somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নাস্তিকতা সংশয়বাদীতার দ্বন্দ্বে তারুণ্য


বিদ্যমান সামাজিক প্রথাগুলো, পারিবারিক সংস্কারগুলোর বিরোধিতার একটা পর্যায়ে তারা ধর্মবিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তাকে প্রশ্ন করে। দৈনন্দিন জীবনযাপনে, সামাজিক যোগাযোগের কোনো জায়গায় ধর্মীয় সংস্কার ততটা স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য নয়, প্রথা ও কৃষ্টির কতটুকু ধর্মীয় অনুশাসনজাত আর কতটুকু সামগ্রীক মূল্যবোধ সেটুকু যাচাই করার মানসিক পরিপক্কতা গড়ে ওঠার আগে তারুণ্যের এই আস্তিকতা-নাস্তিকতা কিংবা মানসিক দ্বৈরথ ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।



আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্লেষণী ক্ষমতাচর্চার সূচনা হয় প্রথম যৌবনে, তার আগ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন ধরণের তথ্যের আয়ুধে নিজেকে সজ্জিত করি, ব্যক্তিগত বিশ্লেষনী ক্ষমতায় অনেকেই অবশ্য তারুণ্যেই ইর্ষণীয় বিশ্লেষণী ক্ষমতা অর্জন করে, প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে না গিয়েও অনেকে দ্বান্দ্বিক বিশ্লেষণে নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলে, এবং একই ধরণের ভাবনাকাঠামোতে সামাজিক সংস্কার বিশ্লেষণ করে সেটার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়।



সামাজিক সংস্কার, আপাত ভালো এবং মন্দের ধারণা সমাজের অন্তর্গত ভাবনাবৈপিরীত্বগুলো ধারণ করে। সমাজের মানুষগুলোকে কোনো না কোনো নিয়মের অধীনে থাকতে হয়, তারা যেনো পরস্পরের সাথে অহেতুক বিবাদে জড়িয়ে না পরে, যেনো অন্তর্কলহে নিজেদের শক্তিনাশ না করে সে জন্যে প্রতিটি ভাবনাকাঠামোর সাথে এক ধরণের উদযাপন ও প্রথা সংযুক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় মতবাদ সমাজে বিরাজ করে এবং মানুষ ব্যক্তিগত অভিরুচি মেনে এর যেকোনো একটিকে গ্রহন করে কিংবা সবগুলোকেই একই ভাবে বর্জন করে।



দৈনন্দিন জীবনযাপনে বিমূর্ত ধর্ম মূলত সামাজিক প্রথা হিসেবে উপস্থাপিত হয় একজন সাধারণ মানুষের কাছে, একই ধরণের কাঠামোবদ্ধ সংস্কার অপরাপর ভিন্ন সংস্কার কিংবা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে, পারিবারিক সংস্কার এবং মানুষকে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের দায়ে এভাবে অস্বীকারের ক্ষোভ থেকেও কেউ কেউ প্রচলিত ধর্মীয় মতবাদের উপরে আস্থা হারায়, কারণ যেমনই হোক না কেনো তরুণের সামনে আমাদের সমাজের অন্তর্গত বিরোধগুলো যেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে এবং যেভাবে সে তার পরিচিত পরিমন্ডলকে বিশ্লেষণ করছে এসব মিলেমিশে তারুণ্যের দ্রোহের একটা প্রকাশ হতে পারে নাস্তিকতা কিংবা ইশ্বরের অস্তিত্বে সরাসরি সংশয় প্রকাশ।



নিখাদ বিজ্ঞান কি কোনো সময় এমন কোনো প্রশ্নের সমাধা করতে পারে? বিজ্ঞানের পরিধির ভেতরে থেকে কি ইশ্বরের অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের ধাঁধা সমাধান করা সম্ভব? বিজ্ঞান কি ইশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ে নির্ণায়ক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে? প্রশ্নগুলোর উত্তর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঋণাত্মক। বিজ্ঞান যে কাঠামোর উপরে বিস্তার লাভ করেছে সেখানে ইশ্বর কোনো পরিমাপযোগ্য বিষয় না, এমন কি ইশ্বরের অস্তিত্বে কি কি প্রভাব আশেপাশের পরিবেশে থাকতে পারে সেটাও প্রচলিত কাঠামোবদ্ধ জ্ঞানে অনুপস্থিত সুতরাং ইশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ে কোনো লিটমাস টেস্ট বিজ্ঞানে নেই।



বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত আমাদের গাণিতিক, দার্শণিক এবং পরীক্ষণজাত জগতের বিভিন্ন পরিবর্তনকেব্যাখ্যা করতে সহায়তা করতে পারে। সেসব পর্যবেক্ষণজাত জগতকে ধর্মীয় পুস্তকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেটার অসারতা প্রকাশ করতে পারে, ক্ষেত্র বিশেষে সেটার অসম্পূর্ণতা কিংবা অন্তর্গত ভ্রান্তি প্রমাণ করতে পারে।

ধর্মীয় দর্শণে আমাদের দৃশ্যমান জগতকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেসব আধুনিক বিজ্ঞানের কষ্ঠিপাথরে ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে, স্থানীয় দার্শণিকদের প্রভাবে যেভাবে পরিচিত জগতকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ধর্মপুস্তকে সেটা মধ্যযুগের পরে ততটা কার্যকরভাবে জগত ব্যাখ্যা করতে পারছে না।



জীবনের সৃষ্টিবিষয়ে, মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও বিনাশ বিষয়ে বিজ্ঞানের মতবাদে আস্থা স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ না কি ধর্মীয় পুস্তকে আস্থা স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্ত জানাতে পারে না প্রচলিত বিজ্ঞান।



কেউ যদি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পথ ধরে ধর্মীয় পুস্তকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেটাকে ভ্রান্ত, মিথ্যা, অলীক কল্পনা ঘোষণা দিয়ে কোনো বিবৃতি দেয় অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক সূত্র সেটার সপক্ষেই থাকবে।

বিজ্ঞানের ভেতরে কোনো অলৌকিকত্ব নেই বরং প্রতিদিনই এর বিভিন্ন অনুসিদ্ধান্ত পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হচ্ছে, সেসব অনুসিদ্ধান্তের কিছু কিছু আমাদের সাদা কালো ধারণাকে ততটা আমলে নেয় না বরং বিজ্ঞানের যুক্তি প্রকাশের জন্য যে গণিতকে আমরা ব্যবহার করি সেই গাণিতিক বিধিগুলো মেনেই তারা নিজেদের উপস্থাপিত করে এবং গণিত ও আমাদের মডেল প্রকৃতির ভেতরে যোগাযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ কেউ কেউ এক ধরণের দার্শণিক বিভ্রান্তিতে আটকা পরে যান সেটা ব্যক্তির অনুধাবনজনিত ব্যর্থতামাত্র। বিজ্ঞানের অনুসিদ্ধান্তগুলোর ব্যর্থতা এখানে কম।



বিজ্ঞানের গাণিতিক কাঠামোর অন্য রকম একটা সৈন্দর্য্য আছে, আমাদের পরিচিত জগতে নেই এমন অনেক ধরণের সম্ভবনা এই গাণিতিক বিশ্লেষণে যাচাই করা সম্ভব এবং গাণিতিক বিশ্লেষণের সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব। এভাবেই আমরা যৌক্তিক বিশ্লেষণের একটা পর্যায়ে নিউট্রন স্টার কিংবা ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব ও চরিত্র সম্পর্কে যেসব সিদ্ধান্ত পেয়েছি, এমন সব বৈশিষ্ট্য মেনে চলা অদৃশ্য নক্ষত্রের সন্ধানও আমরা পেয়েছি।

অতিরিক্ত চাপে ও তাপে পদার্থের কি ধরণের গাঠনিক পরিবর্তন হবে কিংবা হতে পারে সেসব গাণিতিক বিশ্লেষণের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা পরীক্ষাগারে প্রমাণ করেছি।



জীবনের সৃষ্টিকে একটি নির্দিষ্ট সূত্রে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হলেও কি কি প্রভাবক জীবনের বিকাশকে পরিবর্তিত করতে পারে সে সম্পর্কে আমরা জানি, আমরা জানি কিভাবে একেবারে কোষীয় পর্যায়ে বিবর্তন ঘটে। বিবর্তনের ধারণাকে অস্বীকার করা ব্যক্তিবর্গ বিবর্তনের ধারণাকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করেন কিন্তু তারা যখনই বিবর্তনবাদকে বিবর্তনবাদ হিসেবে দেখতে চান তখনই তারা কোনো এক অজানা কারণে তার পূর্বপুরুষকে গাছের উপরে বসে ল্যাজ নাড়াতে দেখেন এবং সাথে সাথে বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করেন।



এসব ব্যক্তিগত বাছাই কিংবা বিবেচনা বিজ্ঞানের জগতকে ততটা প্রভাবিত করে না। সে তার মতো এগিয়ে যায়, যাচ্ছে। আমাদের বৈজ্ঞানিক কাঠামো আমাদের যতটুকু জানাতে পারে সেই সম্পূর্ণ জায়গাটাতে ইশ্বরের অস্তিত্ব ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এরপরও ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত জগতে ইশ্বরেরঅস্তিত্ব মেনে কোনো নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় সংস্কারে আবদ্ধ থেকে জীবনযাপন করতে পারেন কিন্তু তার এই ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অবস্থান থেকে তিনি প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করেন না।



ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের ভেতরে একটা দার্শণিক আড়াল তৈরি করতে পারা মানুষগুলো অবশেষে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং অপরাপর সবাই এই কাঠামোর ভেতরে এসে নিজেকে সংশয়বাদী হিসেবে উপস্থাপন করেন। সে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রজ্ঞা অর্জন করার পর যদি কোনো তরুণ নিজেকে নাস্তিক ভাবে কিংবা বিশ্বাস করে তার বিশ্বাসকে কোনোভাবেই টলানো যাবে না, তার আগ পর্যন্ত আসলে নিজস্ব বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব তাকে প্রতিমুহূর্তে পীড়ন করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29779381 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29779381 2013-02-22 10:49:36
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ৮


আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সবসময়ই সফল্যের সাথে একে অন্যের পরিপুরক হয়ে উঠতে পেরেছে এমনটা বলা যাবে না, কিন্তু ভবিষ্যতে কোনো একদিন নিশ্চিত এটার ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে- আমাদের বৈজ্ঞানিক ধারণার অগ্রগতি আমাদের এভাবেই আশ্বস্ত করে।



মানুষের চোখ কেনো ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটারের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের প্রতি সংবেদনশীল এটার তেমন গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা নেই, প্রতিটা উদ্ভিদই এই নির্দিষ্ট বিকিরণের প্রতি সংবেদনশীল, এমন কি গাছের সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার তীব্রতাও এই ৩০০ ন্যানোমিটার বিস্তৃতির আলোক সংকেতের উপরে নির্ভর করছে- আমাদের জীবনযাপন এবং জীববৈচিত্র ৩০০ ন্যানোমিটার বিস্তৃতির ফলেই সম্ভব হয়েছে এমনটা বলা অতিশায়োক্তি হবে না মোটেও।



যতটা অলৌকিক শোনায় বিষয়টা হয়তো ততটা অলৌকিক নয় ব্যাখ্যাটা, বৈজ্ঞানিক ধারণা জীবনের সূচনা হয়েছিলো সমুদ্রের গভীরে, সমুদ্রের অনেক গভীরে যেখানে আলো পৌঁছায় না সেখান বিকশিত জীবদের চোখ নেই, আলোক সংবেদি কোনো অঙ্গ নেই, যেসব প্রাণীরা সমুড্রপৃষ্টের কাছাকাছি বসবাস করেছে কিংবা যারা সমুদ্র ছেড়ে ডাঙায় উঠে এসেছিলো তাদের আলোক সংবেদনশীল অঙ্গ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিলো , আমাদের বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান অক্সিজেন , নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয়বাস্প এবং অতিসামান্য পরিমাণের অন্যান্য গ্যাসের বর্ণালী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই দৃশ্যমাণ আলোতে এই বায়ুমন্ডল স্বচ্ছ অর্থ্যাৎ এই বিকিরণ বিনা বাধায় পৃথিবীতে আসতে পারে- বায়ুমন্ডলের উপরের স্তর অতিবেগুণী রশ্মি প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং অতিলোহিত রশ্মির জন্য সেটা একই ধরণের বাধা তৈরি করে।



সুতরাং বিবর্তনের ধাপে ধাপে এখানে যেসব জীব বিকশিত হচ্ছে, যাদের আলোক সংবেদি কোষ তৈরি হচ্ছে তাদের শুধুমাত্র এই নির্দিষ্ট আলোক রশ্মিতে সংবেদনশীল অঙ্গ প্রয়োজনীয় ছিলো। তখনও হয়তো রেডিও ওয়েভ কিংবা মাইক্রোওয়েভ বিনা বাধায় পৃথিবীতে প্রবেশ করেছে কিন্তু যদি একক শক্ত বিবেচনা করা হয় তাহলে এসব বিকিরণের কোষীয় গঠনকে প্রভাবিত করবার মতো তীব্রতা ছিলো না ।



সুদুর অতীত থেকেই মানুষ গুহাচিত্র আঁকছে, লাল এর সাথে হলুদ মেশালে কমলা রং হয় সেটা অনেক আগেই মানুষ পর্যবেক্ষণ করেছে, এমন কি যারা শিল্পী তারা কোন রং কি পরিমাণে মেশালে কি রং পাওয়া যাবে সেটা অন্যসবার চেয়ে ভালো বুঝেন, আলো-ছায়ার পার্থক্য, রং এর বিন্যাসের পার্থক্যে মুগ্ধ মানুষেরা কখনও প্রশ্ন করে নি কেনো বিভিন্ন রং বিভিন্ন অনুপাতে মেশালে নতুন এক ধরণের বর্ণের অনুভুতি তৈরি হয় রেটিনায়। এমন কি আমিও বিভিন্ন সময়ে এইসব রংয়ের মোহজালে মুগ্ধ হলেও কখনও বুঝতে চাই নি এর কার্যকারণ। হঠাৎ যখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম



কেনো হলুদ আর লাল মেশালে কমলা রং এর অনুভুতি হবে? সেটা কি আমাদের দৃষ্টিবিভ্রম না কি কোনো রাসায়ণিক বিক্রিয়ায় অনু-পরমাণুগুলোর বর্ণালী পরিবর্তিত হচ্ছে- সেটার সহজ সরল ব্যাখ্যা খুঁজে পাই নি- দৃশ্যমাণ এবং অদৃশ্য আলো এবং পরমাণুর ইলেক্ট্রন বিন্যাসের সম্পর্কটা সর্বপ্রথম স্থাপিত করেছিলেন নীলস বোর। পরমাণুর ইলেক্ট্রন বিন্যাসের উপরে কাজ শুরু করার আগে তিনি তার পিএইচডি থিসিসে কাজ করেছেন পরিবাহীর বিদ্যুৎ প্রবাহে ইলেক্ট্রনের ভুমিকা নিয়ে, তিনি ইলেক্ট্রন গ্যাসের ধারণা নিয়ে কাজ করছিলেন এবং মনে রাখতে হবে বিভিন্ন পরিবাহীর বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য সম্ভবত পরমাণুর ঋণাত্মক আধানবাহী কণিকাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ধারণাটা নীলস বোর তার পিএইচডি থিসিস লেখার এক দশক আগেই আবিস্কৃত হয়েছে , তিনি নিজেও ইলেক্ট্রন গ্যাস মডেলের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন এবং নিজের ধারণাকে আরো পরিশুদ্ধ করতে এবং নতুন কিছু করতে নীলস বোর এসেছিলেন কেম্রিজে ইলেক্ট্রনেরধারণাকে নিশ্চিত করা জে জে থমসনের গবেষনাগারে। অবশ্য জে জে ঠমসনকে নীলস বোর তেমন পছন্দ করেন নি-



রাদারফোর্ড ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে যখন তার বিশাল গবেষকদের নিয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং রেডিয়েশন ফিজিক্স নিয়ে কাজ করছেন সে সময়ে নীলস বোর ম্যানচেস্টারে রাদারফোর্ডের অধীনে কাজ শুরু করেন।

রাদারফোর্ড সে সময়ে নিউক্লিয়াস আবিস্কার করেছেন, পর্যবেক্ষণ করে সেটার বৈশিষ্ঠ বুঝতে চেষ্টা করছেন, পরমাণুর ভর এবং আধানের সম্পর্ক তখনও স্পষ্ট হয় নি তবে রাদারফোর্ড তার অসাধারণ প্রজ্ঞায় উপলব্ধি করেছেন পরমাণুর আধানের পরিমাণ তার ভরের অর্ধেক, এই বিপুল সংখ্যক ইলেক্ট্রন ধণাত্মক নিউক্লিয়াসের চারপাশে কিভাবে ঘুরছে, কিভাবে পরমাণু এট বিপুল পরিমাণে ইলেক্ট্রন এবং ধনাত্মক আধান ধরে রেখেছে এই ব্যাখ্যাটা তখনও রাদারফোর্ড প্রদান করেন নি।



পরবর্তী দুই বছরে রাদারফোর্ড তার পরমাণুর ধারণাটা প্রকাশ করলেন, একটি ধনাত্মক আধানবাহী নিউক্লিয়াসের চারপাশে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেক্ট্রনগুলো ঘুরছে, যদিও এই ধারণাতে অনেক ধরণের অসংগতি রয়েছে এবং প্রতিটি অসংগতিই এই ধারণা প্রকাশের সাথে সাথেই প্রকাশ্য হয়ে উঠলো, সে বছরই নীলস বোর হঠাৎ করেই তার পরমাণুর ধারণা প্রকাশ করলেন।



রাদারফোর্ডের পরমাণু ধারণার সাথে নীলস বোরের পরমাণুর ধারণায় কোনো পার্থক্য নেই, বরং নীলস বোর এই ইলেক্ট্রনের বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে দুইটা অনুসিদ্ধান্ত প্রদান করলেন , ইলেক্ট্রনগুলো নিজের কক্ষপথে থাকলে কোনো শক্তি ক্ষয় হবে না এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিমাণে শক্তি আদান প্রদান করে এরা কক্ষপথে পরিবর্তন করতে পারবে।

রাদারফোর্ড এই অনুমাণের প্রতিক্রিয়া জানালেন বোরকে চিঠি লিখে-

তোমার ধারণার সাথে প্ল্যাংকের ধারণার তেমন কোনো পার্থক্য নেই কিন্তু ইলেক্ট্রন কিভাবে বুঝবে সে কোন কক্ষপথে পতিত হতে চায়?

