somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নাস্তিকতা সংশয়বাদীতার দ্বন্দ্বে তারুণ্য
বিদ্যমান সামাজিক প্রথাগুলো, পারিবারিক সংস্কারগুলোর বিরোধিতার একটা পর্যায়ে তারা ধর্মবিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তাকে প্রশ্ন করে। দৈনন্দিন জীবনযাপনে, সামাজিক যোগাযোগের কোনো জায়গায় ধর্মীয় সংস্কার ততটা স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য নয়, প্রথা ও কৃষ্টির কতটুকু ধর্মীয় অনুশাসনজাত আর কতটুকু সামগ্রীক মূল্যবোধ সেটুকু যাচাই করার মানসিক পরিপক্কতা গড়ে ওঠার আগে তারুণ্যের এই আস্তিকতা-নাস্তিকতা কিংবা মানসিক দ্বৈরথ ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্লেষণী ক্ষমতাচর্চার সূচনা হয় প্রথম যৌবনে, তার আগ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন ধরণের তথ্যের আয়ুধে নিজেকে সজ্জিত করি, ব্যক্তিগত বিশ্লেষনী ক্ষমতায় অনেকেই অবশ্য তারুণ্যেই ইর্ষণীয় বিশ্লেষণী ক্ষমতা অর্জন করে, প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে না গিয়েও অনেকে দ্বান্দ্বিক বিশ্লেষণে নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলে, এবং একই ধরণের ভাবনাকাঠামোতে সামাজিক সংস্কার বিশ্লেষণ করে সেটার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়।

সামাজিক সংস্কার, আপাত ভালো এবং মন্দের ধারণা সমাজের অন্তর্গত ভাবনাবৈপিরীত্বগুলো ধারণ করে। সমাজের মানুষগুলোকে কোনো না কোনো নিয়মের অধীনে থাকতে হয়, তারা যেনো পরস্পরের সাথে অহেতুক বিবাদে জড়িয়ে না পরে, যেনো অন্তর্কলহে নিজেদের শক্তিনাশ না করে সে জন্যে প্রতিটি ভাবনাকাঠামোর সাথে এক ধরণের উদযাপন ও প্রথা সংযুক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় মতবাদ সমাজে বিরাজ করে এবং মানুষ ব্যক্তিগত অভিরুচি মেনে এর যেকোনো একটিকে গ্রহন করে কিংবা সবগুলোকেই একই ভাবে বর্জন করে।

দৈনন্দিন জীবনযাপনে বিমূর্ত ধর্ম মূলত সামাজিক প্রথা হিসেবে উপস্থাপিত হয় একজন সাধারণ মানুষের কাছে, একই ধরণের কাঠামোবদ্ধ সংস্কার অপরাপর ভিন্ন সংস্কার কিংবা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে, পারিবারিক সংস্কার এবং মানুষকে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের দায়ে এভাবে অস্বীকারের ক্ষোভ থেকেও কেউ কেউ প্রচলিত ধর্মীয় মতবাদের উপরে আস্থা হারায়, কারণ যেমনই হোক না কেনো তরুণের সামনে আমাদের সমাজের অন্তর্গত বিরোধগুলো যেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে এবং যেভাবে সে তার পরিচিত পরিমন্ডলকে বিশ্লেষণ করছে এসব মিলেমিশে তারুণ্যের দ্রোহের একটা প্রকাশ হতে পারে নাস্তিকতা কিংবা ইশ্বরের অস্তিত্বে সরাসরি সংশয় প্রকাশ।

নিখাদ বিজ্ঞান কি কোনো সময় এমন কোনো প্রশ্নের সমাধা করতে পারে? বিজ্ঞানের পরিধির ভেতরে থেকে কি ইশ্বরের অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের ধাঁধা সমাধান করা সম্ভব? বিজ্ঞান কি ইশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ে নির্ণায়ক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে? প্রশ্নগুলোর উত্তর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঋণাত্মক। বিজ্ঞান যে কাঠামোর উপরে বিস্তার লাভ করেছে সেখানে ইশ্বর কোনো পরিমাপযোগ্য বিষয় না, এমন কি ইশ্বরের অস্তিত্বে কি কি প্রভাব আশেপাশের পরিবেশে থাকতে পারে সেটাও প্রচলিত কাঠামোবদ্ধ জ্ঞানে অনুপস্থিত সুতরাং ইশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ে কোনো লিটমাস টেস্ট বিজ্ঞানে নেই।

বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত আমাদের গাণিতিক, দার্শণিক এবং পরীক্ষণজাত জগতের বিভিন্ন পরিবর্তনকেব্যাখ্যা করতে সহায়তা করতে পারে। সেসব পর্যবেক্ষণজাত জগতকে ধর্মীয় পুস্তকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেটার অসারতা প্রকাশ করতে পারে, ক্ষেত্র বিশেষে সেটার অসম্পূর্ণতা কিংবা অন্তর্গত ভ্রান্তি প্রমাণ করতে পারে।
ধর্মীয় দর্শণে আমাদের দৃশ্যমান জগতকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেসব আধুনিক বিজ্ঞানের কষ্ঠিপাথরে ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে, স্থানীয় দার্শণিকদের প্রভাবে যেভাবে পরিচিত জগতকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ধর্মপুস্তকে সেটা মধ্যযুগের পরে ততটা কার্যকরভাবে জগত ব্যাখ্যা করতে পারছে না।

জীবনের সৃষ্টিবিষয়ে, মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও বিনাশ বিষয়ে বিজ্ঞানের মতবাদে আস্থা স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ না কি ধর্মীয় পুস্তকে আস্থা স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্ত জানাতে পারে না প্রচলিত বিজ্ঞান।

কেউ যদি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পথ ধরে ধর্মীয় পুস্তকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেটাকে ভ্রান্ত, মিথ্যা, অলীক কল্পনা ঘোষণা দিয়ে কোনো বিবৃতি দেয় অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক সূত্র সেটার সপক্ষেই থাকবে।
বিজ্ঞানের ভেতরে কোনো অলৌকিকত্ব নেই বরং প্রতিদিনই এর বিভিন্ন অনুসিদ্ধান্ত পরীক্ষাগারে প্রমাণিত হচ্ছে, সেসব অনুসিদ্ধান্তের কিছু কিছু আমাদের সাদা কালো ধারণাকে ততটা আমলে নেয় না বরং বিজ্ঞানের যুক্তি প্রকাশের জন্য যে গণিতকে আমরা ব্যবহার করি সেই গাণিতিক বিধিগুলো মেনেই তারা নিজেদের উপস্থাপিত করে এবং গণিত ও আমাদের মডেল প্রকৃতির ভেতরে যোগাযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ কেউ কেউ এক ধরণের দার্শণিক বিভ্রান্তিতে আটকা পরে যান সেটা ব্যক্তির অনুধাবনজনিত ব্যর্থতামাত্র। বিজ্ঞানের অনুসিদ্ধান্তগুলোর ব্যর্থতা এখানে কম।

বিজ্ঞানের গাণিতিক কাঠামোর অন্য রকম একটা সৈন্দর্য্য আছে, আমাদের পরিচিত জগতে নেই এমন অনেক ধরণের সম্ভবনা এই গাণিতিক বিশ্লেষণে যাচাই করা সম্ভব এবং গাণিতিক বিশ্লেষণের সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব। এভাবেই আমরা যৌক্তিক বিশ্লেষণের একটা পর্যায়ে নিউট্রন স্টার কিংবা ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব ও চরিত্র সম্পর্কে যেসব সিদ্ধান্ত পেয়েছি, এমন সব বৈশিষ্ট্য মেনে চলা অদৃশ্য নক্ষত্রের সন্ধানও আমরা পেয়েছি।
অতিরিক্ত চাপে ও তাপে পদার্থের কি ধরণের গাঠনিক পরিবর্তন হবে কিংবা হতে পারে সেসব গাণিতিক বিশ্লেষণের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা পরীক্ষাগারে প্রমাণ করেছি।

জীবনের সৃষ্টিকে একটি নির্দিষ্ট সূত্রে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হলেও কি কি প্রভাবক জীবনের বিকাশকে পরিবর্তিত করতে পারে সে সম্পর্কে আমরা জানি, আমরা জানি কিভাবে একেবারে কোষীয় পর্যায়ে বিবর্তন ঘটে। বিবর্তনের ধারণাকে অস্বীকার করা ব্যক্তিবর্গ বিবর্তনের ধারণাকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করেন কিন্তু তারা যখনই বিবর্তনবাদকে বিবর্তনবাদ হিসেবে দেখতে চান তখনই তারা কোনো এক অজানা কারণে তার পূর্বপুরুষকে গাছের উপরে বসে ল্যাজ নাড়াতে দেখেন এবং সাথে সাথে বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করেন।

এসব ব্যক্তিগত বাছাই কিংবা বিবেচনা বিজ্ঞানের জগতকে ততটা প্রভাবিত করে না। সে তার মতো এগিয়ে যায়, যাচ্ছে। আমাদের বৈজ্ঞানিক কাঠামো আমাদের যতটুকু জানাতে পারে সেই সম্পূর্ণ জায়গাটাতে ইশ্বরের অস্তিত্ব ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এরপরও ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত জগতে ইশ্বরেরঅস্তিত্ব মেনে কোনো নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় সংস্কারে আবদ্ধ থেকে জীবনযাপন করতে পারেন কিন্তু তার এই ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অবস্থান থেকে তিনি প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করেন না।

ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের ভেতরে একটা দার্শণিক আড়াল তৈরি করতে পারা মানুষগুলো অবশেষে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং অপরাপর সবাই এই কাঠামোর ভেতরে এসে নিজেকে সংশয়বাদী হিসেবে উপস্থাপন করেন। সে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রজ্ঞা অর্জন করার পর যদি কোনো তরুণ নিজেকে নাস্তিক ভাবে কিংবা বিশ্বাস করে তার বিশ্বাসকে কোনোভাবেই টলানো যাবে না, তার আগ পর্যন্ত আসলে নিজস্ব বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব তাকে প্রতিমুহূর্তে পীড়ন করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29779381 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29779381 2013-02-22 10:49:36
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ৮
আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সবসময়ই সফল্যের সাথে একে অন্যের পরিপুরক হয়ে উঠতে পেরেছে এমনটা বলা যাবে না, কিন্তু ভবিষ্যতে কোনো একদিন নিশ্চিত এটার ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে- আমাদের বৈজ্ঞানিক ধারণার অগ্রগতি আমাদের এভাবেই আশ্বস্ত করে।

মানুষের চোখ কেনো ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটারের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের প্রতি সংবেদনশীল এটার তেমন গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা নেই, প্রতিটা উদ্ভিদই এই নির্দিষ্ট বিকিরণের প্রতি সংবেদনশীল, এমন কি গাছের সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার তীব্রতাও এই ৩০০ ন্যানোমিটার বিস্তৃতির আলোক সংকেতের উপরে নির্ভর করছে- আমাদের জীবনযাপন এবং জীববৈচিত্র ৩০০ ন্যানোমিটার বিস্তৃতির ফলেই সম্ভব হয়েছে এমনটা বলা অতিশায়োক্তি হবে না মোটেও।

যতটা অলৌকিক শোনায় বিষয়টা হয়তো ততটা অলৌকিক নয় ব্যাখ্যাটা, বৈজ্ঞানিক ধারণা জীবনের সূচনা হয়েছিলো সমুদ্রের গভীরে, সমুদ্রের অনেক গভীরে যেখানে আলো পৌঁছায় না সেখান বিকশিত জীবদের চোখ নেই, আলোক সংবেদি কোনো অঙ্গ নেই, যেসব প্রাণীরা সমুড্রপৃষ্টের কাছাকাছি বসবাস করেছে কিংবা যারা সমুদ্র ছেড়ে ডাঙায় উঠে এসেছিলো তাদের আলোক সংবেদনশীল অঙ্গ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিলো , আমাদের বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান অক্সিজেন , নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয়বাস্প এবং অতিসামান্য পরিমাণের অন্যান্য গ্যাসের বর্ণালী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই দৃশ্যমাণ আলোতে এই বায়ুমন্ডল স্বচ্ছ অর্থ্যাৎ এই বিকিরণ বিনা বাধায় পৃথিবীতে আসতে পারে- বায়ুমন্ডলের উপরের স্তর অতিবেগুণী রশ্মি প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং অতিলোহিত রশ্মির জন্য সেটা একই ধরণের বাধা তৈরি করে।

সুতরাং বিবর্তনের ধাপে ধাপে এখানে যেসব জীব বিকশিত হচ্ছে, যাদের আলোক সংবেদি কোষ তৈরি হচ্ছে তাদের শুধুমাত্র এই নির্দিষ্ট আলোক রশ্মিতে সংবেদনশীল অঙ্গ প্রয়োজনীয় ছিলো। তখনও হয়তো রেডিও ওয়েভ কিংবা মাইক্রোওয়েভ বিনা বাধায় পৃথিবীতে প্রবেশ করেছে কিন্তু যদি একক শক্ত বিবেচনা করা হয় তাহলে এসব বিকিরণের কোষীয় গঠনকে প্রভাবিত করবার মতো তীব্রতা ছিলো না ।

সুদুর অতীত থেকেই মানুষ গুহাচিত্র আঁকছে, লাল এর সাথে হলুদ মেশালে কমলা রং হয় সেটা অনেক আগেই মানুষ পর্যবেক্ষণ করেছে, এমন কি যারা শিল্পী তারা কোন রং কি পরিমাণে মেশালে কি রং পাওয়া যাবে সেটা অন্যসবার চেয়ে ভালো বুঝেন, আলো-ছায়ার পার্থক্য, রং এর বিন্যাসের পার্থক্যে মুগ্ধ মানুষেরা কখনও প্রশ্ন করে নি কেনো বিভিন্ন রং বিভিন্ন অনুপাতে মেশালে নতুন এক ধরণের বর্ণের অনুভুতি তৈরি হয় রেটিনায়। এমন কি আমিও বিভিন্ন সময়ে এইসব রংয়ের মোহজালে মুগ্ধ হলেও কখনও বুঝতে চাই নি এর কার্যকারণ। হঠাৎ যখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম

কেনো হলুদ আর লাল মেশালে কমলা রং এর অনুভুতি হবে? সেটা কি আমাদের দৃষ্টিবিভ্রম না কি কোনো রাসায়ণিক বিক্রিয়ায় অনু-পরমাণুগুলোর বর্ণালী পরিবর্তিত হচ্ছে- সেটার সহজ সরল ব্যাখ্যা খুঁজে পাই নি- দৃশ্যমাণ এবং অদৃশ্য আলো এবং পরমাণুর ইলেক্ট্রন বিন্যাসের সম্পর্কটা সর্বপ্রথম স্থাপিত করেছিলেন নীলস বোর। পরমাণুর ইলেক্ট্রন বিন্যাসের উপরে কাজ শুরু করার আগে তিনি তার পিএইচডি থিসিসে কাজ করেছেন পরিবাহীর বিদ্যুৎ প্রবাহে ইলেক্ট্রনের ভুমিকা নিয়ে, তিনি ইলেক্ট্রন গ্যাসের ধারণা নিয়ে কাজ করছিলেন এবং মনে রাখতে হবে বিভিন্ন পরিবাহীর বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য সম্ভবত পরমাণুর ঋণাত্মক আধানবাহী কণিকাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ধারণাটা নীলস বোর তার পিএইচডি থিসিস লেখার এক দশক আগেই আবিস্কৃত হয়েছে , তিনি নিজেও ইলেক্ট্রন গ্যাস মডেলের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন এবং নিজের ধারণাকে আরো পরিশুদ্ধ করতে এবং নতুন কিছু করতে নীলস বোর এসেছিলেন কেম্রিজে ইলেক্ট্রনেরধারণাকে নিশ্চিত করা জে জে থমসনের গবেষনাগারে। অবশ্য জে জে ঠমসনকে নীলস বোর তেমন পছন্দ করেন নি-

রাদারফোর্ড ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে যখন তার বিশাল গবেষকদের নিয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এবং রেডিয়েশন ফিজিক্স নিয়ে কাজ করছেন সে সময়ে নীলস বোর ম্যানচেস্টারে রাদারফোর্ডের অধীনে কাজ শুরু করেন।
রাদারফোর্ড সে সময়ে নিউক্লিয়াস আবিস্কার করেছেন, পর্যবেক্ষণ করে সেটার বৈশিষ্ঠ বুঝতে চেষ্টা করছেন, পরমাণুর ভর এবং আধানের সম্পর্ক তখনও স্পষ্ট হয় নি তবে রাদারফোর্ড তার অসাধারণ প্রজ্ঞায় উপলব্ধি করেছেন পরমাণুর আধানের পরিমাণ তার ভরের অর্ধেক, এই বিপুল সংখ্যক ইলেক্ট্রন ধণাত্মক নিউক্লিয়াসের চারপাশে কিভাবে ঘুরছে, কিভাবে পরমাণু এট বিপুল পরিমাণে ইলেক্ট্রন এবং ধনাত্মক আধান ধরে রেখেছে এই ব্যাখ্যাটা তখনও রাদারফোর্ড প্রদান করেন নি।

পরবর্তী দুই বছরে রাদারফোর্ড তার পরমাণুর ধারণাটা প্রকাশ করলেন, একটি ধনাত্মক আধানবাহী নিউক্লিয়াসের চারপাশে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেক্ট্রনগুলো ঘুরছে, যদিও এই ধারণাতে অনেক ধরণের অসংগতি রয়েছে এবং প্রতিটি অসংগতিই এই ধারণা প্রকাশের সাথে সাথেই প্রকাশ্য হয়ে উঠলো, সে বছরই নীলস বোর হঠাৎ করেই তার পরমাণুর ধারণা প্রকাশ করলেন।

রাদারফোর্ডের পরমাণু ধারণার সাথে নীলস বোরের পরমাণুর ধারণায় কোনো পার্থক্য নেই, বরং নীলস বোর এই ইলেক্ট্রনের বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে দুইটা অনুসিদ্ধান্ত প্রদান করলেন , ইলেক্ট্রনগুলো নিজের কক্ষপথে থাকলে কোনো শক্তি ক্ষয় হবে না এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিমাণে শক্তি আদান প্রদান করে এরা কক্ষপথে পরিবর্তন করতে পারবে।
রাদারফোর্ড এই অনুমাণের প্রতিক্রিয়া জানালেন বোরকে চিঠি লিখে-
তোমার ধারণার সাথে প্ল্যাংকের ধারণার তেমন কোনো পার্থক্য নেই কিন্তু ইলেক্ট্রন কিভাবে বুঝবে সে কোন কক্ষপথে পতিত হতে চায়?
ইলেক্ট্রন যদি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি কোনো কক্ষপথে পতিত হয় তাহলে সে নির্দিষ্ট পরিমাণে আলো বিকিরণ করবে এই ধারণার সবচেয়ে বড় বাধা ছিলো যদি অনেকগুলো কক্ষপথ থাকে তাহলে এর কোনটিতে ইলেক্ট্রন পতিত হবে এটার কোনো পূর্বানুমাণ করা কঠিন, এমন কোনো নির্ধারিত নিয়মো নেই।

নীলস বোর অবশ্য প্রতিক্রিয়ায় জানালেন কেনো এমনটা ঘটছে এটার কোনো কারণ তার জানা নেই কিন্তু ইলেক্ট্রনের বৈশিষ্ঠ্যই এমন- এটা মেনে নিতে হবে।

নীলস বোরের পরমাণুর ধারণার সাথে সাথে এটমিক ফিজিক্সের জন্ম হলো এবং পদার্থ বিজ্ঞানের নিশ্চিত ভবিষ্যতবানীর যুগের অবসান ঘটলো। গ্যালিলিও পরবর্তী সময়ে পদার্থবিজ্ঞানের গতিপথে নিশ্চিত ভবিষ্যতবানীর একটা ভুমিকা ও গ্রহনযোগ্যতা তৈরি হয়েছিলো, ম্যাক্সওয়েলের হাতে বিকশিত গ্যাসীয় গতিবিদ্যা সেই নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করলেও মোটাদাগে তখনও পদার্থের আচরণকে সামষ্টিক ব্যাখ্যা দেওয়া যেতো, একক পরমাণুর গতিপথ সুনির্ধারিত না হলেও সামগ্রীকভাবে এদের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণযোগ্য বিষয়গুলোর নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করতে সক্ষম ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে ম্যাক্স প্ল্যাংক, আইনস্টাইন এবং অবশেষে নীলস বোর নিশ্চিত করলেন অতিক্ষুদ্র জগতের নিশ্চিত পরিমাণ ও নির্ধারিত ভবিষ্যতবানী করা অসম্ভব, এভাবেই পদার্থ বিজ্ঞানে অনিশ্চয়তার যুগ শুরু হলো।

নীলস বোর পরবর্তীতে রাদারফোর্ডের গবেষণাগার ছেড়ে নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনের ছাত্রদের পদার্থবিজ্ঞান পড়ানো শুরু করেছিলেন, সে সময়েই তার সহকর্মী তাকে বললেন তার প্রস_তাবিত পরমাণুর ধারণা কি বালমার সিরিজ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম? নীলস বোর এক বিকেলেই অংক কষে প্রমাণ করলেন বালমার সিরিজ আসলে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেক্ট্রন পতিত হওয়ার প্রতিক্রিয়া- নীলস বোর অবশ্য ইলেক্ট্রনের নির্ধারিত কক্ষপথের কারণ রাদারফোর্ডকে জানাতে পারেন নি, কিন্তু তার ভাইয়ের মাধ্যমে সমারফিল্ড যখন জানতে পারলেন বোর পরমাণুর ধারণা তিনি প্রমাণ করলেন একটি ধনাত্মক আধানের আশে পাশে শুধু নির্ধারিত কক্ষপথেই ইলেক্টন থাকতে পারে- সেসব সাম্ভাব্য ইলেক্ট্রন কক্ষপথের ব্যসার্ধও সমারফিল্ড নির্ণয় করলেন। সমারফিল্ডের গবেষণার পরবর্তী এক দশক শুধু বিভিন্ন পরিচিত পরমাণুর বর্নালী বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ ছিলো

বোরের গবেষণায় নিশ্চিত হলো বিভিন্ন গ্যাসের বর্ণালীতে কেনো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি রং পাওয়া যায়, আমরা যেসব পদার্থকে লাল রং এর দেখছি তাদের ইলেক্ট্রনগুলো এমন সব কক্ষপথ পরিবর্তন করছে যার প্রতিক্রিয়ায় শুধুমাত্র লাল রং এর আলোক তরঙ্গ নির্গত হচ্ছে- এমন ভাবেই যেসব বস্তুকে আমরা নীল দেখছি তারা শুধুমাত্র নীল রং এর আলোক তরঙ্গ বিকিরণ করছে। বস্তুর রং এবং অনুভব এর পরমাণুর কক্ষপথের ইলেক্ট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তনের প্রকাশ।

আমরা যেসব বস্তুকে হলুদ দেখছি তারা হলুদ রং এর আলো বিকিরণ করছে
যাদের লাল দেখছি তারা লাল রং এর আলো বিকিরণ করছে
কিন্তু এ তথ্য কি আমাদের পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করতে পারছে। যেহতু কক্ষপথের ব্যাসার্ধ পূর্বনির্ধারিত সুতরাং লাল রং এর আলো বিকিরনকারী অনু পরমানুর কক্ষপথের ব্যাসার্থ হলুদ রং এর আলো বিকিরনকারী অণু-পরমাণুর কক্ষপথের চেয়ে ভিন্ন হবে, এমন কি এই দুই রং এর পরমাণু কিংবা অনুকে একত্রে মেশালেই যে তাদের কক্ষপথের গড় ব্যাসার্ধ পরিবর্তিত হয়ে যাবে এমনটা নিশ্চিত বলা যায় না। আমরা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানেই ফিরে এলাম, যদিও এখন আমরা জানি কেনো কোনো বস্তুকে আমরা লাল-নীল-হলুদ- সবুজ দেখছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29641239 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29641239 2012-07-22 00:19:57
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ৭
গত ৫০ বছরে পরিস্থিতি পরিবর্তত হয়েছে, যদিও এখনও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা কেন্দ্রগুলো যেকোনো আবিস্কারের প্রায়োগিক দিকটাকেই প্রয়োজনীয় মনে করে তবে গবেষণার বিস্তর সুযোগ সেখানে আছে। ইউরোপের মতো তত্ত্বীয় ক্ষেত্রে গবেষণা সেখানে হচ্ছে না এমনটা বলা যাবে না কিন্তু মূলত প্রায়োগিক উপযোগিতা না থাকলে সেখানে গবেষণার ফান্ডিং পাওয়া কঠিন। যে কারণে সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্টিকেল কোলাইডারের জন্য যথেষ্ট অর্থ সংস্থান করা সম্ভব হয় নি , ইউরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলো সম্মিলিত ভাবে সার্নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কংগ্রেসন্যাল হিয়ারিং এ পার্টিকেল কোলাইডারের উপরে অর্থবরাদ্দের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়।

তবে আমাদের আলোচনার প্রেক্ষাপট মূলত উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশক, ফ্যারাডের পর্যবেক্ষণ এবং ম্যাক্সওয়েলের অনুধাবনের আগেই আলোর বৈশিষ্ঠ্য নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, নিউটন ১৭০৪ সালে প্রকাশিত আলোকবিদ্যায় সর্বপ্রথম অনুমাণ করেন আলো আসলে কণিকা, প্রতি বর্ণের আলোকে আলাদা আলাদা কণিকা হিসেবে কল্পনা করলেও নিউটনের ভাবনায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স ছিলো না।
একই সময়ে আলোর তরঙ্গ চরিত্রের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় পরবর্তীতে নিউটনের কণিকা তত্ত্ব পরিত্যাক্ত হয়। ম্যাক্সওয়েল যখন তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দিলেন, বললেন আলো নিছক তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তনের উপজাত সে সময় থেকেই কল্পনা শুরু হলো আলো কি শূণ্য মাধ্যমে চলাচল করে? না কি আলোর তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য আলাদা মাধ্যম প্রয়োজন। প্রতিটা তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জনয় মাধ্যমের প্রয়োজন, সে কারণে ইথার তত্ত্ব জনপ্রিয় হয়ে উঠলো, এমন কি মাইকেলসন-মরলি ১৮৮২ সালে ইথারের অনস্তিত্ব প্রমাণ করার দুই দশক পরেও ইথারে আলো কিভাবে প্রবাহিত হয় এ বিষয়ে পুস্তক রচিত হয়েছে।

বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আলো উৎপাদনের কৌশল রপ্ত হওয়ার পর উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে ক্যাম্ব্রিজে জে জে থমসন গ্যাসের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের কৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তার মাত্র কয়েক বছর আগেই গণতান্ত্রিক ভাবে পরমাণুর ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইলেক্ট্রোলাইটের ভেতরে হাইড্রোজেন আয়নের গতিবেগ নির্ণয় করে হাইড্রোজেন আয়নের চার্জ এবং ভরের অনুপাতও নির্ণয় করা হয়েছে- থমসন ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইলেক্ট্রন তৈরি করে সেগুলোর চার্জ ও ভরের অনুপাতের মাণ নির্ণয় করে অবশেষে ১৮৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর প্রকাশিত জার্নালে ঘোষণা করলেন পরমাণুর অবিভাজ্যতার ধারণা ভ্রান্ত- পরমাণু বিভাজিত হওয়া সম্ভব এবং তা থেকে ঋণাত্মক আধান পাওয়া সম্ভব। তার আগেই হার্টজ লক্ষ্য করেছিলেন যদি ধাতব পৃষ্টকে আলোকিত করা হয় তবে গ্যাসে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
থমসন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো দিয়ে গবেষণা করে নিশ্চিত হলেন ধাতবপৃষ্টকে আলোকিত করলে গ্যাস পরিবাহীর মতো আচরণ করে। তখনও ইলেক্ট্রন ছিলো না, সুতরাং তারা বিদ্যুৎ প্রবাহের হার নির্ণয় করে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, আলোর পরিমাণ পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ প্রবাহের হারের উপরে এসবের প্রভাব নির্ণয় করলেন।

আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ধারণা অনুসারে তরঙ্গের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে তরঙ্গের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু তারপরও একটা নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো না হলে গ্যাস পরিবাহীর মতো আচরণ করে না। এটা আলোর পরিমাণের উপর নির্ভর করছে না বরং আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপরে নির্ভর করছে।
নির্গত ইলেক্ট্রনের শক্তিও তারা পরিমাপ করলেন এবং লক্ষ্য করলেন নির্গত ইলেক্ট্রনের শক্তিও আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপরে নির্ভর করে। এই আবিস্কার সে সময়ের বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করতে পারেন নি। প্রায় ১ দশক গবেষণা শেষে আইনস্টাইন অবশেষে আলোর কণিকা তত্ত্ব উপস্থাপন করলেন।

প্রাযুক্তিক উন্নতি যদি সময়ের পরিমাপে বেশী হতো তাহলে হয়তো আইনস্টাইনের ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্টের ব্যখ্যা কিংবা আলোর কণিকা তত্ত্বের উদ্ভব হতো না। নীলস বোর যখন পরমাণুর আভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করলেন তখন থেকেই ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা সহজ হলো, সেই ব্যাখ্যার আলোকেই বলতে হবে কেনো প্রাযুক্তিক অনগ্রসরতা আইনস্টাইনের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছিলো, আইনস্টাইন ফটইলেক্ট্রিকইফেক্ট ব্যাখ্যার জন্য নোবেল পেয়েছেন।

নীলস বোরের পরমাণু তত্ত্ব বলছে প্রতিটা পরমাণুর চারপাশে নির্ধারিত কক্ষপথে ইলেক্ট্রনগুলো ঘুরতে থাকে, যখন কোনো আলো ইলেক্ট্রনের উপরে পরে তখন ইলেক্ট্রন আলোর শক্তি গ্রহন করে পরবর্তী উচ্চ শক্তিস্তরে চলে যায়, এভাবে নির্দিষ্ট শক্তিসংগ্রহ করে ইলেক্ট্রন পরমাণু ছেড়ে চলে যেতে পারে।

যদি আলোর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় তাহলে বেশী ইলেক্ট্রন আলোর শক্তি সংগ্রহ করে মুক্ত হয়ে যাবে এবং এভাবেই ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা করেছেন আইনস্টাইন। তবে আলোর পরিমাণ যাদৃচ্ছিক বাড়ালে কি হবে সেটা আইনস্টাইন তখনও বলে যান নি।

আইন্সটাইন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আবির্ভাবের পরপর এটাকে অভিনন্দিত করলেও পরবর্তীতে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিষয়ে তার এক ধরণের সংশয় তৈরি হয় , তার প্রশ্ন ছিলো যদি দুটো ইলেক্ট্রন কক্ষপথের শক্তিব্যবধানের মাঝামাঝি কোনো একটা শক্তির আলোর তরঙ্গ পাঠানো হয় তাহলে কি ঘটবে? ইলেক্ট্রন কি সে আলোর তরঙ্গ গ্রহন করবে না? যদি করেই ফেলে তাহলে তার কি অবস্থান হবে? তার বক্তব্য ছিলো ইলেক্ট্রন সে আলোর তরঙ্গের শক্তি গ্রহন করবে এবং দুটো কক্ষপথের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করবে, অবশ্য ইলেক্ট্রন সে শক্তি খুব দ্রুতই ত্যাগ করে আগের কক্ষপথে ফিরে আসবে, কিন্তু আইনস্টাইন পরবর্তীতে দেখিয়েছেন যদি আলোর পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয় তবে তাহলে একই সময়ে দুটো কিংবা তারও বেশী আলোর কণিকা গ্রহন করে ইলেক্ট্রন উপরের শক্তিস্তরে চলে যেতে পারে।

যদি প্রাযুক্তিক উৎকর্ষে এখনকার মতো যত ইচ্ছা ফোটন( আলোর কণিকা) তৈরি করা সম্ভব হতো তাহলে ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট আবিস্কৃত হতো না। সে সময়ে প্রতিটি ইলেক্ট্রনই দুই কিংবা ততোধিক ফোটন গ্রহন করে ধাতবপৃষ্ট থেকে যেকোনো তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোর জন্য নির্গত হতো, ফলে বিজ্ঞানীরা আর সংশয়ে ভুগতেন না, তাদের পর্যবেক্ষণ এবং ধারণা অক্ষত রয়ে যেতো।
আইনস্টাইনের ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্টের ধারণাটা পরবর্তীতে যেভাবে কোয়ান্টাম বিপ্লব ঘটাতে সহায়ক হয়েছে তেমন আলোড়ন তৈরি করতো না বিষয়টা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29639891 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29639891 2012-07-20 00:14:25
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০৬
হেইনরিক হার্টজ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম হলেন, যদিও এর অনেক আগে থেকেই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা চলছিলো। উত্তপ্ত বস্তুর তাপমাত্রা বাড়লে সেটা প্রথমে লাল হয়, পরবর্তীতে তাপমাত্রা বাড়ালে সেটা সাদা হয়ে যায়, গুস্তাভ কার্শফ বলেছিলেন এই উত্তপ্ত বস্তুর বিকিরিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এবং এর তাপমাত্রার ভেতরে এক ধরণের সরল সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু তিনি সে সম্পর্ক স্পষ্ট বলে যান নি।

কম ঘনত্বের গ্যাসের টিউবের ভেতরে তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করলে সেখান থেকে আলো বিকরিত হয়, গবেষণাগারে প্রমাণিত হলো প্রতিটি গ্যাসের আলাদা বর্ণালী বিদ্যমান, ফ্রনহফার সূর্য্যের আলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ করে দেখালেন সেখানে আলাদা একটি গ্যাস রয়েছে, সূর্য্যের ভেতর থেকে উৎপন্ন বলে সে গ্যাসের নাম হলো হিলিয়াম, পরবর্তীতে পৃথিবীতেও সে গ্যাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলো।

সমসাময়িক সময়েই বেতার তরঙ্গ আবিস্কৃত হলো এবং বেতার যোগাযোগের প্রকৌশলও বিকশিত হলো। রন্টজেন যখন বললেন ক্যাথোড রে টিউবে এক্স রে উৎপন্ন হয় তখন কেমব্রীজে রাদারফোর্ড এক্স রে নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন, প্রায় অপ্রত্যাশিত ভাবে বিকুরেল তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কার করলেন, তেজস্ক্রিয় মৌল তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করে আলাদা মৌলে পরিণত হয় কিংবা নিজের বাড়তি শক্তি গামা রেডিয়েশনের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়, রাদারফোর্ড নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের আলাদা গবেষণাক্ষেত্র তৈরির আগে এসব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হয় নি।

রন্টজেন যে প্রক্রিয়ায় এক্স রে উৎপাদন করেছিলেন সেই একই প্রক্রিয়ায় এখনও এক্স রে তৈরি হয় হাসপাতালেরএক্স রে ম্যাশিনে, তড়িৎক্ষেত্রের ভেতর দিয়ে ইলেক্ট্রন পরিচালিত করে সেটাকে ধাতব পৃষ্ঠে আঘাত করা হয়, ফলে এক্স রে বিকিরিত হয়।

একই সময়ে টমাস আলভা এডিসন ফিলামেন্ট বাল্ব তৈরি করলেন, সে বাল্বও তড়িৎ প্রবাহেআলো বিকিরণ করে।
ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে উৎপাদিত আলোগুলোর সবই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ হলেও প্রতিটির বৈশিষ্ঠ্য কি একই রকম? এ প্রশ্নের উত্তর সফল ভাবে দেওয়া সম্ভব হয়েছে ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচৌম্বকিয় তত্ত্ব বিকশিত হওয়ার প্রায় ১০০ বছর পরে, তার আগে পর্যন্ত এই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়গুলোকে ব্যাখয়া করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেসব উদ্যোগ সফল ভাবে সকল আলোর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে পারছিলো না।

