somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... যেভাবে পরাজিত হয় সাধারণ মানুষের শুভবোধ
আজ প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচারকের বেঞ্চ আজ চুড়ান্ত রায় দিয়েছে , সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ভাষ্যানুসারে সুপ্রীম কোর্টের অভিমত

"ধর্মীয় বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া যেতে পারে, তবে যথাযথ শিক্ষিত ব্যক্তি তা দিতে পারবে। আর ফতোয়া গ্রহণের বিষয়টি হতে হবে স্বতস্ফূর্ত। এর মাধ্যমে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া যাবে না। এমন কোনো ফতোয়া দেওয়া যাবে না, যা কারো অধিকার ক্ষুন্ন করে। "

যেকোনো ধর্মীয় বিষয়েই ফতোয়া কিংবা অভিমত প্রদানের দস্তুর থাকলেও বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে "ফতোয়া'র শিকার মূলত সামাজিক ক্ষমতাহীন নারী। নারীর সামাজিক নির্যাতনের বৈধতা প্রদান হয়তো সুপ্রীম কোর্টের চুড়ান্ত লক্ষ্য ছিলো না কিন্তু অতীত উদাহরণগুলো পর্যালোচনা করে কেউ যদি ফতোয়ার ধারাবাহিক বিবর্তন যাচাই করে দেখতো তাহলে সেখানে নারী নির্যাতনের একটি নির্দিষ্ট প্রবনতা তারা লক্ষ্য করতো।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এবং সামাজিক বিধি ও অনুশাসন নারী এবং মানবাধিকার বিরোধী, আমাদের সমাজের ভেতরে এভাবেই নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপট নির্মিত হয়। গত কয়েক মাসের দৈনিক পত্রিকায় নারীর উপর পারিবারিক নির্যাতনের বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারী নিহত হয়েছেন।

পারিবারিক কলহ, যৌতুক কিংবা যৌন অবিশ্বস্ততার দায়ে এভাবে কাউকে হত্যা করবার বৈধতা রাষ্ট্রীয় আইনে না থাকলেও আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ তাকে বৈধতা দিয়েছে। এমন নিরব নিস্পৃহ সামাজিক স্বীকৃতির কারণে নির্যাতিত নারীদের অধিকাংশই তাদের উপরে নির্যাতনের কোনো প্রতিকার চাইতে পারেন না কিংবা প্রতিকার চাইবার প্রক্রিয়াটিকে সামাজিক ভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়, এমন সামাজিক কাঠামোতে ফতোয়া বিষয়ক ধ্যানধারণার অসহায় শিকার নারী হলেও তার বিরোধিতা করে ১০ বছর আগে হাইকোর্ট যে রায় প্রদান করেছিলো তার বিপরীতে সুপ্রীম কোর্টের প্রদত্ত রায় নিশ্চিত করলো গত এক দশকে আমাদের কোনো সামাজিক অগ্রগতি সাধিত হয় নি। এ রায় আমাদের সামাজিক প্রগতির বিপরীত সংবেদ দিলেও সেটা বর্তমানের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ফতোয়া বিষয়ক অবস্থানকেই পূনব্যক্ত করেছে।

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ভাবে ফতোয়াবিরোধী নয়, তারা সব সময়ই শিক্ষিত এবং উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে ফতোয়া প্রদানের অধিকার সমর্পন করতে আগ্রহী, যদিও ফতোয়া প্রদানকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো নীতিমালা সুপ্রীম কোর্ট কিংবা আওয়ামী লীগ ঘোষণা করে নি।

দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের চাওয়া আওয়ামী লীগ ধররনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ধারার উত্তরসুরী হিসেবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করবে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ভোটের রাজনীতিতে এমন ধরমনিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহনে অনাগ্রহী, শুভাকাঙ্খী এবং পরামর্শকদের অগ্রাহ্য করেই তারা ধর্মাবনত রাজনৈতিক মতবাদের চর্চা অব্যহত রেখেছে।

যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করছে তাদের সাথে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচীর প্রধানতম পার্থক্য হলো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো কোরান ও সুন্নাহভিত্তিক শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে চায়, এ বিষয়ে স্পষ্ট দাবী জানায় এবং সে দাবীর পক্ষে জনমত সংগঠিত করে। আওয়ামী লীগ এ দাবীতে ততটা সরব না হলেও তারা ধর্মকে রাজনীতির অংশ করে তুলেছে , তারা দেশের মানুষের কোমল ধর্মানুভুতিকে আহত না করে বরং এই ধর্মানুভুতিকে তোয়াজ করবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের নাগরিককে প্রকৃত ধররনিরপেক্ষতার সংবেদ দেওয়া কিংবা তাদের অভ্যস্ত করে তুলবার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে অনীহ আওয়ামী লীগ ধর্মকে রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে দিতে আগ্রহী।

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনের পক্ষে নয়, কিন্তু ফতোয়ার মূল শিকার কথিত " যৌন অবিশ্বস্ত নারী" এবং ব্যাভিচারী দুর্বল ও সামাজিক ক্ষমতাহীন পুরুষকে প্রকাশ্য নির্যাতনের স্পষ্ট বিরোধিতাও তারা করতে অনাগ্রহী। তারা সামাজিক কল্যানের নামে এমন সামাজিক নিগ্রহের পক্ষপাতি, তাদের ধারণা এতে বাংলাদেশের ধর্মভীরু নাগরিকদের ধর্মীয় মূল্যবোধের স্পষ্ট প্রকাশ ঘটে

আওয়ামী লীগ যদিও নিজেদের কাগুজে ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী কিন্তু তারাও ধারণা করছে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু এবং তারা ধর্মের নামে সামাজিক নির্যাতনের সমর্থক।

এমন রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অবস্থান একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার জন্য অপমানজনক। আমি এর প্রতিবাদ করলেও সে প্রতিবাদ ক্ষমতাবানদের কর্ণকূহরে প্রবেশ করবে না।

উচ্চ আদালত আওয়ামী লীগের ফতোয়া বিষয়ক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করে মূলত নিজেদের একই সামাজিক মতের অনুসারী প্রমাণ করলেন। তারাও এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত করলেন যে বাংলাদেশের নাগরিকেরা সামাজিক নিগ্রহন সমর্থন করেন কিংবা তাদের ধারণা এ মতই সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্য এবং এর বিরোধিতা করা অনুচিত।

হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্পষ্ট রায় প্রদান করেছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরোকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, যদিও অন্তর্বর্তী কালীন ব্যবস্থা হিসেবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী দুটো নির্বাচন পরিচালনার পক্ষপাতী তবে তারা রায় দিয়েছে প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা যাবে না, এতে হাইকোর্টের উপরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পাবে।

উচ্চ আদালত মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাইছে, নারীবাদীদের অভিমত যেসব রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক সেখানে মানবাধিকার মূলত পুরুষাধিকারের প্রতিষ্ঠা, পুরুষের অধিকার নিশ্চিত করাটাই সেখানে মানবাধিকার নিশ্চিত করবার প্রক্রিয়া বিবেচিত হয়। এবং ফতোয়া বিষয়ক ফতোয়াতে সুপ্রীম কোর্টের ছয় জন বিজ্ঞ বিচারপতি সে আশংকাকেই সত্য প্রমাণিত করলেন।

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা যুগান্তকারী রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করলেও সংশোধিত সংবিধান সকল সংশোধনীকে আমলে আনবে না। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি নিজেদের ভেতরে আলোচনা পর্যালোচনা শেষ করে দেশের সুশীল সমাজ ও প্রাক্তন বিচারপতিদের মতামত গ্রহন করেছিলো, সেখানে আমার মতামত প্রদানের অধিকার নেই, এমন কি সাধারণ নাগরিক মতামত যাচাইয়ের কোনো প্রক্রিয়াও তারা গ্রহন করে নি। দেশের সুশীল সমাজ এবং হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিজ্ঞ মতামতই সকল সাধারণের মত বিবেচিত হবে কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিজীবীগণ সমাজবিচ্ছিন্ন এলিট এবং তাদের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা কিংবা তাদের সাথে জনগণের রাজনৈতিক চেতনার সীমিত পরিচয় বিদ্যমান। তারা প্রকৃতার্থে কি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।

সকল মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আছে, প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং হাইকোর্ট সে অধিকার সমুন্নত রাখবার পক্ষপাতি, কিন্তু রাজনৈ্তিক দলের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা না থাকলেও এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা প্রদান করতে অ্নাগ্রহী উচ্চ আদালত।

যেভাবে উচ্চ আদালত ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক অবস্থানকে পূনর্ব্যক্ত করছে তাতে হাইকোর্টের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে যদি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হয় এবং সেটা যদি কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয় হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো নির্দেশনা কিংবা রায় প্রদান করবে না।

ফতোয়া বিষয়ক সাফল্যের শেষে পরবর্তী সংবিধান সংশোধনীতেও স্পর্শকাতর ধর্মীয় সংশোধনীগুলো অগ্রাহ্য করা হবে, অধিকাংশ সম্পাদকই রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিপক্ষে মত প্রদান করলেও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকের ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে বজায় রাখবার সিদ্ধান্তটিকেই সম্মান করবে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান তাদের সে সিদ্ধান্ত গ্রহনেই বাধ্য করবে। একই সাথে সাম্ভাব্য জনরোষের ভয়ে তারা সংবিধানের শীর্ষ থেকে বিসমিল্লাহি্র রহমানুর রহিম তুলে নিবেন না।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অপরিপক্কতার দায় চুকাবে দেশের ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষেরা, তাদের এভাবে কাগজে কলমে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকত্ব প্রদানের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা মত প্রকাশ করলে তাদের উপরে নীপিড়ণের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে রাষ্ট্র।

প্রস্তাবিত নারী নীতি বিষয়ে সরকারে সমঝোতামূলক মানসিকতা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করেছে, তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ কিংবা নীতিমালার বিরোধী না হওয়া সত্ত্বেও এই নারী নীতির বিরোধিতা করে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহন করছে, এর বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রচারণা অব্যহত রেখেছে, এবং ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বদলে বাংলাদেশ ক্রমশই বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29380070 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29380070 2011-05-13 00:11:25
রাষ্ট্রধর্ম বিষয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটির সাথে বিশিষ্ট জনদের আলাপচারিতা
আদালতের রায়ে পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করেছিলো, আদালতের রায়ে শুধুমাত্র বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সুপারিশ ছিলো না বরং আরও বিস্তারিত সংশোধনের সুপারিশ তারা করেছিলেন, এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি তাদের আলোচনায় এবং সুপারিশগুলোতে আদালতের নির্দেশনা কতটুকু মেনে চলেছেন তা এখনও বলা কঠিন কিন্তু তড়িঘরি করে ছাপানো সংশোধিত সংবিধানে াদালতের নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটে নি।

নিজেদের ভেতরে পর্যালোচনা শেষে সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে নগরিক সংলাপের আহবান করেন, তাদের সাথে দেশের বিশিষ্ট জনেরা সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন, প্রথমত তারা আলোচনা করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন বিচারপতিদের সাথে, সে সংলাপে প্রাক্তন বিচারপতিগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করবার বিদ্যমান সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুপারিশ করেন, তাদের ভাষ্যে এই বিদ্যমান সিদ্ধান্ত আদালতের উপরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে।

তারা সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের সাংবিধানিক স্বীকৃতিকে নিন্দনীয় বলেছিলেন। ধররনিরপেক্ষ কোনো দেশে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অন্য সকল ধর্মকে হীন প্রমাণিত করে , তাছাড়া এটার কোনো প্রয়োজনও নেই।

এই আলোচনার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন "রাষ্ট্রের কোন ধর্ম নেই। জনগণের ধর্মই রাষ্ট্রের ধর্ম। তাই এ বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করার কোন মানে হয় না।"

" সংলাপ করে শুধু মতামত নিলেই হবে না, সবার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংবিধান সংশোধন করতে চাইলে অবশ্যই সবার মতামত নেয়া উচিত। সংবিধানের মালিক জনগণ। মতের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। তারপরও সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা অপরিহার্য। এজন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং সংবিধান কমিশন গঠন করা যেতে পারে। "

পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি সম্পাদকদের ডেকেছিলেন, সেখানেও মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং রাষ্ট্রধর্ম প্রসঙ্গেই আলোচনা হয়েছে, অধিকাংশ সাংবাদিক রাষ্ট্রধর্মের বিরোধিতা করলেও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলামকে বহাল রাখবার পরামর্শ প্রদান করেন।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থাহীনতা এবং আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পরমতসহিষ্ণুতার প্রতি গাঢ় সংশয়জ্ঞাপক তত্ত্বাবধায়ক সরোকার ব্যবস্থার প্রশ্নে অবশ্য সম্পাদকদের অবস্থান অভিন্ন ছিলো, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পক্ষে সুপারিশ করেছেন, আমরা যে গণতন্ত্রের উপযুক্ত নই এই ধারণা প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাদের ভেতরে প্রবল থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে ধীরে ধীরে সম্পাদকদের ভেতরেও এই ধারণা সংক্রামিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নেই, সংবিধানের ৭০ তম অনুচ্ছেদ বিষয়ে সাবধানী মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ, বিশেষ কিছু সংশোধনী সমেত অনেকেই ৭০ অনুচ্ছেদ বজায় রাখবার পক্ষপাতি, সাংসদদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা দলীয় সিদ্ধান্ত কিংবা দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের মতামত প্রদানের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা ৭০ তম অনুচ্ছেদ, বাকস্বাধীনতা, মতের স্বাধীনতার সাথে বিরুদ্ধমত প্রকাশের জন্য শিরচ্ছেদের হুমকি দিয়ে রাখা কোনো অনুচ্ছেদ কিভাবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারে, সে ভাবনা অবশ্য সংসদীয় কমিটির ভেতরেও আছে, তারাও বিশেষ কিছু সংশোধনের পক্ষপাতি।

সাধারণ মানুষের জন্য এই সংশোধিত সংবিধানে নতুন কি আছে, তাদের নিজস্ব বিশেষ সুবিধা কি নিশ্চিত করবে এই সংবিধান। তারা কি রাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যুনতম মানবিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন , রাষ্ট্র কি তাদের অন্ন, বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারবে, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ন্যুনতম সম্মান নিয়ে বেচে থাকাটা তাদের নাগরিক অধিকার এ বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কি রাষ্ট্র পরিপূর্ণ ভাবে উল্লেখ করবে সংবিধান না কি অস্পষ্ট ভাবে জানাবে রাষ্ট্র বিশ্বাস করে সবারই সম্মানজনক বেঁচে থাকবার অধিকার আছে।

রাষ্ট্রের ধর্মচিহ্ন নিয়ে সোচ্চার সম্পাদকেরা এ বিষয়ে আলোকপাত করেন নি এটা তেম্ন অবাক করা বিষয় নয়, তারা অনেক বিষয়েই নিজের স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করতে আগ্রহী নন। তারা অনেক অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করতে পারতেন, অহেতুক অপ্রাসঙ্গিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারতেন, তারা তা তুলেন নি, তারা সম্পূর্ণ অকারণে শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উপরে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারতেন, কিন্তু তারা তা করেন নি।

রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গে তাদের অভিমত আমার কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হয়েছে, কিন্তু সেটা করতে না পারলেও সংবিধান সংশোধন কমিটি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন, তারা সকল ধর্মকেই রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষনার মতো বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত সুপারিশ করতে পারেন, সকল ধর্মের সমান মর্যাদা এবং তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি একক ভাবে ইসলামের প্রতি বর্তমান আনুগত্যকে দমন করতে সহায়তা করবে।

আমাদের রাষ্ট্রীয় কার্য নির্বাহ করতে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রয়োজন নেই, কিন্তু এ বিষয়ে সাম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার অন্য অনেক পরিবর্তনের সুপারিশ ধর্ম প্রসঙ্গে কোনো স্পষ্ট অবস্থান গ্রহন করবে না।

আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই, সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত সম্ভবত এটাই, তবে সংবিধানে কি কি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে সেটা জানবার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ২২শে মে পর্যন্ত , সেদিন সংসদ অধিবেশন শুরু হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29377813 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29377813 2011-05-09 00:06:17
হেনার ধর্ষন এবং ইস্লামী বিধান
সামাজিক মানুষের একত্রবাসের শর্ত মানুষের নিজস্ব প্রয়োজন। প্রয়োজন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, শাররীক নিরাপত্তা এবং এইসব প্রয়োজন অনুভুত হয়েছিলো বলেই একত্রবাসের কোনো একটা সময়ে গোত্রভিত্তিক অনুশাসন প্রণীত হয়েছে। অবশ্যই সেখানে অনেকগুলো শর্ত বিদ্যমান ছিলো, বৈধতা এবং অবৈধতার স্পষ্ট সংজ্ঞা ছিলো, এবং যেকোনো সামাজিক শর্ত বরখেলাপ হয়ে যাওয়ার মতো সেখানেও অসংখ্য ফাঁক-ফোকর ছিলো।

সামাজিক অনুশাসন কিংবা সম্মিলিত নৈতিকতা কোনো সময়ই ততটা কঠোর ছিলো না, এমন কি এখনও তেমন নেই, মোটা দাগের বিধি-নিষেধের উপস্থিতি সব সময়ই ছিলো, তবে সেসবের প্রয়োগে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সামাজিক অবস্থান সবসময়ই প্রভাবকের ভুমিকা রাখতো। একই অপরাধে কঠোর এবং কোমল শাস্তির বিধান নতুন নয়।

একই অপরাধে কারো গর্দান কাটা পড়লেও সেই একই অপরাধ করে অন্যের জন্য বরাদ্দ ছিলো শুধু ভৎর্সনা। আইন কোনো সময়ই সবার জন্য সমান ছিলো না, এবং এখনও আইনের প্রয়োগ হয় আদিম নিয়মেই।

মোটা দাগের অপরাধ বিবেচিত হয়েছে প্রাণহরণ কিংবা বঞ্চনা। গোত্রের নারীর প্রতি প্রভুত্বের ভঙ্গিটা সব সময়ই ছিলো। নারী গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতো তার প্রজননসক্ষমতা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় যোদ্ধা কিংবা কর্মী সরবরাহের একমাত্র যন্ত্র হিসেবে। এবং সে কারণেই যৌনতার অসংখ্য বিধান উপস্থিত ধর্মে।

বৈধ যৌনসম্পর্ক, যা বর্তমানের সময়ে আমরা স্বীকার করে নিয়েছি, বৈশ্বিক ভাবে স্বীকৃত বৈধ সম্পর্কগুলো সামাজিক যোগাযোগের অন্তর্গত সকল দেশেই প্রায় একই রকমের। বাকি যা থাকে, অবৈধ যৌনসম্পর্কসম্পর্কিত বিধান, সেসব নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নারীকে একটা অবস্থানেই রেখেছে ধর্ম। তার প্রজননসক্ষমতার বাইরে তেমন ভাবে নারী বিবেচিত হয় নি কোথাও।

নারীর 'শাররীক শুদ্ধতা' কিংবা আমাদের সমাজের অতিপ্রচলিত ' সতীত্ব' এর ধারণাটুকু কিছুটা সামাজিক সংস্কার কিছুটা ধর্মীয় সংস্কার এবং এই সংস্কারের উৎস পুরুষাশাসিত সমাজ ব্যবস্থা। নারী দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও তার যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক এবং সামাজিক স্বীকৃতি পায় নি কখনও।

ধর্মশাসিত কিংবা ধর্মীয় অনুশাসনশাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীকে বিভিন্ন উৎপাদনে সরাসরি নিযুক্ত দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত নারীর শ্রমোৎপাদিত সম্পদের দাবিদার ছিলো পুরুষ। নারীর স্বাধীন সত্ত্বা কিংবা স্বাধীন ইচ্ছার অনুপস্থিতিতে নারীকে রমন সন্তানউৎপাদন এবং মাংনা শ্রমের উপাদানের বাইরে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ভাববার অবকাশ তৈরি হয় নি।

উনবিংশ শতাব্দীতে রাষ্ট্রে বিশেষত পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে ধর্মীয় অনুশাসনের কঠোরতা কমে যাওয়ায় নারীদের সামাজিক উপস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। যন্ত্রযুগে নারী শ্রমিক হয়ে উঠবার পর নারীর শ্রমের মূল্য নির্ধারিত হলো, অর্থনৈতিক ক্ষমতায় নারীর অংশগ্রহন নারীর সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা সীমিত পর্যায়ে হলেও বাড়িয়ে দিলো।

সময়ের সাথে রাষ্ট্র এবং নীতি বদলেছে, অতীতে অনুপস্থিত অনেক ধারণাই বদলেছে কিন্তু ধর্মে নারীর অবস্থান বদলায় নি, নারীর শুদ্ধতা এবং যৌনবিশুদ্ধতাবাদী ধারণার বদল হয় নি। ধর্ম এখনও নারীকে তার অতীত পাপের দায় থেকে মুক্তি প্রদান করে নি।

পশ্চিমা রাষ্ট্র যখন নারীর শরীরে নারীর অধিকার মেনে নিয়েছে দ্বিধাহীন ভাবে ধর্ম সে অধিকার প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে কিংবা বলা যায় ধর্ম যুগের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। নারীর শরীরে নারীর অধিকারের স্বীকৃতি দিতে গিয়ে যেকোনো শাররীক সম্পর্ক স্থাপনের আগে নারীর সম্মতির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে রাষ্ট্রীয় আইন, নারীর শরীরে নারীর অসম্মতিতে যেকোনো হস্তক্ষেপ শাররীক আগ্রাসন চিহ্নিত হচ্ছে যখন সেসময় ধর্ম কি ধর্ষণকে তার বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে

বাংলাদেশে শহরের সামান্য কয়েকজন শিক্ষিত মানুষ এ ধারণাতে অভ্যস্ত হলেও সামাজিক ভাবে এ ধারণা এখনও গ্রহনযোগ্যতা পায় নি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে এখনও তেমনভাবে রাষ্ট্র এবং শিক্ষার উপস্থিতি নেই, সেখানে নারীর জীবন সামাজিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে পরিচালিত হয়।

কিশোরী হেনা ধর্ষিত হয়েছিলো, তার বাসার সামনে তারই পরিচিত মানুষের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিলো হেনা, পরবর্তীতে গ্রাম্য ইমাম তাকে জেনার দায়ে অভিযুক্ত করে এবং এর শাস্তিস্বরূপ তাকে ভেজা গামছা দিয়ে আঘাত করা হয়, হেনা মৃত্যুবরণ করে,

নারী ছলনাময়ী এবং তার শরীর দিয়ে পুরুষকে প্রলুব্ধ কওরে, তাদের বিপথগামী করে এবং সুযোগ পেলে ঘর ভাঙতে উস্কানী দেয়, 'জেনা' অপরাধ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ একারণেই, এখানে নারীকে যৌনআগ্রাসী কল্পনা করা হয়েছে, পুরুষের যৌনকল্পনা উস্কে দিতে পারা নারীরা পুরুষকে প্রলুব্ধ করে তারা নির্ভেজাল সামাজিক ও পারিবারিক জীবন ধ্বংস করছে, আমরা অপরাধী হেনার বয়ান জানতে পারি না, পরবর্তীতে হাসপাতালে হেনার মৃত্যু এবং সংবাদপত্রে এটার ব্যপক প্রচারণায় আমরা জানতে পারি দীর্ঘ দিন ধরেই এই অপরাধের পশ্চাতপট নির্মিত হচ্ছিলো,হাইকোর্ট এইসব ফতোয়ার বিরুদ্ধে তার অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছে এই ঘটনায়। পূর্বে ফতোয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল হয়েছে, সেটার শুনানী চলছে বর্তমানে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাদের মনোনীত পাঁচ জন আলেম পাঠিয়েছেন শুনানীতে, যারা ফতোয়া এবং ইসলামী বিধি বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবেন, তাদের একজন যা বলেছেন তার সারাংশ হলো ফতোয়া নিষিদ্ধ হলে ইসলাম বিপন্ন হয়ে যাবে, ফতোয়া কোনো আদেশ জারী নয় বরং এটা তথ্য জানানো, ফতোয়ার সারমর্ম জেনে যারা এই অপরাধের বিচার করছে তারা প্রকৃত অপরাধী।

তারা এই ফতোয়া প্রদানকেও ইসলামসম্মত নয় বলছেন, কিন্তু সে সচেতনতা কি আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের আছে, তারা মসজিদের ইমাম, শুক্রবারের জামাতের সামণে দাঁড়িয়ে থাকা বুজুর্গকে ইসলামী আইনের দিকপাল ভাবে।

এইসব গ্রাম্য ইমাম কিংব এদের পরিবর্তে যারা ধর্মবিধান এবং যে মোতাবেক শাস্তির বন্দোবস্ত করে তারা ' জেনা' এবং 'ধর্ষণ' আলাদা করতে পারেন না। ইসলাম ধর্মমতে ধর্ষণের কোনো শাস্তি নেই এটা হয়তো তারা এখনও জানেন না। ধর্ষণ ইসলাম ধর্মমতে কোনো অপরাধ নয় , সুতরাং পাত্র পাত্রী অবিবাহিত হলে তাদের বিয়ে করিয়ে দেওয়ার " ধর্মীয় বিধান", তাদের একশ বার বেত্রাঘাত করবার বিধান, যদি বিবাহিত হয় তাহলে তাদের পাথর ছুড়ে মেরে ফেলবার বিধানটি কোন ক্ষেত্রে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে এটা নিয়ে ভাববার অবকাশ আছে।

একজন হেনার মৃত্যু এবং হাইকোর্টের সচেতনতার বাইরে এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নারী নিষ্পেষণের জলন্ত উদাহরণ, ক্ষমতা এবং অন্ধত্বের , কিভাবে নারীদের মানসিকতায় পুরুষতান্ত্রিকতা গেড়ে বসেছে সেসব বৃত্তান্ত উঠে আসে হেনার মৃত্যুর ঘটনায়।

ধর্ম শুভ অনুগামী, আমাদের সুন্দর এবং সততার পথ শেখায়, ইতিহাস আমাদের শেখায় অতীতের ভুল শুদ্ধ করে সুন্দর আগামীর দিকে এগিয়ে যেতে, ইতিহাসলগ্নতা কিংবা ঐতিহ্য অনুসরণ কখনই অতীতের পূনরাবৃত্তি নয়, বরং সেখানে নতুন ভাবনাকে স্থান দিতে হবে, যারা এখন ধর্ম নিয়ে ভাবছেন তাদেরও বুঝতে হবে সময় এসেছে ধর্মের অনেক বিধিবিধানকে নতুন করে ব্যাখ্যা করতে হবে।

সরকার ফতোয়া প্রদানের অধিকার সীমিত করতে চাইছে, সুপ্রীমকোর্টের বার এসোসিয়েশনের সভাপতিও কোন কোন ক্ষেত্রে ফতোয়া দেওয়া বৈধ এ বিষয়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা চান । সরকার অতীতে ঘোষণা করেছে তারা ফতোয়া বিরোধী নন বরং যোগ্য ব্যক্তি যেনো ফতোয়া দিতে পারেন এটা তারা নিশ্চিত করতে চান।

কারা ফতোয়া দেওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন, প্রশ্নটা সামনে আসলে এর উত্তরে আমরা জানবো যাদের ইসলামী আইন ও জীবনবিধান সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান আছে তারাই ফতোয়া দেওয়ার উপযুক্ত, একজন ব্যক্তি ইসলামী জীবনবিধান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেই কি তিনি পরিস্থিতি বুঝে কোনো নতুন নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবেন, হেনার ক্ষেত্রে কি এমন কোনো সম্ভবনা ছিলো।

অতীতের দৃষ্টান্তের আক্ষরিক অনুগমন করে তিনি হয়তো অপরাধীকে হেনাকে আর্থিক ক্ষতিপুরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারতেন, অতীতে জোরপূর্বক সঙ্গমের প্রতিবিধান হিসেবে ইমাম মা'লিকী এ নির্দেশনা দিয়েছেন।তিনি বলেছেন " যদি কোনো নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করে এবং অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে তবে অভিযুক্ত তাকে তার মোহরের স্মপরিমাণ অর্থ প্রদান করবেন ক্ষতিপুরণ হিসেব। হাদিসে সঙ্গমে বাধ্য করবার বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত খুঁজে পাবেন তিনি। কিন্তু কোরানে সেটা খুঁজে পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শাররীক সম্পর্ককে আমলে এনেছে কোরাণ আর কোরানে নারীর অধিকার বিষয়ে সীমিত যতটুকু বর্ণিত আছে সেখানে কোথাও নারীর শরীরে নারীর অধিকারের স্বীকৃতি নেই।

ফিকহ অধ্যায়ন করে তিনি হয়তো আর্থিক ক্ষতিপুরণ দেওয়ার বাইরে নতুন কিছু খুজে পাবেন না, বরং তিনি আরও একটু অধ্যায়ন করলে জানবেন আর্থিক ক্ষতিপুরণ প্রদান এবং জোরপূর্বক সঙ্গমলিপ্ত হওয়ার শাস্তিআদতে অভিযুক্তের উপরে জুলুম হয়ে যায়, তাকে একই অপরাধে দুইবার শাস্তি পেতে হচ্ছে।
ইসলামী বিধানগুলো সম্পর্কে আমাদের উচ্চতর শিক্ষালয়গুলোতে যা পড়ানো হয় সেসব লেখা হয়েছে মধ্যযুগে, মানে পঞ্চদশ শরকের জ্ঞান দিয়ে তারা কতটুকু আধুনিক ভাবনার ধারক বাহক হবেন এ বিষয়ে সংশয় থাকলেও উচ্চতর বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের জোরে তারা কিন্তু ঠিকই ইসলামী জীবন বিধান সম্পর্কে তার পারদর্শীতা দাবী করতে পারেন।

ধর্ষণ বিষয়ে ইসলামিক আইনের দুর্বলতা হলো এখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের দায় বাদীর, বাদী যদি কারো বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করেন তবে তাকে এর প্রমাণ দিতে হবে। চারজন সাক্ষী রেখে ধর্ষণ করবার একটা ঘটনা হাদিসে বর্ণিত আছে কিন্তু সেখানে বেশ স্পষ্ট বর্ণনা না থাকায় ওমর ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তকে অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত না হওয়ায় মুক্তি দিয়েছিলেন, যদিও তিনজন সাক্ষী নিশ্চিত ভাবেই ধর্ষণের কথা বলেছিলো।

সেক্ষেত্রে আক্রান্ত নারীর কোনো শাস্তি প্রাপ্য নয়, এ অভিমত দিয়েছেন ইবন হাজেম, যে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় এসেছে তাকে নিঃসংকোচে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতে দেওয়া উচিত, কিন্তু এক্ষেত্রে যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তাকে আদালতে হাজির করা হবে, যদি সে এই অভিযোগ অস্বীকার করে তবে ' ধর্ষিতা নারীর" বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনের দায়ে অন্যান্য আইনপ্রনেতাগণ যে শাস্তি বরাদ্দ করেছেন সেটা প্রদান করা যথার্থ হবে না।

একজন মুসলিম সদা সত্য কথা বলবেন এবং তিনি আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে নিঃসংকোচে নিজের জেনার অপরাধ স্বীকার করে নিবেন, এই ভবনার ভেতরে একটা ইউটোপিয়া থাকলেও পাঁচশ বছর আগে মনীষিরা এমনটাই ভাবতেন।

আপাতত প্রশ্ন হলো হেনা কি ইসলামী আদালতে ন্যায় বিচার পেতো
সে কি চার জন সাক্ষ্য হাজির করতে পারতো আদালতে কিংবা গ্রাম্য সালিশে, ধর্মের পুরুষতান্ত্রিকতা যেভাবে প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে এই ঘটনায় তাতে হেনাকে ধর্ষণের অভিযোগ মেনে নেওয়ার সম্ভবনা ছিলো ক্ষীণ, বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন ভিন্ন মতের কারণে এমন কি ধর্ষিত হেনা যে শাস্তি পেয়েছে সে শাস্তিই পেতো, ইসলাম তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতো না, কিন্তু শরীয়তের বিধান তাকে এভাবেই প্রকাশ্য জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা করতে পারতো।

সরকার যোগ্য ব্যক্তিকে ফতোয়া এবং ইসলামী বিচারের ক্ষমতা দিয়ে হয়তো হেনার মৃত্যু এড়াতে পারতো কিন্তু তার ধর্ষণের ন্যায়বিচার করতে পারতো না, যদি ধর্ষণে ধর্ষণে হেনা কখনও গর্ভবতী হতো তাহলে হয়তো সেটাই জোরপূর্বক সঙ্গমের পরিচায়ক হতে পারতো ইসলামী মতে, কিন্তু নিজের ধর্ষণ শরীয়া মতে প্রমাণের জন্য এমন ধারাবাহিক ধর্ষণের শিকার হতে আগ্রহী কি হতো হেনা

সরোকার বিভিন্ন ধরণের শঙ্কায় কখনই ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করতে পারবে না, তাদের ভোটের হিসেব আছে, ভোটার ধর্মের প্রতি মানসিকভাবে দুর্বল ধারণা নিয়ে তারা কখনই ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করবার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন না কিন্তু যদি ফতোয়া নিষিদ্ধ করা সম্ভব নাও হয় আমাদের উপলব্ধি করতে হবে ফতোয়া আদতে সামাজিক মানসে নির্যাতনপ্রবন পুরুষতান্ত্রিকতার উপস্থিতি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29372793 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29372793 2011-05-01 00:26:12
ট্রাফিকিং
সস্তায় শ্রম কিনে নেওয়া- একজন মানুষ যে জেনে শুনে কিংবা প্রতারিত হয়ে অন্য কোনো দেশের মাটিতে পৌঁছেছে তাকে শোষণ করা সহজ। তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাকে মেরে ফেললেও আসলে কেউ কিছু বলতে আসবে না। মেক্সিকো- আমেরিকা সীমান্তে কিছু মানুষ সারা রাত রাইফেল হাতে পাহাড়া দেয়। সেখানের এক সীমান্তবর্তী নদী ডিঙিয়ে মেক্সিকোর দরিদ্র মানুষেরা আমেরিকা ভূখন্ডে প্রবেশ করে-

