আল তাবেরী, ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ঐতিহাসিক যিনি ইসলামের ইতিহাসের একটা সংকলন করেছিলেন। সম্ভবত তার ইতিহাসকে লিখিত ইতিহাস বলা যায় না, বরং বলা যায় প্রচলিত তথ্যগুলোকে একত্র করে রাখবার একটা প্রয়াস । কোথাও তার কোনো বক্তব্য নেই, প্রতিটা প্রচলিত ঘটনারই বর্ণনা সেখানে আছে।
কোনোটা বেশী বিশ্বাসযোগ্য কোনোটা কম। হয়তো সকল ঘটনাই বাস্তব নয় বরং এদের কিছু কিছু অংশ সত্যি।
মুহাম্মদের দাদা আব্দুল মুত্তালিব শপথ করেছিলেন যদি তার ১০ ছেলেই যুবক হয় তবে তাদের একজনকে তিনি বলি দিবেন। যখন তারা সবাই যুবক হলো তখন তিনি দুশ্চিন্তায় পড়লেন- ১০ জনের কাকে তিনি বলি দিবেন।
কা'বা প্রাঙ্গনে ছিলো হুবালের উঁচু মুর্তি। যখনই মক্কাবাসী সংশয়াচ্ছন্ন হতো তখন তারা ১০০ দিহরাম, কোরবানীর পশু এবং যা নিয়ে সংশয় সেটা নিয়ে উপস্থিত হতো সেই দেবতার পূজারীর কাছে।
হুবালের পাশে ৭টা তীর রাখা থাকতো, সেখানের লিখিত বক্তব্যই চুড়ান্ত বলে মেনে নিতো তারা।
সুতরাং সংশয়াচ্ছন্ন মুত্তালিব হাজির হলো দেবতা হুবালের কাছে, তার সাথে তার ছেলেরা এবং বলির উট এবং ১০০ দিহরাম।
যখন লটারি করা হলো তখন তীরটা পড়লো আব্দুল্লাহর পাশে, সুতরাং লটারিতে নাম উঠলো আব্দুল্লাহর। তাকেই বলি দিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আব্দুল মুত্তালিব বলির স্থানে নিয়ে উপস্থিত হলেন।
সে সময়েই জটলা ভেঙে উঠে আসলো কোরাইশ গোষ্ঠি এবং আব্দুল্লাহর মা। তারা বললো এটা করা কোনোভাবেই উচিত হবে না, বরং আপনি অন্য কোনো সমাধান খুঁজে দেখেন।
আব্দুল মুত্তালিব তার ছেলে এবং অন্যান্য কোরাইশদের পরামর্শ অনুযায়ী আব্দুল্লাহকে নিয়ে গেলেন হিজাজে। সেখানের এক ডাকিনীর কাছে।
ডাকিনীর কাছে উপস্থিত হয়ে আব্দুল মুত্তালিব তার সংকটের কথা পেশ করলেন, তা শুনে ডাকনী বললো আজ আমার পক্ষে এটার নিরসন করা সম্ভব হবে না, আপনার বরং কাল সকালে এখানে উপস্থিত হন, তখন এটার সমাধান আমি দিতে পারবো।
পরদিন সকালে আব্দুল মুত্তালিব যখন উপস্থিত হলেন ডাকিনীর কাছে, ডাকিনী সমাধান দিলো-
পুনরায় সন্তানকে নিয়ে হুবালের মুর্তির সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এক পাশে ১০টা উট এবং অন্য পাশে আব্দুল্লাহকে রাখবেন, প্রতিবার তীর ছুঁড়বার পরে যদি সেটা আব্দুল্লাহর পাশে পড়ে তবে বলির উটের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন।
এভাবে যখন বলির উটের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১০০ তখন তীর পড়লো উটগুলোর পাশে, সুতরাং এটা নিশ্চিত হলো এখন আব্দুল্লাহর বদলে ১০০ উট কোরবানী দিলেও হবে।
তবে আব্দুল মুত্তালিব নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরপর ৩বার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন।
আব্দুল মুত্তালিব তখন ছেলেকে নিয়ে কা'বা প্রাঙ্গন ত্যাগ করে যাচ্ছিলেন তখনই তার সাথে দেখা হলো উম্মে কাত্তাল বিনতে নওফলের সাথে। উম্মে কাত্তাল আব্দুল্লাহর মুখের দিকে তাকিয়ে বললো যদি তুমি আমার সাথে সঙ্গমে রাজী থাকো তবে তোমার নামে যতগুলো উট কোরবানী হয়েছে আমি সে পরিমাণ উট তোমাকে দিবো।
প্রত্যুত্তরে আব্দুল্লাহ তাকে জানালো- আমি এখন আমার বাবার সাথে আছি, আমি তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে পারবো না কিংবা তাকে ত্যাগ করতে পারবো না।
আব্দুল মুত্তালিব তাকে নিয়ে গেলেন এবং আমিনার সাথে বিবাহ দিলেন। আব্দুল্লাহ বিবাহের পরপরই আমিনার সাথে মিলিত হলেন, পরের দিন যখন আব্দুল্লাহ ফিরছিলো, তার সাথে পুনরায় দেখা হলো উম্মে কাত্তালের। আব্দুল্লাহ তাকে বললেন, তুমি গতকাল আমাকে যে প্রস্তাব দিয়েছিলে সেটা কি এখন পুরণ করা সম্ভব?