১৮৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে থমসন নিশ্চিত করলেন অবিভাজ্য কল্পনা করা হলেও প্রতিটি পরমাণুকে বিভাজিত করা সম্ভব, প্রতিটি পরমাণুরই এক কিংবা একাধিক ইলেক্ট্রন রয়েছে, এই ইলেক্ট্রনগুলোই তড়িৎপ্রবাহের কারণ, তিনি তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে এই ইলেক্ট্রনের আধান-ভরের অনুপাতের মাণ নির্ণয় করলেন, সেখান থেকে তিনি ইলেক্ট্রনের ভর নির্ধারণ করলেন, তারো আগে তিনি প্রমাণ করেছিলেন গতিশীল ইলেকট্রনের গতি পরিবর্তন করলে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ নির্গত হয়, কিভাবে গতিশীল আধান থেকে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি হয় তা সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা না করলেও ইউনিভার্সিটি ওফ কলোরেডোর ওয়েব সাইটে ইলেক্ট্রিক ডিপোল রেডিয়েশনের চমৎকার একটি এনিমেশন আছে , সাইটটি চমৎকার। এই এনিমেশনটি মূলত কিভাবে বেতার যোগাযোগ সম্ভব সেটার ব্যাখ্যা দেয়, সেই একই কারণে কিন্তু এক্স রে তৈরি হয় না।

এক্স রে উৎপাদিত হয় গতিশীল ইলেক্ট্রনকে হঠাৎ থামিয়ে, যে ধাতব পৃষ্টে ইলেক্ট্রন আঘাত করে সেই ধাতুর নিউক্লিয়াস ইলেক্ট্রনকে থামিয়ে দেয়, ইলেক্ট্রন হঠাৎ থেমে গেলে এর গতিশক্তি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পরে, বিভিন্ন গবেষণা নিশ্চিত করেছে এভাবে উৎপাদিত এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য পরিবর্তনশীল, মূলত ইলেক্ট্রনের গতিশক্তির উপর নির্ভর করে নির্গত এক্স রের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, যত শক্তিশালী, যত দ্রুত গতির ইলেক্ট্রনকে থামানো হবে তত শক্টিশালী, তত ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের এক্স রে তৈরি হবে।

যে কারণে বেতার যোগাযোগ সম্ভব হয় কিংবা যে কারণে এক্স রে তৈরি হয় সেই একই কারণেই যে ফিলামেন্ট বাল্ব আলো দেয় এমনটা নিশ্চিত বলা সম্ভব না। এমন কি বিজ্ঞাপনের নিওন সাইনের আলো প্রদানের কারণও এসবগুলোর চেয়ে আলাদা।

উত্তপ্ত বস্তু কেনো আলো বিকিরণ করে? গুস্তাভ কার্শফের প্রস্তাবিত তাপমাত্রা এবং আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভেতরে এক ধরণের সরল সম্পর্ক বিদ্যমান ধারণাটি নিয়ে কাজ করেছেন বোল্টজম্যান, উইনস, প্ল্যাঙ্ক এবং লর্ড র‌্যালেইহ এবং জিনস। আরও অনেকেই গবেষণা করেছেন তবে সেসব গবেষণার চুড়ান্ত রূপটি এরা কয়েকজনই প্রকাশ করেছেন।
উইনসের প্রস্তাবিত সূত্রটি শুধুমাত্র দেখিয়েছিলো একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি উত্তপ্ত বস্তু একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো সবচেয়ে বেশী বিকরিত করবে, কেনো এই নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোই বিকরিত হতে হবে সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা উইনস দেন নি, উইনসের প্রস্তাবিত সুত্রের এটা একটা বড় সীমাবদ্ধতা। লর্ড র‌্যালেইহ প্রস্তাবিত সূত্রটিও ঠিক মতো ব্যাখ্যা করতে পারে নি, বোল্টজম্যানের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক দেখালেন গুস্তাভ কার্শফের ধারণা সঠিক, তাপমাত্রা এবং তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভেতরেেক ধরণের সরল সম্পর্ক বিদ্যমান, কিন্তু একই সাথে তিনি প্রমাণ করলেন যদি উত্তপ্ত বস্তুর ভেতরে তাপ বিনিময় হতে হয় তবে নির্দিষ্ট একটি মাণের নীচের তেমন তাপ বিনিময় হতে পারবে না। ফোটনের ধারণাটা সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় এই গবেষণাপত্রেই।

প্ল্যাঙ্কের ফোটনের ধারণা উত্তপ্ত বস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করলেও কেনো উত্তপ্ত বস্তু থেকে ফোটন বিকরিত হবে সেটা ব্যাখ্যা করতে পারে নি। প্ল্যাঙ্কের সাফল্য এটুকুই যে তিনি প্রমাণ করেছেন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাথে এর শক্তির সরল সম্পর্ক বিদ্যমাণ।

উইলিয়াম হেনরি ব্রাগ তার ছেলে উইলিয়াম লরেন্স ব্রাগের সাথে এক্স রে নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখালেন এই এক্স-রে দিয়ে যেকোনো পদার্থের গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব, তারা দুজনে এ কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

থমসন ইলেক্ট্রনের ধারণা প্রকাশ করবার পর নীলস বোর পরিবাহীর ভেতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহে ইলেক্ট্রনের ভুমিকা নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি সনদ লাভ করেন, যদিও ইলেক্ট্রন গ্যাসের ধারণাটা নীলস বোরকেও সন্তুষ্ট করতে পারে নি, পরবর্তী গবেষকদের কল্যানে পদার্থের আভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে।

একই সাথে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকেরা, বিচ্ছিন্ন বস্তুর বর্ণালী এবং নিরবিচ্ছিন্ন বস্তুর বর্ণালী সম্পূর্ণ আলাদা, যদিও গত ৮০ বছরের পরিশ্রমে আমরা জানি কিভাবে বিচ্ছিন্ন পরমাণু কিংবা অনু থেকে আলো বিকরিত হয়, তবে সাম্ভাব্য সকল তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোনটা কখন বিকরিত হবে সে সম্পর্কে কোনো পূর্বাণুমাণ সম্ভব হয় নি, এই অনিশ্চয়তা নিয়ে রাদারফোর্ড প্রথম আপত্তি তুলেছিলেন কিন্তু নীলস বোর তাকে আশ্বস্ত করেন পরমাণু ঠিক এমনই আশ্চর্য আচরণ করে।

নিওন সাইন কেনো লাল আলো বিকিরণ করে নীলস বোরের কোয়ান্টাম তত্ত্ব সেটা ব্যাখা করে, এমন কি কোন পরমাণুর বর্ণালী কেমন হবে সেটার একটা এনিমেশনও পাওয়া যাবে এখানে কিন্তু ফিলামেন্ট বাল্ব কিংবা উত্তপ্ত ধাতব তার সেখানে অসংখ্য পরমাণু বিদ্যমান সেখানে প্রতিটি পরমাণুই পার্শ্ববর্তী পরমাণুকে প্রভাবিত করে এর আলো বিকিরণের ধরণকে প্রভাবিত করে, ফলে এই উত্তপ্ত বস্তু কিন্তু ফিলামেন্ট বাল্ব কি এক্স রের মতো ইলেক্ট্রন হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপন্ন হয় না কি ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথ থেকে আলো নীচের স্তরে পতিত হওয়ায় উৎপাদিত হয় সে ব্যাখ্যাটা অন্তত ১৯৫০ এর আগে দেওয়া সম্ভব হয় নি ।

১৯৫০ এর কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স অনেক ধরণের নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে, কিভাবে গতিশীল বস্তু থেকে আলো বিকিরিত হতে পারে সেটাও দেখিয়েছে, কিন্তু একেবারে নিশ্চিত ভাবে ফিলামেন্ট বাল্ব কিংবা উত্তপ্ত ধাতব তারের ক্ষেত্রে এই ধারণা ব্যবহৃত হয়েছে এমনটা আমি নিশ্চিত বলতে পারছি না, নইলে বলতাম বিষয়টা এখনও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় নি । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29633599 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29633599 2012-07-09 23:08:15
সাম্প্রতিক ভাবনা একটি ধর্মাচারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিরোধে ধর্মবেত্তাদের হত্যা করার নজির থাকলেও বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতির ভিন্নতায় কখনও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে নি, তারপরও আমি বুঝি না কেনো ধর্মকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণিত হতে হবে? ধর্ম এবং বিজ্ঞানের ভেতরে সুদুর অতীতে কোনো এক সময় এক ধরণের ঐক্যবদ্ধতা থাকলেও গত ৫ শতাব্দীতে ধর্ম এবং বিজ্ঞান দুটো ভিন্ন ধারায় বিকশিত হচ্ছে, ধর্মের বিকাশ ধর্মপুস্তকের বানীর বিস্তার ও ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ কিন্তু বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, যেকোনো বিষয় নিয়েই বিজ্ঞান কাজ করছে এবং কাউকে নতুন কোনো বিষয় উদ্ভাবন কিংবা নতুন কোনো ভাবনা বিস্তারের জন্য হত্যা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হয় নি।

প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ধ্বংস করে যখন নিউটনের ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো তখন নিউটনের ধারণায় বিশ্বাস স্থাপনকারী কেউই নতুন ধারণায় বিশ্বাস স্থাপনকারীদের হত্যা করতে অস্ত্রে শান দেয় নি।

ধর্ম বিশ্বাসের উপরে টিকে থাকে, বিশ্বাস যুক্তিনিরপেক্ষ, বিশ্বাসী নিজের বিশ্বাসের শ্রেষ্ঠত্ব কিংবা গরিমা প্রমণা করতে যুক্তি উৎপাদন করে, যৌক্তিক লড়াইটা বিশ্বাসের মৌলিক ভিত্তিকে অনড় রেখে চলতে থাকে কিন্তু যুক্তিনির্ভর বিশ্বাস এক ধরণের কাঁঠালের আমসত্ব, তার অস্তিত্ব কল্পনা করা কঠিন।

বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রসারে বিশ্বাসী ধর্মকে বিজ্ঞানসিদ্ধ করবার প্রবল প্রয়াসে লিপ্ত, কিন্তু বিজ্ঞান কখনও ধর্মের সীমানায় হানা দিয়েছে এমন না, বিভিন্ন সময়ে ধর্মবিশ্বাসী এবং ধর্ম অবিশ্বাসীদের ভেতরে যৌক্তিক লড়াই হয়েছে, ভীষণ রকম বাদানুবাদ হয়েছে, ধর্মবিশ্বাসী বিজ্ঞানসিদ্ধ নয় বলে ধর্মকে ছুড়ে ফেলে নি বরং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে অটল যুক্তি খুঁজে না পেয়ে নিজেই ধর্ম পরিত্যাগ করেছে।

কেউ সংশয়ী, কেউ বিশ্বাসী কেউ অবিশ্বাসী কিন্তু প্রত্যেকেরই নিজস্ব জীবন দর্শণ রয়েছে, সে জীবন দর্শণে জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতে সামাজিক স্থিরতা ও সামাজিক লেনদেনের শর্তও যুক্ত, যারা একদা প্রবল ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন তারা একটা পর্যায়ে ধর্মে আস্থা রাখতে পারেন নি, আবার একদল মানুষ বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুসরণ করতে গিয়ে কোথাও খেই হারিয়ে প্রবল ধর্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন, কিন্তু কেউই নিশ্চিত বলতে পারে না তারা বিজ্ঞানে ইশ্বরের অস্তিত্ব সরাসরি প্রমাণ করেছে কিংবা ইশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমাণ করেছে।

প্রত্যেকের নিজস্ব খোঁজ ছিলো, তার অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা- অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিজস্ব সংশয় ছিলো, যারা ধর্মে আশ্রয় খুঁজেছিলেন তারা ধর্মে তার অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তার সপক্ষে তেমন শক্ত কিছু খুঁজে পান নি, তারা ধর্ম ত্যাগ করেছেন, যারা বিজ্ঞানে নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা খুঁজছিলেন তারা এক সময় বিজ্ঞানেও আস্থা হারিয়েছেন, কিন্তু অপরাপর যারা আস্থা হারায় নি তারা কেউই সেইসব আস্থা হারানো মানুষদের প্রতি কোনো সহিংস আচরণ করেন নি।

সম্প্রতি হিগস বোসনের অস্তিত্বের সপক্ষে প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, তারা গত ৫০ বছর ধরে এর অস্তিত্ব অনুমাণ করছিলেন, সেই অস্তিত্বের উপরে ভিত্তি করে তারা তত্ত্বকে আরও প্রসারিত করেছেন কিন্তু যদি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয় হিগস বোসন আসলে অস্তিত্ববিহীন তারা এই ৫০ বছরের অর্জনের পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন ভাবে ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করবেন।

আমাদের মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হলো সে বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক থাকলেও কি প্রক্রিয়ায় সেটা বিকশিত হয়েছে সেটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের ভেতরে তেমন মতভেদ নেই, সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন বিদ্যমান পর্যবেক্ষণগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক অনুমাণ হলো সুদুর অতীতে কোনো এক সময় বিগব্যাং হয়েছিলো, এর পর থেকেই মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে- বিগব্যাংবিহীন মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক কল্পনাও বিদ্যমান,

এখন কসমোলজি বলছে বিগব্যাং হয়েছে এবং মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে- সুতরাং বিভিন্ন ধর্মপুস্তকে বিভিন্ন বানী খুঁজে বিশ্বাসীরা বলছেন সেখানে অতীতে ইশ্বরই নিজ বানীতে বলেছেন মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে- সে প্রসারণের ধরণও তিনি নির্ধারণ করে দিয়েছেন

বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পরবর্তীতে যদি মহাবিশ্ব প্রসারিত না হয় কিংবা বিগ ব্যাং এর ধারণাটাই নাকচ হয়ে যায়, যেমনটা নিউটনের ধারণার ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাহলে পুনরয়া বিশ্বাসীরা ধর্মপুস্তক খুলে খুঁজে পাবেন ইশ্বর বলেছেন মহাবিশ্ব স্থির- জনপ্রিয় ধারণায় বিশ্বাসীর বিশ্বাস প্রভাবিত হয়- বিজ্ঞান এমন ধারণাগত সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করছে না।

তারপরও বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে প্রমাণের চেষ্টা আমাকে আশ্বস্ত করে, যুগটা যে বিজ্ঞানের এবং প্রকৃতি বিশ্লেষণে বৈজ্ঞানিক কাঠামোই একমাত্র কার্যকরী কাঠামো এ বিশ্বাসটা ধর্মবিশ্বাসীদের ভেতরেও বিদ্যমান, ইশ্বরের বিশ্বাসের পাশাপাশি এ বিশ্বাসও তাদের ভেতরে তৈরি হচ্ছে, পরবর্তীতে তারা পারস্পরিক সহিংসতারঅভ্যাসটুকু ত্যাগ করতে পারলেই ব্যক্তিগত বিশ্বাস হত্যাপ্রবণ হয়ে উঠবার অভ্যাসটুকু কাটিয়ে উঠবে তারা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29631601 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29631601 2012-07-06 16:37:47
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ৫
যেকোনো স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যক ভাবে পরলে আলোর গতির দিক পরিবর্তিত হয়, সভ্যতার ইতিহাসে এই পর্যবেক্ষণ নতুন কিছু নয়, ম্যাক্সওয়েল তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব প্রকাশের ৫০০ বছর আগে থেকেই মানুষ বিভিন্ন ভাবে এই বিষয়টির প্রায়োগিক ব্যবহার শুরু করেছিলো, আলোর গতির দিক পরিবর্তনের এই পর্যবেক্ষণের ব্যবহারিক প্রয়োগ বিভিন্ন ধরণের আতশীকাঁচ নির্মাণ, সেসবের মাধ্যমে দুরবীন এবং মাইক্রোস্কোপ তৈরি করা হয়েছে। ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব আলোর গতিবেগের দিক পরিবর্তনের একটা সাম্ভাব্য ব্যাখ্যা উপস্থাপন করলো, পরবর্তী বিজ্ঞানীরা ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বের বিভিন্ন ধরণের প্রয়োগে সেসব রহস্য উদঘাটন করেছেন।

হেইনরিক হার্টজ ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব ব্যবহার করে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরিতে সমর্থ হলেন যখন সে সময়ই রেডিও প্রকৌশল জন্ম নিলো, প্রথম পর্যবেক্ষণের পর থেকে সেটার প্রায়োগিক ক্ষেত্র খুঁজে নিতে বিজ্ঞানীদের বেশী পরিশ্রম করতে হয় নি, বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের গবেষণা ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়িয়ে ভারত এমন কি নিউজিল্যান্ডেও প্রসারিত হলো, রাদারফোর্ড তার স্নাতক জীবনে রেডিও ট্রান্সমিটার তৈরির গবেষণা করেছিলেন, পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে এসে তিনি রেডিও ট্রান্সমিশনের পরিধি বৃদ্ধি করে বিনা বাধায় প্রায় মাইল খানেক দুরে তরঙ্গ পাঠাতে সমর্থ হয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় একটা সময়ে বাণিজ্যিক রেডিও তৈরি করা সম্ভব হয়।
যদি বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাহলে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করা সম্ভব, বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তন মানে ইলেকট্রনের গতিবেগের পরিবর্তন, অর্থ্যাৎ ইলেক্ট্রনের গতিবেগ পরিবর্টিত হলে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকিরিত হয়। ট্রান্সমিটারের এন্টেনায় বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে হার্টজ তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব প্রমাণিত করলেন, তিনি দেখালেন ট্রান্সমিটারের এন্টেনায় বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হলে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকরিত হয়। বিকিরিত তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এন্টেনার দৌর্ঘ্যের উপর নির্ভব করে

হার্টজ তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণার সময়ই লক্ষ্য করেছিলেন উচ্চ কম্পাঙ্কের আলো কোনো ধাতুর পাতে পতিত হলে সেখান থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়, তবে তিনি এই ইলেক্ট্রনের উৎপত্তি কিংবা এর বিভিন্ন বৈশিষ্ঠ্য বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী হন নি।

প্রতিটি বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ আলাদা করে ভাবলে বিজ্ঞানের অগ্রগতির দিকটুকু অনুধাবন করা কঠিন, বিজ্ঞান বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করতে উৎসাহী হয়ে উঠে, বিজ্ঞানের এই বৈশিষ্ঠ্যটুকু বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যার সময়ে মোটামুটি সন্তোষজনক সমাধান দিয়েছে , তাত্ত্বিক পরিধিতে ব্যাখ্যা না করে তারা বিভিন্ন ধরণের সম্পর্ক আবিস্কার করেছেন, সেসব সম্পর্ক প্রতিটা পর্যবেক্ষণের কার্যকরণ ব্যাখ্যা করেছে, প্রকৃতির আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আবিস্কারে সহায়ক হয়েছে।

যেকোনো ধাতব তারকে উত্তপ্ত করতে থাকলে সেটা একটা সময়ে লালচে হয়ে জ্বলে উঠে, পরবর্তীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেটা সাদা হয়ে যায়, একটি বায়ুশূণ্য কাঁচের ধারকে কোনো গ্যাস রেখে তার ভেতরের তড়িৎক্ষেত্রের প্রাবল্য( ইলেক্ট্রিক ফিল্ড ইনটেনসিটি) বাড়ালে একটা পর্যায়ে গ্যাস আলো বিকিরণ করে, এমন কি যদি হঠাৎ করে উচ্চগতি সম্পন্ন কোনো ইলেক্ট্রন ধাতব পৃষ্টে বাধা পায় তাহলেও তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ ঘটতে পারে, (এভাবেই এক্স রে তৈরি করা হয় পরীক্ষাগারে), হার্টজের তড়ীৎ চুম্বকীয় বিকিরণ তৈরির আগে এবং সেই একই দশকে বিভিন্ন ভাবে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ উৎপাদনের কৌশল রপ্ত করেছিলেন বিজ্ঞানীরা, প্রতিটি ক্ষেত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি হলেও এদের ব্যাখ্যা আলাদা, আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে এসব উৎপাদিত হয় এবং বিজ্ঞানীরা পরবর্তী ৩ দশকে এইসব বিষয়কে বিভিন্ন সময়ে ব্যাখ্যা করতে সমর্থ হয়েছেন, একই সাথে নতুন ধরনের ধাঁধার মুখোমুখি হয়েছেন, আলো তরঙ্গ এবং আলোর কণিকা বিষয়ক ধাঁধার সফল সমাধান হলেও এখনও কেউই নিশ্চিত হয়ে বলতে পারেন না আলো আদতে কখনও কণিকার মতো আচরণ করবে, কখন তরঙ্গের মতো আচরণ করবে, পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করবে আসলে আমরা আলোর কোন চরিত্র আবিস্কার করবো।

বৈজ্ঞানিক ব্যার‌্যার সুবিধার্থে আলোর তরঙ্গ চরিত্র প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপট এবং আলোর কণিকা চরিত্র প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, যখন আলো কোনো ইলেক্ট্রন কিংবা কোনো গ্যাসের অণুর সাথে ধাক্কা খায় তখন সে কণিকা চরিত্র প্রকাশ করে, যখন কোনো মাধ্যম দিয়ে যায় তখন তার চরিত্র তরঙ্গের মতো- এবং সেই মাধ্যমে যাওয়ার সময়ও সে এমন সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে- তখন সে আদতে কণিকা চরিত্র ধারণ করে না কি তরঙ্গ চরিত্র ধারণ করে সে বিষয়টা মীমাংসিত না, তবে সামগ্রীক বিবেচনায় স্ব্ছ মাধ্যমে আলোর গতির ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো মূলত তরঙ্গাকারে প্রবাহিত হয়।

ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ব্যাখ্যানুসারে ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে আলোর গতিবেগ ভিন্ন কারণ প্রতিটি মাধ্যমে পারমিটিভিটি এবং পারমিয়াবিলিটি কনস্ট্যান্টের মাণ আলাদা, সুতরাং আলোর গতিবেগ পরিবর্তিত হবে,

ধাতব পৃষ্টে যখন আলো পতিত হয় তখন সেটা কণিকা চরিত্র প্রকাশ করে, নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ক্ষুদ্র আলোর তরঙ্গ পতিত হলে ধাতব পৃষ্ট থেকে ইলেক্ট্রন নির্গত হয়, আইনস্টাইন এই পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

কাঁচ কিংবা আলুমিনিয়ামের পাত মাধ্যম হিসেবে ভিন্ন এবং এই দুই মাধ্যমের একটিতে আলোর তরঙ্গ চরিত্র প্রকাশিত হয় অন্যটিতে প্রকাশিত হয় আলোর কণিকা চরিত্র এই ধাঁধার সমাধান কি? আলো কিভাবে নির্ধারণ করে কখন তার কি চরিত্র প্রকাশ করতে হবে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29630368 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29630368 2012-07-05 01:12:02
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০৪
রাদারফোর্ড ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি থাকাকালীন সময়েই অটো হান এবং ফ্রেডরিক সডির সহযোগিতায় অনুমাণ করতে পেরেছিলেন তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে পরমাণুই পরিবর্তিত হয়ে যায়, যদিও এর কার্যকারণ তাদের জানা ছিলো না কিন্তু তারা নিশ্চিত অনুমাণ করতে পেরেছিলেন প্রতিটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণই পরমাণুকে পরিবর্তিত করে নতুন একটি পরমাণুতে পরিণত করে। যখন রাদারফোর্ড ম্যানচেস্টারে ফেরত আসলেন তখন বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ২৬ রকমের তেজস্ক্রিয় মৌলের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত কিন্তু পর্যায় সারণীতে তাদের অবস্থান বিষয়ে ভীষণ রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন।

১৯১১ সালে জে জে থম্পসনের ক্যাভেন্ডিস ল্যাবে গবেষণাসহকারী হিসেবে আসেন নীলস বোর, স্থানীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক নীলস বোর, তড়িৎ প্রবাহে ইলেক্ট্রন গ্যাসের ভুমিকা বিষয়ে তার গবেষণা তেমন আশানুরূপ হয় নি। ইলেক্ট্রন বিষয়ে আরও গভীর জ্ঞানের জন্যেই ক্যাভেন্ডিস ল্যাবে থম্পসনের কাছে এসেছিলেন তিনি, মেজাজী নীলস বোর খুব অল্প দিনেই থম্পসনের কাজের বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন, এমন সময় তার সাথে পরিচয় হলো রাডারফোর্ডের, ১৯১২ সালে তিনি ম্যানচেস্টারে রাদারফোর্ডের সাথে গবেষণা শুরু করলেন।

রাদারফোর্ড ম্যানচেস্টারে এসে পরমাণুর গঠনের উপরে গবেষণা শুরু করেন। তেজস্ক্রিয় বিকিরণে প্রাপ্ত আলফা কণিকারগতিপথে পাতলা সোনার পাত রেখে সোনার পাত দিয়ে আলফা কণিকার গটিপথ অনুমাণের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি দেখলেন প্রায় সব সময়ই আলফা কণিকা সোনার পাত ভেদ করে চলে গেলেও কিছু কিছু আলফা কণিকা একেবারে উল্টো দিকে ফিরে আসে- ভীষণ রকম উত্তেজিত রাদারফোর্ড অনুমাণ করলেন আলফা কণিকার চেয়ে অনেকগুণ ভারী কোনো কিছু পরমাণুর কেন্দ্রে উপস্থিত, আলফা কণিকা সেখান থেকে প্রতিফলিত হচ্ছে। তার ভাষায়

ঘটনাটা একেবারে অদ্ভুত, এমন যে তুমি পাতলা একটা টিস্যু পেপারে কামানের গোলা ছুড়লে আর গোলাটা ফিরেএসে তোমাকে আঘাত করলো।

চার্লস ডারউইনের নাতিও একই সময়ে রাদারফোর্ডের এই পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করছিলো, চার্লস গ্যালটন ডারউইন সোনার পাতের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় কেনো আলফা কণিকার গতিশক্তি হ্রাস পায় সে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনুমাণ করলেন যখন আলফা কণিকা সোনার পাতের ভেতর দিয়ে যায় তখন ইলেক্ট্রনের সাথে ধাক্কা লেগে এর গতি শক্তি হ্রাস পায়, কিন্তু তারপরও আলফা কণিকার গতিশক্তি হ্রাসের বিষয়ে তেমন সন্তোষজনক কোনো সমাধান দিতে পারছিলো না এই অনুমাণ।
নীলস বোর তার ডক্টরেট থিসিসেও অনুমাণ করেছিলেন ইলেক্ট্রন বিনা বাধায় পরিবাহীর ভেতরে ভ্রমণ করতে পারে- ডারউইনের তত্ত্বের ব্যর্থতায় একেবারে আকস্মিক অনুমাণে তিনি বললেন আসলে পরমাণুর কেন্দ্র ইলেক্ট্রনকে আটকে রাখে, এবং এই ইলেক্ট্রন শুধুমাত্র নির্ধারিত পরিমাণ শক্তি গ্রহন করতে পারে। তার এই অনুমাণ একটি গবেষণা নিবন্ধে লিখে তিনি কোপেনহেগেনে ফিরে গেলেন বিয়ে করতে।

বিয়ের পর কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হলেন তিনি, ডাক্তারী পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা পড়ানোর বাইরে অন্য কোনো কাজ ছিলো না তার। তার গবেষনা নিবন্ধে উপস্থাপিত এই অদ্ভুত ধারণা কি হাইড্রোজেনের বর্ণালীকে ব্যাখ্যা করতে পারবে?

হাইড্রোজেনের বর্ণালীতে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোগুলোর ভেতরে একটি সাধারণ ঐক্য আছে, একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক বিধি মেনে চলে ওটা। সহকর্মীর প্রশ্নের উত্তরে নীলস বোর জানালেন তার ব্লামার সিরিজ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।

তার অনুমাণ ইলেক্ট্রনগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহন করতে পারে ব্লামার সিরিজে প্রয়োগ করে তিনি হাইড্রোজেনের বর্ণালীর ব্যাখ্যা সমেত একটি গবেষণাপত্র পাঠিয়ে দিলেন প্রকাশের জন্য।

সে গবেষণাপত্র জার্মানীতে সমারফিল্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো, এবং তিনি তার গাণিতিক দক্ষতায় বোরের পরমাণুর ধারণাকে প্রতিষঠিত করলেন। তিনি প্রমাণ করলেন পরমাণুর কেন্দ্রে উপস্থিত ধণাত্মক আধানবাহী নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ইলেক্ট্রনগুলো গ্রহদের মতো ঘুরতে থাকে কিন্তু শুধুমাত্র সেসব কক্ষপথেই ইলেক্ট্রনগুলো থাকতে পারে যেগুলোর পরিধি সেই পরমাণুর বর্ণালীর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের গুণিতক।

বোরের পরমাণু কল্পনায় বৈপ্লবিক কিছু প্রথম দেখায় খুঁজে পাওয়া কঠিন কিন্তু পজিটিভিস্ট দার্শণিক তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীদের কাছে এই পরমাণুর ধারণাটি তেমন গ্রহনযোগ্য মনে হয় নি বিভিন্ন কারণেই।

গ্যাসের গতিতত্ত্বে যখন পরমাণুর অস্তিত্ব কল্পনা করা হয়েছিলো তখন প্রতিটি পরমাণুর গতিপথ বিষয়ে নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করবার দুর্বলতা সত্ত্বেও সেটাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা কারণ সেটা বিদ্যমান পর্যবেক্ষণকে সূচারু ভাবে ব্যাখ্য করতে পারছিলো, তাছাড়াও এখানে প্রতিমুহূর্তে বিপুল সংখ্যক সংঘাতের কথা বলা হলেও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিলো প্রতিটি সংঘাতের মধ্যবর্তী সময়ে পরমাণুগুলো নিউটনের সূত্র মেনে চলে এবং সে সময় তাদের সরল রৈখিক গতিপথের কোনো পরিবর্তন হয় না।

ম্যাক্সপ্ল্যাংকের উত্তপ্ত বস্তুর বর্ণালীর ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত কোয়ান্টা কিংবা কণিকার ধারণাটা তখনও ততটা জনপ্রিয় না হলেও পরীক্ষালব্ধ পর্যবেক্ষণ এবং পূর্ববর্তী কয়েক যুগের অমীমাংসীত প্রশ্নের মীমাংসা করতে পেরেছিলো সে ধারণা।

বোরের প্রস্তাব ছিলো হাইড্রোজেনের বর্ণালীতে প্রাপ্ত বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো মূলত ইলেক্ট্রনের এক কক্ষপথ থেকে অন্য একটি কক্ষপথে পতিত হওয়া, হাইড্রোজেনের বর্ণালীতে একাধিক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপস্থিতিতে নিশ্চিত হলো ইলেক্ট্রন একাধিক কক্ষপথে পতিত হতে পারে,

মৌলের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ একটা অনিশ্চিত তাৎক্ষণিক বিষয়, এখানে অসংখ্য পরমাণুর প্রতিটিরই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করে অন্য একটি পরমাণুতে পরিণত হওয়ার সম্ভবনা থাকলেও কখন কোন পরমাণুটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রদান করে ভিন্ন একটি পরমাণুতে পরিণত হবে সেটা নিশ্চিত বলা সম্ভব ছিলো না।

বোরের পরমাণুর ইলেক্ট্রন আরও নতুন জটিলতা তৈরি করলো, ইলেক্ট্রন একাধিক কক্ষপথে যেতে পারে কিন্তু কখন কোন ইলেক্ট্রন কোন কক্ষপথে যাবে সেটা নির্ধারণ করে কে? একটি পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা আরও অসংখ্য জটিলতা তৈরি করলো।

পরবর্তীতে সমারফিল্ডের কাছে গবেষণা করতে আসা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় এসব বর্ণালী বিশ্লেষণ করে ইলেক্ট্রনের সাম্ভাব্য কক্ষপথ পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে যাচাই করেছেন। কিন্তু সেটাও এক ধরণের অনুমাণের ভিত্তিতে, তেমন কোনো গ্রহনযোগ্য ব্যখ্যাবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন সংখ্যা ধরে নিয়ে সমীকরণ মেলানোর এ বিধি সে সময়ে সমারফিল্ডের সাথে কাজ করা হাইজেনবার্গের তেমন পছন্দ হয় নি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29598207 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29598207 2012-05-18 00:09:43
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০৩
রাডারফোর্ড রেডিও ট্রান্সমিশন ডিটেকটর তৈরি করেছিলেন, ক্যামব্রীজে সে গবেষণাই করছিলেন, রেডিও ট্রান্সমিশন ডিটেক্টরের পাল্লা বেড়ে মাইলখানেক হওয়ার পর ক্যামব্রীজ আর লন্ডনে বিভিন্ন ডিনার পার্টিতে ঘনঘন দাওয়াত পেতেন রাদারফোর্ড, সেখানে তাকে রেডিও ওয়েভ ট্রান্সমিশন ডিটেকটরের কার্যকারিতা দেখাতে হতো। সাদামাটা রেডিও ওয়েভ মোটা মোটা দেয়াল ভেদ করে চলে যেতে পারে এই অভুতপূর্ব দৃশ্য দেখে আমোদিত হতো উপস্থিত অতিথিরা, কিন্তু এইসব ডিনার পার্টিতে উপস্থিত মহিলাদের পোশাক নিয়ে চাষা রক্ষণশীল রাদারফোর্ডের আক্ষেপের শেষ ছিলো না, মোটাদাগে তাদের অর্ধনগ্নই বলতেন তিনি।

এমনই সময় উইলিয়াম রন্টজেন এক্স রে আবিস্কার করলেন, তার হাতের এক্স রে ইমেজের প্রতিচ্ছবি প্রায় সকল নামজাদা ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়েছিলো। এ সময়েই এক্স রে বিষয়ে ইউরোপের গবেষণাগারে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। প্রতিপ্রভ স্ফটিক নিয়ে গবেষণা করার পারিবারিক প্রথা ছিলো বিক্যুরেল পরিবারে। তার দাদা, বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে তিনিও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ একটি প্রতিপ্রভ স্ফটিক পেয়েছিলেন।

এক্স রের জনপ্রিয়তায় তিনিও প্রতিপ্রভ স্ফটিক থেকে দুর্ঘটনাক্রমে তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরন আবিস্কার করেন। তার এই আবিস্কার এক্স রে উন্মাদনায় ভোগা ইউরোপে তেমন আলোড়ণ তৈরি না করলেও মেরি কুরি এবং পিয়েরি কুরিকে আলড়িত করেছিলো। তারা আকরিক পরিশুদ্ধ করে প্রথমে পোলোনিয়াম এবং পরে রেডিয়াম আবিস্কার করলেন, উভয় মুৌলই ইউরেনিয়ামের চেয়ে অনেক বেশী তেজস্ক্রিয়। তারা এ আবিস্কারের জন্য দুইবার নোবেল পেয়েছেন, এবং পরবর্তীতে তাদের কন্যাও নোবেল পেয়েছেন।

১৮৯৫ থেকে ১৮৯৮ এর ভেতরে দুর্ঘটনাক্রমে তেজস্ক্রিয়তা এবং এক্স রে বিকিরণ আবিস্কৃত হয়, রাদারফোর্ডও তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। রাদারফোর্ড আর জে জে থম্পোসনের অনুমাণ ছিলো ক্যাথোড রে টিউবে গ্যাস আয়নিত হয়, আয়নিত গ্যাসকে তড়িৎক্ষেত্রে রাখলে সেটার বিচ্যুতি ঘটবে এমন আশা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেলো চৌম্বকক্ষেত্রে আয়নিত গ্যাস বিচ্যুত হয়, পরবর্তীতে গ্যাসের গতির দিকে তড়িৎক্ষেত্র স্থাপন করে দেখা গেলো তড়িৎ ক্ষেত্রেও আয়ন প্রবাহকে বিচ্যুত করতে পারে- তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকায় থম্পসন ১৮৯৮ সালেই ক্যাথোড রে টিউবের আয়নের ভর এবং আধানের অনুপাত নির্ণয় করলেন এবং দেখা গেলো এ অনুপাত হাইড্রোজেন আয়নের ভর ও আধানের অনুপাতের হাজার গুণ বেশী। থম্পসন ঘোষণা করলেন এটাই পরমাণুর মূল উপাদান, অসংখ্য ইলেক্ট্রন একত্রিত হয়ে একটি পরমাণু গঠন করে এবং এদের গঠনের ধাঁচের উপর পরমাণুর বর্ণালী নির্ভর করে।