তবে আইন পালনে এরা খুব সচেতন, একবার কেউ যদি এখানে আমেরিকার সীমান্তের কাঁটা তার ডিঙিয়ে ভেতরে চলে আসে তাহলে তাকে হত্যা করার উপায় নেই, তাই নদীর মাঝখানেই এইসব ভাগ্যান্বেষী মানুষদের পাখির মতো মেরে ফেলা হয়। নদী দিয়ে লাশ ভেসে চলে যায় একটা স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে।

আমাদের শ্রমিক কিংবা আমাদের যুবকেরাও একই ভাবে বিভিন্ন সীমান্ত পেরুতে চায়। ভারতের সীমান্তে নিয়মিত বিএসএফ এর গুলিতে মানুষ মরে, সীমান্তে বিডিআর শিশু আর মেয়েদের চালান আটক করে, ঢাকার হোটেলে মেয়ে শিশুর চালান আটক হয়, তবে এসবের বাইরেও ভ্রমন ভিসায় বিভিন্ন দেশে গিয়ে স্বচ্ছলতা কেনার নেশায় মরিয়া যুবকদের হারিয়ে যাওয়ার হার কমে না।

ইতালি, স্পেন, লিথুনিয়া, মরোক্কো, কেনিয়া, উরুগুয়ে, লাটভিয়া, মালোয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের উদ্যমী যুবকেরা কোথায় না ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ছুটে যাচ্ছে। এদের কতজন বৈধ বাগজ পেয়ে যাচ্ছে, আদম ব্যাপারী এদের প্রতারিত করতে পারছে কারণ এরা যেকোনো মূল্যেই প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত ডিঙিয়ে পালাতে চায়।

আমাদের দেশের বৈধ শ্রমিকেরা ঠিক একই কারণে বঞ্চিত হয়। আমাদের আন্তর্জাতিক সুনাম , আমাদের দেশ থেকে অধিকাংশ মানুষই অবৈধ ভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করতে মরিয়া। আমাদের সাথে এইসব উন্নত দেশের অভিবাসন কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা আর হেনেস্থার শিকার হচ্ছে সবুজ পাসপোর্টেধারী মানুষেরা কারণ ভাগ্যান্বেষনে মরিয়া আমাদের যুবকেরা। তারে যেকোনো উপায়েই সেখানে বসতি গড়তে তৎপর।

আমার আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এইসব যুবকেরা উন্নত দেশে গিয়া যেকোনো কাজ করতে আগ্রহী, ঘন্টা হিসেবে শ্রম বিকোতে আগ্রহী হলেও এইসব যুবকেরা দেশের মাটিতে একই কাজ করতে তেমন আগ্রহী না।

অবশ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে, এখানে অর্থনীতি মোটামুটি স্থবির, অনেক দিন ধরেই বেসরকারীকরণের ভুত, ব্যবসা সঙ্কোচন আর মূদ্রাপাচারের লোভে নতুন চাকুরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না তেমনভাবে।

আমাদের ২০ হাজার লোকের জীবিকা ধবংস করে ১০০০ মানুষেরা চাকুরির সুযোগ উন্মুক্ত হয়, পাট কল বন্ধ হয়ে যায়, এক সাথে কয়েক হাজার পরিবার পথে বসে, এবং এইসব শ্রমিককে আত্তীকরণের কোনো উদ্যোগ থাকে না সরকারের, সরকার বেসরকারীকরণ করেন নিজের দায়মুক্তির আনন্দে উন্নয়নের গল্প শোনায় আমাদের।

এইসব শ্রমিকেরা কি করবে, কোথায় নিজের শ্রম বিক্রী করবে এই বিষয়ে আদতে কোনো মাথা ব্যাথা নেই, অনেক কল কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ পড়ে আছে। অনেক বিনিয়োগকারী কল কারখানা তৈরি করে বসে আছে, এ গুলো শুরু হলেও কিছু মানুষ এখানে শ্রম বিক্রি করতে পারতো।
সমন্বিত কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তাই এইসব যুবকেরা ,যারা চুরি করতে পারে না, যারা ডাকাতি করতে পারে না, কোনো ছলচাতুরি করতে পারে না, তারা ছলনার শিকার হচ্ছে।

সরকারের সকল উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে, এইসব অভিবাসী শ্রমিকদের সকল অধিকার অর্জিত হচ্ছে কি না, তাদের কর্মক্ষেত্রে তারা কোনো রকম নির্যাতনের কিংবা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে কি না, এসব তদারকির দায়িত্ব যাদের সেইসব উচ্চমন্য সরকারী কর্মকর্তাগণ এইসব শ্রমিকদের খোঁজ খবর রাখতে অনাগ্রহী, সে কারণেই এদের নির্মম নির্ভেজাল শোষণ আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আদমব্যাপারীদের আমরা ঘৃণার চোখে দেখি না এখন, বরং এরা এইসব ভাগ্যান্বেষী শ্রমিকদের শোষণ করে নিজেদের বিত্ত বৈভব বৃদ্ধি করলেও বছরে বছরে এরাই আমাদের রেমিটেন্স আয়ে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখছে।

সাম্প্রতিক কালে মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক কিংবা গৃহপরিচারিকা পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহপরিচারিকাদের জীবনযাপন, তাদের উপরে অব্যাহত শাররীক ও যৌননিপীড়নের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে, শ্রীলঙ্কার একজন নারী শ্রমিকের দেহে পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য আচরণও করেছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেরগণ, সেখানে নারী গৃহপরিচারিকা পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তা ও বীমার বন্দোবস্ত করা হয়েছে কি না এটা কে তদারক করবে আমার জানা নেই।

লিবিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেখানেও নির্মান শ্রমিক, হাসপাতালের সেবিকা এবং অন্যান্য শ্রমঘন কাজে লিপ্ত ছিলো বাংলাদেশের অসংখ্য শ্রমিক, তাদের কেউ কেউ বেশ বড় অংকের অর্থ দিয়ে, প্রয়োজনে জমি বেচে ঋণ করে সেখানে গিয়েছে, এইসব মানুষেরা দেশে ফিরতে চায় না। এদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কোনো আনন্দের সংবাদ নয় বরং একটি পরিবারের আশা ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প এইসব পরাজিত প্রত্যাবর্তন , মরিয়া এইসব অভিবাসী শ্রমিক জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ছে ইউরোপের ভূখণ্ডে, তারা সমুদ্রে আত্মহত্যা করছে কিন্তু তাদের পরাজিত মুখ দেখাতে চাইছে না পরিবারকে, তারা পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের কারন হতে চাইছে না।

শুধু লিবিয়ায় নয় বরং সরোকার উদ্যোগ নিয়েছে আফ্রিকার বিস্তৃত ভূখন্ডে তারা জমি ইজারা নিয়ে বাংলাদেশী কৃষকদের দিয়ে চাষাবাদ করবে, এই বিষয়ে মধ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের, এক বছর অতিক্রা্ন্ত হওয়ার পরও এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি সাধিত হয় নি।

দেশের ভূখন্ড বাড়ছে না, জনসংখ্যা বাড়ছে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এবং শিল্পায়নের হার এমন নয় যে এখানে বর্তমানে শিক্ষিত সকল ব্যক্তির কর্ম সংস্থান অতি অল্প সময়ে সম্ভবপর হবে, অপরিকল্পিত শিক্ষাবিস্তারের ফলে আমাদের যোগ্য এবং উচ্চ শিক্ষিত অধিকাংশ শ্রমিক কিংবা গ্রাজুয়েটদের আমরা কোনো ভাবেই আমাদের উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করতে পারছি না, একই সাথে আমাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের গড় বয়েস বাড়ছে,

সেসব অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এবং আমাদের অপরিকল্পিত রাষ্ট্র পরিচালনার কারণে অভিবাসনের হার বাড়ছে, এই ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত কারাগার ভেঙে পালিয়ে যেতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, মধ্যম মানের শিক্ষার্থী ব্যতীত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষেরা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে স্বেচ্ছায়, স্কিলড মাইগ্রেশন প্রকল্পের আওতায় এইসব শিক্ষিত স্বচ্ছল মানুষ দেশত্যাগ করছে, আর আনস্কিলড লেবার পাচার হচ্ছে, এরা বিদেশ যাচ্ছে কারণ দেশে এদের চাহিদা পুরণের মতো যথেষ্ট বড শ্রমবাজার নেই, এদের কায়িক শ্রম কাজে লাগানোর মতো অবকাঠামো বিকশিত হচ্ছে না, সুতরাং অদক্ষ, অল্প দক্ষ এইসব শ্রমিকেরা বিদেশে ঝুকিপূর্ণ শ্রমঘন কাজে যোগদান করতেই বিদেশে চলে যাচ্ছে, আর এদের একাংশ প্রতারিত হচ্ছে ভয়ংকর ভাবে, এইসব ভাগ্যাহত মানুষদের বেচে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে, তাদের হত্যা করে এদের হৃদপিন্ড, কিডনী, লিভার, কর্নিয়া, এবং অন্যান্য প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রত্যঙ্গ কেটে নিয়ে তাদের অশণাক্ত লাশ হিসেবে ফেলে দেওয়া হচ্ছে,

যারা বিমানে চেপে পরিবারের ভাগ্য বদলাতে বিদেশে যাচ্ছেন তাদের কতজন এমন ভাবে মাঝপথে হারিয়ে যাচ্ছেন সেটার পরিসংখ্যান আমাদের অজানা, মালোয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে এভাবে কতজন প্রতারিত মানুষ ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আমরা জানি না।

সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু কতজন এইভাবে সচেতন হয়ে নিরাপদ অভিবাসী হতে পারছেন , হতাশা ব্যর্থতাবোধ, পরিবারের বোঝা হয়ে অপমানিত হওয়ার বদলে মৃত্যু শ্রেয় এমন মরিয়া মানুষদের অধিকাংশই সরকারী সাবধানতার বানী উপেক্ষা করেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াই করছেন, আমরা আশা করবো তারা প্রত্যেকেই নিজেদের ও পরিবারের স্বপ্ন পুরণে স্বার্থক হয়েছেন, নিরাপদ অভিবাসনের জন্য আমাদের সচেতন প্রয়াস অব্যাহত থাকুক, ট্রাফিকিং রোধে আন্তরিক হয়ে উঠুক সরকার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29371385 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29371385 2011-04-28 22:47:31
বিবি খাদিজা এবং বর্তমানের নারী নীতি
প্রস্তাবিত নারী নীতির ২৫ তম ধারায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে দুইটি অধিকার প্রদানের অঙ্গীকার করেছে সরকার, ব্যবসা ঋণ, উপার্জন এবং অন্য যেকোনো অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সম্পদ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রনের অধিকার থাকবে নারীর। এর বাইরে অসংখ্য বক্তব্য দেওয়া হলেও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে নারী নীতিতে বক্তব্য এটুকুই, যদি নারী উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো সম্পদ প্রাপ্ত হয় তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রনের সম্পূর্ণ অধিকার নারীর। এই বিধানে কুরআন ও সুন্নাহ কিভাবে লঙ্ঘিত হলো সেটা সম্ভবত ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী শাসনতন্ত্রের দাবী জানানো আমিনী জানেন না।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র সকল নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা প্রদান করে এবং স্বীয় ধর্মীয় বিধান অনুসারে জীবনযাপনের অধিকার প্রদান করে, সে কারণেই বাংলাদেশের মুসলীমগন মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, মুসলিম উত্তরাধিকার আইন মেনে তারা সম্পদে তাদের প্রাপ্য অধিকার অর্জন করেন, সে একই কারণেই রাষ্ট্র তার নীতি কোনো ধর্মবিশ্বাসের বিপরীতে গিয়ে চাপিয়ে দিতে পারে না কিংবা এমন বৈপ্লবিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে নি এখনও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র।

বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক এখনও চিন্তার সে স্তরে পৌঁছাতে পারে নি কিংবা রাষ্ট্র সেভাবে নাগরিকদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারে নি যাতে সে এখনই নারীর সমান অধিকারের দাবীতে পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপন করতে পারবে। বাংলাদেশ এখনও সেই ক্ষেত্র তৈরির সংগ্রাম করছে, প্রতি চার বছর পর পর তাদের অগ্রগতির প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে জাতিসঙ্ঘে


উত্তরাধিকারীদের ভেতরে সম্পত্তিবিষয়ক বিবাদ নিরসনের পন্থা হিসেবে নিজের ওয়াসিয়ত নামা লিপিবদ্ধ করবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে হাদিসে,
“It is not permissible for any Muslim who has something to will to stay for two nights without having his last will and testament written and kept ready with him."” [Narrated by al-Bukhari,al-
Wasaayaa2533].

তবে উত্তরাধিকারীদের ভেতরে স্বীয় সম্পদ বিলিবন্টনের ক্ষেত্রে বিশ্বাসী মুসলীমগণদের সুরা নিসায় বর্ণিত নিয়ম মেনেচলবার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে নির্দেশনায় বলা হয়েছে প্রতিটি পুরুষ উত্তরাধিকারী নারীর দ্বিগুন সম্পদ পাবে।

তৎকালীন সমাজের বিদ্যমান রীতি নীতির তুলনায় ইসলামিক বিধানের উৎকর্ষ নিশ্চিত হয়েছিলো কুরআনের নারী বিষয়ক বিভিন্ন আয়াতে, সেখানে সম্পদে নারীর উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিলো, একই সাথে ধর্মীয় বিধানে বিবাহযোগ্য যেকোনো পুরুষের সাথে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এবং যৌক্তিক কারণে উপযুক্ত জরিমাণা দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার লাভের বিষয়টাও নিশ্চিত করা হয়েছিলো।

সে সময়ের সামাজিক পরিস্থিতিতে কোনো নির্ধারিত উত্তরাধিকার আইনের অনুপস্থিতিতে সম্পদে কারো অধিকারই নিশ্চিত ছিলো না, এই যাদৃচ্ছিক ব্যবস্থায় উদ্ভুত বিবাদ ও সংঘাত নিরসনে ওসিয়ত নামা লিপিবদ্ধ করা এবং সেই ওসিয়তনামা লিপিবদ্ধ করবার সময় ইসলামের বিধান মেনে চলবার বাধ্যবাধকতা সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছিলো।

প্রাক ইসলামী যুগে ইসলামী উত্তরাধিকার আইন প্রচলিত ছিলো না বলেই কোনো রকম কর্তন ছাড়াই, "কোনো কোনো সুত্র" অনুসারে পিতার সম্পূর্ণ সম্পদের এবং "অন্য সুত্রানুসারে" স্বামীর সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন বিবি খাদিজা। খাদিজা মুহাম্মদকে তার ব্যবসা তদারকির কাজে নিয়োজিত করবার সময় তিনি বিধবা ছিলেন না কি তিনি কুমারী ছিলেন, তার অঢেল বিত্তের উৎস তার পিতা না কি তার মৃত স্বামী এই বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যদি প্রাক ইসলামী সমাজে এমন ইসলামী উত্তরাধিকার বিধান থাকতো তবে বিবি খাদিজা এত সম্পদের উত্তরাধিকারী হতে পারতেন না। এই অর্থনৈতিক সম্পদ মুহাম্মদকে যতটুকু মত ও আদর্শ প্রচারের স্বাধীনতা দিয়েছিলো ততটা সম্ভব হতো না যদি ইসলামী বিধান মেনে দুই তৃতীয়াংশের অধিক সম্পদ খাদিজা তার অন্যান্য পুরুষ আত্মীয়দের প্রদান করতে বাধ্য হতেন।

রাষ্ট্র তার নিজস্ব কেতায় নারীকে পুরুষের সমান দায় ও দায়িত্ব প্রদান করেছে, যেকোনো রাষ্ট্রীয় চুক্তিতে নারী এবং পুরুষ একই সমান বিবেচিত হয়, কিন্তু ধর্মীয় বিধানমতে পরিচালিত বিষয়াদিতে নারীর সমতা অর্জিত হয় নি। একজন নারী একক ভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন না, একক নারীর সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য নয় বিবাহ কিংবা অন্যান্য চুক্তিতে একজন পুরুষ দুইজন নারির সমান, এই ব্যতিচার রাষ্ট্র প্রবর্তিত আইনে নেই।

নারী কোন যুক্তিতে হীন এ বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই কিন্তু এটা ধার্মিক মানুষের অন্ধ বিশ্বাস এবং সে কারণে যৌননীপিড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধেও নারী কিংবা নারীরা নিজেদের উপরে নির্যাতনের বিচার চাইতে গেলেও ধর্মীয় বিধানানুসারে তাদের একক সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য হতে পারবে না , নির্জনে ধর্ষিত কিংবা যৌননির্যাতিত নারী কখনই ধর্মীয় বিধান মেনে তার উপরে নির্যাতনকারী পুরুষের শাস্তি দাবি করতে পারবেন না, কিন্তু রাষ্ট্র একই সাথে নারীর যৌনসুরক্ষা ও শাররীক নিরাপত্তা প্রদানের অঙ্গীকার করেছে।

নারীর অর্ধেক মানুষ নয় পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো যথেষ্ঠ আধুনিক হয়ে না উঠতে পারাটা আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, ধর্মিয় বিধান যুগের সাথে বদলাবে এবং রাষ্ট্র যখন নারীর সম্পদের উপরে তার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে তখন নারী তার কন্যা সন্তানকে স্বীয় সম্পদের সম্পূর্ণ অধিকার প্রদান করলে রাষ্ট্রের যেকোনো আদালতই এই ওয়াসিয়ত নামা মেনে নিতে আইনত বাধ্য আমিনী কিংবা মুফতি কোনো ব্যক্তি যদি এমন নির্দেশনার বিপক্ষে গিয়ে বুকে গলায় তাবিজ কিংবা কোরান বেধে আন্দোলনে নামেন তাদের প্রতিহত করে স্বীয় নীতিতে অটল থাকা রাষ্ট্রের কর্তব্য, ধর্মীয় অস্থিরতার আশংকায় নিজের নীতির সাথে ক্রমাগত আপোষ রাষ্ট্রকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রচার ও প্রসারকারী রাজনীতিবিদদের কাছে জিম্মি করে রাখবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29370741 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29370741 2011-04-28 00:43:52
তারা কি হিজরত করবেন
যেকোনো ব্যক্তিকে কোনো ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ করতে বাধ্য করা, তার ধর্ম পালন এবং ধর্ম না পালন করবার অধিকার কোনো ধর্মীয় অনুশাসনের বাধ্যবাধকতায় যখন আক্রান্ত হয়, যখন অতিধার্মিক কিংবা ধর্মোন্মত্ত কেউ তাকে তার অনিচ্ছায় কোনো ধর্মীয় বিধান পালনে বাধ্য করে কিংবা গোষ্টীবদ্ধ হয়ে তার ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে সেটাকে যে বিবেচনায় নিন্দনীয় বলা যায়, সেই একই রকম ভাবে রাষ্ট্রীয় আইনে কারো ধর্মপালনের স্বাধীনতাহরণ নিন্দনীয়।

রাষ্ট্র নিজের প্রয়োজন আইন প্রণয়ন করে, ফ্রান্সের সাংসদেরা তাদের আইন প্রণোয়নের পেছনেও যুক্তি প্রদান করেছেন, সেসব যুক্তি অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গ্রহন করেছেন এবং হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ফ্রান্সের আদালত যদি অভিযুক্তাদের যুক্তি মেনে নিয়ে এই আইনের বিরোধিতা করেন কিংবা যদি ব্যক্তিস্বাধীনতাকে রাষ্ট্রের কল্পিত নিরাপত্তাহীনতার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তাহলে এ আইন বাতিল হতে পারে।

অমানবিক আখ্যা দিয়ে কিংবা অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে মানুষের ধর্মীয় আবেগ প্রশমিত করা যায় না। মানুষ সম্পূর্ণ যুক্তিহীন ভাবেই ধর্মের কাছে নিজেকে সমর্পন করে, তাদের আচরণের যৌক্তিকতা কিংবা অযৌক্তিকতা তাদের কাছে কখনই মুখ্য নয়, ধর্মীয় বিধান ও অনুশাসন অক্ষরে অক্ষরে মেনে শুদ্ধ এবং স্রষ্টানিবেদিত জীবনযাপনের আকাঙ্খা তাদের কাছে মুখ্য। পার্থিব প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির তুলনায় তাদের ইশ্বরের সন্তুষ্টি তাদের কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে যেকোনো ব্যক্তির ধর্মপালনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা কিংবা তাদের ধররমীয় স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো রাষ্ট্রীয় বিধান গ্রহনের আগে এ বিধান যে ধর্ম নিরপেক্ষতার ভুল ব্যাখ্যা হিসেবে গৃহীত হতে পারে এ সম্ভবনাটুকু যাচাই করে দেখবার প্রয়োজনীয়তা ছিলো।

অনেকে প্রত্যক্ষ সংঘাতের পথ গ্রহন করবে, হয়তো অন্তর্জালে ইতমধ্যেই এমন অনেক গ্রুপ তৈরী হয়েছে, যাদের প্রতিবাদের লক্ষ্য হবে ফ্রান্সে গিয়ে হিজাব পরিধান করা। এরা হয়তো অন্য কোনো দেশের নাগরিক, ফ্রান্সের নাগরিকের জন্য অবশ্যপালনীয় বিধানগুলো যারা ফ্রান্সের নাগরিক নয় তাদের জন্য কতটুকু প্রযোজ্য এইসব আইনী জটিলতাও সেখানে দেখা দিবে অচিরেই।

রাষ্ট্রীয় বিধানকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করা কিংবা এর প্রতিবাদ জারি রাখবার সাথে সাথে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত বিধানকে মান্য করে চলাও এক ধরণের নাগরিক কর্তব্য, ফ্রান্সের হিজাবধারীনিদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান এবং রাষ্ট্রীয় বিধান একই সাথে মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না।

রাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক বিচারের রায়ে রাষ্ট্রীয় বিধানকে অবশ্যমান্য ঘোষণা করে তাহলে এইসব ধর্মপ্রাণ নাগরিকের কর্তব্য কি হবে,

যদি তারা মনে করে এমন ধর্মবিদ্বেষী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব তাদের আদর্শের প্রতি অবমাননাকর, তারা অন্য কোনো দেশে বসতি স্থাপন করতে পারে, যেসব দেশে এখনও হিজাব পরিধানে কোনো আইনী বাধা নেই, সেসব রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহন করতে পারে তারা, ধর্মকে জলাঞ্জলি দিয়ে উন্নত বিশ্বের নাগরিকত্ব ধরে রাখবার ভেতরে এক ধরণের পার্থিব উন্নত জীবনযাপনের লালসা বিদ্যমান,

ফ্রান্সের ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের সামনে দুটো পথই খোলা, তারা রাষ্ট্রের এই অন্যায্য বিধানের বিরোধিতা করতে পারেন, তারা তাদের ধর্মপালনের অধিকারকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন এবং তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে অন্য কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহন করতে পারেন যেখানে তার ধর্মপালনের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হবে না।

তারা অদুর ভবিষ্যতে কোন পন্থা অবলম্বন করবেন আমি জানি না, তবে যুক্তির সাথে আবেগের কোনো লড়াই চলে না । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29366242 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29366242 2011-04-20 19:43:24
কতৃপক্ষের কাছে আবেদন- অনুগ্রহ করে যদি এটা করতেন
আমার নিজস্ব বিশ্বাস, নিজস্ব উপলব্ধি এবং বক্তব্য হয়তো কাউকে কাউকে আহত করে কোনো না কোনো সময়, তবে একই সাথে এটাও মেনে নেওয়া প্রয়োজন, সমাজ এইসব পারস্পরিক মতদ্বৈততার ভিত্তিতেই শক্তিশালী একটা সংগঠন হিসেবে টিকে আছে।

তবে ইদানিং মানুষের উপরে শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে এইসব অনাকাংক্ষিত ঘটনায়। ব্লগ কতৃপক্ষের আন্তরিকতা বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই। তারা অনেক যাচাই বাছাই করে, নজর রেখে, জেনারেল রেখে কাউকে কাউকে প্রথম পাতায় লিখবার অনুমতি প্রদান করেন, কিন্তু এত সাবধানতার পরেও এইসব মানবিক বিকারগ্রস্ত মানুষের অনুপ্রবেশ থামানো যায় নি।

আমি কতৃপক্ষকে সামান্য একটা অনুরোধ করতে চাই,

তাদের বিশাল এই পরিসরে আমার মতো একজনের লেখার গুরুত্ব না ও থাকতে পারে, তবে আমার নিজের কাছে এই লেখাগুলোর মূল্য রয়েছে। এমন কোনো পন্থা এখানে নেই যে আমি গত ৪ বছরে লেখা এত ভাবনাকে এক সাথে অন্য কোথাও রেখে দিতে পারি।

আমি নিজেই সন্দিহান, যেভাবে মানুষ অত্যুৎসাহে একাউন্টে হ্যাকরে চেষ্টা করছে, একদিন দেখবো তারা আমার কোনো কোনো লেখা মুছে দিয়েছে। এই দুর্গটনা ঘটবার আগেই আমি চাচ্ছি এমন কোনো একটা সুযোগ আমাকে কতৃপক্ষ দিক, যাতে আমি লেখাগুলো অন্য কোথাও সংরক্ষণ করতে পারি।

আমার এখানের সব লেখা এবং মন্তব্য সর্বসাকুল্যে হয়তো ৫ মেগাবাইট হবে, যদি এর বেশীও হয়, তারা যদি আমার ই মেইলে এটার একটা অনুলিপি পাঠিয়ে দেন, আমি বাধিত হবো। কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতি, যে পদ্ধতিতে আমাকে প্রতিটা লেখাই আলাদা করে কপি করে অন্য কোথাও নিতে হবে না, এমন যেকোনো পন্থা বাতলে দিলেও বাধিত থাকবো।

পরিশেষে বলি, যারা একাউন্ট হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করছেন, তাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা সম্ভব নয়, মতাদর্শিক শত্রুতা যদি তৈরি হয় তবে সেটা আপনাদের অনুধাবনের ভুল। আমি কারো আদর্শকে অযৌক্তিক এবং নোংরা উপায়ে নির্মুলের পন্থায় বিশ্বাস করি না।

আপনাদের ধারাবাহিক এই একাউন্ট হ্যাকিংয়ের প্রচেষ্টায় আমি শুধুমাত্র নিজের দুঃখ প্রকাশ করতে পারি। এভাবে নোংরামি না করে আপনারা বরং মন্তব্যে জানান আপনাদের মনের কষ্ট বেদনা ক্ষোভ কিংবা অন্য যেকোনো অনুভব, যে কারণে অন্য কারো একাউন্ট হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করা যায়, যদি ততটা যৌক্তিক মনে হয় আপনাদের দাবি, আমি আপনাকে আমার একাউন্টের পাসওয়ার্ড দিয়ে দিবো।

ধন্যবাদ সবাইকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29078919 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29078919 2010-01-15 12:55:44
বিডিআরদের সেনা আইনে বিচার করা অনৈতিক হবে Click This Link

যেকোনো আইনের একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, সেই লক্ষ্য পুরণের জন্য আধুনিক রাষ্ট্র একটি নির্বাচিত আইনী পরিষদ তৈরি করেছে, আদালত ও বিচার ব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছে, এবং বিদ্যমান আইনের কাঠামোতে কিছুটা জড়ত্ব আছে বলেই রাজার মুখের কথাই আইন জাতীয় স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়েছে।

আইনের কেতাবের সুচনায় একটা বক্তব্য দেওয়া আছে, যেকোনো অপরাধের বিচার হবে অপরাধ সংঘটনকালীন সময়ে বিদ্যমান আইনের আওতায়, অর্থ্যাৎ যদি ভবিষ্যতে কোনো কারণে কোনো আচরণ অপরাধ বিবেচিত হয়, সেই আইন প্রযুক্ত হওয়ার সময় থেকেই এটাকে অপরাধ বিবেচনা করতে হবে, পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো এই আইনের আওতায় বিচার করা যাবে না।

জনসমাগমস্থলে প্রকাশ্যে ধুমপান এখন নিষিদ্ধ এবং সেটা অপরাধ, কিন্তু এই আইন বলবত হওয়ার আগে যারা প্রকাশ্যে ধুমপান করেছে, তাদের এই আইনের আওতায় অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না, এটা হলো আইনের কেতাবের সূচনার কথা।

তবে এইসব আইনের পেছনদরজা আছে, আইন প্রয়োগ হইবার সময়কাল প্রজ্ঞাপনে নির্ধারণ করে দেওয়া যায়, সুতরাং পেছনের তারিখ দিয়ে আইন জারি করা সম্ভব। এবং সরকার সেনাবাহিনীর মনোবাঞ্ছা পুরণের জন্য এমন একটা উদ্যোগ নিচ্ছে- বিডিআর বিদ্রোহ যখন সংঘটিত হয় তখন বিডিআর এবং এখানে প্রেষণে নিযুক্ত সকল সেনাকর্মকর্তাই বিডিআরদের জন্য নির্ধারিত আইন মোতাবেক এখানে কর্মরত ছিলেন, তাদের সেনাআইনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে, শেখ হাসিনাকে প্রায় অপহরণ করে সেনাছাউনিতে অবরুদ্ধ করে এই আব্দার জানিয়েছিলেন সেনাকর্মকর্তাগণ।

আমাদের উজবুক বাণিজ্যমন্ত্রী যিনি প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তা, তিনি বিডিআর বিদ্রোহের তদন্তের সমন্বয়কারী ছিলেন, এবং সেনাবাহিনীও এই বিদ্রোহীদের আটক করবার জন্য কিংবা হত্যা করবার জন্য অপারেশন রেবেলহান্ট শুরু করেছে এবং এই অপারেশন রেবেলহান্টের কার্যক্রম এখনও অব্যহত আছে।

সেনাবাহিনীর উচ্ছৃঙ্খল সদস্যদের আব্দার পুরণের জন্য ব্যাকডেট দিয়ে আইন কার্যকর করে বিডিআরবিদ্রোহীদের বিচার সেনাআইনে করার সাম্ভাব্যতা নিয়ে একটা আলোচনা চলছে আদালতে। এটা যদি বাস্তবায়িকত হয় তবে সেটা হবে আমাদের সেনাবাহিনীর আব্দারের কাছে নতজানু হওয়া। সেটা কাম্য নয়

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে এবং আইনের কেতাবের প্রচলিত বিধিকে পাশ কাটিয়ে যখন কোনো আইন প্রয়োগ করা হয় তখন সেটার উপযুক্ততা বিচার করতে হয়, এমন কি অনিবার্যতাও বিচার করতে হয়। ১৯৭৩ সালে দালাল আইনের আওতাভুক্ত ছিলো ১৯৭১ সালে কৃত অপরাধসমুহ, এটার গ্রহনযোগ্যতা কিংবা বাস্তবতা ছিলো, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের নেপথ্যে যে রক্তাক্ত ইতিহাস, যে নির্বিচার গণহত্যার ইতিহাস এবং এর ন্যায় বিচারের দাবি উত্থাপিত হয়েছিলো, সেটা গণদাবি এবং এই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নির্যাতিত সকল পক্ষেরই ছিলো, সুতরাং এই আইনের প্রয়োগ ও সূচনাকাল নিয়ে দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই, কিন্তু বিডিআরবিদ্রোহ কিছুটা সেনাকর্মকর্তাদের নিজস্ব গলদে হয়েছে, কিছুটা হয়েছে বিদ্যমান অব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায়,এবং অন্য কোনো আইনে এর বিচার হলে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কাও নেই এখানে।

এরপরও সেনাবিদ্রোহ আইনে বিচার করে গণহত্যার উস্কানি দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের জন্য খুব একটা মঙ্গলজনক কিছু হবে বলে মনে হয় না আমার। বরং বিদ্রোহের বিচারের জন্য বিডিআরের নিজস্ব আইন আছে, সেটার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয় মনে হলে প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় এর বিচার দাবি করা যায়, কিন্তু এরজন্য সেনাসদস্যদের জন্য প্রচলিত আইনে বিডিআরদের বিচার করতে হবে এমন উদ্ভট দাবি মেনে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

প্রতিটা বাহিনীর নিজস্ব নীতিমালা আছে, এবং সেসব নীতিমালা মেনেই সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বিধিমোতাবেক দেশসেবা করছেন, এখন তাদের নীতিমালাবহির্ভুত অন্য কোনো আইনে তাদের বিচার করে তাদের দ্রুত মৃত্যুর ব্যবস্থা করে দেওয়া নীতিসঙ্গত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রাপয় ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিক এবং প্রশিক্ষিত খুনিদের কাছে মাথা নত না করুক, বাংলাদেশের সরকারের কাছে এটুকুই প্রত্যাশা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29003157 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29003157 2009-09-01 22:46:04
কৌশলী মিথ্যা, কৃষ্ণগহ্বর আমাদের পরবর্তী শক্তির উৎস
কৃষ্ণগহ্বর অন্তত শক্তির উৎস, ভবিষ্যতের মানুষদের শক্তির অন্যতম উৎস হয়ে উঠবে কৃষ্ণগহ্বর কিংবা ব্ল্যাকহোল। বাক্যের উপসংহার পড়ে চিন্তিত হলাম। পৃথিবীতে এখনকার অধিকাংশ লড়াইয়ের প্রধানতম নেপথ্য কারণ শক্তিনিশ্চয়তা কিংবা জ্বালানী নিশ্চয়তা, সুতরাং ব্ল্যাকহোল যদি তেমন অনন্ত শক্তির উৎস হয়ে উঠে তবে মহাবিশ্বে ব্ল্যাকহোল দখলের জন্য পৃথিবীতে লড়াই শুরু হবে? শুরু হবে কুটনৈতিক তৎপরতা? অর্থ, প্রলোভন এবং শক্তি প্রদর্শন করে এসব দখলের লড়াই শুরু হবে?

