেখলে দেখা যাবে পরিত্যাক্ত কোনো অস্ত্র নয়, বরং গুলিগুলো করা হয়েছে র্যাবের অস্ত্র দিয়েই।
আইনশৃঙ্খলারক্ষী বাহিনী সব দেখেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে থাকে, তবে বাংলাদেশে এটার প্রকোপ অনেক বেশী। এখানে অনেকেই আছে যাদের অস্তিত্ব এবং অনস্তিত্ব তেমন বড় কোনো আলোচনার জন্ম দেয় না। সুতরাং এইসব নামপরিচয়বিহীন মানুষদের গুম করে ফেললে তেমন বড় প্রতিরোধ আসবে না। এদের সাথে যদি প্রতি মাসে একটা করে সন্ত্রাসীকে খুন করা হয় তবে সংবাদপত্রের গুণে যে সন্ত্রাসী পরিচিত হলে ভালো, অপরিচিত সন্ত্রাসীদেরও সংবাদপত্রে প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হবে, যেনো এই ভয়ংকর ব্যক্তিটিকে খুন করে র্যাব কিংবা পুলিশ দেশ ও জাতির প্রতি ভয়ঙ্কর বড় রকমের একটা সদবিচার করেছে।
র্যাব মানুষ বুঝে ক্রস ফায়ার করে, এখন সম্ভবত পরিচিত মুখ হওয়ার সুবিধা আছে। পরিচিত মানুষদের হঠাৎ করে গুম করে ফেলা কিংবা তাদের ধরে ক্রস ফায়ারে ফেলে দেওয়া সম্ভব না। একজন করিমকে যতটা সহজে ক্রস ফায়ারে হত্যা করা সম্ভব, একজন পিন্টুকে সেভাবে হত্যা করা সম্ভব নয়, যদিও দেখা যাবে অপরাধ বিবেচনায় পিন্টু করিমের তুলনায় ভয়াবহ একজন সন্ত্রাসী এরপরও একজন সাংসদকে ধরে ক্রস ফায়ারে ফেলানোর মতো অর্বাচীন এবং মুর্খ র্যাব নয়।
ড্রাগপেডলারদের হত্যা করে অনেক দেশের পুলিশ, বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা করে সামরিক সরকার, গণতান্ত্রিক সরকার হত্যা করে কিংবা বিনা বিচারে আটকে রাখে কারাগারে, এবং রাষ্ট্র সদলবলে বিপ্লবীদের নিধন করে। এটা সকল রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে সত্য- মানবাধিকার ডাক দিয়ে মায়াকান্না কাঁদা সকল রাষ্ট্রের পুলিশই একই অপরাধে অপরাধী। কিন্তু আমাদের দেশের এই অবিচার কিংবা বিচারবিহীন অনাচার দেখে এই মুহূর্তে একটাই সমাধান মাথায় আসছে
র্যাবের বিলুপ্তিই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো সমাধান।
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: র্যাব নিজের মতোই কাজ করছে এবং নিরীহ মানুষকে মারছে, আপনার কি ধারণা অন্য কেউ র্যাবকে উস্কে দিচ্ছে এ কাজ করতে।
র্যাব এখন বাংলাদেশে অন্যসব ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের বিকল্প, প্রভাবশালী কেউ অন্য কাউকে তেমন কিছু করতে না পারলে র্যাবের পরিচিত মানুষকে দিয়ে হুমকি দেয়, প্রয়োজনে শক্তি প্রদর্শন করে। এটা র্যাবের নিজস্ব অবকাঠামোর সমস্যা। এবং ক্ষমতার অনৈতিক ব্যবহার।
রাজর্ষী বলেছেন:
আইন আদালত বন্ধ করতে হবে নতুবা র্যাব। দুটোর কোন দরকার নাই একসাথে।
শয়তান বলেছেন:
আগে ছিল কেবল চুয়ান্ন ধারা . এরপর আইলো র্যাব । গোদের উপর বিষ ফোঁড়া । এত সহজে এরা যাইবো না ।
ত্রিভুজ বলেছেন:
ওয়েল সেইড রাজর্ষী। তবে আইন আদালত যেহেতু কোন কাজে আসছে না ঐটা বন্ধ করে পুরাদমে র্যাব চালু করা যাইতে পারে। আমরা সবাই তখন পিস্তল নিয়া ঘুরুম... ওয়েস্টার্ন ওয়েস্টার্ন একটা ভাব নিয়া...
সাধারণমানুষ বলেছেন:
র্যাবকে তাদের নিজেদের মত কাজ করতে দিন, তাহলেই আলো দেখা যাবে আকাশে।
অলস ছেলে বলেছেন:
ফিরিয়ে দাও অরণ্য
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















আমি জানি না, আপনি ঢাকার কোন এলাকায় বসবাস করেন, তবে আমি জানি, তখন কেমন লাগতো যখন ঘরে বসে সশস্ত্র সন্ত্রাশের হানাহানি শুনতে হতো। ভয়ে থাকতে হতো কখন ঘরে বসেই প্রাণ দিতে হয় বাইরের একটা বুলেটের আঘাতে।
র্যাবের প্রতিষ্ঠা, ক্রসফায়ার এই সন্ত্রাসকে অনেকটুকু নির্মূল করেছিল। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছিলো, বেশির ভাগ সন্ত্রাস ছিল ফোন নির্ভর বা চ্যালা নির্ভর। এলাকা এলাকা হানাহানি কমেছিলো অনেকটা।
র্যাবের প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি সরকারের আগ পর্যন্ত তথ্যগুলো দেখলে খেয়াল করবেন, এতে কিন্তু তৎকালীন সরকারী দলেরই সন্ত্রাসীরা নিহত হয়েছে বেশি, তবুও তারও মাঝে কিছু নিরীহ প্রাণ বলিদান হয়েছে।
কিন্তু ইদানীং যেন হয়ে গেছে তা পুতুল খেলা। পত্রিকায় রিপোর্ট আসে, দৈনিক গড়ে ২ জন ক্রসফায়ারে নিহত। আর এর মধ্যে দেখা যায়, নিরীহ দের বলিদান চলছে বেশি।
ব্যাপারটা কেমন যেন গোলমেলে হয়ে যায়, একদিকে বিদেশ থেকে আদেশ আসে র্যাব বন্ধ করার, আর অন্যদিকে ক্রসফায়ার বৃদ্ধি এবং সাথে নিরীহ প্রাণের পরিমাণও। যেখানে, বিএনপি আমলে ছিল হাতে গোনা নিরীহ প্রাণ। হিসেবে মিলে আসে পুরো ছক র্যাবকে বিলুপ্ত করার, আর আপনাদের হয়ে উঠে পোয়াবোরা।
আমি চাইনা, আবার আমার বাড়ির আশেপাশে শুরু হোক অস্ত্রের ঝণঝনানী, আবার চাইনা, এই নিরীহ মানুষের বলিদান।
র্যাবকে তাদের নিজেদের মত কাজ করতে দিন, তাহলেই আলো দেখা যাবে আকাশে।