ইলেক্ট্রন যদি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি কোনো কক্ষপথে পতিত হয় তাহলে সে নির্দিষ্ট পরিমাণে আলো বিকিরণ করবে এই ধারণার সবচেয়ে বড় বাধা ছিলো যদি অনেকগুলো কক্ষপথ থাকে তাহলে এর কোনটিতে ইলেক্ট্রন পতিত হবে এটার কোনো পূর্বানুমাণ করা কঠিন, এমন কোনো নির্ধারিত নিয়মো নেই।



নীলস বোর অবশ্য প্রতিক্রিয়ায় জানালেন কেনো এমনটা ঘটছে এটার কোনো কারণ তার জানা নেই কিন্তু ইলেক্ট্রনের বৈশিষ্ঠ্যই এমন- এটা মেনে নিতে হবে।



নীলস বোরের পরমাণুর ধারণার সাথে সাথে এটমিক ফিজিক্সের জন্ম হলো এবং পদার্থ বিজ্ঞানের নিশ্চিত ভবিষ্যতবানীর যুগের অবসান ঘটলো। গ্যালিলিও পরবর্তী সময়ে পদার্থবিজ্ঞানের গতিপথে নিশ্চিত ভবিষ্যতবানীর একটা ভুমিকা ও গ্রহনযোগ্যতা তৈরি হয়েছিলো, ম্যাক্সওয়েলের হাতে বিকশিত গ্যাসীয় গতিবিদ্যা সেই নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করলেও মোটাদাগে তখনও পদার্থের আচরণকে সামষ্টিক ব্যাখ্যা দেওয়া যেতো, একক পরমাণুর গতিপথ সুনির্ধারিত না হলেও সামগ্রীকভাবে এদের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয়গুলোর নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করতে সক্ষম ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে ম্যাক্স প্ল্যাংক, আইনস্টাইন এবং অবশেষে নীলস বোর নিশ্চিত করলেন অতিক্ষুদ্র জগতের নিশ্চিত পরিমাণ ও নির্ধারিত ভবিষ্যতবানী করা অসম্ভব, এভাবেই পদার্থ বিজ্ঞানে অনিশ্চয়তার যুগ শুরু হলো।



নীলস বোর পরবর্তীতে রাদারফোর্ডের গবেষণাগার ছেড়ে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনের ছাত্রদের পদার্থবিজ্ঞান পড়ানো শুরু করেছিলেন, সে সময়েই তার সহকর্মী তাকে বললেন তার প্রস_তাবিত পরমাণুর ধারণা কি বালমার সিরিজ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম? নীলস বোর এক বিকেলেই অংক কষে প্রমাণ করলেন বালমার সিরিজ আসলে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেক্ট্রন পতিত হওয়ার প্রতিক্রিয়া- নীলস বোর অবশ্য ইলেক্ট্রনের নির্ধারিত কক্ষপথের কারণ রাদারফোর্ডকে জানাতে পারেন নি, কিন্তু তার ভাইয়ের মাধ্যমে সমারফিল্ড যখন জানতে পারলেন বোর পরমাণুর ধারণা তিনি প্রমাণ করলেন একটি ধনাত্মক আধানের আশে পাশে শুধু নির্ধারিত কক্ষপথেই ইলেক্টন থাকতে পারে- সেসব সাম্ভাব্য ইলেক্ট্রন কক্ষপথের ব্যসার্ধও সমারফিল্ড নির্ণয় করলেন। সমারফিল্ডের গবেষণার পরবর্তী এক দশক শুধু বিভিন্ন পরিচিত পরমাণুর বর্নালী বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ ছিলো



বোরের গবেষণায় নিশ্চিত হলো বিভিন্ন গ্যাসের বর্ণালীতে কেনো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি রং পাওয়া যায়, আমরা যেসব পদার্থকে লাল রং এর দেখছি তাদের ইলেক্ট্রনগুলো এমন সব কক্ষপথ পরিবর্তন করছে যার প্রতিক্রিয়ায় শুধুমাত্র লাল রং এর আলোক তরঙ্গ নির্গত হচ্ছে- এমন ভাবেই যেসব বস্তুকে আমরা নীল দেখছি তারা শুধুমাত্র নীল রং এর আলোক তরঙ্গ বিকিরণ করছে। বস্তুর রং এবং অনুভব এর পরমাণুর কক্ষপথের ইলেক্ট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তনের প্রকাশ।



আমরা যেসব বস্তুকে হলুদ দেখছি তারা হলুদ রং এর আলো বিকিরণ করছে

যাদের লাল দেখছি তারা লাল রং এর আলো বিকিরণ করছে

কিন্তু এ তথ্য কি আমাদের পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করতে পারছে। যেহতু কক্ষপথের ব্যাসার্ধ পূর্বনির্ধারিত সুতরাং লাল রং এর আলো বিকিরনকারী অনু পরমানুর কক্ষপথের ব্যাসার্থ হলুদ রং এর আলো বিকিরনকারী অণু-পরমাণুর কক্ষপথের চেয়ে ভিন্ন হবে, এমন কি এই দুই রং এর পরমাণু কিংবা অনুকে একত্রে মেশালেই যে তাদের কক্ষপথের গড় ব্যাসার্ধ পরিবর্তিত হয়ে যাবে এমনটা নিশ্চিত বলা যায় না। আমরা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানেই ফিরে এলাম, যদিও এখন আমরা জানি কেনো কোনো বস্তুকে আমরা লাল-নীল-হলুদ- সবুজ দেখছি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29641239 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29641239 2012-07-22 00:19:57
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ৭


গত ৫০ বছরে পরিস্থিতি পরিবর্তত হয়েছে, যদিও এখনও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা কেন্দ্রগুলো যেকোনো আবিস্কারের প্রায়োগিক দিকটাকেই প্রয়োজনীয় মনে করে তবে গবেষণার বিস্তর সুযোগ সেখানে আছে। ইউরোপের মতো তত্ত্বীয় ক্ষেত্রে গবেষণা সেখানে হচ্ছে না এমনটা বলা যাবে না কিন্তু মূলত প্রায়োগিক উপযোগিতা না থাকলে সেখানে গবেষণার ফান্ডিং পাওয়া কঠিন। যে কারণে সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্টিকেল কোলাইডারের জন্য যথেষ্ট অর্থ সংস্থান করা সম্ভব হয় নি , ইউরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলো সম্মিলিত ভাবে সার্নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কংগ্রেসন্যাল হিয়ারিং এ পার্টিকেল কোলাইডারের উপরে অর্থবরাদ্দের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়।



তবে আমাদের আলোচনার প্রেক্ষাপট মূলত উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশক, ফ্যারাডের পর্যবেক্ষণ এবং ম্যাক্সওয়েলের অনুধাবনের আগেই আলোর বৈশিষ্ঠ্য নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, নিউটন ১৭০৪ সালে প্রকাশিত আলোকবিদ্যায় সর্বপ্রথম অনুমাণ করেন আলো আসলে কণিকা, প্রতি বর্ণের আলোকে আলাদা আলাদা কণিকা হিসেবে কল্পনা করলেও নিউটনের ভাবনায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স ছিলো না।

একই সময়ে আলোর তরঙ্গ চরিত্রের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় পরবর্তীতে নিউটনের কণিকা তত্ত্ব পরিত্যাক্ত হয়। ম্যাক্সওয়েল যখন তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দিলেন, বললেন আলো নিছক তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তনের উপজাত সে সময় থেকেই কল্পনা শুরু হলো আলো কি শূণ্য মাধ্যমে চলাচল করে? না কি আলোর তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য আলাদা মাধ্যম প্রয়োজন। প্রতিটা তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জনয় মাধ্যমের প্রয়োজন, সে কারণে ইথার তত্ত্ব জনপ্রিয় হয়ে উঠলো, এমন কি মাইকেলসন-মরলি ১৮৮২ সালে ইথারের অনস্তিত্ব প্রমাণ করার দুই দশক পরেও ইথারে আলো কিভাবে প্রবাহিত হয় এ বিষয়ে পুস্তক রচিত হয়েছে।



বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আলো উৎপাদনের কৌশল রপ্ত হওয়ার পর উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে ক্যাম্ব্রিজে জে জে থমসন গ্যাসের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের কৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তার মাত্র কয়েক বছর আগেই গণতান্ত্রিক ভাবে পরমাণুর ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইলেক্ট্রোলাইটের ভেতরে হাইড্রোজেন আয়নের গতিবেগ নির্ণয় করে হাইড্রোজেন আয়নের চার্জ এবং ভরের অনুপাতও নির্ণয় করা হয়েছে- থমসন ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইলেক্ট্রন তৈরি করে সেগুলোর চার্জ ও ভরের অনুপাতের মাণ নির্ণয় করে অবশেষে ১৮৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর প্রকাশিত জার্নালে ঘোষণা করলেন পরমাণুর অবিভাজ্যতার ধারণা ভ্রান্ত- পরমাণু বিভাজিত হওয়া সম্ভব এবং তা থেকে ঋণাত্মক আধান পাওয়া সম্ভব। তার আগেই হার্টজ লক্ষ্য করেছিলেন যদি ধাতব পৃষ্টকে আলোকিত করা হয় তবে গ্যাসে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।

থমসন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো দিয়ে গবেষণা করে নিশ্চিত হলেন ধাতবপৃষ্টকে আলোকিত করলে গ্যাস পরিবাহীর মতো আচরণ করে। তখনও ইলেক্ট্রন ছিলো না, সুতরাং তারা বিদ্যুৎ প্রবাহের হার নির্ণয় করে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, আলোর পরিমাণ পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ প্রবাহের হারের উপরে এসবের প্রভাব নির্ণয় করলেন।



আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ধারণা অনুসারে তরঙ্গের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে তরঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু তারপরও একটা নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো না হলে গ্যাস পরিবাহীর মতো আচরণ করে না। এটা আলোর পরিমাণের উপর নির্ভর করছে না বরং আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপরে নির্ভর করছে।

নির্গত ইলেক্ট্রনের শক্তিও তারা পরিমাপ করলেন এবং লক্ষ্য করলেন নির্গত ইলেক্ট্রনের শক্তিও আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপরে নির্ভর করে। এই আবিস্কার সে সময়ের বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করতে পারেন নি। প্রায় ১ দশক গবেষণা শেষে আইনস্টাইন অবশেষে আলোর কণিকা তত্ত্ব উপস্থাপন করলেন।



প্রাযুক্তিক উন্নতি যদি সময়ের পরিমাপে বেশী হতো তাহলে হয়তো আইনস্টাইনের ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্টের ব্যখ্যা কিংবা আলোর কণিকা তত্ত্বের উদ্ভব হতো না। নীলস বোর যখন পরমাণুর আভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করলেন তখন থেকেই ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা সহজ হলো, সেই ব্যাখ্যার আলোকেই বলতে হবে কেনো প্রাযুক্তিক অনগ্রসরতা আইনস্টাইনের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছিলো, আইনস্টাইন ফটইলেক্ট্রিকইফেক্ট ব্যাখ্যার জন্য নোবেল পেয়েছেন।



নীলস বোরের পরমাণু তত্ত্ব বলছে প্রতিটা পরমাণুর চারপাশে নির্ধারিত কক্ষপথে ইলেক্ট্রনগুলো ঘুরতে থাকে, যখন কোনো আলো ইলেক্ট্রনের উপরে পরে তখন ইলেক্ট্রন আলোর শক্তি গ্রহন করে পরবর্তী উচ্চ শক্তিস্তরে চলে যায়, এভাবে নির্দিষ্ট শক্তিসংগ্রহ করে ইলেক্ট্রন পরমাণু ছেড়ে চলে যেতে পারে।



যদি আলোর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তাহলে বেশী ইলেক্ট্রন আলোর শক্তি সংগ্রহ করে মুক্ত হয়ে যাবে এবং এভাবেই ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা করেছেন আইনস্টাইন। তবে আলোর পরিমাণ যাদৃচ্ছিক বাড়ালে কি হবে সেটা আইনস্টাইন তখনও বলে যান নি।



আইন্সটাইন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আবির্ভাবের পরপর এটাকে অভিনন্দিত করলেও পরবর্তীতে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিষয়ে তার এক ধরণের সংশয় তৈরি হয় , তার প্রশ্ন ছিলো যদি দুটো ইলেক্ট্রন কক্ষপথের শক্তিব্যবধানের মাঝামাঝি কোনো একটা শক্তির আলোর তরঙ্গ পাঠানো হয় তাহলে কি ঘটবে? ইলেক্ট্রন কি সে আলোর তরঙ্গ গ্রহন করবে না? যদি করেই ফেলে তাহলে তার কি অবস্থান হবে? তার বক্তব্য ছিলো ইলেক্ট্রন সে আলোর তরঙ্গের শক্তি গ্রহন করবে এবং দুটো কক্ষপথের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করবে, অবশ্য ইলেক্ট্রন সে শক্তি খুব দ্রুতই ত্যাগ করে আগের কক্ষপথে ফিরে আসবে, কিন্তু আইনস্টাইন পরবর্তীতে দেখিয়েছেন যদি আলোর পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয় তবে তাহলে একই সময়ে দুটো কিংবা তারও বেশী আলোর কণিকা গ্রহন করে ইলেক্ট্রন উপরের শক্তিস্তরে চলে যেতে পারে।



যদি প্রাযুক্তিক উৎকর্ষে এখনকার মতো যত ইচ্ছা ফোটন( আলোর কণিকা) তৈরি করা সম্ভব হতো তাহলে ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট আবিস্কৃত হতো না। সে সময়ে প্রতিটি ইলেক্ট্রনই দুই কিংবা ততোধিক ফোটন গ্রহন করে ধাতবপৃষ্ট থেকে যেকোনো তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোর জন্য নির্গত হতো, ফলে বিজ্ঞানীরা আর সংশয়ে ভুগতেন না, তাদের পর্যবেক্ষণ এবং ধারণা অক্ষত রয়ে যেতো।

আইনস্টাইনের ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্টের ধারণাটা পরবর্তীতে যেভাবে কোয়ান্টাম বিপ্লব ঘটাতে সহায়ক হয়েছে তেমন আলোড়ন তৈরি করতো না বিষয়টা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29639891 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29639891 2012-07-20 00:14:25
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০৬


হেইনরিক হার্টজ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম হলেন, যদিও এর অনেক আগে থেকেই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা চলছিলো। উত্তপ্ত বস্তুর তাপমাত্রা বাড়লে সেটা প্রথমে লাল হয়, পরবর্তীতে তাপমাত্রা বাড়ালে সেটা সাদা হয়ে যায়, গুস্তাভ কার্শফ বলেছিলেন এই উত্তপ্ত বস্তুর বিকিরিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এবং এর তাপমাত্রার ভেতরে এক ধরণের সরল সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু তিনি সে সম্পর্ক স্পষ্ট বলে যান নি।



কম ঘনত্বের গ্যাসের টিউবের ভেতরে তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করলে সেখান থেকে আলো বিকরিত হয়, গবেষণাগারে প্রমাণিত হলো প্রতিটি গ্যাসের আলাদা বর্ণালী বিদ্যমান, ফ্রনহফার সূর্য্যের আলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ করে দেখালেন সেখানে আলাদা একটি গ্যাস রয়েছে, সূর্য্যের ভেতর থেকে উৎপন্ন বলে সে গ্যাসের নাম হলো হিলিয়াম, পরবর্তীতে পৃথিবীতেও সে গ্যাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলো।



সমসাময়িক সময়েই বেতার তরঙ্গ আবিস্কৃত হলো এবং বেতার যোগাযোগের প্রকৌশলও বিকশিত হলো। রন্টজেন যখন বললেন ক্যাথোড রে টিউবে এক্স রে উৎপন্ন হয় তখন কেমব্রীজে রাদারফোর্ড এক্স রে নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন, প্রায় অপ্রত্যাশিত ভাবে বিকুরেল তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কার করলেন, তেজস্ক্রিয় মৌল তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করে আলাদা মৌলে পরিণত হয় কিংবা নিজের বাড়তি শক্তি গামা রেডিয়েশনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়, রাদারফোর্ড নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের আলাদা গবেষণাক্ষেত্র তৈরির আগে এসব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হয় নি।



রন্টজেন যে প্রক্রিয়ায় এক্স রে উৎপাদন করেছিলেন সেই একই প্রক্রিয়ায় এখনও এক্স রে তৈরি হয় হাসপাতালেরএক্স রে ম্যাশিনে, তড়িৎক্ষেত্রের ভেতর দিয়ে ইলেক্ট্রন পরিচালিত করে সেটাকে ধাতব পৃষ্ঠে আঘাত করা হয়, ফলে এক্স রে বিকিরিত হয়।



একই সময়ে টমাস আলভা এডিসন ফিলামেন্ট বাল্ব তৈরি করলেন, সে বাল্বও তড়িৎ প্রবাহেআলো বিকিরণ করে।

ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে উৎপাদিত আলোগুলোর সবই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ হলেও প্রতিটির বৈশিষ্ঠ্য কি একই রকম? এ প্রশ্নের উত্তর সফল ভাবে দেওয়া সম্ভব হয়েছে ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচৌম্বকিয় তত্ত্ব বিকশিত হওয়ার প্রায় ১০০ বছর পরে, তার আগে পর্যন্ত এই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়গুলোকে ব্যাখয়া করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেসব উদ্যোগ সফল ভাবে সকল আলোর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে পারছিলো না।