বিষয়টার অসারতা চিন্তা করে নিজের কাছেই হাস্যকর লাগে সবকিছু। কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুতুরে একটা ঘটনা, ভারী নক্ষত্রের আভ্যন্তরীণ চাপ যখন মহাকর্ষের কাছে পরাজিত হয় নক্ষত্র কেন্দ্রে বিলীন হয়ে যায় , কিংবা তার হয়তো একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকে, যা আমরা বাইরে থেকে নির্ধারণ করতে পারি না। আমাদের কাছে মহাবিশ্বের সেই স্থানের কোনো তথ্য থাকে না, মূলত তথ্যহীনতাই কৃষ্ণগহ্বরকে এতটা আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মহাকর্ষ আদতে স্থান কালের বক্রতার একটি পরিমাপ, বস্তুর উপস্থিতি কিভাবে তার চারপাশকে প্রভাবিত করে, সেটাই মহাকর্ষের মূল পাঠ্য। সেখানে বস্তু অন্য সকল স্থানের মতোই বাইরের কোনো প্রভাব না থাকলে সরল পথে চলতে থাকে, তবে যেহেতু বস্তুর উপস্থিতি স্থানকে প্রভাবিত করে সুতরাং বস্তুর সরল পথ সে সমতলের উপরে সরল পথ হলেও সেটা অন্য স্থানের প্রেক্ষিতে বক্রআকার ধারণ করে। এবং কৃষ্ণগহ্বরের এই বক্রতার পরিমাণ এতটাই বেশী যে আলো একবার সেখানে পতিত হলে আর বাইরে বের হয়ে আসতে পারে না।

হকিং হিসেব কষে দেখিয়েছেন কৃষ্ণগহ্বর ততটা অন্ধকার নয় মোটেও, বরং কৃষ্ণগহ্বরও কিছু পরিমাণ শক্তি নিঃসরণ করে, সুতরাং কৃষ্ণগহ্বর অন্য কোনো বস্তুর অনুপস্থিতিতে নিজেই শক্তিবিকীরণ করে প্রকাশ্য হয়ে উঠতে পারে।

এইসব কৃষ্ণগহ্বরের প্রভাব এবং চরিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ করবার প্রয়োজন নেই আদতে, মূলত সংশয় হলো এই কৃষ্ণগহ্বর মানুষের পরবর্তী শক্তির উৎস হয়ে উঠবে এই জ্ঞানী উপসংহার নিয়ে। মহাকর্ষের অদ্ভুত বৈশিষ্ঠ্য হলো এটা সকল ভরের বস্তুকে আকর্ষণ করে, কৃষ্ণগহ্বরের মহাকর্ষ শক্তি প্রচণ্ডমাত্রায় বেশী , সুতরাং আমরা মন চাইলো আর গবেষণাগারের পাশে একটি কৃষ্ণগহ্বর বেধে রেখে কিংবা তৈরি করে শক্তি উৎপাদন করতে শুরু করলাম, এমনটা ঘটবে না। পারমাণবিক প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াও নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে পারমাণবিক বিস্ফোরণে প্রচণ্ড ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের বিজ্ঞানীরা আদতে কি প্রক্রিয়ায় কৃষ্ণগহ্বর থেকে শক্তিআহরণের কথা ভাবছে এটা ভাবতে ইচ্ছা করে। তারা এমন কোনো বস্তু এখনও আবিস্কার করতে পারে নি যা মহাকর্ষ শক্তিকে বিকর্ষণ করে কিংবা এন্টিগ্রাভিটি ম্যাটার আদতে গবেষণাগ্রন্থের পাতার বাইরে অন্য কোথাও উপস্থিত নেই, এবং সেটা এক ধরণের সারাংশ, আমাদের বিজ্ঞান হলো আমাদের চেনা জগতকে ব্যখ্যা করবার একটা প্রক্রিয়া, সেটা নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে কিছু যুক্তি মেনে একটা নিয়মতান্ত্রিকতা স্থাপন করে, সে নিয়মতান্ত্রিকতার ভিত্তিতে আমরা অধিকাংশ পরিচিত ঘটনাকে ব্যখ্যা করতে পারি।

তা সকল বিষয়কে ব্যখ্যা করতে পারে না, এবং যখনই ব্যখ্যা করতে ব্যর্থ হয় বিজ্ঞান তখন নতুন নতুন অনুমাণ উপস্থিত হয়, মহাকর্ষীয় বিকর্ষণের ধারণাও তেমনই একটি ধারণা। চেনা পৃথিবীতে এটার অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি, পারমাণবিক পরিবেশে এবং সৈরজগতের মতো বিশাল আকৃতিতেও এমন কোনো বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় নি যা মহাকর্ষীয় বিকর্ষণ অনুভব করে, সুতরাং আমাদের বিশালতার মাত্রা বাড়িয়ে একটা গ্যালাক্সি করলে সেটা বিকর্ষক চরিত্রধারণ করবে এমন অনুমাণটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায়।

এরপরেও একটা কৃষ্ণগহ্বরকে নিয়ন্ত্রনের জন্য এমন কোনো নিরাপত্তাকবচ আমাদের প্রয়োজন, কিংবা যদি আমরা কৃষ্ণগহ্বরীয় বিকিরণকে কাজে লাগাতে চাই তবে আমাদের পৃথিবীকে টেনে নিয়ে যেতে হবে এমন কোনো একটা বড় কৃষ্ণগহ্বরের কাছাকাছি, এমন একটা নিরাপদ দুরত্বে তাকে স্থাপন করতে হবে, যেনো কৃষ্ণগহ্বরের অনন্তক্ষুধার বলি না হয় আমাদের পৃথিবী এবং তার থেকে নির্গত বিকিরণ আমরা পৃথিবীতে আটক করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। এমন অদ্ভুত অঙ্ক হয়তো কোনো দিন মেলানো সম্ভব হবে,

এইসব দুর্বোধ্য অঙ্কের হিসেব কষে কষে যদি কিছু বিজ্ঞানী গবেষণার প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করতে পারেন এবং তার তত্ত্বাবধানে থেকে গবেষণা করা ছাত্রদের জীবিকার ব্যবস্থা করেন তবে এই অলীক উদ্ভট দাবিকে সমর্থন দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28999225 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28999225 2009-08-24 23:47:39
নিজস্ব নিরাপত্তাহীনতার বোধে মুহাম্মদ যা যা করেছিলো-
আবু তালিব ছায়ার মতো রক্ষা করেছে মুহাম্মদকে এই সম্পূর্ণ সময়টাতে। তেমন বৈরীতার মুখোমুখি হতে হয় নি মুহাম্মদকে একেশ্বরবাদ প্রচারে। আধুনিক রাষ্ট্র এবং তার রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের চরিত্র বিশ্লেষণ করে অন্তত এইটুকু নিশ্চিত বলা যায় মুহাম্মদের জীবন সংশয় হয়েছিলো শুধুমাত্র ১ বারই, সেটাও ইসলাম প্রচারের প্রথম এক যুগে ঘটে নি। শয়তানের প্ররোচনা আবু জাহেল এবং অন্যান্য কোরাঈশগণ যখন মুহাম্মদকে কতলের জন্য মুহাম্মদের বাসার দরজায় অপেক্ষা করছে তার আগেই মুহাম্মদ তাদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গেছে মদীনার উদ্দেশ্যে। সেই একবার বাদ দিলে আদতে মুহাম্মদকে খুব বেশী শাররীক নির্যাতন সহ্য করতে হয় নি

তবে মুহাম্মদের নিজস্ব নিরাপত্তাহীনতার বোধ তাকে অনেক কিছু করতে বাধ্য করেছিলো, নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি এবং মক্কার অধিবাসীদের সমর্থন পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাথে শিরক, আবু তালিবের মৃত্যুর পরে গোত্রগত বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে নিজের এবং নিজস্ব ধর্মপ্রচারের নিরাপত্তা কবচ খুঁজতে তায়েফ গমন এবং অবশেষে মদীনার অধিবাসীদের কাছে সহায়তা চাওয়া এবং পরিশেষে নিরাপদ জীবনের খোঁজে মদিনায় হিজরত এবং সেখানেও ইহুদী এবং খ্রীষ্টানদের সমর্থনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন অব্যাহত ছিলো।

অবশ্য সে সময়ে শাররীক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো মুহাম্মদের দরিদ্র অনুসারীগণ, কারণ তাদের রক্ষা করবার মতো কোনো গোত্রপতি ছিলো না। মূলত ইসলাম গ্রহন কিংবা ইসলামের বিস্তারের সাথে সাথে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীলদের আঘাতটা এসেছেই দাস এবং হতদরিদ্র ধর্মান্তরিতদের উপরে। আবু বকর, উসমান, কিংবা ওমর, কিংবা অন্য যারা নিজস্ব গোত্রের সুরক্ষা পেয়েছে কিংবা যাদের নিজস্ব ব্যবসা এবং প্রভাব ছিলো, তারা সবাই মক্কায় ঘুরেছে এবং নির্বিঘ্নেই চলাচল করেছে, ব্যবসা করেছে।
প্রকাশ্যে নামাজ পড়েছে তারা, কোরাঈশদের বিদ্রুপের শিকার হয়েছে কিন্তু শাররীক নির্যাতনের প্রচন্ডতা ছিলো না কোনো সময়ই। মুহাম্মদকে কবি, মিথ্যুক, প্রতারক এবং অন্যান্য বিশেষণে ভুষিত করাকে আমি শাররীক নির্যাতনের অংশ ধরছি না, তার গায়ে বেশ কয়েকবার নাড়ীভুড়ি ছুড়ে ফেলা হয়েছে, এবং একবার তার মাথায় ধুলো দেওয়া হয়েছে- এর বাইরে শাররীক হেনেস্তা হতে হয় নি তাকে ।

এর বিপরীতে আমরা আধুনিক রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের কথা বিবেচনা করি, নতুন কোনো ধর্ম নয়, বরং সকল মানুষের সমান অধিকার এবং ফসলের ন্যায্য ভাগের দাবিতে তেভাগা আন্দোলনের নেতাদের যখন আটক করা হলো তাদের উপরে যে নির্যাতন চলেছে সেটার বর্বরতা মুহাম্মদের ইসলামের বানী প্রচারে প্রাপ্ত বর্বরতার শতগুণ বেশী।

মুহাম্মদের কোনো মহিলা অনুসারী শাররীক নির্যাতনের শিকার হয় নি, কোনো সময়ই না, মক্কার জাহেলিয়াত পরিবেশেও অহেতুক শাররীক নির্যাতন কিংবা ধর্ষণ জাতীয় ঘটনা ঘটে নি , নও মুসলিম নারীদের ভেতরে আবু বকরের বড় মেয়ে আসমাই সর্বপ্রথম কোরাঈশদের হাতে শাররীক নিগৃহীত হয়েছে, সে নিগ্রহ ছিলো গালে একটি চড়।

অথচ এর বিপরীতে আমরা ইলা মিত্রের অভিজ্ঞতা স্মরণ করলে দেখবো আমাদের আধুনিক সময়ে নতুন কোনো সাম্যবাদী মতামতের প্রসার হওয়া অনেক বেশী বৈরিতার জন্ম দেয় । রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো সম্ভবত এইসব নতুন মতাদর্শিক বিকাশকে সহ্য করতে চায় না, নিজেকে নিরাপত্তাহীন ভাবে। ধর্মীয় জঙ্গীবাদীদের যেভাবে দমন করছে উন্নত এবং অনুন্নত দেশগুলো, তেমন বড় মাপের নৃশংসতাও দেখে নি মুহাম্মদের অনুসারীগণ।

মুহাম্মদকে আমার কখনই ঠিক বড় মাপের নেতা মনে হয় নি, বরং চরিত্রে সে আপোষকামীই ছিলো। সারাক্ষণ নিরাপত্তাহীনতার বোধ তাকে তাড়া করেছে, আবু তালিবের সাথে অন্যান্য কোরাইশ নেতাদের বৈঠকে আবু তালিবের নিরবতা তাকে নিরাপত্তাহীন করেছে, এবং আবু তালিব তাকে আশ্বস্ত করেছে আমি যতদিন বেঁচে আছি আমি তোমাকে রক্ষা করবো।

গোত্র এবং পরিবার প্রীতি ছিল হামজার ইসলাম ধর্ম গ্রহনের নেপথ্যে- ইসলামের একেশ্বরবাদীতা বানী শুনে হৃদয় বিগলিত হয়ে যে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নি বরং সেটা প্রতিশোধস্পৃহাজাত একটি প্রবনতা। হামজা যখন শিকার থেকে ফিরে এসে কাবা শরিফ প্রদিক্ষণ করছিলো, তার একটু এগেই নতুন গোত্রপতি আবু জাহেল মুহাম্মদকে হেনেস্তা করেছে, এই সংবাদ পেয়েই হামজার ভেতরে ভাতুস্পূত্রের প্রতি স্নেহ জাগ্রত হয় এবং নিজের পোত্তলিকতা প্রত্যাখ্যান করে সে ঘোষণা দেয় আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলাম এখন তোমাদের যদি সাহস থাকে তাহলে মুহাম্মদকে হেনেস্তা করো।
হামজা কোরাইশদের ভেতরে পরিচিত বীর হলেও আবু তালিবের মৃত্যুর পরে আবু জাহেলের গোত্রপতি হওয়ায় মুহাম্মদের নিরাপত্তাহীনতার বোধ একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি।

মুহাম্মদকে এবং তাদের অনুসারীদের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক না রাখবার সিদ্ধান্ত ছিলো আবু জাহেলের মস্তিকজাত এবং মুহাম্মদের নিরাপত্তাহীনতার বোধটা এ সময়ে আরও জঘন্য ভাবে প্রকাশিত হয়। এই বয়কটের সিদ্ধান্ত তাদের উপরে বিশাল আঘাত হিসেবে এসেছিলো। তাদের সঞ্চিত সম্পদ এবং আহার্য সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পরে তাদের প্রতি সহানুভুতীশীলদের অনুদানেই তাদের জীবন চলছিলো, ঠিক এই সময়েই কোরাঈশদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসে- তুমি যদি আমাদের দেব দেবীদের অপমান না করো এবং তোমার ধর্মের অন্তর্ভুক্ত করো তবে আমরা তোমার ইসলাম প্রচারে কোনো বাধা দিবো না। আমরা সবাই তোমার ধর্ম পালন করবো ১ বছর এবং অন্য বছরে তুমি আমাদের ধর্ম পালন করবে।

এই প্রস্তাবের পরপরই মুহাম্মদ আল লাত, উজ্জা এবং মানাতকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সুরা পাঠ করে।
সেই সুরাটিই বিখ্যাত স্যাটানিক ভার্সেস,

By the Star when it sets, your comrade does not err, nor is
he deceived; nor does he speak out of (his own) desire . . .

Have you thought upon al-Lat and al-`Uzza and Manat, the
third, the other?

These are the high-flying cranes; verily their intercession
is accepted with approval.

-------------------------------------------------------

মুহাম্মদের অনুসারীগণ এতে কোনো আপত্তি করে নি, এবং কোরাঈশগণ আনন্দের সাথেই এটা মেনে নেয়।

কি ঘটেছিলো এটার পরে সেটাই আদতে মুল রহস্য- কোরাঈশগণ অবরোধ তুলে নেয় এবং মুসলমানগণ নির্বিঘ্নে ধর্মাচরণের সুযোগ পায়, এই সংবাদ পৌঁছায় আবিসিনিয়ায়, যেখানে ৮৩ জন মুসলিম হিজরত করে চলে গিয়েছিলো, মক্কাবাসী ইসলামকে স্বীকৃতি দিয়েছে এই সংবাদ পাওয়ার পরে তারা আবিসিনিয়া থেকে মক্কায় ফেরত আসে- তবে.........

তারা যখন ফেরত আসছে মক্কায়, তার আগেই মুহাম্মদকে জিব্রাঈল এসে বলেছে এটা আসলে শয়তানের প্ররোচনায় ঘটেছে, আল্লাহ জিব্রাঈলকে এমন কোনো ওহী দিয়ে পাঠান নি। মুহাম্মদ নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে পুনরায় সংশোধন করে সুরাটি। এবং সুরা হজ্জ্বের ৫২ নং আয়াতটি নাজেল হয় এই শয়তানের আয়াতকে নস্যাৎ করবার প্রতিক্রিয়ায়।

Never did we send a messenger or a prophet before you but
that when he recited (the Message) Satan cast words into his
recitation (umniyyah). God abrogates what Satan casts. Then
God established his verses. God is knower, wise [ ২২.৫২ ]

আবিসিনিয়া থেকে ফেরত আসা মুসলিমগণ মক্কায় প্রবেশের পূর্বেই এই সংবাদ জানতে পারে এবং তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গোত্রপতিদের অনুরোধ জানায়। এবং তারা সেই রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই মক্কায় প্রবেশ করে এবং মদীনায় হিজরত করবার আগ পর্যন্ত তারা সেখানেই বসবাস করছিলো।

এরপর পরই পুনরায় বয়কট আরোপ করা হয়।

নবুয়তের ১০ বর্ষে আবু তালিব এবং খাদিজার মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। আবু তালিবের বদলে নতুন গোত্রপতি হয় আবু জাহেল, এবং মুহাম্মদ নিজস্ব প্রাণভয়ে তায়েফে ছুটে যান নিরাপত্তার আশ্বাস খুঁজতে- সেখানকার একটি গোত্র যদিও মক্কাবাসীদের সাথে মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলো কিন্তু তারা মক্কায় কোরাঈশ এবং অন্যান্য গোত্রদের তেমন পছন্দ করতো না বরং তাদের প্রতি বৈরীই ছিলো, সেই বৈরীতার সুযোগ নিতে মুহাম্মদ তায়েফে গমন করেন এবং তায়েফের তাহিকফ গোত্রপতি মুহাম্মদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাকে নির্বিঘ্নে ধর্ম প্রচারের জন্য নিরাপত্তা দিতে রাজী হয় নি। এই প্রত্যাখ্যানের পর মুহাম্মদের প্রতিক্রিয়া ছিলো, আমি যে এখানে সহায়তার জন্য এসে প্রত্যাখ্যার হয়েছি এই সংবাদ যেনো মক্কাবাসী জানতে না পারে, এবং অতঃপর সেই গোত্র মুহাম্মদকে হেনেস্তা করে ফেরত পাঠায়।

মুহাম্মদ ফেরার পথে অন্য এক মহিলার কাছে নিজের দুঃখের বয়ান করে বলেন আপনার স্বামী এবং তার ভাইয়েরা আমার আহ্বানে সাড়া দিলো না।
তারপর মুহাম্মদ মক্কায় ফেরত আসেন

Then the Messenger of God came back to Mecca, and found
that its people were even more determined to oppose him and to
abandon his religion, except for a few weak people who believed
in him. Some say that when the Messenger of God left al-Ta'if for
Mecca193 a certain Meccan passed by, and the Messenger of God

said, "Will you deliver a message which I entrust to you?" He
agreed, and he said, "Go to al-Akhnas b. Shariq and say to him,
'Muhammad asks you if you will give him protection so that he
can deliver the message of his Lord.' The man went to him and de-
livered the message, and al-Akhnas replied, "The confederate does
not give protection against the men of pure blood." He went back
to the Prophet and gave him this reply. Muhammad then asked
him if he would go back again, and when he indicated that he
would, said, "Go to Suhayl b. `Amr and say to him, `Muhammad
asks you if you will give him protection so that he can deliver the
message of his Lord.'" He went to him and delivered the message,
and he replied, "The Banu `Amir b. Lu'ayy do not give protection
against the Banu Ka`b.'' The man went back to the Prophet and
gave him this reply. Muhammad asked him if he would go back
yet again, and when he indicated that he would, he said, ''Go to al-
Mut`im b. `Adi and say to him, `Muhammad asks if you will give
him protection so that he can deliver the message of his Lord.'"
Al-Mut`im replied, "Yes, let him enter."

The man went back and told him this, and the next morning
al-Mut`im b. `Adi, his sons, and his brother's sons appeared wear-
ing their weapons and entered the mosque. When Abu Jahl saw
him, he said, "Are you offering protection to someone or follow-
ing a call to arms?" "I am offering protection," he said. Abu Jahl
replied, "We shall protect whomever you protect." The Prophet
entered Mecca and remained there. One day he went into the sa-
cred mosque while the polytheists were by the Ka`bah. When Abu
Jahl saw him he said, "This is your prophet, Banu `Abd Manaf."194 [1204]
To this `Utbah b. Rabi`ah said, "Is there anything wrong with there
being a prophet or a king from among us?" The Prophet was told
of this or heard it, and he went to them and said, "As for you, `Ut-
bah b. Rabi`ah, by God, you were not angered on behalf of God or his Prophet, but were angered on behalf of your own pride; and
as for you, Abu Jahl b. Hisham, by God, not long will pass before
you laugh little and weep much; and as for you, council (mala') of
Quraysh, by God, not long will pass before you will enter unwill-
ingly into that which you dislike."

এই নিরাপত্তার আশ্বাসও আসলে যথেষ্ঠ ছিলো না মুহাম্মদের জন্য, সুতরাং মুহাম্মদ এই সময়েই মদীনাবাসীদের কাছে ইসলামের প্রচার ও প্রাসারের জন্য সাহায্য সহযোগিতা চান। তবে মুহাম্মদ প্রত্যাখ্যাত হন মদীনাবাসীদের কাছেও, কারণটা মুহাম্মাদের মৃত্যুর পরে নেতৃত্ব যাবে কার কাছে এই বিষয়ক সংকট।

Ibn HumaydSalamahMuhammad b. IshaqMuhammad b.
`Abd al-Rahman b. `Abdallah b. Husayn: He went to a clan of
Kalb called the Banu `Abdallah in their encampments, summoned
them to God and offered himself to them, and finally said, "Banu
`Abdallah, God has given your ancestor an excellent name." How-
ever, they did not accept what he offered them.

Ibn HumaydSalamahMuhammad b. Ishaqone of his
companions`Abdallah b. Ka`b b. Malik: The Messenger of God
went to the Banu Hanifah in their encampments, summoned
them to God and offered himself to them, but not one of the Arabs
gave him an uglier answer than they.

Ibn HumaydSalamahMuhammad b. Ishaq and Muhammad
b. Muslim b. Shihab al-Zuhri: He went to the Banu `Amir b.
Sa`sa`ah, called them to God and offered himself to them. One
of them called Bayharah b. Firas said, "By God, if I could take this young man from Quraysh I could conquer all the Arabs with
him." Then he said, "Do you think that if we follow you and God
gives you victory over your opponents we shall have the command
after you?" He replied, "Command belongs to God, who places it
where He wills.'' Bayharah said, ''Are we to expose our throats to
the Arabs in your defense, and when you are victorious the com-
mand will go to someone else? We do not need your religion." So
they refused him.
[ তাবেরী ৬ষ্ঠ খন্ড, মুহাম্মদ ইন মক্কা]

একটা বিষয় স্পষ্ট মদীনাবাসীরা ইসলামের মাধুর্য্যে ধর্মান্তরিত হয় নি, বরং তাদের নিজস্ব স্বার্থ ছিলো প্রবল, এবং সেটার ভেতরে একটা ছিলোমদীনায় বসবাসরত ইহুদীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ লড়াই করতে আগ্রহী কিনা এই বিষয়ক নিশ্চয়তা। সে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরে মদীনাবাসীদের একাংশ ইসলামের শরণ গ্রহন করে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28993775 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28993775 2009-08-14 22:18:56
অসভ্যতা-
দ্বাদশ কিংবা ত্রয়োদশ শতাব্দীতে কায়রোতে এক সম্রাট, তার কন্যাদের বিয়েতে যে পরিমাণ যৌতুক দিয়েছিলেন, তাতে তার সম্রাজ্যের মেরুদন্ড ভেঙে গিয়েছিলো, কথিত আছে সে সময়ে তার কনিষ্ঠা কন্যার যৌতুক হিসেবে প্রায় ১০ লক্ষ দিহরাম প্রদান করেছিলেন তিনি। জায়গীর এবং অন্যান্য সম্পদের বিবরণ শুনলেও অবাক হতে হয়।
তার প্রিয় দাসীর কন্যার জন্য তার বরাদ্দ ছিলো ১০ হাজার দিহরাম এবং অন্যান্য উপঢৌকন।

একই সাথে ষষ্টদশ শতকে ইউরোপে অসংখ্য অনুঢ়া রমনী ছিলো, যাদের যৌতুকের অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি বলে বিয়ে হয় নি। উচ্চ শ্রেনী এবং নিম্ন শ্রেনী এতে বিবেচ্য বিষয় ছিলো না। ইদানিং হয়তো তেমন প্রকট এবং অশোভন যৌতুক প্রথা ইউরোপে নেই। সামাজিকতা রক্ষার নামে এখনও বলকান অঞ্চলে এই প্রথার অনুসরণ হচ্ছে তবে সেটা সমগ্র ইউরোপে তেমন ভাবে প্রচলিত নয়।

সেই প্রবনতা সম্ভবত যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আরও বীভৎস আকার ধারণ করেছে, ভারতীয় সমাজে এটার প্রভাব কতটা জঘন্য ভাবে পড়েছে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় সেখানকার কঠোর যৌতুকবিরোধী আইনের খসরা দেখলেই।
১৯৯৪ সালে সেখানে যৌতুকের কারণে ৫১৯৯ জন নারীকে হত্যা করা হয়
Click This Link



যৌতুকের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করা কিংবা গর্ভবতী স্ত্রীকে পিতৃগৃহে ফেরত দিয়ে আসা, নানাবিধ অভব্য আচরণ ভারতীয় সমাজে শুরু হয়েছে, এবং উঁচু উঁচু ভবন নির্মানের সাথে সাথে এইসব যৌতুক নির্যাতিতা রমনীর মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে।

আমার এক বন্ধুর গল্প শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলো, তার বোন, হিন্দী সাহিত্যে পিএইচডি করেছে এবং তেমনই উপযুক্ত একটি পাত্রকে বিয়ে করেছে, সে বিয়েতে যৌতুকের পরিমাণ শুনে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। একজন উচ্চ শিক্ষিত যুবক, যার নিজস্ব সম্পদের অভাব নেই, সে ভালো চাকুরি করছে, সে এমন অশোভন এবং অশিষ্ট আচরণ কিভাবে করে?

সেই ভদ্রলোক মাতৃঅন্তপ্রাণ, সুতরাং তার বেতনের সব টাকাই মায়ের হাতে তুলে দেন তিনি, সংসার খরচ চালানোর দায়িত্ব তার উচ্চশিক্ষিত চাকুরীজীবি স্ত্রীর। গত বছর তাদের একটা সন্তান হয়েছে, সেই সন্তান হওয়ার পর থেকে বন্ধুর বোন আর চাকুরী করতে পারছে না, সুতরাং এখন তাকেই নিয়মিত বোনের সংসার খরচ পাঠাতে হচ্ছে- সংবাদটা শুনে ক্ষিপ্ত হলেও তার ভেতরে কিন্তু কোনো বিকার নেই, এটাই সামাজিক প্রথা, আমাদের সমাজের নিয়মটাই এমন-

অন্ধ এবং অসভ্য একটা নিয়মের জালে সবাই আটকা পড়ে আছে, এমনটাই মনে হলো তার কথায়, এবং অন্য সবার ভাবনাও এমনই, তাদের কাছেও যৌতুক গ্রহন এবং যৌতুক বিনিয়মটা অন্যায় কিংবা অশোভন কিছু মনে হয় না। উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সদস্যরাও কন্যা সন্তান জন্মানোর সাথে সাথে তার যৌতুকের টাকা জমানো শুরু করেন। এবং পাত্র ভেদে যৌতুকের পরিমাণ ৫ থেকে শুরু করে ৪০ লক্ষ রুপী হতে পারে। পাত্রের সামাজিক মর্যাদা, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তার চাকুরির উপরে এই যৌতুকের পরিমাণটা পরিবর্তিত হয়।

প্রকৌশলী, সরকারী চাকুরীজীবি পাত্র হিসেবে সবচেয়ে দামী, একই সাথে অনাবাসী ভারতীয়, যাদের বাইরে চাকুরী আছে এবং যাদের ভবিষ্যতে আরও ধনী হয়ে উঠবার সম্ভবনা আছে, তারাও পাত্র হিসেবে দামী। একজন পিএইচডিধারী পাত্রের মূল্য বিয়ের বাজারে অন্তত ১০ লাখ।

এইসব সংবাদ অনেকটা অবাক এবং বিবশ করে ফেলে আমাকে।

একজনের গল্প শুনলাম, সে বিয়ে করতে গিয়েছে ভারতে, যাওয়ার আগে সে ২৫ জনের প্রাথমিক তালিকা করে গিয়েছিলো, পরবর্তীতে যৌতুক নিয়ে দরকষাকষি করে সেটা নামিয় এনেছে ২টিতে, একজন পাত্রী সুন্দরী এবং যৌতুক কম দিবে, অন্য একজন পাত্রী তেমন সুন্দরী নয়, তবে যৌতুকের পরিমাণটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো, সে দ্বীতিয় পাত্রীকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে।

যৌতুক বিরোধী আইন কঠোর ভাবে প্রয়োগ হওয়ার ফলে ইদানিং পাত্রেরা যৌতুকের জন্য তেমন চাপ সৃষ্টি করতে না পারলেও, তাদের বিয়ের এবং বিয়ের পরে ঘর সাজানো এবং চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয় মেয়ের পরিবার। এবং এটাকেই তারা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়েছে।

মেয়ের সাথে মেয়ের সংসার সাজিয়ে দেওয়ার যাবতীয় উপকরণ এবং সেই সাথে বিয়ের সমুদয় খরচ পাত্রী পক্ষই বহন করবে, এটাতে লজ্জিত হওয়ার কিছু খুঁজে পায় না আমার উচ্চশিক্ষিত বন্ধুরা, এবং সেটা আমাকে আরও অবাক করে।

তোমাদের শিক্ষিত হওয়ার লক্ষ্য কি তাহলে? তোমরা কি বিয়ের বাজারে নিজেদের দাম বাড়ানোর জন্য এত বেশী শিক্ষার্জন করছো, দিন রাত লড়াই করে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হচ্ছো, সরকারী চাকুরীর প্রতিযোগিতার লিপ্ত হচ্ছো। এবং তোমাদের কি কখনই এ বিষয়ে অনুতপ্ত মনে হয় না।

এটা একটা সামাজিক প্রথা, আমরা না চাইলেও এটা আমাদের দেবে, আমরা কি করতে পারি?

