মহাকাশ কিংবা বিজ্ঞান সম্পর্কে যাদের আগ্রহ আছে তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই বিগ ব্যাং সম্পর্কে জানা আছে। ষ্টিফেন হকিন্স তার গনিতিক ব্যাখ্যায় প্রমান করেছেন যে, একটি ুদ্রকায় কনার মধ্যেই মহা বিষ্ফোরণ বা বিগ ব্যাং বিষয়টি সংগঠিত হয়েছে। অনেকের কাছেই ঐ কনাটির নাম ঈশ্বর কণা।
এই ঈশ্বর কণাটির ধারনা পেতেই বৈজ্ঞানিক গন পৃথিবী জুড়ে একটি পরীা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরীা চালাবেন যে ল্যাবরেটরীতে সেই ল্যাবরেটরীর একটু বর্ননা দেই। জেনেভা শহরের কাছে হৃদ আর জুরা পাহাডের মাঝামাঝি এলাকায় পাতালের ১০০ মিটার গভীরে ২৭ কি: মি: পরিধির বৃত্তাকার সুরঙ্গ। এই সুরঙ্গ পথে প্রোটনের একাধিক স্রোত প্রবাহিত করা হবে। এই প্রোটনের স্রোতে ২৮০০ ঝাক এবং প্রতি ঝাকে ১০ হাজার কোটি প্রোটন থাকে। এই প্রোটন কণা গুলো ১০ ঘন্টা ধরে ঘুরতে থাকবে। প্রতিবার ঘূর্ননের সাথে এর গতি বেগ ও বাড়তে থাকবে। এক পর্যায়ে এর গতি হবে প্রায় আলোর গতির সমান। (এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে প্রোটন কণার ওজন ১ মিলিগ্রামের ৬০ ল কোটি কোটি ভাগের এক ভাগ।) আমরা জানি বস্তু তার গতিবেগের কারণে শক্তি অর্জন করে থাকে তাই আলোর গতি প্রাপ্ত প্রতিটি প্রোটন কণা কি রূপ শক্তি অর্জন করবে তা সহজেই ধারনা করা যায়। এই রূপ শক্তি অর্জন কারী দুটো প্রোটন কনা যখন মুখো মুখি সংঘর্ষ হবে তাহলে সংঘর্ষের স্থলে বিশাল তাপ উৎপন্ন হবে। একটা সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। ৪০০ টন ওজনের দুটি ট্রেন ১৪০ কি: মি: বেগে মুখো মুখি ধাক্কা খেলে যে তাপ উৎপন্ন হবে সেই তাপ অতি ুদ্র দুটো প্রোটন কনার সংঘর্ষ স্থলে তৈরী হবে। আর এই রূপ শত সহস্র কোটি কোটি প্রোটন কণার সংঘর্ষের কথা না হয় চিন্তা নাই করলাম।
যাই হোক মূল রচনায় ফিরে আসা যাক। প্রোটন কণার স্রোত জলের ধারার মত হবে না। এমন কি তাঁরা পাস কাটিয়েও চলে যাবে না। সংঘর্ষ সুনিশ্চিত করতে প্রোটনের স্রোত গুলোকে সংকুচিত করা হয়েছে। সংঘর্ষের আগে, স্রোত গুলো হবে সূচের মত, (চুলের চেয়েও সূরু)। এমন দুটি স্রোতের মুখো মুখি ধাক্কা অথবা সংঘর্ষ বিন্দু সম একটা জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ। নিকের জন্য ঐ টুকু এলাকা জুড়ে অকল্পনীয় চাপ এবং তাপের সৃষ্টি হবে। অল্প সময়ের জন্য যেন ব্রম্মান্ডের জম্মকালের প্রত্যাবর্তন। অথ্যাৎ বিগ ব্যাং হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে ঈশ্বর কণার মধ্যে যে তাপ ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ছিলো তার এক নমুনা। প্রোটন কণাগুলো ২৭ কি: মি: লম্বা পথে ৩ কোটি বার চক্কর দিয়েও যাতে নির্ধারিত পথে থাকে তার জন্য কাজ করবে ১০ হাজার ইলেক্ট্রো ম্যাগনেট (অথ্যাৎ তড়িৎ নির্ভর চুম্বক) প্রচন্ড উষ্ণতা যাতে তাদের বিদ্যুৎ মতা নষ্ট না হয় তার জন্য তাকে তরল হিলিয়ামের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়। এবং বাহিরের তাপ মাত্রা -২৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ল ল কি: মি: তার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখতে প্রয়োজন হবে ৭০,০০০ হাজার লিটার তরল হিলিয়াম এবং ১ কোটি ২০ ল লিটার তরল নাইট্রোজেন। এ ছাড়া ও থাকবে আরো আয়োজন। কাংখিত সংঘর্ষের আগে অবাঞ্চিত কনার ধাক্কায় প্রোটনের গতি যাতে না বদলায় সে জন্য ওদের ছোটানো হবে যে ভ্যাকুয়াম পাইপের মধ্য দিয়ে তার ভেতরটাকে করতে হবে ফাকা বায়ুশূন্য।
বিগ ব্যাং এ ব্রম্মান্ডের জম্মের ১ সেকেন্ডের ১ ল কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ের পরিস্থিতি জানার জন্য এই যে পরীাটা বৈজ্ঞানিক গন করছেন তা হলো এ যাবত কালের সবচাইতে ব্যায়বহুল এবং বৃহৎ পরীা। যে যন্ত্রটির সাহায্যে এই পরিাটি করা হচ্ছে তার নাম লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (এল. এইচ. সি)। নামটির ব্যাখ্যা হলো লার্জ মানে বৃহদ, হ্যাড্রন মানে পারমানবিক কনা, (যেমন প্রোটন) আর কোলাইডার বা (অ্যাকসিলারেটর) যা দ্বারা প্রোটন কনাদের অকল্পনীয় গতিবেগ দেয়া হয় এবং সংঘর্ষের ব্যাবস্থা করা হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