১৮৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে থমসন নিশ্চিত করলেন অবিভাজ্য কল্পনা করা হলেও প্রতিটি পরমাণুকে বিভাজিত করা সম্ভব, প্রতিটি পরমাণুরই এক কিংবা একাধিক ইলেক্ট্রন রয়েছে, এই ইলেক্ট্রনগুলোই তড়িৎপ্রবাহের কারণ, তিনি তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে এই ইলেক্ট্রনের আধান-ভরের অনুপাতের মাণ নির্ণয় করলেন, সেখান থেকে তিনি ইলেক্ট্রনের ভর নির্ধারণ করলেন, তারো আগে তিনি প্রমাণ করেছিলেন গতিশীল ইলেকট্রনের গতি পরিবর্তন করলে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নির্গত হয়, কিভাবে গতিশীল আধান থেকে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি হয় তা সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা না করলেও ইউনিভার্সিটি ওফ কলোরেডোর ওয়েব সাইটে ইলেক্ট্রিক ডিপোল রেডিয়েশনের চমৎকার একটি এনিমেশন আছে , সাইটটি চমৎকার। এই এনিমেশনটি মূলত কিভাবে বেতার যোগাযোগ সম্ভব সেটার ব্যাখ্যা দেয়, সেই একই কারণে কিন্তু এক্স রে তৈরি হয় না।



এক্স রে উৎপাদিত হয় গতিশীল ইলেক্ট্রনকে হঠাৎ থামিয়ে, যে ধাতব পৃষ্টে ইলেক্ট্রন আঘাত করে সেই ধাতুর নিউক্লিয়াস ইলেক্ট্রনকে থামিয়ে দেয়, ইলেক্ট্রন হঠাৎ থেমে গেলে এর গতিশক্তি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পরে, বিভিন্ন গবেষণা নিশ্চিত করেছে এভাবে উৎপাদিত এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য পরিবর্তনশীল, মূলত ইলেক্ট্রনের গতিশক্তির উপর নির্ভর করে নির্গত এক্স রের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, যত শক্তিশালী, যত দ্রুত গতির ইলেক্ট্রনকে থামানো হবে তত শক্টিশালী, তত ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের এক্স রে তৈরি হবে।



যে কারণে বেতার যোগাযোগ সম্ভব হয় কিংবা যে কারণে এক্স রে তৈরি হয় সেই একই কারণেই যে ফিলামেন্ট বাল্ব আলো দেয় এমনটা নিশ্চিত বলা সম্ভব না। এমন কি বিজ্ঞাপনের নিওন সাইনের আলো প্রদানের কারণও এসবগুলোর চেয়ে আলাদা।



উত্তপ্ত বস্তু কেনো আলো বিকিরণ করে? গুস্তাভ কার্শফের প্রস্তাবিত তাপমাত্রা এবং আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভেতরে এক ধরণের সরল সম্পর্ক বিদ্যমান ধারণাটি নিয়ে কাজ করেছেন বোল্টজম্যান, উইনস, প্ল্যাঙ্ক এবং লর্ড র‌্যালেইহ এবং জিনস। আরও অনেকেই গবেষণা করেছেন তবে সেসব গবেষণার চুড়ান্ত রূপটি এরা কয়েকজনই প্রকাশ করেছেন।

উইনসের প্রস্তাবিত সূত্রটি শুধুমাত্র দেখিয়েছিলো একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি উত্তপ্ত বস্তু একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো সবচেয়ে বেশী বিকরিত করবে, কেনো এই নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোই বিকরিত হতে হবে সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা উইনস দেন নি, উইনসের প্রস্তাবিত সুত্রের এটা একটা বড় সীমাবদ্ধতা। লর্ড র‌্যালেইহ প্রস্তাবিত সূত্রটিও ঠিক মতো ব্যাখ্যা করতে পারে নি, বোল্টজম্যানের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক দেখালেন গুস্তাভ কার্শফের ধারণা সঠিক, তাপমাত্রা এবং তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভেতরেেক ধরণের সরল সম্পর্ক বিদ্যমান, কিন্তু একই সাথে তিনি প্রমাণ করলেন যদি উত্তপ্ত বস্তুর ভেতরে তাপ বিনিময় হতে হয় তবে নির্দিষ্ট একটি মাণের নীচের তেমন তাপ বিনিময় হতে পারবে না। ফোটনের ধারণাটা সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় এই গবেষণাপত্রেই।



প্ল্যাঙ্কের ফোটনের ধারণা উত্তপ্ত বস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করলেও কেনো উত্তপ্ত বস্তু থেকে ফোটন বিকরিত হবে সেটা ব্যাখ্যা করতে পারে নি। প্ল্যাঙ্কের সাফল্য এটুকুই যে তিনি প্রমাণ করেছেন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাথে এর শক্তির সরল সম্পর্ক বিদ্যমাণ।



উইলিয়াম হেনরি ব্রাগ তার ছেলে উইলিয়াম লরেন্স ব্রাগের সাথে এক্স রে নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখালেন এই এক্স-রে দিয়ে যেকোনো পদার্থের গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব, তারা দুজনে এ কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।



থমসন ইলেক্ট্রনের ধারণা প্রকাশ করবার পর নীলস বোর পরিবাহীর ভেতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহে ইলেক্ট্রনের ভুমিকা নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি সনদ লাভ করেন, যদিও ইলেক্ট্রন গ্যাসের ধারণাটা নীলস বোরকেও সন্তুষ্ট করতে পারে নি, পরবর্তী গবেষকদের কল্যানে পদার্থের আভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে।



একই সাথে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকেরা, বিচ্ছিন্ন বস্তুর বর্ণালী এবং নিরবিচ্ছিন্ন বস্তুর বর্ণালী সম্পূর্ণ আলাদা, যদিও গত ৮০ বছরের পরিশ্রমে আমরা জানি কিভাবে বিচ্ছিন্ন পরমাণু কিংবা অনু থেকে আলো বিকরিত হয়, তবে সাম্ভাব্য সকল তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোনটা কখন বিকরিত হবে সে সম্পর্কে কোনো পূর্বাণুমাণ সম্ভব হয় নি, এই অনিশ্চয়তা নিয়ে রাদারফোর্ড প্রথম আপত্তি তুলেছিলেন কিন্তু নীলস বোর তাকে আশ্বস্ত করেন পরমাণু ঠিক এমনই আশ্চর্য আচরণ করে।



নিওন সাইন কেনো লাল আলো বিকিরণ করে নীলস বোরের কোয়ান্টাম তত্ত্ব সেটা ব্যাখা করে, এমন কি কোন পরমাণুর বর্ণালী কেমন হবে সেটার একটা এনিমেশনও পাওয়া যাবে এখানে কিন্তু ফিলামেন্ট বাল্ব কিংবা উত্তপ্ত ধাতব তার সেখানে অসংখ্য পরমাণু বিদ্যমান সেখানে প্রতিটি পরমাণুই পার্শ্ববর্তী পরমাণুকে প্রভাবিত করে এর আলো বিকিরণের ধরণকে প্রভাবিত করে, ফলে এই উত্তপ্ত বস্তু কিন্তু ফিলামেন্ট বাল্ব কি এক্স রের মতো ইলেক্ট্রন হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপন্ন হয় না কি ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথ থেকে আলো নীচের স্তরে পতিত হওয়ায় উৎপাদিত হয় সে ব্যাখ্যাটা অন্তত ১৯৫০ এর আগে দেওয়া সম্ভব হয় নি ।



১৯৫০ এর কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স অনেক ধরণের নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে, কিভাবে গতিশীল বস্তু থেকে আলো বিকিরিত হতে পারে সেটাও দেখিয়েছে, কিন্তু একেবারে নিশ্চিত ভাবে ফিলামেন্ট বাল্ব কিংবা উত্তপ্ত ধাতব তারের ক্ষেত্রে এই ধারণা ব্যবহৃত হয়েছে এমনটা আমি নিশ্চিত বলতে পারছি না, নইলে বলতাম বিষয়টা এখনও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় নি । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29633599 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29633599 2012-07-09 23:08:15
সাম্প্রতিক ভাবনা
একটি ধর্মাচারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিরোধে ধর্মবেত্তাদের হত্যা করার নজির থাকলেও বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতির ভিন্নতায় কখনও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে নি, তারপরও আমি বুঝি না কেনো ধর্মকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণিত হতে হবে? ধর্ম এবং বিজ্ঞানের ভেতরে সুদুর অতীতে কোনো এক সময় এক ধরণের ঐক্যবদ্ধতা থাকলেও গত ৫ শতাব্দীতে ধর্ম এবং বিজ্ঞান দুটো ভিন্ন ধারায় বিকশিত হচ্ছে, ধর্মের বিকাশ ধর্মপুস্তকের বানীর বিস্তার ও ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ কিন্তু বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, যেকোনো বিষয় নিয়েই বিজ্ঞান কাজ করছে এবং কাউকে নতুন কোনো বিষয় উদ্ভাবন কিংবা নতুন কোনো ভাবনা বিস্তারের জন্য হত্যা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হয় নি।



প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ধ্বংস করে যখন নিউটনের ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো তখন নিউটনের ধারণায় বিশ্বাস স্থাপনকারী কেউই নতুন ধারণায় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের হত্যা করতে অস্ত্রে শান দেয় নি।



ধর্ম বিশ্বাসের উপরে টিকে থাকে, বিশ্বাস যুক্তিনিরপেক্ষ, বিশ্বাসী নিজের বিশ্বাসের শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা গরিমা প্রমণা করতে যুক্তি উৎপাদন করে, যৌক্তিক লড়াইটা বিশ্বাসের মৌলিক ভিত্তিকে অনড় রেখে চলতে থাকে কিন্তু যুক্তিনির্ভর বিশ্বাস এক ধরণের কাঁঠালের আমসত্ব, তার অস্তিত্ব কল্পনা করা কঠিন।



বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রসারে বিশ্বাসী ধর্মকে বিজ্ঞানসিদ্ধ করবার প্রবল প্রয়াসে লিপ্ত, কিন্তু বিজ্ঞান কখনও ধর্মের সীমানায় হানা দিয়েছে এমন না, বিভিন্ন সময়ে ধর্মবিশ্বাসী এবং ধর্ম অবিশ্বাসীদের ভেতরে যৌক্তিক লড়াই হয়েছে, ভীষণ রকম বাদানুবাদ হয়েছে, ধর্মবিশ্বাসী বিজ্ঞানসিদ্ধ নয় বলে ধর্মকে ছুড়ে ফেলে নি বরং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে অটল যুক্তি খুঁজে না পেয়ে নিজেই ধর্ম পরিত্যাগ করেছে।



কেউ সংশয়ী, কেউ বিশ্বাসী কেউ অবিশ্বাসী কিন্তু প্রত্যেকেরই নিজস্ব জীবন দর্শণ রয়েছে, সে জীবন দর্শণে জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতে সামাজিক স্থিরতা ও সামাজিক লেনদেনের শর্তও যুক্ত, যারা একদা প্রবল ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন তারা একটা পর্যায়ে ধর্মে আস্থা রাখতে পারেন নি, আবার একদল মানুষ বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুসরণ করতে গিয়ে কোথাও খেই হারিয়ে প্রবল ধর্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন, কিন্তু কেউই নিশ্চিত বলতে পারে না তারা বিজ্ঞানে ইশ্বরের অস্তিত্ব সরাসরি প্রমাণ করেছে কিংবা ইশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমাণ করেছে।



প্রত্যেকের নিজস্ব খোঁজ ছিলো, তার অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা- অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিজস্ব সংশয় ছিলো, যারা ধর্মে আশ্রয় খুঁজেছিলেন তারা ধর্মে তার অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তার সপক্ষে তেমন শক্ত কিছু খুঁজে পান নি, তারা ধর্ম ত্যাগ করেছেন, যারা বিজ্ঞানে নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা খুঁজছিলেন তারা এক সময় বিজ্ঞানেও আস্থা হারিয়েছেন, কিন্তু অপরাপর যারা আস্থা হারায় নি তারা কেউই সেইসব আস্থা হারানো মানুষদের প্রতি কোনো সহিংস আচরণ করেন নি।



সম্প্রতি হিগস বোসনের অস্তিত্বের সপক্ষে প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, তারা গত ৫০ বছর ধরে এর অস্তিত্ব অনুমাণ করছিলেন, সেই অস্তিত্বের উপরে ভিত্তি করে তারা তত্ত্বকে আরও প্রসারিত করেছেন কিন্তু যদি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয় হিগস বোসন আসলে অস্তিত্ববিহীন তারা এই ৫০ বছরের অর্জনের পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন ভাবে ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করবেন।



আমাদের মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হলো সে বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক থাকলেও কি প্রক্রিয়ায় সেটা বিকশিত হয়েছে সেটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের ভেতরে তেমন মতভেদ নেই, সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন বিদ্যমান পর্যবেক্ষণগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক অনুমাণ হলো সুদুর অতীতে কোনো এক সময় বিগব্যাং হয়েছিলো, এর পর থেকেই মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে- বিগব্যাংবিহীন মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক কল্পনাও বিদ্যমান,



এখন কসমোলজি বলছে বিগব্যাং হয়েছে এবং মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে- সুতরাং বিভিন্ন ধর্মপুস্তকে বিভিন্ন বানী খুঁজে বিশ্বাসীরা বলছেন সেখানে অতীতে ইশ্বরই নিজ বানীতে বলেছেন মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে- সে প্রসারণের ধরণও তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছেন



বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পরবর্তীতে যদি মহাবিশ্ব প্রসারিত না হয় কিংবা বিগ ব্যাং এর ধারণাটাই নাকচ হয়ে যায়, যেমনটা নিউটনের ধারণার ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাহলে পুনরয়া বিশ্বাসীরা ধর্মপুস্তক খুলে খুঁজে পাবেন ইশ্বর বলেছেন মহাবিশ্ব স্থির- জনপ্রিয় ধারণায় বিশ্বাসীর বিশ্বাস প্রভাবিত হয়- বিজ্ঞান এমন ধারণাগত সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করছে না।



তারপরও বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে প্রমাণের চেষ্টা আমাকে আশ্বস্ত করে, যুগটা যে বিজ্ঞানের এবং প্রকৃতি বিশ্লেষণে বৈজ্ঞানিক কাঠামোই একমাত্র কার্যকরী কাঠামো এ বিশ্বাসটা ধর্মবিশ্বাসীদের ভেতরেও বিদ্যমান, ইশ্বরের বিশ্বাসের পাশাপাশি এ বিশ্বাসও তাদের ভেতরে তৈরি হচ্ছে, পরবর্তীতে তারা পারস্পরিক সহিংসতারঅভ্যাসটুকু ত্যাগ করতে পারলেই ব্যক্তিগত বিশ্বাস হত্যাপ্রবণ হয়ে উঠবার অভ্যাসটুকু কাটিয়ে উঠবে তারা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29631601 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29631601 2012-07-06 16:37:47
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ৫


যেকোনো স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যক ভাবে পরলে আলোর গতির দিক পরিবর্তিত হয়, সভ্যতার ইতিহাসে এই পর্যবেক্ষণ নতুন কিছু নয়, ম্যাক্সওয়েল তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব প্রকাশের ৫০০ বছর আগে থেকেই মানুষ বিভিন্ন ভাবে এই বিষয়টির প্রায়োগিক ব্যবহার শুরু করেছিলো, আলোর গতির দিক পরিবর্তনের এই পর্যবেক্ষণের ব্যবহারিক প্রয়োগ বিভিন্ন ধরণের আতশীকাঁচ নির্মাণ, সেসবের মাধ্যমে দুরবীন এবং মাইক্রোস্কোপ তৈরি করা হয়েছে। ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব আলোর গতিবেগের দিক পরিবর্তনের একটা সাম্ভাব্য ব্যাখ্যা উপস্থাপন করলো, পরবর্তী বিজ্ঞানীরা ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বের বিভিন্ন ধরণের প্রয়োগে সেসব রহস্য উদঘাটন করেছেন।



হেইনরিক হার্টজ ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব ব্যবহার করে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরিতে সমর্থ হলেন যখন সে সময়ই রেডিও প্রকৌশল জন্ম নিলো, প্রথম পর্যবেক্ষণের পর থেকে সেটার প্রায়োগিক ক্ষেত্র খুঁজে নিতে বিজ্ঞানীদের বেশী পরিশ্রম করতে হয় নি, বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের গবেষণা ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়িয়ে ভারত এমন কি নিউজিল্যান্ডেও প্রসারিত হলো, রাদারফোর্ড তার স্নাতক জীবনে রেডিও ট্রান্সমিটার তৈরির গবেষণা করেছিলেন, পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে এসে তিনি রেডিও ট্রান্সমিশনের পরিধি বৃদ্ধি করে বিনা বাধায় প্রায় মাইল খানেক দুরে তরঙ্গ পাঠাতে সমর্থ হয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় একটা সময়ে বাণিজ্যিক রেডিও তৈরি করা সম্ভব হয়।

যদি বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাহলে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করা সম্ভব, বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তন মানে ইলেকট্রনের গতিবেগের পরিবর্তন, অর্থ্যাৎ ইলেক্ট্রনের গতিবেগ পরিবর্টিত হলে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকিরিত হয়। ট্রান্সমিটারের এন্টেনায় বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে হার্টজ তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব প্রমাণিত করলেন, তিনি দেখালেন ট্রান্সমিটারের এন্টেনায় বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হলে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকরিত হয়। বিকিরিত তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এন্টেনার দৌর্ঘ্যের উপর নির্ভব করে



হার্টজ তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণার সময়ই লক্ষ্য করেছিলেন উচ্চ কম্পাঙ্কের আলো কোনো ধাতুর পাতে পতিত হলে সেখান থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়, তবে তিনি এই ইলেক্ট্রনের উৎপত্তি কিংবা এর বিভিন্ন বৈশিষ্ঠ্য বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী হন নি।



প্রতিটি বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ আলাদা করে ভাবলে বিজ্ঞানের অগ্রগতির দিকটুকু অনুধাবন করা কঠিন, বিজ্ঞান বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করতে উৎসাহী হয়ে উঠে, বিজ্ঞানের এই বৈশিষ্ঠ্যটুকু বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যার সময়ে মোটামুটি সন্তোষজনক সমাধান দিয়েছে , তাত্ত্বিক পরিধিতে ব্যাখ্যা না করে তারা বিভিন্ন ধরণের সম্পর্ক আবিস্কার করেছেন, সেসব সম্পর্ক প্রতিটা পর্যবেক্ষণের কার্যকরণ ব্যাখ্যা করেছে, প্রকৃতির আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আবিস্কারে সহায়ক হয়েছে।