বাংলাদেশের পরিস্থিতি অন্তত ভারতের চেয়ে উন্নত, যদিও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে এখনও কন্যা সন্তান অভিশপ্ত হিসেবেই জন্ম নিচ্ছে, এখানে যৌতুক বিরোধী প্রচারণা এবং সরকার এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় অন্তত একটা নিম্ন সীমা নির্ধারিত হয়েছে, অনেক পরিবারই এখন যৌতুক গ্রহন করে না, কিন্তু একই সাথে উত্তর বঙ্গের অনেক জেলায়, যেসব জেলায় ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প শুরু হয়েছে, সেখানে যৌতুকের হারও বেড়েছে।

পূর্বে যেসব ছেলেরা একটা সাইকেল আর একটা হাত ঘড়ি উপহার পেলেই বিয়ে করতে যেতো, তারা এখন ২০ হাজার টাকার নীচে রাজী হতে চাইছে না। এমন কি এখন তারা সাইকেল নয় একটা রিকশা আর একটা টেলিভিশন দাবী করছে যৌতুক হিসেবে। এটা একেবারে নিম্নবিত্ত পরিবারের হিসাব, কিন্তু তাদের তুলনায় একটু ধনী পরিবারের যৌতুকের অঙ্ক সব সময়ই লাখের ঘরে ঘুরছে এবং এরাই পারিবারিক ভাবে স্ত্রী নির্যাতন করছে এবং কখনও কখনও পুড়িয়ে মারছে ।

শুধুমাত্র বিষন্ন হওয়া যায় এইসব সংবাদ পেয়ে, পড়ে। বাংলাদেশের নারী নির্যাতন আইন অত্যন্ত কঠোর, এবং এই আইনে অভিযুক্তের জামিন হয় না। এরপরও নারী নির্যাতন, যৌতুকের প্রকোপ কমছে না, অধিকাংশ সময়ই বিষয়টা সামাজিক স্বীকৃতি পেয়েছে বলেই আদালতে উপস্থিত হতে পারছে না।

যারা শিক্ষিত তারা আবার ঘর সাজিয়ে দেওয়ার প্রথায় বিশ্বাসী। অথচ এটাও যে যৌতুকের একটা আলাদা তরিকা এটা মানতে তারা নারাজ। তারা যৌতুক প্রথাকে ঘৃণা করে, অনেকে সামাজিক মর্যাদার জন্য মেয়েকে সাজিয়ে দিতে চায়।

সাম্প্রতিক একটি বিয়েতে মেয়ে পক্ষের বিয়ে বাবদ বরাদ্দ শুনে আমার রীতিমতো বিবমীষা জেগেছিলো, হতে পারে তাদের প্রচুর বিত্ত- কিন্তু একটা মেয়ের বিয়ের জন্য ২ কোটি টাকা খরচ করে ফেলানোটা রীতিমতো অপরাধ মনে হয়, এবং অন্য সব পোশাকশিল্প মালিকদের কন্যাদের বিয়েতেও নাকি ইদানিং বরাদ্দটা ৫০লাখ থেকে ৭৫ লাখের কোটায়।

আমাদের মতো দরিদ্র দেশে সস্তা শ্রমের ঘাম শুষে নিয়ে নিজের কন্যার বিয়েতে এমন অপরিমেয় অর্থ অপচয় করাটা কোনোভাবেই আমার কাছে শোভন মনে হয় না, কিন্তু বাস্তবতা হলো এটা তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক সামাজিকতা রক্ষার একটা বিষয়।

অথচ এই প্রথা কিংবা অসভ্যতা অন্য সবার সামনে যে বিকৃত উদাহরণ সৃষ্টি করছে সেটার প্রভাব সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নয়, কিংবা তারা এটার অশুভ প্রভাবকে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে না পারলেও অবজ্ঞা করে যাচ্ছে।

ভারতের সমাজে ধারাবাহিক অবহেলায় এখন অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের পিতা তার শরীরের প্রত্যঙ্গ বেচে কন্যার বিয়ের যৌতুক প্রদান করছে। বাংলাদেশেও হয়তো এমনই দিন সামনে আসবে, বিয়ের নামে শিক্ষিত এবং ধনীদের এমন অশোভন পয়সার লড়াই দেখে বাংলাদেশের সমাজও একদিন তার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বাধ্য করবে নিজের প্রত্যঙ্গ বেচতে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28987449 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28987449 2009-08-02 02:43:22
উমর ইবনে খাত্তাব বাছুরের পেটের ভেতরে শুনেছিলেন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই।
মুহাম্মদের ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে তারাই ইসলাম গ্রহন করেছিলো খুব সহজেই। তবে সবাই শেষ পর্যন্ত ইসলাম ধর্মে সমর্পিত থাকে নি। প্রাথম দিকের ইসলাম গ্রহনকারীদের একজন উবায়েদাল্লাহ ইবন জাশ, আবসিনিয়ায় হিজরত করবার পরে তিনি খ্রীষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং সেভাবেই মৃত্যু বরণ করেন।
উবায়েদ আল্লাহ ইবন জাশ শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হন নি, বরং তিনি তার সাথে হিজরতকারীদেরও তার যিশূর আলোয় আলোকিত হওয়ার দাওয়াত দিতেন। ইসলামচ্যুত হওয়ার জন্য তার স্ত্রী রামলাহ বিনতে আবু সুফিয়ানের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে মুহাম্মদ তার স্ত্রীকে বিবাহ করেন, এবং আরও পরে তার বোন জয়নব বিনতে জশকে বিবাহ করেন মুহাম্মদ।

অন্য একজন একেশ্বরবাদী উসমান ইবন হুয়ারিস, যিনি বাইজেন্টাইন সফর করেন এবং সেখানেই পুনরায় ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহন করেন।
যদিও ওয়ারেকা ইবন নওফলকে একদল ঐতিহাসিক বলছেন তিনি খ্রীষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলন, তবে অন্য ঐতিহাসিকেরা তাকে শুধুমাত্র হানিফ বলে অবহিত করেছেন।

অন্য একজন হানিফ, জায়েদ ইবনে আমর ইবন নওফল, তার নিশ্চিত ধারণা ছিলো, আব্দুল মুত্তালিবের বংশেই পরবর্তী নবীর জন্ম হবে। তার ভাষ্য মতে তিনি ইহুদী খ্রীষ্টান সবার সাথেই আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন মক্কায় পরবর্তী নবীর জন্ম হবে।

জায়েদ ইবনে আমর ইবন নওফল সম্পর্কে মুহাম্মদের বয়ান হলো- আমি তাকে বেহেশতে দেখেছি।

প্রচলিত আছে যীশুর জন্মের সময় তিনজন বিজ্ঞ ব্যক্তি নাজারেথ এ এসেছিলো, তারা অনেক আগে থেকেই যীশুর আগমনের সংবাদ পেয়েছিলো এবং তার খোঁজেই যাত্রা শুরু করেছিলো। তাদের এই মুহাম্মদ আগমনের শুভ সংবাদ তারা পেয়েছিলো নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে, তবে উমর বিন খাত্তাব মুহাম্মদের আগমনের সংবাদ পেয়েছিলো জবাই করা বাছুরের পেটের ভেতর থেকে।[ তাবেরী , ৬ষ্ঠ খন্ড ]
Ibn HumaydSalamahIbn Ishaqone who is above suspicion
`Abdallah b. Ka`b the mawla of `Uthman: `Umar b. al-Khattab was
sitting with others in the Messenger of God's mosque one day
when a beduin came up and entered the mosque looking for `Umar
(b. al-Khattab). When `Umar looked at him he said, "This man is
still a polytheist, although at one point he abandoned polytheism.
He was a soothsayer in the Jahiliyyah." The man greeted him and
then sat down. `Umar said to him, "Have you become a Muslim?"

"Yes," he replied. "Were you a soothsayer in the Jahiliyyah?"
asked `Umar. ''Praise be to God,'' the man answered. "You have
received me with words which I do not suppose that you have
uttered to one of your subjects since you became Caliph." "God
forgive me!" said `Umar.90 "During the Jahiliyyah we used to do
worse things than you. We used to worship idols and embrace
graven images until God honored us with Islam." "Yes, by God,
O Commander of the Faithful," answered the man. "I used to be
a soothsayer in the Jahiliyyah." "Tell me," said `Umar, "what is
the most amazing saying which your familiar spirit brought you?"
"He came to me a month or a year before Islam," said the man,
"and said to me:

Have you considered the Jinn [91] and their hopelessness
and their despair of their religion,
and their clinging to young female camels and their
saddle cloths?"

[91. The jinn (plural; singular jinni, formerly transliterated as "genie") are a third
class of intelligent beings along with angels and humans. They are imperceptible
to the senses, but may make appearances under different forms. They are capable
of having a religion and believing in God; and the Qur'an (72:1-19; 46:29-32) speaks
of Muhammad preaching to them and of some being converted. In the present
passage their "despair of their religion" may be intended as a sort of premonition
of the coming of Islam; the reason for the reference to camels is unknown.]

Then `Umar said to the gathering, "By God, I was by one of the
idols of the Jahiliyyah with a number of men of Quraysh. An Arab
had sacrificed a calf to it, and we were waiting for it to be divided
up in order to receive a share, when I heard coming from the belly of the calf a voice which was more penetrating than any voice I have ever heardthis was a month or a year before Islamsaying:

O people of Dharih
A matter which has ended in success
A man shouting
Saying, "There is no deity but God."

bn Humayd`Ali b. MujahidIbn Ishaqal-Zuhri`Abdallah
b. Ka`b the mawla of `Uthman b. `Affan: a similar account.


এরপরের বর্ণনায় আছে, মুহাম্মদের নবুয়তপ্রাপ্তির সংবাদ নির্গত হয়েছিলো জবাই করা উটের পেটের ভেতর থেকে-

Al-HarithMuhammad b. Sa`dMuhammad b. `Umar
Muhammad b. `Abdallahal-ZuhriMuhammad b. Jubayr b.
Mut`imhis father: We were sitting by an idol at Buwanah a month before the Messenger of God commenced his mission, hav-
ing slaughtered camels. Suddenly we heard a voice calling from
the belly of one:

Listen to the wonder; There will be no more eavesdropping to overhear inspiration; We throw down shooting stars For a prophet in Mecca; His name is Ahmad, His place of emigration is Yathrib.
We held back and marvelled; then the Messenger of God ap-
peared (that is, he began his mission).


তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাছুরের পেটের ভেতর থেকে ইসলাম আগমনের সংবাদ পেয়েও উমর কিন্ত মুহাম্মদের আহ্বানে প্রথমেই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28986432 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28986432 2009-07-30 22:13:46
ওয়ারাকা ইবন নওফলের তেমন ভুমিকা ছিলো না নবুয়ত্বপ্রাপ্তির পরে...... [সূত্র সিরাত ইবন হিশাম]
অতঃপট সত্যি সত্যি একদিন ওহী নাজিল হলো, মুহাম্মদ প্রতিবছর রমজান মাসে একাকী প্রার্থনা করতে যেতো, এমনই কোনো এক সময়ে শবে কদরের রাত্রে জিব্রাঈল এসে বললো পড়ো তোমার প্রভুর নামে.............. যিনি তাকে শিখিয়েছেন যা সে জানতো না।
এই ঘটনার মুহাম্মদ ভীত হয়ে ছুটে চলে আসে বাসায় এবং এসে খাদিজাকে বললো, আমাকে আবৃত করো।

সাহীহ বুখারী Narrated 'Aisha(R): Volume 1, Book 1, Number 3

Khadija then accompanied him to her cousin Waraqa bin Naufal bin Asad bin 'Abdul 'Uzza, who, during the pre-Islamic Period became a Christian and used to write the writing with Hebrew letters. He would write from the Gospel in Hebrew as much as Allah wished him to write. He was an old man and had lost his eyesight. Khadija said to Waraqa, "Listen to the story of your nephew, O my cousin!" Waraqa asked, "O my nephew! What have you seen?" Allah's Apostle described whatever he had seen. Waraqa said, "This is the same one who keeps the secrets (angel Gabriel) whom Allah had sent to Moses. I wish I were young and could live up to the time when your people would turn you out." Allah's Apostle asked, "Will they drive me out?" Waraqa replied in the affirmative and said, "Anyone (man) who came with something similar to what you have brought was treated with hostility; and if I should remain alive till the day when you will be turned out then I would support you strongly." But after a few days Waraqa died.

এখানে যে ঘটনার বর্ণনা আছে, সেটা মুহাম্মদের উপরে ওহী নাজেল হওয়ার পর পর যখন খাদিজা চাদর গায়ে দিয়ে তার ওহী প্রাপ্তির সংবাদ দিতে গেলো তারপর পরের ঘটনা। সে সূত্রে এটা যখন মুহাম্মদের বয়েস ৪০ তখনকার ঘটনা।

এমন কি মুহাম্মদের নবুয়তপ্রাপ্তি এবং নবী হয়ে উঠবার বিষয়েও তার কোনো সংশয় ছিলো না, কিন্তু এরপরও সে ইসলাম গ্রহন করে নি, কোনো সময়ই গ্রহন করে নি। এতটা নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তার ইসলাম না গ্রহনের কোনো কারণ ছিলো না।

এর কিছুদিন পরেই ওয়ারাকার মৃত্যু হলো এবং এই ঘটনার পরপরই কিছুদিন ওহী নাজেল হওয়া বন্ধ ছিলো, অতঃপর মুহাম্মদ যখন অনুতপ্ত এবং চিন্তিত তখন পুনরায় ওহি নাজিল হলো, হে মুহাম্মদ তোমার সৃষ্টিকর্তা তোমাকে ভুলে যায় নি।

বৃদ্ধ এবং মৃতপ্রায় হয়েও আম্মার ইবন ইয়াসিরের মা তাদের গোত্রের মানুষদের অত্যাচারে নিহত হয়েছে এবং তাদের অত্যাচারের দৃশ্য দেখে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মুহাম্মদ বলেছে

হে ইয়াসিরের পরিবার ধৈর্য্য ধারণ করো , তোমাদের দেখা হবে বেহেশতে।

তবে এই মৃত্যু বিচলিত করে নি মুহাম্মদকে তেমন ভাবে। এটাই হয়তো স্বাভাবিক মনে হয়েছে , তবে তার সঙ্গী আবু বকর দুর্বলদের উপরে অত্যাচারের প্রতিবিধান করতে যথাসাধ্য করেছে, এবং মদীনায় হিজরতের আগেই ৭জনকে দাস-দাসীকেন িজের পয়সায় মুক্ত করে দিয়ে যান।




মুহাম্মদ যখন ইসলাম প্রচার করছে অনেকেই তার বানীতে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহন করেছে, কুরাঈশদের অত্যাচারে কেউ কেউ ধর্মত্যাগ করেছে কিংবা ধর্মত্যাগে বাধ্য হয়েছে।

ওয়ারাকা ইবন নওফলের সবচেয়ে বড় বক্তব্য যখন বিলালকে অত্যাচার করা হচ্ছে সে সময়ে- সে সময়ে সে অত্যাচারীদের গিয়ে বললো, তোমাদের অত্যাচারে যদি বেলাল মারা যায় তাহলে আমি তার কবরস্থানকে আশীর্বাদপুষ্ঠ জায়গা মনে করে নেবো।
[ সূত্র সিরাত ইবন হিশাম]

এরপরপরই আবুবকর বিলালকে মুক্ত করেন।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28985853 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28985853 2009-07-29 21:42:49
বিশ্বের ধর্মীয় সংঘাত আদতে ইব্রাহিমের উত্তরাধিকারিত্বের লড়াই যেখানে অযথাই অন্য সবাই জড়িয়ে পড়েছে
ইব্রাহিম, তার বৃদ্ধা এবং সন্তানধারণে অক্ষম স্ত্রীর অনুরোধে একজন দাসীর গর্ভে তার বংশধরের জন্ম দেন। দাসিপূত্র ইসমাইল এবং হাজেরাকে সন্তনসহ নির্বাসন দেন আরবের মরুভুমিতে। তৃষ্ণার্ত ইসমাইলের কষ্টে কাতর হাজেরা পানির খোঁজে যখন সাত বার দৌড়াচ্ছেন এ মাথা ও মাথা তখনই ইসমাইলের পায়ের আঘাতে মাটি ফেটে পানি বের হলো, পবিত্র জমজম কুপ।

তবে ইব্রাহিমের স্ত্রী যখন ইসহাকের জন্ম দিলেন কিংবা যখন ইসহাক সারাহর গর্ভে তখনই আদতে পারিবারিক গোলোযোগ শুরু হলো। আমাদের ইহুদি মুসলিম বিদ্বেষ এবং হানাহানি সেই পারিবারিক গোলোযোগের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া। একটা সামান্য পারিবারিক গোলোযোগের কারণে ইতিহাসে কতজন নিহত হয়েছে?

অলৌকিকত্ব আরোপ না করে সাধারণ ভাবেই বিষয়টা বিবেচনা করা যাক, ইব্রাহিমের স্ত্রী যখন ইব্রাহিমকে দাসীসঙ্গমের এবং তার গর্ভজাত সন্তানকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুমতি দিলেন, তখনও তার ধারণা ছিলো তিনি বন্ধ্যা। পুরুষের বংশলতিকা অব্যহত রাখতে হবে সুতরাং দাসীগর্ভের সন্তানও বৈধ অধিকারী হতে পারে।

এবং এর কিছু দিন পরেই সারাহ যখন গর্ভবতী হলেন তখন মূলত দ্বন্দ্বটা হলো ইব্রাহিমের উত্তরাধিকারী কে হবে সেই নিয়ে দুই মহিলার মনোমালিন্য এবং দাসী হওয়ায় প্রথম সন্তানের মাতৃত্ব সত্ত্বেও হাজেরাকেই প্রভুর গৃহত্যাগ করতে হলো। সম্ভবত পারিবারিক শান্তির খোঁজেই হাজেরাকে নির্বাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইব্রাহিম।

ঘরে দুইজন মহিলা, যাদের দুজনের গর্ভেই উত্তরাধিকারী বিদ্যমান, তাদের চুলোচুলি ঠেকানোর এক বিকল্প কোনো উপায় সম্ভবত খুঁজে পান নি ইব্রাহিম।

জমজমের আশে পাশে একটা বসতি পত্তন হলো, সেটা পবিত্র মক্কা নগরী হতে আরও অনেক সময় লাগবে। সারাহ অবশ্য নির্বাসিত হাজেরার সংবাদ পেয়ে উৎফুল্ল হন নি, তারা বহাল তবিয়তেই ইব্রাহিমের উত্তরাধিকারী হিসেবে জীবিত এটা মেনে নেওয়ার মানসিকতাও সারাহর ছিলো না, সুতরাং ইব্রাহিম দ্বীতিয় বারের মতো প্রথম সন্তানকে হত্যা করবার একটা সিদ্ধান্ত গ্রহনে বাধ্য হলেন। ইসমাইলকে কুরবানী দেওয়ার একটা বাস্তবতা তৈরি হলো।

তবে ইব্রাহিম ততটা পাষান হয়ে উঠতে পারেন নি। ইব্রাহিম ইসমাইলকে নিয়ে পরবর্তীতে গড়ে তুললেন কা'বার কাঠামো। এবং এই প্রথা অনেক পরে একটা ধর্মীয় উপাদান হিসেবে ঢুকে গেলো মুসলিমদের অবশ্যপালনীয় কর্তব্যাদির ভেতরে।

ইহুদীদের বিশ্বাস তাদের পূর্বপুরুষ ইসহাক, সারাহর গর্ভজাত সন্তানই তাদের পূর্বপুরুষ। তারা এই বংশগর্বে বিশ্বাসী। এবং ইহুদিদের ত্রাতা হিসেবে যারাই আবির্ভুত হয়েছে কিংবা যারাই পরবর্তী সময়গুলোতে অন্তত বাইবেলে বর্ণিত সময়ে ইহুদীদের ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, তারা সবাই কোনো না কোনো ভাবে ইসহাকের বংশধর।

অন্য সন্তান ইসমাইল- তার বংশধর মুহাম্মদ এবং বংশগৌরবে সেও কুলীন।

ইসমাইল এবং ইসহাকের সন্তানদের ভেতরে এখনও প্যালেস্টাইন এবং আল আকসা মসজিদ দখলের লড়াই চলছে।

অন্য একটি পারিবারিক গোলোযোগ এবং ইতিহাস বিকৃতির উৎস শিয়া এবং সুন্নীদের ভেতরে। এটা অবশ্য মুহাম্মদ, ইব্রাহিমের দাসীপূত্রের পরবর্তী কোনো এক বংশধরের বৈধ জামাই হওয়ার লড়াই। সুন্নী ইতিহাস বলছে বিবি খাদিজার সাথে মুহাম্মদের বিবাহের পরে তাদের ৬/৭টি সন্তান হয়, এর ভেতরে রয়েছে উম্মে কুলসুম এবং রোকাইয়াহ, মুহাম্মদের উপরে ওহী নাজেল হওয়ার আগেই মুহাম্মদ উম্মে কুলসুম এবং রোকাইয়াকে বিবাহ দেন আবু লাহাবের দুই পূত্রের সাথে। সম্পর্কে আবু লাহাব মুহাম্মদের পিতৃব্য।

ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময়, আবু লাহাব তার দুই পূত্রকে বাধ্য করেন মুহাম্মদের দুই কন্যাকে পরিত্যাগ করতে।
সেসময়ই উসমান, মোবাইয়ার গোত্রের একজন, ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবার পরে স্ত্রীকতৃক পরিত্যাক্ত হন। এবং এর সমাধান হিসেবে মুহাম্মদ তার কন্যা রোকাইয়াকে উসমানের সাথে বিবাহ দেন।

সে সূত্রে উসমান মুহাম্মদের বড় জামাই।
এরপরবর্তীতে রোকাইয়ার মৃত্যুর পরে অন্য কন্যা উম্মে কুলসুমের বিবাহ হয় উসমানের সাথে এবং হাদিসের ভাষ্য অনুসারে মুহাম্মদ বলেছেন তার যদি আরও কন্যা থাকতো তবে তাদেরও উসমানের সাথে বিবাহ দেওয়া হতো।

সুন্নী ঐতিহাসিকগণ এটাকেই শুধু বিশ্বাস করেন না, তাদের বিশ্বাস খাদিজা ইতিপূর্বে দুইবার বিবাহ করেছিলেন এবং তার পূর্বের স্বামীরও সন্তান ছিলো। তাদের একজন হিন্দ, যিনি উটের যুদ্ধে শহীদ হন। এবং তিনি বদর এবং উহুদের যুদ্ধে একজন অগ্রগামী যোদ্ধা ছিলেন।

এবং মুহাম্মদের সাথে তার জন্ম নেওয়া সন্তানদের ভেতরে পূত্র দ্বয় পূর্বেই মৃত্যু বরণ করেন। এবং খাদিজা তখন সান্তনার জন্য কা'বার অধিকারী দেবতা হুবালের কাছে গিয়ে প্রার্থনা করতেন।

শি'য়াদের মতে, খাদিজা বিবাহের সময় মোটেও ৪০ বছর বয়স্ক এবং দুই বার বিবাহিত এবং অন্তত ২টি পূত্রের জননী ছিলেন না, এবং এ সময়ে খাদিজার গর্ভে দুই পূত্র এবং এক কন্যার জন্ম হয়, সেই কন্যা ফাতিমা।

উম্মে কুলসুম, রোকাইয়া এবং জয়নব আদতে খাদিজার বোনের কন্যা, যাদের খাদিজা মাতৃস্নেহে লালন-পালন করেছিলো।

সে সুবাদে একমাত্র আলীই মুহাম্মদের বৈধ জামাই।

এবং যেহেতু মুহাম্মদের কোনো পূত্র নেই সুতরাং তার কন্যার জামাই এবং তাদের বংশধরেরাই মুসলিম উম্মাহকে নেতৃত্ব দিবে।

এই পারিবারিক গোলোযোগে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে এবং অনেক রক্তপাত হয়েছে এবং সে রক্তপাত এখনও চলছে।

ইব্রাহিম, তার দুই স্ত্রী এবং দুই স্ত্রীর গর্ভের দুই সন্তান, এবং তাদের অসংখ্যা বংশধর এবং তাদের বংশধরদের কন্যাদের স্বামী এই ইব্রাহিম পরিবারের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই এখন বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ দিনের চলমান দ্বন্দ্ব, সেই উত্তরাধিকারী একবার নির্দিষ্ট হয়ে গেলে পৃথিবীতে অন্তত বহুলাংশে ধর্মীয় হানাহানি থেমে যাবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28983805 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28983805 2009-07-26 02:30:16
ইসলামের জন্মের পেছনে অন্তত একজন ডাকিনীর ভুমিকা প্রবল
কোনোটা বেশী বিশ্বাসযোগ্য কোনোটা কম। হয়তো সকল ঘটনাই বাস্তব নয় বরং এদের কিছু কিছু অংশ সত্যি।

মুহাম্মদের দাদা আব্দুল মুত্তালিব শপথ করেছিলেন যদি তার ১০ ছেলেই যুবক হয় তবে তাদের একজনকে তিনি বলি দিবেন। যখন তারা সবাই যুবক হলো তখন তিনি দুশ্চিন্তায় পড়লেন- ১০ জনের কাকে তিনি বলি দিবেন।
কা'বা প্রাঙ্গনে ছিলো হুবালের উঁচু মুর্তি। যখনই মক্কাবাসী সংশয়াচ্ছন্ন হতো তখন তারা ১০০ দিহরাম, কোরবানীর পশু এবং যা নিয়ে সংশয় সেটা নিয়ে উপস্থিত হতো সেই দেবতার পূজারীর কাছে।
হুবালের পাশে ৭টা তীর রাখা থাকতো, সেখানের লিখিত বক্তব্যই চুড়ান্ত বলে মেনে নিতো তারা।

সুতরাং সংশয়াচ্ছন্ন মুত্তালিব হাজির হলো দেবতা হুবালের কাছে, তার সাথে তার ছেলেরা এবং বলির উট এবং ১০০ দিহরাম।
যখন লটারি করা হলো তখন তীরটা পড়লো আব্দুল্লাহর পাশে, সুতরাং লটারিতে নাম উঠলো আব্দুল্লাহর। তাকেই বলি দিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আব্দুল মুত্তালিব বলির স্থানে নিয়ে উপস্থিত হলেন।

সে সময়েই জটলা ভেঙে উঠে আসলো কোরাইশ গোষ্ঠি এবং আব্দুল্লাহর মা। তারা বললো এটা করা কোনোভাবেই উচিত হবে না, বরং আপনি অন্য কোনো সমাধান খুঁজে দেখেন।
আব্দুল মুত্তালিব তার ছেলে এবং অন্যান্য কোরাইশদের পরামর্শ অনুযায়ী আব্দুল্লাহকে নিয়ে গেলেন হিজাজে। সেখানের এক ডাকিনীর কাছে।

ডাকিনীর কাছে উপস্থিত হয়ে আব্দুল মুত্তালিব তার সংকটের কথা পেশ করলেন, তা শুনে ডাকনী বললো আজ আমার পক্ষে এটার নিরসন করা সম্ভব হবে না, আপনার বরং কাল সকালে এখানে উপস্থিত হন, তখন এটার সমাধান আমি দিতে পারবো।

পরদিন সকালে আব্দুল মুত্তালিব যখন উপস্থিত হলেন ডাকিনীর কাছে, ডাকিনী সমাধান দিলো-
পুনরায় সন্তানকে নিয়ে হুবালের মুর্তির সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এক পাশে ১০টা উট এবং অন্য পাশে আব্দুল্লাহকে রাখবেন, প্রতিবার তীর ছুঁড়বার পরে যদি সেটা আব্দুল্লাহর পাশে পড়ে তবে বলির উটের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন।

এভাবে যখন বলির উটের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১০০ তখন তীর পড়লো উটগুলোর পাশে, সুতরাং এটা নিশ্চিত হলো এখন আব্দুল্লাহর বদলে ১০০ উট কোরবানী দিলেও হবে।
তবে আব্দুল মুত্তালিব নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরপর ৩বার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন।

আব্দুল মুত্তালিব তখন ছেলেকে নিয়ে কা'বা প্রাঙ্গন ত্যাগ করে যাচ্ছিলেন তখনই তার সাথে দেখা হলো উম্মে কাত্তাল বিনতে নওফলের সাথে। উম্মে কাত্তাল আব্দুল্লাহর মুখের দিকে তাকিয়ে বললো যদি তুমি আমার সাথে সঙ্গমে রাজী থাকো তবে তোমার নামে যতগুলো উট কোরবানী হয়েছে আমি সে পরিমাণ উট তোমাকে দিবো।

প্রত্যুত্তরে আব্দুল্লাহ তাকে জানালো- আমি এখন আমার বাবার সাথে আছি, আমি তার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে পারবো না কিংবা তাকে ত্যাগ করতে পারবো না।

আব্দুল মুত্তালিব তাকে নিয়ে গেলেন এবং আমিনার সাথে বিবাহ দিলেন। আব্দুল্লাহ বিবাহের পরপরই আমিনার সাথে মিলিত হলেন, পরের দিন যখন আব্দুল্লাহ ফিরছিলো, তার সাথে পুনরায় দেখা হলো উম্মে কাত্তালের। আব্দুল্লাহ তাকে বললেন, তুমি গতকাল আমাকে যে প্রস্তাব দিয়েছিলে সেটা কি এখন পুরণ করা সম্ভব?
প্রত্যুত্তরে উম্মে কাত্তাল জানালো, গতকার তার চেহারায় যে দেবকান্তি ছিলো সেটা আজ আর নেই , সুতরাং তার প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া এখন তার পক্ষে সম্ভব নয়।

এই ঘটনার ভিন্ন একটা উপস্থাপন আছে-
আব্দুল্লাহ যখন বাইরে থেকে ফিরে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চাইলেন, তখনও তার শরীরে কাদা লেগে আছে, সুতরাং তার স্ত্রী তাকে বললো , যাও হাতমুখ ধুয়ে আসো।
আব্দুল্লাহ হাতমুখ ধুয়ে তার অন্য স্ত্রী আমিনার ঘরে গিয়ে তার সাথে মিলিত হলো।
পুনরায় যখন তার সাথে প্রথম স্ত্রীর দেখা হলো তখন প্রথম স্ত্রীকে মিলিত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরে সে স্ত্রী তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো।

এই ঘটনার তৃতীয় একটা বয়ান আছে-
আব্দুল মুত্তালিব যখন আব্দুল্লাহকে নিয়ে যাচ্ছিলো আমিনার বাসায়, পথিমধ্যে তাদের সাথে একজন ভবিষ্যতবেত্তা মহিলার দেখা হলো।
ভবিষ্যতবেত্তা মহিলা আব্দুল্লাহকে প্রস্তাব দিলেন, তুমি কি আমার সাথে মিলিত হবে?
আব্দুল্লাহ জানালো, আমি আমার বাবার সাথে যাচ্ছি, আমি তার ইচ্ছার বিরোধিতা করতে পারবো না, এমন কি তাকে ত্যাগ করতে পারবো না।

সুতরাং আব্দুল্লাহ আমিনাকে বিবাহ করিলেন এবং তিন দিন সেখানে থাকলেন, পরে যখন তিনি ফিরে আসছিলেন, তখন পুনরায় সেই ভবিষ্যতবেত্তার সাথে তার দেখা হলো।

তিনি বললেন তুমি আমাকে যে প্রস্তাব দিয়েছিলে, সেটা কি এখন পুরণ করা সম্ভব।
সে মহিলা এর উত্তরে জানালো, তোমার চেহারায় যে দেবকান্তি ছিলো সেটা এখন অনুপস্থিত। কিছু মনে করো না, আমার চরিত্রের দোষ নেই, বরং তোমার চেহারার দেবকান্তি আমি আমার গর্ভে ধারণ করতে চেয়েছিলাম, সেটা যখন নেই তখন আর সে প্রস্তাবে সম্মত হয়ে লাভ নেই আমার।

আল ওয়াকিদির বয়ান হলো, আব্দুল মুত্তালিব এবং আব্দুল্লাহ উভয়েই নিজেদের স্ত্রীর খোঁজে রওনা দিয়েছিলেন, এবং আব্দুল মুত্তালিব হালাহ বিনতে উয়াহেব এবং আব্দুল্লাহ আমিনা বিনতে ওহাবের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
সিরিয়া থেকে ফিরবার পথে আব্দুল্লাহ অসুস্থ অবস্থায় মদীনায় যাত্রা বিরতি করেন এবং সেখানেই মৃত্যু বরণ করেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28983006 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28983006 2009-07-24 15:55:02
চিকিৎসা ব্যবস্থা- ১৪ কোটি গিনিপিগ এবং ১০ হাজার অশিক্ষিত ডাক্তার
বাংলাদেশের সরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলো হয়েছে রাজনীতিবিদদের আখড়া। সেখানে ছাত্ররা গিয়ে নিয়মিত রাজনীতি করে, দলীয় ক্যাডার হয়ে কাটায় কয়েক বছর, এবং এই রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পাস করে। এবং এদের অনেকেই কোনো রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে চিকিৎসক এবং পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক দল কিংবা জাতীয় চিকিৎসক লীগের সভাপতি, সদস্য এবং সভ্য হয়ে বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা শুরু করে।

বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলোতে রাজনীতির খেলা নেই, তবে তোয়াজ আর পয়সার খেলা চলছে। কিন্তু এই চিকিৎসকদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশের সবাই। বাংলাদেশের মানুষদের ল্যাবেরেটরির গিনিপিগ বানিয়ে তারা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছে এবং ভুল চিকিৎসা করে অনেক সময়ই হত্যা করছে।

গত ১ বছরে বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে ক্ষুব্ধ মানুষের হামলা দেখে মনে হয়েছে এসব হামলার নেপথ্যে আসলে আমাদের অযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের রাজনীতিমুখীতা দায়ী। এরা এমন চিকিৎসক তৈরী করতে পারছে না, যাদের উপর ভরসা করতে পারে মানুষ। সুতরাং বিভিন্ন বিষয়ে স্পেশালিস্টদের কদর বেড়েছে, সাধারণ একজন প্রাকটিশিং ডাক্তারের কাছে না গিয়ে মানুষ ছুটছে বিশেষজ্ঞের কাছে, সর্দি, কাশি, এমন কি সামান্য ফোঁড়ার জন্যও মানুষ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চাইছে।

এর কারণ মানুষ অন্য সব সাধারণ ডাক্তারদের উপরে ভরস করতে পারে না। বরং মানুষের মুখে মুখে প্রসার ঘটছে বিশেষজ্ঞদের। এক একজন বিশেষজ্ঞ এতই ব্যস্ত যে তাদের প্রত্যেক রুগীর নাম জিজ্ঞাসা করবার মতো অবসর নেই। তারা ব্যবস্থাপত্র দেখে আউড়ে যাচ্ছেন ঔষধের নাম, এবং অসংখ্য টেস্ট করতে দিচ্ছেন। নিজেদের ব্যবসায়িক মনোভাব, সময় না দেওয়ার বিপক্ষে তারা রিপোর্টের উপরে ভরসা রাখছেন বেশী। সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থাই আদতে হয়ে উঠেছে পয়সার খেলা।

শুধু ডাক্তার নয়, ডাক্তারের সাথে সংযুক্ত হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীরাও অযোগ্য হয়ে উঠছে দিন দিন। বাংলাদেশে প্রতিদিনই হাসপাতাল নয়তো ক্লিনিকের উদ্বোধন হচ্ছে, মানুষের তুলনায় হাসপাতালে সীট কম, কিংবা মানুষের ভরসা কম, সুতরাং মানুষ ভালো চিকিৎসার লোভে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে ডাক্তার খুঁজছে, এবং ক্লিনিকগুলোতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ডাক্তারীর ব্যবসা করছে যারা তারা তো অন্য গ্রহের মানুষ নয়, সাধারণ দায়িত্বজ্ঞানহীন বাংলাদেশী মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসক।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার মানউন্নয়নের জন্য অনেক ব্যবস্থাই গ্রহন করতে হবে তবে সর্বপ্রথমে উন্নত করতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থা। এখানে রাজনীতির প্রকোপ কমাতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো প্রভাব খাটিয়ে যেনো অযোগ্য কেউ চিকিৎসকের সার্টিফিকেট না পায়।