থম্পসনের এ অনুমাণ পরবর্তীতে রাদারফোর্ড ভ্রান্ত প্রমাণ করেন, তিনি আবিস্কার করেন প্রতিটি পরমাণুর কেন্দ্রে একটি ধনাত্মক আধানবাহী নিউক্লিয়াস বিদ্যমান। কিন্তু থম্পসনের এই ঘোষণা এক ধরণের জাতীয়তাবাদী বিতর্ক তৈরি করে, থম্পসনের পরমাণু মডেলের তীব্র বিরোধিতা করেন উইলহেম ওসওয়াল্ড, এ সময় থম্পসনকে সমর্থন করেন লর্ড কেলভিন এবং ফিটজেরাল্ড। তারা জার্মানদের নিস্প্রাণ বিজ্ঞান চর্চায় ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা প্রাণের স্পন্দন নিয়ে এসেছে এমনভাবেই থম্পসনের মডেলকে উপস্থাপন করেন।

থম্পসনের পরমাণু মডেলের অনেক রকমের খামতি ছিলো, রাদারফোর্ড, তার শিক্ষকের মতোই তীক্ষ্ণ মেধাবী বিজ্ঞানী ছিলেন, তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করবার সময় তিনি আবিস্কার করলেন একটি তেজস্ক্রিয় মৌল মূলত তিন ধরণের বিকিরণ দেয়, আলফা, বিটা এবং গামা বিকিরণ- আলফা বিকিরণে প্রাপ্ত কণিকাকে সংরক্ষণ করে দেখা গেলো এটা মূলত হিলিয়াম। সে সময়েই পরমাণুর আভ্যন্তরীণ গঠন বিষয়ে এক ধরণের প্রাথমিক ধারণা বিজ্ঞানীদের ভেতরে দানা বাধতে থাকে, কিন্তু কেউই আসলে নিশ্চিত করে মডেলটা তৈরি করতে পারছিলেন না।

তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কুরি পরিবারের নিয়মতান্ত্রিক গবেষণায় জানা গেলো তেজস্কিয়তার পরিমাণ( কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি তেজস্ক্রিয় মৌল কি পরিমাণ বিকিরণ দিবে) নির্ধারণ করে সে মৌলটির পরিমাণ- একটি নির্দিষ্ট সময় পর তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ কমে যায়, একই সাথে মৌলটির ভরও পরিবর্তিত হয়। তেজস্ক্রিয়তার উৎস কিংবা কারণ সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলতে না পারলেও তারা তেজস্ক্রিয় মৌলের হাফ লাইফের ধারণাটা প্রতিষ্ঠিত করেন।

একই সাথে পদার্থবিজ্ঞানের জগতে পুনরায় ঢুকে যায় অনিশ্চয়তা- কোন মৌলটি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করবে সেটা কিভাবে নির্ধারিত হয়, পরীক্ষা বলছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্ধেক পরমাণুর তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করবে কিন্তু কোন অর্ধেক মৌল এ বিকিরণ করবে সেটা নির্ধারণ করে কে? নিশ্চিত ভবিষ্যত বানী বিষয়ে পূর্বতন বিজ্ঞানীদের বিশ্বাসে তীব্র আঘাত আসলো এভাবেই। কখন কোন মৌলটি বিকিরণ করবে সেটাও নির্ধারিত নয়, কি কারণে বিকিরণ হবে সেটাও নির্ধারিত নয় কিন্তু সামগ্রীক ভাবে পরিমাণগত বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধেক পরমাণুই হাফ লাইফ শেষে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ করছে।

রাদারফোর্ড এমন তেজস্ক্রিয় মৌল নিয়ে গবেষণা করছিলেন কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটিতে, সেখানে তিনি দেখলেন একটি তেজস্ক্রিয় মৌল কয়েক ধরণের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রদান করতে পারে, তিনি সেসবের আলাদা তালিকাও তৈরি করলেন।
পরবর্তীতে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এবং আলফা কণিকার বিকিরণ দিয়ে পদার্থের গঠন পর্যবেক্ষণের পরীক্ষা শুরু করেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29596147 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29596147 2012-05-14 22:29:52
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব ০২
নিউটন এবং লিবনিজ প্রায় একই সময়ে ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাসকে বিজ্ঞানের সমস্যা সমাঢানের উপায় হিসেবে নির্মাণ করেন, ইন্ট্রেগ্রাল ক্যালকুল্যাসের ধারণা তারও অনেক আগে থেকে প্রচলিত থাকলেও ক্যালক্যুলাসের জন্ম হওয়ার পর ইন্ট্রেগ্রাল ক্যালক্যুলাসের ধারণা ও ব্যবহারও অনেক বেশী বিস্তার লাভ করলো।

গ্যালিলিও যখন বেছিলেন অন্য কোনো কিছুর প্রভাবে বস্তুর গতি পরিবর্তিত হয় তখন তিনি আলাদা করে " বল" শব্দটি ব্যবহার করেন নি,নিউটন তার জন্মের ঠিক ১০০ বছর পর জন্মে বস্তুর গতির পরিবর্তনের কারণগুলোকে সংক্ষেপে গাণিতিক আকারে উপস্থাপন করলেন। অবশ্য নিউটনের সূত্রগুলোকে এখন আমরা যেভাবে দেখছি সেটার পেছনে আরও অনেক বিজ্ঞানীর অবদান আছে।

নিউটন বললেন বস্তুর গতির পরিবর্তনের জন্য বল প্রয়োজন, সে বলের দিকেই বস্তুর গতি পরিবর্তিত হবে, যদি কোনো একটি বস্তুর গতি অপরিবর্তিত থাকে তাহলে বুঝতে হবে এই বস্তুর উপরে ক্রিয়াশীল বলগুলো পরস্পরকে নাকচ করছে।

যদিও নিউটনের সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বলের ধারণা তৈরি হয় নি, তবে প্রত্যেকটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান এই ধারণাটুকু উপস্থাপনের জন্য িউটন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। যদিও নিউটনের তৃতীয় সূত্র ব্যবহারিক জীবনে নিয়মিতই ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু এটা এমন কি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্ররাও অনেক সময় ভুলভাবে বুঝে।

নিউটনের গতিসুত্র পৃথিবীতে যেমন বস্তুর গতির পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করলো ঠিক টেমন ভাবে মহাকর্ষ সূত্রও গ্রহ-নক্ষত্রের গতিকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হলো। নিউটনের সুত্র গাণিতিক সমীকরণ- এবং গাণিতিক সমীকরণ বলেই যেকোনো বস্তুর গতির প্রাথমিক তথ্যগুলো জানা থাকলে এবং এর উপরে প্রযুক্ত বলের দিক ও পরিমাণ জানা থাকলে পরবর্তী যেকোনো মুহূর্তে বস্তুর অবস্থান নিশ্চিত বলা যায়। এই নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করার ক্ষমতাটুকু বিজ্ঞানীদের এক ধরণের স্বস্তি দিয়েছিলো।

নিউটনের সূত্র মেনে চলা জগতে সকল পরিবর্তনের নেপথ্যে কোনো না কোনো উদ্দীপনা বিদ্যমান এবং সেসব উদ্দীপনাকে চিহ্নিত করা সম্ভব হলে পরিস্থিতির পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত ভবিষ্যতবানী করা সম্ভব ভাবনাটা শুধু পদার্থবিজ্ঞানে উৎসাহী বিজ্ঞানীদেরই প্রভাবিত করেছিলো এমন না , বরং সিগমুন্ড ফ্রয়েড মনোবিজ্ঞানে এবং কার্ল ম্যার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস তাদের সমাজ বিশ্লেষণেও নিউটনের সূত্রগুলোকে সামাজিক পরিবর্তনের কার্যকরণ নির্ধারণ ব্যবহার করেছেন।

সে সময়েই গ্যাসের গতিতত্ত্ব এক ধরণের অনুমাণ হিসেবে বিকশিত হচ্ছিলো। যেকোনো গ্যাসের আয়তন চাপে পরিবর্তিত হয়, যদি চাপ পরিবর্তিত না হয় তবে তাপমাত্রা বাড়ালেও গ্যাসের আয়তন পরিবর্তিত হয়, বয়েল এবং চার্লসের পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা করতে পরমাণুর ধারণা বিকশিত হওয়ার সময় কিছু পূর্বাণুমাণ ধরে নেওয়া হয়েছিলো- গ্যাস অতিক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে তৈরি, এইসব কণিকাগুলোর ভর নগন্য এবং এরা পরস্পরের সাথে এবং যে পাত্রা রাখা হয়েছে সে পাত্রের দেয়ালের সাথে সারাক্ষণ ধাক্কা খায় এবং এদের গতির দিক পরিবর্তিত হয়।

গ্যাসে অনু-পরমাণুর সংখ্যা এত বেশী যে একটি নির্দিষ্ট পরমাণুর গতিপথ আলাদা করে নির্ধারণ করা কঠিন- প্রায় অসম্ভব, তবে এরাও নিউটনের সুত্র মেনে চলে, প্রতিবার ধাক্কা লাগার আগ পর্যন্ত এরা সরল রেখায় চলাচল করে। কিন্তু প্রতিটি পরমাণুকে আলাদা করে চিহ্নিত করে এডের সামগ্রীক গতির অবস্থা ব্যাখ্যা করা সম্ভব না, তবে সম্মিলিত ভাবে এদের প্রভাবটা পরিমাপযোগ্য। নিশ্চিত, নিখুঁত ভবিষ্যতবানীর জগত থেকে পদার্থ বিজ্ঞান এ সময়েই বিচ্যুত হয়ে যায়, জেমস ক্ল্যার্ক ম্যাক্সওয়েল পরবর্তীতে বললেন একটি গ্যাসের সকল পরমাণুই একই গতিবেগে চলাচল করে না, বরং এদের গতি পরিসাংখ্যনিক, একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতরেই ঠাকবে, ফলে কোনো কোনো পরমাণুর গতিবেগ প্রায় শূণ্য হতে পারে, এবং কোনো কোনো পরমাণুর গতিবেগ অসীম হতে পারে, কিন্তু মোটামুটি সকল পরমাণুর গতি একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে থাকবে- তাপমাত্রা বাড়লে এই গড়গতিবেগ বৃদ্ধি পাবে।

পরিমাপ অযোগ্যতা কিংবা প্রতিটি কণার ভবিষ্যত নিশ্চিত বলতে না পারার অক্ষমতা এক ধরণের দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছিলো, যদিও পরবর্তীতে নিজগুণেই স্ট্যাটিসটিক্যাল মেকানিক্স পদার্থ বিজ্ঞানে জায়গা করে নিয়েছে কিন্তু যেসব বিজ্ঞানী বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করা এবং পরিমাপযোগ্য গাণিতিক আকারে প্রতিটি বস্তুর পরিবর্তনকে চিহ্নিত করটে পারাটাই পদার্থ বিজ্ঞানের সাফল্য- যারা বিশ্বাস করতেন পরীক্ষাগারেই বিজ্ঞানের তত্ত্ব নিশ্চিত প্রমাণিত হবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিমাপ একটি নির্দিষ্ট মাণই প্রদান করবে তারা এমন পরিসংখ্যানিক কণার অস্তিত্বেব বিশ্বাস করেন নি, যদিও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ও ব্যাখ্যায় সফল বলে অগ্যতা মেনে নিয়েছিলেন, তাদের অনুযোগ অব্যহত ছিলো। এমনই বিরোধ পরবর্তীতে বোল্টজম্যানকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29595658 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29595658 2012-05-14 00:43:50
অনিশ্চয়তা তত্ত্ব-০১ I like relativity and quantum theories
Because I don’t understand them
And they make me feel as if space shifted about like a swan
that can’t settle,
Refusing to sit still and be measured;
And as if the atom were an impulsive thing
Always changing its mind
D. H. Lawrence

পদার্থবিজ্ঞানে অনিশ্চয়তার তত্ত্ব নিয়ে যতটা বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে অন্য কোনো তত্ত্বীয় অনুধাবন ততটা বিতর্কিত হয় নি। চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানে যেকোনো বস্তুর ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ( তার গতির ধারাবাহিক বিবর্তন, তার ভর- তার ভরবেগ, তার উপরে প্রযুক্ত বলের প্রভাব সবই নিখুঁত ভাবে পরিমাপযোগ্য) অবিচ্ছিন্ন। গ্রহ-নক্ষত্রের গতি- কক্ষপথ, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে এবং ভবিষ্যতে ঘটবে, সবই প্রাথমিক অবস্থা জানা থাকলে নিখুঁত ভবিষ্যতবানি করা সম্ভব। এই সম্ভবপরতার ধারণাটিকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হাইজেনবার্গ যখন অনিশ্চয়তার সূত্র দিলেন তখন থেকে অদ্যাবধি এই ধারণাকে মেনে নিতে কিংবা এ ধারণার সাথে খাপ খাওয়াতে পদার্থবিজ্ঞানী এবং সাধারণ বিজ্ঞান পাঠক সবারই কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। ওয়াইবার্গ অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলেছেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাম্ভাব্যতা, কোনো অতিক্ষুদ্র বস্তুর অপরিমাপযোগ্যতা একধরণের বাস্তবতা- এটাকে মেনে নেওয়াই ভালো, এটার দার্শণিক ভিত্তি অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন নেই, তা অনাকাঙ্খিত সংকট তৈরি করবে।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জন্মের প্রায় ৭০ বছর পরে ওয়াইনবার্গের এই সাবধানবানী তৎকালীন পদার্থবিজ্ঞানীর মানসিক সংকটকে ততটা ফুটিয়ে তুলতে পারে নি। সেটা তখন এক ধরণের বিভ্রান্তিকর, ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিলো এবং সে সময়ের বর্ষীয়ান পদার্থবিজ্ঞানীদের অধিকাংশই এই তত্ত্ব মেনে নিতে গররাজি ছিলেন।

তারই প্রতিক্রিয়ায় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অপরিমাপযোগ্য সা্ম্ভাব্যতাতত্ত্ব নিয়ে আইনস্টাইনের উক্তি ইশ্বর পাশা খেলা পছন্দ করেন না, যদিও আইনস্টাইন প্রথাগত অর্থে ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন না , কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম কানুনের ভেতরে এক ধরণের পরিমাপযোগ্যতা আছে এ ধারণার স্থির আইনস্টাইন শুধুমাত্র সাম্ভাব্যতাবহুল বলে কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে গ্রহনযোগ্য বিবেচনা করতে পারেন নি, যদিও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জন্মের পেছনে আইনস্টাইনের সামান্য অবদান আছে। আইনস্টাইনের আপত্তিকে একটু আলাদা ভাবে উপস্থাপন করেছেন শ্রোয়েডিংগার। শ্রোয়েডিঙ্গারের কালো বেড়াল জীবিত অথবা মৃত - সেটা নিয়ে বিতর্ক কখনও শেষ হয় নি, বিজ্ঞানীদের ভেতরে বিজ্ঞানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং পরিমাপযোগ্যতার বিতর্ক সাধারণ মানুষের কথোপকথনে এসে বিভিন্ন ধরণের অনুধাবণের জন্ম দিয়েছে।

রবার্ট ফন লিউয়েনহুক , মাইক্রোস্কোপের জনকও বলা যায় তাকে, তার যন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন বস্তুর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করেছিলেন স্থির তরলে নিস্প্রাণ বস্তুরও গতির পরিবর্তন হয়, কোনো রকম বাহ্যিক বলের প্রভাব ছাড়াই এরা গতিশীল, এদের ক্ষুদ্র প্রাণ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন লিউয়েন হুক। তার এই পর্যবেক্ষণ তার ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করেছিলো, বিভিন্ন অভিজাত পরিবারের ড্রইং রুমে রাখা মাইক্রোস্কোপে গৃহস্বামী জড়বস্তুর এমন গতিশীলতা দেখিয়ে আগত অতিথিদের মনোরঞ্জন করতেন।

পরবর্তীতে রবার্ট ব্রাউন এমন গতি পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি পরাগ রেণুর গতিশীলতা দেখে কিছুটা অবাক হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য জড় বস্তু, কাঁচের গুড়ো, পাথরের গুঁড়ো পর্যবেক্ষণ করেও দেখলেন এরাও তরলে ভাসমান অবস্থায় গতিশীল, তবে এদের গতিশীলতার কোনো নির্ধারিত ধরণ নেই, যাদৃচ্ছিক এই গতির পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা রবার্ট ব্রাউনের ছিলো না, পরবর্তীতে ইতিহাস বলছে টরলে জড়-নিস্প্রাণ বস্তুর এই যাদৃচ্ছিক গতিশীলতার পর্যবেক্ষণ এবং এই গতিকে ব্যাখ্যা করবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলো পর্যবেক্ষকেরা তবে কেউই নিশ্চিত কোনো জবাব দিতে পারে নি।

উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি গ্যাসীয় গতিবিদ্যার আবির্ভাব হয়, তত্ত্ব হিসেবে এটা পরবর্তীতে অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে এটার ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিলো বস্তুর তাপের পরিচলন ব্যাখ্যায়। পদার্থবিজ্ঞানীরা সে সময়ে পরমাণু কিংবা অণুর ধারণা নিয়ে আলোচনা করলেও রসায়নে যেভাবে অণু-পরমাণু বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিলো তার সাথে এ আলোচনার সংশ্রব ছিলো না। পদার্থবিদদের পরমাণু এবং রসায়নবিদদের পরমাণু দুটো ভিন্ন ধারণা হিসেবে বিকশিত হচ্ছিলো।

১৮৭২ সালে ডালটনের পরমাণুতত্ত্বকে অগ্যতা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বীকৃতি দেওয়া হলো, একদল রসায়নবিদ পরমাণুর অস্তিত্বের সপক্ষে ছিলেন এবং অন্যান্য রসায়নবিদ গণের কাছে ভরের নিত্যতা সূত্র- গে ল্যুকাসের সূত্র- এইসবই একেবারে প্রাথমিক ধারণা হিসেবে গ্রহনযোগ্য ছিলো। পরিমাপঅযোগ্য কোনো ধারণাকে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক সুবিধার জন্য গ|রহনের ক্ষেত্রে এক ধরণের বাধা হয়ে ছিলো নিউটনের সূত্রের প্রভাব। কজালিটি কিংবা কার্যকরণ সূত্রের প্রভাব পরবর্তীতেও বিজ্ঞানীগণ ব্যবহার করেছেন এবং এখনও করছেন, আইনস্টাইনপূর্ববর্তী সময়ে যতটা ছিলো এখন তারচেয়ে কিছুটা কম।

উনবিংশ শতাব্দির শেষাংশে বিভিন্ন ধরণের পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা দিতে অসমর্থ হলেও বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিলো সকল বিষয়ের কার্যকরণ তারা উদঘাটন করতে পারবেন। তেজস্ক্রিয়তা, এক্স রে রশ্মির পর্যবেক্ষণ, তাপবর্ণালী এবং উত্তপ্ত বস্তুর বর্ণালী পর্যবেক্ষণ প্রায় নিয়মিত বিষয় হলেও সেসবের নেপথ্যের কারণ তখনও আবিস্কৃত হয় নি। এরই মধ্যে জে জে থম্পসন কেমব্রিজে ইলেক্ট্রন আবিস্কার করলেন, তার ছাত্র ও গবেষণা সহকারী রাদারফোর্ড পরবর্তীতে আবিস্কার করলেন বিটা কণিকা মূলত ইলেক্ট্রন, তেজস্ক্রিয় বিকিরণের অনিশ্চিত তাৎক্ষণিকতা কিংবা ইলেক্ট্রণের অবস্থান বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ম্যাক্স প্লাংক কণাতত্ত্ব উপস্থাপন করলেন এবং দেখা গেলো তাপবর্ণালীকে এই ধারণা খুব চমৎকার ব্যাখ্যা করতে পারে। ম্যাক্স প্ল্যাংক গাণিতিক সুবিধার জন্য একেবারে ক্ষুদ্রাকৃতির বিচ্ছুরণ ধরে নিয়ে তার বিশ্লেষণ শুরু করেছিলেন, ক্যালকুলাসের পরিচিট সীমাস্থ মাণ ব্যবহার করে তিনি এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিকিরণকে প্রায় শূণ্য ধরে নিয়ে পরবর্তীতে হিসেবেটা মিলিয়ে ফেলবেন এমন একটা ধারণা নিয়ে শুরু করলেও দেখা গেলো কণিকাগুলোর মাণ নির্দিষ্ট একটা সীমায় রাখলে সেটা তাপবর্ণালীকে ব্যাখ্যা করতে পারে- এর চেয়ে ক্ষুদ্র করলে সেটা অর্থহীন হয়ে যায়।

১৯০৫ সালে আইনস্টাইন চারটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেন, প্রতিটিই বিখ্যাত- একটি বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, যেখানে তিনি নিউটনের স্থান ও কালের ধারণাকে স্থান-কালের ধারণা দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেন এবং সে ধারণার সূচনায় বলেন
আলোর গতি পদার্থ বিজ্ঞানের পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি ধ্রুব সংখ্যা এবং পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলো স্থান-কাল নিরপেক্ষ- পরবর্তী ১০০ বছরে প্রতিটি পরীক্ষাগারে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অভ্রান্ততা নিশ্চিত হয়েছে।

ব্রাউনিয়ান গতি ব্যাখ্যা করে লিখেছেন একটি গবেষণা নিবন্ধ, একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলের সীমানায় কোনো যাদৃচ্ছিক গতিশীল কণা পৌঁছাতে কি পরিমাণ সময় লাগতে পারে সেটার একটা পরিমাপ তিনি দিয়েছিলেন গতিবিদ্যার সমীকরণ ব্যবহার করে। সেখানে বলা হয়েছিলো এই যাদৃচ্ছিক পর্যবেক্ষিত গতিশীলতা আদতে সে বস্তুকণার উপরে বিভিন্নমুখী পরমাণু ও অণুর আঘাতের সামষ্টিক পরিণাম, প্রতিটি অণু-পরমাণু এই বস্তুকণাকে আঘাত করে এবং যেহেতু এই আঘাতগুলোর কোনো নির্দিষ্ট ধরণ নেই তাই বস্তুকণার গতিশীলতাকে াদৃচ্ছিক মনে হয়। ৩ বছর পরে মিলিক্যান আইনস্টাইনের এই অনুমাণের পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন আইনস্টাইনের ব্যাখ্যা সঠিক।

ধাতব বস্তু থেকে ইলেক্ট্রন নির্গত হওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনস্টাইন প্ল্যাংকের আলোর কণিকা মতবাদ গ্রহন করে পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আলো তরঙ্গ না কি কণিকা এ প্রশ্নের চুড়ান্ত মীমাংসা হয় কম্পটনের পর্যবেক্ষণে- যদিও কম্পটনের আগেই অন্য একজন এমন পর্যবেক্ষণের অস্তিত্ব জানিয়েছিলেন তবে তার শিক্ষকের তিরস্কারে তিনি এ পর্যবেক্ষণ অস্বীকার করতে বাধ্য হন। কম্পটন পরীক্ষা করে দেখান যখন এক্স রে কোনো ইলেক্ট্রনকে আঘাত করে তখন ইলেক্ট্রনের গতি পরিবর্তিত হয়- ইলেক্ট্রন যে পরিমাণ শক্তি লাভ করে এক্স রে ঠিক একই পরিমাণ শক্তি হারায়- আইনস্টাইন ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা করবার সময় এমন ধারণার কথাই বলেছিলেন পরবর্তীতে আইনস্টাইন ফটো ইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যাখ্যা করে নোবেল পুরস্কার পান। তবে তার এই ধারণা যে পরবর্তীতে পদার্থ বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে সে সম্পর্কে তিনি তখনও অবগত ছিলেন না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29592369 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29592369 2012-05-09 00:16:02
শিশুতোষ মহাকর্ষ পাঠ -৪

নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র-মহাকর্ষীয় ধ্রুবক গ্রহ নক্ষত্রের গতিবিধিও ব্যাখ্যা করতে পারছিলো- ইউরেনাসের গতিপথের বিচ্যুতি হিসেবে করে অন্য একটি গ্রহের উপস্থিতি এবং তার অবস্থান চিহ্নিত করতে পারাটা নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বের সবচেয়ে সফল পরীক্ষাগুলোর একটি। তবে বুধের কক্ষপথের ঘুর্ণন কোনোভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছিলো না। অন্যান্য গ্রহের সামষ্টিক মহাকর্ষ বলের পরিমাপ নিয়েও যখন এই ঘুর্ণন ব্যাখ্যা করা সম্ভব হলো না তখন ধারণা করা হলো বুধের কক্ষপথের আশেপাশে কোনো ভারী গ্রহের উপস্থিতি আছে- কিন্তু সে ধারণাটাও ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো।

বিদ্যুৎ এবং চৌম্বকক্ষেত্রের সফল সম্মিলন ঘটানোর পর মহাকর্ষের সাথে বিদ্যুৎ-চৌম্বকক্ষেত্রের সম্মিলন ঘটানোর প্রয়াস অব্যহত ছিলো। সেটাই উনবিংশ শতাব্দীর শেষাংশেপদার্থবিজ্ঞানীদের আগ্রহের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিলো। যদি মহাকর্ষ এবং তড়িৎ-চুমব্কীয় ক্ষেত্রের সম্মিলন ঘটাতে হয় তবে মহাকর্ষ ক্ষেত্রকে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সব রীতিই মেনে চলতে হবে। অর্থ্যাৎ বিশেষ আপেক্ষকতা তত্ত্বানুসারে পৃথিবীতে তথ্য সর্বোচ্চ আলোর গতিতে যেতে পারে এ নীতিটা মহাকর্ষ ক্ষেত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দুরবর্তী কোনো স্থানে মহাকর্ষ ক্ষেত্রের যেকোনো পরিবর্তনের সংবেদ পৌঁছাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। যদি এই মুহুর্তে সূর্য কক্ষপথ পরিবর্তন করে, তার প্রভাব পৃথিবীতে পড়বে প্রায় ৫০০ সেকেন্ড পরে, কারণ সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সে সময়টুকু প্রয়োজন হয়।

বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং মহাকর্ষ ক্ষেত্রকে মেলানোর প্রয়াসটা বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলো, মিনকোওস্কি মহাকর্ষ ক্ষেত্রে এবং বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সম্মিলন যে পদ্ধতিতে কল্পনা করেছিলেন সেটা কোনোভাবেই স্থিতিশীল কোনো সমাধান ছিলো না। এই সময় থেকে আইনস্টাইন, নর্ডস্ট্রম ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিলেন।

নর্ডস্ট্রমের সমাধান বিদ্যামন সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান দিতে পারে নি, আইনস্টাইনের সমাধান সফল ভাবেই বুধের কক্ষপথের ব্যতিক্রমী গতিপথের সমাধান দিলো, একই সাথে আইনস্টাইনের সমাধান নতুন একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য সম্ভবনার কথাও বললো। মহাকর্ষ ক্ষেত্রে মূলত ভরের উপস্থিতিতে সে ভরের আশেপাশের স্থানের বক্রতা- অর্থ্যাৎ যেকোনো বস্তুই কোনো ভারী বস্তুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বেঁকে যাবে। এই কৌণিক সরণের পরিমাণ নির্ভর করবে বস্তুর ভরের উপরে, আলোও একই কারণে ভারী কোনো বস্তুর পাশ দিয়ে আসবার সময় তার দিক পরিবর্তন করবে।

আবসল্যুট ক্যালক্যুলাস নিয়ে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন লেভি-সিভিটা, আইনস্টাইনের সাধারণ মহাকর্ষ তত্ত্বে তিনি টেন্সর ক্যালক্যুলাস কিংবা এবসল্যুট ক্যলক্যুলাস ব্যবহার করেছিলেন, সেখানে কিছু কিছু বিষয়ের গাণিতিক ভ্রান্তি উল্লেখ করে লেভি সিভিটা এবং আইনস্টাইনের ভেতরে বেশ দীর্ঘ পত্রবিনিময় হয়।

আইনস্টাইন ১৯১৫ সালে যখন সাধারণ মহাকর্ষ বিষয়ে তার গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করলেন সে সময়ে তার গবেষণা নিবন্ধের উল্লেখযোগ্য অংশই ছিলো এবসল্যুট ক্যালক্যুলাসের প্রাথমিক ধারণা- যে গবেষণা নিবন্ধে ধাপে ধাপে এই এবসল্যুট ক্যালক্যুলাস ব্যবহার করে মহাকর্ষ ক্ষেত্রকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কার্ল সোয়ার্সচাইল্ড ৪০ বছর বয়েসে প্রথম মহাযুদ্ধের সৈনিক হিসেবে রাশিয়ায় যান, সেখানে তিনি আইনস্টাইনের সমীকরণের সমাধান করেন। তিনি প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যু বরণ করেন কিন্তু তার অসুস্থতার ভেতরে তিনি আইনস্টাইনের তত্ত্বের উপরে ভিত্তি করে তিনটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেন।

আলেক্সান্ডার ফ্রিডম্যান রাশিয়ার হয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন, তিনি বিমান বাহিনীর অংশ হিসেবে বিমানযুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে এরোডিনামিক্স পড়িয়েছেন, পরবর্তীতে তিনি হাইড্রোডিনামিক্সের উপরে গবেষণা করেন। আলেক্সান্ডার ফ্রিডম্যানের আইনস্টাইন সমীকরণের সমাধান যখন আইনস্টাইনের কাছে প্রেরণ করা হলো তিনি প্রকাশককে লিখে পাঠালেন ফ্রিডম্যানের সমাধান তার কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হচ্ছে না। ফ্রিডম্যান আইনস্টাইনের তত্ত্বের উপরে ভিত্তিকে সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের উপরে মহাকর্ষ তত্ত্বের ব্যবহার করে দেখিয়েছিলেন মহাবিশ্বের বক্রতা ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক হতে পারে- মহাবিশ্বের বক্রতার উপরে মহাবিশ্বের সাম্ভাব্য ভবিষ্যতও নির্ভরশীল।

আইনস্টাইন পদার্থবিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেও তিনি আদতে স্থির মহাবিশ্বের পক্ষপাতি ছিলেন। মহাবিশ্ব অসম্প্রসারণশীল এবং এর বক্রতা শূণ্য এ ধারণায় আঘাত করেছিলো ফ্রিডম্যানের সমাধান। ফ্রিডম্যান আইনস্টাইনের আপত্তি জেনে তাকে পাল্টা চিঠি লিখে জানালেন আমার সমাধানের যে যে অংশ আপনার বোধগম্য হয় নি সেসব আমি পুনরায় বিস্তারিত আপনাকে জানাচ্ছি-

অবশ্য ফ্রিডম্যান ১৯২৫ সালেই টাইফয়েডে মৃত্যু বরণ করেন। তারও ৮ বছর পরে রবার্টসন- ওয়াকার আইনস্টাইনের তত্ত্বের উপরে ভিত্তি করে একই রকম সমাধানে পৌঁছান। তার আগেই অবশ্য হাবল আবিস্কার করেছেন আমাদের কাছাকাছি নক্ষত্রপূঞ্জগুলো ক্রমশ আমাদের থেকে দুরে সরে যাচ্ছে- অর্থ্যাৎ মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। এই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আটকাতে আইনস্টাইন সম্পূর্ণ আবেগের বশবর্তী হয়েই সম্ভবত কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট ব্যবহার করলেন- গাণিতিক ভাবে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের ব্যবহারে আইনস্টাইনের সমীকরণের তেমন কোনো পরিবর্তন হলো না, বরং ধারণার দিক দিয়ে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের গ্রহনযোগ্যতা বিষয়টাই প্রশ্নবিদ্ধ হলো। কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের মাণ সম্পর্কে তেমন স্পষ্ট ধারণা না দিয়ে আইনস্টাইনের ধারণা ছিলো যখন মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ফলে মহাবিশ্বের আকৃতি বৃদ্ধি পাবে তখন কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট এ প্রসারণ আটকাতে সক্ষম হবে।

পরবর্তীতে আইনস্টাইন নিজেই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল স্বীকৃতি দিয়ে কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টকে আইনস্টাইন সমীকরণ থেকে বাদ দিয়ে দেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29586391 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29586391 2012-04-29 02:46:47
ভাষা
অন্যান্য প্রাণীর সাথে মানুষের স্পষ্ট পার্থক্য আছে, এ পার্থক্য যতটা না প্রবৃত্তিগত তার চেয়েও বেশী আকৃতিগত। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রাণীত্বের বাইরে মানুষের আকৃতিগত বিকাশ অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তার বেঁচে থাকবার সম্ভবনা অনেক বেশী বৃদ্ধি করেছে। এখন পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য মতবাদ মানুষের আদিমপুরুষের জন্ম হয়েছিলো আফ্রিকায়- কিংবা আমরা যাদের আধুনিক মানুষ বলছি তাদের জন্ম হয়েছিলো আফ্রিকায়। যদিও বহিরাবরণ দেখলে মনে হয় না এরপরও বাস্তবতা হলো আফ্রিকা এবং ইউরোপের মানুষের ভেতরে আভ্যন্তরীণ কাঠামোতে তফাত খুবই কম। এদের ডিএনএ'র গঠনেও অনেক মিল, যদিও দীর্ঘ সময় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে কাটিয়ে এদের বহিরাঙ্গে অনেক ধরণের পরিবর্তন এসেছে তারপরও তাদের ডিএনএ এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল কনটেন্ট পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে তারা একই উৎস থেকে বিবর্তিত হয়েছে।

রাসায়নিক পরীক্ষাগারে যখন আবিস্কৃত হলো মানুষের রক্তে বিশেষ ধরণের প্রোটিন রয়েছে যা বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বিক্রিয়া করে তখন থেকে মানুষকে রক্তের ভিত্তিতে ৪টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে- ও, এ, বি এবং এবি- অন্য একটি রাসায়নিক যৌগের উপস্থিতি- অনুপস্থিতি বিবেচনা করে এই চার ভাগকে আরও দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে- সুতরাং পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেরই ধমনীতেই রক্ত এই আট ভাগের কোন না কোনটি প্রবাহিত হচ্ছে।

কোনো কোনো গোত্রে ও পজিটিভ রক্তধারী মানুষের সংখ্যা বেশী- এমন কি মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশী মানুষের রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ, বিজ্ঞানীদের অনুমাণ কোন একটি সময়ে কোনো একটি সংক্রামক ব্যাধীর সংক্রামনের পরিমাণ যদি রক্তের গ্রুপের উপরে নির্ভর করে তাহলে এ ধরণের প্রবনতাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। ও পজিটিভ রক্তের মানুষের বিভিন্ন ধরণের জীবানু সংক্রামণের বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিদ্যমান- যে কারণে অন্য তিনটি রক্তের গ্রুপের মানুষজন জীবানু সংক্রামণে মৃত্যুমুখে পতিত হলেও ও পজিটিভ রক্তধারী মানুষেরা সে জীবানুর সংক্রামণে মৃত্যুবরণ করে নি।

প্রতিটি অঞ্চলের নির্দিষ্ট আঞ্চলিক বৈশিষ্ঠ্য আছে- সে বৈশিষ্ঠ্য নির্ধারণ করে সেখানে কি কি জীবানুর অবাধ বিস্তার সম্ভবপর- এসব পরিসংখ্যানগত বিবেচনায় যদিও চুড়ান্ত কোনো রায় দেওয়া অনুচিত তারপরও বলা যায় পৃথিবীর মানুষদের বর্তমানের বৈচিত্র নিছকই প্রাকৃতিক বিবর্তনের প্রভাব- আলাদা আলাদা উৎস থেকে এখানে মানুষের উৎপত্তি হয় নি। পৃথিবীর বিশাল সংখ্যক মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল কনটেন্ট যাচাই করে দেখা গেছে এদের ভেতরে মাত্র ৭টি নারী এবং ৪জন পুরুষের অস্তিত্ব আছে- কোন না কোন ভাবে আমরা এই ৭ নারী এবং ৪ জন পুরুষের উত্তরপুরুষ। সেই ধারাবাহিক যাত্রাপথের একটা পর্যায়ে আমরা এখানে উপস্থিত। এ যাত্রাপথ মসৃণ ছিলো না, নানাবিধ প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে আমাদের এ অবস্থানে আসতে হয়েছে।

সংঘবদ্ধ জীব হিসেবে একটি গোত্রে তাদের বসবাস ছিলো, গোত্রবদ্ধ জীব হিসেবে অন্যান্য জীবের সাথে আমাদের সংযোগ স্থাপন করতে হয়েছে, বিভিন্ন চিহ্ন , শাররীক ভঙ্গি এবং উচ্চারিত শব্দে আমরা আমাদের মনোভাব প্রকাশ করতে প্রশিক্ষিত হয়েছি। মানুষকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্থবোধক শব্দ উচ্চারণ শিখতে হয়েছে, একটি সমাজে কিংবা একটি গোত্রে একটা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একধরণের ভাষারীতিতে অভ্যস্ত হতে হয়েছে। যদিও তেমন কোনো কারণ নেই এরপরও ভাষাবিজ্ঞানীদের অনুমাণ মানুষের উচ্চারিত প্রাথমিক শব্দগুলো একস্বর কিংবা দ্বিস্বর বিশিষ্ট শব্দ ছিলো, সময়ের সাথে মানুষের উচ্চারণ পারদর্শিতা বেড়েছে , শব্দে স্বরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবেই একটা সময় সরল এক শব্দ বিশিষ্ট বাক্য থেকে যৌগিক ও জটিল ভাবপ্রকাশউপযোগী ভাষার জন্ম হয়েছে।

ভাষা পারস্পরিক যোগাযোগে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে- শব্দ সম্ভার বেড়েছে, বেড়েছে প্রকাশযোগ্যতা। আজ যে শিশুটা ২ বছর বয়েসেই ৪০ শব্দের অভিধান নিয়ে তার জীবন শুরু করছে তার এই অনায়াস উচ্চারণ সক্ষমতার নেপথ্যে মানুষের ২ লক্ষ বছরের গোপন পরিশ্রমের স্মৃতি লুকিয়ে আছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29583555 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29583555 2012-04-24 00:57:24
প্রতিভাবান
অশিক্ষিত একজন, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তিনি যখন সমস্যার সমাধান করতে চান, তার সমস্যা সমাধান পদ্ধতির সাথে অপরাপর প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সমস্যা সমাধানপদ্ধতি ভিন্ন হবে- সমস্যার গ্রহনযোগ্য সমাধান হয়তো তিনি কোনো এক সময় করেও ফেলতে সক্ষম হবেন- যদি সমস্যা সমাধান করবার দক্ষতাই বুদ্ধিমত্তার পরিমাপ হয় তাহলে প্রশিক্ষিত এবং অশিক্ষিত উভয়েই সমান মাপের বুদ্ধিমত্তার অধিকারি বিবেচিত হতে পারেন- হয়তো দুজনের সমস্যা সমাধানের সময় আলাদা হবে কিন্তু তারা উভয়েই কোনো এক সময়ে সমস্যাটির সমাধান খুঁজে পেয়েছেন।

মনস্তত্ত্ববিদগণ ধরেই নেন একজন শিক্ষার্থী তার বয়েসানুসারে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত থাকবে। তার বয়েস জেনেই সে বয়েসউপযোগী সমস্যা সমাধানের জন্য তাকে দিবেন, সেসব সমস্যা যদি সে সমাধান করে ফেলতে পারে তার চেয়ে বয়স্ক একজনের সমস্যা সমাধানের জন্য তাকে দিবেন- এভাবে একটা পর্যায়ে শিক্ষার্থী সকল সমস্যা সমাধানেই ব্যর্থ হবে- সে অনুযায়ী তার বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করা হবে। সেখানে একজন শিক্ষার্থী যে তার বয়েস অনুযায়ী সকল সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম তার বুদ্ধিমত্তার মাণাঙ্ক হবে ১০০- যদি ১০ বছর বয়েসী একজন ১৪ বছর বয়েসী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সমস্যা সমাধান করতে পারে তাহলে তার বুদ্ধিমত্তার পরিমাপ হবে ১৪০- এমনি ভাবে যদি ১০ বছর বয়স্ক একজন ১৬ বছর বয়েসী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সমস্যা সমাধান করতে পারেন তাহলে তার বুদ্ধিমত্তার পরিমাপ হবে ১৬০। প্রশ্নের ধরণ, বিষয়বস্তু চয়নের ভিন্নতা থাকতে পারে- কিন্তু মোটা দাগে বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের প্রক্রিয়া এমনই।

যার আইকিউ ১৫০ এর উপরে তাকে কি আমরা জিনিয়াস অভিহিত করতে পারবো? এমন একটা প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হয়েছিলো কয়েক দিন আগে। কাকে জিনিয়াস বলা যাবে? সমস্যা সমাধানের দক্ষতা- সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনে প্রচলিত ভাবনার বাইরে গিয়ে ভাবতে পারা এবং সমস্যার গ্রহনযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারার দক্ষতা হয়তো অপরাপর সাধারণ মানুষের তুলনায় তার সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকেই প্রতিষ্ঠিত করে- সে দক্ষতা কি তাকে জিনিয়াস অভিহিত করতে যথেষ্ট?