যেকোনো ধাতব তারকে উত্তপ্ত করতে থাকলে সেটা একটা সময়ে লালচে হয়ে জ্বলে উঠে, পরবর্তীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেটা সাদা হয়ে যায়, একটি বায়ুশূণ্য কাঁচের ধারকে কোনো গ্যাস রেখে তার ভেতরের তড়িৎক্ষেত্রের প্রাবল্য( ইলেক্ট্রিক ফিল্ড ইনটেনসিটি) বাড়ালে একটা পর্যায়ে গ্যাস আলো বিকিরণ করে, এমন কি যদি হঠাৎ করে উচ্চগতি সম্পন্ন কোনো ইলেক্ট্রন ধাতব পৃষ্টে বাধা পায় তাহলেও তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ ঘটতে পারে, (এভাবেই এক্স রে তৈরি করা হয় পরীক্ষাগারে), হার্টজের তড়ীৎ চুম্বকীয় বিকিরণ তৈরির আগে এবং সেই একই দশকে বিভিন্ন ভাবে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ উৎপাদনের কৌশল রপ্ত করেছিলেন বিজ্ঞানীরা, প্রতিটি ক্ষেত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি হলেও এদের ব্যাখ্যা আলাদা, আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে এসব উৎপাদিত হয় এবং বিজ্ঞানীরা পরবর্তী ৩ দশকে এইসব বিষয়কে বিভিন্ন সময়ে ব্যাখ্যা করতে সমর্থ হয়েছেন, একই সাথে নতুন ধরনের ধাঁধার মুখোমুখি হয়েছেন, আলো তরঙ্গ এবং আলোর কণিকা বিষয়ক ধাঁধার সফল সমাধান হলেও এখনও কেউই নিশ্চিত হয়ে বলতে পারেন না আলো আদতে কখনও কণিকার মতো আচরণ করবে, কখন তরঙ্গের মতো আচরণ করবে, পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করবে আসলে আমরা আলোর কোন চরিত্র আবিস্কার করবো।



বৈজ্ঞানিক ব্যার‌্যার সুবিধার্থে আলোর তরঙ্গ চরিত্র প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপট এবং আলোর কণিকা চরিত্র প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, যখন আলো কোনো ইলেক্ট্রন কিংবা কোনো গ্যাসের অণুর সাথে ধাক্কা খায় তখন সে কণিকা চরিত্র প্রকাশ করে, যখন কোনো মাধ্যম দিয়ে যায় তখন তার চরিত্র তরঙ্গের মতো- এবং সেই মাধ্যমে যাওয়ার সময়ও সে এমন সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে- তখন সে আদতে কণিকা চরিত্র ধারণ করে না কি তরঙ্গ চরিত্র ধারণ করে সে বিষয়টা মীমাংসিত না, তবে সামগ্রীক বিবেচনায় স্ব্ছ মাধ্যমে আলোর গতির ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো মূলত তরঙ্গাকারে প্রবাহিত হয়।



ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ব্যাখ্যানুসারে ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে আলোর গতিবেগ ভিন্ন কারণ প্রতিটি মাধ্যমে পারমিটিভিটি এবং পারমিয়াবিলিটি কনস্ট্যান্টের মাণ আলাদা, সুতরাং আলোর গতিবেগ পরিবর্তিত হবে,



ধাতব পৃষ্টে যখন আলো পতিত হয় তখন সেটা কণিকা চরিত্র প্রকাশ করে, নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ক্ষুদ্র আলোর তরঙ্গ পতিত হলে ধাতব পৃষ্ট থেকে ইলেক্ট্রন নির্গত হয়, আইনস্টাইন এই পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।



কাঁচ কিংবা আলুমিনিয়ামের পাত মাধ্যম হিসেবে ভিন্ন এবং এই দুই মাধ্যমের একটিতে আলোর তরঙ্গ চরিত্র প্রকাশিত হয় অন্যটিতে প্রকাশিত হয় আলোর কণিকা চরিত্র এই ধাঁধার সমাধান কি? আলো কিভাবে নির্ধারণ করে কখন তার কি চরিত্র প্রকাশ করতে হবে?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29630368 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29630368 2012-07-05 01:12:02
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০৪


রাদারফোর্ড ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি থাকাকালীন সময়েই অটো হান এবং ফ্রেডরিক সডির সহযোগিতায় অনুমাণ করতে পেরেছিলেন তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে পরমাণুই পরিবর্তিত হয়ে যায়, যদিও এর কার্যকারণ তাদের জানা ছিলো না কিন্তু তারা নিশ্চিত অনুমাণ করতে পেরেছিলেন প্রতিটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণই পরমাণুকে পরিবর্তিত করে নতুন একটি পরমাণুতে পরিণত করে। যখন রাদারফোর্ড ম্যানচেস্টারে ফেরত আসলেন তখন বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ২৬ রকমের তেজস্ক্রিয় মৌলের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত কিন্তু পর্যায় সারণীতে তাদের অবস্থান বিষয়ে ভীষণ রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন।



১৯১১ সালে জে জে থম্পসনের ক্যাভেন্ডিস ল্যাবে গবেষণাসহকারী হিসেবে আসেন নীলস বোর, স্থানীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক নীলস বোর, তড়িৎ প্রবাহে ইলেক্ট্রন গ্যাসের ভুমিকা বিষয়ে তার গবেষণা তেমন আশানুরূপ হয় নি। ইলেক্ট্রন বিষয়ে আরও গভীর জ্ঞানের জন্যেই ক্যাভেন্ডিস ল্যাবে থম্পসনের কাছে এসেছিলেন তিনি, মেজাজী নীলস বোর খুব অল্প দিনেই থম্পসনের কাজের বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন, এমন সময় তার সাথে পরিচয় হলো রাডারফোর্ডের, ১৯১২ সালে তিনি ম্যানচেস্টারে রাদারফোর্ডের সাথে গবেষণা শুরু করলেন।



রাদারফোর্ড ম্যানচেস্টারে এসে পরমাণুর গঠনের উপরে গবেষণা শুরু করেন। তেজস্ক্রিয় বিকিরণে প্রাপ্ত আলফা কণিকারগতিপথে পাতলা সোনার পাত রেখে সোনার পাত দিয়ে আলফা কণিকার গটিপথ অনুমাণের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি দেখলেন প্রায় সব সময়ই আলফা কণিকা সোনার পাত ভেদ করে চলে গেলেও কিছু কিছু আলফা কণিকা একেবারে উল্টো দিকে ফিরে আসে- ভীষণ রকম উত্তেজিত রাদারফোর্ড অনুমাণ করলেন আলফা কণিকার চেয়ে অনেকগুণ ভারী কোনো কিছু পরমাণুর কেন্দ্রে উপস্থিত, আলফা কণিকা সেখান থেকে প্রতিফলিত হচ্ছে। তার ভাষায়



ঘটনাটা একেবারে অদ্ভুত, এমন যে তুমি পাতলা একটা টিস্যু পেপারে কামানের গোলা ছুড়লে আর গোলাটা ফিরেএসে তোমাকে আঘাত করলো।



চার্লস ডারউইনের নাতিও একই সময়ে রাদারফোর্ডের এই পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করছিলো, চার্লস গ্যালটন ডারউইন সোনার পাতের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় কেনো আলফা কণিকার গতিশক্তি হ্রাস পায় সে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনুমাণ করলেন যখন আলফা কণিকা সোনার পাতের ভেতর দিয়ে যায় তখন ইলেক্ট্রনের সাথে ধাক্কা লেগে এর গতি শক্তি হ্রাস পায়, কিন্তু তারপরও আলফা কণিকার গতিশক্তি হ্রাসের বিষয়ে তেমন সন্তোষজনক কোনো সমাধান দিতে পারছিলো না এই অনুমাণ।

নীলস বোর তার ডক্টরেট থিসিসেও অনুমাণ করেছিলেন ইলেক্ট্রন বিনা বাধায় পরিবাহীর ভেতরে ভ্রমণ করতে পারে- ডারউইনের তত্ত্বের ব্যর্থতায় একেবারে আকস্মিক অনুমাণে তিনি বললেন আসলে পরমাণুর কেন্দ্র ইলেক্ট্রনকে আটকে রাখে, এবং এই ইলেক্ট্রন শুধুমাত্র নির্ধারিত পরিমাণ শক্তি গ্রহন করতে পারে। তার এই অনুমাণ একটি গবেষণা নিবন্ধে লিখে তিনি কোপেনহেগেনে ফিরে গেলেন বিয়ে করতে।



বিয়ের পর কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হলেন তিনি, ডাক্তারী পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা পড়ানোর বাইরে অন্য কোনো কাজ ছিলো না তার। তার গবেষনা নিবন্ধে উপস্থাপিত এই অদ্ভুত ধারণা কি হাইড্রোজেনের বর্ণালীকে ব্যাখ্যা করতে পারবে?



হাইড্রোজেনের বর্ণালীতে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোগুলোর ভেতরে একটি সাধারণ ঐক্য আছে, একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক বিধি মেনে চলে ওটা। সহকর্মীর প্রশ্নের উত্তরে নীলস বোর জানালেন তার ব্লামার সিরিজ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।



তার অনুমাণ ইলেক্ট্রনগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহন করতে পারে ব্লামার সিরিজে প্রয়োগ করে তিনি হাইড্রোজেনের বর্ণালীর ব্যাখ্যা সমেত একটি গবেষণাপত্র পাঠিয়ে দিলেন প্রকাশের জন্য।



সে গবেষণাপত্র জার্মানীতে সমারফিল্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো, এবং তিনি তার গাণিতিক দক্ষতায় বোরের পরমাণুর ধারণাকে প্রতিষঠিত করলেন। তিনি প্রমাণ করলেন পরমাণুর কেন্দ্রে উপস্থিত ধণাত্মক আধানবাহী নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ইলেক্ট্রনগুলো গ্রহদের মতো ঘুরতে থাকে কিন্তু শুধুমাত্র সেসব কক্ষপথেই ইলেক্ট্রনগুলো থাকতে পারে যেগুলোর পরিধি সেই পরমাণুর বর্ণালীর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের গুণিতক।



বোরের পরমাণু কল্পনায় বৈপ্লবিক কিছু প্রথম দেখায় খুঁজে পাওয়া কঠিন কিন্তু পজিটিভিস্ট দার্শণিক তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীদের কাছে এই পরমাণুর ধারণাটি তেমন গ্রহনযোগ্য মনে হয় নি বিভিন্ন কারণেই।



গ্যাসের গতিতত্ত্বে যখন পরমাণুর অস্তিত্ব কল্পনা করা হয়েছিলো তখন প্রতিটি পরমাণুর গতিপথ বিষয়ে নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করবার দুর্বলতা সত্ত্বেও সেটাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা কারণ সেটা বিদ্যমান পর্যবেক্ষণকে সূচারু ভাবে ব্যাখ্য করতে পারছিলো, তাছাড়াও এখানে প্রতিমুহূর্তে বিপুল সংখ্যক সংঘাতের কথা বলা হলেও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিলো প্রতিটি সংঘাতের মধ্যবর্তী সময়ে পরমাণুগুলো নিউটনের সূত্র মেনে চলে এবং সে সময় তাদের সরল রৈখিক গতিপথের কোনো পরিবর্তন হয় না।



ম্যাক্সপ্ল্যাংকের উত্তপ্ত বস্তুর বর্ণালীর ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত কোয়ান্টা কিংবা কণিকার ধারণাটা তখনও ততটা জনপ্রিয় না হলেও পরীক্ষালব্ধ পর্যবেক্ষণ এবং পূর্ববর্তী কয়েক যুগের অমীমাংসীত প্রশ্নের মীমাংসা করতে পেরেছিলো সে ধারণা।



বোরের প্রস্তাব ছিলো হাইড্রোজেনের বর্ণালীতে প্রাপ্ত বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো মূলত ইলেক্ট্রনের এক কক্ষপথ থেকে অন্য একটি কক্ষপথে পতিত হওয়া, হাইড্রোজেনের বর্ণালীতে একাধিক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপস্থিতিতে নিশ্চিত হলো ইলেক্ট্রন একাধিক কক্ষপথে পতিত হতে পারে,



মৌলের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ একটা অনিশ্চিত তাৎক্ষণিক বিষয়, এখানে অসংখ্য পরমাণুর প্রতিটিরই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করে অন্য একটি পরমাণুতে পরিণত হওয়ার সম্ভবনা থাকলেও কখন কোন পরমাণুটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রদান করে ভিন্ন একটি পরমাণুতে পরিণত হবে সেটা নিশ্চিত বলা সম্ভব ছিলো না।



বোরের পরমাণুর ইলেক্ট্রন আরও নতুন জটিলতা তৈরি করলো, ইলেক্ট্রন একাধিক কক্ষপথে যেতে পারে কিন্তু কখন কোন ইলেক্ট্রন কোন কক্ষপথে যাবে সেটা নির্ধারণ করে কে? একটি পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা আরও অসংখ্য জটিলতা তৈরি করলো।



পরবর্তীতে সমারফিল্ডের কাছে গবেষণা করতে আসা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় এসব বর্ণালী বিশ্লেষণ করে ইলেক্ট্রনের সাম্ভাব্য কক্ষপথ পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে যাচাই করেছেন। কিন্তু সেটাও এক ধরণের অনুমাণের ভিত্তিতে, তেমন কোনো গ্রহনযোগ্য ব্যখ্যাবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন সংখ্যা ধরে নিয়ে সমীকরণ মেলানোর এ বিধি সে সময়ে সমারফিল্ডের সাথে কাজ করা হাইজেনবার্গের তেমন পছন্দ হয় নি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29598207 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29598207 2012-05-18 00:09:43
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০৩


রাডারফোর্ড রেডিও ট্রান্সমিশন ডিটেকটর তৈরি করেছিলেন, ক্যামব্রীজে সে গবেষণাই করছিলেন, রেডিও ট্রান্সমিশন ডিটেক্টরের পাল্লা বেড়ে মাইলখানেক হওয়ার পর ক্যামব্রীজ আর লন্ডনে বিভিন্ন ডিনার পার্টিতে ঘনঘন দাওয়াত পেতেন রাদারফোর্ড, সেখানে তাকে রেডিও ওয়েভ ট্রান্সমিশন ডিটেকটরের কার্যকারিতা দেখাতে হতো। সাদামাটা রেডিও ওয়েভ মোটা মোটা দেয়াল ভেদ করে চলে যেতে পারে এই অভুতপূর্ব দৃশ্য দেখে আমোদিত হতো উপস্থিত অতিথিরা, কিন্তু এইসব ডিনার পার্টিতে উপস্থিত মহিলাদের পোশাক নিয়ে চাষা রক্ষণশীল রাদারফোর্ডের আক্ষেপের শেষ ছিলো না, মোটাদাগে তাদের অর্ধনগ্নই বলতেন তিনি।



এমনই সময় উইলিয়াম রন্টজেন এক্স রে আবিস্কার করলেন, তার হাতের এক্স রে ইমেজের প্রতিচ্ছবি প্রায় সকল নামজাদা ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়েছিলো। এ সময়েই এক্স রে বিষয়ে ইউরোপের গবেষণাগারে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। প্রতিপ্রভ স্ফটিক নিয়ে গবেষণা করার পারিবারিক প্রথা ছিলো বিক্যুরেল পরিবারে। তার দাদা, বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে তিনিও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ একটি প্রতিপ্রভ স্ফটিক পেয়েছিলেন।



এক্স রের জনপ্রিয়তায় তিনিও প্রতিপ্রভ স্ফটিক থেকে দুর্ঘটনাক্রমে তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরন আবিস্কার করেন। তার এই আবিস্কার এক্স রে উন্মাদনায় ভোগা ইউরোপে তেমন আলোড়ণ তৈরি না করলেও মেরি কুরি এবং পিয়েরি কুরিকে আলড়িত করেছিলো। তারা আকরিক পরিশুদ্ধ করে প্রথমে পোলোনিয়াম এবং পরে রেডিয়াম আবিস্কার করলেন, উভয় মুৌলই ইউরেনিয়ামের চেয়ে অনেক বেশী তেজস্ক্রিয়। তারা এ আবিস্কারের জন্য দুইবার নোবেল পেয়েছেন, এবং পরবর্তীতে তাদের কন্যাও নোবেল পেয়েছেন।



১৮৯৫ থেকে ১৮৯৮ এর ভেতরে দুর্ঘটনাক্রমে তেজস্ক্রিয়তা এবং এক্স রে বিকিরণ আবিস্কৃত হয়, রাদারফোর্ডও তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। রাদারফোর্ড আর জে জে থম্পোসনের অনুমাণ ছিলো ক্যাথোড রে টিউবে গ্যাস আয়নিত হয়, আয়নিত গ্যাসকে তড়িৎক্ষেত্রে রাখলে সেটার বিচ্যুতি ঘটবে এমন আশা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেলো চৌম্বকক্ষেত্রে আয়নিত গ্যাস বিচ্যুত হয়, পরবর্তীতে গ্যাসের গতির দিকে তড়িৎক্ষেত্র স্থাপন করে দেখা গেলো তড়িৎ ক্ষেত্রেও আয়ন প্রবাহকে বিচ্যুত করতে পারে- তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকায় থম্পসন ১৮৯৮ সালেই ক্যাথোড রে টিউবের আয়নের ভর এবং আধানের অনুপাত নির্ণয় করলেন এবং দেখা গেলো এ অনুপাত হাইড্রোজেন আয়নের ভর ও আধানের অনুপাতের হাজার গুণ বেশী। থম্পসন ঘোষণা করলেন এটাই পরমাণুর মূল উপাদান, অসংখ্য ইলেক্ট্রন একত্রিত হয়ে একটি পরমাণু গঠন করে এবং এদের গঠনের ধাঁচের উপর পরমাণুর বর্ণালী নির্ভর করে।