সংবাদপত্রের মানুষদের অসংখ্য সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়, এটাও এক ধরণের সামাজিক দায়িত্ব হবে, তারা যেনো গত ৫ বছরে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ থেকে সার্টিফিকেট পাওয়া ডাক্তারদের তালিকা ধরে ধে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে দেখে, তারা আদৌ ডাক্তার হওয়ার যোগ্য ছিলো না কি অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে তারা ডাক্তারীর সার্টিফিকেট পেয়ে মানুষ হত্যা শুরু করেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ হবে চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ বাড়ানো । এবং এটা প্রথম আলোর মতো সাধারণ শপথের মাধ্যমে করা সম্ভব না। এটার জন্য একটা আইনী কাঠামো নির্দিষ্ট করতে হবে । একজন চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমাণা করতে হবে এবং সে জরিমাণা আদায় করতে হবে সরকারকে। এখানে সরকার ক্ষতিগ্রস্তকে ডাক্তারের কাছ থেকে প্রাপ্য ক্ষতিপুরণ আদায় করে দেওয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে।

যদি কেউ এক বছরে ৩ জন রোগীর ভুল চিকিৎসা করে তবে তার সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে।
এবং ইন্টার্নশিপের মেয়াদ বাড়াতে হবে। একজন ডাক্তার নিজস্ব বেতান-ভাতা এবং অন্যান্য সরকারী সুবিধার জন্য আন্দোলন করতে পারে, সে সময় তাদের বক্তৃতাবাজীর সময় হয় কিন্তু একজন রোগীকে ঠিক মতো সময় দেওয়ার ব্যাপারে তাদের অনীহার কারণ তদন্ত করতে হবে।

নার্সদের শিক্ষার মাণ বাড়াতে হবে। এবং একই সাথে যারা চিকিৎসকের সাথে সহায়ক হিসেবে কাজ করে তাদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ডায়াগনিস্টিক সেন্টার থেকে হাসপাতালে রূপান্তরিত হওয়া অন্তত দুটি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, ল্যাব এইডের স্পেশ্যালাইজড কর্ডিয়াক সেন্টারের পরিবেশ জীবানুমুক্ত নয়, গত ৬ মাসে সেখান থেকে বাইপাস করে আসা ৭ জন রোগীর পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারে মৃত্যুর অভিযোগও আছে। এটা ভুক্তোভগীদের অভিযোগ।

একই সাথে যারা এনেস্থেশিয়া নিয়ে কাজ করছে তাদের জন্য বিশেষায়িত কয়েকটি শিক্ষালয় থাকলেও সেখানে সম্ভবত শিক্ষার মানও বাংলাদেশের সরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলোর মতোই। কয়েক দিন আগে একটি ক্লিনিকে অপারেশনের মাঝামাঝি সময়ে রোগীর এনেস্থেসিয়ার প্রভাব কেটে যায়। এটা মূদ্রার একটা পিঠ, যেখানে পরিমাণমতো এনেস্থেসিয়া দেওয়া হয় নি। এনেস্থেসিয়ার পরিমাণ এবং ধরণ নির্ভর করে রোগীর উপরে, প্রতিটা রোগীর জন্য তার নিজস্বসহ্য ক্ষমতা অনুসারে ব্যাথানাশক দেওয়ার নিয়ম, শরীরের ওজন এবং রোগীর এলার্জির ইতিহাস ঘেঁটে এসব প্রদান করতে হয়।

কড়া এনেস্থেসিয়ার কারণে একজনের মৃত্যুর সংবাদও দৈনিক পত্রিকায় এসেছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম কিংবা বেশী এনেস্থেশিয়া দেওয়ার অভিযোগ প্রতিটা ক্লিনিকেই রয়েছে, সুতরাং এই দিকটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

সামগ্রীক ভাবে চিকিৎসা সেবার বেহাল অবস্থার কারণেই বাংলাদশের অবস্থাপন্ন মানুষের বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা নিতে সাহস পায় না । এই দেশের সাংসদেরা, তাদের পরিবার পরিজন চিকিৎসার জন্য মালোয়শিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ড যেতে পারলেও সাধারণ মানুষের তেমন সঙ্গতি নেই । তাদের ভরসা এলাকার ক্লিনিক কিংবা সরকারী হাসপাতাল, অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকা মেডিক্যাল, এইসব স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি না করে তাদের এই চিকিৎসাউপলক্ষ্যে বিদেশভ্রমন দেখে মনে হয় তারা নিজেদের জীবন নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন ততটা উদ্বিগ্ন নয় তারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে।

সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য এবং তাদের জীবনের মূল্যের প্রভেদ করছে যে ব্যবস্থা সে ব্যবস্থাও আদতে সাধারণ মানুষের ভোটের কারণেই তৈরী হয়।

দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং মালিকগণের ব্যবসার সমৃদ্ধি হয়েছে অনেক। তারা বিভিন্ন সামাজিক দায়বদ্ধতার কাজ করছেন, কিন্তু স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে তাদের উদাসীনতার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না। অন্তত সাধারণ মানুষের জন্য হলেও এইসব অব্যবস্থার নিয়মিত রিপোর্ট প্রথম পাতায় আসুক, সাধারণ মানুষ জানুক তারা কাদের হাতে নিজেদের জীবনকে নির্ভাবনায় ছেড়ে দিচ্ছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28981241 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28981241 2009-07-21 04:01:49
ইমেইল বন্ধ করে কবুতরের পায়ে চিঠি বেঁধে উড়িয়ে দেওয়া সংস্কৃতি শুরু করা প্রয়োজন
খনিজ জ্বালানীর ব্যবহার বেড়েছিলো প্রচন্ড ভাবে, এবং এরই প্রভাবে পৃথিবীতে গ্রীন হাউস গ্যাসের নির্গমণ বেড়ে যায়। খনিজ জ্বালানী ব্যবহার করলে উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় কার্বন ডাই অক্সাইড, এবং এই গ্যাসকে দায়ী করা হচ্ছে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলো ক্রশম কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করতে চেষ্টা করছে, অর্থ্যাৎ তারা গ্রীন ফুয়েল ব্যবহার করতে চাচ্ছে কিংবা তারা চাচ্ছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে, রাস্তায় বিদ্যুৎ চালিত গাড়ী ব্যবহার করতে।

নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক ব্যবহারের অধিকাংশ সামগ্রীই এখন বিদ্যুৎচালিত। যোগাযোগের জন্য যা কিছু ব্যবহার করছি তাও বিদ্যুৎচালিত। গাড়ীতে ব্যবহার করছি ডিজেল, পেট্রোল অকটেন। সেসব খনিজ জ্বালানী ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে আনবার অর্থ হলো অন্য কোনো বিকল্প শক্তির সন্ধান করা। যা পরিবেশ বান্ধব।

গাড়ীর জন্য বিকল্প হিসেবে এসেছে বায়োডিজেল, যা কৃষিজমিতে উৎপাদন করা সম্ভব। পামওয়েলকে রুপান্তরিত করে গাড়ীর উপযুক্ত জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যায়, এবং অনেক গাড়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইঞ্জিনের ধরণ বদলে বায়োডিজেলে চলবার উপযোগী করে নির্মাণ করেছে।

ঠিক একই সময়ে সবাই প্রতিরোধ শুরু করলো। আমাদের শহরগুলোতে যে পরিমাণ গাড়ী চলাচল করে তাদের সবার জ্বালানী যদি বায়োডিজেল হয় তবে খাদ্যউৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি পাওয়া যাবে না। সুতরাং আমাদের একটা মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের বিশ্বের ৬০০ কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন করতে হবে এবং একই সাথে জমিতে কোটি কোটি গাড়ী, ট্রাক, লরী এবং প্লেনের জন্য জ্বালানী উৎপাদন করতে হবে, কারণ আশংকজনকভাবে কমে যাচ্ছে খনিজ জ্বালানীর মজুত। এবং যদি বর্তমান ব্যবহারের উর্ধমুখী ধারা চলমান থাকে তবে ২১ শতকে কোনো খনিজ জ্বালানী থাকবে না।

এখানে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিডেল ক্যাস্ট্রো বললেন, এটা পূঁজিবাদী চক্রান্ত তারা মানুষের পেটের খাওয়ার কেড়ে নিয়ে গাড়ীর চাকা ঘোরাতে চায়। এটাকে প্রতিহত করতে হবে।

অবশ্য গাড়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ চালিত গাড়ীর নক্সা অনেক আগে প্রণয়ন করলেও সেটা নিয়ে গবেষণা চলছিলো না তেমন ভাবে, কারণ খানিজ জ্বালানীর সহজপ্রাপ্যতা। কিন্তু জ্বালানীভিত্তিক গাড়ীর ভবিষ্যত প্রায় শূণ্য, বিকল্প হলো বিদ্যুৎচালিত গাড়ী। সেটা রিচার্জেবল ব্যাটারীর মতো, গাড়ীকে সময় সময় চার্জ করতে হবে, সে চার্জ শেষ হলে পুনরায় চার্জ করতে হবে।

এমনও যদি হয় তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এখনও খনিজ জ্বালানীর ব্যবহার সবচেয়ে বেশী। কিন্তু সেটাও গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন করে, সুতরাং আরও পরিবেশ বান্ধব জ্বালানী ব্যবহার করতে হবে।

খানিজ জ্বালানীর বিকল্প কি? পারমাণবিক শক্তি, পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প, তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প, সমুদ্রের স্রোতের শক্তিকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প, বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং সৌরবিদ্যূৎ উৎপাদন প্রকল্প।
বায়ুবিদ্যুৎ কিংবা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না, এমন কি বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা পুরণের সাথে সাথে ভবিষ্যত বিদ্যুৎ চাহিদাকে পুরণ করবার জন্য অব্যাহত উন্নতি করতে হলেও পৃথিবীর বিশাল একটা অঞ্চলে আমাদের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসাতে হবে। কিংবা প্রতিটা গ্রামে কিংবা প্রতিটা মহল্লায় একটা করে বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থাপন করতে হবে। এবং এরপরও আশাবাদী হওয়া যাবে না যে সেটা আমাদের চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। আমাদের কয়েকটি বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে, রাখতে হবে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে সংরক্ষণ করবার ব্যবস্থা।

পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রও এমন একটি পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বিবেচনা করা হলেও সেটা পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনে, এখানে পানির সঞ্চিৎ স্থিতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তরিত করা হয়। এবং এই সব প্রকল্প স্থাপন করা হয় উঁচু স্থানে, এবং জলাধার নির্মাণ করতে হয়, সেখান থেকে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পানি ছেড়ে সে পানিতে টার্বাইন ঘূরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এই উঁচু এলাকায় পানি সংরক্ষণ করতে হলে সেখানের বিস্তৃর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে, পরিবেশের ক্ষতি হবে।

পারমাণবিক শক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন একটা বিকল্প পন্থা, যেখানে গ্রীন হাউস গ্যাস উৎপাদিত হয় না কিন্তু সেটা খুব বেশী প্রচলিত নয়, এর ঝুঁকি এবং সাম্ভাব্য ক্ষতির কারণ বিবেচনা করে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিষাক্ত নিউক্লিয়ার বর্জ্য সংরক্ষণের বিষয়টি। সেটা যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া যাবে না। পৃথিবীতে অতিগভীর গর্ত খুঁড়ে লুকিয়ে না রাখলে সেটার বিষাক্ততা পৃথিবীর জীবজগতকে আক্রান্ত করবে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো পারমাণবিক পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপক্ষে, তারা পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপক্ষে, তারা বায়োডিজেলের বিপক্ষে। তারা খনিজ জ্বালানী ব্যবহারের বিপক্ষে।

এখন এই অবস্থায় একটা সিদ্ধান্তই নেওয়া প্রয়োজন , আমাদের বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমরা কি ভাবে পরিবর্তিত করবো। ইমেইলের পরিবর্তে আমরা কি ঘোড়ার ডাক কিংবা কবুতরের পায়ে চিঠি বেধে যোগাযোগ রাখবো?

আমরা কি খনিজজ্বালানী ব্যবহার করে গাড়ী চালাবো না কি আমরা গরু ঘোড়া খচ্চর গাধায় টানা গাড়ীতে চলাচল করবো। আমাদের বর্তমাণ অবস্থায় হয়তো সীমিতভাবে আকাশপথে যোগাযোগ রাখা সম্ভব। আমরা পালতোলা নৌকায় চলাচল করবো সমুদ্রপথে।

মানুষ যন্ত্রের উদ্ভাবন করবার পর থেকেই পরিবেশর উপর মানুষের প্রভাব সব সময়ই ধ্বংসাত্মক। তারা নিজেরাই পরিবেশের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা পরিবেশের উপরে খবরদারি করতে গিয়ে যা করছে সেটা পরিবেশের জীববৈচিত্র এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। আমাদের বিলুপ্ত এবং বিলুপ্তপ্রায় জীবগুলোর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন কারণ আমরা পরিবেশকে এমনভাবে পরিবর্তিত করেছি যা কোনোভাবেই আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না।

এরসাথে এখন যুক্ত হয়ে ক্ষমতার ধারণা, ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো সবই বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্যবহারে অন্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে। তারাই বিশ্বের ৮০ শতাংশ কার্বড ডাই অক্সাইড নির্গমনের জন্য দায়ী। তারা যখন এই খনিজ জ্বালানীর বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করবে সেটাও পরিবেশের জন্য সমান রকম ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। হয়তো সমুদ্রপৃষ্টি পানির উচ্চতা বাড়বে না কিন্তু স্থানীয় ইকোসিস্টেম ধ্বংস হবে ।

তারা নিজেদের সংস্কৃতি এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার না কমালে আমাদের বিশ্ব সব সময়ই হুমকির মুখোমুখী থাকবে। আমাদের সামনে প্রশ্নটা মূলত এখানেই, মানুষকে ভিন্ন ধরণের জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে উদ্বুদ্ধ করা। আমরা বিশ্বের সকল নাগরিক একাট্টা হয়ে যদি পরিবেশের জন্য বিপর্জয়কর সকল বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে বন্ধ করতে চাই তবে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে না।

এটা বেছে নেওয়ার বিষয়, আমরা পুনরায় ফিরে যাবে কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থায়, আমরা দা কুড়াল তীর ধনুক নিয়ে শিকার করবো। নগরে কোনো উঁচু ইমারত থাকবে না, আমাদের বাসস্থান হবে সবুজ। আমরা খড়কুটো আর শুকনো পাতায় ঝলসে খাবো আমাদের শিকারের প্রাণী। আমরা কবুতর পুষবো, ঘোড়া গাড়ী নিয়ে যাবো, গরু গাড়ীতে ঘুরবো, এমন পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থায় আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে।

কিংবা আমাদের অন্য তৃতীয় কোনো বিকল্পের সন্ধান করতে হবে। আমাদের উঁচু মন্দির তৈরি করে ইশ্বরের ভজনা করতে হবে, অনন্ত শক্তির আধার পাঠাও ইশ্বর, কিংবা পাঠিয়ে দাও বিদ্যুৎ এর অনন্ত নহর।

আমাদের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মেনে নিতে না পারলে এইসব বিকল্পকে মেনে নেওয়া ভালো, কারণ যেকোনো শক্তি উৎপাদন প্রকল্পই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক হবে। আমরা ক্ষতির ব্যপকতা কমাতে পারি, এর প্রভাবে হয়তো ক্ষুদ্র একটি জাতিসত্ত্বার সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে , বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের এই কোরবানি মেনে নিতে হবে।

আমাদের পৃথিবীতে ১০০ কোটি মানুষ অনাহারে ঘুমাতে যাবে, তবুও আমরা বায়োডিজেলের ব্যবহার প্রসারের আহ্বান জানাতে পারি। আমরা আফ্রিকার অনুন্নত দেশের উপকুলে পারমাণবিক বর্জ্য ফেলে এসে সেখানে ক্যান্সার ছড়িয়ে দিতে পারি, কারণ মাটির কয়েক মাইল নীচে গর্ত খুঁরে নিউক্লিয়ার বর্জ্য লুকিয়ে রাখবার চেয়ে এটা অনেক বেশী নিরাপদ পন্থা। আমরা পানিবদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দিয়ে কয়েক হাজার বর্গমাইল এলাকাকে জলমগ্ন করতে পারি, প্রতিবছর অন্তত ১ লক্ষ মানুষকে উদ্বাস্তু করতে পারি,

সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমরা প্রতিরোধ করতে পারি। মেনে নিতে হবে রাষ্ট্র আমাদের বিপক্ষে থাকবে সব সময়ই, রাষ্ট্র বৈশ্বিক বিবেচনায় তার ক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে চাইলে এইসব ছোটোখাটো ক্ষতি মেনে নিবে। অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে হলে এইসব ছোটোখাটো প্রতিরোধকে দমন করবে রাষ্ট্র নিষ্ঠুর ভাবে কিংবা কৌশলে। কিন্তু রাষ্ট্র এই আয়োজন থেকে পিছিয়ে আসবে না।

পরিবর্তন করতে হবে আমাদের নিজস্ব জীবনযাপনের ধারা ও আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি।

আমরা সবুজ পৃথিবীর সবুজ নাগরিক হয়ে বাঁচি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28979611 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28979611 2009-07-17 16:43:12
যৌনতা বিষয়ক ভাবনা ০৪
কখন দুটো প্রাণীকে আমরা ভিন্ন প্রজাতির বলে আখ্যায়িত করতে পারি? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা একটু কঠিন। কিছু ব্যতিচার বাদ দিলে আমরা শুধুমাত্র প্রজাতিচিহ্নিত করতে পারি তাদের প্রজননের ধরণ দেখে। সাধারণত একই প্রজাতির প্রাণীদের ভেতরে প্রজনন ও নিষেক ঘটে। অর্থ্যাৎ আমরা যেসব প্রাণী দেখি, আদতে তারা স্বপ্রজাতির সাথেই মিলিত হয়ে প্রজনন প্রক্রিয়ায় নিজের ভবিষ্যত বংশধরদের জন্ম দিতে পারে। এই ব্যবধানটুকুই আসলে প্রজাতিগুলোর ভেতরের ব্যবধান।
ব্যতিচার আছে, গাধা এবং ঘোড়ার মিলনে খচ্চর নামক প্রাণীর জন্ম হয়, কিন্তু সাধারণত খচ্চরের প্রজনন ক্ষমতা নেই। একই ভাবে বাঘ এবং সিংহের ভেতরে মিলনে নতুন একটি প্রজাতির জন্ম হয়, এবং তাদের প্রজনন ক্ষমতা থাকলেও প্রকৃতিতে এদের উপস্থিতি প্রায় শূণ্য- তার একটা কারণ সাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে বাঘ এবং সিংহ মিলিত হওয়ার সুযোগ পায় না।

প্রাকৃতিক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যা ভালো গুণ সেটাই টিকে থাকে এবং প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারা খারাপ গুণগুলো পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত হয় না। সুতরাং ভালোরাই টিকে থাকে প্রাকৃতিক পরিবেশে, এবং ভালোগুণগুলোই টিকে থাকে বিরুদ্ধ পরিবেশে ।
তবে আমাদের বিদ্যমান সামাজিক ব্যবস্থায় যেসব ভালো মন্দ নৈতিকতার ধারণা বিদ্যমান, বিবর্তনে ঠিক তেমন নৈতিকতা নেই, বরং এখানে প্রতিটা জীবই পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে, প্রতিযোগিতা নিজের জীন অন্য একটি প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার লড়াই । এভাবেই জীবন টিকে থাকে, জীন টিকে থাকে।

সুতরাং প্রায় সব সময়ই প্রাণী মাত্রই বহুগামী এবং এটাই সবচেয়ে সহজ পন্থা নিজের জীন পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার। উপযুক্ত স্ত্রী প্রাণীর উপস্থিতিতে পুরুষ এবং পুরুষ শুধুমাত্র মিলিত হওয়ার জন্য লড়াই করছে এমন পরিস্থিতিই জীব জগতের প্রায় সর্বত্রই, এবং এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে একজন পুরুষ প্রাণীকে প্রচুর পরিমাণ বীর্য উৎপাদন করতে হয়। যত বেশী পরিমাণ বীর্য থাকবে তত সেই প্রাণীর জীনের টিকে থাকবার সম্ভবনা। এবং যেহেতু স্ত্রী প্রাণীমাত্রেরই সীমিত ডিম্বানু, তাই স্ত্রীজাতীয় প্রাণী অনেক বেশী বাছাই করে পুরুষ সঙ্গীর সাথে মিলিত হয়।

তবে যেকোনো সামাজিক প্রাণীর মতোই এই স্ত্রী জাতিয় প্রাণী একগামী নয়, তারাও বহুগামী এবং সুযোগ পেলে তারাও অন্য উপযুক্ত পুরুষের সাথে মিলিত হয়। বহুগামীতার ভেতরে তেমন কোনো নৈতিকতার দোহাই নেই জীব জগতে। এটাই বিবর্তণের ধারা, এভাবেই প্রতিটা প্রাণীই নিজের জীনকে ছড়িয়ে দিতে চায়।

বৈজ্ঞানিকেরা ফ্লেমিঙ্গো জুটি নিয়ে অনেক উৎসাহব্যঞ্জক কথা বললেও এই ফ্লেমিঙ্গো জুটিরাও ঠিক এক গামী নয়, অধিকাংশ সময়ই তারা বহুগামী, জীব জগতে একমাত্র বোকারাই একগামী সম্ভবত, কিংবা তারাও ঠকে যাওয়াদের দলে।

এই লড়াইটা কত তীব্র সেটা বুঝা যায় পুরুষ প্রাণী এবং নারী প্রাণীর পরবর্তী প্রজন্ম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে- পাখী, বিশেষত জলচর পাখী, তাদের উপরে নির্ভর করা পক্ষীশাবকদের সেবা ও খাদ্য খোঁজার জন্য একজন বিশ্বাসী পুরুষ পাখীর প্রয়োজন হয়, পুরুষ পাখী নিজের প্রজন্ম মনে করে মায়া মমতায় এইসব পক্ষীশাবকদের দেখাশোনা করবে।

নিজস্ব শাররীক বৈশিষ্ঠ্য ও গুণাবলী দেখিয়ে যখন কোনো স্ত্রী জাতীয় পাখীকে পুরুষ পাখী সঙ্গম এবং প্রজননের জন্য প্রলুব্ধ করতে পারে, ঠিক তখনই সে স্ত্রী পাখীর বাসায় গিয়ে তার আগের ডিমগুলো ঠুকড়ে নষ্ট করে ফেলে।

একই ভাবে যদি সে পাখীর প্রাক্তণ কোনো পুরুষ থাকে, সে পুরুষ নজরে রাখে সব সময়ই স্ত্রী পাখীকে, এবং নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করবার জন্য নিয়মিত পাহাড়া দিয়ে যায় নিজের বাসা। এর পরও অবশ্য শেষ রক্ষা হয় না। সুযোগ পেলেই খাবার খুঁজতে গিয়ে অন্য কোনো পুরুষ পাখির সাথে মিলিত হয়ে আসে স্ত্রী পাখী।

তবে কিছু কিছু ব্যতিক্রম আছে, সেখানে স্ত্রী পাখীরাই পুরুষ পাখীর জন্য লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, এবং সেসব ক্ষেত্রে পুরুষের কাজ নিজস্ব গৃহ পাহাড়া দেওয়া, স্ত্রী পাখীই সমস্ত কাজ করে, মানে তারাই আহার্য সন্ধানে যায় এবং তারাই লড়াই করে।
এই বৈশিষ্ঠ্যের জন্যই এইসব ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত পুরুষের বীর্যের পরিমাণ কম বরং স্ত্রী প্রজাতীর পাখীর ডিম্বানুর পরিমাণ অনেক বেশী।

এবং ঘর পাহাড়া দেওয়া এই পুরুষ পাখীও সুযোগ পেলে অন্য কোনো স্ত্রী পাখীর সাথে মিলিত হয়। সম্পূর্ন প্রক্রিয়াতে বিশ্বস্ততার কোনো জায়গা নেই। কোনো প্রজাতীর নারী ও পুরুষের শুক্রানু এবং ডিম্বানু উৎপাদনের পরিমাণ আদতে নির্ধারণ করে তাদের জীবন ধারা। যেসব প্রজাতীর প্রাণী যৌথ জীবন যাপন করে এবং যাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২ জন, সেসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই পুরুষ প্রাণীটিই আহার্যের সন্ধানে যায়, এবং এইসব প্রাণীদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই পুরুষ প্রানীর শুক্রাণুর পরিমাণ স্ত্রী প্রাণীর ডিম্বানুর তুলনায় বেশী। তবে যদি স্ত্রী জাতীয় প্রাণীই আহার্যের সন্ধানে যায় তবে এ ক্ষেত্রে স্ত্রী জাতীয় প্রাণীর ডিম্বানু উৎপাদনের পরিমাণ বেশী।

এত দিন সামাজিক নৈতিকতাবোধে আচ্ছন্ন জীব বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিলো শুধুমাত্র প্রজননের জন্যই প্রাণীরা মিলিত হয়, উপযুক্ত পরিবেশে নির্ধারিত একটি সময়েই তারা জুটি খুঁজতে যায়, তবে এ ধারনা সঠিক নয়, সকল প্রাণীই পরবর্তী প্রজন্ম উৎপাদনের জন্য সঙ্গমলিপ্ত হলেও তারা অনেক সময়ই আনন্দের জন্যই মিলিত হয় পুরুষ প্রাণীর সাথে। সামাজিক জীব, যেমন শিম্পাঞ্জী কিংবা বেবুন কিংবা গরিলা কিংবা অন্য সকল যুথবদ্ধ প্রাণীও নিজের আনন্দের জন্য মেটিং সিজনের বাইরে মিলিত হয় পুরুষের সাথে।

প্রকৃতিতে পুরুষজাতীয় প্রাণী ইর্ষাকাতর তারা যদি সন্দেহও করে কোনো সন্তান তার ঔরসজাত নয়, তবে নৃশংস ভাবে হত্যা করে সে সন্তানকে। তবে দীর্ঘ দিনের সামাজিক অভ্যাস ও চর্চায় মানুষের ভেতরে ব্যতিক্রম দেখা যায়। এরা অন্য সব প্রাণীর মতো নয়, বরং এরা অন্য পুরুষের সন্তানদেরও নিজ সন্তানের মতো লালন করে, এমন কি উপযুক্ত প্রমাণ থাকা স্বত্ত্বেও তারা নিজের সন্তানকে হত্যা করে না, সামাজিক বিধান এবং আমাদের নৈতিকতা বোধ কিংবা আমাদের স্নেহশীলতার নিদর্শন বোধ হয় এটাই।

মানুষ এখানেই অন্য সব প্রাণীর তুলনায় ব্যতিক্রম। তারা দীর্ঘ দিনের সামাজিকতা অভ্যাসে নিজস্ব জীনের প্রবাহ না হলেও পরবর্তী প্রজন্মকে স্নেহ করতে শেখে, এবং এরাই অন্য মানুষের সন্তানকে দত্তক নিয়ে লালন পালন করে, এমন কি রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও এই স্নেহশীলতা কমে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28978464 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28978464 2009-07-15 03:55:46
র‌্যাবের গুলিতে আহত ৩জনের প্রতি সমবেদনা এমনই গল্প নিয়ে সিনেমা হয়েছে, একদল অসহায় মানুষ নিশ্চিত জানে যেকোনো মুহূর্তেই মৃত্যু হানা দিতে পারে এবং তারা এটাকে কোনভাবেই এড়াতে পারবে না। সুতরাং তাদের ভেতরে একটা অদ্ভুত অসারতা কাজ করে।

বাংলাদেশের পুলিশ, আর্মি এবং র‌্যাবের বিষয়েও এমন কথাই বলা যায়, তারা নিয়মিত নিরস্ত্র মানুষ শিকার করছে, নির্বাচনী ওয়াদা এবং মানবাধিকার রক্ষার বানী তেমন কাজে আসছে না। বিচারবহির্ভুত অত্যাচার এবং অনাচার চলছেই।

ইদানিং ঠিক তেমন ভাবে ক্রস ফায়ার হচ্ছে না, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুই জন ছেলেকে খুন করবার ঘটনার পরে র‌্যাব সামান্য সতর্ক, তবে তাদের নির্বাহী অফিসারদের বক্তব্য শুনে মনে হবে তারা ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না।

পুলিশ কয়েক দিন নিয়মিত মানুষকে ধরে নিয়ে হাতে পায়ে গুলি করে ফেলে রেখে যাচ্ছে , নিরীহ সব মানুষ, যাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেই, এমন কি একজনের বিরুদ্ধে একই দিনে ৫টা মামলা করা হয়েছে, একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা করেছে অন্য এক মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ অম্লান বদনে স্বীকার করলো প্রতিটা মামলাই ভুয়া কিন্তু এইসব অভিযোগ কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই আসামীকে আটক করে রগড়ে দেওয়ার আনন্দ মাটি করবে কেনো পুলিশ?

র‌্যাব গত পরশু ৪জনকে নিয়ে পায়ে গুলি করেছে, একজন মারা গেছে। সেই একই গল্পের ভিন্নরূপ, ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা আড়াল থেকে গুলি করে এবং প্রতিটা গুলিই আহতদের পায়ে বিদ্ধ হয়।
গুলির সাথে আগ্নেয়াস্ত্রে মিল খুঁজে দেখলে দেখা যাবে পরিত্যাক্ত কোনো অস্ত্র নয়, বরং গুলিগুলো করা হয়েছে র‌্যাবের অস্ত্র দিয়েই।

আইনশৃঙ্খলারক্ষী বাহিনী সব দেখেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে থাকে, তবে বাংলাদেশে এটার প্রকোপ অনেক বেশী। এখানে অনেকেই আছে যাদের অস্তিত্ব এবং অনস্তিত্ব তেমন বড় কোনো আলোচনার জন্ম দেয় না। সুতরাং এইসব নামপরিচয়বিহীন মানুষদের গুম করে ফেললে তেমন বড় প্রতিরোধ আসবে না। এদের সাথে যদি প্রতি মাসে একটা করে সন্ত্রাসীকে খুন করা হয় তবে সংবাদপত্রের গুণে যে সন্ত্রাসী পরিচিত হলে ভালো, অপরিচিত সন্ত্রাসীদেরও সংবাদপত্রে প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হবে, যেনো এই ভয়ংকর ব্যক্তিটিকে খুন করে র‌্যাব কিংবা পুলিশ দেশ ও জাতির প্রতি ভয়ঙ্কর বড় রকমের একটা সদবিচার করেছে।

র‌্যাব মানুষ বুঝে ক্রস ফায়ার করে, এখন সম্ভবত পরিচিত মুখ হওয়ার সুবিধা আছে। পরিচিত মানুষদের হঠাৎ করে গুম করে ফেলা কিংবা তাদের ধরে ক্রস ফায়ারে ফেলে দেওয়া সম্ভব না। একজন করিমকে যতটা সহজে ক্রস ফায়ারে হত্যা করা সম্ভব, একজন পিন্টুকে সেভাবে হত্যা করা সম্ভব নয়, যদিও দেখা যাবে অপরাধ বিবেচনায় পিন্টু করিমের তুলনায় ভয়াবহ একজন সন্ত্রাসী এরপরও একজন সাংসদকে ধরে ক্রস ফায়ারে ফেলানোর মতো অর্বাচীন এবং মুর্খ র‌্যাব নয়।

ড্রাগপেডলারদের হত্যা করে অনেক দেশের পুলিশ, বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা করে সামরিক সরকার, গণতান্ত্রিক সরকার হত্যা করে কিংবা বিনা বিচারে আটকে রাখে কারাগারে, এবং রাষ্ট্র সদলবলে বিপ্লবীদের নিধন করে। এটা সকল রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে সত্য- মানবাধিকার ডাক দিয়ে মায়াকান্না কাঁদা সকল রাষ্ট্রের পুলিশই একই অপরাধে অপরাধী। কিন্তু আমাদের দেশের এই অবিচার কিংবা বিচারবিহীন অনাচার দেখে এই মুহূর্তে একটাই সমাধান মাথায় আসছে

র‌্যাবের বিলুপ্তিই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো সমাধান।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28977527 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28977527 2009-07-13 04:26:17
যৌনতা বিষয়ক ভাবনা ০৩
ধর্ষণকে দুই ভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, জোরপূর্বক শাররীক সম্পর্ক স্থাপন, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির যৌনাঙ্গ কিংবা পায়ুপথে সঙ্গম করা হয়েছে।

এবং অন্য ধরণের যৌননিপীড়ন, কিংবা যৌনলাঞ্ছনা, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি শাররীক ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বিপরীত কিংবা সমলিঙ্গের মানুষদের দ্বারা কিংবা তাকে মৌখিক ভাবে হেনেস্তা করা হয়েছে।

তবে এসব যৌনলাঞ্ছনা কিংবা যৌননিপীড়নের সংজ্ঞা বদল করে যে সত্য প্রকাশিত হয়, সেটা ভয়ংকর। প্রতিটি দেশে অন্তত এক তৃতীয়াংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা স্বীকার করে নিয়েছে, তাদের জীবনে কোনো না কোনো সময় তারা পরিচিত কিংবা অপরিচিত পুরুষের হাতে যৌনলাঞ্ছিত হয়েছে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ আসে না তেমন ভাবে, কিংবা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এমনটাই সত্য যে এখানে আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ট্যাবু কিংবা রক্ষণশীলতার প্রভাবে উদ্ভুত মানসিক জড়তা কাটিয়ে পুলিশে অবহিত করবার আগ্রহ থাকে না।

সাধারণ পরিসংখ্যান বলছে যৌনলাঞ্ছিত হয় মেয়েদের অধিকাংশই যৌনলাঞ্ছিত হয়েছে পরিচিত মানুষদের কাছে, প্রতি ৩টি যৌনলাঞ্ছনার ঘটনার একটি ঘটায় একেবারে অপরিচিত মানুষ, অর্থ্যাৎ শতকরা ৭০ শতাংশ ঘটনা ঘটবার সময় যৌনলাঞ্ছিত ব্যক্তি যৌনআগ্রাসী ব্যক্তির পরিচয় এবং তার সাথে সামাজিক সম্পর্ক সম্পর্কে অবহিত থাকে।

এই পরিচিত তাকে দ্বিমুখী যাতনায় পিষ্ট করে, শাররীক আগ্রাসনে ঘটে যাওয়া ক্ষতি, সামাজিক ধারণা উদ্ভুত শাররীক বিশুদ্ধতা এবং সতীত্ব কলুষিত হওয়ার বোধ এবং আক্রান্ত ব্যক্তি এবং আগ্রাসী ব্যক্তির সামাজিক ক্ষমতার তারতম্য- সব মিলিয়ে পুলিশকে অবহিত করতে অনেক ধরণের বাধার সম্মুখীন হতে হয় একজন আক্রান্তকে।

পারিবারিক ভাবে নিরুৎসাহিত করা হয় অনেক সময়, সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অনেক ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করেন না। এইসব নানাবিধি ট্যাবুর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে ধর্ষণ এবং যৌনলাঞ্ছনার ঘটনাগুলো জনসমক্ষে কিংবা জরিপে উঠে আসে না।

যতগুলো অপরাধ পুলিশের কাছে অভিযোগ হিসেবে আসে তার ৮০ ভাগই অমীমাংসিত অবস্থায় আসে, কিংবা অধিকাংশ সময়ই ধর্ষক মুক্তি পেয়ে যায়। এবং এইসব জটিলতার কারণে অনেকে আইনী ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে চান না।

প্রশ্ন হলো যারা আইনগত ভাবে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আমরা কি ব্যবস্থা গ্রহন করবো। চেক প্রজাতন্ত্র আগ্রাসী ধর্ষকদের ক্যাস্ট্রেশন করে, অর্থ্যাৎ তাদের বাধ্যতামুলক ভাবে মৃত্যুদন্ড কিংবা খোজা হওয়ার যেকোনো একটা পরিণতি মেনে নিতে হয়।

ইউরোপের অন্যান্য দেশে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস ধর্ষকদের নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হয় যা তাদের যৌনকামনাকে দমন করে। যৌনচাহিদা দমন করবার ঔষধ দিয়ে ধর্ষকদের ধর্ষণ প্রবনতা কমানো সম্ভব কি না এটা নিয়ে বিতর্ক আছে।

এটা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, তারা প্রাকৃতিক বিবর্তনের সূত্র ধরে এমন ঘোষণা দিচ্ছে এটা বিবর্তনের প্রভাব এবং এটা জৈবিক একটি প্রতিক্রিয়া, যদিও অন্য সব সাধারণ মানুষের ধারণা ধর্ষণপ্রবনতা আদতে মানুষের তাৎক্ষণিক উগ্র যৌনাবেগ, যা দমনে ব্যর্থ হয়ে তারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে, এবং কেনো এই উগ্র যৌনাবেগ সৃষ্টি হয় এটার নানাবিধ কার্যকরণ নির্ধারণের প্রচেষ্টা করেছে বিহেভিয়ারিয়াল সায়েন্টিস্ট এবং সোশ্যাল সায়েন্টিস্টগণ।

অদ্ভুত সত্য হলো ধর্ষণ শুধুমাত্র মানুষের নিজস্ব যৌনআগ্রাসন নয়, বরং বেবুন এবং শিম্পাঞ্জীরাও এমন আচরণ করে, তারা দলের অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের উপরে চড়াও হয়ে নিজেদের যৌনকামনা চরিতার্থ করে, কখনও একক ভাবে , কখনও দলীয় ভাবে তাদের এমন আচরণ করতে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে ধর্ষকদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য যাচাই করা, তাদের নিয়মিত পুলিশের কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া এবং প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রেখে তাদের যৌন কামনা দমনের ঔষধ সেবনে বাধ্য করা, সবগুলো ব্যবস্থাই করতে হয় রাষ্ট্রীয় খরচে। বাংলাদেশের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা কি কার্যকরী কোনো পদ্ধতি বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশ কি ধর্ষকদের মুষ্ককরণ ঘটাবে, তাদের মৃত্যুদন্ড রদ করে এমন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাবে?