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সকল অনুভুতি- উদ্দিপনার শরীরবৃত্তীয় প্রকাশ হচ্ছে মস্তিস্কের রাসায়নিক বিক্রিয়া, বিভিন্ন উদ্দীপনায় মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশ উদ্দীপ্ত হয় এবং আমরা আশৈশব সেসব উদ্দীপনাকে আলাদা আলাদা চিহ্নিত করার প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। কারো কারো ক্ষেত্রে এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি অপরাপর সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশী- একজনের শরীরবৃত্তিয় সক্ষমতা কি তাকে অপরাপর মানুষ থেকে ভিন্ন কেউ করে তুলতে পারে?

একজন হয়তো ১০ কেজি ভার বহন করতে পারে না, অন্যজন অনায়াসে ১০০ কেজি ভর বহন করতে পারে- যে ১০০ কেজি ভর বহন করতে সক্ষম তার এই শাররীক দক্ষতা কি তাকে জিনিয়াস হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম?

ধরা যাক আইনস্টাইন- তিনি একই বছরে তিনটি গবেষণা প্রবন্ধে তিনটি তৎকালীন সমস্যার সমাধান করেছিলেন, সে বছরটা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবার বছর- ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট- বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং ব্রাউনিয়ান গতির ব্যাখ্যা প্রদান করেছিলেন আইনস্টাইন সে বছর। যদি সে বছর আইনস্টাইন এই তিনটি সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হতেন তাহলে কি এই তিনটি সমস্যার সমাধান হতো না?

বিজ্ঞান একধরণের সামষ্টিক প্রক্রিয়া- এখানে প্রত্যেকেই নিজস্ব অবদান রাখে- কারো অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু সে সমস্যার সমাধানের অতীত ব্যর্থতাগুলোও সফল সমাধানের সূত্র হিসেবে কাজ করে কিন্তু এই ব্যর্থতাগুলো স্বীকৃতি পায় না। ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্ট ব্যখ্যা করতে আইনস্টাইন যে ধারণাগুলো ব্যবহার করেছিলেন সেই ধারণাগুলো অতীতেও একটি সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়েছিলো- ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাকে ব্যবহার করেছিলেন একটি সমস্যার সমাধান হিসেবে- আইনস্টাইন প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে গ্রহন না করে সেই ধারণাকেই গ্রহনযোগ্য মনে করেছিলেন। সমস্যার সমাধান খুঁজে নেওয়ার এ দক্ষতাটুকু অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ- কিন্তু এই সমস্যাটুকু কোনো না কোনো সময় কেউ না কেউ সমাধান করতোই-

আইনস্টাইন তার ১৯০৫ সালে প্রকাশিত তিনটি গবেষণা নিবন্ধে যাদের প্রস্তাবিত সমাধানসূত্র নিয়ে কাজ করেছেন আইনস্টাইনের সমাধানের নেপথ্যে তাদের অবদানটুকু অনুল্লেখিত। আইনস্টাইন যে সময়ে সাধারণ আপেক্ষিতাসূত্র প্রদান করলেন তারও ৫ বছর আগে একই প্রক্রিয়ায় হিলবার্ট সমস্যাটি সমাধান করেছিলেন, বলা হয় তারা একই সময়ে একই সমীকরণে পৌঁছান- আইনস্টাইন হুট করেই সমস্যাটির সমাধান করে ফেলেছেন এমন না, তিনি তারও দুই বছর আগে থেকেই এই বিশেষ সমস্যাটি সমাধানের জন্য বিশেষ একটি গাণিতিক বিধিও শিখেছেন।

তার সমীকরণ প্রকাশিত হওয়ার ১ বছরের ভেতরেই সেটার একটা সমাধান করেন শোয়ার্সচাইল্ড- তিনি তখন যুদ্ধক্ষেত্রের সৈনিক- আইনস্টাইন তার সমীকরণ সমাধান করার আগেই দুজন তার সমীকরণ সমাধান করে ফেলেছেন এবং পদার্থবিজ্ঞানের দুটো বিষয়কে ব্যখ্যার প্রয়োজনে সেটার ব্যবহারও করেছেন। আইনস্টাইনকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং বুদ্ধিমান মানুষদের একজন হিসেবে- সে ক্ষেত্রে যারা তারও আগে কোনো সমস্যার সমাধান করে ফেললো তারা কি আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি জিনিয়াস, বেশি বুদ্ধিমান ছিলেন?

মনস্তাত্ত্বিক ভাবে এই ধরণের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহন সক্ষমতার পরিমাপ। কেউ কেউ অপরাপর সাধারণ মানুষের চেয়ে শিক্ষাগ্রহনে ধীর গতির , এদের আইকিউ ১০০ থেকে কম- ধরা যায় যাদের আইকিউ ৭০ এর নীচে তারা নির্বোধ- কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত মানুষই- অপরাপর মানুষের সাথে তাদের ভিন্নতা হলো তারা প্রচলিত শিক্ষা পরিমাপে তার সমবয়সীদের তুলনায় শিক্ষা আত্মস্থকরণে কিছুটা ধীর গতির- তারা ১০ বছরে বয়েসে ৭ বছরের শিশুর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করেছেন, হয়তো তারা ২০ বছর বয়েসে ১৪-১৫ বছর বয়েসের শিশুদের উপযুক্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবেন। এভাবে তারা ৩০ বছর বয়েসে এসে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের সমকক্ষ হয়ে উঠবেন- আনুষ্ঠানি ভাবে মানুষের শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হয় ২৩ বছরের আশে পাশে- সে শিক্ষা সমাপ্ত করতে হয়তো একজন ৭০ আইকিউর মানুষের লাগবে ৩৬ বছর, কিন্তু তিনি লেগে থাকলে অবশ্যই পারবেন সেসব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করতে।

শরীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইটস- ইলেক্ট্রন- মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশের ভেতরে সংযোগ স্থাপন করে- প্রতিটি ক্ষেত্রেই মস্তিস্কের এক কিংবা একাধিক অংশ উদ্দীপ্ত হয়- এদের ভেতরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায়- প্রতিটি নিউরণ হয়তো উদ্দীপ্ত হয় না সমানভাবে কিন্তু প্রতিটি নিউরণের সাথেই এইসব অভিজ্ঞতার সংযোগ থাকে- দুই এর সাথে দুই যোগ করতে হবে কোন কোন নিউরণের ভেতরে সংযোগ স্থাপন করতে হবে সেটা শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া জানে- লাল রং দেখলে গাড়ী থামাতে হবে এই প্রক্রিয়া মস্তিস্কের কোন কোন অংশকে উদ্দীপ্ত করলে তা সম্ভব এটাও প্রশিক্ষণের অংশ-

একজন প্রতিভাবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে মস্তিস্কের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন নিউরণের আন্ত:সংযোগের সক্রিয়তা অপরাপর সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশী- তিনি এই শাররীক সক্ষমতা নিয়ে জন্মেছেন এবং তার প্রশিক্ষণ তাকে এই রক্তসঞ্চালন নিয়ন্ত্রনের দক্ষতা দিয়েছে কিন্তু যদি রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকে তাহলে সেটা বিভিন্ন ধরণের মানসিক প্রতিক্রিয়ার ত্রুটি হিসেবে প্রকাশিত হয়।

একজন অটিস্টিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও মস্তিস্কে এই ধরণের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়- মাত্রাভেদে দেখা যায় মস্তিস্কের একটি বিশেষ অংশে রক্তসঞ্চালন এবং উদ্দীপনা অসহনীয় পর্যায়ে বৃদ্ধি পায়- কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেসব রক্তসঞ্চালন মস্তিস্কের ভুল অংশেও পরিলক্ষিত হয়- এমন নিউরাল নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত সমস্যা আদতে আচরণে প্রকাশ পায়- যাদের এমন সমস্যা সামাজিক বিবেচনায় সহনীয় তাদের আমরা শূঁচিবায়ুগ্রস্ত- কিছুক্ষেত্রে বাতিকগ্রস্ত বলি কিন্তু সেটা সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করলে আমরা তাকে মানসিক সমস্যাক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করি-

একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি যে সকল পরিবেশে সকল উদ্দীপনায় একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখাবেন এমন না ও হতে পারে- সামাজিক পরিবেশে সামাজিক গ্রহনযোগ্য আচরণ করবার ব্যর্থতাও এদের থাকতে পারে- অন্য সব প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ মনোনিবেশে হয়তো তাদের সামাজিক আচরণ দক্ষতার পরিমাণটুকু কম- তবে তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতায় তাদের কিঞ্চিৎ প্রশ্রয় দেয় সমাজ। তাদের এইসব সামজিক ত্রুটি আমরা প্রতিভাবানের ক্ষ্যাপামি হিসেবে পাশ কাটিয়ে যাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29582129 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29582129 2012-04-22 01:00:12
শিশুতোষ মহাকর্ষ পাঠ -৩
তার পিতার গবেষক মানসের কিছুটা তার ভেতরেও সঞ্চারিত হয়েছিলো, তিনি প্রতিটি বিষয়কেই পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। বর্তমানের বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতির ধারাবাহিকতা গ্যালিলিও'র সময় থেকে অদ্যাবধি একই রকম রয়ে গেছে।

এরিস্টটল তার পুস্তকে লিখেছিলেন ভারী বস্তু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত ভুমিতে পতিত হবে। এটা পর্যবেক্ষণ লব্ধ জ্ঞান, গ্যালিলিও আগে কেউ যৌক্তিক ভাবে এই পর্যবেক্ষণ লব্ধ জ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন নি।

যেহেতু তখনও নিউটনের গতিসূত্রগুলো লিপিবদ্ধ হয় নি( নিউটন জন্মগ্রহন করেছিলেন গ্যালিলিওর ঠিক ১০০ বছর পরে) সুতরাং গ্যালিলিও একটি যৌক্তিক দ্বন্দ্ব তৈরি করলেন, তিনি বললেন ধরা যাক ভারী বস্তু হালকা বস্তুর চেয়ে দ্রুত পতিত হয়, এখন যদি আমরা একটা ভারী বস্তুকে একটি হালকা বস্তুর সাথে বেধে দেই, তাহলে তার পতনের পরিণতি কি হবে?

প্রথম যুক্তি বলছে ভারী বস্তু যেহেতু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত মাটিতে পরবে, সুতরাং একসাথে বাধা থাকবার দরুণ হালকা বস্তুটি ভারী বস্তুকে পেছনে টেনে রাখবে, ফলে ভারি বস্তুটি একক ভাবে যতটা দ্রুত মাটিতে পরতো তার চেয়ে ধীরে মাটিতে পরবে-

দ্বিতীয় যুক্তি বলছে যেহেতু আমরা দুটো বস্তুকে একই সাথে বেধেছি, ফলে তাদের সর্বমোট ভর বেড়ে যাবে, ফলে তারা আগের তুলনায় দ্রুত মাটিতে পরবে-

শুধুমাত্র দর্শণের উপর নির্ভর করে এ বিষয়ে কোনো মীমাংসা সম্ভব নয়। তিনি ঘোষণা করলেন যদি বাতাসের বাধা না থাকে তাহলে হালকা বস্তু এবং ভারী বস্তুকে একই উচ্চতা থেকে ছাড়া হলে তারা উভয়েই একই সময়ে মাটিতে পরবে।

কোনো পড়ন্ত বস্তুর গতি পরিবর্তনের সূত্রগুলো গ্যালিলিও লিপিবদ্ধ করেছিলেন, পড়ন্ত বস্তুর গতির সূত্রগুলোর মূল বক্তব্য কোনো বাধার অনুপস্থিতিতে সকল বস্তুই একই সময়ে একই গতিবেগ অর্জন করবে। বস্তুর ওজন তার গতির মাণকে পরিবর্তিত করে না।

১৯০৮ সালে আইন্সটাইন পুনরায় এ সমস্যা নিয়ে ভাবা শুরু করেছিলেন। তিনি গ্যালিলিওর বক্তব্যের সামান্য সাধারণীকরণ করলেন। ৪০০ বছর আগে গ্যালিলিও বলেছিলেন মুক্তভারে পড়ন্ত সকল বস্তু একই সময়ে একই দুরত্ব অতিক্রম করে। আইন্সটাইনের প্রিন্সিপল ওফ ইকুইভ্যালেন্স মোটামুটি এ বক্তব্যই প্রকাশ করে। একই সাথে আইন্সটাইন তার থট এক্সপেরিমেন্টগুলোর সাহায্য গ্যালিলিওর ধারাবাহিকতা মেনেই প্রমাণ করতে পারলেন যেকোনো বদ্ধ ঘরে মুক্ত ভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তু অন্য কোনো বলের প্রভাবে গতিশীল না কি মহাকর্ষের কারণে গতিশীল এটা নির্ধারণ করা সম্ভব না। উভয় ক্ষেত্রেই পর্যবেক্ষণের চরিত্র একই হবে- অতীতে মহাকর্ষ বল এবং সাধারণ বলের ভেতরে এক ধরণের কষ্টকল্পিত ব্যবধান ছিলো, আইনস্টাইন এই ব্যবধানটুকু মুছে দিলেন।

পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে( যদিও তার আগেই গণিতবিদ হিলবার্ট এ সমস্যাটির সমাধান করেছিলেন) আইনস্টাইন তার সাধারণ মহাকর্ষ তত্ত্ব প্রকাশ করলেন।

মহাকর্ষ তত্ত্ব বুধের কক্ষপথের ধীর ঘূর্ণনকে সাফল্যের সাথে ব্যাখ্যা করলো, আইনস্টাইনের মহাকর্ষতত্ত্বে বলা হলো মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এমন কি আলোর গতিপথও পরিবর্তিত হবে। ১৯২২ সালে( সম্ভবত) ব্রাজিলে এডিংটন সুর্যগ্রহণের সময়ে আলোর গতিপথের পরিবর্তন পরিমাপ করে বললেন আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্ব সঠিক, মহাকর্ষের প্রভাবে সত্যি সত্যিই আলোর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। পরবর্তীতে কেউ কেউ বলেছেন এডিংটন মহাকর্ষ তত্ত্বের সৈন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে সেটাকে সঠিক প্রমাণের জন্য কিছুটা ছলচাতুরি করেছিলেন। আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্বের মাহত্ব্য তাতে ক্ষুন্ন হয় নি, বরং পরবর্তীতে আরও সুক্ষ্ণ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে আইনস্টাইনের তত্ত্ব মোটামুটি সকল বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণই সমর্থন করে। কয়েক দিন আগে সুইজারল্যান্ডের সার্নের পরীক্ষাগারের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ আইনস্টাইনের একটি অনুস্বীকার্যকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেছিলো, পরে নিশ্চিত হওয়া গেলো আসলে বিষয়টি ঘটেছিলো পরীক্ষণের ত্রুটির কারণে- পৃথিবীতে আলোর চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন কোনো কণিকার অস্তিত্ব নেই।

১৯১৭ সালেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক শোয়ার্সচাইল্ড আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্বের একটি সমীকরণ সমাধান করে সিদ্ধান্ত জানালেন ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব সম্ভবপর। ১৯২৪ সালে ফ্রিডম্যান আইনস্টাইনের সমীকরণ সমাধান করে সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল, আইনস্টাইন তার এই সমাধানকে স্বীকৃতি দেন নি। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে হাবল যখন প্রমাণ করলে দুরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো অধিকাংশই পৃথিবী থেকে দুরে সরে যাচ্ছে তখন আইনস্টাইন মেনে নিলেন মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। তার আগ পর্যন্ত তিনি কসমোলজিক্যাল ধ্রুবক এনে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বকে স্থিতিশীল করার নানাবিধ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন।

সে সময়েই এডিংটনের ছাত্র হিসেবে ইংল্যান্ডে আসছিলেন চন্দ্রশেখর। অতিরিক্ত ভারী নক্ষত্র নিজের ভরের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে কেন্দ্রে পতিত হবে, ফলে ব্ল্যাকহোলের উদ্ভব ঘটবে- এই সীমাস্থ মাণটি নির্ধারণ করবে পাউলির বর্জন সূত্র- নক্ষত্রের মতো এত ভারী বস্তুর মহাকর্ষীয় সংকোচনের সীমাস্ত মাণ নির্ধারণ করবে পাউলির বর্জন সূত্র এডিংটন প্রাথমিক ভাবে এ অনুসিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। পরবর্তীতে জানা গেলো চন্দ্রশেখরের অনুমাণ সঠিক।

সূর্যের চেয়ে মোটামুটি দেড়গুণ ভারী নক্ষত্র একটা পর্যায়ে নিজের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে সংকুচিত হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ন নি:সংশয়ে প্রমাণিত হয় নি, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে যখন এস্ট্রোনমি, মাহকর্ষ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক আগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলো তখন কোনো কোনো গবেষক নিউট্রন স্টারের অস্তিত্বের কথা বললেন। নিউট্রন স্টার নক্ষত্রের একটা পর্যায়- যে পর্যায়ে জ্বালানি নি:শেষ হওয়া নক্ষত্র নিজের কেন্দ্রে পতিত হয়ে একটি বিশালাকার নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়।

নক্ষত্র নিজ অক্ষে ঘুর্ণায়মান। একটি ঘুর্ননশীল বস্তুর ঘুর্ণন গতিবেগের বর্গ এবং এর ব্যাসার্ধের গুণফল একটি ধ্রুবক। যখন নক্ষত্র নিজের কেন্দ্রের দিকে পতিত হওয়ার সময় একটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হচ্ছে তখন এর ব্যাসার্ধ কমে যাচ্ছে- অনুমান করা হয় একটি নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ আনুমাণিক কয়েক শত কিলোমিটার। ফলে এর ঘুর্ণনবেগ মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।

এক ঘন মিটার নিউক্লিয়াসের ভর এক মিলিয়ন বিলিয়ন কেজি। এটা নিউক্লিয়াসের গড় ঘনত্ব- কোনো ভারী বস্তুর মহাকর্ষীয় বলের পরিমান নির্ধারণ করে এর গড় ঘনত্ব এবং এর ব্যাসার্ধের গুণফল। একটি নিউট্রন স্টারের ব্যাসার্ধ যতই হোক না কেনো এর পৃষ্টভাগে কোনো বস্তু মহাকর্ষীয় আকর্ষণে নিউট্রন স্টারের সাথে আটকে থাকবে কি না সেটা নির্ধারণ করে নিউট্রন স্টারের ঘুর্ণনবেগ। সামান্য অঙ্ক কষে প্রমাণ করা সম্ভব এই সীমাস্থ মাণটি বলছে কোনো নিউট্রন স্টার তার অক্ষে প্রতি সেকেন্ডে ৮১ বারের বেশি ঘুরতে পারবে না। নিউট্রন স্টারের ক্ষেত্রে তার ঘুর্ণন বেগ এই সংখ্যা দ্বারাই সীমাবদ্ধ। এটার অর্থ প্রতি ১২.৩ মিলি সেকেন্ডে নিউট্রন স্টারটি নিজের অক্ষে একবার ঘুরে আসবে।

মিলিসেকেন্ড পালসারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে ১৯৬৮ সালেই। নির্ধারিত সময় পর পর এই পালসারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণের তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিকীরণ করে। এই বিকীরণ যদি পৃথিবীর অক্ষের সাথে সমান্তরাল হয় তবেই পৃথিবী থেকে এটা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

মহাবিশ্বের নক্ষত্রের প্রাচুর্যতায় সম্ভবনা অতিক্ষীণ হলেও এমন অসংখ্য পালসারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। পালসারের ঘুর্ণনবেগ, বিকীরিত তরঙ্গশক্তির পরিমাণ থেকে পালসার( নিউট্রন স্টার) এর ভর অনুমাণ করা সম্ভব। এ বিষয়ে এখনও গবেষণা অব্যাহত। এইসব নিউট্রন স্টারের পরিণতি কি হতে পারে এ বিষয়ে তেমন কোনো মীমাংসায় উপনীত হন নি বৈজ্ঞানিকগণ। তবে বলা হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে এই নিউট্রন স্টারগুলোর ঘুর্ণনগতি হ্রাস পাবে, একটা সময়ে এগুলো স্থির হয়ে যাবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29570931 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29570931 2012-04-02 23:48:30
শিশুতোষ মহাকর্ষ পাঠ-২
তাদের আকাশের নক্ষত্রগুলো ছিলো স্থির, হয়তো খালি চোখে দেখতে পাওয়া প্রায় ৬০০০ উজ্জ্বল নক্ষত্রের সবগুলোই কোনো না কোনো জ্যামিতিক নক্সায় সাজিয়ে তারা খেয়াল করে দেখেছে পৃথিবীর আকাশে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ধরণের নক্ষত্রসজ্জ্বা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তারা সেগুলোর ভিত্তিতে মানুষের ভবিষ্যত কল্পনা করেছে, বিভিন্ন নক্ষত্রের প্রভাবে জন্ম নেওয়া মানুষদের সামষ্টিক চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য বিশ্লেষণ করেছে। এমন কি এই প্রায় নিশ্চল পটভূমিতে সঞ্চারণশীল গ্রহগুলোর পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখেছে কোনো না কোনো ভাবে এদর গতিপথ যতই উদ্ভট হোক না কেনো সেটা পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। সেই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই তারা ঘোষণা করেছে মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে একদা ইশ্বর সৃষ্টি করেছেন, তারাই গ্রহগুলোকে সঞ্চারণশীল করেছেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনার অলৌকিক ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন তারা।

সেই দৃঢ় বিশ্বাসের একটা সংকলন করেছিলেন গ্রীসের এরিস্টটল। পারস্য সভ্যতার আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে গ্রীক সভ্যতার পুস্তকগুলো আরবিতে অনুদিত হয়েছে, সেভাবেই সেগুলো পরবর্তীতে পৌঁছেছে ইউরোপে, এমন কি গ্যালিলিও যখন চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র হিসেবে জায়গীর থাকছেন তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এরিস্টটলের গ্রহতত্ত্ব, নক্ষত্রতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব পড়ানো হতো। অবশ্য তার আগেই টাইকো ব্রাহে গীর্জার মাণমন্দির থেকে নক্ষত্র ও গরহের গতিপথ সম্পর্কিত বিপূল পরিমাণ তথ্য সংকলন করেছেন।

কোপার্নিকাস তার সেই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে জানালেন গ্রহগুলোর এই উদ্ভট গতিপথের ধাঁধা সহজেই সমাধান করা যায়, যদি ধরে নেওয়া হয় পৃথিবী নয় বরং সূর্য মহাবিশ্বের কেন্দ্র, চার্চের বিচারে তাদের গুরুতর শাস্তি হয়ে যায়।

গ্যালিলিও তার নির্মিত টেলিস্কোপে বৃহ:স্পতির উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের আগেই চার্চের যাজকদের হুমকির সম্মুখীন হন, তিনি কোপার্নিকাসের সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ তার ছাত্রদের শিক্ষার অংশ হিসেবে পাঠ করাতেন। পরবর্তীতে তাকে মুচলেকা দিতে হয়, স্বীকার করে নিতে হয় তিনি তার ছাত্রদের পরবর্তীতে সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ পড়াবেন না। অবশ্য চার্চের প্রধান যাজকের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কের দরুণ তাকে তেমন কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হয় নি।

কিন্তু তার এই লড়াই তার বিশ্বাস এবং বাস্তবতার লড়াই। তিনি ধর্মপ্রাণ খ্রীষ্টান ছিলেন, তিনি ইশ্বর, ইশ্বরপূত্র এবং সে ইশ্বরের পৃথিবীকেন্দ্রিকতায় বিশ্বাস করতেন। মাত্র ২০ বছর আগে তার ধর্মবিশ্বাসচ্যুতির অভিযোগ থেকে তাকে অব্যহতি দেয় চার্চ। তিনি যাজকদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ পাঠ দানের জন্য পরবর্তীতে তাকে গৃহান্তরীণ করে রাখা হয়।

পরবর্তী পর্যায়ে সৌরকেন্দ্রিক মতবাদও পরিত্যাক্ত হয়েছে, বর্তমানের পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই, কোনো সীমান্ত নেই, পৃথিবী, সূর্য, আমাদের সৌরজগত, আমাদের মিল্কিওয়ে কোনোটাই মহাবিশ্বের কোনো বিশিষ্ট অংশ নয়, মহাবিশ্বের সকল অংশই একই রকম নগন্য।

এই মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তুকণার গতিপথ নির্ধারণ করছে বৃহৎ আঙ্গিকে কেবলমাত্র মহাকর্ষ। প্রতিটি বস্তুকণার উপরে অপরাপর বস্তুকণাগুলোর আকর্ষণ বল মহাবিশ্বের চুড়ান্ত ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। যেহেতু মহাকর্ষীয় বল শুধুমাত্র পরস্পরকে আকর্ষণ করে এবং এ ভর বস্তুকণাগুলোর ভরের সমানুপতিক সুতরাং ভারী বস্তুর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব অধিকতর বিস্তৃত হবে, ক্ষুদ্র ভরের বস্তুকণাগুলোর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব ক্ষুদ্র অংশকে প্রভাবিত করবে। এই বক্তব্যটি একটু জটিল করে বলা আছে আইন্সাইনের সার্বজনীন মহাকর্ষ তত্ত্বে।

যেহেতু সূর্য প্রতিনিয়ত ফিউশন কিংবা হাইড্রোজেন সংযোজন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করছে সুতরাং প্রতিনিয়তই সূর্যের ভর কমছে। যেহেতু সূর্যের ভর কমছে সুতরাং সূর্যের আকর্ষণ বলের পরিমাণও ক্রমশ: কমে যাচ্ছে। এর সাম্ভাব্য ফলাফল কি হতে পারে? পৃথিবীর কক্ষপথে এর কি ধরণের প্রভাব পরবে? এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হয়েছে, সান্তনার বিষয় আগামী কয়েক সহস্রাব্দে পৃথিবীর কক্ষপথের তেমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে না।

শুধু তাই নয় প্রতিমুহূর্তে পৃথিবীতে বিপূল পরিমাণ কসমিক রে প্রবেশ করছে, এই কসমিক রে'র অধিকাংশই মূলত মহাবিশ্বের সূচনা লগ্নে উৎপন্ন হওয়া প্রোটন, এরা পৃথিবী ভেদ করে কোথাও চলে যাচ্ছে না, সুতরাং এদের কারণে পৃথিবীর ভরও প্রতিমুহুর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ কসমিক রে পৃথিবীতে আসলেও যেহেতু প্রোটনের ভর অতিনগন্য- একের পর ২৪টা শুণ্য দিয়ে যে সংখ্যাটা তৈরি হবে, সে পরিমাণ প্রোটন একসাথে মাপলে সেটার ওজন হবে ১ গ্রামের মতো। এসবের কারণে পৃথিবীর ওজন প্রতিবছর প্রায় ১০০ টন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কারণে পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বলের অতিনগন্য পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এই ভরবৃদ্ধিও গুরুতর ভাবে পৃথিবী-সূর্যের পারস্পরিক স্থিতিবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

অন্য একটি পরিস্থিতি কল্পনা করা যাক, ধরা যাক বৃহ:স্পতির মতো ভারী কোনো গ্রহ হঠাৎ করেই সূর্যের আকর্ষণে সূর্যের ভেতরে প্রবেশ করলো, সেই দুর্ঘটনার প্রভাব পৃথিবীর কক্ষপথে কতটুকু পরবে? আমরা কি পৃথিবী থেকে এই দুর্ঘটনার প্রভাব অনুভব করতে পারবো? বৃহ:স্পতির মতো ভারী কোনো গ্রহ যদি সূর্যের ভেতরে প্রবেশ করে( বৃহ:স্পতির ভর সূর্যের ভরের ১০০০ ভাগের এক ভাগ, সূর্যের ভর ১০০০ ভাগের ১ ভাগ বৃদ্ধি পেলে সেটা পৃথিবী থেকে খুব সুক্ষ্ণ যন্ত্র দিয়ে হয়তো পরিমাপ করা যাবে। অর্থ্যাৎ সূর্যের ভর যদি ১০০০ ভাগের এক ভাগ বেড়ে যায় কোনো মহাজাগতিক বিপর্যয়ে এর প্রভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিন্তু পৃথিবী-সূর্যের মধ্যকার আকর্ষণ বলের পরিমাণ খুব বেশী পরিবর্তিত হবে না।

অন্য দিক থেকে ভাবা যাক, সূর্য জ্বলতে জ্বলতে একটা পর্যায়ে শ্বেত বামন নক্ষত্রে পরিণত হবে, যেসব নক্ষত্রের ভর সূর্যের ভরের ১ দশমিক ৪ গুণ, তারা একটা পর্যায়ে ব্ল্যাকহোলে পরিণত হতে পারে। যখন নক্ষত্রের জ্বালানী কমে যায়, অর্থ্যাৎ এর হাইড্রোজেনগুলো ফিউশন প্রক্রিয়ায় হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয় তখন হঠাৎ করেই এর তাপমাত্রা কমে যায়, তাপমাত্রা কমে গেলে ফিউশন প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হয়, ফলে উত্তপ্ত নিউক্লিয়াসগুলোর উর্ধমুখী চাপ মহাকর্ষীয় নিম্নমুখী চাপকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, নক্ষত্র সংকুচিত হয়। নক্ষত্র সংকুচিত হওয়ার সাথে সাথে এর উত্তাপ বৃদ্ধি পায়, একটা নির্দিষ্ট মাণে পৌঁছানোর পর সংকুচিত নক্ষত্র হিলিয়ামকে ফিউশন প্রক্রিয়ায় কার্বণে রুপান্তরিত করতে শুরু করে। এভাবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কার্বন-অক্সিজেন-নিয়ন- সিলিকন বিভিন্ন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। এভাবে যখন নক্ষত্রের নিউক্লিয়াসগুলো লোহায় পরিণত হয়, তখন নক্ষত্র মূলত গলিত লোহার বৃহৎপিন্ডে পরিণত হয়। অত্যাধিক ভারী এই লৌহনক্ষত্র তখন শীতল হতে শুরু করে-

চন্দ্রশেখর হিসেব করে দেখালেন যদি কোনো নক্ষত্রের ভর সুর্যের ১ দশমিক ৪ গুণ বেশী হয় তাহলে পাউলি বর্জনসূত্রের কারণে ইলেক্ট্রন যে চাপ সহ্য করতে পারে মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের প্রভাবে সৃষ্ট চাপ তার সমান হবে। এটাই সীমান্তবর্তী মাণ, যদি কোনো নক্ষত্রের ভর এই সীমার উপরে হয় তাহলে পাউলির বর্জন সূত্রের ইলেক্ট্রন চাপ সেটাকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হবে, ফলে প্রতিটি বস্তুকণাই কেন্দ্রের দিকে পতিত হবে। অসীম ঘণ এই পিন্ডের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল অতিক্রম করে এমন কি আলোও বের হতে পারবে না। ফলে একটি নক্ষত্র তার সম্পূর্ণ ভর ও জ্বালানীসমেত আমাদের চোখের সামনে থাকে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

যদি এই মুহুর্তে সূর্য ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয় তাহলে পৃথিবীর কক্ষপথে কি এর কোনো প্রভাব পরবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় পৃথিবীতে প্রাণের বিলুপ্তি ঘটবে, কারণ সূর্য পৃথিবীর সকল প্রাণের উৎস ও প্রতিপালক। সেই সুর্যের অভাবে পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ও প্রজনন থেমে যাবে কিন্ত মহাকর্ষীয় বলের পরিমাণে তেমন তারতম্য হবে না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29568565 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29568565 2012-03-29 07:24:11
শিশুতোষ মহাকর্ষ পাঠ -১
বিজ্ঞানের অগ্রগতির কল্যানে ৩২৫ বছর আগে নিউটনের সার্বজনীন মহাকর্ষীয় তত্ত্ব প্রকাশিত হওয়ার পর এখন এই বিষয়টি সাধারণ জ্ঞানে পরিণত হয়েছে, বুঝে কিংবা না বুঝে আমরা এই বিষয়টি উচ্চারণ করতে পারি। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যেকোনো জ্ঞানের এমন সাধারণীকরণ এক ধরণের বিভ্রান্তি তৈরি করে, হয়তো পরিচিত বিষয়ের এমন গাণিতিক-শাব্দিক ব্যাখ্যার পর এর অন্তর্নিহিত জটিলতাগুলো নিয়ে মানুষ তেমন করে ভাবতে চায় না।

নিউটনের সার্বজনীন মহাকর্ষ বলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে পৃথিবীর সকল বস্তুকণা সকল বস্তুকণাকে পরস্পরের দিকে আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বল বস্তুকণাদুটোর ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের মধ্যকার দুরত্বের ব্যস্তানুপাতিক।

মহাকর্ষীয় বল পরস্পরকে আকর্ষণ করে, সুতরাং মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে তেমন কোনো সাম্যাবস্থা তৈরি করা অসম্ভব। যেকোনো ভারী বস্তু অন্য একটি ভারী বস্তুর আকর্ষণে বস্তু দুটোর ভরকেন্দ্রের সংযোজক সরলরেখা বরাবর পরস্পরের দিকে এগিয়ে যাবে- এটাই নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্রের ভাষ্য-

যদিও মহাকর্ষীয় বলের মাধ্যমে দুটো বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে কিন্তু এই দুটো বস্তুর সংযোজক সরল রেখা বরাবর এমন একটা বিন্দু পাওয়া সম্ভব যেখানে বস্তুকণাদুটোর পরস্পরের আকর্ষণ বলের মাণ সমান। এই বিন্দুতে কোনো বস্তুকে স্থাপন করলে সেটা চাঁদের এবং পৃথিবীর আকর্ষণের মিলিত প্রভাবে সেখানেই স্থির থাকবে। জুলভার্নের "ফ্রম আর্থ টু দ্যা মুন" বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে এই বিন্দুর বর্ণনা আছে-

চাঁদ এবং পৃথিবী পরস্পরকে প্রদিক্ষণ করছে এবং এই সংযোজক সরলরেখা কখনও পরিবর্তিত হচ্ছে না বলে এই বিন্দুটিতে সব সময়ই আকর্ষণ বলের সমতা থাকবে, আমরা এখানে যেকোনো তিনটি গ্রহকে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে?