থম্পসনের এ অনুমাণ পরবর্তীতে রাদারফোর্ড ভ্রান্ত প্রমাণ করেন, তিনি আবিস্কার করেন প্রতিটি পরমাণুর কেন্দ্রে একটি ধনাত্মক আধানবাহী নিউক্লিয়াস বিদ্যমান। কিন্তু থম্পসনের এই ঘোষণা এক ধরণের জাতীয়তাবাদী বিতর্ক তৈরি করে, থম্পসনের পরমাণু মডেলের তীব্র বিরোধিতা করেন উইলহেম ওসওয়াল্ড, এ সময় থম্পসনকে সমর্থন করেন লর্ড কেলভিন এবং ফিটজেরাল্ড। তারা জার্মানদের নিস্প্রাণ বিজ্ঞান চর্চায় ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা প্রাণের স্পন্দন নিয়ে এসেছে এমনভাবেই থম্পসনের মডেলকে উপস্থাপন করেন।



থম্পসনের পরমাণু মডেলের অনেক রকমের খামতি ছিলো, রাদারফোর্ড, তার শিক্ষকের মতোই তীক্ষ্ণ মেধাবী বিজ্ঞানী ছিলেন, তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করবার সময় তিনি আবিস্কার করলেন একটি তেজস্ক্রিয় মৌল মূলত তিন ধরণের বিকিরণ দেয়, আলফা, বিটা এবং গামা বিকিরণ- আলফা বিকিরণে প্রাপ্ত কণিকাকে সংরক্ষণ করে দেখা গেলো এটা মূলত হিলিয়াম। সে সময়েই পরমাণুর আভ্যন্তরীণ গঠন বিষয়ে এক ধরণের প্রাথমিক ধারণা বিজ্ঞানীদের ভেতরে দানা বাধতে থাকে, কিন্তু কেউই আসলে নিশ্চিত করে মডেলটা তৈরি করতে পারছিলেন না।



তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কুরি পরিবারের নিয়মতান্ত্রিক গবেষণায় জানা গেলো তেজস্কিয়তার পরিমাণ( কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি তেজস্ক্রিয় মৌল কি পরিমাণ বিকিরণ দিবে) নির্ধারণ করে সে মৌলটির পরিমাণ- একটি নির্দিষ্ট সময় পর তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ কমে যায়, একই সাথে মৌলটির ভরও পরিবর্তিত হয়। তেজস্ক্রিয়তার উৎস কিংবা কারণ সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলতে না পারলেও তারা তেজস্ক্রিয় মৌলের হাফ লাইফের ধারণাটা প্রতিষ্ঠিত করেন।



একই সাথে পদার্থবিজ্ঞানের জগতে পুনরায় ঢুকে যায় অনিশ্চয়তা- কোন মৌলটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করবে সেটা কিভাবে নির্ধারিত হয়, পরীক্ষা বলছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্ধেক পরমাণুর তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করবে কিন্তু কোন অর্ধেক মৌল এ বিকিরণ করবে সেটা নির্ধারণ করে কে? নিশ্চিত ভবিষ্যত বানী বিষয়ে পূর্বতন বিজ্ঞানীদের বিশ্বাসে তীব্র আঘাত আসলো এভাবেই। কখন কোন মৌলটি বিকিরণ করবে সেটাও নির্ধারিত নয়, কি কারণে বিকিরণ হবে সেটাও নির্ধারিত নয় কিন্তু সামগ্রীক ভাবে পরিমাণগত বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধেক পরমাণুই হাফ লাইফ শেষে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করছে।



রাদারফোর্ড এমন তেজস্ক্রিয় মৌল নিয়ে গবেষণা করছিলেন কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতে, সেখানে তিনি দেখলেন একটি তেজস্ক্রিয় মৌল কয়েক ধরণের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রদান করতে পারে, তিনি সেসবের আলাদা তালিকাও তৈরি করলেন।

পরবর্তীতে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এবং আলফা কণিকার বিকিরণ দিয়ে পদার্থের গঠন পর্যবেক্ষণের পরীক্ষা শুরু করেন।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29596147 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29596147 2012-05-14 22:29:52
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০২


নিউটন এবং লিবনিজ প্রায় একই সময়ে ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাসকে বিজ্ঞানের সমস্যা সমাঢানের উপায় হিসেবে নির্মাণ করেন, ইন্ট্রেগ্রাল ক্যালকুল্যাসের ধারণা তারও অনেক আগে থেকে প্রচলিত থাকলেও ক্যালক্যুলাসের জন্ম হওয়ার পর ইন্ট্রেগ্রাল ক্যালক্যুলাসের ধারণা ও ব্যবহারও অনেক বেশী বিস্তার লাভ করলো।



গ্যালিলিও যখন বেছিলেন অন্য কোনো কিছুর প্রভাবে বস্তুর গতি পরিবর্তিত হয় তখন তিনি আলাদা করে " বল" শব্দটি ব্যবহার করেন নি,নিউটন তার জন্মের ঠিক ১০০ বছর পর জন্মে বস্তুর গতির পরিবর্তনের কারণগুলোকে সংক্ষেপে গাণিতিক আকারে উপস্থাপন করলেন। অবশ্য নিউটনের সূত্রগুলোকে এখন আমরা যেভাবে দেখছি সেটার পেছনে আরও অনেক বিজ্ঞানীর অবদান আছে।



নিউটন বললেন বস্তুর গতির পরিবর্তনের জন্য বল প্রয়োজন, সে বলের দিকেই বস্তুর গতি পরিবর্তিত হবে, যদি কোনো একটি বস্তুর গতি অপরিবর্তিত থাকে তাহলে বুঝতে হবে এই বস্তুর উপরে ক্রিয়াশীল বলগুলো পরস্পরকে নাকচ করছে।



যদিও নিউটনের সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বলের ধারণা তৈরি হয় নি, তবে প্রত্যেকটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান এই ধারণাটুকু উপস্থাপনের জন্য িউটন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। যদিও নিউটনের তৃতীয় সূত্র ব্যবহারিক জীবনে নিয়মিতই ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু এটা এমন কি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্ররাও অনেক সময় ভুলভাবে বুঝে।



নিউটনের গতিসুত্র পৃথিবীতে যেমন বস্তুর গতির পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করলো ঠিক টেমন ভাবে মহাকর্ষ সূত্রও গ্রহ-নক্ষত্রের গতিকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হলো। নিউটনের সুত্র গাণিতিক সমীকরণ- এবং গাণিতিক সমীকরণ বলেই যেকোনো বস্তুর গতির প্রাথমিক তথ্যগুলো জানা থাকলে এবং এর উপরে প্রযুক্ত বলের দিক ও পরিমাণ জানা থাকলে পরবর্তী যেকোনো মুহূর্তে বস্তুর অবস্থান নিশ্চিত বলা যায়। এই নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করার ক্ষমতাটুকু বিজ্ঞানীদের এক ধরণের স্বস্তি দিয়েছিলো।



নিউটনের সূত্র মেনে চলা জগতে সকল পরিবর্তনের নেপথ্যে কোনো না কোনো উদ্দীপনা বিদ্যমান এবং সেসব উদ্দীপনাকে চিহ্নিত করা সম্ভব হলে পরিস্থিতির পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করা সম্ভব ভাবনাটা শুধু পদার্থবিজ্ঞানে উৎসাহী বিজ্ঞানীদেরই প্রভাবিত করেছিলো এমন না , বরং সিগমুন্ড ফ্রয়েড মনোবিজ্ঞানে এবং কার্ল ম্যার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস তাদের সমাজ বিশ্লেষণেও নিউটনের সূত্রগুলোকে সামাজিক পরিবর্তনের কার্যকরণ নির্ধারণ ব্যবহার করেছেন।



সে সময়েই গ্যাসের গতিতত্ত্ব এক ধরণের অনুমাণ হিসেবে বিকশিত হচ্ছিলো। যেকোনো গ্যাসের আয়তন চাপে পরিবর্তিত হয়, যদি চাপ পরিবর্তিত না হয় তবে তাপমাত্রা বাড়ালেও গ্যাসের আয়তন পরিবর্তিত হয়, বয়েল এবং চার্লসের পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা করতে পরমাণুর ধারণা বিকশিত হওয়ার সময় কিছু পূর্বাণুমাণ ধরে নেওয়া হয়েছিলো- গ্যাস অতিক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে তৈরি, এইসব কণিকাগুলোর ভর নগন্য এবং এরা পরস্পরের সাথে এবং যে পাত্রা রাখা হয়েছে সে পাত্রের দেয়ালের সাথে সারাক্ষণ ধাক্কা খায় এবং এদের গতির দিক পরিবর্তিত হয়।



গ্যাসে অনু-পরমাণুর সংখ্যা এত বেশী যে একটি নির্দিষ্ট পরমাণুর গতিপথ আলাদা করে নির্ধারণ করা কঠিন- প্রায় অসম্ভব, তবে এরাও নিউটনের সুত্র মেনে চলে, প্রতিবার ধাক্কা লাগার আগ পর্যন্ত এরা সরল রেখায় চলাচল করে। কিন্তু প্রতিটি পরমাণুকে আলাদা করে চিহ্নিত করে এডের সামগ্রীক গতির অবস্থা ব্যাখ্যা করা সম্ভব না, তবে সম্মিলিত ভাবে এদের প্রভাবটা পরিমাপযোগ্য। নিশ্চিত, নিখুঁত ভবিষ্যতবানীর জগত থেকে পদার্থ বিজ্ঞান এ সময়েই বিচ্যুত হয়ে যায়, জেমস ক্ল্যার্ক ম্যাক্সওয়েল পরবর্তীতে বললেন একটি গ্যাসের সকল পরমাণুই একই গতিবেগে চলাচল করে না, বরং এদের গতি পরিসাংখ্যনিক, একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতরেই ঠাকবে, ফলে কোনো কোনো পরমাণুর গতিবেগ প্রায় শূণ্য হতে পারে, এবং কোনো কোনো পরমাণুর গতিবেগ অসীম হতে পারে, কিন্তু মোটামুটি সকল পরমাণুর গতি একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে থাকবে- তাপমাত্রা বাড়লে এই গড়গতিবেগ বৃদ্ধি পাবে।



পরিমাপ অযোগ্যতা কিংবা প্রতিটি কণার ভবিষ্যত নিশ্চিত বলতে না পারার অক্ষমতা এক ধরণের দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছিলো, যদিও পরবর্তীতে নিজগুণেই স্ট্যাটিসটিক্যাল মেকানিক্স পদার্থ বিজ্ঞানে জায়গা করে নিয়েছে কিন্তু যেসব বিজ্ঞানী বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করা এবং পরিমাপযোগ্য গাণিতিক আকারে প্রতিটি বস্তুর পরিবর্তনকে চিহ্নিত করটে পারাটাই পদার্থ বিজ্ঞানের সাফল্য- যারা বিশ্বাস করতেন পরীক্ষাগারেই বিজ্ঞানের তত্ত্ব নিশ্চিত প্রমাণিত হবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিমাপ একটি নির্দিষ্ট মাণই প্রদান করবে তারা এমন পরিসংখ্যানিক কণার অস্তিত্বেব বিশ্বাস করেন নি, যদিও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ও ব্যাখ্যায় সফল বলে অগ্যতা মেনে নিয়েছিলেন, তাদের অনুযোগ অব্যহত ছিলো। এমনই বিরোধ পরবর্তীতে বোল্টজম্যানকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29595658 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29595658 2012-05-14 00:43:50
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব-০১ I like relativity and quantum theories

Because I don’t understand them

And they make me feel as if space shifted about like a swan

that can’t settle,

Refusing to sit still and be measured;

And as if the atom were an impulsive thing

Always changing its mind

D. H. Lawrence



পদার্থবিজ্ঞানে অনিশ্চয়তার তত্ত্ব নিয়ে যতটা বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে অন্য কোনো তত্ত্বীয় অনুধাবন ততটা বিতর্কিত হয় নি। চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানে যেকোনো বস্তুর ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ( তার গতির ধারাবাহিক বিবর্তন, তার ভর- তার ভরবেগ, তার উপরে প্রযুক্ত বলের প্রভাব সবই নিখুঁত ভাবে পরিমাপযোগ্য) অবিচ্ছিন্ন। গ্রহ-নক্ষত্রের গতি- কক্ষপথ, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে এবং ভবিষ্যতে ঘটবে, সবই প্রাথমিক অবস্থা জানা থাকলে নিখুঁত ভবিষ্যতবানি করা সম্ভব। এই সম্ভবপরতার ধারণাটিকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হাইজেনবার্গ যখন অনিশ্চয়তার সূত্র দিলেন তখন থেকে অদ্যাবধি এই ধারণাকে মেনে নিতে কিংবা এ ধারণার সাথে খাপ খাওয়াতে পদার্থবিজ্ঞানী এবং সাধারণ বিজ্ঞান পাঠক সবারই কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। ওয়াইবার্গ অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলেছেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাম্ভাব্যতা, কোনো অতিক্ষুদ্র বস্তুর অপরিমাপযোগ্যতা একধরণের বাস্তবতা- এটাকে মেনে নেওয়াই ভালো, এটার দার্শণিক ভিত্তি অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন নেই, তা অনাকাঙ্খিত সংকট তৈরি করবে।



কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জন্মের প্রায় ৭০ বছর পরে ওয়াইনবার্গের এই সাবধানবানী তৎকালীন পদার্থবিজ্ঞানীর মানসিক সংকটকে ততটা ফুটিয়ে তুলতে পারে নি। সেটা তখন এক ধরণের বিভ্রান্তিকর, ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিলো এবং সে সময়ের বর্ষীয়ান পদার্থবিজ্ঞানীদের অধিকাংশই এই তত্ত্ব মেনে নিতে গররাজি ছিলেন।



তারই প্রতিক্রিয়ায় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অপরিমাপযোগ্য সা্ম্ভাব্যতাতত্ত্ব নিয়ে আইনস্টাইনের উক্তি ইশ্বর পাশা খেলা পছন্দ করেন না, যদিও আইনস্টাইন প্রথাগত অর্থে ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন না , কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম কানুনের ভেতরে এক ধরণের পরিমাপযোগ্যতা আছে এ ধারণার স্থির আইনস্টাইন শুধুমাত্র সাম্ভাব্যতাবহুল বলে কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে গ্রহনযোগ্য বিবেচনা করতে পারেন নি, যদিও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জন্মের পেছনে আইনস্টাইনের সামান্য অবদান আছে। আইনস্টাইনের আপত্তিকে একটু আলাদা ভাবে উপস্থাপন করেছেন শ্রোয়েডিংগার। শ্রোয়েডিঙ্গারের কালো বেড়াল জীবিত অথবা মৃত - সেটা নিয়ে বিতর্ক কখনও শেষ হয় নি, বিজ্ঞানীদের ভেতরে বিজ্ঞানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং পরিমাপযোগ্যতার বিতর্ক সাধারণ মানুষের কথোপকথনে এসে বিভিন্ন ধরণের অনুধাবণের জন্ম দিয়েছে।



রবার্ট ফন লিউয়েনহুক , মাইক্রোস্কোপের জনকও বলা যায় তাকে, তার যন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন বস্তুর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করেছিলেন স্থির তরলে নিস্প্রাণ বস্তুরও গতির পরিবর্তন হয়, কোনো রকম বাহ্যিক বলের প্রভাব ছাড়াই এরা গতিশীল, এদের ক্ষুদ্র প্রাণ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন লিউয়েন হুক। তার এই পর্যবেক্ষণ তার ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করেছিলো, বিভিন্ন অভিজাত পরিবারের ড্রইং রুমে রাখা মাইক্রোস্কোপে গৃহস্বামী জড়বস্তুর এমন গতিশীলতা দেখিয়ে আগত অতিথিদের মনোরঞ্জন করতেন।



পরবর্তীতে রবার্ট ব্রাউন এমন গতি পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি পরাগ রেণুর গতিশীলতা দেখে কিছুটা অবাক হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য জড় বস্তু, কাঁচের গুড়ো, পাথরের গুঁড়ো পর্যবেক্ষণ করেও দেখলেন এরাও তরলে ভাসমান অবস্থায় গতিশীল, তবে এদের গতিশীলতার কোনো নির্ধারিত ধরণ নেই, যাদৃচ্ছিক এই গতির পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা রবার্ট ব্রাউনের ছিলো না, পরবর্তীতে ইতিহাস বলছে টরলে জড়-নিস্প্রাণ বস্তুর এই যাদৃচ্ছিক গতিশীলতার পর্যবেক্ষণ এবং এই গতিকে ব্যাখ্যা করবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলো পর্যবেক্ষকেরা তবে কেউই নিশ্চিত কোনো জবাব দিতে পারে নি।



উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি গ্যাসীয় গতিবিদ্যার আবির্ভাব হয়, তত্ত্ব হিসেবে এটা পরবর্তীতে অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে এটার ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিলো বস্তুর তাপের পরিচলন ব্যাখ্যায়। পদার্থবিজ্ঞানীরা সে সময়ে পরমাণু কিংবা অণুর ধারণা নিয়ে আলোচনা করলেও রসায়নে যেভাবে অণু-পরমাণু বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিলো তার সাথে এ আলোচনার সংশ্রব ছিলো না। পদার্থবিদদের পরমাণু এবং রসায়নবিদদের পরমাণু দুটো ভিন্ন ধারণা হিসেবে বিকশিত হচ্ছিলো।



১৮৭২ সালে ডালটনের পরমাণুতত্ত্বকে অগ্যতা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বীকৃতি দেওয়া হলো, একদল রসায়নবিদ পরমাণুর অস্তিত্বের সপক্ষে ছিলেন এবং অন্যান্য রসায়নবিদ গণের কাছে ভরের নিত্যতা সূত্র- গে ল্যুকাসের সূত্র- এইসবই একেবারে প্রাথমিক ধারণা হিসেবে গ্রহনযোগ্য ছিলো। পরিমাপঅযোগ্য কোনো ধারণাকে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক সুবিধার জন্য গ|রহনের ক্ষেত্রে এক ধরণের বাধা হয়ে ছিলো নিউটনের সূত্রের প্রভাব। কজালিটি কিংবা কার্যকরণ সূত্রের প্রভাব পরবর্তীতেও বিজ্ঞানীগণ ব্যবহার করেছেন এবং এখনও করছেন, আইনস্টাইনপূর্ববর্তী সময়ে যতটা ছিলো এখন তারচেয়ে কিছুটা কম।