প্রত্যুত্তরে উম্মে কাত্তাল জানালো, গতকার তার চেহারায় যে দেবকান্তি ছিলো সেটা আজ আর নেই , সুতরাং তার প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া এখন তার পক্ষে সম্ভব নয়।
এই ঘটনার ভিন্ন একটা উপস্থাপন আছে-
আব্দুল্লাহ যখন বাইরে থেকে ফিরে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চাইলেন, তখনও তার শরীরে কাদা লেগে আছে, সুতরাং তার স্ত্রী তাকে বললো , যাও হাতমুখ ধুয়ে আসো।
আব্দুল্লাহ হাতমুখ ধুয়ে তার অন্য স্ত্রী আমিনার ঘরে গিয়ে তার সাথে মিলিত হলো।
পুনরায় যখন তার সাথে প্রথম স্ত্রীর দেখা হলো তখন প্রথম স্ত্রীকে মিলিত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরে সে স্ত্রী তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো।
এই ঘটনার তৃতীয় একটা বয়ান আছে-
আব্দুল মুত্তালিব যখন আব্দুল্লাহকে নিয়ে যাচ্ছিলো আমিনার বাসায়, পথিমধ্যে তাদের সাথে একজন ভবিষ্যতবেত্তা মহিলার দেখা হলো।
ভবিষ্যতবেত্তা মহিলা আব্দুল্লাহকে প্রস্তাব দিলেন, তুমি কি আমার সাথে মিলিত হবে?
আব্দুল্লাহ জানালো, আমি আমার বাবার সাথে যাচ্ছি, আমি তার ইচ্ছার বিরোধিতা করতে পারবো না, এমন কি তাকে ত্যাগ করতে পারবো না।
সুতরাং আব্দুল্লাহ আমিনাকে বিবাহ করিলেন এবং তিন দিন সেখানে থাকলেন, পরে যখন তিনি ফিরে আসছিলেন, তখন পুনরায় সেই ভবিষ্যতবেত্তার সাথে তার দেখা হলো।
তিনি বললেন তুমি আমাকে যে প্রস্তাব দিয়েছিলে, সেটা কি এখন পুরণ করা সম্ভব।
সে মহিলা এর উত্তরে জানালো, তোমার চেহারায় যে দেবকান্তি ছিলো সেটা এখন অনুপস্থিত। কিছু মনে করো না, আমার চরিত্রের দোষ নেই, বরং তোমার চেহারার দেবকান্তি আমি আমার গর্ভে ধারণ করতে চেয়েছিলাম, সেটা যখন নেই তখন আর সে প্রস্তাবে সম্মত হয়ে লাভ নেই আমার।
আল ওয়াকিদির বয়ান হলো, আব্দুল মুত্তালিব এবং আব্দুল্লাহ উভয়েই নিজেদের স্ত্রীর খোঁজে রওনা দিয়েছিলেন, এবং আব্দুল মুত্তালিব হালাহ বিনতে উয়াহেব এবং আব্দুল্লাহ আমিনা বিনতে ওহাবের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
সিরিয়া থেকে ফিরবার পথে আব্দুল্লাহ অসুস্থ অবস্থায় মদীনায় যাত্রা বিরতি করেন এবং সেখানেই মৃত্যু বরণ করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