এমন সজ্জ্বার জন্য কি কোনো বিন্দু খুঁজে পাওয়া সম্ভব সেখানে এই তিনটি গ্রহের পারস্পরিক আকর্ষণ বল পরস্পরকে নাকচ করে দিবে? জ্যামিতিক ভাবে ভরকেন্দ্র এবং ভরের পরিমাণ বিবেচনা করে এমন বিন্দু হয়তো খুঁজে পাওয়া সম্ভব, তাত্ত্বিক ভাবে এমন বিন্দু খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলেও সে বিন্দুটা একেবারে স্থির কোনো বিন্দু হবে এমনটা নিশ্চিত বলা কঠিন। এমন ভাবে ৪টি-৫টি-৬টি, অসংখ্য বস্তুকণা দিয়ে এমন বিন্দুর অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব কিন্তু এই গাণিতিক সাম্যাবস্থা কি আদৌ বজায় থাকবে?

২০০ বছর আগেই এমন সম্ভবনা নাকচ করে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নিউটন তার স্থির মহাবিশ্বের ধারণায় এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনা করেছিলেন, তিনি মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলে যে মহাবিশ্বের স্থিরতার প্রতি এক ধরণের হুমকি এমন সংশয়ের উত্তরে বলেছিলেন- যদি অসীম সংখ্যক বস্তুকণা ছড়িয়ে থাকে মহাবিশ্ব জুড়ে তাহলে তাদের পারস্পরিক আকর্ষণ বল পরস্পরকে নাকচ করে এক ধরণের সাম্যাবস্থা তৈরি করবে,ফলে মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ভেঙেচুড়ে মিলিয়ে যাবে না। নিউটনের প্রস্তাবিত "ইউনিভার্সাল কোলাপস" নিয়ন্ত্রনকারী ধারণাটি যে ভ্রান্ত তা পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয়েছে। হয়তো কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে এমন একটি সাম্যাবস্থা কল্পনা করা সম্ভব কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে আদতে সকল বস্তুকণাই একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দিকেই পতিত হবে।

প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর বয়সী মহাবিশ্ব এমন কোনো প্রবনতা এখন প্রকাশ করে নি, এখন প্রতিটি গ্যালাক্সি পরস্পর থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। ব্যতিক্রম এন্ড্রোমিন্ডা নক্ষত্রপূঞ্জ, সে নক্ষত্রপূঞ্জ মিল্কিওয়ের দিকে ছুটে আসছে, হয়তো ভবিষ্যতে কোনো একসময় এই নক্ষত্রপূঞ্জ মিল্কিওয়ের সাথে মিলিত হবে। বিশাল একটি মহাকর্ষীয় সংঘর্ষ হবে সে সময়।


চাঁদ এবং পৃথিবীর মধ্যকার দুরত্ব প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার মাইল- এই দুরত্ব অতিক্রম করতে আলোরও ২ সেকেন্ডের বেশী সময় লাগে- এত দুরের চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীতে দুই বার জোয়ারভাটা হলেও আমরা যখন কোনো চেয়ারে বসছি তখন আমরা চেয়ারের সাথে আটকে থাকছি না, যদিও আমাদের দুজনের ভর আছে, এবং আমাদের মধ্যকার দুরত্ব চাঁদ এবং পৃথিবীর দুরত্বের চেয়ে অনেক অনেক কম। আমরা যখন কোনো বড় দালানের সামনে দিয়ে হাঁটছে তখন সে দালানের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে আমরা সে দালানের দেয়ালে আটকে যাচ্ছি না। আমাদের বড় বড় ট্রাকগুলোও দিব্যি পৃথিবীর রাস্তায় চলাচল করছে- কোথাও তেমন স্থবিরতা নেই। এর কারণটা কি?

মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মাণ অনেক অনেক কম বলে স্বল্প দুরত্বেও মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের পরিমাণ অনেক কম, আকর্ষণ বলের পরিমাণ অনেক অনেক কম হতে পারে কিন্তু যখন আমরা কোনো চেয়ারে বসছি তখন চেয়ার এবং আমার মধ্যকার দুরত্বও প্রায় শূণ্যের কাছাকাছি, মহাকর্ষীয় বলের প্রাবাল্য তখন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, কিন্তু এরপরও আমরা চেয়ারের সাথে আটকে থাকছি না কেনো? শুধুমাত্র মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মাণের স্বল্পতা এই কারণটা ব্যাখ্যা করতে পারে না।

বিজ্ঞান চারপাশের ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনুমাণ করে, সেসব অনুমাণের কোনো কোনোটি ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়, কোনো কোনো অনুমাণ গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তার ব্যাখ্যাযোগ্যতা সীমিত হয়ে যায়। সকল পরিস্থিতিতে সে অনুমাণ ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধ শতকেই প্রমাণিত হয় পরমাণু অন্য আরও কয়েকটি মৌলিক কণিকা দিয়ে তৈরি, ১৮৯৬ সালে থমসন ইলেক্ট্রনের অস্তিত্ব এবং ভর-আধানের অনুপাত নিয়ে গবেষণা করার সময় তার গবেষণাগারে ছাত্র হিসেবে আসেন রাদারফোর্ড- তিনিই প্রথম পরিক্ষাগারে প্রমণা করলেন পরমাণুর অধিকাংশ ভরই এর কেন্দ্রের খুব সামান্য একটা অংশে কেন্দ্রীভুত থাকে, এই ভারী অংশটুকুকে বলা হয় নিউক্লিয়াস এবং এটার ধণাত্মক আধান আছে। একটি পরমাণুর ব্যাসার্ধ এক মিটারের এক কোটি ভাগের সামান্য কম। দুরত্বের ব্যস্তানুপাতিক মহাকর্ষীয় বলের পরিমাণ প্রচন্ড বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা আছে এ ক্ষেত্রে, কিন্তু তারপরও পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তুরই নির্দিষ্ট আকৃতি বিদ্যমান, প্রতিটি কঠিন পদার্থের আকৃতি অনন্তকাল ধরেই অবিকৃত। হঠাৎ কোনো একদিন পাহাড় চুপসে যাচ্ছে না।

রাদারফোর্ডের কাছে অবশ্য মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল ততটা সমস্যার বিষয় ছিলো না, মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মাণের স্বল্পতায় তিনি ধরেই নিয়েছিলেন ইলেক্ট্রন নিউক্লিয়াসের দিকে ধাবিত হবে না ততটা প্রবল ভাবে কিন্তু তার বিবেচনায় ছিলো অন্য একটি দুরপাল্লার বল।

পৃথিবীতে প্রতিটি আধান পরস্পরকে আকর্ষণ কিংবা বিকর্ষণ করে( সমজাতীয় আধান পরস্পরকে আকর্ষণ করে, বিপরীত আধানগুলো পরস্পরকে আকর্ষণ করে) এদের আকর্ষণ বল এদের দুরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। তবে সংকটের বিষয় হলো তড়িৎ চুম্বকীয় বলের ধ্রুবকের মাণ অনেক বড়, সুতরাং মহাকর্ষীয় বলের মতো উপেক্ষণীয় নয় এই আকর্ষণী বল। এই আকর্ষণে ইলেক্ট্রন নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা-

যেহেতু তেমনটা ঘটে নি কখনও সুতরাং এর কোনো একটি গ্রহনযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিদ্যমাণ। রাদারফোর্ড পৃথিবী-চাঁদ- পৃথিবী -সুর্যের কক্ষপথের আদলে কল্পনা করলেন ইলেক্ট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঘুরছে, ফলে তারা কেন্দ্রে পতিত না হয়েও দীর্ঘ সময় এই কক্ষপথে থাকতে পারবে।

কিন্তু তারও কয়েক দশক আগে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ছিলো যদি কোনো আধানের গতি পরিবর্তিত হয় তাহলে সেখান থেকে আলোর তরঙ্গ নির্গত হবে- সুতরাং দপ করে জ্বলে উঠে প্রতিটি বস্তুকণাই বিলীন হয়ে যাওয়ার তাত্ত্বিক সম্ভবনা তৈরি হলো। রাদারফোর্ড এই ধারণা দেওয়ার দুই বছরের মাথায় নিলস বোর অল্য একটি ধারণা দিলেন, কোনো গ্রহনযোগ্য কারণ ছাড়াই সেটা এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যাখ্যা। কেনো এমনটিই হতে হবে এর কোনো যুক্তি নেই, তবে এমনটিই ঘটতে দেখা গিয়েছে এবং যেহেতু অন্য কোনোভাবে বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না, সুতরাং বোরের পরমাণু কল্পনাই এখন পর্যন্ত পৃথিবী ও মহাবিশ্বকে তার নির্দিষ্ট আকৃতি বজায় রাখতে সাহায্য করছে।

নিলস বোরের পরমাণু কল্পনা এবং উলফগ্যাং পাউলির অনুমাণ আমলে না আনলে আমাদের নিত্যদিনের চলাফেরার অন্য কোনো কার্যকারণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। পাউলি বলেছেন পরমাণুর কক্ষপথের প্রতিটি ইলেক্ট্রনকে চারটি সংখ্যার মাণ দিয়ে নির্দিষ্ট করা সম্ভব- কিন্তু পরমাণুর প্রতিটি ইলেক্ট্রনের ক্ষেত্রে এই চারটি সংখ্যা মাণ হবে আলাদা, পরমাণুর যেকোনো দুটি ইলেক্ট্রনের ক্ষেত্রে এই চারটি সংখ্যার মাণ সমান হতে পারবে না। এটা পাউলির বর্জন সূত্র হিসেবে পরিচিত

এই অনুমাণের কি ধরণের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, আমরা যদি কোনো বস্তুর উপরে চাপ প্রয়োগ করি, সেটার প্রভাবে এর পরমাণুর চারপাশের ইলেক্ট্রনগুলোর কক্ষপথ পরিবর্তিত হয়ে যায়, কিন্তু পাউলির বর্জন সূত্র নির্ধারণ করছে একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ইলেক্ট্রনই থাকতে পারবে, এবং ইলেক্ট্রনগুলো পরস্পরের কাছে আসামাত্রই এদের বিকর্ষণ বলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, সুতরাং যত প্রবল চাপই প্রয়োগ করা হোক না কেনো, সে চাপ সামলে নেয় পরমাণু। ফলে আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে কোনো পদার্থকে সংকুচিত করতে পারি না।

কেনো আমরা পৃথিবীর প্রবল মহাকর্ষ বলের প্রভাব সত্ত্বেও হাঁটছি, ফিরছি, ঘুমাচ্ছি এবং দিব্যি বিছানা থেকে উঠে পরতে পারছি তড়িৎচুম্বকীয় বল এবং পাউলির বর্জন সূত্রের সাথে মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের মাণের স্বল্পতা বিবেচনা করলে আমরা এ ধাঁধার সমাধান করতে পারি।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29567855 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29567855 2012-03-27 22:49:39
নক্ষত্রের সন্তান
( এমনও হতে পারে অতীতে কোনো একসময় এমনটা লিখেছিলাম, মনে নেই, তাই পুনরাবৃত্তির সম্ভবনা মাথায় রেখেই পুন:লিখিত বলা যায়)


Whatever else it may be, at the level of chemistry life is fantastically mundane: carbon, hydrogen, oxygen and nitrogen, a little calcium, a dash of sulphur, a light dusting of other very ordinary elements - nothing you wouldn't find in any ordinary pharmacy - and that's all you need. The only thing special about the atoms that make you is that they make you. That is, of course, the miracle of life.
- Bill Bryson


কোনো অলৌকিক ব্যাখ্যা নয় বরং বিজ্ঞান সবসময়ই প্রতিটি ঘটনার গ্রহনযোগ্য যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে চায়। যা কিছু বিদ্যমান এবং যা কিছু পর্যবেক্ষণলব্ধ সব বিষয়ের যৌক্তিক ব্যাখ্যা সম্ভব, আমাদের বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনেক ধরণের অসামঞ্জস্যতা এখনও বিদ্যমান, তারপরও মহাবিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ের অলৌকিক ব্যাখ্যার চেয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনেক বেশী যৌক্তিক এবং আকর্ষণীয়।

হিংটিংছট, এবরাকাড্যাবরা কিংবা ইনি মিনি মাইনি ডো কোনো রকম যাদুকরী শব্দের বাইরে বিজ্ঞান নিজেই অনেক বেশী আকর্ষণীয়। বিজ্ঞান যেসব সম্ভবনার কথা বিবেচনা করে সেখানে ধর্মপুস্তকের যবতীয় ছন্দবদ্ধ বাক্যগুলো নিতান্ত ছেলেমানুষী ছড়ায় রূপান্তরিত হয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের ভেতরের কৌতুহলগুলোকে নিপূন অস্ত্রোপচারে একেবারে মস্তিস্ক থেকে ছেঁটে ফেলতে সক্ষম হয়েছে, সুতরাং আমাদের ভেতরে তেমন কৌতুহল জন্ম নেয় না। আমরা প্রশ্ন করতে দ্বিধাবোধ করি এমন কি প্রশ্ন করাটাকেও আপত্তিকর বিবেচনা করি।

স্টিফেন ওয়াইনবার্গ "দি ফার্স্ট থ্রি মিনিটস" একটি বই লিখেছিলেন, বিজ্ঞানে আগ্রহী, বিজ্ঞানমনস্ক সাধারণ পাঠকদের জন্যে লেখা এই বইটিতে মহাবিশ্বের উদ্ভব এবং এর প্রথম তিন মিনিটে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর যৌক্তিক বর্ণনা আছে, সেখানে অবশ্য একটাই অনুমাণ, মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছিলো "হট বিগব্যাং" এ। যদি মহাবিশ্ব হট বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে শুরু হয়ে থাকে তাহলে এর প্রথম তিন মিনিটে যা যা ঘটতে পারে, বর্তমানের মহাবিশ্বকে পর্যালোচনা করে সেটার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। সেখানে বিজ্ঞানের অন্য একটি ধারণার উপরে ভিত্তি করে ওয়াইনবার্গ একটি উপসংহারে এসেছেন- যদি আমাদের পরিচিত মহাবিশ্বে বস্তু-শক্তি-ভরের ঘনত্ব সীমান্তবর্তী মাণের বেশী হয় তাহলে মহাবিশ্ব পুনরায় সংকুচিত হবে এবং মহাবিশ্বের প্রথম তিন মিনিটের ঘটনাগুলো বিপরীতক্রমে ঘটবে। যদি বস্তুকণা ও শক্তির গড় ঘনত্ব সীমান্তবর্তী মানের চেয়ে বেশী হয় তাহলে যে মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিলো তা বিগ ক্রাঞ্চের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।

আবার পুনরায় নতুন করে মহাবিশ্বের উদ্ভব ঘটবে কি না এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়, যদি পূর্বতম পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে পুনরায় বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের পুন:সূচনা হবে এবং সেই মহাবিশ্বে বর্তমান মহাবিশ্বের কোনো স্মৃতি থাকবে না।

প্রথম তিন মিনিটে যা ঘটেছিলো কিংবা শেষ তিন মিনিটে যা ঘটবে সেসব নিয়ে অনুমাণ বাদ দিলেও অনেক আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে মহাবিশ্বে। মহাবিশ্বের প্রথম তিন মিনিটের ইতিহাসে প্রোটোন, ইলেক্ট্রন, নিউট্রন, ফোটনের আবির্ভাব ঘটেছে, আরও অনেক ধরণের কণিকার অস্তিত্বও সম্ভবপর সেখানে কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে প্রোটন, ইলেক্ট্রন, নিউট্রন ফোটন আমাদের মহাবিশ্বের বর্তমান বর্নীল দৃশ্যপটের অন্যতম উপাদান।

প্রোটন এবং নিউট্রন সংযুক্ত হয়ে হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াস তৈরি করতে সক্ষম হলেও মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে অন্যান্য ভারী নিউক্লিয়াসের জন্ম হয় নি তেমন ভাবে। কার্বন পরমাণু তৈরি হতে তিনটি হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে সংযুক্ত হতে হবে, অক্সিজেন পরমাণু তৈরি হতে হলে কার্বন পরমাণুর সাথে একটি হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে সংযুক্ত হতে হবে, পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়ায় এসব সম্ভব হলেও সাম্ভাব্যতা বিচার করলে এসব ভারি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়ার সম্ভবনা ক্ষীণ।

মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়েছে, সম্প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে এটা শীতল হয়েছে, তাপমাত্রা কমেছে, পরমাণু কিংবা নিউক্লিয়াসগুলোর গতিশক্তি হ্রাস পেয়েছে, এবং একটা পর্যায়ে যখম মহাবিশ্বের গড় তাপমাত্রা ৩০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে তখন নিউক্লিয়াসগুলোর সাথে ইলেক্ট্রন সংযুক্ত হয়ে এখনকার পরমাণু গঠিত হয়েছে।

পরমাণু গঠিত হওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ইলেক্ট্রন, প্রোটন, এবং অন্যান্য কণিকা থেকে যেসব আলো প্রতিফলিত হয়েছিলো, সেসব আলো প্রায় বিনাবাধায় অদ্যাবধি ভ্রমণ করছে- সেইসব আলোক কণিকাগুলোকে আমরা এখন পর্যবেক্ষণ করছি। তিনটি স্যাটেলাইটভিত্তিক টেলিস্কোপ সেই আলোককণাগুলোর ঘনত্ব পরিমাপ করছে, মহাবিশ্বে যখন পরমাণু গঠিত হয়েছিলো তখন মহাবিশ্বের গড় ঘনত্বে কোনো ধরণের ব্যতিচার ছিলো কি না, কোনো ধরণের অসামঞ্জস্যতা কি কি পরিণতি বয়ে আনতে পারে এসব নিয়েও গবেষণা হচ্ছে।

মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হওয়ার একটি পর্যায়ে এখানে গ্যালাক্সির ভ্রুণ তৈরি হয়, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর চারপাশে হিলিয়াম আর হাইড্রোজেন গ্যাস জমা হতে থাকে, এদের সম্মিলিত মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা সংকুচিত হতে শুরু করে, স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাসীয় গোলক তৈরি হয়।

সকল গ্যাসীয় গোলকই যে পরবর্তী পর্যায়ে নক্ষত্রে পরিণত হবে এমনটা বলা যায় না, নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর না থাকলে এইসব গ্যাসীয় গোলকের মহাকর্ষীয় সংকোচন এবং কেন্দ্রের দিকে পতিত হওয়া গ্যাসকণাগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষে উৎপন্ন তাপে তাপমাত্রা ১০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের উপরে পৌঁছাবে না, সাধারণভাবে বলা যায় যদি কোনো গ্যাসীয় গোলকের ভর বৃহ:স্পতি গ্রহের ভরের কয়েকশত থেকে কয়েক হাজার গুণ বেশী হয় তাহলে তাদের কেন্দ্রে মহাকর্ষের প্রভাবে এমন তাপমাত্রা তৈরি হতে পারে, সে তাপমাত্রায় পারমাণবিক ফিউশন শুরু হবে, ফলে নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস একিভূত হয়ে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস তৈরি হবে এবং আরও কিছু শক্তি নির্গত হবে, সে তাপে অন্যান্য হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসও ফিউশন শুরু হবে, এই ধারাবাহিক বিক্রিয়ায় একটা পর্যায়ে দপ করে জ্বলে উঠবে নক্ষত্র।

কোন বলের প্রভাবে নক্ষত্র নক্ষত্র হয়ে উঠে তা আমাদের জানা, ন্যুনতম কতটুকু ভর হলে কোনো গ্যাসীয় গোলক নক্ষত্রে পরিণত হবে সেটাও আমাদের জানা, যদি কোনো গ্যাসীয় গোলক তার চেয়ে কম ভর বিশিষ্ট হয় তাহলে সে আজীবন সম্ভবনাময় নক্ষত্র হয়ে উঠতে পারতো জোতিস্ক হয়েই মহাবিশ্বে বিরাজ করবে। প্রকান্ড এমন গ্যাসীয় গোলকের পরিমাণ মহাবিশ্বে প্রচুর কিন্তু আমরা খুব বেশী ভাগ্যবান না হলে দুরবর্তী গ্যালাক্সীগুলোতে এসবের সন্ধান পাবো না।

নক্ষত্র জ্বলতে শুরু করলে এর শক্তি উৎপাদনের পরিমাণ নির্ভর করে এর সূচনা ভরের উপরে, যদি সূর্যের মতো সাধারণ নক্ষত্র হয় তাহলে সেটা কয়েকশত মিলিয়ন বছর পর্যন্ত একই গতিতে জ্বলতে থাকবে কিন্তু সূর্যের চেয়ে ভারী নক্ষত্রগুলোর জীবনের ব্যাপ্তি কম, যে নক্ষত্র যত বেশী ভারী সেসব নক্ষত্রের জীবনীকাল তত সংক্ষিপ্ত। দ্যা বিগার দে আর দ্যা ফিউরিয়াস দে বার্ন।

ভারী নক্ষত্রের ক্ষেত্রে যখন সকল হাইড্রোজেনই হিলিয়ামে পরিণত হয় তখনও তাদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ তাদের সংকুচিত করতে থাকে, এমনিতে নক্ষত্রের ফিউশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ এবং মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এক ধরণের সাম্যাবস্থা বজায় রাখে, একবার হাইড্রোজেনের ফিউশন সমাপ্ত হলে সে সাম্যাবস্থা বিনষ্ট হয় এবং নক্ষত্র পুনরায় সংকুচিত হতে থাকে। এভাবে ধারাবাহিক ফিউশনে কার্বন, অক্সিজেন, সিলিকন তৈরি হতে থাকে নক্ষত্রের কেন্দ্রে। প্রতিবার জ্বালানী শেষ হলে নক্ষত্র আরও সংকুচিত হয়, আরও তীব্রতার সাথে সেটা জ্বলে উঠে,

সেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিই সমাপ্ত হয় যদি একবার ফিউশন প্রক্রিয়ায় নক্ষত্রের গাঠণিক পরমাণুগুলোর সবগুলোই লোহায় পরিণত হলে। যদি এরপরও নক্ষত্র নিজের মহাকর্ষে নিজে সংকুচিত হতে থাকে তাহলে একটা পর্যায়ে সুপার নোভা বিস্ফোরণ ঘটে। সেই সীমিত সময়েই তামা, দস্তা, সোনা রূপা, যাবতীয় ভারী মৌলিক পরমাণু গঠিত হয়।

আমাদের শরীরে এবং পৃথিবীতে এইসব ভারী পরমাণুর উপস্থিতি দেখে একটা বিষয় অনুমাণ করা যায় পৃথিবী এবং আজকের সূর্য হয়তো কোনো সুপারনোভা বিস্ফোরণের স্মৃতি ধরে রেখেছে। কিভাবে সৌরজগতের আবির্ভাব হলো সেসব নিয়েও গবেষণা চলছে।

আমাদের শরীরের কার্বন-অক্সিজেন-তামা- দস্তা-লোহা- এবং অন্যান্য মৌলের কিঞ্চিৎ উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে একটি সিদ্ধান্তেই পৌঁছানো যায়, আমরা কোনো না কোনো দুর অতীতে নক্ষত্রের অংশ ছিলাম। আমাদের প্রত্যেকের শরীর সেই নক্ষত্রের স্মৃতি বহন করছে। মাতা-নক্ষত্র বিস্ফোরিত হওয়ার পর আমরা ভাসমান ছিলাম, হয়তো পৃথিবী আমাদের পরমস্নেহে গ্রহন করে আশ্রয় দিয়েছে কয়েক শত কোটি বছর আগে, কিংবা সেই মাতা-নক্ষত্রের অংশবিশেষ নিয়েই গঠিত হয়েছিলো আমাদের পৃথিবী।

সেই বিস্ফোরিত নক্ষত্রের শেষ রক্তবিন্দুগুলো সঞ্চালিত হচ্ছে আমাদের ধমনীতে, আমরা সবাই নক্ষত্রের সন্তান।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29566887 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29566887 2012-03-26 11:00:48
বিবর্তন: শিশুতোষ লেখা
বিজ্ঞান কার্যকারণ খুঁজে, প্রতিটি ঘটনাকে কোয়ালিটিটেভলি এবং কোয়ান্টিটেটিভলি ব্যাখ্যা করতে চায়। প্রতিটি পরিবর্তনের নেপথ্যে কোনো না কোনো উদ্দীপনা বিদ্যমান এ বিষয়টির যৌক্তিকতা কেউই অস্বীকার করে না, অলৌকিক অব্যাখ্যায় কিছু ঘটে যাওয়ার সম্ভবনা কম। হয়তো ঘটে, কিন্তু আমার চারপাশে ঘটে নি।

প্রতিটি জীব, এককোষী কিংবা বহুকোষী যেমনই হোক না কেনো উদ্দীপনার সাড়া দেয়, বিরুপ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে নিজেকে পরিবর্তিত করে এবং অনুকূল পরিবেশে নিজের সংখ্যাবৃদ্ধি করে। কিন্তু তারা প্রজন্মে প্রজন্মে বিবর্তিত হতে পারে এবং এটি এখন প্রমাণিত।

প্রতিটি জীবনই আসলে বেশ কয়েক কেজি হাইড্রোজেন, কার্বন, অক্সিজেন,নাইট্রোজেন আর কিছু পরিমাণ সালফার, সোডিয়াম এবং অন্যান্য মৌলিক পদার্থের একটা সন্নিবেশ। সেসব মৌলিক পরমাণুগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে শর্করা, প্রোটিন, এমাইনো এসিড, এমিন, এমাইড এসব তৈরি করে, একটি এককোষী প্রাণীও এসব তৈরি করে, বহুকোষী প্রাণীও একই ধরণের যৌগ তৈরি করে বিপাকীয় প্রক্রিয়ায়। কিন্তু এসব অনুগুলোর কাঠামোর ভিন্নতার বাইরে এক কোষী এবং বহুকোষী জীবের জীবনচক্রে তেমন বড় মাপের তফাত নেই। আকৃতিতে যেমন তফাত থাকুক না কেনো আণবিক পর্যায়ে একটি ব্যাকটেরিয়ার সাথে আমাদের পার্থক্য খুব বেশী নয়।

প্রতিটি প্রাণী কি ধরণের রাসায়নিক যৌগ নিজস্ব বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় উৎপাদন করতে পারবে তা নির্ধারণ করে তারা ডিএনএ- আরএনএ- এখানে যেসব যৌগ পরস্পর যুক্ত তারাই এইসব বিপাকীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন করে, নিজেদের প্রতিরূপ তৈরি করে।

একই প্রজাতির প্রতিটি প্রাণী একই ধরণের রাসায়নিক যৌগ তৈরি করলেও প্রতিটি প্রাণী আলাদা আলাদা বৈশিষ্ঠ্যসুচক যৌগ নির্মাণ করতে সক্ষম। এই যৌগগুলো প্রতিটি প্রাণী সংগ্রহ করে, সংগ্রহের প্রক্রিয়াটিকে আমরা পুষ্টি হিসেবে চিহ্নিত করি। কোন কোন রাসায়নিক যৌগ আমরা গ্রহন করতে পারবো সেটা নির্ধারণ করে আমাদের ডিএনএ-র আণবিক গঠন, দির্ঘ অনভ্যাসে কিংবা অন্য যেকোনো উদ্দীপনায় আমাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক পুষ্টিই গ্রহন করতে পারি না। আমাদের শরীর সেটা গ্রহন করতে পারে না।

কিভাবে পুষ্টি কোষে প্রবেশ করে তার একটা সাধারণ ব্যাখ্যা হিসেবে আছে তালা-চাবি প্রক্রিয়া, যেখানে আমাদের কোষপ্রাচীরের ভেতর দিয়ে যেসব রাসায়নিক যৌগ অনায়াসে গতায়ত করতে পারে তাদের কোন একটির সাথে যুক্ত হয়ে ভিন্ন কোনো যৌগ কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এই তালাচাবি প্রক্রিয়াটুকু দিয়ে এক কোষী জীবের বিবর্তনের একটা ধারণা পাওয়া যায়।

পৃথিবীতে অনেক ধরণের ব্যাকটেরিয়া আছে, অনেক ধরণের ভাইরাস আর ছত্রাক আছে, সেসবের সবগুলো আমাদের দেহে বংশবিস্তার করতে পারে না। এমন কি পশুকে যে ব্যাক্টেরিয়া আক্রান্ত করে সেই একই ব্যক্টেরিয়া পাখীকে আক্রান্ত করতে পারে না।

ব্যক্টেরিয়া যখন কোনো প্রাণীর ডিএনএ-র সাথে খাপ খাওয়ানো কোনো অনু নিজের ডিএনএতে তৈরি করতে সক্ষম হয় তখনই একমাত্র তা অন্য কোনো প্রাণীকে আক্রান্ত করতে পারে।

এই বিবর্তনের ধারাটা চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়ে আছে, বিভিন্ন ধরণের এন্টিবায়োটিক তৈরি করা হচ্ছে, সেসব এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয় ল্যাবরেটরিতে। বহুল প্রচলিত এন্টিবায়োটিকগুলোকে প্রতিরোধ করতে পারে এমন ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এইসব এন্টিবায়োটিকপ্রতিরোধক্ষম ব্যক্টেরিয়া মানুষের নিরাপত্তার প্রতি বড় রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাক্টেরিয়া কিভাবে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষম হয়ে যাচ্ছে? তারা এন্টিবায়োটিকের যে উপাদান তাদের ধ্বংসের কারণ সেসব যৌগ এখন নিজেরাই উৎপাদন করছে, সেসব তাদের পুষ্টির অংশ হয়ে গেছে, এখন তা তাদের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

অনেকে এই এককোষী প্রাণীর বিবর্তনে আস্থা রাখে কিন্তু এর পরবর্তী যৌক্তিক ধাপটুকু মেনে নিয়ে অনাগ্রহী। তাদের বিরুদ্ধ যুক্তি এখন কেনো বাঁদর থেকে মানুষ হচ্ছে না।
বিবর্তন একটা দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, কয়েকশত প্রজন্মের ব্যপ্তিতে এই পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হয়ে এক ধরণের ভিন্ন প্রজাতি তৈরি করতে পারে- মানুষের জীবনযাপনের ব্যপ্তি মাত্র ৭০ বছর, এমন একশ প্রজন্ম অতিক্রম করতেও কয়েক হাজার বছর প্রয়োজন। মাত্র ১৭০ বছরে ৫ প্রজন্মে বাঁদরকে মানুষ হতে দেখার মতো ঘটনা ঘটলে সেটা এক ধরণের অলৌকিক ঘটনাই হবে।

যারা আশা করেন একদিন হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে চিড়িয়াখানা গিয়ে তারা দেখবেন খাঁচায় অনেকগুলো উনমানুষ ঝুলে আছে তাদের প্রত্যাশা পুরণ হয় না বলে তারা বিবর্তনে আস্থা স্থাপন করেন না। প্রতিকূল পরিবেশে এই খাঁচার বাঁদরগুলো ছেড়ে দিয়ে ১৫ প্রজন্ম পরের কোনো সময়ে গিয়ে দেখলে বিবর্তনের পরিমাণটুকু তারা নিশ্চিত উপলব্ধি করতে পারতেন, তবে আমাদের জীবনকালের ব্যপ্তিতে ২০ থেকে ৫০ মিনিটের জীবনকালের ব্যাক্টেরিয়ায় বিবর্তন দেখবার সম্ভবনা অনেক প্রবল।এ কারণেই আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি থিওরী ওফ ইভোলিউশনের যৌক্তিক ব্যাখ্যাটিতে আমি আস্থা রাখি।

( অনেককে অনেক ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখতে পারি নি, প্রায় ভুলেই ছিলাম লেখালেখির কথা। অনুপস্থিতির সময়সীমা যাচাই করলে দেখা যাবে প্রায় ২ বছর ধরে তেমন কিছুই লেখা হয় নি। কিন্তু আমার মতো অনুপস্থিত ব্লগারের ব্লগ নিয়ে অনেকের বিষম উৎসাহ, তারা নিয়মিত বিরতিতে পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্লগটিকে সচল করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সেসব পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের আবেদন আমি বিভিন্ন সময়ে পাই, এর আগে লিখেছিলাম যদি আপনি আপনার প্রয়োজনটুকু জানান তাহলে আমি আপনাকে মন্তব্যে পাসওয়ার্ড দিয়ে দিবো। এখনও সে অনুরোধটুকু থাকলো। অন্যের ব্লগের পাসওয়ার্ড নিয়ে অযথা টানাহ্যাঁচরা করাটা অশোভন। এই অশোভোনতাটুকু বাদ দিয়ে সুন্দর জীবনযাপন করা যায়।) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29551325 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29551325 2012-03-02 16:15:03
যেভাবে পরাজিত হয় সাধারণ মানুষের শুভবোধ
আজ প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচারকের বেঞ্চ আজ চুড়ান্ত রায় দিয়েছে , সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ভাষ্যানুসারে সুপ্রীম কোর্টের অভিমত

"ধর্মীয় বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া যেতে পারে, তবে যথাযথ শিক্ষিত ব্যক্তি তা দিতে পারবে। আর ফতোয়া গ্রহণের বিষয়টি হতে হবে স্বতস্ফূর্ত। এর মাধ্যমে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া যাবে না। এমন কোনো ফতোয়া দেওয়া যাবে না, যা কারো অধিকার ক্ষুন্ন করে। "