উনবিংশ শতাব্দির শেষাংশে বিভিন্ন ধরণের পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা দিতে অসমর্থ হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিলো সকল বিষয়ের কার্যকরণ তারা উদঘাটন করতে পারবেন। তেজস্ক্রিয়তা, এক্স রে রশ্মির পর্যবেক্ষণ, তাপবর্ণালী এবং উত্তপ্ত বস্তুর বর্ণালী পর্যবেক্ষণ প্রায় নিয়মিত বিষয় হলেও সেসবের নেপথ্যের কারণ তখনও আবিস্কৃত হয় নি। এরই মধ্যে জে জে থম্পসন কেমব্রিজে ইলেক্ট্রন আবিস্কার করলেন, তার ছাত্র ও গবেষণা সহকারী রাদারফোর্ড পরবর্তীতে আবিস্কার করলেন বিটা কণিকা মূলত ইলেক্ট্রন, তেজস্ক্রিয় বিকিরণের অনিশ্চিত তাৎক্ষণিকতা কিংবা ইলেক্ট্রণের অবস্থান বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ম্যাক্স প্লাংক কণাতত্ত্ব উপস্থাপন করলেন এবং দেখা গেলো তাপবর্ণালীকে এই ধারণা খুব চমৎকার ব্যাখ্যা করতে পারে। ম্যাক্স প্ল্যাংক গাণিতিক সুবিধার জন্য একেবারে ক্ষুদ্রাকৃতির বিচ্ছুরণ ধরে নিয়ে তার বিশ্লেষণ শুরু করেছিলেন, ক্যালকুলাসের পরিচিট সীমাস্থ মাণ ব্যবহার করে তিনি এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিকিরণকে প্রায় শূণ্য ধরে নিয়ে পরবর্তীতে হিসেবেটা মিলিয়ে ফেলবেন এমন একটা ধারণা নিয়ে শুরু করলেও দেখা গেলো কণিকাগুলোর মাণ নির্দিষ্ট একটা সীমায় রাখলে সেটা তাপবর্ণালীকে ব্যাখ্যা করতে পারে- এর চেয়ে ক্ষুদ্র করলে সেটা অর্থহীন হয়ে যায়।



১৯০৫ সালে আইনস্টাইন চারটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেন, প্রতিটিই বিখ্যাত- একটি বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, যেখানে তিনি নিউটনের স্থান ও কালের ধারণাকে স্থান-কালের ধারণা দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেন এবং সে ধারণার সূচনায় বলেন

আলোর গতি পদার্থ বিজ্ঞানের পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি ধ্রুব সংখ্যা এবং পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলো স্থান-কাল নিরপেক্ষ- পরবর্তী ১০০ বছরে প্রতিটি পরীক্ষাগারে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অভ্রান্ততা নিশ্চিত হয়েছে।



ব্রাউনিয়ান গতি ব্যাখ্যা করে লিখেছেন একটি গবেষণা নিবন্ধ, একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলের সীমানায় কোনো যাদৃচ্ছিক গতিশীল কণা পৌঁছাতে কি পরিমাণ সময় লাগতে পারে সেটার একটা পরিমাপ তিনি দিয়েছিলেন গতিবিদ্যার সমীকরণ ব্যবহার করে। সেখানে বলা হয়েছিলো এই যাদৃচ্ছিক পর্যবেক্ষিত গতিশীলতা আদতে সে বস্তুকণার উপরে বিভিন্নমুখী পরমাণু ও অণুর আঘাতের সামষ্টিক পরিণাম, প্রতিটি অণু-পরমাণু এই বস্তুকণাকে আঘাত করে এবং যেহেতু এই আঘাতগুলোর কোনো নির্দিষ্ট ধরণ নেই তাই বস্তুকণার গতিশীলতাকে াদৃচ্ছিক মনে হয়। ৩ বছর পরে মিলিক্যান আইনস্টাইনের এই অনুমাণের পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন আইনস্টাইনের ব্যাখ্যা সঠিক।



ধাতব বস্তু থেকে ইলেক্ট্রন নির্গত হওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনস্টাইন প্ল্যাংকের আলোর কণিকা মতবাদ গ্রহন করে পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আলো তরঙ্গ না কি কণিকা এ প্রশ্নের চুড়ান্ত মীমাংসা হয় কম্পটনের পর্যবেক্ষণে- যদিও কম্পটনের আগেই অন্য একজন এমন পর্যবেক্ষণের অস্তিত্ব জানিয়েছিলেন তবে তার শিক্ষকের তিরস্কারে তিনি এ পর্যবেক্ষণ অস্বীকার করতে বাধ্য হন। কম্পটন পরীক্ষা করে দেখান যখন এক্স রে কোনো ইলেক্ট্রনকে আঘাত করে তখন ইলেক্ট্রনের গতি পরিবর্তিত হয়- ইলেক্ট্রন যে পরিমাণ শক্তি লাভ করে এক্স রে ঠিক একই পরিমাণ শক্তি হারায়- আইনস্টাইন ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা করবার সময় এমন ধারণার কথাই বলেছিলেন পরবর্তীতে আইনস্টাইন ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা করে নোবেল পুরস্কার পান। তবে তার এই ধারণা যে পরবর্তীতে পদার্থ বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে সে সম্পর্কে তিনি তখনও অবগত ছিলেন না।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29592369 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29592369 2012-05-09 00:16:02
শিশুতোষ মহাকর্ষ পাঠ -৪




নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র-মহাকর্ষীয় ধ্রুবক গ্রহ নক্ষত্রের গতিবিধিও ব্যাখ্যা করতে পারছিলো- ইউরেনাসের গতিপথের বিচ্যুতি হিসেবে করে অন্য একটি গ্রহের উপস্থিতি এবং তার অবস্থান চিহ্নিত করতে পারাটা নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বের সবচেয়ে সফল পরীক্ষাগুলোর একটি। তবে বুধের কক্ষপথের ঘুর্ণন কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছিলো না। অন্যান্য গ্রহের সামষ্টিক মহাকর্ষ বলের পরিমাপ নিয়েও যখন এই ঘুর্ণন ব্যাখ্যা করা সম্ভব হলো না তখন ধারণা করা হলো বুধের কক্ষপথের আশেপাশে কোনো ভারী গ্রহের উপস্থিতি আছে- কিন্তু সে ধারণাটাও ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো।



বিদ্যুৎ এবং চৌম্বকক্ষেত্রের সফল সম্মিলন ঘটানোর পর মহাকর্ষের সাথে বিদ্যুৎ-চৌম্বকক্ষেত্রের সম্মিলন ঘটানোর প্রয়াস অব্যহত ছিলো। সেটাই উনবিংশ শতাব্দীর শেষাংশেপদার্থবিজ্ঞানীদের আগ্রহের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিলো। যদি মহাকর্ষ এবং তড়িৎ-চুমব্কীয় ক্ষেত্রের সম্মিলন ঘটাতে হয় তবে মহাকর্ষ ক্ষেত্রকে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সব রীতিই মেনে চলতে হবে। অর্থ্যাৎ বিশেষ আপেক্ষকতা তত্ত্বানুসারে পৃথিবীতে তথ্য সর্বোচ্চ আলোর গতিতে যেতে পারে এ নীতিটা মহাকর্ষ ক্ষেত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দুরবর্তী কোনো স্থানে মহাকর্ষ ক্ষেত্রের যেকোনো পরিবর্তনের সংবেদ পৌঁছাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। যদি এই মুহুর্তে সূর্য কক্ষপথ পরিবর্তন করে, তার প্রভাব পৃথিবীতে পড়বে প্রায় ৫০০ সেকেন্ড পরে, কারণ সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সে সময়টুকু প্রয়োজন হয়।



বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং মহাকর্ষ ক্ষেত্রকে মেলানোর প্রয়াসটা বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলো, মিনকোওস্কি মহাকর্ষ ক্ষেত্রে এবং বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সম্মিলন যে পদ্ধতিতে কল্পনা করেছিলেন সেটা কোনোভাবেই স্থিতিশীল কোনো সমাধান ছিলো না। এই সময় থেকে আইনস্টাইন, নর্ডস্ট্রম ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিলেন।



নর্ডস্ট্রমের সমাধান বিদ্যামন সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান দিতে পারে নি, আইনস্টাইনের সমাধান সফল ভাবেই বুধের কক্ষপথের ব্যতিক্রমী গতিপথের সমাধান দিলো, একই সাথে আইনস্টাইনের সমাধান নতুন একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য সম্ভবনার কথাও বললো। মহাকর্ষ ক্ষেত্রে মূলত ভরের উপস্থিতিতে সে ভরের আশেপাশের স্থানের বক্রতা- অর্থ্যাৎ যেকোনো বস্তুই কোনো ভারী বস্তুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বেঁকে যাবে। এই কৌণিক সরণের পরিমাণ নির্ভর করবে বস্তুর ভরের উপরে, আলোও একই কারণে ভারী কোনো বস্তুর পাশ দিয়ে আসবার সময় তার দিক পরিবর্তন করবে।



আবসল্যুট ক্যালক্যুলাস নিয়ে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন লেভি-সিভিটা, আইনস্টাইনের সাধারণ মহাকর্ষ তত্ত্বে তিনি টেন্সর ক্যালক্যুলাস কিংবা এবসল্যুট ক্যলক্যুলাস ব্যবহার করেছিলেন, সেখানে কিছু কিছু বিষয়ের গাণিতিক ভ্রান্তি উল্লেখ করে লেভি সিভিটা এবং আইনস্টাইনের ভেতরে বেশ দীর্ঘ পত্রবিনিময় হয়।



আইনস্টাইন ১৯১৫ সালে যখন সাধারণ মহাকর্ষ বিষয়ে তার গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করলেন সে সময়ে তার গবেষণা নিবন্ধের উল্লেখযোগ্য অংশই ছিলো এবসল্যুট ক্যালক্যুলাসের প্রাথমিক ধারণা- যে গবেষণা নিবন্ধে ধাপে ধাপে এই এবসল্যুট ক্যালক্যুলাস ব্যবহার করে মহাকর্ষ ক্ষেত্রকে উপস্থাপন করা হয়েছে।



কার্ল সোয়ার্সচাইল্ড ৪০ বছর বয়েসে প্রথম মহাযুদ্ধের সৈনিক হিসেবে রাশিয়ায় যান, সেখানে তিনি আইনস্টাইনের সমীকরণের সমাধান করেন। তিনি প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যু বরণ করেন কিন্তু তার অসুস্থতার ভেতরে তিনি আইনস্টাইনের তত্ত্বের উপরে ভিত্তি করে তিনটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেন।



আলেক্সান্ডার ফ্রিডম্যান রাশিয়ার হয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন, তিনি বিমান বাহিনীর অংশ হিসেবে বিমানযুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে এরোডিনামিক্স পড়িয়েছেন, পরবর্তীতে তিনি হাইড্রোডিনামিক্সের উপরে গবেষণা করেন। আলেক্সান্ডার ফ্রিডম্যানের আইনস্টাইন সমীকরণের সমাধান যখন আইনস্টাইনের কাছে প্রেরণ করা হলো তিনি প্রকাশককে লিখে পাঠালেন ফ্রিডম্যানের সমাধান তার কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হচ্ছে না। ফ্রিডম্যান আইনস্টাইনের তত্ত্বের উপরে ভিত্তিকে সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের উপরে মহাকর্ষ তত্ত্বের ব্যবহার করে দেখিয়েছিলেন মহাবিশ্বের বক্রতা ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক হতে পারে- মহাবিশ্বের বক্রতার উপরে মহাবিশ্বের সাম্ভাব্য ভবিষ্যতও নির্ভরশীল।



আইনস্টাইন পদার্থবিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেও তিনি আদতে স্থির মহাবিশ্বের পক্ষপাতি ছিলেন। মহাবিশ্ব অসম্প্রসারণশীল এবং এর বক্রতা শূণ্য এ ধারণায় আঘাত করেছিলো ফ্রিডম্যানের সমাধান। ফ্রিডম্যান আইনস্টাইনের আপত্তি জেনে তাকে পাল্টা চিঠি লিখে জানালেন আমার সমাধানের যে যে অংশ আপনার বোধগম্য হয় নি সেসব আমি পুনরায় বিস্তারিত আপনাকে জানাচ্ছি-



অবশ্য ফ্রিডম্যান ১৯২৫ সালেই টাইফয়েডে মৃত্যু বরণ করেন। তারও ৮ বছর পরে রবার্টসন- ওয়াকার আইনস্টাইনের তত্ত্বের উপরে ভিত্তি করে একই রকম সমাধানে পৌঁছান। তার আগেই অবশ্য হাবল আবিস্কার করেছেন আমাদের কাছাকাছি নক্ষত্রপূঞ্জগুলো ক্রমশ আমাদের থেকে দুরে সরে যাচ্ছে- অর্থ্যাৎ মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। এই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আটকাতে আইনস্টাইন সম্পূর্ণ আবেগের বশবর্তী হয়েই সম্ভবত কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট ব্যবহার করলেন- গাণিতিক ভাবে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের ব্যবহারে আইনস্টাইনের সমীকরণের তেমন কোনো পরিবর্তন হলো না, বরং ধারণার দিক দিয়ে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের গ্রহনযোগ্যতা বিষয়টাই প্রশ্নবিদ্ধ হলো। কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের মাণ সম্পর্কে তেমন স্পষ্ট ধারণা না দিয়ে আইনস্টাইনের ধারণা ছিলো যখন মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ফলে মহাবিশ্বের আকৃতি বৃদ্ধি পাবে তখন কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট এ প্রসারণ আটকাতে সক্ষম হবে।



পরবর্তীতে আইনস্টাইন নিজেই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল স্বীকৃতি দিয়ে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টকে আইনস্টাইন সমীকরণ থেকে বাদ দিয়ে দেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29586391 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29586391 2012-04-29 02:46:47
ভাষা


অন্যান্য প্রাণীর সাথে মানুষের স্পষ্ট পার্থক্য আছে, এ পার্থক্য যতটা না প্রবৃত্তিগত তার চেয়েও বেশী আকৃতিগত। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রাণীত্বের বাইরে মানুষের আকৃতিগত বিকাশ অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তার বেঁচে থাকবার সম্ভবনা অনেক বেশী বৃদ্ধি করেছে। এখন পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য মতবাদ মানুষের আদিমপুরুষের জন্ম হয়েছিলো আফ্রিকায়- কিংবা আমরা যাদের আধুনিক মানুষ বলছি তাদের জন্ম হয়েছিলো আফ্রিকায়। যদিও বহিরাবরণ দেখলে মনে হয় না এরপরও বাস্তবতা হলো আফ্রিকা এবং ইউরোপের মানুষের ভেতরে আভ্যন্তরীণ কাঠামোতে তফাত খুবই কম। এদের ডিএনএ'র গঠনেও অনেক মিল, যদিও দীর্ঘ সময় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে কাটিয়ে এদের বহিরাঙ্গে অনেক ধরণের পরিবর্তন এসেছে তারপরও তাদের ডিএনএ এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল কনটেন্ট পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে তারা একই উৎস থেকে বিবর্তিত হয়েছে।



রাসায়নিক পরীক্ষাগারে যখন আবিস্কৃত হলো মানুষের রক্তে বিশেষ ধরণের প্রোটিন রয়েছে যা বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বিক্রিয়া করে তখন থেকে মানুষকে রক্তের ভিত্তিতে ৪টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে- ও, এ, বি এবং এবি- অন্য একটি রাসায়নিক যৌগের উপস্থিতি- অনুপস্থিতি বিবেচনা করে এই চার ভাগকে আরও দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে- সুতরাং পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেরই ধমনীতেই রক্ত এই আট ভাগের কোন না কোনটি প্রবাহিত হচ্ছে।



কোনো কোনো গোত্রে ও পজিটিভ রক্তধারী মানুষের সংখ্যা বেশী- এমন কি মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশী মানুষের রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ, বিজ্ঞানীদের অনুমাণ কোন একটি সময়ে কোনো একটি সংক্রামক ব্যাধীর সংক্রামনের পরিমাণ যদি রক্তের গ্রুপের উপরে নির্ভর করে তাহলে এ ধরণের প্রবনতাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। ও পজিটিভ রক্তের মানুষের বিভিন্ন ধরণের জীবানু সংক্রামণের বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিদ্যমান- যে কারণে অন্য তিনটি রক্তের গ্রুপের মানুষজন জীবানু সংক্রামণে মৃত্যুমুখে পতিত হলেও ও পজিটিভ রক্তধারী মানুষেরা সে জীবানুর সংক্রামণে মৃত্যুবরণ করে নি।



প্রতিটি অঞ্চলের নির্দিষ্ট আঞ্চলিক বৈশিষ্ঠ্য আছে- সে বৈশিষ্ঠ্য নির্ধারণ করে সেখানে কি কি জীবানুর অবাধ বিস্তার সম্ভবপর- এসব পরিসংখ্যানগত বিবেচনায় যদিও চুড়ান্ত কোনো রায় দেওয়া অনুচিত তারপরও বলা যায় পৃথিবীর মানুষদের বর্তমানের বৈচিত্র নিছকই প্রাকৃতিক বিবর্তনের প্রভাব- আলাদা আলাদা উৎস থেকে এখানে মানুষের উৎপত্তি হয় নি। পৃথিবীর বিশাল সংখ্যক মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল কনটেন্ট যাচাই করে দেখা গেছে এদের ভেতরে মাত্র ৭টি নারী এবং ৪জন পুরুষের অস্তিত্ব আছে- কোন না কোন ভাবে আমরা এই ৭ নারী এবং ৪ জন পুরুষের উত্তরপুরুষ। সেই ধারাবাহিক যাত্রাপথের একটা পর্যায়ে আমরা এখানে উপস্থিত। এ যাত্রাপথ মসৃণ ছিলো না, নানাবিধ প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে আমাদের এ অবস্থানে আসতে হয়েছে।