পুনর্বাসন সব সময়ই অপরাধীদের জন্য বিশাল একটা সমস্যা, দীর্ঘ একটা সময় কারাগারে আটক রেখে তাকে সংশোধনের ব্যবস্থা করা কিংবা তাকে প্রচলিত নিয়মের সবক দিয়ে রাষ্ট্রের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করা এমনটাই কারাগারের লক্ষ্য ছিলো। তবে সে লক্ষ্য অর্জিত হয় নি।

সব সময়ই সংশোধনাগার আদতে রাষ্ট্র যাদের নিজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে তাদের আটকে রাখবার জায়গা হয়েছে, এবং এদের অনেকেই ভয়ংকর রকমের সোশিওপ্যাথ, তারা সামাজিক মানুষদের ঘৃনা করে, এবং তারা সামাজিক মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাদের সাথে বসবাস করে একজন খুব বেশী সংশোধিত হয় না।

প্রতিটা উন্নত দেশে এখন নিয়ম হয়েছে কোনো অভিযুক্ত ধর্ষক যখন তার আবাস পরিবর্তন করবে তখন সেটা সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হবে। এবং প্রতিটা মিউনিসিপালটি অফিসে তার রেকর্ড এবং বর্তমান অবস্থা লিপিবদ্ধ থাকবে, এবং যেকেউ ইচ্ছা করলে এই তথ্য জানতে পারবে।

অভিযুক্ত ধর্ষকদের আমরা ঘৃণা করি, সামাজিক মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচিত জনদের প্রতি বিদ্যমান হুমকি হিসেবে আমরা চিহ্নিত করি এদের, তবে এদের অনেকেই সিরিয়াল ধর্ষক নয়। তাদের অনেকেই একবার ধর্ষণ করে অভিযুক্ত হওয়ার পর সত্য সত্যই সংশোধিত হয়ে সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

একজন সাম্ভাব্য অপরাধী এবং এবং একজন সংশোধিত মানুষের ভেতরে প্রভেদ করবার কোনো উপায় আসলে তথ্য উপাত্তে থাকে না।

রাষ্ট্র অনেক সময়ই মানুষের মানসিকতা এবং মানসিক অবস্থাকে যাচাই করতে ব্যর্থ হয়, সুতরাং এমন একটা অপরাধ যা ৩০০ বছর আগেও অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সেটা দমনের জন্য শুধুমাত্র কঠোর আইনের প্রয়োগ নয়, এটার উৎস জানা জরুরী, সামাজিক এবং মানসিক কারণগুলোর সাথে এটাও নির্ধারণ করা প্রয়োজন আমাদের বিবর্তনের ধারায় আমরা কেনো ধর্ষণপ্রবন হয়ে উঠেছি। এবং আমাদের নিজস্ব ধর্মীয় কিংবা সামাজিক নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ কি আমাদের নিজেদের জেনেটিক প্রোফাইলের বিরুদ্ধে যেতে সহায়তা করবে।

যদি আমাদের নিজস্ব বিবর্তনের ইতিহাসের কোথাও এমনটা থাকে যে আমরা স্বভাবতই ধর্ষণপ্রবন আমাদের শিক্ষা এবং সংস্কৃতি আমাদের ধর্ষণ প্রবনতাকে রোধ করে, তবে আমাদের সে ভাবেই আগাতে হবে, সেসব সামাজিক সংস্কার এবং নৈতিকতা এবং সামাজিক শিক্ষার প্রবর্তন এবং চর্চা করতে হবে ,যা একজন মানুষকে অন্য মানুষের প্রতি যৌনআগ্রাসী না হয়ে বরং পারস্পরিক সম্মতিতে আনন্দময় এবং নির্ভেজাল শাররীক সম্পর্কে লিপ্ত হতে আগ্রহী কিংবা অনুপ্রাণীত করবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28976271 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28976271 2009-07-10 19:28:15
মারওয়ার মৃত্যু- দায়িত্ব কে নেবে?
এ মৃত্যুর দায় মুসলিম সন্ত্রাসবাদের, হয়তো মারওয়া আল শেরবিনির মৃত্যুর ঘটনার উগ্র প্রতিক্রিয়া আরও অনেকগুলো এমন নৃশংস বর্বরতার জন্ম দিবে।

এই মুহূর্তে বোধ হয় সময় এসেছে নিজেদের প্রশ্ন করার, ঠিক কোন সীমায় পৌঁছালে আমরা আমাদের নিয়ন্ত্রন করবো? ঘৃণার প্রত্যুত্তরে ঘৃণা কোনো কার্যকর সমাধান নয়, এমন কি সার্বক্ষণিক আত্মঘাতী হামলার চিত্র প্রকাশ করা, কিংবা গণমাধ্যমে এইসবের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কে মুসলিম সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন কার্যকলাপের সচিত্র বিবরণ এবং প্রতিনিয়ত দিয়ে চলা হুমকি, সব মিলিয়ে বিদ্বেষের আর ঘৃণার আগুণ সব সময়ই প্রজ্বলিত ছিলো।

ইউরোপ- আমেরিকা মুসলিমফোবিয়ায় ভুগছে, টুইন টাওয়ারের হামলা যতটা আমেরিকার অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে, তার চেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে এটা সেখানে বৈধভাবে বসবাসরত ১ কোটি মুসলিমের। তাদের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারি হয়তো এখনও শেষ হয় নি, তবে বিগত ৭ বছর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের অর্ধেকের বেশী নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য, ফোনালাপ রেকর্ড করা হয়েছে।

স্পেনে ইংল্যান্ডে বোমা হামলা এবং কয়েকটি ব্যর্থ হামলার প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ায় মানুষের আতঙ্ক এবং বিদ্বেষ শুধু বেড়েছে। এই ঘৃণার উত্তরে ঘৃণা কিংবা তীব্র আতঙ্কিত বিদ্বেষ আসলে নিজের অসহায়ত্বের ক্ষোভের প্রকাশ।

সবাই ক্ষুব্ধ, হলান্ডে এক চলচিত্র নির্মাতাকে হত্যা করা, সাধারণ মানুষের ভেতরে সাম্প্রদায়িকতার তীব্রতা এবং মুসলিম বিদ্বেষকে ফ্রান্স রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নিজেদের অক্ষমতা কিংবা অনীহা প্রকাশ করেছে স্কুলে ধর্মীয় চিহ্ন সম্বলিত পোশাকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল উত্থাপন এবং সেটা অনুমোদন করে।
জার্মানীতে অবৈধ এবং বৈধ ভাবে বসবাস করছে অসংখ্য তুরস্কের নাগরিক, তাদের অনেকেই অপরাধের তীব্র ভাবে যুক্ত।

এইসব ভীতির ভেতরেই মানুষ বেড়ে উঠছে, কেউ বড় হচ্ছে খ্রীষ্টানবিদ্বেষ নিয়ে, এবং কেউ বড় হচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে। এদের ভেতরে যারা অপরাধপ্রবণ এবং যারা অতিরিক্ত আতংকিত কিংবা ক্ষুব্ধ কিংবা যাদের ঘৃণার পরিমাণ অপরিসীম, তারা রাস্তায় মুসলিম নামধারী কাউকে দেখলেই তাকে সন্ত্রাসী বলে অবজ্ঞা করে কিংবা নিজের মতামত জানায়।

মারওয়া আল শেরবিনির ঘটনার সূত্রপাত এভাবেই। মিশরের মেয়েরা ধর্মীয় কারণে নয় বরং সামাজিক ভাবেই মাথায় স্কার্ফ বাঁধে, যদিও এটা নিয়ে তাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেই, তবে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে কোনো হিজাবপড়া মহিলা সংবাদ উপস্থাপনও করতে পারে না। কিন্তু অধিবাসীদের অধিকাংশই মাথায় স্কার্ফ পড়ে।

সেই স্কার্ফ কিংবা হিজাব এখন ইউরোপে মুসলিমদের চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা যদি মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পোশাক সংস্কৃতির অংশ হতো তবে সেটা নিয়ে হয়তো এত জলঘোলা হতো না, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সূর্যের সাথে তাল মিলিয়ে নামাজ রোজা করা কতিপয় মানুষ এটাকেই মুসলিম নারীদের পোশাক চিহ্নিত করবার পরে স্কার্ফই মুসলিম নারীর পরিচায়ক হয়ে উঠেছে।

স্কার্ফ পড়ে আসবার সময় মারওয়াকে একজন সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করে, এবং মারওয়া যেকোনো আইনানুগ নাগরিকের মতোই আদালতে মামলা করেন। আদালত খুনী এক্সেল ডাব্লিওকে অপরাধী সব্যস্ত করে এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে আপীল করে অভিযুক্ত।

সেই মামলার শুনানী চলবার সময় কোর্ট রুমে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় মারওয়াকে।

মারওয়ার মৃত্যু আমাকে ব্যথিত করেছে, তবে আরও বেশী উদ্বিগ্ন করেছে। এই ঘৃণার শেষ কোথায়? কোনো এক পক্ষকে অন্তত সাদা পতাকা তুলতে হবে। আমি এক্সেলকে দোষ দেই না, সে উপলক্ষ মাত্র, তবে এর পশ্চাৎপট তৈরি করছে ৯০ এর দশক থেকে বাড়তে থাকা উগ্র ইসলামী ভাবধারার মোল্লা এবং কট্টরপন্থীরা। তারা নিজেদের ধর্মীয় বিশুদ্ধতা ক্ষুন্ন হওয়ার কিংবা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগবার বিষয়গুলোকে যেমন সহিংসপন্থার প্রকাশ করেছে তাতে অন্য সব মুসলিম যারা শান্তিপ্রিয় এবং সহনশীল তাদের সবাইকেই সাম্ভাব্য সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এবং এরা প্রকাশ্যেই রাস্তায় ঘুরে, নিজেদের কাজে যায়, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়া এইসব কট্টরপন্থী মোল্লাদের অবশ্য এই নিয়ে মাথা ব্যথা নেই , পেটে ভাত না থাকলেও ধর্মের বিধান ঠিক রাখা চাই তাদের।

আমি মারওয়ার মৃত্যুর জন্য মূলত দায়ী করবো তাদের।

ইউরোপ এখনও সভ্য হয়ে উঠতে পারলো না। ধর্মীয় সহনশীলতার চর্চা করতে পারলো না। রেঁনেসায় যেভাবে লোকজন চার্চের দখল থেকে মুক্ত হয়েছিলো, সাম্প্রতিক প্রবনতায় মানুষ পুনরায় চার্চে প্রত্যাগমন করছে। এবং সেখানকার সাধারণ মানুষ বর্ণ, গোত্র নয় বরং এখন মানুষকে বিবেচনা করছে তার ধর্ম দিয়ে। এই অসুস্থ প্রবনতা যদি না থামে, এমন অনেক মারওয়ার মৃত্যু অপেক্ষা করছে আমাদের সামনে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28975795 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28975795 2009-07-09 17:17:51
ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা প্রশ্ন-
খাদিজার জন্ম বনি হিশাম গোত্রে, তার পিতার নাম খোয়ালেদ, কিংবা খালিদ, দাদার নাম, আসাদ, পরদাদার নাম আব্দুল উজ্জা, এবং তার পিতার নাম কুসেয়...............

মোহাম্মদের জন্মও বানি হিশাম গোত্রে- পিতা আব্দুল্লাহ, দাদা আব্দুল মুত্তালিব, দাদার পিতা, হাশিম, তার পিতা আবদ মানাফ, এবং তার পিতা কুসেয়-

সেই বিবেচনায় খাদিজা আদতে জ্ঞাতি সম্পর্কে মুহাম্মদের ফুপু।

বানি হিশাম গোত্র, বংশানুক্রমে কা'বার রক্ষক, এদের সবাই মুর্তিপূজারি নয়, বরং এদের ভেতরে অনেকেই একেশ্বরবাদী, তবে তাদের সাথে কোনোভাবেই ইহুদি কিংবা খ্রীষ্টানের যোগসূত্র ছিলো না।

তারা ইব্রাহিম এবং তার পূত্র ইসমাইলের ধর্ম অনুসরণ করতো।

খালিদ কিংবা তার পিতা আসাদের গোত্রের একজন ওয়ারাকা বিন নওফল,
একেশ্বরবাদী, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে আকৃষ্ট ছিলো না। অন্তত ৫৯৫ সাল পর্যন্ত বিষয়টা সত্য।

খাদিজার বাবা মারা যায় ৫৭৫ সালে, এবং মা মারা যায় ৫৮০ সালে, এবং এরপর খাদিজা নিজেই পিতার ব্যবসার হাল ধরেন।

যদিও ইতিহাসে তাকে দুই বার বিবাহিত বলা হয়েছে কিন্তু তার স্বামীদের সম্পদের উত্তরাধিকারী হিসেবে সে ব্যবসা পরিচালনা করেছে এমন নয়। সুতরাং একটা অনুমান হতে পারে সে ছিলো অবিবাহিত, এবং মুহাম্মদকেই সে প্রথম বিবাহ করেছিলো।

তার সততা এবং গুণমুগ্ধ হয়ে আরবেরা তাকে "তাহিরা" উপাধি দিয়েছিলো, ধনসম্পদের জন্য তার উপাধি ছিলো মক্কার রাজকন্যা।

তার বোনের তিন মেয়ে জয়নব,রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুম, তারা মোহাম্মদের কন্যা নয়, রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুমের সাথে বিয়ে হয় উসমান বিন আফ্ফানের। তার আগে এদের বিয়ে হয়েছিলো আবু লাহাবের সন্তানের সাথে।

জয়নবের বিয়ে হয় আবুল আস ইবনে আর রাবি- মদিনা হিজরতের পরে কুরাইশদের সাথে প্রথম যুদ্ধে যুদ্ধবন্দি হিসেবে ধৃত, এবং পরে মুহাম্মদ তাকে মুক্তি দেন, সে ইসলাম গ্রহন করে এবং মদিনায় হিজরত করে পরবর্তীতে।

এই হিজরতের সময় জয়নব আহত হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু বরণ করে মদিনায়???

এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুহাম্মদ অপরাধীকে জীবিত পুড়িয়ে মারবার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে সে আদেশ রদ করে বলেন পুড়িয়ে মারবার একমাত্র অধিকার আল্লাহ'র।

যদি এই ঘটনা সত্য হয়, তবে উসমান সে হিসেবে মুহাম্মদের জামাই নয়- সুন্নিরা এই ইতিহাস অস্বীকার করে জয়নব, রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুমকে মুহাম্মদের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায়- কিন্তু কেনো?

যদি খাদিজা ন্যুনতম ২০ বছর বয়েসে ব্যবসার হাল ধরেন তাহলেও তার বয়েস ৫৯৫ এ হয় ৩৫। এমনও হতে পারে সঠিক বয়েস না জানা থাকলেও সেটা ৩০ থেকে ৩৫ এর আশেপাশে হবে, এর বেশীও হতে পারে, কিন্তু অবিবাহিত খাদিজার মৃত দুই স্বামীর নাম কোথাও পাওয়া যায় না কেনো?

-------------------------------------------------------------------------------

তবে মূল প্রশ্ন এটা না, মূল প্রশ্ন মুহাম্মদ বনি হিশাম গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে ইসমাইলের বংশধর, এবং ঈসা, মুসা এরা সবাই ইসহাকের বংশধর??

বনি হিশাম কোনোভাবেই এই ধর্মের সাথে সংযুক্ত নয়, কিন্তু একেশ্বরবাদের যে ইতিহাস বনি হিশাম চর্চা করেছে সেটার ইতিহাসের সাথে সম্ভবত ঈসা মুসার ইতিহাসের পার্থক্য ছিলো।

কিংবা যে গল্প প্রচলিত ছিলো আরবে সেটা হয়তো মদিনা কিংবা অন্য কোথাও প্রচলিত ছিলো না, মুহাম্মদের সাথে ইহুদিদের শান্তি আলোচনা এবং নবুয়ত নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যায় একটা ফেরেশতার কারণে,

জিব্রাঈল এবং মিকাইলের ভেতরে যদি তফাত না থাকতো তবে জেরুজালেম নিয়ে পৃথিবীতে এত রক্তক্ষয় হয় না।
মুসলিম ট্রাডিশনে জিব্রাঈল সকল ইশ্বরের বার্তা নিয়ে আসে মর্ত্যে, মিকাইল শুধু বৃষ্টি বন্যা, এইসব প্রাকৃতিক বিষয়াদি দেখভাল করে,

অন্য দিকে এই মিকাইল ইহুদিদের সকল সুসংবাদ বয়ে নিয়ে এসেছে, জিব্রাঈল ইহুদিদের শুধুমাত্র দুঃসংবাদ বহন করে আনতো।

-------------------------------------------------------------------------------

মুহাম্মদ মদিনায় হিজরত করার কারণ কি মাতৃভুমিতে পদার্পন? আমিনা মদিনার মেয়ে, পিতৃভুমি মুহাম্মদকে রিক্ত ফিরালেও মাতৃভুমি তাকে হতাশ করে নি।

--------------------------------------------------------------------------

মুহাম্মদ যে ইশ্বরের প্রেরিত পুরুষ হতে পারে এই অনুমান কিংবা বিশ্বাস মুহাম্মদের ভেতরে প্রবিষ্ট করবার হোতা কে? খাদিজা, না ওয়ারাকা বিন নওফল?

-------------------------------------------------------------------------

মুহাম্মদ বাণিজ্য থেকে ফিরে কা'বাকে ৭ বার প্রদিক্ষণ করেছিলো, অন্যান্য বণিকেরাও কা'বায় গিয়ে ৭ বার প্রদিক্ষণ করে আসতো। এটা সে সময়ে অবিশ্বাসী কিংবা বিশ্বাসী, একেশ্বরবাদী কিংবা বহুইশ্বরবাদী সকলের স্থানীয় সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্য ছিলো।

কিন্তু ইসলাম কেনো এটাকে হ্বজ্জ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলো এবং ঈমাণদার স্বচ্ছল বান্দাদের জন্য ফরজ করলো?

আরবের মাটির তলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পরে এরা এই একটা ব্যবসা করে অন্তত টিকে থাকতে পারবে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28974112 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28974112 2009-07-06 01:56:08
যৌনতা বিষয়ে ভাবনা ০২ দেবদাসী, মন্দিরবাসীনি কিংবা অন্য যেকোনো নামেই অভিহিত করা হোক না কেনো তাদের, প্রাচীন সভ্যতায় সুন্দরী তরুণীদের একাংশকে সব সময়ই কোনো না কোনো উপাসনালয়ে অন্য সব পুরোহিত এবং আমত্য ও উচ্চ বংশীয় পুরুষদের যৌনলিপ্সা এবং অন্যান্য মানসিক চাহিদা পুরণ করে কাটাতে হতো।

তারা সমাজের সবার জন্য উৎসর্গকৃত নগরনন্দীনি। ইশরাত, মেসোপটোমিয়া, ব্যাবিলন এবং ফনিশিয়ান সভ্যতার একক দেবী, ক্রমশ পুরুষের আধিপত্যে তার উর্বরতা ব্যতীত অন্য কোনো পরিচয় টিকিয়ে রাখতে পারে নি। কিংবা অন্য ভাবে বলা যায় সভ্যতা মাতৃতান্ত্রিকতা ছেড়ে পিতৃতান্ত্রিক হয়ে উঠবার পথেই ইশরাত পরম দেবীর আসনচ্যুত হয়ে সাধারণ এক দেবি হয়ে উঠেন, যাকে পরবর্তীতে যখন সেমেটিক ধর্মের সৃষ্টি হলো, তখন পাপিষ্ঠা অভিধা দেওয়া হলো।

প্রাথমিক পর্যায়ে ইশরাতের উপাসনা হতো সকল রকমের উদযাপনে, যুদ্ধাজয়, নবান্ন আর পার্বনে ইশরাতের ভজনা হতো নিয়মিত। এবং এইসব ভজনা আদতে সমাজের সকল পুরুষের পারস্পরিক যৌনবিদ্বেষ এড়ানোর একটা সহজ উপায় গণ্য হতে পারে। খোলা মাঠে সমুদ্রের সামনে কিংবা নদী উপকূলে সবাই যৌনাচারে মেতে উঠতো পার্শ্ববর্তীনির সাথে। এবং এই প্রথা শুধুমাত্র সেখানে উদ্ভুত সভ্যতার একান্ত অংশ এমন নয়, বরং সেটার প্রচলন অন্য সব সভ্যতায় আছে যাদের সাথে এই ইরাকের দজলা আর ফেরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলের কোনো সম্পর্ক কখনই গড়ে উঠে নি।

নগরকেন্দ্রীক সভ্যতার উদ্ভব, উপাসনালয় সৃষ্টি এবং পৌরোহিত্বের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পরে ইশরাতের উপাসকের জন্ম হলো, নগরের সকল বিবাহিত রমণীকে বিবাহিত জীবনের পরবর্তী একটা সময়ে সামাজিক রীতি অনুসারেই মন্দিরের সামনে অপেক্ষা করতে হতো , সেখানে যে কেউ তাদের আঁচলে সামান্য উপঢৌকন দিয়ে তার সাথে মিলিত হতে পারতো। যদিও ততটা আশ্চর্য হওয়ার মতো সংবাদ নয় এটা, যারা পয়সা উপঢৌকন দিতো তাদের অধিকাংশই ছিলো বিবাহিত পুরুষ। বিবাহিত পুরষের কামনিবৃতির উপকরণের অভাব নেই, এরপরও বিবাহিত পুরুষের এমন আচরণ আদতে পুরুষের ভেতরে কাম্য নারী নিয়ে দ্বন্দ্বকে দমিয়ে রাখার একটা সামাজিক প্রয়াস।

এই শ্রেনীর কাউকেই ঠিক প্রচলিত সংজ্ঞায় গণিকা বলা সম্ভব নয়, গণের সম্ভোগের জন্য নিয়োজিট থাকলেও বর্তমানের গণিকাদের যেভাবে অর্থের বিনিময়ে বহুপুরুষ ভোগ করতে পারে, সেবাদাসীদের তেমন অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ ছিলো না। আর বিবাহিত যেসব নারী অন্তত একবার হলেও অপরিচিত পুরুষের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হতে বাধ্য হতো, তাদের ঠিক গণিকা পর্যায়ভূক্ত করা যায় না।

সুতরাং সাধারণের ভেতরে জনপ্রিয় ধারণা, গণিকাবৃত্তি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পেশা, এই ধারণা সম্ভবত সত্য নয়। পশুপালন, কৃষিকাজ, মৎস্যপালন এবং মৎস্যবিক্রয়ের পেশা আদিমতম, এবং এর সাথে আছে ভাড়াটে সৈনিকের পেশা, নগরনির্মাণের পেশা, এবং এইসব পেশার প্রসার হওয়ার পরে অবশ্যই এইসব মানুষের বিভিন্ন চাহিদার সাথে যৌন চাহিদা পুরণের জন্য গণিকাদের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এটা প্রাচীনতম পেশা নয় মোটেও।

আর গণিকাবৃত্তি অন্তত প্রাচীন সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত একটা কাজ ছিলো। রীতিমতো চৌষট্টি কলার চর্চা করে বিখ্যাত গণিকা হওয়া যেতো। একজন উচ্চপ্রশিক্ষিত গণিকার কদর ছিলো সবখানেই। সেটা রাজদরবার কিংবা বন্দর, যেখানেই হোক না কেনো, একজন প্রশিক্ষিত গণিকার সম্মান আর উপার্জনের পরিমাণ যেকোনো ব্যবসায়ীর তুলনায় কম ছিলো না মোটেও।

উচ্চাভিলাষী সুন্দরী কিংবা অসুন্দরী মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত গণিকা শিক্ষাঙ্গনে উপস্থিত হতো শিক্ষার জন্য, তাদের সর্বশিক্ষায় পারদর্শী করে তোলা সম্ভব ছিলো না।

অভিনয়, নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র বাজানোর দক্ষতা, ছবি আঁকার এবং ছবি বুঝতে পারার ক্ষমতা, গান তৈরি এবং সুর করবার দক্ষতা, গৃহসজ্জা এবং রান্নার দক্ষতা, ধাঁধা তৈরী এবং ধাঁধা সমাধানের দক্ষতা, লিখতে পড়তে শেখা, কবিতা ও গল্প তৈরি করা এবং লিখতে পারার দক্ষতা, বিভিন্ন রত্ন চেনার দক্ষতা, জুয়া খেলবার দক্ষতা, এবং আরও অনেক ধরণের যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়েই একজন চৌষট্টি কলাবিশারদ হতে পারতো।

এমন একজন পারদর্শী রমণী রাজার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন এবং নগরের সবার শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠবেন, যার বাসগৃহে মন্ত্রনা সভা বসবে, কোথাও যুদ্ধ এবং বাণিজ্যের বিষয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হবে, এসব খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয় ছিলো তখন, অন্তত প্রাচীন ভারতে এটা রীতিমতো একটি শিল্পে পরিনত হয়েছিলো। এইসব গুনাবলীর সাথে তাকে আবার কামকলাপারদর্শী হতে হতো। কামের ষোলেআচারও তাকে শিখতে হতো।

সম্ভবত তাদের কাজ মূলত গণিকাবৃত্তি নয় বরং দক্ষ আমলা হিসেবে যেনো তারা যেকোনো মানুষের সাথে আলোচনায় লিপ্ত হতে পারে এবং তাকে সবধরণের সুখস্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারে, এমন উদ্দেশ্য নিয়েই এই শিক্ষালয় খোলা হয়েছিলো।

একই ভাবে প্রশিক্ষিত এবং কামকলায় দক্ষ রমণীদের চাহিদা ছিলো প্রাচীন চীনে, কিংবা ব্যবিলনে।

মিশরের মন্দিরের সেবাদাসীদের সম্মান ছিলো আলাদা। ইশরাতের মন্দিরের সেবাদাসী কিংবা মিশরের মন্দিরের সেবাদাসীদের বিরুদ্ধে কটুকথা রটনা এবং উচ্চারণ রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে অপরাধ ছিলো।

মিশরীয় সভ্যতাই সম্ভবত পুরুষের ক্ষমতার লোভের চরম উদাহরণ হতে পারে। সেখানে অন্তত ১৫০০ বছর আগ পর্যন্ত সম্পদ বন্টিত হতো মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, অর্থ্যাৎ মাতার সম্পদ পেতো কন্যারা, ছেলেরা ধনসম্পদের উত্তরাধিকারী বিবেচিত হতো না, সুতরাং সেখানে রানীর মৃত্যু হলে সম্রাট ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখবার জন্য কন্যাকে নিজের স্ত্রী করে নিতেন, একই ভাবে পিতার মৃত্যুর পরে পুরুষ সন্তান সম্পদের লোভে, হয় মাকে কিংবা বোনকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতো। এবং এই প্রথা নিজস্ব যৌনচাহিদা পুরণের কোনো পন্থা নয়, বরং সম্পদের অধিকারের লোভ। এইসব সম্রাটের নিজস্ব হারেমে প্রশিক্ষিত গণিকা এবং অন্যসব স্ত্রীরাও থাকতো, তবে তাদের প্রধান স্ত্রী কিংবা মূল রানী হতো সম্রাটের রক্তসম্পর্কিত কিংবা সম্রাঞ্জীর রক্তসম্পর্কিত কোনো কন্যা।

যদিও ইহুদী ধর্ম গোত্রের ভেতরে গোত্রের সদস্য- সদস্যদের কাউকেই গণিকা বৃত্তিতে উৎসাহিত করতো না, বরং সেটা তাদের নৈতিক আইন অনুসারের জঘন্য অপরাধ বিবেচিত হতো, তবুও ইতিহাসে খুব অল্প সময়ের জন্যই তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলো, তাই তাদের নিজস্ব গোত্রে তারা পতিতাবৃত্তি দমন করতে পারলেও নগর থেকে পতিতাদের উচ্ছেদ করতে পারে নি।

যত বড় নগর, তত বেশী গণিকা, তত বেশী ব্যাভিচার, এমনটাই বাস্তবতা।

গ্রীক সভ্যতাও একটা পর্যায়ে শুধুমাত্র গণিকাবৃত্তির জন্যই বিখ্যাত। তাদের নগরে যদিও পতিতাদের নাগরিকত্বের অধিকার ছিলো সামান্য তবে নগরের অধিকাংশ সম্পদের মালিক ছিলো এই গণিকারা, তারাই নগরের সম্ভ্রান্ত নাগরিকদের বিলাস ও ব্যভিচারের অর্থ প্রদান করতো।
ঔচ্চাভিলাষী যেকোনো নারী সে সময়ে স্বইচ্ছায় গণিকাবৃত্তি মেনে নিতো, এবং তারা অর্থে-বিত্তে- সম্মানে পিছিয়ে ছিলো না। বরং সামনের কাতারেই ছিলো।

এখনও পরিস্থিতি তেমন বদলায় নি, মানুষের রমনেচ্ছা এখনও রয়েছে, পুরুষ এখনও নিজের কামনিবৃত্তির নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের চেষ্টা করছে।

নারীদের সবাই যে দক্ষ গণিকা হয়ে উঠতে পেরেছিলো এমন নয়, বরং চৌষট্টি কলায় দক্ষ যে রমণী, তার শষ্যাসঙ্গী হতে যে পরিমাণ আর্থিক সঙ্গতি লাগতো তা যোগান দিতে পারতো শুধুমাত্র উচ্চতর রাজকর্মচারীগণ, সম্রাট নিজেই নিজের নগরে একজনকে উপঢৌকনসহ বহাল রাখতেন , যখনই অন্য দেশের কোনো সম্ভ্রান্ত নাগরিক কিংবা সম্রাট নগরে আসতেন , এই গণিকা তাদের মনোরঞ্জন করতো।