যেকোনো ধর্মীয় বিষয়েই ফতোয়া কিংবা অভিমত প্রদানের দস্তুর থাকলেও বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে "ফতোয়া'র শিকার মূলত সামাজিক ক্ষমতাহীন নারী। নারীর সামাজিক নির্যাতনের বৈধতা প্রদান হয়তো সুপ্রীম কোর্টের চুড়ান্ত লক্ষ্য ছিলো না কিন্তু অতীত উদাহরণগুলো পর্যালোচনা করে কেউ যদি ফতোয়ার ধারাবাহিক বিবর্তন যাচাই করে দেখতো তাহলে সেখানে নারী নির্যাতনের একটি নির্দিষ্ট প্রবনতা তারা লক্ষ্য করতো।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এবং সামাজিক বিধি ও অনুশাসন নারী এবং মানবাধিকার বিরোধী, আমাদের সমাজের ভেতরে এভাবেই নারী নির্যাতনের প্রেক্ষাপট নির্মিত হয়। গত কয়েক মাসের দৈনিক পত্রিকায় নারীর উপর পারিবারিক নির্যাতনের বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারী নিহত হয়েছেন।

পারিবারিক কলহ, যৌতুক কিংবা যৌন অবিশ্বস্ততার দায়ে এভাবে কাউকে হত্যা করবার বৈধতা রাষ্ট্রীয় আইনে না থাকলেও আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ তাকে বৈধতা দিয়েছে। এমন নিরব নিস্পৃহ সামাজিক স্বীকৃতির কারণে নির্যাতিত নারীদের অধিকাংশই তাদের উপরে নির্যাতনের কোনো প্রতিকার চাইতে পারেন না কিংবা প্রতিকার চাইবার প্রক্রিয়াটিকে সামাজিক ভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়, এমন সামাজিক কাঠামোতে ফতোয়া বিষয়ক ধ্যানধারণার অসহায় শিকার নারী হলেও তার বিরোধিতা করে ১০ বছর আগে হাইকোর্ট যে রায় প্রদান করেছিলো তার বিপরীতে সুপ্রীম কোর্টের প্রদত্ত রায় নিশ্চিত করলো গত এক দশকে আমাদের কোনো সামাজিক অগ্রগতি সাধিত হয় নি। এ রায় আমাদের সামাজিক প্রগতির বিপরীত সংবেদ দিলেও সেটা বর্তমানের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ফতোয়া বিষয়ক অবস্থানকেই পূনব্যক্ত করেছে।

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ভাবে ফতোয়াবিরোধী নয়, তারা সব সময়ই শিক্ষিত এবং উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে ফতোয়া প্রদানের অধিকার সমর্পন করতে আগ্রহী, যদিও ফতোয়া প্রদানকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো নীতিমালা সুপ্রীম কোর্ট কিংবা আওয়ামী লীগ ঘোষণা করে নি।

দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের চাওয়া আওয়ামী লীগ ধররনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ধারার উত্তরসুরী হিসেবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করবে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ভোটের রাজনীতিতে এমন ধরমনিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহনে অনাগ্রহী, শুভাকাঙ্খী এবং পরামর্শকদের অগ্রাহ্য করেই তারা ধর্মাবনত রাজনৈতিক মতবাদের চর্চা অব্যহত রেখেছে।

যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করছে তাদের সাথে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচীর প্রধানতম পার্থক্য হলো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো কোরান ও সুন্নাহভিত্তিক শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে চায়, এ বিষয়ে স্পষ্ট দাবী জানায় এবং সে দাবীর পক্ষে জনমত সংগঠিত করে। আওয়ামী লীগ এ দাবীতে ততটা সরব না হলেও তারা ধর্মকে রাজনীতির অংশ করে তুলেছে , তারা দেশের মানুষের কোমল ধর্মানুভুতিকে আহত না করে বরং এই ধর্মানুভুতিকে তোয়াজ করবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের নাগরিককে প্রকৃত ধররনিরপেক্ষতার সংবেদ দেওয়া কিংবা তাদের অভ্যস্ত করে তুলবার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে অনীহ আওয়ামী লীগ ধর্মকে রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে দিতে আগ্রহী।

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনের পক্ষে নয়, কিন্তু ফতোয়ার মূল শিকার কথিত " যৌন অবিশ্বস্ত নারী" এবং ব্যাভিচারী দুর্বল ও সামাজিক ক্ষমতাহীন পুরুষকে প্রকাশ্য নির্যাতনের স্পষ্ট বিরোধিতাও তারা করতে অনাগ্রহী। তারা সামাজিক কল্যানের নামে এমন সামাজিক নিগ্রহের পক্ষপাতি, তাদের ধারণা এতে বাংলাদেশের ধর্মভীরু নাগরিকদের ধর্মীয় মূল্যবোধের স্পষ্ট প্রকাশ ঘটে

আওয়ামী লীগ যদিও নিজেদের কাগুজে ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী কিন্তু তারাও ধারণা করছে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু এবং তারা ধর্মের নামে সামাজিক নির্যাতনের সমর্থক।

এমন রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অবস্থান একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার জন্য অপমানজনক। আমি এর প্রতিবাদ করলেও সে প্রতিবাদ ক্ষমতাবানদের কর্ণকূহরে প্রবেশ করবে না।

উচ্চ আদালত আওয়ামী লীগের ফতোয়া বিষয়ক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করে মূলত নিজেদের একই সামাজিক মতের অনুসারী প্রমাণ করলেন। তারাও এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত করলেন যে বাংলাদেশের নাগরিকেরা সামাজিক নিগ্রহন সমর্থন করেন কিংবা তাদের ধারণা এ মতই সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্য এবং এর বিরোধিতা করা অনুচিত।

হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্ট গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্পষ্ট রায় প্রদান করেছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরোকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, যদিও অন্তর্বর্তী কালীন ব্যবস্থা হিসেবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী দুটো নির্বাচন পরিচালনার পক্ষপাতী তবে তারা রায় দিয়েছে প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা যাবে না, এতে হাইকোর্টের উপরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পাবে।

উচ্চ আদালত মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাইছে, নারীবাদীদের অভিমত যেসব রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক সেখানে মানবাধিকার মূলত পুরুষাধিকারের প্রতিষ্ঠা, পুরুষের অধিকার নিশ্চিত করাটাই সেখানে মানবাধিকার নিশ্চিত করবার প্রক্রিয়া বিবেচিত হয়। এবং ফতোয়া বিষয়ক ফতোয়াতে সুপ্রীম কোর্টের ছয় জন বিজ্ঞ বিচারপতি সে আশংকাকেই সত্য প্রমাণিত করলেন।

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা যুগান্তকারী রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করলেও সংশোধিত সংবিধান সকল সংশোধনীকে আমলে আনবে না। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি নিজেদের ভেতরে আলোচনা পর্যালোচনা শেষ করে দেশের সুশীল সমাজ ও প্রাক্তন বিচারপতিদের মতামত গ্রহন করেছিলো, সেখানে আমার মতামত প্রদানের অধিকার নেই, এমন কি সাধারণ নাগরিক মতামত যাচাইয়ের কোনো প্রক্রিয়াও তারা গ্রহন করে নি। দেশের সুশীল সমাজ এবং হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিজ্ঞ মতামতই সকল সাধারণের মত বিবেচিত হবে কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিজীবীগণ সমাজবিচ্ছিন্ন এলিট এবং তাদের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা কিংবা তাদের সাথে জনগণের রাজনৈতিক চেতনার সীমিত পরিচয় বিদ্যমান। তারা প্রকৃতার্থে কি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।

সকল মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আছে, প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব স্বাধীন মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং হাইকোর্ট সে অধিকার সমুন্নত রাখবার পক্ষপাতি, কিন্তু রাজনৈ্তিক দলের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা না থাকলেও এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা প্রদান করতে অ্নাগ্রহী উচ্চ আদালত।

যেভাবে উচ্চ আদালত ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক অবস্থানকে পূনর্ব্যক্ত করছে তাতে হাইকোর্টের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে যদি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত হয় এবং সেটা যদি কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয় হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো নির্দেশনা কিংবা রায় প্রদান করবে না।

ফতোয়া বিষয়ক সাফল্যের শেষে পরবর্তী সংবিধান সংশোধনীতেও স্পর্শকাতর ধর্মীয় সংশোধনীগুলো অগ্রাহ্য করা হবে, অধিকাংশ সম্পাদকই রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিপক্ষে মত প্রদান করলেও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকের ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে বজায় রাখবার সিদ্ধান্তটিকেই সম্মান করবে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান তাদের সে সিদ্ধান্ত গ্রহনেই বাধ্য করবে। একই সাথে সাম্ভাব্য জনরোষের ভয়ে তারা সংবিধানের শীর্ষ থেকে বিসমিল্লাহি্র রহমানুর রহিম তুলে নিবেন না।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অপরিপক্কতার দায় চুকাবে দেশের ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষেরা, তাদের এভাবে কাগজে কলমে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকত্ব প্রদানের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা মত প্রকাশ করলে তাদের উপরে নীপিড়ণের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে রাষ্ট্র।

প্রস্তাবিত নারী নীতি বিষয়ে সরকারে সমঝোতামূলক মানসিকতা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করেছে, তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ কিংবা নীতিমালার বিরোধী না হওয়া সত্ত্বেও এই নারী নীতির বিরোধিতা করে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহন করছে, এর বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রচারণা অব্যহত রেখেছে, এবং ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বদলে বাংলাদেশ ক্রমশই বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29380070 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29380070 2011-05-13 00:11:25
রাষ্ট্রধর্ম বিষয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটির সাথে বিশিষ্ট জনদের আলাপচারিতা
আদালতের রায়ে পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে সুপ্রীম কোর্ট সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করেছিলো, আদালতের রায়ে শুধুমাত্র বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সুপারিশ ছিলো না বরং আরও বিস্তারিত সংশোধনের সুপারিশ তারা করেছিলেন, এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি তাদের আলোচনায় এবং সুপারিশগুলোতে আদালতের নির্দেশনা কতটুকু মেনে চলেছেন তা এখনও বলা কঠিন কিন্তু তড়িঘরি করে ছাপানো সংশোধিত সংবিধানে াদালতের নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটে নি।

নিজেদের ভেতরে পর্যালোচনা শেষে সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে নগরিক সংলাপের আহবান করেন, তাদের সাথে দেশের বিশিষ্ট জনেরা সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন, প্রথমত তারা আলোচনা করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন বিচারপতিদের সাথে, সে সংলাপে প্রাক্তন বিচারপতিগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পদে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করবার বিদ্যমান সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুপারিশ করেন, তাদের ভাষ্যে এই বিদ্যমান সিদ্ধান্ত আদালতের উপরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করে।

তারা সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের সাংবিধানিক স্বীকৃতিকে নিন্দনীয় বলেছিলেন। ধররনিরপেক্ষ কোনো দেশে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অন্য সকল ধর্মকে হীন প্রমাণিত করে , তাছাড়া এটার কোনো প্রয়োজনও নেই।

এই আলোচনার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন "রাষ্ট্রের কোন ধর্ম নেই। জনগণের ধর্মই রাষ্ট্রের ধর্ম। তাই এ বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করার কোন মানে হয় না।"

" সংলাপ করে শুধু মতামত নিলেই হবে না, সবার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংবিধান সংশোধন করতে চাইলে অবশ্যই সবার মতামত নেয়া উচিত। সংবিধানের মালিক জনগণ। মতের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। তারপরও সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা অপরিহার্য। এজন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং সংবিধান কমিশন গঠন করা যেতে পারে। "

পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি সম্পাদকদের ডেকেছিলেন, সেখানেও মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং রাষ্ট্রধর্ম প্রসঙ্গেই আলোচনা হয়েছে, অধিকাংশ সাংবাদিক রাষ্ট্রধর্মের বিরোধিতা করলেও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলামকে বহাল রাখবার পরামর্শ প্রদান করেন।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থাহীনতা এবং আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পরমতসহিষ্ণুতার প্রতি গাঢ় সংশয়জ্ঞাপক তত্ত্বাবধায়ক সরোকার ব্যবস্থার প্রশ্নে অবশ্য সম্পাদকদের অবস্থান অভিন্ন ছিলো, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পক্ষে সুপারিশ করেছেন, আমরা যে গণতন্ত্রের উপযুক্ত নই এই ধারণা প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাদের ভেতরে প্রবল থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে ধীরে ধীরে সম্পাদকদের ভেতরেও এই ধারণা সংক্রামিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নেই, সংবিধানের ৭০ তম অনুচ্ছেদ বিষয়ে সাবধানী মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ, বিশেষ কিছু সংশোধনী সমেত অনেকেই ৭০ অনুচ্ছেদ বজায় রাখবার পক্ষপাতি, সাংসদদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা দলীয় সিদ্ধান্ত কিংবা দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের মতামত প্রদানের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা ৭০ তম অনুচ্ছেদ, বাকস্বাধীনতা, মতের স্বাধীনতার সাথে বিরুদ্ধমত প্রকাশের জন্য শিরচ্ছেদের হুমকি দিয়ে রাখা কোনো অনুচ্ছেদ কিভাবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারে, সে ভাবনা অবশ্য সংসদীয় কমিটির ভেতরেও আছে, তারাও বিশেষ কিছু সংশোধনের পক্ষপাতি।

সাধারণ মানুষের জন্য এই সংশোধিত সংবিধানে নতুন কি আছে, তাদের নিজস্ব বিশেষ সুবিধা কি নিশ্চিত করবে এই সংবিধান। তারা কি রাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যুনতম মানবিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন , রাষ্ট্র কি তাদের অন্ন, বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারবে, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ন্যুনতম সম্মান নিয়ে বেচে থাকাটা তাদের নাগরিক অধিকার এ বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কি রাষ্ট্র পরিপূর্ণ ভাবে উল্লেখ করবে সংবিধান না কি অস্পষ্ট ভাবে জানাবে রাষ্ট্র বিশ্বাস করে সবারই সম্মানজনক বেঁচে থাকবার অধিকার আছে।

রাষ্ট্রের ধর্মচিহ্ন নিয়ে সোচ্চার সম্পাদকেরা এ বিষয়ে আলোকপাত করেন নি এটা তেম্ন অবাক করা বিষয় নয়, তারা অনেক বিষয়েই নিজের স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করতে আগ্রহী নন। তারা অনেক অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করতে পারতেন, অহেতুক অপ্রাসঙ্গিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারতেন, তারা তা তুলেন নি, তারা সম্পূর্ণ অকারণে শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উপরে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারতেন, কিন্তু তারা তা করেন নি।

রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গে তাদের অভিমত আমার কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হয়েছে, কিন্তু সেটা করতে না পারলেও সংবিধান সংশোধন কমিটি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেন, তারা সকল ধর্মকেই রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষনার মতো বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত সুপারিশ করতে পারেন, সকল ধর্মের সমান মর্যাদা এবং তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি একক ভাবে ইসলামের প্রতি বর্তমান আনুগত্যকে দমন করতে সহায়তা করবে।

আমাদের রাষ্ট্রীয় কার্য নির্বাহ করতে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রয়োজন নেই, কিন্তু এ বিষয়ে সাম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার অন্য অনেক পরিবর্তনের সুপারিশ ধর্ম প্রসঙ্গে কোনো স্পষ্ট অবস্থান গ্রহন করবে না।

আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই, সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত সম্ভবত এটাই, তবে সংবিধানে কি কি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে সেটা জানবার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ২২শে মে পর্যন্ত , সেদিন সংসদ অধিবেশন শুরু হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29377813 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29377813 2011-05-09 00:06:17
হেনার ধর্ষন এবং ইস্লামী বিধান
সামাজিক মানুষের একত্রবাসের শর্ত মানুষের নিজস্ব প্রয়োজন। প্রয়োজন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, শাররীক নিরাপত্তা এবং এইসব প্রয়োজন অনুভুত হয়েছিলো বলেই একত্রবাসের কোনো একটা সময়ে গোত্রভিত্তিক অনুশাসন প্রণীত হয়েছে। অবশ্যই সেখানে অনেকগুলো শর্ত বিদ্যমান ছিলো, বৈধতা এবং অবৈধতার স্পষ্ট সংজ্ঞা ছিলো, এবং যেকোনো সামাজিক শর্ত বরখেলাপ হয়ে যাওয়ার মতো সেখানেও অসংখ্য ফাঁক-ফোকর ছিলো।

সামাজিক অনুশাসন কিংবা সম্মিলিত নৈতিকতা কোনো সময়ই ততটা কঠোর ছিলো না, এমন কি এখনও তেমন নেই, মোটা দাগের বিধি-নিষেধের উপস্থিতি সব সময়ই ছিলো, তবে সেসবের প্রয়োগে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সামাজিক অবস্থান সবসময়ই প্রভাবকের ভুমিকা রাখতো। একই অপরাধে কঠোর এবং কোমল শাস্তির বিধান নতুন নয়।

একই অপরাধে কারো গর্দান কাটা পড়লেও সেই একই অপরাধ করে অন্যের জন্য বরাদ্দ ছিলো শুধু ভৎর্সনা। আইন কোনো সময়ই সবার জন্য সমান ছিলো না, এবং এখনও আইনের প্রয়োগ হয় আদিম নিয়মেই।

মোটা দাগের অপরাধ বিবেচিত হয়েছে প্রাণহরণ কিংবা বঞ্চনা। গোত্রের নারীর প্রতি প্রভুত্বের ভঙ্গিটা সব সময়ই ছিলো। নারী গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতো তার প্রজননসক্ষমতা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় যোদ্ধা কিংবা কর্মী সরবরাহের একমাত্র যন্ত্র হিসেবে। এবং সে কারণেই যৌনতার অসংখ্য বিধান উপস্থিত ধর্মে।

বৈধ যৌনসম্পর্ক, যা বর্তমানের সময়ে আমরা স্বীকার করে নিয়েছি, বৈশ্বিক ভাবে স্বীকৃত বৈধ সম্পর্কগুলো সামাজিক যোগাযোগের অন্তর্গত সকল দেশেই প্রায় একই রকমের। বাকি যা থাকে, অবৈধ যৌনসম্পর্কসম্পর্কিত বিধান, সেসব নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নারীকে একটা অবস্থানেই রেখেছে ধর্ম। তার প্রজননসক্ষমতার বাইরে তেমন ভাবে নারী বিবেচিত হয় নি কোথাও।

নারীর 'শাররীক শুদ্ধতা' কিংবা আমাদের সমাজের অতিপ্রচলিত ' সতীত্ব' এর ধারণাটুকু কিছুটা সামাজিক সংস্কার কিছুটা ধর্মীয় সংস্কার এবং এই সংস্কারের উৎস পুরুষাশাসিত সমাজ ব্যবস্থা। নারী দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও তার যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক এবং সামাজিক স্বীকৃতি পায় নি কখনও।

ধর্মশাসিত কিংবা ধর্মীয় অনুশাসনশাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীকে বিভিন্ন উৎপাদনে সরাসরি নিযুক্ত দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত নারীর শ্রমোৎপাদিত সম্পদের দাবিদার ছিলো পুরুষ। নারীর স্বাধীন সত্ত্বা কিংবা স্বাধীন ইচ্ছার অনুপস্থিতিতে নারীকে রমন সন্তানউৎপাদন এবং মাংনা শ্রমের উপাদানের বাইরে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ভাববার অবকাশ তৈরি হয় নি।

উনবিংশ শতাব্দীতে রাষ্ট্রে বিশেষত পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোতে ধর্মীয় অনুশাসনের কঠোরতা কমে যাওয়ায় নারীদের সামাজিক উপস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। যন্ত্রযুগে নারী শ্রমিক হয়ে উঠবার পর নারীর শ্রমের মূল্য নির্ধারিত হলো, অর্থনৈতিক ক্ষমতায় নারীর অংশগ্রহন নারীর সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা সীমিত পর্যায়ে হলেও বাড়িয়ে দিলো।

সময়ের সাথে রাষ্ট্র এবং নীতি বদলেছে, অতীতে অনুপস্থিত অনেক ধারণাই বদলেছে কিন্তু ধর্মে নারীর অবস্থান বদলায় নি, নারীর শুদ্ধতা এবং যৌনবিশুদ্ধতাবাদী ধারণার বদল হয় নি। ধর্ম এখনও নারীকে তার অতীত পাপের দায় থেকে মুক্তি প্রদান করে নি।

পশ্চিমা রাষ্ট্র যখন নারীর শরীরে নারীর অধিকার মেনে নিয়েছে দ্বিধাহীন ভাবে ধর্ম সে অধিকার প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে কিংবা বলা যায় ধর্ম যুগের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। নারীর শরীরে নারীর অধিকারের স্বীকৃতি দিতে গিয়ে যেকোনো শাররীক সম্পর্ক স্থাপনের আগে নারীর সম্মতির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে রাষ্ট্রীয় আইন, নারীর শরীরে নারীর অসম্মতিতে যেকোনো হস্তক্ষেপ শাররীক আগ্রাসন চিহ্নিত হচ্ছে যখন সেসময় ধর্ম কি ধর্ষণকে তার বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে

বাংলাদেশে শহরের সামান্য কয়েকজন শিক্ষিত মানুষ এ ধারণাতে অভ্যস্ত হলেও সামাজিক ভাবে এ ধারণা এখনও গ্রহনযোগ্যতা পায় নি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে এখনও তেমনভাবে রাষ্ট্র এবং শিক্ষার উপস্থিতি নেই, সেখানে নারীর জীবন সামাজিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে পরিচালিত হয়।

কিশোরী হেনা ধর্ষিত হয়েছিলো, তার বাসার সামনে তারই পরিচিত মানুষের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিলো হেনা, পরবর্তীতে গ্রাম্য ইমাম তাকে জেনার দায়ে অভিযুক্ত করে এবং এর শাস্তিস্বরূপ তাকে ভেজা গামছা দিয়ে আঘাত করা হয়, হেনা মৃত্যুবরণ করে,

নারী ছলনাময়ী এবং তার শরীর দিয়ে পুরুষকে প্রলুব্ধ কওরে, তাদের বিপথগামী করে এবং সুযোগ পেলে ঘর ভাঙতে উস্কানী দেয়, 'জেনা' অপরাধ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ একারণেই, এখানে নারীকে যৌনআগ্রাসী কল্পনা করা হয়েছে, পুরুষের যৌনকল্পনা উস্কে দিতে পারা নারীরা পুরুষকে প্রলুব্ধ করে তারা নির্ভেজাল সামাজিক ও পারিবারিক জীবন ধ্বংস করছে, আমরা অপরাধী হেনার বয়ান জানতে পারি না, পরবর্তীতে হাসপাতালে হেনার মৃত্যু এবং সংবাদপত্রে এটার ব্যপক প্রচারণায় আমরা জানতে পারি দীর্ঘ দিন ধরেই এই অপরাধের পশ্চাতপট নির্মিত হচ্ছিলো,হাইকোর্ট এইসব ফতোয়ার বিরুদ্ধে তার অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছে এই ঘটনায়। পূর্বে ফতোয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল হয়েছে, সেটার শুনানী চলছে বর্তমানে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাদের মনোনীত পাঁচ জন আলেম পাঠিয়েছেন শুনানীতে, যারা ফতোয়া এবং ইসলামী বিধি বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবেন, তাদের একজন যা বলেছেন তার সারাংশ হলো ফতোয়া নিষিদ্ধ হলে ইসলাম বিপন্ন হয়ে যাবে, ফতোয়া কোনো আদেশ জারী নয় বরং এটা তথ্য জানানো, ফতোয়ার সারমর্ম জেনে যারা এই অপরাধের বিচার করছে তারা প্রকৃত অপরাধী।

তারা এই ফতোয়া প্রদানকেও ইসলামসম্মত নয় বলছেন, কিন্তু সে সচেতনতা কি আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের আছে, তারা মসজিদের ইমাম, শুক্রবারের জামাতের সামণে দাঁড়িয়ে থাকা বুজুর্গকে ইসলামী আইনের দিকপাল ভাবে।

এইসব গ্রাম্য ইমাম কিংব এদের পরিবর্তে যারা ধর্মবিধান এবং যে মোতাবেক শাস্তির বন্দোবস্ত করে তারা ' জেনা' এবং 'ধর্ষণ' আলাদা করতে পারেন না। ইসলাম ধর্মমতে ধর্ষণের কোনো শাস্তি নেই এটা হয়তো তারা এখনও জানেন না। ধর্ষণ ইসলাম ধর্মমতে কোনো অপরাধ নয় , সুতরাং পাত্র পাত্রী অবিবাহিত হলে তাদের বিয়ে করিয়ে দেওয়ার " ধর্মীয় বিধান", তাদের একশ বার বেত্রাঘাত করবার বিধান, যদি বিবাহিত হয় তাহলে তাদের পাথর ছুড়ে মেরে ফেলবার বিধানটি কোন ক্ষেত্রে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে এটা নিয়ে ভাববার অবকাশ আছে।

একজন হেনার মৃত্যু এবং হাইকোর্টের সচেতনতার বাইরে এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নারী নিষ্পেষণের জলন্ত উদাহরণ, ক্ষমতা এবং অন্ধত্বের , কিভাবে নারীদের মানসিকতায় পুরুষতান্ত্রিকতা গেড়ে বসেছে সেসব বৃত্তান্ত উঠে আসে হেনার মৃত্যুর ঘটনায়।

ধর্ম শুভ অনুগামী, আমাদের সুন্দর এবং সততার পথ শেখায়, ইতিহাস আমাদের শেখায় অতীতের ভুল শুদ্ধ করে সুন্দর আগামীর দিকে এগিয়ে যেতে, ইতিহাসলগ্নতা কিংবা ঐতিহ্য অনুসরণ কখনই অতীতের পূনরাবৃত্তি নয়, বরং সেখানে নতুন ভাবনাকে স্থান দিতে হবে, যারা এখন ধর্ম নিয়ে ভাবছেন তাদেরও বুঝতে হবে সময় এসেছে ধর্মের অনেক বিধিবিধানকে নতুন করে ব্যাখ্যা করতে হবে।

সরকার ফতোয়া প্রদানের অধিকার সীমিত করতে চাইছে, সুপ্রীমকোর্টের বার এসোসিয়েশনের সভাপতিও কোন কোন ক্ষেত্রে ফতোয়া দেওয়া বৈধ এ বিষয়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা চান । সরকার অতীতে ঘোষণা করেছে তারা ফতোয়া বিরোধী নন বরং যোগ্য ব্যক্তি যেনো ফতোয়া দিতে পারেন এটা তারা নিশ্চিত করতে চান।

কারা ফতোয়া দেওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন, প্রশ্নটা সামনে আসলে এর উত্তরে আমরা জানবো যাদের ইসলামী আইন ও জীবনবিধান সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান আছে তারাই ফতোয়া দেওয়ার উপযুক্ত, একজন ব্যক্তি ইসলামী জীবনবিধান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেই কি তিনি পরিস্থিতি বুঝে কোনো নতুন নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবেন, হেনার ক্ষেত্রে কি এমন কোনো সম্ভবনা ছিলো।

অতীতের দৃষ্টান্তের আক্ষরিক অনুগমন করে তিনি হয়তো অপরাধীকে হেনাকে আর্থিক ক্ষতিপুরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারতেন, অতীতে জোরপূর্বক সঙ্গমের প্রতিবিধান হিসেবে ইমাম মা'লিকী এ নির্দেশনা দিয়েছেন।তিনি বলেছেন " যদি কোনো নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করে এবং অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে তবে অভিযুক্ত তাকে তার মোহরের স্মপরিমাণ অর্থ প্রদান করবেন ক্ষতিপুরণ হিসেব। হাদিসে সঙ্গমে বাধ্য করবার বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত খুঁজে পাবেন তিনি। কিন্তু কোরানে সেটা খুঁজে পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শাররীক সম্পর্ককে আমলে এনেছে কোরাণ আর কোরানে নারীর অধিকার বিষয়ে সীমিত যতটুকু বর্ণিত আছে সেখানে কোথাও নারীর শরীরে নারীর অধিকারের স্বীকৃতি নেই।

ফিকহ অধ্যায়ন করে তিনি হয়তো আর্থিক ক্ষতিপুরণ দেওয়ার বাইরে নতুন কিছু খুজে পাবেন না, বরং তিনি আরও একটু অধ্যায়ন করলে জানবেন আর্থিক ক্ষতিপুরণ প্রদান এবং জোরপূর্বক সঙ্গমলিপ্ত হওয়ার শাস্তিআদতে অভিযুক্তের উপরে জুলুম হয়ে যায়, তাকে একই অপরাধে দুইবার শাস্তি পেতে হচ্ছে।
ইসলামী বিধানগুলো সম্পর্কে আমাদের উচ্চতর শিক্ষালয়গুলোতে যা পড়ানো হয় সেসব লেখা হয়েছে মধ্যযুগে, মানে পঞ্চদশ শরকের জ্ঞান দিয়ে তারা কতটুকু আধুনিক ভাবনার ধারক বাহক হবেন এ বিষয়ে সংশয় থাকলেও উচ্চতর বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের জোরে তারা কিন্তু ঠিকই ইসলামী জীবন বিধান সম্পর্কে তার পারদর্শীতা দাবী করতে পারেন।

ধর্ষণ বিষয়ে ইসলামিক আইনের দুর্বলতা হলো এখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের দায় বাদীর, বাদী যদি কারো বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন করেন তবে তাকে এর প্রমাণ দিতে হবে। চারজন সাক্ষী রেখে ধর্ষণ করবার একটা ঘটনা হাদিসে বর্ণিত আছে কিন্তু সেখানে বেশ স্পষ্ট বর্ণনা না থাকায় ওমর ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তকে অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত না হওয়ায় মুক্তি দিয়েছিলেন, যদিও তিনজন সাক্ষী নিশ্চিত ভাবেই ধর্ষণের কথা বলেছিলো।

সেক্ষেত্রে আক্রান্ত নারীর কোনো শাস্তি প্রাপ্য নয়, এ অভিমত দিয়েছেন ইবন হাজেম, যে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় এসেছে তাকে নিঃসংকোচে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতে দেওয়া উচিত, কিন্তু এক্ষেত্রে যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তাকে আদালতে হাজির করা হবে, যদি সে এই অভিযোগ অস্বীকার করে তবে ' ধর্ষিতা নারীর" বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনের দায়ে অন্যান্য আইনপ্রনেতাগণ যে শাস্তি বরাদ্দ করেছেন সেটা প্রদান করা যথার্থ হবে না।

একজন মুসলিম সদা সত্য কথা বলবেন এবং তিনি আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে নিঃসংকোচে নিজের জেনার অপরাধ স্বীকার করে নিবেন, এই ভবনার ভেতরে একটা ইউটোপিয়া থাকলেও পাঁচশ বছর আগে মনীষিরা এমনটাই ভাবতেন।

আপাতত প্রশ্ন হলো হেনা কি ইসলামী আদালতে ন্যায় বিচার পেতো
সে কি চার জন সাক্ষ্য হাজির করতে পারতো আদালতে কিংবা গ্রাম্য সালিশে, ধর্মের পুরুষতান্ত্রিকতা যেভাবে প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে এই ঘটনায় তাতে হেনাকে ধর্ষণের অভিযোগ মেনে নেওয়ার সম্ভবনা ছিলো ক্ষীণ, বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন ভিন্ন মতের কারণে এমন কি ধর্ষিত হেনা যে শাস্তি পেয়েছে সে শাস্তিই পেতো, ইসলাম তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতো না, কিন্তু শরীয়তের বিধান তাকে এভাবেই প্রকাশ্য জনসমক্ষে পিটিয়ে হত্যা করতে পারতো।

সরকার যোগ্য ব্যক্তিকে ফতোয়া এবং ইসলামী বিচারের ক্ষমতা দিয়ে হয়তো হেনার মৃত্যু এড়াতে পারতো কিন্তু তার ধর্ষণের ন্যায়বিচার করতে পারতো না, যদি ধর্ষণে ধর্ষণে হেনা কখনও গর্ভবতী হতো তাহলে হয়তো সেটাই জোরপূর্বক সঙ্গমের পরিচায়ক হতে পারতো ইসলামী মতে, কিন্তু নিজের ধর্ষণ শরীয়া মতে প্রমাণের জন্য এমন ধারাবাহিক ধর্ষণের শিকার হতে আগ্রহী কি হতো হেনা

সরোকার বিভিন্ন ধরণের শঙ্কায় কখনই ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করতে পারবে না, তাদের ভোটের হিসেব আছে, ভোটার ধর্মের প্রতি মানসিকভাবে দুর্বল ধারণা নিয়ে তারা কখনই ফতোয়াকে নিষিদ্ধ করবার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন না কিন্তু যদি ফতোয়া নিষিদ্ধ করা সম্ভব নাও হয় আমাদের উপলব্ধি করতে হবে ফতোয়া আদতে সামাজিক মানসে নির্যাতনপ্রবন পুরুষতান্ত্রিকতার উপস্থিতি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29372793 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29372793 2011-05-01 00:26:12
ট্রাফিকিং
সস্তায় শ্রম কিনে নেওয়া- একজন মানুষ যে জেনে শুনে কিংবা প্রতারিত হয়ে অন্য কোনো দেশের মাটিতে পৌঁছেছে তাকে শোষণ করা সহজ। তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাকে মেরে ফেললেও আসলে কেউ কিছু বলতে আসবে না। মেক্সিকো- আমেরিকা সীমান্তে কিছু মানুষ সারা রাত রাইফেল হাতে পাহাড়া দেয়। সেখানের এক সীমান্তবর্তী নদী ডিঙিয়ে মেক্সিকোর দরিদ্র মানুষেরা আমেরিকা ভূখন্ডে প্রবেশ করে-

তবে আইন পালনে এরা খুব সচেতন, একবার কেউ যদি এখানে আমেরিকার সীমান্তের কাঁটা তার ডিঙিয়ে ভেতরে চলে আসে তাহলে তাকে হত্যা করার উপায় নেই, তাই নদীর মাঝখানেই এইসব ভাগ্যান্বেষী মানুষদের পাখির মতো মেরে ফেলা হয়। নদী দিয়ে লাশ ভেসে চলে যায় একটা স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে।

আমাদের শ্রমিক কিংবা আমাদের যুবকেরাও একই ভাবে বিভিন্ন সীমান্ত পেরুতে চায়। ভারতের সীমান্তে নিয়মিত বিএসএফ এর গুলিতে মানুষ মরে, সীমান্তে বিডিআর শিশু আর মেয়েদের চালান আটক করে, ঢাকার হোটেলে মেয়ে শিশুর চালান আটক হয়, তবে এসবের বাইরেও ভ্রমন ভিসায় বিভিন্ন দেশে গিয়ে স্বচ্ছলতা কেনার নেশায় মরিয়া যুবকদের হারিয়ে যাওয়ার হার কমে না।

ইতালি, স্পেন, লিথুনিয়া, মরোক্কো, কেনিয়া, উরুগুয়ে, লাটভিয়া, মালোয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের উদ্যমী যুবকেরা কোথায় না ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ছুটে যাচ্ছে। এদের কতজন বৈধ বাগজ পেয়ে যাচ্ছে, আদম ব্যাপারী এদের প্রতারিত করতে পারছে কারণ এরা যেকোনো মূল্যেই প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত ডিঙিয়ে পালাতে চায়।

আমাদের দেশের বৈধ শ্রমিকেরা ঠিক একই কারণে বঞ্চিত হয়। আমাদের আন্তর্জাতিক সুনাম , আমাদের দেশ থেকে অধিকাংশ মানুষই অবৈধ ভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করতে মরিয়া। আমাদের সাথে এইসব উন্নত দেশের অভিবাসন কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা আর হেনেস্থার শিকার হচ্ছে সবুজ পাসপোর্টেধারী মানুষেরা কারণ ভাগ্যান্বেষনে মরিয়া আমাদের যুবকেরা। তারে যেকোনো উপায়েই সেখানে বসতি গড়তে তৎপর।

আমার আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এইসব যুবকেরা উন্নত দেশে গিয়া যেকোনো কাজ করতে আগ্রহী, ঘন্টা হিসেবে শ্রম বিকোতে আগ্রহী হলেও এইসব যুবকেরা দেশের মাটিতে একই কাজ করতে তেমন আগ্রহী না।