সংঘবদ্ধ জীব হিসেবে একটি গোত্রে তাদের বসবাস ছিলো, গোত্রবদ্ধ জীব হিসেবে অন্যান্য জীবের সাথে আমাদের সংযোগ স্থাপন করতে হয়েছে, বিভিন্ন চিহ্ন , শাররীক ভঙ্গি এবং উচ্চারিত শব্দে আমরা আমাদের মনোভাব প্রকাশ করতে প্রশিক্ষিত হয়েছি। মানুষকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্থবোধক শব্দ উচ্চারণ শিখতে হয়েছে, একটি সমাজে কিংবা একটি গোত্রে একটা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একধরণের ভাষারীতিতে অভ্যস্ত হতে হয়েছে। যদিও তেমন কোনো কারণ নেই এরপরও ভাষাবিজ্ঞানীদের অনুমাণ মানুষের উচ্চারিত প্রাথমিক শব্দগুলো একস্বর কিংবা দ্বিস্বর বিশিষ্ট শব্দ ছিলো, সময়ের সাথে মানুষের উচ্চারণ পারদর্শিতা বেড়েছে , শব্দে স্বরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবেই একটা সময় সরল এক শব্দ বিশিষ্ট বাক্য থেকে যৌগিক ও জটিল ভাবপ্রকাশউপযোগী ভাষার জন্ম হয়েছে।



ভাষা পারস্পরিক যোগাযোগে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে- শব্দ সম্ভার বেড়েছে, বেড়েছে প্রকাশযোগ্যতা। আজ যে শিশুটা ২ বছর বয়েসেই ৪০ শব্দের অভিধান নিয়ে তার জীবন শুরু করছে তার এই অনায়াস উচ্চারণ সক্ষমতার নেপথ্যে মানুষের ২ লক্ষ বছরের গোপন পরিশ্রমের স্মৃতি লুকিয়ে আছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29583555 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29583555 2012-04-24 00:57:24
প্রতিভাবান


অশিক্ষিত একজন, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তিনি যখন সমস্যার সমাধান করতে চান, তার সমস্যা সমাধান পদ্ধতির সাথে অপরাপর প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সমস্যা সমাধানপদ্ধতি ভিন্ন হবে- সমস্যার গ্রহনযোগ্য সমাধান হয়তো তিনি কোনো এক সময় করেও ফেলতে সক্ষম হবেন- যদি সমস্যা সমাধান করবার দক্ষতাই বুদ্ধিমত্তার পরিমাপ হয় তাহলে প্রশিক্ষিত এবং অশিক্ষিত উভয়েই সমান মাপের বুদ্ধিমত্তার অধিকারি বিবেচিত হতে পারেন- হয়তো দুজনের সমস্যা সমাধানের সময় আলাদা হবে কিন্তু তারা উভয়েই কোনো এক সময়ে সমস্যাটির সমাধান খুঁজে পেয়েছেন।



মনস্তত্ত্ববিদগণ ধরেই নেন একজন শিক্ষার্থী তার বয়েসানুসারে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত থাকবে। তার বয়েস জেনেই সে বয়েসউপযোগী সমস্যা সমাধানের জন্য তাকে দিবেন, সেসব সমস্যা যদি সে সমাধান করে ফেলতে পারে তার চেয়ে বয়স্ক একজনের সমস্যা সমাধানের জন্য তাকে দিবেন- এভাবে একটা পর্যায়ে শিক্ষার্থী সকল সমস্যা সমাধানেই ব্যর্থ হবে- সে অনুযায়ী তার বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করা হবে। সেখানে একজন শিক্ষার্থী যে তার বয়েস অনুযায়ী সকল সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম তার বুদ্ধিমত্তার মাণাঙ্ক হবে ১০০- যদি ১০ বছর বয়েসী একজন ১৪ বছর বয়েসী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সমস্যা সমাধান করতে পারে তাহলে তার বুদ্ধিমত্তার পরিমাপ হবে ১৪০- এমনি ভাবে যদি ১০ বছর বয়স্ক একজন ১৬ বছর বয়েসী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সমস্যা সমাধান করতে পারেন তাহলে তার বুদ্ধিমত্তার পরিমাপ হবে ১৬০। প্রশ্নের ধরণ, বিষয়বস্তু চয়নের ভিন্নতা থাকতে পারে- কিন্তু মোটা দাগে বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের প্রক্রিয়া এমনই।



যার আইকিউ ১৫০ এর উপরে তাকে কি আমরা জিনিয়াস অভিহিত করতে পারবো? এমন একটা প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হয়েছিলো কয়েক দিন আগে। কাকে জিনিয়াস বলা যাবে? সমস্যা সমাধানের দক্ষতা- সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনে প্রচলিত ভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে পারা এবং সমস্যার গ্রহনযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারার দক্ষতা হয়তো অপরাপর সাধারণ মানুষের তুলনায় তার সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকেই প্রতিষ্ঠিত করে- সে দক্ষতা কি তাকে জিনিয়াস অভিহিত করতে যথেষ্ট?



ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সকল অনুভুতি- উদ্দিপনার শরীরবৃত্তীয় প্রকাশ হচ্ছে মস্তিস্কের রাসায়নিক বিক্রিয়া, বিভিন্ন উদ্দীপনায় মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশ উদ্দীপ্ত হয় এবং আমরা আশৈশব সেসব উদ্দীপনাকে আলাদা আলাদা চিহ্নিত করার প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। কারো কারো ক্ষেত্রে এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি অপরাপর সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশী- একজনের শরীরবৃত্তিয় সক্ষমতা কি তাকে অপরাপর মানুষ থেকে ভিন্ন কেউ করে তুলতে পারে?



একজন হয়তো ১০ কেজি ভার বহন করতে পারে না, অন্যজন অনায়াসে ১০০ কেজি ভর বহন করতে পারে- যে ১০০ কেজি ভর বহন করতে সক্ষম তার এই শাররীক দক্ষতা কি তাকে জিনিয়াস হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম?



ধরা যাক আইনস্টাইন- তিনি একই বছরে তিনটি গবেষণা প্রবন্ধে তিনটি তৎকালীন সমস্যার সমাধান করেছিলেন, সে বছরটা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবার বছর- ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট- বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং ব্রাউনিয়ান গতির ব্যাখ্যা প্রদান করেছিলেন আইনস্টাইন সে বছর। যদি সে বছর আইনস্টাইন এই তিনটি সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হতেন তাহলে কি এই তিনটি সমস্যার সমাধান হতো না?



বিজ্ঞান একধরণের সামষ্টিক প্রক্রিয়া- এখানে প্রত্যেকেই নিজস্ব অবদান রাখে- কারো অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু সে সমস্যার সমাধানের অতীত ব্যর্থতাগুলোও সফল সমাধানের সূত্র হিসেবে কাজ করে কিন্তু এই ব্যর্থতাগুলো স্বীকৃতি পায় না। ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যখ্যা করতে আইনস্টাইন যে ধারণাগুলো ব্যবহার করেছিলেন সেই ধারণাগুলো অতীতেও একটি সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়েছিলো- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাকে ব্যবহার করেছিলেন একটি সমস্যার সমাধান হিসেবে- আইনস্টাইন প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে গ্রহন না করে সেই ধারণাকেই গ্রহনযোগ্য মনে করেছিলেন। সমস্যার সমাধান খুঁজে নেওয়ার এ দক্ষতাটুকু অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ- কিন্তু এই সমস্যাটুকু কোনো না কোনো সময় কেউ না কেউ সমাধান করতোই-



আইনস্টাইন তার ১৯০৫ সালে প্রকাশিত তিনটি গবেষণা নিবন্ধে যাদের প্রস্তাবিত সমাধানসূত্র নিয়ে কাজ করেছেন আইনস্টাইনের সমাধানের নেপথ্যে তাদের অবদানটুকু অনুল্লেখিত। আইনস্টাইন যে সময়ে সাধারণ আপেক্ষিতাসূত্র প্রদান করলেন তারও ৫ বছর আগে একই প্রক্রিয়ায় হিলবার্ট সমস্যাটি সমাধান করেছিলেন, বলা হয় তারা একই সময়ে একই সমীকরণে পৌঁছান- আইনস্টাইন হুট করেই সমস্যাটির সমাধান করে ফেলেছেন এমন না, তিনি তারও দুই বছর আগে থেকেই এই বিশেষ সমস্যাটি সমাধানের জন্য বিশেষ একটি গাণিতিক বিধিও শিখেছেন।



তার সমীকরণ প্রকাশিত হওয়ার ১ বছরের ভেতরেই সেটার একটা সমাধান করেন শোয়ার্সচাইল্ড- তিনি তখন যুদ্ধক্ষেত্রের সৈনিক- আইনস্টাইন তার সমীকরণ সমাধান করার আগেই দুজন তার সমীকরণ সমাধান করে ফেলেছেন এবং পদার্থবিজ্ঞানের দুটো বিষয়কে ব্যখ্যার প্রয়োজনে সেটার ব্যবহারও করেছেন। আইনস্টাইনকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং বুদ্ধিমান মানুষদের একজন হিসেবে- সে ক্ষেত্রে যারা তারও আগে কোনো সমস্যার সমাধান করে ফেললো তারা কি আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি জিনিয়াস, বেশি বুদ্ধিমান ছিলেন?



মনস্তাত্ত্বিক ভাবে এই ধরণের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহন সক্ষমতার পরিমাপ। কেউ কেউ অপরাপর সাধারণ মানুষের চেয়ে শিক্ষাগ্রহনে ধীর গতির , এদের আইকিউ ১০০ থেকে কম- ধরা যায় যাদের আইকিউ ৭০ এর নীচে তারা নির্বোধ- কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত মানুষই- অপরাপর মানুষের সাথে তাদের ভিন্নতা হলো তারা প্রচলিত শিক্ষা পরিমাপে তার সমবয়সীদের তুলনায় শিক্ষা আত্মস্থকরণে কিছুটা ধীর গতির- তারা ১০ বছরে বয়েসে ৭ বছরের শিশুর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করেছেন, হয়তো তারা ২০ বছর বয়েসে ১৪-১৫ বছর বয়েসের শিশুদের উপযুক্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবেন। এভাবে তারা ৩০ বছর বয়েসে এসে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের সমকক্ষ হয়ে উঠবেন- আনুষ্ঠানি ভাবে মানুষের শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হয় ২৩ বছরের আশে পাশে- সে শিক্ষা সমাপ্ত করতে হয়তো একজন ৭০ আইকিউর মানুষের লাগবে ৩৬ বছর, কিন্তু তিনি লেগে থাকলে অবশ্যই পারবেন সেসব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করতে।



শরীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইটস- ইলেক্ট্রন- মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশের ভেতরে সংযোগ স্থাপন করে- প্রতিটি ক্ষেত্রেই মস্তিস্কের এক কিংবা একাধিক অংশ উদ্দীপ্ত হয়- এদের ভেতরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায়- প্রতিটি নিউরণ হয়তো উদ্দীপ্ত হয় না সমানভাবে কিন্তু প্রতিটি নিউরণের সাথেই এইসব অভিজ্ঞতার সংযোগ থাকে- দুই এর সাথে দুই যোগ করতে হবে কোন কোন নিউরণের ভেতরে সংযোগ স্থাপন করতে হবে সেটা শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া জানে- লাল রং দেখলে গাড়ী থামাতে হবে এই প্রক্রিয়া মস্তিস্কের কোন কোন অংশকে উদ্দীপ্ত করলে তা সম্ভব এটাও প্রশিক্ষণের অংশ-



একজন প্রতিভাবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে মস্তিস্কের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন নিউরণের আন্ত:সংযোগের সক্রিয়তা অপরাপর সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশী- তিনি এই শাররীক সক্ষমতা নিয়ে জন্মেছেন এবং তার প্রশিক্ষণ তাকে এই রক্তসঞ্চালন নিয়ন্ত্রনের দক্ষতা দিয়েছে কিন্তু যদি রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকে তাহলে সেটা বিভিন্ন ধরণের মানসিক প্রতিক্রিয়ার ত্রুটি হিসেবে প্রকাশিত হয়।



একজন অটিস্টিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও মস্তিস্কে এই ধরণের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়- মাত্রাভেদে দেখা যায় মস্তিস্কের একটি বিশেষ অংশে রক্তসঞ্চালন এবং উদ্দীপনা অসহনীয় পর্যায়ে বৃদ্ধি পায়- কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেসব রক্তসঞ্চালন মস্তিস্কের ভুল অংশেও পরিলক্ষিত হয়- এমন নিউরাল নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত সমস্যা আদতে আচরণে প্রকাশ পায়- যাদের এমন সমস্যা সামাজিক বিবেচনায় সহনীয় তাদের আমরা শূঁচিবায়ুগ্রস্ত- কিছুক্ষেত্রে বাতিকগ্রস্ত বলি কিন্তু সেটা সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করলে আমরা তাকে মানসিক সমস্যাক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করি-



একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি যে সকল পরিবেশে সকল উদ্দীপনায় একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখাবেন এমন না ও হতে পারে- সামাজিক পরিবেশে সামাজিক গ্রহনযোগ্য আচরণ করবার ব্যর্থতাও এদের থাকতে পারে- অন্য সব প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ মনোনিবেশে হয়তো তাদের সামাজিক আচরণ দক্ষতার পরিমাণটুকু কম- তবে তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতায় তাদের কিঞ্চিৎ প্রশ্রয় দেয় সমাজ। তাদের এইসব সামজিক ত্রুটি আমরা প্রতিভাবানের ক্ষ্যাপামি হিসেবে পাশ কাটিয়ে যাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29582129 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29582129 2012-04-22 01:00:12
শিশুতোষ মহাকর্ষ পাঠ -৩


তার পিতার গবেষক মানসের কিছুটা তার ভেতরেও সঞ্চারিত হয়েছিলো, তিনি প্রতিটি বিষয়কেই পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। বর্তমানের বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতির ধারাবাহিকতা গ্যালিলিও'র সময় থেকে অদ্যাবধি একই রকম রয়ে গেছে।



এরিস্টটল তার পুস্তকে লিখেছিলেন ভারী বস্তু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত ভুমিতে পতিত হবে। এটা পর্যবেক্ষণ লব্ধ জ্ঞান, গ্যালিলিও আগে কেউ যৌক্তিক ভাবে এই পর্যবেক্ষণ লব্ধ জ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন নি।



যেহেতু তখনও নিউটনের গতিসূত্রগুলো লিপিবদ্ধ হয় নি( নিউটন জন্মগ্রহন করেছিলেন গ্যালিলিওর ঠিক ১০০ বছর পরে) সুতরাং গ্যালিলিও একটি যৌক্তিক দ্বন্দ্ব তৈরি করলেন, তিনি বললেন ধরা যাক ভারী বস্তু হালকা বস্তুর চেয়ে দ্রুত পতিত হয়, এখন যদি আমরা একটা ভারী বস্তুকে একটি হালকা বস্তুর সাথে বেধে দেই, তাহলে তার পতনের পরিণতি কি হবে?



প্রথম যুক্তি বলছে ভারী বস্তু যেহেতু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত মাটিতে পরবে, সুতরাং একসাথে বাধা থাকবার দরুণ হালকা বস্তুটি ভারী বস্তুকে পেছনে টেনে রাখবে, ফলে ভারি বস্তুটি একক ভাবে যতটা দ্রুত মাটিতে পরতো তার চেয়ে ধীরে মাটিতে পরবে-



দ্বিতীয় যুক্তি বলছে যেহেতু আমরা দুটো বস্তুকে একই সাথে বেধেছি, ফলে তাদের সর্বমোট ভর বেড়ে যাবে, ফলে তারা আগের তুলনায় দ্রুত মাটিতে পরবে-



শুধুমাত্র দর্শণের উপর নির্ভর করে এ বিষয়ে কোনো মীমাংসা সম্ভব নয়। তিনি ঘোষণা করলেন যদি বাতাসের বাধা না থাকে তাহলে হালকা বস্তু এবং ভারী বস্তুকে একই উচ্চতা থেকে ছাড়া হলে তারা উভয়েই একই সময়ে মাটিতে পরবে।



কোনো পড়ন্ত বস্তুর গতি পরিবর্তনের সূত্রগুলো গ্যালিলিও লিপিবদ্ধ করেছিলেন, পড়ন্ত বস্তুর গতির সূত্রগুলোর মূল বক্তব্য কোনো বাধার অনুপস্থিতিতে সকল বস্তুই একই সময়ে একই গতিবেগ অর্জন করবে। বস্তুর ওজন তার গতির মাণকে পরিবর্তিত করে না।



১৯০৮ সালে আইন্সটাইন পুনরায় এ সমস্যা নিয়ে ভাবা শুরু করেছিলেন। তিনি গ্যালিলিওর বক্তব্যের সামান্য সাধারণীকরণ করলেন। ৪০০ বছর আগে গ্যালিলিও বলেছিলেন মুক্তভারে পড়ন্ত সকল বস্তু একই সময়ে একই দুরত্ব অতিক্রম করে। আইন্সটাইনের প্রিন্সিপল ওফ ইকুইভ্যালেন্স মোটামুটি এ বক্তব্যই প্রকাশ করে। একই সাথে আইন্সটাইন তার থট এক্সপেরিমেন্টগুলোর সাহায্য গ্যালিলিওর ধারাবাহিকতা মেনেই প্রমাণ করতে পারলেন যেকোনো বদ্ধ ঘরে মুক্ত ভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তু অন্য কোনো বলের প্রভাবে গতিশীল না কি মহাকর্ষের কারণে গতিশীল এটা নির্ধারণ করা সম্ভব না। উভয় ক্ষেত্রেই পর্যবেক্ষণের চরিত্র একই হবে- অতীতে মহাকর্ষ বল এবং সাধারণ বলের ভেতরে এক ধরণের কষ্টকল্পিত ব্যবধান ছিলো, আইনস্টাইন এই ব্যবধানটুকু মুছে দিলেন।



পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে( যদিও তার আগেই গণিতবিদ হিলবার্ট এ সমস্যাটির সমাধান করেছিলেন) আইনস্টাইন তার সাধারণ মহাকর্ষ তত্ত্ব প্রকাশ করলেন।