সে সময়ের পরে একটা সময়ে ইসলাম ধর্ম আসলো, সেখানে বিদ্যমান নিয়মতান্ত্রিকতা অন্তত সে সময়েরব বিবেচনায় অনেক বেশী অগ্রসর ছিলো, নেপথ্যের কারণ যাই হোক না কেনো, নারীকে নিজের যৌনদাসত্বে আটকে রাখবার বাধ্যবাধকতা ছিলো না সেখানে। বরং যদি নারী নিজের স্বামীকে পছন্দ না করতো তবে সে নিজের আগ্রহেই বৈবাহিক সম্পর্ক রদ করতে পারতো।

তালাকের দীর্ঘ একটা নিয়ম ছিলো, সেখানে একবার তালাক ঘোষণার পরে ৩ মাসের ইদ্দতকালীন সময় থাকতো, যে সময়ের ভেতরে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে শাররীক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতো চাইলেই এবং সেটা করলেই তালাক রদ হয়ে যেতো। তবে যদি পুরুষ তিন মাস সঙ্গম বিরত থাকে, এরপর পুনরায় তালাক দিতে হবে। পুনরায় ৩ মাসের সময়, এভাবে এক চন্দ্রবছর পরেও যদি স্বামী স্ত্রীর বনিবনা না হয়, তবে স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণের দায়িত্ব না নিয়েই তালাক দিতে পারে।

মুহাম্মদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের অদ্ভুত যুক্তিবোধ জন্মাতে পারে নি, কিংবা এটা তাদের ধারণায় ছিলো তবে মুহাম্মদের প্রবল প্রতাপের সামনে তারা এটার চর্চা করতে পারে নি।
আবু বরকের খিলাফতের শেষের দিক থেকে ওমরের খিলফতের অধিকাংশ সময়ই তালাকের পরিমাণ এত বেড়ে গেলো, উমর এবং তার পূত্র আব্দুল্লাহ, দুজনেই একটা প্রথার জন্ম দিলেন, যা কোরান সম্মত নয় , কিন্তু তার চর্চা মানুষ এখনও করছে, এবং সেটাই সাধারণের ধারণায় তালাকের মূল বক্তব্য।

এই সময়ে ব্যভিচারের নমুনা হলো, মুসলিম একই সাথে ৪টির বেশী স্ত্রী রাখতে পারবে না, সুতরাং কেউ কেউ প্রাক্তন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে কয়েক দিনের জন্য অন্য কোনো কাম্য রমনীকে বিবাহ করছে এবং মেয়াদ কিংবা ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই পুরোনো স্ত্রীকে ত্যাগ করে নতুন এবং নতুন স্তীকে ত্যাগ করে পুরোনো স্ত্রী- এমন পরিবর্তন করে বস্তুত সুন্নাহ মতে যতটা সম্ভব তার চেয়ে বেশী ব্যভিচারের লিপ্ত হলো। উমর সে সময়ে বাধ্য হয়েই ফরমান জারী করলেন- পূর্বে যেমন তিন ধাপে তালাক সম্পন্ন হতো, এখন থেকে তা হবে না। একবার তালাক উচ্চারণ করলেই সেটা ৩ বারের কাজ করবে, এবং ইদ্দতকালীন সময় হবে ৩ মাস, এরপরে সে রমনীকে বিবাহ করিতে হলে হিল্লা বিবাহের প্রয়োজন হবে।

আব্দুল্লাহ আরও একধাপ এগিয়ে এটার ব্যখ্যা দিলেন, যদি কোনো পুরুষ ব্যবসায়িক সফর, কিংবা যুদ্ধব্যতীত অন্য কোনো কারণে কোনো রমনীর সাথে ৩ মাস একাধারে মিলিত না হয়, তবে তাদের তালক হয়ে যাবে।

সম্ভবত এমন কোনো নিদর্শন তখন বিদ্যমান ছিলো, হয়তো যে রমণীর স্বামী বিদেশে, তার যৌনচাহিদা পুরণের পন্থা হিসেবে সে আশেপাশের যুবকদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছে, কিংবা অন্য কোনো লোভের বশবর্তী হয়েই আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এমন সিদ্ধান্ত।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28973714 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28973714 2009-07-05 02:24:12
যৌনতা বিষয়ে ভাবনা ১
যৌনঅপরিতৃপ্তির কারণে পরকীয়া প্রবন মানুষেরা স্বগৃহে এবং স্ববরে স্থিতি পাবে ভায়াগ্রা আসবার পরে- এমন মন্তব্যও ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো, পরকীয়ার কারণে স্বামী কিংবা স্ত্রীকে হত্যা করা, শিশু সন্তানদের হত্যা করবার মতো বিভৎসতার নজির শুধু এই শতকেই পত্রিকায় এসেছে এমন নয়, বাংলাদেশের পত্রিকায় গত শতকে, অর্থ্যাৎ ১০০ বছর আগেও এমন ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে।

তখনও পরকীয়াপ্রবন নারী প্রেমিকের সাথে গাঁটছাড়া বাঁধবার আগে স্বামীকে হত্যা করে ফেরারী হয়েছে, কিংবা ভুল করে নিজের কন্যাকে হত্যা করেছে।

এটাকে সামাজিক অবক্ষয় বলবার অবকাশ বোধ হয় নেই এখন। সভ্যতা কখনই এমন রাস্তায় যায় নি, বরং এই যৌনতাকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেছে সভ্যতা। আমাদের সভ্যতার অবদান বড়জোর এইগুলোকে একটা নিয়মতান্ত্রিকতার ভেতরে নিয়ে আসা।

সভ্যতায় নারী একটা সময় পূজিত হয়েছে তার উর্বরতার জন্য, নারীরাই সন্তান গর্ভে ধারণ করতে পারে এবং নারীরাই পুরুষের বিজ গর্ভে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের জন্ম দেয়- এই অলৌকিক গুণের জন্যই নারী দেবিরুপে পূজিত হয়েছে, যা কিছু ফলবন্ত, ভুমি, নদী, শষ্য সবই পূজিত হয়েছে নারীরুপে, আকাশ বর্ষণ করে, সেই বর্ষণসিক্ত ভুমি ফলবতী হয়, সুতরাং আকাশ পুরুষ, ধরণী নারী।

বয়ে যাওয়া জলধারা, যার কোনো শাখা নদী নেই, কিংবা যার কোনো উপনদী নেই, বাংলাদেশে সেসব জলধারাকে নদ বলে, নদী সেগুলোই যাদের শাখাপ্রশাখা আছে,

যমুনা, মেঘনা, পদ্মা, করোতোয়া, সবই নদী, কারণ এদের ভাটির কোথাও না কোথাও এরা একটা দুটো শাখা ছড়িয়েছে, আত্রাই থেকে উৎপন্ন হয়েও কোনো শাখা নদী তৈরি করে নি, তাই পূনর্ভবা নদ, ব্রহ্মপূত্রেরও কোনো শাখা নদী নেই, কপোতাক্ষ কিংবা আড়িয়াল খাঁ শুধু কোনো জায়গায় একটা জলের শাখা ছড়াতে পারে নি বলেই আজীবন নদ রয়ে গেলো।

আমাদের নিজেদের ভেতরেও এই ফলবন্ত হয়ে উঠবার প্রতি একটি মোহ কাজ করছে, সামাজিক পুরুষাকার এভাবেই চিহ্নিত হয়েছে। পূজ্য নারী নগরভিত্তিক সভ্যতা শুরুর পর থেকেই সমাজের কতৃত্ব হারিয়েছে ধীরে ধীরে, নগর সভ্যতা এবং সেমেটিক ধর্মের আগমনে নারী হয়েছে অবগুণ্ঠনবাসীনি। তাদের চাষ আর পশুপালনের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ এখানেও তাদের উর্বরতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সে সময়ে নারীর যৌনতার অবাধ স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করবার প্রয়াসেই সেমেটিক ধর্মে নারীকে পাপের আকর বলা হয়েছে। এমনটাই নারীবাদি নৃবিজ্ঞানীদের অভিমত ছিলো।

ইভ, তার যৌনতা এবং লোভের জন্য স্বর্গ থেকে বহিস্কৃত একজন, নারীর শুদ্ধতা এবং উৎকর্ষতা শেষ পর্যন্ত তার যোনীর অভেদ্যতা। এই সামাজিক ধারণারও জন্ম হয়েছে এই ধর্মগুলোর অবাধ প্রসারে।

প্রতিটা সমাজ নিজের মতো করে যৌনতাকে নিয়ন্ত্রন করতে চেয়েছে, চেয়েছে অর্থনীতি বিকাশ এবং সামাজিক স্থিরতা নির্মান করতে চেয়েছে যৌন সম্পর্কগুলোকে কোনো না কোনো নিয়মে বেধে।

গ্রীসে চল ছিলো, কোনো মেয়ে বিবাহযোগ্যা হলে তাকে পতিতাবৃত্তি করতে হতো, মন্দিরের বেদীতে গিয়ে বসে থাকতে হতো, যে কেউ সামান্য অর্থ দিয়ে তাকে ভোগ করবার পরে তার বিবাহের সুযোগ মিলতো। হেরোডেটাস নিজের ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন- সুন্দরী মেয়েদের তেমন সমস্যা হতো না, তারা অতি সহজেই মানুষের নজরে পরতো এবং পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারতো। তবে সমস্যা হলো অসুন্দরীদের। তারা বছরের পর বছর মন্দিরের চাতালে অপেক্ষা করতো, যদি কোনো দিন কোনো দয়াবানের করুণা হয় এবং তার সামনে পয়সা ছুড়ে দিয়ে তার সাথে সঙ্গমের আগ্রহ দেখায় তবেই তার জামাই জুটবে।

আমাজানের আদিবাসীরা প্রতি পূর্ণিমায় অবাধ যৌনাচারের সুযোগ রেখেছে, এ কারণেই সেখানে পুরুষে পুরুষে যৌনদ্বন্দ্ব নেই, ভারতের নগরগুলোতে প্রখ্যাত সুন্দরীদের মন্দিদের দেবদাসী করা হতো, তারা বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং অন্য সব কুলীনদের যৌনচাহিদা পুরণ করতো পয়সার বিনিময়ে।

ব্যাবিলনে কিংবা মিশরের উপরের অংশে, মন্দিরে সুন্দরীদের সেবাদাসী করে রাখবার প্রবনতা ছিলো। অর্থ্যাৎ সমাজের একটা অংশ, যারা সে সময়ে সমাজকে নিয়ন্ত্রন করতো, তাদের নিজেদের ভেতরে যৌনতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ার কোনো রকম আগ্রহ ছিলো, সুতরাং তারা ভবিষ্যতে সুন্দরী ও কাম্য হয়ে উঠতে পারে এমন রমনীদের দেবতা তথা সমাজপতিতের সবার ভোগের জন্যই উন্মুক্ত রাখতো। যেকেউ মন্দিরে গিয়ে তাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করবার সুযোগ পেতো না।

বিয়ের প্রথা যেমনই হোক না কেনো, সেটা আদতে একটা সামাজিক স্বীকৃতি, একজন নারী ও পুরুষের একত্রবাসের স্বীকৃতি, কনে পন দেওয়া কিংবা বরপন দিয়ে দুজন এই স্বীকৃতি আদায় করে নেয় সমাজ থেকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি উপজাতিতে নিয়ম হলো, তাদের বিবাহযোগ্যা নারীকে যখন কোনো পুরুষ পছন্দ করবে, তখন সেই মেয়েকে নিজের যোগ্যতা প্রমান করতে হবে সবার সামনে নেচে। তার নাচ দেখে যদি অন্য সবাই যৌনউত্তেজিত হয় তবেই সেই মেয়ের বিয়ের স্বীকৃতি মিলে, অর্থ্যাৎ যখন একজন নারী অন্য একজন পুরুষের সাথে একত্রবাস শুরু করবে, সেসময় থেকেই যৌন্যতার দ্বন্দ্বে যেনো সে পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে জড়িয়ে না পড়ে এটা নিয়ন্ত্রনের জন্যই গোত্রের সবাইকে এক করে তাদের সবাইকেই যৌনউত্তেজনা দেওয়ার প্রথা।

প্রথা অদ্ভুত হতে পারে, সময় সময় খুবই উৎকট এবং অশালীন মনে হতে পারে, কিন্তু সামাজিক স্থিরতা নিয়ে আসবার দীর্ঘমেয়াদী প্রয়াসে এইসব রীতিই সংস্কৃতি হিসেবে চর্চিত হচ্ছে। এবং খুব বেশী অগ্রসর না হলেও সেসব সভ্যতা গত ১০ হাজার বছর ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রেখেই টিকে আছে।

যৌনতার অন্য একটা ব্যবহার ছিলো যুদ্ধে, পুরুষের সুন্দরী নারীর প্রতি কামনাকে পূঁজি করে সম্রাট এবং সেনাপতিগণ একদা নারীদের গুপ্তচরের পেশায় নিয়োজিত করতো, তাদের কাজ ছিলো শত্রু শিবিরের গুরুত্বপূ্র্ণ মানুষদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে এইসব সংবাদ সেনাপতিকে জানানো। তারা একই সাথে গুপ্তঘাতকের কাজও করতো।

তারাশঙ্কর তার এক গল্পে এমনটাই জানিয়েছেন যে, আমরা যাদের বেদে-বেদেনী বলি তারাও আসলে কোনো এক সময় রাজার গুপ্তচর ছিলো, তাই বেদে-বেদেনীরা ছদ্মবেশ নিতে পটু, এটা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তারা সংস্কৃতি হিসেবে চর্চা করছে, তারা পতিতাবৃত্তিও করে প্রয়োজনে।

স্বামীর বয়স্ক সব আত্মীয়দের সাথে পর্যায়ক্রমে সঙ্গমলিপ্ত হওয়ার প্রথাও আছে কোথাও কোথাও। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়েই পুরোহিতদের যৌন চাহিদা পুরণের অনেক রকম পন্থাই আবিস্কৃত হয়েছে।

পুরোহিতদের কাজ সমাজে একটা শৃঙ্খলা নির্মান, তারা নিজেদের ধর্মীয় বয়ান কিংবা অভিজ্ঞতার আলোকে সমাজের বিভিন্ন ঝুট ঝামেলা নিয়ন্ত্রন করেন, তাদের ক্ষোভ প্রশমন করেন, এবং আবশ্যিক ভাবে এইসব পুরোহিতদের কামুকতা বেশী, সুতরাং তারা সকল সুন্দরী নারীদের ভোগ করতে আগ্রহী, রাজার কনয়া কিংবা চন্ডাল কন্যা কোনো বিভাজন নেই, পুরোহিতের সাথে সঙ্গম না করলে বিবাহ বৈধ হবে না। এমন রীতিও একটা সময়ে প্রচলিত ছিলো।

অনেক রকম যৌনসংস্কৃতি চর্চিত হয়েছে। সভ্যতার অগ্রগতির এবং প্রযুক্তির উন্নতির জন্য আমরা সেসবের কিছু অংশ জানছি। অনেক রীতিকেই আমাদের অতিরিক্ত জটিল সমাজের প্রেক্ষিতে এবং আমাদের চর্চিত সংস্কৃতির প্রভাবে রীতিমতো অভব্য এবং অসভ্য মনে হয়। অথচ আমাদের পরিপাটি সামাজিক বুননেও এইসব যৌনদ্বন্দ্ব সব সময় ক্রিয়াশীল।

আমাদের সভ্য মানুষদের বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে পরা কিংবা সামাজিক ভাবে অবৈধ সম্পর্ক চর্চা করা কিংবা সামাজিক ভাবে অনৈতিক বিবেচিত কর্মকান্ডে অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে উঠবার কারণটা মোটেও সামাজিক অবক্ষয় নয়, বরং আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ এবং চর্চিত সংস্কৃতি এই প্রথাকে কখনই দমন করতে পারে নি। মানুষের যৌনতার চাহিদাকে উপেক্ষা করে দানবের জন্ম দিয়েছে।

সেমেটিক ধর্ম নিজে নিজস্ব কিছু নিয়মের সৃষ্টি করেছিলো, নিজস্ব গোত্রের জন্য এই নিয়মগুলো হয়তো কার্যকরী ছিলো, কিন্তু একটা পর্যায়ে তারাই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো এবং তাদের সংস্কৃতি কিংবসা সংস্কার অন্য সব অধিকৃত দেশে ছড়িয়ে পড়লো।

ইসলাম সর্বশেষ ধর্ম একটা নির্দিষ্ট কাঠামো বেধে দিয়েছে, এর আগে কোনো সভ্যতায় এতটা স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো না। কাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন বৈধ হবে এবং কাদের সেটা স্থাপন করা অবৈধ হবে এটার বিস্তারিত সেখানে বলা আছে।

আমার অনেক আগে একটা প্রশ্ন জেগেছিলো মনে, সংকলিত হাদিসের অর্ধেকের বেশীই যৌনতা সম্পর্কিত, আরবের মানুষের কি অন্য কোনো কাজ ছিলো না?

এত দিন পরে নিজেই খুঁজে পেলাম সে উত্তর, আদতে মানুষ সভ্যতার শুরু থেকেই এই যৌনতা এবং যুদ্ধ দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, সুতরাং এটার গুরুত্ব তাদের কাছে অনেক বেশী। আর সেই গুরুত্বের প্রকাশ ঘটছে সাহাবীদের সাধারণ জিজ্ঞাসায়। তারা নিজেরাও প্রচলিত সংস্কৃতির সাথে নবউদ্ভাবিত ধর্মের সংস্কৃতিকে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিজেদের যৌনজীবন এবং যৌনতার চর্চা করতে চেয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28973288 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28973288 2009-07-04 02:14:22
টিপাইমুখ বাধ নির্মান প্রতিরোধ করতে পারবো না আমরা
যেকোনো সাধারণ অধ্যাদেশ ৩৫টি সদস্য দেশ সাক্ষর করলে আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে গণ্য হতে পারে, তবে যেসব নদী একাধিক দেশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তাদের উজান কিংবা ভাটিতে কোনো প্রস্তাবিত স্থাপনা, কিংবা তার অবাধ প্রবাহ স্থগিত করবার যেকোনো প্রস্তাবে অভিন্ন নদী ব্যবহারকারী দেশগুলোর সকলের সম্মতি লাগবে এমন অধ্যদেশটিতে ১৭টি দেশ সাক্ষর করেছে এবং আরও আশ্চর্য হলো এই সনদে ভারত কিংবা বাংলাদেশ কেউই সাক্ষর করে নি। সুতরাং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ব্যতীত এটা সুরাহা করা সম্ভব হবে না।

ভারত বাংলাদেশের এই প্রতিবাদ প্রতিরোধকে গণ্য করছে না, করবে না, গতকালের কুটনৈতিক শিষ্ঠাচারবহির্ভুত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতা একটা বড় ইস্যু, কিন্তু ভারতের নদীর উপরে বাধ নির্মান কিংবা জলবিদ্যুত উৎপাদনের প্রতিবাদ করাটা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পুরণের জন্য নয়, এমন বক্তব্য প্রদান করার অশিষ্ট আচরণ করবার পরেও সেখানে উপস্থিত সুশীলগণের কেউই এটার প্রতিবাদ করেন নি। এটা দুঃখজনক নয়, বরং আমাদের সুশীলগণ সব সময়ই মেধার দৈন্যতার ভুগেন, তারা তাৎক্ষণিক বিবৃতি রচনা করতে পারেন না, তারা স্পষ্ট বলতে পারেন না। বুদ্ধিজীবিতার অর্থনৈতিক দাসত্বে তাদের স্বাভাবিক প্রতিবাদস্পৃহাও নেই হয়ে গেছে।

ভারতের মিজোরামের রাজ্যসরকারকে চাপ দিচ্ছে টিপাইমুখ বাধ নির্মানে সহযোগিতা করবার জন্য। তারা অতিদ্রুতই সেখানে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাইছে। মনিপুরের স্থানীয় মানুষেরা এটার বিরোধিতা করছে।


জলপ্রবাহ স্থবির করে দিলে থমকে যাওয়া জল কোথায় যাবে? সেটা ছড়িয়ে যাবে নদীর দুধার দিয়ে, আশে পাশের বসতি ডুবে যাবে।

গণতন্ত্র সব সময়ই অধিকাংশ মানুষের সুবিধার জন্য গুটিকতক মানুষকে বলি করবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় , এবং অধিকাংশ সময়ই এই বলিদানের শিকার হয় সংখ্যালঘুগণ।

পাকিস্তান যখন কাপ্তাই জলবিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করলো কর্ণফুলী নদীতে বাধ দিয়ে, বর্তমানের কাপ্তাই লেকের সম্পূর্ণ অংশটাই তখন ছিলো উপজাতিদের বসতি, তাদের সংস্কৃতি, তাদের জীবিকা ও জীবন আমরা বাধের নীচে তলিয়ে দিয়েছি। কারণ গণতান্ত্রিক আধুনিক সমতলবাসীদের বিদ্যুত প্রয়োজন, এবং সংখ্যালঘুদের এটা মেনে নেওয়া উচিত।

একই ঘটনা ঘটেছে ভারতের নর্মদায়। সেখানেও নদীতে বাধ দিয়ে জলবিদ্যুত উৎপাদন করা হয়েছে এবং সেখানেও আক্রান্ত মূলত আদিবাসী কিংবা সংখ্যালঘু উপজাতিরা।

টিপাইমুখে বাধ নির্মিত হলে সেখানেও আক্রান্ত হবে স্থানীয় উপজাতিগণ। তারাই নিজেদের সংস্কৃতি এবং জীবন জীবিকার কারণেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করছে।

ইতিহাসে পূর্বেও যা ঘটেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না । নদীতে বাধ দিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন হবে, সেখানে জমে থালা জল দিয়ে আশেপাশের জমিতে সেচ দেওয়া হবে, এসব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হয়তো বাস্তবায়িত হবে।

সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে আশেপাশে, যতই সতর্কতা অবলম্বন করা হোক না কেনো সেটা স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করবে, এবং সেখানের কয়েকটি প্রাণী নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।


কয়েক হাজার কোটি জীব বৈচিত্রের কয়েকটা যদি পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যায় তবে প্রকৃতির তেমন বড় কোনো ক্ষতি হবে না। যদি ১ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যায় ১২০ কোটি মানুষের দেশে তেমন বড় কোনো ক্ষতি হবে না।

ভারত নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ভাষাগত বৈচিত্রের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সব সময়, মহান ভারতের সকল ভাষা ও জাতিগোষ্ঠির মানুষ সসম্মানে এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়েই বেঁচে আছে এবং মেরা ভারত মহাল গান গাইছে এমন রাজনৈতিক প্রচারণার পরেও ভারতে ১৯ থেকে ২১টি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে, ভারতের সেনাবাহিনী বিভিন্ন স্থানে এইসব আঞ্চলিক বিদ্রোহ ঠেকাতে ব্যস্ত, তারা সব সময়ই লড়াই করছে এইসব বিচ্ছিন্নতবাদীদের সাথে।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র যথাযথ ভাবে বিকশিত হচ্ছে না কিংবা বিভিন্ন জাতি নিজেদের উপেক্ষিত ভাবছে এই মহান ভারতে তাই তারা নিজস্ব স্বাধীকারের আন্দোলন করছে, সেটা দমনের প্রচেষ্টা সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ সামরিক উপায়েই করতে চাইছে।

সফল হচ্ছে সব সময়?

বৈষম্য রদ না করলে এই বৈষ্যমের বিরুদ্ধে সব সময়ই আন্দোলন চলবে, গুটিকতক নিষ্পেষিত মানুষ নিজস্ব প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। নর্মদা অনেক বেশী বিখ্যাত হয়েছে, মেধা পাটেকার এবং ভারতীয় চলচিত্রের নায়ক নায়িকার একাংশ এটার সাথে যুক্ত হওয়ায়, মনিপুরী উপজাতীদের সাথে সংহতি জানানোর জন্য এখনও তেমন বড় মাপের চলচিত্র তারকার উপস্থিতি নেই।

বাস্তবতা হলো, বহু জাতিগোষ্ঠির দেশ ভারতের গুটিকয় সংখ্যালঘু উপজাতিদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ভিন্নতা হুমকির মুখে, তারা এর প্রতিরোধ করবে।

এখানে পূর্ব থেকেই সেনামোতায়েন করা আছে। এই বাধ নির্মান ও রক্ষা করবার জন্য স্থানীয় সেনা টহল বাড়বে, আমরা কাপ্তাই রক্ষা করতে সেখানে সেনাবাহিনীর একটি প্লাটুন কিংবা ব্রিগেড সব সময়ই মোতায়েন করে রেখেছিলাম। তারা পাহাড়ী মেয়েদের লাঞ্ছিত করেছে, ধর্ষণ করেছে, লুণ্ঠন করেছে এবং গত ৩২ বছরে প্রায় ১০ হাজার পাহাড়ীকে খুন করেছে।

এসব কোনোটারই ক্ষমা আমরা বাঙালী হিসেবে চাই নি কখনই।

আমাদের নিজস্ব অবজ্ঞার বাস্তবতা থেকেই আমি নিশ্চিত, ভারতেও একই ঘটনা ঘটবে। আমরা আক্রান্ত হবো, সেখানে বাধ নির্মান হবে, যদিও পিনাক চক্রবর্তী নিশ্চয়তা দিচ্ছে সেখান থেকে পানি প্রত্যাহার করা হবে না, কিন্তু সেটাও বাস্তব সত্য নয়।

১৯৭৬ সালে ভারতের নদী কমিশন টিপাই মুখ সংক্রান্ত আলোচনা করেছিলো বাংলাদেশের সাথে। সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য কি আছে আমাদের কাছে?

এই আলোচনায় কি কি সিদ্ধান্ত হয়েছিলো সেটা কি আমরা জানি?

আমরা যতটুকু জানি, তার চেয়ে বেশী আমাদের অজ্ঞাত এবং ক্ষতির পরিমাণ যদিও প্রাক্কলিত ক্ষতির তুলনায় অনেক বেশী হবে, কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো আমাদের বোধ হয় পরাজয় মেনে বাস্তবতা স্বীকার করে নেওয়া উচিত-

আমরা টিপাইমুখ বাধ নির্মান প্রতিরোধ করতে পারবো না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28968071 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28968071 2009-06-22 19:56:03
অর্থমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনায় আমি লজ্জিত
২০১৩ সালে সরকারের রাজস্ব আয় ৫০০০ কোটি টাকা হবে- এমন একটা ভবিষ্যতবানীর প্রেক্ষিতে কি এমন নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা? কর্পোরেট সংস্থার চাপে যখন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ব্যবসায়ীদের সামনে নির্লজ্জের মতো ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তখন নাগরিক হিসেবে আমি অপমানিত বোধ করি।
আমার নিজের অভিমত মোবাইল যারা ব্যবহার করে তাদের সংখ্যা রাতারাতি এতটা বেড়ে যাবে না যে মোবাইল ফোন খাত থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব আয় হুট করেই ৪ বছরে ৫০০০ কোটি টাকা ছুঁবে।

১৪ই জুন বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংঘ ঘোষিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে যদি সরকার সিম এবং মোবাইল সেটের উপরে করের বোঝা না কমায়, তবে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৭% এর বেশী হবে না।

গ্রামীণ ফোনের নতুন সিইও বলেছেন যদি মোবাইলের সিম এবং সেটের উপরের ট্যাক্স কমানো হয় তবে সম্ভবত ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সরকারের এ বাবদে প্রাপ্ত করের পরিমাণ হবে ৫০০০ কোটি টাকা।

তাদের দাবী তারা যা উপার্জন করে তার ৫০ শতাংশই সরকারের বিভিন্ন মাপের কর হিসেবে তারা প্রদান করে থাকে।

অবকাঠামোগত খাতে এই মোবাইল অপারেটররা মোট ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

সূত্র Click This Link


বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৯ %। সেটা অবশ্য বৈশ্বিক বিবেচনায় অনেক কম, তবে জনসংখ্যার বিবেচনায় সেটা অনেক অনেক বেশী। আমাদের মোট জনসংখ্যা ১৫ কোটি, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ কোটির মতো "সিম" বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বিশ্বে মোবাইল প্রতি ১০০ জনে সর্বোচ্চ মোবাইল ব্যবহারকারী বাস করে তাইওয়ানে-
Click This Link

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ আসলে মোবাইল নিয়মিত ব্যবহার করবার অর্থনৈতিক সামর্থ্য রাখে? মূলত এক একজন স্বচ্ছল যুবক, যুবতী, এবং বাংলাদেশের সকল অপরাধীই একাধিক সিম ব্যবহার করে। মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যাটা এর অর্ধেক হলেও আমি আশ্বর্য হবো না। সম্ভবত বাংলাদেশের অধিকাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী অন্তত ৩টা সিমের মালিক। সুতরাং সহজ অনুমাণ হলো বাংলাদেশে আদতে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ মিলিয়নের আশেপাশে কিছু হবে।

গত এক বছরে কিংবা ৬ মাসে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক বেড়েছে মাত্র ৯ লক্ষ, তবে এ সংখ্যা নিয়েও আমার সংশয় আছে। বিশেষত বিভিন্ন প্রণোদনা ও লোভের খাতিরে অনেকেই নতুন সিম কিনেছেন এ বছর। বিভিন্ন অফারের ভারে ভারাক্রান্ত মোবাইল ফোন খাতের ব্যবহারকারীগণ।

বাংলাদেশের মোবাইল ফোনগ্রাহকদের অধিকাংশই একাধিক সিম ব্যবহার করেন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো বন্ধ থাকা সিম চালু করলেই বিভিন্ন মাপের অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের অঙ্গীকার। সেটা ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত বিভিন্ন মাপের অর্থনৈতিক সুবিধা।

বাংলাদেশের মানুষ কথা ২০১৩ সালে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার মূল্যবান কথা বলে ফেলবে এমনটা আমার নিজের বিশ্বাস হয় না। এ খাতের প্রবৃদ্ধি কিংবা ব্যবহারকারীর সংখ্যাবৃদ্ধির হার হয়তো ১ থেকে ২ শতাংশই বাড়বে প্রতি বছর। আমাদের অর্থনৈতিক দৈন্যতা এমনই।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা মানুষগুলোর মোবাইল সেট কিনবার কোনো ক্ষমতাই নেই। এদের নিজেদের বছরের খোরাকী জুটে না। তারা মোবাইলের মতো বিলাসদ্রব্য ব্যবহার করতে অক্ষম। আমাদের বাৎসরিক মাথাপিছু আয় এখনও সে মাপে পৌঁছায় নি যে অনেক রকম ইনসেনটিভ দিলে সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবে। যেটা যত রকম বিজ্ঞাপনী প্রলোভন এবং চটক দেখিয়েই বিপনন করা হোক না কেনো।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28967280 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28967280 2009-06-21 00:16:17
বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো
এর আগে বিডিআর বিদ্রোহের সময় উত্তেজিত সেনাকর্মকর্তারা যখন শেখ হাসিনাকে জোরপূর্বক ক্যান্টনমেন্টে যেতে বাধ্য করে এবং সেখানে রুদ্ধদ্বার বৈঠক কিংবা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে হাহাকার বাইরে চলে আসে তখন সেনাবাহিনীর নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিলো।

মোবাইলে ধারণ করা এসব রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সংবাদ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া যে তাদের বজ্রআঁটুনি ফোস্কা গেরোর প্রভাব এটা বুঝবার মতো ক্ষমতা সম্ভবত হাঁটুতে বুদ্ধি নিয়ে চলা সেনাবাহিনীর নেই।

তারাই নিজস্ব উদ্যোগে শেখ সেলিম, জলিল এবং বাবরের জবানবন্দী নীলক্ষেত এবং অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছিলো। যদিও সে জবানবন্দী ছড়িয়ে দেওয়ার নৈতিক এবং আইনী অধিকার তাদের আছে কি না এটা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করাই যায়, কিন্তু সেটার তদন্ত হয় নি, এমন কি অভিযুক্ত কে কিংবা কারা সেটাও নির্ধারণ করা যায় নি।

যদি যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রের অত্যুৎসাহী কোনো কর্মকর্তা নিজস্ব উৎসাহে এটার প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব গ্রহন করেন তবে সে সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে নিযুক্ত সকল ব্যক্তিকেই ন্যুনতম শাস্তি প্রদান করা উচিত।

বর্তমানে একই ভাবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে বিডিআরদের জবানবন্দী। জবানবন্দীতে সাক্ষর করবার পরে পুনরায় জবানবন্দী রেকর্ড করা এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে আমার। তবে আশ্চর্য হয়েছি এই চক্রের বেআইনী কার্যকলাপ দেখে। জিজ্ঞাসাবাদ এবং এ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যদি সবার জন্য উন্মুক্তই হয় তবে তাদের আলাদা করে নির্যাতনের প্রয়োজন কি, সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক এই জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র, সাংবাদিকরা দেখুক, উপভোগ করুক এবং অবিকল জবানবন্দী ছাপিয়ে দিক সংবাদপত্রে।

আর যদি জিজ্ঞাসাবাদ সেলের লক্ষ্য এটা না হয়, তারা যদি গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপনীয় তথ্য গোপন রাখতে চান এবং তদন্তের তথাকথিত অগ্রগতি তদন্তের স্বার্থে কাউকে জানাতে না চান, তবে যে ব্যক্তি নিজে উদ্যোগি হয়ে এ কাজ করেছে তাকে শনাক্ত করা হোক। তার শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