অবশ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে, এখানে অর্থনীতি মোটামুটি স্থবির, অনেক দিন ধরেই বেসরকারীকরণের ভুত, ব্যবসা সঙ্কোচন আর মূদ্রাপাচারের লোভে নতুন চাকুরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না তেমনভাবে।

আমাদের ২০ হাজার লোকের জীবিকা ধবংস করে ১০০০ মানুষেরা চাকুরির সুযোগ উন্মুক্ত হয়, পাট কল বন্ধ হয়ে যায়, এক সাথে কয়েক হাজার পরিবার পথে বসে, এবং এইসব শ্রমিককে আত্তীকরণের কোনো উদ্যোগ থাকে না সরকারের, সরকার বেসরকারীকরণ করেন নিজের দায়মুক্তির আনন্দে উন্নয়নের গল্প শোনায় আমাদের।

এইসব শ্রমিকেরা কি করবে, কোথায় নিজের শ্রম বিক্রী করবে এই বিষয়ে আদতে কোনো মাথা ব্যাথা নেই, অনেক কল কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ পড়ে আছে। অনেক বিনিয়োগকারী কল কারখানা তৈরি করে বসে আছে, এ গুলো শুরু হলেও কিছু মানুষ এখানে শ্রম বিক্রি করতে পারতো।
সমন্বিত কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তাই এইসব যুবকেরা ,যারা চুরি করতে পারে না, যারা ডাকাতি করতে পারে না, কোনো ছলচাতুরি করতে পারে না, তারা ছলনার শিকার হচ্ছে।

সরকারের সকল উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে, এইসব অভিবাসী শ্রমিকদের সকল অধিকার অর্জিত হচ্ছে কি না, তাদের কর্মক্ষেত্রে তারা কোনো রকম নির্যাতনের কিংবা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে কি না, এসব তদারকির দায়িত্ব যাদের সেইসব উচ্চমন্য সরকারী কর্মকর্তাগণ এইসব শ্রমিকদের খোঁজ খবর রাখতে অনাগ্রহী, সে কারণেই এদের নির্মম নির্ভেজাল শোষণ আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আদমব্যাপারীদের আমরা ঘৃণার চোখে দেখি না এখন, বরং এরা এইসব ভাগ্যান্বেষী শ্রমিকদের শোষণ করে নিজেদের বিত্ত বৈভব বৃদ্ধি করলেও বছরে বছরে এরাই আমাদের রেমিটেন্স আয়ে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখছে।

সাম্প্রতিক কালে মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক কিংবা গৃহপরিচারিকা পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহপরিচারিকাদের জীবনযাপন, তাদের উপরে অব্যাহত শাররীক ও যৌননিপীড়নের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে, শ্রীলঙ্কার একজন নারী শ্রমিকের দেহে পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য আচরণও করেছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেরগণ, সেখানে নারী গৃহপরিচারিকা পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তা ও বীমার বন্দোবস্ত করা হয়েছে কি না এটা কে তদারক করবে আমার জানা নেই।

লিবিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেখানেও নির্মান শ্রমিক, হাসপাতালের সেবিকা এবং অন্যান্য শ্রমঘন কাজে লিপ্ত ছিলো বাংলাদেশের অসংখ্য শ্রমিক, তাদের কেউ কেউ বেশ বড় অংকের অর্থ দিয়ে, প্রয়োজনে জমি বেচে ঋণ করে সেখানে গিয়েছে, এইসব মানুষেরা দেশে ফিরতে চায় না। এদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কোনো আনন্দের সংবাদ নয় বরং একটি পরিবারের আশা ও স্বপ্নভঙ্গের গল্প এইসব পরাজিত প্রত্যাবর্তন , মরিয়া এইসব অভিবাসী শ্রমিক জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ছে ইউরোপের ভূখণ্ডে, তারা সমুদ্রে আত্মহত্যা করছে কিন্তু তাদের পরাজিত মুখ দেখাতে চাইছে না পরিবারকে, তারা পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের কারন হতে চাইছে না।

শুধু লিবিয়ায় নয় বরং সরোকার উদ্যোগ নিয়েছে আফ্রিকার বিস্তৃত ভূখন্ডে তারা জমি ইজারা নিয়ে বাংলাদেশী কৃষকদের দিয়ে চাষাবাদ করবে, এই বিষয়ে মধ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের, এক বছর অতিক্রা্ন্ত হওয়ার পরও এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি সাধিত হয় নি।

দেশের ভূখন্ড বাড়ছে না, জনসংখ্যা বাড়ছে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এবং শিল্পায়নের হার এমন নয় যে এখানে বর্তমানে শিক্ষিত সকল ব্যক্তির কর্ম সংস্থান অতি অল্প সময়ে সম্ভবপর হবে, অপরিকল্পিত শিক্ষাবিস্তারের ফলে আমাদের যোগ্য এবং উচ্চ শিক্ষিত অধিকাংশ শ্রমিক কিংবা গ্রাজুয়েটদের আমরা কোনো ভাবেই আমাদের উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করতে পারছি না, একই সাথে আমাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের গড় বয়েস বাড়ছে,

সেসব অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এবং আমাদের অপরিকল্পিত রাষ্ট্র পরিচালনার কারণে অভিবাসনের হার বাড়ছে, এই ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত কারাগার ভেঙে পালিয়ে যেতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, মধ্যম মানের শিক্ষার্থী ব্যতীত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষেরা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে স্বেচ্ছায়, স্কিলড মাইগ্রেশন প্রকল্পের আওতায় এইসব শিক্ষিত স্বচ্ছল মানুষ দেশত্যাগ করছে, আর আনস্কিলড লেবার পাচার হচ্ছে, এরা বিদেশ যাচ্ছে কারণ দেশে এদের চাহিদা পুরণের মতো যথেষ্ট বড শ্রমবাজার নেই, এদের কায়িক শ্রম কাজে লাগানোর মতো অবকাঠামো বিকশিত হচ্ছে না, সুতরাং অদক্ষ, অল্প দক্ষ এইসব শ্রমিকেরা বিদেশে ঝুকিপূর্ণ শ্রমঘন কাজে যোগদান করতেই বিদেশে চলে যাচ্ছে, আর এদের একাংশ প্রতারিত হচ্ছে ভয়ংকর ভাবে, এইসব ভাগ্যাহত মানুষদের বেচে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে, তাদের হত্যা করে এদের হৃদপিন্ড, কিডনী, লিভার, কর্নিয়া, এবং অন্যান্য প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রত্যঙ্গ কেটে নিয়ে তাদের অশণাক্ত লাশ হিসেবে ফেলে দেওয়া হচ্ছে,

যারা বিমানে চেপে পরিবারের ভাগ্য বদলাতে বিদেশে যাচ্ছেন তাদের কতজন এমন ভাবে মাঝপথে হারিয়ে যাচ্ছেন সেটার পরিসংখ্যান আমাদের অজানা, মালোয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে এভাবে কতজন প্রতারিত মানুষ ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আমরা জানি না।

সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু কতজন এইভাবে সচেতন হয়ে নিরাপদ অভিবাসী হতে পারছেন , হতাশা ব্যর্থতাবোধ, পরিবারের বোঝা হয়ে অপমানিত হওয়ার বদলে মৃত্যু শ্রেয় এমন মরিয়া মানুষদের অধিকাংশই সরকারী সাবধানতার বানী উপেক্ষা করেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াই করছেন, আমরা আশা করবো তারা প্রত্যেকেই নিজেদের ও পরিবারের স্বপ্ন পুরণে স্বার্থক হয়েছেন, নিরাপদ অভিবাসনের জন্য আমাদের সচেতন প্রয়াস অব্যাহত থাকুক, ট্রাফিকিং রোধে আন্তরিক হয়ে উঠুক সরকার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29371385 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29371385 2011-04-28 22:47:31
বিবি খাদিজা এবং বর্তমানের নারী নীতি
প্রস্তাবিত নারী নীতির ২৫ তম ধারায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে দুইটি অধিকার প্রদানের অঙ্গীকার করেছে সরকার, ব্যবসা ঋণ, উপার্জন এবং অন্য যেকোনো অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সম্পদ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রনের অধিকার থাকবে নারীর। এর বাইরে অসংখ্য বক্তব্য দেওয়া হলেও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে নারী নীতিতে বক্তব্য এটুকুই, যদি নারী উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো সম্পদ প্রাপ্ত হয় তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রনের সম্পূর্ণ অধিকার নারীর। এই বিধানে কুরআন ও সুন্নাহ কিভাবে লঙ্ঘিত হলো সেটা সম্ভবত ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী শাসনতন্ত্রের দাবী জানানো আমিনী জানেন না।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র সকল নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা প্রদান করে এবং স্বীয় ধর্মীয় বিধান অনুসারে জীবনযাপনের অধিকার প্রদান করে, সে কারণেই বাংলাদেশের মুসলীমগন মুসলিম পারিবারিক আইনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, মুসলিম উত্তরাধিকার আইন মেনে তারা সম্পদে তাদের প্রাপ্য অধিকার অর্জন করেন, সে একই কারণেই রাষ্ট্র তার নীতি কোনো ধর্মবিশ্বাসের বিপরীতে গিয়ে চাপিয়ে দিতে পারে না কিংবা এমন বৈপ্লবিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে নি এখনও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র।

বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক এখনও চিন্তার সে স্তরে পৌঁছাতে পারে নি কিংবা রাষ্ট্র সেভাবে নাগরিকদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারে নি যাতে সে এখনই নারীর সমান অধিকারের দাবীতে পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপন করতে পারবে। বাংলাদেশ এখনও সেই ক্ষেত্র তৈরির সংগ্রাম করছে, প্রতি চার বছর পর পর তাদের অগ্রগতির প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে জাতিসঙ্ঘে


উত্তরাধিকারীদের ভেতরে সম্পত্তিবিষয়ক বিবাদ নিরসনের পন্থা হিসেবে নিজের ওয়াসিয়ত নামা লিপিবদ্ধ করবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে হাদিসে,
“It is not permissible for any Muslim who has something to will to stay for two nights without having his last will and testament written and kept ready with him."” [Narrated by al-Bukhari,al-
Wasaayaa2533].

তবে উত্তরাধিকারীদের ভেতরে স্বীয় সম্পদ বিলিবন্টনের ক্ষেত্রে বিশ্বাসী মুসলীমগণদের সুরা নিসায় বর্ণিত নিয়ম মেনেচলবার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে নির্দেশনায় বলা হয়েছে প্রতিটি পুরুষ উত্তরাধিকারী নারীর দ্বিগুন সম্পদ পাবে।

তৎকালীন সমাজের বিদ্যমান রীতি নীতির তুলনায় ইসলামিক বিধানের উৎকর্ষ নিশ্চিত হয়েছিলো কুরআনের নারী বিষয়ক বিভিন্ন আয়াতে, সেখানে সম্পদে নারীর উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিলো, একই সাথে ধর্মীয় বিধানে বিবাহযোগ্য যেকোনো পুরুষের সাথে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এবং যৌক্তিক কারণে উপযুক্ত জরিমাণা দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার লাভের বিষয়টাও নিশ্চিত করা হয়েছিলো।

সে সময়ের সামাজিক পরিস্থিতিতে কোনো নির্ধারিত উত্তরাধিকার আইনের অনুপস্থিতিতে সম্পদে কারো অধিকারই নিশ্চিত ছিলো না, এই যাদৃচ্ছিক ব্যবস্থায় উদ্ভুত বিবাদ ও সংঘাত নিরসনে ওসিয়ত নামা লিপিবদ্ধ করা এবং সেই ওসিয়তনামা লিপিবদ্ধ করবার সময় ইসলামের বিধান মেনে চলবার বাধ্যবাধকতা সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছিলো।

প্রাক ইসলামী যুগে ইসলামী উত্তরাধিকার আইন প্রচলিত ছিলো না বলেই কোনো রকম কর্তন ছাড়াই, "কোনো কোনো সুত্র" অনুসারে পিতার সম্পূর্ণ সম্পদের এবং "অন্য সুত্রানুসারে" স্বামীর সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন বিবি খাদিজা। খাদিজা মুহাম্মদকে তার ব্যবসা তদারকির কাজে নিয়োজিত করবার সময় তিনি বিধবা ছিলেন না কি তিনি কুমারী ছিলেন, তার অঢেল বিত্তের উৎস তার পিতা না কি তার মৃত স্বামী এই বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যদি প্রাক ইসলামী সমাজে এমন ইসলামী উত্তরাধিকার বিধান থাকতো তবে বিবি খাদিজা এত সম্পদের উত্তরাধিকারী হতে পারতেন না। এই অর্থনৈতিক সম্পদ মুহাম্মদকে যতটুকু মত ও আদর্শ প্রচারের স্বাধীনতা দিয়েছিলো ততটা সম্ভব হতো না যদি ইসলামী বিধান মেনে দুই তৃতীয়াংশের অধিক সম্পদ খাদিজা তার অন্যান্য পুরুষ আত্মীয়দের প্রদান করতে বাধ্য হতেন।

রাষ্ট্র তার নিজস্ব কেতায় নারীকে পুরুষের সমান দায় ও দায়িত্ব প্রদান করেছে, যেকোনো রাষ্ট্রীয় চুক্তিতে নারী এবং পুরুষ একই সমান বিবেচিত হয়, কিন্তু ধর্মীয় বিধানমতে পরিচালিত বিষয়াদিতে নারীর সমতা অর্জিত হয় নি। একজন নারী একক ভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন না, একক নারীর সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য নয় বিবাহ কিংবা অন্যান্য চুক্তিতে একজন পুরুষ দুইজন নারির সমান, এই ব্যতিচার রাষ্ট্র প্রবর্তিত আইনে নেই।

নারী কোন যুক্তিতে হীন এ বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই কিন্তু এটা ধার্মিক মানুষের অন্ধ বিশ্বাস এবং সে কারণে যৌননীপিড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধেও নারী কিংবা নারীরা নিজেদের উপরে নির্যাতনের বিচার চাইতে গেলেও ধর্মীয় বিধানানুসারে তাদের একক সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য হতে পারবে না , নির্জনে ধর্ষিত কিংবা যৌননির্যাতিত নারী কখনই ধর্মীয় বিধান মেনে তার উপরে নির্যাতনকারী পুরুষের শাস্তি দাবি করতে পারবেন না, কিন্তু রাষ্ট্র একই সাথে নারীর যৌনসুরক্ষা ও শাররীক নিরাপত্তা প্রদানের অঙ্গীকার করেছে।

নারীর অর্ধেক মানুষ নয় পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো যথেষ্ঠ আধুনিক হয়ে না উঠতে পারাটা আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, ধর্মিয় বিধান যুগের সাথে বদলাবে এবং রাষ্ট্র যখন নারীর সম্পদের উপরে তার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে তখন নারী তার কন্যা সন্তানকে স্বীয় সম্পদের সম্পূর্ণ অধিকার প্রদান করলে রাষ্ট্রের যেকোনো আদালতই এই ওয়াসিয়ত নামা মেনে নিতে আইনত বাধ্য আমিনী কিংবা মুফতি কোনো ব্যক্তি যদি এমন নির্দেশনার বিপক্ষে গিয়ে বুকে গলায় তাবিজ কিংবা কোরান বেধে আন্দোলনে নামেন তাদের প্রতিহত করে স্বীয় নীতিতে অটল থাকা রাষ্ট্রের কর্তব্য, ধর্মীয় অস্থিরতার আশংকায় নিজের নীতির সাথে ক্রমাগত আপোষ রাষ্ট্রকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রচার ও প্রসারকারী রাজনীতিবিদদের কাছে জিম্মি করে রাখবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29370741 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29370741 2011-04-28 00:43:52
তারা কি হিজরত করবেন
যেকোনো ব্যক্তিকে কোনো ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ করতে বাধ্য করা, তার ধর্ম পালন এবং ধর্ম না পালন করবার অধিকার কোনো ধর্মীয় অনুশাসনের বাধ্যবাধকতায় যখন আক্রান্ত হয়, যখন অতিধার্মিক কিংবা ধর্মোন্মত্ত কেউ তাকে তার অনিচ্ছায় কোনো ধর্মীয় বিধান পালনে বাধ্য করে কিংবা গোষ্টীবদ্ধ হয়ে তার ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে সেটাকে যে বিবেচনায় নিন্দনীয় বলা যায়, সেই একই রকম ভাবে রাষ্ট্রীয় আইনে কারো ধর্মপালনের স্বাধীনতাহরণ নিন্দনীয়।

রাষ্ট্র নিজের প্রয়োজন আইন প্রণয়ন করে, ফ্রান্সের সাংসদেরা তাদের আইন প্রণোয়নের পেছনেও যুক্তি প্রদান করেছেন, সেসব যুক্তি অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গ্রহন করেছেন এবং হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ফ্রান্সের আদালত যদি অভিযুক্তাদের যুক্তি মেনে নিয়ে এই আইনের বিরোধিতা করেন কিংবা যদি ব্যক্তিস্বাধীনতাকে রাষ্ট্রের কল্পিত নিরাপত্তাহীনতার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তাহলে এ আইন বাতিল হতে পারে।

অমানবিক আখ্যা দিয়ে কিংবা অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে মানুষের ধর্মীয় আবেগ প্রশমিত করা যায় না। মানুষ সম্পূর্ণ যুক্তিহীন ভাবেই ধর্মের কাছে নিজেকে সমর্পন করে, তাদের আচরণের যৌক্তিকতা কিংবা অযৌক্তিকতা তাদের কাছে কখনই মুখ্য নয়, ধর্মীয় বিধান ও অনুশাসন অক্ষরে অক্ষরে মেনে শুদ্ধ এবং স্রষ্টানিবেদিত জীবনযাপনের আকাঙ্খা তাদের কাছে মুখ্য। পার্থিব প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির তুলনায় তাদের ইশ্বরের সন্তুষ্টি তাদের কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে যেকোনো ব্যক্তির ধর্মপালনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা কিংবা তাদের ধররমীয় স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো রাষ্ট্রীয় বিধান গ্রহনের আগে এ বিধান যে ধর্ম নিরপেক্ষতার ভুল ব্যাখ্যা হিসেবে গৃহীত হতে পারে এ সম্ভবনাটুকু যাচাই করে দেখবার প্রয়োজনীয়তা ছিলো।

অনেকে প্রত্যক্ষ সংঘাতের পথ গ্রহন করবে, হয়তো অন্তর্জালে ইতমধ্যেই এমন অনেক গ্রুপ তৈরী হয়েছে, যাদের প্রতিবাদের লক্ষ্য হবে ফ্রান্সে গিয়ে হিজাব পরিধান করা। এরা হয়তো অন্য কোনো দেশের নাগরিক, ফ্রান্সের নাগরিকের জন্য অবশ্যপালনীয় বিধানগুলো যারা ফ্রান্সের নাগরিক নয় তাদের জন্য কতটুকু প্রযোজ্য এইসব আইনী জটিলতাও সেখানে দেখা দিবে অচিরেই।

রাষ্ট্রীয় বিধানকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করা কিংবা এর প্রতিবাদ জারি রাখবার সাথে সাথে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত বিধানকে মান্য করে চলাও এক ধরণের নাগরিক কর্তব্য, ফ্রান্সের হিজাবধারীনিদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান এবং রাষ্ট্রীয় বিধান একই সাথে মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না।

রাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক বিচারের রায়ে রাষ্ট্রীয় বিধানকে অবশ্যমান্য ঘোষণা করে তাহলে এইসব ধর্মপ্রাণ নাগরিকের কর্তব্য কি হবে,

যদি তারা মনে করে এমন ধর্মবিদ্বেষী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব তাদের আদর্শের প্রতি অবমাননাকর, তারা অন্য কোনো দেশে বসতি স্থাপন করতে পারে, যেসব দেশে এখনও হিজাব পরিধানে কোনো আইনী বাধা নেই, সেসব রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহন করতে পারে তারা, ধর্মকে জলাঞ্জলি দিয়ে উন্নত বিশ্বের নাগরিকত্ব ধরে রাখবার ভেতরে এক ধরণের পার্থিব উন্নত জীবনযাপনের লালসা বিদ্যমান,

ফ্রান্সের ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের সামনে দুটো পথই খোলা, তারা রাষ্ট্রের এই অন্যায্য বিধানের বিরোধিতা করতে পারেন, তারা তাদের ধর্মপালনের অধিকারকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন এবং তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে অন্য কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহন করতে পারেন যেখানে তার ধর্মপালনের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হবে না।

তারা অদুর ভবিষ্যতে কোন পন্থা অবলম্বন করবেন আমি জানি না, তবে যুক্তির সাথে আবেগের কোনো লড়াই চলে না । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29366242 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29366242 2011-04-20 19:43:24
কতৃপক্ষের কাছে আবেদন- অনুগ্রহ করে যদি এটা করতেন
আমার নিজস্ব বিশ্বাস, নিজস্ব উপলব্ধি এবং বক্তব্য হয়তো কাউকে কাউকে আহত করে কোনো না কোনো সময়, তবে একই সাথে এটাও মেনে নেওয়া প্রয়োজন, সমাজ এইসব পারস্পরিক মতদ্বৈততার ভিত্তিতেই শক্তিশালী একটা সংগঠন হিসেবে টিকে আছে।

তবে ইদানিং মানুষের উপরে শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে এইসব অনাকাংক্ষিত ঘটনায়। ব্লগ কতৃপক্ষের আন্তরিকতা বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই। তারা অনেক যাচাই বাছাই করে, নজর রেখে, জেনারেল রেখে কাউকে কাউকে প্রথম পাতায় লিখবার অনুমতি প্রদান করেন, কিন্তু এত সাবধানতার পরেও এইসব মানবিক বিকারগ্রস্ত মানুষের অনুপ্রবেশ থামানো যায় নি।

আমি কতৃপক্ষকে সামান্য একটা অনুরোধ করতে চাই,

তাদের বিশাল এই পরিসরে আমার মতো একজনের লেখার গুরুত্ব না ও থাকতে পারে, তবে আমার নিজের কাছে এই লেখাগুলোর মূল্য রয়েছে। এমন কোনো পন্থা এখানে নেই যে আমি গত ৪ বছরে লেখা এত ভাবনাকে এক সাথে অন্য কোথাও রেখে দিতে পারি।

আমি নিজেই সন্দিহান, যেভাবে মানুষ অত্যুৎসাহে একাউন্টে হ্যাকরে চেষ্টা করছে, একদিন দেখবো তারা আমার কোনো কোনো লেখা মুছে দিয়েছে। এই দুর্গটনা ঘটবার আগেই আমি চাচ্ছি এমন কোনো একটা সুযোগ আমাকে কতৃপক্ষ দিক, যাতে আমি লেখাগুলো অন্য কোথাও সংরক্ষণ করতে পারি।

আমার এখানের সব লেখা এবং মন্তব্য সর্বসাকুল্যে হয়তো ৫ মেগাবাইট হবে, যদি এর বেশীও হয়, তারা যদি আমার ই মেইলে এটার একটা অনুলিপি পাঠিয়ে দেন, আমি বাধিত হবো। কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতি, যে পদ্ধতিতে আমাকে প্রতিটা লেখাই আলাদা করে কপি করে অন্য কোথাও নিতে হবে না, এমন যেকোনো পন্থা বাতলে দিলেও বাধিত থাকবো।

পরিশেষে বলি, যারা একাউন্ট হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করছেন, তাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা সম্ভব নয়, মতাদর্শিক শত্রুতা যদি তৈরি হয় তবে সেটা আপনাদের অনুধাবনের ভুল। আমি কারো আদর্শকে অযৌক্তিক এবং নোংরা উপায়ে নির্মুলের পন্থায় বিশ্বাস করি না।

আপনাদের ধারাবাহিক এই একাউন্ট হ্যাকিংয়ের প্রচেষ্টায় আমি শুধুমাত্র নিজের দুঃখ প্রকাশ করতে পারি। এভাবে নোংরামি না করে আপনারা বরং মন্তব্যে জানান আপনাদের মনের কষ্ট বেদনা ক্ষোভ কিংবা অন্য যেকোনো অনুভব, যে কারণে অন্য কারো একাউন্ট হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করা যায়, যদি ততটা যৌক্তিক মনে হয় আপনাদের দাবি, আমি আপনাকে আমার একাউন্টের পাসওয়ার্ড দিয়ে দিবো।

ধন্যবাদ সবাইকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29078919 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29078919 2010-01-15 12:55:44
বিডিআরদের সেনা আইনে বিচার করা অনৈতিক হবে Click This Link

যেকোনো আইনের একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, সেই লক্ষ্য পুরণের জন্য আধুনিক রাষ্ট্র একটি নির্বাচিত আইনী পরিষদ তৈরি করেছে, আদালত ও বিচার ব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছে, এবং বিদ্যমান আইনের কাঠামোতে কিছুটা জড়ত্ব আছে বলেই রাজার মুখের কথাই আইন জাতীয় স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়েছে।

আইনের কেতাবের সুচনায় একটা বক্তব্য দেওয়া আছে, যেকোনো অপরাধের বিচার হবে অপরাধ সংঘটনকালীন সময়ে বিদ্যমান আইনের আওতায়, অর্থ্যাৎ যদি ভবিষ্যতে কোনো কারণে কোনো আচরণ অপরাধ বিবেচিত হয়, সেই আইন প্রযুক্ত হওয়ার সময় থেকেই এটাকে অপরাধ বিবেচনা করতে হবে, পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো এই আইনের আওতায় বিচার করা যাবে না।

জনসমাগমস্থলে প্রকাশ্যে ধুমপান এখন নিষিদ্ধ এবং সেটা অপরাধ, কিন্তু এই আইন বলবত হওয়ার আগে যারা প্রকাশ্যে ধুমপান করেছে, তাদের এই আইনের আওতায় অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না, এটা হলো আইনের কেতাবের সূচনার কথা।

তবে এইসব আইনের পেছনদরজা আছে, আইন প্রয়োগ হইবার সময়কাল প্রজ্ঞাপনে নির্ধারণ করে দেওয়া যায়, সুতরাং পেছনের তারিখ দিয়ে আইন জারি করা সম্ভব। এবং সরকার সেনাবাহিনীর মনোবাঞ্ছা পুরণের জন্য এমন একটা উদ্যোগ নিচ্ছে- বিডিআর বিদ্রোহ যখন সংঘটিত হয় তখন বিডিআর এবং এখানে প্রেষণে নিযুক্ত সকল সেনাকর্মকর্তাই বিডিআরদের জন্য নির্ধারিত আইন মোতাবেক এখানে কর্মরত ছিলেন, তাদের সেনাআইনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে, শেখ হাসিনাকে প্রায় অপহরণ করে সেনাছাউনিতে অবরুদ্ধ করে এই আব্দার জানিয়েছিলেন সেনাকর্মকর্তাগণ।

আমাদের উজবুক বাণিজ্যমন্ত্রী যিনি প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তা, তিনি বিডিআর বিদ্রোহের তদন্তের সমন্বয়কারী ছিলেন, এবং সেনাবাহিনীও এই বিদ্রোহীদের আটক করবার জন্য কিংবা হত্যা করবার জন্য অপারেশন রেবেলহান্ট শুরু করেছে এবং এই অপারেশন রেবেলহান্টের কার্যক্রম এখনও অব্যহত আছে।

সেনাবাহিনীর উচ্ছৃঙ্খল সদস্যদের আব্দার পুরণের জন্য ব্যাকডেট দিয়ে আইন কার্যকর করে বিডিআরবিদ্রোহীদের বিচার সেনাআইনে করার সাম্ভাব্যতা নিয়ে একটা আলোচনা চলছে আদালতে। এটা যদি বাস্তবায়িকত হয় তবে সেটা হবে আমাদের সেনাবাহিনীর আব্দারের কাছে নতজানু হওয়া। সেটা কাম্য নয়

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে এবং আইনের কেতাবের প্রচলিত বিধিকে পাশ কাটিয়ে যখন কোনো আইন প্রয়োগ করা হয় তখন সেটার উপযুক্ততা বিচার করতে হয়, এমন কি অনিবার্যতাও বিচার করতে হয়। ১৯৭৩ সালে দালাল আইনের আওতাভুক্ত ছিলো ১৯৭১ সালে কৃত অপরাধসমুহ, এটার গ্রহনযোগ্যতা কিংবা বাস্তবতা ছিলো, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের নেপথ্যে যে রক্তাক্ত ইতিহাস, যে নির্বিচার গণহত্যার ইতিহাস এবং এর ন্যায় বিচারের দাবি উত্থাপিত হয়েছিলো, সেটা গণদাবি এবং এই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নির্যাতিত সকল পক্ষেরই ছিলো, সুতরাং এই আইনের প্রয়োগ ও সূচনাকাল নিয়ে দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই, কিন্তু বিডিআরবিদ্রোহ কিছুটা সেনাকর্মকর্তাদের নিজস্ব গলদে হয়েছে, কিছুটা হয়েছে বিদ্যমান অব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায়,এবং অন্য কোনো আইনে এর বিচার হলে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কাও নেই এখানে।

এরপরও সেনাবিদ্রোহ আইনে বিচার করে গণহত্যার উস্কানি দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের জন্য খুব একটা মঙ্গলজনক কিছু হবে বলে মনে হয় না আমার। বরং বিদ্রোহের বিচারের জন্য বিডিআরের নিজস্ব আইন আছে, সেটার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয় মনে হলে প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় এর বিচার দাবি করা যায়, কিন্তু এরজন্য সেনাসদস্যদের জন্য প্রচলিত আইনে বিডিআরদের বিচার করতে হবে এমন উদ্ভট দাবি মেনে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

প্রতিটা বাহিনীর নিজস্ব নীতিমালা আছে, এবং সেসব নীতিমালা মেনেই সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বিধিমোতাবেক দেশসেবা করছেন, এখন তাদের নীতিমালাবহির্ভুত অন্য কোনো আইনে তাদের বিচার করে তাদের দ্রুত মৃত্যুর ব্যবস্থা করে দেওয়া নীতিসঙ্গত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রাপয় ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিক এবং প্রশিক্ষিত খুনিদের কাছে মাথা নত না করুক, বাংলাদেশের সরকারের কাছে এটুকুই প্রত্যাশা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29003157 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/29003157 2009-09-01 22:46:04
কৌশলী মিথ্যা, কৃষ্ণগহ্বর আমাদের পরবর্তী শক্তির উৎস
কৃষ্ণগহ্বর অন্তত শক্তির উৎস, ভবিষ্যতের মানুষদের শক্তির অন্যতম উৎস হয়ে উঠবে কৃষ্ণগহ্বর কিংবা ব্ল্যাকহোল। বাক্যের উপসংহার পড়ে চিন্তিত হলাম। পৃথিবীতে এখনকার অধিকাংশ লড়াইয়ের প্রধানতম নেপথ্য কারণ শক্তিনিশ্চয়তা কিংবা জ্বালানী নিশ্চয়তা, সুতরাং ব্ল্যাকহোল যদি তেমন অনন্ত শক্তির উৎস হয়ে উঠে তবে মহাবিশ্বে ব্ল্যাকহোল দখলের জন্য পৃথিবীতে লড়াই শুরু হবে? শুরু হবে কুটনৈতিক তৎপরতা? অর্থ, প্রলোভন এবং শক্তি প্রদর্শন করে এসব দখলের লড়াই শুরু হবে?