মহাকর্ষ তত্ত্ব বুধের কক্ষপথের ধীর ঘূর্ণনকে সাফল্যের সাথে ব্যাখ্যা করলো, আইনস্টাইনের মহাকর্ষতত্ত্বে বলা হলো মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এমন কি আলোর গতিপথও পরিবর্তিত হবে। ১৯২২ সালে( সম্ভবত) ব্রাজিলে এডিংটন সুর্যগ্রহণের সময়ে আলোর গতিপথের পরিবর্তন পরিমাপ করে বললেন আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্ব সঠিক, মহাকর্ষের প্রভাবে সত্যি সত্যিই আলোর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। পরবর্তীতে কেউ কেউ বলেছেন এডিংটন মহাকর্ষ তত্ত্বের সৈন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে সেটাকে সঠিক প্রমাণের জন্য কিছুটা ছলচাতুরি করেছিলেন। আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্বের মাহত্ব্য তাতে ক্ষুন্ন হয় নি, বরং পরবর্তীতে আরও সুক্ষ্ণ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে আইনস্টাইনের তত্ত্ব মোটামুটি সকল বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণই সমর্থন করে। কয়েক দিন আগে সুইজারল্যান্ডের সার্নের পরীক্ষাগারের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ আইনস্টাইনের একটি অনুস্বীকার্যকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেছিলো, পরে নিশ্চিত হওয়া গেলো আসলে বিষয়টি ঘটেছিলো পরীক্ষণের ত্রুটির কারণে- পৃথিবীতে আলোর চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন কোনো কণিকার অস্তিত্ব নেই।



১৯১৭ সালেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক শোয়ার্সচাইল্ড আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্বের একটি সমীকরণ সমাধান করে সিদ্ধান্ত জানালেন ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব সম্ভবপর। ১৯২৪ সালে ফ্রিডম্যান আইনস্টাইনের সমীকরণ সমাধান করে সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল, আইনস্টাইন তার এই সমাধানকে স্বীকৃতি দেন নি। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে হাবল যখন প্রমাণ করলে দুরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো অধিকাংশই পৃথিবী থেকে দুরে সরে যাচ্ছে তখন আইনস্টাইন মেনে নিলেন মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। তার আগ পর্যন্ত তিনি কসমোলজিক্যাল ধ্রুবক এনে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বকে স্থিতিশীল করার নানাবিধ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন।



সে সময়েই এডিংটনের ছাত্র হিসেবে ইংল্যান্ডে আসছিলেন চন্দ্রশেখর। অতিরিক্ত ভারী নক্ষত্র নিজের ভরের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে কেন্দ্রে পতিত হবে, ফলে ব্ল্যাকহোলের উদ্ভব ঘটবে- এই সীমাস্থ মাণটি নির্ধারণ করবে পাউলির বর্জন সূত্র- নক্ষত্রের মতো এত ভারী বস্তুর মহাকর্ষীয় সংকোচনের সীমাস্ত মাণ নির্ধারণ করবে পাউলির বর্জন সূত্র এডিংটন প্রাথমিক ভাবে এ অনুসিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। পরবর্তীতে জানা গেলো চন্দ্রশেখরের অনুমাণ সঠিক।



সূর্যের চেয়ে মোটামুটি দেড়গুণ ভারী নক্ষত্র একটা পর্যায়ে নিজের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে সংকুচিত হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ন নি:সংশয়ে প্রমাণিত হয় নি, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে যখন এস্ট্রোনমি, মাহকর্ষ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক আগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলো তখন কোনো কোনো গবেষক নিউট্রন স্টারের অস্তিত্বের কথা বললেন। নিউট্রন স্টার নক্ষত্রের একটা পর্যায়- যে পর্যায়ে জ্বালানি নি:শেষ হওয়া নক্ষত্র নিজের কেন্দ্রে পতিত হয়ে একটি বিশালাকার নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়।



নক্ষত্র নিজ অক্ষে ঘুর্ণায়মান। একটি ঘুর্ননশীল বস্তুর ঘুর্ণন গতিবেগের বর্গ এবং এর ব্যাসার্ধের গুণফল একটি ধ্রুবক। যখন নক্ষত্র নিজের কেন্দ্রের দিকে পতিত হওয়ার সময় একটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হচ্ছে তখন এর ব্যাসার্ধ কমে যাচ্ছে- অনুমান করা হয় একটি নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ আনুমাণিক কয়েক শত কিলোমিটার। ফলে এর ঘুর্ণনবেগ মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।



এক ঘন মিটার নিউক্লিয়াসের ভর এক মিলিয়ন বিলিয়ন কেজি। এটা নিউক্লিয়াসের গড় ঘনত্ব- কোনো ভারী বস্তুর মহাকর্ষীয় বলের পরিমান নির্ধারণ করে এর গড় ঘনত্ব এবং এর ব্যাসার্ধের গুণফল। একটি নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ যতই হোক না কেনো এর পৃষ্টভাগে কোনো বস্তু মহাকর্ষীয় আকর্ষণে নিউট্রন স্টারের সাথে আটকে থাকবে কি না সেটা নির্ধারণ করে নিউট্রন স্টারের ঘুর্ণনবেগ। সামান্য অঙ্ক কষে প্রমাণ করা সম্ভব এই সীমাস্থ মাণটি বলছে কোনো নিউট্রন স্টার তার অক্ষে প্রতি সেকেন্ডে ৮১ বারের বেশি ঘুরতে পারবে না। নিউট্রন স্টারের ক্ষেত্রে তার ঘুর্ণন বেগ এই সংখ্যা দ্বারাই সীমাবদ্ধ। এটার অর্থ প্রতি ১২.৩ মিলি সেকেন্ডে নিউট্রন স্টারটি নিজের অক্ষে একবার ঘুরে আসবে।



মিলিসেকেন্ড পালসারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে ১৯৬৮ সালেই। নির্ধারিত সময় পর পর এই পালসারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণের তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকীরণ করে। এই বিকীরণ যদি পৃথিবীর অক্ষের সাথে সমান্তরাল হয় তবেই পৃথিবী থেকে এটা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।



মহাবিশ্বের নক্ষত্রের প্রাচুর্যতায় সম্ভবনা অতিক্ষীণ হলেও এমন অসংখ্য পালসারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। পালসারের ঘুর্ণনবেগ, বিকীরিত তরঙ্গশক্তির পরিমাণ থেকে পালসার( নিউট্রন স্টার) এর ভর অনুমাণ করা সম্ভব। এ বিষয়ে এখনও গবেষণা অব্যাহত। এইসব নিউট্রন স্টারের পরিণতি কি হতে পারে এ বিষয়ে তেমন কোনো মীমাংসায় উপনীত হন নি বৈজ্ঞানিকগণ। তবে বলা হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে এই নিউট্রন স্টারগুলোর ঘুর্ণনগতি হ্রাস পাবে, একটা সময়ে এগুলো স্থির হয়ে যাবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29570931 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29570931 2012-04-02 23:48:30
শিশুতোষ মহাকর্ষ পাঠ-২


তাদের আকাশের নক্ষত্রগুলো ছিলো স্থির, হয়তো খালি চোখে দেখতে পাওয়া প্রায় ৬০০০ উজ্জ্বল নক্ষত্রের সবগুলোই কোনো না কোনো জ্যামিতিক নক্সায় সাজিয়ে তারা খেয়াল করে দেখেছে পৃথিবীর আকাশে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ধরণের নক্ষত্রসজ্জ্বা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তারা সেগুলোর ভিত্তিতে মানুষের ভবিষ্যত কল্পনা করেছে, বিভিন্ন নক্ষত্রের প্রভাবে জন্ম নেওয়া মানুষদের সামষ্টিক চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য বিশ্লেষণ করেছে। এমন কি এই প্রায় নিশ্চল পটভূমিতে সঞ্চারণশীল গ্রহগুলোর পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখেছে কোনো না কোনো ভাবে এদর গতিপথ যতই উদ্ভট হোক না কেনো সেটা পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। সেই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই তারা ঘোষণা করেছে মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে একদা ইশ্বর সৃষ্টি করেছেন, তারাই গ্রহগুলোকে সঞ্চারণশীল করেছেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনার অলৌকিক ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন তারা।



সেই দৃঢ় বিশ্বাসের একটা সংকলন করেছিলেন গ্রীসের এরিস্টটল। পারস্য সভ্যতার আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে গ্রীক সভ্যতার পুস্তকগুলো আরবিতে অনুদিত হয়েছে, সেভাবেই সেগুলো পরবর্তীতে পৌঁছেছে ইউরোপে, এমন কি গ্যালিলিও যখন চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র হিসেবে জায়গীর থাকছেন তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এরিস্টটলের গ্রহতত্ত্ব, নক্ষত্রতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব পড়ানো হতো। অবশ্য তার আগেই টাইকো ব্রাহে গীর্জার মাণমন্দির থেকে নক্ষত্র ও গরহের গতিপথ সম্পর্কিত বিপূল পরিমাণ তথ্য সংকলন করেছেন।



কোপার্নিকাস তার সেই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে জানালেন গ্রহগুলোর এই উদ্ভট গতিপথের ধাঁধা সহজেই সমাধান করা যায়, যদি ধরে নেওয়া হয় পৃথিবী নয় বরং সূর্য মহাবিশ্বের কেন্দ্র, চার্চের বিচারে তাদের গুরুতর শাস্তি হয়ে যায়।



গ্যালিলিও তার নির্মিত টেলিস্কোপে বৃহ:স্পতির উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের আগেই চার্চের যাজকদের হুমকির সম্মুখীন হন, তিনি কোপার্নিকাসের সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ তার ছাত্রদের শিক্ষার অংশ হিসেবে পাঠ করাতেন। পরবর্তীতে তাকে মুচলেকা দিতে হয়, স্বীকার করে নিতে হয় তিনি তার ছাত্রদের পরবর্তীতে সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ পড়াবেন না। অবশ্য চার্চের প্রধান যাজকের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের দরুণ তাকে তেমন কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হয় নি।



কিন্তু তার এই লড়াই তার বিশ্বাস এবং বাস্তবতার লড়াই। তিনি ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্টান ছিলেন, তিনি ইশ্বর, ইশ্বরপূত্র এবং সে ইশ্বরের পৃথিবীকেন্দ্রিকতায় বিশ্বাস করতেন। মাত্র ২০ বছর আগে তার ধর্মবিশ্বাসচ্যুতির অভিযোগ থেকে তাকে অব্যহতি দেয় চার্চ। তিনি যাজকদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ পাঠ দানের জন্য পরবর্তীতে তাকে গৃহান্তরীণ করে রাখা হয়।



পরবর্তী পর্যায়ে সৌরকেন্দ্রিক মতবাদও পরিত্যাক্ত হয়েছে, বর্তমানের পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই, কোনো সীমান্ত নেই, পৃথিবী, সূর্য, আমাদের সৌরজগত, আমাদের মিল্কিওয়ে কোনোটাই মহাবিশ্বের কোনো বিশিষ্ট অংশ নয়, মহাবিশ্বের সকল অংশই একই রকম নগন্য।



এই মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তুকণার গতিপথ নির্ধারণ করছে বৃহৎ আঙ্গিকে কেবলমাত্র মহাকর্ষ। প্রতিটি বস্তুকণার উপরে অপরাপর বস্তুকণাগুলোর আকর্ষণ বল মহাবিশ্বের চুড়ান্ত ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। যেহেতু মহাকর্ষীয় বল শুধুমাত্র পরস্পরকে আকর্ষণ করে এবং এ ভর বস্তুকণাগুলোর ভরের সমানুপতিক সুতরাং ভারী বস্তুর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব অধিকতর বিস্তৃত হবে, ক্ষুদ্র ভরের বস্তুকণাগুলোর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব ক্ষুদ্র অংশকে প্রভাবিত করবে। এই বক্তব্যটি একটু জটিল করে বলা আছে আইন্সাইনের সার্বজনীন মহাকর্ষ তত্ত্বে।



যেহেতু সূর্য প্রতিনিয়ত ফিউশন কিংবা হাইড্রোজেন সংযোজন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করছে সুতরাং প্রতিনিয়তই সূর্যের ভর কমছে। যেহেতু সূর্যের ভর কমছে সুতরাং সূর্যের আকর্ষণ বলের পরিমাণও ক্রমশ: কমে যাচ্ছে। এর সাম্ভাব্য ফলাফল কি হতে পারে? পৃথিবীর কক্ষপথে এর কি ধরণের প্রভাব পরবে? এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হয়েছে, সান্তনার বিষয় আগামী কয়েক সহস্রাব্দে পৃথিবীর কক্ষপথের তেমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে না।



শুধু তাই নয় প্রতিমুহূর্তে পৃথিবীতে বিপূল পরিমাণ কসমিক রে প্রবেশ করছে, এই কসমিক রে'র অধিকাংশই মূলত মহাবিশ্বের সূচনা লগ্নে উৎপন্ন হওয়া প্রোটন, এরা পৃথিবী ভেদ করে কোথাও চলে যাচ্ছে না, সুতরাং এদের কারণে পৃথিবীর ভরও প্রতিমুহুর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ কসমিক রে পৃথিবীতে আসলেও যেহেতু প্রোটনের ভর অতিনগন্য- একের পর ২৪টা শুণ্য দিয়ে যে সংখ্যাটা তৈরি হবে, সে পরিমাণ প্রোটন একসাথে মাপলে সেটার ওজন হবে ১ গ্রামের মতো। এসবের কারণে পৃথিবীর ওজন প্রতিবছর প্রায় ১০০ টন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কারণে পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বলের অতিনগন্য পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এই ভরবৃদ্ধিও গুরুতর ভাবে পৃথিবী-সূর্যের পারস্পরিক স্থিতিবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।



অন্য একটি পরিস্থিতি কল্পনা করা যাক, ধরা যাক বৃহ:স্পতির মতো ভারী কোনো গ্রহ হঠাৎ করেই সূর্যের আকর্ষণে সূর্যের ভেতরে প্রবেশ করলো, সেই দুর্ঘটনার প্রভাব পৃথিবীর কক্ষপথে কতটুকু পরবে? আমরা কি পৃথিবী থেকে এই দুর্ঘটনার প্রভাব অনুভব করতে পারবো? বৃহ:স্পতির মতো ভারী কোনো গ্রহ যদি সূর্যের ভেতরে প্রবেশ করে( বৃহ:স্পতির ভর সূর্যের ভরের ১০০০ ভাগের এক ভাগ, সূর্যের ভর ১০০০ ভাগের ১ ভাগ বৃদ্ধি পেলে সেটা পৃথিবী থেকে খুব সুক্ষ্ণ যন্ত্র দিয়ে হয়তো পরিমাপ করা যাবে। অর্থ্যাৎ সূর্যের ভর যদি ১০০০ ভাগের এক ভাগ বেড়ে যায় কোনো মহাজাগতিক বিপর্যয়ে এর প্রভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু পৃথিবী-সূর্যের মধ্যকার আকর্ষণ বলের পরিমাণ খুব বেশী পরিবর্তিত হবে না।



অন্য দিক থেকে ভাবা যাক, সূর্য জ্বলতে জ্বলতে একটা পর্যায়ে শ্বেত বামন নক্ষত্রে পরিণত হবে, যেসব নক্ষত্রের ভর সূর্যের ভরের ১ দশমিক ৪ গুণ, তারা একটা পর্যায়ে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হতে পারে। যখন নক্ষত্রের জ্বালানী কমে যায়, অর্থ্যাৎ এর হাইড্রোজেনগুলো ফিউশন প্রক্রিয়ায় হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয় তখন হঠাৎ করেই এর তাপমাত্রা কমে যায়, তাপমাত্রা কমে গেলে ফিউশন প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হয়, ফলে উত্তপ্ত নিউক্লিয়াসগুলোর উর্ধমুখী চাপ মহাকর্ষীয় নিম্নমুখী চাপকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, নক্ষত্র সংকুচিত হয়। নক্ষত্র সংকুচিত হওয়ার সাথে সাথে এর উত্তাপ বৃদ্ধি পায়, একটা নির্দিষ্ট মাণে পৌঁছানোর পর সংকুচিত নক্ষত্র হিলিয়ামকে ফিউশন প্রক্রিয়ায় কার্বণে রুপান্তরিত করতে শুরু করে। এভাবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কার্বন-অক্সিজেন-নিয়ন- সিলিকন বিভিন্ন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। এভাবে যখন নক্ষত্রের নিউক্লিয়াসগুলো লোহায় পরিণত হয়, তখন নক্ষত্র মূলত গলিত লোহার বৃহৎপিন্ডে পরিণত হয়। অত্যাধিক ভারী এই লৌহনক্ষত্র তখন শীতল হতে শুরু করে-



চন্দ্রশেখর হিসেব করে দেখালেন যদি কোনো নক্ষত্রের ভর সুর্যের ১ দশমিক ৪ গুণ বেশী হয় তাহলে পাউলি বর্জনসূত্রের কারণে ইলেক্ট্রন যে চাপ সহ্য করতে পারে মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের প্রভাবে সৃষ্ট চাপ তার সমান হবে। এটাই সীমান্তবর্তী মাণ, যদি কোনো নক্ষত্রের ভর এই সীমার উপরে হয় তাহলে পাউলির বর্জন সূত্রের ইলেক্ট্রন চাপ সেটাকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হবে, ফলে প্রতিটি বস্তুকণাই কেন্দ্রের দিকে পতিত হবে। অসীম ঘণ এই পিন্ডের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল অতিক্রম করে এমন কি আলোও বের হতে পারবে না। ফলে একটি নক্ষত্র তার সম্পূর্ণ ভর ও জ্বালানীসমেত আমাদের চোখের সামনে থাকে অদৃশ্য হয়ে যাবে।



যদি এই মুহুর্তে সূর্য ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয় তাহলে পৃথিবীর কক্ষপথে কি এর কোনো প্রভাব পরবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় পৃথিবীতে প্রাণের বিলুপ্তি ঘটবে, কারণ সূর্য পৃথিবীর সকল প্রাণের উৎস ও প্রতিপালক। সেই সুর্যের অভাবে পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ও প্রজনন থেমে যাবে কিন্ত মহাকর্ষীয় বলের পরিমাণে তেমন তারতম্য হবে না।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29568565 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29568565 2012-03-29 07:24:11