এটার পেছনের রাজনীতি কি? এটা কোন লক্ষ্যে করা হয়েছে? শেখ সেলিম, জলিল আর বাবরের সাক্ষাৎকার প্রকাশের লক্ষ্য ছিলো বিশেষত রাজনীতিবিদদের নগ্ন করে তাদের দুর্নীতি এবং কলুষতা সবার সামনে তুলে ধরে বিরাজনীতিকরণের উদ্যোগে জনসমর্থন তৈরি করা, এবার লক্ষ্যটা কি?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28964190 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28964190 2009-06-13 21:45:28
পৃথিবী সৃষ্টির আগে এবং ধ্বংসের পরে ইশ্বর কি করবেন? আকাশ ও পৃথিবী আর ওদের মাঝে কোনোকিছুই আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নি। সুরা আম্বিয়া আয়াত ১৬ অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশ ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল? তারপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম।তবুও কি ওরা বিশ্বাস করবে না? সুরা আম্বিয়া আয়াত ৩০ আর আমি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত সৃষ্টি করেছি যাতে পৃথিবী ওদেরকে নিয়ে এদিকে কিংবা ওদিকে ঢলে না যায়, আর আমি ওর মধ্য প্রশস্ত পথ করে দিয়েছি যাতে ওরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে। সুরা আম্বিয়া আয়াত ৩১ আর আমি আকাশকে করেছি এক সুরক্ষিত ছাদ, তবু ওরা তার নিদর্শনসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে সুরা আম্বিয়া আয়াত ৩২
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলবো যেভাবে লিখিত কাগজ গুটানো হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেটাবে আমি পুনরায় সৃষ্টি করব। প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এ পালন করবই। সুরা আম্বিয়া ১০৪

সৃষ্টি এবং প্রলয়ে সম্পর্কিত এই সূরা পড়ে বিমলানন্দ উপভোগ করি আমি সময় সময়। অনেক আগে একজন প্রশ্ন করেছিলো, মহাবিশ্ব যখন সৃষ্টি হয় নি তখন ইশ্বর কি করতেন? বিজ্ঞানের কল্যানে এখন অন্তত সে প্রশ্নের উত্তর আংশিক দেওয়া যেতে পারে। পৃথিবী সৃষ্টির আগে ইশ্বর কি কি করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এটা লেখা। যেভাবে অপপ্রচার এবং অপবিজ্ঞানে স্বাভাবিক চিন্তাধারার মানুষের নিজস্ব যুক্তিবোধ ওলোট পালোট হয়ে যাচ্ছে তাতে এই লেখাটা সামান্য স্থিরতা আনতে পারলেই আমি আনন্দিত হবো।

সৃষ্টিকর্তা কোরানে বলেছেন তিনি নিছক কৌতুক করবার জন্য এই পৃথিবীর সৃষ্টি করেন নি, পৃথিবীর জন্ম প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ জানা না গেলেও কিছুটা অনুমাণ করা যায়। পৃথিবী কোনো এক সুপার নোভার ধ্বংসাবশেষ কিংবা পৃথিবীর অতি নিকটে কোনো একটি সুপার নোভা বিস্ফোরিত হয়েছিলো সুদুর অতীতে।

আমাদের পৃথিবী এবং আমাদের সূর্যের বয়েসের তেমন তফাত না থাকায় আমরা ধরে নিতে পারি আমাদের পৃথিবী এবং সূর্য্য সমসাময়িক সময়েই সৃষ্টি হয়েছে। এবং অনুমাণ বলছে আমাদের সৌরমন্ডলের কাছাকাছি একটি সুপারনোভা ছিলো।

নক্ষত্রের নির্দিষ্ট একটি আকার আছে, তার পারমাণবিক জ্বালানি আত্তীকরণের হার নির্ভর করে তার আকৃতির উপরে, সুপারনোভা আমাদের সূর্যের তুলনায় অন্তত ২০ থেকে ৫০ গুণ কিংবা তারও বেশী ভরের হতে হবে। সূর্য্যের বর্তমানের আকৃতি থেকে অনুমাণ করা যায় এটা পূড়ে নিঃশেষ হতে কিংবা শ্বেত কিংবা লাল বামন[ হোয়াইট কিংবা রেড ডোয়ার্ফ] হতে আরও অন্তত ৫০০ কোটি বছর লাগবে। কিন্তু একটা সুপারনোভা তার ভরের উপর নির্ভর করে কয়েক মিলিয়ন থেকে কয়েক শো মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। সুতরাং মহাবিশ্ব যখনই তৈরী হোক, সেখান থেকে একটা নক্ষত্র তৈরী হওয়া এবং সে নক্ষত্র সুপার নোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হওয়া পর্যন্ত ইশ্বরকে অন্তত অনেকটা সময় বেকার বসে থাকতে হয়েছিলো।

পৃথিবী এবং সূর্য্য যে সুপার নোভার অবশেষ, সেটার বিস্ফোরণ ঘটানোও ইশ্বরের কাজ নয়। সুপার নোভা বিস্ফোরিত হয় নিজস্ব মহাকর্ষীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় চাপে। মহাকর্ষের কারণে সংকুচিত হয় নক্ষত্র, এবং শ্বেত কিংবা লাল বামন হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে লোহা পর্যন্ত মৌল সৃষ্টি হতে পারে। এটা বৈজ্ঞানিক বিধি, পৃথিবীতে যে পরিমাণ সীসা পাওয়া যায়, যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম এখনও অবশিষ্ট। সে পরিমাণ সোনা আমরা পাচ্ছি মাটি খুঁড়ে, এসবই সৃষ্টি হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে। অর্থ্যাৎ একবার শ্বেত বামন হওয়ার পরে পুনরায় পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয় এবং লোহার উপরের মৌলগুলো তৈরি হওয়া শুরু হয় সে বিক্রিয়ায়।

এরপরে বিস্ফোরিত হয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে।

কিন্তু প্রথম সমস্যা হলো আকাশ বলে কিছু নেই আমাদের। পৃথিবীর উপর নেই নীচ নেই, ডান নেই, বাম নেই, পৃথিবীর চারপাশে মহাকর্ষের করণে আটকে থাকা বায়ুমন্ডলে প্রতিসরণ এবং প্রতিফলনের খেলায় আমরা আকশ নামক জিনিষটা দেখি। ইশ্বর কি সময় নিয়ে বায়ুমন্ডল তৈরি করেছেন?

আয়াত ৩০এ এসে মনে হয় তারা আলাদা কিছু নয়, বরং পৃথিবী তৈরীর প্রক্রিয়াতেই বরং এদের বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অতীতের ব্যাখ্যা মেনে ধরে নিলাম সকল বস্তু হট বিগ ব্যাং হিসেবে একই অবস্থানে ছিলো, কিন্তু সেটা বিস্ফোরিত হয়ে, প্রসারিত হয়ে, ঠান্ডা হয়ে, এত সুপারনোভা তৈরী হলো, সেসব সুপারনোভার সবগুলোই সমান রকম সম্ভবনা রাখে জীবন সৃষ্টির সম্ভবনা সকল ক্ষেত্রেই সমান। সবগুলো নির্মাণই কি ইশ্বরের অভিপ্রায় ছিলো?

তবে কোরাণ যেহেতু বিশেষত মানুষের কলয়ানে নাজেল হয়েছে সুতরাং আমাদের এই পৃথিবী নির্মাণে ইশ্বরের কারসাজি নিশ্চিত ভাবেই আছে। সুতরাং কোরাণ অনুসারে আমাদের সৃষ্টি এবং পৃথিবী সৃষ্টির জন্যই এত আয়োজন। কিন্তু পৃথিবীকে নিজস্ব কক্ষপতচ্যুত হওয়া থেকে পাহাড় পর্বত বিরত রাখে না। বরং বাস্তবতা হলো আমরা প্রতি মুহূর্তেই সূর্য্যের নিকটবর্তী হচ্ছি, আমাদের নিজস্ব পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তা মোটেও স্থির নেই। যেমনটা সুরা আম্বিয়া আমাদের জানাতে চাইছে, সে রকম স্থিরতা নেই। আমরা সর্পিলাকারে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য্যের পেটে চলে যাচ্ছি প্রতি নিয়ত, সূর্য্যের জ্বালানি হওয়ার সম্ভবনা তৈরী হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।

সেটাই বোধ হয় ১০৪ নম্বর আয়াতে বিবৃত হয়েছে। কিন্তু সেটাও সত্য নয় আদতে, ১০৪ নম্বর আয়াত এই ধারাবাহিকতার কিছু নয়, সূর্য্য একদা জ্বালানী নিঃশেষিত হয়ে লাল বামনে পরিণত হবে এবং অনন্তকাল এভাবেই জ্বলতে থাকবে। সেটা ঘটবার সম্ভবনা ৫০০ কোটি বছর পরে।

এরপরে যদি কখনও বিগক্রাঞ্চ হয় তখন হয়তো নতুন করে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হবে, কিন্তু সূর্য্য পুনরায় সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়ে নতুন পৃথিবীর সৃষ্টি করবে না।
যেভাবে পৃথিবীর জন্ম হয়েছিলো একদা, সূর্য্য মৃত হলে সেভাবে পুনরায় পৃথিবীর জন্ম হবে না। এবং এই সূর্য্য বিস্ফোরিত হওয়ার তুলনায় স্ফীত হবে এবং সেখানে নিশ্চিত ভাবেই সোনা এবং রুপা তৈরি হবে না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28963843 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28963843 2009-06-13 00:36:58
ইশ্বর বিশ্বাসী মানুষের বিশ্বাস- কল্পনা- আহমেদ শরীফ চমৎকার একটা বক্তব্য লিখেছেন-হোমোসেপিয়েনসগণের মানুষরূপ প্রাপ্তিকাল থেকে ১৫০০ খ্রীষ্টাব্দ অবধি মোটামুটি ছিলো বিস্ময়ের, কল্পনার, বিশ্বাসের, সংস্কারের ধারণার, আন্দাজের, অনুমাণের, ভয়ের ভরসার অবলম্বন অদৃশ্য অরি-মিত্র দৈবশক্তির। একালে প্যাগান আচার-আচরণ, পালা-পার্বন, প্রচারিত এবং প্রচলিত অপৌরুষেয় বিধি-নিষেধ রূপ শাস্ত্র এবং অলৌকিক, লৌকিক ও অলীক ভাব-চিন্তা-কর্ম- আচরণ ছিলো অজ্ঞতাপ্রসুন।

তবে অজ্ঞতার তুলনায় বর্তমানে ব্যপক হারে চলছে তথ্যের অপপ্রয়োগ। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও তত্ত্বকে বিকৃত করে ধর্মীয় মজমা জমানোর প্রচেষ্টা চলছে বিশ্বজুড়ে। সেটা বিভিন্ন ভাবে বিজ্ঞানকে নাকচ করবার প্রচেষ্টার মাধ্যমেই প্রকাশিত হচ্ছে। ইশ্বরের উপস্থিতি এবং কর্মকান্ডকে বৈধতা দিতে সাম্ভাব্যতা তত্ত্বকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অপবিজ্ঞান সাময়িকী হয়ে গেছে ধর্মীয় বিধানকে প্রকাশ করা ও প্রচার করা নানাবিধ ধর্মীয় ওয়েব সাইট।

সেসব কথার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যেমনই হোক না কেনো, যাচাই না করেই সেসব আত্মস্যাৎ করে ইশ্বরের যোদ্ধারা নিয়মিত অসি এবং মসি চালনা করছে।

বিজ্ঞান উপভোগ্য এবং আকর্ষণীয়। আমার বিজ্ঞানের প্রতি মুগ্ধতা প্রতিনিয়তই বাড়ে। বৃহৎ পরিসরে কিংবা অতিক্ষুদ্র পরিসরে বিজ্ঞান যেভাবে কার্যকারণ খুঁজে বের করে বোধগম্য একটা বিশ্লেষণীকাঠামো তৈরী করেছে সেটা আমাকে চমৎকৃত করে, তবে সেখানে আমি ইশ্বর , ভগবান কিংবা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও নজির খুঁজে পাই না। এমন কি সেখানে আমি তাদের কোনো প্রভাবও খুঁজে পাই না।

মূলত বস্তুজগতের নিয়ম মেনে চলে বস্তুকণা, তাদের ঐশী অনুপ্রেরণা নেই, ঐশী ওহী মোতাবেক তারা নিজেদের কাঠামো নির্মান করে না কিংবা সেটা সাজাতে যায় না। সেখানে মূল বিবেচ্য সব সময়ই শক্তির সর্বনিম্ন ব্যবহার। অর্থ্যাৎ যে পথে গেলে সবচেয়ে কম শক্তি ক্ষয় হবে, বস্তুকণাগুলো সে পথই খুঁজে নেয়। আলোর কণিকা যখন স্বচ্ছ- অর্ধস্বচ্ছ মাধ্যমের ভেতর দিয়ে যায় তখনও এইসব বোধশক্তিহীন কণিকা কোনো ঐশী অনুপ্রেরণাব্যতীতই সংক্ষিপ্ত পথ বেছে নেয়।

যখন বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে, সান্দ্রতার গুণে সেই বৃষ্টিকণা নিজেই গোলাকৃতি গ্রহন করেন। কারণ এভাবেই সম্ভব নিজের শক্তিসঞ্চয় করা। মিনিমাম এনার্জি কনফিগারেশন সব সময়ের জন্যই সত্য।

বস্তুজগতের কণিকাগুলোকে নিয়েই তৈরী জৈবজগত। রুহানী কোনো বিষয়াদি সেখানে নেই, তবে অতিক্ষুদ্র পরিসরে বস্তুকণাগুলো বৃহৎ পরিসরের বস্তুকণার মতো সংঘবদ্ধ আচরণ করলেও তাদের একক ব্যবহার অনেক সময়ই যাদৃচ্ছিক মনে হয়। সামান্য উত্তেজনা কিংবা শক্তিতেই তাদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়। এবং যেহেতু একক বস্তুকণা এত বেশী ক্ষুদ্র যে সামান্য পরিবেশের পরিবর্তনেও তাদের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়, তাই তাদের অবস্থান সঠিক ভাবে নির্ণয় না করে আমরা পরিসংখ্যান ও সাম্ভাব্যতাকে যাচাই করে তাদের আপাতঅবস্থানকে নির্দিষ্ট করবার চেষ্টা করি।

যদিও অণু-পরমাণুগুলো নিজস্ব ক্ষুদ্রতার কারণেই অনেক বেশী বিচলিত আচরণ করে কিন্তু ঠিক সে সময়েও তারা পদার্থবিজ্ঞানের বিধি মেনেই চলে। পারস্পরিক আকর্ষণ-বিকর্ষণ,সাম্যতা, নিত্যতার সূত্রগুলো মেনে চলে সকল বস্তুকণাই।

আমাদের অতিপরিচিত বস্তুজগতে আমরা যা অনুভব করি, তা মূলত তড়িৎচুম্বকীয় বল, আমাদের হাঁটা-চলা, অনুভবএবং উত্তেজনা সবই নিয়ন্ত্রন করে এই তড়িৎচুম্বকীয় বল। একটা চার্জবাহী কণিকার উপস্তিতি তার চারপাশে কতদুর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে? পদার্থ বিজ্ঞান বলছে সেটা অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত, কিন্তু কার্যত অতিক্ষুদ্র চার্জের প্রভাব বলয় তার চারপাশের সীমিত স্থান। হয়তো সেটা আমাদের প্রচলিত মাপের সীমায় অতিক্ষুদ্র কিন্তু সে চার্জের আকৃতির তুলনায় অনেক বড় বলেই আমরা ধরে নিচ্ছি তাদের প্রভাব অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত।

যদিও ইলেক্ট্রনের আকার নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ধারণা বিজ্ঞানীদের নেই, তবে সেটা ফেমটোমিটারের কম- অর্থ্যাৎ এক সেন্টিমিটারের কোটি ভাগের কোটিভাগ। তাদের প্রভাব হয়তো পিকোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থ্যাৎ তার নিজস্ব আকৃতির ১০০০ গুণ বেশী দুরত্ব পর্যন্ত তার প্রভাব আমরা অনুভব করতে পারি।

এই প্রভাব এবং আশেপাশের বস্তুর উপস্থিতি জৈব যৌগের আচরণ নির্ধারণ করে থাকে। গাণিতিক ভাবে সকল কিছুই ব্যখ্যা করা সম্ভব, তবে চলকের সংখ্যা অনেক বেশী হয়ে যাওয়াও গণনা হয়তো দুরহ হবে, আমাদের অনেক বেশী চলককে ধ্রুব ধরে নিতে হবে, এবং গবেষণার খাতিরেই আমাদের সব সময়ই বেছে নিতে হয়, কোন কোন চলকের প্রভাব ন্যুনতম।

তবে সব সময়ই যেটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে সেটা আশে পাশে অন্যান্য চার্জের উপস্থিতি। আমরা পানিকে সাধারণত অপরিবাহী জ্ঞান করি, অর্থ্যাৎ যদি কোনো দুষণ না থাকে তবে পানি সাধারণত বিদ্যুত পরিবহন করে না। অর্থ্যাৎ পানিতে মুক্ত চার্জ নেই, কিন্তু পানির ভেতরে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি অক্সিজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় এবং তাদের নির্দিষ্ট একটি ব্যবধান রাখতেই হয় পরস্পরের ভেতরে। অর্থ্যাৎ হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন সংযুক্ত হয়ে পরস্পরের সাথে একটা নিরাপদ গ্রহনযোগ্য দুরত্ব বজায় রাখে, এবং এ জন্যই অক্সিজেন পরমাণুর বাইরের খোলসের ৬টি ইলেকট্রন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর বাইরের খোলসের একমাত্র ইলেক্ট্রন, এবং তাদের আপাত অবস্থানের কারণে পানির অণুর চারপাশে ক্রিয়াশীল তড়িৎক্ষেত্র বিদ্যমান।

সেখানে ইলেক্ট্রন কিংবা চার্জঘন জায়গা এবং চার্জবিহীন জায়গা থাকায়, অন্য যেকোনো চার্জের উপস্থিতিতে তারা সাড়া দেয়, এবং তাদের ইলেক্ট্রনিক কনফিগারেশন বদলায়। এ জন্যই আমরা হাইড্রোফোবিক এবং হাইড্রোফিলিক অণু পাই প্রকৃতিতে।

এতসব বলবার কোনো প্রয়োজনই ছিলো না, যদি না মোদ্দা কথায় ফেরত আসি। জৈবযৌগ বিশিষ্ট এখানেই যে তারা নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে পারে উপযুক্ত অনুকুল পরিবেশে। এবং পুনরূৎপাদন প্রক্রিয়াটা সম্পাদন হচ্ছে নিয়মিতই, উপযুক্ত পুষ্টি এবং রাসায়নিকের উপস্থিতিতে চমৎকার পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়াকে কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের মাহত্ব্য হিসেবে প্রচারিত করছে।

যেকোনো একটি বিক্রিয়ায় যদি কোনো মিথাইল এলকোহলের অনু নিজেকে পরিবর্তিত করতে পারে, তবে সেই একই পরিবশে সকল এলকোহল অণুই নিজেকে পরিবর্তিত করবে। সেটা তার চেইনে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা যত বেশীই হোক না কেনো তারা কিছু সাধারণ বৈশিষ্ঠ্য মেনেই বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে। সেটা তাদের চেইনের শেষ মূলকের উপরে নির্ভরশীল।

আমরা ডিএনএ নিয়ে এত আলোচনা করি, জেনেটিক্সের মূল কিংবা মোদ্দা কথাই হলো বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় কিভাবে এই দিএনএ চেইনের অণুর স্বজ্জা কার্যকর থাকে, তারা কিভাবে প্রোটিন এবং শক্তি উৎপাদন করে? এটা কে ঐশী অনুপ্রেরণা না কি স্বাভাবিক কোনো বিষয়?

যদি উপযুক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি না থাকে তবে অলৌকিক ভাবে কোনো প্রোটিন উৎপাদিত হবে না, আপনার শরীরে গরুর প্রোটিনের অংশ পাওয়া যাবে না কখনই যদি আপনি শাকাহারী হন। যদিও আপনি মাংশাসী তবুও বাঘের শরীরে পরিচায়ক প্রোটিন আপনার শরীরে উপস্থিত থাকবে না, যদি আপনি বাঘ মেরে খেয়ে ফেলেন তবে বাঘের প্রোটিণ আপনার শরীরে পাওয়া যাবে, অনথ্যায় আপনি যতই খাওয়া দাওয়া করেন, আপনার শরীরে বাঘের প্রোটিন উৎপাদিত হবে না।

প্রতিটা প্রাণীই নিজস্বতা পরিচায়ক কিছু প্রোটিন উৎপাদন করে, এবং সেটা সব সময়ই তার পুষ্টির উপরে নির্ভর করে। আমি যা খাই আদতে আমি তাই।

ম্যান ইজ হোয়াট হি ইট।

বিবর্তন কিভাবে এই বিষয়টাকে প্রভাবিত করে, যদিও ৯৫ শতাংশ জেনেটিক প্রোফাইল মিলছে, যদিও বলা হচ্ছে আজ থেকে ন্যুনতম ১ থেকে ২ লক্ষ বছর আগে মানুষে বাঁদরে তেমন তফাত ছিলো না, প্রকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষ এবং বাঁদর আলাদা দুটি প্রাণীতে রুপান্তরিত হয়েছে। সে রুপান্তরপ্রক্রিয়াটি একমুখী কেনো এটা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে? একটা জীব বিবর্তিত হয়ে নতুন প্রজাতিতে পরিণত হলে সে কেনো পুনরায় পূর্বের প্রজাতিতে ফেরত যায় না, বিবর্তন কেনো এখমুখী এসব নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, কিন্তু বিবর্তনের বাস্তবতা এড়ানো যায় না।

বরং এখন বলা হচ্ছে বিবর্তন একমুখী হলেও সেটা শুরু করবার জন্য কোনো ঐশী অনুপ্রেরণার প্রয়োজন ছিলো। তবে দুঃখের সংবাদ হলো বিশ্বে বিরাজমান প্রাকৃতিক নিয়মাবলী ও শৃঙ্খলা পাল্টে দেওয়ার স্বাধীনতা ইশ্বরের নেই। এমন কি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময়ও ইশ্বরকে পদার্থবিজ্ঞানের বিধি মেনই চলতে হয়েছে। এই বর্তমানের পৃথিবীতে এমন কি একটা অতিক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু যা খুব সহজেই বিচলিত হয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তাকেও সামান্য বিচলিত করবার ক্ষমতা নেই সর্বশক্তিমান ইশ্বরের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28963694 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28963694 2009-06-12 17:12:30
ম্যানেজার চন্ডাল না হলে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান ইতিহাসে কোনো সময়ই লাভজনক বিনিয়োগ ছিলো না।
আজ থেকে ৩০০ বছর আগে আয়ারল্যান্ডের অধিবাসীদের সঙ্গী ছিলো ক্ষুধা, দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ, এবং সে সময়ে আয়ারল্যান্ডের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের বার্যিক আয়ের পরিমাণ ছিলো সে সময়ের অর্থে মাত্র ৪.৩ পাউন্ড, অবশ্য লন্ডনের রাস্তায় সে সময়ে কাজের ছেলে পাওয়া যেতো সপ্তাহে ৫ শিলিং-এ, মানে বছরে ২ পাউন্ড কিংবা তার সামান্য একটু বেশী অর্থ দিলে সারা বছরের জন্য একটা কাজের ছেলে রাখা যেতো।

সে সময়েই জোনাথন সুইফট কোনো কিছুর প্রত্যাশা না করে তার উপার্জিত অর্থের একাংশ ক্ষুদ্রঋণ হিসেবে ডাবলিনের দরিদ্রদের প্রদান করেছেন। সেই ঋণ এবং তার প্রভাবে দরিদ্রের বদলে যাওয়া জীবন আয়ারল্যান্ডে ক্ষুদ্র ঋণের জোয়ার তৈরি করলো।

১৮৩৭ সালে " লোন ফান্ড বোর্ড" গঠিত হয়। এবং ১৮৪৩ সালে এই বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ছিলো প্রায় ৩০০, যারা আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণ সেবা প্রদান করতো। সরকর নির্ধারিত আইনে একজনকে ১০ পাউন্ডের বেশী ঋণ প্রদান করা যেতো না। ২০ সপ্তাহের ভেতরেই এই অর্থ প্রদান করতে হতো এবং বার্যিক সুদের হার ছিলো ৮.৮ শতাংশ। আধুনিক গ্রামীণ ব্যংক ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের সকল বিধিবিধান তখনও কার্যকর ছিলো।

তারা ঋণের কিস্তি প্রদানে ব্যর্থ হলে জরিমানা আদায় করতো, তবে ঋণগ্রহীতারা অধিকাংশই ছিলো দরিদ্র কৃষক, যারা নিজের জমিতে চাষ করতো, কিংবা পশুপালন করতো, কিংবা এমন কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় যেখানে নগরায়ন হয় নি প্রবল ভাবে, সেখানে অর্থনীতির চাকা যেভাবে চলে, সেসবের সাথেই সংযুক্ত ছিলো। ঋণগ্রহীতাদের ২০ শতাংশ ছিলো নারী।

এমন দারিদ্রতায় আধুনিক মানুষ যা করে, আয়ারল্যান্ডের দরিদ্ররাও তাই করার চেষ্টা করতো, আয়ারল্যান্ডের সাংবাৎসরিক দুর্ভিক্ষে মরে ফৌত হয়ে যাওয়া এবং বিদেশে চলে যাওয়া, নিরন্ন মানুষ না খেয়ে মরতে পারে, ঋণের কিস্তি শোধে ব্যর্থ হলে পরিবার পরিজন পেছনে ফেলে পালাতে পারে, যেমন পালায় মঙ্গাআক্রান্ত চরের মানুষেরা। বৌ-বিটি- ভাঙা চালা পেছনে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রধান বিনোদন সঙ্গম এবং জন্মনিয়ন্ত্রনের কোনো পদ্ধতি জানা না থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির সংখ্যা গুনিতক হারে বাড়তে থাকে, আয়ারল্যান্ডেও সে সময়ে জনসংখ্যা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করলো, এবং এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, মূল খাদ্য আলু এবং সে আলু কোথাও সঞ্চয় করা যায় না, খেয়ে ফেলতে হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয় যে এটাকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া যাবে, সুতরাং অধিকাংশ গ্রামবাসীই দরিদ্র, যাদের জমি আছে তারাও বছরের খোরাকি জোগার করতে পারে না, আর যারা ভুমিহীন তারা অন্যের জমিতে বর্গা দিয়ে যা পায়, তা দিয়ে কোনো মতে পেটে পিঠ আলাদা করে বাচতে পারে,

এইসব জমিদার কিংবা সামন্ত প্রভুরা সবাই জৌলুসপূর্ন লন্ডন শহরে নিজের বিত্ত বিলাসিতায় মগ্ন-


১৮৪৫ থেকে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে আলুর মড়ক চলেছিলো এবং এর প্রভাবেই সেখানে ৫ বছর মেয়াদী দুর্ভিক্ষের শুরু। ১৮৪৫ সালে যে আলুর মড়ক দেখা দিয়েছিলো তার পরের বছর উৎপাদন ব্যহত হলো, ১৮৪৭ সালে গড়পরতা উৎপাদন হলেও ১৮৪৮ সালে বীজ আলুর অভাবে অধিকাংশ চাষীই আলু উৎপাদন করতে পারলো না। তার পরের বছরও তেমন উৎপাদন হলো না শস্য, সুতরাং দুর্ভিক্ষই বাস্তব হয়ে দাঁড়াল তাদের জীবনে, সে সময়ে সরকার ত্রানের ব্যবস্থা করেছিলো, তবে সেটা খুব অল্প সংখ্যক মানুষের উপকারে এসেছে, ত্রান শিবির পূর্ণ হলেই ত্রানের খাদ্য বিতরণ শেষ, এরপরে যারা আসতো তাদের কোনো ত্রান দেওয়া হতো না।

ক্ষুধার তাড়নায় মানুষ পালাচ্ছে গ্রাম ছেড়ে, দেশ ছেড়ে-
৪ বছর দীর্ঘ একটি দুর্ভিক্ষে আয়ারল্যান্ডের ১৩ শতাংশ মানুষ মারা যায়, দেশ ও গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় ১২ শতাংশ মানুষ।

দুর্ভিক্ষ পূর্ব সময়ে যেখানে ৯৯ শতাংশ মানুষই গৃহীত ঋণ ফেরত দিতো, দুর্ভিক্ষের সময়ে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ ঋণের কিস্তি ফেরত দিতে পেরেছে, এবং মোট প্রদত্ত ঋণের ২৭ শতাংশই ছিলো অনাদায়ী কিংবা আদায়অযোগ্য দেনা।

মাত্র ৭ বছরে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থার প্রায় অর্ধেকই বন্ধ হয়ে যায়, তবে যারা সে সময়ের পরেও ক্ষুদ্রঋণ প্রদান অব্যহত রেখেছিলো, তাদের ঋণ প্রদানের পরিমাণ বাড়ে, এবং ঋণ আদায়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।

ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের অর্থের যোগান আসতো মূলত ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দাতব্যে, তারা বিনা সুদে দরিদ্রদের জন্য চার্চের তহবিলে অর্থ দিতেন, সে অর্থ চার্চের মাধ্যমে বিলিবন্টন হতো দরিদ্রদের ভেতরে, এবং এইসব দাতব্য ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলো সে সময়ের যাজকেরা, তাদের মানবহিতৈষী মনোভাব অবশ্য এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পগুলোকে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো। ফলাফল হলো চন্ডাল হয়ে গলায় পা দিয়ে অর্থ উপড়ে আনা না হলে অধিকাংশ ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পই ব্যর্থ হবে। যারা মানবতাবাদী এবং দরিদ্রদের সহানুভুতি দেখান, তারা ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প তত্ত্বাবধানের উপযুক্ত মানুষ নন, কারণ যেসব ক্ষুদ্ড় ঋণ প্রদানকারী সংস্থা এই ৫ বছর মেয়াদী দুর্ভিক্ষের পরেও কার্যকর ছিলো তাদের অধিকাংশই মূলত চন্ডাল প্রকৃতির তত্ত্বাবধায়কের জিম্মায় ছিলো।

ইতিহাসের উপসংহার এই-

যদিও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প শুরু করা হয় ও পরিচালনা করা হয় দরিদ্রের জীবনযাপনের মানউন্নোয়নের জন্য, তবে দরিদ্রের জীবনযাপনের মানউন্নয়ন এবং মানবাধিকার একই সাথে রক্ষা করা যম্ভব হয় না অধিকাংশ সময়ই, প্রতিষ্ঠান, পূঁজি এবং অর্থ আদায়ের কাজটাতে মানবিকতা রক্ষা করতে গেলে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশী। সফল ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প সব সময়ই চন্ডাল প্রকৃতির মানুষদের কারণেই লাভের মুখ দেখেছে।

যেখানে পূঁজি এবং লভ্যাংশের লোভ থাকে, সেখানে দরিদ্র শুধুমাত্র ক্ষেতের সরিষা, তাকে আদর করে গোলায় তোলা হয়, এবং চিপড়ে-নিংড়ে তার সবটুকু রস শুষে নিয়ে তাকে ছিবরে করে ফেলে দেওয়াই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

মূলত এটা Aidan Hollis এবং Arthur Sweetman এর Microfinance and Famine: The Irish Loan Funds during the Great Famine পড়ে লেখা।

বিস্তারিত তথ্য ও আলোচনার জন্য-


Boyle, Phelim, and Cormac Ó Gráda, 1986. “Fertility Trends, Excess Mortality, and the
Great Irish Famine.” Demography 23(4): 543-562.


Hollis, A., 2002. “Women and Microcredit in History: Gender in the Irish Loan Funds,”
in Gail Campbell, Beverly Lemire and Ruth Pearson, eds., Women and Credit:
Researching the Past, Refiguring the Future, Oxford: Berg Press, pp. 73-89.

Hollis, A. and A. Sweetman, 2001. “The Life-Cycle of a Microfinance Institution: An
Economic Analysis of the Irish Loan Funds,” Journal of Economic Behavior and
Organization 34(3): 291-311.



যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প শুরু করেছে ১৫ বছর আগে, তবে সেখানে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান সংস্থাগুলো ধাওয়া করে বাড়ী বাড়ী গিয়ে মানুষকে ঋণ নিয়ে জীবন পরিবর্তন করতে উদ্বুদ্ধ করে না। বরং তারা এটার ব্যপক প্রচার চালাচ্ছে টিভিতে, এবং অধিকাংশ ঋণের শর্তই ঋণগ্রহীতাকে অন্তত দায়িত্ববান নাগরিক হতে হবে, তাদের নিয়মিত অর্থের যোগান থাকতে হবে, এবং অবশ্যই একটা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকতে হবে। বাংলাদেশের সম্পূর্ন ব্যবস্থাটাই উল্টো, সেখানে একটি গ্রামের জন্য ২ থেকে ৩টি ব্যবসায়িক প্রকল্প বিদ্যমান। এবং এর বিপননের দায়িত্ব প্রায় সময়ই ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রহন করে না। সেখানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হয় এবং প্রতিটা কর্মীকেই তার প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে একটা বার্ষিক প্রতিদান দেওয়া হয়।

এবং প্রদত্ত ঋণ আদায়ের জন্য চন্ডালপ্রকৃতির কর্মী রাখা হয়, যারা তাগাদা দিয়ে, জোর জুলুম করে ঋণের কিস্তি আদায় করে।

যদিও এসব বাস্তবতার কিয়দংশ প্রকাশিত হয় দৈনিক পত্রিকায়, তবে বাংলাদেশের দারিদ্র নিরসনে তারাই একমাত্র আন্তরিক এবং যেহেতু বর্তমানে বাংলাদেশে এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের উদ্যোক্ত সম্মানিত ব্যক্তি সুতরাং এইসব যতটা শোভন এবং আড়াল করে প্রকাশ করা যায় পত্রিকায় ঠিক ততটাই আড়াল করে এসব সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং প্রয়োজনে চেপে যাওয়া হয়।

ফারুক ওয়াসিফের আগের দুইটি লেখায় আনু মুহাম্মদের সাপ্তাহিক ২০০০ এ প্রকাশিত প্রবন্ধ এবং এর প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28962887 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28962887 2009-06-10 23:53:50