বিষয়টার অসারতা চিন্তা করে নিজের কাছেই হাস্যকর লাগে সবকিছু। কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুতুরে একটা ঘটনা, ভারী নক্ষত্রের আভ্যন্তরীণ চাপ যখন মহাকর্ষের কাছে পরাজিত হয় নক্ষত্র কেন্দ্রে বিলীন হয়ে যায় , কিংবা তার হয়তো একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকে, যা আমরা বাইরে থেকে নির্ধারণ করতে পারি না। আমাদের কাছে মহাবিশ্বের সেই স্থানের কোনো তথ্য থাকে না, মূলত তথ্যহীনতাই কৃষ্ণগহ্বরকে এতটা আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মহাকর্ষ আদতে স্থান কালের বক্রতার একটি পরিমাপ, বস্তুর উপস্থিতি কিভাবে তার চারপাশকে প্রভাবিত করে, সেটাই মহাকর্ষের মূল পাঠ্য। সেখানে বস্তু অন্য সকল স্থানের মতোই বাইরের কোনো প্রভাব না থাকলে সরল পথে চলতে থাকে, তবে যেহেতু বস্তুর উপস্থিতি স্থানকে প্রভাবিত করে সুতরাং বস্তুর সরল পথ সে সমতলের উপরে সরল পথ হলেও সেটা অন্য স্থানের প্রেক্ষিতে বক্রআকার ধারণ করে। এবং কৃষ্ণগহ্বরের এই বক্রতার পরিমাণ এতটাই বেশী যে আলো একবার সেখানে পতিত হলে আর বাইরে বের হয়ে আসতে পারে না।

হকিং হিসেব কষে দেখিয়েছেন কৃষ্ণগহ্বর ততটা অন্ধকার নয় মোটেও, বরং কৃষ্ণগহ্বরও কিছু পরিমাণ শক্তি নিঃসরণ করে, সুতরাং কৃষ্ণগহ্বর অন্য কোনো বস্তুর অনুপস্থিতিতে নিজেই শক্তিবিকীরণ করে প্রকাশ্য হয়ে উঠতে পারে।

এইসব কৃষ্ণগহ্বরের প্রভাব এবং চরিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ করবার প্রয়োজন নেই আদতে, মূলত সংশয় হলো এই কৃষ্ণগহ্বর মানুষের পরবর্তী শক্তির উৎস হয়ে উঠবে এই জ্ঞানী উপসংহার নিয়ে। মহাকর্ষের অদ্ভুত বৈশিষ্ঠ্য হলো এটা সকল ভরের বস্তুকে আকর্ষণ করে, কৃষ্ণগহ্বরের মহাকর্ষ শক্তি প্রচণ্ডমাত্রায় বেশী , সুতরাং আমরা মন চাইলো আর গবেষণাগারের পাশে একটি কৃষ্ণগহ্বর বেধে রেখে কিংবা তৈরি করে শক্তি উৎপাদন করতে শুরু করলাম, এমনটা ঘটবে না। পারমাণবিক প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াও নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে পারমাণবিক বিস্ফোরণে প্রচণ্ড ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমাদের বিজ্ঞানীরা আদতে কি প্রক্রিয়ায় কৃষ্ণগহ্বর থেকে শক্তিআহরণের কথা ভাবছে এটা ভাবতে ইচ্ছা করে। তারা এমন কোনো বস্তু এখনও আবিস্কার করতে পারে নি যা মহাকর্ষ শক্তিকে বিকর্ষণ করে কিংবা এন্টিগ্রাভিটি ম্যাটার আদতে গবেষণাগ্রন্থের পাতার বাইরে অন্য কোথাও উপস্থিত নেই, এবং সেটা এক ধরণের সারাংশ, আমাদের বিজ্ঞান হলো আমাদের চেনা জগতকে ব্যখ্যা করবার একটা প্রক্রিয়া, সেটা নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে কিছু যুক্তি মেনে একটা নিয়মতান্ত্রিকতা স্থাপন করে, সে নিয়মতান্ত্রিকতার ভিত্তিতে আমরা অধিকাংশ পরিচিত ঘটনাকে ব্যখ্যা করতে পারি।

তা সকল বিষয়কে ব্যখ্যা করতে পারে না, এবং যখনই ব্যখ্যা করতে ব্যর্থ হয় বিজ্ঞান তখন নতুন নতুন অনুমাণ উপস্থিত হয়, মহাকর্ষীয় বিকর্ষণের ধারণাও তেমনই একটি ধারণা। চেনা পৃথিবীতে এটার অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি, পারমাণবিক পরিবেশে এবং সৈরজগতের মতো বিশাল আকৃতিতেও এমন কোনো বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় নি যা মহাকর্ষীয় বিকর্ষণ অনুভব করে, সুতরাং আমাদের বিশালতার মাত্রা বাড়িয়ে একটা গ্যালাক্সি করলে সেটা বিকর্ষক চরিত্রধারণ করবে এমন অনুমাণটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায়।

এরপরেও একটা কৃষ্ণগহ্বরকে নিয়ন্ত্রনের জন্য এমন কোনো নিরাপত্তাকবচ আমাদের প্রয়োজন, কিংবা যদি আমরা কৃষ্ণগহ্বরীয় বিকিরণকে কাজে লাগাতে চাই তবে আমাদের পৃথিবীকে টেনে নিয়ে যেতে হবে এমন কোনো একটা বড় কৃষ্ণগহ্বরের কাছাকাছি, এমন একটা নিরাপদ দুরত্বে তাকে স্থাপন করতে হবে, যেনো কৃষ্ণগহ্বরের অনন্তক্ষুধার বলি না হয় আমাদের পৃথিবী এবং তার থেকে নির্গত বিকিরণ আমরা পৃথিবীতে আটক করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। এমন অদ্ভুত অঙ্ক হয়তো কোনো দিন মেলানো সম্ভব হবে,

এইসব দুর্বোধ্য অঙ্কের হিসেব কষে কষে যদি কিছু বিজ্ঞানী গবেষণার প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করতে পারেন এবং তার তত্ত্বাবধানে থেকে গবেষণা করা ছাত্রদের জীবিকার ব্যবস্থা করেন তবে এই অলীক উদ্ভট দাবিকে সমর্থন দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28999225 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28999225 2009-08-24 23:47:39
নিজস্ব নিরাপত্তাহীনতার বোধে মুহাম্মদ যা যা করেছিলো-
আবু তালিব ছায়ার মতো রক্ষা করেছে মুহাম্মদকে এই সম্পূর্ণ সময়টাতে। তেমন বৈরীতার মুখোমুখি হতে হয় নি মুহাম্মদকে একেশ্বরবাদ প্রচারে। আধুনিক রাষ্ট্র এবং তার রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের চরিত্র বিশ্লেষণ করে অন্তত এইটুকু নিশ্চিত বলা যায় মুহাম্মদের জীবন সংশয় হয়েছিলো শুধুমাত্র ১ বারই, সেটাও ইসলাম প্রচারের প্রথম এক যুগে ঘটে নি। শয়তানের প্ররোচনা আবু জাহেল এবং অন্যান্য কোরাঈশগণ যখন মুহাম্মদকে কতলের জন্য মুহাম্মদের বাসার দরজায় অপেক্ষা করছে তার আগেই মুহাম্মদ তাদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গেছে মদীনার উদ্দেশ্যে। সেই একবার বাদ দিলে আদতে মুহাম্মদকে খুব বেশী শাররীক নির্যাতন সহ্য করতে হয় নি

তবে মুহাম্মদের নিজস্ব নিরাপত্তাহীনতার বোধ তাকে অনেক কিছু করতে বাধ্য করেছিলো, নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি এবং মক্কার অধিবাসীদের সমর্থন পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাথে শিরক, আবু তালিবের মৃত্যুর পরে গোত্রগত বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে নিজের এবং নিজস্ব ধর্মপ্রচারের নিরাপত্তা কবচ খুঁজতে তায়েফ গমন এবং অবশেষে মদীনার অধিবাসীদের কাছে সহায়তা চাওয়া এবং পরিশেষে নিরাপদ জীবনের খোঁজে মদিনায় হিজরত এবং সেখানেও ইহুদী এবং খ্রীষ্টানদের সমর্থনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন অব্যাহত ছিলো।

অবশ্য সে সময়ে শাররীক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো মুহাম্মদের দরিদ্র অনুসারীগণ, কারণ তাদের রক্ষা করবার মতো কোনো গোত্রপতি ছিলো না। মূলত ইসলাম গ্রহন কিংবা ইসলামের বিস্তারের সাথে সাথে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীলদের আঘাতটা এসেছেই দাস এবং হতদরিদ্র ধর্মান্তরিতদের উপরে। আবু বকর, উসমান, কিংবা ওমর, কিংবা অন্য যারা নিজস্ব গোত্রের সুরক্ষা পেয়েছে কিংবা যাদের নিজস্ব ব্যবসা এবং প্রভাব ছিলো, তারা সবাই মক্কায় ঘুরেছে এবং নির্বিঘ্নেই চলাচল করেছে, ব্যবসা করেছে।
প্রকাশ্যে নামাজ পড়েছে তারা, কোরাঈশদের বিদ্রুপের শিকার হয়েছে কিন্তু শাররীক নির্যাতনের প্রচন্ডতা ছিলো না কোনো সময়ই। মুহাম্মদকে কবি, মিথ্যুক, প্রতারক এবং অন্যান্য বিশেষণে ভুষিত করাকে আমি শাররীক নির্যাতনের অংশ ধরছি না, তার গায়ে বেশ কয়েকবার নাড়ীভুড়ি ছুড়ে ফেলা হয়েছে, এবং একবার তার মাথায় ধুলো দেওয়া হয়েছে- এর বাইরে শাররীক হেনেস্তা হতে হয় নি তাকে ।

এর বিপরীতে আমরা আধুনিক রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের কথা বিবেচনা করি, নতুন কোনো ধর্ম নয়, বরং সকল মানুষের সমান অধিকার এবং ফসলের ন্যায্য ভাগের দাবিতে তেভাগা আন্দোলনের নেতাদের যখন আটক করা হলো তাদের উপরে যে নির্যাতন চলেছে সেটার বর্বরতা মুহাম্মদের ইসলামের বানী প্রচারে প্রাপ্ত বর্বরতার শতগুণ বেশী।

মুহাম্মদের কোনো মহিলা অনুসারী শাররীক নির্যাতনের শিকার হয় নি, কোনো সময়ই না, মক্কার জাহেলিয়াত পরিবেশেও অহেতুক শাররীক নির্যাতন কিংবা ধর্ষণ জাতীয় ঘটনা ঘটে নি , নও মুসলিম নারীদের ভেতরে আবু বকরের বড় মেয়ে আসমাই সর্বপ্রথম কোরাঈশদের হাতে শাররীক নিগৃহীত হয়েছে, সে নিগ্রহ ছিলো গালে একটি চড়।

অথচ এর বিপরীতে আমরা ইলা মিত্রের অভিজ্ঞতা স্মরণ করলে দেখবো আমাদের আধুনিক সময়ে নতুন কোনো সাম্যবাদী মতামতের প্রসার হওয়া অনেক বেশী বৈরিতার জন্ম দেয় । রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো সম্ভবত এইসব নতুন মতাদর্শিক বিকাশকে সহ্য করতে চায় না, নিজেকে নিরাপত্তাহীন ভাবে। ধর্মীয় জঙ্গীবাদীদের যেভাবে দমন করছে উন্নত এবং অনুন্নত দেশগুলো, তেমন বড় মাপের নৃশংসতাও দেখে নি মুহাম্মদের অনুসারীগণ।

মুহাম্মদকে আমার কখনই ঠিক বড় মাপের নেতা মনে হয় নি, বরং চরিত্রে সে আপোষকামীই ছিলো। সারাক্ষণ নিরাপত্তাহীনতার বোধ তাকে তাড়া করেছে, আবু তালিবের সাথে অন্যান্য কোরাইশ নেতাদের বৈঠকে আবু তালিবের নিরবতা তাকে নিরাপত্তাহীন করেছে, এবং আবু তালিব তাকে আশ্বস্ত করেছে আমি যতদিন বেঁচে আছি আমি তোমাকে রক্ষা করবো।

গোত্র এবং পরিবার প্রীতি ছিল হামজার ইসলাম ধর্ম গ্রহনের নেপথ্যে- ইসলামের একেশ্বরবাদীতা বানী শুনে হৃদয় বিগলিত হয়ে যে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নি বরং সেটা প্রতিশোধস্পৃহাজাত একটি প্রবনতা। হামজা যখন শিকার থেকে ফিরে এসে কাবা শরিফ প্রদিক্ষণ করছিলো, তার একটু এগেই নতুন গোত্রপতি আবু জাহেল মুহাম্মদকে হেনেস্তা করেছে, এই সংবাদ পেয়েই হামজার ভেতরে ভাতুস্পূত্রের প্রতি স্নেহ জাগ্রত হয় এবং নিজের পোত্তলিকতা প্রত্যাখ্যান করে সে ঘোষণা দেয় আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলাম এখন তোমাদের যদি সাহস থাকে তাহলে মুহাম্মদকে হেনেস্তা করো।
হামজা কোরাইশদের ভেতরে পরিচিত বীর হলেও আবু তালিবের মৃত্যুর পরে আবু জাহেলের গোত্রপতি হওয়ায় মুহাম্মদের নিরাপত্তাহীনতার বোধ একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি।

মুহাম্মদকে এবং তাদের অনুসারীদের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক না রাখবার সিদ্ধান্ত ছিলো আবু জাহেলের মস্তিকজাত এবং মুহাম্মদের নিরাপত্তাহীনতার বোধটা এ সময়ে আরও জঘন্য ভাবে প্রকাশিত হয়। এই বয়কটের সিদ্ধান্ত তাদের উপরে বিশাল আঘাত হিসেবে এসেছিলো। তাদের সঞ্চিত সম্পদ এবং আহার্য সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পরে তাদের প্রতি সহানুভুতীশীলদের অনুদানেই তাদের জীবন চলছিলো, ঠিক এই সময়েই কোরাঈশদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসে- তুমি যদি আমাদের দেব দেবীদের অপমান না করো এবং তোমার ধর্মের অন্তর্ভুক্ত করো তবে আমরা তোমার ইসলাম প্রচারে কোনো বাধা দিবো না। আমরা সবাই তোমার ধর্ম পালন করবো ১ বছর এবং অন্য বছরে তুমি আমাদের ধর্ম পালন করবে।

এই প্রস্তাবের পরপরই মুহাম্মদ আল লাত, উজ্জা এবং মানাতকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সুরা পাঠ করে।
সেই সুরাটিই বিখ্যাত স্যাটানিক ভার্সেস,

By the Star when it sets, your comrade does not err, nor is
he deceived; nor does he speak out of (his own) desire . . .

Have you thought upon al-Lat and al-`Uzza and Manat, the
third, the other?

These are the high-flying cranes; verily their intercession
is accepted with approval.

-------------------------------------------------------

মুহাম্মদের অনুসারীগণ এতে কোনো আপত্তি করে নি, এবং কোরাঈশগণ আনন্দের সাথেই এটা মেনে নেয়।

কি ঘটেছিলো এটার পরে সেটাই আদতে মুল রহস্য- কোরাঈশগণ অবরোধ তুলে নেয় এবং মুসলমানগণ নির্বিঘ্নে ধর্মাচরণের সুযোগ পায়, এই সংবাদ পৌঁছায় আবিসিনিয়ায়, যেখানে ৮৩ জন মুসলিম হিজরত করে চলে গিয়েছিলো, মক্কাবাসী ইসলামকে স্বীকৃতি দিয়েছে এই সংবাদ পাওয়ার পরে তারা আবিসিনিয়া থেকে মক্কায় ফেরত আসে- তবে.........

তারা যখন ফেরত আসছে মক্কায়, তার আগেই মুহাম্মদকে জিব্রাঈল এসে বলেছে এটা আসলে শয়তানের প্ররোচনায় ঘটেছে, আল্লাহ জিব্রাঈলকে এমন কোনো ওহী দিয়ে পাঠান নি। মুহাম্মদ নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে পুনরায় সংশোধন করে সুরাটি। এবং সুরা হজ্জ্বের ৫২ নং আয়াতটি নাজেল হয় এই শয়তানের আয়াতকে নস্যাৎ করবার প্রতিক্রিয়ায়।

Never did we send a messenger or a prophet before you but
that when he recited (the Message) Satan cast words into his
recitation (umniyyah). God abrogates what Satan casts. Then
God established his verses. God is knower, wise [ ২২.৫২ ]

আবিসিনিয়া থেকে ফেরত আসা মুসলিমগণ মক্কায় প্রবেশের পূর্বেই এই সংবাদ জানতে পারে এবং তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গোত্রপতিদের অনুরোধ জানায়। এবং তারা সেই রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই মক্কায় প্রবেশ করে এবং মদীনায় হিজরত করবার আগ পর্যন্ত তারা সেখানেই বসবাস করছিলো।

এরপর পরই পুনরায় বয়কট আরোপ করা হয়।

নবুয়তের ১০ বর্ষে আবু তালিব এবং খাদিজার মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। আবু তালিবের বদলে নতুন গোত্রপতি হয় আবু জাহেল, এবং মুহাম্মদ নিজস্ব প্রাণভয়ে তায়েফে ছুটে যান নিরাপত্তার আশ্বাস খুঁজতে- সেখানকার একটি গোত্র যদিও মক্কাবাসীদের সাথে মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলো কিন্তু তারা মক্কায় কোরাঈশ এবং অন্যান্য গোত্রদের তেমন পছন্দ করতো না বরং তাদের প্রতি বৈরীই ছিলো, সেই বৈরীতার সুযোগ নিতে মুহাম্মদ তায়েফে গমন করেন এবং তায়েফের তাহিকফ গোত্রপতি মুহাম্মদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাকে নির্বিঘ্নে ধর্ম প্রচারের জন্য নিরাপত্তা দিতে রাজী হয় নি। এই প্রত্যাখ্যানের পর মুহাম্মদের প্রতিক্রিয়া ছিলো, আমি যে এখানে সহায়তার জন্য এসে প্রত্যাখ্যার হয়েছি এই সংবাদ যেনো মক্কাবাসী জানতে না পারে, এবং অতঃপর সেই গোত্র মুহাম্মদকে হেনেস্তা করে ফেরত পাঠায়।

মুহাম্মদ ফেরার পথে অন্য এক মহিলার কাছে নিজের দুঃখের বয়ান করে বলেন আপনার স্বামী এবং তার ভাইয়েরা আমার আহ্বানে সাড়া দিলো না।
তারপর মুহাম্মদ মক্কায় ফেরত আসেন

Then the Messenger of God came back to Mecca, and found
that its people were even more determined to oppose him and to
abandon his religion, except for a few weak people who believed
in him. Some say that when the Messenger of God left al-Ta'if for
Mecca193 a certain Meccan passed by, and the Messenger of God

said, "Will you deliver a message which I entrust to you?" He
agreed, and he said, "Go to al-Akhnas b. Shariq and say to him,
'Muhammad asks you if you will give him protection so that he
can deliver the message of his Lord.' The man went to him and de-
livered the message, and al-Akhnas replied, "The confederate does
not give protection against the men of pure blood." He went back
to the Prophet and gave him this reply. Muhammad then asked
him if he would go back again, and when he indicated that he
would, said, "Go to Suhayl b. `Amr and say to him, `Muhammad
asks you if you will give him protection so that he can deliver the
message of his Lord.'" He went to him and delivered the message,
and he replied, "The Banu `Amir b. Lu'ayy do not give protection
against the Banu Ka`b.'' The man went back to the Prophet and
gave him this reply. Muhammad asked him if he would go back
yet again, and when he indicated that he would, he said, ''Go to al-
Mut`im b. `Adi and say to him, `Muhammad asks if you will give
him protection so that he can deliver the message of his Lord.'"
Al-Mut`im replied, "Yes, let him enter."

The man went back and told him this, and the next morning
al-Mut`im b. `Adi, his sons, and his brother's sons appeared wear-
ing their weapons and entered the mosque. When Abu Jahl saw
him, he said, "Are you offering protection to someone or follow-
ing a call to arms?" "I am offering protection," he said. Abu Jahl
replied, "We shall protect whomever you protect." The Prophet
entered Mecca and remained there. One day he went into the sa-
cred mosque while the polytheists were by the Ka`bah. When Abu
Jahl saw him he said, "This is your prophet, Banu `Abd Manaf."194 [1204]
To this `Utbah b. Rabi`ah said, "Is there anything wrong with there
being a prophet or a king from among us?" The Prophet was told
of this or heard it, and he went to them and said, "As for you, `Ut-
bah b. Rabi`ah, by God, you were not angered on behalf of God or his Prophet, but were angered on behalf of your own pride; and
as for you, Abu Jahl b. Hisham, by God, not long will pass before
you laugh little and weep much; and as for you, council (mala') of
Quraysh, by God, not long will pass before you will enter unwill-
ingly into that which you dislike."

এই নিরাপত্তার আশ্বাসও আসলে যথেষ্ঠ ছিলো না মুহাম্মদের জন্য, সুতরাং মুহাম্মদ এই সময়েই মদীনাবাসীদের কাছে ইসলামের প্রচার ও প্রাসারের জন্য সাহায্য সহযোগিতা চান। তবে মুহাম্মদ প্রত্যাখ্যাত হন মদীনাবাসীদের কাছেও, কারণটা মুহাম্মাদের মৃত্যুর পরে নেতৃত্ব যাবে কার কাছে এই বিষয়ক সংকট।

Ibn HumaydSalamahMuhammad b. IshaqMuhammad b.
`Abd al-Rahman b. `Abdallah b. Husayn: He went to a clan of
Kalb called the Banu `Abdallah in their encampments, summoned
them to God and offered himself to them, and finally said, "Banu
`Abdallah, God has given your ancestor an excellent name." How-
ever, they did not accept what he offered them.

Ibn HumaydSalamahMuhammad b. Ishaqone of his
companions`Abdallah b. Ka`b b. Malik: The Messenger of God
went to the Banu Hanifah in their encampments, summoned
them to God and offered himself to them, but not one of the Arabs
gave him an uglier answer than they.

Ibn HumaydSalamahMuhammad b. Ishaq and Muhammad
b. Muslim b. Shihab al-Zuhri: He went to the Banu `Amir b.
Sa`sa`ah, called them to God and offered himself to them. One
of them called Bayharah b. Firas said, "By God, if I could take this young man from Quraysh I could conquer all the Arabs with
him." Then he said, "Do you think that if we follow you and God
gives you victory over your opponents we shall have the command
after you?" He replied, "Command belongs to God, who places it
where He wills.'' Bayharah said, ''Are we to expose our throats to
the Arabs in your defense, and when you are victorious the com-
mand will go to someone else? We do not need your religion." So
they refused him.
[ তাবেরী ৬ষ্ঠ খন্ড, মুহাম্মদ ইন মক্কা]

একটা বিষয় স্পষ্ট মদীনাবাসীরা ইসলামের মাধুর্য্যে ধর্মান্তরিত হয় নি, বরং তাদের নিজস্ব স্বার্থ ছিলো প্রবল, এবং সেটার ভেতরে একটা ছিলোমদীনায় বসবাসরত ইহুদীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ লড়াই করতে আগ্রহী কিনা এই বিষয়ক নিশ্চয়তা। সে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরে মদীনাবাসীদের একাংশ ইসলামের শরণ গ্রহন করে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28993775 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28993775 2009-08-14 22:18:56
অসভ্যতা-
দ্বাদশ কিংবা ত্রয়োদশ শতাব্দীতে কায়রোতে এক সম্রাট, তার কন্যাদের বিয়েতে যে পরিমাণ যৌতুক দিয়েছিলেন, তাতে তার সম্রাজ্যের মেরুদন্ড ভেঙে গিয়েছিলো, কথিত আছে সে সময়ে তার কনিষ্ঠা কন্যার যৌতুক হিসেবে প্রায় ১০ লক্ষ দিহরাম প্রদান করেছিলেন তিনি। জায়গীর এবং অন্যান্য সম্পদের বিবরণ শুনলেও অবাক হতে হয়।
তার প্রিয় দাসীর কন্যার জন্য তার বরাদ্দ ছিলো ১০ হাজার দিহরাম এবং অন্যান্য উপঢৌকন।

একই সাথে ষষ্টদশ শতকে ইউরোপে অসংখ্য অনুঢ়া রমনী ছিলো, যাদের যৌতুকের অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি বলে বিয়ে হয় নি। উচ্চ শ্রেনী এবং নিম্ন শ্রেনী এতে বিবেচ্য বিষয় ছিলো না। ইদানিং হয়তো তেমন প্রকট এবং অশোভন যৌতুক প্রথা ইউরোপে নেই। সামাজিকতা রক্ষার নামে এখনও বলকান অঞ্চলে এই প্রথার অনুসরণ হচ্ছে তবে সেটা সমগ্র ইউরোপে তেমন ভাবে প্রচলিত নয়।

সেই প্রবনতা সম্ভবত যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আরও বীভৎস আকার ধারণ করেছে, ভারতীয় সমাজে এটার প্রভাব কতটা জঘন্য ভাবে পড়েছে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় সেখানকার কঠোর যৌতুকবিরোধী আইনের খসরা দেখলেই।
১৯৯৪ সালে সেখানে যৌতুকের কারণে ৫১৯৯ জন নারীকে হত্যা করা হয়
Click This Link



যৌতুকের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করা কিংবা গর্ভবতী স্ত্রীকে পিতৃগৃহে ফেরত দিয়ে আসা, নানাবিধ অভব্য আচরণ ভারতীয় সমাজে শুরু হয়েছে, এবং উঁচু উঁচু ভবন নির্মানের সাথে সাথে এইসব যৌতুক নির্যাতিতা রমনীর মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে।

আমার এক বন্ধুর গল্প শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলো, তার বোন, হিন্দী সাহিত্যে পিএইচডি করেছে এবং তেমনই উপযুক্ত একটি পাত্রকে বিয়ে করেছে, সে বিয়েতে যৌতুকের পরিমাণ শুনে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। একজন উচ্চ শিক্ষিত যুবক, যার নিজস্ব সম্পদের অভাব নেই, সে ভালো চাকুরি করছে, সে এমন অশোভন এবং অশিষ্ট আচরণ কিভাবে করে?

সেই ভদ্রলোক মাতৃঅন্তপ্রাণ, সুতরাং তার বেতনের সব টাকাই মায়ের হাতে তুলে দেন তিনি, সংসার খরচ চালানোর দায়িত্ব তার উচ্চশিক্ষিত চাকুরীজীবি স্ত্রীর। গত বছর তাদের একটা সন্তান হয়েছে, সেই সন্তান হওয়ার পর থেকে বন্ধুর বোন আর চাকুরী করতে পারছে না, সুতরাং এখন তাকেই নিয়মিত বোনের সংসার খরচ পাঠাতে হচ্ছে- সংবাদটা শুনে ক্ষিপ্ত হলেও তার ভেতরে কিন্তু কোনো বিকার নেই, এটাই সামাজিক প্রথা, আমাদের সমাজের নিয়মটাই এমন-

অন্ধ এবং অসভ্য একটা নিয়মের জালে সবাই আটকা পড়ে আছে, এমনটাই মনে হলো তার কথায়, এবং অন্য সবার ভাবনাও এমনই, তাদের কাছেও যৌতুক গ্রহন এবং যৌতুক বিনিয়মটা অন্যায় কিংবা অশোভন কিছু মনে হয় না। উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সদস্যরাও কন্যা সন্তান জন্মানোর সাথে সাথে তার যৌতুকের টাকা জমানো শুরু করেন। এবং পাত্র ভেদে যৌতুকের পরিমাণ ৫ থেকে শুরু করে ৪০ লক্ষ রুপী হতে পারে। পাত্রের সামাজিক মর্যাদা, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তার চাকুরির উপরে এই যৌতুকের পরিমাণটা পরিবর্তিত হয়।

প্রকৌশলী, সরকারী চাকুরীজীবি পাত্র হিসেবে সবচেয়ে দামী, একই সাথে অনাবাসী ভারতীয়, যাদের বাইরে চাকুরী আছে এবং যাদের ভবিষ্যতে আরও ধনী হয়ে উঠবার সম্ভবনা আছে, তারাও পাত্র হিসেবে দামী। একজন পিএইচডিধারী পাত্রের মূল্য বিয়ের বাজারে অন্তত ১০ লাখ।

এইসব সংবাদ অনেকটা অবাক এবং বিবশ করে ফেলে আমাকে।

একজনের গল্প শুনলাম, সে বিয়ে করতে গিয়েছে ভারতে, যাওয়ার আগে সে ২৫ জনের প্রাথমিক তালিকা করে গিয়েছিলো, পরবর্তীতে যৌতুক নিয়ে দরকষাকষি করে সেটা নামিয় এনেছে ২টিতে, একজন পাত্রী সুন্দরী এবং যৌতুক কম দিবে, অন্য একজন পাত্রী তেমন সুন্দরী নয়, তবে যৌতুকের পরিমাণটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো, সে দ্বীতিয় পাত্রীকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে।

যৌতুক বিরোধী আইন কঠোর ভাবে প্রয়োগ হওয়ার ফলে ইদানিং পাত্রেরা যৌতুকের জন্য তেমন চাপ সৃষ্টি করতে না পারলেও, তাদের বিয়ের এবং বিয়ের পরে ঘর সাজানো এবং চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয় মেয়ের পরিবার। এবং এটাকেই তারা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়েছে।

মেয়ের সাথে মেয়ের সংসার সাজিয়ে দেওয়ার যাবতীয় উপকরণ এবং সেই সাথে বিয়ের সমুদয় খরচ পাত্রী পক্ষই বহন করবে, এটাতে লজ্জিত হওয়ার কিছু খুঁজে পায় না আমার উচ্চশিক্ষিত বন্ধুরা, এবং সেটা আমাকে আরও অবাক করে।

তোমাদের শিক্ষিত হওয়ার লক্ষ্য কি তাহলে? তোমরা কি বিয়ের বাজারে নিজেদের দাম বাড়ানোর জন্য এত বেশী শিক্ষার্জন করছো, দিন রাত লড়াই করে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হচ্ছো, সরকারী চাকুরীর প্রতিযোগিতার লিপ্ত হচ্ছো। এবং তোমাদের কি কখনই এ বিষয়ে অনুতপ্ত মনে হয় না।

এটা একটা সামাজিক প্রথা, আমরা না চাইলেও এটা আমাদের দেবে, আমরা কি করতে পারি?

বাংলাদেশের পরিস্থিতি অন্তত ভারতের চেয়ে উন্নত, যদিও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে এখনও কন্যা সন্তান অভিশপ্ত হিসেবেই জন্ম নিচ্ছে, এখানে যৌতুক বিরোধী প্রচারণা এবং সরকার এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় অন্তত একটা নিম্ন সীমা নির্ধারিত হয়েছে, অনেক পরিবারই এখন যৌতুক গ্রহন করে না, কিন্তু একই সাথে উত্তর বঙ্গের অনেক জেলায়, যেসব জেলায় ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প শুরু হয়েছে, সেখানে যৌতুকের হারও বেড়েছে।

পূর্বে যেসব ছেলেরা একটা সাইকেল আর একটা হাত ঘড়ি উপহার পেলেই বিয়ে করতে যেতো, তারা এখন ২০ হাজার টাকার নীচে রাজী হতে চাইছে না। এমন কি এখন তারা সাইকেল নয় একটা রিকশা আর একটা টেলিভিশন দাবী করছে যৌতুক হিসেবে। এটা একেবারে নিম্নবিত্ত পরিবারের হিসাব, কিন্তু তাদের তুলনায় একটু ধনী পরিবারের যৌতুকের অঙ্ক সব সময়ই লাখের ঘরে ঘুরছে এবং এরাই পারিবারিক ভাবে স্ত্রী নির্যাতন করছে এবং কখনও কখনও পুড়িয়ে মারছে ।

শুধুমাত্র বিষন্ন হওয়া যায় এইসব সংবাদ পেয়ে, পড়ে। বাংলাদেশের নারী নির্যাতন আইন অত্যন্ত কঠোর, এবং এই আইনে অভিযুক্তের জামিন হয় না। এরপরও নারী নির্যাতন, যৌতুকের প্রকোপ কমছে না, অধিকাংশ সময়ই বিষয়টা সামাজিক স্বীকৃতি পেয়েছে বলেই আদালতে উপস্থিত হতে পারছে না।

যারা শিক্ষিত তারা আবার ঘর সাজিয়ে দেওয়ার প্রথায় বিশ্বাসী। অথচ এটাও যে যৌতুকের একটা আলাদা তরিকা এটা মানতে তারা নারাজ। তারা যৌতুক প্রথাকে ঘৃণা করে, অনেকে সামাজিক মর্যাদার জন্য মেয়েকে সাজিয়ে দিতে চায়।

সাম্প্রতিক একটি বিয়েতে মেয়ে পক্ষের বিয়ে বাবদ বরাদ্দ শুনে আমার রীতিমতো বিবমীষা জেগেছিলো, হতে পারে তাদের প্রচুর বিত্ত- কিন্তু একটা মেয়ের বিয়ের জন্য ২ কোটি টাকা খরচ করে ফেলানোটা রীতিমতো অপরাধ মনে হয়, এবং অন্য সব পোশাকশিল্প মালিকদের কন্যাদের বিয়েতেও নাকি ইদানিং বরাদ্দটা ৫০লাখ থেকে ৭৫ লাখের কোটায়।

আমাদের মতো দরিদ্র দেশে সস্তা শ্রমের ঘাম শুষে নিয়ে নিজের কন্যার বিয়েতে এমন অপরিমেয় অর্থ অপচয় করাটা কোনোভাবেই আমার কাছে শোভন মনে হয় না, কিন্তু বাস্তবতা হলো এটা তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক সামাজিকতা রক্ষার একটা বিষয়।

অথচ এই প্রথা কিংবা অসভ্যতা অন্য সবার সামনে যে বিকৃত উদাহরণ সৃষ্টি করছে সেটার প্রভাব সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নয়, কিংবা তারা এটার অশুভ প্রভাবকে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে না পারলেও অবজ্ঞা করে যাচ্ছে।

ভারতের সমাজে ধারাবাহিক অবহেলায় এখন অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের পিতা তার শরীরের প্রত্যঙ্গ বেচে কন্যার বিয়ের যৌতুক প্রদান করছে। বাংলাদেশেও হয়তো এমনই দিন সামনে আসবে, বিয়ের নামে শিক্ষিত এবং ধনীদের এমন অশোভন পয়সার লড়াই দেখে বাংলাদেশের সমাজও একদিন তার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বাধ্য করবে নিজের প্রত্যঙ্গ বেচতে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28987449 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28987449 2009-08-02 02:43:22
উমর ইবনে খাত্তাব বাছুরের পেটের ভেতরে শুনেছিলেন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই।
মুহাম্মদের ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে তারাই ইসলাম গ্রহন করেছিলো খুব সহজেই। তবে সবাই শেষ পর্যন্ত ইসলাম ধর্মে সমর্পিত থাকে নি। প্রাথম দিকের ইসলাম গ্রহনকারীদের একজন উবায়েদাল্লাহ ইবন জাশ, আবসিনিয়ায় হিজরত করবার পরে তিনি খ্রীষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং সেভাবেই মৃত্যু বরণ করেন।
উবায়েদ আল্লাহ ইবন জাশ শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হন নি, বরং তিনি তার সাথে হিজরতকারীদেরও তার যিশূর আলোয় আলোকিত হওয়ার দাওয়াত দিতেন। ইসলামচ্যুত হওয়ার জন্য তার স্ত্রী রামলাহ বিনতে আবু সুফিয়ানের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে মুহাম্মদ তার স্ত্রীকে বিবাহ করেন, এবং আরও পরে তার বোন জয়নব বিনতে জশকে বিবাহ করেন মুহাম্মদ।

অন্য একজন একেশ্বরবাদী উসমান ইবন হুয়ারিস, যিনি বাইজেন্টাইন সফর করেন এবং সেখানেই পুনরায় ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহন করেন।
যদিও ওয়ারেকা ইবন নওফলকে একদল ঐতিহাসিক বলছেন তিনি খ্রীষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলন, তবে অন্য ঐতিহাসিকেরা তাকে শুধুমাত্র হানিফ বলে অবহিত করেছেন।

অন্য একজন হানিফ, জায়েদ ইবনে আমর ইবন নওফল, তার নিশ্চিত ধারণা ছিলো, আব্দুল মুত্তালিবের বংশেই পরবর্তী নবীর জন্ম হবে। তার ভাষ্য মতে তিনি ইহুদী খ্রীষ্টান সবার সাথেই আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন মক্কায় পরবর্তী নবীর জন্ম হবে।

জায়েদ ইবনে আমর ইবন নওফল সম্পর্কে মুহাম্মদের বয়ান হলো- আমি তাকে বেহেশতে দেখেছি।

প্রচলিত আছে যীশুর জন্মের সময় তিনজন বিজ্ঞ ব্যক্তি নাজারেথ এ এসেছিলো, তারা অনেক আগে থেকেই যীশুর আগমনের সংবাদ পেয়েছিলো এবং তার খোঁজেই যাত্রা শুরু করেছিলো। তাদের এই মুহাম্মদ আগমনের শুভ সংবাদ তারা পেয়েছিলো নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে, তবে উমর বিন খাত্তাব মুহাম্মদের আগমনের সংবাদ পেয়েছিলো জবাই করা বাছুরের পেটের ভেতর থেকে।[ তাবেরী , ৬ষ্ঠ খন্ড ]
Ibn HumaydSalamahIbn Ishaqone who is above suspicion
`Abdallah b. Ka`b the mawla of `Uthman: `Umar b. al-Khattab was
sitting with others in the Messenger of God's mosque one day
when a beduin came up and entered the mosque looking for `Umar
(b. al-Khattab). When `Umar looked at him he said, "This man is
still a polytheist, although at one point he abandoned polytheism.
He was a soothsayer in the Jahiliyyah." The man greeted him and
then sat down. `Umar said to him, "Have you become a Muslim?"

"Yes," he replied. "Were you a soothsayer in the Jahiliyyah?"
asked `Umar. ''Praise be to God,'' the man answered. "You have
received me with words which I do not suppose that you have
uttered to one of your subjects since you became Caliph." "God
forgive me!" said `Umar.90 "During the Jahiliyyah we used to do
worse things than you. We used to worship idols and embrace
graven images until God honored us with Islam." "Yes, by God,
O Commander of the Faithful," answered the man. "I used to be
a soothsayer in the Jahiliyyah." "Tell me," said `Umar, "what is
the most amazing saying which your familiar spirit brought you?"
"He came to me a month or a year before Islam," said the man,
"and said to me:

Have you considered the Jinn [91] and their hopelessness
and their despair of their religion,
and their clinging to young female camels and their
saddle cloths?"

[91. The jinn (plural; singular jinni, formerly transliterated as "genie") are a third
class of intelligent beings along with angels and humans. They are imperceptible
to the senses, but may make appearances under different forms. They are capable
of having a religion and believing in God; and the Qur'an (72:1-19; 46:29-32) speaks
of Muhammad preaching to them and of some being converted. In the present
passage their "despair of their religion" may be intended as a sort of premonition
of the coming of Islam; the reason for the reference to camels is unknown.]

Then `Umar said to the gathering, "By God, I was by one of the
idols of the Jahiliyyah with a number of men of Quraysh. An Arab
had sacrificed a calf to it, and we were waiting for it to be divided
up in order to receive a share, when I heard coming from the belly
of the calf a voice which was more penetrating than any voice I
have ever heardthis was a month or a year before Islamsaying:


O people of Dharih
A matter which has ended in success
A man shouting
Saying, "There is no deity but God."

bn Humayd`Ali b. MujahidIbn Ishaqal-Zuhri`Abdallah
b. Ka`b the mawla of `Uthman b. `Affan: a similar account.


এরপরের বর্ণনায় আছে, মুহাম্মদের নবুয়তপ্রাপ্তির সংবাদ নির্গত হয়েছিলো জবাই করা উটের পেটের ভেতর থেকে-

Al-HarithMuhammad b. Sa`dMuhammad b. `Umar
Muhammad b. `Abdallahal-ZuhriMuhammad b. Jubayr b.
Mut`imhis father: We were sitting by an idol at Buwanah a month before the Messenger of God commenced his mission, hav-
ing slaughtered camels. Suddenly we heard a voice calling from
the belly of one:

Listen to the wonder;
There will be no more eavesdropping to overhear inspiration;
We throw down shooting stars
For a prophet in Mecca;
His name is Ahmad,
His place of emigration is Yathrib.

We held back and marvelled; then the Messenger of God ap-
peared (that is, he began his mission).


তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাছুরের পেটের ভেতর থেকে ইসলাম আগমনের সংবাদ পেয়েও উমর কিন্ত মুহাম্মদের আহ্বানে প্রথমেই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28986432 http://www.somewhereinblog.net/blog/kkk/28986432 2009-07-30 22:13:46